Tag: Artificial Intelligence

Artificial Intelligence

  • Global Diplomacy: কূটনৈতিক তৎপরতায় এগিয়ে মোদি, ‘শীতঘুমে’ বেজিং, চিনের হলটা কী?

    Global Diplomacy: কূটনৈতিক তৎপরতায় এগিয়ে মোদি, ‘শীতঘুমে’ বেজিং, চিনের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের (China) প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কূটনৈতিক (Global Diplomacy) কার্যকলাপের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন আক্ষরিক অর্থেই দিনরাত এক করে এশিয়া, ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মোট ১৩টি দেশ সফর করে ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতিকে আরও জোরদার করেছেন, তখন ওই একই সময়ে জিনপিং গিয়েছেন মাত্র একবার বিদেশ সফরে। এই অস্বাভাবিক ব্যবধানকে ঘিরে চিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উঠতে শুরু করেছে হাজারো প্রশ্ন।

    জিনপিংয়ের একমাত্র বিদেশ সফর (Global Diplomacy)

    জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত জিনপিংয়ের একমাত্র বিদেশ সফর ছিল ৮ থেকে ১০ জুন, উত্তর কোরিয়ায়। সেখানে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর বাইরে তিনি বিদেশ সফরে না গিয়ে বেজিংয়েই ছিলেন, এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। অতীতে বিশ্বজুড়ে সক্রিয় কূটনৈতিক সফরের জন্য পরিচিত জিনপিংয়ের এই অতি-সীমিত বিদেশ সফর জন্ম দিয়েছে নানা জল্পনার। অথচ, ওই সময় পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মালয়েশিয়া ও ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। মে মাসে সফর করেন ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার পাঁচ দেশ। জুনে গিয়েছিলেন ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়ায়। এই মাসেরই শেষের দিকে সফর করেন সেশেলস। জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরের মাধ্যমে শেষ হয় তাঁর ইন্দো-প্যাসিফিক সফরসূচি।

    একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে চিন

    এর মধ্যে সব চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রায় চার দশক পরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করেন, যা ওই অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বেরই প্রতিফলন বলে ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের (China)। বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক বৈপরীত্য এমন একটা সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে, যখন চিন একইসঙ্গে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএতে চলা ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান। গত অক্টোবরে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছিল, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সিদ্ধান্তে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ন’জন শীর্ষ সামরিক কর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে এই নির্দেশটি দেওয়া হয়, কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ প্লেনামের ঠিক আগে আগে, যেখানে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কাঠামো অনুমোদিত হয়েছিল (Global Diplomacy)।

    গোপন টিউমার

    অপসারিত আধিকারিকদের মধ্যে ছিলেন জেনারেল হে ওয়েইদং, যিনি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত উত্থান ঘটে তাঁর। সামরিক সংস্কার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করেছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের মার্চে হে জনসমক্ষে আসা বন্ধ করে দিলে শুরু হয় গুঞ্জন। পরে তাঁকে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পিএলএর সরকারি মুখপত্রে তাঁকে এবং অন্য অপসারিত কর্তাদের “অবিশ্বস্ত” ও “গোপন টিউমার” বলে উল্লেখ করা হয়। শুদ্ধি অভিযান সেখানেই থেমে থাকেনি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও ন’জন প্রবীণ সামরিক প্রতিনিধিকে জাতীয় গণ কংগ্রেস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চার মাস পরে স্থায়ী কমিটি আরও ছ’জন পদস্থ সামরিক কর্তাকে সরিয়ে দেয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জেনারেল শু শুয়েচিয়াং, জেনারেল লি ফেংবিয়াও, জেনারেল গো পুশিয়াও, ওয়াং কাংপিং, ঝাং মিংহুয়া এবং ইন হংসিং। বিমানবাহিনী, স্থলবাহিনী, সাইবার বাহিনী, সরঞ্জাম উন্নয়ন বিভাগ এবং পূর্ব ও পশ্চিম থিয়েটার কমান্ড—সব ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে (Global Diplomacy)।

    আস্থার সঙ্কটের ইঙ্গিত!

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অপসারিত অনেক কর্তাকেই জিনপিং নিজে পদোন্নতি দিয়েছিলেন। ফলে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই অভিযান কেবল দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নয়, বরং সামরিক নেতৃত্বের ভেতরে আস্থার সঙ্কটের ইঙ্গিতও হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে কোনও অভ্যুত্থান বা ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। যদিও গত কয়েক বছরে একের পর এক উচ্চপদস্থ কর্তার হঠাৎ অন্তর্ধান, বরখাস্ত এবং দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলেছে। প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী চিন গ্যাংয়ের অন্তর্ধান, প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফুর অপসারণ, রকেট বাহিনীর একাধিক কর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং সাম্প্রতিক সামরিক শুদ্ধি অভিযান সেই জল্পনাকে আরও একবার উসকে দিয়েছে (Global Diplomacy)। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতবিরোধ সাধারণত প্রকাশ্যে আসে না। বরং হঠাৎ পদচ্যুতি, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং প্রশাসনিক রদবদলের মাধ্যমেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ইঙ্গিত মিলতে পারে। গত এক দশকে জিনপিং নিজেই পার্টি, সরকার ও সেনাবাহিনীতে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে লোকজন নিয়োগ করেছেন। ফলে তাঁর নিজের বেছে নেওয়া কর্তাদের বিরুদ্ধেই ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশ (China)।

