Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, কর্মীসঙ্কট এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে একের পর এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানী ভবনে (Bhawani Bhavan) পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং কর্মীবান্ধব করে তুলতেই এই পদক্ষেপ। নতুন নিয়োগ, ডিএ বৃদ্ধি, সপ্তম বেতন কমিশন, আধুনিক তদন্তকারী সংস্থা, বদলি নীতি- সব মিলিয়ে পুলিশের জন্য কার্যত একগুচ্ছ ‘মেগা প্যাকেজ’-এর ঘোষণা করেন তিনি। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, সেটা হয় নাকি! পরে আরও দেব, আপনারা ভালোভাবে কাজ করুন।”

    ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment)

    রাজ্যে পুলিশের ঘাটতি পূরণে আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment) করা হবে বলে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যান্য বড় রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই এই বৃহৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া (Police Recruitment) শুরু হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের পথও এখন পরিষ্কার। ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জট কাটার পর দ্রুত নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ শেষ করা ১৪ হাজার কনস্টেবলকে আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই বিভিন্ন জেলায় কাজে যোগ দেওয়ানো হবে।

    পুজো থেকেই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)

    তৃণমূল সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সরকারে আসতেই কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে ডিএর ফারাক কমাতে প্রথম দফায় আগামী অক্টোবর (পুজোর মাস) থেকেই পুলিশকর্মীদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)-র ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি রাজ্য গঠিত সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ হাতে পেলেই দ্রুত তা কার্যকর করার আশ্বাসও দেন তিনি। বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা ১,৫০০ টাকার রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করারও ঘোষণা করা হয়েছে, যা পুজোর সময় থেকেই কার্যকর হবে।

    এনআইএ-র আদলে গড়ে উঠছে ‘SIA’

    রাজ্যের তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র আদলে ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (SIA) গঠনের ঘোষণাও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) দাবি, জটিল অপরাধ ও আন্তঃরাজ্য অপরাধ তদন্তে এই বিশেষ সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    আধুনিক পুলিশ পরিকাঠামো

    রাজ্যজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার পুরনো ও বিমাহীন সরকারি পুলিশ যান ধাপে ধাপে বদলে নতুন আধুনিক গাড়ি দেওয়া হবে। এছাড়া রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০টি থানার আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হবে। পুলিশকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য গুজরাতের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসমের তেজপুরে বিএসএফ-এর উচ্চতর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণও চালু হবে।

    বদলি নীতিতে মানবিক উদ্যোগ

    পুলিশকর্মীদের দীর্ঘদিনের বদলি-সংক্রান্ত সমস্যার দিকেও নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী-

    • মহিলা কনস্টেবলদের নিজ নিজ জেলায় পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে
    • মহিলা অফিসারদের পার্শ্ববর্তী জেলায় বদলির নীতি গ্রহণ করা হবে
    • যাঁরা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের জেলা থেকে দূরে কর্মরত, তাঁদের ধাপে ধাপে স্বজেলায় ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে

    গড়ে উঠছে অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড

    পুলিশকর্মীদের আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ক্রীড়া পরিকাঠামো ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশকর্মীদের অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার না করে তাঁদের পেশাগত উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি একাকী প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য কলকাতা পুলিশের পুরনো নাগরিক সহায়তা প্রকল্পও নতুন করে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    বক্তৃতার শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দেন, শক্তিশালী ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি যেমন চলবে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

  • Guru Purnima 2026: আজ গুরুপূর্ণিমা, কেন হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন-শিখ— চার ধর্মেই এত বিশেষ এই দিন?

