Tag: assembly elections 2026

assembly elections 2026

  • SIR in Bengal: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম! ট্রাইবুনাল নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    SIR in Bengal: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম! ট্রাইবুনাল নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা (SIR in Bengal) থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম। সোমবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন জেলা অনুযায়ী বাদ পড়া (ডিলিটেড) নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। মোট বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার। তাঁদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩। বিবেচনাধীন ভোটার তালিকা থেকে নাম উঠেছে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম। অর্থাৎ, মোট বাদ পড়ার সংখ্যা ৯০ লক্ষ ছাড়াল (৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫)। সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসআইআর-এ বিবেচনাধীন থাকা ৬০ লক্ষের কাছাকাছি অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়ে গিয়েছে, বলে আগেই সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ৷ সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো সেই চিঠিও পড়ে শোনান ৷

    কোন জেলায় কত নাম বাদ

    কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। ওই জেলায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। মালদায় এই সংখ্যাটা ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৭৫। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজার ১৬৩ জন ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও সেগুলিতে ই-স্বাক্ষর করা হয়নি। ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাদ পড়া নামের তালিকায় আরও কিছু নাম যুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভোটার তালিকাতেও আরও কিছু নাম সংযুক্ত হতে পারে। জেলা অনুযায়ী বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ছিল মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম। বিবেচনাধীন তকমা ওঠায় এই তালিকায় যুক্ত হল আরও ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম।

    রাজ্য মেশিনারি ব্যর্থ

    এসআইআর-এ নাম বাদ পড়া নিয়ে মালদার কালিয়াচকে বিচারপতিদের উপর হামলার ঘটনাও সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে উঠে আসে। এদিন কমিশনের আইনজীবী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলছেন, উত্তরপ্রদেশ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হচ্ছে আপনাদের মারার জন্য ৷ ক্রমাগত এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা হচ্ছে ৷’’ অন্যদিকে, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘‘আপনারা শুনুন, একজন মহিলা বিচারক ভয়ে কীভাবে কেঁদে আর্ত চিৎকার করছেন ৷’’ যা শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘রাজ্য মেশিনারি যে ব্যর্থ হয়েছে তা তো স্পষ্ট ৷’’ প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘‘ট্রাইবুনাল গঠিত হবে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দ্বারা ৷ তবে আগে ট্রাইবুনালের কাজ করার মতো পরিস্থিতি থাকতে হবে ৷ ১৫ জন বিচারপতিকে দিয়ে ১৯ দিনে সব কাজ করতে বললে তো বিশৃঙ্খলা হবেই ৷ আমরা হাইকোর্টের প্রধান বিচাপতিকে বলব, তিন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করুন ৷ এবং সেই কমিটি দেখবে ট্রাইবুনালের কাজ৷’’

    ট্রাইবুনাল নিয়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ

    এসআইআর নিয়ে এখনও মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। কমিশনের তালিকা থেকে আপাতত বাদ গিয়েছেন যাঁরা তাঁরা ফের অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ নিতে হবে। সোমবার, এই মামলার শুনানিতে উঠে আসে এসআইআর-এ (SIR in Bengal) নন্দলাল বসুর নাতির নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গ ৷ রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, ‘‘যার আঁকা ছবি ছাড়া ভারতের সংবিধান অসম্পূর্ণ থাকত, তাঁর পরিবারের লোকের নামই ডিলিট হয়ে গিয়েছে ৷’’ এ কথা শুনে প্রধান বিচারপতি জানান, কমিশনকে নন্দলাল বসুর নাতি-নাতনির করা আপিলে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দিতে হবে। এছাড়া ট্রাইবুনাল নিয়ে এদিন বিশেষ কয়েকটি নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি জানান, বিচারকদের দেওয়া কারণ-সহ সব কিছু খতিয়ে দেখে নিজেদের প্রক্রিয়া তৈরি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ট্রাইবুনাল। ১৯টি আপিল ট্রাইবুনালের একই রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তিন জন প্রাক্তন সিনিয়র প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন। এই কমিটি একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ঠিক করবে, যা ১৯টি ট্রাইবুনালকেই বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে। অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দিতে হবে। আগামী ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টেয় পরবর্তী শুনানি।

  • PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের (Assembly Election 2026) মাধ্যমে পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। এখান থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করার শপথ নিলেন তিনি। ভোট ঘোষণার পর প্রথমবার বাংলায় এলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। বললেন, “বাংলায় এসেই বুঝে গেছি তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন শুধুই পরিবর্তন চাইছে। আর তারপর তৃণমূলের পাপের হিসেব করা হবে। বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে।”

    মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি

    এদিন কোচবিহারে রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar) কালিয়াচক-প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “মালদায় যা হয়েছে, সেটা গোটা দেশ দেখেছে। দেশের মানুষ স্তম্ভিত। কীভাবে মালদায় বিচারকদেরই বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তৃণমূলের শাসনে বিচারকেরাও রেহাই পান না। এটা কোন সরকার, কোন প্রশাসন, কোন ব্যবস্থা। যেখানে বিচারক, সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই সুরক্ষিত নয়। বাংলার সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এদের থেকে কীভাবে আশা করা যায়? মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি।” এ প্রসঙ্গেই মোদির সংযোজন, “এটাই প্রমাণ করছে, এখানে জঙ্গলরাজ চলছে। তৃণমূল সংবিধানের গলা টিপে ধরছে। তৃণমূলের সন্ত্রাসের মোকাবিলায় আপনাদের ভরসা বিজেপি। এখানে যা হচ্ছে, তাতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টকেই হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।”

    ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar) বলেন, “এত বছর ধরে বাংলার মানুষের পয়সা লুট করা হয়েছে। সকল দুর্নীতিবাজদের এই টাকা ফেরত দিতে হবে। ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা করেছিলাম। মানুষের সেই ভিড়ে তৃণমূলের সিন্ডিকেট ঘাবড়ে গিয়েছে। ব্রিগেডের বিউগল কোচবিহারে আরও বেশি হয়েছে। টিএমসির পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ। পাল্টানো দরকার। এটাই নতুন বাংলার দিশা। বিজেপি এখানে সরকার গড়বে।” রাজ্যে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন। প্রথম দফা ভোটের আগে এটাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সভা। ব্রিগেডে জনসভার পর এবারেই প্রথমবার রাজ্যে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    উন্নয়ন বনাম অত্যাচার

    রাজ্যে তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ে নিয়েও এদিন সরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “এবার বাংলায় একদিকে তৃণমূলের ভয় রয়েছে, অন্যদিকে মোকাবিলা করার জন্য বিজেপির ভরসা রয়েছে। একদিকে তৃণমূলের কাটমানি রয়েছে, অন্যদিকে বিজেপির বিকাশের ভরসা। একদিকে অনুপ্রবেশকারী সমস্যা, অন্যদিকে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর সংকল্প নিয়েছে বিজেপি। একদিকে সিন্ডিকেট রাজে সম্পত্তি হারানোর ভয় রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে বিজেপির উন্নয়ন। একদিকে সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর অত্যাচার, অন্যদিকে মহিলাদের অত্যাচার রুখতে মোদির গ্যারান্টি রয়েছে।” এদিন আইনের ওপর ভরসা রাখার কথা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, “একদিকে বেকারত্ব রয়েছে অন্যদিকে সুশাসন রোজগারের দিশা রয়েছে। ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা যতই ভয় দেখাক আপনাকে আইনের সাহায্য নিতে হবে। এবার ভোটে ভয় পালাবে। বিজেপি জিতবে। ৪ মে-র পর আইন নিজের কাজ করবে। বিজেপি বাংলার মানুষের জন্যেই আসরে নেমেছে। মহিলারা এরপর সঠিক বিচার পাবেন। গোটা দেশের মহিলারা বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। বিজেপি মহিলাদের পাশে রয়েছে। তবে দেশের উন্নতির ভাগ বাংলায় আসে না। এবার বাংলার উন্নতি হবে।”

    অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই! বাঙালি ঐতিহ্য

    পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বানিয়েছে তৃণমূল। আর এই অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে। এর ফলে বাংলার মানুষের নিরাপত্তা বিপদের মুখে।” বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশকারীদের রোখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। বক্তৃতার শুরুতেই বাংলায় বলেছিলেন, “সবাইকে আমি নমস্কার জানাই।” তার পর একাধিক বার কাটা কাটা বাংলায় বক্তৃতা করতে শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। কখনও তিনি বলেছেন, “বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ, পাল্টানো দরকার।” কখনও বলেছেন, “জঙ্গলরাজের অন্ত হবে।” এই সূত্রেই প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল তাদের ঘোষণাপত্রের নাম বাংলায় রাখেনি। মোদির কথায়, “তৃণমূল ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে, যার নাম বাংলায় রাখেনি। বরং ইস্তাহার বলা হচ্ছে। ভেবে দেখুন কেমন ভাবে বাংলার পরিচয় বদলে দিচ্ছে।”

    তৃণমূলকে দুর্নীতি-তির 

    তৃণমূলের দুর্নীতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গে ‘গ্রহণ নেমে এসেছে’ বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অন্য রাজ্যগুলি এগিয়ে যাচ্ছে, আর বাংলাকে পিছনে ঠেলে দিয়েছে তৃণমূল। এখানে সরকারি চাকরির উপরেও তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে। বাংলার যুবসমাজ জানে, এই সরকার কত বড় নিয়োগ দুর্নীতি করেছে। কারা এতে শামিল ছিল! তৃণমূলের নিজের মন্ত্রী, বিধায়ক। উপর থেকে নীচ পর্যন্ত গোটা তৃণমূল দুর্নীতিতে যুক্ত ছিল। কাটমানি, কমিশন আর দুর্নীতি করে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছে এরা।”

    মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস

    গত কয়েকটি নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, রাজ্যে মহিলাদের ভোট মূলত তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে। এ বার সেই ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চায় পদ্মশিবির। সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই কোচবিহারের সভায় ‘মা-বোনেদের’ বার্তা দেন মোদি। বলেন, “বিজেপি এলে মহিলারা স্বনির্ভর হবেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মা-বোনেদের সব সুবিধা দিয়েছে। ৩ কোটি মহিলাকে লাখপতি বানিয়েছে। আমাদের সরকার লোকসভা এবং বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার আইন এনেছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই এর সুবিধা মিলবে।” বিজেপি ‘মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস’ বলেও জানান মোদি।

    মোদিতে মাতোয়ারা

    রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হেলিকপ্টারে কোচবিহার বিমানবন্দরে পৌঁছন মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। সেখান থেকে গাড়িতে চেপে রাসমেলার মাঠে সভায় পৌঁছন। বিমানবন্দর থেকে রাসমেলার মাঠ, প্রায় দেড় কিলোমিটারের রাস্তায় অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন দু’পাশে তাঁকে দেখার জন্য। নির্বাচন (Assembly Election 2026) ঘোষণা হওয়ার পরে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকেই প্রচার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ৪ মে-র পর বাংলায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার হবে। কোচবিহার এবং উত্তরবঙ্গের আর অন্যায় হবে না। এটা মোদির গ্যারান্টি।

  • Assembly Elections 2026: জেলা সফর শুরু মনোজের! নিরাপত্তার ব্যবস্থা কোথায় কেমন খতিয়ে দেখাই লক্ষ্য

    Assembly Elections 2026: জেলা সফর শুরু মনোজের! নিরাপত্তার ব্যবস্থা কোথায় কেমন খতিয়ে দেখাই লক্ষ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের (Assembly Elections 2026) প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে শনিবার থেকে জেলা সফর করছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। কমিশন সূত্রে খবর, প্রথমেই মনোজ যাবেন পূর্ব মেদিনীপুরে। সেখানে তিনি প্রশাসনিক দফতর পরিদর্শন করবেন। আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন মনোজ। এরপর তিনি অন্যান্য জেলাতেও সফর করবেন। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে শুরু করেছেন এবং জোরকদমে প্রচারও চলছে।

    মনোজের জেলা সফরের প্রাথমিক লক্ষ্য

    দীর্ঘদিন পর রাজ্যে তুলনামূলক কম দফায় ভোট হচ্ছে। ভোট ঘোষণার দিনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছেন যে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে। মনোজকুমার আগরওয়ালের এই জেলা সফর সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বেশ কয়েকজন শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিং ও সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থাও থাকবে। এছাড়া, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটারদের মোবাইল বাইরে জমা দিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। এই বিধিগুলি যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করতেই মনোজের এই জেলা সফর।

    অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে

    বাংলার ভোট উৎসবকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করাই লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের। মালদার এসআইআর (SIR) কাণ্ডে বিচারকদের আটকে রাখা, বিক্ষোভ এবং সেই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে যাওয়ার পর থেকেই চাপে রয়েছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ভোট মরসুমে ইতিমধ্যেই শীর্ষ স্তরের একাধিক আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। নিয়োগ করা হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক পর্যবেক্ষক। এরপর ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং নিরাপত্তা বলয় কতটা নিশ্ছিদ্র, তা খতিয়ে দেখতে জেলায় জেলায় ঘুরবেন মনোজ। তারপর সেই রিপোর্ট সরাসরি দিল্লিতে পাঠাবেন মনোজ কুমার আগরওয়াল।

     

     

  • Kaliachak Incident: ‘রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত, বাংলায় আইনের শাসন নেই’, কালিয়াচক-কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির

    Kaliachak Incident: ‘রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত, বাংলায় আইনের শাসন নেই’, কালিয়াচক-কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (Kaliachak Incident) সাতজন বিচারপতির আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি (BJP)। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “তৃণমূলের (TMC) কারনে বাংলার মানুষ নয় দেশের মানুষ নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। ১২ রাজ্যে এসআইআর চলছে। কেরলের মত অবিজেপি রাজ্যেও চলছে। কিন্তু যবে থেকে বাংলায় শুরু হয়েছে তখন থেকে তৃণমূল ধর্মীয় বিভাজন শুরু করেছে। যে রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়, সেই রাজ্যে আইনের শাসন থাকে না। আমরা দেখেছি হাইকোর্টের মহিলা বিচারপতির কাছে হুমকি এসেছে। বিচার ব্যবস্থার নিচুতলার কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

