Tag: মাধ্যম

  • Defence Acquisition Council: ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সায়! ৯৮% সরঞ্জামই তৈরি হবে ভারতে, বড় সিদ্ধান্ত ডিএসির

    Defence Acquisition Council: ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সায়! ৯৮% সরঞ্জামই তৈরি হবে ভারতে, বড় সিদ্ধান্ত ডিএসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে সোমবার বৈঠকে বসে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি)। সেই বৈঠকেই ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার জন্য প্রায় ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি (এওএন) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, অনুমোদিত ক্রয়ের প্রায় ৯৮ শতাংশই ভারতীয় শিল্পের কাছ থেকে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন তিন বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা ও অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও বড় অর্ডার পাবে।

    সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক অত্যাধুনিক সরঞ্জাম

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। এর মধ্যে রয়েছে কেমিক্যাল, বায়োলজিক্যাল, রেডিওলজিক্যাল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার (সিবিআরএন) রিকনেসান্স ভেহিকল, হাই মোবিলিটি ভেহিকল, সেল্ফ-প্রোপেলড মেকানিক্যাল মাইন লেয়ার, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (এএলএইচ), ট্রল ট্যাঙ্ক এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম।

    সিবিআরএন রিকনেসান্স ভেহিকলের সাহায্যে রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় এবং পরমাণু উপাদানে দূষিত এলাকা দ্রুত শনাক্ত, চিহ্নিত, পর্যবেক্ষণ ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া সম্ভব হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও অঞ্চল সিবিআরএন উপাদানে আক্রান্ত হলে সেনার জন্য নিরাপদ পথ নির্ধারণ এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নে এই যানগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    অন্যদিকে, হাই মোবিলিটি ভেহিকল কঠিন ও দুর্গম ভূখণ্ডে সেনার দ্রুত গতিশীলতা এবং রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে প্রতিকূল সীমান্ত অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সেল্ফ-প্রোপেলড মেকানিক্যাল মাইন লেয়ার সেনাবাহিনীকে দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকরভাবে মাইন পাতা বা মাইনফিল্ড তৈরি করার সক্ষমতা দেবে। বিশেষ করে দুর্গম ভূখণ্ডে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা সেনার প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকে আরও নমনীয় করবে।

    এএলএইচ থেকে সর্বত্র ব্রিজ—যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়বে সক্ষমতা

    ডিএসির অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার বা এএলএইচ-ও। বিভিন্ন ভূপ্রকৃতি এবং জটিল অপারেশনাল পরিস্থিতিতে সেনা ও বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ মিশনে এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। দুর্গম এলাকায় সেনা মোতায়েন, সরঞ্জাম পরিবহণ এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে এএলএইচ-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    এছাড়া ট্রল ট্যাঙ্ক এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম-এর অনুমোদনও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধক্ষেত্রে নদী, খাল বা অন্যান্য জলপথ এবং দুর্গম ভূখণ্ড অতিক্রম করে সেনার যুদ্ধবিন্যাসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাগুলি সাহায্য করবে। অর্থাৎ, শুধু অস্ত্রশক্তি নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত গতিশীলতা এবং বাধা অতিক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও জোর দিয়েছে ডিএসি।

    নৌসেনায় অরুধ্র রেডার, দেশীয় মেরিন গ্যাস টারবাইন

    ভারতীয় নৌসেনার জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। এর মধ্যে রয়েছে অরুধ্র রেডার সংগ্রহ এবং মেরিন গ্যাস টারবাইন (এমজিটি)-এর নকশা, উন্নয়ন ও পরবর্তী পর্যায়ে সংগ্রহের প্রস্তাব।নৌসেনার বিভিন্ন নেভাল এয়ার স্টেশনে বর্তমানে ব্যবহৃত এয়ার রুট সার্ভেল্যান্স রেডার-এর পরিবর্তে অরুধ্র রেডার বসানো হবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই রেডার নৌসেনার বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

    আরও গুরুত্বপূর্ণ হল মেরিন গ্যাস টারবাইন। যুদ্ধজাহাজের প্রোপালশন সিস্টেম বা চালনা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। দেশেই মেরিন গ্যাস টারবাইন তৈরি ও উন্নয়নের উদ্যোগ ভবিষ্যতে যুদ্ধজাহাজের প্রপালশন প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

    বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে একাধিক অনুমোদন

    ভারতীয় বায়ুসেনার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে ডিএসি। ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট, ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট এবং হেলিকপ্টার-এর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এর পাশাপাশি বায়ুসেনার জন্য গ্রাউন্ড-বেসড মাল্টি-পারপাস জ্যামার (জিবিএমপিজে) সংগ্রহের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিন যুদ্ধব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। শত্রুপক্ষের রেডার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত করতে জিবিএমপিজে ব্যবহার করা যাবে। কার্যকর জ্যামিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের নজরদারি ও লক্ষ্য শনাক্তকরণের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কাগজের পরিচয়পত্রের বদলে স্মার্ট কার্ড

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ডিফেন্স ফোর্সেস সিকিওর অ্যাকসেস কার্ড (ডিইএফএসিএসি) ব্যবস্থা। ডিএসি এই ব্যবস্থাও অনুমোদন করেছে। বর্তমানে ব্যবহৃত কাগজের পরিচয়পত্র, প্রবেশপত্র এবং অনুমতিপত্রের পরিবর্তে ইন্টারঅপারেবল রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি)-ভিত্তিক স্মার্ট কার্ড চালু করা হবে। এর ফলে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ আরও আধুনিক, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অ্যাকসেস-কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

    ৯৮ শতাংশ দেশীয় ক্রয়—কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এই ডিএসি বৈঠকের সবচেয়ে বড় বার্তা সম্ভবত প্রায় ৯৮ শতাংশ ক্রয় ভারতীয় শিল্পের কাছ থেকে করার পরিকল্পনা। অর্থাৎ, ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার এই বিপুল প্রতিরক্ষা বরাদ্দের বড় অংশই দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পে প্রবাহিত হবে।

    এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশীয় প্রতিরক্ষা নির্মাতা সংস্থা, প্রযুক্তি সংস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্র এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের উপর। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদন ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষ করে মেরিন গ্যাস টারবাইনের মতো জটিল প্রযুক্তি দেশেই তৈরি করার উদ্যোগ দেখাচ্ছে, ভারত শুধু অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম আমদানি কমানোর দিকেই নয়, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মূল ভিত্তি দেশেই গড়ে তুলতে চাইছে।

    সব মিলিয়ে, প্রায় ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার ডিএসি অনুমোদনকে শুধু একটি বড় প্রতিরক্ষা ক্রয় হিসেবে দেখলে বিষয়টির পূর্ণ তাৎপর্য ধরা পড়বে না। সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যকে একই সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।

  • Touchscreen Typing Nerve Problems: মোবাইলে লাগাতার টাইপ করছেন? বুড়ো আঙুল-কবজির এই অসাড়তা হতে পারে বিপদের ইঙ্গিত

    Touchscreen Typing Nerve Problems: মোবাইলে লাগাতার টাইপ করছেন? বুড়ো আঙুল-কবজির এই অসাড়তা হতে পারে বিপদের ইঙ্গিত

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অফিসের কাজ হোক কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস, ইলেকট্রিক বিল থেকে বন্ধুর সঙ্গে গপ্প-আড্ডা, সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়! কয়েকটি ক্লিক আর টাইপের যাবতীয় কাজ চলছে। কিন্তু লাগাতার টাচ স্ক্রিনের ব্যবহার, টাইপ করে যাওয়ার জেরেই স্বাস্থ্য সঙ্কট বাড়তে চলেছে। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত দিনের দীর্ঘ সময় টাচ স্ক্রিনে একনাগাড়ে কাজ করলে হাতের আঙুল এবং কবজির স্নায়ুতে একধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই হাতের কিছু অংশে অসাড়তার সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীর্ঘসময় অতিরিক্ত টাচ স্ক্রিনের ব্যবহার এই ধরনের সমস্যা তৈরি করছে।

    কেন এই অসাড়তা হতে পারে?

