Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Asha Bhosle Funeral: চোখের জলে বিদায়,আবেগে ভাসল দেশ! রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য

    Asha Bhosle Funeral: চোখের জলে বিদায়,আবেগে ভাসল দেশ! রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চোখের জলে বিদায় সুরের সম্রাজ্ঞীকে। শিবাজী পার্ক শ্মশানে সম্পন্ন হল আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য। ত্রিবর্ণ পতাকায় মোড়া দেহ, শেষ শ্রদ্ধায় ভিড় উপচে পড়ল মুম্বইয়ের রাজপথে। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলেকে (Asha Bhosle Died) বিদায় জানাতে আবেগে ভাসল দেশ। উপস্থিত সচিন থেকে আমির খান। চোখে জল সকলের!

    শোকের আবহ

    মুম্বইয়ের লোয়ার পারেলে শোকের আবহ। সোমবার শেষযাত্রার আগে আশা ভোসলেকে তাঁর বাসভবনেই শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিজন ও অনুরাগীরা। কাসা গ্র্যান্ডে শিল্পীর বাড়িতে সোমবার পৌঁছে যান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। সেখানেই প্রয়াত শিল্পীকে শেষশ্রদ্ধা জানান তিনি। আশার শায়িত দেহে দেশের জাতীয় পতাকা জড়িয়ে দেওয়া হয় এই দিন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান জানানো হয় তাঁকে। বলিউডের বহু তারকা এসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আশার পরিবারের সকলেও সোমবার শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিতেশ দেশমুখ, তব্বু। সপরিবার শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন সচিন তেন্ডুলকরও। গোটা পরিবেশ এদিন ছিল গম্ভীর ও স্তব্ধ। নীরবতা, প্রার্থনা আর আবেগে ভরা এক আবহে চলে শেষ শ্রদ্ধা জানানো। বিকেল ৪টের সময়ে শিবাজী পার্কে আশার শেষকৃত্য (Asha Bhosle Funeral) সম্পন্ন হয়। শনিবার আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আশা ভোসলে। খবর ছড়াতেই উদ্বেগ ছড়ায় অনুরাগীদের মধ্যে। সকলে প্রার্থনা শুরু করেছিলেন।তবে শেষরক্ষা হয়নি। রবিবার প্রয়াত হন আশা ভোসলে।

    সব ধরনের গানেই সমান সাবলীল

    ভারতীয় সংগীতে আশা ভোঁসলের অবদান অনস্বীকার্য। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে গজল, ক্যাবারে থেকে আধুনিক—সব ধরনের গানেই সমান সাবলীল ছিলেন তিনি। গানের সংখ্যা এবং বৈচিত্র—দুই ক্ষেত্রেই ছিলেন অনন্য। একদিকে যেমন ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইয়ে মেরা দিল’–এর মতো ক্যাবারে ও ওয়েস্টার্ন ধারার গান। অন্য দিকে আবার ‘ইন আঁখোঁ কি মস্তি’, ‘মেরা কুছ সামান’, ‘দিল চিজ় ক্যা হ্যায়’–এর মতো গজল ও আধুনিক সুরে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। তাঁর নাম রয়েছে সর্বাধিক স্টুডিও রেকর্ডিংয়ের বিশ্বরেকর্ডে। দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে মিলেই হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের সোনালি যুগ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে সকলের থেকে আলাদা করেছে বরাবর। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন, ২০০৮ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। এ ছাড়া, ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। গোটা কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল শৈশবে, বাবার মৃত্যুর পর। তারপর দীর্ঘ পথচলায় একের পর এক সাফল্য, স্মরণীয় গান আর অগণিত অনুরাগী—সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক অমলিন উত্তরাধিকার। তাঁর প্রয়াণে সেই অধ্যায়েরই অবসান কিন্তু রয়ে গেল তাঁর গান, যা বেঁচে থাকবে চিরকাল।

  • US Iran War: ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা ব্যর্থ, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

    US Iran War: ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা ব্যর্থ, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরুতেই ব্যর্থ ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ (Islamabad Talk Collapses)। ফলে নতুন করে ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ (US Iran War) বাধা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে গত ১১ এপ্রিল ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ আয়োজিত হয় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে। সেখানে যোগ দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও ইরানি পার্লামেন্টের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বেশ কিছু ক্ষণ পর শান্তি বৈঠক থেকে বেরিয়ে দু’পক্ষই জানিয়ে দেয় যে আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। পরে এই নিয়ে আলাদা আলাদা করে বিবৃতি দিয়েছেন ভান্স ও গালিবাফ। সেখানে একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।

    বৈঠক ভেঙে যাওয়ার প্রেক্ষাপট

    এই বৈঠককে গত কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বৈঠক শেষে ভ্যান্স স্পষ্টভাবে জানান, “ইরান আমাদের চূড়ান্ত প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করেছে।” অন্যদিকে তেহরানের অভিযোগ—মার্কিন দাবি “অতিরিক্ত” এবং “আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী”। ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভান্স। তা ছাড়াও ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন বিশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কাশনার। ভান্স তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘আমরা কোনও সমঝোতায় পৌঁছোতে পারিনি। এই খবর আমেরিকার চেয়ে ইরানের জন্য বেশি খারাপ। সমঝোতা ছাড়াই আমরা আমেরিকায় ফিরে যাচ্ছি। আমাদের শর্তগুলো খুব পরিষ্কার ভাবে ওঁদের জানিয়েছি, কী আমরা চাই এবং কী চাই না। যতটা সম্ভব স্পষ্ট করেই আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। ওরা সেটা মানতে চায়নি।’ বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্পের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ রেখেছিলেন ভান্সরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, ৬ থেকে ১২ বার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের ফোনে কথা হয়েছে। ট্রাম্পের বলে দেওয়া প্রস্তাবগুলিই ইরানের সামনে রেখেছিলেন ভান্স। তাতে ইরানের জবাব, তাদের অবস্থান ফোনেই ট্রাম্পকে তিনি জানান। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও সুরাহা হল না।

