Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • FIFA World Cup 2026: ৮৪ মিনিট পিছিয়ে থেকে প্রত্যাবর্তন! আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড়ে বেসামাল ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরা

    FIFA World Cup 2026: ৮৪ মিনিট পিছিয়ে থেকে প্রত্যাবর্তন! আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড়ে বেসামাল ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পিছিয়ে পড়া, হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, তারপর হঠাৎই প্রত্যাবর্তন। চলতি বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্য লিখে চলেছেন মেসিরা। বলা ভাল আর্জেন্টিনা। এই দল দেখিয়ে দিচ্ছে, মেসি (Lionel Messi) গোল না করলেও জিততে পারে তারা। মেসিকে যে প্রতিপক্ষ বোতলবন্দি করার চেষ্টা করবে, এ আর নতুন কী? একমাত্র আলজেরিয়া বাদে বাকি সব ম্যাচে তা দেখা গিয়েছে। ইংল্যান্ডও আটকে রেখেছিল তাঁকে। গোটা ম্যাচে বক্সে বার দু’য়েকের বেশি ঢুকতে পারেননি তিনি। তাতে কী? দলের জয় আটকায়নি। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। শেষ ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনীয় ঝড়েই হারিয়ে গেলেন হ্যারি-কেনরা।

    এই ম্যাচ অন্য সাধারণ ম্যাচের মতো নয়

    এই ম্যাচ অন্য সাধারণ ম্যাচের মতো ছিল না। একে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। তার উপর আবার প্রতিপক্ষের নাম ইংল্যান্ড। যে দেশের বিরুদ্ধে খেলা শুধুমাত্র ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা হয়ে ওঠে যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধ জিতেছে আর্জেন্টিনা। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকে জিতেছে। মেসি-সহ পুরো আর্জেন্টিনা দল এই প্রথম বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলল। কিন্তু ১৯৬৬, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের লড়াইয়ের কথা তাঁদের জানা। ফকল্যান্ড যুদ্ধ তাঁদের স্মৃতিতে। তাই পিছিয়ে পড়ার পর যে লড়াইটা আর্জেন্টিনা করেছে তা ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। জয়ের পর মেসি জানালেন, এই জয় আর্জেন্টিনার প্রত্যেকের জয়। খেলা শেষে মেসি বলেন,“এটা বিশ্বকাপের আরও একটা ম্যাচ হলেও বাকি ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকেরা এই জয়টা চেয়েছিল। কারণ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সেটা আমরা সমর্থকদের দিতে পেরেছি।”

    পুরোপুরি সফল স্কালোনি

    প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় আকাশ-পাতাল ফারাক। লড়াই শুধু ফুটবলারদের ছিল না, লড়াই ছিল দু’দলের কোচেরও। প্রথমার্ধে লিয়োনেল স্কালোনির পরিকল্পনা দেখে মনে হল, গোল করতে নয়, হ্যারি কেনদের থামাতে নেমেছে আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো ডি পলের বদলে জিউলিয়ানো সিমিয়োনেকে নামানোর কারণই ছিল তাই। নিজের কাজ করলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, বাবা দিয়েগো সিমিয়োনের কাছ থেকে ট্রেনিং নিয়ে নেমেছেন। প্রথমার্ধের ফুটবলে মন ভরেনি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলা দেখে। নিজেদের খেলা না খেলে ইংল্যান্ডের খেলা নষ্ট করতে নেমেছিল তারা। পর পর ফাউল হচ্ছিল। খেলার ছন্দ নষ্ট করছিলেন সিমিয়োনে, লিয়োনার্দো পারেদেসরা। স্কালোনি অবশ্য তাঁর পরিকল্পনায় পুরোপুরি সফল। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের ছন্দ নষ্ট করেছেন তাঁর ফুটবলারেরা। ফলে আক্রমণ করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেননি কেনেরা। সেটাই পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

    নিজের ভুলেই আটকে গেলেন টমাস টুখেল

    প্রথমার্ধে ১৯টি ফাউল হয়। ১২টি করে আর্জেন্টিনা। সাতটি ইংল্যান্ড। মাঝে মাঝেই খেলা থামছিল। ধাক্কাধাক্কি করছিলেন দু’দলের ফুটবলারেরা। সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন রেফারি। তিনিও হয়তো চাইছিলেন তাড়াতাড়ি বিরতি নিতে। তাই এত ফাউলের পরেও মাত্র ৩ মিনিট সংযুক্তি সময় দেওয়া হল। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল খেলা। আর্জেন্টিনাকে আক্রমণে উঠতে দেখা গেল। আর তাতে জায়গা পেয়ে গেল ইংল্যান্ড। তাতেই গোল। ৫৫ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত ধরে উঠে রিস জেমসের ক্রসে গোল করলেন অ্যান্টনি জর্ডন। পিছিয়ে পড়়ে বেরিয়ে এল আর্জেন্টিনার আসল খেলা। খোলস ছেড়ে বেরাল তারা। কারণ, গোল করা ছাড়া আর উপায় ছিল না। সেখানেই দুই কোচের দুই চালে খেলা ঘুরে গেল। যেখানে স্কালোনি একের পর এক আক্রমণ ভাগে ফুটবলার নামালেন, পারেদেস, লিসান্দ্রোদের তুলে ঝুঁকি নিলেন, সেখানেই টমাস টুখেল পার্ক দ্য বাস নীতিতে চলে গেলেন। এতটা রক্ষণাত্মক না হলেই পারতেন তিনি। এক গোলে এগিয়ে থেকে মেসিদের বিপক্ষে এতটা রক্ষণাত্মক হওয়া যায় না।

