Tag: বাংলা খবর

  • Diabetes Causes Beyond Sugar: শুধু চিনি নয়! তরুণদের ডায়াবেটিস বাড়াচ্ছে এই ৪ দৈনন্দিন অভ্যাস, সতর্ক করলেন চিকিৎসকেরা

    Diabetes Causes Beyond Sugar: শুধু চিনি নয়! তরুণদের ডায়াবেটিস বাড়াচ্ছে এই ৪ দৈনন্দিন অভ্যাস, সতর্ক করলেন চিকিৎসকেরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চিনি বিপজ্জনক। কিন্তু শুধু চিনিই সমস্যা তৈরি করছে না। বরং, চিনির সঙ্গে বিপদ বাড়াচ্ছে প্রতি দিনের কিছু অভ্যাস। ভারতে ডায়াবেটিস আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই রোগের দাপট বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের অন্যতম শর্ত রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক থাকতে হবে। কিন্তু আধুনিক জীবন যাপনের জেরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে‌। ডায়াবেটিস রুখতে অনেকেই চিনিকে খাবারের তালিকা থেকে বাদ রাখছেন। কিন্তু তারপরেও বিপদ আটকানো যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতের তরুণ প্রজন্মের ডায়াবেটিস আক্রান্তের কারণ শুধুই চিনি নয়। বরং, তার নেপথ্যে রয়েছে আরও কয়েকটি কারণ। এমনটাই সাম্প্রতিক গবেষণায় জানিয়েছেন একদল গবেষক-চিকিৎসক।

    কী বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা? ডায়াবেটিসের নেপথ্যে কোন কারণ দায়ী?

    সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসের দাপট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, তাঁদের জীবন যাপনের অভ্যাস এবং খাদ্যাভাস।

    ব্যালেন্স খাবার নিয়ে ধারণার অভাব!

    গবেষক-চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই চিনি খাওয়া নিয়ে সতর্ক। কিন্তু তাঁরা সুষম খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত নন। তাঁদের খাবারে নিয়মিত প্রোটিন, ভিটামিন এবং কার্বোহাইড্রেটের ব্যালেন্স থাকছে না। সকাল থেকে রাত, প্রত্যেকদিন একাধিকবার তাঁরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাচ্ছেন। কিন্তু প্রয়োজন মাফিক প্রোটিন এবং ভিটামিন শরীর পাচ্ছে না। সকালের জলখাবারে পরোটা, দুপুরে ভাত কিংবা রাতে রুটি বা ভাতের মতো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার থাকছে। চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সব্জি, ডাল, ডিম, পনীর খাওয়া হয় না। সকালের জলখাবার হোক বা দুপুরের খাবার, ভাত কিংবা রুটির সমান পরিমাণ সব্জি, ডাল খাওয়া জরুরি। এই সম্পর্কে এখনও অধিকাংশ মানুষ সচেতন নন। এই অসচেতনতা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ কম!

    তরুণ প্রজন্মের একাংশের দিনের বেশিরভাগ সময় চেয়ার কিংবা সোফায় বসে কাটাতে হয়। গবেষক চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কাজের ধরণ বদলে গিয়েছে। আধুনিক জীবনে অধিকাংশ পেশায় চেয়ার কিংবা সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করার রেওয়াজ। দিনের ৯-১০ ঘণ্টা বসেই কাটছে। আবার বাড়ি ফিরে অবসর যাপন বসেই হয়। সোফায় বা বিছানায় বসে মোবাইলে সময় কাটানো হলো দিন শেষের নিজেস্ব সময় কাটানোর পথ। আর এই সবটাই অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের দীর্ঘসময় বসে থাকার ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শারীরিক পরিশ্রম না হলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

    খাবারের সময়!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কখন খাবার খাওয়া হয়, তার উপরে একাধিক রোগের দাপট নির্ভর করে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ অনেক রাতে খাবার খায়। এমন অনেকেই রাত বারোটার পরে খাবার খায়। এই অতিরিক্ত রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

    অনিদ্রা!

