Tag: Artificial Intelligence

Artificial Intelligence

  • Anthropic CEO: এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রপিক কর্তার

    Anthropic CEO: এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রপিক কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে (Anthropic CEO) নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই। তাঁর (AI Model Development) বক্তব্য, প্রযুক্তির অগ্রগতি থামানো নয়, বরং নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও প্রস্তুত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়াই এখন জরুরি।

    একটি ব্লগ পোস্টে আমোদেই জানান, মানুষের জীবনকে আমূল উন্নত করার সম্ভাবনায় বিশ্বাস করেন বলেই গত ১২ বছর ধরে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি রোগ নিরাময়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং মানুষের সুযোগের পরিসর সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    আমোদেইয়ের বক্তব্য (Anthropic CEO)

    এই বিশ্বাস তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমোদেই জানান, তাঁর বাবা এমন একটি রোগে মারা গিয়েছিলেন, যার কয়েক বছর পরেই চিকিৎসা সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে, তিনি নিজেও প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসার থেকে বেঁচে গিয়েছেন, যে রোগটি ৫০ বছর আগে হলে তাঁর চিকিৎসা করা সম্ভব হত না।

    তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনার পাশাপাশি এর ঝুঁকিও যে অত্যন্ত গুরুতর, তা স্পষ্ট করেছেন আমোদেই। এর মধ্যে রয়েছে এআই ব্যবস্থার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা, সাইবার হামলা ও জৈব সন্ত্রাসে প্রযুক্তিটির অপব্যবহার এবং অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা। তাঁর মতে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এই ঝুঁকিগুলিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

    আমোদেইয়ের এই সতর্কবার্তা এসেছে অ্যানথ্রপিকের প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সনের একাধিক সতর্কবার্তার কয়েক দিন পর। কক্সন দাবি করেছেন, “এআই সমস্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে।” তাঁর আরও বক্তব্য, “বর্তমানের সবচেয়ে উন্নত এআই তৈরি করা মানুষরা বিশ্বাস করেন, এই দশক শেষ হওয়ার আগেই এটি মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।”

    অ্যানথ্রপিক শুরু থেকেই প্রযুক্তি তৈরি এবং তার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে বলে জানান আমোদেই। তবে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে তাঁর নিজের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। তিনি লিখেছেন, “আমাদের এআই মডেলের সক্ষমতা উন্নত করার গতি কমাতেই হবে।” তাঁর মতে, গতি কমালেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি যথেষ্ট দ্রুতই থাকবে।

    এআইয়ের স্ব-উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ

    আমোদেইয়ের সতর্কতার পেছনে দু’টি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমটি হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া। বর্তমানে এআই ব্যবস্থাগুলিকে ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মের এআই মডেল তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় পুনরাবৃত্তিমূলক স্ব-উন্নয়ন।

    আমোদেইয়ের আশঙ্কা, এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এগোলে গবেষকরা এআই ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী বোঝা এবং তার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সক্ষমতার চেয়েও দ্রুত প্রযুক্তি এগিয়ে যেতে পারে।

    দ্বিতীয় উদ্বেগের বিষয়টি একটি সাম্প্রতিক ঘটনা, যেখানে অ্যানথ্রপিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ওপেন এআই ও হাগিং ফেস-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় একদল এআই এজেন্ট এমন কিছু লক্ষ্যের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল, যেগুলিতে হামলা করার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়নি। এমনকি নিজেদের কার্যক্ষমতা যাচাই করার জন্য ব্যবহৃত ব্যবস্থাতেও হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

    আমোদেই জানান, ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও সীমিত ছিল। কিন্তু আরও সক্ষম এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মাত্র ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এমন একটি স্বয়ংক্রিয় এআই বাহিনী তৈরি হতে পারে, যা বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম হবে (Anthropic CEO)।

    তিনি বলেন, “এআইয়ের সক্ষমতা যে হারে দ্রুত বাড়ছে, তাতে আমার আশঙ্কা, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এমন একটি বাহিনী স্থায়ী সাইবার-জাল তৈরি করে গোটা ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এর ফলে কয়েকশো বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। আর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া এআই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে থাকবে।”

    উন্নয়ন থামানো নয়, নিরাপত্তাকে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা

    এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এআইয়ের উন্নয়নের গতি দায়িত্বশীলভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য তিন দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আমোদেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, উন্নয়নের গতি কমানো মানে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সংস্থাগুলিকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

    তাঁর কথায়, “স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন, গতি নিয়ন্ত্রণের অর্থ মডেল প্রশিক্ষণ বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। এর অর্থ হল, সংস্থাগুলি যেন তাদের মডেলগুলিকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেয় এবং তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নকারীরা যাতে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।”

    প্রথম ধাপে অ্যানথ্রপিক নিজেই বহিরাগত মূল্যায়নকারীদের সংস্থার কর্মীদের মতো নিয়মিত প্রবেশাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে তাঁরা স্বাধীনভাবে সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে পারবেন।

    দ্বিতীয় ধাপে গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে কাজ করা এআই সংস্থাগুলিকে অভিন্ন নিরাপত্তামান তৈরির জন্য পারস্পরিক সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্প সংস্থাগুলির মাধ্যমে অথবা সরকারের সহায়তায় এই সমন্বয় করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত আইনগত বাধা, যেমন একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ, কীভাবে সামলানো যায়, তাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

    তৃতীয় ধাপে রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয়। এর আওতায় গণতান্ত্রিক দেশগুলির পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলির সঙ্গেও নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার কথা বলেছেন আমোদেই।

    সতর্কভাবে তৈরি হলেই এআইয়ের সুফল মিলবে

    সবশেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে নিজের আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছেন আমোদেই। তাঁর মতে, সঠিকভাবে প্রযুক্তিটি তৈরি করা গেলে এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপুলভাবে উন্নত করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমি এখনও বিশ্বাস করি, এআই মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপুলভাবে উন্নত করতে পারে। এই সুফল অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আমার একটুও কমেনি। কিন্তু এই সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন আমরা প্রযুক্তিটিকে সঠিকভাবে তৈরি করব। আর (AI Model Development) আমরা যে অতিরিক্ত সময় পাচ্ছি, সেটিকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রযুক্তিটিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত (Anthropic CEO)।”

     

  • Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার ভারতকে “অনুপ্রবেশমুক্ত” করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ২৫ অগাস্ট কথাগুলি বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর দাবি, বেআইনি অনুপ্রবেশ দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জন-ভারসাম্যের ক্ষেত্রে (Infiltrator Free Nation) বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। গোয়েন্দা ব্যুরোর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, ভারত কোনও ধর্মশালা বা আশ্রয়কেন্দ্র নয়। তাঁর বক্তব্য, দেশের মাটিতে বসবাসের অধিকার কেবল নাগরিকদেরই রয়েছে। তিনি বলেন, “খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মোদি সরকার দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত আট মাসে তিনি দেশের সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফর করেছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে চার দফা কৌশল সংক্রান্ত একটি নথিও রাজ্যগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার “৩৬০ ডিগ্রি নেটওয়ার্ক” ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান শাহ।

    নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনবিন্যাসের সঙ্গে অনুপ্রবেশের যোগ (Amit Shah)

    শাহ তাঁর বক্তব্যে অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তার কাঠামোর মধ্যে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের উপরও পড়ে। সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, বেআইনি অভিবাসন রোধ এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার—এই বিষয়গুলিও সরকারের নিরাপত্তা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। শাহ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তাকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    চার দফা সীমান্ত নিরাপত্তা কৌশল

    গত আট মাসে সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফরের কথা উল্লেখ করে শাহ জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে চার দফা কৌশল সম্বলিত একটি নথি রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানোই এই কৌশলের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

    সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এর আগে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলেছিলেন শাহ। অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতেই এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

    সন্ত্রাস দমনে প্রহার কৌশল

    সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার সম্পূর্ণ সহযোগী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    শাহের বক্তব্য, শুধু বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসবাদী ঘটনা মোকাবিলা করলেই হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামগ্রিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপরও জোর দেন তিনি।

    তাঁর দাবি, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদ—এই বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলির বিরুদ্ধে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এই অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন শাহ।

    নকশালবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও উত্তর-পূর্বের অশান্তি

    শাহ বলেন, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহ ছিল দেশের তিনটি বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। তাঁর দাবি, সরকার এই সমস্যাগুলির মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

    একই সঙ্গে মাদক, নকশালবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অশান্তির মতো সমস্যার গুরুত্ব আগের সরকারগুলির আরও আগে উপলব্ধি করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সমস্যাগুলি মোকাবিলায় দেরি হওয়ায় দেশকে কয়েক দশক ধরে তার পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের উদাহরণ হিসেবে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর দাবি, এক রাতের মধ্যেই সংগঠনটির সম্পূর্ণ ক্যাডার কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠিত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার উদাহরণ হিসেবে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন (Infiltrator Free Nation)।

    বিদেশে পালিয়ে থাকা ২৭৪ অভিযুক্তকে দেশে ফেরানো

    বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের ভারতীয় আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শাহ (Amit Shah)।

    তাঁর বক্তব্য, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৭৪ জন পলাতককে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ভারতীয় আইনের মুখোমুখি করার জন্য প্রতিটি রাজ্যকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে বহু সংস্থার সমন্বিত কেন্দ্রের আধুনিকীকরণের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর মতে, এই প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন স্তরে কার্যকর ফলাফল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। সংগঠিত অপরাধ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান এবং সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে।

    এক বছরের মধ্যে নতুন ফৌজদারি আইন পুরোপুরি কার্যকর

    দেশের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে বলে জানান শাহ।

    তাঁর দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে। এমনকি তিন বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দোষী সাব্যস্ত করার হার ২৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সংক্রান্ত আলোচনাকে শুধু বর্তমান হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস দেওয়ার উপরও জোর দেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঝুঁকি বড় হুমকিতে পরিণত হওয়ার আগেই তা চিহ্নিত করে তার মোকাবিলার কৌশল তৈরি করতে হবে।

    পুলিশিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের উপর জোর

    তরুণ পুলিশ ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের আরও বেশি করে তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের আহ্বান জানান শাহ।

    তাঁর মতে, বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যকে একত্রিত করে বিশ্লেষণ করতে হবে এবং অপরাধের ধরন ও প্রবণতা চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিতে হবে। এর মাধ্যমে এমন একটি পূর্বাভাসভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে, যেখানে বড় ধরনের হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করা যাবে।

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও এখন একাধিক উৎস থেকে (Infiltrator Free Nation) তথ্য একত্রিত করে উন্নত বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন শনাক্ত করার দিকে এগোচ্ছে (Amit Shah)।

    মাদকমুক্ত ভারতের জন্য তিন স্তরের কৌশল

    শাহের বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযানও গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের সমস্ত রাজ্যের পুলিশকে মাদক নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিভঙ্গি সংক্রান্ত ২০২৬-২০২৯ নথি বাস্তবে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের অপব্যবহার থেকে রক্ষা করার উপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    মাদকমুক্ত ভারত গড়তে শনাক্তকরণ, ব্যাহত করা এবং ধ্বংস—এই তিন স্তরের কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব দেন শাহ। এর মাধ্যমে মাদক চক্র শনাক্ত করা, তাদের কার্যকলাপ ব্যাহত করা এবং শেষ পর্যন্ত বেআইনি মাদক ব্যবসাকে সহায়তা করে এমন গোটা পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    শাহের বক্তব্যের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সফল লড়াই করতে পারে একমাত্র ভারত।”

    ভবিষ্যতের সঙ্কটের পূর্বাভাস দেওয়ার বার্তা

    বিশ্বজুড়ে ঘটে চলা পরিবর্তন থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে জাতীয় নিরাপত্তা নীতি তৈরি করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন শাহ।ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, জ্বালানি সঙ্কট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, বাড়তে থাকা জঙ্গিবাদ, সাইবার যুদ্ধ, অনুপ্রবেশ এবং মাদক চক্রের মতো বিষয়গুলিকে বিবেচনায় রাখার কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলি প্রথম পর্যায়েই চিহ্নিত করে বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর লক্ষ্য—একটি নিরাপদ, অনুপ্রবেশমুক্ত এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা (Amit Shah)।

    সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তায় শাহের বার্তা

    সাম্প্রতিক মাসগুলিতে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন শাহ। ২২ মে তিনি জানান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সীমান্তে এক বছরের মধ্যে স্মার্ট সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য (Infiltrator Free Nation)।

    ২৬ মে দেশজুড়ে অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা জানায় সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকরকে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে জনসংখ্যার পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা কমিটি খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়।

    ২৮ মে শাহ দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে নিয়মিত অনুপ্রবেশ হয়েছে এবং এখন অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ফিরে যেতে শুরু করেছেন। তিনি অনুপ্রবেশকারীদের স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। বেআইনি অভিবাসন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানেরই অংশ হিসেবে এই মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে।

    যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জোর

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে শাহের বক্তব্যে সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির একাধিক দিক উঠে আসে। অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নজরদারি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, মাদক এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা অভিযুক্ত—সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    একই সঙ্গে প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিরাপত্তা নীতিকে শুধু বর্তমান হুমকির মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে কী ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে, তারও আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

    শাহের বক্তব্যের মূল বার্তা হল, কোনও হুমকি বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আগাম গোয়েন্দা তথ্যের (Infiltrator Free Nation) উপর নির্ভর করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করাই সরকারের (Amit Shah) লক্ষ্য।

     

     

  • Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বড়সড় প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal)। ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি চলতি দশকের মধ্যে দেশে সক্রিয় জাপানি সংস্থার সংখ্যা (Infra Energy Tech) দ্বিগুণ করার কথা বলেছেন। জাপানে ভারতের এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোয়েল। দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে বিনিয়োগ, উৎপাদন, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের আরও শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করাই তাঁর সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

    ভারতে জাপানি ব্যবসার পরিসর দ্বিগুণ করার লক্ষ্য (Piyush Goyal)

    বর্তমানে ভারতে ১,৪০০-র বেশি জাপানি সংস্থা কাজ করছে। তবে গোয়েলের মতে, দুই বৃহৎ এশীয় অর্থনীতির সম্ভাবনার তুলনায় এই উপস্থিতি এখনও খুবই সীমিত। জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জাপান-ইন্ডিয়া বিজনেস কনসালটেটিভ কমিটি এবং টোকিওয় ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, চলতি দশকেই ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হওয়া উচিত। গোয়েল বলেন, “আমি মনে করি, চলতি দশকের মধ্যে বর্তমানে ভারতে কাজ করা জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া উচিত।” ২৪ থেকে ২৭ অগাস্ট পর্যন্ত চার দিনের সফরে তিনি ২০০-র বেশি সদস্যের একটি ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলে উৎপাদন, অর্ধপরিবাহী শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ইস্পাত, গাড়ি শিল্প, আর্থিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর নতুন উদ্যোগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

    জাপানকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে দেখছে ভারত

    ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতি এবং উৎপাদনভিত্তিক পরিকাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে জাপানি সংস্থাগুলির সামনে তুলে ধরেছেন গোয়েল। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও জাপান পরস্পরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানের দক্ষতা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জাপানি সংস্থাগুলিকে ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোয়েল বলেন, ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারত ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতি থেকে ৩০ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে (Infra Energy Tech)। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে তিনি জাপানের ‘কাইজেন’ বা ধারাবাহিক উন্নতির নীতির কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা শুধু পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। উৎপাদন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ভারতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে হবে (Piyush Goyal)।

    অর্ধপরিবাহী, এআই ও উন্নত উৎপাদনে নজর

    গোয়েলের চার দিনের সফরে টোকিও, নাগোয়া এবং ওসাকায় সরকারি ও ব্যবসায়িক স্তরে একাধিক বৈঠক রয়েছে। টোকিওয় তিনি জাপানের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও শিল্প সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এছাড়া জাপান বিজনেস ফেডারেশনের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই সংগঠনের সঙ্গে জাপানের ১,৫০০-র বেশি ব্যবসায়িক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। টোকিও পর্বে অর্ধপরিবাহী শিল্প, এআই, নতুন উদ্যোগ এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নিয়ে পৃথক আলোচনা হচ্ছে। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন গোয়েল। পাশাপাশি জাপান সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও সংসদীয় নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক রয়েছে। ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদন ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গেই এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূক্ষ্ম উৎপাদন, গাড়ি প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিক্স এবং শিল্পক্ষেত্রে উদ্ভাবনে জাপানের দক্ষতা ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা কর্মসূচির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

    নাগোয়া ও ওসাকায় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরবে ভারত

    পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিনিধি দল যাবে জাপানের গাড়ি ও শিল্প উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র নাগোয়ায়। সেখানে মধ্য জাপান অর্থনৈতিক ফেডারেশন এবং নাগোয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রদর্শনী ও বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন গোয়েল। আইচি প্রদেশের প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং গাড়ি ও ইস্পাত শিল্পের বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের শেষ পর্বে ওসাকায় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক কর্মসূচি হবে। ইলেকট্রনিক্স, শিল্প সরঞ্জাম এবং ভোগ্যপণ্য খাতের জাপানি সংস্থাগুলির সঙ্গেও বৈঠক করবেন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে ভারতের উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং ভোক্তা বাজারে বিনিয়োগের সুযোগগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি জাপানি (Infra Energy Tech) বিনিয়োগকারীদের ভারতের দ্রুত বিকাশমান নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে যুক্ত করাই লক্ষ্য (Piyush Goyal)।

    ওষুধ, জ্বালানি ও পরিকাঠামোয়ও বাড়ছে সহযোগিতা

    টোকিওয় জাপানের একাধিক সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পীযূষ গোয়েল। তাঁদের মধ্যে রয়েছে মেইজি সেইকা ফার্মা এবং সুমিতোমো কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা। মেইজি সেইকার সঙ্গে বৈঠকে ভারতে তাদের উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুমিতোমোর সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি রূপান্তর, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং শিল্প পরিকাঠামোয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সুমিতোমো কর্পোরেশনের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিনগো উএনোর সঙ্গে বৈঠকের পর গোয়েল বলেন, “ভারতের বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সম্প্রসারিত উৎপাদন ব্যবস্থা আরও বৃহত্তর সহযোগিতার বিপুল সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে।” মেইজি সেইকা ফার্মার সভাপতি ও প্রতিনিধি পরিচালক তোষিয়াকি নাগাসাতোর সঙ্গেও বৈঠক করেন গোয়েল। সেখানে ওষুধ শিল্পে ভারত-জাপান সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভারতে সংস্থাটির উৎপাদন ও গবেষণা-উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, ভারতের ওষুধ শিল্পের পরিকাঠামো জাপানি অংশীদারদের জন্য উৎপাদন বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বড় সুযোগ তৈরি করছে। মিতসুবিশি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি পরিচালক জুরো বাবার সঙ্গেও বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। ভারতে মিতসুবিশি কর্পোরেশনের নয় দশকেরও বেশি সময়ের উপস্থিতির ভিত্তিতে পরিবহণ, জ্বালানি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, “শিল্পের প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমর্থন করে এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য

    ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে (Piyush Goyal) বিশ্বের বড় সংস্থাগুলি বর্তমানে তাদের সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কয়েকটি উৎপাদনকেন্দ্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাও বাড়ছে (Infra Energy Tech)। ভারতের কাছে এই পরিস্থিতি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র এবং রফতানি কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাপানি বিনিয়োগ শুধু মূলধনই আনবে না, এর সঙ্গে উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক শিল্পকৌশল এবং আন্তর্জাতিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও (Infra Energy Tech) গভীর সংযোগও তৈরি হতে পারে। ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী পর্যায়ে এই সহযোগিতাকেই আরও (Piyush Goyal) বিস্তৃত করতে চাইছে নয়াদিল্লি।

     

  • Modi Govt: সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ঠেকাতে কুইক রেসপন্স টিম গড়ছে কেন্দ্র, ২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ

    Modi Govt: সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ঠেকাতে কুইক রেসপন্স টিম গড়ছে কেন্দ্র, ২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো, বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত তথ্য (Fake News) দ্রুত শনাক্ত করে তার মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতর গড়ছে কুইক রেসপন্স টিম। সরকারি এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নাগরিকদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা (Modi Govt) এবং গুজব, মিথ্যা তথ্য ও ভুয়ো খবরের দ্রুত মোকাবিলা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

    কুইক রেসপন্স টিমের নজর (Modi Govt)

    নতুন ব্যবস্থার আওতায় কোনও মন্ত্রক বা দফতরের নীতি, প্রকল্প, কর্মসূচি, সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত সন্দেহজনক পোস্ট ও আলোচনার উপর নজর রাখবে সংশ্লিষ্ট দফতরের সোশাল ও ডিজিটাল মাধ্যমের দল। কোনও পোস্টে তথ্য ভুয়ো, বিভ্রান্তিকর, তথ্যগতভাবে ভুল, বিকৃত, প্রেক্ষিত-বহির্ভূত অথবা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কুইক রেসপন্স টিমের নজরে আনা হবে। এর পর ওই টিম তথ্য যাচাই করে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে জবাব দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নতুন মাধ্যম শাখা থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হবে।

    সরকারের নির্দেশ, এই ধরনের ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে দু’ঘণ্টার মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানানোর চেষ্টা করতে হবে। ডিজিটাল মাধ্যমে কোনও ভুল তথ্য অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেই এই দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, কৃষি এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত দফতর ইতিমধ্যেই তাদের কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    কুইক রেসপন্স টিমের কাজ

    প্রয়োজনে কুইক রেসপন্স টিম সরকারি তথ্য যাচাই শাখার সঙ্গেও সমন্বয় সাধন করবে। ফলে কোনও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সরকারের পক্ষ থেকে তার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি স্তর যুক্ত হবে (Fake News)। অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্য, ব্যাপক জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়, সংবেদনশীল নীতি, জনসাধারণের সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা, আইনি জটিলতা, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর জন্য প্রচার কিংবা একাধিক মন্ত্রকের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে হলে তা উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে, সেখান থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    কেন্দ্রের উদ্বেগ

    সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো ও ক্ষতিকর তথ্য ছড়ানো নিয়ে কেন্দ্রের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বিকৃত ভিডিও, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি বিষয়বস্তু এবং বিভ্রান্তিকর পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং কার্যকর সরকারি যোগাযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা (Modi Govt)।

    চলতি মাসের গোড়ায়ই তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সোশাল মিডিয়া সংস্থা মেটার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। মেটার বিভিন্ন মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ক্ষতিকর বিষয়বস্তু এবং পরিচয় বা সতর্কীকরণ ছাড়াই প্রকাশিত জাল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। বিষয়বস্তু যাচাই ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আরও বেশি মানবীয় নজরদারি এবং ভারতের বিভিন্ন ভাষা ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটকে যথাযথ ভাবে বিবেচনার জন্য আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছে কেন্দ্র (Modi Govt)।

    এই কাঠামোর লক্ষ্য

    নয়া এই কাঠামোর লক্ষ্য হল, কোনও ভুয়ো তথ্য ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর সরকারের তরফে প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে শুরু থেকেই তার উপর নজর রাখা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও দফতরগুলি নিয়মিতভাবে তথ্য পর্যবেক্ষণ, যাচাই এবং প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়ার জন্য পৃথক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিখ্যা তথ্যের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও কাজে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে (Fake News)। সরকারের লক্ষ্য হল, বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আগেই সঠিক ও যাচাই করা তথ্য দ্রুততম সময়ে নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া (Modi Govt)।

     

  • Meta Lawsuit: মেটার বিরুদ্ধে ২৯টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা, ১.৪ লাখ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা, জুকারবার্গের সামনে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ

    Meta Lawsuit: মেটার বিরুদ্ধে ২৯টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা, ১.৪ লাখ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা, জুকারবার্গের সামনে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে দীর্ঘদিন ধরে সোশাল মিডিয়ার নীতিমালা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা মেটার (Meta) চিফ এক্সিকিউটিভ মার্ক জুকারবার্গ (Zuckerberg) এবার আমেরিকায় বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। দেশটির ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় এমন কিছু প্রতিকারের দাবি জানানো হয়েছে, যার ফলে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক দায়ের মুখে পড়তে পারে সংস্থাটি।ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে চলা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তরুণ ইউজারদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে স্ক্রলিং, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সুপারিশের মতো বিভিন্ন সুবিধা তৈরি করেছে। অঙ্গরাজ্যগুলির অভিযোগ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দীর্ঘ সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে উৎসাহিত করার মতো করেই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে নকশা করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আর্থিক দায় (Meta)

