Tag: Annapurna Yojana

  • Seva Setu Abhiyan: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি! রাজ্যজুড়ে চলছে ‘সেবা সেতু অভিযান’ শিবির, কী কী মিলছে?

    Seva Setu Abhiyan: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি! রাজ্যজুড়ে চলছে ‘সেবা সেতু অভিযান’ শিবির, কী কী মিলছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনও মেলেনি পরিষেবা? কোথায় আবেদন করবেন বা আবেদনের পর নিজের নামের স্ট্যাটাস কী, তা নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন? এবার সেই সমস্যা মেটাতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে সেবা সেতু অভিযান শিবির (Seva Setu Abhiyan)। আজ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ শিবির চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।

    রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই তিন দিনের শিবিরে একই জায়গা থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ মিলছে। পাশাপাশি বেশ কিছু প্রকল্পের আবেদনের স্ট্যাটাসও জানা যাচ্ছে। ফলে সরকারি পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দফতরে ঘুরতে হবে না।

    রাজ্যজুড়ে ৩৩০০টি শিবির

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লক, পুরসভা, কর্পোরেশন-সহ বিভিন্ন স্তরে রাজ্যজুড়ে মোট ৩৩০০টি সেবা সেতু অভিযান শিবির চালু হয়েছে। এই শিবিরগুলিতে এক ছাদের নিচে প্রায় ৬০টি সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিবিরে গিয়ে সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে। একইসঙ্গে যাঁরা ইতিমধ্যে কোনও প্রকল্পে আবেদন করেছেন, তাঁরাও নির্দিষ্ট পরিষেবার ক্ষেত্রে আবেদনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

    কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা মিলছে?

    সেবা সেতু অভিযান শিবিরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● অন্নপূর্ণা যোজনা
    • ● আয়ুষ্মান ভারত
    • ● প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা
    • ● শিক্ষাশ্রী
    • ● জয় জোহার
    • ● পিএম কিষান ক্রেডিট কার্ড
    • ● পিএম কিষান স্বনিধি
    • ● বিধবা ভাতা
    • ● বয়স্ক ভাতা
    • ● বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতা

    এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্যও প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও আবেদনপত্রের ব্যবস্থা থাকছে।

    অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন করে আবেদন

    এই শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন করে আবেদন করার সুযোগ। যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁরা শিবির থেকে আবেদনের ফর্ম সংগ্রহ করে আবেদন করতে পারবেন। অন্নপূর্ণা যোজনায় ইতিমধ্যে আবেদন করে থাকলে তার স্ট্যাটাস সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া যাবে। একইভাবে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের স্ট্যাটাস জানার ব্যবস্থাও থাকছে।

    বিধবা ও বয়স্ক ভাতার জন্যও আবেদন

    শুধু অন্নপূর্ণা বা আয়ুষ্মান নয়, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই শিবির গুরুত্বপূর্ণ। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতার জন্য নতুন আবেদনপত্র বিলি করা হচ্ছে। ফলে যোগ্য ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শিবিরে গিয়ে আবেদন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

    থাকছে ব্যাঙ্কের বিশেষ ক্যাম্পও

    সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি সেবা সেতু অভিযান শিবিরে ব্যাঙ্কের বিশেষ ক্যাম্পেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ থাকছে। এর ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কিং পরিষেবার প্রয়োজন থাকলেও একই জায়গায় তার সমাধান করার সুযোগ মিলবে।

    কলকাতা ও হাওড়ায় কোথায় শিবির?

    কলকাতা পুরনিগম এলাকায় দুটি ওয়ার্ড পিছু একটি করে সেবা সেতু অভিযান শিবির চালু করা হয়েছে। ফলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দারা নিজেদের এলাকার নির্দিষ্ট শিবিরে গিয়ে পরিষেবা নিতে পারবেন।অন্যদিকে হাওড়া পুরনিগমের ৫০টি ওয়ার্ডের জন্য ২৬টি জায়গায় সেবা সেতু অভিযান শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    আপনার এলাকার শিবির কোথায়, জানবেন কীভাবে?

    নিজের এলাকার সেবা সেতু অভিযান শিবির কোথায় হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় থাকলে ফোন করেই তথ্য জানা যাবে। প্রশাসনের তরফে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে নিকটবর্তী শিবিরের ঠিকানা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যাবে।

    হেল্পলাইন নম্বর:
    ● ১৮০০ ৩৪৫ ০১১৭
    ● ০৩৩-২২১৪ ০১৫২

    তাই অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিষান, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা কিংবা অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে যাঁরা আবেদন করতে চাইছেন, তাঁরা ২ থেকে ৪ অক্টোবরের মধ্যে সেবা সেতু অভিযান শিবিরে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিতে পারেন।

  • GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড় তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার প্রথমবার কালিম্পং সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও, খারাপ আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতা কম থাকায় হেলিকপ্টার নিয়ে কালিম্পঙে নামতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই পাহাড়ের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দেন।

    জিটিএতে বিপুল বরাদ্দ (GTA)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়ে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জন্য ২৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। খুব শীঘ্রই নিজে উপস্থিত থেকে ওই মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

    এদিন উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। এদিকে, কালিম্পং টাউন হলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং কালিম্পঙের বিধায়ক ভরত ছেত্রী।

    ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দশ মিনিট ধরে অবতরণের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু জ্বালানি কম থাকায় উত্তরকন্যায় ফিরে আসতে হয়। আমি ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসব। ২২ সেপ্টেম্বর কোচবিহার ও জলদাপাড়ায় গন্ডার দিবস পালন করতেও আসব। ২ অক্টোবর বক্সায় আসব। ৬ অক্টোবর দার্জিলিং যাব। ফেরার সময় কালিম্পং হয়ে ফিরব।”

    জিটিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএ-র সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। আমি স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাকে পাহাড়ের সমস্ত বিষয়ে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ বরাদ্দ হয়েছে। আমি নিজে তার শিলান্যাস করব। এটা কালিম্পংবাসীর জন্য বড় উপহার।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় ২৫৪ কোটি

    পাহাড়ের বিপর্যয় মোকাবিলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মুখ্যসচিব রাজেশ সিনহাকে পাহাড়ের বিপর্যয় নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। সম্প্রতি মিরিকে বড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের খুব সাবধানে কাজ করতে হবে। জিটিএর চেয়ারম্যান ও সভাসদরা পদত্যাগ করেছেন। জিটিএর বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ২৫৪ কোটি টাকা বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য জিটিএকে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসক সেই কাজ করবেন। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং বাকি সভাসদদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হবে। স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেখছেন। বাকি উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।”

    ২০২৫ সালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়বাসীদের এদিন তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সরকারের তরফে আগেই পুনর্বাসনের জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। এবার বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় একাধিক ঘোষণা

    কালিম্পং জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গেও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৩ জনকে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার ৩১১ জন সেই কার্ড পেয়েছেন বলে জানানো হয়। ১২৩ জন ওই কার্ডের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি।

    কালিম্পঙের ১৫ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। কেউ যাতে এই প্রকল্প থেকে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং বিধায়ক ভরত ছেত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয় (GTA)।

    অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ওই টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে অন্নপূর্ণা দিবস উপলক্ষে বিশেষ কিস্তি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    পাহাড়ে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো বাড়াতে পুলিশের বিশেষ বিভাগে অন্তত এক হাজার কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ৩০০টি পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। একশো দিনের কাজের প্রকল্পের পরিধি গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্যও বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বিধবা ও বার্ধক্য ভাতাও মাসে এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়েছে।

    চা বাগানের উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা

    চা বাগান ও চা শ্রমিকদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ের বন্ধ, রুগ্ণ এবং সমস্যায় জর্জরিত চা বাগানগুলির স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র ও তাদের প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

    অসমের আদলে পশ্চিমবঙ্গেও ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা ২০২১’ পুরোদমে চালু করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের রাজ্য সরকার এই প্রকল্প কার্যকর করেনি।

    এই প্রকল্পের আওতায় পাহাড় থেকে তরাই অঞ্চলের চা বাগানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ চালানো হবে। পাশাপাশি দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং ভাইফোঁটার আগেই চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে শ্রম দফতর থেকে উপযুক্ত নির্দেশিকা জারির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (GTA)।

    তিস্তায় উদ্ধারকারী দল, তৈরি হবে ৮,৩২৫টি বাড়ি

    দুর্গত এলাকার নিরাপত্তার জন্য তিস্তার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্জুন বাহিনী-সহ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    পাশাপাশি আগামী ছ’মাসের মধ্যে কালিম্পং জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ৮,৩২৫টি নতুন বাড়ি তৈরির তালিকা প্রস্তুত হয়েছে (Suvendu Adhikari) বলেও জানান তিনি।

    বিশিষ্টদের সম্মাননা

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কালিম্পং জেলার পদ্মশ্রী প্রাপক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্মানিতদের মধ্যে ছিলেন পদ্মশ্রী প্রাপক জি এস ইয়েনজোন, পদ্মশ্রী প্রাপক একলব্য শর্মা, প্রয়াত পদ্মশ্রী প্রাপক কাজী সিংয়ের স্ত্রী দুর্গা সিং, চলচ্চিত্র নির্মাতা তুলসী ঘিমিরে, স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকরাজ আগরওয়াল, মিরিক কলেজের অধ্যক্ষ শেরাপ ভুটিয়া এবং আধ্যাত্মিক নেতা মোহন প্রিয় আচার্য।

