Tag: মাধ্যম

  • Ashwini Suvendu Nabanna Meet: বাংলায় রেলের ‘মেগা বুস্ট’! ১০২ অমৃত ভারত স্টেশন, ৫৩৮ ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস, ৬১ রেল প্রকল্পে গতি, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজের ঘোষণা

    Ashwini Suvendu Nabanna Meet: বাংলায় রেলের ‘মেগা বুস্ট’! ১০২ অমৃত ভারত স্টেশন, ৫৩৮ ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস, ৬১ রেল প্রকল্পে গতি, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজের ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দেড় দশক ধরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বারবার ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে রেল, সড়ক, শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নানা প্রকল্পে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব এবং রাজনৈতিক কারণে আপত্তির জেরে রাজ্যের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও রেলবোর্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ‘ডাবল ইঞ্জিন উন্নয়নের সূচনা’ হিসেবে তুলে ধরছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

    নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গে রেল অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও দাবি তুলে ধরলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল কেন্দ্রীয় সরকারের বিপুল বিনিয়োগ, নতুন রেল প্রকল্প, অমৃত ভারত স্টেশন নির্মাণ এবং জমি সংক্রান্ত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি। রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শুভেন্দুর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার কখনও পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেনি। বরং জমি, অনুমোদন ও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে বহু প্রকল্প বছরের পর বছর আটকে ছিল। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে উন্নয়নমূলক সহযোগিতার নতুন পরিবেশ তৈরি হলে বাংলায় রেল অবকাঠামোয় নজিরবিহীন বিনিয়োগ, নতুন রেললাইন, অমৃত ভারত স্টেশন, ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

    নবান্নে রেলমন্ত্রী-রেলবোর্ডের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    শনিবার নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের নেতৃত্বে রেল মন্ত্রক ও রেলবোর্ডের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বিধায়ক এবং প্রশাসনিক কর্তারা। বৈঠকের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রেলমন্ত্রীকে কালী মূর্তি উপহার দেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পশ্চিমবঙ্গে চলমান ও প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি, জমি অধিগ্রহণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং রেল সংযোগ সম্প্রসারণ।

    ‘আগের সরকারের জন্য বঞ্চিত হয়েছেন ১১ কোটি মানুষ’

    বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর কথায়, “আগের সরকারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ১১ কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কখনও রেলের কাজে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেননি।” তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের রেল উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

    ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন, ১ লক্ষ কোটি টাকার কাজ

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, রেলমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ১০২টি নতুন অমৃত ভারত স্টেশন গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি স্টেশনকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পরিবহণ কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। তিনি জানান, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল অবকাঠামো উন্নয়নমূলক কাজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে নতুন রেললাইন, স্টেশন উন্নয়ন, সেতু, আন্ডারপাস এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    রেল বাজেটে বিপুল বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

    শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেল খাতে বরাদ্দ ছিল ৪,৩৮০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সেই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪,২০৫ কোটিতে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের রেল অবকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

    ৪০টির বেশি প্রকল্পে এনওসি দেওয়া হয়েছে

    রাজ্যে বিভিন্ন রেল প্রকল্পের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দীর্ঘদিন জমি ও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইতিমধ্যেই ৪০টিরও বেশি রেল প্রকল্পে প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জেলাশাসকদের নির্দেশ দেব যাতে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত রেল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া যায়। বাংলার প্রত্যন্ত এলাকায় রেল পৌঁছে দিতে যা যা প্রয়োজন, সেই সহযোগিতা করা হবে।”

    ৬১টি প্রকল্পে গতি, ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস

    বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলমান ৬১টি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে যানজটও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। রেলপথ ও সড়কপথের মধ্যে নিরাপদ সংযোগ গড়ে তুলতে এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে নতুন এলাকা

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় নতুন রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে এখনও রেল সংযোগ থেকে বঞ্চিত বা সীমিত পরিষেবা পাওয়া বহু অঞ্চল সরাসরি রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে। পর্যটন, শিল্প, কৃষিপণ্য পরিবহণ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশে এই প্রকল্পগুলির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    উন্নয়নের বার্তা কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের

    নবান্নের বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে রেল অবকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক বছরে বড়সড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন, ৬১টি প্রকল্প, ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস এবং ১ লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগের মতো ঘোষণাগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়লে পশ্চিমবঙ্গের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নতুন গতি পাবে। আর সেই কারণেই নবান্নের এই বৈঠককে শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং বাংলার উন্নয়ন রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তব অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় তার উপর।

  • Putin Su-57 Offer: ‘কোনও সীমাবদ্ধতা নেই’, সু-৫৭ নিয়ে এবার ভারতকে বিরাট প্রস্তাব খোদ পুতিনের, বদলাবে কি আকাশযুদ্ধের সমীকরণ?

    Putin Su-57 Offer: ‘কোনও সীমাবদ্ধতা নেই’, সু-৫৭ নিয়ে এবার ভারতকে বিরাট প্রস্তাব খোদ পুতিনের, বদলাবে কি আকাশযুদ্ধের সমীকরণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জন্য আবারও পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান তৈরির যৌথ প্রকল্পের দরজা খুলে দিল রাশিয়া। সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের (SPIEF) ফাঁকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে আলাপচারিতায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের কাছে নতুন করে সুখোই সু-৫৭ (Su-57) স্টেলথ ফাইটার জেটের যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের প্রস্তাব দেন। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অন্যতম উন্নত এই যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতে মস্কোর কোনও আপত্তি বা সীমাবদ্ধতা নেই। পুতিনের এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে যখন ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) এখনও পর্যন্ত কোনও পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান নিজেদের বহরে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি। অন্যদিকে, চীন ও পাকিস্তান দ্রুত নিজেদের আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নতুন চাপ তৈরি করছে।

    ‘কোনও বাধা নেই, কোনও সীমাবদ্ধতা নেই’

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে ভারতকে সু-৫৭ প্রকল্পে অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই সময় রাশিয়া ও ভারত যৌথভাবে ফিফথ জেনারেশন ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (FGFA) প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছিল। পুতিন বলেন, “আমরা আগে ভারতকে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেই সময় ভারতীয় অংশীদাররা চেয়েছিলেন রাশিয়া নিজে প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাক এবং পরে তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছিল।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমানে যদি ভারত আগ্রহ দেখায়, তাহলে যৌথ উন্নয়ন, উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনও বাধা থাকবে না।

    কেন ২০১৮ সালে প্রকল্প থেকে সরে এসেছিল ভারত?

