Tag: মাধ্যম

  • H-1B Visa: ‘এটা কর, জরিমানা নয়’! ট্রাম্পের ১ লক্ষ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি উড়িয়ে দিল মার্কিন আদালত

    H-1B Visa: ‘এটা কর, জরিমানা নয়’! ট্রাম্পের ১ লক্ষ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি উড়িয়ে দিল মার্কিন আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নতুন এইচ-১বি (H-1B) ভিসা ফি বড় ধাক্কা খেল আদালতে। সোমবার ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের ঘোষিত ১ লক্ষ ডলারের (প্রায় ৮৬ লক্ষ টাকা) অতিরিক্ত এইচ-১বি ভিসা ফি বাতিল করে দিয়েছে। আদালতের মতে, এই ফি কার্যত একটি ‘কর’ (Tax), যা আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। এই রায়কে মার্কিন প্রযুক্তি শিল্প, স্বাস্থ্য পরিষেবা খাত এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিদ্ধান্তটি ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ভারতীয়রাই অন্যতম।

    কী ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত?

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপ করেন। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে এবং এই উচ্চ ফি বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে। সাধারণত এইচ-১বি ভিসার জন্য নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে বিভিন্ন খাতে মোট ২,০০০ থেকে ৫,০০০ ডলারের মধ্যে ফি দিতে হতো। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই খরচ এক লাফে কয়েকগুণ বেড়ে যেত।

    আদালত কী বলেছে?

    ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক লিও সোরোকিন রায়ে বলেন, প্রশাসন এই অর্থকে ‘জরিমানা’ (Penalty) হিসেবে উল্লেখ করলেও বাস্তবে এটি একটি কর (Tax)। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, “এই ১ লক্ষ ডলারের অর্থপ্রদানের প্রকৃতি ও প্রয়োগ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে এটি একটি কর, নাম যাই দেওয়া হোক না কেন।” তিনি আরও বলেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নতুন কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন আর্থিক বোঝা চাপাতে পারেন না, যদি না কংগ্রেস সেই ক্ষমতা প্রদান করে।

    কারা মামলা করেছিল?

    ক্যালিফোর্নিয়া-সহ মোট ২০টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তাদের যুক্তি ছিল, এই বিপুল ফি আমেরিকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রযুক্তি শিল্প এবং গবেষণা ক্ষেত্রের জন্য ক্ষতিকর হবে। বহু সংস্থা বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে, যার ফলে শ্রমিক সংকট আরও তীব্র হবে।

    এইচ-১বি ভিসার উপর কী প্রভাব পড়েছিল?

    আদালতে জমা পড়া নথি অনুযায়ী, নতুন ফি কার্যকর হওয়ার পর এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৮৫টি ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডলারের ফি জমা পড়েছিল। এটি দেখায় যে বিপুল ব্যয়বহুল এই নীতি নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে আবেদন করা থেকে নিরুৎসাহিত করেছিল।

    রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় শিবিরের সমর্থন

    রায়ের পর শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ার বলেন, এই ফি চালু থাকলে এমন অনেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র মারাত্মক সমস্যায় পড়ত, যারা ইতিমধ্যেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতির মুখোমুখি। অন্যদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললারও আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের কর্মীদের এই ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি দ্বিদলীয় উদ্যোগে আইন প্রস্তাব করেছিলেন।

    রাজ্যগুলির প্রতিক্রিয়া

    ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা বলেন, এই নীতি আমেরিকার দক্ষ কর্মী আকর্ষণের ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। তার বক্তব্য, “এই কর ছিল আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রের চাহিদা পূরণে সহায়তা করা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রতিভাদের আকর্ষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।”

    হোয়াইট হাউসের অবস্থান

    আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসন সন্তুষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে তারা উচ্চতর আদালতে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, “এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার কয়েক দশক ধরে চলেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশেষে সেই সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।” প্রশাসনের দাবি, বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেয় এবং সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

    ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দেশগুলির মধ্যে ভারত শীর্ষে। প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, চিকিৎসক এবং অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবী এই ভিসার মাধ্যমে আমেরিকায় কাজের সুযোগ পান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি বহাল থাকলে ভারতীয় আইটি সংস্থা এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠত। আদালতের এই রায় সেই আশঙ্কা আপাতত দূর করেছে।

    এইচ-১বি ভিসা কী?

    এইচ-১বি (H-1B) হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, যা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য বরাদ্দ।

    প্রতি বছর—

    • ● ৬৫,০০০টি সাধারণ এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়।
    • ● অতিরিক্ত ২০,০০০টি ভিসা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
    • ● সাধারণত এই ভিসার মেয়াদ ৩ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত হয়।
    • ● প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, গবেষণা এবং আর্থিক পরিষেবা খাতে এই ভিসার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

    ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

    আদালতের এই রায় আপাতত ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে বড় বাধা তৈরি করলেও আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। হোয়াইট হাউস আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বিষয়টি ভবিষ্যতে ফেডারেল আপিল আদালত বা প্রয়োজনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে আপাতত আদালতের সিদ্ধান্ত বিদেশি দক্ষ কর্মী, মার্কিন নিয়োগকারী সংস্থা এবং বিশেষ করে ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • TMC Crisis: তৃণমূলে মহাভাঙন! এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন ২১ বিক্ষুব্ধ সাংসদের, দিল্লিতে চাপে মমতা-অভিষেক