    স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাতের কব্জি মধ্যে একটি স্নায়ু রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম মিডিয়ান নার্ভ। টাচ স্ক্রিনের লেখার সময় কবজি একটি নির্দিষ্ট ভাবে বাঁকানো থাকে। এর ফলে ওই স্নায়ু এবং কবজির কোষগুলো ফুলে যায়। এর জেরেই এক ধরনের অসাড়তা তৈরি হয়। তাছাড়া হাতে বুড়ো আঙুলের সাহায্যে দীর্ঘসময় টাইপ চালিয়ে গেলে, এক কাজ করার জন্য হাতের আঙুলের স্নায়ু্র কার্যক্ষমতাও কমতে থাকে। ফলে অসাড় হয়ে যায়।

    কীভাবে বুঝবেন এই অসাড়তার সমস্যা প্রকট হচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই স্নায়ু অসাড় হয়ে যাওয়া প্রাথমিক পর্বে বোঝা যায় না। অনেকেই সমস্যাকে এড়িয়ে যান। কিন্তু কয়েকটি উপসর্গে নজর দিলেই পরিস্থিতি আগাম সামাল দেওয়া সহজ হয়‌।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমায় ঝিনঝিন ব্যথা করলে কখনোই অবহেলা করা উচিৎ নয়। কারণ, এই তিনটে আঙ্গুল টাইপ করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। লাগাতার টাচ স্ক্রিনে টাইপ করার জেরে এই তিন আঙুলেই প্রথম প্রভাব পড়ে।
    হাত অবশ হয়ে যাওয়ার জেরে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে স্নায়ুর অসাড়তার রোগ জটিল হচ্ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    পাশপাশি হাত থেকে জিনিস বারবার পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে স্নায়ুর অসাড়তা বাড়ছে।

    কাদের এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন অনেকক্ষণ মোবাইলে টাইপ করেন বা একই আঙুল দিয়ে বারবার স্ক্রল করেন তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
    যাঁরা দিনের অধিকাংশ সময় ফোন শক্ত করে ধরে রাখেন, কিংবা কবজি দীর্ঘক্ষণ বাঁকানো অবস্থায় রাখেন তাঁদের স্নায়ুর অসাড়তার সমস্যা হতে পারে। পাশপাশি, একই ধরনের হাতের কাজ বারবার করলে স্নায়ুর অসাড়তা বাড়তে পারে। তবে, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস আছে তাঁদের এই ধরনের স্নায়ুর সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি দিকে নজর দিলে এই রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

    • ১. চিকিৎসকদের পরামর্শ, একটানা টাইপ করা উচিৎ নয়। দীর্ঘ সময়ের কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করতে হবে। মাঝেমধ্যে হাত-কবজিকে বিশ্রাম দিতে হবে।
    • ২. বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কব্জি সোজা রাখতে হবে। দীর্ঘসময় কবজি বাঁকিয়ে রাখার জন্য স্নায়ুর অসাড়তা সমস্যা আরও বাড়ছে। তাঁদের পরামর্শ, ফোন ব্যবহার করার সময় কবজি অতিরিক্ত সামনে বা পিছনে বাঁকিয়ে রাখা যাবে না।
    • ৩. স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একই বুড়ো আঙুল দিয়ে দীর্ঘক্ষণ টাইপ না করে দুই হাতের আঙুল ব্যবহার করলে বা ভয়েস টাইপিং ব্যবহার করা যেতে পারে।
    • ৪. ব্যথা বা ঝিনঝিনি শুরু হলে জোর করে কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিৎ নয় এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, একনাগাড়ে কাজ চালিয়ে গেলে স্নায়ুর উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলেই নানান সমস্যা তৈরি হয়।
  • Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে শুক্রবার বসা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি (AoN) বা প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে।

    সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক দেশীয় ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই অনুমোদনের তালিকায়। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ড্রোন-বিরোধী যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্ক সুরক্ষা, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক সক্ষমতা এবং দীর্ঘক্ষণ নজরদারি চালানোর প্রযুক্তি-তে জোর দেওয়া। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যে ধরনের প্রযুক্তি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেই ক্ষেত্রগুলিতেই একসঙ্গে সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে ভারত।

    সেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র

    ভারতীয় সেনার জন্য আকাশ তরঙ্গ (Akash Tarang) অ্যান্টি-ইউএভি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW Suite) ব্যবস্থা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত করা এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি, হামলা এবং লক্ষ্য চিহ্নিতকরণে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে সেনা গঠনের নিরাপত্তায় অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এছাড়াও সেনার জন্য ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM) কেনার অনুমোদন মিলেছে। হালকা ও বহনযোগ্য এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পদাতিক বাহিনীর হাতে শত্রুর সাঁজোয়া যান ও ট্যাঙ্ক মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াবে। একইসঙ্গে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM) ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবেও। বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় মাঝারি পাল্লার এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেনার সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

    স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা থেকে ট্যাঙ্কের সুরক্ষা

    সেনার জন্য ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)-এরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সিং প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ এই ব্যবস্থা শত্রুর পাল্টা ব্যবস্থা মোকাবিলা করে আকাশ প্রতিরক্ষার কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি রয়েছে অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (APS)। ট্যাঙ্কের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক অস্ত্রের আঘাত প্রতিহত করে ট্যাঙ্ক ও তার ভিতরে থাকা সেনাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ানোই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।

    ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল জেট-চালিত কামিকাজে ড্রোন ব্যবস্থা কেনারও অনুমোদন দিয়েছে। এই ধরনের ড্রোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একইসঙ্গে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা, বেশি ধ্বংসক্ষমতা, টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খরচ—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নৌসেনার জন্য সমুদ্রের নিচে নতুন সক্ষমতা

    ভারতীয় নৌসেনার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাল্টি ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM)। সমুদ্রে শত্রুর গতিবিধি ও চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করার ক্ষেত্রে এই মাইন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    এছাড়াও নৌসেনার জন্য নেভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক সেন্সর-সমৃদ্ধ এই মানবহীন আকাশযানগুলি যুদ্ধজাহাজ থেকে পরিচালিত হয়ে সমুদ্র এলাকায় নজরদারি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করবে। ফলে নৌসেনার সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা আরও শক্তিশালী হবে।

    ভবিষ্যতের নৌযানের বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য ল্যান্ড বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF) তৈরিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পরিকাঠামোয় বৈদ্যুতিক মোটর এবং সংশ্লিষ্ট প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা করা যাবে। ভবিষ্যতের আরও উন্নত ও বিদ্যুৎচালিত নৌ প্ল্যাটফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    বায়ুসেনায় হাপস্ প্রযুক্তির প্রবেশ

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্যও বড় পদক্ষেপ করেছে প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ। ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (FW-HAPS) এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নামেই স্যাটেলাইটের সঙ্গে মিল থাকলেও হাপস্ আসলে উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করতে সক্ষম বিশেষ ধরনের প্ল্যাটফর্ম। এগুলির মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ ধরে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রিকোনেসঁস (ISR) বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, যোগাযোগ এবং রিমোট সেন্সিংয়ের কাজ করা সম্ভব। ফলে বায়ুসেনার দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি ও অপারেশনাল পরিসর বাড়ানোর ক্ষেত্রে এফডব্লিউ-হাপস্ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি চালানোর প্রয়োজন হলে এই প্রযুক্তি প্রচলিত প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।

    ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি

    ৫২ হাজার কোটি টাকার এই অনুমোদনের দিকে সামগ্রিকভাবে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে শুধু প্রচলিত অস্ত্র কেনার বদলে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কামিকাজে ড্রোন, মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্কের সুরক্ষা, সমুদ্রের নিচে মাইন যুদ্ধ, জাহাজভিত্তিক মানবহীন আকাশযান এবং উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি—প্রস্তাবগুলির পরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অনুমোদনগুলির মূল লক্ষ্য হল উন্নত দেশীয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নজরদারি, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং বাহিনীর টিকে থাকার ক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত।

  • Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আক্রান্ত বাড়ছে। প্রশাসন সক্রিয়। স্বচ্ছ ভাবেই ডেঙ্গি মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে, প্রশাসনের পাশাপাশি ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ রুখতে সাধারণ মানুষের সাহায্য সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে কয়েকটি অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরের ডেঙ্গি আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট, সেপ্টেম্বর মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়। তবে অক্টোবরেও ডেঙ্গি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তবে, ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে মৃত্যু মিছিল কমাতে হলে, সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বর্ষার মরশুমে জল জমে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বছরের এই সময়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সব মিলিয়ে মশার বংশবিস্তার এই সময়ে সবচেয়ে বেশি‌ হয়। তাই মশাবাহিত রোগের দাপট বছরের এই সময়ে বাড়ে। সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লে, তার প্রকোপ বাড়ে। তাই সেপ্টেম্বরে বাড়তি গুরুত্ব।

    সেপ্টেম্বরে মশার বংশবিস্তার কমাতে পারলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি সংক্রমণ আটকানোর দিকেও নজর দিতে হবে। ডেঙ্গি মোকাবিলার দুই অস্ত্র জরুরি। একদিকে মশার বংশবিস্তার কমাতে হবে, আরেকদিকে, রোগের সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ, এই দুই করতে পারলেই ডেঙ্গি প্রতিরোধ সহজ হবে। এই মাসে সেই দুই দিকেই প্রশাসন সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। তাহলে, রোগ ছড়াতে পারবে না। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা কমবে এবং মৃত্যু মিছিল আটকানো‌ যাবে।

    কোন পাঁচ অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জল জমা কিংবা এলাকার অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে যেমন সচেতনতা জরুরি, তেমনি আরও কয়েকটি অভ্যাসে নজর দিতে হবে।

    পোশাকে বাড়তি নজরদারি!

