Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Asian Games 2026: চিনকে হারিয়ে মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারিতে সোনা! বিশ্বরেকর্ড স্কোর, রিলে রেসেও সোনা জিতল ভারতের মেয়েরা

    Asian Games 2026: চিনকে হারিয়ে মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারিতে সোনা! বিশ্বরেকর্ড স্কোর, রিলে রেসেও সোনা জিতল ভারতের মেয়েরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারি টিম ইভেন্টে সোনা জিতে চমক দেখাল ভারত। বুধবার ফাইনালে চিনকে ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জয় করল ভারতের মহিলা দল। শেষ তিনটি তীরেই পরপর তিনটি ‘১০’ মেরে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্সে ম্যাচ শেষ করেন জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, চিকিথা তানিপারথি ও পৃথিকা প্রদীপ। এই জয়ের ফলে চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সাতটিতে। সব মিলিয়ে ভারতের পদক সংখ্যা এখন ৫৩—সোনা ৭, রুপো ২১ এবং ব্রোঞ্জ ২৫। ভারতের ২৩৮ স্কোরটি ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গড়া বিশ্বরেকর্ডের সমান। অর্থাৎ এদিন ফাইনালে ভারতের পারফরম্যান্স বিশ্বরেকর্ডের স্কোর ছুঁয়ে ফেলেছে। জ্যোতি সুরেখার জন্য এটি এশিয়ান গেমসে চতুর্থ সোনা। অন্যদিকে, এশিয়ান গেমসে অভিষেকেই সোনা জয়ের স্বাদ পেলেন চিকিথা তানিপারথি ও পৃথিকা প্রদীপ।

    শুরু থেকেই ভারতের দাপট

    ফাইনালের শুরু থেকেই চিনের উপর চাপ তৈরি করে ভারত। প্রথম তিনটি তীরেই তিনটি ‘১০’ মারেন জ্যোতি, চিকিথা ও পৃথিকা। চিনের তিনটি শট ছিল ‘৯’। ফলে প্রথম থেকেই এগিয়ে যায় ভারত। পরের সেটেও তিনটি নিখুঁত ‘১০’ আসে ভারতের কাছ থেকে। চিনের একটি শট রিভিউয়ের পর ‘১০’ হিসেবে গণ্য হওয়ায় প্রথম সেট শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৬০-৫৮। পরের সেটে ভারত একটি পয়েন্ট হারালেও ৮৯-৮৭ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। এরপর আবার তিনটি ‘১০’ মেরে হাফটাইমে ভারত লিড বাড়িয়ে নেয় ১১৯-১১৬। দ্বিতীয়ার্ধে চিন নিখুঁত একটি সেট দিয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে। ভারতও পাল্টা তিনটি ‘১০’ মেরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে। আরও একটি রিভিউয়ের পর চিনের স্কোর বাড়লেও ভারত তখনও ১৭৮-১৭৬ ব্যবধানে এগিয়ে।

    শেষদিকে আর কোনও সুযোগ দেয়নি ভারত

    ফাইনালের নির্ণায়ক মুহূর্তে চিন একটি ‘১০’ এবং দুটি ‘৯’ মারে। ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ২০৮-২০৪-এ। এরপর সোনা নিশ্চিত করতে শেষ তিনটি তীরই লক্ষ্যভেদ করেন ভারতের তিন সদস্য। চিকিথা, পৃথিকা এবং জ্যোতি—তিনজনই শেষ শটে ‘১০’ মারেন। ফলে ভারত ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং বিশ্বরেকর্ডের স্কোর স্পর্শ করে।

    সেমিফাইনালেও কঠিন লড়াই

    ফাইনালের আগে সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল ভারতকে। ভারত ২৩৫-২৩৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। শুরুতে দুই দলই ৫৯-৫৯ সমতায় ছিল। এরপর ভারত এগিয়ে গিয়ে হাফটাইমে ১১৮-১১৫ লিড নেয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পরপর নিখুঁত সেট মেরে ম্যাচে ফিরে আসে দক্ষিণ কোরিয়া। একসময় স্কোর হয়ে যায় ১৭৫-১৭৫। শেষদিকে ভারত আবার সামান্য ব্যবধান তৈরি করে এবং শেষ সেটের আগে ২০৫-২০৪-এ এগিয়ে ছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ২৩৩-এ থামার পর চিকিথা ও পৃথিকা ১০ করে এবং জ্যোতি ৯ মারেন। ভারত পৌঁছে যায় ২৩৫-এ এবং ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। তবে ফাইনালে চিনের বিরুদ্ধে আর কোনও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেয়নি ভারতীয় দল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে শেষ তিনটি নিখুঁত ‘১০’-এ সোনা নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়ল জ্যোতি-চিকিথা-পৃথিকার দল।