    Guru Purnima 2026: আজ গুরুপূর্ণিমা, কেন হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন-শিখ— চার ধর্মেই এত বিশেষ এই দিন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বুধবার, ২৯ জুলাই, গুরুপূর্ণিমা। ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে এই দিনটি গুরু বা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মজাগরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। শুধু হিন্দুধর্মেই নয়, বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ ধর্মেও গুরুপূর্ণিমার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই চার ধর্মের অনুসারীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি পালন করেন। সংস্কৃত ভাষায় ‘গু’ শব্দের অর্থ অন্ধকার এবং ‘রু’ শব্দের অর্থ দূর করা। সেই অর্থে ‘গুরু’ হলেন তিনি, যিনি অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞান ও আত্মোপলব্ধির পথে পরিচালিত করেন। তাই গুরুপূর্ণিমা কেবল কোনও ধর্মীয় আচার পালনের দিন নয়, বরং নিজের ভিতরকে নতুন করে জানারও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

    কেন পালিত হয় গুরুপূর্ণিমা?

    হিন্দু ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মত অনুযায়ী, এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহর্ষি বেদব্যাস। তিনি মহাভারতের রচয়িতা এবং বৈদিক জ্ঞানকে ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ— এই চার ভাগে সংকলিত করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই কারণেই গুরুপূর্ণিমাকে অনেকেই ‘ব্যাস পূর্ণিমা’ নামেও চিহ্নিত করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গুরুপূর্ণিমা নতুন কোনও শুভ কাজ শুরু করার জন্য অত্যন্ত শুভ দিন। এই তিথিতে পূজা, দান, জপ, হোম বা অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান করলে সংসারে শুভ ফল আসে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে বলে মনে করা হয়।

    শিবের দক্ষিণামূর্তি রূপের সঙ্গে সম্পর্ক

    হিন্দু দর্শনের আর একটি প্রচলিত বিশ্বাসে, মহাদেবের দক্ষিণামূর্তি রূপই হল আদিগুরুর প্রতীক। এই দিনেই ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং সপ্তঋষি শিবের কাছ থেকে পরম জ্ঞান লাভ করেছিলেন বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। সেই কারণেই বহু ভক্ত শিবকে প্রথম গুরু বা আদিগুরু হিসেবে শ্রদ্ধা জানান।

    বৌদ্ধধর্মে গুরুপূর্ণিমার গুরুত্ব

    বৌদ্ধ ঐতিহ্যেও গুরুপূর্ণিমার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বোধিবৃক্ষের নীচে বুদ্ধত্ব লাভের কয়েক সপ্তাহ পরে গৌতম বুদ্ধ সারনাথে গিয়ে তাঁর পাঁচ প্রাক্তন সঙ্গীকে প্রথম ধর্মদেশনা দেন। বৌদ্ধধর্মে এটিকে ধর্মচক্র প্রবর্তনের সূচনা হিসেবে ধরা হয়। এই উপলক্ষে বহু বৌদ্ধ ভিক্ষু ও গৃহী ভক্ত অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণ, ধ্যান এবং বিপাসনা সাধনায় অংশ নেন। নেপালে দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবেও পালিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বিভিন্ন উপহার, মালা এবং ঐতিহ্যবাহী টপি দিয়ে সম্মান জানান।

    জৈন ধর্মেও রয়েছে বিশেষ মর্যাদা

    জৈন সম্প্রদায়ের কাছেও গুরুপূর্ণিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এই দিনটিকে ‘ত্রিনোক গুহ পূর্ণিমা’ হিসেবে পালন করেন। জৈন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান মহাবীর কৈবল্য লাভের পর ইন্দ্রভূতি গৌতমকে প্রথম শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সেই ঘটনাকেই গুরু-শিষ্য পরম্পরার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়।

    বিভিন্ন দেশে ভিন্ন আচার

    শ্রীলঙ্কায় এই সময় থেকে শুরু হয় ‘বর্ষাবাস’ পালনের প্রথা। আবার থাইল্যান্ডে একই উৎসব ‘ফানসা’ নামে পরিচিত। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভিক্ষুরা নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে ধর্মচর্চা করেন। ভিয়েতনাম, তিব্বত, কোরিয়া এবং মায়ানমারের বহু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ও এই সময় বিশেষ ধর্মীয় আচার পালন করেন।