    ডেঙ্গি রুখতে পোশাক খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মশার কামড়ের জেরেই ডেঙ্গির ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তাই হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক এই সময়ে পরে থাকা জরুরি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, ডেঙ্গি রুখতে শিশুদের পোশাক নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুরা ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়। তাই শিশুরা যাতে, ডেঙ্গির কবল থেকে বাঁচে, সেদিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। বিশেষত বিকেলে পার্কে বা বাগানে খেলতে যাওয়ার সময় হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরাতে হবে। যাতে মশা কামড়ানোর সুযোগ কমে। রাতে ঘুমোনোর সময়েও হাত-পা ঢাকা‌ পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    মশারি টাঙানোর অভ্যাস!

    আধুনিক শহুরে বাঙালির অনেকেই মশারি টাঙানোর অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো রোগ থেকে বাঁচতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস থাকা জরুরি। ঘুমের মধ্যে যাতে মশা না কামড়ায়, সেই জন্য নিয়মিত রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশপাশি বাড়িতে সদ্যোজাত থাকলে, নবজাতক শিশুকে দিনের অধিকাংশ সময় মশারির‌ ভিতরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মশা দিনের বেলায় দাপট বেশি দেখায়। তাই নবজাতক শিশুদের দিনের বেলাতেও মশারির ভিতরে রাখতে পারলে ভালো হয়।

    জানলা খোলা ও বন্ধের সময়ে নজরদারি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি রুখতে ঘরের জানলা কখন খোলা আর বন্ধ করা হবে, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। বাড়ির আশপাশে পুকুর বা বাগান থাকলে জানলা খোলা নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। দিনের বেলা, সূর্যের আলোয় ঘরের জানলা খোলা রাখা যেতেই পারে। কিন্তু বিকেলের পরে জানলা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাহলে ঘরের ভিতরে মশার দাপট কমবে।

    বাড়ির শৌচলায় এবং ছাদ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা!

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রশাসন বাড়ির ভিতরের পরিবেশ সুস্থ রাখতে পারবে না। সে নিয়ে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। তাই নিজের বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং শৌচালয় নিয়ে সজাগ থাকতে হবে। অনেকেই বাড়ির চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখেন। এই মাসে সেই কাজ করলে বিপদ বাড়বে। মশার বংশবিস্তার কমাতে নিয়মিত চৌবাচ্চা পরিষ্কার করতে হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির পরে ছাদে জল জমে থাকছে কিনা, সে দিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রত্যেক সপ্তাহে ছাদ পরিষ্কার করতে হবে। অনেকেই বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় বাগান করেন। আবার কলকাতা সহ একাধিক শহরে ছাদে বাগান করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই বাগানের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাড়তি সক্রিয় থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, টবে জমা জল থাকছে কিনা দেখতে হবে। আগাছার জন্য মশার বংশবিস্তার হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে। বাগানে নিয়মিত মশানিধন তেল ও স্প্রে দিতে হবে।

    আক্রান্তের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ!

    ডেঙ্গি সংক্রমণ রুখতে সবচেয়ে জরুরি আক্রান্তকে চিহ্নিত করা এবং তাঁর আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা। পাশপাশি তাঁর পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা সেটা দ্রুত নিশ্চিত করা। আর এই সব কিছুতেই সাধারণ নাগরিকদের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করা জরুরি। তবেই কোথায় ডেঙ্গি সংক্রমণ কতখানি গুরুতর, সেটা স্পষ্ট হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ টানা তিন দিন জ্বরে আক্রান্ত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা জরুরি। আবার রোগ নিশ্চিত হলে তাঁকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ডেঙ্গি আক্রান্তকে আলাদা ঘরে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হবে। যাতে তাঁর থেকে অন্যদের শরীরে সহজে সংক্রমণ না ছড়াতে পারে। ডেঙ্গি আক্রান্তের তথ্য প্রশাসনকেও জানানো জরুরি। যাতে এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও মশানিধন নিয়ে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয় হতে পারে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • ISRO privatisation: ইসরো কি বেসরকারি হাতে যাচ্ছে? সব জল্পনায় জল ঢেলে বড় বার্তা মহাকাশ গবেষণা সংস্থার

    ISRO privatisation: ইসরো কি বেসরকারি হাতে যাচ্ছে? সব জল্পনায় জল ঢেলে বড় বার্তা মহাকাশ গবেষণা সংস্থার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) কি ধীরে ধীরে বেসরকারি সংস্থার হাতে চলে যাচ্ছে? মহাকাশ ক্ষেত্রে চলতে থাকা সংস্কারের জেরে কি ইসরোর গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এই ধরনের জল্পনা এবং রিপোর্টকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল বলে সরাসরি খারিজ করল ইসরো। রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর এক সরকারি বিবৃতিতে দেশের শীর্ষ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইসরোকে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও তার গুরুত্ব কমানো হবে না।

    ইসরোকে ঘিরে জল্পনা কেন?

    ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। স্যাটেলাইট তৈরি, উৎক্ষেপণযান, প্রোপালশন সিস্টেম, গ্রাউন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার থেকে শুরু করে মহাকাশ-ভিত্তিক পরিষেবা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন বেসরকারি সংস্থা এবং স্টার্ট-আপগুলি কাজ করছে।

    এই পরিবর্তনের জেরে ইসরোর কর্মী এবং বিজ্ঞানীদের একাংশের মধ্যে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল। বিশেষ করে ইসরোর পরিণত প্রযুক্তি শিল্পের হাতে তুলে দেওয়া, উৎপাদন ও কিছু পরিচালনমূলক দায়িত্ব বেসরকারি বা অন্যান্য সংস্থার হাতে দেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই ইসরোর এই স্পষ্টীকরণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

    ‘ইসরোর ভূমিকা কমছে না’

    ইসরো জানিয়েছে, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোর অর্থ কোনওভাবেই ইসরোর ভূমিকা কমিয়ে দেওয়া নয়। বরং সরকারের মহাকাশ সংস্কারের মূল লক্ষ্য হল একটি বৃহত্তর, শক্তিশালী এবং বহুমুখী ভারতীয় মহাকাশ-ইকোসিস্টেম তৈরি করা। এই ব্যবস্থায় ইসরো, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, স্টার্ট-আপ এবং শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

    ইসরোর বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নত মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি বিকাশ, জাতীয় ও কৌশলগত মিশন, মহাকাশবিজ্ঞান ও অনুসন্ধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাধুনিক মহাকাশ সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে ইসরোর মূল ভূমিকা অক্ষুণ্ণ থাকবে। অর্থাৎ, বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণকে ইসরোর বিকল্প হিসেবে নয়, বরং ভারতের সামগ্রিক মহাকাশ ক্ষমতা বাড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    কেন বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হচ্ছে পরিণত প্রযুক্তি?

