Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Assembly Election 2026: “৫ তারিখের পর বাংলায় আর অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে পারবে না”, নির্বাচনী সভা থেকে হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    Assembly Election 2026: “৫ তারিখের পর বাংলায় আর অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে পারবে না”, নির্বাচনী সভা থেকে হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটে (Assembly Election 2026) তৃণমূলের গুন্ডাদের সাহস হয়নি ভোটারদের আঙুল তুলে দেখায়। পুরশুড়ার সভা থেকে এমনই অভিমত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। বৃহস্পতিবার শাহের দু’টি জনসভা ছিল প্রথমটি হুগলির বলাগড়ে, দ্বিতীয়টি পুরশুড়ায়। সেখান থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দেন শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “৫ মে বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠন করার পর অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে তাড়ানো হবে। ৫ তারিখের পর বাংলায় আর অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে পারবে না।”

    দিদির যাওয়ার সময় হয়েছে

    রাজ্যে তৃণমূলের দাদাগিরি-কে ভয় না পাওয়ার কথা বলেন শাহ। তাঁর কথায়, “মহিলা মুখ্যমন্ত্রী এ রাজ্যে। কিন্তু এখানেই মহিলাদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের বোন-মেয়েদের উপর অত্যাচার করছে। বিজেপি প্রার্থীদের জন্য নয়, অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে ভোট দিন। প্রথম দফায় দিদির কোনও গুন্ডার হিম্মত হয়নি, ভোটদারদের আঙুল তুলে দেখায়। যে ভাবে ৮০ শতাংশ ভোট (Assembly Election 2026) হয়েছে, এটাই স্পষ্ট দিদির যাওয়ার সময় হয়েছে। ৫ তারিখের পর আপনার এবং ভাইপোর সময় শেষ হবে। এখানে বিজেপির সরকার তৈরি হবে। এসআইআর ছাড়ুন। এক এক করে অনুপ্রবেশকারীকে বাইরে পাঠাব।”

    অনুপ্রবেশকারী-মুক্ত করতে ভোট দিন

    শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্ত করার জন্য ভোট দিন। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকে নয়, অনুপ্রবেশকারীদের গোটা দেশ থেকে বেছে বেছে তাড়াবে বিজেপি। অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের পশ্চিমবঙ্গের তরুণদের চাকরি খাচ্ছে। গরিবদের রেশন খাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। দেশের সুরক্ষার উপরও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। ৫ তারিখ বিজেপির সরকার গড়ে দিন। ৬ তারিখ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের পালানো শুরু হয়ে যাবে।” মহিলাদের উদ্দেশে শাহের বার্তা, ‘‘৫ তারিখের পর, সন্ধ্যা ৭টা তো দূর, মাঝরাতেও যদি কোনও অল্পবয়সি মেয়ে বাড়ির বাইরে বার হয়, তা হলেও কোনও গুন্ডার হিম্মত হবে না তার দিকে চোখ তুলে তাকানোর।’’

    সিন্ডিকেটবাজদের হুঁশিয়ারি

    এদিন মধ্যমগ্রামে রোড শো করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর আগে শাহ (Amit Shah) বলেন, “দিদি আমার কথা শুনে নিন। ৫ তারিখের পর বিজেপির সরকার আসবে। আপনার গুন্ডাদের বলবেন, নিজেদের এক্তিয়ারে থাকতে। না হলে ৫ তারিখের পর আমরা ঠিকঠাক হিসেবনিকেশ করে নেব।” হুঁশিয়ারির সুরে শাহ বলেন, “মমতাকে টাটা-বাই বাই করো, সিন্ডিকেটবাজদের উল্টো করে সোজা করা হবে।”

  • Bengal Elections 2026: আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ‘হামলা’, লাভপুরে মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের

    Bengal Elections 2026: আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ‘হামলা’, লাভপুরে মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটগ্রহণে আক্রান্ত বিজেপি। দিকে দিকে বিজেপি প্রার্থী বা এজেন্টদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের দিকে।

    ভাঙল অগ্নিমিত্রার গাড়ির কাচ

    আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের উপর হামলার অভিযোগ। তাঁর গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল দক্ষিণের হীরাপুর থানা এলাকায়। অগ্নিমিত্রার গাড়ির পিছনের দিকের কাচ বেশির ভাগটাই ভেঙে গিয়েছে। হীরাপুর থানায় গিয়ে ইতিমধ্যে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। অগ্নিমিত্রা জানান, তিনি বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। রহমতনগর হাই স্কুলের বুথ পরিদর্শন করে বেরোন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, সেই সময়েই চলন্ত গাড়িতে পিছন থেকে পাথর ছোড়া হয়েছে।