    TMC Crisis: তৃণমূলে মহাভাঙন! এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন ২১ বিক্ষুব্ধ সাংসদের, দিল্লিতে চাপে মমতা-অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হল। দলের ২১ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাংগঠনিক সংকট বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সোমবার সকালে দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকের পরই লোকসভার স্পিকারের দফতরে চিঠি জমা পড়ে বলে জানা গিয়েছে।

    বিজেপিতে নয়, এনডিএ-তে যোগ দিতে চান বিদ্রোহীরা

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যোগদানের কথা বলেননি। তাঁদের দাবি, তাঁরা তৃণমূলের একটি পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে এনডিএ জোটের অংশ হতে চান। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম সামনে এসেছে। উপদলনেতা হিসেবে থাকছেন শতাব্দী রায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁরা দল পরিবর্তন করছেন না, বরং সংসদে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আবেদন গৃহীত হলে কার্যত লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান সংসদীয় দলের অস্তিত্ব ভেঙে যাবে এবং একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম হবে।

    দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতেই কি সংখ্যার হিসাব?

    ভারতের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সংসদীয় দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য আলাদা হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আইনগত সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। সেই হিসেবে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। সূত্রের দাবি, প্রথমে ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে ছিলেন। পরে আরও একজন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় সংখ্যা বেড়ে ২১-এ পৌঁছেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    স্পিকারের দফতরে জমা পড়ল চিঠি

    সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা দিল্লিতে উপস্থিত না থাকায় তাঁর অফিসে চিঠিটি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্পিকার অন্য একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজধানীর বাইরে রয়েছেন। চিঠির পরবর্তী সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে এখন জল্পনা শুরু হয়েছে। স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।

    বিদ্রোহী শিবিরে কারা?

    এখনও পর্যন্ত যে নামগুলি সামনে এসেছে, সেগুলি হল—

    • ● কাকলি ঘোষ দস্তিদার
    • ● পার্থ ভৌমিক
    • ● দেব (দীপক অধিকারী)
    • ● জুন মালিয়া
    • ● শর্মিলা সরকার
    • ● খলিলুর রহমান
    • ● অসিত মাল
    • ● অরূপ চক্রবর্তী
    • ● প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ● শতাব্দী রায়
    • ● কালিপদ সোরেন
    • ● সুখেন্দু শেখর রায় (পদত্যাগ করেছেন)

    এছাড়াও আরও কয়েকজন সাংসদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সব নাম এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

    সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফায় চরম অস্বস্তি

    এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি শুধু রাজ্যসভার সদস্যপদই নয়, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ পদত্যাগপত্রে গত পনেরো বছরের শাসনকালে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

    চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে—

    • ● রাজ্যে ব্যাপক দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে;
    • ● নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে;
    • ● শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে;
    • ● শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে;
    • ● আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

    সুখেন্দুশেখরের মতে, এই কারণগুলির ফলেই সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জনগণ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন এবং বিজেপিকে ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদান করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, নবগঠিত সরকার ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোতে শুরু করেছে এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১২-তে নেমে এসেছে।

    দিল্লিতে থেকেও ভাঙন আটকাতে ব্যর্থ মমতা-অভিষেক?

    ঘটনাচক্রে, এই সংকটের সময়েই দিল্লিতে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডি জোটের বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক বৈঠকও করছিলেন তাঁরা। বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা শুরু করেছিলেন। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়েই দলের লোকসভার বড় অংশের সাংসদ যদি এনডিএ-র সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

    বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। যদি তাঁদের মধ্যে ২১ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে এনডিএ-র শরিক হন, তাহলে সংসদে তৃণমূলের শক্তি কার্যত ভেঙে পড়বে।

    এর ফলে—

    • ● লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাবে।
    • ● ইন্ডি জোটে দলের গুরুত্ব হ্রাস পেতে পারে।
    • ● জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
    • ● বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সংসদে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছতে পারে।

    রাজনৈতিক তাৎপর্য

    তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে দল একাধিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তবে লোকসভায় এত বড় মাপের সাংসদ বিদ্রোহের ঘটনা নজিরবিহীন। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই বিদ্রোহ শুধুমাত্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকবে, নাকি তা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর স্পিকারের সিদ্ধান্ত, বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য পাল্টা কৌশলের দিকে।

  • Iran Crisis: ইরানে না যাওয়ার কড়া সতর্কতা ভারতের, দ্রুত দেশ ছাড়তে বলা হল সেখানে থাকা ভারতীয়দের

    Iran Crisis: ইরানে না যাওয়ার কড়া সতর্কতা ভারতের, দ্রুত দেশ ছাড়তে বলা হল সেখানে থাকা ভারতীয়দের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার আবহে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন করে সতর্কতা জারি করল ভারত সরকার। সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সকল ভারতীয় নাগরিককে ইরান সফর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে যাঁরা ইরানে রয়েছেন, তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব উপলব্ধ পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ ছেড়ে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় নাগরিকদের ইরান সফর এড়িয়ে চলার জন্য আগের পরামর্শ পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদেরও উপলব্ধ পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত দেশ ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

    নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি

    গত রাত থেকে অঞ্চলে নতুন করে সামরিক তৎপরতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ার পরই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভারতীয়দের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা শুধু পর্যটকদের জন্য নয়, বরং ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় তীর্থযাত্রী এবং অন্যান্য নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

    চলমান সংঘাতের মধ্যে অষ্টম সতর্কতা

    ভারতীয় দূতাবাসের তরফে এটি চলমান ইরান-আমেরিকা-সম্পর্কিত সংঘাত ঘিরে জারি করা অষ্টম সরকারি পরামর্শ (অ্যাডভাইজরি)। গত কয়েক মাস ধরে অঞ্চলের অস্থির পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে নাগরিকদের সতর্ক করে আসছে। এর আগে এপ্রিল মাসে সংঘাতের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতীয় দূতাবাস ইরানে থাকা ভারতীয়দের দ্রুত দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তখন দূতাবাস একটি বিশেষ হেল্পলাইনও চালু করে, যাতে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, সেই সময় যুদ্ধবিরতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নাগরিকদের সরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল, কারণ পরিস্থিতি যে কোনও সময় আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল।

    এখনও ইরানে প্রায় ৭,৫০০ ভারতীয়

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও প্রায় ৭,৫০০ ভারতীয় নাগরিক ইরানে অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী, বিশেষত মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এছাড়াও ব্যবসা, ধর্মীয় ভ্রমণ এবং অন্যান্য পেশাগত কারণে বহু ভারতীয় সেখানে রয়েছেন। সংঘাতের শুরু থেকে ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে এবং নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে।

    স্থলপথে উদ্ধার অভিযান

    এর আগে হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিককে ইরান থেকে বের করে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস। বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পর বহু ভারতীয়কে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের স্থল সীমান্ত ব্যবহার করে নিরাপদে বের করে আনা হয়। দূতাবাসের সহযোগিতায় সীমান্ত পারাপার, অস্থায়ী আবাসন, ভ্রমণ নথিপত্র এবং পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহল সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

    নাগরিকদের প্রতি দূতাবাসের বার্তা

    ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের নিয়মিতভাবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ভারত সরকার এবং তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস উভয়েই ইরানে থাকা ভারতীয়দের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

    পরিস্থিতির দিকে নজর দিল্লির

    পশ্চিম এশিয়ার এই নতুন অস্থিরতা ভারতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক সেখানে অবস্থান করায় তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমানে নয়াদিল্লির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ভারত সরকার নতুন উদ্ধার অভিযান বা অতিরিক্ত কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলেও কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরানো এবং তাঁদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

     

  • Israel: ইজরায়েলে স্থাপিত হবে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের বিশাল মূর্তি; পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস মহারাষ্ট্র সরকারের

    Israel: ইজরায়েলে স্থাপিত হবে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের বিশাল মূর্তি; পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস মহারাষ্ট্র সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইজরায়েলের (Israel) মধ্যকার কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বীর মারাঠা যোদ্ধা ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের একটি বিশাল মূর্তি এবার স্থাপিত হতে চলেছে ইজরায়েলে। সম্প্রতি শিবাজী মহারাজের (Chhatrapati Shivaji Maharaj) রাজ্যাভিষেক দিবস উপলক্ষে মুম্বাইতে নিযুক্ত ইজরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি করেছেন। মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

    দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক (Israel)

    মুম্বইতে ইজরায়েলের (Israel) কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সেখানেই তিনি ইজরায়েলের কোনও একটি বড় শহরে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের (Chhatrapati Shivaji Maharaj) এই স্মারক ও মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাবটি পেশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশ এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইজরায়েল সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন এবং একে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন।

    ইয়ানিভ রেভাচ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতে আসার পর তিনি মারাঠা সাম্রাজ্যের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস এবং ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের সুশাসন, সাহস ও দূরদর্শিতা সম্পর্কে বিশদ পড়াশোনা করেন। তিনি ভারত ও ইজরায়েলের ইতিহাসের মধ্যে এক গভীর মিল খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন, “উভয় দেশকেই নিজেদের অস্তিত্ব ও ভূমির সুরক্ষায় দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঐতিহাসিক জেরুজালেম সফরের পর দুই দেশের জনগণকে আরও কাছাকাছি আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এই মূর্তি স্থাপন কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি দুই দেশের মানুষের আবেগ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে আরও মজবুত করবে।”

    ইজরায়েলে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের মহিমান্বিত

    এই মূর্তি নির্মাণের জন্য ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র, নকশা ও শৈল্পিক পরামর্শের ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র সরকারের সাহায্য চেয়েছে ইজরায়েল প্রশাসন। পরবর্তীতে এটিকে একটি ‘জনগণের প্রকল্প’ (People’s Project) হিসেবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খুশির খবরটি ভাগ করে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ লিখেছেন, “এটি অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের সংবাদ। ইজরায়েলে (Israel) ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের (Chhatrapati Shivaji Maharaj) মহিমান্বিত মূর্তি স্থাপনের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে সফল করতে মহারাষ্ট্র সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্মারক গড়ে উঠলে তা বিশ্বমঞ্চে মারাঠা ঐতিহ্যকে যেমন সম্মানিত করবে, তেমনই দুই দেশের বন্ধুত্বে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