    জিটিএর দুর্নীতিতে এফআইআর ও গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি

    উন্নয়নের ঘোষণার পাশাপাশি জিটিএর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও এদিন সরাসরি কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক পর্যালোচনার সময় তিনি জানান, তদন্ত শেষ হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে। সরকারি তহবিল কিংবা জনগণের করের টাকা বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকলে সেই অর্থও উদ্ধার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএতে (GTA) যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে, তার কোনওটাকেই আমরা ছাড়ব না।”

    তাঁর দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

    অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত

    তদন্ত কমিটির গঠন সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এবং আইপিএস আধিকারিক কালিয়াপ্পন জয়রামনকে কার্যকরী সদস্য করে ওই কমিটি কাজ করছে। কমিটির সদস্যরা পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান তিনি।

    শিক্ষক নিয়োগ থেকে পানীয় জল প্রকল্প, নজরে একাধিক অভিযোগ

    জিটিএর অধীনে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পানীয় জল প্রকল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে চার শতাধিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, অমৃত প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়নের জন্য গঠিত উন্নয়ন পর্ষদগুলির তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    লেপচা ও তামাং বোর্ড-সহ মোট ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের অর্থ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

    কালিম্পংবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিশ্চিন্তে থাকুন, যারা দুর্নীতি করেছে (Suvendu Adhikari), তাদের একজনকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

    “জনগণের টাকা ফেরত নেব”

    তদন্ত শেষ হওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলেই এফআইআর করা হবে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করা (GTA) হবে বলেও জানান তিনি।

    সরকারি অর্থের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের করের টাকা কিংবা সরকারি তহবিলের অর্থ বেআইনিভাবে সরানো হয়ে থাকলে তা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার।”

    পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই জিটিএর প্রশাসনিক কাঠামো, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে। সেই আবহে উত্তরকন্যা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই (GTA) বার্তা জিটিএর উপর নতুন করে (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • West Bengal Pension: বিধবা, বার্ধক্য ও দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ বাড়ল রাজ্যে, বাতিল হচ্ছে আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট!

    West Bengal Pension: বিধবা, বার্ধক্য ও দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ বাড়ল রাজ্যে, বাতিল হচ্ছে আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, সোমবার থেকেই বেড়ে গেল বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা ও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য দেয় দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ। আগের ঘোষণা অনুযায়ী (West Bengal Pension), এদিন নবান্ন সভাঘর থেকে এই বর্ধিত হারে ভাতা চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন এই প্রকল্পগুলির আওতায় ভাতা বাবদ মিলত ১০০০ টাকা। এদিন (Widow Old Age Allowance) থেকে সেই ভাতার পরিমাণ বেড়ে হল ১৫০০ টাকা।

    এদিনই রাজ্যের মোট ৮২ লাখের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে ১৫০০ করে টাকা। আজকের মধ্যে সবার অ্যাকাউন্টে না পৌঁছলেও, আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে বলে জানান রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে বাংলায় বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। আপাতত সেই লক্ষ্যেই একধাপ এগোল নতুন সরকার। পরবর্তীতে এই টাকা ২০০০ টাকা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যাঁরা জুলাই মাস পর্যন্ত ১০০০ টাকা করে পেতেন। তাঁরা আজ থেকে অগাস্টের টাকা হিসেবে ১৫০০ করে টাকা পাবেন।” তিনি বলেন, “এই রাজ্য কার্যত অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া অবস্থায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল। এখনও অবস্থা বেহাল রয়েছে। এই অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে কমপক্ষে ১ বছর সময় লাগবে।”

    বাতিল হচ্ছে আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট (West Bengal Pension)

    পুরনো তালিকা নিয়ে বড় পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগের সরকারের আমলে যাবতীয় ওয়েটিং লিস্টে থাকা আবেদন আজ থেকে বাতিল করা হচ্ছে। এর পরে যাঁরা বর্তমান সরকারের জনকল্যাণ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের ভেরিফিকেশন করে আগে টাকা দিতে হবে। এর বাইরে রাজ্য সরকারের চালু করা ‘আপনার সরকার, আপনার পাশে’ সেখানে যাঁরা নাম লিখিয়েছেন, আবেদন করেছেন, তাঁদেরও ভেরিফিকেশন করে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিগত সরকারের ওয়েটিং লিস্ট আজ থেকে বাতিল করা হল। বর্তমান সরকারের আমলে নতুন করে প্রাপকদের ওয়েটিং লিস্টের তালিকা তৈরি করা হবে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ

    স্বামীহীনা প্রাপকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, যে স্বামীহীনারা ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন, তাঁরা যদি এই প্রকল্প ছেড়ে দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা গ্রহণ করেন, তবে তাঁরা ৩০০০ টাকা করে পাবেন। এতে তাঁদের আর্থিকভাবে সুবিধা হবে (West Bengal Pension)।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এদিন প্রায় মোট ৮২ লাখ ৫ হাজার ৯১৯ জন প্রাপকের হাতে এই টাকা তুলে দেওয়া হল। এই প্রকল্পের জন্য মোট খরচ হবে ১৪,৭৭১ কোটি টাকা। এই বরাদ্দের একটি বড় অংশ রাজ্য সরকার নিজেই বহন করবে বলে জানান তিনি।

    আর্থিক সংস্কারের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বার্ধক্য ভাতার ক্ষেত্রে বয়স বাড়িয়ে এবং ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ব্যবহার করে অনেকে অন্যায়ভাবে ভাতা পাচ্ছিল। সেই সমস্ত ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে, যাতে প্রকৃত যোগ্য মানুষের হাতেই সামাজিক কল্যাণের টাকা পৌঁছয় (Widow Old Age Allowance)। তিনি মনে করিয়ে দেন, নতুন সরকারের আমলে ইতিমধ্যেই রাজ্যের কোষাগারের আয় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে (West Bengal Pension)।

     

  • Annapurna Yojana: দুর্গাপুজোর আগেই সব যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা! বড় বার্তা রাজ্য বিজেপি সভাপতির

    Annapurna Yojana: দুর্গাপুজোর আগেই সব যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা! বড় বার্তা রাজ্য বিজেপি সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা থেকে কোনও যোগ্য মহিলা বঞ্চিত হবেন না। প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাপ্য টাকা পেয়ে যাবেন। স্পষ্ট জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য। রবিবার হাওড়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই দাবি করেন তিনি। তিনি সরকারের প্রতিনিধি নন জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) এও বলেন, ‘‘মানুষের অভিযোগ, দুঃখ কষ্টের কথার পাশাপাশি আমাদের দলের সংকল্পপত্রের কথা সরকারকে স্মরণ করানো আমার দায়িত্ব। ভরসা রাখুন।’’ তাঁর কথায়, ‘‘প্রায় ৫০ লক্ষ আরও মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ উপভোক্তা এখনও টাকা পাননি। সকলেই টাকা পাবেন।’’

    কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা চলছে

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প পর্যালোচনার পর নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে বিজেপি সরকার। যোগ্য উপভোক্তাদের বাছাই করতে নতুন করে আবেদন নেওয়া হয় এবং অনলাইন-সহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে আবেদন যাচাই করা হয়েছে। সেই যাচাই প্রক্রিয়ার পরই উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার কথা। তবে টাকা পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় যখন বিক্ষোভ চলছে, তখনই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্য মহিলাদের টাকা পেতে দেরি হওয়ার জন্য তিনি ‘সিস্টেমের সমস্যা’র পাশাপাশি কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘সিস্টেমে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি এবং সমস্যা রয়েছে। কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা চলছে। সেই কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’’

    তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা

    এদিন শমীক ভট্টাচার্য আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে প্রকল্পে নানা অনিয়ম হয়েছিল। এমনকি পুরুষেরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপি সভাপতির বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনায় সেই ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। বঙ্গ পদ্ম সেনাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছেন আরও পঞ্চাশ লক্ষ মহিলা শীঘ্রই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এটা কাঙ্খিত নয়। দুর্গাপুজোর মধ্যেই সমস্ত যোগ্য মহিলারাই তিন হাজার টাকা করে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে যাবেন।’’

    কারা পাবেন অন্নপূ্র্ণার টাকা

    যাঁরা ইনকাম ট্যাক্স দেন না, সরকারি কর্মচারী নন, যাঁদের সরকারের থেকে অন্য কোনও রোজগার নেই, এই ধরনের একজন মহিলাও অন্নপূর্ণা যোজনার আওতার বাইরে থাকবেন না বলেও বার্তা দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বললেন, ‘‘সরকার কাউকে বঞ্চিত করবে না। এই সরকার সকলের সরকার। বিভাজনের সরকার নয়। বাংলার প্রকৃত যোগ্য মহিলারা সবাই অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা করে পাবেন।’’ এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। প্রয়োজনে আরও ২০ থেকে ৩০ লক্ষ মহিলাকে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। সেই সংখ্যাই আরও বাড়তে পারে বলে রবিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন শমীক।

