Tag: Ayushman Bharat

Ayushman Bharat

  • West Bengal: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! ভুয়ো অস্ত্রোপচার, জাল বিল, টাকার ভাগ স্বাস্থ্যকর্তাদেরও?

    West Bengal: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! ভুয়ো অস্ত্রোপচার, জাল বিল, টাকার ভাগ স্বাস্থ্যকর্তাদেরও?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছুরি-কাঁচি ছাড়াই অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে দাবি, কোথাও আবার চিকিৎসার খরচ কয়েক গুণ বাড়িয়ে জমা পড়েছে বিল। এমনকী, যে চিকিৎসা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাতেই নেই, সেই চিকিৎসার নামেও সরকারি অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে (West Bengal)। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভুয়ো কিংবা অস্তিত্বহীন স্বাস্থ্যসাথী উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে (Swasthya Sathi Project Scam) বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক ভুয়ো উপভোক্তার আড়ালে সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোর।

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর কথায়, “সবে ওপেনিং ব্যাটসম্যান নেমেছে, তাতেই ২৫-৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে। পুরো ইনিংস এখনও বাকি। এটা তো টি-২০ ম্যাচ নয়, তাই সময় লাগবে। আস্তে আস্তে দেখবেন আরও কত তথ্য বেরিয়ে আসে।”

    কীভাবে চলত দুর্নীতির কারবার? (West Bengal)

    স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে বিমা সংস্থা এবং উপভোক্তার মধ্যে সংযোগ রক্ষার কাজ করে তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থা। চিকিৎসার খরচ বাবদ দাবি যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করে তারা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই সংস্থাগুলির একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

    বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার বিলের দুই থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আদায় করত অভিযুক্ত তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থাগুলি। দাবি মতো টাকা না দিলে আটকে দেওয়া হত চিকিৎসার বিলের টাকা। এই চক্রের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কয়েক জন আধিকারিকের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। তাঁদের অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত বিল পাশ করানো সম্ভব হত না বলেও অভিযোগ।

    ৪০ হাজারের অস্ত্রোপচারে বিল ২ লাখ টাকা!

    প্রতিটি অস্ত্রোপচারের জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে নির্দিষ্ট আর্থিক প্যাকেজ রয়েছে। অভিযোগ, সেই প্যাকেজের অঙ্ক বাড়িয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দাবি করত কিছু নার্সিংহোম। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে, ৪০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচারের প্যাকেজকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। নার্সিংহোমের তরফে বেশি টাকার আবেদন জমা পড়ার পর স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের অনুমোদনে তা পাশ হয়ে যেত বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ ভাগ হয়ে যেত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে।

    এখানেই শেষ নয়। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের নির্ধারিত চিকিৎসা প্যাকেজের বাইরে থাকা কিছু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সরকারি অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রোগীর অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে দেখিয়েও বিল জমা দেওয়া হত বলে (West Bengal) অভিযোগ।

    একজনের অস্ত্রোপচারে চারজনের কার্ড ব্যবহার!

    দুর্নীতির অভিযোগের আরও একটি চাঞ্চল্যকর দিক সামনে এনেছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠন। সংগঠনের প্রতিনিধি চিকিৎসক রাজীব পাণ্ডের বক্তব্য, একটি পরিবারের চার সদস্যের নাম স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নথিভুক্ত ছিল। পরিবারের একজন সদস্যের অস্ত্রোপচার হলেও বাকি তিনজনের নামও প্রকল্পের আওতায় ব্যবহার করে আটকে দেওয়া হত। ওই পরিবারের অন্য সদস্যদের নার্সিংহোমে অতিথি হিসেবে থাকার ব্যবস্থাও করা হত বলে অভিযোগ।

    অভিযোগ, বাস্তবে ২০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচার হলেও ভুয়ো অস্ত্রোপচারের হিসাব দেখিয়ে বিল তৈরি করা হত ৮০ হাজার টাকার। অর্থাৎ, প্রকৃত চিকিৎসার খরচের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা হত।

    ২৫ লাখেরও বেশি ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান?

    সম্প্রতি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের উপভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাই করতে গিয়ে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা শুরু করেছে প্রশাসন। সেই যাচাইয়ের কাজেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন উপভোক্তার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি।

    মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল বৃহস্পতিবার এই অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, অস্তিত্বহীন উপভোক্তাদের নামেও বছরের পর বছর সরকারি কোষাগার থেকে বিমার প্রিমিয়াম বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ লাখ ভুয়ো বা অদৃশ্য উপভোক্তার কারণে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, উপভোক্তা যাচাইয়ের সূত্রে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভুয়ো কার্ডের সন্ধান পাওয়ার দাবিও সামনে (West Bengal) এসেছে।

    নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বেসরকারি হাসপাতাল সংগঠনের

    এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম। সংগঠনের সভাপতি অভিজিৎ মণ্ডল এবং সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত করে অভিযুক্ত হাসপাতাল, নার্সিংহোম, তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, যে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তা উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে (Swasthya Sathi Project Scam) হবে।

    সংগঠনের বক্তব্য, কেবল অভিযুক্ত কোনও সংস্থাকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে বাদ দিলেই দায় শেষ হয়ে যায় না। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা জরুরি।