    এই সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ম্যাচিওর বা পরিণত প্রযুক্তি শিল্পের হাতে তুলে দেওয়া। কোনও প্রযুক্তি যখন গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায় পেরিয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের উপযোগী হয়ে ওঠে, তখন সেটি বেসরকারি শিল্পের মাধ্যমে আরও বেশি পরিমাণে তৈরি ও বাণিজ্যিকীকরণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ইসরোর যুক্তি, এর অর্থ সেই প্রযুক্তির ক্ষেত্র থেকে সংস্থা সরে যাচ্ছে না।

    বরং বেসরকারি সংস্থা উৎপাদন, বিনিয়োগ, বাণিজ্যিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছনোর কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। অন্যদিকে ইসরোর বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা নিজেদের আরও বেশি সময় দিতে পারবেন নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং এখনও গবেষণার সীমান্তে থাকা জটিল মহাকাশ প্রকল্পে। সহজ কথায়, পুরনো ও পরিণত প্রযুক্তির বৃহৎ উৎপাদনের দায়িত্ব শিল্পের হাতে দিয়ে ইসরো আরও উন্নত প্রযুক্তির গবেষণায় মনোনিবেশ করতে চাইছে।

    ২০২০ থেকেই শুরু মহাকাশ ক্ষেত্রে বড় সংস্কার

    ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সূচনা হয় ২০২০ সালে। এরপর Indian Space Policy 2023-এর মাধ্যমে সংস্কারের কাঠামো আরও স্পষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক করা হয়। পাশাপাশি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা FDI-এর নিয়মও শিথিল করা হয়েছে। এই নীতির মাধ্যমে মহাকাশ ক্ষেত্রের প্রায় গোটা ভ্যালু চেনেই বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● স্যাটেলাইট তৈরি
    • ● উৎক্ষেপণযান নির্মাণ
    • ● প্রোপালশন প্রযুক্তি
    • ● গ্রাউন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার
    • ● মহাকাশ-ভিত্তিক পরিষেবা
    • ● পৃথিবী পর্যবেক্ষণ
    • ● যোগাযোগ ব্যবস্থা
    • ● মহাকাশ প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার

    ইসরোর ভাষায়, এই পরিবর্তনকে ‘বেসরকারিকরণ’ নয়, বরং ‘ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণ এবং সক্ষমতার বহুগুণ বৃদ্ধি’ হিসেবে দেখা উচিত।

    ২০২০-তে হাতে গোনা স্টার্ট-আপ, এখন ৪৫০-এর বেশি

    সংস্কারের ফলে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ইসরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্ট-আপের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। বর্তমানে সেই সংখ্যা ৪৫০-এর বেশি। এই সংস্থাগুলি উৎক্ষেপণযান, স্যাটেলাইট, প্রোপালশন, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ এবং বিভিন্ন মহাকাশ-ভিত্তিক পরিষেবা নিয়ে কাজ করছে। এর ফলে ভারতীয় মহাকাশ ক্ষেত্র এখন শুধুমাত্র সরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি বড় শিল্প ও প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে পরিণত হচ্ছে।

    কৌশলগত পরিকাঠামো থাকবে সরকারের নিয়ন্ত্রণেই

    তবে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়লেও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনও আপস করা হচ্ছে না বলে ইসরো স্পষ্ট করেছে। সংস্থার বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাকাশ পরিকাঠামো এবং কৌশলগত সক্ষমতার মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে।

    কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাকে পরিষেবা বা পরিচালনমূলক কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তা জাতীয় নিরাপত্তা, নিরাপত্তা বিধি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনেই হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে যেমন বেসরকারি বিনিয়োগ ও দক্ষতাকে কাজে লাগানো হবে, অন্যদিকে দেশের কৌশলগত মহাকাশ সক্ষমতার উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

    ইসরোর কর্মীদেরও বার্তা

    ইসরোর এই বিবৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সংস্থার কর্মী ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা। সংস্কারের ফলে ইসরোর দায়িত্ব ধীরে ধীরে কমে যাবে এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি সেই জায়গা দখল করবে—এমন আশঙ্কা যে তৈরি হয়েছিল, তা দূর করার চেষ্টা করেছে ইসরো। বরং সংস্থার বক্তব্যের সারমর্ম হল—বেসরকারি শিল্প যত বেশি পরিণত প্রযুক্তির উৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা সামলাবে, ইসরো তত বেশি মনোযোগ দিতে পারবে কঠিন, কৌশলগত এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির গবেষণায়।

    আসলে ‘ইসরোর জায়গা নেওয়া’ নয়, ‘ইসরোর কাজের পরিধি বাড়ানো’

    বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতের মহাকাশ সংস্কারের লক্ষ্য মূলত সরকারি সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং ইসরোর গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে দেশের শিল্পশক্তি, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেমকে যুক্ত করা। এর ফলে ইসরোর সামনে আরও জটিল মহাকাশ অভিযান, উন্নত উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি, মহাকাশ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তি তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।

    একই সঙ্গে শিল্পের মাধ্যমে পরিণত প্রযুক্তির উৎপাদন বাড়লে ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে। তাই ইসরোর সাম্প্রতিক বার্তাটি মূলত একটি বিষয় পরিষ্কার করছে—ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ ইসরোর অবসান বা বেসরকারিকরণ নয়। বরং লক্ষ্য হল ইসরোকে তার মূল গবেষণা ও কৌশলগত দায়িত্বে আরও বেশি মনোনিবেশ করার সুযোগ দিয়ে গোটা ভারতীয় মহাকাশ ব্যবস্থাকে আরও বড় করে তোলা।

  • Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার সকালেই কলকাতা থেকে দিল্লি, এমনকী রাঁচিতেও একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। অভিযানের কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক। ইডি সূত্রে খবর, বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত টাকা লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগানের অভিযোগের তদন্তেই এই অভিযান।

    কলকাতা, দিল্লি ও রাঁচিতে একযোগে অভিযান

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত মোট সাতটি ঠিকানায় এদিন তল্লাশি চালানো হয়। কলকাতার পার্ক সার্কাস, দিল্লির একাধিক ঠিকানা এবং রাঁচির একটি ঠিকানাও রয়েছে এই তালিকায়। তাঁর সঙ্গে যুক্ত উর্দু সংবাদপত্রের দফতর এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি জায়গাতেও ইডির আধিকারিকরা পৌঁছন।

    কলকাতায় পার্ক সার্কাসের ১২, দরগা রোডে অবস্থিত ‘আখবার-এ-মাশরিক প্রাইভেট লিমিটেড’-এর দফতরে সকালে ইডির একটি দল যায়। দফতরটি তালাবন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা সেখানে প্রবেশ করেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অফিসের বিভিন্ন নথি, আর্থিক কাগজপত্র এবং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়।

    সংবাদপত্রের আর্থিক লেনদেন নিয়ে নজর

    ইডি সূত্রের দাবি, ওই উর্দু সংবাদপত্রের দফতর থেকে একাধিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে কিছু লেনদেনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর।

    কোন উৎস থেকে টাকা এসেছে, কার সঙ্গে কী উদ্দেশ্যে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের পক্ষে যথাযথ নথি রয়েছে কি না—মূলত এই বিষয়গুলিই তদন্তকারীদের নজরে বলে জানা গিয়েছে। বেনামি বা সন্দেহজনক উৎস থেকে কোনও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    দিল্লিতেও নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি

    কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও তল্লাশি চালায় ইডি। রাজধানীর ৬১, সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নাদিমুল হকের একটি অফিস রয়েছে। ওই দফতর তৃণমূল কংগ্রেসের দিল্লিকেন্দ্রিক সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। সোমবার সকাল থেকেই সেখানে ইডির আধিকারিকরা নথিপত্র পরীক্ষা করেন।

    এর পাশাপাশি দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদের সরকারি বাংলোতেও তদন্তকারীরা পৌঁছন বলে সূত্রের খবর। তাঁর বিভিন্ন দফতর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানা গিয়েছে।

    তল্লাশির সময় বেশ কিছু নথি এবং আর্থিক রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, অভিযানের শেষে ঠিক কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও ইডির তরফে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বিধাননগর থানার মামলার সূত্রেই তদন্ত?

    ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতেই এই তদন্তের সূত্রপাত। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট একটি এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট বা ECIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর।

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগান। সেই সূত্র ধরে নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা ও সম্পত্তির আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

    ফের সক্রিয় ইডি, নজরে একাধিক আর্থিক মামলা

    সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক আর্থিক অনিয়ম এবং অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তে ফের সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারই মধ্যে নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় এই তল্লাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

    এর আগে রবিবার সকালে উত্তর কলকাতায় স্টক ট্রেডিং এবং মানি মার্কেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যবসায়ী পরিবারের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ওই অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে কলকাতা পুলিশের কর্মীরা ইডির আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ইডির পূর্বাঞ্চলীয় দফতরের একটি দল প্রথমে ফুলবাগান থানায় যায়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে তদন্তকারীরা ফুলবাগান থানার পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কাঁকুড়গাছির ‘শিবম’ ভবনে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন।

    ২৯০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলাতেও তল্লাশি

    অন্যদিকে, প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তেও গত ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি। অভিযোগ রয়েছে, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল।

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঋণের একটি অংশ নির্দিষ্ট প্রকল্পে ব্যবহার না করে অন্য গ্রুপ সংস্থা এবং ব্যক্তিগত কাজে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল

    নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত ঠিকানা, সংবাদপত্রের দফতর এবং তৃণমূলের রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত অফিস—একাধিক জায়গা এই তদন্তের আওতায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংবাদপত্রের দফতর থেকে হওয়া আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

    তবে এখনও পর্যন্ত ইডির তল্লাশি থেকে কী কী তথ্য বা নথি পাওয়া গিয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে, তদন্তের ভিত্তিতে নাদিমুল হক বা অন্য কোনও ব্যক্তি কিংবা সংস্থার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

    এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাদিমুল হকও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য দেননি। ফলে ইডির অভিযোগ, তল্লাশিতে পাওয়া তথ্য এবং তদন্তের পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • India Belgium Defence Deal: ডাঙায় ট্যাঙ্ক, আকাশে ড্রোন থেকে সামুদ্রিক মাইন, ১০ বড় চুক্তি ভারত-বেলজিয়ামের! বদলে যেতে পারে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন

    India Belgium Defence Deal: ডাঙায় ট্যাঙ্ক, আকাশে ড্রোন থেকে সামুদ্রিক মাইন, ১০ বড় চুক্তি ভারত-বেলজিয়ামের! বদলে যেতে পারে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন

    সুশান্ত দাস

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও বেলজিয়ামের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হতে চলেছে। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ওয়েভারের ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে প্রায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন বেলজিয়ামের ১৫টি প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রতিনিধিরা। অস্ত্র, গোলাবারুদ, ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মাইন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—একাধিক ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব গড়ে উঠছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভারত শুধুমাত্র বিদেশ থেকে তৈরি অস্ত্র কেনার পথে হাঁটছে না। বরং যৌথভাবে প্রযুক্তি তৈরি, ভারতে উৎপাদন এবং ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগ তৈরি করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দেশের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    জোর জোরাওয়ার ট্যাঙ্কে বেলজিয়ামের ৩১০৫ টারেট

    ভারতীয় সেনার হালকা ট্যাঙ্ক জোরাওয়ার প্রকল্পে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বেলজিয়াম-ভিত্তিক জন ককেরিল ডিফেন্স-এর ৩১০৫ টারেটের। এই টারেটে রয়েছে ১০৫ মিলিমিটার কামান। জোরাওয়ারের প্রাথমিক প্রোটোটাইপেও এই টারেট ব্যবহার করা হয়েছে।

    উচ্চ পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই জোরাওয়ার ট্যাঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত-চিন সীমান্তের মতো উচ্চ উচ্চতার অঞ্চলে দ্রুত মোতায়েনের জন্য এই হালকা ট্যাঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই প্রকল্পে বেলজিয়ামের সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ ভারতের স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। ওআইপি সেন্সর সিস্টেম ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে সাঁজোয়া যানের জন্য উন্নত ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।

    অন্যদিকে, জন ককেরিল ডিফেন্স উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ব্যবহারের উপযোগী উন্নত ট্যাঙ্ক টারেট প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। টারেটের পরীক্ষা ও সংযুক্তিকরণের কাজ এগোচ্ছে। ভবিষ্যতে ভারতে উৎপাদনের লক্ষ্যে জন ককেরিল ভারতীয় সংস্থা ইলেক্ট্রো নিউম্যাটিক্স অ্যান্ড হাইড্রলিক্স-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে।

    ভারতে তৈরি হবে ৭০ মিলিমিটার রকেট

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরেকটি বড় ক্ষেত্র হল ৭০ মিলিমিটার রকেট। বেলজিয়ামের থ্যালেস এবং ভারতের কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস লিমিটেড এই বিষয়ে চুক্তি করেছে।

    এই অংশীদারিত্বের আওতায় আনগাইডেড এবং লেজার-গাইডেড—দুই ধরনের রকেট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। থ্যালেস প্রযুক্তিগত জ্ঞান সরবরাহ করবে এবং ভারতে উৎপাদন, পরীক্ষা ও সিস্টেম সংযুক্তিকরণের দায়িত্ব নেবে কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস। লক্ষ্য হল ২০২৭ সালের গোড়ার দিকে প্রথম সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রকেট প্রস্তুত করা।

    থ্যালেসের প্রযুক্তি অনুযায়ী, এই ধরনের রকেট আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র—তিন ধরনের অভিযানে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এর ব্যবহারযোগ্যতা রয়েছে। দেশেই উৎপাদন বাড়লে আমদানির উপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

    সমুদ্রের মাইন শনাক্ত করবে রোবোটিক ব্যবস্থা

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সামুদ্রিক নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো এবং বেলজিয়ামের এক্সাইল রোবোটিক্স জলের নিচে থাকা মাইন শনাক্ত, চিহ্নিত এবং নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।

    আধুনিক নৌযুদ্ধে সামুদ্রিক মাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হুমকি। তুলনামূলক কম খরচে সমুদ্রপথ, বন্দর এবং নৌঘাঁটির প্রবেশপথ বিপজ্জনক করে তুলতে পারে এই ধরনের মাইন। তাই সেগুলি শনাক্ত ও সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা একটি আধুনিক নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেশি। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। তাই আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক ব্যবস্থা, বন্দর সুরক্ষা, জলের নিচের পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন—বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দুই দেশ সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

    বছরে ১০ কোটি রাউন্ড গোলাবারুদ তৈরির পরিকল্পনা

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও বড় পদক্ষেপ হতে পারে বেলজিয়ামের লাক্রোয়া এবং ভারতের টেম্বো ক্লাসিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চুক্তি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতে একটি নতুন উৎপাদন লাইন তৈরি করা হবে। সেখানে বছরে প্রায় ১০ কোটি রাউন্ড গোলাবারুদ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

    প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত কারখানায় দুই ধরনের গোলাবারুদের জন্য সম্পূর্ণ উৎপাদন লাইন থাকবে। পাশাপাশি আরও দুই ধরনের ক্যালিবারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও টুলিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ ও কারখানা স্থাপনের কাজ ২০২৮ ও ২০২৯ সালে করা হবে।

    এই প্রকল্প সফল হলে ভারতে সামরিক গোলাবারুদের বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বিদেশি প্রযুক্তি ও ভারতীয় উৎপাদন পরিকাঠামোর সমন্বয়ের একটি বড় উদাহরণ তৈরি হবে।

    ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোনেও নজর

    আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে মধ্যপ্রাচ্য—বিভিন্ন সংঘাতে সস্তা ও ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে উন্নত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে। ফলে ভারতও ড্রোন এবং কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিকে প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। এই ক্ষেত্রেও বেলজিয়ামের এফএন হার্স্টাল এবং কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস ভারতে যৌথ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে।

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় থাকতে পারে—

    • ● নজরদারি ড্রোন
    • ● কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি
    • ● স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম
    • ● উন্নত সেন্সর ও ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা

    অর্থাৎ, দুই দেশের সহযোগিতা শুধু প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং নতুন প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় ও মানবহীন যুদ্ধপ্রযুক্তির দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    শুধু অস্ত্র কেনা নয়, প্রযুক্তি তৈরি ও উৎপাদনেও জোর

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক সম্ভবত এখানেই। ভারত এখন বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে শুধু প্রস্তুত অস্ত্র বা সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ উন্নয়ন এবং দেশীয় উৎপাদনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

    জোরাওয়ারের টারেট, ৭০ মিলিমিটার রকেট, গোলাবারুদ উৎপাদন, মাইন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং ড্রোন-কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতীয় সংস্থাগুলিকে অংশীদার করা হচ্ছে।

    এর ফলে একদিকে বিদেশি সংস্থার উন্নত প্রযুক্তি ভারতে আসবে, অন্যদিকে ভারতীয় সংস্থাগুলি উৎপাদন, পরীক্ষা, সংযুক্তিকরণ এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তির আরও উন্নয়নে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।

    সামরিক সহযোগিতার জন্য সরকারি কাঠামোও তৈরি

    শুধু শিল্পক্ষেত্রেই নয়, দুই দেশের সরকারও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে।

    এর আওতায় রয়েছে—

    • ● সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক আদানপ্রদান
    • ● আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ
    • ● যৌথ সামরিক মহড়া
    • ● প্রতিরক্ষা গবেষণায় সহযোগিতা
    • ● সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সমন্বয়

    পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বেশি শিল্প সংস্থাকে এই অংশীদারিত্বে যুক্ত করা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা চুক্তি?

