Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Jaishankar on US: ‘আরও একাকী শক্তি’ হয়ে উঠেছে আমেরিকা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর

    Jaishankar on US: ‘আরও একাকী শক্তি’ হয়ে উঠেছে আমেরিকা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত বদল আসছে। একদিকে আমেরিকার অবস্থানে ‘বড় পরিবর্তন’, অন্যদিকে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব—এই দুই প্রবণতাই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলছে বলে মন্তব্য করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আমেরিকা তার বর্তমান অবস্থান ‘নিজের পছন্দেই’। তারা বেছে নিয়েছে তাদের নীতি। এর ফলে দেশটি “ইচ্ছাকৃতভাবে আরও একাকী শক্তি” হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটন-বেজিং প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতাকে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

    চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব

    চিনের অর্থনৈতিক শক্তির প্রসঙ্গ তুলে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সঙ্গে চিন যুক্ত। এই বিশাল অর্থনৈতিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রভাবেও পরিণত হচ্ছে। তাঁর মতে, চিনের উত্থান এবং আমেরিকার নীতিগত পরিবর্তনের ফলে মধ্যম ও উদীয়মান শক্তিগুলির কাছেও নিজেদের স্বার্থকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

    ‘এক শক্তির ওপর নির্ভরতা নয়’

    জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের মধ্যম ও উদীয়মান শক্তিগুলি এখন নিজেদের আরও বেশি স্বনির্ভর করে তুলতে চাইছে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই দেশগুলি ঝুঁকি কমাতে এবং বিভিন্ন উৎস ও অংশীদারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে। কোনও একটি বড় শক্তি বা জোটের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্বার্থ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রবণতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সব বিষয়ে একই মত থাকা জরুরি নয়। বরং কোনও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে “যথেষ্ট মাত্রায় অভিন্নতা” থাকলেই দুই বা একাধিক দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

    কোয়াড, ব্রিকস থেকে আন্তর্জাতিক করিডর

    এই ধরনের বহুমুখী সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে জয়শঙ্কর কোয়াড ও ব্রিকসের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর এবং নর্দার্ন সি রুটের মতো যোগাযোগ প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো সংক্রান্ত জোটের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট অভিন্ন লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে এই ধরনের সহযোগিতা বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন কাঠামোর জন্ম দিচ্ছে, যেখানে একটি দেশ একই সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে পারে।

    রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান

    রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানান জয়শঙ্কর। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমের দেশগুলির একাংশ ভারতের মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং রুশ তেল কেনা নিয়ে সমালোচনা করলেও, ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদেশনীতি তার নিজস্ব ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। রাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, ১৯৫০-এর দশক থেকে ভারত বিভিন্ন সময়ে সোভিয়েত সমর্থন পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ ভালো ইতিহাস বা খারাপ ইতিহাস—কোনওটাই ভুলে যায় না।” ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিম বিশ্বের একটি বড় অংশ যখন পাকিস্তানের সামরিক শাসনকে সমর্থন করেছিল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভারত-সমর্থনের কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। জয়শঙ্করের দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের অভিজ্ঞতা “ইতিবাচক এবং ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক”। তবে সময়ের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ধরন যে বদলেছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেন।

    রুশ তেল নিয়ে বিতর্ক

    ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকেই রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ নিয়ে আপত্তি জানালেও নয়াদিল্লির অবস্থান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করেই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারত একই সঙ্গে একাধিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতিতে জোর দিয়ে আসছে। জয়শঙ্করও বলেন, ভারতের সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।

    ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থান

    ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারত এখনও আলোচনা, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পক্ষে বলে পুনরায় জানান জয়শঙ্কর।তিনি বলেন, ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখেছে এবং কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল, খাদ্যশস্য সরবরাহ, জ্বালানি রফতানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ওপর হামলার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।

    ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার বার্তা

    জয়শঙ্করের বক্তব্যে ভারতের বিদেশনীতির মূল দিকটি আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে—কোনও একটি শক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে জোটবদ্ধ না হয়ে নিজের স্বার্থ অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। আমেরিকা ও চিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যেও ভারত যেমন কোয়াডের অংশ, তেমনই ব্রিকসের সদস্য এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়শঙ্করের বক্তব্যের মূল বার্তা হল—বর্তমান বিশ্বে দেশগুলিকে আর একটিমাত্র শক্তি বা জোট বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নির্দিষ্ট বিষয়ে স্বার্থের মিল থাকলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে সহযোগিতা করাই ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।

     

     

     

  • Koel Mallick: ‘পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নযাত্রায় সামিল হতে চাই’, শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ, বিজেপিতে যোগ দিয়ে বললেন কোয়েল

    Koel Mallick: ‘পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নযাত্রায় সামিল হতে চাই’, শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ, বিজেপিতে যোগ দিয়ে বললেন কোয়েল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। সোমবার সকালে সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে তাঁর গলায় উত্তরীয় পরিয়ে হাতে পতাকা তুলে দেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপির মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক অনুপম ঘোষ এবং সহ-আহ্বায়ক চন্দ্রশেখর বাসোটিয়া। সোমবার বেলায় বিধানসভায় গিয়ে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র পেশ করেন কোয়েল। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় প্রমুখ। গতকাল, রবিবার রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে কোয়েল (রুক্মিণী) মল্লিকের নাম ঘোষণা করে বিজেপি৷