    তরুণ প্রজন্মের একাংশের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হলো অনিদ্রা। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ঘুম হলে মস্তিষ্ক, পেশি এবং স্নায়ুর বিশ্রাম হয়। কার্যক্ষমতা বাড়ে। তেমনি পর্যাপ্ত ঘুম হলে শরীরের একাধিক হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। পর্যাপ্ত ঘুম হলে ইনসুলিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও বজায় থাকে।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে চিনি খাওয়া বাদ দেওয়ার পাশপাশি আরও কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের পরামর্শ, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন জরুরি। শুধু চিনি বাদ দিলেই হবে না। ডায়াবেটিস রুখতে চিনির পাশপাশি অতিরিক্ত তেলেভাজা জাতীয় খাবার, কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা হতে পারে এমন খাবার খাওয়া চলবে না।‌ তাছাড়া নিয়মিত শরীরিক কসরত করতে হবে। নিজস্ব সময় কাটানো শুধুই মোবাইল দেখায় আবদ্ধ করলে চলবে না। বরং যোগাভ্যাস কিংবা হাঁটাহাঁটির জন্য কিছুটা সময় বরাদ্দ করতে হবে। তাছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে অল্প পরিমাণে খাওয়া, অতিরিক্ত রাতে খাবার না খাওয়ার মতো অভ্যাস তৈরি করতে হবে। পাশপাশি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আর দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা হলে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া দরকার বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারই মধ্যে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। অভিযোগে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, তৎকালীন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দায়ের হওয়া এই অভিযোগে বিজেপি নেতার দাবি, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের নামে ওষুধ কেনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধের উৎস, ব্যবহার এবং কেন সেগুলি মাটির নীচে চাপা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

    মাটি খুঁড়ে ওষুধ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ জুন ডায়মন্ড হারবারের সরিষা-হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেন। পরে পারুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করলেও, অভিযোগ অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও পৃথক মামলা রুজু করা হয়নি। বিজেপির অভিযোগ, ওই উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির সঙ্গে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারে।

    কার কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?

    নতুন অভিযোগে প্রথমেই নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁকে প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়, অয়ন ঘোষ দস্তিদার, জাহাঙ্গির খান, শামিম আহমেদ মোল্লা, গৌতম অধিকারী, মেহবুব গায়েন-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে অভিযোগপত্রে। এছাড়াও তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

    কী কী অভিযোগ তুলেছে বিজেপি?

    অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগ, সরকারি ও জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য শিবিরের নামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ খোলা বাজার থেকে কেনা হয়েছিল কি না, সেই প্রক্রিয়ায় কোনও আর্থিক অনিয়ম বা তছরুপ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ওষুধ কী কারণে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র ওষুধ সংরক্ষণের গাফিলতি নয়, বরং এর সঙ্গে ওষুধ পাচার বা অন্য কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়েও প্রশ্ন

    বিজেপি নেতার দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে কিছু ওষুধের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, আবার কিছু ওষুধের মেয়াদ তখনও বাকি ছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও দেওয়া হয়েছিল কি না। এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া কিছু ওষুধের বাজারদর এবং সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP)-এর মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান ছিল। তাঁর অভিযোগ, যে ওষুধের প্রকৃত বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে কম, তার এমআরপি অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। এ ধরনের ওষুধ স্থানীয় সংস্থার তৈরি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় বা অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্তের দাবি তুলেছেন।

    বিজেপি নেতার দাবি

    অভিজিৎ দাস ববির বক্তব্য, কারা এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটির নীচে চাপা দিয়েছিল, তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে কোটি কোটি টাকার ওষুধ গোপনে মাটির নীচে চাপা দিতে হল? তাঁর মতে, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল এবং তাদের ভূমিকা কী, তা তদন্ত করলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

    এখনও দলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি

    এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পুলিশের তরফেও নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হবে, সে সম্পর্কেও এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত এগোলে এই ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বারুইপুর নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক শুভেন্দুর

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর রওনা হওয়ার আগে মঙ্গলবার সকালে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, এখনও কী কী তথ্য সামনে এসেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে— সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর বারুইপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর আগেই পৌঁছল বিজেপির প্রতিনিধি দল

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, আগের সরকার আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্যাতিতার পরিবার সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ‘‘আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসিনি। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’’ একইসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায়ও আশ্বাস দেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

    তদন্তে গতি, গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের প্রকৃত উদ্দেশ্য, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রতিনিধিরাও গেলেন

