Tag: ABVP

ABVP

  • ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে বিশাল ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। রবিবার, ১৮ অক্টোবর, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজরতগঞ্জের গান্ধী চৌক পর্যন্ত এই মিছিলে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও সংগঠনের সদস্য অংশ নেন। গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষার বার্তাই ছিল এই কর্মসূচির মূল বক্তব্য। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং, কাশী প্রান্তের সম্পাদক শিবম সিং, গোরক্ষ প্রান্তের সম্পাদক মঙ্গল গুপ্ত, অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা এবং কানপুর প্রান্তের সম্পাদক দীনেশ যাদব।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার

    সমাবেশ থেকে এবিভিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার একমাত্র জনগণের হাতে। ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠন বা পরিবর্তন সম্ভব; রাস্তায় শক্তি প্রদর্শন, জনতার চাপ কিংবা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা।

    নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নিয়ে বক্তব্য

    নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে উপযুক্ত প্রমাণ-সহ সাংবিধানিক ও আইনি পদ্ধতিতে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে জানায় এবিভিপি। সংগঠনের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন বা সুপ্রিম কোর্টের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশ্ন তোলা কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণ-সহ যথাযথ সাংবিধানিক মঞ্চে পেশ করা উচিত। কেরল, পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবিভিপি। সংগঠনের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যার ফলে ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।

    ‘জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে সরকারের ভবিষ্যৎ’

    এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের ভিত্তি হল জনগণের আস্থা, ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা। রাজনৈতিক মতবিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও, জনতার চাপ বা অরাজকতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ থাকলে প্রমাণ পেশ করে আইনি ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ও নেপালের ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের বুঝতে হবে যে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র ভারতীয় জনগণের। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরাখণ্ড, কেরল ও ওড়িশায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবিভিপির সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, লখনউয়ের সমাবেশে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

    ‘জাতি গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’

    এবিভিপির অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা বলেন, ভারতের যুবসমাজের শক্তির উৎস দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত চেতনা এবং জাতির প্রতি কর্তব্যবোধ। বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ভারতের বাস্তবতার সঙ্গে এক করে দেখা দেশের স্বতন্ত্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে উপেক্ষা করার শামিল। তাঁর বক্তব্য, ভারতের যুবসমাজ নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে গর্বিত এবং দেশের সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। যুবসমাজের ভূমিকা শুধু পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিজেদের চিন্তাভাবনা, আচরণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ গঠনেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। লখনউয়ের এই ছাত্র সমাবেশের মাধ্যমে যুবসমাজ জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছে বলে দাবি করে এবিভিপি। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষায় দেশের ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

  • Gen Z: নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রতি নতুন প্রজন্মের গভীর আস্থা, ওড়িশায় বিপুল জয় এবিভিপির

    Gen Z: নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রতি নতুন প্রজন্মের গভীর আস্থা, ওড়িশায় বিপুল জয় এবিভিপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৮ বছরের বিরতির পর ওড়িশার বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলিতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিপুল জয় লাভ করেছে অখিল ভারতীয় শিক্ষার্থী পরিষদ (ABVP)। তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ (Gen-Z)-র এই রায়কে দেশের রাজনীতির জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।দিল্লি সমেত সর্বত্র ‘জেন-জি’ নাম দিয়ে আন্দোলনে নামে বিশৃঙ্খলা, অসভ্যতামি করা হলেও, ‘জেন-জি’ যে জাতীয়তাবাদের সাথে আছেই আছে তা প্রমাণ হল ওড়িশায়।

    নির্বাচনের ফলাফল

    ওড়িশার মোট ১৩টি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৮টিতে সভাপতি পদে এবং ১১টিতে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছে এবিভিপি। এর পাশাপাশি রাজ্যের ৩৪৬টি কলেজের মধ্যে ২০৮টি কলেজে সভাপতি এবং ২২১টি কলেজে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছে এবিভিপি (ABVP)। ভুবনেশ্বরের উৎকলা বিশ্ববিদ্যালয়, কটকের রেভেনশ বিশ্ববিদ্যালয়, সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেওনঝড়ের ধরনীধর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবিভিপি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

    বছরের পর বছর ধারাবাহিক কাজ

    এবিভিপির (ABVP) এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সারা বছর ধরে চালানো বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কাজ। এবিভিপির ওড়িশা রাজ্য নেতৃত্বের মতে, এটি কোনো সাময়িক রাজনৈতিক ফল নয়। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অধিকার রক্ষা, ক্যাম্পাসের নানা সমস্যা সমাধান এবং ‘হোয়াই আই স্ট্যান্ড’ (Why I Stand) প্রচারের মাধ্যমে যে বিশ্বাস অর্জিত হয়েছে, তারই প্রতিফলন এই বিপুল ভোট।

    অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝির প্রতিক্রিয়া

    এবিভিপির এই বিশাল জয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পর ওড়িশায় এই জয় প্রমাণ করে যে দেশের তরুণ সমাজ ‘দেশ প্রথম’ (Nation First) নীতিকেই সমর্থন করছে। মিথ্যা, বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী রাজনীতিকে তরুণ সমাজ প্রত্যাখ্যান করেছে।

    ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এবিভিপি-কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রতি নতুন প্রজন্মের (Gen Z) গভীর আস্থা প্রকাশ করে। তিনি নতুন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের কাছে শৃঙ্খলা, জ্ঞান ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    নতুন নেতৃত্বের সূচনা

    ৮ বছর পর এই নির্বাচন (ABVP) হওয়ায় ওড়িশার কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আবার নতুন করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও ছাত্র রাজনীতির সক্রিয়তা ফিরে এসেছে। নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাঁরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ক্যাম্পাসের সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন।

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, মন্দিরের জমি দখল, ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, মন্দিরের জমি দখল, ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তরণের অভিযোগ, মন্দিরের সম্পত্তি দখল এবং ধর্মীয় উৎসব ঘিরে উত্তেজনার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার বিবরণে কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও তামিলনাড়ুর পাশাপাশি বাংলাদেশের সিলেট ও গোপালগঞ্জের ঘটনাও উঠে এসেছে (Hindus Under Attack)। তবে এসব ঘটনার মধ্যে বেশ কয়েকটি এখনও অভিযোগ এবং তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

    ভারতে গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা ঘিরে উত্তেজনা, মহিলাদের ধর্মান্তরণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ এবং মন্দিরের জমি জাল নথির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ সামনে এসেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর এবং একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ উঠেছে (Roundup week)।

    গণেশ বিসর্জনের শোভাযাত্রার পথ নিয়ে অশান্তি (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের বিজয়নগর জেলার হুভিনাহাদাগালির ইসলাম পেঠ এলাকায় গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। কোরাভারা ওনি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় শোভাযাত্রার পথ নিয়ে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানান।

    বিক্ষোভকারীরা আগের বছরের নির্ধারিত পথ অনুসরণের দাবি জানান। এদিকে, শোভাযাত্রার আয়োজকেরা দীর্ঘদিনের প্রচলিত পথ ব্যবহারের দাবিতে অনড় থাকেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বিধায়কের হস্তক্ষেপে বিকল্প পথ নিয়ে সমঝোতা হয়, এগোয় শোভাযাত্রা।

    উমর খালিদকে জাতীয়তাবাদী বলায় রাজনৈতিক বিতর্ক

    বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতে উমর খালিদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের বিরোধিতা করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। এই বিরোধিতার সমালোচনা করে কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা বিকে হরিপ্রসাদ উমর খালিদকে জাতীয়তাবাদী বলে অভিহিত করেন।

    হরিপ্রসাদ অভিযোগ করেন, নাথুরাম গডসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সংগঠনের উমর খালিদের সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার নেই। এদিকে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের বিরোধিতা করে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

    শ্রীরঙ্গম মন্দিরের  জমি দখলের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুতে শ্রীরঙ্গম মন্দিরের জমি জাল নথি ব্যবহার করে দখলের অভিযোগে ডিএমকের পদাধিকারী রামকুমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

    অভিযোগ, ১৯৩০ সালে জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে জমিটি শ্রীরঙ্গম মন্দিরকে দান করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই জমির আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। অভিযোগ, রামকুমার ২০২২ সালে জাল নথির মাধ্যমে সম্পত্তিটি অবৈধভাবে নিজের নামে নথিভুক্ত করেন এবং পরে জমিটি দখল করেন।

    তরুণীর ধর্মান্তরণ ঘিরে বিতর্ক

    উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগর জেলার এক তরুণীকে ঘিরে ধর্মান্তরণের অভিযোগ সামনে এসেছে। আজমগড় থেকে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি দৃশ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়।

    ভাইরাল হাওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, এক তরুণীকে বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে এবং নমাজ পড়ার জায়গা খুঁজতে।

    ঘটনাটি ঘিরে ধর্মান্তরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলেও, তরুণীর ধর্মান্তরণ হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি (Hindus Under Attack)।

    ধর্মান্তরণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ

    মধ্যপ্রদেশের রেওয়ায় বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ছয় মহিলা সইফ পাঠান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন বলে খবর।

    অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অভিযুক্ত তাঁদের অনুসরণ করতেন, হেনস্তা করতেন এবং ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করতেন। পাশাপাশি তাঁদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ওই মহিলারা।

    বিষয়টি নিয়ে আমাহিয়া থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

    বন্দে মাতরম বাজানো বন্ধের নির্দেশ ঘিরে উত্তেজনা

    কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার উপ্পিনাঙ্গাডিতে গণেশ বিসর্জনের শোভাযাত্রা চলাকালীন বন্দে মাতরম বাজানো নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় (Roundup week)।

    সার্বজনিক শ্রী গণেশোৎসব সমিতি সেবা ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত বিসর্জনের সময় এক পুলিশ কর্তা বন্দে মাতরম বাজানোয় হস্তক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ। তিনি গানটি প্রথম দুই স্তবকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ঘটনায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

