Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Dharmendra Pradhan Resignation: নিট-ইউজি বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত! কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Dharmendra Pradhan Resignation: নিট-ইউজি বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত! কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যু এবং তা ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে লেখা দুই পাতার একটি খোলা চিঠিতে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং বিষয়টি যাতে আরও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না হয়, সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, ছাত্রজীবন, শিক্ষকতা এবং শিক্ষা সংস্কারের সঙ্গে তাঁর চার দশকের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, দেশের যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণে কাজ করাই তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল।

    ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করে। তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়, পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং পুনরায় পরীক্ষার ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, আগামী বছর থেকে নিট-ইউজি সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) পদ্ধতিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি, যাতে স্বচ্ছতা আরও বাড়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর জন্য পুনঃপরীক্ষা নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তাঁর দাবি, কেন্দ্র, রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২১ জুন সফলভাবে পুনঃপরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

    নিজের দায়িত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই তিনি নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন এবং কখনও দায় এড়ানোর চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে যাতে কোনও মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট না হয় এবং কোনও যোগ্য পরীক্ষার্থী বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করেছে। ১৬ জুলাই প্রকাশিত নিট-ইউজি ফলাফলে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রীর সাফল্যে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    তবে একই সঙ্গে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারের একাধিক পদক্ষেপের পরও কিছু ‘দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি’ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং নানা বাধা তৈরি করেছেন। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর ইঙ্গিত, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত স্বার্থ থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সরে গিয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনার দায় নির্ধারণের দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রসঙ্গও চিঠিতে উল্লেখ করেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আবেদন জানান, দেশের যুবসমাজ যেন বিভ্রান্তি, দীর্ঘ আইনি লড়াই বা রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, দেশের বিরোধী শক্তিগুলিকে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেওয়া উচিত নয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের দিকেই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

    পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য নয়, বরং দেশের যুবসমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। তিনি গণতন্ত্রের প্রতি নিজের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, উন্নত ভারতের প্রকৃত নির্মাতা দেশের তরুণ প্রজন্মই।চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিক এবং সকল সহকর্মীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওডিশার মানুষ এবং দেশের যুবসমাজের সেবায় যে কোনও ভূমিকায় কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

  • NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ধর্মতলার মিছিল থেকে পুলিশের উপর আক্রমণের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। ওই মিছিল থেকে আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকেরাও। শনিবার বিধানসভায় এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশকে বার বার প্ররোচিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও ফাঁদে পা দেয়নি। শুভেন্দু জানিয়েছেন, শুক্রবারের ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি এবং এন্টালিতে একটি— মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাতে গুন্ডাদমন আইন যোগ করা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর ফলে রাজ্য আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া আইনটি এই প্রথম প্রয়োগ করল সরকার। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে, তাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।

    কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রীর

    শিক্ষায় দুর্নীতি, নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের আঁচ লেগেছে কলকাতাতেও। শুক্রবার ধর্মতলায় একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বাম ছাত্রসংগঠনগুলির সঙ্গে সিজেপি-র ডাকে বহু মানুষ জমায়েত করেছিলেন। মিছিলের ব্যাখা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। পুলিশের হিসেবে ভিড় ছিল ৯ হাজার। তার মধ্যে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ভোটে পরাজিতরা খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, রাজারহাট নিউটাউন, বেলগাছিয়া, বাগুইআটি থেকে লোক সাপ্লাই করেছে। পরবর্তীকালে যখন ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসে, প্রথমে জুতো, বোতল ছোড়া হয়। টার্গেট করে সাংবাদিকদের। ওরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠি মারুক সেল ফাটাক যাতে নাটক জমে। কিন্তু পুলিশ সেই ফাঁদে পা দেননি। কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।”

    কোনওরকম বলপ্রয়োগ নয়

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শনিবার শুভেন্দু বলেন, “আমি আক্রান্ত ও আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছি। …আমাদের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া ছিল যে এটা গণতান্ত্রিক দেশ। যে কেউ গণতান্ত্রিক মত প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। কোনওরকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয়। সরকারের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কোনওরকম বলপ্রয়োগ করা যাবে না বা পুলিশের দিক থেকে কিছু করা যাবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘পুলিশ যে সংযত ছিল, সেটা সবাই দেখেছে। মিছিল থেকে সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। ছ’জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যেই সাংবাদিকদের তরফে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মোট ৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা একজনও ছাত্র নয়। ককরোচ পার্টির সদস্য নয়। যারা একজনও নিট সংক্রান্ত আন্দোলনকারীদের অংশ নয়।”