    আলোচনা ভাঙার পিছনে কারণ

    ইসলামাবাদ বৈঠকের ব্যর্থতা শুধু একটি কূটনৈতিক পরাজয় নয়—এটি পুরো পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ‘চোকপয়েন্ট’। যুদ্ধ থামার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও অস্থির হয়ে উঠছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়নি, কিন্তু পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। যে কোনও সময় আবার বড় আকারে হামলা শুরু হতে পারে। ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

    পারমাণবিক চুক্তি

    একটি জায়গাতেই ইরান-আমেরিকা (US Iran War) আলোচনা ধাক্কা খেয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভান্স। জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক বোমা তৈরি না-করার নিশ্চয়তা চান তাঁরা। তা মেলেনি। ভান্সের কথায়, ‘‘সহজ সত্যিটা হল, আমরা ইরানের কাছ থেকে পরমাণু বোমা তৈরি না-করার বিষয়ে একটা ইতিবাচক নিশ্চয়তা চাই। ওদের বলতে হবে যে, ওরা বোমা বানাবে না এবং পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা উপাদানও হাতে রাখবে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এটাই। সেই সমঝোতাতেই আমরা পৌঁছোতে চেয়েছি। ভান্সের এই বিবৃতির পর ইরান দাবি করেছে, আমেরিকার অবাস্তব, অযৌক্তিক দাবির কারণেই পাকিস্তানে আয়োজিত বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান যেন স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা ত্যাগ করে। কিন্তু ইরান এটিকে তার সার্বভৌম অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে প্রত্যাখ্যান করে।

    হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ

    হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহনের পথ—এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। ইরান দাবি করে, তারা এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইঙ্গিত দেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে “নৌ অবরোধ” (Naval Blockade) ব্যবহার করা হতে পারে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে, ইরানের তেল রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—যার বড় প্রভাব পড়বে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলিতে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ। কয়েকটি জাহাজই কেবল ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ইরানের পাতা মাইন (naval mines) বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    লেবানন ইস্যু

    ইরান চেয়েছিল লেবানন-এ হেজবোল্লাহ-র বিরুদ্ধে ইজরায়েল-এর হামলা বন্ধ হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল জানায়, এটি আলাদা বিষয়—এবং হামলা চলতেই থাকবে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

    তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে। বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কাতার ও কুয়েত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তারা সম্পূর্ণভাবে এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপগুলি চোখে পড়েতে পারে। বেড়ে যাবে মার্কিন নৌবাহিনীর টহল ও জাহাজ আটক-এর ঘটনা। ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। ইরানের পক্ষ থেকে প্রক্সি যুদ্ধের বিস্তার ঘটতে পারে।

  • Karnataka Congress: কর্নাটকে কংগ্রেসে অসন্তোষ তুঙ্গে, ৩০-র বেশি বিধায়কের দিল্লি অভিযান

    Karnataka Congress: কর্নাটকে কংগ্রেসে অসন্তোষ তুঙ্গে, ৩০-র বেশি বিধায়কের দিল্লি অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্নাটকে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের (Karnataka Congress) অন্দরে ক্রমশই বাড়ছে অসন্তোষ। মন্ত্রিসভায় রদবদল এবং নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে ৩০ জনেরও বেশি কংগ্রেস বিধায়ক রবিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তাঁরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে এই দাবি জানাবেন বলে জানা গিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, দিল্লিতে গিয়ে বিধায়করা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে.সি. ভেনুগোপাল, কর্নাটক দায়িত্বপ্রাপ্ত রণদীপ সুরজওয়ালা এবং রাহুল গান্ধীর-র সঙ্গে বৈঠক করবেন। সোম ও মঙ্গল এই দু’দিনের মধ্যেই বৈঠকগুলি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কী নিয়ে বিক্ষোভ কর্নাটক কংগ্রেসে

    বিধায়কদের মূল দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া যেন দ্রুত মন্ত্রিসভায় রদবদল করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ না পাওয়া সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রীত্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস বিধায়ক বেলুর গোপালকৃষ্ণ বলেন, “অনেক নেতাকে তিন, চার, এমনকি পাঁচবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই যারা এখনও সুযোগ পাননি, তাঁদেরও এবার সুযোগ দেওয়া হোক।” অন্যদিকে, বিধায়ক অশোক পট্টন জানান, “আমাদের একটাই দাবি—যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মন্ত্রিসভা রদবদল করে আমাদের মতো সিনিয়র সদস্যদের সুযোগ দিতে হবে।” উল্লেখ্য, কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের প্রায় তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই মন্ত্রী কে.এন. রাজন্না এবং বি. নাগেন্দ্রের পদত্যাগের ফলে দুটি মন্ত্রিসভার আসন খালি রয়েছে। বিধায়কদের অভিযোগ, বহু বর্তমান মন্ত্রী একাধিকবার দায়িত্ব পেয়েছেন, ফলে অন্যদের জন্য সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

    ২৫টি মন্ত্রিত্বে পরিবর্তনের দাবি

    সূত্রের খবর, প্রায় ২৫টি মন্ত্রিত্বে পরিবর্তনের দাবি উঠতে পারে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য কংগ্রেসে (Karnataka Congress) গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের শিবিরের মধ্যে মতভেদের ইঙ্গিত মিলছে। যেখানে সিদ্দারামাইয়ার অনুগামীরা রদবদলের পক্ষে, সেখানে শিবকুমার এই প্রস্তাবে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। এখন কংগ্রেস হাইকম্যান্ড এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Assembly Elections 2026: ফের শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্র হবে বাংলা! পুরুলিয়ার সভা থেকে তরুণদের উদ্দেশে বার্তা শাহের

    Assembly Elections 2026: ফের শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্র হবে বাংলা! পুরুলিয়ার সভা থেকে তরুণদের উদ্দেশে বার্তা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তরুণদের উপার্জনের জন্য ভিন্‌রাজ্যে যেতে হবে না। বাংলা আবার আগের মতো শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্র হবে। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে এই কথা ঘোষণা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মমতার সরকারকে বিঁধে শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ৭০০০ কারখানা বন্ধ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব কারখানা বাইরে চলে গিয়েছে। আমাদের আদিবাসী, কুড়মি ভাইয়েরা উপার্জন করতে পারেন না। এখান থেকে বেঙ্গালুরু, আহমেদাবাদ, দিল্লি, মুম্বই যেতে হয়। বিজেপির সরকার গঠন করুন। আমরা পশ্চিমবঙ্গকে আবার আগের মতো শিল্পোদ্যোগের কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্পূর্ণ চেষ্টা করব। তত দিন পর্যন্ত সকল বেকারকে মাসে তিন হাজার টাকা করে বেকার ভাতা দেওয়া হবে।” শাহ বলেন, “এ বার পুরুলিয়ার ৯টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই বিজেপি-কে জেতাতে হবে। ক্লিন সুইপ করে দিন।”

    এসআইআর নিয়ে হুঁশিয়ারি!

