Tag: বাংলা খবর

  • US Citizen Arrested: পাসপোর্ট ছাড়াই নেপাল সীমান্তে ধৃত মার্কিন নাগরিক, নিজেকে প্রাক্তন নৌসেনা অফিসার বলে দাবি!

    US Citizen Arrested: পাসপোর্ট ছাড়াই নেপাল সীমান্তে ধৃত মার্কিন নাগরিক, নিজেকে প্রাক্তন নৌসেনা অফিসার বলে দাবি!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ছাড়াই অবৈধভাবে নেপাল সীমান্ত (Nepal Border) পার হওয়ার চেষ্টা! অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার (US Citizen Arrested) করল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (SSB)। উত্তরপ্রদেশের মহরাজগঞ্জ জেলার সোনৌলি সীমান্ত এলাকা থেকে আটক জর্ডান ব্রাউন (৩৬) নামের ওই ব্যক্তি। ধৃত ব্যক্তি নিজেকে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর (US Navy) প্রাক্তন কর্মকর্তা বলে দাবি করেছেন। এসএসবি (SSB)-এর ২২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানেরা মৈনিহাওয়া এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত (Border Security) পিলারের কাছে রুটিন টহল দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। জওয়ানেরা তাঁকে থামতে বললেই পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাঁকে ধরে ফেলে।

    থাইল্যান্ডে পাসপোর্ট হারিয়ে গোয়ায়!

    মহরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, জেরার মুখে জর্ডান ব্রাউন দাবি করেছেন, তিনি পর্যটন ভিসা নিয়ে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই কোনওভাবে তাঁর পাসপোর্টটি হারিয়ে যায়। এরপর তিনি সমুদ্রপথে প্রথমে শ্রীলঙ্কা এবং পরে ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর ভারতে প্রবেশ করেন। গত প্রায় সাত মাস ধরে তিনি ভারতের গোয়ায় কোনও নথিপত্র ছাড়াই বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তিনি গোয়া থেকে বেঙ্গালুরু হয়ে সোনৌলি সীমান্তে পৌঁছান এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে নেপালে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। ইতিমধ্যেই তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৩১,৪৬০ টাকা নগদ এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কোনও পাসপোর্ট বা ভিসা তিনি দেখাতে পারেননি। এরপর এসএসবি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের (UP Police) হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইনের (Immigration and Foreigners Act) ২১/২৩ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে সোনৌলি থানার পুলিশ।

    ধৃত ৫ ইউক্রেনীয় ও ১ মার্কিন নাগরিক

    অন্যদিকে, মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে যুদ্ধ ও ড্রোনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ ইউক্রেনীয় এবং একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার (US Citizen Arrested) করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। ধৃতদের গত ৩ জুলাই পাতিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ করা হয়। এনআইএ-এর অভিযোগ, এই বিদেশি নাগরিকেরা প্রথমে পর্যটন ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং এরপর মিজোরাম সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে যান। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে ওই গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন যুদ্ধ এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে তাঁরা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

  • Wayanad landslide: ওয়েনাডে ভয়াবহ ভূমিধস, ‘কোথায় সাংসদ? ছোট্ট ট্যুইটেই দায় সারলেন প্রিয়াঙ্কা!’ কটাক্ষ বিজেপির

    Wayanad landslide: ওয়েনাডে ভয়াবহ ভূমিধস, ‘কোথায় সাংসদ? ছোট্ট ট্যুইটেই দায় সারলেন প্রিয়াঙ্কা!’ কটাক্ষ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের ওয়েনাডে তখন চলছিল সুড়ঙ্গ প্রকল্পের কাজ। আচমকাই ঘটে বিপত্তি। নেমে আসে ভয়াবহ ভূমিধস (Wayanad landslide)। ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮, আহত বহু। কিন্তু কোথাও দেখা নেই সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর (Where Is Priyanka)। এত বড় ঘটনা! যেখানে ৮ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ গেল? সেখানে একবারও খোঁজ নিতে আসতে পারলেন না সাংসদ?

    দায় সারলেন সাংসদ?

    ওয়েনাডে বিপর্যয়ের (Wayanad landslide) পর এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পরিবর্তে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করতেই হয়তো বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি সঙ্কটের এই মুহূর্তে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ওয়েনাডের সাংসদ। কিন্তু সত্যিই কি পাশে দাঁড়ালেন সাংসদ? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

    এত বড় বিপর্যয়, কোথায় সাংসদ (Where Is Priyanka)?

    প্রসঙ্গত, গত ৭ জুলাই ওয়েনাডের আনাক্কাম্পোইল-মেপ্পাডি টুইন-টিউব টানেল প্রকল্পে কাজ করার সময় আচমকাই ভূমিধস নামে। অভিযোগ, ভূমিধসের (Wayanad landslide) পর থেকে একবারও নাকি এলাকা পরিদর্শনে আসেননি কংগ্রেস নেত্রী তথা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ছোট্ট একটি ট্যুইট করেই দায় সারলেন প্রিয়াঙ্কা? প্রশ্ন তুলে সরব বিজেপি। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে চাঁচাছোলা আক্রমণ বিজেপির৷  কংগ্রেস নেত্রীর বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ। ওয়েনাডকে ‘রাজনৈতিক ঘুঁটি’ বানিয়ে রেখেছে গান্ধী পরিবার৷ দাবি বিজেপির।