    নানা সমস্যায় জর্জরিত অর্থনীতি

    এদিকে, চিনের অর্থনীতিও নানা সমস্যা জর্জরিত। একসময় দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল সম্পত্তি খাত। বড় বড় নির্মাণ সংস্থার ধসের পর সেই খাত এখনও সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। জমি বিক্রি থেকে স্থানীয় প্রশাসনের আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে পরিকাঠামো প্রকল্পেও। ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়া, তরুণদের বেকারত্ব, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি এবং মূল্যপতনের চাপ চিনের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম থাকায় শিল্প উৎপাদন ধরে রাখতে রফতানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়েছে (Global Diplomacy)।

    কৌশলগত ভারসাম্যে নয়াদিল্লির গুরুত্ব

    অন্যদিকে, বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা উৎপাদনের বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া-সহ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। “চায়না প্লাস ওয়ান” কৌশলের ফলে চিনের উৎপাদনভিত্তিক আধিপত্যও আগের মতো অটুট নেই। পাশাপাশি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়া এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত তার কূটনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি—এসব ক্ষেত্রেও অংশীদারিত্ব জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (China)। বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইন্দোনেশিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া আন্তর্জাতিক কৌশলগত ভারসাম্যে নয়াদিল্লির গুরুত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    জল্পনা জল্পনাই

    তবে জিনপিংয়ের সীমিত বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে যত জল্পনাই থাকুক না কেন, শুধুমাত্র বিদেশ সফর কম হওয়াকেই তাঁর রাজনৈতিক দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। এখনও পর্যন্ত অভ্যুত্থান বা ক্ষমতা হারানোর কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সামরিক শুদ্ধি অভিযান, ধারাবাহিক প্রশাসনিক রদবদল, অর্থনৈতিক চাপ এবং সীমিত আন্তর্জাতিক সফর—সব মিলিয়ে চিনের নেতৃত্ব যে একটি জটিল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের। একই সময়ে ভারতের সক্রিয় কূটনৈতিক উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার (Global Diplomacy) দিকটিকেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে (China)।

     

  • PM Modi: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপরও জোর দেন (India Backs CECA Deal) তিনি।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া-ভারত প্রধান এক্সিকিউটিভ কর্তাদের ফোরাম এবং অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে যৌথভাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি এই আহ্বান জানান। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ শিল্পপতি, প্রধান এক্সিকিউটিভ আধিকারিক এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে এক্স হ্যান্ডেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দু’হাজার তেইশ সাল থেকে এই ফোরাম উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি এই আলোচনায় যোগ দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।”

    ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান

    মোদি জানান, বৈঠকে বিমান চলাচল, পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা, আর্থিক পরিষেবা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভারত প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের জন্য অতুলনীয় সুযোগ এনে দিয়েছে। আমি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভারতে বিনিয়োগ এবং নতুন উদ্ভাবনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি (PM Modi)।” ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দ্রুত বিস্তৃত উদ্ভাবনভিত্তিক পরিবেশের কথা তুলে ধরে বলেন, এগুলি অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে (India Backs CECA Deal)।

    ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি

    প্রধানমন্ত্রী এও জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। উৎপাদন শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, খনিশিল্প, পরিকাঠামো, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), আর্থিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের বিশাল বাজার এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষতার সমন্বয় উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদি লগ্নির সুযোগ কাজে লাগাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান মোদি (PM Modi)। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতে কার্যক্রম সম্প্রসারণ ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ কাজে লাগাতে সহায়ক হবে।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ কাজে লাগানোয় জোর

    অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানেও নরেন্দ্র মোদি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে থাকা স্বাভাবিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, অর্ধপরিবাহী, এআই, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং প্রতিরক্ষা খাতে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের দু’শোরও বেশি প্রধান এক্সিকিউটিভ আধিকারিক ও শিল্পোদ্যোগী অংশ নেন। মোদি বলেন, “গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, দৃঢ় জনসংযোগ এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক বোঝাপড়া ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে মজবুত ভিত তৈরি করেছে (PM Modi)।” ব্যবসায়িক নেতাদের রেয়ার আর্থ খনিজ, লিথিয়াম, ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক যানবাহন, অর্ধপরিবাহী, এআই এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের অগ্রগতি