    এদিনের সভা থেকে শাহ বলেন, “নির্বাচন কমিশন এসআইআর করছে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। আর মমতা দিদির সমস্যা শুরু হয়ে গিয়েছে। এটা তো সবে শুরু হয়েছে। এখন ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সরকার গড়ুন, আমরা ওদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়াব। বিএসএফ-এর জমি দরকার কাঁটাতার বসানোর জন্য। ১৫ বছর ধরে তিনি জমি দিচ্ছেন না। বিজেপি স্থির করেছে, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি দেওয়া হবে। অনুপ্রবেশের পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।” এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বিঁধে শাহ বলেন, “আমাদের জঙ্গলের জমি অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্ত করতে হবে কি হবে না? ভাইপো এটা করতে পারবে? মমতা দিদি করতে পারবে? ওরাই তো এনে রেখেছে। ওদের তো ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু মমতা দিদি, আপনার সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। ৫ তারিখ বিজেপির সরকার আসবে। পুরো রাজ্য থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে তাড়াব।”

    প্রত্যেক ঘরে নলবাহিত জল!

    শনিবার দুপুরে বাঁকুড়ায় জোড়া জনসভা করেছেন অমিত শাহ। প্রথমে ওন্দায় এবং তার পরে ছাতনায় সভা করেন তিনি। বাঁকুড়ার জোড়া জনসভা শেষ করে অমিত শাহ পৌঁছেন পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে। সেখানে জনসভা থেকে শাহ বলেন, “কংসাবতী, সুবর্ণরেখার মতো পবিত্র নদী থাকার পরেও পুরো এলাকায় সাঁওতালি এবং কুড়মি সমাজকে জলের কষ্টে ভুগতে হয়। আমরা ২৫০ কোটি টাকা খরচ করে পুরুলিয়া এবং আশপাশের এলাকায় প্রত্যেক বাড়িতে নলবাহিত জল পৌঁছে দেব। ড়মি এবং সাঁওতালদের মধ্যে সংঘর্ষ করিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৫ তারিখ বিজেপির সরকার গঠন করুন। মহান কুড়মি ভাষাকে আমরা অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করব। বিজেপির যে সরকার তৈরি হবে, তা কাটমানি এবং সিন্ডিকেট থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুক্ত করবে।”

  • PM Modi in North Bengal: ‘বামেদের ৩৫ বছর দিয়েছেন, তৃণমূল ১৫ বছর, পাঁচ বছর মোদিকে দিন’! বঙ্গবাসীর কাছে আর্জি প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi in North Bengal: ‘বামেদের ৩৫ বছর দিয়েছেন, তৃণমূল ১৫ বছর, পাঁচ বছর মোদিকে দিন’! বঙ্গবাসীর কাছে আর্জি প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বামেরা ৩৫ বছর শাসন করেছে। তৃণমূলও ১৫ বছর রাজ্যা চালাল। আগামী পাঁচ বছর বঙ্গবাসীকে মোদির উপর ভরসা রাখার আর্জি জানালেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in North Bengal)। কুশমন্ডির সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বার করা হবে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে আবার বৈভবশালী রাজ্য করবে। তাই আমাদের প্রার্থীদের এখানে হাজির করেছি। বামেদের ৩৫ বছর দিয়েছেন, তৃণমূলকে ১৫, ৫ বছর মোদিকে দিয়ে দেখুন। ডবল ইঞ্জিন সরকার যেখানে, সেখানেই উন্নয়ন। বাড়ি পর্যন্ত পানীয় জল যায়, সে জন্য দিল্লি থেকে টাকা এসেছে। কিন্তু তার মাঝেও টিএমসি ঢুকে পড়েছে। আপনারা বিজেপিকে আনুন। মোদী কি গ্যারান্টি। বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছোবে।’’

    আদিবাসী সমাজের দ্রুত উন্নয়ন

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘বাংলার রাজবংশী সমাজ, সাঁওতাল সমাজের ভূমিকা রয়েছে ভারতের উন্নতিতে। অনেক নায়ক রয়েছেন। তাঁদের জন্য আমরা গর্বিত। আমাদের নিরন্তর প্রয়াস আদিবাসী সমাজের দ্রুত উন্নয়ন হোক। আগে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ছিলেন আদিবাসীরা। আমাদের সরকার মাওবাদী-মুক্ত সমাজ দিয়েছে। বন্দুক নামিয়ে ছেলে মায়ের কাছে ফিরেছেন। আমাদের মন্ত্রিসভায় আদিবাসী রয়েছেন। ওড়িশায় আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী মুখ, ঝাড়খণ্ডেও তা-ই। এটাই আমাদের ট্র্যাক রেকর্ড। কিন্তু তৃণমূল সাঁওতাল সমাজকে অপমান করে। রাষ্ট্রপতি মুর্মু এসেছিলেন কিছু দিন আগে। তৃণমূল সংবিধানের মর্যাদা দেয়নি। আদিবাসী সমাজকে অপমান করেছে। তৃণমূলকে সবক শেখানো দরকার। তৃণমূল কখনও আদিবাসী উন্নয়নের শরিক হয়নি।’’

    ‘সমস্ত ধর্ষণের মামলার ফাইল খুলব’