    বিজেপির অভিযোগ

    রবিবার বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন,”ওয়েনাড প্রথম থেকেই কংগ্রেস পরিবারের কাছে শুধুই একটি রাজনৈতিক দাবার ঘুঁটি। ভূমিধসের পর একবারও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ঘটনাস্থলে যাননি। নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতেও দেখা যায়নি তাঁকে”।

    পাশাপাশি একহাত নিতে ছাড়লেন না রাহুল গান্ধীকেও। তিনি বলেন,”রাহুল যখন ওয়েনাডের সাংসদ ছিলেন, তখনও এলাকার মানুষ অভিযোগ করতেন যে তিনি খুব কমই কেন্দ্রে আসতেন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না। আগেই লোকসভা নির্বাচনের পর রাহুল গান্ধী রায়বরেলি আসন ধরে রেখে ওয়েনাডের ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। একই ধরনের রাজনীতি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রতিনিধিত্বেও দেখা যাচ্ছে।”

    বর্তমান পরিস্থিতি

    অন্যদিকে, ওয়েনাডের ভূমিধসে (Wayanad landslide) মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮। রবিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে শেষ নিখোঁজ ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। ওয়েনাডের কল্লাডি এলাকায় নির্মীয়মাণ আনাক্কাম্পোইল-মেপ্পাডি টুইন-টিউব টানেল প্রকল্পে এই ভূমিধস হয়। ওয়েনাড ও কোঝিকোড় জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতেই এই প্রকল্পের কাজ চলছিল।

    নিখোঁজ বিক্রম রানার দেহ উদ্ধার

    গত পাঁচ দিন ধরেই নিখোঁজ বিক্রম রানাকে খুঁজে বের করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিল প্রশাসন। সেইমতোই রবিবার বড়সড় তল্লাশি অভিযানে নামে এনডিআরএফ (NDRF), স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG), দমকল, র‌্যাপিড রেসপন্স টিম, বন দফতর এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত বিক্রম রানার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

    স্বভাবতই, ওয়েনাডের এই ভয়াবহ টানেল বিপর্যয়কে (Wayanad landslide) কেন্দ্র করে কেরলের রাজনীতিতে বিজেপি-কংগ্রেস দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। একদিকে যখন স্বজনহারা পরিবারগুলোর কান্না আর ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে, ঠিক তখনই এই বিপর্যয়কে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অভিযোগে সরব দুই পক্ষই। বিজেপির দাবি, ওয়েনাডের মানুষ কেবল ভোটের সময়ই গান্ধী পরিবারের দেখা পান, বিপদের দিনে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকে না। অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘সস্তার রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছেন এবং উদ্ধারকাজে সবরকম সহযোগিতা করছেন। তবে এই রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ির ঊর্ধ্বে উঠে ওয়েনাডবাসী এখন কেবল একটাই প্রশ্ন তুলছেন- ভোটের সময় দেওয়া বড় বড় প্রতিশ্রুতির পর, চরম বিপদের দিনে তাঁদের ঘরের সাংসদকে কি সত্যিই পাশে পাওয়া যাবে না? নাকি প্রতিবারের মতো এবারও কেবল রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হয়েই রয়ে যাবে ওয়েনাড?

  • Vietnam Boat Capsized: ভিয়েতনামে ভয়াবহ নৌকোডুবি, ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের নিথরদেহ ফিরলো মুম্বইয়ে

    Vietnam Boat Capsized: ভিয়েতনামে ভয়াবহ নৌকোডুবি, ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের নিথরদেহ ফিরলো মুম্বইয়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভিয়েতনামে নৌকোডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন ভারতীয় পর্যটক। এবার তাঁদের মরদেহ এসে পৌঁছলো মুম্বাইয়ে। মঙ্গলবারই ‘ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স’-এর বিশেষ বিমান ‘VN979’-এ করে মরদেহ নিয়ে আসা হয় মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Mumbai Airport)। সেখান থেকেই মৃতদেহগুলি নিজের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ভারত সরকার। শোকস্তব্ধ পরিবারগুলোর হাতে শেষকৃত্যের জন্য মরদেহগুলো তুলে দিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে প্রশাসন। মৃতদেহগুলো মুম্বাই (Mumbai) থেকে সড়ক ও আকাশপথে চেন্নাই, হায়দরাবাদ, তিরুবনন্তপুরম এবং কোয়েম্বাটুরের মতো বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে স্বজনেরা তাঁদের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    কীভাবে দুর্ঘটনা (Vietnam Boat Capsized)?

    ১১ জুলাই, শনিবার। ভিয়েতনামের ফু কোক দ্বীপের কাছে ‘হোন মে রুত এনগোই’ দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল পর্যটক বোঝাই একটি নৌকো। নৌকোয় ছিলেন ৩২ জন ভারতীয় পর্যটকসহ মোট ৩৬ জন আরোহী। ঠিক যখন, বাকি পর্যটকেরা ছবি তোলায় ব্যস্ত, তখনই ঘটে গেল বিপত্তি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দ্বীপ থেকে খুব বেশি হলে ৩০০ মিটার পৌঁছতেই ঢেউয়ে বেসামাল হয়ে উল্টে পড়ে নৌকোটি (Vietnam Boat Capsized)। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, হঠাৎ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখে পড়ে উল্টে যায় নৌকোটি। জলে ডুবে যান পর্যটকরা। দ্রুত ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে যায় উদ্ধারকারী দল। ৩৬ জনের মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দুর্ভাগ্যবশত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটক প্রাণ হারান।

    নিহত ও আহতদের বিবরণী

    মৃত ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। ৩ জন অন্ধ্রপ্রদেশের এবং ২ জন কেরালার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত একমাত্র ভারতীয় পর্যটকের চিকিৎসা চলছে। ফু কোক দ্বীপে একটি জরুরি অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হো চি মিন সিটির একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