    শেষ ৭ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ড

    ডি পল, লাউতারোরা নামার পর মেসিরও সুবিধা হল। মিশর ম্যাচে যা করেছিলেন, তাই করলেন। সরে গেলেন ডান প্রান্তে। মার্কারকে এড়িয়ে গেলেন। তখন রক্ষণ করতে লোক বাড়াতে গিয়ে মেসিকে নজরে রাখতে পারলেন না স্পেন্স, গেহিরা। ফলে অনেক বেশি বল পেতে শুরু করলেন মেসি। জর্ডন পিকফোর্ড না থাকলে আরও আগেই গোল খেত ইংল্যান্ড। এঞ্জো ফের্নান্দেজের হেড দুর্দান্ত বাঁচান তিনি। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্ট লেগে ফেরে। কিন্তু বার বার আক্রমণে শেষ পর্যন্ত ভাঙে তাদের রক্ষণ। ৮৫ মিনিটের মাথায় মেসির পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করেন ফের্নান্দেজ। সমতা ফিরিয়ে আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তারা বুঝতে পারছিল, এই ঝড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ আবার ভেঙে পড়তে পারে। হলও তাই। ম্যাক অ্যালিস্টারের আরও একটি শট পোস্টে লেগে ফেরে। পর পর আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। তাতেই কাল হল। সংযুক্তি সময়ে মেসির ক্রসে হেড করে গোল করলেন লাউতারো। আর ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড।

    এই দলটা কখনও হাল ছাড়ে না

    মেসি জানিয়েছেন, এই ম্যাচে হারার উপায় ছিল না। তাঁদের জিততেই হত। সেটাই করেছেন তাঁরা। মেসি বলেন, “আর্জেন্টিনার কেউ এই ম্যাচটা হারতে চায়নি। এই হার হজম করতে পারতাম না। সেটা সকলেই জানে। তাই হয়তো আনন্দ কিছুটা বেশিই হচ্ছে। আমি জানি, গোটা আর্জেন্টিনা এখন আনন্দে লাফাচ্ছে।” কিন্তু ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকে জয় সহজ কথা নয়। চলতি বিশ্বকাপে বারবার পিছিয়ে পরেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে জিতেছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিরুদ্ধে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ০-২ পিছিয়ে থেকেও ৩ গোল করেছে তারা। কিন্তু সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মতো দলের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকে জেতা সহজ ছিল না। মেসি বলেন, “এই দলটা কখনও হাল ছাড়ে না। হারার ভয় আমাদের নেই। খালি জানি, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করতে হবে। এই ম্যাচেও সেটাই করেছি। ওদের অর্ধেই ওদের মাটিতে ফেলে হারিয়েছি। আমরা অতিরিক্ত সময় খেলতে চাইনি। ৯০ মিনিটেই জিততে চেয়েছিলাম। সেটা করে দেখিয়েছি।”

    বিজয়ীর মুকুট কার মাথায়?

    ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে এবার স্পেন। এক নতুন চ্যালেঞ্জ, এক নতুন পরীক্ষা। ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হবে দুই প্রজন্মের দুই প্রতীক। একদিকে ৩৯ বছরের বৃদ্ধ সিংহ লিওনেল মেসি। অন্যদিকে ১৯ বছরের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। একজন মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় লিখতে চলেছেন। আরেক জন ইতিহাস তৈরি করতে চান। সময় বলবে ইতিহাস কাকে বিজয়ীর মুকুট পরাবে।

  • Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও আসতে শুরু করেছে বদল। এবার সেই তালিকায় যোগ হল একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharjee) স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের (Mira Bhattacharya) জন্য ফের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)সম্মান প্রদর্শনের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী

    ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রয়াত হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯এ নম্বরের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতো বসবাস করে আসছেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। তবে মীরা দেবীর জীবনযাত্রায় কোনও জৌলুস আসেনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করছেন, যা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবনেরও অন্যতম পরিচয় ছিল। সূত্রের খবর, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর তৎকালীন রাজ্য সরকার ওই ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই অবস্থান বদলাতে চলেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খুব শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে।

    সহজ-সরল জীবনযাত্রা মীরা-দেবীর

    বর্তমানে মীরা দেবী একাই থাকেন ওই ফ্ল্যাটে। স্বামী বুদ্ধদেব থাকাকালীন যেমন সহজ ও সাধারণ জীবনযাত্রা ছিল এখনও তাই। এই ছোট্ট ফ্ল্যাট বদলানোর কথা স্বয়ং জ্যোতি বসুও নাকি একসময়ে বলেছিলেন। কিন্তু বুদ্ধবাবু চেয়েছিলেন এখানেই থাকতে। স্বামীর মৃত্যুর পর মীরা দেবীও সেই সিদ্ধান্তেই অটল থেকেছেন। রাজ্যে পরিবর্তনের পর তাকে স্বাগতও জানিয়েছিলেন। মতাদর্শগত ফারাক মাথায় রেখেও নতুন সরকারের প্রশংসা করতে দেখা যায় তাঁকে। প্রার্থনা করেছিলেন, ২০১১ সালের আগে যেমন সিন্ডিকেট রাজ ছিল না, সেই পরিস্থিতিই যেন ফিরে আসে বাংলায়। ভোটের সময় যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির, তা পূরণ হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন মীরা।

    রাজনৈতিক সৌজন্যের অনন্য নজির

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক সৌজন্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কারণ, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধি। তবুও রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সম্মানের পথে বাধা হতে দেননি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলেই মত অনেকের।

  • Drug Allegations Against Pakistan: শোয়েবরা ভারতে মাদক পাচার করতেন, বিরোধিতাতেই মৃত্যু উলমারের! বিস্ফোরক দাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আমলার

