Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Pahalgam Terror Attack: ‘সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না ভারত’, পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিতে কড়া বার্তা মোদির

    Pahalgam Terror Attack: ‘সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না ভারত’, পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিতে কড়া বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত কখনওই কোনও ধরনের সন্ত্রাসের সামনে মাথা নত করবে না। সন্ত্রাসবাদীদের জঘন্য পরিকল্পনা কখনওই সফল হবে না। পহেলগাঁও সন্ত্রাসের বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের হামলার নিহত পর্যটকদের স্মরণ করে বুধবার সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘গত বছর এই দিনে পহেলাগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় হারিয়ে যাওয়া নিরীহ প্রাণগুলিকে স্মরণ করছি। তাঁদের কখনওই ভোলা যাবে না। এই যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির কথা ভাবছি, কী ভীষণ ক্ষতির সঙ্গে যুঝছেন তাঁরা।’’ বুধবার বৈসরণ উপত্যকার একাংশ-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র খুলে দেওয়া হয়েছে। পহেলগাঁও সন্ত্রাসের পর থেকে সেগুলি বন্ধ ছিল।

    শোক ও দৃঢ় সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ

    নয় নয় করে এক বছর পার পহেলগাঁও হামলার। ২০২৫ সালে ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় পাক সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল। পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধেছিল, আড়াআড়ি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলও। এতদিন পরও সেই দিনটি স্মরণ করে শিউড়ে ওঠেন সকলে। সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে মোদি লিখেছেন, ‘‘একটি জাতি হিসেবে, আমরা শোক ও দৃঢ় সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ। ভারত কোনও রকমের সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না। জঙ্গিদের চক্রান্ত সফল হবে না কখনও।’’ একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনরায় স্পষ্ট করেন।

    ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র খুলে দেওয়া হল

    অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁও শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সবুজ বিস্তীর্ণ তৃণভূমি বৈসরনে শুধু পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে পৌঁছোনো যায়। যাকে ভালবেসে ভ্রমণপিপাসুরা ‘মিনি সুই‌ৎজারল্যান্ড’ বলে থাকেন। গত বছর ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে উপত্যকার প্রায় ৫০টির বেশি পর্যটনস্থল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের মার্চে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে টিউলিপ বাগান-সহ ১২টি পর্যটনস্থল খুলে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার আরও ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র উন্মুক্ত করা হল ভ্রমণার্থীদের জন্য। পহেলগাঁও থেকে বৈসরণ উপত্যকাগামী হাঁটাপথে বুধবার কিছু পর্যটক গিয়েছিলেন। তাঁদের সুরক্ষার জন্য গোটা এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছিল কেন্দ্রীয় আধাসেনা। চিহ্নিত এলাকার বাইরে পর্যটকদের যাওয়ার উপর ছিল কড়া বিধিনিষেধ।

    পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি ভারতীয় সেনার

    পহেলগাঁও হামলা এবং পরবর্তী সিঁদুর অভিযানকে স্মরণ করে মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিল ভারতীয় সেনা। সেনার পোস্টে প্রতিবেশী দেশকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়— কিছু সীমা কখনওই লঙ্ঘন করা উচিত নয়। তার পরিণতি হয় ভয়ানক। পহেলগাঁওয়ের বর্ষপূর্তিতে পাকিস্তানের নাম না করেই সেনার তরফে দেওয়া হয় কঠোর বার্তা। এদিন এক্স হ্যান্ডেলে একটি কার্ড পোস্ট করেছে ভারতীয় সেনা। সেখানে লেখা হয়েছে— “কিছু সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়।” তার ঠিক নিচেই লেখা, “ভারত কখনও ভুলবে না।” এইসঙ্গে পোস্টের ক্য়াপশানে লেখা হয়েছে— “যখন মানবতার সীমা লঙ্ঘন করা হয়, তার পরিণতি হয় ভয়ানক। তাই কিছু সীমা কখনওই লঙ্ঘন করা উচিত নয়। বিচার অবশ্যই পাওয়া যায়। ভারত ঐক্যবদ্ধ।”

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক

    পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের স্মরণে লিডার নদীর তীরে কালো মার্বেল দিয়ে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে। সেই স্মৃতিসৌধে হামলায় নিহতদের নাম খোদাই করা রয়েছে। বুধবার স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য সভার আয়োজন করা হয়। পর্যটকরাও নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সেখানে। হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে সর্বত্র। লিডার নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্মৃতিস্তম্ভ আজ দেশের কাছে এক বেদনাদায়ক স্মৃতি এবং একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক।

    ভারতীয় সেনার হামলায় বিপর্যস্ত জঙ্গিরা

    ২০২৫ সালে ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা হামলা চালায়। ধর্ম জিজ্ঞেস করে করে পর্যটকদের খুন করা হয়েছিল পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে। এই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে ২৫ জন পর্যটক। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী টাট্টুঘোড়াওলা। এই হামলার জবাবে সিঁদুর অভিযানে চালায় ভারতীয় সেনা। পাক ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পরেই ভারত-পাক যুদ্ধ শুরু হয়। এই জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত ৬ মে গভীর রাতে বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে সহ পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। সেই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গিকে খতম করে ভারত। আর এরপর থেকেই পাকিস্তানের তরফ থেকে শেলিং শুরু হয় ভারতের ওপর। অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের শেলিংয়ে ভারতের অন্তত ১৬ জন নাগরিকের মৃত্যু ঘটে। এরপর সংঘাত বাড়তে থাকে দুই দেশের। ১০ মে-র ভোররাতে এরপর ভারতীয় বায়ুসেনা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দেয়।

    অপারেশন মহাদেব

    হামলার পর ভারতীয় সেনা শুরু করে ‘অপারেশন মহাদেব’। দাচিগাম ও মহাদেব রিজ সংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য এলাকায় টানা ৯৩ দিন ধরে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা খতিয়ে দেখা হয়। শেষ পর্যন্ত হামলার মূল তিন জঙ্গিকে খতম করতে সক্ষম হয় সেনা। ভারতীয় সেনা জানায়, “ভারতের বিরুদ্ধে যে কোনও হামলার জবাব নিশ্চিত। ন্যায়বিচার হবেই।” পহেলগাঁও হামলার পর ‘অপারেশন মহাদেব’ ও ‘অপারেশন সিঁদুর’—দুটি পদক্ষেপই দেখিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের কৌশল স্পষ্ট, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নিখুঁত আঘাত এবং কোনওরকম আপস নয়। ভারত সরকার ও সেনার বার্তা স্পষ্ট,“ভারত ঐক্যবদ্ধ, মানবতার সীমা লঙ্ঘিত হলে জবাব হবে নির্ণায়ক।”

  • R-37M Missile: পাকিস্তান-চিনকে টেক্কা দিতে ভারতের বড় চাল! রাশিয়া থেকে আসছে ‘কুঠারের ফলা’, দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধে বড় বদলের ইঙ্গিত

    R-37M Missile: পাকিস্তান-চিনকে টেক্কা দিতে ভারতের বড় চাল! রাশিয়া থেকে আসছে ‘কুঠারের ফলা’, দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধে বড় বদলের ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলে যেতে চলেছে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধের সমীকরণ। ‘বন্ধু’ ভারতকে নিজেদের সেরা অতি-দবরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ‘আর-৩৭এম’ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। এই মর্মে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করা হলেও, বিভিন্ন সূত্রের মতে নয়াদিল্লির হাতে এই অস্ত্র এলে, খেলা একেবারে ঘুরে যাবে। কারণ, এমন ক্ষেপণাস্ত্র চিনের কাছেও নেই। রুশ সংবাদসংস্থার দাবি, প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই সম্ভাব্য চুক্তি ভারতীয় বায়ুসেনাকে এমন একটি অস্ত্র দেবে, যা শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ বিমানকে শত শত কিলোমিটার দূর থেকে হুমকির মুখে ফেলতে সক্ষম। খবর অনুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ শুরু হতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভারত দেশীয় আকাশ থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ ও মার্ক- প্রকল্পের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে চাইছে।

    চিনা ‘পিএল-১৫’ ক্ষেপণাস্ত্রের জবাব রাশিয়ার ‘আর-৩৭এম’

    এই সিদ্ধান্তের সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০২৫ সালের মে মাসে হওয়া “অপারেশন সিঁদুর” সংঘর্ষে ভারতের ‘বিয়ন্ড ভিজুয়াল রেঞ্জ’ বা দৃষ্টিসীমার বাইরে সক্ষমতার একটি বড় দুর্বলতা সামনে এসেছিল। ভারতের সামরিক মহলের মতে, পাকিস্তানের জে-১০সি এবং জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান যদি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত থাকে, তাহলে তারা ভারতের সুখোইয়ের বর্তমান আক্রমণ সীমার বাইরে থেকেই ভারতীয় বিমানের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ‘আর-৩৭এম’ ক্ষেপণাস্ত্রকে একটি অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভারতের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠনে সাহায্য করবে এবং একই সঙ্গে দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য সময় দেবে। রাশিয়ায় আরভিভি-বিডি নামে পরিচিত এবং বকলমে “অ্যাক্সহেড” নামে খ্যাত এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত অ্যাওয়াক্স, মিড-এয়ার রিফুয়েলার ট্যাঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংসের জন্য তৈরি।

    আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির কথা ঘোষণা করেনি দিল্লি বা মস্কো

    এটি ভারতীয় বায়ুসেনার মিশনের পরিধিও বাড়াবে— শুধু শত্রু যুদ্ধবিমান ধ্বংস নয়, বরং তাদের আকাশভিত্তিক কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতাও তৈরি করবে। এর ফলে বড় কৌশলগত প্রভাব পড়তে পারে, কারণ পাকিস্তান ও চিন— দুই দেশই এখন নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক সেন্সর, অ্যাওয়াক্স এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। যদিও মস্কো বা নয়াদিল্লি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির কথা ঘোষণা করেনি, বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে রাশিয়া ইতিমধ্যেই রফতানির অনুমোদন দিয়েছে। এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে রাশিয়ার ভূমিকা আরও মজবুত করবে, বিশেষ করে যখন পশ্চিমি দেশ ও দেশীয় সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ভারতের জন্য এটি শুধু একটি নতুন অস্ত্র নয়, বরং পাকিস্তান ও চিনের বিরুদ্ধে দ্রুত দীর্ঘ-পাল্লার প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধের ভারসাম্য ভবিষ্যতে নির্ভর করবে—কে আগে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে, তার ওপর।

    আকাশভিত্তিক কমান্ড নেটওয়ার্ক ধ্বংসের জন্য তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র

    • ● ‘আর-৩৭এম’ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা দীর্ঘ-পাল্লার কার্যকর এয়ার-টু-এয়ার (আকাশ থেকে আকাশ) ক্ষেপণাস্ত্র। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, আদর্শ পরিস্থিতিতে এর পাল্লা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
    • ● ভারতের সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার হতে পারে, যা এখনও অধিকাংশ পশ্চিমি ও এশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি।
    • ● এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় মাক ৬ বা শব্দের চেয়ে ৬ গুণ দ্রুত (প্রায় ৭,৪০০ কিমি/ঘণ্টা) গতিতে পৌঁছাতে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় খুব কম থাকে।
    • ● প্রায় ৪.২ মিটার লম্বা এবং প্রায় ৬০০ কেজি ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্রে ৬০ কেজির উচ্চ-বিস্ফোরক ওয়ারহেড থাকে, যা বড় আকারের বিমান ধ্বংসের জন্য তৈরি।
    • ● এর গাইডেন্স সিস্টেমে রয়েছে ইনর্শিয়াল ন্যাভিগেশন, মাঝপথে ডেটা-লিঙ্ক আপডেট এবং শেষ পর্যায়ে অ্যাক্টিভ রেডার হোমিং—যার ফলে লক্ষ্যবস্তু চলন্ত থাকলেও তা ট্র্যাক করা সম্ভব।
    • ● এছাড়া এতে “লফটেড ট্র্যাজেক্টরি” ব্যবহার করা হয়—অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথমে উপরে উঠে তারপর লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে, ফলে শক্তি সঞ্চয় হয় এবং পাল্লা বাড়ে।
    • ● এই বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে এটি বিশেষভাবে কার্যকর অ্যাওয়াক্স ও ট্যাঙ্কারের মতো দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিমানের বিরুদ্ধে।
    • ● এই ধরনের বিমান সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রের অনেক পিছনে অবস্থান করে, ‘আর-৩৭এম’ সেই দূরত্ব থেকেই তাদের আঘাত করতে সক্ষম।
    • ● ফলে পাকিস্তান ও চিনকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান আরও পিছনে সরিয়ে নিতে হতে পারে, যা তাদের রাডার কভারেজ ও সমন্বয় ক্ষমতা কমিয়ে দেবে।

    সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানে সংযোজন: ভারতের দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি

    • ● ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হল— আর-৩৭এম দ্রুত সুখোই-৩০এমকেআই বিমানে সংযোজন করা সম্ভব।
    • ● বর্তমানে ভারতের কাছে ২৭০টিরও বেশি সুখোই-৩০এমকেআই রয়েছে, ফলে আংশিক সংযোজন হলেও বড় পরিসরে ক্ষমতা বৃদ্ধি হবে।
    • ● রাশিয়ার সুখোই-৩০এসএম-এ ইতিমধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে, ফলে প্রযুক্তিগত ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
    • ● সংযোজনের জন্য মূলত সফটওয়্যার আপডেট দরকার হবে—যেমন রেডার, মিশন কম্পিউটার ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন নয়।
    • ● ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনকে সুখোই-৩০ আধুনিকীকরণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে, যেখানে প্রথম পর্যায়ে ৮৪টি বিমান আপগ্রেড করা হবে।
    • ● প্রতিটি আপগ্রেড করা বিমানে অন্তত দুটি আর-৩৭এম বহন করা সম্ভব হবে, যদিও মিশ্র অস্ত্র বিন্যাসে আরও বেশি বহন করা যেতে পারে।
    • ● কিছু বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি সুখোই-৩০এমকেআই সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৮টি আর-৩৭এম বহন করতে সক্ষম হতে পারে, সঙ্গে স্বল্প-পাল্লার আত্মরক্ষামূলক অস্ত্রও থাকবে।

    আকাশযুদ্ধের ভবিষ্যৎ: “ফার্স্ট-ডিটেক্ট, ফার্স্ট-শুট”

    ফলে, আর-৩৭এম শুধু একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং ভারতের জন্য দ্রুতগতিতে দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এর ফলে ভারত-পাকিস্তান-চিন ত্রিভুজে আকাশযুদ্ধের ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারিত হতে পারে। আর-৩৭এম অন্তর্ভুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে লড়াই শুধুমাত্র যুদ্ধবিমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না— বরং নির্ভর করবে কে আগে শত্রুপক্ষের “চোখ ও কান” অর্থাৎ অ্যাওয়াক্স ও সাপোর্ট প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করতে পারে। অর্থাৎ, আকাশযুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে “ফার্স্ট-ডিটেক্ট, ফার্স্ট-শুট” কৌশল—এবং সেই প্রতিযোগিতায় ভারত বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

  • Weather Update: ঘামছে কলকাতা, পশ্চিমে তাপপ্রবাহ, উত্তরে বৃষ্টি! ভোটের দিন ছয় জেলায় তীব্র গরমের সতর্কতা

    Weather Update: ঘামছে কলকাতা, পশ্চিমে তাপপ্রবাহ, উত্তরে বৃষ্টি! ভোটের দিন ছয় জেলায় তীব্র গরমের সতর্কতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ক্রমশ বাড়ছে গরম। হাওয়া অফিসের বুলেটিন বলছে, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তাপপ্রবাহ ও অস্বস্তিকর গরমের পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের পাদদেশ সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে এবং বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে গরম ও আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। চলতি মরসুমের প্রথম তাপপ্রবাহ হয়েছে আসানসোলে। মঙ্গলবার সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে মঙ্গলবার রাজ‍্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল পানাগড়ে— ৪৩.৮ ডিগ্রি। বাঁকুড়ায় তাপমাত্রা ছিল ৪৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    ভোটের দিন গরম হাওয়া

    বৃহস্পতিবার, প্রথম দফার ভোট রয়েছে যে ১৬টি জেলায়, তার মধ্যে ছ’টিতেই গরমের জন্য রয়েছে হলুদ সতর্কতা। অর্থাৎ ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে বেশ বেগ পেতে হতে পারে ভোটারদের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ প্রার্থীরা সে জন্য বার বারই সকালে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। মঙ্গলবার কলকাতার আলিপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দমদমে ছিল ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণবঙ্গে আসানসোল, বাঁকুড়া, পানাগড় ছাড়াও শ্রীনিকেতন, সিউড়ি, পুরুলিয়ায় দিনের তাপমাত্রা ছাড়িয়েছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি। শ্রীনিকেতনে দিনের তাপমাত্রা ছিল ৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সিউড়িতে ৪২.২ ডিগ্রি, পুরুলিয়ায় ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল দিনের তাপমাত্রা। ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে দিনের তাপমাত্রা ছিল ডায়মন্ড হারবার, দিঘা, কাঁথি, হলদিয়া, সাগরদ্বীপ, বসিরহাট। দক্ষিণবঙ্গের বাকি সব জেলায় মঙ্গলবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। বুধবারও দক্ষিণের জেলায় গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়া থাকবে।

    কলকাতায় তাপমাত্রা

    আগামী সাত দিন রাজ্যে তাপমাত্রার কোনও হেরফের হবে না। রাজ্যের পশ্চিমের জেলাগুলির কিছু অংশে আগামী সাত দিন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। প্রথম দফার ভোট রয়েছে সেখানেই। দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব এবং উপকূলীয় জেলাগুলির কিছু অংশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। উপকূলীয় জেলাগুলিতে আপেক্ষিক আর্দ্রতা থাকবে ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ। রাজ্যের মধ্যভাগের জেলাগুলিতে আপেক্ষিক আর্দ্রতা থাকবে ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ। ফলে ভ্যাপসা গরম ভোগাবে। আজ বুধবার কলকাতায় দিনের আকাশ আংশিক মেঘলা। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩৬ডিগ্রী এবং ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে।

    উত্তরবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা

    প্রথম দফায় ভোট রয়েছে উত্তরবঙ্গের সব জেলায়। সেখানে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। বুধবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পঙে হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সেখানে রয়েছে সতর্কতা। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারেও রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস। বৃহস্পতিবার, ভোটের দিন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পঙ, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে বইতে পারে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া।

  • Assembly Elections 2026: ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া নামের তালিকা প্রকাশ করল কমিশন! কতজন প্রথম দফায় ভোট দেবেন?

    Assembly Elections 2026: ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া নামের তালিকা প্রকাশ করল কমিশন! কতজন প্রথম দফায় ভোট দেবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (Assembly Elections 2026)। নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের মধ্যে যাঁরা ‘পাশ’ করলেন, তাঁরা প্রথম দফায় ভোট দিতে পারবেন। ২২ এপ্রিল ভোর রাতে প্রকাশ করা হয় ট্রাইবুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা নামের সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট। ভোটাররা এপিক নম্বর দিয়ে জানতে পারবেন, তাঁদের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে কি না। কী দেখে বোঝা যাবে নাম ‘অ্যাডজুডিকেশনে’ আছে, তালিকায় তাও স্পষ্ট করেছে কমিশন। যে বুথগুলিতে কোনও নামের নিষ্পত্তি নেই সেখানে ক্লিক করলেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই বুথে ট্রাইবুনালের মাধ্যমে কোনও নিষ্পত্তি হওয়া নামের তালিকা নেই। যোগ হওয়া নতুন নাম ও ডিলিটেড বা বাদ যাওয়া নাম দুটি তালিকাই প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বলছে, মাত্র ১৩৬ জনকে ট্রাইবুনালে পাশ হয়ে প্রথম দফায় ভোট দেওয়ার অধিকার পেলেন। আবার ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া নামের মধ্যে ২ জন ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন।

    শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনেই কাজ

    রাজনৈতিক দলগুলি আজ (বুধবার) সাপ্লিমেন্টারি তালিকা পেয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি আসনে নির্বাচন। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যত জনের নামের নিষ্পত্তি করবে, তার মধ্যে যাঁদের নাম বাদ যাবে না, তাঁরা প্রথম দফায় ভোট দিতে পারবেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম। বিবেচনাধীনের তালিকায় থাকা যে ভোটারদের নাম বিচারকদের নির্দেশে ভোটার তালিকায় ওঠেনি, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেন। সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্দেশ দিয়েছিল, ট্রাইবুনাল ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁদের নামের নিষ্পত্তি করবে, তার মধ্যে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে, তাঁরা প্রথম দফায় ভোট দিতে পারবেন। আর ২৭ এপ্রিল ট্রাইবুনাল যাঁদের নামের নিষ্পত্তি করবে, তার মধ্যে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে, তাঁরা ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোট দিতে পারবেন।

    কোথআয় দেখা যাবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

    অনলাইনে একাধিক ওয়েবসাইটে দেখা যাবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। ceowestbengal.wb.gov.in – এই ওয়েবসাইটে দেখা যাবে এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। এ ছাড়াও আপনার ফোনে থাক ECI Net অ্যাপের মাধ্যমেও আপনি এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দেখতে পাবেন। তবে ট্রাইবুনালে কতজনের নাম যোগ হয়েছে, কতজনের নাম বাদ গিয়েছে তা এখনও পর্যন্ত জানায়নি কমিশন। যাবতীয় পরে জানানো হবে বলে, কমিশন সূত্রে খবর।

  • Assembly Election 2026: সিঙ্গেল বেঞ্চের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ভোটের কাজ থেকে ছাড় পাচ্ছেন না অধ্যাপকরা

    Assembly Election 2026: সিঙ্গেল বেঞ্চের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ভোটের কাজ থেকে ছাড় পাচ্ছেন না অধ্যাপকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) আগে বড় স্বস্তি পেল কমিশন (Election Commission)। কলেজ শিক্ষক বা অধ্যাপকদের ভোটের কাজে নিয়োগে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ, তা স্থগিত করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় গুপ্তর বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত অধ্যাপকদের ভোটের দায়িত্ব পালনে আর কোনও আইনি বাধা নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভোটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। অধ্যাপকরা যেহেতু সরকারি কর্মচারী হিসেবে গণ্য, তাই নির্বাচনী কাজে তাঁদের নিয়োগে আপত্তির কারণ দেখেনি আদালত। এমনকি মামলাকারীদের একাংশ ইতিমধ্যেই কমিশনের নির্দেশ মেনে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন—এটিও আদালতের নজরে এসেছে।

    কেন সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ স্থগিত

    ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ স্থগিত করার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরে। আদালতের (Calcutta High Court) মতে, মামলার হলফনামায় একাধিক ত্রুটি ছিল এবং অভিযোগগুলিও যথেষ্ট যুক্তিসম্পন্ন নয়। বিশেষ করে সেক্টর অফিসার ও পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব আলাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ। সেক্টর অফিসার বা অবজার্ভারদের ভূমিকা প্রশাসনিক, তাঁদের কোনও সরাসরি কর্তৃত্ব প্রিসাইডিং অফিসারের ওপর নেই। তবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়েও কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। ঠিক কতজন শিক্ষক প্রয়োজন, তার নির্ভুল হিসেব কমিশন দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের কমিশনের বিজ্ঞপ্তিকেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে।

    স্থিতাবস্থা বজায় রাখার উপরই জোর

    শেষে আদালত সতর্ক করে দিয়েছে—ভোটের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই সময় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের হস্তক্ষেপ করলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার উপরই জোর দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, কয়েকজন অধ্যাপক মামলা করলেও তাঁদের একাংশ কমিশনের নির্দেশ মতো কাজ শুরু করে দিয়েছেন। গ্রুপ এ অফিসারদের আগাম যুক্তিযুক্ত কারণ না দেখিয়ে যেমন বুথে দায়িত্ব দেওয়া যায় না, তেমনই ভোটের কাজে তাঁদের কমিশনের কতটা প্রয়োজন সেটাও উপলব্ধি করতে হবে। তাঁদের যদি প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয় সেটাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

  • Assembly Election 2026: কমিশনের নির্দেশে ফাঁকা দিঘা! ভোটের আগে পর্যটকহীন রাজ্যের সমুদ্রসৈকতগুলি

    Assembly Election 2026: কমিশনের নির্দেশে ফাঁকা দিঘা! ভোটের আগে পর্যটকহীন রাজ্যের সমুদ্রসৈকতগুলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম দফা ভোট গ্রহণের আগে নির্বাচন কমিশনের (Assembly Election 2026) কড়া নির্দেশে বাংলার জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতগুলো কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে দিঘা, মন্দারমণি এবং তাজপুর থেকে পর্যটকদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের দাবি, পূর্ব মেদিনীপুরের ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্যই এই সাবধানতা। অতীতে দেখা গিয়েছে, অনেক সময় পর্যটকের ছদ্মবেশে রাজনৈতিক আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সীমান্তবর্তী বা উপকূলীয় এলাকার হোটেলগুলোতে গা ঢাকা দেয় এবং ভোটের দিন গোলমাল পাকায়। সেই সম্ভাবনাকে সমূলে বিনাশ করতেই কমিশন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

    দীঘা-মন্দারমণি ছাড়ার নির্দেশ

    মঙ্গলবার সকাল থেকেই দিঘা এবং মন্দারমণির সৈকত সরণিতে পর্যটকদের আনন্দের বদলে বিষণ্ণতা আর উৎকণ্ঠার ছায়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোট শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই স্পর্শকাতর সময়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রুখতে এবং বহিরাগতদের মাধ্যমে নির্বাচনে কোনও প্রকার প্রভাব বিস্তার বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশন (ECI) এক কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু করে আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, শংকরপুর এবং উদয়পুর পর্যটন কেন্দ্রে কোনও বহিরাগত বা ভিন জেলার বাসিন্দা হোটেলে থাকতে পারবেন না। যারা আগে থেকেই এসে পৌঁছেছিলেন, তাঁদের মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে হোটেল ছেড়ে নিজের গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নিরাপত্তার খাতিরেই এই ‘লকডাউন’

    মূলত পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে এই পর্যটন ক্ষেত্রগুলো পড়ে। বৃহস্পতিবার এই জেলাসহ রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। নিরাপত্তার খাতিরেই কমিশন এই ‘লকডাউন’ সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সোমবার রাত থেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিঘার প্রতিটি হোটেল ও লজে নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে উপকূলবর্তী এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে লাগাতার মাইকিং করে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়। নির্ধারিত সময়ের পর কোনও পর্যটক হোটেলে থাকলে হোটেল মালিক এবং পর্যটক উভয়ের বিরুদ্ধেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২০২৩ সালের ২২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পর্যটক এবং হোটেল ব্যবসায়ীরা। চৈত্র-বৈশাখ মাসের গরমে যখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকার কথা, তখন সমুদ্র সৈকতগুলো এখন কার্যত জনশূন্য।

  • DCP Shantanu Sinha Biswas: এবার বালি পাচার মামলায় ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে তলব ইডির, কিন্তু কোথায় তিনি?

    DCP Shantanu Sinha Biswas: এবার বালি পাচার মামলায় ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে তলব ইডির, কিন্তু কোথায় তিনি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি দুর্নীতির তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে আগেই তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এবার বালি পাচার মামলাতেও কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তবে গত রবিবার ফার্ন রোডে তাঁর বাড়িতে ইডির তল্লাশির পর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফা ভোটের দিন বুধবার তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। একই মামলায় ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন জেলাশাসক সুনীল আগরওয়ালকেও তলব করা হয়েছে।

    হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের সূত্রে তলব!

    সাম্প্রতিক সময়ে বালি পাচার কাণ্ডে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়েছে ইডি। যদিও শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও সুনীল আগরওয়ালকে ঠিক কোন মামলায় ও কী প্রেক্ষিতে তলব করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে ইডি জানিয়েছে, তদন্তে একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের সূত্র পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা যায়, জয় কামদার শান্তনুকে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসের একটি ছবি মুছে ফেলতে বলেন। প্রথমে মেসেজ পাঠিয়ে ‘ডিলিট’ করার অনুরোধ, পরে তাঁকে দু’বার হোয়াটসঅ্যাপ কলও করেন কামদার।

    প্রোমোটার জয় কামদারকে জমি পাইয়ে দিতেন শান্তনু!

    কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, ধৃত জয় কামদারের সঙ্গে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন স্তরে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই তালিকায় রয়েছেন ডেপুটি কমিশনার শান্তনুও। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে প্রোমোটার জয় কামদারকে জমি পাইয়ে দিতে সাহায্য করতেন তিনি। এমনকি কামদারের কাছ থেকে একটি বেআইনি নির্মাণও নিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে ২০১১ সাল থেকে মামলা চলছে। ইডির মতে, জয় কামদারদের মূল লক্ষ্য ছিল তিন ধরনের জমি— যৌথ মালিকানাধীন জমি, ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত জটিলতায় জড়ানো জমি এবং যেসব জমির মালিক রাজ্যের বাইরে থাকেন। এই সংক্রান্ত অভিযোগ আগেও কালীঘাট, ফুলবাগান, রবীন্দ্র সরোবর ও উল্টোডাঙা থানায় দায়ের হয়েছিল।

    ২ ছেলেরও যোগ!

    এছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, শান্তনুর দুই পুত্র সায়ন্তন ও মনীশের সঙ্গেও জয় কামদারের যোগাযোগ ছিল। অভিযুক্তের ডায়েরি থেকে পুলিশ আধিকারিকদের দেওয়া বিভিন্ন উপহারের উল্লেখ পাওয়া গেছে, যেখানে ‘শান্তনু স্যার’-এর নামও রয়েছে। ফার্ন রোডের ৫এ নম্বর প্লটে জয় একটি বেআইনি নির্মাণ করছিলেন বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ইডি জানিয়েছে, ‘সান পাওয়ার রিয়েলটি এলএলপি’ নামের একটি সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই সংস্থার মাধ্যমেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের দুই পুত্রের নামে দুটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। যার মূল্য যথাক্রমে ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮৫ টাকা এবং ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৬১ টাকা।

    ‘নিখোঁজ’ শান্তনু সিনহা!

    এদিকে, রবিবার থেকে কার্যত ‘নিখোঁজ’ শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। ওই দিন ভোরে বালিগঞ্জে তাঁর বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালালেও তাঁকে খুঁজে পায়নি তদন্তকারীরা। যদিও তল্লাশির সময় তাঁর পুত্র দাবি করেছিলেন, তিনি বাড়িতেই রয়েছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কিন্তু ইডি সূত্রের দাবি, অভিযানের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। সোমবার তাঁকে ও তাঁর দুই পুত্রকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হলেও কেউই হাজির হননি। প্রভাবশালী পুলিশ কর্তার এই আকস্মিক অন্তর্ধান ও তলব এড়িয়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে— তবে কি সত্যিই গা ঢাকা দিয়েছেন কলকাতা পুলিশের এই ডেপুটি কমিশনার?

  • Amit Shah in Kurseong: গোর্খা সমস্যা সমাধান, চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কার্শিয়াং-এর সভা থেকে উত্তরবঙ্গবাসীকে একগুচ্ছ আশ্বাস শাহের

    Amit Shah in Kurseong: গোর্খা সমস্যা সমাধান, চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কার্শিয়াং-এর সভা থেকে উত্তরবঙ্গবাসীকে একগুচ্ছ আশ্বাস শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফা নির্বাচনের আগে মঙ্গলবার শেষলগ্নের ভোটপ্রচারে কার্শিয়াং থেকে রাজ্য সরকারকে কড়া আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah in Kurseong)। দুর্নীতি থেকে শুরু করে রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তোপ দাগেন শাহ। পাশাপাশি পাহাড়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে ৬ মাসের মধ্যে গোর্খা সমস্যার সমাধান, জিটিএ-র দুর্নীতি দূর-সহ গোর্খাদেরও একাধিক আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহ এটাও জানান যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার কারণে তিনি গোর্খা সমস্যার সমাধানের জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

    গোর্খা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

    বিজেপি ছাড়া আর কেউ গোর্খা সমস্যার সমাধান করতে পারবে না বলে জানান শাহ। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের বুঝি। আপনাদের সমস্যাও বুঝি। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ার পরই, ৬ মে প্রত্যেক গোর্খার মু‌খে সন্তুষ্টির হাসি থাকবে। আমরা এমন সমাধান বের করব। কংগ্রেস, তৃণমূল এরা সকলে দার্জিলিঙের সঙ্গে, আমার দেশভক্ত গোর্খা ভাইয়ের সঙ্গে অন্যায় করেছে। আমি ৯ বছর ধরে এখানে আসছি। আমি আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি, বিজেপির সরকার গঠিত হলেই এত দিন ধরে ঝুলে থাকা গোর্খা সমস্যার সমাধান করে যাব। গোর্খাদের মতো করেই সমাধান করব। ৪ মে ফলঘোষণা হবে। ৫ মে সরকার গঠন হবে। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সকল গোর্খা ভাইয়ের উপর থেকে সব মামলা প্রত্যাহার করে নেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সকলের উপর মামলা করে গোর্খা আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা হয়েছে। এই সব মামলা বিজেপির সরকার প্রত্যাহার করবে।”

    মমতাদিদিকে টাটা বাই বাই

    উত্তরবঙ্গবাসীর উদ্দেশে শাহ বলেন, “আপনারা এক বার বিজেপির সরকার গঠন করে দিন। তিনটি নির্বাচন ধরে দার্জিলিং তো পদ্মফুলে ভোট দিচ্ছেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাকি অংশ থেকে তেমন সমর্থন আসত না। এবার আমি পশ্চিমবঙ্গ ঘুরতে ঘুরতে আজ শেষ দিনে পাহাড়ে এসেছি। আমি আপনাদের বলছি, এবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হচ্ছে। আমাদের উপর অত্যাচার করা মমতাদিদিকে টাটা বাই বাই করার সময় হয়ে গিয়েছে।”

    জিটিএ দুর্নীতি ও গোর্খা সেন্টিমেন্ট

    জিটিএ-র দুর্নীতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে শাহ বলেন,“জিটিএ-তে চলা সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হবে। সুভাষ ঘিসিঙের সঙ্গে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং কমিউনিস্টরা অন্যায় করেছে। একমাত্র বিজেপিই গোর্খাদের সমস্যার প্রকৃত সমাধান করতে পারে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে গোর্খা ভাইদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হবে।” শাহ বলেন, “গোর্খাদের একটি মহান ইতিহাস রয়েছে। মমতা দিদি গোর্খাদের ইতিহাসকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছেন। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর গোর্খা সমস্যার সমাধানের জন্য ছ’বছরে তিন বার বৈঠক ডেকেছি। একবারও মমতার প্রতিনিধি আসেননি। মমতাদিদি, আমরা গোর্খাদের সমস্যার সমাধানের জন্য আপনার উপর নির্ভরশীল নই। এখন গোর্খাদের উপর অন্যায় বন্ধ করার সময় শুরু হচ্ছে।” বন্ধ চা বাগান নিয়েও আশ্বাস দেন তিনি।

    এসআইআর-এ নাম বাদ পড়া গোর্খাদের বার্তা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মমতাদিদির কালেক্টর কয়েক জন গোর্খারও নাম কেটেছে। কোনও ব্যাপার না, আসন আমরাই পাব। ভোট শেষ হওয়ার পর বেছে বেছে প্রত্যেক গোর্খাকে আবার ভোটার তালিকায় জুড়বে বিজেপি।” অনুপ্রবেশ নিয়ে তাঁর গর্জন, “উত্তরবঙ্গ থেকে খুঁজে খুঁজে অনুপ্রবেশকারীদের বের করব। আপনারাই বলুন, বাংলাদেশিদের তাড়ানো উচিত কি উচিত নয়? রোহিঙ্গাদের তাড়ানো উচিত কি উচিত নয়? অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো উচিত কি উচিত নয়?”

    মা-বোনেদের সুরক্ষিত করার ভোট

    নারী সুরক্ষা ইস্যুতে তৃণমূলকে বিঁধে শাহ বলেন, “এটা আমাদের দুই প্রার্থীকে বিধায়ক করার ভোট নয়। এটা দার্জিলিঙের পাহাড় থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আমাদের মা-বোনেদের সুরক্ষিত করার ভোট। মমতার রাজত্বে অনেক মা-বোনের উপর অত্যাচার হয়েছে। সন্দেশখালির ঘটনা গোটা পশ্চিমবঙ্গকে লজ্জিত করেছে। মাটিগাড়ার নির্দোষ বালিকাকে অত্যাচার, বাগডোগরার কাছে চা বাগানে আদিবাসী মহিলার সঙ্গে অত্যাচার, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ, সাউথ ক্যালকাটা ’ল কলেজ, আরজি করের ধর্ষণ— প্রত্যেক ধর্ষককে বেছে বেছে জেলে ঢোকাবে বিজেপি।”

    প্রসঙ্গ উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন

    এদিনের সভা থেকে উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য একগুচ্ছ ‘মেগা’ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “উত্তরবঙ্গের জন্য মমতা সরকারের বাজেট ২,০০০ কোটি। আর মুসলিম সম্প্রদায় এবং মাদ্রাসার জন্য মমতা সরকারের বাজেট ৫,৮০০ কোটি টাকা। পুরো পাহাড়, সকল গোর্খা-আদিবাসী, গোটা উত্তরবঙ্গের জন্য ২,০০০ কোটি টাকা। আর মুসলিমদের জন্য ৫,৮০০ কোটি টাকা। ভাই-বোনেরা এই অন্যায় আর বেশিদিন চলবে না।” শাহ বলেন, “৯টির মধ্যে তিনটি বন্দেভারত ট্রেন আমরা উত্তরবঙ্গ দিয়ে চালিয়েছি। ১২,০০০ কোটি টাকার সেবক-রংপো রেললাইন প্রকল্প প্রায় শেষের মুখে। নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনেরও বিকাশ হচ্ছে। গোর্খা ভাইদের শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত বুলেট ট্রেনে করে কাশী-বিশ্বনাথে পৌঁছোনোর ব্যবস্থাও করছি।”

    দার্জিলিঙের জন্য বিকল্প মহাসড়ক

    শাহ বলেন, “দার্জিলিঙের জন্য একটি বিকল্প মহাসড়ক তৈরির কাজও করছে মোদি সরকার। বাগডোগরা বিমানবন্দর ৩০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে বানানো হচ্ছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাগডোগরা ভারতের সপ্তম বৃহত্তম বিমানবন্দর হয়ে যাবে। সেই মতো কাজ চালাচ্ছি আমরা। দার্জিলিংকে আমরা ভারতের ইকো অ্যাডভেঞ্চার এবং হেরিটেজ টুরিজিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলব। ”

    চা বাগানের শ্রমিকদের আশ্বাস

    উত্তরবঙ্গবাসীর উদ্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি সরকার গঠিত হলে উত্তরবঙ্গে একটি পৃথক এমস তৈরি হবে। ৫০০ শয্যার ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। আইআইটি, আইআইএম তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। গোর্খা তরুণদের জন্য ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। একটি আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরি হবে। উত্তরবঙ্গে চারটি নতুন শিল্পশহর তৈরি করব আমরা। চা বাগানে স্কুল তৈরি করব। চা বাগানের শ্রমিকদের নিজেদের জমির মালিক করা হবে, জমির পাট্টা দেওয়া হবে। দু’বছরের মধ্যে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি (দৈনিক) ৫০০ টাকার চেয়ে বেশি করে দেব।” শাহ বলেন, “মমতা দিদি গুজব ছড়াচ্ছেন। এখন যে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রয়েছে, সেগুলো নাকি বিজেপি বন্ধ করে দেবে। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, জনকল্যাণমূলক একটি প্রকল্পও বন্ধ হবে না।” তাঁর দাবি, বর্তমান জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সঙ্গে নতুন প্রকল্পও চালু হবে।

  • Nusrat Jahan: বাংলাদেশে গম পাচার মামলায় অভিনেত্রী নুসরতকে তলব ইডির, কবে হাজিরা?

    Nusrat Jahan: বাংলাদেশে গম পাচার মামলায় অভিনেত্রী নুসরতকে তলব ইডির, কবে হাজিরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনের আগে রেশন দুর্নীতি মামলায় এবার নায়িকা নুসরত জাহানকে (Nushrat Jahan) তলব করল ইডি। ২২ এপ্রিল সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করার হয়েছে নায়িকাকে। বাংলাদেশে গম পাঠানো ঘিরে যে দুর্নীতি, সেই সময়ে বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন নায়িকা। তব, এবার আর নির্বাচনে লড়ছেন না অভিনেত্রী। নুসরত ঘনিষ্ঠদের সূত্রে খবর, ইডি-র ডাকে সাড়া দেবেন অভিনেত্রী। কিন্তু তিনি কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে নয়, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সংস্থার সদর দফতরে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

    কেন নোটিস পাঠানো হল

    করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগে বেশ কিছু ট্রাক আটক হয়েছিল সীমান্ত এলাকায়। সেই সময় বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন নুসরত (Nushrat Jahan)। ইডি-র একটি সূত্রে খবর, রেশনের গম পাচারের ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কিছু নাম পাওয়া গিয়েছে। বাংলাদেশে গম পাচার নিয়ে নুসরতকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তারা। নুসরত জাহানকে ২২ এপ্রিল কলকাতার ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে ইডি দফতর সূত্রে খবর, নুসরত কলকাতার দফতরে যেতে অনিচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেই সময়ে তিনি দিল্লিতে থাকবেন। তাই নির্দিষ্ট দিনে যদি তাঁকে দিল্লির দফতরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তাহলে ভাল হয়। তবে নুসরতের এই আর্জি মানা হয়নি ইডির তরফে। জানানো হয়েছে, এই মামলা কলকাতার। তদন্তকারী অফিসার ও থাকবেন কলকাতাতেই। ফলে নুসরতকে কলকাতাতেই হাজিরা দিতে হবে। ২২ এপ্রিল কলকাতার ইডি দফতরেই হাজির দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নুসরতকে।

    আগেও নুসরতকে জেরা

    এর আগে ফ্ল্যাট-প্রতারণা মামলায় নুসরতকে (Nushrat Jahan) জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। ২০২৩ সালে বসিরহাটের তৎকালীন তৃণমূল সাংসদকে প্রায় ৬ ঘণ্টা সিজিও কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন তদন্তকারীরা। সাংসদ-অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট-প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। ইডির কাছে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, ২০১৪-১৫ সালে ৪০০-র বেশি প্রবীণ নাগরিকের থেকে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিল একটি সংস্থা। তাঁদের এক হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের কেউ-ই ফ্ল্যাট পাননি। টাকাও ফেরত পাননি। ওই সংস্থার ডিরেক্টর পদে ছিলেন নুসরত।

  • India Russia RELOS Agreement: ভারত-রাশিয়া ‘রেলোস’ চুক্তি কার্যকর, একে অপরের ভূমিতে সৈন্য, রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন, আর্কটিকে বড় কৌশলগত দখল ভারতের

    India Russia RELOS Agreement: ভারত-রাশিয়া ‘রেলোস’ চুক্তি কার্যকর, একে অপরের ভূমিতে সৈন্য, রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন, আর্কটিকে বড় কৌশলগত দখল ভারতের

    সুশান্ত দাস 

    ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলে দিল এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে, উভয় দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে সামরিক উপস্থিতির অনুমতি দিয়েছে। ২০২৫ সালে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত রেসিপ্রোক্যাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক্স সাপোর্ট বা রেলোস (RELOS) কার্যকর হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছিল। রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পাঁচ বছরের চুক্তির আওতায় দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫টি যুদ্ধজাহাজ, ১০টি সামরিক বিমান এবং প্রায় ৩,০০০ সেনা মোতায়েন করতে পারবে। প্রয়োজনে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোও সম্ভব। অর্থাৎ, ভারত-রাশিয়া রেলোস চুক্তি এখন আর কেবল কূটনৈতিক খসড়া নয়, এটি বাস্তব সামরিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

    ভারত-রাশিয়া রেলোস (RELOS) চুক্তি কী?

    রেসিপ্রোক্যাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক্স সাপোর্ট (RELOS) একটি দ্বিপাক্ষিক সামরিক চুক্তি, যা ভারত ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একে অপরের সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করে। এটি অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের লেমোয়া (LEMOA) চুক্তির মতো, তবে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উপযোগী করে তৈরি। এর মাধ্যমে জ্বালানি, খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ বিনিময় করা যাবে। গুরুত্বপূর্ণভাবে, এটি রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে ভারতের একটি কাঠামোবদ্ধ উপস্থিতি নিশ্চিত করে, যা দ্রুত একটি বৈশ্বিক সামুদ্রিক কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

    চুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য

    রেলোস চুক্তি স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখার ওপর ভিত্তি করে তৈরি—

    • ● মোতায়েন সীমা: উভয় দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে সর্বোচ্চ ৩০০০ সেনা, ৫টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি যুদ্ধবিমান একসঙ্গে মোতায়েন করতে পারবে।
    • ● মেয়াদ: প্রাথমিকভাবে ৫ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে, পারস্পরিক সম্মতিতে আরও ৫ বছর বাড়ানো যাবে।
    • ● কৌশলগত অবস্থান: একদিকে, রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বন্দর যেমন মুরমানস্ক, সেভেরোমর্স্ক এবং ভ্লাদিভোস্তকে প্রবেশাধিকার পাবে ভারত। অন্যদিকে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে রাশিয়া।

    রেলোস চুক্তির আওতায় সহায়তা পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত—

    • ● নৌবাহিনী: জাহাজ নোঙর করা, মেরামত, জ্বালানি সরবরাহ, জল ও খাদ্য সরবরাহ।
    • ● বিমান পরিষেবা: এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, বিমান সংক্রান্ত তথ্য এবং নিরাপদ পার্কিং।
    • ● পেমেন্ট ব্যবস্থা: লজিস্টিক সহায়তা পারস্পরিক ভিত্তিতে হবে, তবে বিশেষায়িত তরল, লুব্রিকেন্ট এবং উন্নত যন্ত্রপাতি মেরামতের ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধযোগ্য।

    এর ফলে কতটা লাভবান হবে ভারত?

    আর্কটিক অঞ্চলে সম্প্রসারণ:

    • ● এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত আর্কটিক অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি নৌ উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে, যা নর্দার্ন সি রুটের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের ৭০% সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ সহজতর:

    • ● ভারতের অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম রাশিয়ান উৎসের হওয়ায়, রেলোস চুক্তি আন্তর্জাতিক অভিযানে দ্রুত প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করবে এবং লজিস্টিক খরচ প্রায় ২০–২৫% পর্যন্ত কমাতে পারে।

    ভারত-রুশ যৌথ সামরিক মহড়ায় সমন্বয় বৃদ্ধি:

    • ● এই চুক্তি ইন্দ্র (INDRA) সামরিক মহড়ার জন্য একটি স্থায়ী লজিস্টিক ভিত্তি তৈরি করে, যা প্রশিক্ষণ থেকে বাস্তব অপারেশনাল সমন্বয়ে দ্রুত রূপান্তর সম্ভব করে।

    কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা:

    • ● ২০২৬ সালে এই চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারত তার বহুমুখী সামরিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক প্রদর্শন করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লেমোয়া ও বেকা-র মতো চুক্তির পাশাপাশি ইউরেশীয় স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখে, যাতে কোনও একক শক্তির প্রভাব প্রাধান্য না পায়।

    ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কতটা গভীর?

    সুইডেনের গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী ছিল রাশিয়া। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের মোট প্রতিরক্ষা ক্রয়ের প্রায় ৩৬ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে। সব মিলিয়ে, এই নতুন চুক্তি ভারত-রাশিয়া সামরিক সহযোগিতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-রাশিয়া রেলোস (RELOS) চুক্তি দুই দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইউরেশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। নয়াদিল্লি ও মস্কো এমন একটি কাঠামো নিশ্চিত করেছে যা ভারত মহাসাগর ও আর্কটিক অঞ্চলের মধ্যে কৌশলগত সংযোগ স্থাপন করে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করে এবং ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে আরও শক্তিশালী করে। চুক্তির ফলে দুদেশের মধ্যে হওয়া ইন্দ্র (INDRA) সামরিক মহড়া পরিচালনা কিংবা নর্দার্ন সি রুটে নেভিগেশন আরও কার্যকর হবে। এই চুক্তি ইন্দো-প্যাসিফিক ও আর্কটিক অঞ্চলের স্বার্থকে অভূতপূর্ব দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার সুযোগ করে দেয়। এই চুক্তি প্রমাণ করে যে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ভারত-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্ব একটি দৃঢ় ও অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে।

LinkedIn
Share