Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • 21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলের ছোঁয়া ২১-এও। ২১ জুলাই কলকাতায় এবার পরিবর্তনের ছবি। গত ১৫ বছর ধরে ২১ জুলাই এক অঘোষিত ছুটির চেহারা নিয়েছিল। জেলা থেকে কলকাতায় আসত সমর্থক বোঝাই বাস। আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা। মঞ্চে থাকতেন প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রী থেকে তারকারা। আর এবার অন্য ছবি। খণ্ডবিখণ্ড তৃণমূল। তিন শিবির আলাদা করে ২১ জুলাই পালন করেছে। ক্যাথিড্রাল রোডে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সমাবেশ করেছে। মেয়ো রোডে ২১ জুলাই পালন করছে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। শহিদ মিনার চত্বরে ২১ জুলাই পালন করছে কংগ্রেসও। চার দিকে ২১ জুলাই পালন হচ্ছে, অথচ ভিড়-যানজটের সেই চেনা ছবি উধাও।

    কোথায় গেল মমতার ২১-এ জুলাই!

    কলকাতার কোনও রাস্তাতেই এদিন ২১ জুলাইয়ের ভিড় কার্যত ছিল না। ট্রেন, বাস, ট্রাম, মেট্রো- কোথাও চোখে পড়ছে না অতিরিক্ত ভিড়। ২১ জুলাইয়ের সভাস্থল ছাড়া কার্যত কোথাও নেই তৃণমূলের পতাকা। হাওড়া-শিয়ালদা স্টেশনেও অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। হাওড়ার ফেরিঘাটেও ২১ জুলাইয়ের জন্য় আলাদা চাপ নেই । কলকাতা থেকে জেলা, ২১ জুলাইয়ের উন্মাদনা ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোন সভায় যাবেন তা নিয়ে বিভ্রান্ত ছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক।

    রাজনীতির হাতিয়ার ২১ জুলাই!

    ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযান করেছিলেন কংগ্রেসের তৎকালীন যুবনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। মিছিলের উপর গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু কর্মী-সমর্থক আসতেন শহরে। সেই উপলক্ষে কার্যত ভিড়ে থিকথিক করত শহর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হত। কিন্তু, এবার আর সেই চেনা ছবি দেখা যাচ্ছে না। আসলে সর্বদাই ২১ জুলাইকে হাতিয়ার করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ পরিবারগুলো আখেড়ে কিছুই পায়নি।

    শহিদ পরিবারগুলি উপেক্ষিত

    প্রতি বছর ২১ জুলাই পালন করেচে তৃণমূল কিন্তু প্রায় এক যুগ পরে রাজ্যের বিজেপি সরকার প্রকাশ্যে আনে ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট। ক্ষমতায় আসার ঠিক পরেই ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর প্রাক্তন বিচারপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনটি গঠন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দু’বছর পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে কমিশন তার চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে। কিন্তু ১৯৯৩ সালের ওই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি মমতার সরকার। সোমবার তা বিধানসভায় পেশ করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ করলেন, ‘‘২১ জুলাইয়ের আবেগ ও শহিদদের রক্তকে ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাজনৈতিক আখের গুছিয়েছেন, কিন্তু শহিদ পরিবারগুলি আজ চরম উপেক্ষিত।’’

    দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ মমতার

    ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যারা তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যেতে চান, তাঁদের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘যাদের যাওয়ার, তারা বিজেপিতে যান। বিজেপির পাশবালিশ হয়ে না থেকে সরাসরি বিজেপি করুন।’’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঋতব্রতদের (Ritbrata Banerjee) এক্সপায়ারি ডেট বেঁধে দিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৯ সালই ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের এক্সপায়ারি ডেট। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে, বিড়লা তারামণ্ডলের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কল্যাণের (Kalyan Attacks Ritabrata) স্পষ্ট বার্তা, মমতা ছাড়া তৃণমূল হয় না। কর্মীরাই আগামী দিনে নেতা তৈরি করবে।

    এবার মমতা-কল্যাণ বাদানুবাদ

    তবে নিজের বক্তৃতা শেষ করেই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নেমে সটান বাড়ি চলে গেলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা শোনার জন্যও অপেক্ষা করলেন না। কালীঘাটপন্থীদের একটি সূত্র বলছে, নেত্রী সংক্ষেপে বক্তৃতা শেষ করার নির্দেশ দিলেও কানে তোলেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ। প্রায় সাড়ে ২২ মিনিট বক্তৃতা করেছেন। তার জেরে তালিকায় থাকলেও বাদ পড়তে হয়েছে কয়েক জন সাংসদ-বক্তাকে। তা নিয়েই ‘কথা কাটাকাটি’ হয়েছে নেত্রীর সঙ্গে। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান নেত্রীর অনুগত বলে পরিচিত কল্যাণ। পরে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণেই মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। বাদানুবাদের কোনও প্রশ্নই নেই।

    শহিদ পরিবারগুলিকে আর্থিক অনুদানের ঘোষণা ঋতব্রতের

    এদিন মেয়ো রোডের সভায় ঋতব্রত বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের স্বীকৃতি দেয়, তা হলে পার্টির এই যে বিপুল টাকা, সেই টাকা থেকে ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারদের প্রতি মাসে আমরা ১০ হাজার টাকা করে দেব।” একই সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সংযোজন, “তৃণমূলের যে টাকা, বছরে তার সুদই হয় ১০০০ কোটি টাকা। সেই টাকা কোথায় গেল?” ঋতব্রতের দাবি, বিজেপির সঙ্গে সেটিং করে সংসদে একের পর এক বিল পাস করাতে তৃণমূল সাহায্য করেছে। ২১ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট কেন এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি, সেই প্রশ্নও তোলেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (মমতা)-র কাছে জানতে চাই, দিদি কেন এই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না? কী বাধা ছিল? কাদের বাঁচানোর ছিল?”

  • UPI Payment: ইন্টারনেট ছাড়াই ইউপিআই পেমেন্ট! কীভাবে, কত টাকা পর্যন্ত হবে লেনদেন?

    UPI Payment: ইন্টারনেট ছাড়াই ইউপিআই পেমেন্ট! কীভাবে, কত টাকা পর্যন্ত হবে লেনদেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফোনে নেট নেই! মেট্রোয় রয়েছেন চিন্তা নেই যে কোনও জায়গায় যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট নেই, সেখানেও সহজেই টাকা পাঠানো বা কোনও পেমেন্ট করা যাবে ইউপিআই-এর মাধ্যমে (UPI Payment)। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) একটি নতুন এনএফসি (Near Field Communication)-ভিত্তিক ইউপিআই পেমেন্ট এই প্রযুক্তি নিয়ে আসতে চলেছে, বলে জানা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থা ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর একটি বড় ঘাটতি পূরণ করবে। যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই, সেখানেও ইউপিআই পরিষেবা পৌঁছে দেবে।

    কীভাবে সম্ভব?

    বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পিছনে থাকছে নিয়ার-ফিল্ড কমিউনিকেশন (NFC) প্রযুক্তি। এটি একটি কম রেঞ্জের ওয়্যারলেস টেকনোলজি। কাছাকাছি দূরত্বে ব্লুটুথের চেয়ে দ্রুত এবং আরও সুরক্ষিতভাবে কাজ করে। তবে এভাবে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকাই পেমেন্ট করা যাবে। গ্রাহকদের প্রথমে অনলাইনে ইউপিআই লাইট (UPI Lite) নামক একটি অন-ডিভাইস ডিজিটাল ওয়ালেটে টাকা লোড করতে হবে। এরপর তাঁরা ইউপিআই পিন প্রবেশ ছাড়াই, ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়াই সেই ব্যালেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। মনে করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থা ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর একটি বড় ঘাটতি পূরণ করবে। যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই, সেখানেও ইউপিআই পরিষেবা পৌঁছে দেবে।

    অফলাইন ডিজিটাল পেমেন্ট

    অফলাইন ডিজিটাল পেমেন্ট যদিও একেবারে নতুন কিছু নয়। *99# এবং UPI 123Pay এর মতো পরিষেবা আছে। তাতে ইন্টারনেট কানেকশান ছাড়াই, ইউএসএসডি কোড বা সাধারণ ফোন কলের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায়। কিন্তু তা বেশ জটিল ব্যাপার। পার্থক্যটা এখানেই। এই প্রচলিত অফলাইন পদ্ধতিগুলিতেও কোনও না কোনও নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হয়। যেমন ধরুন ইউএসএসডি কোডের জন্য জিএসএম সিগন্যাল অথবা ভয়েস কলের জন্য ফোন লাইন। নতুন এনএফসি-বেসড ইউপিআই ফিচারের জন্য হয়তো সেটারও প্রয়োজন হবে না। আপনার ডিভাইসে এনএফসি সাপোর্ট করলেই, কোনও মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই কম রেঞ্জের ওয়্যারলেস কানেকশানের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যেতে পারে।

    কোথায় কাজে আসতে পারে?

    এই প্রযুক্তিটি এমন সব জায়গায় কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যা রয়েছে। যেমন- বিমান, ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন, গ্রামীণ এলাকা এবং বড় বড় ভবন যেখানে সেলুলার নেটওয়ার্কের ওপর অত্যধিক চাপ থাকে। এই ধরনের পরিবেশে প্রচলিত ইউপিআই লেনদেন প্রায়শই ব্যর্থ হয়, কারণ সেগুলোর ক্ষেত্রে পেমেন্টকারী এবং মার্চেন্ট – উভয়কেই অনলাইনে থাকার প্রয়োজন হয়। আপাতত, এনপিসিআই -এর পক্ষ থেকে এই নতুন ফিচারের নির্দেশিকা বা গাইডলাইন নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অফলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার জন্য আরবিআই-এর বর্তমান নির্দেশিকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন সীমা নির্ধারিত রয়েছে।

  • Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেস (Connaught Place) এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন দুষ্কৃতীরা পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশের গাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি এবং পুলিশকর্মীদের জ্যাকেট ও হেলমেট ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় জড়িত ছিল। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    রণক্ষেত্র রাজধানী

    ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। দিল্লি পুলিশের দাবি, কনট প্লেসের আউটার সার্কেলের রিগ্যাল সিনেমা সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে এবং একাধিক পুলিশ গাড়ি ভাঙচুর করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, একাধিক আইপিএস অফিসার-সহ অন্তত ১১৮ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ৬০ জন আন্দোলনকারীও। ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত পুলিশকর্মীদের মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা (MLC) এখনও চলছে।

    সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    ঘটনার তদন্তে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের ভিডিও বিশ্লেষণ করছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০টি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের দাবি, অনেক দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বা কাপড় বেঁধে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ব্যারিকেড ভাঙচুর ও হামলায় অংশ নিয়েছিল। আন্দোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড হামলা করেন, পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১৫-২০টি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ। শাংগ্রি-লা হোটেলের কাছে এক মহিলা হেড কনস্টেবল মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চার থেকে পাঁচটি সেলাই করতে হয়েছে। রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ-সহ দিল্লি মেট্রোর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হয় পরিষেবা।

    দিল্লি পুলিশের বিবৃতি

    দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভকারীরা “উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক এবং হিংসাত্মক আচরণ” করেছে। পুলিশের বারবার সতর্কবার্তা এবং আইনানুগ নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। পুলিশ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে গুজব বা ভুয়ো খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের উপর ভরসা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে।

    ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে উত্তেজনা

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে ককরোচ পার্টি-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ মিছিল যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশের দাবি, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় কর্মসূচির অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় এবং লাঠিচার্জ করে। এর পাল্টা বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযান

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার আন্দোলনকারী যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। সংসদমুখী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশও। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবিধান ক্লাব, প্যাটেল চৌক, শাস্ত্রী ভবন, আরবিআই ভবন এবং সংসদ মার্গ এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    নিরাপত্তা জোরদার

    ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত এখনও চলছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাস

    এরই মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের তরফে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌরভ দাস জানিয়েছেন, নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা দলের দাবিগুলি লিখিত ভাবে তুলে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌরভ দাস জানান, জেপি নাড্ডার সঙ্গে তাঁর বাসভবনে প্রায় ১০ মিনিট বৈঠক করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি সম্বলিত একটি চিঠি নাড্ডার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ ভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

     

     

     

  • PM Modi Congratulates Burnham: যুক্তরাজ্যের নয়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা মোদির, ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা

    PM Modi Congratulates Burnham: যুক্তরাজ্যের নয়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা মোদির, ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউনাইটেড কিংডম-এর সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন অ্যান্ডি বার্নহাম (Andy Burnham)। যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Congratulates Burnham)। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ এক বার্তায় তিনি বলেন, ভারত ও ব্রিটেনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। এই প্রথমবার কোনও ক্যাথোলিক ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হলেন, যা ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত কয়েক বছর ধরে ব্রিটেনের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছেন।

    মোদির শুভেচ্ছা বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী বার্নহামকে শুভেচ্ছা বার্তায় মোদি লেখেন, ‘‘ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে আন্তরিক অভিনন্দন। ভারত ও ব্রিটেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী দুই দেশ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা বিস্তৃত। চলতি মাসে সিইটিএ (CETA) কার্যকর হওয়ায় এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারত-ব্রিটেনের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Comprehensive Strategic Partnership) আরও গভীর করতে এবং ‘ভিশন ২০৩৫’-এর যৌথ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি।’’

    ব্রিটেনের নয়া নেতা

    এর আগে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, দলের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রাক্তন মেয়র বার্নহ্যাম, কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি। লন্ডনের ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (TUC) সদর দফতরে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারপার্সন তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, বার্নহ্যাম ৩৭৯ জন লেবার সাংসদের সমর্থন পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় মনোনয়নের সীমা অতিক্রম করা একমাত্র প্রার্থী হওয়ায় দলীয় সদস্যদের ভোটাভুটি ছাড়াই তাঁকে নেতা ঘোষণা করা হয়।

    সমগ্র ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করব

    মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সম্প্রতি সংসদে ফিরে আসেন বার্নহ্যাম। এরপর ২২ জুন কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা করেন। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার কথা জানান। নেতৃত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, গত কয়েক দশকে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ হয়েছে এবং আবাসন, জল, বিদ্যুৎ ও পরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার বেসরকারিকরণের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে দেশের বহু প্রাক্তন শিল্পাঞ্চল পুনর্গঠনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—সমগ্র ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করব।’’ মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ের পর লেবার পার্টির সাংসদদের মধ্যে বার্নহ্যামের প্রতি সমর্থন আরও বৃদ্ধি পায়, যার ফলেই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের নেতৃত্ব এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের পাঁচ দফা প্রতিশ্রুতি

    নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণেই ব্রিটিশ আমজনতার উদ্দেশ্যে পাঁচ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার্নহাম। তাঁর দেওয়া সেই ৫টি মূল অঙ্গীকার হল- দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা, আদর্শগত ভিত্তি, আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাস বলছে, গত এক দশকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ছয়জন প্রধানমন্ত্রী এসেছেন এবং চলে গেছেন। কিয়ের স্টার্মারের পূর্বসূরিদের তালিকায় ছিলেন ঋষি সুনক, লিজ ট্রাস, বরিস জনসন, টেরেসা মে এবং ডেভিড ক্যামেরন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই পাঁচজনই ছিলেন লেবার পার্টির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা। টানা রাজনৈতিক টালমাটালের পর কিয়ের স্টার্মারের হাত ধরে লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলেও তিনি বেশিদিন টিকতে পারেননি। এবার কনজারভেটিভদের হারিয়ে আসা লেবার পার্টির অন্দরে ও দেশের শাসনভার সামলাতে অ্যান্ডি বার্নহাম কতটা সফল হন এবং ব্রিটেনকে কতটা রাজনৈতিক স্থায়িত্ব দিতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।

    বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ

    ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গত ১০ বছর ধরে চলছে প্রধানমন্ত্রীদের যাওয়া আসা। স্বাভাবিক হিসাবে ১০ বছরে ২জন প্রধানমন্ত্রী থাকা উচিত। কিন্তু গ্রেট ব্রিটেনের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা বহু বেশি। গত ১০ বছরে ষষ্ঠ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সোমবার নির্বাচিত হলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। প্রথামাফিক তাঁকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। ক্ষমতায় এসেই রাজনীতিতে আস্থা ফেরাতে অর্থনৈতিক শক্তি ফেরাতে প্রচেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দেশের জন্য কী রূপরেখা তৈরি করতে চান তিনি, কী ভাবনা রয়েছে, তা এদিন বক্তব্যে তুলে ধরেন। ইতিহাস অনুসারে বার্নহাম ইউকে-র ৫৯ তম প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বাকিংহাম প্যালেসে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কিং চার্লস।

    কিং অফ দ্য নর্থ নামে পরিচিত

    ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহল তাঁকে ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ নামে চেনে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপাতত তাঁকেই ভোট দিয়ে বেছে নিয়েছে লেবার পার্টি। রাজার আমন্ত্রণ পেয়ে এবার ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা ঢেলে সাজাতে হবে তাঁকে। নতুন দায়িত্ব পেয়েই নতুন ব্রিটেন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন অ্যান্ডি। জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জন্যও তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। আপাতত ৬ সপ্তাহের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কুর্সি সুরক্ষিত। সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনে হাউস অফ কমন্সের অধিবেশন হবে, সেখানে এমপিদের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে অ্যান্ডিকে।

  • School Bullying: হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সন্তানের আচরণ! স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে না তো? চিনে নিন লক্ষণগুলি

    School Bullying: হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সন্তানের আচরণ! স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে না তো? চিনে নিন লক্ষণগুলি

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য অবসর পেলেও খেলাধুলাতেই বিশ্রাম খুঁজে পেত! বাড়িতে অতিথি এলে, তার কাছ ছাড়তেই ছাড়তো না। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা, সময় কাটানো ছিলো খুবই পছন্দের। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেল তার প্রকৃতি! পরিবারের একরত্তির হঠাৎ আচরণ বদলে চিন্তিত অভিভাবকেরা। পড়াশোনার প্রতি অনীহা, অতিরিক্ত জেদ তৈরি হলো! বকাবকির জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলো। এমন অবস্থার মুখোমুখি বহু বাবা-মা হচ্ছেন। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন, সেটাও বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান করতে না পারার জন্য সন্তানের জীবনে নানান জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগাম সচেতনতা জরুরি। কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে।

    কী বলছে আন্তর্জাতিক গবেষণা?

    সম্প্রতি স্কুল পড়ুয়াদের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে স্কুল পড়ুয়াদের নিগ্রহের ঘটনা বাড়ছে। শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের পাশপাশি, তারা নানান রকমের মৌখিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। তাদের ভবিষ্যতে একাধিক সমস্যার কারণ হচ্ছে, শৈশবের এই মানসিক যন্ত্রণা। শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ দ্রুত পাওয়া গেলেও, মানসিক নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া মুশকিল হয়। আর সেখানেই জটিলতা বাড়ছে! তবে কয়েকটি দিকে নজর দিলে এই সমস্যা কিছুটা আয়ত্ত করা যেতে পারে বলেই জানাচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তান বুলিং-য়ের শিকার হচ্ছে কি না?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে কয়েকটি আচরণগত পরিবর্তনে নজর দিলেই সমস্যা রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে জানা সহজ হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রত্যেক বাচ্চার যেমন কিছু আলাদা প্রকৃতি থাকে, আবার কিছু কিছু পছন্দ এক রকম হয়। হঠাৎ এমন কিছু স্বভাব পরিবর্তনে নজর দিলেই সমস্যা রয়েছে কিনা আন্দাজ করা যেতে পারে।

    সন্তান হঠাৎ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে!

    সাধারণত শিশুরা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে। কিন্তু কোনো স্কুল পড়ুয়া যদি একদম মেলামেশা করতে পছন্দ না করে, তার যদি কোনও বন্ধু না থাকে, খুব গুটিয়ে থাকে তাহলে সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে সে নিজের সমস্যা ভাগ করে নিতে পারছে না। আবার হয়তো বন্ধুমহলেই সে মানসিক ভাবে নিগ্রহের শিকার হচ্ছে, তাই তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে চাইছে না। বন্ধুদের কথায় সে নিগ্রহের শিকার হলে, তার মধ্যে একাকিত্বের সমস্যা বাড়বে। তাই সন্তানের বন্ধু না থাকলে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগে অনীহা!

    পরিবারে অতিথি আসলে কিংবা কোথাও নেমতন্ন থাকলে, সাধারণত শিশুরা উচ্ছ্বসিত থাকে। অধিকাংশ সময়েই তারা অতিথির সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করে। কিন্তু হঠাৎ যদি সন্তান সম্পূর্ণ নিজেকে গুটিয়ে রাখে, কোনো কারণ ছাড়াই সে নিজের ঘর থেকে বাইরে যাচ্ছে না, মেলামেশা করতে চাইছে না। আবার কোথাও নেমতন্ন থাকলেও যেতে নারাজ, তাহলে বুঝতে হবে, তার সামাজিক যোগাযোগের উপরে অনীহা তৈরি হয়েছে। যা একেবারেই স্বাভাবিক নয়। তাই সেই আচরণে গুরুত্বপূর্ণ দিয়ে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা জরুরি।

    অতিরিক্ত জেদ ও খিটখিটে মেজাজ!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের যেকোনো বিষয়ে অতিরিক্ত জেদ ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিলে বাড়তি‌ নজরদারি প্রয়োজন। অনেক সময়েই খুব সামান্য বিষয়, যেমন খাবার খাওয়া, ঘুম থেকে ওঠা নিয়েও সন্তান অতিরিক্ত জেদ করতে থাকে। পরিবারের সকলের সঙ্গেই খিটখিটে মেজাজে কথা বলে। এই আচরণে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    পড়াশোনা ও স্কুল যাওয়ার প্রতি অনীহা!

    পড়াশোনার প্রতি অতিরিক্ত অনীহা তৈরি এবং স্কুলের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হলে, অভিভাবকদের উচিত সেদিকে নজর দেওয়া। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, লাগাতার বুলিং-য়ের শিকার হলে সেই জায়গার প্রতি ভয় তৈরি হয়। সেখান থেকেই অনীহার জন্ম হয়। সন্তান যদি হঠাৎ স্কুল যেতে না চায়, কিংবা পড়াশোনার প্রতি একেবারেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তাহলে সেখানে মানসিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটছে কিনা, সেটা যাচাই করা জরুরি।

    কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সচেতনতা এবং সতর্কতাকে হাতিয়ার করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতে পারে। অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে, তবেই বড় সঙ্কট আটকানো সহজ হবে। মনোরোগ চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত কিছুটা সময় সন্তানের সঙ্গে গল্প করে কাটাতে হবে। পরিবারের একজনের সঙ্গে যেকোনো সমস্যার কথা সে প্রকাশ করতে পারে, এই বিশ্বাস শিশুর মনে থাকা জরুরি। যাতে সে যেকোনো সমস্যা সহজেই বলতে পারে। প্রথম থেকেই যেকোনো সমস্যা ভাগ করে নিতে পারলে সমাধান সহজ হয়। বন্ধুরা কী বললো, স্কুলে কী হলো, খেলার মাঠে কেমন সময় কাটলো, এই সবকিছুই ভাগ করে নিতে পারলে বড় বিপদ আটকানো যাবে। প্রথম থেকেই সমস্যা সম্পর্কে বোঝা যাবে। সেই মতো পরিস্থিতি সামলানোর পথ ও খোঁজা সহজ হবে। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই ব্যস্ত আধুনিক জীবনে সন্তান একাকিত্বে ভোগে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বড্ড কম থাকে। ফলে তারা কোনো রকম সমস্যার মুখোমুখি হলেও কীভাবে সেটা সমাধান করবে, বুঝতে পারে না। অধিকাংশ সময়েই পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Human Trafficking In Bengal: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ চক্রের পর্দাফাঁস, এনআইএ-র জালে রাজ্যের ৭

    Human Trafficking In Bengal: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ চক্রের পর্দাফাঁস, এনআইএ-র জালে রাজ্যের ৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ (Human Trafficking In Bengal) করিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে একটি বড় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তদন্তকারীদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং বাগদা সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র অবৈধ অনুপ্রবেশের কাজ চালিয়ে আসছিল। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন মণ্ডল-সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সদস্য। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের সীমান্তের অরক্ষিত অংশ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করানো হতো।

    কীভাবে চলত অবৈধ অনুপ্রবেশ

    তদন্তে উঠে এসেছে, সীমান্ত (Indo-Bangladesh Border) পার হওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে সড়কপথে হাওড়া স্টেশনে নিয়ে আসা হতো। সেখান থেকে ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করে তাদের দিল্লি, মুম্বই, পুণে, সুরাট, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এনআইএ-র প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই চক্র শুধুমাত্র অবৈধ অনুপ্রবেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তারা এমন একটি সুসংগঠিত ট্রানজিট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, যার মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়েই দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ত অনুপ্রবেশকারীরা। গোটা চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং বিদেশি যোগসাজশ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

    তদন্তকারী সংস্থার মতে, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের অরক্ষিত অংশ দিয়ে সহজে অনুপ্রবেশের অভিযোগ সামনে আসায় সম্পূর্ণ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে এনআইএ। অনুপ্রবেশ ঠেকানো মোদি সরকারের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগেই এই কথা বারবার বলে এসেছেন বিজেপির নেতারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেলন, সরকার ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট এই নীতির মাধ্যমে খুঁজে খুঁজে এক একজন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ) বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-কে দ্রুত ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। উপদ্রুত এলাকায় ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং-এর কথা বলেছেন। প্রয়োজনে আরও আধুনিক যন্ত্র আনার কথাও হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ

    এই ঘটনাকে ঘিরে ফের আলোচনায় এসেছে পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বিষয়টি। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-র দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি না পাওয়ায় অনেক এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ আটকে ছিল। রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রায় ১,০২৫ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকা সফরেরও কথা রয়েছে, যেখানে বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ৮৬৪ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গে। যার একটা বড় অংশ উত্তরবঙ্গের।

    প্রভাবশালী যোগাযোগ

    তবে তদন্তকারী মহলের একাংশের মতে, এত বড় মানবপাচার ও অনুপ্রবেশ চক্র কোনও প্রভাবশালী যোগাযোগ ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ফলে এই চক্রের সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারির রাশ (India Bangladesh Border Security) আরও শক্ত করতে ইতিমধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের চেনা ছক সম্পূর্ণ বানচাল করতে এক অভিনব ও কঠোর যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে যাতে কোনওভাবেই অনুপ্রবেশ না ঘটতে পারে, তার জন্য নিশ্ছিদ্র ব্লু-প্রিন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে (Bengal Border Infiltration Plan)। সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম এলাকাগুলিতে নজরদারি দ্বিগুণ করা, সীমান্তে যে কোনও ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ করা, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় আরও মজবুত করা এবং সবচেয়ে বড় কথা, অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত যে কোনও গোপন বা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও বেশি গতিশীল ও মসৃণ করার উপর জোড় দেওয়া হয়েছে।

  • FIFA World Cup 2026: মঞ্চ ছাড়লেন না ট্রাম্প! স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে উল্লাসে মাতলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ইন্টারনেটে বিদ্রুপের ঝড়

    FIFA World Cup 2026: মঞ্চ ছাড়লেন না ট্রাম্প! স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে উল্লাসে মাতলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ইন্টারনেটে বিদ্রুপের ঝড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে (MetLife Stadium) বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের (Spain) শিরোপা জয়ের আনন্দের মধ্যেই তৈরি হল এক অস্বস্তিকর মুহূর্ত। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে স্পেন অধিনায়ক রদ্রির (Rodri) হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পরও মঞ্চ ছাড়তে দেরি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। স্পেনের সঙ্গেই উল্লাস করলেন ট্রাম্প। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেষ পর্যন্ত ফিফা (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে (Gianni Infantino) হস্তক্ষেপ করতে হয়। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

    বিতর্কের কেন্দ্রে ট্রাম্প

    খেলার শুরুতে ভিআইপি বক্সে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বসেছিলেন সস্ত্রীক ট্রাম্প। তাঁকে দেখা মাত্র গ্যালারি জুড়ে বিদ্রুপ শুরু হয়। শিস্‌ দেন দর্শকদের একাংশ। ট্রাম্প অবশ্য বিশেষ পাত্তা দেননি। খোশগল্পে মেতেছিলেন তিনি। একটা সময় দেখা যায়, বিশ্বকাপের ট্রফি তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি তা কিছু ক্ষণ কোলে রেখে সামনে রেখে দেন। খেলা শেষে ইনফান্তিনোর সঙ্গেই মাঠে এলেন ট্রাম্প। উঠলেন মঞ্চে। ট্রাম্প মাঠে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আবার বিদ্রুপ শুরু হল। তার মাঝেই ফুটবলারদের গলায় মেডেল পরিয়ে দিলেন ট্রাম্প ও ইনফান্তিনো। শেষে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি তুলে দিলেন ট্রাম্প। তার পরেই শুরু নাটক। প্রথমে ফুটবলারদের মধ্যেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ফিফার কয়েক জন কর্তা তাঁকে সরতে বলেন, যাতে স্পেনের ফুটবলারেরা উল্লাস করতে পারেন। ট্রাম্প একটু সরলেন বটে, কিন্তু নামলেন না।

    ট্রাম্পই বিশ্বকাপ জিতলেন!

    এই ঘটনা অবশ্য প্রথম নয়। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপের সময়েও একই কাজ করেছিলেন ট্রাম্প। চ্যাম্পিয়ন দল চেলসির সঙ্গে উল্লাস শুরু করেছিলেন। সেই সময় চেলসির অধিনায়ক রিসি জেমস প্রায় ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্পকে। এ বার অবশ্য স্পেন তেমন কিছু করেনি। ভিডিওতে দেখা যায়, রদ্রি প্রথমে ইঙ্গিত করে ট্রাম্পকে সরে যেতে বলেন। তবে তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। স্পেনের ফুটবলাররা যখন ট্রফি নিয়ে উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখনও ট্রাম্প ক্যামেরার ফ্রেমে ছিলেন। ফলে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন স্প্যানিশ ফুটবলাররা। ট্রাম্প মঞ্চ ছাড়তে দেরি করায় শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁকে ট্রাম্পের হাত ধরে মঞ্চের এক পাশে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে সেখানেও তিনি পুরোপুরি সরে যাননি। বরং স্পেনের ফুটবলারদের একেবারে পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। ফুটবলারদের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পও উল্লাসে মাতলেন। ভাবখানা এমন, যেন তিনিই বিশ্বকাপ জিতেছেন।

    সোশাল মিডিয়ায় কটাক্ষের বন্যা

    ঘটনাটি সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে মজা করেছেন, আবার কেউ তীব্র সমালোচনা করেছেন। একজন লেখেন, ‘‘ফটোশপ তো এখন অনেক উন্নত, তাই সমস্যা হবে না!” আরেকজনের মন্তব্য, “সবকিছুতেই নিজেকে কেন্দ্রবিন্দু বানাতে চান।’’ আরও এক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের কল্পিত প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে ব্যঙ্গ করে লেখেন, ‘‘স্পেনে সবাই আমাকে এত ভালোবাসছিল যে ছবির জন্য থেকে যেতে বলছিল!’’ অন্যদিকে, এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, ‘‘ট্রাম্প গোটা বিশ্বের কাছে লজ্জার কারণ হয়ে উঠেছেন।’’ তবে সবাই সমালোচনা করেননি। একজন লেখেন, ‘‘এটাই ট্রাম্পের স্টাইল, যেন গোটা শহরটাই তাঁর।” আরেকজন বলেন, “এটাই আমেরিকান স্বভাব, সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চায়।’’ এক ব্যবহারকারী গত বছরের চেলসির ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন, ‘‘চেলসি ট্রফি জেতার পরও তিনি এমনভাবেই দলের সদস্যের মতো মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন।’’

  • US Iran Conflict: ফের বোমাবর্ষণ শুরু আমেরিকার! ইরান সফর স্থগিতের পরামর্শ, সতর্কবার্তা তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    US Iran Conflict: ফের বোমাবর্ষণ শুরু আমেরিকার! ইরান সফর স্থগিতের পরামর্শ, সতর্কবার্তা তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে ইরান। তাই আপাতত ইরান সফরের পরিকল্পনা স্থগিত রাখাই নিরাপদ। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ইরানের ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আমেরিকার সঙ্গে বাড়তে থাকা সংঘাতের জেরে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করেছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত পরামর্শে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে অস্থিরতা ও সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের ইরান সফর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

    ফের বোমাবর্ষণ আমেরিকার

    ইরানে ফের বোমাবর্ষণ শুরু করেছে আমেরিকা। এই নিয়ে টানা ন’দিন তারা ইরানে হামলা চালাচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহত আমেরিকান সেনার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন। এর আগে ইরানের হামলায় জর্ডনের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। রবিবার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরাকে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে সেই বোমা ফেটে মৃত্যু হয়েছে আরও এক মার্কিন সেনার। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে ১৭ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হল। জখম হয়েছেন ৪২০ জনেরও বেশি। এর পর থেকেই আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই হামলা চলছে, জানিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড। ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশের একাধিক শহরে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেইনিতে।

    অশান্ত হরমুজ প্রণালী

    সোমবার সকালে একটি বিবৃতি জারি করে পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আমেরিকান সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যাতে কোনও বাণিজ্যিক জাহাজে আর হামলা চালাতে না-পারে, সেই কারণে তাদের ক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে সেখানে নতুন করে আক্রমণ শুরু করা হয়েছে। তবে কোথায় কোথায় বোমা ফেলেছে আমেরিকা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলার বিশদ কোনও বিবরণ মার্কিন সেনাবাহিনী দেয়নি। আমেরিকার হামলার জবাব দিচ্ছে ইরানও। তাদের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী সিরিয়ায় মার্কিন সেনার বিশেষ অভিযানের সদর দফতরে আচমকা হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া, কুয়েতের দু’টি ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে সংঘর্ষে ইরানের নিশানায় রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, বাহরিন, জর্ডন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি। ইরানে হামলা চালানোর জন্য এই সমস্ত দেশের সেনাঘাঁটিই ব্যবহার করে ওয়াশিংটন।

    দুই তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ধ্বংসের দাবি

    ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে।

    বাহরিনে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

    ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরিনে মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। দূতাবাসের দাবি, তাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে ইরান বাহরিনের রাজধানী মানামার কিছু জায়গায় হামলার চেষ্টা করতে পারে। তাই বাহরিনে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ

    ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ, যেকোনও উদ্দেশ্যে ইরান ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা আপাতত স্থগিত রাখা উচিত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সফর এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়দের উপলব্ধ বিমান পরিষেবার মাধ্যমে সাময়িকভাবে দেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। যাঁরা আপাতত ইরানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে দূতাবাস। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও সামরিক তৎপরতা চলা এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সব নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসে নাম নথিভুক্ত করার নির্দেশ

    যেসব ভারতীয় এখনও তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করেননি, তাঁদের অবিলম্বে তা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশিকা নিয়মিত অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    কেন এই সতর্কতা?

    সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের সেতু, লবণাক্ত জল বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। কুয়েত, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এ ধরনের একাধিক হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এর আগেই ভারত সরকারের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ভারতীয় নাবিকদের হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজে না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে সংঘটিত হামলায় অন্তত ১৪ জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিহত ভারতীয় নাবিক—সংখ্যা ৯। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই ভারত সরকার ও তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

     

     

     

  • India China Border Surveillance: গালওয়ানের পর বড় প্রস্তুতি! লাদাখ থেকে অরুণাচল— চিন-সীমান্ত জুড়ে নজরদারির বিশাল জাল গড়ছে ভারত

    India China Border Surveillance: গালওয়ানের পর বড় প্রস্তুতি! লাদাখ থেকে অরুণাচল— চিন-সীমান্ত জুড়ে নজরদারির বিশাল জাল গড়ছে ভারত

    ভারত-চিন সীমান্তে (LAC) শক্তি প্রদর্শনের প্রসঙ্গ উঠলেই সাধারণত সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথাই সামনে আসে। কিন্তু এর আড়ালেই নীরবে গড়ে উঠছে আরও বড় একটি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হিমালয় জুড়ে অত্যাধুনিক সেন্সর, রেডার, সামরিক স্যাটেলাইট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সীমান্ত সংঘাতে শুধু অস্ত্রের শক্তি নয়, বরং কে আগে শত্রুকে শনাক্ত করতে পারবে, সেটাই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ফলাফল। সেই লক্ষ্যেই ভারত ধাপে ধাপে গড়ে তুলছে একটি বহুস্তরীয় নজরদারি নেটওয়ার্ক।

    গালওয়ান সংঘর্ষের পর বদলে যায় কৌশল

    ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই সীমান্তে নজরদারি ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। একই সময়ে চিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ড তিব্বত ও জিনজিয়াং অঞ্চলে নতুন বিমানঘাঁটি, ড্রোন বেস, শক্তিশালী সামরিক বাঙ্কার এবং অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত বাড়ায়। এই পরিস্থিতিতে ভারত শুধু টহল বা যুদ্ধবিমানের উপর নির্ভর না করে ‘সেন্সর ডমিন্যান্স’ বা সর্বব্যাপী নজরদারির কৌশল গ্রহণ করেছে। লক্ষ্য একটাই— চিনের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ড্রোন, হেলিকপ্টার কিংবা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্তের দিকে এগোনোর আগেই তা শনাক্ত করা।

    হিমালয়ের চ্যালেঞ্জ: পর্বতই সবচেয়ে বড় বাধা

    হিমালয়ের বিশাল পাহাড়, গভীর উপত্যকা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি রেডারের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে। পর্বতের আড়ালে নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা বিমান বা ড্রোন অনেক সময় প্রচলিত রেডারের চোখ এড়িয়ে যায়। অর্থাৎ, একটি ব্লাইন্ডস্পট তৈরি হয়। একে বলা হয় ‘রেডার শ্যাডো’। এই সমস্যা কাটাতে ভারত বহুস্তরীয় সেন্সর নেটওয়ার্ক তৈরি করছে, যেখানে একটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা অন্য ব্যবস্থা পূরণ করবে।

    প্রথম স্তর: মহাকাশ থেকেই নজরদারি

    ভারতের নজরদারি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে সামরিক ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য স্যাটেলাইট—

    • ● কার্টোস্যাট (CARTOSAT) শত্রুপক্ষের বিমানঘাঁটি, রাস্তা ও সামরিক অবকাঠামোর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে।
    • ● রিস্যাট (RISAT) রেডার ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে মেঘ, বৃষ্টি কিংবা খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও স্পষ্ট ছবি তুলতে সক্ষম।
    • ● আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট (EOS) সিরিজের স্যাটেলাইট নিয়মিত সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চালায়।
    • ● এমিস্যাট (EMISAT) শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

    আগামী দিনে আরও উন্নত ইলেকট্রনিক ও সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স স্যাটেলাইট যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, বিমানে জ্বালানি ভরার প্রস্তুতি কিংবা সন্দেহজনক সামরিক কার্যকলাপও আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই তথ্য শুধু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সরাসরি ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা সংক্ষেপে আইএসিসিএস (IACCS)-এ পৌঁছবে, ফলে সীমান্তের পরিস্থিতির প্রায় রিয়েল-টাইম ছবি পাবে ভারতীয় সেনা।

    আকাশে ‘চোখ: এইডব্লিউ অ্যান্ড সি ও অ্যাওয়াক্স

    চিনের তিব্বতের উচ্চভূমিতে অবস্থিত বিমানঘাঁটিগুলি তাদের একটি কৌশলগত সুবিধা দেয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত আকাশে মোতায়েন করেছে এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C) বিমান।

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রয়েছে—

    • ● নেত্র মার্ক ১ এইডব্লিউ অ্যান্ড সি (Netra Mk1 AEW&C)
    • ● ফ্যালকন অ্যাওয়াক্স (Phalcon AWACS)

    নেত্র মার্ক ১ সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুন মাসে চূড়ান্ত অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স (FOC) অর্জন করেছে। অর্থাৎ, মোতােনের জন্য প্রস্তুত।এছাড়া, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকার নেত্র মার্ক ২ (Netra Mk2) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পরিবর্তিত এয়ারবাস এ৩২১ (Airbus A321) বিমানে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মে থাকবে ৩০০ ডিগ্রি কভারেজযুক্ত শক্তিশালী ডরসাল রেডার এবং বিশেষ নোজ অ্যান্টেনা।

    এর প্রধান কাজ হবে—

    • ● স্টেলথ বিমান শনাক্ত করা
    • ● পাহাড়ি উপত্যকার ভিতর নজরদারি চালানো
    • ● স্থলভিত্তিক রেডারের অদেখা এলাকা পর্যবেক্ষণ করা

    সীমান্তে শক্তিশালী রেডার চেইন

    স্থলভাগে ভারতের নজরদারির ভিত্তি তৈরি করছে মাউন্টেন রেডার নেটওয়ার্ক (Mountain Radar Network)। সম্প্রতি গুলমার্গ এবং নাগাল্যান্ডে বিশেষ মাউন্টেন রেডার স্থাপনের মাধ্যমে পশ্চিম ও পূর্ব—দুই দিকেই নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    • ● গুলমার্গ রেডার লাদাখ ও উত্তর কাশ্মীরের আকাশপথ পর্যবেক্ষণ করে।
    • ● নাগাল্যান্ডের রেডার অরুণাচলমুখী আকাশপথ নজরে রাখে।

    ভবিষ্যতে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশেও একই ধরনের রেডার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    আরূদ্রা ও অশ্বিনী: নজরদারির নতুন ভরসা

    Mountain Radar-এর পাশাপাশি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেডার ব্যবস্থা আরূদ্রা মিডিয়াম পাওয়ার রেডার (Arudhra Medium Power Radar)। আরূদ্রা বা আর্দ্রা হল হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নক্ষত্র এবং এটি ভগবান শিবের একটি অন্যতম পবিত্র নাম।

    এই রেডার—

    • ● একসঙ্গে একাধিক যুদ্ধবিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাক করতে পারে।
    • ● সরাসরি আইএসিসিএস-এর সঙ্গে যুক্ত।
    • ● সীমান্তে ওভারল্যাপিং নজরদারি নিশ্চিত করে।

    অন্যদিকে, অশ্বিনী এইএসএ রেডার (Ashwini AESA Radar) অত্যন্ত মোবাইল। সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হলে দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে মোতায়েন করা যায়।

    ড্রোন ও নিচু উচ্চতার হুমকির বিরুদ্ধে বিশেষ নজর

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

    এজন্য ভারত ব্যবহার করছে—

    • ● ভরনী রেডার (Bharani Radar)
    • ● লো-লেভেল লাইটওয়েট রেডার মার্ক-২ (Low-Level Lightweight Radar Mk-II)

    এগুলির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিও যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে পাহাড়ি গিরিপথ দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করা যে কোনও লক্ষ্যবস্তুকে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

    স্টেলথ যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে ‘নিঃশব্দ’ নজরদারি

    সক্রিয় রেডারের পাশাপাশি ভারত গড়ে তুলছে প্যাসিভ সার্ভেল্যান্স নেটওয়ার্ক (Passive Surveillance Network)। এই স্টেশনগুলি কোনও সিগন্যাল পাঠায় না। বরং শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেডার সিগন্যাল ও ইলেকট্রনিক কার্যকলাপ নীরবে পর্যবেক্ষণ করে।এই প্রযুক্তি চিনের জে-২০ (J-20), ভবিষ্যতের জে-৩৫ (J-35) স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং উন্নত ড্রোন শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এছাড়া ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি (VHF) ও মাল্টি-ব্যান্ড রেডারের সাহায্যে স্টেলথ বিমানের উপস্থিতির আভাস পেলেই আরও নির্ভুল সেন্সরকে সেই লক্ষ্যবস্তুর দিকে নির্দেশ করা সম্ভব হবে।

    আইএসিসিএস: পুরো ব্যবস্থার ‘মস্তিষ্ক

    এই বিশাল নজরদারি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হল ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (Integrated Air Command and Control System)। স্যাটেলাইট, রেডার, এইডব্লিউ অ্যান্ড সি বিমান এবং অন্যান্য সেন্সর থেকে আসা সমস্ত তথ্য একত্রিত করে আইএসিসিএস (IACCS) কমান্ডারদের সামনে সীমান্তের একটি একক, লাইভ এবং সমন্বিত ছবি তুলে ধরে।

    এর ফলে—

    • ● দ্রুত হুমকি বিশ্লেষণ সম্ভব হয়।
    • ● মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারসেপ্টর বিমান পাঠানো যায়।
    • ● বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়।

    ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)।

    এআই-ভিত্তিক সিস্টেম—

    • ● সন্দেহজনক উড়ানপথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে।
    • ● অস্বাভাবিক সেনা মোতায়েন চিহ্নিত করবে।
    • ● সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করবে।
    • ● দ্রুততম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেবে।

    ভারতের লক্ষ্য কী?

    চিন তিব্বতের হোতান, লাসা-গংগারসহ একাধিক বিমানঘাঁটিকে শক্তিশালী করে সেখানে স্টেলথ যুদ্ধবিমান, উন্নত ড্রোন এবং আধুনিক অস্ত্র মোতায়েন করছে। এর জবাবে ভারত বিচ্ছিন্ন রেডারের উপর নির্ভর না করে মহাকাশ, আকাশ, স্থল এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম—সব স্তরকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সীমান্ত নিরাপত্তায় এই ‘সেন্সর ওয়েব’ই ভারতের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • FIFA World Cup 2026: তোরেসের শটে দ্বিতীয়বার স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়, চোখের জলে-শূন্য হাতে বিদায় মেসির

    FIFA World Cup 2026: তোরেসের শটে দ্বিতীয়বার স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়, চোখের জলে-শূন্য হাতে বিদায় মেসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামায়ণ-মহাভারত থেকে ইলিয়াড-ওডিসি যে কোনও মহাকাব্যের শেষটা যেন ট্র্যাজেডি দিয়েই বোনা থাকে। চোখের জলেই নায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে ওঠেন ম্যাকবেথ বা জুলিয়াস সিজার। সেরকমই মেসি-মহাক্যাবের শেষটাও হল চোখের জলেই। হয়তো গত বারের সুখের স্মৃতি নিয়ে বিদায় নিতে পারতেন তিনি। কিন্তু নিজেকে আরও এক বার চ্যালেঞ্জ জানাবেন বলেই আমেরিকায় বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু পারলেন না। বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায় সুখের হল না মেসির জন্য। যুব বিশ্বকাপে ভারতে খেলে যাওয়া ফেরান তোরেসের গোলে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ৮৩ হাজার দর্শক। ৭০ শতাংশই আর্জেন্টিনার। তাদের সামনে স্পেন বার বার আক্রমণ করেও আর্জেন্টিনাকে গোল দিতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ছিল গোল শূন্য। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১৬ মিনিটের মাথায় নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে ফেরান তোরেসের শট। জয়সূচক গোল। ওই একটি গোলেই টানা দু’বার বিশ্বকাপ হাতে তোলা হল না লিয়োনেল মেসির। রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে গেল আর্জেন্টিনা।

    সবচেয়ে খারাপ ম্যাচ খেলল আর্জেন্টিনা!

    এ বারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে খারাপ ম্যাচ খেলল আর্জেন্টিনা। বস্তুত, তারা এতটাই খারাপ খেলেছে যে কী করে এই দল ফাইনালে উঠেছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। ১২০ মিনিটের ফুটবলে স্পেনের গোল লক্ষ্য করে একটিও শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। মেসিকে গোটা মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁকে বল পাস করতেই পারেননি সতীর্থেরা। শেষের দিকে তেড়েফুঁড়ে বেশ কয়েক বার আক্রমণ করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ১০ জনের দলের পক্ষে সম্ভব ছিল না ওই জায়গা থেকে ম্যাচে ফেরা। বরং একাধিক সুযোগ নষ্ট না করলে স্পেনের জয়ের ব্যবধান আরও বেশি হতে পারত। এদিন স্পেনের গতির কাছে বারবার পরাস্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা।

    যোগ্য দল হিসেবে জয়ী স্পেন

    বিশ্বকাপ তিনটি নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে এদিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা স্রেফ রক্ষণই করে গেল। স্পেনকে আরও বেশি খেলার সুযোগ করে দিল। আর্জেন্টিনা নিজেদের রক্ষণের ফাঁসে এতটাই ফেঁসে গেল যে স্পেনের কাজ আরও সহজ হয়ে গেল। ফাইনালের পরিসংখ্যান দেখলে আর্জেন্টিনার হতশ্রী দশা আরও স্পষ্ট হবে। স্পেনের ২০টি শটের বদলে আর্জেন্টিনা নিয়েছে মাত্র তিনটি শট। তিনটিই এসেছে শেষের তিন-চার মিনিটে। বল পজেশন স্পেনের ৬৮ শতাংশ, আর্জেন্টিনার ৩২ শতাংশয়। মোট পাস, নিখুঁত পাস, কর্নার— সব বিষয়েই আর্জেন্টিনার থেকে অনেক যোজন এগিয়ে ছিল স্পেন। তাই বিশ্বকাপ যে তারা যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকার কথাই নয়।

    পুরস্কার শূন্য মেসির ঝুলি

    ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারলেও সোনার বল জিতেছিলেন লিয়োনেল মেসি। প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলার হয়েছিলেন। কিন্তু এ বার আমেরিকা থেকে খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে। একটিও পুরস্কার পেলেন না মেসি।

    কিলিয়ান এমবাপে (সোনার বুট): চলতি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই সোনার বুট প্রায় পাকা করে নিয়েছিলেন এমবাপে। এ বার ১০টি গোল করেছেন তিনি। পাশাপাশি করেছেন চারটি অ্যাসিস্ট। তাঁর সবচেয়ে কাছে থাকা মেসি আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন।

    রদ্রি (সোনার বল): এ বার বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হয়েছেন রদ্রি। ফাইনালে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে সেই পুরস্কার নিয়েছেন স্পেনের অধিনায়ক। মিডফিল্ডারেরা সাধারণত এই পুরস্কার খুব বেশি পান না। কিন্তু এ বার রদ্রি গোটা প্রতিযোগিতায় স্পেনকে খেলিয়েছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সফল পাস দিয়েছেন। রদ্রি ছিলেন বলেই এক সুন্দর ফুটবল খেলেছে স্পেন। তাই রদ্রি যোগ্য হিসাবেই এই পুরস্কার জিতেছেন।

    উনাই সিমন (সোনার গ্লাভস): এই পুরস্কারও আগে থেকেই প্রায় পাকা ছিল। গোটা বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল খেয়েছেন স্পেনের গোলরক্ষক সিমন। তা ছাড়া তাঁকে এক বারও পরাস্ত করতে পারেননি কোনও ফুটবলার। গোটা প্রতিযোগিতায় একটি গোল খাওয়া গোলরক্ষকের হাতেই যে সোনার গ্লাভস উঠবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

    পাউ কুবারসি (সেরা উদীয়মান তারকা): মাত্র ১৯ বছরের এই ফুটবলার স্পেনের রক্ষণ সামলেছেন। তিনি ছিলেন বলে সিমনকেও কম কষ্ট করতে হয়েছে। পাশাপাশি আক্রমণেও বল বাড়িয়েছে কুবারসি। এত অল্প বয়সে যে পরিণত মানসিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তার জন্য বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান তারকা হয়েছেন তিনি।

    পা-এ বলই পেলেন না মেসি

    কেরিয়ারে বিশ্বকাপে প্রচুর ভাল ম্যাচ খেলেছেন মেসি। এ বারের বিশ্বকাপে তার কিছু দেখা গিয়েছে। কিন্তু রবিবারের পারফরম্যান্স তার লক্ষ লক্ষ মাইলের মধ্যেও আসবে না। এই ম্যাচে তিনি কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেননি। দলকে কোনও ভাবে সাহায্য করতে পারেননি। দলের বিপদের সময়ের একার হাতে উদ্ধার করতে পারেননি। বহু ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে উতরে দিয়েছেন। কিন্তু এই বয়সে তাঁকে অবিশ্বাস্য কিছু করতে হলে পায়ে বল তো পেতে হবে। সেটাই তো সতীর্থেরা দিতে পারলেন না। প্রথম ২০ মিনিটে মাত্র দু’বার বল পায়ে ঠেকিয়েছিলেন মেসি। গোটা প্রথমার্ধে তাঁর পায়ে বল এসেছে বার চারেক। ৩৯ বছর বয়সে স্বাভাবিক ভাবেই তিনি বেশি দৌড়তে পারবেন না। কিন্তু তাঁর পায়ে বল পৌঁছে দেওয়ার প্রাথমিক কাজটুকুও করতে পারেননি এনজো ফের্নান্দেজ, দি পলেরা।

    অস্তমিত নীল-সাদা

    আকাশের রং নীল-সাদা। লামিনে ইয়ামাল সেদিকেই চেয়ে। ১৮ বছরের তরুণকে ঘিরে কুকুরেয়া, পোরো, রড্রি, পেড্রি এবং বাকিরা। বিড়বিড় করছেন স্প্যানিশ ফুটবলের রাজপুত্ররা। হয়তো ফুটবল দেবতাকে লা রোহার কৃতজ্ঞতা। ততক্ষণে ভালোবাসার অত্যাচারে তিনি বন্দি। স্পেনের লাল-হলুদ পতাকা ঢেকে দিচ্ছে ইয়ামালকে। মহাজাগতিক ফ্রেমে লেপ্টে স্পর্ধা, আবেগ, আদর। পরাস্ত আর্জেন্টিনা। বিশ্বজয়ী স্পেন। ২০১০ সালে স্প্যানিশ ফুটবলের ধ্বজা উড়িয়েছিলেন জাভি, ইনিয়েস্তারা। ফের ২০২৬। স্প্যানিশ আর্মাডার বিশ্বজয়। লা রোহার দ্বিতীয়বার কাপ জয়ে নায়ক কে? ফুয়েন্তে ব্রিগেডে সবাই সেরা। তিকি-তাকার মায়াজালে অস্তমিত নীল-সাদা। কাঁদছেন আরেকজনও। লিও মেসি। বিদায়বেলায় চোখের কোন চিকচিকে। তাঁকে ঘিরেই ডে পল, মার্তিনেজ, রোমেরো, নিকো গঞ্জালেজরা।

    কাঁদল সারা বিশ্বের মেসি-প্রেমীরা

    চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জিতে কেঁদেছিলেন। স্বপ্ন পূরণের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। প্রথম বার বিশ্বজয়ের আনন্দে চোখের জল বেরিয়েছিল। কিন্তু এ বার অনেক পরিণত তিনি। ট্রফির স্বাদ পেয়ে গিয়েছেন। সেই জন্যই হয়তো শুরুতে নির্লিপ্ত দেখাচ্ছিল মেসিকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর কিছু ক্ষণ মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোমরে হাত দিয়ে চার দিকে তাকাচ্ছিলেন। তার পর হাত, পা ছড়িয়ে মাঠেই বসে পড়লেন লিয়ো। এগিয়ে এলেন লামিন ইয়ামাল। ফাইনালের আগে যে দু’জনের লড়াইয়ের কথা হচ্ছিল। এই ম্যাচে মেসিকে ছাপিয়ে গিয়েছেন ইয়ামাল। কিন্তু শেষ বেলায় মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেন তিনি। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে ঘুরলেন। সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন। তার পর পুরস্কার মঞ্চের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। মেসিকে দেখে মনে হচ্ছিল, যত তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফিরতে পারবেন তত ভাল। মাঠে থাকতেও আর ইচ্ছা করছিল না তাঁর। কিন্তু তখনই মেসির নামে জয়ধ্বনি উঠল মাঠে। সমর্থকেরা তাঁদের প্রিয় তারকাকে ধন্যবাদ জানালেন। সেই জয়ধ্বনি শুনে আর আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না মেসি। কেঁদে ফেললেন। কাঁদল সারা বিশ্বের মেসি-প্রেমীরা। চোখের জলেই নায়ক থেকে মহানায়ক হয়ে ওঠেন ম্যাকবেথ, জুলিয়াস সিজার। মেসি-তো মহানায়কই, তাই বিদায়টাও চোখের জলেই।

LinkedIn
Share