    তবে ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অঙ্কটি মেটার ওপর ইতিমধ্যেই আরোপিত কোনও জরিমানা নয়। আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লিখিত অভিযোগ ও প্রযোজ্য শাস্তির ভিত্তিতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আর্থিক দায় হিসাব করে এই অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। মেটা এই দাবিকে “অবাস্তব” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী মেগান ও’নিলের মতে, বাস্তবসম্মত অঙ্ক ১৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। বিচারক ইভন গনজালেস রজার্সও ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এই হিসাবকে “অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন। শেষ পর্যন্ত মেটাকে কত অর্থের আর্থিক দায় বহন করতে হবে, তা আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বিচারকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।

    ভারতে মেটার কার্যকলাপ নিয়েও বাড়ছে প্রশ্নের বহর

    ভারতে মেটার কার্যক্রমও ক্রমশ সরকারি ও জনপর্যায়ের নজরদারির মধ্যে পড়ছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিকর বিষয়বস্তু এবং পরিচালনাগত ত্রুটি নিয়ে বহুদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে।

    ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লক করে দিয়েছিল ফেসবুক। এরপর ভারত সরকার মেটার কর্তাদের তলব করে। পরে মেটা ক্ষমা চেয়ে জানায়, ঘটনাটি ছিল পরিচালনাগত ভুলের ফল।

    বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ও প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ২০২৬ সালের অগাস্টে জুকারবার্গ ভারতীয় কর্তাদের কাছেও ক্ষমা চান। তাঁর প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান, কৃত্রিমভাবে তৈরি (Meta) ভুয়া ভিডিও এবং অন্যান্য পরিচালনাগত ত্রুটির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এই ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়।

    বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন সরকারি আধিকারিকরা জানান, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট ধরনের বিষয়বস্তুর প্রচার বাড়ানোর জন্য অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এর ফলে ভারতে আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—অর্থের বিনিময়ে যদি কোনও বিষয়বস্তুকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে কোটি কোটি ভারতীয় ইউজারের সামনে কোন বিষয়বস্তু দৃশ্যমান হবে, সেই সিদ্ধান্তে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলি কতটাই বা নিরপেক্ষ?

    ভারত সোশাল মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। সরকারি সংস্থা বা আদালতের নোটিশ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ফলে ভারতের মতো মেটার অন্যতম বৃহৎ বাজারে সংস্থাটির জন্য নিয়ন্ত্রক পরিবেশ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভারত সরকার সতর্ক করেছে, দেশের আইন লঙ্ঘন করলে মেটা তার দায়মুক্তির আইনি সুরক্ষাও হারাতে পারে।

    মেটার এআইয়ের কৌশলেও বড় ধাক্কার আশঙ্কা

    মামলাটির প্রভাব শুধু সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। মেটার ক্রমবর্ধমান এআই-ভিত্তিক পরিকল্পনার উপরও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

    মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলি আদালতের কাছে এমন নির্দেশ দাবি করছে, যার ফলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পরিচালনপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এর মধ্যে অল্পবয়সী ইউজারদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ, সুপারিশ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং স্ক্রলিংয়ের মতো সুবিধায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয় রয়েছে।

    ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার দাবিও জানানো হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ও অ্যালগরিদমের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হতে পারে।

    আদালত যদি মনে করে শিশুদের তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং পরে সেই তথ্য এআইয়ের মডেল বা অ্যালগরিদম প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে মেটাকে তার এআই পরিকাঠামোর কিছু অংশ শনাক্ত, পর্যালোচনা, পরিবর্তন এমনকি প্রয়োজনে বাতিলও করতে হতে পারে (Meta)।

    সাক্ষ্য দিতে পারেন জুকারবার্গ ও মোসেরি

    পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া। সেখানে মেটা কর্তা জুকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেটার বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মী এবং প্রযুক্তি ও মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরাও সাক্ষ্য দিতে পারেন।

    তরুণ ইউজারদের ওপর ইনস্টাগ্রামের প্রভাব নিয়ে এর আগেও জুকারবার্গকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। অন্য একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ইনস্টাগ্রামকে আসক্তি তৈরির জন্য নয়, বরং ইউজারদের উপকারে আসার মতো করে তৈরি করা হয়েছিল।

    ২৯ অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ

    ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি-সহ ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, মেটা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা সম্পর্কে ইউজারদের বিভ্রান্ত করেছে এবং এমন কিছু সুবিধা জেনেশুনে তৈরি করেছে, যা তরুণ ইউজারদের আরও বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে কাটাতে উৎসাহিত করে। এসব কার্যকলাপের মাধ্যমে মেটা অঙ্গরাজ্যগুলির ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে (Zuckerberg)।

    অন্য একটি মামলায় ২৯টি অঙ্গরাজ্যই অভিযোগ করেছে, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে মেটা শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষাসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইন লঙ্ঘন করেছে।

    মেটা অবশ্য সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে। সংস্থার দাবি, অঙ্গরাজ্যগুলির প্রধান আইন কর্তারা পর্যাপ্ত প্রমাণ হাজির করতে পারেননি এবং যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে, তা অভিযোগের তুলনায় অসমানুপাতিক। কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকারও সাফাই দিয়েছে মেটা। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের নকশা, বয়স যাচাই এবং ইউজারদের প্রতারণার অভিযোগও অস্বীকার করেছে সংস্থাটি।

    বড় প্রযুক্তি সংস্থা এবং এআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

    এই মামলার রায় মেটার জন্য শুধু বিপুল আর্থিক ক্ষতির প্রশ্নই নির্ধারণ করবে না, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করতে পারে (Meta)।

    এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল, মামলাটি এআই শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। আদালত যদি এমন নির্দেশ দেয়, বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত এআই মডেল মুছে ফেলতে বা পরিবর্তন করতে হবে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি কীভাবে এআই সিস্টেম তৈরি, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা করবে, তার ওপরও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জুকারবার্গের জন্য এটি নিজের দেশের মাটিতেই এক বড় আইনি পরীক্ষা। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোশাল মিডিয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান এখন এমন এক আদালত-লড়াইয়ের মুখোমুখি, যা শুধু মেটার আর্থিক অবস্থাকেই নয়, সংস্থাটির ভবিষ্যতের অন্যতম (Zuckerberg) প্রধান বাজি এআই -কেন্দ্রিক কৌশলেরও একটি অংশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে (Meta)।