    স্বাস্থ্যসাথী-আয়ুষ্মান ভারত বাতিলের দাবি চিকিৎসক সংগঠনের

    অন্যদিকে, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার বিরোধিতা করে স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত—দুই প্রকল্পই বাতিলের দাবি তুলেছে সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের দাবি, গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে।

    তাঁদের মতে, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য প্রকল্পের পরিবর্তে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়ানোর কাজে ব্যয় করা উচিত। তাতে রাজ্যের সমস্ত মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। সংগঠনের অভিযোগ, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলির অন্যায্য মুনাফার সুযোগ বাড়ছে (Swasthya Sathi Project Scam)।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তা, অতিরিক্ত বিল, অস্তিত্বহীন অস্ত্রোপচার এবং সরকারি আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নির্ধারণ করতে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের। সরকারি অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে তা উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে (West Bengal), এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলের।

     

  • Seva Setu Abhiyan: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি! রাজ্যজুড়ে চলছে ‘সেবা সেতু অভিযান’ শিবির, কী কী মিলছে?

    Seva Setu Abhiyan: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি! রাজ্যজুড়ে চলছে ‘সেবা সেতু অভিযান’ শিবির, কী কী মিলছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনও মেলেনি পরিষেবা? কোথায় আবেদন করবেন বা আবেদনের পর নিজের নামের স্ট্যাটাস কী, তা নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন? এবার সেই সমস্যা মেটাতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে সেবা সেতু অভিযান শিবির (Seva Setu Abhiyan)। আজ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ শিবির চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।

    রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই তিন দিনের শিবিরে একই জায়গা থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ মিলছে। পাশাপাশি বেশ কিছু প্রকল্পের আবেদনের স্ট্যাটাসও জানা যাচ্ছে। ফলে সরকারি পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দফতরে ঘুরতে হবে না।

    রাজ্যজুড়ে ৩৩০০টি শিবির

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লক, পুরসভা, কর্পোরেশন-সহ বিভিন্ন স্তরে রাজ্যজুড়ে মোট ৩৩০০টি সেবা সেতু অভিযান শিবির চালু হয়েছে। এই শিবিরগুলিতে এক ছাদের নিচে প্রায় ৬০টি সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিবিরে গিয়ে সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে। একইসঙ্গে যাঁরা ইতিমধ্যে কোনও প্রকল্পে আবেদন করেছেন, তাঁরাও নির্দিষ্ট পরিষেবার ক্ষেত্রে আবেদনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

    কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা মিলছে?

    সেবা সেতু অভিযান শিবিরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● অন্নপূর্ণা যোজনা
    • ● আয়ুষ্মান ভারত
    • ● প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা
    • ● শিক্ষাশ্রী
    • ● জয় জোহার
    • ● পিএম কিষান ক্রেডিট কার্ড
    • ● পিএম কিষান স্বনিধি
    • ● বিধবা ভাতা
    • ● বয়স্ক ভাতা
    • ● বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতা

    এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্যও প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও আবেদনপত্রের ব্যবস্থা থাকছে।

    অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন করে আবেদন

    এই শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন করে আবেদন করার সুযোগ। যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁরা শিবির থেকে আবেদনের ফর্ম সংগ্রহ করে আবেদন করতে পারবেন। অন্নপূর্ণা যোজনায় ইতিমধ্যে আবেদন করে থাকলে তার স্ট্যাটাস সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া যাবে। একইভাবে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের স্ট্যাটাস জানার ব্যবস্থাও থাকছে।

    বিধবা ও বয়স্ক ভাতার জন্যও আবেদন

    শুধু অন্নপূর্ণা বা আয়ুষ্মান নয়, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই শিবির গুরুত্বপূর্ণ। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতার জন্য নতুন আবেদনপত্র বিলি করা হচ্ছে। ফলে যোগ্য ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শিবিরে গিয়ে আবেদন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

    থাকছে ব্যাঙ্কের বিশেষ ক্যাম্পও

    সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি সেবা সেতু অভিযান শিবিরে ব্যাঙ্কের বিশেষ ক্যাম্পেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ থাকছে। এর ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কিং পরিষেবার প্রয়োজন থাকলেও একই জায়গায় তার সমাধান করার সুযোগ মিলবে।

    কলকাতা ও হাওড়ায় কোথায় শিবির?

    কলকাতা পুরনিগম এলাকায় দুটি ওয়ার্ড পিছু একটি করে সেবা সেতু অভিযান শিবির চালু করা হয়েছে। ফলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দারা নিজেদের এলাকার নির্দিষ্ট শিবিরে গিয়ে পরিষেবা নিতে পারবেন।অন্যদিকে হাওড়া পুরনিগমের ৫০টি ওয়ার্ডের জন্য ২৬টি জায়গায় সেবা সেতু অভিযান শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    আপনার এলাকার শিবির কোথায়, জানবেন কীভাবে?