    নাবালিকাকে অশ্লীল দৃশ্য দেখানোর অভিযোগে গ্রেফতার

    কর্নাটকের পুরনো হুবলিতে এক নাবালিকাকে মোবাইলে অশ্লীল দৃশ্য দেখানো এবং তার সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণের চেষ্টার অভিযোগে বছর আটত্রিশের মাজিদ নাদাফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    জানা গিয়েছে, শিশুটি বাড়িতে ফিরে অভিভাবকদের পুরো ঘটনাটি জানায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা পুরনো হুবলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় (Hindus Under Attack)।

    উত্তরাখণ্ডে ধর্মান্তরণ ও বিয়ের অভিযোগে যুবক আটক

    উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের লাকসার এলাকায় ছত্তিশগড়ের এক হিন্দু মহিলাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার অভিযোগে আশিফ নামে এক মুসলিম যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    অভিযোগ, ওই যুবক মহিলাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে প্ররোচিত করেন এবং পরে তাঁকে বিয়ে করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে ধর্মান্তরণ ও বিয়ের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার

    কর্নাটকের চিক্কাবল্লাপুরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিকল্পনার অভিযোগে সাব্বির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বাপুজিনগরের বাসিন্দা।

    অভিযোগ অনুযায়ী, দেশে বড় ধরনের হিংসাত্মক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন অভিযুক্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিশানা করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে

    (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশের ছবি

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সিলেটে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর এবং গোপালগঞ্জে একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ সামনে এসেছে।

    দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর

    সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বাজার নবীনগর সর্বজনীন পূজামণ্ডপে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, সাইদুজ্জামান শিমুল নামে বছর ঊনত্রিশের এক যুবক বঁটি নিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করেন এবং প্রতিমার বিভিন্ন অংশে আঘাত করে।

    পূজা কমিটির সদস্যরা পুলিশে খবর দিলে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি বঁটি উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্তকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত (Hindus Under Attack)।

    হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ

    বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বড় ভাটরা গ্রামে একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগকারী নীলকণ্ঠ মণ্ডলের দাবি, ২০০৩ সালে তাঁর পরিবার এস শেখের কাছ থেকে সাড়ে ৩৪ শতাংশ জমি কিনেছিল। প্রথমে জমিটি তাঁর মায়ের নামে নথিভুক্ত করা হয়। মায়ের মৃত্যুর পর সম্পত্তির মালিকানা তাঁর তিন ছেলের কাছে যায়।

    নীলকণ্ঠের দাবি, জমি তাঁদের নামেই করা হয়েছিল। নিয়মিত ট্যাক্সও দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও হাসিনা বেগম নামে এক মহিলা সশস্ত্র লোকজন নিয়ে কারখানা দখল করেন বলে অভিযোগ।

    পরিবারের দাবি, নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাঁরা এখন নিজেদের কারখানাতেও যেতে পারছেন না। তবে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    ভারত ও বাংলাদেশের এসব ঘটনা ঘিরে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার এবং ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের বিষয়গুলি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হ্রাস এবং সংখ্যালঘুদের জমি দখলের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকত। তাঁর গবেষণায় বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি একটি গবেষণাভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নয়।

    এদিকে (Hindus Under Attack), ভারতে ধর্মীয় উৎসবের উপর বিধিনিষেধ, ধর্মান্তরণসংক্রান্ত অভিযোগ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রশ্নও উঠে এসেছে (Roundup week)।

     

  • ABVP: কেরলের কলেজে এসএফআই শাসনের অবসান, সব প্রধান পদেই জয়ী এবিভিপি

    ABVP: কেরলের কলেজে এসএফআই শাসনের অবসান, সব প্রধান পদেই জয়ী এবিভিপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের ত্রিপুনিথুরা সরকারি সংস্কৃত কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বড়সড় পালাবদল। দীর্ঘদিন ধরে কলেজের ছাত্র সংসদে প্রভাব ধরে রেখেছিল এসএফআই। তাদের সরিয়ে এ বার সংসদের নিয়ন্ত্রণ নিল এবিভিপি (ABVP)। নির্বাচনে ছ’টি প্রধান পদেই জয়ী হয়েছে এবিভিপি। কলেজটি (Kerala Tripunithura College) দীর্ঘদিন ধরেই এসএফআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।

    জানা গিয়েছে, চেয়ারপার্সন পদে জয়ী হয়েছেন স্নিগ্ধা এম হরি। ভাইস চেয়ারপার্সন হয়েছেন আদিত্য টি এ। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিগ্নেশ ভট্ট। ম্যাগাজিন সম্পাদক হয়েছেন বিগ্নেশ ডি এবং আর্টস ক্লাব সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন অঞ্জলি টি। বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিয়ন কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন নিবেদ্যা কে এন। দ্বিতীয় স্নাতক প্রতিনিধি এবং দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর প্রতিনিধি পদে জয়ী হয়েছেন যথাক্রমে শিবানি আর এবং অবনী সি বি।

    চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজটিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের প্রভাব ছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বার সেই দীর্ঘ আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে এবিভিপির এই ফলাফল ত্রিপুনিথুরার ছাত্র রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে উঠে এসেছে।

    জয়ী এবিভিপি (ABVP)

    ফল প্রকাশের পর এবিভিপির তরফে এই জয়কে এসএফআইয়ের কথিত “ছাত্রবিরোধী নীতির” বিরুদ্ধে ছাত্রদের রায় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সংগঠনের এক প্রতিনিধির দাবি, ত্রিপুনিথুরার এই ফল কেরলের অন্যান্য কলেজে এবিভিপির সংগঠনগুলিকেও উৎসাহিত করবে।