    রক্তাক্ত বীরভূমের লাভপুর

    প্রথম দফার ভোটে রক্তাক্ত বীরভূমের লাভপুরও। মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার এজেন্টের। আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থীর এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল। জানা গিয়েছে, বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভ্রমরকল অঞ্চলে ৬৮ নম্বর বুথে সকাল থেকেই অশান্তির খবর আসছিল। সেই অশান্তির খবর পেয়েই বুথ পরিদর্শনে যান বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল। তাঁকে ঘিরে ফেলে কিছু লোকজন। অভিযোগ, মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আক্রান্ত বিজেপি নেতাকে। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আজকে আমি বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ফেরার সময়ে আমার উপরে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন হামলা চালায়। আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।’ বিশ্বজিৎ বর্তমানে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশ্বজিৎ ছাড়াও লাভপুরের প্রার্থীর দেবাশিস ওঝার ছেলে বিশ্বরূপ ওঝাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

    কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীকে ‘বেধড়ক মার’

    দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের স্বয়ং প্রার্থীকেই মারধরের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। পুলিশের সামনেই কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে কিল-চড়-ঘুষি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। যাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কিছু আগেই তাঁর এজেন্টকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ছাঞ্চল্য ছড়ায়! দুষ্কৃতীদের ধাওয়া করতে দেখা যায় স্বয়ং বিজেপি প্রার্থীকেই। তারা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী বলে অভিযোগ ওঠে। কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পাল্টা অভিযুক্তদের ধাওয়া করেন প্রার্থী শুভেন্দু সরকার।

    মালদার চাঁচলে আক্রান্ত বিজেপি

    মালদার চাঁচল বিধানসভার ২২১ নম্বর বুথের ধুম সাডাগী পানপাড়া এলাকায় বিজেপির এক নির্বাচনী এজেন্টের উপর হামলার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ওই এজেন্টের পরনের পাঞ্জাবিও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। কোচবিহারের মাথাভাঙায় বিজেপির বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলল তৃণমূল। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। শেষে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সিতাই-ঘাটালে আক্রান্ত বিজেপি

    বিজেপির পোলিং এজেন্টকে ছুরি মারার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সিতাই বিধানসভার ২৭০ নম্বর বুথের ঘটনা। বিজেপির পোলিং এজেন্ট বুথ থেকে বাড়িতে খেতে যান। তখনই তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করার অভিযোগ। আহত এজেন্টকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। ঘাটালের মারিচা গ্রামে ‘আক্রান্ত’ বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট। ঘাটালের ৫ নম্বর অঞ্চলের ১৭০ নম্বর বুথে উত্তেজনা। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে, অভিযোগ শীতল কপাটের। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা হামলাকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনে।

  • Assembly Election 2026: পুলিশের সামনেই বিজেপি প্রার্থীকে মারধর! কুমারগঞ্জের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের পথে কমিশন

    Assembly Election 2026: পুলিশের সামনেই বিজেপি প্রার্থীকে মারধর! কুমারগঞ্জের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের পথে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটগ্রহণের (Assembly Election 2026) দিনে জেলায় জেলায় অব্যাহত রাজনৈতিক হিংসা। পুলিশের সামনেই দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে কিল-চড়-ঘুষি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। পোলিং এজেন্টকে বাধা দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। ভাংচুর করা হয়েছে বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি। সকাল থেকে একটু-আধটু গণ্ডগোল ছাড়া, সে অর্থে হিংসার ঘটনা সামনে আসেনি। তবে বেলা বাড়তেই একের পর এক হিংসার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করেছে।

    পুলিশের সামনেই মারধর

    কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারের অভিযোগ, বুথে তাঁর পোলিং এজেন্টকে বসতে বাধা দিচ্ছিল শাসকদলের কর্মীরা। খবর পেয়ে তিনি সেখানে পৌঁছালে তৃণমূল আশ্রিত জেহাদি বাহিনী তাঁকে তাড়া করে। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে কিল, চড়, ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ঘটনার সূত্রপাত কুমারগঞ্জের ২৪ নম্বর বুথকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের একদল কর্মী বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দিচ্ছিল। খবর পেয়ে প্রার্থী শুভেন্দু সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে ধরে শারীরিক নিগ্রহ করে এবং তাঁকে মারধর করে।

    কড়া পদক্ষেপ কমিশনের

    এদিকে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারের ওপর হামলার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ওই এলাকায় হামলার সময়কার যে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে উপস্থিত দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিনে প্রার্থীর ওপর এহেন আক্রমণে জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকায় বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই হিংসার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

  • Bengal Elections 2026: ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে’’, মথুরাপুরের সভা থেকে বিজেপিকে জেতানোর ডাক মোদির

    Bengal Elections 2026: ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে’’, মথুরাপুরের সভা থেকে বিজেপিকে জেতানোর ডাক মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জোড়া জনসভা। প্রথম জনসভা হয় কৃষ্ণনগরে। সেই সভা সেরে তিনি পৌঁছে যান মথুরাপুরে। সেখানে তাঁর দ্বিতীয় জনসভা। বিজেপিকে জেতানোর ডাক দিয়ে মোদি বলেন, ‘‘সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ, বিকশিত পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভোট দিন। বিজেপি প্রার্থীদের জেতান।’’

    ‘‘বাংলায় পরিবর্তনের আঁধি চলছে’’