    Drug Allegations Against Pakistan: শোয়েবরা ভারতে মাদক পাচার করতেন, বিরোধিতাতেই মৃত্যু উলমারের! বিস্ফোরক দাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আমলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের (Drug Allegations Against Pakistan) বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটরি আরভিএস মণি। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফ (Shoaib Akhtar-Mohammad Asif) যখনই ভারতে আসতেন, তখনই নিজেদের সঙ্গে মাদক নিয়ে আসতেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের টিম মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই ড্রাগ ট্র্য়াফিকিংয়ের ক্ষেত্রে আইএসআই-এর হাত ছিল। মাদক পাচারের বিরোধিতা করার জন্যই পাকিস্তানের প্রাক্তন কোচ বব উলমারকে খুন হতে হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

    মাদক পাচারের বিরোধিতা করাই কাল উলমারের

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আমলার বক্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ক্রিকেটমহলে। ২০০৬ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করে আরভিএস মণি বলেছেন, ‘‘পাকিস্তান ক্রিকেট দল বা কোনও প্রতিনিধি দল ভারতে এলে সঙ্গে মাদক নিয়ে আসত। এ ভাবে ভারতে মাদক পাচারের চেষ্টা করত পাকিস্তান। নিজেদের ব্যবহারের জন্য মোটেও মাদক নিয়ে আসতেন না পাক প্রতিনিধি বা খেলোয়াড়েরা। পাকিস্তানের প্রাক্তন কোচ উলমার ক্রিকেটারদের দিয়ে মাদক পাচারের বিরোধিতা করেছিলেন। বিষয়টি পাচারকারীদের পছন্দ ছিল না। তার পর ২০০৭ সালে তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর কথা সকলে জানেন।’’ উল্লেখ্য, বব উলমার ২০০৭ সালে ১৮ মার্চ মারা যান। তখন তিনি পাকিস্তান দলের কোচ ছিলেন। আয়ারল্যান্ডের কাছে কিংসস্টোন, জামাইকাতে হারের পর তাঁকে হোটেলে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।

    জঙ্গি হামলার ৩০ শতাংশ অর্থই মাদক পাচার থেকে

    আসলে আরভিএস রবি ছিলেন একজন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অফিসার। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ইন্টারনাল সিকিউরিটি ডিভিশনে কাজ করেছেন। এখন তিনি অবসর কাটাচ্ছেন। ২০১৩ সালের অগাস্টে ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট নেন। ওই সময় তিনি নগরোন্নয়ন দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছিলেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর একটি পোডকাস্টেই তিনি ড্রাগ ট্র্যাফিকিং নিয়ে বোমা ফাটিয়েছেন। এই পডকাস্টে তিনি অভিয়োগ করেন, জঙ্গি হামলার ৩০ শতাংশ ফান্ডিং আসে মাদক পাচার থেকে। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতে জঙ্গি হামলার ৩০ শতাংশ অর্থই আসত মাদক ব্যবসা থেকে। আসলে পাকিস্তানের সরকারি নীতিই হল ভারতে মাদক পাচার করা। সে কারণেই আমরা সে সময় বলতাম, জালালাবাদে ফলন বেশি হলে ভারতের উপর হামলাও বেশি হবে।’’

    ক্রিকেটারদের মাধ্যমেও চলত মাদক পাচার

    মণির দাবি, ‘‘ক্রিকেটারদের মাধ্যমেও বেশ কয়েক বার মাদক পাচারের চেষ্টা হয়েছে। শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফ যুক্ত ছিল। এই দুই ক্রিকেটারই মাদক নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছিলেন। তার পর পাকিস্তানের দূতাবাস তাঁদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছিলেন।’’ উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে শোয়েব এবং আসিফের শরীরে নিষিদ্ধ ড্রাগ পাওয়া গিয়েছিল। ডোপিংয়ের জন্য শোয়েবক দু’বছরের জন্য এবং আসিফকে এক বছরের জন্য নির্বাসিত করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দু’জনকেই সে বার ভারতে আয়োজিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকে শেষ মুহূর্তে বাদ পড়তে হয়েছিল। ডোপ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। মণির দাবি, শুধু এই দু’জন নন। পাকিস্তানের আরও কয়েক জন ক্রিকেটার ভারতে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আসেনি।

  • OBC Case: শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া! সুপ্রিম কোর্ট থেকে ওবিসি মামলা প্রত্যাহার করে নিল শুভেন্দু-সরকার

    OBC Case: শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া! সুপ্রিম কোর্ট থেকে ওবিসি মামলা প্রত্যাহার করে নিল শুভেন্দু-সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীর্ষ আদালত থেকে ওবিসি মামলা (OBC Case) প্রত্যাহার করে নিল রাজ‍্য সরকার। একদিন আগেই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ওবিসি সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করা হবে। সেই মতো মঙ্গলবার সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চকে জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা এই মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে, রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনও তাদের পৃথক আপিল প্রত্যাহার করেছে। কমিশনের তরফে আইনজীবী কুণাল চট্টোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা সুপ্রিম কোর্টকে জানান।

    শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ

    ২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৫টি মুসলিম সম্প্রদায়-সহ মোট ৭৭টি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০২৪ সালের মে মাসের হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। কিন্তু, বিজেপি ক্ষমতায় এসেই জানিয়ে দেয়, ওবিসি তালিকা নিয়ে পূর্বতন সরকারের মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করবে তারা। সেইমতো এদিন মামলা প্রত্যাহার করে নিল বর্তমান রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চ মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অন্য কোনও পক্ষ চাইলে নিজেদের মামলা চালিয়ে যেতে পারবে।