    ভারত ও রাশিয়ার বহু প্রতীক্ষিত এফজিএফএ প্রকল্প ২০১৮ সালে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে ভারত প্রাথমিক নকশা ও গবেষণা পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল। তবে ভারতীয় বায়ুসেনার একাধিক আপত্তি ছিল।

    প্রধান উদ্বেগগুলির মধ্যে ছিল—

    • ● সু-৫৭-এর স্টেলথ ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
    • ● উন্নত ইঞ্জিন তৈরিতে দীর্ঘ বিলম্ব
    • ● পর্যাপ্ত প্রযুক্তি হস্তান্তরের অভাব
    • ● প্রকল্পের ক্রমবর্ধমান ব্যয়
    • ● যুদ্ধবিমানের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা

    এই কারণগুলির জেরেই ভারত শেষ পর্যন্ত প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।

    এবার কী বদলেছে?

    প্রতিরক্ষা মহলের সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক সংস্থা রসোবরোনএক্সপোর্ট এখন ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন শর্ত প্রস্তাব করছে। মস্কোর তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভারত চাইলে দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় শিল্প সংস্থাগুলিকে যুক্ত করে বৃহৎ আকারে সু-৫৭ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন ভারতের কাছে প্রস্তাবটিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

    নতুন টুইন-সিট সু-৫৭ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    রাশিয়ার নতুন প্রস্তাবের অন্যতম আকর্ষণ হল সু-৫৭-এর একটি নতুন টুইন-সিট বা দ্বি-আসন বিশিষ্ট সংস্করণ। সাধারণ প্রশিক্ষণ বিমানের মতো এটি শুধুমাত্র প্রশিক্ষণের জন্য নয়। দ্বিতীয় ককপিটটিকে একটি বিশেষ যুদ্ধ পরিচালনা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বিতীয় আসন থেকে—

    • ● ‘লয়্যাল উইংম্যান’ ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে
    • ● একাধিক মানববিহীন যুদ্ধবিমান পরিচালনা সম্ভব হবে
    • ● উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পরিচালনা করা যাবে
    • ● নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে কমান্ড ও কন্ট্রোল শক্তিশালী হবে

    ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধে যেখানে মানবচালিত ও মানববিহীন প্ল্যাটফর্ম একসঙ্গে কাজ করবে, সেখানে এই ধরনের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চিন-পাকিস্তানের চাপে ভারতের উদ্বেগ

    ভারতের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল প্রতিবেশী দেশগুলির দ্রুত আধুনিকীকরণ। চিন ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যায় জে-২০ (J-20) স্টেলথ ফাইটার মোতায়েন করছে। একই সঙ্গে তারা আরও উন্নত যুদ্ধবিমান উন্নয়নের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা চিনের জে-৩৫এই (J-35AE) পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধের ভারসাম্য আগামী দশকে বড় পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে।

    অ্যামকা আসতে এখনও অনেক দেরি

    ভারত নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট বা সংক্ষেপে অ্যামকা (AMCA) প্রকল্পে কাজ করছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অ্যামকা-র প্রথম প্রোটোটাইপ উড়তে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে এবং পূর্ণমাত্রায় অপারেশনাল পরিষেবায় আসতে ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ভারতের সামনে একটি ‘ক্যাপাবিলিটি গ্যাপ’ তৈরি করছে, যা পূরণ করার জন্য অন্তর্বর্তী সমাধান খুঁজছে নয়াদিল্লি।

    এফ-৩৫ বনাম সু-৫৭: ভারতের সামনে দুই পথ

    ভারতের কাছে অন্য একটি সম্ভাব্য বিকল্প হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রস্তাব ও রুশ প্রস্তাবের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

    এফ-৩৫-এর ক্ষেত্রে—

    • ● প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সীমিত
    • ● স্থানীয় উৎপাদনের নিশ্চয়তা নেই
    • ● অপারেশনাল বিধিনিষেধের সম্ভাবনা রয়েছে
    • ● রক্ষণাবেক্ষণ ও সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সংবেদনশীল

    অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করছে—

    • ● পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি সহযোগিতা
    • ● যৌথ উৎপাদন
    • ● মেক ইন ইন্ডিয়া অংশীদারিত্ব
    • ● দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সহযোগিতা

    এই কারণেই সু-৫৭ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    ভারতের সিদ্ধান্ত কোন পথে?

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই অনুমোদিত মাত্রার নিচে রয়েছে। একই সময়ে চিন ও পাকিস্তানের আধুনিকীকরণ দেশের নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

    এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির সামনে তিনটি বড় বিকল্প রয়েছে—

    • ● দেশীয় অ্যামকা প্রকল্পের জন্য অপেক্ষা করা।
    • ● রাশিয়ার সঙ্গে সু-৫৭ যৌথ উৎপাদন প্রকল্পে যোগ দেওয়া।
    • ● মার্কিন এফ-৩৫ বা অন্য কোনও বিদেশি প্ল্যাটফর্ম বিবেচনা করা।

    পুতিনের সর্বশেষ বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মস্কো ভারতের জন্য দরজা খোলা রেখেছে। এখন নজর থাকবে নয়াদিল্লি এই প্রস্তাবকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধের প্রস্তুতিতে কোন পথ বেছে নেয় তার দিকে।

  • Migraine: অফিসে কাজের মাঝেই অসহ্য মাথা ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ২ অভ্যাসই বাড়াচ্ছে বিপদ!