    রণক্ষেত্র ধর্মতলা চত্বর

    প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল ধর্মতলা চত্বর। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোড়ে বলে অভিযোগ। আক্রান্ত হন কয়েক জন সাংবাদিকও। সেই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। একটি মামলা হয়েছে এন্টালি থানাতেও। পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাঁচ সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতেও পাঁচটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। এক ছাত্রনেতা বলেন, ‘‘এই নেগেটিভ পিআর এর আগেও ছড়ানো হয়েছে। যে পুলিশের তরফ থেকে হামলা শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে আমরা স্বচক্ষে দেখেছি যে পুলিশের তরফে কোনও হামলা শুরু হয়নি। পুলিশ আটকাতে আসছিল। আর আমাদের এই ছাত্রসমাজের মাঝখান থেকে এক দু’জন উঠে কিছুটা তেড়ে যায় পুলিশের দিকে। তবে, তারা ছাত্রছাত্রী ছিল না অবশ্যই। তারা আমাদের ডাকে অবশ্যই আসেনি।’’

    পাঁচ জন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ জড়িত

    এদিন বিধানসভায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের নামও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “চারজন কুখ্যাত লোকের নাম বলছি আমি। যাদের আমরা ছাড়ব না। আরও বাকি নাম বলে এখানে সময় নষ্ট করব না। রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানভীর, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এই পাঁচটা গুণ্ডার নাম এখানে ঘোষণা করলাম। গুণ্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব যাতে তিন পুরুষ মনে রাখে। এই জন্যই গুণ্ডাদমন আইন আনা হয়েছে। এর কতটা প্রয়োজনীয়তা ছিল, মানুষ এখন বুঝতে পারবে। সমগ্র বিধানসভার তরফে সাংবাদিকদের উপরে শারীরিক নিগ্রহের নিন্দা করছি। বিজেপির বিধায়করা বিআর আদেম্বকর মূর্তির নিচে কর্মসূচি নিয়েছেন। সেখানেই কালো ব্যাজ পরে তাঁরা সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।”

    কেন আক্রান্ত সাংবাদিকরা?

    সিজেপি-র কর্মসূচিতে এসএফআই-সহ বামেদের কিছু ছাত্র সংগঠন ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁরা আদৌ ছাত্র কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের অধিকাংশেরই কোনও অস্তিত্ব নেই। সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবাংলার সংস্কৃতি না হয়ে থাকে, তবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোড়াও এ রাজ্যের সংস্কৃতি নয়।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবারের ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগই ছিল সংবাদমাধ্যমের তরফে। তার ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া, একটি মামলা রুজু করা হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। মূলত বেআইনি জমায়েত, হিংসা, জমায়েত থেকে অপরাধমূলক কাজ, সরকারি আধিকারিকের কাজে বাধা দেওয়া, অশান্তিতে উস্কানির ধারায় মামলা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Pakistan: পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় হত ১৫ নিরাপত্তাকর্মী, পাল্টা অভিযানে খতম ১৫ জঙ্গি

    Pakistan: পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় হত ১৫ নিরাপত্তাকর্মী, পাল্টা অভিযানে খতম ১৫ জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ট্যাঙ্ক জেলায় যৌথ নিরাপত্তা চেকপোস্টে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় (TTP Attack) অন্তত ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জন সেনাকর্মী, দু’জন পুলিশ সদস্য এবং বন দফতরের এক সরকারি আধিকারিক। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এই হামলা চালিয়েছে। হামলার এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার ভোরে।

    “ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ” (Pakistan)

    সেনাবাহিনীর তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাটি চালিয়েছে “ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ” নামে চিহ্নিত জঙ্গিরা। পাকিস্তান সরকার বর্তমানে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সদস্যদের বোঝাতে এই পরিভাষা ব্যবহার করে। এক সময় এই সংগঠনের প্রতি পাকিস্তান সরকারের নরম মনোভাব ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছে। কারণ, সংগঠনটির বহু সদস্য আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমী দেশগুলির সেনাদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত ছিল। সেই সময় পাক প্রশাসন তাদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখিয়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও হয়েছিল। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, জঙ্গিরা প্রথমে যৌথ চেকপোস্টের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে মোতায়েন নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত এবং দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের সতর্কতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের কারণে জঙ্গিদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর পাল্টা অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনী ১৫ জন জঙ্গিকে হত্যা করে।

    ভয়াবহ বিস্ফোরণ

    তবে প্রথম আক্রমণে ব্যর্থ হওয়ার পর জঙ্গিরা কৌশল পাল্টায়। বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে তারা চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীরে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে চেকপোস্টের পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বিস্ফোরণেই ১২ জন সেনাসদস্য, দু’জন পুলিশ সদস্য এবং বন দফতরের এক সরকারি আধিকারিক নিহত হন। পাক সেনাবাহিনী নিহতদের “শহিদ” আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, তাঁরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, হামলার পর গোটা এলাকায় তল্লাশি ও সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্য কোনও জঙ্গি আশপাশে লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি “আজম-ই-ইস্তেহকাম” কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করবে বলেও জানানো হয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সংক্রান্ত ফেডারেল শীর্ষ কমিটির অনুমোদিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য, বিদেশি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা (Pakistan)। সেনাবাহিনীর জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের সাহসী সেনাদের এই আত্মত্যাগ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের অটল অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। যে কোনও মূল্যে দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (TTP Attack)।”

    আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে

    এদিকে, গত সপ্তাহেও খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী বড়সড় অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে সংঘর্ষে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের ২৪ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বান্নু জেলায় পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা এবং আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের হামলার নেপথ্যে থাকা জঙ্গি এবং তাদের সহায়ক নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করতে যৌথ গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। বান্নু জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় তীব্র গোলাগুলির পর ২৪ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সেনাবাহিনী (Pakistan)। চলতি বছরের মে মাসেও বান্নু জেলার ফতেহ খেল পুলিশ পোস্টে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশকর্মী নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলায়ও বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি গিয়ে পুলিশ পোস্টে ধাক্কা মেরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। বর্তমান হামলার কৌশলের সঙ্গে সেই ঘটনার মিল রয়েছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের অভিমত।

    একের পর এক জঙ্গি হামলা 

    গত এক বছরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে প্রদেশটি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কী ধরনের কৌশল নেওয়া উচিত, তা নিয়ে কেন্দ্রের সরকার এবং প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। এই রাজনৈতিক বিভাজনও সন্ত্রাস দমনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা (TTP Attack)। গবেষণা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের ২০২৫ সালের বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক ছবি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় হিংসার মাত্রা গত বছর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে হিংসায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬২০, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩১-এ। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানে জঙ্গি কার্যকলাপ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এসব এলাকায় হামলার প্রধান লক্ষ্য থাকে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ফলে জঙ্গি দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান আরও জোরদার করেছে। তবে ধারাবাহিক হামলা প্রমাণ করছে, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি এখনও উল্লেখযোগ্য সংগঠনগত সক্ষমতা ধরে রেখেছে (TTP Attack) এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Pakistan)।

     

  • NEET Paper Leak: নিট-প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবিভিপির

    NEET Paper Leak: নিট-প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবিভিপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। সংগঠনের মতে, এই পদক্ষেপগুলি দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ছাত্রছাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী। একইসঙ্গে, কেন্দ্রের আশ্বাসের পর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকেও ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে এবিভিপি। সংগঠনটি ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে এবং জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথই সর্বাধিক ফলপ্রসূ।

    কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি

    এবিভিপির দাবি, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর সমস্যা রোধ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্থায়ী সংস্কার আনার লক্ষ্যে তারা দীর্ঘদিন ধরেই কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনের মতে, পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন, প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তন এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কঠোর আইন ও নীতিগত সংস্কার বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তবে এবিভিপির মতে, এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। সংগঠনটি কেন্দ্রের কাছে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি (হাই-লেভেল কমিটি) গঠনের দাবি জানিয়েছে, যা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সুপারিশ পেশ করে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ছাত্রকেন্দ্রিক করে তুলতে কাজ করবে।

    উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের দাবি

    এবিভিপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ড. বিরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বলেন, “ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং পরীক্ষার সততা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই প্রেক্ষাপটে সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যা ছাত্রসমাজের স্বার্থেই হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে এই উদ্যোগগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে গভীর কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এবিভিপির দাবি অনুযায়ী একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করতে হবে, যাতে দেশের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর জন্য একটি স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক পরীক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।”

  • NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে (NTA) বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং (Young Professionals) নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থার ৪৭ জন আধিকারিক ও কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক তদন্ত, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং মূল্যায়ন গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তুলে সংস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর কাজও শুরু হয়েছে। শুক্রবার সরকারি সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে।

    বরখাস্ত বহু আধিকারিক (NTA)

    এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। ওই ঘটনার জেরে ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করতে হয়, এবং প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে ২১ জুন ফের পরীক্ষায় বসতে হয়। ঘটনার পর থেকেই এনটিএর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সরকারি সূত্রের খবর, যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁদের শুধু অন্যত্র বদলি করা হয়নি বা দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি, সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম, পদমর্যাদা বা নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও চলবে। জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থতার জন্য কার কী দায় ছিল, তা চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। আগামী দিনে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তৈরি হচ্ছে নয়া কাঠামো

    এনটিএর পুনর্গঠনের প্রথম পর্যায়ে চারজন জেনারেল ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে ১৬ জন তরুণ পেশাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি। শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। নতুন জেনারেল ম্যানেজারদের তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে এবং তাঁরা সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করবেন (Young Professionals)। নতুন কাঠামোয় মূল্যায়ন ও মনস্তাত্ত্বিক পরিমাপ সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি, নম্বরের সামঞ্জস্য নির্ধারণ, প্রশ্নপত্রের মান নির্ধারণ, কম্পিউটারভিত্তিক অভিযোজিত পরীক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা বিভাগের প্রধান দেশের পাঁচশোরও বেশি শহর এবং বিদেশের নির্বাচিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখবেন। পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন, অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, পরীক্ষার দিন পরিচালনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে (NTA)।

    সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক

    তথ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক হিসেবে কাজ করবেন। সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, পরীক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি মেনে চলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে কম্পিউটার জরুরি প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত জাতীয় সংস্থার নির্দেশিকাও কার্যকর করার দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে। এছাড়া সতর্কতা, তদন্ত এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রধান পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। সংস্থার নিজস্ব ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা ব্যুরো, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এবং সাইবার অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত পরিচালনা করবেন। সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় রোধে প্রণীত ২০২৪ সালের আইনের আওতায় এই তদন্তগুলি পরিচালিত হবে (Young Professionals)। ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে যে তরুণদের নিয়োগ করা হবে, তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পাননি। এই পোর্টালের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ঘটানো হয় (NTA)।

    পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তন

    মোট ১৬টি পদের মধ্যে ১২টি থাকবে অ্যাকাডেমিক গবেষণায়, দু’টি আইনি গবেষণায় এবং দু’টি অর্থ ও হিসাব বিভাগে। প্রথমে ২৪ মাসের জন্য নিয়োগ করা হবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩৬ মাস পর্যন্ত করা যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, অস্থায়ী কর্মীর ওপর এনটিএর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে সংস্থায় স্থায়ী পদের সংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি পদ পূরণ হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ৭৩ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ১২৪। এই ভারসাম্য বদলাতে চায় কেন্দ্র। রাধাকৃষ্ণণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মোট ১০টি কার্যকরী বিভাগে আগামী দিনে আরও নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং অনুবাদকদেরও নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে (NTA)। পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে নিট-ইউজি আর ওএমআর শিটে হবে না। পরিবর্তে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর ফলে যৌথ প্রবেশিকা (মেইন) এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার ধাঁচের সঙ্গে নিট-ইউজির সামঞ্জস্য তৈরি হবে (Young Professionals)।

    সংরক্ষিত থাকবে ডিজিটাল রেকর্ড

    সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রশ্নপত্রের হার্ড কপি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। একাধিক প্রশ্নসেট ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং প্রতিটি ধাপের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। তবে এজন্য নিরাপদ পরীক্ষা কেন্দ্র, আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের নথিভুক্তিকরণ, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা, প্রযুক্তিগত পরিষেবা এবং গোপনীয় নথি সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করছে কেন্দ্র। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। নিরীক্ষা ও পটভূমি যাচাই আরও কঠোর করা হবে। সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ব্যর্থতা ধরা পড়লে আরও কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে (NTA)।

     

  • Indian Navy Rescue: কেরলে ১২ চিনা নাবিককে উদ্ধার, ‘‘কখনও ভুলব না’’, ভারতীয় সেনাকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ চিনের

    Indian Navy Rescue: কেরলে ১২ চিনা নাবিককে উদ্ধার, ‘‘কখনও ভুলব না’’, ভারতীয় সেনাকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ চিনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করলেন ভারতে নিযুক্ত চিনের (China) নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে রিয়ার অ্যাডমিরাল ইউ জিয়ান (Rear Admiral You Jian)। গত বছর কেরল উপকূলে আগুনে বিধ্বস্ত একটি কার্গো জাহাজ থেকে ১২ জন চিনা নাবিককে উদ্ধারের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’’

    ‘‘ভারত-চিন সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি’’

    নয়াদিল্লিতে ২১ জুলাই পিপলস্ লিবারেশন আর্মির (PLA) প্রতিষ্ঠার ৯৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইউ জিয়ান বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় ভারত-চিন সম্পর্ক আবারও উন্নয়ন ও ইতিবাচক অগ্রগতির পথে ফিরেছে। তিনি বলেন, ‘‘চিন ও ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ। বর্তমানে দুই দেশই উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আবার সঠিক পথে ফিরেছে।’’

    ‘‘সেই সহযোগিতা কখনও ভুলব না’’

    ইউ জিয়ান বিশেষভাবে ২০২৫ সালের জুন মাসে কেরল উপকূলে ঘটে যাওয়া একটি উদ্ধার অভিযানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘গত জুনে কেরল উপকূলে আগুন ও বিস্ফোরণের কবলে পড়া একটি কার্গো জাহাজ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী ১২ জন চিনা নাবিককে উদ্ধার করেছিল। আমরা সেই সহযোগিতা কখনও ভুলব না।’’

    জ্বলন্ত জাহাজ থেকে চিনা নাবিকদের উদ্ধার ভারত

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৯ জুন সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেনার জাহাজ এমভি ওয়ান হাই ৫০৩ (MV Wan Hai 503) কেরলের আজহিক্কালের (Azhikkal) উপকূল থেকে প্রায় ৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে। কলম্বো থেকে নাভা শেভার উদ্দেশে যাত্রারত জাহাজটিতে মোট ২২ জন নাবিক ছিলেন। বিপদের মুখে ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চারজন নিখোঁজ হন। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন চিনা নাগরিক। সে সময় চিনা দূতাবাস ভারতীয় নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর দ্রুত ও পেশাদার উদ্ধার অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করেছিল। পরে ভারতীয় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বায়ুসেনা যৌথভাবে অগ্নিনির্বাপণ ও জাহাজটিকে নিরাপদে সরানোর অভিযানও চালায়।

    রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের প্রসঙ্গ

    ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর যৌথ অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ইউ জিয়ান বলেন, রাষ্ট্রসংঘের (UN) শান্তিরক্ষা অভিযানে দুই দেশের সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং বহু আত্মত্যাগও করেছে। তার কথায়, ‘‘ভারত ও চিনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ সেই পার্থক্যের তুলনায় অনেক বেশি।’’

    সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার বার্তা

    ভারতের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন চিনের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চাই।’’

    লাদাখ অচলাবস্থার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা

    ২০২০ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত এবং গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং চারজন চিনা সেনার মৃত্যু হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেপসাং ও ডেমচক এলাকায় টহল সংক্রান্ত সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ। এর ফলে সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ কিছুটা প্রশস্ত হয়। পরবর্তীতে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হয়। পরে ২০২৫ সালে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে তিয়ানজিনেও দুই নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় দেশ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখার উপর জোর দেয়।

    সীমান্ত সংলাপ ও প্রতিরক্ষা বৈঠক অব্যাহত

    সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুনের মধ্যে এসসিও বৈঠকের ফাঁকে আলোচনা হয়। এছাড়া সীমান্ত বিষয়ক ওয়ার্কিং মেকানিজমের ৩৫তম বৈঠক বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠকেও দুই দেশ সম্পর্কের ‘‘ধীরে ধীরে স্বাভাবিকীকরণ’’ নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে। তবে ইউ জিয়ানের বক্তব্যে ভারত-চিন যৌথ সামরিক মহড়া পুনরায় শুরু করা বা নতুন কোনও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ব্যবস্থার ঘোষণা করা হয়নি।

  • PM Modi’s Instagram Reel: মধ্যরাতে জেন জি-র উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদির এক রিল ছাপিয়ে গেল বিটিএস-এর বিশ্বরেকর্ড

    PM Modi’s Instagram Reel: মধ্যরাতে জেন জি-র উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদির এক রিল ছাপিয়ে গেল বিটিএস-এর বিশ্বরেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Narendra Modi)। ইন্সটাগ্রামে (Instagram) এখন শুধু তাঁরই চর্চা। সকলের ইন্সটা ফিড জুড়ে শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রিল। ২৪ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রী মোদির রিলে ভিউ হয়েছে ৩২৮ মিলিয়ন! অর্থাৎ ৩২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি দেখেছেন। যা সর্বোচ্চ ভিউ। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রকাশিত এই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামের ইতিহাসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বাধিক দেখা রিল হিসেবে উঠে এসেছে। শুধু ভিউ-ই নয়, এই রিল প্রকাশের পর এক রাতের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ লক্ষ নতুন ফলোয়ার যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, ভিডিওটি ১.৬ কোটিরও বেশি লাইক পেয়েছে। ভিডিওটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রায় ১৫ লক্ষ। যা এটিকে প্ল্যাটফর্মের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক পোস্টে পরিণত করেছে।

    আইশো স্পিড, বিটিএস কে ছাড়িয়ে রেকর্ড মোদির 

    এর আগে জনপ্রিয় ইন্টারনেট ব্যক্তিত্ব আইশো স্পিড (IShowSpeed)-এর একটি রিল প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ভিউ পেয়ে রেকর্ড গড়েছিল। কোরিয়ান বয় ব্যান্ড বিটিএস (BTS)-র রিলেও ভিউ ছিল ৩০০ মিলিয়ন। প্রধানমন্ত্রী মোদির নতুন রিল সেই সংখ্যাকেও অতিক্রম করেছে। রেকর্ড গড়ার পর প্রকাশিত আরেকটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। গত রাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। ভিডিওটির প্রতি আপনাদের অভূতপূর্ব সাড়া এবং ইতিবাচক পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞ। আপনাদের ভালোবাসা আমাকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে।’’

    কেন ইনস্টাগ্রামকেই বেছে নিলেন মোদি?

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী চাইলে সরকারি প্রচারযন্ত্র বা আনুষ্ঠানিক ভিডিও বার্তার মাধ্যমেও একই বার্তা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম এবং অনানুষ্ঠানিক ভাষা বেছে নেন, যাতে বিশেষ করে জেন-জি (Gen Z)-র সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের সময় অধিকাংশ তরুণ-তরুণী ও কর্মজীবী মানুষ মোবাইলে শর্ট ভিডিও দেখেন। সেই সময়কে লক্ষ্য করেই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়, ফলে এটি সাধারণ সরকারি ঘোষণার বদলে ব্যক্তিগত ও সহজবোধ্য বার্তা হিসেবে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যায়।