    তৎপর ছিল ভারতীয় দূতাবাস

    দুর্ঘটনার পর থেকেই ভিয়েতনামে (Vietnam) নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস এবং হো চি মিন সিটির কনস্যুলেট জেনারেল সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। মৃতদের সনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে তাঁরা ভিয়েতনাম সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন। সহযোগিতার জন্য ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

  • Jhapatpara to Islampura: গুজরাটের ঝাপটপাড়া কীভাবে হয়ে উঠল ‘ইসলামপুরা’? স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, দ্রুত তদন্তের দাবি

    Jhapatpara to Islampura: গুজরাটের ঝাপটপাড়া কীভাবে হয়ে উঠল ‘ইসলামপুরা’? স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, দ্রুত তদন্তের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাটের পাটান জেলার হরিজ শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কয়েক দশক ধরে যে এলাকাটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘ঝাপটপাড়া’ নামে পরিচিত ছিল, সেটিই এখন সরকারি নথিপত্রে ‘ইসলামপুরা’ (Jhapatpara to Islampura) নামে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার এই নাম পরিবর্তনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হিন্দু সংগঠনগুলো স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

    নতুন নামের উৎপত্তি (Jhapatpara to Islampura)

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত ৫০ থেকে ৮০ বছর ধরে এই এলাকায় তাদের পূর্বপুরুষেরা বসবাস করছেন এবং পুরনো সমস্ত নথিতে এই জায়গার নাম ‘ঝাপটপাড়া’ হিসেবেই লিপিবদ্ধ রয়েছে। তবে গত ১০-১২ বছরে এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।

    বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য (Gujarat Demography Shift)

    ২০১১ সাল নাগাদ এই এলাকায় মাত্র ২০-২৫টি মুসলিম পরিবার ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ পরিবারে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই বহিরাগত বলে দাবি করা হচ্ছে। এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে একটি নতুন মসজিদ ও মাদ্রাসা তৈরি হয়, যার অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ উঠেছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির পর নতুন বাসিন্দারা এলাকাটিকে নিজেদের মধ্যে ‘ইসলামপুরা’ বলে ডাকতে শুরু করেন। পরবর্তীতে নতুন কোনও নথিপত্র বা পরিচয়পত্র (যেমন আধার কার্ড) আপডেট করতে গেলে ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ঝাপটপাড়া’র বদলে ‘ইসলামপুরা’ (Jhapatpara to Islampura) লেখা আসতে শুরু করে।

    সরকারি নথিতে অসঙ্গতি

    আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেখানে নতুন ভোটার আইডি বা অন্যান্য পরিচয়পত্রে ‘ইসলামপুরা’ নামটির ব্যবহার বাড়ছে, সেখানে পুরসভার মূল নথিপত্রে এখনও এলাকাটির নাম ‘ঝাপটপাড়া’ হিসেবেই নথিভুক্ত রয়েছে। এমনকি এলাকার একজন মুসলিম বাসিন্দা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন যে, জায়গাটির আসল নাম ঝাপটপাড়া হলেও বর্তমানে মুসলিম জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এটি ইসলামপুরা নামে পরিচিতি পেয়েছে।

    হিন্দু সংগঠন ও বাসিন্দাদের দাবি

    স্থানীয় হিন্দু পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জনসংখ্যার পরিবর্তনের কারণে কোনও এলাকার সরকারি নাম নিজে থেকেই বদলে যেতে পারে না। এই পরিস্থিতির কারণে অনেক পুরনো পরিবার বাধ্য হয়ে নিজেদের বাড়িঘর বিক্রি করে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এলাকায় ‘ডিস্টার্বড এরিয়াস অ্যাক্ট’ (Disturbed Areas Act) কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এই ঘটনার পিছনে কোনও প্রশাসনিক গাফিলতি বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর স্থানীয় নেতৃত্ব। সরকারি নথিতে অবিলম্বে ‘ইসলামপুরা’ নাম বাদ দিয়ে পূর্বের ঐতিহ্যবাহী ‘ঝাপটপাড়া’ নামটি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

  • Pakistan Medicine Crisis: আর্থিক দেউলিয়াত্ব-প্রশাসনিক ব্যর্থতা! ওষুধ সঙ্কটে ভেঙে পড়ার মুখে পাকিস্তানের চিকিৎসা ব্যবস্থা

    Pakistan Medicine Crisis: আর্থিক দেউলিয়াত্ব-প্রশাসনিক ব্যর্থতা! ওষুধ সঙ্কটে ভেঙে পড়ার মুখে পাকিস্তানের চিকিৎসা ব্যবস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর্থিক দেউলিয়াত্ব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতায় জেরবার পাকিস্তান। এবার এক চরম স্বাস্থ্য সঙ্কটের মুখে পড়েছে পাকিস্তান (Pakistan Medicine Crisis)। জীবনদায়ী ওষুধের (Life-saving Medicines) তীব্র ঘাটতির কারণে সে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। ওষুধের দাম নির্ধারণ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের দীর্ঘসূত্রতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এই সঙ্কটকে আরও গভীর করে তুলেছে। ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো মারণব্যাধির ওষুধ না পেয়ে সে দেশে হাহাকার শুরু হয়েছে। অথচ, এই একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত বিশ্বের ‘ফার্মেসি’ (Pharmacy of the World) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিশ্বের দরবারে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে।

    পরিস্থিতি হাতের বাইরে (Healthcare Crisis)?