    শিখ ধর্মেও গুরুপূর্ণিমার তাৎপর্য

    শিখ ধর্মে গুরুপূর্ণিমা গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। শিখ ধর্মাবলম্বীরা গুরুদের ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে সম্মান করেন। এই দিনে গুরু গ্রন্থ সাহিব পাঠ, গুরুদের জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং তাঁদের দেখানো পথে চলার অঙ্গীকার করা হয়। শুধু ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক উন্নতি নয়, শিখ সমাজে পারস্পরিক ঐক্য, সংহতি এবং মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও গুরুপূর্ণিমা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

    গুরুপূর্ণিমার মূল বার্তা

    ধর্মভেদে আচার-অনুষ্ঠানের রীতি আলাদা হলেও গুরুপূর্ণিমার মূল দর্শন একটাই— জ্ঞান, শৃঙ্খলা, আত্মোপলব্ধি এবং গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা। এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার পিছনেই কোনও না কোনও গুরুর অবদান থাকে। তাই গুরুপূর্ণিমা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, মানবজীবনে জ্ঞানের আলোকে সম্মান জানানোরও এক অনন্য দিন।

  • Polymer Bank Notes: আসছে প্লাস্টিকের ১০ ও ২০ নোট? পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ কোটি পলিমার নোট ছাপার অনুমোদন কেন্দ্রের

    Polymer Bank Notes: আসছে প্লাস্টিকের ১০ ও ২০ নোট? পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ কোটি পলিমার নোট ছাপার অনুমোদন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে পলিমার (প্লাস্টিক-ভিত্তিক) ১০ ও ২০ টাকার নোট। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে আপাতত এটি শুধুমাত্র ফিল্ড ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই নিয়মিতভাবে এই নোট চালু করা হবে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্র জানিয়েছে, আরবিআই অ্যাক্ট, ১৯৩৪-এর আওতায় ১০ ও ২০ মূল্যমানের মোট ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) পিস পলিমার নোট পরীক্ষামূলকভাবে ছাপানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কোটি পিস ১০ টাকার, এবং ১০০ কোটি পিস ২০ টাকার নোট ছাপা হবে। তবে বর্তমানে প্রচলিত কাগজের নোট তুলে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা এই প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

    কাগজের নোট কি তুলে নেওয়া হবে?

    লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই পলিমার নোট বর্তমান কাগজের নোটের পাশাপাশি চলবে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পলিমার নোটের আয়ু কাগজের নোটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে বর্তমানে এই প্রকল্প একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

    ডিজিটাল পেমেন্টে কোনও প্রভাব পড়বে?

    ডিজিটাল লেনদেন নিয়ে উদ্বেগেরও কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। তাঁর কথায়, পলিমার নোট নিয়মিতভাবে চালু হওয়ার পরেই এর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, নগদ লেনদেন ও ডিজিটাল পেমেন্ট একে অপরের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক ব্যবস্থা। ফলে পলিমার নোট চালু হলেও ভারতের শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উপর তাৎক্ষণিক কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

    কীভাবে হবে পরীক্ষা?

    পরীক্ষামূলক পর্যায়ে পলিমার নোটগুলিকে বিভিন্ন জলবায়ু ও ব্যবহারিক পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করা হবে।

    মূলত যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে, সেগুলি হল—

    • ● নোটের স্থায়িত্ব
    • ● ভাঁজ পড়লে ক্ষয়ক্ষতি
    • ● ছিঁড়ে যাওয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা
    • ● দৈনন্দিন ব্যবহারে কার্যকারিতা
    • ● সাধারণ মানুষের মতামত

    ভারতের তীব্র গরম, আর্দ্রতা, ধুলো এবং দীর্ঘদিনের ব্যবহারের মতো পরিস্থিতিতে নোট কতটা কার্যকর থাকে, তা যাচাই করাই এই পরীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য।

    পরীক্ষার আগেই শুরু প্রস্তুতি

    কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের কয়েক সপ্তাহ আগেই, ১৭ জুলাই, আরবিআইয়ের নোট মুদ্রণকারী সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড (BRBNMPL) আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। সংস্থাটি ৬৮ হাজার রিম অপাসিফায়েড পলিমার সাবস্ট্রেট শিট কেনার জন্য বিশ্বজুড়ে নির্মাতাদের কাছ থেকে দরপত্রের আহ্বান করে। এই শিটগুলিতে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযুক্ত থাকবে, যাতে টেক্সচার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সাবস্ট্রেটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যায়।

    কেন পলিমার নোট?