    Migraine: অফিসে কাজের মাঝেই অসহ্য মাথা ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ২ অভ্যাসই বাড়াচ্ছে বিপদ!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালে ঘুম ভেঙেও ক্লান্তি যায় না। মাথা ধরে থাকে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়েও ল্যাপটপে চোখ আটকে রাখা কঠিন হয়ে যায়। কারণ মাথার ভিতরে অসহ্য যন্ত্রণা। সপ্তাহের অধিকাংশ দিনেই কাজে মনোযোগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মাথা ব্যথা। এমনকি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়েও ভোগান্তি! শারীরিক পরীক্ষায় জটিল অসুখ ধরা পড়ে না। কিন্তু লাগাতার মাথা ব্যথা শরীরের ভোগান্তি বাড়ায়। আবার কাজের দক্ষতাও কমিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে! এমন সমস্যায় ভুগছেন অধিকাংশ ভারতীয়! বিশেষত ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে মাথা ব্যথার ভোগান্তি বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছে এক সাম্প্রতিক সর্বভারতীয় সমীক্ষা। আর কম বয়সি ভারতীয়দের এই ভোগান্তির নেপথ্যে মূলত দুটো কারণকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা!

    ভারতীয়দের মাথা ব্যথা কতখানি বাড়তি বোঝা হয়ে উঠছে? কাদের ভোগান্তি বেশি?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাইগ্রেন এবং অন্যান্য কারণে ভারতীয়দের একটা বড় অংশ মাথা ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। বিশেষত যাদের বয়স ২০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে, ভুক্তভোগীদের তালিকায়, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছেন। কর্ণাটক, দিল্লি, মহারাষ্ট্রের মতো একাধিক বড় রাজ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মাথা ব্যথার ভোগান্তি বেশি। বিশেষত মাইগ্রেনের সমস্যায় পুরুষের তুলনায় মহিলারা অনেক বেশি ভোগেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০-৪৫ বছর বয়সি ভারতীয় মহিলাদের ৩১ শতাংশ মাইগ্রেনের সমস্যায় কাবু। পুরুষদের ভোগান্তির হার ১৮ শতাংশ। ফলে মাইগ্রেন জাতীয় মাথা ব্যথায় মহিলাদের ভোগান্তি বেশি। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি বেশি। তরুণ প্রজন্মের শহুরে ভারতীয়রা এই সমস্যায় অধিক ভুগছেন। বিশেষত যাদের পেশাগত জীবনে বাড়তি প্রতিযোগিতা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ, বহুজাতিক সংস্থায় সেলস, মার্কেটিংয়ের মতো বিভাগে কর্মরত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই ভোগান্তি বেশি দেখা গিয়েছে।

    মাথা ব্যথার ভোগান্তির নেপথ্যে কোন দুই কারণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। কিন্তু ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাথা ব্যথার ভোগান্তি বাড়ার নেপথ্যে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, পরিবেশ দূষণ এবং দ্বিতীয়ত মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা।

    পরিবেশ দূষণ বাড়াচ্ছে মাথা ব্যথার ভোগান্তি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মক। বছরভর নানান উৎসবে বাজি পোড়ানো হয়। তাছাড়াও মানুষের সচেতনতার হার খুবই কম। তাই বায়ুদূষণের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়ছে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক উপাদান বেড়ে চলেছে। এছাড়াও ভারতের অধিকাংশ শহরে শব্দ দূষণ মারাত্মক পরিমাণে বেশি। লাগাতার তীব্র শব্দ দূষণ মাইগ্রেন সহ একাধিক ভোগান্তির নেপথ্যে থাকে। ভারতের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের মাথা ব্যথার নেপথ্যে এই দূষণকেই দায়ী করছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, লাগাতার তীব্র আওয়াজ এবং বাতাসের ক্ষতিকারক উপাদান শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একদিকে স্নায়ুকে দূর্বল করে দেয়। আরেকদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মস্তিষ্কের ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে মাথা ব্যথার মতো ভোগান্তি বাড়ে।

    মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা!

    শরীর ও মনের স্বাস্থ্য ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তরুণ প্রজন্মের ভারতীয়দের মধ্যে মানসিক চাপ, অবসাদ এবং একাধিক নানান মানসিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলা করা হয়। অর্থাৎ, স্ট্রেস, ডিপ্রেশনের মতো সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু এর প্রভাব পড়ে। শরীরে নানান জটিলতা তৈরি হয়। মাথার যন্ত্রণার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অবসাদ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মহিলাদের মাথা ব্যথার বিশেষত মাইগ্রেনের মতো স্নায়ুঘটিত সমস্যার নেপথ্যে থাকে দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব এবং একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা। মহিলাদের জীবনে একাধিকবার হরমোনের ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটে। বয়ঃসন্ধিকাল, গর্ভাবস্থা কিংবা তার পরবর্তী পর্বেও নানান পরিবর্তন ঘটে। তার জেরেই মাইগ্রেন এবং অন্যান্য ধরনের মাথার যন্ত্রণার ভোগান্তি বাড়ে।

    ভোগান্তি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, মাথা ব্যথার ভোগান্তি কমাতে তরুণ প্রজন্মের পরিবেশ সচেতন থাকা জরুরি। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা না বাড়লে এমন একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন‌ বিশেষজ্ঞরা। তবে পরিবেশ সচেতনতার পাশপাশি নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। পেশাগত বা ব্যক্তিগত চাপ থাকলেও নিয়ম মাফিক যোগাভ্যাস চালানো প্রয়োজন। এতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে। যার ফলে অনিদ্রার মতো সমস্যা রুখতে সুবিধা হবে। মস্তিষ্কের ঠিকমতো বিশ্রাম হলেই মাথা ব্যথার ভোগান্তি কমবে। তাছাড়া মানসিক চাপ, অবসাদের মতো সমস্যা থাকলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার। তবেই তরুণ প্রজন্মের এই ভোগান্তি কমবে।