    পাকিস্তানে জীবনদায়ী ওষুধের সাম্প্রতিক সঙ্কট ও উৎপাদন কমে যাওয়ার পিছনে মূল কারণগুলো অনুসন্ধান করেছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘ড্র্যাপ’ (DRAP)। ওষুধ তৈরির খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পিছনে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক কারণ দায়ী। পাকিস্তানি রুপির রেকর্ড পরিমাণ মূল্যপতনের ফলে আমদানির খরচ আকাশচুম্বী। ওষুধ তৈরির আমদানিকৃত কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন এবং শ্রমিকদের মজুরি বা শ্রমের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া ও ব্যাংক ঋণ বা অর্থায়নের অতিরিক্ত খরচ ইত্যাদি এই সংকটের জন্য দায়ী।

    অন্যদিকে, দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকারের বর্তমান মূল্য নির্ধারণ নীতি (Pricing policy) মেনে ওষুধ বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই তোলা সম্ভব হচ্ছে না। লোকসান এড়াতে অনেক কোম্পানি বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ (Dawn)-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকটের পিছনে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতাও বড় ভূমিকা পালন করছে। উৎপাদন খরচ আকাশছোঁয়া হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ওষুধ তৈরি করা ফার্মা কোম্পানিগুলোর জন্য আর লাভজনক ছিল না। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ড্র্যাপ (DRAP) দুই বছরেরও বেশি সময় আগে ১০৫টি অতি প্রয়োজনীয় বা সঙ্কটকালীন ক্যাটাগরির (Hardship category) ওষুধের দাম পুনর্বিবেচনা করে দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। দুর্ভাগ্যবশত, সেই প্রস্তাবগুলো এখনও পাকিস্তানের ফেডারেল ক্যাবিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।

    দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি সিদ্ধান্ত না আসায় এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ওষুধের উৎপাদন ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলস্বরূপ, বেশ কিছু উৎপাদক সংস্থা বাজারে অতি প্রয়োজনীয় ও জীবনদায়ী ওষুধের জোগান পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এবং দেশজুড়ে তীব্র ওষুধ সঙ্কট (Pakistan Medicine Crisis) তৈরি হয়েছে।

    দেউলিয়া পাকিস্তানের ব্যর্থতা

    অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পাকিস্তান সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে ওষুধের দাম বাড়াতে দিচ্ছে না, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ফার্মা কোম্পানিগুলি ওষুধ তৈরি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে, বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে ইনসুলিন, ক্যানসারের কেমোথেরাপির ওষুধ, হেপারিন এবং সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের মতো জরুরি ড্রাগ।

    ধুঁকছে পাকিস্তান, বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে ভারতের ফার্মা সেক্টর

    পাকিস্তানের এই শোচনীয় পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের শক্তিশালী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পাকিস্তান যখন সামান্য প্যারাসিটামল বা ইনসুলিনের জন্য অন্যান্য দেশের দিকে হাত পাতছে, ভারত তখন সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল হয়ে বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করছে। ভারত আজ বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ সরবরাহকারী দেশ। বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত ভ্যাকসিনের ৬০ শতাংশের বেশি উৎপাদিত হয় ভারতে। ভারতের শক্তিশালী ফার্মা পরিকাঠামোর কারণে এখানে অত্যন্ত কম মূল্যে জীবনদায়ী ওষুধ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, যা পাকিস্তানের কাছে কল্পনা করাও অসম্ভব। পাকিস্তানের রোগীরা আজ নিজেদের দেশে ন্যূনতম চিকিৎসা না পেয়ে ভারতের উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর ভরসা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

  • 456 Madrasas Grant Stopped: মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্তির পর ৪৫৬টি মাদ্রাসার সরকারি অনুদান বন্ধ! উত্তরাখণ্ড সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

    456 Madrasas Grant Stopped: মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্তির পর ৪৫৬টি মাদ্রাসার সরকারি অনুদান বন্ধ! উত্তরাখণ্ড সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে বড়সড় পদক্ষেপ করল উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামী সরকার। রাজ্যে মাদ্রাসা বোর্ড (Uttarakhand Madrasa Board) পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পর, এবার এই বোর্ডের অধীনে থাকা ৪৫৬টি মাদ্রাসাকে দেওয়া সমস্ত রকম সরকারি আর্থিক অনুদান (456 Madrasas Grant Stopped) বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। তবে অনুদান বন্ধ করা হলেও, মাদ্রাসাগুলিতে অধ্যয়নরত হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ‘U-DISE’ (Unified District Information System for Education) সুবিধাগুলি অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষাকে স্কুল শিক্ষার কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা।

    কেন বন্ধ সরকারি অনুদান (456 Madrasas Grant Stopped)?