  • Banaras Road Rail Over Bridge: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! গতি পাচ্ছে হাওড়ার বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ প্রকল্প; আজ থেকে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ

    Banaras Road Rail Over Bridge: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! গতি পাচ্ছে হাওড়ার বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ প্রকল্প; আজ থেকে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর হাওড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গতি পেতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ (Banaras Road Rail Over Bridge) প্রকল্প। আজ, রবিবার থেকেই সালকিয়া এবং লিলুয়ার বামুনগাছির সংযোগকারী এই ঐতিহাসিক সেতুতে ভারী ও মাঝারি ধরনের সব রকম যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। রেল (Railway) ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের এই সিদ্ধান্তের ফলেই দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা নতুন সেতুর সংযোগকারী রাস্তা বা ‘অ্যাপ্রোচ রোড’ নির্মাণের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

    সেতুটির কাঠামো অত্যন্ত জীর্ণ ও বিপজ্জনক (Banaras Road Rail Over Bridge)

    ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই বেনারস ব্রিজটি উত্তর হাওড়ার অন্যতম প্রধান জীবনরেখা। প্রতিদিন সালকিয়া, লিলুয়া, বামুনগাছি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ এবং অসংখ্য যানবাহন এই সেতুর ওপর দিয়েই যাতায়াত করে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুটির কাঠামো অত্যন্ত জীর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বার বার সেতুর দুর্বলতার বিষয়টি সামনে আনার পর, পূর্ব রেল (Railway) এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

    রেল (Railway) সূত্রের খবর, নতুন সেতুর মূল কাঠামোর সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে মূল জটিলতা তৈরি হয়েছিল অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ নিয়ে। ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এই কাজ শুরুই করা যাচ্ছিল না। এই সড়ক নির্মাণের জন্য সেতুর (Banaras Road Rail Over Bridge) ওপর যানবাহন চলাচলে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন ছিল। রেল কর্তৃপক্ষ একাধিক বার প্রশাসনের কাছে এর অনুমতি চাইলেও, দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রক্রিয়াটি ঝুলে ছিল বলে অভিযোগ।

    ভারী ও মাঝারি গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ

    তবে রাজ্যে প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর এই থমকে থাকা প্রকল্পের জট কাটে। প্রশাসন, রেল এবং ট্র্যাফিক বিভাগের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ধাপে ধাপে ট্র্যাফিক (Banaras Road Rail Over Bridge) নিয়ন্ত্রণ করে প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আজ থেকে বেনারস ব্রিজে ভারী ও মাঝারি গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। এর আগেই এই রুট দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল।

    তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে যাতে বড় ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে কথা মাথায় রেখে আপাতত টোটো, রিকশা, মোটরবাইক এবং অন্যান্য হালকা যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী প্রায় দু’মাস ধরে এই অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ চলবে। এই সময়ে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য সেতুতে সম্পূর্ণ ট্র্যাফিক ব্লক করা হতে পারে, যাতে বাকি পরিকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করা যায়। সব কিছু ঠিকঠাক চললে খুব শিগগিরই নতুন সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

    নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাবেন (Banaras Road Rail Over Bridge)

    এই মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু হওয়া প্রসঙ্গে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, “পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও, রেলকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হয়নি। সেই উদাসীনতার কারণেই বামুনগাছি-বেনারস ব্রিজ এবং বাঙালবাবু-চাঁদমারি ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে আটকে পড়েছিল। তবে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ধাপে ধাপে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করে দ্রুত সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। মানুষের সাময়িক কিছু অসুবিধা হলেও, ভবিষ্যতে তাঁরা আরও নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাবেন।”

    প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে একবাক্যে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ ও দুর্বল সেতুর কারণে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল, তেমনই নিত্যদিনের যানজটের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের মতে, নতুন সেতুটি পুরোপুরি চালু হলে শুধু যাতায়াতের সময়ই কমবে না, বরং উত্তর হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহণ এবং জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রেও এর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দীর্ঘমেয়াদি সুফলের স্বার্থে এই সাময়িক অসুবিধা মেনে নিতে সানন্দেই প্রস্তুত হাওড়াবাসী।

  • Abhishek Banerjee: “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন একনায়ক, তাঁর জন্যই দল ভাঙছে”, বিস্ফোরক অভিযোগে TMC সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সম্পাদক আজমল সিদ্দিকী

    Abhishek Banerjee: “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন একনায়ক, তাঁর জন্যই দল ভাঙছে”, বিস্ফোরক অভিযোগে TMC সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সম্পাদক আজমল সিদ্দিকী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও তীব্র হলো। এবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র ও চরম দুর্নীতির অভিযোগ এনে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে পদত্যাগ করলেন দলের রাজ্য সংখ্যালঘু সেলের সম্পাদক আজমল সিদ্দিকী। শনিবার তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে পদত্যাগপত্র পাঠান। একই সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ‘একনায়ক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

    হজ যাত্রা শেষ করে মাত্র দুদিন আগেই কলকাতায় ফিরেছেন আজমল সিদ্দিকী। ফিরে এসেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এই সংখ্যালঘু নেতা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দলের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।