    ভারতের জন্য এই সহযোগিতার গুরুত্ব তিনটি স্তরে দেখা যায়। প্রথমত, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়বে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় শিল্পের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। তৃতীয়ত, দেশীয় উৎপাদন বাড়লে ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা পণ্য বিদেশে রফতানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

    বিশেষ করে ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন, আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স এবং উন্নত সেন্সরের মতো প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই জায়গায় বেলজিয়ামের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের বৃহৎ উৎপাদন পরিকাঠামো একসঙ্গে কাজ করলে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প-ইকোসিস্টেম তৈরি হতে পারে।

    অর্থাৎ, ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বার্তা শুধু নতুন অস্ত্র কেনা নয়—‘বিদেশি প্রযুক্তি + ভারতীয় উৎপাদন + যৌথ উন্নয়ন’-এর মাধ্যমে আগামী দিনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তোলা।

  • Teachers Day 2026: কেন ৫ সেপ্টেম্বরই শিক্ষক দিবস? জানুন ড. রাধাকৃষ্ণণের জীবনের অজানা কাহিনি

    Teachers Day 2026: কেন ৫ সেপ্টেম্বরই শিক্ষক দিবস? জানুন ড. রাধাকৃষ্ণণের জীবনের অজানা কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ৫ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে পালিত হয় শিক্ষক দিবস (Teacher’s Day)। দিনটি যাঁর জন্মদিনের স্মরণে পালিত হয়, তিনি হলেন ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ (Dr Sarvepalli Radhakrishnan)। শিক্ষা, উন্নয়ন এবং মানব কল্যাণকেই তিনি করে নিয়েছিলেন জীবনের ব্রত। কারণ শিক্ষার জগতে তাঁর অবদান অপরিসীম। তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি, দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

    রাধাকৃষ্ণণের শিক্ষাজীবন (Teacher’s Day)

    ১৮৮৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ (Dr Sarvepalli Radhakrishnan) তামিলনাড়ুর তিরুত্তানিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাবা সর্বপল্লি বীরস্বামী এবং মা সীতাম্মা। লুথার্ন মিশনারি স্কুল, তিরুপতি এবং ভেলোরে প্রাথমিক শিক্ষা (Teacher’s Day)। ছোট থেকেই পড়াশোনায় তাঁর তেমন মন ছিল না। এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানোই ছিল পয়লা পছন্দের। ছেলের এমন মতিগতি দেখে চিন্তায় পড়ে যান বাবা। তাই তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেন ভেলোরের একটি মিশনারি স্কুলে। মন পড়াশোনায় না বসলে কী হবে, স্কুলজীবন থেকেই পড়াশুনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। বরাবরই সে জন্য তিনি বৃত্তি পেয়ে এসেছেন। এরপর মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। ১৯১৬ সাল থেকে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।

    বিবেচিত হয়েছিলেন নোবেল পুরস্কারের জন্যও

    জীবনের বড় সময় শিক্ষকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ছিলেন ছাত্র সমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। একবার তাঁকে ফুলসজ্জিত কার্ট নিয়ে স্টেশন থেকে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরই মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি যে সব বক্তৃতা দিয়েছিলেন, তা নিয়ে আলোড়ন পড়ে যায়। তাঁর হাতে সৃষ্টি হয়েছে একাধিক দার্শনিক গ্রন্থ, যা নিয়েও হইচই পড়ে গিয়েছিল। তাঁর ‘অ্যান আইডিয়ালিস্ট ভিউ অফ লাইফ’ বিবেচিত হয়েছিল নোবেল প্রাইজের জন্যও। ১৯৭৫ সালে ‘প্রগতিতে ধর্মের অবদান’ রচনা তাঁকে এনে দিয়েছিল ‘টেম্পলটন’ পুরস্কার। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে— Reign of Religion in Contemporary Philosophy, Philosophy of Rabindranath Tagore, The Hindu View of Life, Kalki or the Future of Civilisation, An Idealist View of Life, The Religion We Need, India and China, and Gautama the Buddha.

    প্রশাসনিক জীবন

    সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ (Teacher’s Day) ১৯৩১ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এরপর ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এর মধ্যে, ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং ১৯৬২ সালে দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে, তিনি মরণোত্তর ভারতরত্ন পেয়েছিলেন।

    কেন পালিত হয় শিক্ষক দিবস? (Teacher’s Day)

    রাধাকৃষ্ণণ (Dr Sarvepalli Radhakrishnan) একজন মহান শিক্ষাবিদ। শিক্ষার প্রসারে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নিরন্তর ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। দেশে শিক্ষার প্রসারের জন্য ১৯৬২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষক দিবস পালন শুরু হয়। সেটা ছিল তাঁর ৭৭তম জন্মদিন। এই দিনে প্রথমবার শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। ১৯৬৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্কুল-কলেজে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ছাত্রছাত্রীরা নাচ, গান, আবৃত্তি সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান জানিয়ে থাকেন।

    আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস

    ৫ সেপ্টেম্বর দিনটিকে সম্মান জানিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস (Teacher’s Day) পালন করা হয়ে থাকে। রাষ্ট্রসংঘের একটি বিশেষ সংগঠন ইউনেস্কো (ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন) এবং ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের যৌথ উদ্যোগে এই দিনটি স্মরণ করা হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস উদযাপন করার পিছনে একটি বড় কারণ হল, শিক্ষকদের শ্রমকে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি দেওয়া। সমাজ গঠনে শিক্ষকের বিশেষ ভূমিকা থাকে। তাই মানুষ গড়ার এই কারিগরদের শ্রমের মর্যাদা দেওয়ার জন্যই আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

  • EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ থেকে পৃথিবীর উপর নজরদারির ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। শুক্রবার ভোরে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল ভারতের নতুন প্রজন্মের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা ইওএস-০৫। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো-র জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটে চেপে শ্রীহরিকোটা থেকে মহাকাশে পাড়ি দিল প্রায় ২,৩৬৭ কেজি ওজনের এই উপগ্রহ। সবচেয়ে বড় বিষয়, ইওএস-০৫-কে সাধারণ নিম্ন কক্ষপথে নয়, সাব-জিটিও বা সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে নিজস্ব প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথে পৌঁছবে উপগ্রহটি।

    ভোররাতে শ্রীহরিকোটা থেকে সফল উৎক্ষেপণ

    শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের সেকেন্ড লঞ্চ প্যাড থেকে জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ হয়। প্রায় ৫১.৭ মিটার লম্বা রকেটটি নির্ধারিত সময়েই আকাশে উড়ে যায়। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৮-১৯ মিনিট পর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ইওএস-০৫। এরপর উপগ্রহটিকে নির্ধারিত সাব-জিটিও-তে স্থাপন করা হয়। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ইওএস-০৫ এখনও তার চূড়ান্ত ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার অপারেশনাল জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছয়নি। সেটি হবে পরবর্তী অরবিট-রেইজিং ম্যানুভারের মাধ্যমে। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উপগ্রহটি সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে গেলেও তার পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল মিশন শুরু হতে এখনও কয়েকটি ধাপ বাকি।

    ইওএস-০৫ কেন অন্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের থেকে আলাদা?

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ইমেজিং করার ক্ষমতা। সাধারণ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের বড় অংশই লো আর্থ অরবিট (এলইও) বা সান-সিনক্রোনাস অরবিটে (এসএসও) কাজ করে। এই উপগ্রহগুলি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় বিভিন্ন অঞ্চলের ছবি তোলে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট এলাকার ছবি পাওয়ার জন্য পরবর্তী অরবিটাল পাসের অপেক্ষা করতে হয়।

    ইওএস-০৫-এর ধারণাটি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় জিওসিনক্রোনাস অরবিটে অবস্থান করলে উপগ্রহটি পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রদক্ষিণ করবে। ফলে ভারতের মতো একটি বড় ভৌগোলিক অঞ্চলের দিকে প্রায় একই অবস্থান থেকে ক্রমাগত নজর রাখা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, ইওএস-০৫-এর মূল শক্তি শুধু অত্যন্ত উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তোলা নয়। এর আসল সুবিধা হল একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ঘন ঘন আপডেটেড ছবি পাওয়া।

    ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়েও কেন সুবিধা?