    নিজের এলাকার সেবা সেতু অভিযান শিবির কোথায় হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় থাকলে ফোন করেই তথ্য জানা যাবে। প্রশাসনের তরফে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে নিকটবর্তী শিবিরের ঠিকানা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যাবে।

    হেল্পলাইন নম্বর:
    ● ১৮০০ ৩৪৫ ০১১৭
    ● ০৩৩-২২১৪ ০১৫২

    তাই অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিষান, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা কিংবা অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে যাঁরা আবেদন করতে চাইছেন, তাঁরা ২ থেকে ৪ অক্টোবরের মধ্যে সেবা সেতু অভিযান শিবিরে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিতে পারেন।

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যের সব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, স্থায়ী ভবন তৈরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: রাজ্যের সব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, স্থায়ী ভবন তৈরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বৃদ্ধির পর এবার রাজ্যের সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে আয়োজিত ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ (ICDS Centres) অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন তিনি। ভাড়াবাড়িতে চলা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে সরকারি স্থায়ী ভবনে স্থানান্তরিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শিশু ও প্রসূতিদের পুষ্টির উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু।

    অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উন্নয়নে শুভেন্দুর সরকার (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, অগাস্ট মাস থেকেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। তাঁদের আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রায় ৩৮টি নামী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বছরে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন তাঁরা। শিশুদের পুষ্টি এবং গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের খাবারের দৈনিক বরাদ্দ ছ’টাকা থেকে বাড়িয়ে আট টাকা করা হয়েছে। গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের খাবারের বরাদ্দ ১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    স্থায়ী ভবনের ঘোষণা

    অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। শুভেন্দু জানান, বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ১৯ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাড়াবাড়িতে চলছে। আগামী দিনে এই কেন্দ্রগুলিকে সরকারের নিজস্ব স্থায়ী ভবনে স্থানান্তরিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছে। এদিকে, অনুষ্ঠানে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তিনি বলেন, “শিশুদের জীবনের প্রথম গুরু হলেন এই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরাই (ICDS Centres)। শৈশবেই খুদেদের নৈতিক শিক্ষা ও যত্নের দায়িত্ব তাঁরা কাঁধে তুলে নেন। বস্তুত, দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রয়েছে তাঁদেরই হাতে (Suvendu Adhikari)।”

     

  • GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড় তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার প্রথমবার কালিম্পং সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও, খারাপ আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতা কম থাকায় হেলিকপ্টার নিয়ে কালিম্পঙে নামতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই পাহাড়ের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দেন।

    জিটিএতে বিপুল বরাদ্দ (GTA)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়ে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জন্য ২৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। খুব শীঘ্রই নিজে উপস্থিত থেকে ওই মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

    এদিন উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। এদিকে, কালিম্পং টাউন হলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং কালিম্পঙের বিধায়ক ভরত ছেত্রী।

    ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দশ মিনিট ধরে অবতরণের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু জ্বালানি কম থাকায় উত্তরকন্যায় ফিরে আসতে হয়। আমি ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসব। ২২ সেপ্টেম্বর কোচবিহার ও জলদাপাড়ায় গন্ডার দিবস পালন করতেও আসব। ২ অক্টোবর বক্সায় আসব। ৬ অক্টোবর দার্জিলিং যাব। ফেরার সময় কালিম্পং হয়ে ফিরব।”

    জিটিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএ-র সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। আমি স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাকে পাহাড়ের সমস্ত বিষয়ে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ বরাদ্দ হয়েছে। আমি নিজে তার শিলান্যাস করব। এটা কালিম্পংবাসীর জন্য বড় উপহার।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় ২৫৪ কোটি

    পাহাড়ের বিপর্যয় মোকাবিলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মুখ্যসচিব রাজেশ সিনহাকে পাহাড়ের বিপর্যয় নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। সম্প্রতি মিরিকে বড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের খুব সাবধানে কাজ করতে হবে। জিটিএর চেয়ারম্যান ও সভাসদরা পদত্যাগ করেছেন। জিটিএর বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ২৫৪ কোটি টাকা বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য জিটিএকে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসক সেই কাজ করবেন। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং বাকি সভাসদদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হবে। স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেখছেন। বাকি উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।”

    ২০২৫ সালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়বাসীদের এদিন তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সরকারের তরফে আগেই পুনর্বাসনের জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। এবার বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় একাধিক ঘোষণা

    কালিম্পং জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গেও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৩ জনকে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার ৩১১ জন সেই কার্ড পেয়েছেন বলে জানানো হয়। ১২৩ জন ওই কার্ডের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি।

    কালিম্পঙের ১৫ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। কেউ যাতে এই প্রকল্প থেকে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং বিধায়ক ভরত ছেত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয় (GTA)।

    অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ওই টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে অন্নপূর্ণা দিবস উপলক্ষে বিশেষ কিস্তি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    পাহাড়ে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো বাড়াতে পুলিশের বিশেষ বিভাগে অন্তত এক হাজার কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ৩০০টি পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। একশো দিনের কাজের প্রকল্পের পরিধি গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্যও বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বিধবা ও বার্ধক্য ভাতাও মাসে এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়েছে।

    চা বাগানের উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা

    চা বাগান ও চা শ্রমিকদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ের বন্ধ, রুগ্ণ এবং সমস্যায় জর্জরিত চা বাগানগুলির স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র ও তাদের প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

    অসমের আদলে পশ্চিমবঙ্গেও ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা ২০২১’ পুরোদমে চালু করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের রাজ্য সরকার এই প্রকল্প কার্যকর করেনি।

    এই প্রকল্পের আওতায় পাহাড় থেকে তরাই অঞ্চলের চা বাগানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ চালানো হবে। পাশাপাশি দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং ভাইফোঁটার আগেই চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে শ্রম দফতর থেকে উপযুক্ত নির্দেশিকা জারির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (GTA)।