    মনোনয়ন জমা দিলেন কোয়েল

    সোমবার সাড়ে দশটা নাগাদ বিধানসভায় পৌঁছন কোয়েল৷ ঘণ্টাখানেক পরেই মনোনয়ন জমা দিলেন তিনি৷ নমিনেশন জমা দেওয়ার আগে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন কোয়েল৷ বিজেপিতে যোগ দিয়ে কোয়েল বলেন, “বিগত কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নযাত্রা চলছে। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গে আরও কাজ আসুক।” তাঁর রাজনীতিতে আসার কারণ জানিয়ে কোয়েল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে যুক্ত হতে চাই।” রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে তাঁকে মনোনীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ভবিষ্যতের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে কোয়েলের সংযোজন, “সবার জন্য কাজ করতে চাই, সবার মঙ্গল কামনা করি।”

    বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভায়

    প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে অভিনেত্রী কোয়েলের নামও ঘোষণা করেছিল পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল। গত মার্চে ভোট হয়েছিল রাজ্যসভায়। কোয়েল পরে ৬ এপ্রিল সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তবে কোনও অধিবেশনে যোগ দেওয়া হয়নি। বাদল অধিবেশন শুরুর আগে ১৬ জুলাই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। গত ১৬ জুলাই সাংসদপদে ইস্তফা দেওয়ার পর পরই কোয়েল দেখা করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়েছিল সেখান থেকেই। কোয়েলের আগে আরও তিন জন— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ পদে ইস্তফা দেন। পরে তিন জনকেই আবার রাজ্যসভায় পাঠায় বিজেপি। তৃণমূলের সাংসদপদ ছাড়ার পর গত ৯ জুলাই বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন সুখেন্দু, সুস্মিতা এবং প্রকাশ। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন জনকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী করে বিজেপি। এবার যোগ দিলেন কোয়েল। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভায় যাচ্ছেন কোয়েল। কারণ বিজেপির হাতে যে সদস্য সংখ্যা আছে তাতে অন্য রাজনৈতিক দল প্রার্থী দেওয়ার জায়গা নেই। সব ঠিক থাকলে আগামী ১২ অক্টোবর জয়ী শংসাপত্র পাবেন কোয়েল মল্লিক৷

  • BJP: ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতা নিয়ে গান্ধী পরিবারের ‘নীরবতা’, কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    BJP: ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতা নিয়ে গান্ধী পরিবারের ‘নীরবতা’, কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ভয়াবহ সঙ্কটের সময়ে ১৭০-রও বেশি যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতা নিয়ে গান্ধী পরিবার ‘নীরব’—এই অভিযোগ তুলে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি (BJP)। পদ্ম শিবিরের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ নীরবে সন্ত্রাসকে সমর্থন করে।

    ঘটনার কয়েক দিন (Gandhi Family) পরেই এই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর বিমানে সহ-পাইলটের হামলার পরেও ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নিয়ে যান। ভয়াবহ ওই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের প্রাণ রক্ষা করতে গিয়ে তিনি গুরুতর জখম হন।

    গান্ধী পরিবারকে নিশানা (BJP)

    রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “ভারতের জন্য এমন গর্বের মুহূর্তে কিছু লজ্জাজনক ঘটনাও রয়েছে। ক্যাপ্টেন স্মিতের জন্য কংগ্রেসের প্রথম পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কথাও, কোনও সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তা বা সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি আসেনি।”

    সোনিয়া গান্ধীকে কটাক্ষ করে ত্রিবেদী বলেন, “এতে একটি প্রশ্ন উঠছে—প্রথম পরিবারের ‘রাজমাতা’ সোনিয়াজি, যাঁর বাতলা হাউস সংঘর্ষে অভিযুক্তদের জন্য চোখে জল এসেছিল, তাঁর কি ক্যাপ্টেন স্মিতের জন্য সামান্য সহানুভূতির সুরও নেই?”

    কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকেও আক্রমণ শানান বিজেপি সাংসদ। তাঁর কথায়, “যে রাজকুমারী ‘প্যালেস্টাইনের প্রতি সমর্থন’ লেখা ব্যাগ নিয়ে ঘুরতেন, তিনি এখন ভারতীয় পাইলটের জন্য কোনও সহানুভূতি দেখাননি।”

    তবে বিজেপির এই আক্রমণের জবাব দিয়েছে কংগ্রেস। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের নবনিযুক্ত কার্যকরী সভাপতি তথা কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক ‘অনুষ্ঠানে’ পরিণত করার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে তিনি ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসাও (BJP) করেন।

    গান্ধী পরিবারের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন

    গান্ধী পরিবারের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাসুদ বলেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত নিজের জীবন এবং অন্যদের জীবন বাঁচিয়েছেন। তাঁর সাহসিকতাকে কুর্নিশ। কিন্তু বিজেপি সব কিছুকে একটি অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে—বিষয়টি এমন নয়। বিজেপি প্রায় প্রতিটি বিষয়কেই একটি অনুষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করে। তিনি বেঁচে আছেন, আমরা শুধু প্রার্থনা করি তিনি যেন সুস্থ থাকেন। এটাই যথেষ্ট।”

    উল্লেখ্য, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানে সহ-পাইলটের হামলার পর তৈরি হওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর অসাধারণ দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দেন। তাঁর তৎপরতায় বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় এবং বিমানে থাকা ১৭০-রও বেশি মানুষের জীবন রক্ষা পায় (Gandhi Family)।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করলেও ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনার বিরোধিতা করেছে (BJP) কংগ্রেস।

     

  • India vs Uruguay: ব্রাজিলের মানসিকতা নিয়ে নামবে ভারত! উরুগুয়ের ম্যাচের ফ্রি টিকিট পাবেন মেসিকাণ্ডের বঞ্চিতরা