    সাধারণভাবে মনে হতে পারে, পৃথিবীর যত কাছাকাছি থাকা যায়, তত বেশি স্পষ্ট ছবি তোলা সম্ভব। সেই যুক্তিতে লো আর্থ অরবিটের উপগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তুলতে সুবিধাজনক। কিন্তু ইওএস-০৫-এর লক্ষ্য আলাদা। ধরা যাক, বঙ্গোপসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে একটি ঘূর্ণিঝড়। লো আর্থ অরবিটের কোনও স্যাটেলাইট সেই সময় অন্য জায়গার উপর দিয়ে উড়ে গেলে, নির্দিষ্ট অঞ্চলের পরবর্তী ছবি পেতে পরবর্তী পাসের অপেক্ষা করতে হতে পারে।

    ইওএস-০৫ অপারেশনাল হলে একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে অনেক বেশি ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।ফলে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, মেঘের গঠন, বন্যার বিস্তার কিংবা আগুনের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপর নজরদারিতে এই ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগের জিস্যাট কর্মসূচি সংক্রান্ত সরকারি তথ্যেও নির্দিষ্ট সেক্টরের ছবি ঘন ঘন সংগ্রহ এবং উপযুক্ত পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে সমগ্র ভারতীয় ভূখণ্ডের ছবি পাওয়ার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় হাতিয়ার হতে পারে ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারগুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। ভারতের মতো দেশে প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিধস, দাবানল-সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টা আগের তথ্য অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। কোথায় জল ঢুকছে, কোন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি, ঘূর্ণিঝড়ের মেঘ কোথায় তৈরি হচ্ছে—এসব তথ্য যত দ্রুত পাওয়া যায়, প্রশাসনের পক্ষে তত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং স্যাটেলাইট সেই জায়গাতেই বড় সুবিধা দিতে পারে।

    উপগ্রহের ছবি ব্যবহার করে—

    • ● ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ,
    • ● মেঘের বিকাশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তন শনাক্ত,
    • ● বন্যাকবলিত এলাকা চিহ্নিত,
    • ● বনাঞ্চলে আগুনের বিস্তার পর্যবেক্ষণ,
    • ● দুর্যোগের পর ভূমি ও উদ্ভিদের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে।

    তবে ইওএস-০৫ ভারতের অন্যান্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটকে প্রতিস্থাপন করবে না। বরং এটি দেশের বর্তমান উপগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অবজারভেশন সক্ষমতা যোগ করবে।

    কৃষি থেকে পরিবেশ—বহু ক্ষেত্রে ব্যবহার

    ইওএস-০৫-এর গুরুত্ব শুধু দুর্যোগ মোকাবিলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্থ অবজারভেশন ডেটা কৃষি, বন, পরিবেশ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ডে ইমেজিংয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র কোনও এলাকার ছবি নয়, সেই এলাকার উদ্ভিদ, ফসল, মাটি এবং পরিবেশের পরিবর্তন সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। ভিজিবল ও নিয়ার-ইনফ্রারেডের মতো বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ড ব্যবহার করে কোনও অঞ্চলের উদ্ভিদের স্বাস্থ্য বা পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

    অর্থাৎ প্রশ্নটা শুধু নয় যে—“এই জায়গাটা দেখতে কেমন?” বরং স্যাটেলাইট ডেটা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়—“এই জায়গায় কী পরিবর্তন হচ্ছে?” কৃষিক্ষেত্রে ফসলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ল্যান্ড-ইউজ মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-কে সরাসরি কোনও ডেডিকেটেড মিলিটারি স্পাই স্যাটেলাইট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। এটি মূলত একটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, যার অসামরিক এবং কৌশলগত—দুই ধরনের ব্যবহারই থাকতে পারে।  তবে জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও আশপাশের জলভাগকে ঘন ঘন পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষ করে দেশের সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং সামুদ্রিক অঞ্চলের উপর নিয়মিত নজরদারির ক্ষেত্রে এই ধরনের হাই-ফ্রিকোয়েন্সি স্যাটেলাইট ইমেজারি সহায়ক হতে পারে। এখানেই ইওএস-০৫-এর কৌশলগত গুরুত্ব। এটি কোনও একটি সামরিক লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি নয়, বরং একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উপর নিয়মিত ও দ্রুত আপডেটেড নজরদারি সক্ষমতা তৈরি করছে।

    জিস্যাট-১ ব্যর্থতার পাঁচ বছর পর নতুন সাফল্য

    ইওএস-০৫-এর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অতীত। উপগ্রহটির সঙ্গে জিস্যাট কর্মসূচির সরাসরি যোগ রয়েছে। মূল পরিকল্পনায় জিওস্টেশনারি অরবিটে ইমেজিং স্যাটেলাইট পাঠিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের উপর প্রায় রিয়েল-টাইম অবজারভেশন সক্ষমতা তৈরি করার লক্ষ্য ছিল।

    কিন্তু ২০২১ সালের অগাস্টে জিএসএলভি-এফ১০ মিশন ব্যর্থ হয়। সেই মিশনে জিস্যাট-১-কে কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজের অপারেশনের সময় সমস্যার কারণে উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি। প্রায় পাঁচ বছর পর ইওএস-০৫-এর সফল উৎক্ষেপণ সেই বৃহত্তর পরিকল্পনাকেই নতুন করে এগিয়ে দিল।

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল মিশন শুধু একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নয়; এটি জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে ইসরো-র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনও।

    জিএসএলভি-এফ১৭-ও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়

    এই মিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল জিএসএলভি-এফ১৭। এটি ভারতের জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৯তম উড়ান। রকেটটিতে রয়েছে সলিড কোর, চারটি লিকুইড স্ট্র্যাপ-অন মোটর, লিকুইড সেকেন্ড স্টেজ এবং ভারতের নিজস্ব ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজ। তুলনামূলকভাবে ভারী স্পেসক্রাফ্টকে জিওসিনক্রোনাস অরবিটের দিকে পাঠানোর ক্ষেত্রে জিএসএলভি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ভেহিকল। ইওএস-০৫-কে সাব-জিটিও-তে সফলভাবে স্থাপন করে জিএসএলভি-এফ১৭ সেই সক্ষমতারই আরও একটি প্রমাণ দিল।

    এখন কী হবে ইওএস-০৫-এর?

    এখনও ইওএস-০৫-এর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সাব-জিটিও-তে পৌঁছনোর পর উপগ্রহটি নিজস্ব অনবোর্ড প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে ধাপে ধাপে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়াবে। একাধিক অরবিট-রেইজিং ম্যানুভার-এর পর সেটি তার নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছবে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন এবং কমিশনিং সম্পন্ন হলে শুরু হবে অপারেশনাল ইমেজিং। তাই ইওএস-০৫ ইতিমধ্যেই ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার ফাইনাল জিওসিনক্রোনাস অরবিটে পৌঁছে গিয়েছে—এমন দাবি করা প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক হবে না। লঞ্চ এবং অরবিটাল ইনজেকশন সফল হয়েছে; ফাইনাল অপারেশনাল অরবিটে পৌঁছনোর যাত্রা এখনও বাকি।

    ভারতের স্পেস অবজারভেশনে নতুন যুগের সূচনা?

    ভারতের আর্থ অবজারভেশন কর্মসূচি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট শক্তিশালী। বিভিন্ন রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের উচ্চমানের ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করছে। কিন্তু ইওএস-০৫ সেই ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের বড় সুবিধা হল ডিটেল বা স্পেশিয়াল রেজোলিউশন। অন্যদিকে জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং প্ল্যাটফর্মের বড় শক্তি হল ফ্রিকোয়েন্সি এবং পারসিস্টেন্স—একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পরিবর্তনকে আরও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা।

    দুর্যোগের সময় এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা দাবানলের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা আগের ছবি এবং সদ্য পাওয়া ছবির মধ্যে ব্যবধানই কখনও কখনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি করে। সেই জায়গায় ইওএস-০৫ ভারতের জন্য শুধুমাত্র আরও একটি স্যাটেলাইট নয়। এটি বড় অঞ্চলের উপর দ্রুত, ঘন ঘন এবং ধারাবাহিক আর্থ অবজারভেশনের নতুন সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।