    টিভির পর্দা নয় ফেসবুক লাইভ

    অতীতে নোটবন্দি, করোনা, অপারেশন সিঁদুর-পর্বে সাজানো স্টুডিও থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু এ বার তাঁর ভিডিও বার্তা আম নেটাগরিকের ‘ফেসবুক লাইভ’ বা ‘ইনস্টাগ্রাম রিলস্‌’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, ‘নিশানায় থাকা শ্রোতাগোষ্ঠী’ই হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর এই পরিবর্তনের অনুঘটক। যে জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে মোদি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, সেই জেন জি রাত ৮টার টেলিভিশন সম্প্রচার দেখার জন্য বসে থাকে না। তারা কয়েক সেকেন্ডের উল্লম্ব (ভার্টিক্যাল) ভিডিয়ো ক্লিপ, দ্রুতগতির ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং এবং অ্যালগরিদম-নির্বাচিত সমাজমাধ্যমের ‘ফিড’-এ পাওয়া তথ্য গ্রহণ করে। আর তাই নিট-কাণ্ড ঘিরে উত্তাল আন্দোলনের আবহে পরিবর্তনের পথে হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী।

    পেপার লিক ইস্যুতেই মূল বার্তা

    ভিডিওটির মূল বিষয় ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার প্রতিশ্রুতি। যে ভিডিওটি এত ভাইরাল, তাতে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের যুবসমাজের মনের কথা বুঝেই বলেছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কোনও সামান্য বিষয় নয়। এটি লাখ লাখ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরই ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রশ্নফাঁস রুখতে আনা হচ্ছে কঠোর আইনও, যেখানে ১০ বছরের সাজা ও ১ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

    তাৎপর্যপূর্ণ ভিডিও বার্তা

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ও ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির জাতীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান অমিত মালব্য এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে বলেন, ‘‘এটি শুধু একটি সোশাল মিডিয়া রেকর্ড নয়। এটি প্রমাণ করে, প্রজন্ম ও ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি মানুষের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সংযোগ কতটা গভীর।’’ প্রধানমন্ত্রী জানেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশই ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে সময় কাটায়। সরকারের উচিত সেই প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো। সোশাল মিডিয়ার যুগে মানুষের মধ্যে যে কোনও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সহজতম উপায়ই হল ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যম। তাই পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রচলিত সরকারি বিবৃতির পরিবর্তে ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী মোদি তরুণদের সঙ্গে আরও সরাসরি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছেন। দর্শকদের মতামতের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় ভিডিও সেই যোগাযোগকে আরও আন্তরিক ও দ্বিমুখী করে তুলেছে।

  • PM Modi Video: ‘‘ধন্যবাদ বন্ধুরা’’, যুবকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা মোদির, মন্ত্রীদের দিলেন ইনস্টাগ্রাম নির্দেশ

    PM Modi Video: ‘‘ধন্যবাদ বন্ধুরা’’, যুবকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা মোদির, মন্ত্রীদের দিলেন ইনস্টাগ্রাম নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতের ভিডিও বার্তার পর দেশের যুবসমাজের কাছ থেকে যে বিপুল সাড়া পেয়েছেন, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তরুণদের ভালোবাসা ও ইতিবাচক পরামর্শ তাঁর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।

    ভিডিও বার্তায় কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। গত রাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা যেভাবে সেই ভিডিওতে সাড়া দিয়েছেন এবং ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য প্রত্যেককে ধন্যবাদ। আপনাদের এই ভালোবাসা অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। ধন্যবাদ, ধন্যবাদ বন্ধুরা।’’

    প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ভিডিওতে ব্যাপক সাড়া

    প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রকাশের মাত্র আট মিনিটের মধ্যে ভিডিওটি ২৫ লক্ষেরও বেশি ভিউ পায়। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামে ২০ মিনিটের মধ্যেই ১০ লক্ষের বেশি লাইক পড়ে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে এবং কঠোর শাস্তির বিধান আনতে একটি খসড়া আইন নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আলোচনা করবে।

    আগের রাতের ভিডিওতে কী বার্তা দিয়েছিলেন?

    প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘’’চলতি সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেই প্রস্তাবিত বিলটি দ্রুত পাস করানোর জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। সেই ভিডিও প্রকাশের পর রাতারাতি ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১০ লক্ষ নতুন অনুসারীও যুক্ত হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্টে। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটি কোনও ছোটখাটো বিষয় নয়। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের এটি গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে।’’ তিনি স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল যাতে কোনও ছাত্রছাত্রীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়।’’

    মন্ত্রীদের ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ

    শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সামাজিক মাধ্যমের গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশে জানতে চান, তাঁদের মধ্যে কতজন নিয়মিত ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ এখন ইনস্টাগ্রামে সময় কাটান। তাই সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, সিদ্ধান্ত ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির তথ্য তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে মন্ত্রীদের আরও বেশি সক্রিয়ভাবে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা উচিত।’’ সরকারের সঙ্গে যুবসমাজের যোগাযোগ আরও জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন।

  • CJP Protest: ভারত জোড়ো থেকে ছাত্র বিক্ষোভ— একই ছকের অংশ! নিট আন্দোলনের নেপথ্যে কি আন্তর্জাতিক সমন্বয়?