  • CBSE OSM Portal: সিবিএসই ওএসএম পোর্টালের দুর্বলতা ধরিয়ে তাক লাগালো তিন তরুণ ‘ভালো’ হ্যাকার, একজন বাঙালি

    CBSE OSM Portal: সিবিএসই ওএসএম পোর্টালের দুর্বলতা ধরিয়ে তাক লাগালো তিন তরুণ ‘ভালো’ হ্যাকার, একজন বাঙালি

    সুশান্ত দাস

    দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা বোর্ড সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)-এর নতুন চালু হওয়া ওএসএম (OSM) ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। সাইবার নিরাপত্তা ত্রুটি, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে গরমিল, এমনকি একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা দিতে টেন্ডারের নিয়ম পরিবর্তনের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাগুলির কেন্দ্রে রয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া তিন কিশোর— নিসর্গ আধিকারী, সার্থক সিদ্ধান্ত এবং বেদান্ত শ্রীবাস্তব। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কুয়েট (CUET) পরীক্ষার প্রযুক্তিগত সমস্যার পর এই নতুন বিতর্ক দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

    কী এই অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা?

    সম্প্রতি দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও ডিজিটাল করতে সিবিএসই চালু করে অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় পরীক্ষকদের কাছে উত্তরপত্রের স্ক্যান করা কপি অনলাইনে পাঠানো হয় এবং তাঁরা নির্দিষ্ট পোর্টালে লগ-ইন করে মূল্যায়ন করেন। বোর্ডের দাবি ছিল, এর ফলে মূল্যায়ন দ্রুত হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। কিন্তু চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

    শিলিগুড়ির নিসর্গ আধিকারীর হ্যাকিংয়ে সামনে এল একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি

    শিলিগুড়ির বাসিন্দা ১৯ বছরের ছাত্র এবং সাইবার নিরাপত্তা গবেষক নিসর্গ আধিকারী, যিনি এ বছরই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছেন, ২২ মে একটি ব্লগ পোস্টে ওএসএম (OSM) পোর্টালের একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ করেন। আধিকারীর দাবি, তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ পোর্টালটি পরীক্ষা করে বেশ কিছু উদ্বেগজনক দুর্বলতা খুঁজে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে ভারতের কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (CERT-In)-কে বিষয়টি জানান। তাঁর ব্লগে উল্লেখ করা হয়েছে, পোর্টালের কোডে একটি ‘‘হার্ডকোডেড মাস্টার পাসওয়ার্ড’’ ছিল। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর আইডি এবং স্কুল কোড জানা থাকলে যে কেউ সেই মাস্টার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারত।

    নিসর্গ আধিকারীর দাবি অনুযায়ী—

    • ● ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা দুর্বল ছিল।
    • ● ওটিপি (One-Time Password) যাচাইকরণ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল।
    • ● পরীক্ষকের পরিচয়ে লগ-ইন করা সম্ভব ছিল।
    • ● পোর্টালে প্রবেশের পর মূল্যায়ন সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের সুযোগও তৈরি হতে পারত।

    তিনি জানান, এই তথ্য সার্ট-ইন-কে পাঠানোর পর একটি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া পেলেও পরবর্তী একাধিক অনুস্মারকের কোনও উত্তর পাননি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সিবিএসই প্রথমে অভিযোগগুলি অস্বীকার করলেও পরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানায় এবং অভিযোগ উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানায়।

    উত্তরপত্রে ভয়াবহ গরমিল, অন্য ছাত্রের খাতা পেলেন পরীক্ষার্থী

    ওএসএম ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরদার হয় ১৭ বছরের ছাত্র বেদান্ত শ্রীবাস্তবের ঘটনার পর। ২৩ মে ২০২৬-এ বেদান্ত সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দাবি করেন, তিনি নিজের উত্তরপত্রের ফটোকপি চাওয়ার পর দেখতে পান যে পদার্থবিদ্যার যে উত্তরপত্র সিবিএসই তাঁকে দিয়েছে, সেটি তাঁর নয়। পরিবারের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। এমনকি তাঁদের ‘‘দেশবিরোধী’’ ও ‘‘পাকিস্তানি’’ বলেও আক্রমণ করা হয়। বেদান্তের ঘটনা যে বিচ্ছিন্ন নয়, তা-ও সামনে এসেছে। একাধিক পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি ও মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

    টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুললেন সার্থক সিদ্ধান্ত

    বিতর্কের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয় ৩০ মে, যখন ১৮ বছরের ছাত্র সার্থক সিদ্ধান্ত একটি বিশদ ব্লগ পোস্টে অভিযোগ করেন যে সিবিএসই ইচ্ছাকৃতভাবে টেন্ডারের শর্ত পরিবর্তন করে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে সুবিধা দিয়েছে। ওএসএম (OSM) অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে হায়দরাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা ‘কোএমপ্ট্ এডুটেক’ (Coempt Edu Teck)। সার্থকের দাবি, সরকারি সংস্থা হিসেবে সিবিএসঅর কোনও নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থাকে বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP)-এর মাধ্যমে সংস্থা নির্বাচন করতে হয়। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছিল—

    ১. কোম্পানির অতীত ব্যর্থতার মূল্যায়ন সংক্রান্ত ধারা বাদ

    যেসব ধারা কোনও সংস্থার অতীত চুক্তিভঙ্গ, আর্থিক ব্যর্থতা বা প্রকল্প মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ দিত, সেগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ২. সফটওয়্যার মান নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড শিথিল