    এদিন বক্তব্যের শুরুতে মথুরাপুরের জনসভায় জমায়েত দেখে মোদি বলেন, ‘‘আপনারা এখানে এসেই তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত করে দিয়েছেন। সকাল ৯টা-১০টা থেকে মানুষ চলে এসেছেন। অনেকে রোদে দাঁড়িয়ে আছেন। এত উৎসাহ! চারদিক থেকে একটাই আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, গ্রাম থেকে, শহর থেকে, গলি থেকে— পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। বাংলায় পরিবর্তনের আঁধি চলছে।’’ মোদি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে। যাঁরা প্রথম ভোটার, তাঁদের বলব, ভরসার পক্ষে ভোট দিন। ভয় দূর করুন। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, যে হারে ভোট পড়ছে, তাতে ভয় হারছে, ভরসা জিতছে।’’

    ‘‘তৃণমূলের মহিলা-বিরোধী রূপ প্রকাশ্যে’’

    মোদি বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে লোকসভায় যা হয়েছে, তাতে তৃণমূল-সহ সমস্ত দলের মহিলাবিরোধী রূপ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মহিলারাই এর জবাব দেবেন। মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব সংসদে নিয়ে এসেছিল। তৃণমূল তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে ওরা। বাংলা তো মা দুর্গার পুজো করে। তৃণমূল এখানেই মহিলাদের সম্মানকে নষ্ট করেছে, আপনাদের একটি ভোটই তার হিসাব করতে পারে। অন্যায় সহ্য করবেন না। অনেক হয়েছে।’’ মোদি বলেন, ‘‘এখানে দুর্নীতি ছাড়া কোনও কাজ হয় না। সব কাজে টাকা দিতে হয়। চাকরি কে পাবে, সেটাও ঘুষ খেয়ে ওরা ঠিক করে। যদি কাউকে জমি কিনতে হয়, তাতে মস্তান দাদাকে টাকা দিতে হয়। এই সিন্ডিকেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে এসেছে। কাটমানির খেলা আর চলবে না। মাফিয়াদের মেলা চলবে না।’’

    বাম-তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ

    মোদি বলেন, ‘‘বাংলা ৩৪ বছর ধরে বামেদের কুশাসন সহ্য করেছে। তার পর তৃণমূলকে তিন-তিন বার, ১৫ বছর ধরে সুযোগ দিয়েছেন এখানকার মানুষ। কেন্দ্রে বিজেপির ১১ বছরের শাসন রয়েছে, বাংলায় তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসন। আমরা সর্বত্র বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি, পিএম আবাস দিয়েছে। ১২ কোটির বেশি শৌচালয় বানিয়ে দিয়েছি। ৫৫ কোটির বেশি মানুষের ব্যাঙ্কে জনধন অ্যাকাউন্ট খুলিয়েছি, তিন কোটি মহিলাকে লাখপতি দিদি বানিয়েছি। ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র থেকে বার করে এনেছি। তালিকা দিতে দিতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যাবে। কিন্তু তৃণমূল এত বছরে কী দিয়েছে এই রাজ্যকে? শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান হয়নি। প্রতি জেলায় মেগা ফুডপার্ক তৈরির ঘোষণা হয়েছিল। সেটাও এখনও হয়নি। সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী মথুরাপুরের লোকজন।’’

    গঙ্গাসাগর-মথুরাপুর মেলা প্রসঙ্গ…

    মোদি বলেন, ‘‘সারা দেশ থেকে গঙ্গাসাগরে মানুষ আসেন। কিন্তু এখানে এখনও একটা পাকা সেতু নেই। প্রতি বছর ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তার পর সব হাওয়া। ফেরির উপর মানুষকে নির্ভর করতে হয়। বান আসে, মানুষের ঘর ভেসে যায়। ফসল নষ্ট নয়। কিন্তু এই সরকারে তাতে কিছু যায় আসে না। নিজেরা কোনও কাজ করে না। কেন্দ্রকেও বাধা দেয়।’’
    মোদি বলেন, ‘‘মথুরাপুরের ভাঙা মেলা রাজ্য সরকারের সমর্থন পায়নি, যা পাওয়া উচিত ছিল। এটা রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় নিদর্শন। এই ভাঙা মেলাকে আমরা স্বচ্ছ ভারতের অংশ বানাব। মেলার প্রাঙ্গনে আমরা মার্কেট হাব তৈরি করব।’’

    অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি

    মোদী বলেন, ‘‘মৎস্যজীবীরাও এখানে সমস্যায়। চারদিকে লুট চলছে। তৃণমূল সরকার তাতে মদত দিচ্ছে। এখানকার শিশুদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিজেপি সরকারই কেন্দ্রে প্রথম মৎস্যপালনের আলাদা মন্ত্রক বানিয়েছে। সমুদ্রে যান যে মৎস্যজীবীরা, তাঁদের সুরক্ষার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে আমাদের সরকার। তাঁদের আয় বাড়বে। তৃণমূল এখানকার সমুদ্রকে অসুরক্ষিত করে রেখেছে।’’ মোদী বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছিল। কাদের মদতে তারা ঢুকছে? তৃণমূলের মদতে। ওরা চায়, অনুপ্রবেশ বন্ধ না-করতে। যখনই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলি, তখনই ওরা প্রতিবাদ করে। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করব এখানে ক্ষমতায় এলে।’’