    খাগড়াকুড়ির ময়দানের মঞ্চে প্রার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করে এদিন মোদি ‘জয় মা কালী’, ‘জয় বাবা ভোলানাথ’ বলে ভাষণ শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘‘দক্ষিণ দিনাজপুরের পুণ্যভূমিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রণাম জানাচ্ছি। সবার আগে সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি। কারণ, সভার যে প্ল্যানিং করেছেন, যে প্যান্ডেল করেছেন, খুব ছোট হয়ে গিয়েছে। যত জন ভিতরে আছেন, তার তিন গুণ বাইরে আছেন। তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। তবে সকলকে আশ্বস্ত করছি, এই পরিশ্রমকে বেকার হতে দেব না। এই ভালবাসা ১০০ গুণ করে ফেরত দেব। উন্নয়নের মাধ্যমে ফেরত দেব। মেয়েদের জন্য মোদির গ্যারান্টি— সমস্ত ধর্ষণের মামলার ফাইল খুলব। খুঁজে খুঁজে হিসেব নেব। কী ভাবে হবে, সেটা ঘোষণাপত্রে বলে দিয়েছে বিজেপি।’’

    বামেদের সব দুর্নীতি তৃণমূলে

    এদিন কুশমুন্ডির সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বরণ করে নেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি জানান, সংকল্পপত্রে যা বলা হয়েছে, সেখান থেকে পরিষ্কার এর আগে কোনও প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের জন্য এত কিছু ভাবেননি। শনিবার বাংলায় একই দিনে তিনটি সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে। তৃতীয় সভাটি কুশমন্ডিতে। তিনটি সভাতেই তাঁর দাবি, ‘‘বাংলার মানুষ বামেদের সরিয়েছিল। অনেক আশা নিয়ে মা-মাটি-মানুষের কথা শুনে তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল তো বামেদের কার্বন কপি হয়ে গিয়েছে। সব গুন্ডা তৃণমূলে চলে এসেছে। বামেদের সব দুর্নীতি তৃণমূল নিয়ে নিয়েছে। এখন তারা আবার জয়ের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু ওরা ভুলে যাচ্ছে, এটা নেতাজির মতো বীরের ভূমি। তৃণমূলের ভয়ের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে বিজেপির ভরসা। তাই এ বার তৃণমূলকে বার বার বাংলা বলছে, এই সব চলবে না।’’

  • Amit Sha in Bengal: ‘‘ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীকে ঘর থেকে বেরোতে দেব না’’ বাঁকুড়ার সভা থেকে হুঁশিয়ারি শাহের

    Amit Sha in Bengal: ‘‘ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীকে ঘর থেকে বেরোতে দেব না’’ বাঁকুড়ার সভা থেকে হুঁশিয়ারি শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বাংলায় ভোট। ওই দু’দিন তৃণমূলের ‘গুন্ডাবাহিনী’ যেন ঘরের বাইরে পা না রাখে। শনিবার বাঁকুড়ার ওন্দার নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Sha in Bengal)। এদিনের সভায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি থেকে শুরু করে আরজি কর কান্ড নিয়ে মমতা সরকারকে নিশানা করেন আমিত শাহ। এসএসসি, পুরনিয়োগ, গরু, ১০০ দিনের কাজ, পিএম আবাস দুর্নীতি কারা করেছে? এদিনের সভা থেকে মমতাকে খোলা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন শাহ। বিজেপি বাংলায় সরকার গঠন করলে কমিটি করে সব টাকা গরিবদের ফেরানো হবে বলে আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সোনার বাংলা গড়ার ডাক

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হীরক রানী’ বলেও কটাক্ষ করেন মোদির ‘ডেপুটি’। বলেন, ‘‘এই হীরক রানীকে টাটা বাই-বাই করার সময় চলে এসেছে। মোদি সরকার পাঁচ কেজি চাল দিলে তার থেকে ১ কেজি চুরি করে নেয় তৃণমূল সরকার। ওরা ভাবে যা দুর্নীতি করেছে, তার পরে আর কিছু হবে না ওদের। আজ বলছি, সিন্ডিকেটের লোকজন শুনুন, বিজেপির সরকার হলেই গরিবদের সব টাকা ফেরাতে হবে। বাংলার গরিবদের ভোট নিয়ে অনুদান যায় তৃণমূলের গুন্ডাদের ঘরে। মোদিজি লক্ষ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন। আপনাদের ঘরে কি গেছে? মোদিজি যে বিকাশের অর্থ পাঠিয়েছিলেন, তা মমতাদিদির সিন্ডিকেট খেয়েছে। ৭০০০ সংস্থা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছে। মোদিজি ফিরিয়ে আনবেন। রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলা গড়ব আমরা।’’

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি!

    রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনার কথাও বলেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘কারও চার স্ত্রী রয়েছেন। তা কি থাকা উচিত? দিদিরা বলুন। বিজেপির সরকার করুন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনব। সকলের জন্য সমান বিধি হবে। লভ জিহাদ বন্ধ হবে। গর্ভবতী মায়েরা ২১ হাজার টাকা পাবেন। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ দিতে হবে না। বিধবা, প্রবীণ দিব্যাঙ্গজনেরা ২০০০ টাকা করে মাসে পাবেন। উত্তরবঙ্গে এমস হবে। চা শ্রমিকদের ভূমির মালিক করা হবে।’’ রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকলেও কেন বাংলায় সুরক্ষিত নয় মেয়েরা? প্রশ্ন করেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘মমতাদিদি, আপনি মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, তাও আরজি কর, সন্দেশখালির মতো ঘটনা হয়। মমতাদিদি বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পরে কারও বাইরে যাওয়া উচিত না। বিজেপির সরকার গড়ুন, রাত ১টায় মহিলারা বাইরে নিরাপদে ঘুরতে পারবেন।’’

    জনজাতিদের উন্নয়ন

    এদিন শাহ বলেন, ‘‘মমতা, কংগ্রেস— এরা কেউ জনজাতির কাউকে রাষ্ট্রপতি করেনি। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে নরেন্দ্র মোদীজি সাঁওতাল জনজাতি বোন দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি করে জনজাতিদের সম্মান করেছেন। দ্রৌপদীজি এখানে জনজাতিদের সঙ্গে দেখা করার জন্য এসেছিলেন। মমতাজি তাঁর অপমান করেছেন। জনজাতি ভাই-বোনদের বলছি, এই ভোটে জনজাতির মেয়ে দ্রৌপদীর অপমানের বদলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে নিতে হবে। ওঁরা সহ্য করতে পারেন না, যে জনজাতি গরিবের মেয়ে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। আপনি যা করুন মমতাদিদি, আমরা জনজাতিদের উন্নয়ন করব।’’

    পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে?