    মঙ্গলবার সকালে বিজেপির প্রতিনিধি দল বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক নেতা। এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বচসা বাধে। পরে স্থানীয় সাংসদ হওয়ার কারণে শুধুমাত্র সায়নী ঘোষকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    রবিবার থেকেই উত্তপ্ত বারুইপুর

    গত রবিবার স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বারুইপুরে। দফায় দফায় বিক্ষোভে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই কিশোরীর খুনের সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুও হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও এসআইটি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    সোমবারই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর বক্তব্য, “নির্যাতিতার বাবা যা যা চেয়েছেন, সবটাই করা হবে। পরিবার আমাদের উপর আস্থা রেখেছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” মঙ্গলবারের সফরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করতে পারেন বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

  • Baaz Battalions: ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধের জন্য বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গড়ছে ভারতীয় সেনা, কী বিশেষত্ব?

    Baaz Battalions: ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধের জন্য বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গড়ছে ভারতীয় সেনা, কী বিশেষত্ব?

    সুশান্ত দাস

    ভবিষ্যতের যুদ্ধ যে ড্রোনকেন্দ্রিক হতে চলেছে, সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। এবার সেনার বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন অপারেশনকে আরও শক্তিশালী করতে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ (Baaz Battalions)। এই নতুন ইউনিটের মূল কাজ হবে দীর্ঘক্ষণ আকাশপথে নজরদারি, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ, লইটারিং মিউনিশন পরিচালনা এবং আধুনিক ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনা (Indian Army Drone Warfare)। সদ্যপ্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। অপারেশন সিঁদুর-এর অভিজ্ঞতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘর্ষ বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সেনা সূত্রের দাবি। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন শুধু স্থলসেনাই নয়, আকাশে থাকা মানববিহীন ড্রোনও যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

    কেন আলাদা ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’?

    এতদিন ভারতীয় সেনার বিভিন্ন ইনফ্যান্ট্রি, আর্টিলারি বা অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে ছোট ড্রোন ডিটাচমেন্ট যুক্ত থাকত। তাদের প্রধান কাজ ছিল নজরদারি, শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং আর্টিলারিকে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, ড্রোনের ব্যবহার এখন অনেক বেশি বিস্তৃত।

    বর্তমানে ড্রোনের মাধ্যমে—

    • ● শত্রুপক্ষের গভীরে নজরদারি চালানো যায়।
    • ● ট্যাঙ্ক, বাঙ্কার ও আর্টিলারি ধ্বংসে নির্ভুল হামলা চালানো সম্ভব।
    • ● লয়টারিং মিউনিশন বা কামিকাজে (সুইসাইড ড্রোন) হিসেবে সরাসরি আঘাত হানা যায়।
    • ● একসঙ্গে বহু ড্রোন ব্যবহার করে সোয়ার্ম অ্যাটাক (Swarm Attack) চালানো যায়।
    • ● হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন (Battle Damage Assessment) করা সম্ভব।
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে শত্রুর যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত ও ব্যাহত করা যায়।

    এই বহুমুখী দায়িত্ব পালনের জন্যই শুধুমাত্র ড্রোন অপারেশনের উদ্দেশ্যে পৃথক, বিশেষ প্রশিক্ষিত এবং স্বাধীন ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

    কী কাজ করবে বাজ ব্যাটালিয়ন?

    সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন বাজ ব্যাটালিয়ন (Baaz Battalions) আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই কাজ করবে।

    এই ইউনিটগুলির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে—

    • ● দীর্ঘমেয়াদি ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেল্যান্স ও রিকনেস্যান্স (ISR) পরিচালনা।
    • ● দূরপাল্লার আকাশ নজরদারি।
    • ● নির্ভুল ড্রোন হামলা।
    • ● লয়টারিং মিউনিশন পরিচালনা।
    • ● আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয়।
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযান।
    • ● আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা—উভয় ধরনের অভিযানে পদাতিক বাহিনীকে সহায়তা।

    প্রতিটি ব্যাটালিয়নে এক ধরনের নয়, বরং একাধিক শ্রেণির মানববিহীন আকাশযান (UAV) মোতায়েন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ‘অশ্বিনী’ প্রকল্পের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

    অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সেনার অশ্বিনী (Ashini) প্রকল্প থাকতেই আবার নতুন ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’-এর প্রয়োজন কেন? আসলে দুটি উদ্যোগের উদ্দেশ্য এক নয়। অশ্বিনী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের কাছে ছোট আকারের ট্যাকটিক্যাল ড্রোন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলি মূলত সীমিত দূরত্বে নজরদারি, শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়।

    অন্যদিকে, বাজ ব্যাটালিয়ন (Baaz Battalions) হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বিশেষায়িত ড্রোন যুদ্ধ ইউনিট। এগুলির কাজ শুধুমাত্র নজরদারিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, দীর্ঘপাল্লার অপারেশন, নির্ভুল হামলা, লয়টারিং মিউনিশন ব্যবহার এবং বৃহৎ পরিসরে ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনাই হবে মূল লক্ষ্য। সহজভাবে বললে, অশ্বিনী যেখানে সামনের সারির সেনাদের হাতে ‘চোখ’ তুলে দেয়, সেখানে Baaz Battalions ভারতীয় সেনার পূর্ণাঙ্গ ড্রোন যুদ্ধক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রস্তুতি

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিন্দুর-এর অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘর্ষের সাম্প্রতিক প্রবণতা ভারতীয় সেনাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন আর কেবল সহায়ক প্রযুক্তি নয়, বরং যুদ্ধের অন্যতম নির্ণায়ক অস্ত্র। সেই কারণেই ড্রোনকে শুধুমাত্র নজরদারির মাধ্যম হিসেবে না দেখে, গোয়েন্দা অভিযান, নির্ভুল আঘাত, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সমন্বিত যুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসছে ভারতীয় সেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গঠন সেই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক রূপান্তরেরই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus: স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, এবার বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus: স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, এবার বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার থেকে সিলেবাসেও শ্যামাপ্রসাদ! শিক্ষাব্যবস্থায় বড় বদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus)।

    স্কুল স্তরের পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছেন ‘ভারত কেশরী’ তথা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus)। এদিন মিত্র ইনস্টিটিউশনে জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনটাই ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)।

    সিলেবাসে শ্যামাপ্রসাদের (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus) কোন কোন অধ্যায়?

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বাংলার বর্তমান প্রজন্মকে রাজ্যের সঠিক ইতিহাস এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে মূলত যে বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়া হবে-

    • পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি ও ইতিহাস: ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এর প্রেক্ষাপট।
    • দেশপ্রেম ও অখণ্ড ভারত: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রপ্রেম এবং অখণ্ড ভারতের যে রাজনৈতিক ভাবনা, তা শিক্ষার্থীদের পড়ানো হবে।
    • শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপ্রসারে উপাচার্য হিসেবে তাঁর যে অসামান্য অবদান ও কর্মজীবন, এবার থেকে তাও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে চর্চিত হবে।

    আর কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অসীম রাষ্ট্রপ্রেম এবং পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের মূল স্রোতে ধরে রাখার যে ঐতিহাসিক ভূমিকা, তা বর্তমান প্রজন্মের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জানা জরুরি। এবার থেকে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরেই তাঁর এই অবদান আনুষ্ঠানিকভাবে পড়ানো হবে।”

    মিত্র ইনস্টিটিউশনের জন্য অনুদান

    এদিন নিজের বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) স্মৃতিবিজড়িত স্কুল ‘মিত্র ইনস্টিটিউশন’-এর দুর্দশা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন “অতীতে এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলের দিকে কেউ নজর দেয়নি”। এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদানেরও ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    জিরাটে তৈরি হবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি

    পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) আদি পৈতৃক ভিটে হুগলির জিরাটে একটি আধুনিক ও বৃহৎ লাইব্রেরি (গ্রন্থাগার) তৈরি করার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে গবেষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আরও বেশি পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন, বলেই মনে করছেন তিনি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই শিক্ষাব্যবস্থা ও সিলেবাসে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছিল। শুভেন্দু অধিকারীর এই মেগা ঘোষণার পর এটা স্পষ্ট যে, নতুন সরকার বাংলার জন্ম-ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে।

  • PM Modi in Indonesia: ‘সোনালি অধ্যায়ের’ সূচনা! সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন মোদি, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