    এবিভিপির আরও অভিযোগ, আগের এসএফআই-নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংসদগুলি সংস্কৃত ভাষা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। ছাত্রদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। এসএফআইয়ের কার্যকালে পর্যাপ্ত ছাত্রকল্যাণমূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে এবিভিপি।

    পুরসভায়ও পালাবদল

    ত্রিপুনিথুরার বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও এই ফলকে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি ত্রিপুনিথুরা পুরসভার নিয়ন্ত্রণ নেয় বিজেপি। ২০২৫ সালের স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপি ২১টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়; বাম গণতান্ত্রিক জোট পেয়েছিল ২০টি এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ১২টি আসন। পরে পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদও দখল করে (ABVP) বিজেপি।

    তবে পুরসভা নির্বাচন এবং কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন পৃথক বিষয়। তাই কলেজের এই ফলকে বৃহত্তর জনমতের সরাসরি প্রতিফলন বলা বোধহয় ঠিক হবে না। সরকারি সংস্কৃত কলেজটি মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন পরিচালিত হয় (Kerala Tripunithura College)।

    ত্রিপুনিথুরা সরকারি সংস্কৃত কলেজে দীর্ঘদিনের এসএফআই-প্রভাবের পর এবিভিপির এই জয় কেরলের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে রাজনৈতিক পরিসর দখলের প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিল (ABVP) বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

     

  • DUSU Elections 2026: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজে জয়ী এবিভিপি, ডুসু নিয়েও ৪-০ জয়ের দাবি

    DUSU Elections 2026: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজে জয়ী এবিভিপি, ডুসু নিয়েও ৪-০ জয়ের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও জয় পেয়েছে এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ)। সংগঠনের দাবি, অদিতি মহাবিদ্যালয়, শ্রী অরবিন্দ (ABVP) কলেজের প্রাতঃকালীন শাখা, ভারতী কলেজ, শিবাজি কলেজ-সহ একাধিক (DUSU Election 2026) কলেজে তাদের প্রার্থীরা সবক’টি বা গুরুত্বপূর্ণ পদে জয় পেয়েছেন।

    এবিভিপির দাবি, অদিতি মহাবিদ্যালয়ে সবক’টি পদেই জয় পেয়েছে তাদের প্যানেল। শ্রী অরবিন্দ কলেজের প্রাতঃকালীন শাখায় ৬টি পদেই জয় পেয়ে ৬-০ ফল করেছে তারা। ভারতী কলেজে ৮টি পদেই এবিভিপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। শিবাজি কলেজেও ৬-০ ব্যবধানে সবক’টি পদ দখল করেছে এবিভিপি।

    ড. ভীমরাও আম্বেদকর কলেজে চারটি পদেই এবিভিপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। কেশব মহাবিদ্যালয়ে সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সম্পাদক—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় এসেছে বলে সংগঠনের দাবি। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কলেজে সভাপতি ও সম্পাদক পদে জয় পাওয়ার পাশাপাশি দুই কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর পদেও এবিভিপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

    শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সেও সভাপতি, সম্পাদক এবং দুই কাউন্সিলর-সহ সবক’টি পদে এবিভিপি প্রার্থীদের জয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিভাগেও সভাপতি, মন্ত্রী এবং দুই কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর পদে এবিভিপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে।

    ডুসুতে চার পদেই জয়ের প্রত্যাশা (DUSU Elections 2026)

    কলেজগুলির নির্বাচনে পাওয়া সমর্থনের ভিত্তিতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় প্যানেলেও পড়ুয়াদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এবিভিপি। সভাপতি পদে যশ ডাবাস, সহ-সভাপতি পদে ইশু মৌর্য, সম্পাদক পদে রিয়া ছাবড়ি এবং যুগ্ম সম্পাদক পদে লক্ষ্যরাজ সিংকে প্রার্থী করেছে সংগঠনটি।

    এবিভিপির বক্তব্য, কলেজগুলির নির্বাচনে যেমন তাদের প্রার্থীরা সমর্থন পেয়েছেন, তেমনই ডুসুর চারটি পদেও পড়ুয়ারা তাদের প্যানেলের উপর আস্থা রাখবেন। সংগঠনটি চারটি পদেই জয়কে ৪-০ ব্যবধানে ‘ক্লিন সুইপ’ হিসেবে দেখার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে।

    তবে ১৯ সেপ্টেম্বর ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর প্রাথমিক গণনায় বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। ভোটের দিন, ১৮ সেপ্টেম্বর, কেন্দ্রীয় প্যানেলের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছিল (DUSU Election 2026)।

    ভুয়ো পরিচয়পত্র ও বিভ্রান্তিকর প্রচারপত্র নিয়ে অভিযোগ

    নির্বাচন চলাকালীন এনএসইউআই-ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, দয়াল সিং কলেজে এবিভিপির নাম ও প্যানেল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া প্রচারপত্র বিলি করার অভিযোগে দু’জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই ধরনের ঘটনায় এর আগে আরও এক ব্যক্তিকেও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি সংগঠনের।