    তিস্তায় উদ্ধারকারী দল, তৈরি হবে ৮,৩২৫টি বাড়ি

    দুর্গত এলাকার নিরাপত্তার জন্য তিস্তার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্জুন বাহিনী-সহ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    পাশাপাশি আগামী ছ’মাসের মধ্যে কালিম্পং জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ৮,৩২৫টি নতুন বাড়ি তৈরির তালিকা প্রস্তুত হয়েছে (Suvendu Adhikari) বলেও জানান তিনি।

    বিশিষ্টদের সম্মাননা

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কালিম্পং জেলার পদ্মশ্রী প্রাপক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্মানিতদের মধ্যে ছিলেন পদ্মশ্রী প্রাপক জি এস ইয়েনজোন, পদ্মশ্রী প্রাপক একলব্য শর্মা, প্রয়াত পদ্মশ্রী প্রাপক কাজী সিংয়ের স্ত্রী দুর্গা সিং, চলচ্চিত্র নির্মাতা তুলসী ঘিমিরে, স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকরাজ আগরওয়াল, মিরিক কলেজের অধ্যক্ষ শেরাপ ভুটিয়া এবং আধ্যাত্মিক নেতা মোহন প্রিয় আচার্য।

    জিটিএর দুর্নীতিতে এফআইআর ও গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি

    উন্নয়নের ঘোষণার পাশাপাশি জিটিএর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও এদিন সরাসরি কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক পর্যালোচনার সময় তিনি জানান, তদন্ত শেষ হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে। সরকারি তহবিল কিংবা জনগণের করের টাকা বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকলে সেই অর্থও উদ্ধার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএতে (GTA) যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে, তার কোনওটাকেই আমরা ছাড়ব না।”

    তাঁর দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

    অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত

    তদন্ত কমিটির গঠন সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এবং আইপিএস আধিকারিক কালিয়াপ্পন জয়রামনকে কার্যকরী সদস্য করে ওই কমিটি কাজ করছে। কমিটির সদস্যরা পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান তিনি।

    শিক্ষক নিয়োগ থেকে পানীয় জল প্রকল্প, নজরে একাধিক অভিযোগ

    জিটিএর অধীনে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পানীয় জল প্রকল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে চার শতাধিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, অমৃত প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়নের জন্য গঠিত উন্নয়ন পর্ষদগুলির তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    লেপচা ও তামাং বোর্ড-সহ মোট ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের অর্থ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

    কালিম্পংবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিশ্চিন্তে থাকুন, যারা দুর্নীতি করেছে (Suvendu Adhikari), তাদের একজনকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

    “জনগণের টাকা ফেরত নেব”

    তদন্ত শেষ হওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলেই এফআইআর করা হবে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করা (GTA) হবে বলেও জানান তিনি।

    সরকারি অর্থের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের করের টাকা কিংবা সরকারি তহবিলের অর্থ বেআইনিভাবে সরানো হয়ে থাকলে তা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার।”

    পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই জিটিএর প্রশাসনিক কাঠামো, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে। সেই আবহে উত্তরকন্যা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই (GTA) বার্তা জিটিএর উপর নতুন করে (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Journalist Welfare Scheme: সবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা, বাড়ল পুজো-অনুদানও, অবসরপ্রাপ্তদের মাসে ৫ হাজার টাকা পেনশন! সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Journalist Welfare Scheme: সবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা, বাড়ল পুজো-অনুদানও, অবসরপ্রাপ্তদের মাসে ৫ হাজার টাকা পেনশন! সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। সাংবাদিকদের সামাজিক সুরক্ষা পেনশন দ্বিগুণ করার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন মাসে ২,৫০০ টাকা করে যে পেনশন দেওয়া হত, তা বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকেই বর্ধিত হারে পেনশন কার্যকর হবে।

    মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধি এবং প্রবীণ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচিতে এই ঘোষণা করা হয়। শুধু পেনশন বৃদ্ধিই নয়, সাংবাদিক এবং তাঁদের পরিবারের জন্য দেশজুড়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধাও চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সাংবাদিকদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা

    নতুন ব্যবস্থায় সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারকে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’-র আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে সর্বভারতীয় স্তরে পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে আগের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ ব্যবস্থায় চিকিৎসার সুযোগ মূলত রাজ্যের হাসপাতালগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় সেই পরিধি অনেকটাই বাড়ছে।

    রাজ্যের প্রায় ১,৯০০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৩৮,০০০ হাসপাতালে এই চিকিৎসা সুবিধা মিলবে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যের এআইআইএমএস, ভেলোরের সিএমসি, মুম্বইয়ের টাটা ক্যানসার হাসপাতাল, চণ্ডীগড়ের পিজিআই এবং হায়দরাবাদের ড. রেড্ডির মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান।

    আয়ুষ্মান ভারত না থাকলেও মিলবে সুবিধা

    নির্দিষ্ট শর্ত, বয়স বা অন্য কোনও কারণে কোনও সাংবাদিক কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্য আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় না এলে তাঁদের সরাসরি ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’-য় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্বে থাকবেন তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব ড. সৌমিত্র মোহন এবং স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সুবিধা পেতে কোনও রাজনৈতিক বা মন্ত্রী পর্যায়ের সুপারিশের প্রয়োজন হবে না।