     

  • Keralam Vishu Ad Row: আমিষ খাবারে কৃষ্ণের ছবি! বিষু পোস্ট ঘিরে উত্তেজনা কেরালায়, এনআইএ তদন্ত দাবি বিজেপির

    Keralam Vishu Ad Row: আমিষ খাবারে কৃষ্ণের ছবি! বিষু পোস্ট ঘিরে উত্তেজনা কেরালায়, এনআইএ তদন্ত দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলাপাতায় রাখা বিরিয়ানির সামনে বসে রয়েছেন বালগোপাল (Lord Krishna)। বিরিয়ানি (Biriyani) খাবার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তিনি। কেরালার (Kerala) রেস্তোরাঁ মেহের মান্ডি অ্যান্ড গ্রিলসের (Keralam Vishu Ad Row) এমন বিজ্ঞাপন ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। কেরালার চেরথালার এই ঘটনায় হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপি কেরালার একাধিক আরবি ও পশ্চিম এশীয় থিমের রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে গেরুয়া শিবির এনআইএ তদন্ত চায়। সমালোচকদের একাংশের মতে, বিষ্ণুর মতো একটা পবিত্র উৎসবের সময়ে এমন ছবি ব্যবহার আসলে ইচ্ছা করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের চেষ্টা।

    বিষু বিতর্ক ঘিরে তদন্তের দাবি

    নতুন দিল্লিতে এনআইএ-র ডিরেক্টরের কাছে জমা দেওয়া আবেদনে বিজেপির ত্রিশূর সিটি জেলার ইন্টেলেকচুয়াল সেলের আহ্বায়ক প্রসীদ দাস অভিযোগ করেছেন, ২০১৬ সালের নোটবন্দির পর থেকে কেরালায় (Kerala) আরবি ও পশ্চিম এশীয় থিমের রেস্তোরাঁর সংখ্যা “উল্লেখযোগ্যভাবে” বেড়েছে। তিনি এই রেস্তোরাঁগুলির অর্থের উৎস, বিদেশি লেনদেন এবং আর্থিক স্বচ্ছতা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, এই সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিদেশি অর্থ আগমন (inward remittances) এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA), আর্থিক দুর্নীতি (PMLA)-এর মতো আইনের যথাযথ পালন হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি বেনামি লেনদেন ও অঘোষিত অর্থের প্রবাহের বিষয়েও তদন্ত চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও, আবেদনপত্রে নিষিদ্ধ সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার (PFI) সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

    বিশু বিজ্ঞাপন নিয়ে ক্ষোভ

    এই তদন্ত দাবির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক বিষু উৎসবকে (Keralam Vishu Ad Row) ঘিরে বিতর্ক। অভিযোগ, কিছু রেস্তোরাঁর প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ছবির সঙ্গে আমিষ খাবার দেখানো হয়েছে, যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। কেরালার মালাপ্পুরম জেলায় একটি ঘটনায় পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। কোট্টাক্কালের একটি রেস্তোরাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কৃষ্ণের সামনে চিকেন ফ্রাই দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। একই জেলায় পেরিন্থালমান্নার কাছে আরও একটি ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, বিষু উপলক্ষে তৈরি একটি ছবিতে শিশু কৃষ্ণের সামনে মাংসের পদ দেখানো হয়েছিল। আলাপ্পুঝা জেলাতেও একই ধরনের ঘটনায় একটি রেস্তোরাঁর সহ-মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোঝিকোড ও কন্নুরেও এমন পোস্ট সামনে আসে, যা পরে সরিয়ে ফেলা হয়। এই সমস্ত পৃথক ঘটনার তদন্ত চললেও, এনআইএ-র কাছে দায়ের করা আবেদন গোটা বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এখন শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়, বরং আতিথেয়তা শিল্পে অর্থের উৎস, লেনদেন এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর নেটওয়ার্কের দিকেও নজর দেওয়ার দাবি উঠেছে।

     

  • Bengal Elections 2026: ‘‘ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল তৃণমূলের লেগেছে’’, কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ মোদির

    Bengal Elections 2026: ‘‘ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল তৃণমূলের লেগেছে’’, কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটের দিন রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ তাঁর দু’টি জনসভা রয়েছে। প্রথম সভা বেলা সাড়ে ১২টায় কৃষ্ণনগরে। মোদির দ্বিতীয় জনসভা মথুরাপুর। তার পরে বিকেলে হাওড়ায় রোড শো রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

    কমিশনের প্রশংসা…

    কৃষ্ণনগরের সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘‘আজ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট চলছে। আমি সকলকে ভোটারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সকলে গণতন্ত্রের উৎসব পালন করতে হবে।’’ তার পরেই মোদি বলেন, ‘‘আমি যত দিন রাজনীতিতে এসেছি, বলতে পারি গত ৫০ বছরে প্রথম এমন নির্বাচন হচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে কম হিংসার ঘটনা ঘটছে। আগে তো লোককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বলত আত্মহত্যা করেছে। আমি নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাই।’’