    India vs Uruguay: ব্রাজিলের মানসিকতা নিয়ে নামবে ভারত! উরুগুয়ের ম্যাচের ফ্রি টিকিট পাবেন মেসিকাণ্ডের বঞ্চিতরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রাজিল ম্যাচের ইতিবাচক মানসিকতাকই মঙ্গলবার উরুগুয়ের (India vs Uruguay) বিরুদ্ধে বজায় রাখতে চায় ভারত। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে চার গোলে হারলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে ভারতীয় দল। ম্যাচের শেষে যখন টিম বাসে উঠছিলেন মনবীর সিংরা, তখন ভারতীয় সমর্থকরা হাততালি দিচ্ছিলেন। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অনিরুদ্ধদের থেকে ১৩২ ধাপ ওপরে রয়েছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা। এমন শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধেও দুরন্ত শুরু করেছিল ব্লু-টাইগার্সরা। মঙ্গলবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উরুগুয়ের সঙ্গেও পাল্লা দিয়ে লড়তে চায় ভারত। ফলে উপভোগ্য একটা ম্যাচের অপেক্ষায় রয়েছে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা।

    কী কী নথি থাকলে বিনামূল্যে পাস

    গত বছরের ডিসেম্বরে কলকাতায় মেসির ‘গোট’ সফরের অনুষ্ঠানের টিকিট কেটেছিলেন যাঁরা, তাঁদেরই এবার ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচের বিনামূল্যের পাস দেওয়া হবে। আগামী ৬ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এই ম্যাচ হওয়ার কথা। ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই ২২ হাজার বিনামূল্যে পাস দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল। পাস সংগ্রহের সময় ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা পাসপোর্ট, এই নথিগুলির যে কোনও একটি দেখাতে হবে। পাশাপাশি গত ডিসেম্বরে মেসির অনুষ্ঠানের জন্য কেনা আসল টিকিটটিও সঙ্গে রাখতে হবে।

    কবে, কখন পাস দেওয়া হবে

    আগামী ৫ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কমপ্লিমেন্টারি পাস সংগ্রহ করা যাবে। কোথায় গেলে পাস পাওয়া যাবে, তার একটি তালিকা নিজের পোস্টে শেয়ার করেছেন ইন্দ্রনীল খাঁ। নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে পাস নিতে হবে। পাস সংগ্রহের জন্য যে জায়গাগুলি নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মোহিত মৈত্র মঞ্চ, মিলন মঞ্জরী কমিউনিটি হল, অভয়ণ কমিউনিটি হল, উদযাপন কমিউনিটি হল, শুভনন্দন কমিউনিটি হল এবং বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের গেট নম্বর ২ ও ৩এ। এ ছাড়াও বিধাননগর পুরসভা স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং রাজারহাট-গোপালপুর সুইমিং পুল থেকেও পাস সংগ্রহ করা যাবে।

    ১৯৯ টাকাতেও ম্যাচ দেখার সুযোগ

    ভারত-উরুগুয়ে (India vs Uruguay) ম্যাচের জন্য সব টিকিট অবশ্য বিনামূল্যে নয়। সি২ লেফট এবং সি২ রাইট গ্যালারির টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১৯৯ টাকা। অর্থাৎ কম খরচেও যুবভারতীতে বসে ভারত-উরুগুয়ের ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকছে দর্শকদের জন্য। ম্যাচে লড়াইও হবে জমজমাট। ব্রাজিলের বিরিদ্ধে বেশ লড়াই করেছিলো ভারত। ২৭ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল ০-০ ছিল। গোলের সুযোগও এসে গিয়েছিল রায়ান উইলিয়ামসের কাছে। কিন্তু সেই হাফ চান্সকে কাজে লাগাতে পারেননি রায়ান। শনিবার গোল খেয়ে শুধুমাত্র রক্ষণাত্মক ফুটবল না খেলে প্রয়োজনে কাউন্টার অ্যাটাকেও গিয়েছে খালিদ জামিলের ভারত। যার ফলে আন্সেলোত্তির মতো বিশ্বখ্যাত কোচকেও স্বীকার করতে হয়েছে বেশ কয়েকবার সমস্যায় ফেলেছেন ভারতীয়রা। চাইছেন রায়ানরা।রায়ান বলেন, “ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যে মানসিকতার পরিচয় দিয়েছি আমরা উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও এমন ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই খেলতে চাই। বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের সমক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে হবে। এবং সব চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করতে হবে আমাদের। ফলাফলের চেয়েও আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ভালো পারফর্ম করা। আমরা আগে থেকেই পিছিয়ে না গিয়ে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে চেয়েছিলাম। ব্রাজিলের মতো দলকেও কয়েকবার সমস্যায় ফেলতে সামর্থ্য হয়েছি। কয়েক মাস আগেও ভারতের থেকে এমন আক্রমণাত্মক ফুটবল কেউ আশা করতে পারত না।”

  • Flydubai Hijacking: ৯/১১-ধাঁচে হামলার পরিকল্পনা! দুই বিমানের সংঘর্ষের কথাও ভেবেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট

    Flydubai Hijacking: ৯/১১-ধাঁচে হামলার পরিকল্পনা! দুই বিমানের সংঘর্ষের কথাও ভেবেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্লাইদুবাইয়ের ইজরায়েলগামী বিমানের কো-পাইলটের পরিকল্পনা একে একে প্রকাশ্যে আসছে। ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Hijacking) একটি যাত্রীবাহী বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা এবং সেটিকে ইজরায়েলে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে বিমানের সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এর সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে, কোনও পরিকল্পনাই তিনি বাস্তবায়িত করতে পারেননি। কিন্তু সফল হলে ৯/১১-র ধাঁচে আরও একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার সাক্ষী হত গোটা বিশ্ব। ওমানি নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হেফাজতে রয়েছেন। তারাই তদন্ত করছে। গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করে ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমে দাবি, তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজের পরিকল্পনা বিশদে জানিয়েছেন। স্বীকার করেছেন, ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে মেরে বিমানটি ‘ক্র্যাশ’ করাতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই মতোই পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।