    শুভেন্দু-সরকারের ভাবনা

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দু’টি নতুন বিল পাশ করিয়ে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণের পুরো কাঠামো ফিরিয়ে এনেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তাতে ২০১০ সালের আগের সমীক্ষার ভিত্তিতে স্বীকৃত শুধুমাত্র ৬৬টি সম্প্রদায়কেই ওবিসি তালিকায় রাখা হয়েছে। ওবিসি স্বীকৃতি বাদ গিয়েছে ৭৭টি সম্প্রদায়ের। ধর্মের ভিত্তিতে মুসলিমদের ওবিসি তালিকাভুক্ত করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া হয়েছে— এই যুক্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গে বাম জমানার শেষ পর্ব থেকে তৃণমূল জমানার গোড়া পর্যন্ত ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছিল। গত দু’বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই রায়ে স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়ছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকার জন্য এই ওবিসি মামলার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক নিয়োগ কবে হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ওবিসি সংরক্ষণের জটিলতায় নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে।

  • FIFA World Cup 2026: ষোল বছর পর ফ্রান্সকে একপেশে ম্যাচে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন, সামনে কে আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড?

    FIFA World Cup 2026: ষোল বছর পর ফ্রান্সকে একপেশে ম্যাচে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন, সামনে কে আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ষোল বছর পর ফের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে স্পেন। গতবারের রানার্স ফ্রান্সকে প্রায় একপেশে ম্যাচে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালে ইয়ামালরা। তাদের সামনে ইউরো জয়ের দু’বছর পরে বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ। যে ‘ডাবল’ স্পেন আগেও করেছে ২০০৮ ইউরো ও ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে। আবারও বড় মঞ্চে ফ্রান্সের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান লামিন ইয়ামাল (Lamine Yamal)। আর আবারও শেষ হাসি স্পেনের। ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপেদের ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে উঠল লা রোজা।

    ডিগনে-র ভুলের খেসারত

    বক্সে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ইয়ামালের গায়ে সরাসরি পা চালিয়ে দেন ডিগনে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ম্যাচের ২০ মিনিটে এই ভুলের খেসারত দিতে হল দিদিয়ের দেশঁর দলকে। পেনাল্টি পায় স্পেন। গোল করতে ভুল করেননি মিকেল ওয়ারজাবাল। চলতি মরসুমে দেশের হয়ে ১৪টি গোল হয়ে গেল তাঁর। স্পেনের আর কোনও ফুটবলার এক মরসুমে দেশের জার্সিতে এত গোল করতে পারেননি। চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স। পিছিয়ে পড়লেও গুটিয়ে যায়নি ফ্রান্স। ধীরে ধীরে মাঝ মাঠে দাপট বাড়াতে থাকে তারা। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচ। দলগত কৌশল এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার লড়াইয়ে তবু বার বার আটকে গিয়েছে ফ্রান্স

    নজরবন্দি এমবাপে

    পারফরম্যান্সের নিরিখে বিশ্বকাপের সেরা দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল প্রথম সেমিফাইনালে। মাঠে ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি আগ্রহ ছিল দুই কোচের কৌশলের টক্কর নিয়েও। তাতে দেশঁকে পিছনে ফেলে দিলেন লুই দে লা ফুয়েন্তে। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেছিল স্পেন। পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তেরা মাঝ মাঠেই অফসাইডের ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন। ফর্মে থাকা এমবাপে এবং উসমান দেম্বেলে জুটিকে এক রকম অকেজো করে দেন অফসাইডের ফাঁদে ফেলে। প্রথমার্ধে একাধিক বার মাঝ মাঠ পেরিয়েই অফসাইডে আটকে যান এমবাপেরা! কুবারসি প্রায় সারাক্ষণ নজরবন্দি করে রাখেন ফরাসি অধিনায়ককে।

    স্পেনের রক্ষণে তাল কাটল ফ্রান্সের

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন এমবাপেরা। স্পেনের রক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করেন। তবে বক্সের মধ্যে তাল কেটে যায় এমবাপেদের। কয়েক বার পরিস্থিতি সামলান সিমন। স্পেন এ সময় খেলছিল প্রতি আক্রমণমূলক ফুটবল। ৫৮ মিনিটে তেমনই একটি আক্রমণে ভুল করে বসে ফরাসি রক্ষণ। বক্সের একদম ফাঁকায় বল পেয়ে যান পেদ্রো পোরো। ডান পায়ের শটে পরাস্ত করেন মাইক মাইগনান। আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। বলটা তো আমার, কাউকে দেব কেন— টিপিক্যাল স্প্যানিশ ফিলসফির এই চেনা ছবিটাই ডালাসের স্টেডিয়ামে প্রকট হয়ে ওঠে। অপ্রতিরোধ্য এমবাপে–ওলিজে–দেম্বেলেরা মঙ্গলবার রাতে স্প্যানিশ ডিফেন্সের সামনে যেন খোলসে ঢুকে পড়লেন।