    রিলে রেসে-ও সোনা ভারতের মেয়েদের

    নীরু ধান্ডার পর এবার সোনা এল ৪*৪০০ রিলে রেসে। এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) শেষ দিনে অ্যাথলেটিক্সে প্রথম সোনা জিতল ভারত। বিথ্যা রামরাজ, কিরণ, প্রাচী এবং মাচেত্তিরা পোভাম্মার ভারতীয় মহিলা রিলে দল দেশের মুখ উজ্জ্বল করে দেশকে সোনা এনে দিলেন। তারা ৩:২৯.৬৯-এ দৌড় শেষ করে পোডিয়ামে শীর্ষে জায়গা করে নেন। বাহারিন ৩:৩০.২১-এ শেষ করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। তৃতীয় স্থানে শেষ করে চিন। ৪০০ মিটার হার্ডেলেও রামরাজ পদক জিতেছিলেন। সেক্ষেত্রে তাঁর ঝুলিতে এসেছিল ব্রোঞ্জ। তবে এবার একেবারে সোনা জিতলেন তিনি।

    রিলে রেসে ব্রোঞ্জ ছেলেদের

    মহিলারা ৪x৪০০ মিটার রিলেতে সোনা দিলেও পুরুষরা এবার ব্যর্থ। হিটের মতো পারফরম্যান্স করতে পারলেন না ভারতীয়েরা। ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল ভারতকে। মরসুমের সেরা সময়ের ধারে কাছেও দৌড় শেষ করতে পারলেন না ধর্মবীর চৌধরী, মনু থেক্কিনিল, জয় কুমার, বিশাল থেনারসু। হিটে ৩ মিনিট ০.৩২ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করা ভারতীয় দল ফাইনালে সময় নিলেন ৩ মিনিট ১.৬১ সেকেন্ড। হিটের সময়ে দৌড় শেষ করতে পারলেও সোনা জিতত ভারত।

    মিক্সড ৪x১০০ মিটার রিলেতেও চমক

    নাগোয়ায় চমক দেখাল ভারতের মিক্সড ৪x১০০ মিটার রিলে দল। হরিতা ভদ্র, অনিমেষ কুজুর, স্নেহা সত্যনারায়ণ এবং গুরবিন্দর সিংহ দৌড় শেষ করলেন ৪১.০৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে ব্রোঞ্জ জিতলেন। মরসুমের সেরা সময় করলেন তাঁরা ফাইনালে। এই ইভেন্ট থেকে পদকের তেমন আশা অবশ্য ছিল না।

    নজির গড়লেন গুলবীর

    নজির গড়লেন গুলবীর। ৫০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতলেন ১৩ মিনিট ৩২.৭৫ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে। এর আগে ১৫০০ মিটার এবং ১০ মিটারে রুপো জিতেছেন তিনি। ১৯৮৬ সালের গেমসে উষা পদক জয়ের হ্যাটট্রিক করেছিলেন। তাঁর পর গুলবীরই হলেন ভারতের প্রথম অ্যাথলিট যিনি একটি গেমস থেকে অন্তত তিনটি ব্যক্তিগত পদক পেলেন। উষা অবশ্য সে বার চারটি পদক জেতেন। ২০০ মিটার, ৪০০ মিটার এবং ৪০০ মিটার হার্ডলসে সোনা জেতেন। সঙ্গে ১০০ মিটারে জেতেন রুপো। এ ছাড়াও সোনাজয়ী ৪x৪০০ মিটার রিলে দলেও ছিলেন তিনি।