    বিমানের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানি নাগরিক হিসেবে পরিচিত আল-হাম্মামি সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীদের কাছে নাকি বলেছেন, প্রথমে তিনি বিমানের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। এরপর বিমানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় অবতরণের অনুমতি নেওয়ার পর বিমানটিকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কোনও ভবন অথবা অন্য একটি বিমানের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিমানটি জর্ডানের আকাশসীমার কাছে পৌঁছনোর সময় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। বেন গুরিয়নে পৌঁছনো সম্ভব না হলে তেল আভিভের কোনো উঁচু ভবন অথবা জর্ডানে অবস্থিত কোনো মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কথিত হামলার পরিকল্পনাটি সহ-পাইলট নিজে করেছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নির্দেশনা ছিল।

    ৯/১১-ধাঁচের হামলার পরিকল্পনা

    হামাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে তাঁর লক্ষ্য ছিল তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। সেখানে পৌঁছে কোনও বিমানে ধাক্কা মারতে পারলে তাঁর পরিকল্পনা সফল হত। হামাম জানিয়েছেন, দুই বিমানের সংঘর্ষের কথা তিনি ভেবে রেখেছিলেন। তা একান্ত সম্ভব না-হলে তেল আভিভ শহরের উঁচু কোনও ইমারতে বিমান ঢুকিয়ে দিতেন তিনি। দুই ক্ষেত্রেই প্রচুর সংখ্যক প্রাণহানির সম্ভাবনা তৈরি হত। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় আল কায়েদার সন্ত্রাসবাদী হামলা দ্বারা হামাম অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাই সেই ধাঁচে একের পর এক পরিকল্পনা করেছিলেন।

    ভারতীয় পাইলটের প্রতিরোধ

    বিমান জর্ডনের কাছাকাছি চলে আসার পর তিনি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। তার আগে পর্যন্ত কাউকে কিছু টের পেতে দেননি। জর্ডন হয়ে বিমানটি ইজরায়েলে ঢুকত। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, জর্ডনের আকাশসীমা পেরিয়ে ইজরায়েলের দিকে যাওয়ার সময় সহ-পাইলট ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালান। তাঁকে মেরে ফেলার পরও বিমান স্বাভাবিক ভাবে উড়িয়ে তেল আভিভ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যাতে অবতরণের প্রয়োজনীয় অনুমতিগুলি নির্ঝঞ্ঝাটে পাওয়া যায়। কিন্তু বাধ সাধলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিথ। হামলায় ক্যাপ্টেন আহত হলেও তিনি পাল্টা প্রতিরোধ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    বিমান ধ্বংসের শেষ চেষ্টা

    অভিযোগ, পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে দেখে শেষ চেষ্টা করেছিলেন হামাম। বিমানের অটোপাইলট বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। দু’টি ইঞ্জিনও বন্ধ করে দেন। এর ফলে বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। যাত্রীআসনে আরও দুই পাইলট না-থাকলে বিমানটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হত না। বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটও নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানে মোট ১৭২ জন ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলায় ক্যাপ্টেন আহত হন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুই ক্রু সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    পূর্ববর্তী চাকরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    তদন্তকারীরা সহ-পাইলটের পূর্ববর্তী কর্মজীবন ও কার্যকলাপও খতিয়ে দেখছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তিনি এর আগে ওমান এয়ারে কাজ করেছিলেন এবং সেখানেই পাইলট প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি পর্যবেক্ষণের সময় কিছু উদ্বেগের বিষয় সামনে আসার পর তাকে অফিসের দায়িত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কথিত কার্যকলাপও তদন্তের আওতায় এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি দুবাইয়ে ইজরায়েলি এয়ারলাইন্সের বিমানের ভিডিও পোস্ট করেছিলেন এবং পরে আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন।

    ইজরায়েলগামী রুটের জন্যই ফ্লাইদুবাই

    তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পাওয়ার আগেই আল-হাম্মামি ইজরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে এমন বিমান সংস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার পর তিনি একাধিকবার বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। গত জুনে একটি সফরের সময় তিনি বিমানবন্দরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। জুলাইয়ে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ওই ফ্লাইটের এক ক্রু সদস্য তাঁর পরিচিত হওয়ায় তিনি তা থেকে সরে আসেন বলে তদন্ত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Nandigram By Poll: ‘আমরা সরকারের বন্ধুত্ব চাই’ নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর রোড শোতে প্ল্যাকার্ড হাতে সংখ্যালঘুরা

    Nandigram By Poll: ‘আমরা সরকারের বন্ধুত্ব চাই’ নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর রোড শোতে প্ল্যাকার্ড হাতে সংখ্যালঘুরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর সেই বার্তায় সাদরে হাত বাড়ালেন সংখ্যালঘুরা। রবিবার ‘বন্ধুত্বের’ ছবি দেখা গেল নন্দীগ্রামে (Nandigram By Poll)। উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রীর ব়্যালির সময় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে পোস্টার হাতে দেখা গেল সংখ্যালঘুদের। শুভেন্দুর ব়্যালির পর সংখ্যালঘুরা জানালেন, মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় তাঁরা খুশি। মুখ্যমন্ত্রীও বললেন, “প্রচারে বেরিয়ে আমার দেখে মনে হল, আমার বন্ধুত্বের আহ্বান অনেকটা কাজ করবে।” নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনের নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এদিন রোড শো করেন শুভেন্দু অধিকারী।