    “একজনের অহংকারেই দল ধ্বংস হচ্ছে (Abhishek Banerjee)

    পদত্যাগ করার পর সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন আজমল সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “আজ তৃণমূল কংগ্রেস যদি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার মুখে দাঁড়িয়ে থাকে, তবে তার জন্য দায়ী শুধুমাত্র একজন মানুষ— তিনি হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁর একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব এবং আমাদের ওপর চালানো দমনপীড়ন আর সহ্য করা যাচ্ছিল না। ১২-১৩ বছর পুরনো মিথ্যে মামলা (TMC) দিয়ে আমাদের হেনস্থা করা হয়েছে, টাকা দাবি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অসহনীয়।”

    নানারকম অনৈতিক কাজ ও কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত

    তৃণমূলে (TMC) এখন আর কোনও কাজ করার পরিবেশ নেই দাবি করে তিনি আরও বলেন, “হজ থেকে ফেরার পরই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে এই দল এখন কেবলই কলঙ্ক বয়ে আনছে। দলের অধিকাংশ সদস্যই নানারকম অনৈতিক কাজ ও কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত। একের পর এক দুর্নীতি সামনে আসছে, ভবিষ্যতে আরও আসবে। এই দলে থাকা আমাদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল, কারণ মানুষের জন্য এখানে কোনও প্রকৃত কাজ হচ্ছে না।”

    তোষামোদকারীদের গুরুত্ব, ব্রাত্য যোগ্যরা

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো চিঠিতে আজমল সিদ্দিকী উল্লেখ করেছেন যে, গত কয়েক বছর ধরে দলে একনায়কতন্ত্র (TMC) কায়েম হয়েছে এবং দলের পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের ক্রমাগত কোণঠাসা করা হচ্ছে। দলীয় স্তরে যোগ্যতার কোনো মূল্যায়ন নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এটি এখন শুধু নামেই একটি দল, এখানে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো কাজ করা অসম্ভব। যারা কেবল তোষামোদ বা চাটুকারিতা করে ওপরে উঠেছে, তারাই এখন দলে রাজত্ব করছে। তৃণমূলের যে গণতান্ত্রিক চরিত্র ছিল, যেখানে আলোচনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তের সুযোগ থাকত, তা এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত (Abhishek Banerjee)।”

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ধোঁয়াশা

    তৃণমূল ছাড়ার পর তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন কিনা, তা নিয়ে অবশ্য এখনই খোলসা করতে চাননি আজমল। তিনি (Abhishek Banerjee) জানান, “ভবিষ্যত নিয়ে এখনই কিছু ভাবিনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো বাংলার উন্নয়ন—রাজ্যে শিল্প আসুক, গরিব মানুষের কর্মসংস্থান হোক, এটাই আমরা চাই।”

    উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের (TMC) অন্দরে যে চরম বিদ্রোহ শুরু হয়েছে, আজমলের পদত্যাগ তাকে আরও উস্কে দিল। এর আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় পৃথক বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই সংখ্যালঘু সেলের এই হেভিওয়েট নেতার পদত্যাগ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ জোড়া-ফুল শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • RSS: সঙ্ঘের ‘শতাব্দী বর্ষ’ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্যের সঙ্কল্প, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের আয়োজন মুম্বইয়ে

    RSS: সঙ্ঘের ‘শতাব্দী বর্ষ’ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্যের সঙ্কল্প, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের আয়োজন মুম্বইয়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দু সমাজের নেতৃত্ব, চিন্তাবিদ, শিল্পোদ্যোগী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজকর্মীদের অন্যতম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক মঞ্চ ‘বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস’ (WHC) এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারতে। ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই মেগা সম্মেলন বসবে মুম্বইয়ের ঐতিহ্যবাহী জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে। বিশ্বমঞ্চে হিন্দু সমাজের জাগরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, ২০২৬ সালটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) শতবর্ষ পূর্তি তথা ‘শতাব্দী বর্ষ’। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সামনে রেখে ২০২৬ বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের মূল ভাবনা বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে— “সমানং ব্রতং সহ চিত্তম” (Shared Commitment: Collective Resolve)। অর্থাৎ, বৈশ্বিক স্তরে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্য, অভিন্ন সঙ্কল্প এবং সম্মিলিত প্রয়াসকে আরও শক্তিশালী করাই এর উদ্দেশ্য।

    দায়িত্বে অজয় পিরামল (WHC)

    এবারের বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের চেয়ারম্যান (WHC) বা সভাপতি মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা পিরামল গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রী অজয় পিরামল। তাঁর সঙ্গে কো-চেয়ারম্যান বা সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন শ্রী বিশদ মফাতলাল এবং শ্রী মহেশ ভাগচন্দকা। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, তিন দিনব্যাপী এই মূল অধিবেশনের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে সাতটি বিশেষ ক্ষেত্রে পৃথক কনফারেন্স বা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই ক্ষেত্রগুলি হল:

    • ওয়ার্ল্ড হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম (অর্থনৈতিক মঞ্চ)
    • হিন্দু এডুকেশন কনফারেন্স (শিক্ষা)
    • হিন্দু মিডিয়া কনফারেন্স (গণমাধ্যম)
    • হিন্দু পলিটিক্যাল কনফারেন্স (রাজনীতি)
    • হিন্দু উইমেন কনফারেন্স (মহিলা নেতৃত্ব)
    • হিন্দু ইয়ুথ কনফারেন্স (যুব সমাজ)
    • হিন্দু অর্গানাইজেশনাল কনফারেন্স (প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি)

    বিশ্বমঞ্চে ক্রমবর্ধমান প্রভাব

    সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের মুম্বই অধিবেশনে বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৪,৫০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে নয়াদিল্লিতে প্রথম বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস (WHC) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৮ সালে শিকাগো এবং ২০২৩ সালে ব্যাংককে এই সম্মেলন হয়। পূর্ববর্তী সম্মেলনগুলিতে সব মিলিয়ে ৬০টি দেশের প্রায় ৬,৫০০ প্রতিনিধি এবং বহু বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, আধ্যাত্মিক গুরু ও শিক্ষাবিদ অংশ নিয়েছিলেন। চার বছর অন্তর আয়োজিত এই মঞ্চটি ‘যথা ধর্মস্ততো জয়ঃ’ অর্থাৎ যেখানে ধর্ম, সেখানেই জয় আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করে।

    ঐক্যবদ্ধ সঙ্কল্পের গতি আরও বাড়াতে হবে

    সম্মেলনের মূল রূপকার ও চিন্তাবিদ স্বামী বিজ্ঞানানন্দ বলেন, “গত এক শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে হিন্দু সমাজ (WHC) নিজেদের প্রতিষ্ঠা ও গ্রহণযোগ্যতা বিপুলভাবে বাড়িয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হতে এবং সনাতন সভ্যতার মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ সঙ্কল্পের গতি আরও বাড়াতে হবে। আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ উদযাপনের এই ক্ষণটি সমস্ত হিন্দুর জন্য নিজেদের সভ্যতার শেকড়ে ফেরার এক অনন্য সুযোগ।”

    বিশ্বজনীন আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন

    চেয়ারম্যান অজয় পিরামল জানান, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস এমন এক অনন্য মঞ্চ যেখানে সনাতন চিন্তাধারার সঙ্গে বিশ্বজনীন আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন ঘটে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দুদের মেধা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে একত্রিত করে একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনে এই সম্মেলন অনুঘটকের কাজ করে। ডিসেম্বরের এই মেগা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। সংশ্লিষ্টমহলের মতে, আগামী দশকের অন্যতম প্রভাবশালী ও সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতে চলেছে এই বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস (WHC) ২০২৬।

  • LPG: বিশ্বের মধ্যে সব চেয়ে সস্তায় রান্নার গ্যাস পাচ্ছে ভারতীয় পরিবারগুলি, উজ্জ্বলা যোজনায় আরও বাড়ানো হল ভর্তুকির পরিমাণ

    LPG: বিশ্বের মধ্যে সব চেয়ে সস্তায় রান্নার গ্যাস পাচ্ছে ভারতীয় পরিবারগুলি, উজ্জ্বলা যোজনায় আরও বাড়ানো হল ভর্তুকির পরিমাণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও, ভারতের সাধারণ মানুষ বিশ্বের উন্নত দেশ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির তুলনায় অনেক কম দামে রান্নার গ্যাস (LPG) পাচ্ছেন। রবিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৭০০ টাকা ভর্তুকি (LPG)

    মন্ত্রক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে রবিবার থেকে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সিলিন্ডার প্রতি ২৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির পরেও ভারতের সাধারণ মানুষকে সিলিন্ডার প্রতি বাজারের প্রকৃত দামের চেয়ে অনেক কম টাকা দিতে হচ্ছে। দিল্লিতে বর্তমানে একটি ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা। ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’র (PMUY) সুবিধাভোগীরা সিলিন্ডার প্রতি ৩০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকি (DBT) পাওয়ায় আদতে তাঁরা গ্যাস পাচ্ছেন মাত্র ৬৪২ টাকায়। অথচ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সঙ্কটের জেরে একটি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের প্রকৃত সরবরাহ খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬০০ টাকারও বেশি। অর্থাৎ সরকার সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৭০০ টাকার বিপুল আর্থিক বোঝা নিজে বহন করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে।

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা

    ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভারতের প্রতিবেশী এবং বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশে ভারতের চেয়ে অনেক বেশি।

    • ভারত: ৬৪২ টাকা (উজ্জ্বলা গ্রাহক), ৯৪২ টাকা (সাধারণ গ্রাহক)
    • পাকিস্তান: ১,০৪৬ টাকা
    • নেপাল: ১,২০৭ টাকা
    • বাংলাদেশ: ১,২২৫ টাকা
    • শ্রীলঙ্কা: ১,২৪১ টাকা
    • আমেরিকা (USA): ১,৭৫৫ টাকা
    • অস্ট্রেলিয়া: ১,৭৬৫ টাকা
    • কানাডা: ২,৪১১ টাকা

    পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট এবং হরমুজ প্রণালীর চ্যালেঞ্জ

    ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট শুরু হওয়ার আগে সৌদি আরামকো নির্ধারিত রান্নার গ্যাসের আন্তর্জাতিক চুক্তি মূল্য (Saudi CP) ছিল টন প্রতি ৫৪৩ মার্কিন ডলার। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জুন মাসে এই দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে টন প্রতি ৭৯০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৫৪ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমেই দেশে আসে। এই সঙ্কটের মধ্যেও ভারত অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তার নিজস্ব পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারগুলির মাধ্যমে এই প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানি করে চলেছে। তাই দেশে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়নি।

    সরকারি ভর্তুকি ও ক্ষতিপূরণ

    বর্তমানে দিল্লিতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩,১১৩.৫০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি মাসে সরাসরি দর পরিবর্তিত হলেও, ঘরোয়া সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। গত অর্থবর্ষের শেষে ঘরোয়া এলপিজিতে তেল সংস্থাগুলির মোট আন্ডার-রিকভারি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক দাম ও খুচরো দামের ফারাক দাঁড়িয়েছে ৬০,০০০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে ৩০,০০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ অনুমোদন করেছে। এর পাশাপাশি ১০.৫৮ কোটিরও বেশি উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহককে বছরে প্রথম ৪টি রিফিলের জন্য ৩০০ টাকা করে অতিরিক্ত সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সাধারণ মানুষকে এই মূল্যবান খনিজ সম্পদের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে এবং রান্নার ক্ষেত্রে শক্তি-দক্ষ পদ্ধতি অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • Nitin Nabin: “ভারতের যুবসমাজ বিদেশি মাটিতে বসে থাকা কিছু মানুষের হাতের পুতুল নয়”, ককরোচ সমর্থকদের তোপ নীতিন নবীনের

    Nitin Nabin: “ভারতের যুবসমাজ বিদেশি মাটিতে বসে থাকা কিছু মানুষের হাতের পুতুল নয়”, ককরোচ সমর্থকদের তোপ নীতিন নবীনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল যুগের ক্ষমতা ব্যবহার করে তরুণদের নেতিবাচক দিকে প্ররোচিত করার চেষ্টা ভারতে সফল হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। রবিবার ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে দলের একটি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এল, যখন দিল্লির প্রধান প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে হাজার কিলোমিটার দূর থেকে একটি বড় ধরনের সমাবেশ চলছে। এই সমাবেশের নেতৃত্বে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে, যিনি বিদেশফেরত একজন রাজনৈতিক ব্যঙ্গশিল্পী। এর আগে তিনি আম আদমি পার্টির (AAP) সোশ্যাল মিডিয়া টিমে কাজ করতেন।

    ভারতের যুবসমাজ ইতিবাচক রাজনীতি করবে (Nitin Nabin)

    এই নব্য আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের দিকে ইঙ্গিত করে নীতিন নবীন (Nitin Nabin) বলেন, “এই যুবসমাজের কঠোর পরিশ্রম ও শক্তির ওপর ভর করেই দেশ এগিয়ে চলেছে… তাই আমি তাঁদের সতর্ক করতে চাই যাঁরা এই দেশের যুবসমাজকে নেতিবাচক রাজনীতির দিকে টেনে নিয়ে যেতে চান। ভারতের যুবসমাজ ইতিবাচক রাজনীতি করবে। আমরা অবশ্যই গণতান্ত্রিক উপায়ে সব ধরনের প্রতিবাদ করব, কিন্তু গণতন্ত্রের মানদণ্ড ধ্বংস হতে দেব না।”

    বোস্টন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ (PR) বিভাগের গ্র্যাজুয়েট দিপকে আমেরিকায় থাকাকালীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) নামক ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল তৈরি করে নজর কাড়েন। তিনি এটিকে একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ বলে দাবি করেছিলেন। শুক্রবার সকালে তিনি দিল্লিতে নামেন এবং কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত সেন্ট্রাল দিল্লি জেলার যন্তর মন্তরের দিকে রওনা দেন। সেখানে তিনি এমন কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য করেন, যেগুলিকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের অনেকেই পাতি এবং চর্বিতচর্বণ আখ্যা দিয়েছেন।

    যুবসমাজ গুটি কয়েক মানুষের হাতের পুতুল নয়

    ঝাড়খণ্ডে দলীয় বৈঠকে অংশ নিতে আসা নীতিন নবীন (Nitin Nabin) তীব্র সমালোচনা করেন সেইসব বিত্তশালী ও ক্ষমতালোভী অভিজাত টুকরে টুকরে গ্যাংকে, যাঁরা ‘জেন-জি’ (Gen-Z) ট্যাগ ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, “বিদেশি মাটিতে বসে থাকা কিছু মানুষ ভাবছেন যে তাঁরা ভারতের যুবসমাজকে দিকনির্দেশনা দেবেন। ভারতের যুবসমাজ কৃষকদের সঙ্গে গ্রামের চাতালে বসে, গ্রামের মেঠো পথে থাকে, আমাদের কোচিং ইনস্টিটিউট এবং কলেজের ক্যাম্পাসে থাকে। ভারতের যুবসমাজ গুটি কয়েক মানুষের হাতের পুতুল হয়ে এগিয়ে যাবে না।” উল্লেখ্য, দিপকের ককরোচ জনতা পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলি মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লাখ লাখ ফলোয়ার পেয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় থাকা মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির হ্যান্ডেলের ফলোয়ারকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    কখনওই বরদাস্ত করা হবে না