    এলসি-২-এর প্রাতঃকালীন শাখায় ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসা এক ছাত্রীকে নিরাপত্তাকর্মীরা আটক করেন বলেও দাবি এবিভিপির। আরও দুই ছাত্রী ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

    অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবিভিপি। একই সঙ্গে সংগঠনের প্রার্থীদের ও কর্মীদের দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সব নিয়ম সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আদালতের নির্দেশের মধ্যে বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে।

    এবিভিপির দিল্লি রাজ্য সম্পাদকের প্রতিক্রিয়া

    এবিভিপির দিল্লি রাজ্য সম্পাদক সার্থক শর্মা বলেন, “ডুসু নির্বাচন রাহুল গান্ধীর সভাপতির আসনের নির্বাচন নয়; এটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের গণতান্ত্রিক নির্বাচন এবং এখানকার পড়ুয়ারাই এর ফল নির্ধারণ করবেন। কংগ্রেসের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামো, যুব কংগ্রেস এবং এনএসইউআই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা নিজেদের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন।”

    তিনি আরও বলেন, “কলেজগুলির নির্বাচনে এবিভিপি পড়ুয়াদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে এবং ডুসু নির্বাচনেও আমরা পড়ুয়াদের সমর্থন পাব। এনএসইউআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারপত্র সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, সেগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষী প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা (ABVP) নেওয়া উচিত।”

    দিল্লি হাইকোর্টের নির্বাচনী নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়ে সার্থক বলেন, বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ করার নির্দেশ-সহ আদালতের সব নির্দেশ মেনে চলতে সংগঠনের কর্মীদের বলা হয়েছে। তাঁর দাবি, ডুসুতে (DUSU Election 2026) এবিভিপির চার প্রার্থীই জয়ী হয়ে ৪-০ ফল করবেন।

     

  • Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরে মুছল ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরে মুছল ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari on Jadavpur) নির্দেশ মতো যাদবপুর ক্যাম্পাসে (Jadavpur University) থাকা একাধিক ‘দেশবিরোধী’ ও ‘আপত্তিকর’ দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি (Jadavpur University Graffiti) মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের সেই কাজ শুরু হওয়ার আগেই মঙ্গলবার তড়িঘড়ি বিতর্কিত কিছু দেওয়াল লিখন নিজেদের উদ্যোগে মুছে দিল বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল (আর্টস হস্টেল) চত্বরে থাকা এই ধরনের বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কড়া আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    রাখিবন্ধন উৎসবে যাদবপুরে মুখ্যমন্ত্রী!

    সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহ থেকেই এই অভিযান পুরোদমে শুরু হতে পারে। কিন্তু সেই সরকারি কাজ শুরু হওয়ার আগেই মঙ্গলবার অলক্ষ্যে বেশ কিছু বিতর্কিত দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি ঢেকে ফেলা হল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষের এই প্রস্তাবিত সাফাই অভিযানে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও হস্টেল চত্বরে স্থান পাওয়া যাবতীয় ‘আপত্তিকর’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও গ্রাফিতি একে একে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংকট ও তর্কের মাঝে নতুন জল্পনা ছড়িয়েছে যে, আসন্ন রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সশরীরে পরিদর্শনে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    আপত্তিকর গ্রাফিতি

    সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল ও আশেপাশের দেওয়ালে চরম বিতর্কিত একাধিক স্লোগান রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘ব্রেক ফ্যাসিস্ট উইথ রেড’, ‘নক্সালবাড়ি’, এবং ‘ফ্যাসিস্ট ডু নট ডিসার্ভ ডেমোক্রেসি, দে ডিসার্ভ আ বুলেট ইন দ্য হেড’ (অর্থাৎ ফ্যাসিস্টরা মাথায় গুলি খাওয়ার যোগ্য)। এই সমস্ত বিতর্কিত বার্তা ও লেখা নিয়ে সর্বস্তরে তীব্র আপত্তি উঠতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় জরুরি বৈঠক ডাকে। সেই বৈঠকেই প্রাথমিক পর্যায়ে সব আপত্তিকর গ্রাফিতি ও স্লোগান মুছে ফেলার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

  • Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যাদবপুর ক্যাম্পাসে কোনওভাবেই দেশবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করবে না রাজ্য সরকার। স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Jadavpur)। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল চত্বরে দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন বা ছবি রয়েছে! শুভেন্দু অধিকারী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সেলে এমনই কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগগুলি এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কিছু আপত্তিকর ভিডিয়ো এবং ছবি পেয়েছেন তিনি। যদি তা সত্যি হয় অবিলম্বে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ক্যাম্পাস চত্বরে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও

    সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের ‘আপত্তিকর’ ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্টস ডিভিশন বয়েজ হস্টেল’-এর চত্বরে আপত্তিকর, দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন এবং ছবি আঁকার অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে ওই হস্টেল চত্বরে গিয়ে বিষয়টা যাচাই করতে হবে। যদি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়, তবে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ এবং মর্যাদার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে সকলকে। তার পরেই যাদবপুরের হস্টেল চত্বরের এই সব দেওয়াল লিখনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘‘যদি এমন দেশবিরোধী বার্তা এবং বিকৃত মানসিকতার ছবির উপস্থিতি প্রমাণিত হয়, তবে অবিলম্বে সেই দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।’’ কারা এ ধরনের দেওয়াল লিখন বা ছবি আঁকার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপে ‘জিরো টলারেন্স’

    শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন, ‘‘কোনও অবস্থাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের যে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে চলে। সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবশ্যই সেই কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাঁর বার্তা, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবশ্যই মেধা এবং শৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বজায় রাখতে হবে। নজর রাখতে হবে যাতে কখনওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি অসামাজিক কার্যকলাপের ক্ষেত্র হয়ে না-ওঠে।’’

    যাদবপুরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা

    যাদবপুরের অশান্তি নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা করবেনই। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না সেখানে। শিক্ষা দফতরকে ঢুকতে দেয়নি। সিসিক্যামেরা লাগাতে দেয় না। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়। যাঁরা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তুলছেন, তাঁদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে চুপ থাকেন। অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। কিন্তু এখন বিজেপি শাসিত রাজ্যে তা চলবে না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার রাখির দিন দেশপ্রেম দিবসের ঘোষণা করেছে সরকার। গোটা পশ্চিমবঙ্গে চার হাজার অনুষ্ঠান হবে। এমনকী সেদিন যাদবপুরে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গাওয়া হবে বলেও জানান ।

    ‘‘কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না”

    গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ। গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি, প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের নামী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে থাকে। এনিয়ে আরও একবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘যাদবপুরে কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না। সব ডকুমেন্ট আছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই যাদবপুর ইস্যুতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে কিছু হয়নি। সব স্বাভাবিক রয়েছে। আজও ক্লাস হয়েছে। কোনও সমস্যা নেই।”

    যাদবপুর নিয়ে মিথ্যা প্রচার

    মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, যাদবপুরে নতুন করে কিছুই ঘটেনি। একটি বিশেষ সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘যাদবপুরে কী হয়েছে? কিছুই তো হয়নি। একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল এবং তাদের প্রিন্ট মিডিয়ার নিজেদের স্বার্থ আছে। আমাদের কোনও স্বার্থ নেই।” ওই সংবাদ মাধ্যমের নির্বাচনী সমীক্ষা যে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, তাও মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ওই সংবাদ মাধ্যমের টক শো-তে যারা যায়, তারা বলছিল যে বিজেপি কীভাবে লড়বে! এরা তো হিন্দুদের দল, দেড়শো আসনে লড়ছে, ১১০-১২০টি আসন পেতে পারে। ওই বড় মিডিয়া গ্রুপের সব প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা ডাহা ফেল করেছে। তাই ওরা এখন এসব হজম করতে পারছে না। আমি এসব নিয়ে কথা বলতে একেবারেই আগ্রহী নই। আমাকে দেশভক্ত নাগরিকরাই মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন, ওরা বানায়নি।”

  • Jadavpur Incident: যাদবপুরে দেশবিরোধী কাজ! এনআইএ তদন্তের দাবি এবিভিপির, অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

    Jadavpur Incident: যাদবপুরে দেশবিরোধী কাজ! এনআইএ তদন্তের দাবি এবিভিপির, অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ক্যাম্পাসের ভেতরে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলছে অভিযোগ এবিভিপির। ঠিক কীভাবে এবং কার মদতে এই কাজ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে এবার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা ‘এনআইএ’ (NIA)-কে দিয়ে তদন্তের দাবি তুলল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি- ABVP)। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ‘জুটা’ (JUTA)-র সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম বা প্রতীকচিহ্ন ভাঙার নেপথ্যে হাত রয়েছে ওই অধ্যাপকেরই, আর সেই অপরাধে রাজ্যের থানায় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে।

    সাংবাদিক বৈঠকে এবিভিপি

    ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার রাতে। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ‘ফেটসু’ (FETSU)-র জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে আচমকাই তেতে ওঠে যাদবপুর ক্যাম্পাস। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে এবিভিপি সমর্থকদের তুমুল হাতাহাতি ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ঘটনার জেরে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে নামলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ভেঙে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমব্লেম। সাংবাদিক বৈঠক ডাকে এসএফআই। ঘটনার ৩৭ ঘণ্টা পর সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন উপাচার্য। সেই বিক্ষোভের ঘটনার রেশ টেনেই রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দেয় এবিভিপি নেতৃত্ব।

    এনআইএ-কে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    সাংবাদিক বৈঠকে এবিভিপির নেতা-নেত্রীরা অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে আস্তানা বানিয়ে এক শ্রেণির সমাজবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি কাজ করছে। তাই বিষয়টি কেবল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে না রেখে সরাসরি উচ্চ শিক্ষা দফতর এবং এনআইএ-কে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করানো প্রয়োজন। এবিভিপির দাবি, সংঘর্ষের দিন তাঁদের একাধিক ছাত্রকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষ চলাকালীন ক্যাম্পাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক এমব্লেমটির একটি অংশ ভেঙে পড়ে। উল্লেখ্য, এই ঐতিহ্যবাহী এমব্লেমের নকশা তৈরি করেছিলেন স্বয়ং নন্দলাল বসু। দুই পক্ষের মারামারির মধ্যেই শিল্পাচার্যের আঁকা সেই এমব্লেমের পদ্মের পাপড়ির বলয়টি ভেঙে টুকরো হয়ে যায়।