    CJP Protest: ভারত জোড়ো থেকে ছাত্র বিক্ষোভ— একই ছকের অংশ! নিট আন্দোলনের নেপথ্যে কি আন্তর্জাতিক সমন্বয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, ভারতে সাম্প্রতিক ছাত্র ও নাগরিক বিক্ষোভগুলো হয়তো সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে এক ভিন্ন ছবি। এটি কোনো আকস্মিক আন্দোলন (CJP Protest) নয়। এর পিছনে রয়েছে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে থেকেই শুরু হওয়া এক সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত ছক। এই পরিকল্পনার কাজ শুরু হয় হয়েছিল ২০২২ সালে রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর মধ্যে দিয়ে। নামটা দিয়েই শুরু করা যাক। কোন রাজনৈতিক নেতা দেশে পদযাত্রা করতেই পারে, কিন্তু স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে হঠাত ‘ভারত জোড়ো’ কেন? আর ভারতকে টুকরো করেছিল কারা? সে তো রাহুল গান্ধীরই দল আর পূর্ব পুরুষরা। তবে মাঝ রাস্তাতেই ফুস হয়ে গিয়েছিল ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর ফানুস। তবে প্রশ্ন, এই ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর নামে মোচ্ছব, মানে এসি ভ্যান, এসি তাঁবু, আরও কত কি! সেসবের অর্থ জুটেছিল কথা থেকে?

    ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর ব্যর্থতা নয়া পরিকল্পনা

    ‘ভারত জোড়ো অভিযান’ আর তার পরে রাহুলের ভোট-চুরির ঢক্কা-নিনাদ পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে। নির্বাচনে জয় হয় মোদির নেতৃত্বে এনডিএ-র। বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা বোঝে শুধু রাহুলকে দিয়ে হবে না। তখন তাদের নজর পড়ে দেশের অন্য সব গদ্দার হিন্দু-সনাতন বিরোধী গ্রুপগুলোর উপর। অর্থাৎ নানান বাম, অতিবাম আর নৈরাজ্যবাদী গ্রুপগুলোকে কংগ্রেসের সঙ্গে এক ছাতার তলায় এনে উৎপাত শুরু করার এক বৃহত্তর পরিকল্পনা। তারা দুটো সময়সীমা তৈরি করে – একটা ২০২৭ থেকে ২০২৯
    আর একটা ২০৩০ থেকে ২০৩৪। কিন্তু মাঝে এই নিট পরীক্ষার প্রশ্ন লিকের ছুতোটা পেয়ে যাওয়ায়, তারা এই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায়নি। তড়িঘড়ি এজেন্টদের রাস্তায় নাবিয়ে দেয়।

    কীভাবে চলেছে তাদের প্রস্তুতি পর্ব?

    সূত্রের খবর, এই আন্দোলন সংগঠিত করার আগে চারটি গোপন বৈঠকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    • ১. রিজিওনাল লজিস্টিকস সামিট — ২ এপ্রিল, ২০২৪ (বাংলাদেশ) বাংলাদেশে আয়োজিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল এবং ভারতের বামপন্থী গ্রুপগুলির প্রতিনিধিরা মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে আলোচনার মধ্যে ছিল,  ভারতের অভ্যন্তরীণ গোপন নেটওয়ার্কগুলোর জন্য বাংলাদেশে জমিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারকে প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা। সেইসঙ্গে নানা শহরে “হিট স্কোয়াড” তৈরি করা এবং গোপন পরিচালন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
    • ২. দ্য স্টুডেন্টস মোবিলাইজেশন হাব — ২৭ জুন, ২০২৬ (নয়াদিল্লি) নয়াদিল্লির সিপিএম-এর দফতর সুরজিৎ ভবনে অনুষ্ঠিত এই দ্বিতীয় বৈঠকে অংশ নেয় মূলত স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI) এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-সহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকটিতে ২০ জুলাই থেকে দেশব্যাপী রাজপথের আন্দোলন গড়ে তোলার মূল রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল।
    • ৩. দ্য নারেটিভ স্ট্র্যাটেজি সেশন — তৃতীয় বৈঠকে সংযুক্ত করা হয় দেশের মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলিকে। ১৪ জুলাই, ২০২৬ (কোচি) ইসলামিক পণ্ডিত মাওলানা আরশাদ মাদানীর পক্ষ থেকে এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া (SDPI)-র উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে শীর্ষস্থানীয় আইনি প্রতিনিধি আর তথাকথিত সমাজকর্মীরা একত্রিত হয়েছিল। একদম বাম জামাতি গেম প্ল্যান! এরপর জুলাই ২৩ তারিখে শ্রীলঙ্কায় মিলিত হল কয়েকটি দেশের বাম, অতিবাম নেতারা। উদ্দেশ্য? বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার সরকার বদলের কৌশল নিয়ে আলোচনা!
    • ৪. দ্য ইন্টারন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন লিঙ্ক — ২৩ জুলাই, ২০২৬ (শ্রীলঙ্কা) বিজয় প্রসাদ এবং বিকল্প সঙ্গমের আশিষ কোঠারি সহ অনেক বামপন্থী নেতাদের পাশাপাশি কিউবা, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক প্রতিবাদের কৌশলগুলোকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়; যার সাথে লাদাখ সংহতি অনশন ধর্মঘটের সঙ্গে জড়িত অ্যাক্টিভিস্টদের সাংগঠনিক যোগাযোগ বা সম্পর্ক ছিল।