    মহাকাশে ভারতের নতুন চোখ

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ এবং ইওএস-০৫-এর সাব-জিটিও-তে সঠিকভাবে পৌঁছে যাওয়া ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এখন নজর থাকবে উপগ্রহটির অরবিট-রেইজিং, কমিশনিং এবং অপারেশনাল ইমেজিংয়ের দিকে। চূড়ান্তভাবে কাজ শুরু করলে ইওএস-০৫-এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি, পরিবেশ এবং কৌশলগত নজরদারি—এই একাধিক ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, মহাকাশ থেকে ভারতকে দেখার ক্ষমতা শুধু আরও শক্তিশালী হচ্ছে তাই নয়—কত দ্রুত সেই ছবি পাওয়া যাচ্ছে, সেই ক্ষমতাতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে ইওএস-০৫।

  • Janmashtami 2026: আজ জন্মাষ্টমী, গোপালকে এই জিনিসগুলি অর্পণ করুন, রইল পুজোর নিয়ম, উপকরণের তালিকা

    Janmashtami 2026: আজ জন্মাষ্টমী, গোপালকে এই জিনিসগুলি অর্পণ করুন, রইল পুজোর নিয়ম, উপকরণের তালিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখন ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী। দৃক সিদ্ধান্ত বা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তমতে জন্মাষ্টমীর অষ্টমী তিথি আরম্ভ হচ্ছে আজ, শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে অষ্টমী তিথি আরম্ভ হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর (বাংলায় ১৬ ভাদ্র) বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ২টো ২৭ মিনিটে। অষ্টমী তিথি শেষ হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর (১৭ ভাদ্র), শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা ১৪ মিনিটে। অন্যদিকে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে অষ্টমী তিথি আরম্ভ হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর (বাংলায় ১৬ ভাদ্র) মধ্যরাত ১টা ৪৪ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে। শেষ হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর (১৭ ভাদ্র) গভীর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে।

    জন্মাষ্টমী পুজোর উপকরণ—

    ধূপকাঠি, কর্পূর, জাফরান, চন্দন, সিঁদুর, সুপারি, পান, পদ্ম, তুলসীর মালা, ধনে, যজ্ঞবেত ৫, কুমকুম, ধান, আবির, কাঁচা হলুদ, গোপালের গয়না, সপ্তমৃত্তিকা, সপ্তধন, কুশ ও দূর্বা, শুকনো ফল, গঙ্গাজল, মধু, চিনি, মিছরি, তুলসী ডাল, খাঁটি ঘি, দই, দুধ, মৌসুমি ফল, নৈবেদ্য বা মিষ্টান্ন, ছোট এলাচ, লবঙ্গ, সুগন্ধি, সিংহাসন, ঝুলা।

    এই পুজোতে লাগে— আমপল্লব, পঞ্চামৃত, কলা পাতা, ওষুধ, শ্রী কৃষ্ণের মূর্তি বা ছবি, গণেশের ছবি, অম্বিকার ছবি, ভগবানের পোশাক, গণেশকে নিবেদনের পোশাক, অম্বিকাকে নিবেদনের পোশাক, সাদা কাপড়, লাল কাপড়, পঞ্চ রত্ন, প্রদীপ, পান, নারকেল, চাল, গম, গোলাপ ও লাল পদ্মফুল, দূর্বা, অর্ঘ্য পাত্র, পঞ্চগব্য, পঞ্চগুড়ি, পাট, বালি, পঞ্চবর্ণের গুড়ো, মধুপর্কের বাটি।

    জন্মাষ্টমীর পুজোয় ময়ূরের পালক ও বাঁশির মাহাত্ম্য

    ময়ুর পালক

    ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মবার্ষিকীতে ময়ূরের পালক দেওয়া ভগবান কৃষ্ণের আরাধনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান কৃষ্ণ বাঁশির মতো ময়ূরের পালক অত্যন্ত পছন্দ করেন। তাই তিনি এটিকে মুকুট হিসাবে ব্যবহার করতেন। জন্মাষ্টমীর পুজো সফল করতে ময়ূরের পালক ও একটি মুকুট অর্পণ করুন গোপালকে। ঘরের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূরে সরিয়ে সমৃদ্ধি পেতে চাইলে বাড়িতে রাখুন ময়ূরের পালক। জন্মাষ্টমীর পুজোতেও ময়ূরের পালক রাখা প্রয়োজন। এতে ঘরে সুখ শান্তি আসে।

    বাঁশি

    ময়ূরের পালকের মতো বাঁশি ছাড়াও পুজো করা অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে বাঁশি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের খুব প্রিয়। আপনি যদি চান যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ আপনার উপর বর্ষিত হোক, তা হলে আপনাকে অবশ্যই গোপালকে জন্মবার্ষিকীতে বাঁশি নিবেদন করতে হবে। বলা হয়, কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিন বাড়িতে বাঁশি রাখলে খুবই উপকার হয়। এতে ঘরে ধন-সম্পত্তির পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ে সুখ ও শান্তি। ফলে পুজোর বেদীতে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি রেখে দিতে পারেন।

    শঙ্খ ও তুলসীর তাৎপর্য

    শঙ্খ

    জন্মাষ্টমীর পুজোতে শঙ্খ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। শঙ্খকে সনাতন ঐতিহ্যে শুভর প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। জন্মাষ্টমীর উৎসবে গোপালকে স্নান করাতে এবং পুজোর সময় শঙ্খ ব্যবহার করা হয়। জন্মাষ্টমীর পুজোর সময় সঙ্গে রাখুন একটি শঙ্খ।

    তুলসী

    জন্মাষ্টমীর পুজোয় তুলসী পাতা অবশ্যই নিবেদন করতে হয় গোপালকে। কারণ তুলসী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের খুব প্রিয়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে জন্মাষ্টমীর পুজোয় তুলসী নিবেদন করলে শীঘ্রই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রসন্ন হন এবং কাঙ্খিত বরদান করেন।

    জন্মাষ্টমীর বিশেষ ভোগ-

    জন্মাষ্টমীর ভোগের মধ্যে ৫৬ ভোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ৫৬ রকমের নৈবেদ্যর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা পৌরাণিক কাহিনি। নিয়ম অনুসারে ৫৬ ভোগে থাকে ১৬ ধরনের জলখাবার, ২০টি মিষ্টি এবং ২০ ধরণের শুকনো ফল। যার মধ্যে দুধের তৈরি খাবার সবার আগে পরিবেশন করতে হয়। তবে, যদি বাড়িতে ৫৬ ভোগ করা সম্ভব না হয়, তাহলে লুচি, ছোলার ডাল এবং সুজি প্রস্তুত করুন। গোপাল পুজোয় ঘরে ঘরে তৈরি হয় তালের বড়া ও তালের ক্ষীর, মালপোয়া, মোহনভোগ, নারকেল নাড়ু, মাখন, ক্ষীর, মিষ্টি, পায়েস, বাসন্তী পোলাও। এর পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই দুধ-দই, কাঁচা মাখন বা ননীর ব্যবস্থা করতে হবে, কারণ গোপাল দুধ-দই এবং মাখন খুব পছন্দ করেন। পঞ্চামৃত তৈরি করুন এবং সব ধরনের ফল রাখুন।

    জন্মাষ্টমী পুজোর পদ্ধতি

    জন্মাষ্টমীর আগের দিন নিরমিষ অন্ন খেয়ে সংযম পালন করতে হবে এবং রাত ১২টার মধ্যে খেয়ে নিতে হবে। ঘুমনোর আগে অবশ্যই ভাল করে মুখ ধুয়ে ঘুমতে হবে। পুজোর দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে নিন। ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করুন। বাড়ির মন্দিরে প্রদীপ জ্বালান। সমস্ত দেবতার জলাভিষেক করুন।

    এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শিশু-রূপের পুজো করা হয়। এই শিশু রূপের অনেক নাম রয়েছে। যেমন— নন্দগোপাল, ননীগোপাল, নাড়ুগোপাল ইত্যাদি। নাড়ুগোপালকে ছেলের মতো যত্ন করে ভোগ নিবেদন করুন। নাড়ুগোপালের জলাভিষেক করে তাকে দোলনায় রাখুন। এরপর আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী নাড়ুগোপালকে ভোগ নিবেদন করুন। মনে রাখবেন যে শুধুমাত্র সাত্ত্বিক জিনিস ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করা হয়।

    এই দিনে রাতের পুজোর তাৎপর্য রয়েছে, কারণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিশেষ পুজো করুন। সেই সময় নাড়ুগোপালকে চিনি, মিছরি এবং শুকনো ফল নিবেদন করুন। নাড়ুগোপালকে ভোগ নিবেদন করুন। নাড়ুগোপালের আরতি করুন।

LinkedIn
Share