    ১৫০-১৫৪ জনের সীমা পেরিয়ে আরও সাংবাদিককে পেনশন

    রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আগের সরকারের সময়ে মাত্র ১৫০-১৫৪ জন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক মাসিক ২,৫০০ টাকা করে সামাজিক সুরক্ষা ভাতা পেতেন। এবার সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড থাকা সাংবাদিকরাই নন, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিউজ ডেস্কে কর্মরত, অসংগঠিত মাধ্যমে কাজ করা এবং অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডহীন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদেরও পেনশন প্রকল্পের আওতায় আনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের আগের প্রস্তাবনার কথাও এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য, যোগ্য সাংবাদিকদের সংখ্যা সীমিত না রেখে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সর্বাধিক সংখ্যক যোগ্য ব্যক্তিকে এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনা।

    রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত করা যাবে না, বার্তা সরকারের

    পেনশন প্রকল্পের ক্ষেত্রে যোগ্য কোনও সাংবাদিক যাতে রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণে সুবিধা থেকে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন ব্যবস্থায় পেনশনের অঙ্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগ্য সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    পুজোর অনুদানেও আর কলকাতা-জেলা বৈষম্য নয়

    সাংবাদিকদের জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দুর্গাপুজোর সরকারি আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে। এতদিন কলকাতার সাংবাদিকরা ২,০০০ টাকা এবং জেলার সাংবাদিকরা ১,০০০ টাকা করে পেতেন। এবার সেই বৈষম্য তুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদনকারী সমস্ত যোগ্য সাংবাদিককে ৩,০০০ টাকা করে পুজোর আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

    ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বার্তা

    অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যমকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলের সমালোচনা মেনে নেওয়ার কথা জানালেও জাতীয় স্বার্থ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে সংবাদমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সংবিধানে বাকস্বাধীনতা থাকলেও নেশন ফার্স্ট নীতি আমাদের বজায় রাখতে হবে। দেশ দুর্বল হয় বা ধর্মীয় আস্থায় আঘাত লাগে, এমন শব্দ বা ভাষা প্রয়োগ এড়িয়ে চলা উচিত।” সব মিলিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন বৃদ্ধি, পেনশন প্রকল্পের আওতা সম্প্রসারণ, দেশজুড়ে চিকিৎসা সুবিধা এবং পুজোর অনুদানে বৈষম্য দূর করার ঘোষণাকে সাংবাদিক মহলের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

  • Ayushman Bharat In Bengal: স্বাস্থ্যসাথীর গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত! জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

    Ayushman Bharat In Bengal: স্বাস্থ্যসাথীর গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত! জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। রাজ্যে চালু হয়ে গেল কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা যোজনা আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat In Bengal)। এর আওতায় ১৯৫০ ধরনের রোগের চিকিৎসার সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা। মিলবে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগও। একই সঙ্গে রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’। রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘আয়ুষ্মান দিবস’-এর মূল মঞ্চ থেকে এই জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে ১৬ অগাস্ট দিনটিতে ‘খেলা হবে দিবস’ পালন করা হলেও বর্তমান সরকার মানুষের দীর্ঘায়ু কামনায় দিনটিকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে বেছে নিয়েছে।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প বনাম আয়ুষ্মান ভারত

    পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পরিষেবা ঘিরে প্রায়শই অভিযোগ উঠত। বেড পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হত রোগী এবং তাঁর পরিজনদের। এ বার সরকারবদলের পর রাজ্য এবং কেন্দ্রের জোড়া স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু হল পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রথমে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকলেও তাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। একটি পর্যায়ে তা বন্ধও হয়ে যায়। পরে আবার শর্তসাপেক্ষে চালু হয়েছিল। এ বার আয়ুষ্মান ভারতের হাত ধরে সরকারি স্বাস্থ্যবিমায় ফিরছে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা।

    রাজ্যে আয়ুষ্মান দিবস-এর গুরুত্ব

    রবিবার বিকেলে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্তারা। যাঁরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার আওতায় পড়ছেন না, তাঁদের জন্য চালু করা হল মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনাও। পাশাপাশি রাজ্যে সরকারি হাসপাতালগুলিতেও সুলভ মূল্যে ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র চালু করতেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত তুলে ধরে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“আজকের দিন ১৯৪৬: দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ডে। ১০ হাজার হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল কলকাতাতে। আগের সরকার খেলা হবে দিবস করত। আর বর্তমান সরকার আয়ুষ্মান ভব, আয়ুষ্মান দিবস পালন করছে আপনাদের শতায়ু প্রার্থনা করে।” তিনি কলকাতার ত্রাতা গোপাল মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে প্রণাম জানান।

    চালু হবে ‘অমৃত ফার্মাসি’

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু চিকিৎসা পরিষেবা নয়, এবার সরকারি সহয়াতায় মিলবে ওষুধও। রাজ্যের ১০টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চালু হবে ‘অমৃত ফার্মাসি’। এখান থেকে ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ পাওয়া যাবে। এর জন্য ‘হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেড’-এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর (অপারেশনস) বেনি জোসেফের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর হয় রাজ্যের। ‘অমৃত ফার্মাসি’ গড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের কথায়, এটি একটি ভাল উদ্যোগ। এর মানের সঙ্গে আপস করা হবে না, বলেও আশাপ্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। এ দিন ‘হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেড’-এর সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করে রাজ্য। এই মউ-এর মাধ্যমে রাজ্যের ১০০টি সরকারি হাসপাতালে ‘অমৃত ফার্মাসি’ চালু করার বিষয়ে গাঁটছড়া বাঁধল সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া জানান, ইতিমধ্যে বেশ কিছু রাজ্যে এই অমৃত ফার্মাসি চালু হয়ে গিয়েছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গেও তা চালু হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে কেনা যাবে। এখান থেকে ক্যানসার এবং হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য ব্র্যান্ডেড এবং জেনেরিক ওষুধ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি স্টেন্ট, পেসমেকারের মতো সরঞ্জামও পাওয়া যাবে সস্তায়।