    সফটওয়্যার উন্নয়নের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কেপাবিলিটি ম্যাচুরিটি মডেল ইন্টিগ্রেশন (CMMI)-এর প্রয়োজনীয়তা লেভেল ৫ থেকে কমিয়ে লেভেল ৩ করা হয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, CMMI লেভেল ৫ সর্বোচ্চ মানের সফটওয়্যার প্রক্রিয়া নির্দেশ করে। লেভেল ৩-এ নামিয়ে আনা হলে নিরাপত্তা ও গুণগত মানের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩. স্ক্যানিং অবকাঠামোর মান কমানো

    সার্থকের দাবি, উত্তরপত্র স্ক্যান করার যন্ত্রপাতির মান সংক্রান্ত শর্তও শিথিল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনগুলি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে যোগ্য করে তুলতেই নিয়মগুলি সংশোধন করা হয়েছিল।

    অতীতেও বিতর্কে জড়িয়েছিল সংস্থাটি

    সার্থক তাঁর প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, কোএমপ্ট্ এডুটেক অতীতে তেলঙ্গানা রাজ্যের পরীক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত ২০১৯ সালের একটি বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত ছিল, যেখানে উত্তরপত্র স্ক্যানিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সরকারি তদন্তের ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।

    সিবিএসই-র প্রতিক্রিয়া

    ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মুখে সিবিএসই জানিয়েছে, তারা ওএসএম (OSM) পোর্টালের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল নিয়োগ করেছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনও নাগরিক বা পরীক্ষার্থী যদি কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয় লক্ষ্য করেন, তবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    বড় প্রশ্নের মুখে দেশের ডিজিটাল পরীক্ষাব্যবস্থা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি পোর্টালের প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয় নয়। এটি দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, কুয়েট-এর প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং এখন সিবিএসই ওএসএম বিতর্ক— এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করা ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থাগুলির ওপর আরও কঠোর প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা, স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে ছাত্র, অভিভাবক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের নজর সিবিএসই-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্তের ফলাফল এবং সম্ভাব্য সংস্কারই নির্ধারণ করবে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বোর্ড তার ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার উপর হারিয়ে যাওয়া আস্থা কত দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারে।

    নিসর্গ-সার্থকদের কাজকে সাধুবাদ সংসদের স্থায়ী কমিটির

    নিসর্গ, বেদান্ত ও সার্থকের মতো তরুণ এথিক্যাল হ্যাকারদের এই দলটি ছোট হলেও ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এরা নীরবে দেশের শিক্ষা-পরিকাঠামোর নানা ত্রুটি ও নিরাপত্তা দুর্বলতা উন্মোচন করেছে এবং কর্তৃপক্ষকে বহু অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে বাধ্য করেছে। সার্থককে সংসদের স্থায়ী কমিটির সামনে হাজির হতে সমন পাঠানো হয়েছিল। তিনিই এই কমিটির সামনে সাক্ষ্যদানকারী সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। সেখানে তিনি যাবতীয় তথ্য পেশ করে, আমলা-কর্তাদের চোখ খুলে দেন। এর জন্য যথেষ্ট বাহবাও পেয়েছেন সার্থক। এথিক্যাল হ্যাকার নিসর্গ-সার্থকদের কাজ সংসদীয় কমিটি, সরকার এবং আমলাদের বাধ্য করেছে বিভিন্ন সরকারি পোর্টালের ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে ও পদক্ষেপ নিতে। তাঁরা দেশের সামনে এক নির্মম আয়না তুলে ধরেছেন— আর সেই আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনও উপায় ছিল না পদাধিকারীদের।

  • Southwest Monsoon: তীব্র গরমের মধ্যে বর্ষার আগমন, তিন দিন বিলম্বে কেরলে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

    Southwest Monsoon: তীব্র গরমের মধ্যে বর্ষার আগমন, তিন দিন বিলম্বে কেরলে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন দিন পিছিয়ে অবশেষে ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon)। আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করার কথা থাকলেও, এবার তা ৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে কেরল উপকূলে এসে পৌঁছেছে।

    আবহাওয়া দফতরের (IMD) পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ

    একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বর্ষা এসেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আবহাওয়া দফতরের কিছু সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক মাপকাঠি রয়েছে। কেরলের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ হওয়ায় বর্ষা (Southwest Monsoon) আগমনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল-

    • বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি: কেরল এবং লাক্ষাদ্বীপের মোট ১৪টি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ কেন্দ্রে টানা দু’দিন ২.৫ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত (Southwest Monsoon) নথিভুক্ত হয়েছে।
    • বায়ুর গতিপ্রকৃতি: পশ্চিমী বায়ুর গতিবেগ ভূপৃষ্ঠ থেকে নিম্ন-বায়ুমণ্ডল (প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার উচ্চতা) পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
    • মেঘের ঘনত্ব: উপগ্রহ চিত্রে আরব সাগর এবং কেরল উপকূল সংলগ্ন এলাকায় গভীর মেঘমালার উপস্থিতি ও নিম্নমুখী বিকিরণের (Outgoing Longwave Radiation) মাত্রা উপযুক্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    বিলম্বের কারণ ও আগামী পূর্বাভাস

    আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের (IMD) মতে, সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব (Southwest Monsoon) আরব সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এবং পরবর্তী সামুদ্রিক পরিস্থিতির কারণে মৌসুমি বায়ুর মূল স্রোতটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, যার ফলে এই তিন দিনের বিলম্ব।

    দেশজুড়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা

    দক্ষিণে বর্ষা প্রবেশ করলেও দেশের মধ্য ও উত্তর ভাগে বর্ষা পৌঁছোতে আরও কিছুটা সময় লাগে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে উত্তরে এগোয়। দিল্লিতে ২৭ জুনের আগে বর্ষা প্রবেশ করে না। পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো রাজ্যে বর্ষা সাধারণত জুনের শেষে কিংবা জুলাইয়ের শুরুতে প্রবেশ করে।