    প্রথমদিকে, পলিমার নোট তৈরির খরচ কাগজের নোটের তুলনায় প্রায় ২০% থেকে ২৪% বেশি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলির আয়ু ২.৫ থেকে ৪ গুণ বেশি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রণ, পরিবহণ এবং পুরোনো নোট ধ্বংস করার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।উল্লেখ্য, নোট মুদ্রণের জন্য বার্ষিক ব্যয় বেড়ে ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তাই বিশেষ করে ১০ ও ২০ টাকার মতো বেশি ব্যবহৃত নোটে পলিমার প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনও উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফল সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ভারতে পলিমার নোটের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

  • Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে এবার সরব ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাকর্মীরা। নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিযোগ ঘিরে এখনও উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার জাতীয় পতাকা হাতে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত জোড়া মহামিছিলের (Dharmatala Rally) আয়োজন করে ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’। এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় রাজ্যের অনেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। আয়োজকদের দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চ নয়; বরং গণতন্ত্র, শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষার সামাজিক উদ্যোগ।

    পথে শিক্ষা জগৎ

    ধর্মতলার সাম্প্রতিক অশান্তির পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর, পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রতিবাদের অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হলেও হিংসা ও নৈরাজ্য কখনওই গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। সেই কারণেই ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের একাংশ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান।

    জোড়া মহামিছিল

    মঙ্গলবার দুপুর থেকেই হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক, শিক্ষাকর্মী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দুটি প্রান্ত থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে শুরু হয় পদযাত্রা (Dharmatala Rally)। ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’-এর ডাকে আয়োজিত এই মহামিছিলে অংশ নেয় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP), অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ, ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল, বিদ্যা ভারতী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস, ইতিহাস সংকলন সমিতি-সহ সঙ্ঘ পরিবারের একাধিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

    সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা

    মহামিছিলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর কিংবা সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত এবং সেই স্বাধীনতার উপর আঘাত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

    বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    মিছিলে (Dharmatala Rally) অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে বাম ও কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। তাঁদের দাবি, দিল্লির ‘সংসদ চলো’ অভিযানে যেমন নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছিল, কলকাতার ঘটনাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এছাড়াও কিছু বামপন্থী সংগঠন ছাত্রদের আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি এবং দেশবিরোধী শক্তির মদতপুষ্ট প্রচারকে উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    বিদেশি শক্তির মদতের আশঙ্কাও

    দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে কলকাতার ধর্মতলা- প্রতিবাদের নামে যেখানেই হিংসা বা নৈরাজ্যের ঘটনা ঘটুক, তার কড়া নিন্দা হওয়া উচিত বলেই মত মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার নেপথ্যে বিদেশি শক্তির মদতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।

    গণতন্ত্রের নামে হিংসা নয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বার্তা

    হাওড়া থেকে ধর্মতলা ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা – জাতীয় পতাকার ছায়ায় আয়োজিত এই দুই মহামিছিল থেকে উঠে আসে একটাই বার্তা। প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের শক্তি হলেও, সেই অধিকারের আড়ালে হিংসা, ভাঙচুর, সাংবাদিক নিগ্রহ কিংবা অরাজকতার কোনও স্থান নেই। মতের লড়াই হতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্রের পথ কখনওই বর্বরতার পথ হতে পারে না – এই বার্তাই রাজপথ থেকে তুলে ধরল ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চে’র এই মহামিছিল।