    ফের খুলেছে অন্নপূর্ণা পোর্টালও

    অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে এখনও অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন। রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় বহু মহিলা যেমন সরকারকে ধন্যবাদও জানাচ্ছে, তেমনই কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে অসন্তোষ। এই আবহে রাজ্য বিজেপি সভাপতির আশ্বাসে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ। অন্নপূর্ণা যোজনার স্ট্যাটাস (Annapurna Yojana Status) নিয়ে নানা জায়াগায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেই ভ্রম দূর করতে ২০ অগাস্ট থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টাল (Social Registry Portal) ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। আবারও দেখা যাচ্ছে স্ট্যাটাস। রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাঁদের আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নামের পাশে কারণ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণ দেখে আবার ক্লেইম ও অবজেকশন করতে পারবেন। কিন্তু, স্ট্যাটাস চেক (Annapurna Yojana Status Check) করতে গিয়ে অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন ‘আন্ডার প্রসেস’ (Under Process)।

    ‘আন্ডার প্রসেস’-এর পরে অ্যাপ্রুভড

    মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করতে,বিজেপির তরফে একটি অন্নপূর্ণা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাঁদের আন্ডার প্রসেস দেখাচ্ছে, তাঁদের কিছুই করতে হবে না। অর্থাৎ তাঁদের নতুন করে কোথাও কোনও আবেদন করতে হবে না। যাঁদের ফার্দার ভেরিফিকেশন, রিজেক্টেড মে বি ফার্দার ভেরিফিকেশন ইত্যাদি দেখাচ্ছে, কেবলমাত্র তাঁরা সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালে গিয়ে ক্লেম করবেন। রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগস্ট মাসে মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকবে ১৭ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু, দেখা গিয়েছে ২০ আগস্টের পরেও অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। মূলত, যাঁদের স্ট্যাটাস আন্ডার প্রসেস রয়েছে, তাঁদের আবেদন অ্যাপ্রুভড হচ্ছে। তারপরই ঢুকছে তিন হাজার টাকা। এই প্রক্রিয়া গোটা আগস্ট মাসজুড়ে চলতে পারে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রী বারবার জানিয়ে দিয়েছেন, যোগ্যরা প্রত্যেকেই টাকা পাবেন।

  • BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি (BJP) সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে ৪১ পাতার বিশেষ বই প্রকাশ করল বঙ্গ বিজেপি। ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংকল্প এবং সাফল্যের ১০০ দিন’ (Sankalp Achievements) শীর্ষক এই বইয়ে নয়া সরকারের প্রথম ১০০ দিনের বিভিন্ন কাজ, সামাজিক প্রকল্প, বিনিয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে গৃহীত পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। বইয়ের প্রচ্ছদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা, এই বইয়ের তথ্য নিয়েই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা।

    প্রথম ১০০ দিনের সাফল্য (BJP)

    রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যকে সামনে রেখে জনসংযোগ বাড়ানোই পদ্মশিবিরের মূল লক্ষ্য। নিউটাউনে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা কত মানুষ পেয়েছেন, রাজ্যে কত বিনিয়োগ এসেছে এবং উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রকাশিত বইটিতে এ সংক্রান্ত একাধিক পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার এই প্রকল্প চালু করেছে। সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২৮ লাখেরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছনোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, দেড় মাসের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন এবং যোগ্য বাকি প্রাপকদেরও প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পরে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

    একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    শুধু অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, নারীকল্যাণ, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। জুন মাসে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরগুলিতেও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, সুকন্যা সমৃদ্ধি, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা হয়েছিল (Sankalp Achievements)। শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যের হিসাব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পের সম্ভাবনা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতিকে সরকারের সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে বইয়ে উল্লিখিত মোট বিনিয়োগের অঙ্ক দলীয় প্রকাশনার পরিসংখ্যান হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে (BJP)।

    সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ

    সীমান্ত সুরক্ষাও এই প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি নতুন সরকারের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফকে দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৭২.৬ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মোট ১,০২৪.৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ রোখার বিষয়টিও বিজেপির প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, বিএসএফকে জমি দেওয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবার জানিয়েছে রাজ্য সরকার। দলীয় প্রকাশনায় কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বা এই বিষয়ে কতগুলি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও রাখা হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    সংগঠন নিয়ে কড়া বার্তা

    ১০০ দিন পূর্তির এই প্রচারের পাশাপাশি সংগঠন নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নিউটাউনের প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল কোনওরকম আপস করবে না। শিবিরে তিনি বলেন, “বিধায়ক বা জেলা স্তরের কোনও নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল তাঁকে বরখাস্ত করতে দ্বিধা করবে না।” এই বক্তব্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনুমতি নিয়েই বলা হয়েছে বলেও জানান শমীক। দলীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে বিজেপির বিধায়কদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন দল ছেড়ে চলে গেলেও, সংগঠনের উপর তার বিশেষ প্রভাব পড়বে না—এমন বার্তাও শিবিরে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তির চেয়ে সংগঠনই যে বড়, এই অবস্থানও স্পষ্ট করতে চাইছেন রাজ্য নেতৃত্ব। ক্ষমতায় আসার পর দলের অভ্যন্তরে ‘শুদ্ধিকরণে’র যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার সঙ্গেও এই বার্তার যোগ রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা (BJP)।