     

  • Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে চলা ইরান সংঘাত এবং দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই ভারতের (India) সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বার্তা দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সোমবার ইজরায়েলের বিদেশনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইজরায়েল বিপুল গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি নিজের “অন্যতম সেরা বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের প্রতি ভারতের যে সমর্থন, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল একদিকে যেমন নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে, তেমনই পুরানো ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্পষ্ট করলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ইজরায়েল (Netanyahu)

    ইজরায়েলের বিদেশনীতি প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা ইজরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আমাদের আরও অতিরিক্ত জোট গড়ে তুলতে হবে।” এর পরেই ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই কারণেই আমি ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করছি। আমার বন্ধু নরেন্দ্রর সঙ্গে এই সম্পর্ককে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি আমাদের অন্যতম সেরা বন্ধু।” ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে নেতানিয়াহু আরও বলেন, “লোকে বলে ইজরায়েল বিচ্ছিন্ন। কিন্তু ভারতে ইজরায়েল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি যে সমর্থন পাই, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইজরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভারতকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা ইজরায়েলের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    বহু ক্ষেত্রে বাড়ছে ভারত-ইজরায়েল সহযোগিতা

    গত কয়েক বছরে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। নেতানিয়াহুও দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধিও ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। সেই সফরের সময় ভারত ও ইজরায়েল মোট ন’টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই সময় দুই দেশ তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে “বিশেষ” অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছিল (Netanyahu)। ওই সফরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরও একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের পরিধিও বেড়েছে।

    ২০২৬ সালে নতুন মাত্রা পেল সম্পর্ক

    ২০২৬ সালেও ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেতানিয়াহু দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নীত করে “শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত-ইজরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব” হিসেবে তুলে ধরেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সফরের সময় বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নতুন পর্যায়ের এই অংশীদারিত্বের আওতায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শ্রমশক্তির চলাচল, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক এখন আর শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ এবং উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে প্রযুক্তি—বিস্তৃত হচ্ছে পরিধি

    ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করছে। সময়ের সঙ্গে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে (India)। প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ বেড়েছে। এআই, উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করে তুলছে (Netanyahu)। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত ও শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ফলে এই ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের সহযোগিতা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাণিজ্য এবং শ্রমশক্তির চলাচলের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সামাজিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বে পরিণত হচ্ছে।

    ভারতের সমর্থনের প্রশংসা নেতানিয়াহুর

    নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকে “প্রধান বৈশ্বিক শক্তি” হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের জন্য ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইজরায়েলের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিষয়টিও একাধিকবার তুলে ধরেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত ইজরায়েলকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যে ইজরায়েলকে “বিপুলভাবে সমর্থন” করে চলেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই বক্তব্যের তাৎপর্যও যথেষ্ট। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, তখন ইজরায়েল তার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে। সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

    ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে ভারতের অর্থনৈতিক, কৌশলগত এবং কূটনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ইজরায়েল যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য তারই প্রতিফলন।

    “অন্যতম সেরা বন্ধু”

    সব মিলিয়ে, ইরান সংঘাতের আবহে নেতানিয়াহুর ভারত সম্পর্কে সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নরেন্দ্র মোদিকে “অন্যতম সেরা বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করা এবং ভারত থেকে ইজরায়েলের প্রতি পাওয়া সমর্থনের প্রশংসা করা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তেল আভিভের কাছে নয়াদিল্লির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, এআই, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শ্রমশক্তির মতো একাধিক ক্ষেত্রে (India) সহযোগিতা বাড়ায় দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে (Netanyahu)।

     

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত এআই ভিডিও ঘিরে মামলা, মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের নামে এফআইআর

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত এআই ভিডিও ঘিরে মামলা, মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের নামে এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)-এর সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) বিকৃত ভিডিও।ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাস-সহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর (Meta) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিডিওগুলির উৎস কোথায়, কারা সেগুলি তৈরি করেছে এবং কীভাবে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, মেটার নিজস্ব নজরদারি ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ওই ভিডিওগুলির প্রচার ঠেকাতে কতটা কার্যকর ছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।ঘটনাটি এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হয়ে যাওয়ার পৃথক ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মেটার টানাপোড়েন চলছে। ওই পোস্ট পরে ফের দেখা যায়। মেটা ঘটনাটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল বলে ব্যাখ্যা করলেও, কেন্দ্র সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়, এবং সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    কে এই অরুণ শ্রীনিবাস? (PM Modi)

    অরুণ শ্রীনিবাস বর্তমানে ভারতে মেটার পরিচালক এবং প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ১ জুলাই তিনি এই দায়িত্ব নেন। তার আগে তিনি ভারতে মেটার বিজ্ঞাপন ব্যবসার পরিচালক ও প্রধান ছিলেন। মেটার পক্ষ থেকেই ২০২৫ সালের জুনে তাঁর নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মেটায় যোগ দেওয়ার আগে শ্রীনিবাস হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, রিবক এবং ওলার মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন (PM Modi)। মেটার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুরু হয় ২০২০ সালে। প্রথমে তিনি ভারতে সংস্থাটির গ্লোবাল বিজনেস গ্রুপের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২২ সালে তাঁকে ভারতে বিজ্ঞাপন ব্যবসার পরিচালক ও প্রধান করা হয়। নতুন দায়িত্বে তিনি ভারতে মেটার ব্যবসা, উদ্ভাবন ও আয়সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পান। কলকাতার ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বিপণনে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা করেছেন শ্রীনিবাস। তার আগে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হন। প্রায় তিন দশকের বিক্রয় ও বিপণন-অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    কেন মামলা দায়ের?

    পুলিশ সূত্রে খবর, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এআই ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই দুই সোশ্যাল মিডিয়াই মেটার মালিকানাধীন। তদন্তকারীরা প্রথমে জানতে চাইছেন, ভিডিওগুলি কোথা থেকে তৈরি বা প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে কীভাবে সেগুলি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। শুধু ভিডিও নির্মাতাদের ভূমিকা নয়, যারা ওই ভিডিও আপলোড, ফের প্রকাশ বা ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের ভূমিকাও তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মেটার নিজস্ব বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ওই ধরনের বিকৃত ভিডিও শনাক্ত করে দ্রুত সরাতে পেরেছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্তে পুলিশ এখনও পৌঁছয়নি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়ও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন (Meta)।

    মেটা কী বলেছে?

    এফআইআর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মেটার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, মেটার এক প্রতিনিধি তদন্তকারীদের সামনে হাজির হয়ে সংস্থার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং আইন মেনে চলার বিষয়টি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেছেন।হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ পুলিশের পক্ষ থেকে মেটার প্রতিনিধিদের ডেকে এআই ব্যবহার করে তৈরি প্রতারণামূলক বিষয়বস্তু, ভুয়ো বিজ্ঞাপন এবং অন্যান্য বিকৃত বিষয়বস্তু শনাক্ত ও সরানোর পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি সূত্রের। তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট নিয়ে আলাদা চাপের মুখে মেটা

    শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরটি প্রধানমন্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনার থেকে আলাদা। তবে দু’টি ঘটনাই মেটার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও পোস্ট ফেসবুকে সাময়িকভাবে সীমিত হয়ে যায়। ভিডিওটিতে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল। পরে সেটি পুনরুদ্ধার করা হয়। মেটার তরফে ঘটনাটিকে এআই-নির্ভর বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় এবং দুঃখপ্রকাশ করা হয় সংস্থার তরফে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ওই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট বলে মনে করেনি। তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণণ বলেন, “তারা ক্ষমা চেয়েছে এবং স্বীকার করেছে যে যা ঘটেছে তা ভুল ছিল—এটি ভালো। কিন্তু আমরা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নই… এটি যথেষ্ট নয় এবং আমরা আরও বিস্তারিত তথ্য চাইছি (PM Modi)।” এর পরেই মেটার শীর্ষ কর্তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ফলে একদিকে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট  সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে তাঁর কৃত্রিমভাবে তৈরি বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ—দু’টি ঘটনাই ভারতে মেটার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

    সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কেন বাড়ছে নজরদারি?

    ভারতে বড় সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর সরকারি নজরদারি সম্প্রতি আরও বেড়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন, পরিচয় জাল করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের দ্রুত বিস্তার নিয়ে সরকারের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এর পাশাপাশি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়েও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সক্রিয় হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলির ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—কোন বিষয়বস্তু দ্রুত শনাক্ত করা হবে, কোনটি সরানো হবে এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Meta)। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে এফআইআর শুধু একটি নির্দিষ্ট ভিডিওকে ঘিরে তদন্ত নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া -নির্ভর বিকৃত বিষয়বস্তুর দায় কার—সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দায় কতটা?

    এআইয়ের সাহায্যে তৈরি ভিডিও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হওয়ায় সাধারণ ইউজারদের পক্ষে আসল ও নকল ভিডিও আলাদা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের নামে বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণেই তদন্তে শুধু ভিডিওটি কে তৈরি করেছে, তা জানাই যথেষ্ট নয়। সেটি কোন মাধ্যমে প্রথম ছড়াল, কত দ্রুত ছড়াল, কারা তা ফের প্রকাশ করল এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম সেটি শনাক্ত করতে বা সরাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছিল—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। হায়দরাবাদ পুলিশের বর্তমান তদন্ত সেই বৃহত্তর প্রশ্নগুলিই সামনে নিয়ে আসছে। তবে তদন্ত যেহেতু এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তাই শ্রীনিবাস বা অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা সম্পর্কে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এই মামলা ভারতে এআই-নির্ভর ভুয়ো বিষয়বস্তু এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনা নিয়ে কেন্দ্র ও মেটার মধ্যে যে ব্যাখ্যা-পর্ব চলছে, তার সঙ্গে এই (Meta) নতুন তদন্ত যুক্ত হওয়ায় ভারতের ডিজিটাল পরিসরে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

  • India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে অসামরিক পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানালেন মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই দেখছে। এই মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের সহকারী সচিব এস পল কাপুর। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুভার ইনস্টিটিউশনে ভারতকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিব কন্ডোলিজা রাইস এবং ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড সি মালফোর্ড।

    ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

    সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এস পল কাপুর বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই। এই সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) শক্তিশালী করছে, যা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করছি। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী বিশ্বস্ত AI (Trusted AI) এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির গ্রহণ ও উন্নয়নেও একসঙ্গে কাজ করছি।’’

    কেন গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা?

    ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মার্কিন সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আগ্রহী। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পের শীর্ষ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল ভারতে এসে বেসরকারি শিল্পের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এই আগ্রহ আরও বেড়েছে, কারণ ভারত সম্প্রতি ‘শান্তি’ (SHANTI) আইন প্রণয়ন করে পারমাণবিক প্রকল্পে দায়বদ্ধতা (Liability) সংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য ভারতীয় বাজারে কাজ করার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে আরও অনুকূল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই শক্ত ভিতের উপর

    ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব কাঠামোতে স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য স্থল, নৌ, বায়ু, মহাকাশ এবং সাইবার—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা (Interoperability) বৃদ্ধি করা। ২০০২ সালের পর থেকে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একাধিক অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার
    • ● চিনুক হেভি-লিফট হেলিকপ্টার
    • ● সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহণ বিমান
    • ● সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস
    • ● পি-৮আই সামুদ্রিক নজরদারি বিমান
    • ● এম-৭৭৭ আল্ট্রা-লাইট হাউইৎজার

    এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।

    এআই ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে নতুন সমীকরণ

    বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি আগামী দিনের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তারা ভারতের সঙ্গে বিশ্বস্ত এআই-এর মতো ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়। এর লক্ষ্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবেশ তৈরি করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর ক্ষেত্রে ভারতীয় সফটওয়্যার দক্ষতা এবং মার্কিন প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব একত্রিত হলে বিশ্ববাজারে দুই দেশই বড় সুবিধা পেতে পারে।

    ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়ছে

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা কেবল অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি, এআই এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তি ভাগাভাগি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবনে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

  • NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে (NTA) বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং (Young Professionals) নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থার ৪৭ জন আধিকারিক ও কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক তদন্ত, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং মূল্যায়ন গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তুলে সংস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর কাজও শুরু হয়েছে। শুক্রবার সরকারি সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে।