    দু’হাজার বাইশ সালে কার্যকর হওয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তিতে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমন্বিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।” তিনি আরও জানান, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে নিজ নিজ বিশেষ দক্ষতাকে ভিত্তি করে গতিশীল অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। বর্তমানে দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তির ওপর ভিত্তি করে আরও বিস্তৃত যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দু’হাজার পঁচিশ-ছাব্বিশ অর্থবর্ষে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দু’হাজার চারশো দশ কোটি মার্কিন ডলার। প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে (India Backs CECA Deal) ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি যাবেন নিউজিল্যান্ডে।

     

  • Netanyahu: ‘ভারত থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে ইজরায়েল’, ভান্সের মন্তব্যের জবাবে মোদির দেশের প্রশংসায় নেতানিয়াহু

    Netanyahu: ‘ভারত থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে ইজরায়েল’, ভান্সের মন্তব্যের জবাবে মোদির দেশের প্রশংসায় নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের কাছ থেকে ইজরায়েল অভূতপূর্ব সমর্থন পায়।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্সের (JD Vance Ally Claim) ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’’ মন্তব্যের জবাবে এমনই দাবি করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, আমেরিকা ছাড়াও ইজরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার রয়েছে। ভারতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের আরও কিছু বন্ধু রয়েছে। যেমন, ভারত নামে একটি ছোট দেশ, যার জনসংখ্যা ১৪০ কোটিরও বেশি। আর সেখান থেকে আমরা বিপুল সমর্থন পাই।’’

    নেতানিয়াহুর ভারত-প্রশস্তি (Netanyahu)

    তিনি জানান, ফেসবুকে ভারতীয় ইউজারদের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সমর্থন দেখতে পান। তিনি জানান, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, উদ্ভাবন এবং বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘‘ব্যক্তিগত বন্ধু’’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, এবং ভারতকে ‘‘বিশ্বশক্তি’’ আখ্যা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের একদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্স বলেছিলেন, ‘ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’।

    ভান্সের দাবি

    সাংবাদিক সম্মেলনে ভান্স দাবি করেছিলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই বর্তমানে এমন বিশ্বনেতা, যিনি ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন।’’ তিনি এও জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইজরায়েলের ব্যবহৃত অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, করেছে অর্থায়নও। ভান্সের প্রতি সম্মান জানিয়েই নেতানিয়াহু (Netanyahu) বলেন, ‘‘আমি তাঁকে সম্মান করি, কিন্তু তাঁর মূল্যায়নের প্রতিটি বিষয়ে আমি একমত নই।’’

    ইজরায়েলের বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর জোর 

    নেতানিয়াহুর দাবি, বিশ্বের বহু দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং এআইয়ের মতো ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। তাঁর কথায়, “সামরিক উদ্ভাবন ও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশের নেতারা নিয়মিত ইজরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।” নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন ইরান-ইস্যু এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য কৌশল নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। যদিও বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে সময়ে সময়ে দুই দেশের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়, তবুও প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (JD Vance Ally Claim) এখনও ইজরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদার। এর পাশাপাশি ভারত-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে নেতানিয়াহুর (Netanyahu) ইজরায়েল।

     

  • Modi Takaichi Meet: ঐতিহাসিক চুক্তি ভারত-জাপানের! এআই থেকে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি, একসঙ্গে বড় বাজি মোদি-তাকাইচির

    Modi Takaichi Meet: ঐতিহাসিক চুক্তি ভারত-জাপানের! এআই থেকে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি, একসঙ্গে বড় বাজি মোদি-তাকাইচির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সূর্যোদয়ের দেশের হাত ধরে ভারতে বিনিয়োগের নতুন সকাল! ভারত-জাপান সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আগামী ১০ বছরে ভারতের জন্য ১০ লক্ষ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করতে সম্মত হল দুই দেশ।

    হাজার বছরের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দুই দেশের

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি এবং উন্নত প্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতার ঘোষণা করেছে দুই দেশ। ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, ভারত ও জাপানের সম্পর্কের ভিত্তি শুধু কৌশলগত নয়, দুই দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গেও তা গভীরভাবে যুক্ত।

    এআই ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় বড় জোর

    এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা। দুই দেশ যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পাশাপাশি ভারত ও জাপানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এআই সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মোদির কথায়, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বই আগামী দিনে ভারত-জাপান সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠবে। তাঁর দাবি, জাপানের নিখুঁত প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের সফটওয়্যার সক্ষমতার সমন্বয় বিশ্বব্যাপী এআই উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
    এছাড়াও সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা (Advanced Manufacturing) এবং পরবর্তী প্রজন্মের পরিবহণ প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    প্রতিরক্ষায় নতুন অধ্যায়

