CJP Protest: ভারত জোড়ো থেকে ছাত্র বিক্ষোভ— একই ছকের অংশ! নিট আন্দোলনের নেপথ্যে কি আন্তর্জাতিক সমন্বয়?

CJP Protest

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, ভারতে সাম্প্রতিক ছাত্র ও নাগরিক বিক্ষোভগুলো হয়তো সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে এক ভিন্ন ছবি। এটি কোনো আকস্মিক আন্দোলন (CJP Protest) নয়। এর পিছনে রয়েছে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে থেকেই শুরু হওয়া এক সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত ছক। এই পরিকল্পনার কাজ শুরু হয় হয়েছিল ২০২২ সালে রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর মধ্যে দিয়ে। নামটা দিয়েই শুরু করা যাক। কোন রাজনৈতিক নেতা দেশে পদযাত্রা করতেই পারে, কিন্তু স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে হঠাত ‘ভারত জোড়ো’ কেন? আর ভারতকে টুকরো করেছিল কারা? সে তো রাহুল গান্ধীরই দল আর পূর্ব পুরুষরা। তবে মাঝ রাস্তাতেই ফুস হয়ে গিয়েছিল ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর ফানুস। তবে প্রশ্ন, এই ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর নামে মোচ্ছব, মানে এসি ভ্যান, এসি তাঁবু, আরও কত কি! সেসবের অর্থ জুটেছিল কথা থেকে?

‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর ব্যর্থতা নয়া পরিকল্পনা

‘ভারত জোড়ো অভিযান’ আর তার পরে রাহুলের ভোট-চুরির ঢক্কা-নিনাদ পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে। নির্বাচনে জয় হয় মোদির নেতৃত্বে এনডিএ-র। বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা বোঝে শুধু রাহুলকে দিয়ে হবে না। তখন তাদের নজর পড়ে দেশের অন্য সব গদ্দার হিন্দু-সনাতন বিরোধী গ্রুপগুলোর উপর। অর্থাৎ নানান বাম, অতিবাম আর নৈরাজ্যবাদী গ্রুপগুলোকে কংগ্রেসের সঙ্গে এক ছাতার তলায় এনে উৎপাত শুরু করার এক বৃহত্তর পরিকল্পনা। তারা দুটো সময়সীমা তৈরি করে – একটা ২০২৭ থেকে ২০২৯
আর একটা ২০৩০ থেকে ২০৩৪। কিন্তু মাঝে এই নিট পরীক্ষার প্রশ্ন লিকের ছুতোটা পেয়ে যাওয়ায়, তারা এই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায়নি। তড়িঘড়ি এজেন্টদের রাস্তায় নাবিয়ে দেয়।

কীভাবে চলেছে তাদের প্রস্তুতি পর্ব?

সূত্রের খবর, এই আন্দোলন সংগঠিত করার আগে চারটি গোপন বৈঠকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

  • ১. রিজিওনাল লজিস্টিকস সামিট — ২ এপ্রিল, ২০২৪ (বাংলাদেশ) বাংলাদেশে আয়োজিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল এবং ভারতের বামপন্থী গ্রুপগুলির প্রতিনিধিরা মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে আলোচনার মধ্যে ছিল,  ভারতের অভ্যন্তরীণ গোপন নেটওয়ার্কগুলোর জন্য বাংলাদেশে জমিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারকে প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা। সেইসঙ্গে নানা শহরে “হিট স্কোয়াড” তৈরি করা এবং গোপন পরিচালন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
  • ২. দ্য স্টুডেন্টস মোবিলাইজেশন হাব — ২৭ জুন, ২০২৬ (নয়াদিল্লি) নয়াদিল্লির সিপিএম-এর দফতর সুরজিৎ ভবনে অনুষ্ঠিত এই দ্বিতীয় বৈঠকে অংশ নেয় মূলত স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI) এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-সহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকটিতে ২০ জুলাই থেকে দেশব্যাপী রাজপথের আন্দোলন গড়ে তোলার মূল রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল।
  • ৩. দ্য নারেটিভ স্ট্র্যাটেজি সেশন — তৃতীয় বৈঠকে সংযুক্ত করা হয় দেশের মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলিকে। ১৪ জুলাই, ২০২৬ (কোচি) ইসলামিক পণ্ডিত মাওলানা আরশাদ মাদানীর পক্ষ থেকে এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া (SDPI)-র উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে শীর্ষস্থানীয় আইনি প্রতিনিধি আর তথাকথিত সমাজকর্মীরা একত্রিত হয়েছিল। একদম বাম জামাতি গেম প্ল্যান! এরপর জুলাই ২৩ তারিখে শ্রীলঙ্কায় মিলিত হল কয়েকটি দেশের বাম, অতিবাম নেতারা। উদ্দেশ্য? বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার সরকার বদলের কৌশল নিয়ে আলোচনা!
  • ৪. দ্য ইন্টারন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন লিঙ্ক — ২৩ জুলাই, ২০২৬ (শ্রীলঙ্কা) বিজয় প্রসাদ এবং বিকল্প সঙ্গমের আশিষ কোঠারি সহ অনেক বামপন্থী নেতাদের পাশাপাশি কিউবা, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক প্রতিবাদের কৌশলগুলোকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়; যার সাথে লাদাখ সংহতি অনশন ধর্মঘটের সঙ্গে জড়িত অ্যাক্টিভিস্টদের সাংগঠনিক যোগাযোগ বা সম্পর্ক ছিল।

আন্দোলনের পিছনে দেশীয় নেটওয়ার্ক

এই আন্দোলনের ফ্রন্টলাইন হিসেবে কাজ করছে ‘ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অফ পিপলস মুভমেন্টস’ (NAPM)। এতে যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্রসংগঠন (SFI, AISF, NSUI, FTII) এবং নাগরিক সমাজের নানা সংগঠন। আন্তর্জাতিক সমর্থন দিচ্ছে লন্ডনের সোয়াস (SOAS) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন এবং আমেরিকার ‘হিন্দুজ ফর হিউম্যান রাইটস’-এর মতো গ্রুপগুলো বিদেশে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। এমনকি ১৫০ জনের বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির সই করা খোলা চিঠির মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে পুনরায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সিন্ধু জল চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলে বিদেশি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সুতরাং, যা সাধারণ মানুষের কাছে ছাত্র ও কৃষকদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত অধিকার আদায়ের আন্দোলন বলে মনে হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও দেশীয় কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত জোট। যাদের মূল উদ্দেশ্য ভারতবর্ষকে ভিতর থেকে দুর্বল করে ভারতের অগ্রগতিকে রুদ্ধ করা।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share