    এদিন বাঙালি অস্মিতায় শান দিয়ে শাহ বলেন,‘‘ওরা বলে বেড়াচ্ছে, মোদীজি দিল্লি থেকে শাসন করবে। আমার কথা শুনে রাখুন, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী যিনি হবেন, তিনি এখানে জন্মগ্রহণ করা, বাংলায় কথা বলা এক জন বিজেপি নেতাই হবেন। সব কৃষকদের এখন ৬০০০ টাকা দেন মোদিজি। বিজেপি এখানে সরকার গড়লে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৯০০০ টাকা হবে। ধানের এমএসপি ৩১০০ টাকা করা হবে। ৩০০ জনের বেশি বিজেপি কার্যকর্তার হত্যা হয়েছে। তৃণমূলের গুন্ডারা ভাবে, ওদের কিছু হবে না। ৫ মে বিজেপি সরকার গড়ার পরে হত্যাকারীদের জেলে পাঠানো হবে।’’

    আলুর ফলন নিয়ে তোপ

    এদিন মুখ্যমন্ত্রীর জেদের বশে আলু চাষীদের ক্ষতির কথাও বলেন শাহ। তাঁর দাবি, ‘‘বাঁকুড়ায় আলুর ফলন খুব। মমতাদিদির অহঙ্কার দেখুন! নিষিদ্ধ করে দিয়েছে, বলেছেন, বাংলার আলু ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডে যাবে না। সেখানকার মানুষ এখানকার মিঠা আলু খেতে চান। পাঠান না। কৃষকদের ২ টাকায় আলু বেচতে বাধ্য করে। বিজেপির সরকার আনুন। ওই দিনই এখানকার আলু পাশের রাজ্যে চলে যাবে। পাঞ্জাব থেকে যাতে আর আলুর বীজ আনতে না হয়, তা দেখব।’’ অনুপ্রবেশকারীরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান ভোটব্যাঙ্ক, অভিযোগ শাহের। তাঁর দাবি, রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে চাইছে রাজ্য সরকার। তাই শাহের আহ্বান,‘‘২৩ এপ্রিল পদ্ম চিহ্নে ভোট দিন। জোরে বোতাম চাপুন, যাতে দিল্লিতে শব্দ যায়। যাতে অনুপ্রবেশকারীদের কারেন্ট লাগে।’’

  • PM Modi in Bengal: ‘‘বিজেপি জিতবেই, গুজরাটেও সকাল ১১টায় এমন সভা হয় না’’ কাটোয়ায় জনসমাগমে আপ্লুত মোদি

    PM Modi in Bengal: ‘‘বিজেপি জিতবেই, গুজরাটেও সকাল ১১টায় এমন সভা হয় না’’ কাটোয়ায় জনসমাগমে আপ্লুত মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চৈতন্য মহাপ্রভুর পবিত্র ভূমিতে তৃণমূল পাপের রাজত্ব চালাচ্ছে। কিন্তু এটা আর চলবে না। ১৫ বছরের দুর্নীতির হিসেব হবে। ওরা মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু আর পারবে না। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর জনসভা থেকে হুঙ্কার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সেই সভায় জনসমুদ্র দেখে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Bengal)। মোদি বলেন, জনপ্লাবন বলে দিচ্ছে, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের (Assembly Election in Bengal) জন্য তৈরি। আরও একবার আমজনতার সামনে তুলে ধরলেন ৬ গ্যারান্টি। আশ্বাস দিলেন বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে মাসে ঢুকবে ৩০০০ টাকা। চাকরি পাবেন বেকাররা। মোদির আশ্বাস, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে সরকারি সমস্ত শূন্যপদ পূরণ হবে। শিল্প আসবে বাংলায়।” সভা মঞ্চ থেকেই মোদির মুখে শোনা গেল নতুন স্লোগান, “ভয় আউট, ভরসা ইন, বিজেপিকে ভোট দিন।”

    গুজরাটেও হয় না, জনসমুদ্র দেখে আপ্লুত

    এদিন পূর্ব বর্ধমানের জেলা নেতৃত্ব কাটোয়ার মঞ্চে স্বাগত জানিয়েছেন মোদিকে। উত্তরীয় পরিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মোদির সামনে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন শমীক। জানান, বর্ধমানকে ধান উৎপাদনে এক থেকে তিনে নামিয়ে এনেছে শাসকদল। কাটোয়ার সভায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য কয়েক জন শিশু ছবি নিয়ে এসেছিল। তাদের ছবি জমা দিয়ে দিতে বলেন মোদি। জানান, পিছনে নাম ও ঠিকানা লেখা থাকলে তিনি ধন্যবাদবার্তা পাঠাবেন। একই সঙ্গে বলেন, ‘‘গুজরাটেও সকাল ১১-১২টায় এমন সভা আমি করতে পারি না। চাইলেও করা যায় না। আপনারা এখানে আশ্চর্য জমায়েত করেন প্রতি বার। আমি অভিভূত। এ রাজ্যে যে ৪ মে-র পর পরিবর্তন আসছে, তা এই সভা থেকেই নিশ্চিত।’’

    সব দুর্নীতির হিসেব হবে

    এদিন মোদি বলেন, ‘‘আপনাদের ছ’টি গ্যারান্টি দিয়েছিলাম। সেগুলি পূরণের সময় এসেছে। তৃণমূলের নির্মম সরকারের ভয়ের রাজকে সরিয়ে ভরসায় বদলে দেবে আমার গ্যারান্টি। দুর্নীতি নিয়ে বিজেপি শ্বেতপত্র জারি করবে। যাতে তৃণমূলের সব সিন্ডিকেট, সব দুর্নীতিগ্রস্তদের হিসেব করা যায়। ১৫ বছরের হিসেব হবে। সব কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তৃণমূল ভয় পেয়ে গিয়েছে। একের পর এক মিথ্যা বলছে। বলছে আমরা ক্ষমতায় এলে নাকি সব প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। আসলে তা নয়। আসলে বিজেপি ওদের দুর্নীতির দোকান বন্ধ করবে। লুট বন্ধ করবে।’’

    সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা

    বর্ধমান থেকে মোদি বলেন, ‘‘এখানকার সীতাভোগ আর মিহিদানার সুগন্ধ সারা দুনিয়ায় জনপ্রিয়। তৃণমূলের সরকার আলু চাষিদের বরবাদ করে দিয়েছে। আলু পচছে। এটা চলবে না। বাংলা চুপ থাকবে না।’’ বিজেপি কৃষকদের জন্য ইস্তাহারে অনেক ঘোষণা করেছে বলে জানান মোদি। ‘ডবল ইঞ্জিন’-এর সুবিধা পাবেন কৃষকেরা। বিজেপি এলে যুবসমাজ লক্ষ লক্ষ চাকরি পাবে। বেকারদের ভাতাও দেওয়া হবে। দুর্নীতির জন্য যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। রোজগার মেলার আয়োজন করা হবে এখানেও। সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাবেন কর্মচারীরা। রাজ্যের সব শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে।’’

    মহিলাদের মাসে তিন হাজার টাকা

    বিজেপির সংকল্প পত্রে মহিলাদের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা, বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াতের ঘোষণা করেছে বিজেপি। সেগুলি উল্লেখ করেন মোদিও। জানান, বিজেপির আমলে এ রাজ্যের মহিলারা নিরাপদে, নির্ভয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। মতুয়াদের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘‘মতুয়া, নমঃশূদ্র, সব শরণার্থী পরিবার তৃণমূলের দয়ায় নেই। দেশের সংবিধান আপনাদের সুরক্ষিত করেছে। সিএএ করেছি, যাতে মতুয়া-সহ শরণার্থীরা সুরক্ষা পান। সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ আরও দ্রুত করা হবে।’’

    কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধার অভিযোগ

    এদিন ফের মোদির মুখে শোনা যায় আয়ুষ্মান ভারত-এর কথা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তৃণমূল রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা দেয়। আয়ুষ্মান ভারত যোজনাতেও বাধা দিয়েছে তৃণমূল। ৪ মে-র পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্প চালু করা হবে, আমার গ্যারান্টি রইল। পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের অধীনে শিল্পীদের কেন্দ্রীয় সরকার প্রশিক্ষণ দেয়। অসমে এক লক্ষ মানুষ এই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। বিহারেও পেয়েছেন। প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্যও পেয়েছেন। তৃণমূল এই প্রকল্প এখানে আনতে দেয়নি। অনেক বড় ক্ষতি করে দিয়েছে আপনাদের।’’

  • ED Raid: ফের পার্থের নাকতলার বাড়িতে ইডি! ‘মিডলম্যান’ প্রসন্নের দফতরেও চলছে তল্লাশি

    ED Raid: ফের পার্থের নাকতলার বাড়িতে ইডি! ‘মিডলম্যান’ প্রসন্নের দফতরেও চলছে তল্লাশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে রাজ্যে ফের তৎপর ইডি (ED Raid)। শনিবার সকালে প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) নাকতলার বাড়িতে ফের পৌঁছে গেল ইডি। শিক্ষক নিয়োগের মামলাতেই ফের পার্থকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে অনুমান। জামিন পাওয়ার পর একাধিক বার তাঁকে ইডি ডেকে পাঠিয়েছিল। কিন্তু পার্থ হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ। প্রতি বারই তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, সেই কারণেই এবার পার্থকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাঁর বাড়িতে যায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। একই সঙ্গে ইডির একটি দল পৌঁছে গিয়েছে নিউ টাউনে প্রসন্ন রায়ের দফতরেও। নিয়োগ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ‘মিডলম্যান’ এই প্রসন্ন। তাঁর বাড়িতেও ইডি গিয়েছে বলে খবর।

    কেন পার্থর বাড়িতে ইডি

    শনিবার বেলা পৌনে ১১টা নাগাদ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা৷ সঙ্গে ছিল বিরাট কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ তারা পার্থর বাড়ি দ্রুত ঘিরে ফেলে বলে খবর৷ ভোটের আগে এসএসসি নিয়োগ মামলা সূত্রেই তাঁকে ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় বলে সূত্রের খবর৷ জামিন পাওয়ার পরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দু’বার সমনও পাঠিয়েছে ইডি৷ কিন্তু, কোনওবারই তিনি হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ৷ প্রতিবারই দিয়েছেন অসুস্থতার ‘অজুহাত’৷ চিঠিতে জানানো হয়েছিল, প্রয়োজনে ইডি যদি মনে করে ভিডিও কল বা তাঁর বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে৷ মনে করা হচ্ছে, সেই কারণেই এবার পার্থকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় সংস্থা। উল্লেখ্য, নাকতলার বাড়ি থেকেই ২০২২ সালে নিয়োগ মামলায় পার্থকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নিয়োগ মামলায় তিন বছরেরও বেশি সময় জেল খেটেছেন পার্থ।

    বেআইনি আর্থিক লেনদেন ঠেকানোই লক্ষ্য

    ইডির একটি দল পৌঁছে গিয়েছে নিউ টাউনে প্রসন্ন রায়ের দফতরেও। নিয়োগ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ‘মিডলম্যান’ এই প্রসন্ন, পার্থের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। ইডির একাধিক চার্জশিটে পার্থ, প্রসন্নের নাম রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই কলকাতায় ইডি সক্রিয়। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যে একাধিক বার রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষকে তলব করা হয়েছে। সুজিত বসু হাসপাতালে ভর্তি থাকায় নথিপত্র নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন তাঁর ছেলে সমুদ্র। জমি সংক্রান্ত মামলায় শহরের কিছু ব্যবসায়ীর বাড়িতেও ইডি হানা দিয়েছে। সূত্রের খবর, ভোটের আগে বেআইনি আর্থিক লেনদেন ঠেকাতে চায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। তার জন্যই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে।

  • Artemis-2: সফল আর্টেমিস-২ মিশন, মানবজাতির জন্য ‘ওয়াটারশেড মোমেন্ট’, বলছেন ভারতীয় মহাকাশচারীরা