    সুবিধা পাবেন ৬ কোটি রাজ্যবাসী

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবে প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার। অর্থাৎ, প্রায় ৬ কোটি রাজ্যবাসী এর সুবিধা পাবেন। সত্তরোর্ধ্ব প্রত্যেক রাজ্যবাসীই এর সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ৮০ লক্ষ রাজ্যবাসী পাবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এ দিন যে দু’টি প্রকল্প চালু হল, তাতে সারা দেশের ৩৮,৬০৪টি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে ১৭০০ রোগের চিকিৎসা পাওয়া যেত। এখন ১৯৫০ রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, এর সঙ্গে ৪৬৭টি ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র’ এবং চোখের নিখরচায় চিকিৎসার জন্য ‘সুদৃষ্টি’ প্রকল্প রূপায়ণের কথাও।

    মিলবে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ

    রাজ্যে নতুন দুই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সূচনার সময়েই হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, আয়ুষ্মান ভারত, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা— উভয় ক্ষেত্রেই এই সুবিধা মিলবে। শুভেন্দু বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে বলতে বারণ করেছিলেন। তা-ও বলে দিলাম।” বস্তুত, রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রথমে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা ডিপার্টমেন্টে না থেকে নার্সিংহোমে গিয়ে হাঁটু প্রতিস্থাপন করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্বাস্থ্য ভবন হাঁটু অস্ত্রোপচারের বিল দেখে হতবাক হয়ে যায়‌। শুরু হয় তদন্ত। তার পর থেকে স্বাস্থ্যসাথীতে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। পরে শর্তসাপেক্ষে তা চালুও হয়েছিল। এ বার ফের তা পুরোদমে চালু হচ্ছে নতুন দুই সরকারি স্বাস্থ্যবিমার হাত ধরে।

    গরিব মানুষ ভাল পরিষেবা পাবেন

    রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য তথা চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ভীষণ ভাবে উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, “এটা অনেক আগে হওয়ার কথা ছিল। আমরা জানি আয়ুষ্মান দিবস (কেন্দ্রীয় সরকারের) এপ্রিল মাসে। কিন্তু আজ প্রথম শুরু হল পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যে কালো দিন ছিল। কালো দিনটা এ বার ভাল দিন হল। এর মাধ্যমে অনেকে, বিশেষ করে গরিবেরা ভাল রকম পরিষেবা পাবেন।” বস্তুত, ২০১৮ সালে দেশে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। তবে পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে তা পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল্‌স অ্যান্ড নার্সিংহোমস-এর সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বলেন, “এটা আমাদের কাছে খুশির খবর। অন্য রাজ্যের রোগীরাও আমাদের কাছে আসতে পারবেন। এখানের বাসিন্দারা অন্য রাজ্যে গেলেও চিকিৎসা করাতে পারবেন।”

  • MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ (MMSBY Scheme)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘোষণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকলেও যাঁরা আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্যই এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal)। রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর স্বাস্থ্য দপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই প্রকল্পে (MMSBY Scheme) যোগ্য পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবে।

    কী কী সুবিধা মিলবে?

    নতুন প্রকল্পে (MMSBY Scheme) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে- বছরে প্রতি পরিবার সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফ্লোটার ভিত্তিক ক্যাশলেস চিকিৎসা পাবে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নামে পৃথক স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে এবং তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না। আগে থেকে থাকা (Pre-existing) রোগের চিকিৎসাও এই বিমার আওতায় থাকবে। সরকারি ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পভুক্ত তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। চিকিৎসার জন্য আধারভিত্তিক পরিচয় যাচাই এবং আয়ুষ্মান ভারত পরিচয়পত্র  (Ayushman Bharat Health Account) ব্যবহার বাধ্যতামূলক। চিকিৎসা হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নির্ধারিত প্যাকেজ অনুযায়ী। চিকিৎসার খরচ আগে দিয়ে পরে ফেরত (রিএমবার্সমেন্ট) নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে না।

    কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?

    স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ব্যক্তি বা পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না- যাঁদের বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প (WBHS), কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প (CGHS), ইএসআই (ESI) বা অন্যান্য কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন গ্রুপ মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স-এর আওতায় থাকা কর্মচারীরা, মেডিক্যাল অ্যালাউন্সপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, পরিবারের ৭০ বছরের বেশি বয়সী সদস্যরা, SIR-এ নাম বাদ গেলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। যেমন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধাও পাওয়া যাবে না।

    এসআইআর বা সিএএ-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে কী নিয়ম?

    বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সিএএ বা এসআইআর-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে কোনও আবেদন বিচারাধীন থাকলে, শুধুমাত্র সেই কারণে কাউকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে না। অন্য সব যোগ্যতা পূরণ করলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। তবে পরে SIR-এ নাম বাদ গেলে আর এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

    কারা দেখভাল করবে এই প্রকল্প (MMSBY Scheme)?