    জমাট রক্ষণে বিশ্বকাপের স্বপ্ন

    গোটা বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সের মতো অ্যাটাক সামলাতে হয়নি স্পেনকে। আবার স্পেনের মতো ডিফেন্সের সামনেও পড়েনি ফ্রান্স। শেষ চারের এই টক্করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেনই দেখিয়ে দিল, কী ভাবে এমবাপে–ওলিজদের ডিফেন্ড করতে হয়। ফ্রান্সের ফ্লুইড গতি থামিয়ে দিল স্পেনের মাঝমাঠ ও ডিফেন্সিভ অর্গানাইজেশন। বিশ্বকাপের সেরা সেন্টারব্যাক জুটি কুবার্সি–লাপোর্তে এবং তাঁদের সামনে রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইস বারবার রুখে দিচ্ছিলেন দেম্বেলে–ওলিজেদের। আর বলতেই হবে স্প্যানিশ লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেইয়ার কথা। মাঠের প্রায় সব জায়গাতেই যেন হাজির হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সে রকমই তৎপর ছিলেন কিপার উনাই সিমোন। কখনও বক্সের ভিতরে লাফিয়ে, কখনও বক্সের বাইরে বেরিয়ে সামাল দিচ্ছিলেন ফরাসি আক্রমণ। সাত ম্যাচে এটি তাঁর ছয় নম্বর ক্লিনশিট। পুরো টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন (Spain vs France)। ফাইনালে তাদের সামনে মেসিই থাকুন বা কেন-বেলিংহ্যাম বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে স্পেন।

    স্পেনের সামনে কে?

    দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার রাতে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড। দুটো দেশের অতীত ফুটবল ইতিহাসে গৌরব আর কলঙ্ক হাত ধরাধরি করে থাকলে কী হবে, এই সেমিফাইনালে এখন সেগুলো স্রেফ পুরোনো অলঙ্কার বিশেষ। স্বয়ং মেসি ইতিহাস না টেনে বলছেন, ‘সত্যিটা হলো, এটা স্পেশ্যাল ম্যাচ, কারণ সব টিমের বিরুদ্ধে খেললেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমি কখনও খেলিনি। বিগ টিম, পাওয়ার হাউস। সেটা মাথায় আছে টিমের।’ আবার ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার ওরিলির বক্তব্য, ‘মেসির বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়াটা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু ইংল্যান্ডকে জেতাতে মাঠে আসুন।’

    ইংল্যান্ডের সামনে মেসি-ফ্যাক্টর

    ২০০২ সালে যখন বেকহ্যামের পেনাল্টিতে ইংল্যান্ড জিতেছিল, জুড বেলিংহ্যাম জন্মাননি, মেসির বয়স ছিল ১৫! মোট ২০৫টা আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১২৫ গোল, কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে কোনওদিন মেসিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামতে হয়নি। বিশ্বকাপে টানা আটটা ম্যাচে গোলের পরে নয় নম্বর ম্যাচে সুইসদের বিরুদ্ধে প্রথমবার গোল আসেনি। মেসিকে সামান্য ক্লান্তও দেখিয়েছে। ওয়েন রুনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন সে কথা, ‘মেসি ডিফেন্সকে সাহায্য করতে নীচে নেমে আসে না। মেসি মানে মুহূর্তের মনোসংযোগ ও কমিউনিকেশন। এমন জায়গায় পৌঁছে যাওয়া, যা কেউ ভাববে না। এখানেই সতর্ক থাকতে হবে ইংল্যান্ডকে।’

    দুই কোচের স্বপ্ন

    ফিফার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এ বার বারবার আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে উঠেছে। কিন্তু সে সব ছাপিয়ে টিম শেষ চারে পৌঁছেছে। বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত থাকাটা ফ্লুকে অসম্ভব। গোটা টিম মেসিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত, গোটা টিম আপ্রাণ চেষ্টা করেছে, যাতে ফুটবল ঈশ্বরের জীবনের শেষ বিশ্বকাপ হঠাৎ যেন শেষ না হয়ে যায়। কোচ স্কালোনি বলছেন, ‘এই টিম কী করে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসে, আমি নিজেই বলতে পারব না। একটাই বোধহয় ব্যাখ্যা হয়। এরা জানে, জেতা ছাড়া আর্জেন্তিনার কোনও বিকল্প নেই।’ ১৯৬৬ সালের পরে ৬০ বছর পরে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। সে দেশের মিডিয়াই মেনে নিচ্ছে, জুড বেলিংহ্যাম না থাকলে ইংল্যান্ড মোটেই সেমিফাইনালে যায় না। হ্যারি কেন নন, রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডারই এ বার থ্রি লায়ন্সের আসল নায়ক। মেক্সিকো এবং নরওয়ে, পরপর দুটো ম্যাচে ব্রেস (জোড়া গোল), ১৯৮৬ সালে মারাদোনার পরে একটা বিশ্বকাপে পরপর দুটো নক আউটে জোড়া গোল করার রেকর্ড এখন বেলিংহ্যামের।

     

     

  • Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। তবে মশাবাহিত এই রোগে শুধু সংক্রমণের দাপটের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে না। উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই রোগের বদলে যাওয়া প্রকৃতি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তবে, রোগের চরিত্র বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ম্যালেরিয়ার দাপটকে কাবু করতে আরো সক্রিয় ওষুধ তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। খোদ কলকাতাতেই পরীক্ষা চলছে। আক্রান্তের কাছে একটা ডোজ পৌঁছে গেলেই, ম্যালেরিয়ার দাপট কমবে। গবেষকেরা এমনটাই আশা করছেন।

    কেন ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার বদল হচ্ছে। পৃথিবী জুড়েই জলবায়ুর পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানির মতো ইউরোপের দেশগুলোর পাশপাশি ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে জলবায়ুর পরিবর্তনের বিশাল প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যে। একাধিক রোগের প্রকৃতি বদল হচ্ছে। নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার চরিত্র ও বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের জেরে বদলে গিয়েছে ম্যালেরিয়ার চরিত্র। মশাবাহিত এই রোগ আগের থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

    বদলে যাওয়া রূপে কতখানি বিপদ বাড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ার ওষুধ রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তাই ম্যালেরিয়া তুলনামূলক কম বিপজ্জনক বলেই মনে হয়। কিন্তু চরিত্র বদল করে ম্যালেরিয়া ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সাধারণত দুই তিন দিন জ্বরের পরে পরীক্ষা করিয়ে আক্রান্ত সংক্রমণের বিষয়ে জানতে পারেন। তারপরে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু নতুন চরিত্রের এই ম্যালেরিয়া মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই শরীরে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষত অন্ত্র, লিভার, মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে, শরীরের সক্রিয়তা কমছে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বাজার চলতি ওষুধে রোগ প্রতিরোধ করতে যে সময় নিচ্ছে, তাতে আক্রান্তের অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠছে। ফলে, মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ম্যালেরিয়া সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

    নয়া দাওয়াইয়ে কেন বাড়তি ভরসা?

    কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ম্যালেরিয়া নিয়ে নতুন ওষুধের পরীক্ষা চলছে। প্রস্তুতি পর্ব প্রায় শেষের দিকে। কর্তৃপক্ষের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন ওষুধ ম্যালেরিয়ার বাড়তি সঙ্কটের বোঝা কমাতে পারবে। তাঁরা আশাবাদী, ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হয়ে যাওয়ায়, যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় নতুন ওষুধ বাড়তি সাহায্য করবে। নতুন ওষুধের চতুর্থ পর্বের ট্রায়াল চলছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন ওষুধ মাত্র একটা ডোজেই কাজ করবে। যে কোনও রকমের ম্যালেরিয়া মোকাবিলা করতে এক ডোজেই সাহায্য হবে। বাজার চলতি ম্যালেরিয়ার ওষুধ একাধিকবার খেতে হয়। ম্যালেরিয়া এখন আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে দ্রুত নিরাময় জরুরি। না হলেই লিভার, অন্ত্র ও মস্তিষ্ক বিকল হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই ম্যালেরিয়া দ্রুত নিরাময় করতে সাহায্য করবে, এমন ওষুধ প্রয়োজন। নতুন ওষুধ সেই কাজে সক্ষম হবে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কলকাতা ও তার আশপাশে কেন বাড়ছে ম্যালেরিয়ার দাপট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক বছরেই ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে একদিকে ম্যালেরিয়া আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আবার আরেকদিকে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জনসচেতনতার অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া সহ একাধিক জেলায় দাপট বাড়াচ্ছে। গত বছরেও জুন মাস থেকে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছিল। চলতি বছরেও এই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় অধিকাংশ জায়গায় নিকাশি ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। কলকাতা সহ একাধিক জেলায় মারাত্মক জল জমে। একদিন বৃষ্টি হলেই কয়েক দিন ধরে জমা জলের ভোগান্তি থাকে। এগুলো মশার বংশবিস্তার করে। তাছাড়া পরিচ্ছন্ন বাগান, বাড়ির আশপাশের এলাকায় জল জমলেও মশাবাহিত রোগের দাপট বাড়তে থাকে। তাই ম্যালেরিয়ার দাপট ও বাড়ে।
    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, প্রচন্ড জ্বর, তীব্র মাথার যন্ত্রণা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে ম্যালেরিয়া মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

  • India-UK FTA: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর! সস্তা হবে স্কচ, চকোলেট, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ভারতীয় রফতানি

    India-UK FTA: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর! সস্তা হবে স্কচ, চকোলেট, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ভারতীয় রফতানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (CETA) বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে একদিকে যেমন ভারতে স্কচ হুইস্কি, জিন, চকোলেট, বিস্কুট, প্রসাধনী-সহ একাধিক ব্রিটিশ পণ্য ধাপে ধাপে সস্তা হবে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হবে। ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য খুলে যাবে বিশাল বাজার। প্রায় এক বছর আগে, ২৪ জুলাই ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত এই চুক্তি ১৪ দফা আলোচনার পর চূড়ান্ত হয়। মোট ৩০টি অধ্যায় নিয়ে তৈরি এই চুক্তিতে শুধু পণ্যের শুল্ক হ্রাস নয়, ডিজিটাল বাণিজ্য, টেলিকম, আর্থিক পরিষেবা, মেধাস্বত্ব, উদ্ভাবন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, টেকসই উন্নয়ন, সরকারি ক্রয় এবং স্বচ্ছতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    ভারতীয় রফতানিতে বড় সুবিধা

    এই চুক্তির ফলে ব্রিটেনে ভারতীয় পণ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে শূন্য শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এর ফলে বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, সামুদ্রিক খাদ্য, খেলনা, ক্রীড়াসামগ্রী, রত্ন ও গয়না শিল্প সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, অটো পার্টস, ইঞ্জিন এবং জৈব রাসায়নিক রফতানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ব্রিটিশ পণ্য হবে আরও সস্তা

    ভারত ধাপে ধাপে ৯০ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে শুল্ক কমাবে বা তুলে দেবে। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ পণ্য আগামী ১০ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত হবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবে ব্রিটিশ স্কচ হুইস্কি ও জিন শিল্প। বর্তমানে স্কচের ওপর ১৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রথম ধাপে ৭৫ শতাংশে নামবে এবং আগামী ১০ বছরে তা ৪০ শতাংশে নেমে আসবে। এছাড়া নির্দিষ্ট কোটার আওতায় ব্রিটিশ গাড়ির ওপর বর্তমান ১১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধাপে ধাপে কমে ১০ শতাংশে পৌঁছাবে। বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও একইভাবে পর্যায়ক্রমে শুল্ক কমানো হবে। চকোলেট, মিষ্টি বিস্কুট, সফট ড্রিংকস এবং বিভিন্ন ব্রিটিশ খাদ্যপণ্যও এই চুক্তির ফলে তুলনামূলক সস্তা হবে।

    ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য বড় স্বস্তি

    চুক্তির পাশাপাশি ডাবল কন্ট্রিবিউশন কনভেনশন (DCC)-ও ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে ব্রিটেনে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের আর দুই দেশেই একসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা (Social Security) বাবদ অর্থ জমা দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ালের দাবি, এর ফলে ভারতীয় কর্মীরা তাঁদের বেতনের প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন এবং সেই অর্থ ভারতের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF)-এ জমা হয়ে সুদও পাবে।

    দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন গতি

    ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৫.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের ২৩.১৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেশি। তবে একই সময়ে ব্রিটেন থেকে ভারতের আমদানি ৩৬.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১.৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমে ১.৭৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবর্ষে ছিল ৫.৯৭ বিলিয়ন ডলার।

    ২০৪০ সালের মধ্যে বাণিজ্যে বড় সাফল্যের আশা

    ব্রিটেন সরকারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের বাজারে ব্রিটিশ রফতানি প্রায় ৬০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ভারতীয় রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কৃষিক্ষেত্রে ভারতের সুরক্ষা, বিস্তৃত সহযোগিতা

    ভারত এই চুক্তিতে দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় দুগ্ধজাত পণ্য, আপেল, চিজ, চিনি, চাল, শূকরের মাংস, মুরগি ও ডিমের মতো সংবেদনশীল কৃষিপণ্যকে শুল্ক ছাড়ের বাইরে রেখেছে। ফলে দেশীয় কৃষি ও দুগ্ধ শিল্পের ওপর বিদেশি প্রতিযোগিতার চাপ বাড়বে না। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে ডিজিটাল বাণিজ্য, গবেষণা ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, মেধাস্বত্ব, নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ, পেশাজীবীদের অস্থায়ী চলাচল এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় সহযোগিতার মতো একাধিক নতুন ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে ইস্পাত রফতানির কোটা ব্যবস্থা এবং ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে চলা ব্রিটেনের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (CBAM) নিয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে ভারতীয় ইস্পাত রফতানিকারকদের এই নতুন নিয়মের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

  • Ankit Sharma Murder Case: আই বি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ছয় বছর পর দোষী তাহির হুসেন

    Ankit Sharma Murder Case: আই বি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ছয় বছর পর দোষী তাহির হুসেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ছয় বছর পর মিলল বিচার। ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার সময় ইন্টিলিজেন্স ব্যুরোর আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা হত্যাকাণ্ডে (Ankit Sharma Murder Case) প্রাক্তন আম আদমি পার্টি কাউন্সিলর তাহির হুসেন-সহ (Tahir Hussain) পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করল দিল্লির একটি আদালত। সোমবার করকরডুমা আদালত তাহির হুসেন, জাভেদ, আনাস, নাজিম এবং কাসিমকে হত্যাকাণ্ডে দোষী ঘোষণা করেছে। সোমবার রায়ে তাহিরের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গায় অংশ নেওয়া, হামলা এবং খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিচারক। তবে এখনও শাস্তি ঘোষণা হয়নি প্রাক্তন আপ নেতার।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় মোট ১১ জনের জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে ৬ জনকে বেকসুর খালাস করেছে আদালত। বিচারক জানিয়েছেন, ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ পেশ করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। আর পাঁচ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দোষীদের সাজা এখনও ঘোষণা করেনি আদালত। সাজা নির্ধারণ নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট মামলার অভিযোগ ও নথিপত্র বিবেচনা করে তাহির হুসেনের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। ইতিমধ্যেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন তাহিরের আইনজীবী আবদুল গফফর।তাহিরকে দোষী সাব্যস্ত করার পরেই তাঁর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন নিহত আইবি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মার ভাই অঙ্কুর শর্মা।

    দিল্লি পুলিশের দাবি

    ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলছা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরপেক্ষ তদন্তই অগ্রাধিকার ছিল। তদন্তকারী দল সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে পেশ করেছে। আদালতের রায়ে সেই তদন্তেরই প্রতিফলন ঘটেছে।’ উল্লেখ্য, ২০২০-তে সিএএ বিরোধী আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা দিল্লি। রাজধানী জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল হিংসা। চলছিল দেদার লুটপাট, ভাঙচুর। সেই সময়ে খাজুরি খাস এলাকার একটি নর্দমা থেকে আইবি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর শরীরে ৫১টি ছুরির আঘাত ছিল বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, পরিচয় গোপন করতে মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা।

  • Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের অশান্ত হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যে। দুই দেশ আমেরিকা-ইরানের (US Iran Conflicts) মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত। মার্কিন হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। আর এই দুই মহাশক্তির ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন একজন ভারতীয় নাবিক (Indian Killed), আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা যেমন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে, তেমনই এক ধাক্কায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

    নিহত ১ ভারতীয়, আহত আরও ৬

    জানা গিয়েছে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় ‘মোমবাসা’ (Mombasa) ‘আল বাহিয়াহ’ (Al Bahiyah)নামে দুটি আমিরশাহির তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ‘মোমবাসা’ জাহাজেই নিহত ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দু’জন ইউক্রেনের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর দুই জাহাজেই আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছে ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। যোগাযোগ করা হচ্ছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও।

    কড়া প্রতিক্রিয়া আরব আমিরশাহির

    আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। যেকোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের সেনাবাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা ব্যবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রয়েছে।

    কেন হামলা, জানাল ইরান

    ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, দু’টি ট্যাঙ্কার তাদের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করেছিল। জাহাজগুলি নাকি নিজেদের নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে ‘মাইন পাতা রুট’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই কারণেই ওই জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। আইআরজিসি-র অভিযোগ, আমেরিকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে একটি ভুল রুট ব্যবহার করতে উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হতে আরও দেরি হবে এবং বিশ্ব জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ঘটনার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক ধাক্কায় ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮১.৯২ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এটি যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ ১২০ ডলারের চেয়ে কম, তবুও বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    আবার মার্কিন হামলা ইরানে

    পরপর তিনদিন ইরানের উপর হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা। পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরানও। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন পরিকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা খুব জোরালোভাবে আঘাত করেছি। ইরানের আক্রমণ করার ক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে থাকবে এবং অবরোধও ফের কার্যকর করা হচ্ছে।” এদিকে হরমুজে যাতায়াতকারী জাহাজের উপর করও আরোপ করেছে আমেরিকা।

    হরমুজের রক্ষাকর্তা আমেরিকা!