    Artemis-2: সফল আর্টেমিস-২ মিশন, মানবজাতির জন্য ‘ওয়াটারশেড মোমেন্ট’, বলছেন ভারতীয় মহাকাশচারীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ দশকের প্রতীক্ষার অবসান। চাঁদের চারপাশ ঘুরে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার চার নভশ্চর পৃথিবীতে ফিরে এলেন। ১০ দিন মহাকাশে কাটানোর পর শনিবার সকালে (ভারতীয় সময় ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে) তাঁরা পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন। দক্ষিণ ক্যালিফর্নিয়ার উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে নির্বিঘ্নেই নেমেছে নাসার ক্যাপসুল ‘ওরিয়ন’ (Orion)। তার ভিতর থেকে ধীরে ধীরে চার জনকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে। এই সাফল্যকে মানবজাতির জন্য এক “ওয়াটারশেড মোমেন্ট” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন ভারতীয় মহাকাশচারীরা।

    এবার লক্ষ্য মঙ্গল

    নাসা এই চন্দ্রাভিযানের নাম দিয়েছিল ‘আর্টেমিস’ (Artemis-2)। এটি তার দ্বিতীয় ধাপ। ২০২৮ সালে এই অভিযানের তৃতীয় ধাপেই চাঁদে ফের মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন সংস্থার। নাসার মহাকাশচারীরা পৃথিবীতে অবতরণ করতেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। সেই সঙ্গে বেঁধে দিয়েছেন নতুন লক্ষ্যও। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আর্টেমিস ২-এর এই অসাধারণ এবং অত্যন্ত মেধাবী সদস্যদের অভিনন্দন। সমগ্র সফরটি দুর্দান্ত ছিল। অবতরণও হয়েছে নিখুঁত। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে এটা আমার কাছে খুব গর্বের একটা দিন। হোয়াইট হাউসে আপনাদের সকলের সঙ্গে শীঘ্রই দেখা হবে। আমরা এই কাজটা আবার করব এবং তার পর আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য মঙ্গলগ্রহ!’’ চাঁদে মানুষ পাঠানোর অভিযান শেষ করার পর মঙ্গলে আমেরিকা যে মনোনিবেশ করবে, স্পষ্ট করে দিয়েছেন ট্রাম্প।

    সুস্থ রয়েছেন চার মহাকাশচারী

    নাসা (NASA) তাদের ব্লগে জানিয়েছে, এ ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্ট পৃথিবীতে ফিরে এল ৷ মহাকাশযানটি সফলভাবে স্যান দিয়েগোর একটি এলাকায় প্যারাসুটে নির্ভর করে স্প্ল্যাসডাউন করেছে ৷ তারপর ইঞ্জিনিয়ররা একাধিক পরীক্ষা করেন এবং সম্পূর্ণভাবে মহাকাশযানটির পাওয়ার-ডাউন করা হয় ৷ নাসার রিকভারি ডায়েক্টরের নির্দেশে মার্কিন সেনাবাহিনীর ছোটো নৌকা স্পেসক্রাফ্টের কাছে পৌঁছয় ৷ সঙ্গে ছিলেন ইঞ্জিনিয়রদের একটি দল ৷ তাঁরা স্পেসক্রাফ্টটি পরীক্ষা করার পর সম্পূর্ণভাবে পাওয়ার ডাউন করেন ৷ প্রায় এক ঘণ্টা পর চার মহাকাশচারীকে ওরিঅন থেকে বের করা হয় ৷ তারপর বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের জন্য রাখা নির্দিষ্ট জাহাজে ৷ এবং সেই জাহাজে করে তাঁরা ফিরে আসেন ৷ সর্বপ্রথম চার মহাকাশচারীকে নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট হাসপাতালে ৷ সেখানে তাঁদের শারীরিক বিষয় পরীক্ষা করা হয় ৷ সেখান থেকে নাসা-র হউসটন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় ৷

    উচ্ছ্বসিত ভারতীয় মহাকাশচারীরা

    ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন অঙ্গদ সিং বলেন, “৫০ বছরেরও বেশি সময় পর মানুষ আবার চাঁদের পথে গিয়েছে—এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।” তিনি আরও জানান, এই মিশন প্রমাণ করেছে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, দৃঢ়তা ও আধুনিক প্রযুক্তি থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। মিশনের সময় আর্টেমিস-২-এর ক্রুরা পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরত্বে যাওয়ার মতো একাধিক রেকর্ডও গড়েছে। মহাকাশ অভিযানের পেছনে বিপুল পরিশ্রম, সাহস ও অর্থের প্রয়োজন হয় বলেও উল্লেখ করেন অঙ্গদ সিং। একই সুরে কথা বলেন এয়ার কমোডর পি বালাকৃষ্ণন নায়ার। তিনি এই মিশনকে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, “এই সাফল্য মানবজাতির সামনে অসীম সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল।”

    গগনযান-এর জন্য অনুপ্রেরণা

    গত ২ এপ্রিল ভোরে (ভারতীয় সময়) চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিল নাসার মহাকাশযান। তাতে ছিলেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান (প্রাক্তন নৌসেনা পাইলট, ১৬৫ দিন মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে), পাইলট ভিক্টর গ্লোভার (নাসার ক্রু-১ অভিযানে শামিল হয়েছিলেন), অভিযান বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কচ (মহিলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি সময় স্পেসফ্লাইট চালিয়েছেন) এবং জেরেমি হানসেন (কানাডার মহাকাশচারী, প্রথম বার মহাকাশে)। প্রায় ১০ দিন পৃথিবীর বাইরে কাটিয়ে চাঁদের কাছ থেকে ঘুরে আবার তাঁরা ফিরে এলেন। ‘আর্টেমিস ২’-এর লক্ষ্য চাঁদের মাটিতে পা রাখা নয়। বরং চাঁদের সামনে থেকে ঘুরে আসা। উল্লেখ্য, অ্যাপোলো প্রোগ্রামের (Apollo program) পর এই প্রথম মানুষ আবার চাঁদের নিকটবর্তী অঞ্চলে পৌঁছাল। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস-২-এর এই সাফল্য ভবিষ্যতে চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর পথ প্রশস্ত করবে। ভারতের ক্ষেত্রেও এই মিশন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দেশ ইতিমধ্যেই নিজস্ব মানব মহাকাশযাত্রা প্রকল্প গগনযান (Gaganyaan)-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আর্টেমিস-২ ভারতের জন্য একদিকে অনুপ্রেরণা, অন্যদিকে একটি মানদণ্ড হিসেবেও কাজ করবে।