    আবহাওয়া দফতর (IMD)  আশ্বস্ত করেছে যে, দেরিতে এলেও বর্তমানে মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon) বেশ শক্তিশালী। আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে এটি সমগ্র কেরল, তামিলনাড়ুর কিছু অংশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে স্বাভাবিক নিয়মে অগ্রসর হবে।

    কৃষি ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব

    ভারতে কৃষিকাজ এবং সার্বিক অর্থনীতির জন্য এই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিলম্ব হলেও বর্ষার এই আগমন তীব্র দাবদাহে পুড়তে থাকা উত্তর ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলির জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Krishna Chakraborty: বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদের অবসান, পদত্যাগ করলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী

    Krishna Chakraborty: বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদের অবসান, পদত্যাগ করলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে বিধাননগর পুরনিগমের (Bidhannagar Municipal Corporation) মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ তৃণমূল নেত্রী কৃষ্ণা চক্রবর্তী (Krishna Chakraborty)। ৪ জুন বৃহস্পতিবার, সল্টলেকের পুর ভবনে পুরকমিশনার রবি আগরওয়ালের কাছে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। একইসঙ্গে এই ইস্তফাপত্রের অনুলিপি পুরনগরোন্নয়ন মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকেও পাঠানো হয়েছে। ছোট লালা বাড়ির পর তৃণমূলের এবার হাত ছাড়া বিধাননগর পুরসভা।

    ইস্তফার কারণ ও তাঁর বক্তব্য (Krishna Chakraborty)

    যদিও মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী নিজে থেকে পদত্যাগের কারণ নিয়ে তেমন মন্তব্য করেননি। ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণকেই জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের যে যে বিষয় উঠে এসেছে তা হল-

    • ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত: সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তী (Krishna Chakraborty) জানান, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত। কারও প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ বা অভিমান নেই।
    • পৌরপরিষেবায় ধারাবাহিকতা: মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেও গত ১৬ বছরের মতো আগামীদিনেও তিনি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।
    • কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: বিধাননগরের (Bidhannagar Municipal Corporation) নাগরিকদের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও ভালোবাসার জন্য তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিদায়বেলায় তিনি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

    কার্যকালের মেয়াদ

    ২০১৯ সাল থেকে দু’দফায় বিধাননগরের (Bidhannagar Municipal Corporation)  মেয়রের দায়িত্ব সামলেছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী (Krishna Chakraborty)। বর্তমান বোর্ডে মেয়র হিসেবে তাঁর আরও প্রায় আট মাসের মেয়াদ বাকি ছিল।

    প্রশাসনিক প্রভাব

    রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বিধাননগর পুরনিগমের (Bidhannagar Municipal Corporation) প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তার ওপর সম্প্রতি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমেরও পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই এই ইস্তফা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পর পুরনিগমগুলির রাশ ধরে রাখা শাসকদলের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছিল। কৃষ্ণা চক্রবর্তীর এই পদত্যাগ সেই ধারাবাহিক প্রশাসনিক সংকটেরই একটি অংশ বলে মনে করছেন রাজনীতির একাংশের মানুষ।

  • BDO Shanu Bakshi: ফলতার জাহাঙ্গিরের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠতা, একাধিক বিতর্কের পর বিডিও পদ থেকে অপসারিত শানু বক্সী

    BDO Shanu Bakshi: ফলতার জাহাঙ্গিরের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠতা, একাধিক বিতর্কের পর বিডিও পদ থেকে অপসারিত শানু বক্সী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিশেষ নির্দেশিকায় ডায়মন্ড হারবার ২ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বিডিও (BDO Post) শানু বক্সীকে (BDO Shanu Bakshi) তাঁর বর্তমান পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে। অপসারিত নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের বিডিও রঞ্জন সর্দারও। একাধিক প্রশাসনিক বিতর্ক এবং স্থানীয় স্তরে জনবিক্ষোভের জেরে অবশেষে রাজ্য সরকার এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে।

    নতুন পোস্টিং ও বর্তমান অবস্থান (Shanu Bakshi)

    • ● পদাবনতি ও নতুন দায়িত্ব: বিডিও পদ (BDO Post) থেকে সরিয়ে শানু বক্সীকে (Shanu Bakshi) তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে ‘গেজেটিয়ার্স’ (Gazetteers) অফিসের ওএসডি (Officer on Special Duty) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
    • ● প্রশাসনিক বার্তা: নবান্ন সূত্রের খবর, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ধারাবাহিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শানুর পাশাপাশি নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের বিডিও রঞ্জন সর্দারকেও স্টেট গেজেটিয়ার্স দফতরের ওএসডি পদে পাঠানো হয়েছে একই নির্দেশিকয়। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন গার্গী দাস।

    অপসারণের পটভূমি ও মূল বিতর্কসমূহ

    শানু বক্সীর (Shanu Bakshi) কার্যকালে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় একাধিক সংঘাত ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, যা এই অপসারণের পিছনে প্রধান কারণ বলে করেছেন ওয়াকিবহাল মহল। এই কারণগুলি হল–

    জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সংঘাত

    স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানদের একাংশের সঙ্গে তাঁর তীব্র প্রশাসনিক মতবিরোধ তৈরি হয়। পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের অভিযোগ ছিল, বিডিও জনপ্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে একক সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন।

    উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা

    এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে উদাসীনতার অভিযোগ ওঠে তাঁর (BDO Post) বিরুদ্ধে।

    দলীয় ক্ষোভ ও বিক্ষোভ

    গত বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও তাঁর অপসারণের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

    প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ

    তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সমস্ত রকম অনৈতিক এবং অবৈধ কাজের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহযোগিতা করতেন শানু বক্সী (Shanu Bakshi)। তাই সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি কাজের গতি বজায় রাখতে এবং স্থানীয় স্তরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভ প্রশমন করতেই রাজ্য সরকারের এই জরুরি বদলির সিদ্ধান্ত।