    মেয়েদের হাই জাম্পেও পদক

    পদক এসেছে মেয়েদের হাই জাম্পেও। ১.৮৪ মিটার উচ্চতা টপকে ব্রোঞ্জ জিতেছেন পূজা সিংহ। এ বারের গেমসে অ্যাথলেটিক্সে ভারতের আর কোনও ইভেন্ট নেই। বক্সিংয়ে এল প্রথম পদক। ছেলেদের ৯০+ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পেলেন নরেন্দর বেরওয়াল। তিনি সেমিফাইনালে কাজ়াখস্তানের আইবেক ওরালবের কাছে ০-৫ ব্যবধানে হেরে গিয়েছেন। তবে মেয়েদের ৬৫ কেজি বিভাগে পারভীন হুডা এবং ছেলেদের ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল ফাইনালে উঠেছেন। তাঁদের রুপোর পদক নিশ্চিত। মোট ছ’জন বক্সার পদক নিশ্চিত করেছেন। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কাতারকে হারিয়ে ছেলেদের ভলিবলের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ভারত। প্রথম দু’সেট হারার পরও ম্যাচ বের করেছে ভারতীয় দল। তা-ও দু’টি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে। টান টান ম্যাচে ভারতীয় দল জিতেছে ২৬-২৮, ২৫-২৭, ২৫-২৩, ২৫-২০, ২৪-২২ ব্যবধানে। কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

    পদক জয়ের লক্ষ্যে

    এছাড়াও মেয়েদের স্কোয়াশে পদক নিশ্চিত করল ভারত। মেয়েদের সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছেন তানভি খান্না এবং অনাহত সিং। ইতিমধ্যেই পদক তালিকায় প্রথম দশের মধ্যে উঠে এসেছে ভারত। এবার সেই সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ ভারতীয় কুস্তিগীর, বক্সার এবং তিরন্দাজদের ওপর। ফাইনালের ছাড়পত্র সংগ্রহের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে মেয়েদের হকি দল। তারকা জুডোকা অশ্মিতা দেবও বুধবার নামবে। ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক জয়ী নীরু ধান্ডাও এদিন মিক্সড টিম ইভেন্টে নামবে।

  • Pakistan: বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে প্রথম স্থানে পাকিস্তান, এক বছরে নিহত ১১৩৯

    Pakistan: বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে প্রথম স্থানে পাকিস্তান, এক বছরে নিহত ১১৩৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠে এল পাকিস্তান (Pakistan)। ২০২৫ সালে দেশটিতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় (Global Terrorism Index) প্রাণহানির সংখ্যা ৬ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনীতি ও শান্তিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের প্রকাশিত বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচক ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর পাকিস্তানে ১ হাজার ৪৫টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ১৩৯ জন। ২০১৩ সালের পর দেশটিতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় এত বেশি মানুষের মৃত্যু হয়নি।

    বিশ্বের ১৬৩টি দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতি, বিশেষত আফগানিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। টানা ছ’বছর ধরে দেশটিতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

    পণবন্দির ঘটনা (Pakistan) 

    প্রতিবেদনে পাকিস্তানে পণবন্দি করার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে জঙ্গিদের হাতে ১০১ জন পণবন্দি হয়েছিলেন। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫৫। মূলত জাফর এক্সপ্রেসে সন্ত্রাসবাদী হামলার জেরেই এই বিপুল বৃদ্ধি। ওই হামলায় ৪৪২ জনকে পণবন্দি করা হয়েছিল (Pakistan)।

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে। গত বছর দেশটিতে সংঘটিত মোট সন্ত্রাসবাদী হামলার ৭৪ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে এই দুই প্রদেশে। পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদী হামলায় মোট প্রাণহানির ৬৭ শতাংশও ঘটেছে এই দুই অঞ্চলে। এই পরিসংখ্যান পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে।

    সন্ত্রাসবাদী হামলা

    বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ছাড়াও বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া, নাইজার এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জঙ্গি হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই ঘটেছে এই পাঁচটি দেশে।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে দ্বিতীয় স্থানে ছিল (Global Terrorism Index) পাকিস্তান। এবার প্রথম স্থানে উঠে এসেছে দেশটি। টানা ছ’বছর ধরে সন্ত্রাসবাদী হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পণবন্দি করার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পরিসংখ্যান পাকিস্তানের ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে (Pakistan)।

     

  • Mahalaya 2026: মহালয়ার ভোরে গঙ্গার পাঁচ ঘাটে বাজবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের ‘চণ্ডীপাঠ’, বসানো হবে বিশাল রেডিয়োর প্রতিকৃতি