    উত্তরাখণ্ড শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্য সরকার আগেই মাদ্রাসা বোর্ড ভেঙে দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। এবার সেই সিদ্ধান্তের সূত্র ধরেই অনুদান বন্ধের এই কড়া নির্দেশিকা জারি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত হওয়ার পর এই ৪৫৬টি মাদ্রাসা আর সরকারি আর্থিক সাহায্য পাওয়ার আইনি যোগ্যতা রাখে না। এর ফলে রাজ্য কোষাগার থেকে এই মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো ও পরিচালনার জন্য যে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হতো, তা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে।

    চালু থাকছে ‘U-DISE’ সুবিধা

    মাদ্রাসাগুলির প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান বন্ধ হলেও, সাধারণ পড়ুয়ারা যাতে কোনওভাবেই ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রেখেছে ধামী সরকার। ‘U-DISE’ পোর্টালের অন্তর্ভুক্তি বজায় থাকায়, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা আগের মতোই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন স্কলারশিপ (Scholarships) পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। পড়ুয়ারা যাতে পুষ্টি ও শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য মিড-ডে মিল (Mid-day Meal) এবং অন্যান্য সরকারি শিক্ষাগত সুবিধাগুলি আগের মতোই চালু থাকবে। এই ব্যবস্থার ফলে পড়ুয়াদের প্রাতিষ্ঠানিক ডেটাবেস নষ্ট হবে না, যার ফলে পরবর্তীতে তাদের উচ্চশিক্ষা বা স্কুল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হবে না।

    মূল ধারার শিক্ষায় ফেরানোর লক্ষ্য

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাখণ্ড সরকারের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে মাদ্রাসার পড়ুয়াদের আধুনিক ও মূল ধারার শিক্ষার সাথে যুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। উত্তরাখণ্ড সরকার চাইছে, মাদ্রাসাগুলি শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ স্কুলগুলির মতো আধুনিক সিলেবাস, বিজ্ঞান ও গণিত চর্চাকে অগ্রাধিকার দিক। ইতিমধ্যেই অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলিকে সাধারণ স্কুলের নিয়মের আওতায় আসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরামর্শ দেওয়া শুরু হয়েছে।

  • Nepal Protest: নেপালে পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ, নিজের তৈরি আগ্রাসী নীতিরূপী ‘ভস্মাসুর’-এর মুখে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

    Nepal Protest: নেপালে পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ, নিজের তৈরি আগ্রাসী নীতিরূপী ‘ভস্মাসুর’-এর মুখে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের রাজনীতিতে ফের বড়সড় অসন্তোষ। যে সরকারকে এক বছরও হয়নি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিল দেশের যুবসমাজ , আজ সেই সরকারের বিরুদ্ধেই কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ (Nepal Protest) দেখাচ্ছেন তাঁরা। রাজধানী কাঠমান্ডুর সরকারি দফতর ‘সিংহদরবার সেক্রেটারিয়েট’-এর বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হয়েছেন শত শত মানুষ। ‘গরিবের উপর অত্যাচার বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান দাও’- স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে এই গণবিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে এক মর্মান্তিক ঘটনা।

    কেন এই জনরোষ (Nepal Protest)? 

    গত বৃহস্পতিবার, কাঠমান্ডুর রাস্তায় খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মোটরসাইকেলে যাত্রী বহনকারী চালক বছর ২৫-এর গণেশ নেপালি। নেপালি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সেই সময় পুরসভার পুলিশ এসে আচমকা তাঁর মোটরসাইকেলের চাকায় লক (Wheel Clamp) লাগিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশের এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে নিরুপায় হয়ে ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণ নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই মর্মান্তিক মৃত্যুই নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা নেপালকে। বারুদের মতো জ্বলে উঠেছে জেন-জিদের ক্ষোভ (Gen Z Protest)।

    পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা আন্দোলনকারীদের

    গণেশ নেপালির মৃত্যুর বিচার চেয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘ফ্যাসিবাদী নীতি’-র বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পড়ুয়া, চালক ও যুবসমাজ বীর হাসপাতালের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। ভদ্রকালী এলাকায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের পথ আটকালে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করতেই পুলিশ ও যুবকদের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। পাল্টা ইট-পাটকেল ছোড়ে আন্দোলনকারীরাও।

    উত্তাল নেপালের সংসদও

    রাস্তার সংঘর্ষের আঁচ এবার পৌঁছেছে নেপালের সংসদেও। সরকারের শরিক দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (RSP)-র সাংসদ আশিকা তামাং থেকে শুরু করে বিরোধী জোটের নেতারাও বালেন্দ্র শাহ-র সরকারকে তুলোধোনা করেছেন। বিরোধীদের স্পষ্ট দাবি, সরকারকে স্টান্টবাজি বন্ধ করতে হবে। এই প্রশাসনই সাধারণ দিনমজুরদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পুলিশের ডিআইজি (DIG) গোবিন্দ থাপালিয়ার নেতৃত্বে একটি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পুরপুলিশের ক্ষমতা খর্ব না করা পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরতে নারাজ নেপালের লড়াকু জেন-জি প্রজন্ম।

    বালেন্দ্র শাহ-এর ‘আগ্রাসী’ শাসন নীতি

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই অত্যাচার নতুন নয়। ২০২২ সালে বালেন্দ্র শাহ কাঠমান্ডুর মেয়র হওয়ার পর থেকেই ওখানকার পুরপুলিশ অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। শহরের সৌন্দর্যায়ন ও ফুটপাত পরিষ্কার করার নামে বালেন্দ্র শাহ কড়া মনোভাব নেন। নদীপাড়ের বস্তি উচ্ছেদ এবং হকারদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার কারণে বারবার পুলিশের সঙ্গে গরিব মানুষের সংঘর্ষ বাঁধে। ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও গরিব মানুষদের উপর পুলিশের এই জুলুমের একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভ (Gen Z Protest) জমছিল। যা এই তরুণ চালকের মৃত্যুর পর গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে।

    আইন কী বলছে? 

    আইনজ্ঞদের মতে, বালেন্দ্র শাহ-এর প্রশাসন সংবিধানের তোয়াক্কা না করে পুরপুলিশকে ফেডারেল পুলিশের মতো আগ্রাসী বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে। নেপালের ‘কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি মিউনিসিপ্যাল পুলিশ অ্যাক্ট ২০২৩’ অনুযায়ী, পুরপুলিশের কাজ পুরসভার সম্পত্তি রক্ষা করা, পার্কের দেখভাল করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় উৎসবে সাহায্য করা। নেপালের প্রাক্তন ডিআইজি পূর্ণচন্দ্র জোশী এবং প্রবীণ আইনজীবী রাজু চাপাগাইন জানিয়েছেন, পুরপুলিশের কোনো নাগরিককে আটক করার, লাঠিচার্জ করার বা বলপ্রয়োগ করার আইনি অধিকার নেই। ট্রাফিক বা রাস্তা অবরোধের সমস্যা হলে তাদের ট্রাফিক পুলিশ বা নেপাল পুলিশকে জানানো উচিত। কিন্তু আইন অমান্য করে এই পুরপুলিশ প্রতিনিয়ত হকারদের তাড়া করছে, সাধারণ মানুষের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে এবং মারধর করছে—যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

    বস্তি উচ্ছেদ বন্ধ ও বাসস্থানের দাবি

    রাইড-শেয়ারিং চালকের মৃত্যুর পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা সরকারের অবৈধ গ্রেফতারি বন্ধ করার এবং নদীপাড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। কয়েক মাস আগে যে যুবসমাজ (Gen Z) পরিবর্তনের আশায় বালেন্দ্র শাহ-কে সমর্থন করেছিল, আজ তারাই দেশের গরিব মানুষের মানবাধিকার রক্ষা এবং প্রশাসনের জবাবদিহির দাবিতে অনড়।

  • ‘Ek Ped Maa Ke Naam’: ৪০ কোটি চারা রোপণ! সবুজ ইতিহাস গড়ল উত্তরপ্রদেশ, যোগীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ দেশ

    ‘Ek Ped Maa Ke Naam’: ৪০ কোটি চারা রোপণ! সবুজ ইতিহাস গড়ল উত্তরপ্রদেশ, যোগীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবেশ রক্ষা এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়ল উত্তরপ্রদেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ (Ek Ped Maa Ke Naam) অভিযানের আওতায় ‘বৃক্ষরোপণ মহাযজ্ঞ-২০২৬’-এর মধ্য দিয়ে গোটা রাজ্যজুড়ে একদিনে রেকর্ডসংখ্যক ৪০ কোটিরও বেশি চারা রোপণ করে ইতিহাস যোগী রাজ্যের। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার পর উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সেরাজ্যের জনগণকে এই অভাবনীয় সাফল্যের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। পরিবেশ সংরক্ষণের এই মহাযজ্ঞ ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে বিপুল প্রশংসা কুড়োচ্ছে।

    ‘বৃক্ষরোপণ মহাযজ্ঞ-২০২৬’ (Vriksharopan Mahayagya-2026)

    গত ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) দেশবাসীকে ধরিত্রী রক্ষা ও নিজের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ অভিযানে শামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সুদক্ষ পরিচালনায় গোরক্ষপুরে এই সরকারি কর্মসূচি নিমেষের মধ্যে এক বিশাল ‘জনআন্দোলনে’ রূপ নেয়। যা ‘বৃক্ষরোপণ মহাযজ্ঞ-২০২৬’ (Vriksharopan Mahayagya-2026) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। গ্রাম থেকে শহর, স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সরকারি দফতর, কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ চাকুরিজীবী—সব স্তরের মানুষ অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে নিজেদের মায়ের নামে গাছ লাগিয়ে এই সবুজ বিপ্লবে অংশ নেন।

    উত্তরপ্রদেশের সবুজ মহোৎসব

    গোটা রাজ্যের সমস্ত জেলা মিলিয়ে একযোগে ৪০ কোটিরও বেশি চারাগাছ রোপণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র সংখ্যা বাড়ানোই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে রোপণ করা হয়েছে নিম, বট, অশ্বত্থ, আম, জাম এবং বিভিন্ন ভেষজ ও ফলদায়ী চারা। প্রতিটি চারাগাছের সঠিক দেখভাল নিশ্চিত করতে এবং জিও-ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে সেগুলির বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করার বিশেষ ব্যবস্থাও নেয় রাজ্য প্রশাসন।

    মুখ্যমন্ত্রী যোগীর বার্তা

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) বলেন,”মা এবং ধরিত্রী-উভয়েই আমাদের জীবনদাতা। প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী আহ্বানকে উত্তরপ্রদেশের ২৫ কোটি মানুষ যেভাবে আপন করে নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। এই ৪০ কোটি গাছ আগামী প্রজন্মকে এক স্বাস্থ্যকর ও দূষণমূক্ত পরিবেশ উপহার দেবে”।

    পরিবেশ রক্ষায় ভারতের রোল মডেল উত্তরপ্রদেশ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) এই কঠিন সময়ে একদিনে ৪০ কোটি চারাগাছ রোপণ করা কেবল ভারতের বুকেই নয়, বিশ্ব পরিবেশের ইতিহাসেও এক অন্যতম বৃহৎ সবুজায়ন কর্মসূচি। উত্তরপ্রদেশের এই পদক্ষেপ অন্যান্য রাজ্যগুলির কাছেও পরিবেশ রক্ষায় একটি রোল মডেল বা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পরিবেশবিদদের একাংশ বলছেন, এই বিপুল পরিমাণ গাছ আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশের গ্রিন কভার বা বনাঞ্চলের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে বড় ভূমিকা নেবে।