    আন্দোলনের পিছনে দেশীয় নেটওয়ার্ক

    এই আন্দোলনের ফ্রন্টলাইন হিসেবে কাজ করছে ‘ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অফ পিপলস মুভমেন্টস’ (NAPM)। এতে যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্রসংগঠন (SFI, AISF, NSUI, FTII) এবং নাগরিক সমাজের নানা সংগঠন। আন্তর্জাতিক সমর্থন দিচ্ছে লন্ডনের সোয়াস (SOAS) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন এবং আমেরিকার ‘হিন্দুজ ফর হিউম্যান রাইটস’-এর মতো গ্রুপগুলো বিদেশে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। এমনকি ১৫০ জনের বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির সই করা খোলা চিঠির মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে পুনরায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সিন্ধু জল চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলে বিদেশি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সুতরাং, যা সাধারণ মানুষের কাছে ছাত্র ও কৃষকদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত অধিকার আদায়ের আন্দোলন বলে মনে হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও দেশীয় কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত জোট। যাদের মূল উদ্দেশ্য ভারতবর্ষকে ভিতর থেকে দুর্বল করে ভারতের অগ্রগতিকে রুদ্ধ করা।

  • US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-নেপাল (India-Nepal Border) সীমান্তে যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। উত্তরপ্রদেশের রূপাইডিহা (Rupaidiha) সীমান্ত এলাকা থেকে এক মার্কিন নাগরিক-সহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ওয়ারিস পাঞ্জাব দে’ (Waris Punjab De)-র এক সদস্যও রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    যৌথ অভিযানে বড়সড় সাফল্য

    গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (SSB) এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ বাহিনী রূপাইডিহা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা বৈধ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এড়িয়ে গোপনে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। সেই সময় একটি গাড়ি আটক করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    কারা ধরা পড়েছে?

    ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিক্রমজিৎ সিং, যিনি খালিস্তানপন্থী সংগঠন ওয়ারিস পাঞ্জাব দে-র সদস্য বলে তদন্তকারীদের দাবি। এছাড়া ধরা পড়েছেন মার্কিন নাগরিক মনবীর সিং ধিলোঁ, যাঁর আদি বাড়ি পঞ্জাবের মোগা জেলায়। এ ছাড়া অভিযানে আরও তিন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের নাম—

    • ● সুরেশ কুমার পাঠক
    • ● দিলীপ উপাধ্যায়
    • ● রাহুল কুমার (গাড়ির চালক)

    তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই তিনজন সীমান্ত পারাপারের জন্য লজিস্টিক ও স্থানীয় সহায়তা দিচ্ছিলেন।

    কীভাবে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা?

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা বীরগঞ্জ-রূপাইডিহা (Birgunj-Rupaidiha) করিডর ব্যবহার করে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা করেছিল। ভারত-নেপাল ১৯৫০ সালের শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের নাগরিকদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই খোলা সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে চোরাচালান, মানবপাচার এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি।

    মার্কিন নাগরিক ধরা পড়ায় বাড়ল কূটনৈতিক গুরুত্ব

    ঘটনায় এক মার্কিন নাগরিকের উপস্থিতি বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ব্রিটেনে বসবাসকারী কিছু খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ, প্রচার এবং সংগঠন বিস্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে খালিস্তানপন্থী নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন-কে কেন্দ্র করে ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও বেড়েছে। সেই আবহেই এই গ্রেফতারিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

    নেপাল করিডর নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ

    ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, নেপাল বহুদিন ধরেই বিভিন্ন জঙ্গি ও শত্রুভাবাপন্ন নেটওয়ার্কের জন্য একটি সম্ভাব্য ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কাঠমান্ডুতে তুলনামূলক সহজ প্রবেশের সুযোগ এবং ভারত-নেপালের ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সংগঠন অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির ধারণা।

    এনআইএ-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

    ধৃত পাঁচজনকে নিরাপত্তার কড়া নজরদারিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে নেমেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

    তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন—

    • ● অভিযুক্তদের ডিজিটাল যোগাযোগের নেটওয়ার্ক
    • ● অর্থের উৎস ও লেনদেনের পথ
    • ● ভারতে সম্ভাব্য যোগাযোগকারী ও সহযোগীদের পরিচয়
    • ● অনুপ্রবেশের মূল উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য টার্গেট

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, এই ঘটনায় সীমান্ত ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে সক্রিয় খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য যোগাযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

LinkedIn
Share