  • Supreme Court: ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন নয়, সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    Supreme Court: ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন নয়, সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল অ্যারেস্টের (Digital Arrest) নামে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ভয় দেখিয়ে তাঁদের আজীবনের সঞ্চয় হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) প্রতারণার মামলায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র অসাধারণ বা ব্যতিক্রমী কারণ প্রমাণ করতে পারলেই জামিনের আবেদন বিবেচনা করা হবে। আদালতের মতে, এই প্রতারণা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধগুলির একটি।

    জামিনের আবেদন খারিজ

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এক অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে এই মন্তব্য করে। অভিযুক্তের দাবি ছিল, তিনি শুধু মূল অভিযুক্তকে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে সাহায্য করেছিলেন এবং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন। তবে আদালতের মতে, তিনি প্রতারণা চক্রের একজন সক্রিয় সহযোগী। তাই তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়।

    ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ’

    শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) প্রতারণা মানুষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রতারকরা ভয় দেখিয়ে প্রবীণদের সারাজীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের নমনীয়তা দেখানো যাবে না।

    নিম্ন আদালতগুলিকেও বার্তা

    সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) শুধু নিজের অবস্থানই স্পষ্ট করেনি, পাশাপাশি দেশের সব হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতকেও কড়া বার্তা দিয়েছে। আদালতের মতে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) সংক্রান্ত মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    কঠোর আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

    গত শুক্রবারও একই বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) ও সাইবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন সংক্রান্ত কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। আদালতের মতে, এই ধরনের অপরাধকে ডাকাতি বা লুঠের মতোই গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

    সিবিআই তদন্ত ও সমন্বয়ের নির্দেশ

    ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে গত বছর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিশেষ করে প্রবীণদের লক্ষ্য করে হওয়া প্রতারণার তদন্তে সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলারও নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। তদন্তকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল অ্যারেস্ট ও সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৩,০০০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • Dilip Ghosh: ‘রাস্তা নেই, অথচ ফিট সার্টিফিকেট!’ পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

    Dilip Ghosh: ‘রাস্তা নেই, অথচ ফিট সার্টিফিকেট!’ পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই এগোচ্ছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। তৃণমূল সরকারের আমলে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়াই কাজ, অর্থের অনিয়ম, কাগজে রাস্তা তৈরি দেখিয়ে ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ (Panchayat Corruption) সামনে এসেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরনো প্রকল্পগুলির পর্যালোচনা, অডিট এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

    হুগলিতে পর্যালোচনা বৈঠক

    সোমবার হুগলির চুঁচুড়ার রবীন্দ্রভবনে জেলার পঞ্চায়েতগুলিকে নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সচিব ড. পি. উল্গানাথন, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধারা এবং দফতরের অন্যান্য আধিকারিকরা।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকারের সময়ের একাধিক প্রকল্পের কাজ এখন পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগের কিছু টেন্ডার ও কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সবকিছুর রিভিউ চলছে। টেন্ডার ছাড়াই অনিয়ম (Panchayat Corruption) করে কাজ হয়েছে। টাকারও গরমিল হয়েছে। কোথাও ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, অথচ রাস্তা তৈরি হয়নি- এমন অভিযোগও এসেছে। একাধিক ইঞ্জিনিয়ারকে বদলিও করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

    খতিয়ে দেখা হচ্ছে আবাসের অভিযোগও

    আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই সংক্রান্ত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    আদিনাথে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা

    আদিনাথে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘‘যে সব প্রাচীন সংস্কৃতি রয়েছে, সেগুলি ফিরে আসবে। কাশী বিশ্বনাথ, মহাকালেশ্বর হলে আদিনাথ কেন হবে না? গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। সব ক্ষেত্রেই এফআইআর হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সাসপেন্ডও করা হয়েছে।’’

    আলুর দাম নিয়ে কী বললেন?

    আলুর মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আগের সরকারের নীতির ফলে রাজ্যে বিপুল পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত হয়েছিল। গত কয়েক বছর আলু বাইরে পাঠানো বন্ধ ছিল। ফলে প্রায় ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত হয়েছে। এখন সেই আলু অন্য রাজ্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হিমঘর মালিক ও ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি দেওয়ার জন্য অর্থ দফতরে তিনবার ফাইল পাঠিয়েছি। কৃষি বিপণন দফতরের পক্ষ থেকেও ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’

    প্রকল্পগুলির সার্ভে চলছে

    তিনি আরও জানান, ‘‘বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও পরে হওয়া প্রকল্পগুলির কাজের সার্ভে চলছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে নতুন করে উপভোক্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জেলার পর জেলা পর্যালোচনা বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

    খাজনা আদায়ে জোর

    নকশালবাড়িতে গত তিন মাসে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা খাজনা আদায়ের প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘হুগলিতেও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগে যে রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা ছিল, তার অনেকটাই আদায় হতো না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনে খাজনা আদায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’’ সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েত স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিল বিজেপি সরকার। তৃণমূল আমলের বিভিন্ন প্রকল্পে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ (Panchayat Corruption) খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নেও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

  • India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে অসামরিক পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানালেন মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই দেখছে। এই মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের সহকারী সচিব এস পল কাপুর। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুভার ইনস্টিটিউশনে ভারতকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিব কন্ডোলিজা রাইস এবং ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড সি মালফোর্ড।

    ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

    সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এস পল কাপুর বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই। এই সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) শক্তিশালী করছে, যা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করছি। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী বিশ্বস্ত AI (Trusted AI) এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির গ্রহণ ও উন্নয়নেও একসঙ্গে কাজ করছি।’’

    কেন গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা?

    ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মার্কিন সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আগ্রহী। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পের শীর্ষ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল ভারতে এসে বেসরকারি শিল্পের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এই আগ্রহ আরও বেড়েছে, কারণ ভারত সম্প্রতি ‘শান্তি’ (SHANTI) আইন প্রণয়ন করে পারমাণবিক প্রকল্পে দায়বদ্ধতা (Liability) সংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য ভারতীয় বাজারে কাজ করার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে আরও অনুকূল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই শক্ত ভিতের উপর

    ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব কাঠামোতে স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য স্থল, নৌ, বায়ু, মহাকাশ এবং সাইবার—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা (Interoperability) বৃদ্ধি করা। ২০০২ সালের পর থেকে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একাধিক অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার
    • ● চিনুক হেভি-লিফট হেলিকপ্টার
    • ● সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহণ বিমান
    • ● সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস
    • ● পি-৮আই সামুদ্রিক নজরদারি বিমান
    • ● এম-৭৭৭ আল্ট্রা-লাইট হাউইৎজার

    এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।

    এআই ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে নতুন সমীকরণ

    বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি আগামী দিনের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তারা ভারতের সঙ্গে বিশ্বস্ত এআই-এর মতো ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়। এর লক্ষ্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবেশ তৈরি করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর ক্ষেত্রে ভারতীয় সফটওয়্যার দক্ষতা এবং মার্কিন প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব একত্রিত হলে বিশ্ববাজারে দুই দেশই বড় সুবিধা পেতে পারে।

    ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়ছে

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা কেবল অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি, এআই এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তি ভাগাভাগি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবনে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

  • One Officer One Car Policy: এক অফিসার, এক গাড়ি! সরকারি খরচে লাগাম টানতে বড় সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের

    One Officer One Car Policy: এক অফিসার, এক গাড়ি! সরকারি খরচে লাগাম টানতে বড় সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি গাড়ির অপব্যবহার রুখতে এবং সরকারি খরচ কমাতে বড় পদক্ষেপ নরেন্দ্র মোদি সরকারের (Modi Government)। এবার কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগ (Department of Expenditure) ‘ওয়ান অফিসার, ওয়ান অফিসিয়াল কার’ নীতি (One Officer One Car Policy) কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন অফিস মেমোর‍্যান্ডাম (Office Memorandum) অনুযায়ী, কোনও আধিকারিককে একবার সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা হলে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেও আর দ্বিতীয় সরকারি গাড়ি পাবেন না। এর অর্থ, কোনও আধিকারিক যদি নিজের মন্ত্রক বা দফতরের পাশাপাশি অন্য কোনও মন্ত্রক, বিভাগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU) বা স্বশাসিত সংস্থার অতিরিক্ত দায়িত্বও পান, তবুও তাঁর জন্য আলাদা সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা হবে না। প্রতিটি যোগ্য আধিকারিকের জন্য থাকবে মাত্র একটি সরকারি গাড়ি।

    সব মন্ত্রক ও দফতরকে কড়া নির্দেশ

    এই নীতি (One Officer One Car Policy) কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য কেন্দ্রের সমস্ত মন্ত্রক ও দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। পাশাপাশি, যে সরকারি গাড়িগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে না, সেগুলিকে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিতে হবে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনও সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না বলেও নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।

    কী নতুন নির্দেশ?

    নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকরা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU), স্বশাসিত সংস্থা বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িও নিয়মিত ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনও আধিকারিক সরকারি কাজে ওই সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে সফরে গেলে, সেই সফরের সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করা যাবে।

    ২০২২ সালের নির্দেশিকা আরও কড়াভাবে কার্যকর

    ব্যয় বিভাগ জানিয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকাগুলিকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই নতুন অফিস মেমোর‍্যান্ডাম জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সব মন্ত্রক ও দফতরে যাতে একই নিয়মে এই নীতি কার্যকর হয়, সেই উদ্দেশ্যেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    কেন্দ্রীয় সরকারের (Modi Government) বক্তব্য, সরকারি সম্পদের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই নীতির মূল উদ্দেশ্য। একজন আধিকারিকের জন্য একাধিক সরকারি গাড়ি বরাদ্দের প্রবণতা বন্ধ করা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এই নীতির ফলে অপ্রয়োজনীয় সরকারি গাড়ির সংখ্যা কমবে, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ হ্রাস পাবে এবং সরকারি অর্থের আরও কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার রোধের পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহি ও আর্থিক শৃঙ্খলাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

  • MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ (MMSBY Scheme)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘোষণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকলেও যাঁরা আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্যই এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal)। রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর স্বাস্থ্য দপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই প্রকল্পে (MMSBY Scheme) যোগ্য পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবে।

    কী কী সুবিধা মিলবে?

    নতুন প্রকল্পে (MMSBY Scheme) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে- বছরে প্রতি পরিবার সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফ্লোটার ভিত্তিক ক্যাশলেস চিকিৎসা পাবে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নামে পৃথক স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে এবং তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না। আগে থেকে থাকা (Pre-existing) রোগের চিকিৎসাও এই বিমার আওতায় থাকবে। সরকারি ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পভুক্ত তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। চিকিৎসার জন্য আধারভিত্তিক পরিচয় যাচাই এবং আয়ুষ্মান ভারত পরিচয়পত্র  (Ayushman Bharat Health Account) ব্যবহার বাধ্যতামূলক। চিকিৎসা হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নির্ধারিত প্যাকেজ অনুযায়ী। চিকিৎসার খরচ আগে দিয়ে পরে ফেরত (রিএমবার্সমেন্ট) নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে না।

    কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?

    স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ব্যক্তি বা পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না- যাঁদের বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প (WBHS), কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প (CGHS), ইএসআই (ESI) বা অন্যান্য কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন গ্রুপ মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স-এর আওতায় থাকা কর্মচারীরা, মেডিক্যাল অ্যালাউন্সপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, পরিবারের ৭০ বছরের বেশি বয়সী সদস্যরা, SIR-এ নাম বাদ গেলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। যেমন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধাও পাওয়া যাবে না।

    এসআইআর বা সিএএ-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে কী নিয়ম?

    বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সিএএ বা এসআইআর-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে কোনও আবেদন বিচারাধীন থাকলে, শুধুমাত্র সেই কারণে কাউকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে না। অন্য সব যোগ্যতা পূরণ করলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। তবে পরে SIR-এ নাম বাদ গেলে আর এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

    কারা দেখভাল করবে এই প্রকল্প (MMSBY Scheme)?

    স্বাস্থ্য দফতরই হবে এই প্রকল্পের নোডাল দফতর। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে স্টেট হেলথ এজেন্সি (State Health Agency)।

    কবে থেকে কার্যকর?

    গত ২২ জুলাই রাজ্য (West Bengal) মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। এরপর ২৫ জুলাই স্বাস্থ্য দফতর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি সোমবার প্রকাশ্যে আসে। নতুন এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকা কিন্তু আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধাবঞ্চিত বহু পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবে বলে রাজ্য সরকারের আশা।

  • Narendra Modi: মোদির ফেসবুক ভিডিও ব্লক! ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’, পরে ক্ষমা চাইল মেটা

    Narendra Modi: মোদির ফেসবুক ভিডিও ব্লক! ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’, পরে ক্ষমা চাইল মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুক থেকে হঠাৎ-ই উধাও প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ভিডিও বার্তা! মঙ্গলবার ভোরের দিকে ভারতে কিছু সময়ের জন্য ব্লক হয়ে যায় নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তা। এরপরেই মেটার (Meta) তরফে একটি বার্তা সামনে আসে। মেটার তরফে জানানো হয়- ‘‘আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে (Legal Request) এই অঞ্চলে ভিডিওটি আটকে রাখা হয়েছে।’’ যদিও পরে সেই ভুল সংশোধন করে নেয় মেটা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিওটি আবার চালু করে মেটা (Meta) জানায়, কোনও আইনি নির্দেশের কারণে নয়, বরং প্রযুক্তিগত ত্রুটির (Technical Glitch) জেরে ভুলবশত এমনটা হয়েছিল। ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে সংস্থা।

    ‘ভুল করে সরানো হয়েছিল ভিডিও

    ঘটনা প্রসঙ্গে মেটার (Meta) এক মুখপাত্র জানান, ‘‘ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরে সেই ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে এবং ভিডিওটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’’

    ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্র

    সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মেটার দেওয়া ব্যাখ্যা এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি সরানো হয়েছিল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে মেটার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ডেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও চাওয়া হতে পারে বলেও খবর সূত্রের।

    মেটা ও ইনস্টাগ্রামের শীর্ষ কর্তাদের তলব!

    সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ভিডিও সাময়িকভাবে ব্লক হওয়ার ঘটনায় মেটা এবং ইনস্টাগ্রামের গ্লোবাল প্রধানদের তলব কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY)। ভিডিওটি কেন ব্লক হয়েছিল? কীভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল? সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    কোন ভিডিওটি ব্লক হয়েছিল?

    ২৩ জুলাই আপলোড করা ওই ভিডিওতে ছাত্র-যুবদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ রুখতে সরকার আরও কঠোর আইন আনতে চলেছে। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান আনা হবে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে বিশেষ আদালত এবং আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।
    সরকারের পদক্ষেপের ফলে প্রায় ২২ লক্ষ পড়ুয়ার শিক্ষাবর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়।’’

    লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখেছিলেন ভিডিওটি

    ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ তা দেখেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরের দিকে হঠাৎ-ই ফেসবুকে ভিডিওটি দেখা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ব্যবহারকারীদের জানানো হয়, আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে ভিডিওটি এই অঞ্চলে দেখানো হচ্ছে না। পরে অবশ্য মেটা জানায়, সেই বার্তাটিও প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল ছিল। ভুল বুঝতে পেরে ভিডিওটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হয় এবং সংস্থা সরকারের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশও করে। এখন কেন্দ্রীয় সরকার গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজন হলে মেটার কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।

LinkedIn
Share