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবার নিজেদের হাতে নিতে চলেছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, এই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ সুরক্ষিত রাখার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্প মার্কিন প্রশাসনকে এই জলপথের রক্ষাকর্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী এই প্রণালীটি পরিচালনা করবে এবং এর নতুন নাম দেবে ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন পারস্য উপসাগরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত চলছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পারষ্পরিক দাবি-পাল্টা দাবি তুঙ্গে উঠেছে।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই, এই রুটে যেকোনও ধরনের সামরিক অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সেনার পাহারার কারণেই এতদিন এই রুট নিরাপদ ছিল, তাই বিশ্ববাসীর উচিত এর খরচ মেটানো। ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তেহরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মার্কিন হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অনুমতি ছাড়া কোনও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা সেনাদল হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলিকেও মার্কিন বাহিনীর পাশে না দাঁড়াতে সতর্ক করেছে তেহরান। বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনও ধরনের সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বলে গণ্য করা হবে। এই সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলি।

  • FIFA World Cup 2026: ইউরোপীয় মহারণ! বিশ্বকাপের শেষ চারে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন, এগিয়ে কারা?

    FIFA World Cup 2026: ইউরোপীয় মহারণ! বিশ্বকাপের শেষ চারে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন, এগিয়ে কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হতে চলেছে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রথম দুই দেশ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন (France vs Spain)। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপে এটাই হবে দুই দলের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। প্রথমটি হয়েছিল ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। শেষ ষোলোর সেই ম্যাচে ফ্রান্স ৩-১ গোলে হারায় স্পেনকে। তবে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্স ও স্পেন ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। লা রোহা ব্রিগেডের জয় ১৮টি। ফরাসিরা জিতেছে ১৩ বার। ড্র ৭টি। ২০২৫ নেশনস লিগের সেমি-ফাইনালে দু’দলের শেষ সাক্ষাতে ইয়ামালের জোড়া গোলে ৫-৪ জয় স্পেনের।

    দুই দলের কে কোথায় এগিয়ে-পিছিয়ে

    এমবাপেই ফ্রান্সের সবচেয়ে বিধ্বংসী অস্ত্র। ৮টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্টের সুবাদে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার সামনে তিনি। এছাড়া আক্রমণভাগে ডেম্বেলে (৫টি গোল) এবং মাইকেল ওলিসেও (৫টি অ্যাসিস্ট) দুর্দান্ত ফর্মে। অন্যদিকে, মাঠমাঝে রড্রি ও অ্যাটাকিং থার্ডে ড্যানি ওলমো স্পেনকে পরিচালনা করছেন। ওয়ারজাবালের নামের পাশে ৪টি গোল। কোচের আস্থার মর্যাদা রাখছেন সুপার-সাব মিকেল মেরিনো। সেরা তারকা লামিনে ইয়ামালও ক্রমশ ছন্দে ফিরছেন। অত্যন্ত শক্তিশালী ও ঈর্ষণীয় আক্রমণভাগ ফ্রান্সের। ডেম্বেলের সঙ্গে এমবাপের যুগলবন্দি দুর্দান্ত জমেছে। মাঝমাঠে খেলা তৈরি করছেন ওলিসে ও ডুয়ে। তবে, গ্রুপ পর্বে ফরাসিদের রক্ষণভাগে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল। নক-আউটে গত তিনটি ম্যাচে গোল হজম না করলেও ছোটোখাটো ভুল চোখে পড়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত এমবাপে নির্ভরতা কাটাতে হবে। শক্তিশালী মাঝমাঠ স্পেনের ভরসা। সঙ্গে সুদৃঢ় রক্ষণভাগ। ছয় ম্যাচে স্পেন মাত্র একটি গোল খেয়েছে। বল দখলে রেখে খেলার দক্ষতায়ও লা রোহা ব্রিগেড প্রতিপক্ষের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। যদিও আক্রমণভাগে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও ভেদশক্তির অভাবে ভুগছে স্প্যানিয়ার্ডরা। ইয়ামালকেও আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।

    সাম্প্রতিক দ্বৈরথে স্পেনের দাপট

    বিশ্বকাপে না হলেও দুই দলের সাক্ষাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনই বেশি সফল। ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে নয় গোলের এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে স্পেন ৫-৪ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারায়। সেই ম্যাচে লামিনে ইয়ামাল জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক হন। এরও এক বছর আগে, ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে স্পেন ২-১ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। ওই ম্যাচে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল ও দানি ওলমো। তবে ২০২১ সালের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে ফ্রান্স ২-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। এবার দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। একদিকে কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে ফ্রান্স, অন্যদিকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তাই ডালাসের সেমিফাইনালটি হতে পারে পুরো বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা লড়াই। ভারতীয় সময় আজ ১২:৩০ টায় শুরু হওয়া এই লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে।

LinkedIn
Share