  • 56th International Physics Olympiad 2026: ভারতের ক্লিন সুইপ! ৫টি সোনা জিতে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস

    56th International Physics Olympiad 2026: ভারতের ক্লিন সুইপ! ৫টি সোনা জিতে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বমঞ্চে ফের ভারতের জয়জয়কার! কলম্বিয়ার বুকরাম্যাঙ্গায় (Bucaramanga) আয়োজিত ৫৬তম আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (56th International Physics Olympiad 2026) ইতিহাস গড়ল ভারতীয় পড়ুয়ারা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পাঁচজন ভারতীয় ছাত্রই সোনা (Five Gold Medals) জিতে দেশবাসীকে গর্বিত করেছেন। এই দুর্দান্ত ‘ক্লিন সুইপ’-এর হাত ধরে রাশিয়া, চিন, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের মতো হেভিওয়েট দেশগুলির সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করল ভারত। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই মেধা প্রতিযোগিতায় ভারতের এই জয় বিজ্ঞান শিক্ষায় দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই প্রমাণ।

    ৩৭৮ জন প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে শীর্ষস্থানে ভারত

    এবারের অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ৮৭টি দেশ থেকে মোট ৩৮১ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। তাদের সবাইকে পিছনে ফেলে ভারতীয় দলের পাঁচ রত্ন ভারতের পতাকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। মেধা এবং নিখুঁত পারফরম্যান্সের জোরে পাঁচজনই সোনা পকেটে পুরে নেন।

    ভারতের সোনার ছেলেরা (Five Gold Medalist)

    দেশের নাম উজ্জ্বল করা এই পাঁচ কৃতি ছাত্র হলেন, কনিষ্ক জৈন (পুনে), ঋদ্ধেশ অনন্ত বেন্দালে (ইন্দোর), ঋষিত গর্গ (দিল্লি), শ্রেষ্ঠ সুরাইয়া (মুম্বই), স্বৈয়ত জোশী (আমেদাবাদ)।

    মাসের পর মাস কঠিন পরিশ্রম

    বিশ্বের দরবারে এই সাফল্য কিন্তু একদিনে আসেনি। আন্তর্জাতিক স্তরের এই কঠিন প্রতিযোগিতার জন্য পড়ুয়াদের মাসের পর মাস কঠোর প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অধীনে পদার্থবিদ্যার অ্যাডভান্সড থিওরি, ল্যাবরেটরির জটিল কাজ এবং নিয়মিত প্র্যাকটিস সেশনের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করেছিলেন এই তরুণ বিজ্ঞানীরা। এই পুরো যাত্রায় ভারতীয় দলের মেন্টর ও গাইড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন হোমি ভাবা সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশন (HBCSE-TIFR)-এর অধ্যাপক অন্বেষ মজুমদার, ড. লীনা জোশী এবং বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত থাকা আইআইএসইআর (IISER) কলকাতার অধ্যাপক আনন্দ দাশগুপ্ত ও নিশা কেলকর। তাঁদের যোগ্য নেতৃত্বই ছাত্রদের এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

    আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কী?

    এটি প্রতি বছর আয়োজিত হওয়া স্কুল স্তরের বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও কঠিন পদার্থবিজ্ঞান প্রতিযোগিতা। এখানে অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের কঠিন তাত্ত্বিক (Theoretical) এবং ব্যবহারিক বা পরীক্ষামূলক (Experimental) পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এর মাধ্যমে তাদের পদার্থবিদ্যার গভীরতা, বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং কঠিন সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

    শিক্ষামহলে খুশির হাওয়া

    ভারতীয় দলের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে দেশের শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী মহলে খুশির হাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সেরা বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যবস্থার দেশগুলির সাথে প্রথম স্থান ভাগ করে নেওয়া প্রমাণ করে যে, ভারতীয় পড়ুয়াদের মেধা আন্তর্জাতিক স্তরেও কতটা শক্তিশালী। এই জয় দেশের হাজার হাজার তরুণ পড়ুয়াকে আগামীদিনে বিজ্ঞান চর্চা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

  • Chhattisgarh Naxalism: মাওবাদীদের বড় নাশকতার ছক বানচাল! আত্মসমর্পণকারীদের তথ্যে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র-সোনা

    Chhattisgarh Naxalism: মাওবাদীদের বড় নাশকতার ছক বানচাল! আত্মসমর্পণকারীদের তথ্যে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র-সোনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের মাওবাদী (Chhattisgarh Naxalism) দমনে ফের বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ ও যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। দক্ষিণ বস্তার দান্তেওয়াড়া এবং কাঙ্কের জেলায় দুটি পৃথক অভিযানে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, সোনা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সময়মতো মাওবাদীদের এই গোপন আস্তানা বা ‘ডাম্প’গুলির হদিশ মেলায় বড়সড় নাশকতার ছক ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

    আত্মসমর্পণকারীদের তথ্যে তোলপাড় দান্তেওয়াড়া

    পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি মাওবাদী মতাদর্শ এবং হিংসার পথ ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসেছে বেশ কিছু মাওবাদী। তাদেরই দেওয়া সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে দান্তেওয়াড়া জেলার বারসুর থানার অন্তর্গত তোড়মা গ্রামের ঘন জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় একটি বিশাল তল্লাশি অভিযান (Dantewada Operation) চালানো হয়। সেখানেই মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা একটি বিশাল গোপন ডাম্পের সন্ধান পায় বাহিনী। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মোট বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। পুলিশের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বড়সড় হামলা চালানো এবং এলাকায় নাশকতামূলক কাজের উদ্দেশ্যেই মাওবাদীরা এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিল।