    মিথ্যে অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ

    এবিভিপির দাবি, এমব্লেম ভাঙার সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনও কর্মী জড়িত নন। বরং এর পেছনে রয়েছেন জুটার সম্পাদক তথা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা। এবিভিপি নেতৃত্ব জানান, এবিভিপির কেউ যে প্রতীকচিহ্ন ভেঙেছে, তার কোনও ছবি বা ভিডিও প্রমাণ নেই। তাই মিথ্যে অপবাদ দেওয়ার অভিযোগে ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তবে সংগঠনের কোনও সদস্য যদি নিরপেক্ষ তদন্তে অপরাধী প্রমাণিত হন, তবে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • Jadavpur Chaos: বুধবার রাতে কী ঘটেছিল? যাদবপুরের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

    Jadavpur Chaos: বুধবার রাতে কী ঘটেছিল? যাদবপুরের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুরে (Jadavpur University) ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। গঠন করা হচ্ছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। আজ, ২১ অগাস্ট কমিটির ঘোষণা করা হবে। বুধবার রাত থেকেই উত্তপ্ত যাদবপুর। বৃহস্পতিবার সকালেও এবিভিপি (ABVP) ও বাম ছাত্র সংগঠনের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অশান্তির রেশ পড়ে নন্দলাল বসুর তৈরি ফলকেও। ফলক ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন একাধিক প্রাক্তনী এবং প্রাক্তন অধ্যাপক। গত দুই দিন ধরে চলা এই অশান্তির ঘটনারই তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির কী কী কাজ হবে, কোন কোন বিষয়ে তদন্ত করা হবে, সেই সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য (Chiranjib Bhattacharya)।

    কী কী জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য?

    • ১. উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ২১ অগাস্টের মধ্যে এই কমিটি গঠন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
    • ২. ১৯ অগাস্ট রাতে এবং ২০ অগাস্টের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে যাদবপুর থানায় পুলিশ অভিযোগ দায়ের করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
    • ৩. ক্যাম্পাসে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী সোমবার বিকেল ৩টায় সমস্ত স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে বৈঠক করা হবে।
    • ৪. ১৯ অগাস্ট রাতের ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে। তদন্ত কমিটির হাতে সেই ফুটেজ তুলে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বেআইনিভাবে প্রবেশ করা বাইরের ব্যক্তি-সহ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের সনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
    • ৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাফিলতি হয়েছিল কি না, সেটাও তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ঘটেছিল

    বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur Chaos) একাধিক ছাত্র সংগঠন সূত্রে খবর, ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই প্রাথমিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বাম ও দক্ষিণপন্থী ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষ চলে প্রায় সারা রাত। মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতেরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বুধবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে দাবি। দক্ষিণপন্থী ছাত্রদের দেখতে রাতেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন যাদবপুর এলাকার বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। রাতে যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। এবিভিপি-র কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী দাবি করেন, “অতিবাম ও দিমাগি নকশালেরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে আক্রমণ চালিয়েছে।” তাঁদের অভিযোগ, এবিভিপি-র ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছে।

  • Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেনারেল বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University)। বুধবার রাতের ওই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা। বৈঠক চলাকালীন এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ফেটসু-ঘনিষ্ঠ পড়ুয়াদের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি হয়। তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাতাহাতি রূপ নেয় সংঘর্ষের। ঘটনায় দু’পক্ষেরই একাধিক পড়ুয়া জখম হয়েছেন বলে (Left Student) দাবি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাও করাতে হয়েছে বলে খবর। যদিও ঠিক কী কারণে আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা নিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।

    এবিভিপির অভিযোগ (Jadavpur University)

    আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির অভিযোগ, জেনারেল বডির বৈঠক চলাকালীন তাঁদের কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে সেই ঘটনা হাতাহাতির আকার নেয়। সংগঠনের দাবি, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সংগঠনের আরও অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে ডেকে পরিকল্পিতভাবে এসএফআই এবং ডিএসও-ডিএসএফ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। আক্রমণ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল রায়ের উপরেও। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। এদিকে, ফেটসুর অভিযোগ, এবিভিপি-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পড়ুয়া বৈঠকে এসে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। তাঁদের আচরণের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার পরেই তা আকার নেয় সংঘর্ষের।

    জখম এবিভিপির ছাত্র নেতা

    বামপন্থী পড়ুয়াদের মারে জখম হয়েছেন এবিভিপির অর্ণব দাস। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের দাবি, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা ওই জেনারেল বডির বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। তাঁর কথায়, “আজকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা জেনারেল বডি বৈঠকে তাঁরা ঠিক করেন কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত মানবেন না। আমরা বলেছি, নির্বাচন ছাড়া এমন কোনও সিদ্ধান্ত হবে না। সর্বোপরি, আমাদের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে কোনও রাজনীতি চলবে না। আমি বলেছিলাম, ইউনিয়ন রুমে (Jadavpur University) এরকম স্লোগান লেখা থাকবে না, কারণ ইউনিয়ন হয়নি। তার পরেই ওরা আচমকা এসে আমাকে ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। আমার চশমা ছিটকে পড়ে। আমাকে সিনিয়ররা বাঁচাতে এলে তাঁরাও জখম হন।”