    শীর্ষ বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাতেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। ভারত ও জাপান প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে। ‘নেভাল রেডিও অ্যান্টেনা ইউনিকর্ন’ (Naval Radio Antenna ‘Unicorn’) প্রকল্পের মাধ্যমে দুই দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করবে। মোদির বক্তব্য, এই প্রকল্প শুধু দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

    স্বাস্থ্য ও বায়োটেক ক্ষেত্রেও জোর

    ওষুধ শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বায়োটেকনোলজি ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির মতে, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা এবং জাপানের উচ্চমানের প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিশ্বের জন্য আরও সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা তৈরি করা সম্ভব হবে।

    বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশ

    অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যও স্পষ্ট করেছে ভারত ও জাপান। আগামী এক দশকে ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন (১০ লক্ষ কোটি) ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। পাশাপাশি ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। মোদি জানান, গত এক বছরে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রায় ১২০টি নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে, যার মাধ্যমে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ ভারতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ

    দুই দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি নতুন রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া-জাপান বায়োগ্যাস ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এক হাজার বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকেও নতুন গতি দেবে বলে মনে করছে দুই দেশ।

    ইন্দো-প্যাসিফিকে যৌথ কৌশল

    শীর্ষ বৈঠকের শেষে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বর্তমানে ভারত ও জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি। তাই একটি মুক্ত, সমৃদ্ধ ও নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলাই দুই দেশের যৌথ অগ্রাধিকার। তাঁর কথায়, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ও বাজারভিত্তিক অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম ভারত ও জাপান। এদিন ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বরং গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করবে। একসময় যে ভারত-জাপান সম্পর্ক মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সহযোগিতার বিস্তৃত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। এবারের শীর্ষ বৈঠকের একাধিক চুক্তি সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।

  • Academic Environment: “রাজ্য ছেড়ে ছাত্রছাত্রীদের অন্যত্র চলে যাওয়া রুখতে হবে”, বললেন পালাবদলের অর্থমন্ত্রী

    Academic Environment: “রাজ্য ছেড়ে ছাত্রছাত্রীদের অন্যত্র চলে যাওয়া রুখতে হবে”, বললেন পালাবদলের অর্থমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উচ্চশিক্ষার জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অন্য (Academic Environment) রাজ্যের পাশাপাশি চলে যাচ্ছে বিদেশেও। এই প্রবণতা রুখতে রাজ্যে (Student Exodus) এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে পড়ুয়ারা এখানেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়। রবিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত অল বেঙ্গল প্রিন্সিপালস কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে এই বার্তা দেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

    কী বললেন অর্থমন্ত্রী (Academic Environment)

    অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, বর্তমানে রাজ্যের বহু কলেজে আসন খালি পড়ে থাকছে। এই পরিস্থিতি থেকেই স্পষ্ট, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পড়ুয়া উচ্চশিক্ষার জন্য পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। শুধু রাজ্যে থেকে যাওয়ার আহ্বান জানালেই সমস্যার সমাধান হবে না। এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা পড়ুয়াদের রাজ্যেই ভবিষ্যৎ গড়ার আস্থা দেবে। চলতি বছরের রাজ্য বাজেটেও এই বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যন্ত্রনির্ভর শিক্ষণ-সহ আধুনিক বিষয় পড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের এমন এক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা পশ্চিমবঙ্গেই উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী হয়।” তাঁর মতে, বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে না পারলে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নতি সম্ভব নয়।

    মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশের অভাব

    তাঁর দাবি, এক সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রছাত্রীরা পশ্চিমবঙ্গে পড়তে আসত, পাঠ দান করতেন খ্যাতনামা শিক্ষকরা। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই। তাঁর কথায়, “মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশের অভাবেই বাইরের রাজ্যের পড়ুয়ারা আর পশ্চিমবঙ্গকে উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছে না।” তিনি এও জানান, রাজ্য সরকার কলেজগুলিকে উন্নয়নের জন্য আর্থিক সাহায্য দিতে প্রস্তুত। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছ থেকেও অতিরিক্ত অনুদান আনার চেষ্টা করা হবে। তবে সেই আর্থিক সাহায্য পেতে হলে কমিশনের নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং জবাবদিহির সংস্কৃতিও গ্রহণ করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পড়ুয়াদের অন্যত্র চলে যাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রায় এক দশক আগে মডার্ন হাইস্কুল ফর গার্লসের তৎকালীন অধ্যক্ষা দময়ন্তী মুখোপাধ্যায়ও এই একই বিষয় তুলে ধরে বলেছিলেন, স্কুল থেকে পাশ করার পর বহু মেধাবী পড়ুয়া উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য রাজ্য বা বিদেশে চলে যাচ্ছে (Academic Environment)।