    নন্দীগ্রামে সংখ্যালঘু অঞ্চলে শুভেন্দু

    রবিবার ছিল নন্দীগ্রামে প্রচারের শেষ দিন। এদিন সকালে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের টেঙ্গুয়া থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার মিছিল করেন শুভেন্দু। দলীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁর সঙ্গে পা মেলান এলাকার বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। একই ভাবে বিকেলে নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের রাজারামচক থেকে মিরের বাজার পর্যন্ত পদযাত্রা করেন তিনি। দু’টি মিছিলেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। রাস্তার ধারে জড়ো হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। শুভেন্দুর পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থী হাসিরানির নামেও স্লোগান দেন তাঁরা। রাতে হরিপুরের পার্টি অফিসের সাংবাদিক সম্মেলনে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু বলে দিলেন, ‘বহু মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে পথের দু’ধারে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা। লেখা, ‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীর পাশে আছি। আমরা বন্ধুত্ব করতে চাই সরকারের সঙ্গে।’

    রোড শো নিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    উপনির্বাচনের প্রচারে সংখ্যালঘু এলাকায় রোড শো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই এলাকাতে আমার মনে হয়, ভারতীয় জনতা পার্টি প্রথম কোনও কর্মসূচি করতে পারল। একুশ ও ছাব্বিশের বিধানসভা, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন এবং তেইশের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এখানে প্রচার করিনি। কারণ, বাইরে থেকে লোক নিয়ে গিয়ে প্রচার করার কোনও মানে হয় না। এখানকার বুথগুলিতে বিজেপি কার্যত শূন্য ভোট পেয়েছিল।” এরপরই তিনি জানান, “এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা আমাদের দলের নেতৃত্বকে বলেছিলেন, যদি মুখ্যমন্ত্রী এলাকায় আসেন। আজ প্রচারে বেরিয়ে আমার দেখে মনে হল, বিজেপির ব্যবধান অনেকটাই বাড়বে। আপনি হাত বাড়ালে আমি ধরব।” সংখ্যালঘুরা বিজেপিকে আপন করে নিচ্ছে বলেও মনে করেন শুভেন্দু। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পরশু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। আমি মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশমন্ত্রীও। তাই নিরাপত্তার বিষয়টা আমি দেখব।’ একই সঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি শুভেন্দু। ব্যঙ্গের সুরে বলেন, ‘আগেই বলেছিলাম, তৃণমূলের নাম-নিশান থাকবে না। সেটাই হলো। এখানে মমতার কোনও চিহ্ন নেই। রেজিনগরের নোটার নীচে থাকবে, ৫-৬ নম্বরে।’

  • Congress: কংগ্রেসের সঙ্গে ‘আরশোলা’ পার্টির সংঘাত প্রকাশ্যে, ‘পর্দার আড়ালে সাহায্যে’র দাবি রীতম সিংয়ের

    Congress: কংগ্রেসের সঙ্গে ‘আরশোলা’ পার্টির সংঘাত প্রকাশ্যে, ‘পর্দার আড়ালে সাহায্যে’র দাবি রীতম সিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস (Congress)। কিন্তু সেই বিরোধী ঐক্যের মধ্যেই কংগ্রেস এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। দুই দলের নেতাদের মধ্যে বারবার প্রকাশ্যে বাগ্‌যুদ্ধও হয়েছে। সম্প্রতি অসম কংগ্রেসের মুখপাত্র রীতম সিং এবং সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কার মধ্যে প্রকাশ্য বাক্‌যুদ্ধকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে (Jantar Mantar Protests) দু’পক্ষের সংঘাত। রীতমের অভিযোগ, রাঙ্কা এবং তাঁর দল আম আদমি পার্টির নির্দেশে কাজ করছে এবং একটি স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, অতীতে সিজেপিকে পর্দার আড়াল থেকে কংগ্রেসের সাহায্য করার দাবিও।

    সংঘাতের সূত্রপাত (Congress)

    শনিবার রাঙ্কার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূত্রপাত। রাঙ্কা কংগ্রেসকে নিশানা করে দাবি করেছিলেন, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আক্রমণ করার জন্য একটি গোটা স্বঘোষিত উদারপন্থী পরিসর সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাঙ্কা লিখেছিলেন, “একটি গোটা ‘স্বঘোষিত উদারপন্থী’ পরিসরকে সক্রিয় করা হয়েছে অভিজিৎ দীপকেকে আক্রমণ করার জন্য। দীর্ঘ, দীর্ঘ সময় পর তিনি লাখ লাখ ভারতীয়ের কল্পনাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছেন। মজার বিষয় হল, এই পরিসরটি শুধু টুইটারে রয়েছে, অথচ কোনওভাবে মনে করে তারাই গণতন্ত্রের একমাত্র রক্ষক।” রাঙ্কার এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণে নামেন রীতম। তিনি রাঙ্কার “ষড়যন্ত্র” এবং “মিথ্যা আত্মগরিমা” প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারি দেন।

    রীতমের দাবি, অসম পুলিশ রাঙ্কা এবং তাঁর দলের কর্মীদের আটক করার পর তাঁদের মুক্ত করতে কংগ্রেস সাহায্য করেছিল। কিন্তু সেই সাহায্যের প্রতিদান হিসেবে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেও রাঙ্কা অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, আম আদমি পার্টির নির্দেশেই কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেছিলেন রাঙ্কা।