    Mahalaya 2026: মহালয়ার ভোরে গঙ্গার পাঁচ ঘাটে বাজবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের ‘চণ্ডীপাঠ’, বসানো হবে বিশাল রেডিয়োর প্রতিকৃতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের আমলে প্রথম দুর্গাপুজোয় একাধিক চমকের আয়োজন। মহালয়ায় (Mahalaya 2026) ইডেন গার্ডেন্সে বিরাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এবার বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলা হবে কলকাতার পাঁচটি গঙ্গার ঘাট (Ganga Ghats)। ১০ অক্টোবর মহালয়ার ভোরে বাবুঘাট-সহ পাঁচটি ঘাটে মাইকে শোনা যাবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। শুধু চণ্ডীপাঠই নয়, বিশেষ আলোকসজ্জার পাশাপাশি ঘাটগুলিতে তৈরি করা হবে অতিকায় রেডিয়োর প্রতিকৃতিও।

    মহালয়ার ভোরে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করতে কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলিতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। সেই সময় গঙ্গার পাড়জুড়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠের আবহ তৈরি করতে চাইছে রাজ্য সরকার। সরকারি সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে এই বিশেষ আয়োজনের জন্য কলকাতার পাঁচটি ঘাটকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে বাবুঘাট, বাজে কদমতলা ঘাট, জাজেস ঘাট, নিমতলা ঘাট এবং আহিরীটোলা ঘাট।

    গঙ্গার ঘাটে ‘চণ্ডীপাঠ’ (Mahalaya 2026)

    দীর্ঘদিন ধরে মহালয়ার ভোরে রেডিয়োয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনা বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যকেই এবার গঙ্গার ঘাটে তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাঁচটি ঘাটেই বসানো হবে বড় আকারের রেডিয়োর প্রতিকৃতি। বিশেষ আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে ঘাট চত্বর। তর্পণ করতে আসা মানুষ যাতে মহালয়ার চিরপরিচিত আবহ উপভোগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    এদিকে, মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত হতে চলেছে রাজ্য সরকারের বিরাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১০ অক্টোবর সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ইডেন থেকেই কলকাতার পাঁচ বড় দুর্গাপুজোর ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করার কথা প্রধানমন্ত্রীর।

    মেগা অনুষ্ঠান ইডেনে

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইডেনে যাওয়ার আগে রেড রোডে শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে ইডেনে পৌঁছনোর পর উলুধ্বনিতে তাঁদের বরণ করে নেওয়া হবে (Mahalaya 2026)। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ইডেনে থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর।

    বিকেল ৫টা থেকে ইডেনে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রায় ৬ হাজার শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন। তাঁদের মধ্যে থাকবেন শান্তনু মৈত্র, শান, অন্তরা মিত্র, কৌশিকী চক্রবর্তী এবং বাংলা লোকগানের দল ‘দোহার’। লগ্নজিতার অংশগ্রহণেরও কথা। এক সঙ্গে ঢাক বাজাবেন প্রায় ৩ হাজার ঢাকি (Mahalaya 2026)।

     

  • Suvendu Adhikari: মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদান দিবসে শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর, তাক করলেন মমতাকেও

    Suvendu Adhikari: মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদান দিবসে শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর, তাক করলেন মমতাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাতঙ্গিনী হাজরার ঐতিহাসিক আত্মবলিদানের ৮৪তম বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার কলকাতার রেড রোডে সংলগ্ন মাতঙ্গিনী হাজরার (Matangini Hazra) মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি।

    মাতঙ্গিনীর বলিদান দিবসে এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী ওই মূর্তিতে এসে শ্রদ্ধা জানাননি বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “এ যাবৎকালে আগের কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই মহীয়সী নারীর বলিদান দিবসে এখানে এসে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাননি বলেই আমার মনে হয়। রাষ্ট্রবাদী সরকার সম্মান জানাল।”

    মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদানের ইতিহাস (Suvendu Adhikari)

    ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। ভারত ছাড়ো আন্দোলনে উত্তাল অবিভক্ত মেদিনীপুর। ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানোর দাবিতে তমলুক থানা অভিমুখে এগিয়ে চলেছে কয়েক হাজার মানুষের মিছিল। সেই মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন মাতঙ্গিনী হাজরা। হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে বন্দে মাতরম ধ্বনি। মিছিল তমলুক থানার কাছে পৌঁছলে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ব্রিটিশ পুলিশ। গুলিবিদ্ধ হয়েও পিছিয়ে যাননি মাতঙ্গিনী। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা হাতে রেখেই শহিদ হন তিনি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর এই আত্মবলিদান স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