    পুরো ঘটনা পরিকল্পিত, চক্রান্ত

    দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, পুরো ঘটনা পরিকল্পিত। সাংবাদিক বৈঠকে শমীক বলেন, “কোনও স্থানীয় মানুষের জনরোষ নয়। এটা পরিকল্পিত। উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণবঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রয়াস চলছে।” এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা জরুরি, তা বোঝাতে শমীক বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। বিনাযুদ্ধে ভারত দখলের চক্রান্ত চলছে। মুর্শিদাবাদ, মালদাকে এপিসেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে জাল নোট। সম্প্রতি লস্করের জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে থেকেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কোভিডকালে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি কোচবিহারে মডিউল তৈরি করেছে। সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায়।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করার অভিযোগ তুলে শমীক বলেন, “দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বার বার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে খবর পাঠিয়েছে যে কোচবিহার থেকে সন্ত্রাসবাদী মডিউল ছড়াচ্ছে। কিন্তু এখানকার সরকার কান দেয়নি। যেভাবে কিছু মানুষ সীমান্তের ওপার থেকে বলছেন, যে কোনও মুল্যে চিকেনস্ নেক-কে সরিয়ে দিয়ে আমরা এখান থেকে বাংলা এবং ভারতের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনব, তার সামগ্রিক প্রতিফলন হয়েছে কালিয়াচকের ঘটনায়।”

    প্রগতিশীল মুসলিমরাও চিন্তা করুন

    সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গকে ‘পোলারাইজড’ বলে উল্লেখ করেছে। সেই পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে শমীক বলেন, “হিন্দুদের সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল মুসলিমদেরও চিন্তা করার সময় এসেছে। ওপারে যা ঘটেছে, এপারেও তারই প্রতিফলন।” শমীক বলেন, “বাংলার সরকার বাবরদের সরকার, মৌলবাদিদের সরকার।” তিনি আরও বলেন, ‘‘বাঙালি মুসলিমদের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। হিন্দুদের সঙ্গে মুক্তমনা মুসলিম ভাইদেরও ভাবতে হবে তারা কাকে সমর্থন করবেন। মা কালিকে আজ অ্যারেস্ট করা হচ্ছে বাংলায়।’’ বিজেপি সভাপতির দাবি, এটা পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কোনও বাহিনী এসে শান্তিরক্ষার স্বার্থে গুলি চালায়। আর তা থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক অশান্তি। পুরো প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন শমীক। তিনি যোগ করেন, ‘‘বাংলার মানুষ ঠিক করে নিয়েছে বাংলাকে যদি ভারতের সঙ্গে রাখতে হয় তাহলে তৃণমূলকে সরাতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলা বলা মানুষ এই সরকারকে উৎখাত করতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গ ধর্মশালা নয়। যে কেউ, যখন খুশি এসে নাম তুলবে।’’

  • Bengal Elections 2026: ভোটের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন মুখ্যমন্ত্রী! মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে নালিশ বিজেপির

    Bengal Elections 2026: ভোটের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন মুখ্যমন্ত্রী! মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে নালিশ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাল বিজেপি। মঙ্গলবার এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এর দফতরে হাজির হয় বিজেপির প্রতিনিধি দল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল সিইও দফতরে গিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানায়।

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের উস্কানি

    শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ,‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি মানছেন না। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের উস্কানি দেওয়ার মতো মন্তব্য করছেন, যা অত্যন্ত গুরুতর।’’ শুধু তাই নয়, বিজেপির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নাকি প্রকাশ্যে এমন কথাও বলেছেন, ৪ মের পর বিজেপি কর্মীদের গলায় পোস্টার ঝুলিয়ে বলতে হবে ‘‘আমরা বিজেপি করি না।’’ শুভেন্দুর প্রশ্ন,‘‘একজন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন? তিনি প্রার্থী হলেও তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। এভাবে কি ভোট-পরবর্তী হিংসার ইঙ্গিত দেওয়া যায়?’’ এই সমস্ত অভিযোগই মঙ্গলবার লিখিত আকারে সিইও দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে।

    ‘ভয় ও উস্কানিমূলক’ পরিবেশ

    প্রসঙ্গত, এর ঠিক একদিন আগেই দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে একই অভিযোগ জানায় বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, কিরেণ রিজিজু, অরুণ সিং ও সুকান্ত মজুমদারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের সভা-সমাবেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে ‘ভয় ও উস্কানিমূলক’ পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ২৫ মার্চ ময়নাগুড়ি ও নকশালবাড়ি এবং ২৬ মার্চ পাণ্ডবেশ্বরের সভার বক্তব্য। পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ২৮ মার্চের এক সাংবাদিক বৈঠকের মন্তব্যকেও নিশানা করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, এই সমস্ত বক্তব্য ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া এবং তা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। তাদের অভিযোগ, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশ ‘নিষ্ক্রিয়’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’। স্পর্শকাতর এলাকায় আরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, অতিরিক্ত আইএএস ও আইপিএস পর্যবেক্ষক নিয়োগের দাবিও জানানো হয়েছে। এমনকী ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আওতায় এফআইআর দায়েরের আর্জিও জানানো হয়েছে।

  • Election Commission: তৃণমূল পার্টি অফিসে ক্যারাম খেলার মাশুল! কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড ৩ সিআরপিএফ জওয়ান