    দান্তেওয়াড়া থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী (Maoist Arms Recovery)

    ১১৬ গ্রাম ওজনের সোনার বিস্কুট, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৬ লক্ষ টাকা। নগদ ২ লক্ষ টাকা। ১টি ইনসাস (INSAS) রাইফেল এবং ১৬টি ইনসাস ম্যাগাজিন। ৪টি একে-৪৭ ম্যাগাজিন এবং ৬৮ রাউন্ড গুলি। ২৩টি এসএলআর (SLR) ম্যাগাজিন এবং ৩৪ রাউন্ড গুলি। ৫টি ১২-বোর বন্দুক এবং ৭ রাউন্ড গুলি। ৩টি বিজিএল (BGL) লঞ্চার এবং ১টি বিজিএল সেল। ২টি কারবাইন ম্যাগাজিন। ৮টি .৩০৩ রাউন্ড গুলি এবং ৪৫টি .৩০৩ চার্জার। ১০টি ভাঙা ভরমার বন্দুক, ১টি রিভলভার এবং ১টি এয়ারগান। ৬টি টিফিন বোমা, ৪টি পাইপ বোমা, ১২২টি তির বোমা, ১টি প্যারা বোমা, ২টি দেশি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২টি দেশি মর্টার, ১ স্টিল বক্স জিলেটিন, ২০টি ডেটোনেটর, ১ বান্ডিল কোডেক্স ওয়্যার এবং ১৪টি কুকার। এছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে, মাওবাদী ইউনিফর্ম, ওষুধ, লিফলেট-প্যামফলেট এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

    মাওবাদীদের বার্তা পুলিশের 

    বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও রসদ উদ্ধারকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন। বস্তার রেঞ্জের পুলিশ আইজি বদ্রী নারায়ণ মিনা, সিআরপিএফ ডিআইজি (অপারেশনস) রাকেশ চৌধুরী এবং দান্তেওয়াড়ার পুলিশ সুপার গৌরব রাইয়ের যৌথ নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানে এই অভিযানটি সফল হয়। দান্তেওয়াড়া পুলিশের পক্ষ থেকে সমস্ত পথভ্রষ্ট মাওবাদীদের স্পষ্ট বার্তা,  হিংসার পথ ও মাওবাদী মতাদর্শ পুরোপুরি ত্যাগ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসে। অস্ত্র ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে শান্তি, অহিংসা ও এলাকার উন্নয়নের পথে শামিল হওয়ার জন্যও বার্তা জেলা পুলিশের।

    কাঙ্কের-নারায়ণপুর সীমান্তেও উদ্ধার ‘মাওবাদী ডাম্প’

    অন্যদিকে, দান্তেওয়াড়ার পাশাপাশি ছত্তীসগঢ়ের কাঙ্কের ও নারায়ণপুর জেলার সীমান্তবর্তী কোয়লিবোড়া থানা এলাকাতেও মাওবাদীদের আরও একটি গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়েছে বাহিনী। আলপরাস ও গুমচুর গ্রামের মধ্যবর্তী পাহাড়ি জঙ্গলে রুটিন টহলদারির সময় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) এবং ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (DRG)-এর একটি যৌথ দল মাটির নিচে কিছু লুকানো রয়েছে বলে সন্দেহ করে। এরপর সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করতেই উদ্ধার হয় আধুনিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র। কাঙ্কেরের পুলিশ সুপার নিখিল রাখেচা, বিএসএফ-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অঙ্কুশ কুমার এবং কোয়লিবোড়ার থানা ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক নির্মল জংড়ের নেতৃত্বে এই যৌথ অভিযানটি সফল হয়।

    কাঙ্কের থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী 

    ২টি .৩০৩ রাইফেল এবং ৩২ রাউন্ড তাজা গুলি। ১টি ল্যাপটপ এবং ১টি ট্যাবলেট। ১টি রেডিও সেট এবং ৩টি ওয়্যারলেস ব্যাটারি। ২টি মাওবাদী ইউনিফর্ম এবং ৫টি পাউচ। ২টি চার্জার এবং ১টি সাধারণ ব্যাটারি। বিপুল পরিমাণ মাওবাদী সাহিত্য ও বইপত্র।

    উল্লেখ্য, বস্তার বা দান্তেওয়াড়ার এই জঙ্গলগুলোতে মাওবাদীদের অস্ত্রভাণ্ডার বা ‘ডাম্প’ উদ্ধারের ঘটনা এটা প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মাটির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ মরণাস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। তবে এবারের ঘটনাটি বাকি সময়ের চেয়ে অনেকটাই আলাদা এবং তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে মূলত গোয়েন্দা সূত্রে বা তল্লাশি চালাতে গিয়ে আচমকা এই ধরনের ডাম্পের সন্ধান মিলত। কিন্তু এবার খোদ আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরাই স্বেচ্ছায় পুলিশকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাদের গোপন আস্তানা চিনিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, লাল সন্ত্রাসবাদীদের পায়ের তলা থেকে মাটি কেবল সরছেই না, বরং খোদ সংগঠনের অন্দরেই মাওবাদী মতাদর্শের মৃত্যু ঘটেছে। বারবার অস্ত্র উদ্ধার এবং প্রথম সারির ক্যাডারদের এই আত্মসমর্পণ বলাই বাহুল্য ছত্তীসগঢ়ে মাওবাদী সাম্রাজ্যের পতনের কাউন্টডাউন আরও ত্বরান্বিত করল।

LinkedIn
Share