  • Maa Aahar: ‘মা ক্যান্টিন’ এবার থেকে ‘মা আহার’, সপ্তাহে ২ দিন মিলবে মাছ-ভাত, ঘোষণা দিলীপের

    Maa Aahar: ‘মা ক্যান্টিন’ এবার থেকে ‘মা আহার’, সপ্তাহে ২ দিন মিলবে মাছ-ভাত, ঘোষণা দিলীপের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর মানুষের পুষ্টি সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সুলভ মূল্যের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য প্রকল্প ‘মা ক্যান্টিন’-এর পরিকাঠামো ও খাদ্যতালিকায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। উল্লেক্য মা আহার (Maa Aahaar) নামে এই পরিষেবা দেওয়া হবে। মিলবে মাছ (Fish Meal), ডিম ও সবজি ভাতের ব্যবস্থাও।

    নামকরণ ও পরিধি সম্প্রসারণ (Maa Aahaar)

    • ● নতুন নামকরণ: প্রকল্পটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সর্বজনীন করতে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ‘মা আহার’ (Maa Aahaar)।
    • ● কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি: পূর্বে রাজ্যজুড়ে মোট ৩৯০টি কেন্দ্র পরিচালিত হতো। বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী এক ধাক্কায় আরও ১১০টি নতুন কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মোট ‘মা আহার’ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫০০-তে।

     মেনুতে পুষ্টির ছোঁয়া ও বৈচিত্র্য

    সাধারণ মানুষের প্রোটিন ও পুষ্টির চাহিদার কথা বিবেচনা করে খাবারের তালিকায় বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে। মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে পেটভরা মধ্যাহ্নভোজনের এই নতুন মেনু সাজানো হয়েছে নিম্নোক্তভাবে:

    • ● সপ্তাহে ২ দিন: ডিম-ভাত।
    • ● সপ্তাহে ২ দিন: মাছ-ভাত (Fish Meal) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে।
    • ● বাকি দিনগুলো: সম্পূর্ণ নিরামিষ, তবে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান।

    মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা যৌথভাবে ঘোষণা করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

    রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও ধারাবাহিকতা

    পূর্বতন সরকারের আমলে ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ৫ টাকায় ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম দেওয়া হতো। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার আশ্বস্ত করেছিল যে, জনকল্যাণমুখী কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না; বরং সেগুলির পরিধি আরও বিস্তার করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেই প্রকল্পটিকে আরও আধুনিক ও পুষ্টিকর করে ‘মা আহার’ (Maa Aahaar) রূপে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে। বুধবারের ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে একদিকে যেমন রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও সীমান্ত সুরক্ষার মতো কঠোর প্রশাসনিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনই নবান্নের পক্ষ থেকে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা (Fish Meal) সুনিশ্চিত করার এই মানবিক বার্তাও দেওয়া হলো।

  • TMC Councilor: তোলাবাজি-দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার আরও ২ কাউন্সিলর গ্রেফতার, সংখ্যা বেড়ে ৫

    TMC Councilor: তোলাবাজি-দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার আরও ২ কাউন্সিলর গ্রেফতার, সংখ্যা বেড়ে ৫

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipal Corporation) আর্থিক অনিয়ম ও বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। এবার তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে পুরসভার ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councilor) মহেশকুমার শর্মাকে। একই ভাবে গ্রেফতার হয়েছেন ১১২ নম্বর ওয়ার্ডের আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর, যার নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল। গত কয়েক দিনে এই নিয়ে শাসকদলের মোট ৫ কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়লেন।

    তৃণমূলের গ্রেফতার হওয়া কাউন্সিলর (TMC Councilor) বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলি হল-

    • ● অভিযোগের সূত্রপাত: রিজেন্ট পার্ক এলাকার (Kolkata Municipal Corporation) এক আবাসন নির্মাতার (প্রোমোটার) কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।
    • ● শারীরিক হেনস্থা: অভিযোগকারী জানান, টাকা দিতে অস্বীকার করায় কাউন্সিলর এবং তাঁর অনুগামীরা মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
    • ● আইনি পদক্ষেপ: ভুক্তভোগী প্রোমোটার রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তদন্তে নামে।

    পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতারি

    অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ (Kolkata Municipal Corporation) সক্রিয় হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠানো হয়। বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় পুলিশ তাকে সরকারিভাবে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় এলাকার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। কাউন্সিলর (TMC Councilor) মহেশকুমার শর্মার গ্রেফতারি ও অভিযোগের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে।কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলা, প্রোমোটারকে মারধর, হুমকি এবং বেআইনি কাজের অভিযোগে তাকে আটক করার পর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার করা হয়।

    অভিযোগের সূত্রপাত

    ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বড়বাজার থানায় মহেশকুমার শর্মার (TMC Councilor) বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    • নির্দিষ্ট ধারাসমূহ: তদন্ত প্রক্রিয়ার পর পোস্তা এলাকার বাসিন্দা মহেশকুমার শর্মার বিরুদ্ধে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
      • অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা-৬১/২)
      • সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া বা বলপ্রয়োগ (ধারা-১৩২)
      • তোলাবাজি (ধারা-৩০৮) ও অপরাধের চেষ্টা (ধারা-৬২)
      • ভয় প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় (ধারা-৩০৮/৩ এবং ৩০৮/৬)
      • ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা (ধারা-৩৫২)

    সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার হওয়া অন্যান্য কাউন্সিলর

    প্রশাসনের এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত কয়েক দিনে আরও বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরকে (TMC Councilor) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হলেন-