    স্বাস্থ্য দফতরই হবে এই প্রকল্পের নোডাল দফতর। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে স্টেট হেলথ এজেন্সি (State Health Agency)।

    কবে থেকে কার্যকর?

    গত ২২ জুলাই রাজ্য (West Bengal) মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। এরপর ২৫ জুলাই স্বাস্থ্য দফতর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি সোমবার প্রকাশ্যে আসে। নতুন এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকা কিন্তু আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধাবঞ্চিত বহু পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবে বলে রাজ্য সরকারের আশা।

  • CM Suvendu Adhikari: রথযাত্রার ৬০ কমিটিকে ৫ লাখ করে অনুদান, শ্রাবণে জলযাত্রীদের ওপর পুষ্পবৃষ্টির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: রথযাত্রার ৬০ কমিটিকে ৫ লাখ করে অনুদান, শ্রাবণে জলযাত্রীদের ওপর পুষ্পবৃষ্টির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রায় মোটা অঙ্কের অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী বৃহস্পতিবার রথযাত্রা উৎসব (Rath Yatra Committee)। তার আগে সোমবার নবান্নে জেলাশাসক ও বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লাখ টাকা করে সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে। শ্রাবণ মাসে শিবের মন্দিরে যাওয়া জলযাত্রীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকলে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন (CM Suvendu Adhikari) তিনি।

    রথযাত্রা কমিটিগুলিকে অনুদান (CM Suvendu Adhikari)

    এদিনের বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিল রথযাত্রা কমিটিগুলি। এই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দশকের পর দশক উৎসব হয়, এমন ৬০টি কমিটিকে ৫ লাখ টাকা করে সরকারি সাহায্য দেব। এটি আমাদের অংশগ্রহণ।” তিনি জানান, প্রথম বছর কমিটির তালিকা তৈরিতে কোনও ত্রুটি থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আগামী দিনে ত্রুটিহীন তালিকা তৈরি করব। অনেক দূর যাবে এই বিশেষ ব্যবস্থা। আজ যে বৃক্ষ রোপিত হল, আগামী দিনে তা মহীরূহ হবে। ঐতিহ্যে পরিণত হবে।” মুখ্যমন্ত্রী রথযাত্রা কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদানের অর্থ পুরানো, বিশেষ করে কাঠের তৈরি রথ সংস্কারের কাজে ব্যবহার করারও অনুরোধ জানান।রথযাত্রা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “এত দিন রথযাত্রা উৎসবে সরকারি স্তরে কয়েক জন ট্রাফিক পুলিশ পাঠিয়েই সরকার দায়িত্ব পালন শেষ করত। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে স্লোগান— উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য, দু’টিকে সামনে রেখে এগোতে চায়। তাই এ বারের রথযাত্রায় সরকারিভাবে, সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

    পুষ্পবৃষ্টি

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলায় সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে পুণ্যার্থীদের জন্য ন্যূনতম পরিষেবা দেওয়া হবে। এই কাজে পুরসভা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিগুলিকে যুক্ত করা হবে।শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীদের জন্যও একাধিক বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বরে যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সেবাকেন্দ্র স্থাপন করছে সরকার। তারকেশ্বর ধামকে সাজানোর জন্য ১৫ কোটি টাকার কাজ করছি।” তিনি জানান, জলযাত্রীদের পরিষেবার জন্য রাজ্যের তিনটি তীর্থস্থানকে বেছে নেওয়া হয়েছে— জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, ভুটান সীমান্তবর্তী জয়ন্তী এলাকার একটি মন্দির এবং তারকেশ্বর। এই তিনটি কেন্দ্রকে ঘিরে পরিষেবা শিবির গড়ে তোলা হবে। সেখানে থাকবে পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির, পানীয় জল, ওআরএস এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা। এই প্রসঙ্গেও পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের অন্য রাজ্যে দেখেছি, সরকারিভাবে এই পরম্পরাকে বাঁচাতে সহযোগিতা করা হয়। এত দিন এই রাজ্য বঞ্চিত ছিল। কিন্তু এই সরকার সহায়তা করবে (CM Suvendu Adhikari)।” তিনি আরও জানান, শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার আবহাওয়া অনুকূল থাকলে জলযাত্রীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে গোলাপের পাপড়ি বর্ষণ করা হবে। এর পাশাপাশি, তিনি জানান, ১৪ জুলাই তারকেশ্বরে উপস্থিত থেকে শ্রাবণী মেলার সূচনা করবেন।

    তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাজেটে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্প রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “মঠ, মন্দির, কিরীটেশ্বরী-সহ অনেক প্রাচীন মন্দির, যাদের ইতিহাস রয়েছে, তাদের সংস্কার এবং হেরিটেজের আওতায় আনতে উদ্যোগী হয়েছি। ধর্মীয় স্থানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি।” তিনি আরও জানান, ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা (Rath Yatra Committee) হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান সিমলা স্ট্রিটের উন্নয়নের জন্য ৫ কোটি টাকার কর্পাস তহবিল দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • Jan Kalyan Shibir: উপচে পড়া ভিড়, আরও একদিন বাড়ানো হল জনকল্যাণ শিবিরের মেয়াদ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Jan Kalyan Shibir: উপচে পড়া ভিড়, আরও একদিন বাড়ানো হল জনকল্যাণ শিবিরের মেয়াদ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণ শিবিরে (Jan Kalyan Shibir) সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তাই শিবিরের মেয়াদ আরও একদিন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার ফলতা থেকে তিনি জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এদিনই শিবিরের শেষ দিন ছিল। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবারও রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির চালু থাকবে।