    ‘‘ভয় থেকে মুক্তি পেতে ভোট’’

    মোদি বলেন, ‘‘আমি দেখতে পাচ্ছি ভয় দূর হচ্ছে। ভয় থেকে মুক্তি পেতে ভোট দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। আমি সব জায়গা দেখতে পাচ্ছি, সকলেই বলছেন পাল্টানো দরকার।’’ কৃষ্ণনগরের সভা থেকে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের অভিনন্দন জানালেন মোদি। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁদের সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভোটদানের হার সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে।’’

    ‘‘…ঝাল তৃণমূলের লেগেছে’’

    কৃষ্ণনগরের সভা থেকে আবার ঝালমুড়ির প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘৪ মে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়োৎসব হবে। মিষ্টি দেওয়া হবে, দেওয়া হবে ঝালমুড়িও। তবে আমি শুনেছি, ঝালমুড়ি কিছু লোককে জোর ধাক্কা দিয়েছে। ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল তৃণমূলের লেগেছে।’’ মোদি বলেন, ‘‘আমি এ বার বাংলায় অনেক জায়গায় ঘুরেছি। দেখেছি মানুষ তৃণমূলের নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রীদের কাজে অতিষ্ঠ। সেই কারণে অনেক জেলার অনেক জায়গায় খাতাই খুলতে পারবে না তৃণমূল।’’

    জনতা শঙ্খে ফুঁ দিচ্ছে…

    মোদি বলেন, ‘‘১৫ বছর আগে বামেদের বিরুদ্ধে জনতা কেবল ফুঁ দিয়েছিল। কিন্তু এ বার তৃণমূলের জঙ্গলরাজের বিরুদ্ধে জনতা শঙ্খে ফুঁ দিচ্ছে। আমরা ভোটে লড়ছি না। এ বারের ভোট জনতা লড়ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সরকারি কর্মচারীরা ভয় থেকে বেরিয়ে এসে ভোট দিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা ভাল ব্যবস্থার জন্য ভোট দিচ্ছেন। আইনজীবীরা ভোট দিচ্ছেন ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। শিক্ষক ভয়মুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ভোট দিচ্ছেন। জনতার সেবা করার জন্য ভোট দিচ্ছে পুলিশ।’’

    অনুপ্রবেশ নিয়ে নিশানা তৃণমূলকে

    কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তৃণমূলকে নিশানা করেন মোদি। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করতে ব্যর্থ। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলের লোক কেবল লুট করতে ব্যস্ত।’’ মোদি বলেন, ‘‘অত্যাচারী, দুর্নীতিবাজদের কোনও জায়গা হবে না পশ্চিমবঙ্গে। কেউ ছাড় পাবে না। বিচার করবে আইন। লুটের টাকা সকলে ফেরত পাবেন।’’ মোদি বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশ বড় সমস্যা।’’ অনুপ্রবেশের জন্য আবার একবার তৃণমূল সরকারকে দুষলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ-ও বলেন, ‘‘সীমান্তের সুরক্ষা তখনই সম্ভব যখন পুলিশ, সেনা, বিএসএফ এবং নাগরিকেরা একসঙ্গে কাজ করবে। ৪ মে-র পর সুরক্ষার নতুন গ্যারান্টি শুরু হবে।’’

    মতুয়াদের অভয় দিলেন মোদি…

    মোদি বলেন, ‘‘মতুয়াদের তৃণমূলকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনাদের কেউ হাত লাগাতে পারবে না।’’ তিনি আরও বলেন, শরণার্থীদের ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাঁরা ধর্মীয় বিভাজনের কারণে ভারতে এসেছেন তাঁদের সঙ্গে মোদী রয়েছে। মোদীর প্রতিশ্রুতি, ‘‘৪ মে-তে বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার পর পরই সিএএ দিয়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজের গতি আরও বাড়বে।’’

    মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে সরব…

    আবার মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে সরব হলেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল চায় না সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বাড়ুক। কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে সংসদে ওই বিল আটকে দিয়েছে তৃণমূল।’’ মোদি বলেন, ‘‘প্রতি ব্লকে মহিলা থানা হবে। রাস্তায় সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হবে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহিলাদের উপস্থিতি বাড়ানোর পদক্ষেপ করা হবে। মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডের মাধ্যমে বছরের ৩৬ হাজার টাকা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।উচ্চশিক্ষার জন্য মেয়েদের সাহায্য করা হবে। শিশুদের লালনপালনের জন্য অতিরিক্ত ৩৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে।’’

  • Bangladesh Hindu Attack: ফের হিন্দুহত্যা! ৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, বাংলাদেশে মন্দির কর্মীর রহস্যমৃত্যু