    • ১. অরিজিৎ দাস ঠাকুর (১০৬ নম্বর ওয়ার্ড): স্থানীয় প্রোমোটার ও ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় ও ‘কাটমানি’ চাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গড়ফা থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
    • ২. শচীন সিংহ (৩৬ নম্বর ওয়ার্ড): ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাকে একই রাতে গ্রেফতার করে।
    • ৩. সুদীপ পোল্লে (১২৩ নম্বর ওয়ার্ড ও ১৬ নম্বর বরোর তৎকালীন চেয়ারম্যান): এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করার অভিযোগে গত মে মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    প্রশাসনিক অবস্থান

    পর পর এই গ্রেফতারির ঘটনায় শহরের (Kolkata Municipal Corporation) রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন অমান্যকারী ও তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার আপস না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • S-400 Sudarshan Chakra: পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে আকাশ-প্রতিরোধ শক্তি! ভারতের হাতে এল চতুর্থ এস-৪০০

    S-400 Sudarshan Chakra: পাকিস্তান সীমান্তে বাড়ছে আকাশ-প্রতিরোধ শক্তি! ভারতের হাতে এল চতুর্থ এস-৪০০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় শক্তিবৃদ্ধি করে ভারতে পৌঁছল রাশিয়া-নির্মিত এস-৪০০ ‘সুদর্শন চক্র’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চতুর্থ স্কোয়াড্রন (প্রকারান্তরে রেজিমেন্ট)। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, চুক্তিবদ্ধ পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনের মধ্যে চতুর্থটি ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছে গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সেক্টরে মোতায়েন করা হবে। ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ভারত মোট পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি স্কোয়াড্রন ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। এবার চতুর্থ স্কোয়াড্রনের আগমনের মাধ্যমে সেই প্রকল্প আরও এক ধাপ এগোল।

    ধাপে ধাপে পৌঁছচ্ছে চতুর্থ স্কোয়াড্রন

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, চতুর্থ এস-৪০০ স্কোয়াড্রনটি ধাপে ধাপে এসে পৌঁছচ্ছে। প্রথম ধাপ ৩ জুন ভারতে এসে পৌঁছেছে। তার আগে গত মাসে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) আধিকারিকরা রাশিয়ায় গিয়ে প্রি-ডিসপ্যাচ পরিদর্শন সম্পন্ন করেন। স্কোয়াড্রনের বাকি সরঞ্জাম ও উপাদানগুলি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিভিন্ন বন্দর দিয়ে দেশে আসবে। চলতি মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ডেলিভারি শেষ হওয়ার কথা।

    পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েনের সম্ভাবনা

    সামরিক সূত্রের মতে, নতুন এস-৪০০ ইউনিটটি ভারতের পশ্চিম সীমান্তে, বিশেষত পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে মোতায়েন করা হতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশপথে আসা হুমকি শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

    বিশ্বের অন্যতম আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘সুদর্শন চক্র’ নামে পরিচিত এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলির অন্যতম। এই ব্যবস্থা একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, ট্র্যাক এবং ধ্বংস করতে সক্ষম।

    এস-৪০০-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

    • ● সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
    • ● যুদ্ধবিমান, ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন এবং আকাশে থাকা নজরদারি প্ল্যাটফর্মকে ধ্বংস করতে পারে।
    • ● একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।
    • ● উন্নত রাডার ও কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

    একটি স্কোয়াড্রনে কী কী থাকে?

    প্রতিটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনে মোট ১৬টি বিশেষায়িত যান থাকে, যার মধ্যে রয়েছে—

    • ● কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম
    • ● অত্যাধুনিক রাডার ইউনিট
    • ● মোবাইল মিসাইল লঞ্চার
    একটি স্কোয়াড্রন আবার দুটি ব্যাটারিতে বিভক্ত। প্রতিটি ব্যাটারিতে ছয়টি করে লঞ্চার থাকে। ফলে একটি সম্পূর্ণ স্কোয়াড্রন থেকে একযোগে ১২৮টি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা সম্ভব। চুক্তি অনুযায়ী ভারত মোট ৬০টি লঞ্চার এবং প্রায় ৬,০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে, যেগুলি ১২০ কিলোমিটার থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিলম্ব

    মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ সমস্ত এস-৪০০ রেজিমেন্ট সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটে এবং ডেলিভারিতে বিলম্ব হয়। তবে রাশিয়া ভারতকে আশ্বাস দিয়েছে যে বাকি সমস্ত সরঞ্জাম ও পঞ্চম তথা শেষ রেজিমেন্টের ডেলিভারি ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যেই সম্পূর্ণ করা হবে।

    ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ কার্যকারিতার প্রমাণ

    ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিদুঁর’-এর সময় এস-৪০০ ব্যবস্থা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ওই অভিযানে শত্রুপক্ষের একাধিক আকাশপথে আসা হুমকি সফলভাবে প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর ভারত সরকার আরও পাঁচটি অতিরিক্ত এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতের মোট এস-৪০০ বহর ১০টি ইউনিটে পৌঁছবে।

    ভারতের স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    এস-৪০০ বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার ‘ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ (IACCS)-এর সঙ্গে সংযুক্ত। এটি ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এস-৪০০-এর পাশাপাশি দেশীয়ভাবে নির্মিত ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ভারত-ইজরায়েল যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘এমআরএসএএম’ (MRSAM)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে এটি একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলেছে, যা বিভিন্ন ধরনের আকাশপথে আসা হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম।

    প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

    চতুর্থ এস-৪০০ রেজিমেন্টের আগমনের ফলে ভারতের অন্যতম বৃহৎ আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রকল্প সমাপ্তির আরও কাছাকাছি পৌঁছল। পঞ্চম ও শেষ রেজিমেন্ট হাতে পাওয়ার পর দেশের পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, কৌশলগত অবকাঠামো এবং বেসামরিক সম্পদের সুরক্ষা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এস-৪০০ শুধু একটি অস্ত্র ব্যবস্থা নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আকাশযুদ্ধ মোকাবিলায় একটি কৌশলগত শক্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
LinkedIn
Share