    Election Commission: তৃণমূল পার্টি অফিসে ক্যারাম খেলার মাশুল! কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড ৩ সিআরপিএফ জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্তব্যে গাফিলতি এবং নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগে তিন সিআরপিএফ জওয়ানকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, রাজ্যে শাসকদল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে ঘাসফুল শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওই জওয়ানেরা ক্যারম খেলছিলেন। ভোটমুখী বাংলায় (West Bengal Assembly Election 2026) কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়ে যখন টানাপড়েন চলছে, ঠিক তখনই বীরভূমের এই ছবি ঘিরে দানা বাঁধল নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি এমনই দৃশ্য ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। উল্লেখ্য, এর আগে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) নিমতিতাতেও এক তৃণমূল নেতার (TMC Iftar) ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সাতজন বিএসএফ জওয়ান। তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন।

    ভাইরাল ভিডিওয় কী ছবি

    সূত্রের খবর, শনিবার বীরভূমের এক এলাকায় টহল দেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কিন্তু ডিউটি চলাকালীন আচমকাই তিন জওয়ান ঢুকে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি স্থানীয় কার্যালয়ে। সেখানে বসে থাকা কর্মীদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি শুরু হয় জোরদার ক্যারাম খেলা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে সেই খেলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একেবারে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে ঢুকে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে ক্যারাম খেলছেন দুজন জাওয়ান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরিহিত একজন পাশেই একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন। কোনও দিকে মন না দিয়ে ক্যারামে ফোকাস করেছেন সকলেই। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকাকালীন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানেরা কীভাবে শাসকদলের কার্যালয়ে ঢুকে আড্ডা জমালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।

    কমিশনের কড়া বার্তা

    বিজেপির তরফে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়। কমিশন সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্ত ও ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের পর ওই তিন জওয়ানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ছাব্বিশের নির্বাচনে আর কোনও ডিউটিতে থাকতে পারবেন না এই তিন জওয়ান। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এমন ‘উদাসীন’ ও ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণে ক্ষুব্ধ কমিশনের কর্তারা।এর আগেও বিএসএফ-এর কয়েকজন জওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন। কিন্তু সেই ঘটনা থেকে যে কোনও শিক্ষাই নেওয়া হয়নি, বীরভূমের ঘটনা তারই প্রমাণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভাবমূর্তি যাতে কোনওভাবেই কালিমালিপ্ত না হয়, সে বিষয়ে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

  • Supplementary list: বাদ ১৮ লক্ষ, দু’লক্ষ নাম-সহ চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের, মোট কত নাম কাটা গেল?

    Supplementary list: বাদ ১৮ লক্ষ, দু’লক্ষ নাম-সহ চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের, মোট কত নাম কাটা গেল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৮ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত পর্যন্ত ৪২ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে। আর ২০ লক্ষের মতো ভোটারের নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে সেগুলি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এবার থেকে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করা হবে, বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেইমতো রবিবার কমিশন চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary list) প্রকাশ করে। এদিন ২ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    ১৮ লক্ষের নাম বাদ

    গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয়েছিল। এরপর গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেইসময় ৫৮ লক্ষের নাম বাদ যায়। এর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে আরও সাড়ে ৫ লক্ষের মতো নাম বাদ যায়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষের নাম বিবেচনাধীন তালিকা রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে জুডিশিয়াল অফিসাররা বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখছে। গত ২৩ মার্চ প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary list) প্রকাশ হয়। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ১৮ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে। অর্থাৎ খসড়া তালিকা থেকে ধরলে এখনও পর্যন্ত ৮১ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। এখনও ১৮ লক্ষের বেশি নামের নিষ্পত্তি হওয়া বাকি। শেষপর্যন্ত কত নাম বাদ পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

    ট্রাইবুনালে আবেদন

    কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। জানা গিয়েছে, কলকাতাতেই ট্রাইবুনালের অফিস হচ্ছে। জেলা থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনের জন্য কলকাতা আসার প্রয়োজন নেই। অনলাইনে আবেদন জানানোর জন্য, https://voters.eci.gov.in/ ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। অফলাইনে জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে ফর্ম ফিলাম করে আবেদন জানাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। কিন্তু ট্রাইবুনাল কবে কাজ শুরু করবে, স্পষ্ট করেনি হাইকোর্ট। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯।

  • Assembly Elections 2026: নির্বাচনের আগে ও পরে হিংসা আটকাতেই হবে! পুলিশকে কড়া নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের

    Assembly Elections 2026: নির্বাচনের আগে ও পরে হিংসা আটকাতেই হবে! পুলিশকে কড়া নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন (Assembly Elections 2026)। ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা থেকে নিচু স্তরের কর্মীদের একগুচ্ছ নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। জামিন অযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করা নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে কমিশনের। সূত্রের খবর, গত নির্বাচনের সময় যে সব অপরাধমূলক মামলা হয়েছিল সেগুলির তদন্ত দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসডিপিও-দেরও। পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি দিয়েছে কমিশন। এসডিপিও-দের নিজের কর্মক্ষেত্রের পাশের মহকুমা ও জেলার পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই ভোট যেন হয় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ।

    এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশিকা

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দফতরের তরফে কড়া নির্দেশিকা, আগেরবারের ভোটের (Assembly Elections 2026) সময় দায়ের হওয়া সমস্ত ফৌজদারি মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে। সমস্ত জামিন-অযোগ্য ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে হবে। কোনও ওয়ারেন্ট ১০ দিনের বেশি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এছাড়া, থানায় থানায় সমস্ত ঘোষিত ‘পলাতক’ ও ‘ওয়ান্টেড’ আসামিদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের তরফে সমস্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অতীতে যে সব জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বিক্ষোভ বা গোলমালের ইতিহাস রয়েছে সেখানে বিশেষ পদক্ষেপ করতে হবে। কারা সম্ভাব্য গোলমালকারী, তাও চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

    অপরাধপ্রবণ ও মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করতে হবে

    নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ, অপরাধপ্রবণ ও মাদক কারবারিদের এলাকা চিহ্নিত করে, সেখানে সারাক্ষণ টহল ও পিকেটিং চালাতে হবে। দুষ্কৃতী বা সমাজবিরোধীরা থাকতে পারে এমন সন্দেহজনক হোটেল, বার, ধর্মশালা ইত্যাদি জায়গায় নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে। নির্বাচনী অপরাধ বা আইনশৃঙ্খলার ঘটনার খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে লুক আউট নোটিস জারি করতে হবে পুলিশকে।

    আন্তঃজেলাভিত্তিক নাকা চেকিং

    আন্তঃজেলাভিত্তিক বেআইনি কার্যকলাপ, বিশেষ করে অবৈধ মদের কারবারের তথ্য দুই জেলার পুলিশদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেইসঙ্গে আন্তঃজেলা ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে দিনরাত নাকা চেকিং চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে, সীমান্তবর্তী সমস্ত রাস্তা, একাধিক লিঙ্ক রোড ও কাঁচা রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে নজরদারি জারি রাখতে হবে, নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। থানায় থানায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, নাকা পয়েন্টে গাড়িতে গাড়িতে তল্লাশি জোরদার করতে হবে। নাকায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টা সচল আছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

    রাজনৈতিক সভায় নজরদারি

    রাজনৈতিক দলের সভা-জমায়েতও নজর রাখতে বলা হয়েছে। প্রার্থী, সভা, রোড শো, পথসভা ইত্যাদির নিরাপত্তা নিয়মিত খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভোটের প্রচারে আসা হুমকির মুখে থাকা ভিআইপি বা নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন আধিকারিকদের সফরেও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে।

    কমিশনের নিয়ন্ত্রণে

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) স্পষ্ট বার্তা, ভোটের সময় সকল সরকারি কর্মচারী কমিশনের অধীনে কাজ করেন। তাঁরা কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে কমিশন। কমিশনের বার্তা, এই নির্দেশ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। যদি কেউ নিজের কাজ ঠিক ভাবে না করেন, তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। শুধু ভোটের দিনেই নয়, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতেও সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। গণনা পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে ও প্রয়োজনে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে হবে কমিশনের কাছে।

    বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং পরিকাঠামো

    ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা হয়েছে একাধিক নির্দেশ। প্রচারের উত্তাপে জমে উঠেছে রাজনৈতিক ময়দান। ঠিক এই আবহেই ভোট প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও নিরপেক্ষ রাখতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন। বুথে পাঁচ মিনিট ক্যামেরা বন্ধ থাকলে রিপোল হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। সেই মর্মেই এবার বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

    বিশেষ পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব

    কমিশন সূত্রে খবর, সাধারণ নির্বাচন হোক বা উপনির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব থাকবে বিশেষ পর্যবেক্ষকদের উপর। বিশেষ করে স্পর্শকাতর ও অশান্তি প্রবণ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে। বুথভিত্তিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোটের দিন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে হবে। কোথাও কোনও অনিয়ম বা অভিযোগের খবর মিললেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাও পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

     

     

     

     

  • Mamata on Ram Navami: শুভেচ্ছাতেই শেষ! সারাদিন রাজ্যে রামনবমীর কোনও অনুষ্ঠানে নেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা, জানেন কেন?

    Mamata on Ram Navami: শুভেচ্ছাতেই শেষ! সারাদিন রাজ্যে রামনবমীর কোনও অনুষ্ঠানে নেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা, জানেন কেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা দেশের পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে পালিত হল রাম নবমী (Mamata on Ram Navami)। নির্বাচনের আগে ঈদের নামাজ আদায় করতে রেড রোড গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু রাম নবমীর দিন কোথাও রাম নবমীর কোনও মিছিলে, পুজোয়, খুঁজে পাওয়া গেল না তাঁকে। হিন্দুদের উৎসব বাসন্তী পুজো অন্নপূর্ণা পুজো এবং রামনবমী। নির্বাচনের আগে এটা হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব বলা যায়। অথচ অদ্ভুত কান্ড। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামনবমীর একটা নমো নম করে পোস্টার বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছাড়া তার আর কিছুই করলেন না।