    PM Modi in Indonesia: ‘সোনালি অধ্যায়ের’ সূচনা! সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন মোদি, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, ব্লু ইকোনমি এবং প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি ও জাকার্তা। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবয়ো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সোনালি অধ্যায়’-এর সূচনা হল। তাঁর দাবি, এই নতুন অধ্যায় শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, ২১ শতকের বিশ্ব ও মানবতার জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মোদির কথায়, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস যত বাড়ছে, ততই প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় জোর

    বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিনিময় কর্মসূচি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের কোস্ট গার্ড যৌথভাবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি, বন্দর উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

    মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান

    এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা মেডেল অব অনার’ প্রদান। সম্মান গ্রহণের পর মোদি বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর ব্যক্তিগত নয়, ১৪০ কোটিরও বেশি ভারতীয়র সম্মান। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ইন্দোনেশিয়া সরকার এবং সে দেশের জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    ২০১৮ সালের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী

    মোদি জানান, ২০১৮ সালে গঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়ার কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ এখন আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়েছে। উন্নয়ন, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও নতুন সহযোগিতা

    দুই দেশের আলোচনায় স্বাস্থ্য পরিষেবাও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের সাশ্রয়ী ও উন্নত মানের ওষুধ ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের কাছে আরও সহজলভ্য করা হবে। শুধু তাই নয়, ইন্দোনেশিয়ার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ভারত সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, মিড-ডে মিল এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

    দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকের শেষে প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ব্লু ইকোনমি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে আরও কৌশলগত গুরুত্ব দেবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের সমন্বয়কে নতুন মাত্রা দেবে।

  • Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভিটামিন, ফাইবারের মতোই সমান জরুরি খনিজ! শরীর সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘ জীবন যাপনের জন্য শরীরের প্রয়োজন, পর্যাপ্ত পরিমাণ খনিজ পদার্থের জোগান। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরে খনিজ পদার্থের সামান্য চাহিদা থাকে। তবে এই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেই একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। চোখের নীচে কালো দাগ, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হৃদরোগের সমস্যা, এমন একাধিক শারীরিক জটিলতার পাশপাশি মানসিক চাপ, বিষন্নতার মতো নানান মানসিক সমস্যাও তৈরি একটি একটি খনিজের ঘাটতি! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শরীরে প্রতিদিন ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সামান্য। কিন্তু সেই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেও একাধিক বিপদ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রতিদিন মাত্র ৩১০-৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

    ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঝুঁকি শরীরে একাধিক সমস্যা তৈরি করে‌। পেশিতে টান ধরে। বারবার খিঁচুনির মতো সমস্যা তৈরি হয়। ফলে পেশির সক্রিয়তা কমে। আবার হাত-পায়ে দূর্বলতা বোধ হয়। তাই ক্লান্তি গ্রাস করে। যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়। ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হাড়ের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই মহিলাদের ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলারা অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যায় বেশি ভোগেন। তাই তাঁদের হাড়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ম্যাগনেশিয়াম বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দিতে পারে। এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরের পাশপাশি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকারক বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যা দেখা যায়। ফলে যেকোনো কাজে মনোসংযোগ করা কঠিন হয়ে ওঠে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঠিকমতো পুষ্টির অভাবে যেকেউ ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগতে পারেন। কিন্তু ডায়াবেটিস আক্রান্তদের এই ধরনের খনিজের ঘাটতি বেশি দেখা যায়। তাছাড়া, দীর্ঘদিন অন্ত্রের সমস্যায় ভুগলে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হয় বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স্কদের শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। আবার মদ্যপানে আসক্তদের শরীরেও এই খনিজের ঘাটতি হয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কীভাবে এই খনিজের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে?

    পালংশাক

    আয়রন, ভিটামিন এ-র পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে পালংশাকও। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার সমৃদ্ধ এই শাকটি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এক কাপ বা ১৮০ গ্রাম সেদ্ধ বা রান্না করা পালংশাকে প্রায় ১৫৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।

    কাঠবাদাম

    ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদাপূরণে সকালে উঠে কাঠবাদাম ভেজানো খেতে পারেন। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সকালে ভেজানো কাঠবাদাম বা সন্ধ্যের জলখাবারে শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া কাঠবাদামও খাওয়া যায়। মোটামুটি ২০-২২টি কাঠবাদামে ৭৬-৮১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যাবে।