    মেয়াদ বাড়ল জনকল্যাণ শিবিরের (Jan Kalyan Shibir)

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই শিবিরের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা এক জায়গা থেকেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, সরকারের লক্ষ্য হল সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পদ্ধতিতে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু অনেক জায়গায় সময়ের অভাবে পর্যাপ্ত শিবির করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ লাইন পড়ছে এবং প্রচুর মানুষ পরিষেবা নিতে শিবিরে ভিড় করছেন। সেই কারণেই শিবিরের মেয়াদ একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শিবিরে ৫৪টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জনকল্যাণ শিবিরে মোট ৫৪টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। তিনি জানান, রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার তথা সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় এসে দেশের যে কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি (Suvendu Adhikari) জানান, গ্রামীণ এলাকার স্বল্প আয়ের পরিবারগুলি এই প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ১০০ ইউনিটে ৩০ হাজার টাকা, ২০০ ইউনিটে ৬০ হাজার টাকা এবং ৩০০ ইউনিটে ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাবেন। এজন্য জনকল্যাণ শিবিরে নাম নথিভুক্ত করতে হবে।

    লক্ষ্মীর ভান্ডার পেয়েছে অ-লক্ষ্মীরাও!

    অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ব্লকে প্রায় সাড়ে চার হাজার পুরুষ এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে ১৭৩ জন পুরুষ বেআইনিভাবে ওই প্রকল্পের টাকা তুলেছেন। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং সিআইডি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গত ৩ জুন অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় ২৮ লাখ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫ লাখ মহিলা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের তথ্য যাচাই করে পোর্টালে আপলোডও করা হয়েছে (Jan Kalyan Shibir)। আগামী ২২ জুন প্রথম রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশ করবে পদ্ম সরকার। সে প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “যুবসমাজ, সরকারি কর্মী, শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী এবং কৃষকদের জন্য একাধিক নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

    ফলতার জন্য বিশেষ ঘোষণা

    এদিকে, ফলতায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ফলতাকে আদর্শ বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে এসইজেডে শিল্পতালুক গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলতা গ্রামীণ হাসপাতালকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। মহিলা কলেজ, দমকল কেন্দ্র তৈরির অনুমোদন, ফলতা থানাকে আরও শক্তিশালী করা এবং মহিলাদের জন্য (Suvendu Adhikari) পৃথক হেল্পডেস্ক চালুর পাশাপাশি অতিরিক্ত মহিলা পুলিশকর্মী নিয়োগের কথাও ঘোষণা করেন (Jan Kalyan Shibir) পদ্ম সরকারের প্রধান শুভেন্দু অধিকারী।

     

  • Suvendu Adhikari: প্রথম পাহাড় সফরেই গুচ্ছের বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ, আর কী?

    Suvendu Adhikari: প্রথম পাহাড় সফরেই গুচ্ছের বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মঙ্গলবারই প্রথম পাহাড় সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এটাই ছিল তাঁর প্রথম দার্জিলিং সফর। কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘জনকল্যাণ শিবিরে’ যোগ দিয়ে পাহাড়বাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা (Suvendu Adhikari)

    এদিন পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সর্বদলীয় এই অভ্যর্থনায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়বাসী এবার প্রকৃত অর্থেই ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের যে সব প্রকল্প আটকে ছিল, সেগুলি এবার দ্রুত বাস্তবায়িত হবে (Tourism Politics)। রাজনৈতিকভাবে দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং— তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র এবং দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে তাঁর সরকার যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

    উন্নয়নের রোডম্যাপ

    এদিন, পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে। জোর দেওয়া হবে পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণেও। তিনি এও জানান, রাজ্যের সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আসবেন। ‘জিআরএমজি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে পাহাড়ে। যুব সমাজের খেলাধুলোর উন্নয়নের জন্য ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণাও করেন শুভেন্দু। বিদ্যুৎ বিলের সরকারি ভর্তুকি আগের মতোই বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।

    আগের সরকারকে নিশানা

    তৃণমূল পরিচালিত পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের আমলে শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধই ছিল না, জিটিএতেও ব্যাপক নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে।” তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হবে, এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে প্রচুর পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হবে। কার্শিয়ঙের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে পদ্ম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকার পাহাড়কে গুরুত্ব দিত না। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে শুধু পর্যটক হিসেবে আসতেন, উন্নয়নের জন্য কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেননি।” তিনি বলেন, “আমি পর্যটক হয়ে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের মানুষের কাছে সরকারের সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

    শহিদ সেনানীদের অবদান স্মরণ

    এদিনের সভা থেকে দেশ রক্ষায় পাহাড়ের বীর জওয়ান ও শহিদ সেনানীদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “দেশের সঙ্কটের সময় পাহাড়ের মানুষ সবসময় দেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল মনে রাখবে।” প্রসঙ্গত, কার্শিয়ঙের গোথালস গ্রাউন্ডে প্রশাসনের ১৯টি দফতরের বিভিন্ন জনমুখী পরিষেবা নিয়ে বর্তমানে ‘জনকল্যাণ শিবির’ চলছে (Tourism Politics)। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শিবির পরিদর্শন করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। খতিয়ে দেখেন বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার কাজকর্ম (Suvendu Adhikari)।

LinkedIn
Share