    বিরোধীদের অভিযোগ

    অর্ণবের আরও দাবি, ঘটনার প্রথম দিকে ৭০ থেকে ৮০ জনের জমায়েত হয়েছিল। পরে যখন মারধর শুরু হয়, তখন সেখানে প্রায় ২০ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে এবিভিপি। ঘটনাস্থলে বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আরএসএসের এই ছাত্র সংগঠন। অন্যদিকে, ফেটসুর সদস্য বৈদিক সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের একটা সাংগঠনিক বৈঠক চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরকারী ঠিক করার জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রগোষ্ঠী বারবার উসকানিমূলক মন্তব্য করতে থাকে। তারপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং মারধর শুরু হয়।” বৈদিকের পাল্টা অভিযোগ, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকেও মারধর করা হয়েছে। বাঁশ এবং গাছের মোটা ডাল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। তিনি জানান, কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছে তাঁর সংগঠন ফেটসু-ও (Left Student)।

    জেনারেল বডির বৈঠক কীভাবে?

    এই ঘটনার পাশাপাশি জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবিভিপির বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন থাকার কথা নয়। তাহলে কীভাবে জেনারেল বডির বৈঠক ডাকা হল, সেই প্রশ্ন তুলেছে তারা। সংগঠনের প্রশ্ন, নির্বাচন না হলে ছাত্র ইউনিয়নের নামে কোনও বৈঠক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা থাকে কি (Jadavpur University)? ফেটসুর পাল্টা বক্তব্য, নির্বাচন না হলেও ছাত্রদের সাংগঠনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনেই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা। তাদের বক্তব্য, ছাত্রদের সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনার পর বুধবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী চক্রবর্তী। জেনারেল বডির বৈঠকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান এবং নকশাল-মাওবাদী রাজনীতির অভিযোগও তোলেন তিনি।

    বিধায়কের বক্তব্য

    শর্বরী বলেন, “কোনও ইউনিয়ন নেই। তারপরেও কী করে জিবির বৈঠক ডাকা হয়েছে? কে ডেকেছে বৈঠক? আমি সৃজন ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞেস করছি, কে ডেকেছে জিবির বৈঠক (Left Student)?” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “যাদবপুরকে নকশাল এবং দেশবিরোধী শক্তি, মাওবাদী দিয়ে আপনারা ভর্তি করে রাখবেন? কী ভেবেছেন, কী? এমনটা চলবে না। যাদবপুরে তো নয়ই।” ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করে তাঁদের পুলিশের কাছে হাজির করার দাবিও জানান শর্বরী। তাঁর বক্তব্য, “এক ঘণ্টার মধ্যে যদি যাদবপুর থানায় সারেন্ডার না করান… আমি কিন্তু যেখানে লুকিয়ে আছে, সেখান থেকে টেনে বের করব (Jadavpur University)।”

    থানায় বিক্ষোভ এবিভিপির

    এরপর ওই এলাকার বিজেপি কর্মী এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সদস্যরা মিলে রাতে স্থানীয় থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। এবিভিপির দাবি, তাঁদের বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। একইসঙ্গে তাদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভিতরে হামলা বা আগুন লাগানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন, ‘‘দলিত প্রেমের কথা বলা বাম, অতিবাম ও দিমাগি নকশালরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁদের বলে দলিতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই।’’ তাঁর দাবি, এবিভিপির ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। শুভব্রত জানান, বেশ কয়েকজনের নামে এফআইআর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে গণতান্ত্রিকভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।’’ যদিও শর্বরীর অভিযোগ এবং এবিভিপির বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কোনও যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে এসএফআই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআইয়ের শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজকের জিবি মিটিংয়ে এসএফআইয়ের কোনও ছাত্র উপস্থিত ছিলেন না। এই জিবি মিটিংটি ফেটসুর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এএফএসইউ এবং ডিএসএফের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।”

    ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ

    জেনারেল বডি বৈঠককে কেন্দ্র করে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও এবিভিপিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শুভদীপ। তিনি বলেন, “কেউ যদি দেশবিরোধী স্লোগান দিয়ে থাকে, তাহলে এবিভিপিকে বলব অভিযোগ না করে পুরো বিষয়টি উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে। তাঁরা নিজেরা কেন ব্যবস্থা নেবেন? পুরো বিষয়টি দেখার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের (Jadavpur University)।” অন্যদিকে, ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, বুধবার রাতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশ, ছাত্র সংগঠনের কার্যকলাপ এবং জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    সব মিলিয়ে, জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে বুধবার রাতের সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। একদিকে বৈঠকের বৈধতা এবং ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে হামলা এবং পাল্টা হামলা এবং উসকানির অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন, তা স্পষ্ট করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই (Left Student) পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বৃহস্পতিবারের প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে ঘিরেও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে (Jadavpur University)।

     

LinkedIn
Share