    ডার্ক চকোলেট

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়াম কোকো থেকে তৈরি হওয়া ডার্ক চকোলেট থেকেও পাওয়া যায়। কতটা পরিমাণ কোকোর ব্যবহার হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা।

    কাজুবাদাম

    সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাবারের তালিকায় থাকুক কাজুবাদামও। এমনটাই পরামর্শ পুষ্টিবিদদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ আউন্স অর্থাৎ ১৭-১৮টি কাজুবাদামে প্রায় ৮৩ মিলিগ্রামের মতো ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিনে অন্তত ৮-১০টি করে কাজু খেলে শুধু ম্যাগনেশিয়াম নয়, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও পাবে শরীর। হৃদ্‌যন্ত্র ভাল রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জরুরি।

    কুমড়োর বীজ

    কুমড়ো বীজে থাকে ম্যাগনেশিয়াম। হৃদ্‌যন্ত্র ঠিক রাখার জন্য, ম্যাগনেশিয়াম জরুরি উপাদান। উচ্চরক্তচাপ কমাতে, রক্তবাহী নালিকার স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে খনিজটি সাহায্য করে। ২০ গ্রাম কুমড়ো বীজে ১০০-১১০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। দৈনন্দিন চাহিদার অনেকটাই পূরণ হতে পারে, দিনে অল্প কিছু কুমড়োবীজ খেলে। তাই সপ্তাহে অন্তত দুদিন কুমড়োর বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Shyama Prasad Mukherjee: নতুন মোড়কে শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী, ইকো পার্কে ১২৫ ফুটের মূর্তি, মহাকরণেও বিশেষ শ্রদ্ধা

    Shyama Prasad Mukherjee: নতুন মোড়কে শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী, ইকো পার্কে ১২৫ ফুটের মূর্তি, মহাকরণেও বিশেষ শ্রদ্ধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে উদযাপিত হলো ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী (Shyama Prasad Jayanti celebration)। এই প্রথমবার রাজ্যে মহাসমারোহে সরকারি উদ্যোগে পালিত হলো ‘ভারত কেশরী’-র জন্মজয়ন্তী। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

    মহাকরণে ঐতিহাসিক সূচনা

    রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রশাসনিক ভবন মহাকরণে (রাইটার্স বিল্ডিংস) সরকারি উদ্যোগে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবস (Shyama Prasad Jayanti celebration) পালন করা হলো। এদিন সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও বহু কর্মচারী মহাকরণে এসে তাঁর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

    ইকো পার্কে বিশাল মূর্তির শিলান্যাস

    বাংলার ইতিহাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) অবদানকে এতদিন আড়ালে রাখা হয়েছিল বলে দাবি বর্তমান রাজ্য সরকারের। তাই এই বিশেষ দিনটিতে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। তারই অঙ্গ হিসেবে নিউটাউনের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি তৈরির সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। এদিন কলকাতায় এসে এই মূর্তির শিলান্যাস ও ফলক উন্মোচন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

    পৈতৃক ভিটে দর্শন ও স্মরণ সভা

    ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) পৈতৃক বাসভবন।  মূর্তির শিলান্যাস ও ফলক উন্মোচনের পর সেখানেও যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য় দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অমিত শাহ। এরপর সায়েন্স সিটির সংলগ্ন বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণ সভাতেও যোগ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভা থেকেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে গোটা রাজ্যবাসীর কাছে তুলে ধরেন শাহ।

    নতুন সরকারি ঘোষণা

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) জন্মদিনে প্রতিবছরই ৬ জুলাই সরকারি ছুটি থাকবে। হুগলির জিরাটে তাঁর আদি পৈতৃক ভিটেতে মিউজিয়াম তৈরি করা হবে এবং সেখানেও একটি নতুন মূর্তিও বসানো হবে”। ইতিমধ্যেই বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ভোল বদলে দেওয়ার কাজে হাত দিয়েছে রাজ্য সরকার।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকেই বাংলার এই মনিষীকে নিয়ে আবেগ ও চর্চা দুই-ই বেড়েছে। শুধু মুখের কথায় আটকে না থেকে, সরকার যেভাবে দ্রুততার সাথে ১২৫ ফুটের মূর্তির শিলান্যাস করলো, তা প্রশাসনিক তৎপরতারই প্রমাণ দেয়।

  • Baruipur: বারুইপুরকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স নীতি, অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’, সাফ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Baruipur: বারুইপুরকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স নীতি, অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’, সাফ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট”- বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    বারুইপুরের মর্মান্তিক ও নৃশংস নাবালিকা খুনের ঘটনাকে (Baruipur) কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। এই চরম সংবেদনশীল আবহে সোমবার রাজ্য সরকারের কড়া এবং আপসহীন অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাবালিকা খুনের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলছে বলে স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, বারুইপুরের এই বর্বরোচিত ঘটনার (Baruipur) গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিচার করে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ফাঁকফোকর না থাকে, তার জন্য এই দলের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে আইজি (IG) পদমর্যাদার একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে। আইজি-র সরাসরি নেতৃত্বে পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স যৌথভাবে দিনরাত কাজ করছে। ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই মূল লক্ষ্য। মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর।

    তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান,”পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অপরাধীদের জালে জড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর পলাতক দুই মূল অভিযুক্তের ফোনে হওয়া পারস্পরিক কথোপকথনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অডিও রেকর্ড বা সিডিআর (CDR) ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে। এই তথ্যপ্রমাণ মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে”।

    নির্যাতিতার পরিবারের পাশে সরকার

    তদন্তের পাশাপাশি নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের প্রতি রাজ্য সরকারের পূর্ণ সমবেদনা ও সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, ঘটনার পরেই নিজে উদ্যোগী হয়ে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওঁনার বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। তিনি নৃশংসতার বিরুদ্ধে সঠিক ও দ্রুত বিচার চেয়েছেন। একজন অভিভাবক হিসেবে তাঁর এই দাবি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত। পরিবার যেভাবে জাস্টিস চেয়েছে এবং সরকার ও পুলিশের কাছ থেকে যে যে ধরণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে, তার সবটাই তারা পাবেন। এ বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।”

    অপরাধীদের শাস্তির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি দেশের আইন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সাজার পক্ষে সওয়াল করে বলেন, “এই জঘন্য অপরাধের জন্য প্রথমটার তো বিচার দেবই, দোষীদের ফাঁসি বা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট (Capital Punishment) দেব। কোনও অপরাধী যাতে পার না পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।”

    স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি

    তবে শুধু অপরাধীদের শাস্তিই নয়, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রীকে। নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় থানায় যে ‘মিসিং ডায়েরি’ বা নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশের তরফ থেকে কোনওরকম গড়িমসি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই খতিয়ে দেখবেন। শুভেন্দু অধিকারী নিজে আগামিকাল বারুইপুরের পুলিশ সুপারের (SP) অফিসে যাচ্ছেন। নিখোঁজ ডায়েরি পাওয়ার পর লোকাল পুলিশের ঠিক কী ভূমিকা ছিল? তারা তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করেছিল কি না? তার সম্পূর্ণ মূল্যায়ন বা অ্যাসেসমেন্ট করা হবে। বললেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রবিবারের তাণ্ডব ও বিরোধীদের কড়া বার্তা

    নাবালিকা খুনের মূল ঘটনার (Baruipur) পাশাপাশি, গত রবিবার বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় যে ব্যাপক উত্তেজনা, ভাঙচুর ও আইন অমান্যের ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মূল খুনের মামলা ছাড়াও পুলিশ আরও তিনটি পৃথক স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে গণপিটুনি, সরকারি সম্পত্তি তথা রেললাইনে ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের আহত করার ঘটনা।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ রবিবার ভোরে পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার হয়। তাকে যৌন নির্যাতনের পর খুনের অভিযোগে কুলপি রোড ও রেললাইন অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চলে এবং গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়।

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই ধারাবাহিক ও কড়া বার্তার পর এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে, বারুইপুর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসন এখন অল-আউট অ্যাকশনে নামছে। একদিকে যেমন নাবালিকা খুনের মূল অপরাধীদের দ্রুত ফাঁসির কাঠে ঝোলানোর জন্য আইনি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, অন্যদিকে ঘটনার দিন যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এলাকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও সমান্তরালভাবে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার, আইজি-র নেতৃত্বে গঠিত ‘সিট’-এর তদন্তে আগামী দিনে আর কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

LinkedIn
Share