    গান্ধীবাদী আদর্শে বিশ্বাসী মাতঙ্গিনী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। আইন অমান্য আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারত ছাড়ো আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের একাধিক পর্যায়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন ‘গান্ধী বুড়ি’ নামে। বয়সের বাধা উপেক্ষা করে স্বাধীনতার দাবিতে রাজপথে নামার ঘটনা তাঁকে স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পরিচিত চরিত্রে পরিণত করে (Suvendu Adhikari)।

    তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার

    মাতঙ্গিনীর আত্মবলিদানের পর অবিভক্ত মেদিনীপুরে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন আরও সংগঠিত হয়। ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর তমলুকে প্রতিষ্ঠিত হয় তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। বিপ্লবী সতীশচন্দ্র সামন্তের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সমান্তরাল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুশীলকুমার ধাড়া ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা।

    ব্রিটিশ প্রশাসনের বিকল্প হিসেবে গড়ে ওঠা এই সরকার স্থানীয় স্তরে বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব সংগ্রহ এবং ত্রাণের মতো একাধিক দায়িত্ব পালন করেছিল। প্রায় ২০ মাস সক্রিয় থাকার পর ১৯৪৪ সালের অগাস্টে মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে এই সরকারের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় প্রতিষ্ঠিত সমান্তরাল সরকারগুলির মধ্যে এটি দীর্ঘস্থায়ী সরকার হিসেবে পরিচিত।

    তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “মাতঙ্গিনী হাজরার এই বলিদানের পর তাম্রলিপ্ত সরকার গঠিত হয়। ইংরেজদের বিরুদ্ধে চলা সব থেকে শক্তিশালী সমান্তরাল সরকার। পরে মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে এই সরকার ভেঙে দেওয়া হয়।”

    মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও মাতঙ্গিনী হাজরার বলিদান দিবসে রেড রোড সংলগ্ন মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি মমতা। শুভেন্দু বলেন, “১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। কোনও দিন এখানে আসেননি। রাজ্যবাসীকে ভুল বার্তা দিয়েছেন।”

    স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতিরক্ষা এবং তাঁদের যথাযথ সম্মান জানানোর বিষয়ে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দেবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য (Matangini Hazra), বর্তমান রাষ্ট্রবাদী বিজেপি সরকার দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অবদান কোনওভাবেই ভুলে যাবে না। শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) অভিযোগের বিষয়ে মমতা বা তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

     

  • India Energy Week: কলকাতায় বসছে আন্তর্জাতিক শক্তি সম্মেলন, শিল্পে বিনিয়োগ- কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আশা শুভেন্দুর

    India Energy Week: কলকাতায় বসছে আন্তর্জাতিক শক্তি সম্মেলন, শিল্পে বিনিয়োগ- কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আশা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ আনা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবার কলকাতায় আয়োজিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক শক্তি ও জ্বালানি সম্মেলন ‘ভারত শক্তি সপ্তাহ’। আগামী বছরের ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি নিউ টাউনের সম্মেলন কেন্দ্রে বসবে এই আন্তর্জাতিক আসর। সোমবার সম্মেলনের প্রস্তুতিপর্বের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে কলকাতাকে (India Energy Week) আয়োজক শহর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। চার দিনের এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ এবং শক্তি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ করার কথা।

    রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার। সেই প্রেক্ষাপটে কলকাতায় এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। অশোকনগরের তেল উত্তোলন প্রকল্প, হলদিয়া তৈল শোধনাগারের সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণের মতো একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশা, আগামী দিনে শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়লে বাংলায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    কলকাতায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন (India Energy Week)

    ভারত শক্তি সপ্তাহ দেশের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক শক্তি ও জ্বালানিবিষয়ক প্রদর্শনী এবং সম্মেলন। এর আগে বেঙ্গালুরু, গোয়া ও দিল্লিতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী বছর প্রথমবার কলকাতায় বসতে চলেছে এর আসর। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে শক্তি নিরাপত্তা, নতুন প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পাবে।