    Bangladesh Hindu Attack: ফের হিন্দুহত্যা! ৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, বাংলাদেশে মন্দির কর্মীর রহস্যমৃত্যু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের বাংলাদেশে এক হিন্দুর রহস্যমৃত্যু (Bangladesh Hindu Attack)। কক্সবাজার সদর উপজেলার একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে তিন দিন ধরে নিখোঁজ এক মন্দির পরিচর্যাকারীর দেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার বিকেলে স্থানীয়দের নজরে আসে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তির দেহ। মৃত ব্যক্তির নাম নয়ন দাস (৩৫)। তিনি সাতকানিয়ার বাসিন্দা এবং খুরুশখুল ইউনিয়নের পুলিশশোরা ঘোনা নাগ পঞ্চমী মন্দিরে পরিচর্যাকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নয়নকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ।

    গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল দেহ

    পুলিশ সূত্রে খবর, পরিবারের পক্ষ থেকে বহু খোঁজাখুঁজির পর সোমবার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নয়ন দাস নিখোঁজ বলে একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দা ও মন্দিরের সহকর্মীরা আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালান। অবশেষে বুধবার প্রায় ৩০-৩৫ জনের একটি দল মন্দিরের পূর্বদিকে একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নয়নের দেহ দেখতে পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। দেহের গলায় একটি কাপড় পেঁচানো ছিল বলে জানা গিয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামিউদ্দিন জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না এটি হত্যা না আত্মহত্যা। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।”

    পরিবারের দাবি খুন

    মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, নয়নকে হত্যা করে পরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তাঁর কথায়, দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল। কক্সবাজার পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জনি ধর জানান, পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ১৯ এপ্রিল রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি নয়ন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, আত্মহত্যা নয়, নয়নকে খুনকরা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের শনাক্ত করতে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এর আগে হাসিনা পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু নিধন যজ্ঞ চলেছে।

  • Assembly Election 2026: ‘গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হোন, বিপুল সংখ্যায় ভোট দিন’, বাংলার মহিলা ও যুবসমাজকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    Assembly Election 2026: ‘গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হোন, বিপুল সংখ্যায় ভোট দিন’, বাংলার মহিলা ও যুবসমাজকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রথম দফার ভোটের (Assembly Election 2026) দিন বাংলার মহিলা ভোটারদের বিপুল সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেটাও আবার বাংলা ভাষায়। একই সঙ্গে ভোট দিতে এগিয়ে আসতে অনুরোধ জানালেন যুবসমাজকেও। আজ, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৬ জেলার ১৫২ আসনে নির্বাচন। মোদি লিখলেন,‘সমস্ত নাগরিককে পূর্ণ উদ্যমে গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানাই। বিশেষ ভাবে তরুণ বন্ধুদের এবং পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের বিপুল সংখ্যায় ভোট দেওয়ার অনুরোধ করছি।’

    ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন

    আজ প্রথম দফার ভোটের (Assembly Election 2026) দিনই রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রচারে কৃষ্ণনগর এবং মথুরাপুরে দু’টি জনসভা করার কথা নরেন্দ্র মোদির। তার পরে হাওড়ায় একটি রোড শো-ও করার কথাও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তার আগে ভোর হতেই বাংলার মানুষকে গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হতে আহ্বান জানিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সকলকে উৎসাহিত করেছেন। এ দিন প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৭টায়। অতিরিক্ত গরমে বেলা বাড়ার আগেই ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন মানুষ। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৪৪ হাজার ৩৭৬টি বুথ খোলা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ১৬৭ জন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আয়তনের নিরিখে সবচেয়ে ছোট বিধানসভা কেন্দ্র হলো শিলিগুড়ি (৪১.৯ বর্গ কিলোমিটার)। সবচেয়ে বড় কালিম্পং। ভোটার সংখ্যার নিরিখে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ (১ লক্ষ ৬১ হাজার ভোটার) এবং সবচেয়ে বড় পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর (২ লক্ষ ৯৬ হাজারের বেশি ভোটার)। আজ পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিধানসভা ভোট রয়েছে তামিলনাড়ুতেও। দক্ষিণের এই রাজ্যটিতে এক দফাতেই ভোট হচ্ছে। সে রাজ্যের ২৩৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪,০২৩ জন প্রার্থী।

    সুরক্ষিত বাংলা গড়তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

    পশ্চিমবঙ্গে ভোট (Assembly Election 2026) শুরু হতেই এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন অমিত শাহও (Amit Shah)। আজ বাংলায় প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। এবারের নির্বাচন রাজ্যের বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শক্তিশালী নেতৃত্বের সরকারই বাংলার ডেমোগ্রাফি পরিবর্তনকারী অনুপ্রবেশকারী, সিন্ডিকেট ও কাটমানি রাজ থেকে রাজ্যকে মুক্তি দিতে পারে। বাংলার মা ও বোনেদের জন্য একটি সুরক্ষিত বাংলা গড়তে উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিতে আহ্বান অমিত শাহের। সকল ভোটার, বিশেষ করে যুবসমাজ, একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলা গড়ার লক্ষ্যে ভোট দিয়ে, জলপান করতে অনুরোধ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জনসভা থেকে ঘোষণা করেছিলেন আগেই। সত্যি সত্যিই ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গেই থাকছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রথম দফার ভোটে দলের ওয়ার রুমে থাকবেন তিনি। সল্টলেকে বিজেপির দফতরে বসেই নজর রাখবেন ভোটে।

  • West Bengal Elections 2026: ৩.৬ কোটি ভোটারের রায় আজ! শুরু প্রথম দফার ভোটগ্রহণ, ১৫২ আসনে ভাগ্য পরীক্ষা ১,৪৭৮ প্রার্থীর

    West Bengal Elections 2026: ৩.৬ কোটি ভোটারের রায় আজ! শুরু প্রথম দফার ভোটগ্রহণ, ১৫২ আসনে ভাগ্য পরীক্ষা ১,৪৭৮ প্রার্থীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন বুথে ভোট নেওয়া হচ্ছে, যা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এই দফায় ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুর—এই জেলাগুলির ভোটাররা আজ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন।

    ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩১০ ভোটার…

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শেষে এই দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৮৪ লক্ষের বেশি, মহিলা ভোটার প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ, এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪৬৫ জন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ট্রাইবুনালে অনুমোদিত আরও ১৩৯ জন ভোটার যুক্ত হওয়ায় মোট ভোটারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩১০।

    ১,৪৭৮ প্রার্থীর ভাগ্যপরীক্ষা…

    এই দফায় ৫৫টি রাজনৈতিক দলের মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ১,৩১১ জন পুরুষ এবং ১৬৭ জন মহিলা। কোচবিহার দক্ষিণ, ইটাহার ও করণদিঘি কেন্দ্রে সর্বাধিক ১৫ জন করে প্রার্থী লড়ছেন, অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা কেন্দ্রে প্রার্থী সংখ্যা সবচেয়ে কম—মাত্র ৫ জন। সংরক্ষণের দিক থেকে ৩৪টি আসন তফসিলি জাতি এবং ১৫টি আসন তফসিলি উপজাতির জন্য নির্দিষ্ট। আয়তনে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র শিলিগুড়ি এবং সবচেয়ে বড় কালিম্পং। ভোটারের সংখ্যার বিচারে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে প্রায় ২.৯৬ লক্ষ ভোটার থাকায় এটি সবচেয়ে বড়, আর মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে প্রায় ১.৬১ লক্ষ ভোটার থাকায় সেটি সবচেয়ে ছোট।

    ৪৪,৩৭৬টি বুথ, ৫ লক্ষাধিক ভোটকর্মী…

    ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য প্রায় ৫ লক্ষ কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। মোট ৪৪,৩৭৬টি বুথে ভোট হচ্ছে, যার মধ্যে ৪১,৪১৮টি মূল বুথ এবং ২,৯৫৮টি সহায়ক বুথ। মহিলা পরিচালিত বুথের সংখ্যা ৫,৬৪৪টি, পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের দ্বারা পরিচালিত ২টি বুথও রয়েছে। ২০৭টি মডেল পোলিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রায় ৬৪ হাজার ভিভিপ্যাট ও ৬০ হাজার ব্যালট ও কন্ট্রোল ইউনিট ব্যবহার করা হচ্ছে। গড়ে প্রতিটি বুথে প্রায় ৮১৩ জন ভোটার রয়েছে। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে মক পোল শুরু হয়ে সকাল ৭টা থেকে মূল ভোটগ্রহণ চলছে।

    ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

    নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাহিনী রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ কর্মী দায়িত্বে রয়েছেন। প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করতেই এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৫২টি আসনের মধ্যে ৯২টি জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস এবং ৫৯টি বিজেপি। ফলে এবারের প্রথম দফার ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • Pahalgam Terror Attack: ‘সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না ভারত’, পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিতে কড়া বার্তা মোদির

    Pahalgam Terror Attack: ‘সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না ভারত’, পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিতে কড়া বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত কখনওই কোনও ধরনের সন্ত্রাসের সামনে মাথা নত করবে না। সন্ত্রাসবাদীদের জঘন্য পরিকল্পনা কখনওই সফল হবে না। পহেলগাঁও সন্ত্রাসের বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের হামলার নিহত পর্যটকদের স্মরণ করে বুধবার সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘গত বছর এই দিনে পহেলাগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় হারিয়ে যাওয়া নিরীহ প্রাণগুলিকে স্মরণ করছি। তাঁদের কখনওই ভোলা যাবে না। এই যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির কথা ভাবছি, কী ভীষণ ক্ষতির সঙ্গে যুঝছেন তাঁরা।’’ বুধবার বৈসরণ উপত্যকার একাংশ-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র খুলে দেওয়া হয়েছে। পহেলগাঁও সন্ত্রাসের পর থেকে সেগুলি বন্ধ ছিল।

    শোক ও দৃঢ় সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ

    নয় নয় করে এক বছর পার পহেলগাঁও হামলার। ২০২৫ সালে ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় পাক সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল। পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধেছিল, আড়াআড়ি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলও। এতদিন পরও সেই দিনটি স্মরণ করে শিউড়ে ওঠেন সকলে। সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে মোদি লিখেছেন, ‘‘একটি জাতি হিসেবে, আমরা শোক ও দৃঢ় সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ। ভারত কোনও রকমের সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না। জঙ্গিদের চক্রান্ত সফল হবে না কখনও।’’ একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনরায় স্পষ্ট করেন।

    ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র খুলে দেওয়া হল

    অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁও শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সবুজ বিস্তীর্ণ তৃণভূমি বৈসরনে শুধু পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে পৌঁছোনো যায়। যাকে ভালবেসে ভ্রমণপিপাসুরা ‘মিনি সুই‌ৎজারল্যান্ড’ বলে থাকেন। গত বছর ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে উপত্যকার প্রায় ৫০টির বেশি পর্যটনস্থল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের মার্চে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে টিউলিপ বাগান-সহ ১২টি পর্যটনস্থল খুলে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার আরও ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র উন্মুক্ত করা হল ভ্রমণার্থীদের জন্য। পহেলগাঁও থেকে বৈসরণ উপত্যকাগামী হাঁটাপথে বুধবার কিছু পর্যটক গিয়েছিলেন। তাঁদের সুরক্ষার জন্য গোটা এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছিল কেন্দ্রীয় আধাসেনা। চিহ্নিত এলাকার বাইরে পর্যটকদের যাওয়ার উপর ছিল কড়া বিধিনিষেধ।

    পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি ভারতীয় সেনার

    পহেলগাঁও হামলা এবং পরবর্তী সিঁদুর অভিযানকে স্মরণ করে মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিল ভারতীয় সেনা। সেনার পোস্টে প্রতিবেশী দেশকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়— কিছু সীমা কখনওই লঙ্ঘন করা উচিত নয়। তার পরিণতি হয় ভয়ানক। পহেলগাঁওয়ের বর্ষপূর্তিতে পাকিস্তানের নাম না করেই সেনার তরফে দেওয়া হয় কঠোর বার্তা। এদিন এক্স হ্যান্ডেলে একটি কার্ড পোস্ট করেছে ভারতীয় সেনা। সেখানে লেখা হয়েছে— “কিছু সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়।” তার ঠিক নিচেই লেখা, “ভারত কখনও ভুলবে না।” এইসঙ্গে পোস্টের ক্য়াপশানে লেখা হয়েছে— “যখন মানবতার সীমা লঙ্ঘন করা হয়, তার পরিণতি হয় ভয়ানক। তাই কিছু সীমা কখনওই লঙ্ঘন করা উচিত নয়। বিচার অবশ্যই পাওয়া যায়। ভারত ঐক্যবদ্ধ।”

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক

    পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের স্মরণে লিডার নদীর তীরে কালো মার্বেল দিয়ে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে। সেই স্মৃতিসৌধে হামলায় নিহতদের নাম খোদাই করা রয়েছে। বুধবার স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য সভার আয়োজন করা হয়। পর্যটকরাও নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সেখানে। হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে সর্বত্র। লিডার নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্মৃতিস্তম্ভ আজ দেশের কাছে এক বেদনাদায়ক স্মৃতি এবং একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক।

    ভারতীয় সেনার হামলায় বিপর্যস্ত জঙ্গিরা

    ২০২৫ সালে ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা হামলা চালায়। ধর্ম জিজ্ঞেস করে করে পর্যটকদের খুন করা হয়েছিল পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে। এই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে ২৫ জন পর্যটক। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী টাট্টুঘোড়াওলা। এই হামলার জবাবে সিঁদুর অভিযানে চালায় ভারতীয় সেনা। পাক ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পরেই ভারত-পাক যুদ্ধ শুরু হয়। এই জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত ৬ মে গভীর রাতে বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে সহ পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। সেই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গিকে খতম করে ভারত। আর এরপর থেকেই পাকিস্তানের তরফ থেকে শেলিং শুরু হয় ভারতের ওপর। অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের শেলিংয়ে ভারতের অন্তত ১৬ জন নাগরিকের মৃত্যু ঘটে। এরপর সংঘাত বাড়তে থাকে দুই দেশের। ১০ মে-র ভোররাতে এরপর ভারতীয় বায়ুসেনা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দেয়।

    অপারেশন মহাদেব

    হামলার পর ভারতীয় সেনা শুরু করে ‘অপারেশন মহাদেব’। দাচিগাম ও মহাদেব রিজ সংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য এলাকায় টানা ৯৩ দিন ধরে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা খতিয়ে দেখা হয়। শেষ পর্যন্ত হামলার মূল তিন জঙ্গিকে খতম করতে সক্ষম হয় সেনা। ভারতীয় সেনা জানায়, “ভারতের বিরুদ্ধে যে কোনও হামলার জবাব নিশ্চিত। ন্যায়বিচার হবেই।” পহেলগাঁও হামলার পর ‘অপারেশন মহাদেব’ ও ‘অপারেশন সিঁদুর’—দুটি পদক্ষেপই দেখিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের কৌশল স্পষ্ট, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নিখুঁত আঘাত এবং কোনওরকম আপস নয়। ভারত সরকার ও সেনার বার্তা স্পষ্ট,“ভারত ঐক্যবদ্ধ, মানবতার সীমা লঙ্ঘিত হলে জবাব হবে নির্ণায়ক।”

LinkedIn
Share