    নাসার বিজ্ঞানীরা বিস্মিত

    গভীর মহাকাশে ভ্রমণের সময় এবং চাঁদকে প্রদক্ষিণ করার সময়, মহাকাশচারীরা হাজার হাজার ছবি তুলেছেন। তাঁরা একটি সূর্যগ্রহণও দেখেছন, সেই সঙ্গে চন্দ্রপৃষ্ঠে অস্বাভাবিক উল্কাপিণ্ডের আঘাতও পর্যবেক্ষণ করেছেন। যা নাসার বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। এই অভিযানে বেশ কিছু মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে চাঁদ প্রদক্ষিণ করেন, কচ প্রথম মহিলা অভিযাত্রী এবং কানাডিয় নভোচারী হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।

    ২০২৮-এ চাঁদে মানুষ!

    সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালে অভিযানের তৃতীয় ধাপে চাঁদে নামবে মানুষ। দীর্ঘ পাঁচ দশক পরে চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা। ১৯৬৯ সালে আমেরিকার এই সংস্থার অ্যাপোলো অভিযানেই চাঁদে প্রথম নেমেছিল মানুষ। ১৯৭২ সালে সেই অভিযান শেষ হয়। ৫৩ বছর পর ফের ‘আর্টেমিস’ অভিযানের হাত ধরে চাঁদ ছুঁতে চাইছে আমেরিকা। চার মহাকাশচারীকে নিয়ে নাসার মহাকাশযান ১১ লক্ষ ১৭ হাজার ৫১৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছে। পৃথিবীর দু’টি কক্ষপথ পেরিয়ে চাঁদের সামনে থেকে ঘুরে এসেছেন মহাকাশচারীরা। ক্যালিফর্নিয়ার উপকূলে সূর্যাস্তের ঘণ্টা দুয়েক আগে তাঁদের অবতরণের সরাসরি সম্প্রচার করেছে নাসা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, এটি ছিল আগামী দিনে চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার একটি ‘ড্রেস রিহার্সাল’।

  • Amarnath Yatra 2026 Registration: অমরনাথ যাত্রার রেজিস্ট্রেশন শুরু এপ্রিলেই, এর ভিত্তিতেই মিলবে ভ্রমণ পারমিট

    Amarnath Yatra 2026 Registration: অমরনাথ যাত্রার রেজিস্ট্রেশন শুরু এপ্রিলেই, এর ভিত্তিতেই মিলবে ভ্রমণ পারমিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের অমরনাথ যাত্রার রেজিস্ট্রেশনের (Amarnath Yatra 2026 Registration) তারিখ ঘোষণা করা হল। পুণ্যার্থীরা ১৫ এপ্রিল থেকে অমরনাথ যাত্রার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। শ্রী অমরনাথ শ্রাইন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তীর্থযাত্রীরা দেশজুড়ে ৫৫৪টি নির্ধারিত ব্যাঙ্ক শাখার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এর ভিত্তিতেই ভ্রমণ পারমিট জারি করা হবে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত অমরনাথ যাত্রা করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পবিত্র অমরনাথ গুহা দর্শন করতে আসেন। পহেলগাঁও থেকে ২৯ কিলোমিটার দূরত্বে অমরনাথের গুহা অবস্থিত। হিমবাহ ও বরফের পাহাড়ে ঘেরা এই গুহা বছরের বেশিরভাগ বরফে আচ্ছাদ্দিত থাকে। এই তীর্থক্ষেত্রে ভক্তদের হেঁটে কিংবা হেলিকপ্টারের করে পৌঁছতে হয়। তাই এক্ষেত্রে লাগবে হেল্থ সার্টিফিকেটও।

    সফরের আনুষ্ঠানিক তারিখ

    মোদি সরকার অমরনাথ যাত্রার প্রতিটি পথে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। কোনও তীর্থযাত্রী কোনও সমস্যা বা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে। ভক্তদেরও সমস্ত সুরক্ষা বিধি মেনে চলার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই তীর্থযাত্রার আনুষ্ঠানিক তারিখ শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। ভক্তদের সময়মতো রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের অমরনাথ যাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য পূর্ব-রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। এই বছর আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রেশন শুরু হচ্ছে এবং অনুমোদিত ব্যাঙ্ক ও শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন উভয়ভাবেই তা করা যাচ্ছে। তবে, এবারও সীমিত সংখ্যক তীর্থযাত্রীকে—প্রতিদিন প্রায় ১৫,০০০ জনকে—অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে।

    কবে হবে রেজিস্ট্রেশন

    রেজিস্ট্রেশন ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে করা হবে। নির্ধারিত ব্যাঙ্ক শাখাগুলির মাধ্যমে ১৫ এপ্রিল থেকে অমরনাথ যাত্রা ২০২৬-এর রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। পহেলগাঁও এবং বালতাল উভয় পথের জন্যই রেজিস্ট্রেশন খোলা থাকবে। ১৩ বছরের কম এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের এই তীর্থযাত্রায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না। বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বছর আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক ই-কেওয়াইসি যাচাইকরণের পর এনআইসি পোর্টাল-ভিত্তিক একটি সিস্টেমের মাধ্যমে ভ্রমণ অনুমতিপত্র ইস্যু করা হবে। যাচাইকরণে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে, ব্যাঙ্ক শাখা ম্যানুয়ালি ছবি ও তথ্য এন্ট্রির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগ্রহী ব্যক্তিরা দেশজুড়ে ৫৫৪টি ব্যাঙ্ক শাখায় রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এর জন্য আধার কার্ড ও স্বাস্থ্য শংসাপত্র প্রয়োজন হবে। এবার সরকার যাত্রীদের আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে আরও উন্নত সুবিধা প্রদান করবে। নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।

LinkedIn
Share