    বরখাস্ত বহু আধিকারিক (NTA)

    এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। ওই ঘটনার জেরে ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করতে হয়, এবং প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে ২১ জুন ফের পরীক্ষায় বসতে হয়। ঘটনার পর থেকেই এনটিএর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সরকারি সূত্রের খবর, যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁদের শুধু অন্যত্র বদলি করা হয়নি বা দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি, সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম, পদমর্যাদা বা নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও চলবে। জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থতার জন্য কার কী দায় ছিল, তা চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। আগামী দিনে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তৈরি হচ্ছে নয়া কাঠামো

    এনটিএর পুনর্গঠনের প্রথম পর্যায়ে চারজন জেনারেল ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে ১৬ জন তরুণ পেশাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি। শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। নতুন জেনারেল ম্যানেজারদের তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে এবং তাঁরা সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করবেন (Young Professionals)। নতুন কাঠামোয় মূল্যায়ন ও মনস্তাত্ত্বিক পরিমাপ সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি, নম্বরের সামঞ্জস্য নির্ধারণ, প্রশ্নপত্রের মান নির্ধারণ, কম্পিউটারভিত্তিক অভিযোজিত পরীক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা বিভাগের প্রধান দেশের পাঁচশোরও বেশি শহর এবং বিদেশের নির্বাচিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখবেন। পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন, অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, পরীক্ষার দিন পরিচালনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে (NTA)।

    সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক

    তথ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক হিসেবে কাজ করবেন। সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, পরীক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি মেনে চলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে কম্পিউটার জরুরি প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত জাতীয় সংস্থার নির্দেশিকাও কার্যকর করার দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে। এছাড়া সতর্কতা, তদন্ত এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রধান পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। সংস্থার নিজস্ব ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা ব্যুরো, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এবং সাইবার অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত পরিচালনা করবেন। সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় রোধে প্রণীত ২০২৪ সালের আইনের আওতায় এই তদন্তগুলি পরিচালিত হবে (Young Professionals)। ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে যে তরুণদের নিয়োগ করা হবে, তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পাননি। এই পোর্টালের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ঘটানো হয় (NTA)।

    পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তন

    মোট ১৬টি পদের মধ্যে ১২টি থাকবে অ্যাকাডেমিক গবেষণায়, দু’টি আইনি গবেষণায় এবং দু’টি অর্থ ও হিসাব বিভাগে। প্রথমে ২৪ মাসের জন্য নিয়োগ করা হবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩৬ মাস পর্যন্ত করা যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, অস্থায়ী কর্মীর ওপর এনটিএর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে সংস্থায় স্থায়ী পদের সংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি পদ পূরণ হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ৭৩ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ১২৪। এই ভারসাম্য বদলাতে চায় কেন্দ্র। রাধাকৃষ্ণণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মোট ১০টি কার্যকরী বিভাগে আগামী দিনে আরও নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং অনুবাদকদেরও নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে (NTA)। পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে নিট-ইউজি আর ওএমআর শিটে হবে না। পরিবর্তে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর ফলে যৌথ প্রবেশিকা (মেইন) এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার ধাঁচের সঙ্গে নিট-ইউজির সামঞ্জস্য তৈরি হবে (Young Professionals)।

    সংরক্ষিত থাকবে ডিজিটাল রেকর্ড

    সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রশ্নপত্রের হার্ড কপি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। একাধিক প্রশ্নসেট ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং প্রতিটি ধাপের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। তবে এজন্য নিরাপদ পরীক্ষা কেন্দ্র, আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের নথিভুক্তিকরণ, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা, প্রযুক্তিগত পরিষেবা এবং গোপনীয় নথি সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করছে কেন্দ্র। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। নিরীক্ষা ও পটভূমি যাচাই আরও কঠোর করা হবে। সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ব্যর্থতা ধরা পড়লে আরও কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে (NTA)।

     

  • India: ড্রাগনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে হাতি! চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩, সেখানে ভারতের ৭.৮ শতাংশ, চিন্তায় বেজিং

    India: ড্রাগনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে হাতি! চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩, সেখানে ভারতের ৭.৮ শতাংশ, চিন্তায় বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করা সত্ত্বেও, মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হারে চিনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে ভারত (India)। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, চিনের প্রবৃদ্ধি কমেছে, অন্যদিকে ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে (China Economy)।

    কী বলছে প্রতিবেদন? (India)

    সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ভারত এখনও চিনা পণ্যের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারী দেশ। তবে এর বিপরীতে ভারতে তৈরি পণ্যের রফতানি চিনে তুলনামূলকভাবে অনেকখানি কম। বুধবার প্রকাশিত চিনের জিডিপি বৃদ্ধির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশটির অর্থনীতি ৪.৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এই হার ছিল ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক প্রান্তিকের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম চিনের অর্থনীতিতে এতটা ধীরগতি দেখা গেল, যা অর্থনীতিবিদদের অনেকেরই প্রত্যাশার বাইরে ছিল। অন্যদিকে, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ, যা চিনের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী দিনে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে।

    কেন কমছে চিনের জিডিপি?

    কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউবিএস চিনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউ সং চিনের অর্থনীতি মন্থর হওয়ার তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চিনের অর্থনীতির দুর্বলতার জন্য দায়ী নয়। বরং এই প্রযুক্তি চিনের উপকারই করেছে (China Economy)।” ইউ সংয়ের মতে, দীর্ঘদিনের আবাসন খাতের সঙ্কটই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। তাঁর দাবি, চিনের সম্পত্তি বাজার দীর্ঘ সময় ধরে মন্দার মধ্যে রয়েছে। ফলে মানুষ সম্পত্তিতে বিনিয়োগের বদলে সঞ্চয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছেন (India)। তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের ব্যয়ও কমে গিয়েছে। তাঁর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় চিনের সাধারণ মানুষ দামি ব্র্যান্ডের পণ্যের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। এ ছাড়াও কর্মসংস্থান কমে যাওয়াকেও অর্থনীতির দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ইউ সং। তাঁর কথায়, “এআই যেমন চিনকে সুবিধা দিয়েছে, তেমনই এটি (China Economy) বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলেছে এবং শ্রমিকের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে (India)।”

     

LinkedIn
Share