    সংখ্যালঘু তোষণই নীতি

    নির্বাচনের আগে নিজের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে হাতে রাখার জন্য কোনও কসুর ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঈদের দিন বৃষ্টির মধ্যেই সকাল সকাল তিনি চাদর গায়ে দিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন রেড রোডে ঈদের মঞ্চে। সেখান থেকে দাঁড়িয়ে তিনি হিন্দি ভাষায় অনর্গল বিজেপিকে আক্রমণ করে যান। তবে রামনবমীকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু পোস্টার। দেখলে অবাক হবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রামনবমীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মানুষকে। কিন্তু সেখানে শ্রী রামচন্দ্রের কোন ছবি নেই। কেবলমাত্র তার হাসি হাসি মুখের একটি ছবি রয়েছে। যাই হোক এই ছবি পোস্ট করার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনভর সেটা নিয়ে সমালোচনা হয়।

    মমতার হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কে ধস

    সমালোচকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু  ভোট ব্যাংকের জন্য চিন্তা করেন না। আর সেই জন্যই রামনবমীতে কোনও অনুষ্ঠান দেখা গেল না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আসলে, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনে বাঙালি হিন্দুর মধ্যে তার জাতীয়তাবাদী সত্তাটা খানিক চাপা পড়ে গিয়েছিল, বারবারি রাজ্যে হিংসা-হানাহানি হলেও বামেদের প্রচারের কারণে নিজেদের বিপদটা বুঝতে পারতেন না বাঙালি হিন্দুরা। তারপর ক্ষমতায় এলেো তৃণমূল। বামেদের দেখানো পথেই সংখ্যালঘুতোষণ শুরু করলো তারা। পশ্চিমবঙ্গে লেগে রইল হিংসা। বাদুড়িয়া কালিয়াচক ধূলাগড় সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুরা অত্যআচারিত হল। কিন্তু ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রে ক্ষমতায় বসার বছর খানেক পর থেকে এই রাজ্যে পাল্টে যেতে শুরু করে পরিস্থিতি। হিন্দুরা তাদের হিন্দুত্ব নিয়ে গর্ব করতে শুরু করে সেই প্রথম। জাগতে শুরু করে হিন্দুরা। ধীরে ধীরে রাজ্যজুড়ে ধুমধাম করে পালন হতে শুরু করে রামনবমী। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ নানা হিন্দু সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে, জায়গায় জায়গায় ধুমধাম করে রামনবমী পালন শুরু হয়। হিন্দুরা জাগতে ধীরে ধীরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামে। তিনি আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরতে শুরু করেন মুসলিম ভোট ব্যাংককে। এরপর ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে বিজেপির ১৮টি আসন পাওয়ার পর রামচন্দ্র রাতারাতি হয়ে যান বহিরাগত।

    মমতার দ্বিমুখী আচরণ

    তারপর নদী দিয়ে কত জল গড়িয়ে গিয়েছে, কত বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলার হিন্দু সমাজ আরো বেশি করে একত্রিত হয়েছে। আর তত বেশি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরে গিয়েছেন মুসলিম ভোট ব্যাংকের কাছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে তিনি অপমান করেছেন হিন্দুদের।। কোন প্রতিবাদ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাননি। হিন্দুদের পবিত্রতম সমাবেশ মহাকুম্ভকে তিনি ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। কোটি কোটি পুণ্যার্থীর আধ্যাত্মিক আবেগকে এভাবে অমঙ্গলজনক শব্দের মাধ্যমে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। জনসমক্ষে দেবীর আরাধনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভুলভাবে সরস্বতী মন্ত্র পাঠ করেন। মন্ত্রের শুদ্ধতা নষ্ট করা এবং ভুল উচ্চারণ ধর্মীয় শাস্ত্রের প্রতি তাঁর উদাসীনতা ও অবজ্ঞাকেই প্রকাশ করে। আধ্যাত্মিক আলোচনা করতে গিয়ে তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনী ও বাণী গুলিয়ে ফেলেন। এই ধরনের ভুল মহাপুরুষদের আদর্শের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন। শ্রীরামকৃষ্ণের কালজয়ী বাণী “যত মত তত পথ”-কে তিনি রাজনৈতিক স্বার্থে “যত মাটি তত টাকা” বলে ব্যাখ্যা করেন। এই মহান আধ্যাত্মিক দর্শনকে অর্থের সঙ্গে তুলনা করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। ব্রিগেডে লক্ষকণ্ঠে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে তিনি যাননি এবং সেটিকে রাজনৈতিক তকমা দিয়েছিলেন। অথচ রেড রোডের নামাজে নিয়মিত গিয়ে রাজনৈতিক ভাষণ দেওয়া তাঁর দ্বিমুখী আচরণকেই স্পষ্ট করে।

  • Assembly Election 2026: ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৩২ লক্ষের নিষ্পত্তি! প্রায় ৪০ শতাংশের নাম বাতিল, জানাল কমিশন

    Assembly Election 2026: ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৩২ লক্ষের নিষ্পত্তি! প্রায় ৪০ শতাংশের নাম বাতিল, জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের (Assembly Election 2026) আগে রাজ্যে বাদ যাওয়া নামের পরিসংখ্যান সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘অ্যাডজুডিকেশন’ (বিবেচনাধীন) তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩২ লক্ষের তথ্য নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ বাদ পড়েছে। অর্থাৎ নতুন করে ১৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। বুধবার এমনই তথ্য দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commisson Of India)।

    এখনও পর্যন্ত বাদ ৭৬ লক্ষ নাম!