    রাঁচির এই অনুষ্ঠানে নবীন (Nitin Nabin) আরও বলেন, “আজ দেশের মানুষের কাছে একটি বড় বার্তা দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ডিজিটাল মাধ্যম দেশ ও যুবসমাজের উন্নয়নের কাজে লাগানো যায়। কিন্তু দেশের যুব সমাজকে নেতিবাচক দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা কখনওই বরদাস্ত করা হবে না। তাই আমি বলব, আমার দেশের যুবসমাজ, একটি উন্নত ভারত গড়তে হলে আপনাদের সবাইকে জেগে উঠতে হবে…”

    বিজেপির এই কর্তা দু’দিনের সফরে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছেন। আজ, রবিবার তাঁর বোকারো স্টিল সিটিতে যাওয়ার কথা। এরপর তিনি রাঁচিতে বিজেপির জেলা ইন-চার্জ, জেলা সভাপতি এবং দলের বিশেষ মিডিয়া ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এদিকে, যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীরা সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET-UG) পরীক্ষায় ওঠা অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি করেছেন।

  • Delhi-Siliguri Bullet Train: দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বাংলার জন্য বুলেট ট্রেনের বড় পরিকল্পনা জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

    Delhi-Siliguri Bullet Train: দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বাংলার জন্য বুলেট ট্রেনের বড় পরিকল্পনা জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম রাজ্য সফরে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে রেলমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এবার কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে, যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের রেল ও পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। রেলমন্ত্রী বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলায় নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। বাংলাকে এবং দেশকে বাঁচানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদ। এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ফলে উন্নয়নের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।”

    কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের বার্তা

    নবান্নের বৈঠকে মূলত রেল প্রকল্প, মেট্রো সম্প্রসারণ, ফ্রেট করিডর, রেল নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, কেন্দ্রীয় সরকার এখন পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আটকে রাখা হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই বাধা দূর হয়েছে এবং কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

    মেট্রো প্রকল্প নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

    সাংবাদিক বৈঠকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর অভিযোগ, কলকাতার মেট্রো রেল সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন রেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকার বারবার বাধা সৃষ্টি করেছে। রেলমন্ত্রীর কথায়, “কলকাতার মানুষ যাতে আধুনিক মেট্রো পরিষেবা না পান, তার জন্য বিগত সরকার বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। হাইকোর্টের রায় পছন্দ না হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র রেলের উন্নয়নমূলক কাজ আটকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।” তিনি আরও বলেন, “ইউপিএ সরকারের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রেল খাতে বার্ষিক বরাদ্দ ছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ মোদী সরকারের আমলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রেকর্ড ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি বাংলার ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ।”

    কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণে নজির

    কলকাতা মেট্রো নিয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে রেলমন্ত্রী দাবি করেন, অতীতের তুলনায় বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে মেট্রো প্রকল্প শুরু হওয়ার পর পরবর্তী ৪২ বছরে মাত্র ২৮ কিলোমিটার মেট্রো রেলপথ নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আরও ৪৫ কিলোমিটার নতুন মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছে। তিনি বলেন, “কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেওয়া হবে। আগামী কয়েক বছরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা উন্নত মেট্রো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে।”

    দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টা! বুলেট ট্রেনের বড় ঘোষণা

    দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল দিল্লি-শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেন করিডর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা।
    অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য দেশের পূর্বাঞ্চলকে অত্যাধুনিক দ্রুতগতির রেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। সেই লক্ষ্যেই দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি উচ্চগতির বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। (এনজেপি থেকে নয়াদিল্লি বুলেট ট্রেনের প্রকল্পের সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়েছিল মাধ্যম।) প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, ট্রেনটি দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করে লখনউ, বারাণসী এবং পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী দিল্লি থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে পৌঁছনো সম্ভব হবে। রেলমন্ত্রীর মতে, এই প্রকল্প শুধু যাত্রী পরিবহণেই বিপ্লব আনবে না, বরং উত্তরবঙ্গের পর্যটন, বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রেও বিরাট পরিবর্তন ঘটাবে।

    ডানকুনি-সুরাট ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর

    শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত নতুন ইস্ট-ওয়েস্ট ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরির কথাও ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই করিডর চালু হলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহণ সম্ভব হবে। পরিবহণ ব্যয় কমবে, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ডানকুনি পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক্স হাব। নতুন করিডর কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও রফতানি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গতি আসতে পারে।

    রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়

    বিশ্লেষকদের মতে, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর এই বৈঠক শুধুমাত্র প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণেরও প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের অভিযোগে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত মিলেছে এই বৈঠক থেকে। রেলমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য একই লক্ষ্যে কাজ করলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর কোনও বাধা থাকবে না।

    নতুন বাংলার রেল রোডম্যাপ

    বুলেট ট্রেন, মেট্রো সম্প্রসারণ, ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর, অমৃত ভারত স্টেশন এবং শত শত ফ্লাইওভার-আন্ডারপাস—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক উচ্চাভিলাষী রেল রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। আগামী দিনে এই ঘোষণাগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে বাংলার পরিকাঠামো উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সাফল্য। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ও লজিস্টিক্স কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

LinkedIn
Share