    রীতম বলেন, “অসম পুলিশ যখন আপনাকে আটক করেছিল, তখন আমরা কংগ্রেসের লোকজন সিজেপির সদস্যদের বাইরে বের করে আনতে সাহায্য করেছিলাম। অথচ আপনি স্পষ্টভাবে আমাদের কংগ্রেস নেতাদের এবং গৌরব স্যারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেও অস্বীকার করেছিলেন। আপনি তা করেছিলেন কারণ আম আদমি পার্টি আপনাকে তা করতে বারণ করেছিল।”

    তিনি আরও দাবি করেন, গুয়াহাটিতে রাঙ্কার আতিথেয়তার দায়িত্বে থাকা কুনকি চৌধুরী তখন কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে নগাঁওয়ে অসম জনতা পরিষদের সভাপতি লুরিন গগৈয়ের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে ছিলেন। তাঁরাও রাঙ্কাকে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার অনুরোধ করেছিলেন বলে দাবি রীতমের।

    তিনি বলেন, “তবুও আপনি একবারও কংগ্রেস বা আমাদের ছাত্র শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেননি। আপনি কংগ্রেস (Congress) নেতাদের বলেছিলেন, ‘এর বাইরে থাকুন’। আপনি বলেছিলেন, এটি আম আদমি পার্টির উদ্যোগ।” উল্লেখ্য, ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে সিজেপির সংগঠন বিস্তারের নামে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানোর সময় রাঙ্কা-সহ দলের কয়েকজন কর্মীকে অসম পুলিশ আটক করেছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    রীতমের অভিযোগ

    রীতমের আরও অভিযোগ, আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরাসরি নির্দেশে সাম্প্রতিক যন্তর মন্তরের আন্দোলনে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে পাশ কাটিয়ে গিয়েছিলেন সিজেপি নেতৃত্ব। তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নেহা বোরাকে আন্দোলন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    তাঁর আরও অভিযোগ, সিজেপি একটি ছাত্র আন্দোলনকে নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচির ওপর ভর করে তার কৃতিত্ব নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    তিনি বলেন, “ছাত্রদের সমস্যার পক্ষে দাঁড়ানো এক বিষয়। কিন্তু কোনও আন্দোলনকে নিজেদের দখলে নেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আম আদমি পার্টি অন্যদের ইস্যুতে ভর করে সেগুলিকে নিজেদের করে নেওয়ার জন্য পরিচিত।”

    কংগ্রেস মুখপাত্র অতীতের বিভিন্ন ঘটনাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় অন্না হাজারের কর্মসূচিকে ব্যবহার করা থেকে শুরু করে সোনম ওয়াংচুকের অনশন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে আম আদমি পার্টি অন্যদের আন্দোলনের কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    রীতম বলেন, “প্রথমে অন্না হাজারেকে সামনে রেখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভারতের নামে আপনাদের সেই সাজানো প্রদর্শনী। এরপর সোনম ওয়াংচুক স্যার যখন অনশনে ছিলেন, তখন তাঁকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আপনারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আর যখন সমস্ত ছাত্র সংগঠন স্পষ্টভাবে প্রতিবাদ করছিল, তখন আপনারা পুরো বিষয়টিকে সিজেপির আম আদমি পার্টির আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।”

    কী বলছে কংগ্রেস

    কংগ্রেস মুখপাত্রের দাবি, সিজেপি ছাত্র আন্দোলনের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি করে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সামনে আনার চেষ্টা করছে। এদিকে, কংগ্রেস এবং সিজেপির সংঘাতের মধ্যে বিজেপির সঙ্গে সিজেপির যোগসাজশের অভিযোগও সম্প্রতি সামনে এসেছিল। এক কংগ্রেস সমর্থককে বলতে শোনা যায়, “অভিজিৎ দীপকে বলছেন নির্বাচন বয়কট করা উচিত। বিজেপিও চায় সবাই নির্বাচন বয়কট করুক।”

    তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আম আদমি পার্টির মদতপুষ্ট সিজেপি বিজেপির সঙ্গে কাজ করছে বলে তিনি ইঙ্গিত করছেন কি না। জবাবে ওই কংগ্রেস সমর্থক বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। একশো শতাংশ। এটাই সত্যি। কখনও কখনও বড় নেতাদের, যেমন রাহুল গান্ধীর, গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন নেতাদের সামনে আনা হয়।”

    কংগ্রেস এবং সিজেপির এই সংঘাত অবশ্য নতুন নয়। গত মাসেও যন্তর মন্তরে ২০ থেকে ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা যায়। একই মাসে রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী এবং সম্প্রতি পাঞ্জাবের কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শচীন পাইলটও বিভিন্ন (Jantar Mantar Protests) রাজ্যে স্কুল পরিদর্শনের নামে সিজেপির রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ফলে বিরোধী শিবিরে (Congress) মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা সামনে এলেও, কংগ্রেস ও সিজেপির পারস্পরিক সংঘাত যে এখনও অব্যাহত, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

     

  • Kusum Group Pharma Plant: রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ সংস্থার কারখানা বিধ্বস্ত, নিহত ১

    Kusum Group Pharma Plant: রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ সংস্থার কারখানা বিধ্বস্ত, নিহত ১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের সুমি শহরে ভারতীয় কুসুম গোষ্ঠীর মালিকানাধীন একটি বৃহৎ ওষুধ কারখানায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন (Kusum Group Pharma Plant)। হামলায় কারখানাটির মূল ভবনটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় আধিকারিকেরা জানিয়েছেন (Russian Drone Attack)।হামলার পরে ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ড্রোনগুলি কারখানা চত্বরে আঘাত হানার পরেই আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা।

    কুসুম গোষ্ঠী (Kusum Group Pharma Plant)

    কুসুম গোষ্ঠীর যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। সেই সময় ভারতীয় ওষুধ ইউক্রেনে রফতানি করার মাধ্যমে সংস্থাটি বাণিজ্য শুরু করেছিল। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক রাজীব গুপ্তের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গোষ্ঠী ২০০২ সালে অন্য সংস্থার পণ্য বিতরণের কাজ বন্ধ করে নিজেদের ব্র্যান্ডের ওষুধ বাজারজাত করা শুরু করে।

    পরবর্তীকালে সংস্থাটি ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রবেশ করে। ২০০৭ সালে ভারতে কারখানা স্থাপনের পর ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমিতে একটি উৎপাদন কেন্দ্র চালু করে কুসুম গোষ্ঠী। এরপর ভারতে আরও দু’টি উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে সংস্থাটি ৫০টিরও বেশি মূলত জেনেরিক ওষুধ তৈরি করে এবং ন’টিরও বেশি দেশে সেগুলি বিক্রি করে। ইউক্রেন ছাড়াও উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও ফিলিপাইন তাদের গুরুত্বপূর্ণ বাজার।

    কুসুম গোষ্ঠী নিজেদের ভারতীয় শিকড়-সমৃদ্ধ একটি ইউক্রেনীয় সংস্থা হিসেবে পরিচয় দেয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পুরো সময় জুড়েই সুমির কারখানাটি উৎপাদন চালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলায় সেটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৪০০ কোটি টাকা।

    হামলার তীব্র নিন্দা ইউক্রেনের

    হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। জেলেনস্কি বলেন, “আজ সকালে রুশ বাহিনী ফের কিয়েভের পিভনিচনি সেতুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা সুমিতে একটি সাধারণ ওষুধের গুদামেও ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, এই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমার সমবেদনা। দিনিপ্রোতেও একটি যোগাযোগকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলাগুলিতে ছ’জন জখম হয়েছেন (Kusum Group Pharma Plant)।”

    গত গ্রীষ্ম থেকে মস্কো ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন বহু দ্রুতগতির ও তুলনামূলকভাবে কম খরচের জেটচালিত শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে এগুলি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরোধী ড্রোনগুলির গতি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় দ্রুতগতির শাহেদ ড্রোনকে আটকাতে সমস্যা হচ্ছে (Russian Drone Attack)।

    এর মধ্যেই ইউক্রেন চলতি সপ্তাহে নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এফপি-৭ প্রথমবারের মতো যুদ্ধে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (Kusum Group Pharma Plant)।

     

  • Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পুজো কমিটি, মণ্ডপ, প্রতিমা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রা—সব মিলিয়ে প্রতি বছরই রাজ্যের জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে দুর্গাপুজো। কলকাতার দুর্গাপুজো  (Durga Puja 2026) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো।

    তবে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, অশান্তি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সামনে এসেছে। কোথাও পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হামলা, প্রতিবাদীদের গ্রেফতার, পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    রাজনৈতিক বিতর্ক (Durga Puja 2026)

    ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। “শারদোৎসবে”র বদলে ‘দুর্গোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তা না করলে পুজো কমিটিগুলিকে সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই পদক্ষেপকে “ফ্যাসিবাদী আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুজো মণ্ডপের আশপাশে সিপিআই(এম) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল বসানোর রীতি রয়েছে। সেখানে দলীয় প্রকাশনা, মার্কসবাদী সাহিত্য এবং বিভিন্ন বই বিক্রি করা হয়।

    ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় একাধিক ঘটনাও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকায় নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় অষ্টমী ও নবমীর আচার-অনুষ্ঠানের সময় গান ও ভক্তিগীতি বাজানোকে কেন্দ্র করে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ ছিল, একটি দল পুজোর অনুষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেয় এবং দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরেরও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তি

    হাওড়ার শ্যামপুরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো সংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং এলাকায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    এদিকে, দুর্গাপুজোর বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কলকাতা পুলিশ পুজোর সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচি থামিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুজো মণ্ডপের বাইরে চিকিৎসকদের আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে আলিপুরে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁদের উদ্দেশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা ছিল না (Durga Puja 2026)।

    দুর্গাপুজোর সরকারি কার্নিভালেও এক চিকিৎসকের গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থনে ব্যাজ পরে পুজো কার্নিভালে অংশ নেওয়া কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক তপাব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদে চিকিৎসক ও অন্যদের বিক্ষোভের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্ট ওই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেয়।

    নদিয়ার রানাঘাটে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে আসা একটি ক্লাবকে ১১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে অনুমতি না দেওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ক্লাবটি ওই বছর পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অশান্তি বিসর্জনের শোভাযাত্রায়ও

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও একাধিকবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর কলকাতার পার্ক সার্কাস ও নারকেলডাঙা এলাকায় কালী ও লক্ষ্মীপ্রতিমা বিসর্জনের সময় পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটি ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের অভিযোগ, রাজাবাজার এলাকায় হঠাৎ করে পাথর, কাচের বোতল এবং ইট ছোড়া হয়। আশপাশের বাড়ি থেকেও পাথর ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আতঙ্কে অনেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন এবং কয়েকটি শোভাযাত্রার যাত্রাভঙ্গ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে অবশ্য বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় (Durga Puja 2026)।

    এই ঘটনার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে নারকেলডাঙার হিংসার অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশ আধিকারিকদের আচরণও যথাযথ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে তর্ক হয় এবং পরে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় থাকা আক্রান্তদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় (Pandal Vandalism Incidents)।

    ২০২০ সালের বিজয়া দশমীতে বীরভূমে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছিল। পুজো কমিটির সদস্য ও ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়োয় এক পুলিশকর্মীকে এক যুবকের জামার কলার ধরে রাস্তায় টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দুর্গাপুজোর মণ্ডপের থিম এবং ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপুজোকে ঘিরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মণ্ডপসজ্জায় একটি দৃশ্যে দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে এক হিন্দু মহিলা ও তাঁর শিশুকে ভারতের একটি আটককেন্দ্রে বন্দি দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দুর্গাপুজোয় প্রতিমার সামনে আজান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। আজান ইসলামে নমাজের আহ্বান। এই ঘটনাকে ঘিরেও ধর্মীয় প্রতীক ও পুজোর পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ড

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলির একটি হল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের একটি মডিউলের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ ছিল। বিস্ফোরণে মণ্ডপের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে বিশেষ এনআইএ আদালত মামলায় ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন (Durga Puja 2026) চারজন।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলিপুরে পুজোর মণ্ডপ থেকে আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়।

    পুজো মণ্ডপে জুনিয়র চিকিৎসক ও প্রতিবাদীদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছিল। ত্রিধারা সম্মিলনী দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বভারতীয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের রিপোর্ট চায়।

    সব মিলিয়ে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক ও সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও পুজোর মণ্ডপে ভাঙচুর, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হিংসা, আবার কোথাও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—বিভিন্ন ঘটনায় উৎসবের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিসর প্রশ্নের মুখে পড়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ

    বিশেষ করে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলিতে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও তার আশপাশের জনপরিসর একাধিক পৃথক সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গার্ডেন রিচে পুজোর আচার ঘিরে বিরোধ, শ্যামপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নারকেলডাঙায় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ, পুজোর মণ্ডপের কাছে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি পুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের আটক—সবক’টি ঘটনায়ই নতুন করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এর পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জন, বিজয়া দশমীতে পুলিশি পদক্ষেপ, পুজোর মণ্ডপের থিম ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার এবং বর্ধমান বিস্ফোরণ মামলার মতো পুরনো ঘটনাগুলিও এই বিতর্কের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ২০২৬ সালের “শারদোৎসব” বিতর্ক সেই চলমান চর্চায় নয়া মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুজোর পরিচয়, নামকরণ, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং পুজোকে ঘিরে (Durga Puja 2026) জনপরিসরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এসেছে (Pandal Vandalism Incidents)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দির ও প্রতিমার অবমাননা, জমি দখল, হিংসা এবং বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের ঘটনাবলি তুলে ধরে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এমনই (Hindus Under Attack) দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনাগুলির প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয় না (Weekly Roundup)। প্রতিবেদনটিতে হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও প্রতিমা অবমাননা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের মতো অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।

    অসমে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু (Hindus Under Attack)

    অসমের গুয়াহাটির উপকণ্ঠে একটি অতিথিশালায় বছর বাইশের গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিমিষা ঠাকুরিয়ার মৃত্যু ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা বছর ছাব্বিশের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।ওই যুবকের নাম বিভিন্ন প্রতিবেদনে আসিফ, আশিক বা আশিক আলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, নিমিষা আত্মহত্যা করেছিলেন। অন্যদিকে, মৃতার পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    কাঠামো নিয়ে বিতর্ক

    মহারাষ্ট্রের তালোদায় গণেশ বিসর্জন শোভাযাত্রায় সমাধির মতো দেখতে একটি কাঠামো প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় কিছু হিন্দু সংগঠন ও বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ ও বিভিন্ন উপকরণের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, গণেশ উৎসব উপলক্ষে নেমসুশীল বিদ্যামন্দিরের সঙ্গে যুক্ত একটি বিসর্জন শোভাযাত্রায় ওই কাঠামো প্রদর্শিত হয়। বিষয়টিতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    তামিলনাড়ুতে ধর্মান্তরের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে যুক্ত কয়েকজন মহিলা শ্রমিককে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরের জন্য প্রভাবিত করার অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

    ভিডিওগুলিতে কর্মসংস্থান প্রকল্পে অংশ নেওয়া মহিলাদের কাছে ধর্মান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ভিডিওগুলির সত্যতা, স্থান এবং ঘটনাগুলির প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

    নিষিদ্ধ সংগঠনে তরুণদের যুক্ত করার অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর বিশেষ তদন্ত শাখা তরুণদের উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং নিষিদ্ধ সংগঠন হিজব-উত-তাহরির ও খিলাফত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগে ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে। শুরু হয়েছে তদন্ত (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা

    প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। মন্দিরে হামলা ও অবমাননা, জমি দখল, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনতার হামলা, নারী নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়ন অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

    স্বর্ণকারকে হত্যার অভিযোগ

    ময়মনসিংহে নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর নামে এক স্বর্ণকার নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে একটি ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর পুলিশ এখনও মামলা নথিভুক্ত করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    ধর্মীয় বিদ্বেষ-বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কিছু অপরাধের পেছনে ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে মুসলিম-প্রধান দেশগুলির বাইরে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং জনপরিসরেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতে দীপাবলির সময় আতশবাজি ব্যবহারের উপর আরোপিত বিধিনিষেধকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্য, পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তি থাকলেও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের প্রয়োগে সমতার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে আতশবাজি সংক্রান্ত বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কারণও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (Hindus Under Attack)।

    সামগ্রিকভাবে, প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও নজরদারি এবং মানবাধিকারভিত্তিক আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ, পরিসংখ্যান এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করাই প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ (Weekly Roundup)।

     

LinkedIn
Share