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা। তার আগে খসড়া তালিকাতেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ যায়। মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট (SIR Supplementary List)। সেই তালিকায় কতজনের নাম আছে, কতজনের নাম নতুন করে বাদ পড়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয় জল্পনা। বুধবার সন্ধ্যায় কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে ১০ লক্ষ নাম রয়েছে। আরও জানা গিয়েছে যে, ৩২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ বাদ পড়েছে। অর্থাৎ ১৩ লক্ষ নাম নতুন করে বাদ পড়েছে। হিসেব বলছে সব মিলিয়ে ৭৬ লক্ষ নাম বাদ পড়ল এখনও পর্যন্ত।

    রাজ্যে কত জনের নাম বাদ যেতে পারে

    এসআইআর শুরু হওয়ার আগে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ নাম। সেই তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে বাদের হিসেব দাঁড়িয়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ নাম। এই হিসেবে যদি চলা হয়, তাহলে আগামী তালিকাতেও বাদ পড়তে পারে প্রায় ৪০ শতাংশ নাম। আর এমন হলে এখনও প্রায় ১২ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে বলেই খবর সূত্রের। ফলে, সব মিলিয়ে বাদ পড়তে পারে ৮৭ থেকে ৮৮ লক্ষ ভোটারের নাম। এখনও প্রায় ২৮ লক্ষ ভোটারের নামের নিষ্পত্তি বাকি। আর যদি এমন ঘটে তাহলে রাজের মোট ভোটারের ১১ শতাংশের বেশি নাম বাদ পড়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, এসআইআর শুরু হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। ফলে, এসআইআর শেষ হলে ভোটারের সংখ্যা হতে পারে ৬ কোটি ৮০ লক্ষ।

    বিজেপি’র দাবি মিলছে

    বুধবার পটাশপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একটি জনসভায় বাদ পড়া ভোটারের নিজস্ব হিসেব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘‘৩২ লক্ষ ভোটারের সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ লক্ষ বৈধ ভোটার, ১৪ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে। সব মিলিয়ে অবধি ৭৯ লক্ষের নাম বাদ পড়ল। এখনো ২৮ লক্ষের নাম বিবেচনায় রয়েছে।’’ বিরোধী দলনেতার দাবি, রাজ্য বহু কেন্দ্রে অনেক ভুয়ো এবং মৃত ভোটার ছিল। এ ছাড়াও একটা বড় সংখ্যায় বাংলাদেশি মুসলিম ভোটারের নাম ছিল বলে দাবি শুভেন্দুর। তাঁর কথায়, ‘‘ওঁরা ভারতের নাগরিক নন। তাঁদের নাম বাদ যাওয়াই উচিত।’’ প্রসঙ্গত, বিজেপিই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মুখে রাজ্যে এক কোটি নাম বাদ যাওয়ার কথা বলেছিল। এখন হিসেব করলে দেখা যায়, নাম বাদের সংখ্যাটা সেই দিকেই যাচ্ছে।

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

    পশ্চিমবঙ্গে কেন এসআইআর নিয়ে এত সমস্যা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্টও। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘বাংলা ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা হয়নি৷ কোনো বিবাদও হয়নি৷ অন্য রাজ্যেও তো বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে!’’ রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, অন্য রাজ্যে ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ নিয়ে এত গোলমাল হয়নি। এটার জন্যই পশ্চিমবঙ্গে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কোর্টের নির্দেশেই জুডিশিয়াল অফিসাররা নথি যাচাই করছেন। সেই অনুযায়ী প্রকাশিত হচ্ছে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে তাকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে, কমিশন প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি নামের তালিকা প্রকাশ করতে চায়।

    দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট কবে

    আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হবে বলে সূত্রের খবর। তবে সেই তালিকা বেরনোর কথা নিশ্চিত করেনি কমিশন। প্রতিদিন তালিকা বের করা হবে কি না, তাও ভেবে দেখছে কমিশন। আগামী তালিকাতেও বাদ পড়তে পারে অনেক নাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তখন বিবেচনাধীন ভোটার ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। এই তালিকা ৭০৫ জন বিচারক নিষ্পত্তি করছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক নিষ্পত্তি হওয়া তালিকা ধাপে ধাপে বার করার কথা জানিয়েছে কমিশন। সেই অনুযায়ী সোমবার রাতে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা বার হয়।

LinkedIn
Share