    দুর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড বহু নেতা-কর্মী

    বিজেপির অন্দরে ইতিমধ্যেই একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সাসপেন্ডের সংখ্যা আড়াইশো ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জেলা স্তরের সংগঠন নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে। কয়েকটি জেলায় সভাপতিরা সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও (Sankalp Achievements) দলের অন্দরে আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই খুব শীঘ্রই এক ডজনেরও বেশি জেলা সভাপতিকে সরিয়ে সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করা হতে পারে বলে খবর।

    বঙ্গ সফরে আসছেন শাহ!

    এমন আবহে শাহের সম্ভাব্য বঙ্গ সফর ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, তিন দিনের সফরে আগামী ২০ অগাস্ট কলকাতায় আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২১ ও ২২ অগাস্ট তাঁর একাধিক দলীয় ও সরকারি কর্মসূচি থাকতে পারে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়, শাহ নবান্নেও যেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সেখানে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি এবং রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠকেও উপস্থিত থাকতে পারেন শাহ। ফলে তাঁর সফরকে একই সঙ্গে প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পদ্ম নেতৃত্ব।

    বিজেপির অন্দরে তৎপরতা তুঙ্গে

    আগামী ১৯ অগাস্ট রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সেই উপলক্ষে একদিকে যেমন সরকারের কাজের প্রচারকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তেমনি সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে (BJP)। ১০০ দিনের সাফল্যের খতিয়ান সম্বলিত বই সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি প্রচার, সামাজিক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য তুলে ধরা, সীমান্ত সুরক্ষায় জমি হস্তান্তরের পরিসংখ্যান জানানো এবং সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। তার মধ্যেই শাহের সম্ভাব্য সফর এবং জেলা স্তরে সাংগঠনিক (Sankalp Achievements) রদবদলের জল্পনা—সব মিলিয়ে সরকারের ১০০ দিন পূর্তিকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপির অন্দরে তৎপরতা এখন তুঙ্গে (BJP)।

  • Annapurna Yojana: আগামী ১৭ তারিখ থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা! এক বাড়িতে একাধিক জন কি পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা?

    Annapurna Yojana: আগামী ১৭ তারিখ থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা! এক বাড়িতে একাধিক জন কি পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা মিলবে ১৭ অগাস্ট থেকে। যোগ্য প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে আসবে ৩০০০ টাকা, ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, কারা টাকা পাবেন না, অভিযোগ থাকলে কোথায় ও কীভাবে জানাবেন, তাও জানিয়ে দিলেন তিনি। এবার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মও শিথিল করেছে রাজ্য সরকার। উদ্দেশ্য একটাই, যাতে আরও মহিলা এই আর্থিক যোজনার সুবিধা পান। তিনি এটাও জানিয়েছেন যে এখনও ভেরিফিকেশন চলছে। আর যাঁদের নাম ভেরিফায়েড হয়ে যাবে, তাঁরা আগামীতেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে থাকবেন।

    কারা কারা এই টাকা পাবেন

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Annapurna Yojana) বলেন, “আমাদের যাঁরা যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন তাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে, আগেই বলা আছে। কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কোনও বিধিবদ্ধ সংস্থা বা সরকারি আন্ডার টেকিং, পঞ্চয়েত বা পৌরসভা, সরকারি বা সরকারি সাহাজ্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানএর শিক্ষক বা শিক্ষকর্মী, স্থানীয় সরকারি চাকরিতে যুক্ত বা পেনশন পান; এঁরা এর মধ্যে থাকবেন না।” তবে এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, “যে পরিবার আয়কর দেয়, অর্থাৎ আয় বছরে ১২ লক্ষ টাকা সেই পরিবার এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন না। এবং যে মহিলা নিজে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করেন, তাকেও এই বিবেচনার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে নিয়ে আসা হয়নি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যে পরিবারের পুরুষরা ক্যাজুয়াল বা চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন, সেই বাড়ির মহিলারা বিবেচিত হবেন।” যদি যোগ্যতার মাপকাঠি পূর্ণ হয়, তাহলে এক বাড়িতে একাধিক মহিলা টাকা পেতে পারেন। এক্ষত্রে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের একটি পরিবারের একাধিকজন এই যোজনায় আবেদন করতে পারবেন। এরপর সরকার সমস্ত তথ্য যাচাই করার পর টাকা দেওয়ার কথা বিবেচনা করবে।

    অভিযোগ পোর্টাল-এর ব্যবস্থা

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী ১৭ অগাস্ট বিকেলে মন্ত্রী মালতী রাভা রায় অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা প্রাপকদের সংখ্যা ঘোষণা করবেন। জুলাই মাসে এই ৩ কক্ষের বাড়ি কিংবা জমির পরিমাণ সংক্রান্ত ক্রাইটেরিয়ার কারণে যেসব মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পাওয়ার থেকে বিরত ছিলেন, অগাস্ট মাসে টাকা দেওয়া হলে তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই সুবিধা পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ”৩ কক্ষ বিশিষ্ট বাড়ির ক্ষেত্রে অনেক মহিলার নাম আগে বাদ পড়ে গিয়েছিল। গ্রামীণ ক্ষেত্রে এই ৩ কক্ষের বাড়ির বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকার মহিলারা এবার আরও বেশি সংখ্যায় সুযোগ পাবেন।” এ ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানান একটি অভিযোগ পোর্টালও রাখা হবে। তিনি বলেন, “ভেরিফিকেশনে যাঁরা যোগ্য, তাঁদের টাকা ১৭ তারিখ থেকে দেওয়া হবে। এর পরও একটা অভিযোগ পোর্টাল রাখব আমরা। যেখানে যে কেউ আগামীতে অভিযোগ করতে পারবেন। এই অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে আমরা সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিওদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হবে।”

  • Annapurna Yojana: চালু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩০০০ টাকা করে পড়ল মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, কতজন পেলেন?

    Annapurna Yojana: চালু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩০০০ টাকা করে পড়ল মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, কতজন পেলেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১ জুলাই থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) আর্থিক সহায়তা দেওয়া। কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়। অনুষ্ঠানে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতার উপভোক্তারাও যোগ দেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মহিলা আবেদন করেছেন। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৮ জনের আধার সংযুক্ত থাকায় তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই সরাসরি অর্থ পাঠানো হয়।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Annapurna Yojana)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘না জাগিলে ললনা, এ বিশ্ব জাগে না। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠিত হলে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করা হবে। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে আমরা বড় পদক্ষেপ করলাম। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’’ আবেদন যাচাইয়ের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‘প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। প্রতিটি আবেদনপত্র নিয়ম মেনে খতিয়ে দেখা হয়েছে, যাতে অযোগ্য কেউ সরকারি সুবিধা না পান (Annapurna Yojana)। সরকারি অর্থ শুধুমাত্র প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই পৌঁছানো হবে। এটি কারও ব্যক্তিগত অর্থ নয়। আমরা সব মহিলা বিধায়ককে ডেকেছি, কোনও রাজনৈতিক বিভাজন করিনি। ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে, কারণ সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই পাবেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমাদের সরকার মাত্র দেড় মাসের পুরানো। এই সময়ের মধ্যেই ১ কোটি ৬০ লাখ আবেদন পত্রের মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ বাতিল করা হয়েছে। বাকি সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে। কোনও প্রকৃত উপভোক্তাকে বঞ্চিত করা হবে না। এটি তাঁদের অধিকার।’’

    পূর্ববর্তী সরকারের একাধিক অনিয়ম

    তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আগের প্রকল্পগুলিতে মৃত ব্যক্তি, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তি, এমনকি ভারতীয় নন, এমন অনেকের নামও ছিল। সেগুলি চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের মধ্যে যাঁরা সিএএর জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের সামাজিক ভাতা চালু থাকবে।’’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘৩ জুন আমরা ঘোষণা করেছিলাম যে টাকা দেওয়া শুরু হবে। জুলাই ও অগাস্ট মাসেও আবেদন করার সুযোগ থাকবে। সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র যোগ্যদেরই দেওয়া হবে। আগামী দিনে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য গোলাপি কার্ড চালু করা হবে। অনেক মহিলা কর্মী নিজে টিকিট কেটে যাতায়াত করতে চান, তাঁদের আমি (Suvendu Adhikari) সম্মান জানাই। এই পরিষেবার জন্য সরকারকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে (Annapurna Yojana)।’’

     

  • Jan Kalyan Shibir: উপচে পড়া ভিড়, আরও একদিন বাড়ানো হল জনকল্যাণ শিবিরের মেয়াদ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Jan Kalyan Shibir: উপচে পড়া ভিড়, আরও একদিন বাড়ানো হল জনকল্যাণ শিবিরের মেয়াদ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণ শিবিরে (Jan Kalyan Shibir) সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তাই শিবিরের মেয়াদ আরও একদিন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার ফলতা থেকে তিনি জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এদিনই শিবিরের শেষ দিন ছিল। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবারও রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির চালু থাকবে।

    মেয়াদ বাড়ল জনকল্যাণ শিবিরের (Jan Kalyan Shibir)

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই শিবিরের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা এক জায়গা থেকেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, সরকারের লক্ষ্য হল সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পদ্ধতিতে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু অনেক জায়গায় সময়ের অভাবে পর্যাপ্ত শিবির করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ লাইন পড়ছে এবং প্রচুর মানুষ পরিষেবা নিতে শিবিরে ভিড় করছেন। সেই কারণেই শিবিরের মেয়াদ একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শিবিরে ৫৪টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জনকল্যাণ শিবিরে মোট ৫৪টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। তিনি জানান, রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার তথা সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় এসে দেশের যে কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি (Suvendu Adhikari) জানান, গ্রামীণ এলাকার স্বল্প আয়ের পরিবারগুলি এই প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ১০০ ইউনিটে ৩০ হাজার টাকা, ২০০ ইউনিটে ৬০ হাজার টাকা এবং ৩০০ ইউনিটে ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাবেন। এজন্য জনকল্যাণ শিবিরে নাম নথিভুক্ত করতে হবে।

    লক্ষ্মীর ভান্ডার পেয়েছে অ-লক্ষ্মীরাও!

    অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ব্লকে প্রায় সাড়ে চার হাজার পুরুষ এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে ১৭৩ জন পুরুষ বেআইনিভাবে ওই প্রকল্পের টাকা তুলেছেন। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং সিআইডি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গত ৩ জুন অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় ২৮ লাখ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫ লাখ মহিলা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের তথ্য যাচাই করে পোর্টালে আপলোডও করা হয়েছে (Jan Kalyan Shibir)। আগামী ২২ জুন প্রথম রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশ করবে পদ্ম সরকার। সে প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “যুবসমাজ, সরকারি কর্মী, শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী এবং কৃষকদের জন্য একাধিক নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

    ফলতার জন্য বিশেষ ঘোষণা

    এদিকে, ফলতায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ফলতাকে আদর্শ বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে এসইজেডে শিল্পতালুক গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলতা গ্রামীণ হাসপাতালকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। মহিলা কলেজ, দমকল কেন্দ্র তৈরির অনুমোদন, ফলতা থানাকে আরও শক্তিশালী করা এবং মহিলাদের জন্য (Suvendu Adhikari) পৃথক হেল্পডেস্ক চালুর পাশাপাশি অতিরিক্ত মহিলা পুলিশকর্মী নিয়োগের কথাও ঘোষণা করেন (Jan Kalyan Shibir) পদ্ম সরকারের প্রধান শুভেন্দু অধিকারী।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তির (Beldanga Violence) ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আইনি টানাপড়েনে নয়া মোড়। বেলডাঙা হিংসার ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর তদন্তের বিরুদ্ধে আগের রাজ্য সরকারের করা আপত্তি বর্তমান সরকার (Suvendu Adhikari) প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মামলার তদন্তে এনআইএর রাস্তা আরও (Beldanga Violence) মসৃণ হল। একই সময়ে মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে আইন-শৃঙ্খলা, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামাজিক প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

    এনআইএকে দিয়ে তদন্ত (Suvendu Adhikari)

    বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় আদালত জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এনআইএকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে এবং প্রয়োজনে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত সাহায্যও চাইতে পারে। হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কার্যত নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। শীর্ষ আদালত এনআইএ তদন্তের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। পরে কেস ডায়েরি এবং ধৃত অভিযুক্তদের হস্তান্তর নিয়েও রাজ্য পুলিশ এবং এনআইএর মধ্যে টানাপড়েন শুরু হলে আদালতের নির্দেশে সমস্ত নথি ও অভিযুক্তদের তুলে দেওয়া হয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে।

    বেলডাঙাকাণ্ড

    ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভা ভোটের আগে বেলডাঙায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ভাঙচুর, রেল অবরোধ, জাতীয় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ।

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক

    এদিকে, মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক (Suvendu Adhikari) থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিজেও বিএসএফের আউটপোস্ট পরিদর্শনে যাবেন (Beldanga Violence)।

    সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    প্রশাসনিক বৈঠকে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ৫০ লাখ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছতে শুরু (Beldanga Violence) করেছে। বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতাও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় স্থানান্তরের বিষয়েও ফের আশ্বাস দেওয়া হয়, যাতে রাজ্যের বাইরে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরাও স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পান।

    প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদ

    উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চাঁচল ও গাজোলকে পুরসভার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে (Suvendu Adhikari)। যদিও চলতি বর্ষায় কাজ শুরু করা সম্ভব না হলেও আগামী বর্ষার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো এবং অতিরিক্ত আড়ম্বর এড়িয়ে ছিমছাম সরকারি বৈঠকের আয়োজন রাজনৈতিক মহলে নতুন বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Beldanga Violence)। গত কয়েক (Beldanga Violence) বছরের তুলনায় প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এই পরিবর্তন নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা (Suvendu Adhikari)।

     

LinkedIn
Share