    প্রিন্সিপালস কাউন্সিলের বক্তব্য

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও জানান, রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে বিপুল সংখ্যক স্নাতক স্তরের আসন খালি থেকে যাওয়া এই সমস্যারই প্রমাণ। তাঁর অভিযোগ, অনেক কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় ভর্তি হওয়ার পরেও বহু ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে বা অনুপস্থিত থাকছে। অল বেঙ্গল প্রিন্সিপালস কাউন্সিলের সম্পাদক পঙ্কজ রায় বলেন, “শিক্ষকদের আরও আধুনিক এবং আকর্ষণীয় পাঠদানের পদ্ধতি গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হবে, যাতে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে আনা যায়।” অনুষ্ঠানে (Academic Environment) অর্থমন্ত্রী আরও জানান, জুলাই মাসে কলকাতায় পণ্য ও পরিষেবা কর পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিসেবে এই সর্বভারতীয় বৈঠকের আয়োজক হতে পেরে তিনি গর্বিত। তাঁর আশা, এই বৈঠকের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নতুন ভাবমূর্তি দেশের সামনে তুলে ধরা যাবে (Student Exodus)। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

  • Narendra Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়ায় নরেন্দ্র মোদি, ঐতিহাসিক সফরে নজরে একাধিক কর্মসূচি

    Narendra Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়ায় নরেন্দ্র মোদি, ঐতিহাসিক সফরে নজরে একাধিক কর্মসূচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দেশের ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে স্লোভাকিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী স্লোভাকিয়ায় গিয়েছেন (Bratislava Visit)। তাঁর এই সফর ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তা (Narendra Modi)

    দু’দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে মোদি রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলিগ্রিনি (Peter Pellegrini) এবং প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর (Robert Fico)-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর পাশাপাশি মোদি স্লোভাকিয়ার শীর্ষ শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন। স্লোভাকিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে জানান, এই সফর ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, তৈরি করবে নয়া সহযোগিতার ক্ষেত্র। তিনি প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি ও প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের আশাও ব্যক্ত করেন।

    ঐতিহাসিক সফর

    এর আগে ফ্রান্স সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। পরে অংশ নেন নিস শহরে আয়োজিত ‘ভারত ইনোভেটস’ অনুষ্ঠানে। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের (MEA) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী জুরাজ ব্লানাঁর (Juraj Blanár) স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। মোদিকে স্বাগত জানানো বন্দেমাতরম গানে।  তাঁকে স্লোভাকিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘ব্রেড অ্যান্ড সল্ট’ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়। এটি দেশটির আতিথেয়তা, সম্মান ও শুভেচ্ছার প্রতীক। সফরের আগে মোদি একে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও স্লোভাকিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে গতিতে এগিয়েছে, এই সফর তারই (Narendra Modi) ধারাবাহিকতা। তাঁর আশা, স্লোভাক নেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

    আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরের আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু স্লোভাকিয়া সফর করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনিও ভারতে এসেছিলেন (Bratislava Visit)। ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল উৎপাদন, রেলওয়ে নির্মাণ এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হিসেবে স্লোভাকিয়ার মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার দিকেও নজর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

    জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন মোদি

    স্লোভাকিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ১৬-১৭ জুন ফ্রান্সের আভিয়োঁ-তে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে জি৭ সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং এআই-সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা করবেন। একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ইউরোপ সফরের শেষ পর্যায়ে ১৮ জুন প্রধানমন্ত্রী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপের অন্যতম (Narendra Modi) বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন ‘ভিভাটেক ২০২৬’-এ অংশ নেবেন, যেখানে (Bratislava Visit) উপস্থিত থাকবেন ফরাসি প্রেসিডেন্টও।

  • Trump: জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার কথা ট্রাম্পের সঙ্গেও

    Trump: জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার কথা ট্রাম্পের সঙ্গেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলনের ফাঁকে আগামী ১৭ জুন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। হোয়াইট হাউসের এক প্রবীণ কর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জি-৭ নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত অংশীদার দেশ এবং প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে যৌথ মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেওয়ার আগে বৈঠকে (PM Modi) বসবেন মোদি-ট্রাম্প।

    মোদি-ট্রাম্প বৈঠক (Trump)

    এই বৈঠকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব, এআই (AI) এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক, জ্বালানি সহযোগিতা, এইচ-ওয়ান বি (H-1B) ভিসা নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর এই প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে চলেছে মোদি-ট্রাম্পের মধ্যে। তাই সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

    জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন

    সোমবার ওয়াশিংটন থেকে রওনা হয়ে ফ্রান্সে যাবেন ট্রাম্প (Trump)। জি-৭ সম্মেলনের পাশাপাশি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ-সহ বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এদিকে, ইতিমধ্যেই স্লোভাকিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে ফের ১৬ জুন ফ্রান্সে পৌঁছনোর কথা তাঁর। ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়াঁ-লে-ব্যাঁ শহরে অনুষ্ঠিত হবে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে এই সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এটি হবে জি-৭ সম্মেলনে তাঁর টানা সপ্তমবার অংশগ্রহণ, যেখানে ভারত ‘গ্লোবাল সাউথে’র অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    আন্তর্জাতিক মহলের নজর

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এবারের জি-৭ সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হবে (PM Modi)। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, সাপ্লাই চেন নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা এবং এআইয়ের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা হবে। যদিও ট্রাম্প-মোদি বৈঠকের বিস্তারিত কর্মসূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল (Trump)।

     

  • PM Modi: ভারতে বিরাট অঙ্কের বিনিয়োগ করবে এয়ারট্রাঙ্ক, স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ভারতে বিরাট অঙ্কের বিনিয়োগ করবে এয়ারট্রাঙ্ক, স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো সম্প্রসারণে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করল ব্ল্যাকস্টোন-সমর্থিত ডেটা সেন্টার সংস্থা এয়ারট্রাঙ্ক। এই ঘোষণাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর মতে, এই বিনিয়োগ ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশকে ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআইয়ের (AI) বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    ডিজিটাল পরিকাঠামোর অগ্রগতি (PM Modi)

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোর অগ্রগতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এয়ারট্রাঙ্কের প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং ৫ গিগাওয়াট ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামোয় অন্যতম বৃহৎ প্রস্তাবিত বিনিয়োগ। তিনি এও লেখেন, এই ধরনের বিনিয়োগ ভারতের ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআই খাতে বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়ন এবং উদ্ভাবননির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরও সহায়ক হবে। তাঁর মতে, বিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ ক্রমশ ভারতের হাতেই গড়ে উঠছে।

    এয়ারট্রাঙ্কের বক্তব্য

    এয়ারট্রাঙ্ক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ কর্মসূচি ভারতের এআই এবং ক্লাউড পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশেও। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে এই বিনিয়োগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশকে বৈশ্বিক এআই ও ক্লাউড পরিকাঠামো বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত করতে সাহায্য করবে।

    দীর্ঘমেয়াদি লগ্নি পরিকল্পনা

    চলতি বছরের এপ্রিল মাসে লুমিনা ক্লাউডইনফ্রা (Lumina CloudInfra) অধিগ্রহণের মাধ্যমে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করে এয়ারট্রাঙ্ক। বর্তমানে মুম্বই, চেন্নাই এবং হায়দরাবাদে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টার উন্নয়ন প্রকল্প তাদের হাতে রয়েছে। এয়ারট্রাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান এক্সিকিউটিভ আধিকারিক রবিন খুদা জানান, কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর ভারতকে ঘিরে তাদের দীর্ঘমেয়াদি লগ্নি পরিকল্পনা আরও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “মূলধন সবসময় এমন জায়গায় যায় যেখানে উন্নয়নের অনুকূল পরিবেশ থাকে, আর ভারত সেই পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছে। সরকারের এআই-কেন্দ্রিক নীতি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং বিপুল নবায়নযোগ্য শক্তির প্রাপ্যতা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

    ডিজিটাল পরিকাঠামো প্রকল্প

    ভারত সফরকালে রবিন খুদা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি ছাড়াও মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, জলসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দ্রুত প্রকল্প অনুমোদনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আরও সমন্বয়ের মাধ্যমে বৃহৎ ডিজিটাল পরিকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ কীভাবে সহজ করা যায়, সেই বিষয়েও মতামত বিনিময় হয়েছে।

    রবিন খুদার বক্তব্য

    খুদা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডিজিটাল অর্থনীতির ভাবনা ভারতকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রযুক্তি বিনিয়োগের গন্তব্যে পরিণত করেছে।” তাঁর মতে, ভারতের পরিসর, প্রতিভা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেশটিকে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক এআই শক্তিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম। সেই লক্ষ্য পূরণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এয়ারট্রাঙ্ক সহযোগিতা করতে আগ্রহী। সংস্থার দাবি, বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেসব দেশের শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামো থাকবে, তারাই ভবিষ্যতে বেশি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান আকর্ষণ করতে পারবে।

     

  • China Debt Crisis: আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে না, দেনায় ডুবে যাচ্ছে চিন!

    China Debt Crisis: আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে না, দেনায় ডুবে যাচ্ছে চিন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে চিন (China Economic)। এই ভবিষ্যদ্বাণী আদৌ বাস্তবসম্মত নয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, কোভিড অতিমারির প্রথম ঢেউয়ের পর, ব্রিটিশ থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর ইকনোমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (Centre for Economics and Business Research) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে ২০২৮ সালের মধ্যে চিন আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে (Debt Nightmare)। সংস্থাটি জানিয়েছিল, অতিমারির মোকাবিলায় চিনের ‘দক্ষ’ ব্যবস্থাপনা আগামী বছরগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তুলনায় তাদের প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে দেবে।

    কী বলছে সেই সংস্থা? (China Economic)

    পাঁচ বছর পরে এখন সেই একই সংস্থা বলছে, আগামী আরও অন্তত ১৫ বছরের আগে চিনের পক্ষে মার্কিন অর্থনীতিকে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চিন হয়তো কখনওই ওই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। কারণ তাদের অর্থনীতির সামনে রয়েছে গুচ্ছের পরিকাঠামোগত সমস্যা ও বাধা। গত সপ্তাহে বেজিংয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যও দেখাচ্ছে, গতি হারিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।

    কমে গিয়েছে ভোক্তা-চাহিদা

    এপ্রিল মাসে শিল্প উৎপাদন বছরে মাত্র ৪.১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝির পর এটি সবচেয়ে দুর্বল বৃদ্ধি। খুচরো বিক্রি বেড়েছে মাত্র ০.২ শতাংশ, ২০২২ সালের পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থার উদাহরণ এটি। বছরের প্রথম চার মাসে স্থায়ী সম্পদ বিনিয়োগ কমেছে ১.৬ শতাংশ। এর প্রধান কারণ সম্পত্তি উন্নয়ন খাতে ১৩.৭ শতাংশ পতন। ২০২১ সালে যে রিয়েল এস্টেট বুম ছিল, অতিমারির পর তা মুখ থুবড়ে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোটি কোটি চিনা নাগরিকের সঞ্চয়। তাই কমে গিয়েছে ভোক্তা-চাহিদা। কারণ অনেকেই এমন ফ্ল্যাটের ঋণে ডুবে রয়েছেন যে, তা বিক্রি করা যাচ্ছে না। আগে বাড়ির পরে গাড়ি কেনাটা ছিল চিনের মধ্যবিত্ত দের একটি বড় বিনিয়োগ ক্ষেত্র (China Economic)। কিন্তু এখন অনেকেরই গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই। মে মাসের শুরুতে চিনের গাড়ি নির্মাতারা জানিয়েছিলেন, যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি বছরে কমেছে ২৫.৫ শতাংশ — টানা ষষ্ঠ মাসের পতন। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির প্রচুর গাড়ি বিক্রি হয়নি। তাদের প্রথম ত্রৈমাসিকের মুনাফা ৫৫ শতাংশ কমে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

    ড্রাগনের দেশে হ্রাস পেয়েছে চাহিদা

    দেং শিয়াওপিংয়ের ১৯৮০ সালের সংস্কার এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানদের নীতির ফলে চিন কার্যত পরিণত হয়েছিল বিশ্বের কারখানায়। তাই কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসেন, সৃষ্টি হয় বিপুল কর্মসংস্থানের (Debt Nightmare)। ড্রাগনের দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিয়েছেন। চিন এখন জাহাজ নির্মাণ, সৌর প্যানেল, উইন্ড টারবাইন, রোবোটিক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো বহু ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রেও তারা এগিয়ে। তবে চিনের প্রবৃদ্ধি মূলত রফতানি-নির্ভর — আর এই মডেলই এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। দেশের ভেতরে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, যদিও পণ্যের দর সস্তা। মনে রাখতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৮০ শতাংশেরও বেশি চালিত করে। সেই তুলনায় ভারতে এই হার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। গত বছর চিনে এর পরিমাণ ছিল মাত্রই ৫২ শতাংশ (China Economic)।

    আইএমএফের বক্তব্য

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার (IMF) জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সম্পত্তি সঙ্কট ও দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানুষের খরচ করার আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। আইএমএফ ২০২৬ সালের জন্য চিনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.৫ শতাংশ করেছে। চিনা সরকারও ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে — ৪.৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ (Debt Nightmare)। খবরে প্রকাশ, রফতানির জন্য চিন এখনও নতুন নতুন কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। গত বছর তাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১.১৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে এবং বিভিন্ন দেশ চিনের কাছে আমদানি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ যদি বৈশ্বিক মন্দা সৃষ্টি করে, তাহলে চিনা পণ্যের চাহিদা কমবে। ফলে শিল্পখাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ইতিমধ্যেই জিনপিংয়ের দেশে মূল্যহ্রাস শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে আরও কম দামে জিনিস পাওয়ার আশায় কেনাকাটা করছেন না চিনারা (China Economic)।

    চিনা অর্থনীতির সামনে আরও বড় সমস্যা

    চিনা অর্থনীতির সামনে আরও দু’টি বড় সমস্যা রয়েছে – একটি হল বাজেট ঘাটতি, অন্যটি জনসংখ্যা সঙ্কট। সরকারি হিসেবে চিনের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ শতাংশ। যদিও বিশ্লেষকদের দাবি, অন্যান্য গোপন বাজেট যোগ করলে তা পৌঁছে যায় ৯.১ শতাংশে। চিনের মোট ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৩০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে বলে অনুমান। ঋণের সুদ শোধের খরচ ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেড়েছে ৩৪১ শতাংশ।এদিকে, চিনা জনসংখ্যা দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। ১৯৪৯ সালের পর জন্মহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। আয়তনে এত বড় একটি দেশে গত বছর মাত্র ৭.৯২ মিলিয়ন শিশু জন্মেছে। আগামী দশকে চিনের জনসংখ্যা কমে যেতে পারে প্রায় ৬ কোটি। এতে ভোগব্যয় আরও কমবে, বাড়বে অর্থনৈতিক সঙ্কট (Debt Nightmare)।

    কমিউনিস্ট-শাসিত চিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ!

    চিনের বিশাল তেল মজুত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ তাদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে এপ্রিল মাসে চিনের রফতানির পরিমাণ বেড়েছে ১৪.১ শতাংশ। এদিকে, তেল ও গ্যাসের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে প্লাস্টিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক খেলনা কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, অনেকে আবার একেবারে ঝাঁপ ফেলে দিয়েছে। চাকরি খুইয়েছেন হাজার হাজার চিনা শ্রমিক (China Economic)। দক্ষিণ চিনে খেলনা কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভও দেখা গিয়েছে, যা চিনের মতো একটি নিয়ন্ত্রিত সমাজে বিরল নজির। চিন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তৈরি করছে ভবিষ্যতের পণ্য। নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা বাড়লে লাভবানও হতে পারে চিন (Debt Nightmare)। তবে যেহেতু চিনা অর্থনীতি রফতানি-নির্ভর, তাই বিদেশের বাজারে তাদের প্রবেশ করতেই হবে। সমস্যা হল, অনেক দেশই চিনকে ভালো চোখে দেখে না। আফ্রিকায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করলেও, সেখানে চিনকে নয়া ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এশিয়ান (ASEAN) দেশগুলিতেও চিনের সস্তা পণ্যের চাপে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিনা কোম্পানিগুলি স্থানীয় কাঁচামাল কম ব্যবহার করে নিজেদের দেশ থেকে আমদানি করে। ফলে এসব দেশে চিনের (China Economic) বিরুদ্ধে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।

     

  • PM Modi: “ভারতের যুবসমাজ বিকশিত ভারতের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে”, রোজগার মেলায় বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “ভারতের যুবসমাজ বিকশিত ভারতের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে”, রোজগার মেলায় বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার ১৯তম রোজগার মেলায় (Rozgar Mela) বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় নবনিযুক্ত ৫১ হাজারেরও বেশি প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সমাবেশে বক্তব্যও রাখেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারতের যুবসমাজ বিকশিত ভারতের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রোজগার মেলা যুবশক্তিকে নতুন সুযোগের মাধ্যমে ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, ইউএই এবং ইতালিতে তাঁর সাম্প্রতিক সফর সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সবুজ প্রযুক্তি এবং উন্নত উৎপাদন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতীয় যুবকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, “নেদারল্যান্ডসে আমার সাম্প্রতিক সফরের সময় সেমিকন্ডাক্টর, জল ব্যবস্থাপনা, কৃষি এবং উন্নত উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুইডেনে এআই ও ডিজিটাল উদ্ভাবনে সহযোগিতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। নরওয়ে এবং ভারতের মধ্যে সবুজ প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আর ইউএই-এর সঙ্গে কৌশলগত, জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।”

    সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের প্রসঙ্গ

    তিনি আরও জানান, ভারত ও ইতালির মধ্যে প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চুক্তি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সমস্ত চুক্তি সরাসরি ভারতের যুবসমাজকে উপকৃত করবে।” সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ডাচ সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্র নির্মাতা এএসএমএল (ASML) এবং টাটা গ্রুপের (Tata Group) অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি (PM Modi) বলেন, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেইন অংশীদার হয়ে উঠছে। এএসএমএল ও টাটার এই চুক্তি একটি বিরল অংশীদারিত্ব, যা অসংখ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং ভারতের জন্য পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তির দরজা খুলে দেবে।”

    ১২ লাখ নিয়োগপত্র বিলি

    তিনি জানান, সুইডেন ও ইউএই-এর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, বিশেষ করে এআই এবং সুপারকম্পিউটিং ক্ষেত্রে, ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তরুণ পেশাজীবীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রোজগার মেলা উদ্যোগের লক্ষ্য হল দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এই উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে আয়োজিত ১৮টি রোজগার মেলার মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ নিয়োগপত্র বিলি করা হয়েছে (PM Modi)। ১৯তম রোজগার মেলা (Rozgar Mela) দেশের ৪৭টি জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়। নবনিযুক্ত প্রার্থীরা ভারতের বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগে যোগ দেবেন, যার মধ্যে রয়েছে রেলমন্ত্রক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, আর্থিক পরিষেবা বিভাগ এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগ ইত্যাদি।

     

LinkedIn
Share