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, আগামী বছরের সম্মেলনে ৭৫ হাজারের বেশি শক্তি বিশেষজ্ঞ ও পেশাদার এবং ৭০০-র বেশি আন্তর্জাতিক প্রদর্শক অংশ নেবেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্প সংস্থা, নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের এক মঞ্চে নিয়ে আসার পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    একাধিক প্রকল্প

    সোমবারের অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু। অশোকনগরের তেল উত্তোলন প্রকল্প এবং হলদিয়া তৈল শোধনাগারের নতুন ইউনিটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অশোকনগরে তৈল উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে। এখন বাংলা মোদিজির হাত ধরে দেখছে কীভাবে কাজ করতে হয়। হলদিয়ায় রিফাইনারির নতুন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।”

    অশোকনগরের প্রকল্পকে ঘিরে রাজ্যের জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি হলদিয়া তৈল শোধনাগারের সম্প্রসারণের ফলে শিল্প পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলেই তাঁর প্রত্যাশা। এই ধরনের প্রকল্পের সঙ্গে পরিবহণ, নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পও যুক্ত থাকে। ফলে নতুন বিনিয়োগ এলে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে (India Energy Week)।

    সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। শিল্প সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

    পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর

    শিল্পায়নের প্রসঙ্গ উঠতেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে আগের সরকার রাজ্যে একাধিক শিল্প প্রকল্প চালু করতে দেয়নি। ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    শুভেন্দু বলেন, “আগের সরকার একাধিক প্রকল্প চালু করতে দেয়নি। আমরা এবার অনেক পরিকল্পনা করেছি। সবটা সফল হবে। এই সেক্টরে আগামী দিনে অনেক লগ্নি আসবে, প্রকল্পগুলির সম্প্রসারণ ও অনেক কর্মসংস্থান হবে।” তবে নতুন প্রকল্পগুলিতে কত টাকা বিনিয়োগ হবে কিংবা ঠিক কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সামনে আসেনি। আগামী দিনে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগের পরিমাণের উপরেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে (Suvendu Adhikari)।

    বাংলায় শিল্পায়ন নিয়ে আশাবাদী পুরী

    সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলায় এত বছরে কী হয়েছে ভেবে লাভ নেই। এবার শুভেন্দু আছেন। বাংলায় শিল্প আসবে। মোদিজির দেখানো পথে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তিনি।”

    সোমবারের অনুষ্ঠানে দেশের শক্তি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে হলে এখন থেকেই পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার উপর জোর দেন (India Energy Week) তিনি।

    আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ

    কলকাতায় এই সম্মেলনের আয়োজনকে ঘিরে রাজ্যের শিল্পমহলেও নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্মেলনে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, জৈব জ্বালানি এবং আধুনিক শক্তি প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগও থাকবে। বিশেষত হলদিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলে নতুন প্রকল্প এবং সহযোগী শিল্পের সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে শক্তি ক্ষেত্রে নয়া প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশের উপর প্রভাব কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলিও গুরুত্ব পাবে। কলকাতায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের ফলে রাজ্যের হোটেল, পরিবহণ, পর্যটন এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই আয়োজন রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে সম্মেলন থেকে বাস্তবে কতগুলি বিনিয়োগ প্রস্তাব ও প্রকল্প কার্যকর হয় তার উপর (Suvendu Adhikari)। আগামী বছরের জানুয়ারিতে চার দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দিকে তাই নজর থাকবে রাজ্য প্রশাসন ও শিল্পমহলের। অশোকনগর ও হলদিয়ার মতো চালু প্রকল্পগুলি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের (India Energy Week) প্রস্তাব কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটাই হবে আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

     

  • PM Modi: বাংলার শিল্পের পুরনো গৌরব ফেরাতে বিশেষ নির্দেশ মোদির, দেড় লাখ কোটি টাকা পরিকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা

    PM Modi: বাংলার শিল্পের পুরনো গৌরব ফেরাতে বিশেষ নির্দেশ মোদির, দেড় লাখ কোটি টাকা পরিকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র (PM Modi)। রাজ্যে পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিশেষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার কলকাতায় বণিকসভা অ্যাসোচ্যামের উদ্যোগে (Development Investment Jobs) আয়োজিত ওড়িশার অঙ্গুল অ্যালুমিনিয়াম শিল্পতালুক সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই পরিকাঠামো উন্নয়নে ