Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Vande Mataram: ‘জন গণ মন’-এর আগে বাজবে ৬ স্তবকের ‘বন্দে মাতরম’, উঠে দাঁড়াতে হবে, নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

    Vande Mataram: ‘জন গণ মন’-এর আগে বাজবে ৬ স্তবকের ‘বন্দে মাতরম’, উঠে দাঁড়াতে হবে, নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বুধবার নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এখন থেকে ৬ স্তবক বিশিষ্ট ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের পূর্ণ সংস্করণটি বিভিন্ন সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে বাজানো বা গাওয়া বাধ্যতামূলক হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’ বাজলে বা গাওয়া হলে সকলকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এবং সরকারি অনুষ্ঠান ও স্কুলে এটি জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর আগে পরিবেশন করতে হবে।

    কখন বাজানো হবে বন্দে মাতরম?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নথি অনুযায়ী, এখন থেকে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বন্দে মাতরম পরিবেশন করা হবে—

    • ● জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়
    • ● রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে
    • ● রাষ্ট্রপতির জাতির উদ্দেশে ভাষণের আগে ও পরে
    • ● গভর্নরের আগমন ও ভাষণের আগে ও পরে
    • ● জাতীয় কুচকাওয়াজে তেরঙ্গা বহনের সময়
    • ● সরকারি পাবলিক ইনভেস্টিচার (সম্মান প্রদান) অনুষ্ঠানে

    সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পদ্ম পুরস্কারসহ রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকবেন এমন সমস্ত অসামরিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও বন্দে মাতরম বাজানো বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়াও, স্কুলের প্রার্থনা সভায় (অ্যাসেম্বলি) এই জাতীয় গান পরিবেশন করতে হবে।

    বন্দে মাতরম নিয়ে অন্যান্য নিয়ম

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ১০ পাতার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে—

    • ● যদি জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান একসঙ্গে বাজানো বা গাওয়া হয়, তবে আগে বন্দে মাতরম এবং পরে জন গণ মন পরিবেশন করতে হবে।
    • ● বন্দে মাতরম বাজানো বা গাওয়ার সময় দর্শক-শ্রোতাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
    • ● তবে সিনেমা হলে জাতীয় সংগীতের মতো বাধ্যতামূলকভাবে বন্দে মাতরম বাজানো হবে না।

    নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে—

    • ● “যখনই জাতীয় গানের সরকারি সংস্করণ বাজানো বা গাওয়া হবে, তখন দর্শকদের সতর্ক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তবে যদি কোনও সংবাদচিত্র বা প্রামাণ্যচিত্রে গানটি চলচ্চিত্রের অংশ হিসেবে বাজানো হয়, তখন দর্শকদের দাঁড়ানো প্রত্যাশিত নয়, কারণ এতে প্রদর্শন ব্যাহত হবে এবং শৃঙ্খলা নষ্ট হতে পারে, যা জাতীয় গানের মর্যাদা বাড়ানোর পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।”
    • ● নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বন্দে মাতরমের দৈর্ঘ্য হবে ১৯০ সেকেন্ড (৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড), যাতে সরকার নির্ধারিত ছয়টি স্তবক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ১৯৩৭ সালে বাদ দেওয়া চারটি স্তবকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    কেন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’ প্রচার উদ্যোগ

    গত বছর বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্র সরকার এই জাতীয় গানকে আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এই নির্দেশিকা রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে, কারণ সম্প্রতি বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের বাকবিতণ্ডা হয়েছে। সংসদে তীব্র বিতর্ক সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার বন্দে মাতরমকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে গানটির ওপর ভিত্তি করে একাধিক ট্যাবলো প্রদর্শন করা হয়েছে।

    প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দে মাতরমকে প্রথমবার ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মাতৃভূমির বন্দনায় গ্রহণ করা হয়। ১৯৫০ সালে গানটির প্রথম দুইটি স্তবককে ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতদিন পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ গানের পরিবেশনের ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট সরকারি প্রোটোকল ছিল না—যেমনটি ‘জন গণ মন’-এর ক্ষেত্রে সুর, সময়কাল এবং গায়নের নিয়ম স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া, গানটির সম্প্রসারিত ছয় স্তবকের পূর্ণ সংস্করণ এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়নি। এই প্রথম কোনও সরকার বন্দে মাতরম গাওয়া বা বাজানোর জন্য আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল বা নিয়মাবলি জারি করল।

  • HIV Alert in West Bengal: এক সপ্তাহে নতুন করে সংক্রমিত শতাধিক! রাজ্যে জোরালো থাবা এইচআইভি-র, কীভাবে বাড়ছে সংক্রমণ?

    HIV Alert in West Bengal: এক সপ্তাহে নতুন করে সংক্রমিত শতাধিক! রাজ্যে জোরালো থাবা এইচআইভি-র, কীভাবে বাড়ছে সংক্রমণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যে এইচআইভি সংক্রমণের জোরালো থাবা। পরিযায়ী শ্রমিক কিংবা ভিন রাজ্য থেকে আসা বাসিন্দাদের থেকে নয়। এই রাজ্যে বসবাসকারী প্রায় শতাধিক ব্যক্তির দেহে এই ভাইরাস নতুনভাবে সংক্রমণ হয়েছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক সপ্তাহে প্রায় ১০০-র বেশি মানুষ নতুন করে এইচআইভি সংক্রামিত হয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রশাসনিক মহলের।

    কোন জেলায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এইচআইভি? কী বলছে স্বাস্থ্য দফতর?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানে এক যুবকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে, তিনি এইচআইভি আক্রান্ত। তারপরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে আরও একাধিক ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। এরপরে প্রায় ৯০ জনের দেহে এই ভাইরাস পাওয়া যায়। যারা বর্ধমানের বাসিন্দা। পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং হুগলিতেও নতুন করে এইচআইভি আক্রান্ত পাওয়া গিয়েছে। আক্রান্তের ৯৯ শতাংশ পুরুষ। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্তদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। অধিকাংশ আক্রান্ত সমকামী পুরুষ। তাই নতুন করে এইচআইভি আক্রান্তদের অধিকাংশই পুরুষ।

    কেন রাজ্যে হঠাৎ এইচআইভি সংক্রমণ উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ল?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের এক বছর তিরিশের যুবক বেশ কয়েক মাস ধরেই নানান শারীরিক অসুবিধায় ভুগছিলেন। তাঁকে পরীক্ষা করেই এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি জানা যায়। তাঁর সূত্র ধরেই এরপর কয়েকশো মানুষের শারীরিক পরীক্ষা চলে। হঠাৎ করেই এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ অসচেতনতা। এমনটাই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে জানা গিয়েছে, অধিকাংশ আক্রান্ত পরস্পরের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত। সেই পরিচয় থেকেই ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বিধি না মেনেই তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ফলেই এইচআইভি সংক্রমণ এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় সুরক্ষাবিধি মেনে না চলা এবং একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। তাই একসঙ্গে এত মানুষ নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

    আক্রান্তদের জন্য কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগ নিয়ে নানান সামাজিক ছুৎমার্গ আছে। তাই সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখেই এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু রোগীর এই রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা জরুরি। সময় মতো ওষুধ নেওয়া প্রয়োজন। যাতে রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এইচআইভি ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি নষ্ট করে দেয়। এর ফলে আক্রান্ত একাধিক রোগে ভুগতে পারেন। এই ভাইরাসের শক্তি কমাতে না পারলে স্বাভাবিক জীবন যাপন কঠিন। তাই রোগের চিকিৎসা জরুরি‌। তাছাড়া এই রোগ রয়েছে কিনা সে সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন। তাই আক্রান্তের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, এমন সকলেই যাতে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করান, সে সম্পর্কেও প্রশাসনের তরফে লাগাতার প্রচার জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই রোগ যাতে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য আরও বেশি পরীক্ষা জরুরি। তবেই রোগ নির্ণয় হবে। ফলে সংক্রমণ আটকানো সহজ হবে।

    স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

    স্বাস্থ্য ভবনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, পূর্ব বর্ধমানের কালনা সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গত কয়েক সপ্তাহে এইচআইভি ভাইরাসের দাপট দেখা গিয়েছে। তাই পূর্ব বর্ধমানে ও তার আশপাশের এলাকায় লাগাতার প্রচার কর্মসূচি করা হচ্ছে। আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলে আরও বেশি স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তেরা যাতে কোনও রকম সামাজিক হেনস্থার শিকার না হয়, সেদিকেও নজরদারি রয়েছে। পাশপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হতেই অস্বাস্থ্যকর ভাবে, অসুরক্ষিতভাবে ঘনিষ্ঠ হলে কী ধরনের বিপদ হতে পারে, সে নিয়েও সচেতনতা কর্মসূচি চলছে!

  • India Rafale Jet Deal: ১১৪টি রাফাল কেনা নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র! প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ছাড়পত্র চলতি সপ্তাহেই?

    India Rafale Jet Deal: ১১৪টি রাফাল কেনা নিয়ে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র! প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ছাড়পত্র চলতি সপ্তাহেই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সের কাছ থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রকল্পে (India Rafale Jet Deal) বড় অগ্রগতি হতে চলেছে। চলতি মাসের ১৮ তারিখ এআই সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন ইমানুয়েল মাক্রঁ। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই সফরের আগেই প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ বা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) এই প্রস্তাবে ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) অনুমোদন দিতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

    বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন সংকট মেটানোর লক্ষ্যে…

    সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে চলতি সপ্তাহেই বৈঠকে বসছে ডিএসি (Defence Acquisition Council)। এই বৈঠকে প্রায় কয়েক লক্ষ কোটি টাকায় রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে, গত মাসে প্রতিরক্ষা সচিবের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স প্রোকিওরমেন্ট বোর্ড প্রস্তাবটিকে অনুমোদন দিয়েছে, যার ফলে আনুষ্ঠানিক দরকষাকষির পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে (India Rafale Jet Deal)। ডিএসি-র বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে, এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে। চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) তীব্র স্কোয়াড্রন সংকটে ভুগছে। অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের তুলনায় বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে মাত্র প্রায় ২৯টি স্কোয়াড্রন, যখন পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে চিন-পাকিস্তানের সামরিক হুমকির মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে।

    ৮৮টি সিঙ্গল-সিট, ২৬টি টুইন-সিট রাফাল

    প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা হবে (India Rafale Jet Deal)। এর মধ্যে ১৮টি এফ-৪ সংস্করণের রাফাল বিমান সরাসরি ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় আমদানি করা হবে এবং বাকি ৯৬টি বিমান ভারতেই উৎপাদন করা হবে। এর মধ্যে, অন্তত শেষের ২৪টি সর্বাধুনিক এফ-৫ সংস্করণের রাফাল হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। মোট বহরের প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয়ভাবে তৈরি হওয়ার কথা, যেখানে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় দেশীয় উপাদানের ব্যবহার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ভারতীয় বায়ুসেনা ৮৮টি সিঙ্গল-সিট এবং ২৬টি টুইন-সিট রাফাল যুদ্ধবিমান পাবে। দাসো অ্যাভিয়েশন (Dassault Aviation) এই যুদ্ধবিমানগুলির স্থানীয় উৎপাদন ও সংযোজনের জন্য ভারতের বেসরকারি খাতের সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে।

    বায়ুসেনার জন্য ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ রাফাল

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হতে চলেছে রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি (India Rafale Jet Deal)। অত্যাধুনিক সেন্সর ও দীর্ঘপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতার জন্য এই বিমান ইতিমধ্যেই তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। মিটিওর (Meteor) বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্ক্যাল্প (SCALP) ক্রুজ মিসাইলের মতো আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত এই প্ল্যাটফর্ম ভারতের আক্রমণ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সমন্বয় এবং ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূ-কৌশলগত পরিস্থিতির কারণেই এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক সূত্র জানিয়েছে, “ডিএসি (Defence Acquisition Council) অনুমোদন দিলে তা পৌঁছবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটি বা ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) বৈঠকে। সেখানে অনুমোদন পেয়ে গেলে প্রকল্পটি বিস্তারিত প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক আলোচনার পর্যায়ে প্রবেশ করবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তির (India Rafale Jet Deal) চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারিত হবে।”

  • Pakistan Poor Quality Weapons: জং ধরা, পুরনো নিম্নমানের গোলাবারুদ বেচার অভিযোগ! ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলির পিঠে ছুরি মারল পাকিস্তান?

    Pakistan Poor Quality Weapons: জং ধরা, পুরনো নিম্নমানের গোলাবারুদ বেচার অভিযোগ! ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলির পিঠে ছুরি মারল পাকিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের অস্ত্র রফতানি নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। যেসব দেশ সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে অস্ত্র কিনেছে অথবা ভবিষ্যতে কেনার পরিকল্পনা করছে, তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রিপোর্টে পাকিস্তান থেকে রফতানি হওয়া গোলাবারুদের গুণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    আর্মেনিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আজারবাইজানের

    খবরে প্রকাশ, পাকিস্তান তার মিত্র দেশ আজারবাইজানকে গোলাবারুদ ও কামানের গোলার বিভিন্ন অংশ সরবরাহ করেছে। তবে এর একটি বড় অংশ কয়েক দশক পুরনো মজুত থেকে নেওয়া বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সরঞ্জামে জং ধরা, প্রপেল্যান্ট লোড কম থাকা এবং পাল্লায় ত্রুটি থাকার মতো সমস্যা ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী আর্মেনিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা চলছে আজারবাইজানের। ভারত তার মিত্র দেশ আর্মেনিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ত্রের জন্য তুরস্ক ও পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করে থাকে আজারবাইজান। কিন্তু ককেশাস অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের দাবি, পাকিস্তান থেকে পাঠানো অস্ত্রের মান প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল।

    লক্ষ্যবস্তুর আগেই মাটিতে পড়ে যাচ্ছে পাক গোলা!

    যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, পাকিস্তানের সরবরাহ করা কামানের গোলাগুলোর কার্যকারিতা আশানুরূপ নয়। পাকিস্তান যে রেঞ্জের দাবি করেছে, বাস্তবে তা মাত্র ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্তই অর্জিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই গোলাগুলি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর আগেই মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। আজারবাইজানের পাশাপাশি ইউক্রেনেও পাকিস্তানি অস্ত্রের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। রাশিয়ার হামলার শুরুর দিকে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী এম৭৭৭ হাউইৎজার কামানের জন্য পাকিস্তানে তৈরি ১৫৫ মিলিমিটার গোলা কিনেছিল। পরে অভিযোগ ওঠে, এসব গোলা সময়ের আগেই বিস্ফোরিত হচ্ছিল, যার ফলে একাধিক কামান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    পিছিয়ে আসছে আরও এক মিত্র সৌদি আরবও!

    এদিকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবও অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে। এক সময় সৌদি আরব পাকিস্তানের গোলাবারুদ ও কামানের গোলার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা ভারতের দিকে ঝুঁকেছে। রিয়াধ ভারত থেকে ৫.৫৬ মিলিমিটার, ৭.৬২ মিলিমিটার রাউন্ড এবং ১৫৫ মিলিমিটার গোলা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষায় ভারতীয় গোলাবারুদ ধারাবাহিকভাবে সন্তোষজনক ফলাফল দেখিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানি অস্ত্রের মান নিয়ে এই অভিযোগগুলো ভবিষ্যতে দেশটির প্রতিরক্ষা রফতানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি নতুন ক্রেতা দেশগুলোর মধ্যেও আস্থা সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • India Rejects Pakistan Claim: “অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে পাকিস্তান”, ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    India Rejects Pakistan Claim: “অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে পাকিস্তান”, ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার ইসলামাবাদের এক শিয়া মসজিদে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের সঙ্গে নয়াদিল্লির যোগ নিয়ে পাকিস্তানের তোলা অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” ও “অর্থহীন” বলে খারিজ করল ভারত।

    কী বলেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক?

    মর্মান্তিক বিস্ফোরণে প্রাণহানির জন্য শোক প্রকাশ করলেও, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) পাকিস্তানের “ঘরে তৈরি সমস্যাগুলি” নিয়ে সমালোচনা করে। প্রকাশিত বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “আজ ইসলামাবাদের একটি মসজিদে ঘটে যাওয়া বোমা হামলা নিন্দনীয় এবং এতে যে প্রাণহানি হয়েছে, ভারত তার জন্য শোক প্রকাশ করছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “দুঃখজনক যে, নিজেদের ঘরে বিদ্যমান সমস্যাগুলির গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করার বদলে পাকিস্তান অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে।” পাকিস্তানের এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “ভারত এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে, যা যেমন ভিত্তিহীন, তেমনই অর্থহীন।”

    ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে পাকিস্তানের দাবি

    ভারতের এই প্রতিক্রিয়া আসে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের বক্তব্যের পর, যিনি কোনও প্রমাণ না দিয়েই দাবি করেন যে এই হামলার সঙ্গে ভারত ও আফগানিস্তানের যোগ রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে আসিফ বলেন, হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী আফগানিস্তানে যাতায়াত করেছে—এটি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে আঁতাত প্রকাশ পাচ্ছে।” সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার ইসলামাবাদে শুক্রবারের নামাজ চলাকালীন এক শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় অবস্থিত খাদিজা আল-কুবরা মসজিদ তথা ইমামবারগাহে (ইমামবাড়া) ঘটে।

    আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া

    ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে আফগানিস্তানের যোগ থাকার পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কাবুলও। তারা এই অভিযোগকে আগাম সিদ্ধান্তমূলক এবং প্রমাণবিহীন বলে উল্লেখ করেছে বলে আফগান সংবাদসংস্থা খামা প্রেস নিউজ এজেন্সি শুক্রবার জানিয়েছে। তালিবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র এনায়াতুল্লাহ খোয়ারাজমি বলেন, “পাকিস্তানি কর্মকর্তারা অতীতেও বালোচিস্তানে হামলাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঘটনার জন্য কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই আফগানিস্তানকে দায়ী করেছেন।”

    খোয়ারাজমি প্রশ্ন তোলেন, হামলার পর এত দ্রুত কীভাবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বাহ্যিক যোগসূত্রের কথা বলতে পারে, অথচ আগেভাগে এই ধরনের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যাকে আড়াল করতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে জানান, আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলাকে সমর্থন করে না এবং নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ইসলামিক ও মানবিক নীতির পরিপন্থী বলে মনে করে। আফগান মুখপাত্র পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দোষ চাপানোর রাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং এর পরিবর্তে গঠনমূলক আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

  • Agni-3 Missile Test: সফল অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা, চিন-পাকিস্তানকে কোন বার্তা দিল ভারত?

    Agni-3 Missile Test: সফল অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা, চিন-পাকিস্তানকে কোন বার্তা দিল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR) থেকে মাঝারি-পাল্লার অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা (Agni-3 Missile Test) চালিয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত অপারেশনাল প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে।

    যাচাই হলো সব প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও অপারেশনাল প্রস্তুতি

    এই পরীক্ষা পরিচালিত হয় স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড (SFC)-এর তত্ত্বাবধানে, যা দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের দায়িত্বে রয়েছে। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের দ্বারা পরিচালিত এই উৎক্ষেপণে সব অপারেশনাল ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই পরীক্ষা ভারতের প্রতিরোধমূলক কৌশলের (India Nuclear Deterrence) বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অংশ

    অগ্নি-৩ একটি মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (IRBM), যার আঘাত হানার ক্ষমতা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার। এর ফলে প্রতিপক্ষ দেশের গভীরে অবস্থিত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা ভারতের রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অগ্নি সিরিজের অন্যান্য উন্নত ও অধিক পাল্লার সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা হয়েছে, তবুও অগ্নি-৩ এখনও ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অংশ হিসেবে বিবেচিত। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০১১ সাল থেকে স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের পরিষেবায় রয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত।

    রমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য নকশা

    অগ্নি-৩ (Agni-3 Missile Test) একটি দুই-ধাপের, কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যা সর্বোচ্চ ১,৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের পেলোড (বিস্ফোরক) বহনে সক্ষম। এটি মূলত পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য নকশা করা হয়েছে এবং প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোটন ক্ষমতার ওয়ারহেড বহন করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.৭ মিটার এবং ব্যাস ২ মিটার। এর উৎক্ষেপণ ওজন প্রায় ৪৮,৩০০ কিলোগ্রাম। প্রথম ধাপের জ্বালানি শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপ সক্রিয় হয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে নির্ধারিত পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, যা উড়ানের সময় স্থিতিশীলতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করে।

    “বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা” বজায় রাখা

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রে স্ট্র্যাপডাউন ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়েছে, যা জিপিএস-এর সহায়তায় প্রায় ৪০ মিটার সার্কুলার এরর প্রোবাব্যেল (CEP) নির্ভুলতা প্রদান করে। এর প্রথম ধাপটি মারেজিং স্টিল দিয়ে তৈরি মোটর কেস এবং দ্বিতীয় ধাপে কার্বন-ফাইবার মোটর কেস ব্যবহার করা হয়েছে। উভয় ধাপেই থ্রাস্ট ভেক্টর কন্ট্রোল সিস্টেম সংযুক্ত থাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা আরও বৃদ্ধি পায়। প্রতিরক্ষা কর্তারা জানিয়েছেন, এদিনের পরীক্ষা (Agni-3 Missile Test) ভারতের যাচাইকৃত কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার তালিকাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং জটিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে দেশের “বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা” (India Nuclear Deterrence) বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরেছে।

  • Bird Flu Alert: দেশে এভিয়ান ফ্লু-র হানা! কয়েক’শো কাকের মৃত্যুর পরেই সতর্কতা জারি, কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?

    Bird Flu Alert: দেশে এভিয়ান ফ্লু-র হানা! কয়েক’শো কাকের মৃত্যুর পরেই সতর্কতা জারি, কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কোথাও রাস্তার পাশে, আবার কোথাও আবর্জনার স্তূপের মাঝেই পড়ে রয়েছে নিথর দেহ! চেন্নাই শহর জুড়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় কয়েক’শো কাকের মৃত্যু হয়েছে। আর এই মৃত্যু উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কাকের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলেই জানা গিয়েছে। বিপদ বাড়াচ্ছে মানব দেহের সংক্রমণের (Bird Flu Alert)। তাই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    কাকের মৃত্যু কোন বিপদের ইঙ্গিত করছে?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এইচ৫এন১ ভাইরাসের (H5N1 Virus) জেরেই কাকের মৃত্যু হচ্ছে। আর এই ভাইরাস ক্ষতিকারক। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাকের মৃত্যু নতুন সংক্রমণের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ভাইরাস পাখির শরীরে সংক্রামিত হয়। আর মৃত পাখির দেহ থেকেই এই রোগ সংক্রমণ অন্য প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে‌ পড়ে। কাকের শরীরেই এই রোগ আটকে থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এই ভাইরাস অন্যান্য পাখিদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষত পায়রা, হাঁস, মুরগির শরীরে এই ভাইরাস সহজেই সংক্রামিত হয়।

    মানব দেহে কি এই রোগ ছড়াতে পারে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানব দেহেও এইচ৫এন১ ভাইরাস (H5N1 Virus) সংক্রমণ ঘটতে পারে। মৃত পাখির দেহ স্পর্শ করলে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলট্রিতে কর্মরত ব্যক্তিদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া যারা বর্জ্য পরিষ্কার করেন, তাঁদের ও সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আক্রান্ত পাখির শরীরের লালা ও রস থেকেই মূলত এই ভাইরাস সংক্রামিত হয়। তাই এই ভাইরাসে আক্রান্ত অসুস্থ কিংবা মৃত পাখি স্পর্শ করলে এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত (Bird Flu Alert) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে‌ যায়।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে কোন সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যে কোনও সংক্রামক রোগ আটকানোর প্রধান উপায় হলো আগাম সতর্কতা। তাই এই ভাইরাস রুখতেও সতর্কতা জরুরি।‌ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলট্রি ফার্মে কর্মরত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা (Bird Flu Alert) অবলম্বন করতে হবে। হাতে গ্লাভস পরা এবং মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করেই কোনও ফার্মে একাধিক পাখির মৃত্যু হলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া মৃত পাখিকে স্পর্শ করার আগে মাস্ক ও গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক। তারপরে সেই কর্মীর হাত ও পা ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচ্ছন্ন করা জরুরি। যাতে ভাইরাস সংক্রমণ না হতে পারে।

    আক্রান্ত হলে কি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রথম পর্বেই রোগ নির্ণয় (Bird Flu Alert) হলে দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই রোগী দেরিতে আসেন। রোগ নির্ণয় করতে অনেকটা সময় চলে যায়। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। তারজন্য প্রথম পর্বেই রোগ নির্ণয় জরুরি। এলাকায় পাখির মৃত্যু হচ্ছে কিনা সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সঠিক তথ্য থাকা জরুরি। জ্বর, গলা ব্যথা, মাথার যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই উপসর্গ সহ একাধিক রোগী দেখা দিলে প্রশাসনের আগাম সতর্কতা প্রয়োজন। রোগীদের দ্রুত শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ সম্পর্কে দ্রুত নিশ্চিত হতে হবে। তবেই সংক্রামিত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।

    রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা নয়!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও ভাইরাসঘটিত অসুখ (Avian Flu Alert) সম্পর্কে নানান ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। যা সংক্রমণ আটকানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা যাতে না ছড়ায় প্রশাসনকে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এইচ৫এন১ ভাইরাস (H5N1 Virus) সংক্রমিত হলেই চিকেন খাওয়া যাবে না। এমন ধারণা ভুল। যেকোনও প্রাণীজ প্রোটিন সব সময় ভালোভাবে পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ রান্না করে খাওয়া উচিত। তাই হাঁস কিংবা মুরগীর মাংস খাওয়ার সময় ঠিকমতো সম্পূর্ণ রান্না করা জরুরি।‌ রান্না মাংস থেকে রোগ ছড়ায় না। ফার্মে কাজ করলেই এই রোগে আক্রান্ত হবে, এমন ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মানলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

  • Islamabad Bomb Blast: ইসলামাবাদের ইমামবাড়ায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩১, আহত শতাধিক

    Islamabad Bomb Blast: ইসলামাবাদের ইমামবাড়ায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩১, আহত শতাধিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকার তারলাই ইমামবাড়ায় শুক্রবার ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। পাক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জুম্মার নামাজের জন্য স্থানীয় মুসলিমরা ইমামবাড়ায় সমবেত হয়েছিলেন। সেই সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে।

    আত্মঘাতী বিস্ফোরণ…

    ইমামবাড়া হল শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় শোকানুষ্ঠানের স্থান, যেখানে কারবালার ঘটনার স্মরণে তারা সমবেত হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিকেলের সময় উপাসনালয়ের প্রধান ফটকে এক আত্মঘাতী জঙ্গী বিস্ফোরণ ঘটায়। নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রবেশপথে দায়িত্বরত প্রহরীরা হামলাকারীকে আটকাতে সক্ষম হন এবং তাকে মূল হলের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেন, যেখানে উপাসকেরা সমবেত ছিলেন। তা সত্ত্বেও বিস্ফোরণের তীব্রতায় ফটকের কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আশপাশের ভবনের জানালা ভেঙে যায় এবং রাস্তার ওপর চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। এবং উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

    শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা…

    বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। ঘটনার পর ইসলামাবাদের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয় এবং আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিস্ফোরণের ফলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এক পুলিশ কর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এই মুহূর্তে কতজন নিহত হয়েছেন তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।” পাকিস্তানের সংবাদপত্র দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের পিআইএমএস ও পলিক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক আহত রোগী সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    দায় স্বীকার করেনি কোনও গোষ্ঠী…

    এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং হতাহতের সরকারি সংখ্যা প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই বোমা হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন মাত্র কয়েক দিন আগে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী বালুচিস্তান প্রদেশে এক সপ্তাহব্যাপী অভিযান শেষ করেছে। ওই অভিযানে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (BLA) সঙ্গে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ নিহত হয় বলে জানা গেছে। এই গোষ্ঠীটি একযোগে একাধিক জেলায় সমন্বিত হামলা চালায়, সাময়িকভাবে কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেয় এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ চালায়।

    ছয় মাসে দ্বিতীয় বড় বিস্ফোরণ…

    গত ছয় মাসের মধ্যে ইসলামাবাদে এটি দ্বিতীয় বড় বিস্ফোরণের ঘটনা। এর আগে গত নভেম্বরে ইসলামাবাদ জেলা আদালত চত্বরে একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৫ জনের বেশি মানুষ আহত হন। ওই ঘটনাকেও আত্মঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গত বছরের ওই বিস্ফোরণটি জেলা আদালতের প্রবেশপথের কাছে একটি পার্ক করা গাড়িতে ঘটে, যখন সেখানে কর্মব্যস্ত সময় চলছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে এর প্রভাব ছয় কিলোমিটার দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়। এতে আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    আগেরবার আফগানিস্তানকে দায়ী করেছিল পাকিস্তান

    সে সময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ হামলার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করে বলেন, দেশটি কার্যত “যুদ্ধাবস্থায়” রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, “আমরা যুদ্ধাবস্থায় রয়েছি। যারা মনে করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুধু আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত বা বেলুচিস্তানে লড়াই করছে, তাদের জন্য ইসলামাবাদ জেলা আদালতের আত্মঘাতী হামলাই সতর্কবার্তা। এটি পুরো পাকিস্তানের জন্য যুদ্ধ, যেখানে সেনাবাহিনী প্রতিদিন জনগণের নিরাপত্তার জন্য আত্মত্যাগ করছে।” উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় এক মাস পরই ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

  • Gadchiroli Encounter: গড়চিরোলিতে মাওদমন অভিযানে খতম ৩ মাওবাদী, নিহত এক ‘সি-৬০’ জওয়ান

    Gadchiroli Encounter: গড়চিরোলিতে মাওদমন অভিযানে খতম ৩ মাওবাদী, নিহত এক ‘সি-৬০’ জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছত্তিশগড় সফরের ঠিক আগে মহারাষ্ট্র–ছত্তিশগড় সীমান্তের গড়চিরোলি (Gadchiroli Encounter) জেলায় চলমান নকশাল-বিরোধী অভিযানে (Anti-Naxal Operation) তিন মাওবাদী খতম হয়েছে। ওই অভিযানে আহত এক সি-৬০ জওয়ানও মারা গেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এলাকা থেকে এক পুরুষ মাওবাদীর দেহ উদ্ধার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল ও একটি এসএলআর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে আরও এক পুরুষ ও এক মহিলা মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়। তবে তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

    নিহত এক জওয়ান, আহত আরও এক

    আহত জওয়ান দীপক চিন্না মাদাভি (৩৮), যিনি আহেরির বাসিন্দা, তাঁকে শুক্রবার ভোরে অবুঝমাড় জঙ্গলের ভেতর থেকে এয়ারলিফট করে ভামরাগড়ের নিকটবর্তী সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অন্যদিকে, আরেক জওয়ান জোগা মাদাভি, যিনি কিষ্ট্যাপল্লির বাসিন্দা, বৃহস্পতিবার রাতে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকেও উদ্ধার করে এয়ারলিফটের মাধ্যমে ভামরাগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং শীঘ্রই তাকে গড়চিরোলিতে স্থানান্তর করা হবে।

    গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান

    এ বিষয়ে গড়চিরোলির পুলিশ সুপার নীলোৎপল বলেন, “নারায়ণপুর সীমান্তবর্তী অবুঝমাড় এলাকায় গত তিন দিন ধরে অবশিষ্ট মাওবাদী ক্যাডারদের ধরতে অভিযান চলছে। এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।” পুলিশ জানিয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়ার পর এই নকশাল-বিরোধী অভিযান শুরু হয়। স্থানীয় ১০ নম্বর কোম্পানির মাও-ক্যাডারের সঙ্গে ছত্তিশগড়ের একটি অজ্ঞাত মাওবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের উপস্থিতির কথা পুলিশ জানতে পারে। এর পরেই অভিযান শুরু হয় নারায়ণপুর–গড়চিরোলি জেলা সীমান্তের কাছে, ফোদেওয়াদা গ্রামের কয়েক কিলোমিটার দূরে। এতে ভামরাগড়ের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে ১৪টি সি-৬০ ইউনিট অংশ নেয়।

    মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য গুলির লড়াই হয়। তল্লাশি অভিযানে দুটি মাওবাদী ক্যাম্প ধ্বংস করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ মাওবাদ-সম্পর্কিত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে মাওবাদীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার সকালে অভিযান আরও জোরদার করতে চারটি অতিরিক্ত সি-৬০ ইউনিট এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) একটি কুইক অ্যাকশন টিম মোতায়েন করা হয়। এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে।

    ছত্তিশগড়ে তিনদিনের সফরে শাহ

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের সফরে ছত্তিশগড় যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি রাজ্যে বিদ্যমান মাওবাদ-পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ বা বামপন্থী চরমপন্থা (LWE) সম্পূর্ণ নির্মূল করার কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী অমিত শাহ ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রায়পুরে পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    মাও-গড়ে শাহি বৈঠক

    ছত্তিশগড় বিশেষ করে বস্তার অঞ্চল মাওবাদ হিংসায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত রাজ্যগুলির অন্যতম হওয়ায়, কেন্দ্রের জোরদার মাওদমন অভিযান প্রেক্ষিতে এই সফরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রায়পুরে বামপন্থী চরমপন্থা (LWE) সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে চলমান মাও-বিরোধী অভিযানের অগ্রগতি, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রভাবিত জেলাগুলিতে উন্নয়নমূলক উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

  • Repo Rate Unchanged: রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত

    Repo Rate Unchanged: রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাজেট-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিত (Repo Rate Unchanged) রাখার সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তিনদিন ধরে চলা মুদ্রানীতি কমিটির (RBI MPC Meet) বৈঠকের শেষে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখে ৫.২৫ শতাংশে স্থির রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুদ কমানোর ধারায় আপাতত বিরতি পড়ল। তিন দিনের মুদ্রানীতি বৈঠক শেষে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কমিটি তাদের ‘নিউট্রাল’ বা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে সর্বসম্মতভাবে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    গত এক বছরে চার বার রেট কমেছে

    ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে ধারাবাহিক চার দফায় মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছে আরবিআই। এর ফলে রেপো রেট ৬.৫ শতাংশ থেকে নেমে বর্তমান ৫.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ ডিসেম্বর বৈঠকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমানো হয়েছিল। তার আগে বছরের প্রথমার্ধে টানা তিন দফা কাটের ফলে জুনের মধ্যে রেপো রেট ৫.৫ শতাংশে নেমে আসে। এই নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবৃদ্ধিমুখী কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এবং সদ্য ঘোষিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপটে। ওই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমেছে।

    মিলে গেল অর্থনীতিবিদদের পূ্র্বাভাস

    বৈঠকের আগে অর্থনীতিবিদদের একাধিক সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছিল যে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই দফায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আপাতত সুদ কমানোর চক্র শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই পূর্বাভাসই প্রতিফলিত হল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় আকারে শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ও বন্ড বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরবিআই প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার থেকে বিক্রি করে। এর ফলে টাকার মূল্যে পতন দেখা যায় এবং রেকর্ড পরিমাণে সরকারি ঋণগ্রহণের ফলে চাপের মুখে থাকা বন্ড বাজার আরও চাপে পড়ে।

    মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসে সংশোধন

    মুদ্রানীতি কমিটি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও সংশোধন করেছে। উপভোক্তা মূল্য সূচক বা কাস্টোমার প্রাইস ইন্ডেক্স (CPI) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতির অনুমান ২.০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.১ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস যথাক্রমে ৪.০ শতাংশ এবং ৪.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করে যথাক্রমে ৬.৯ শতাংশ এবং ৭.০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF) ৫ শতাংশ হারে অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (MSF) রেট এবং ব্যাঙ্ক রেটও আগের মতোই ৫.৫ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে।

LinkedIn
Share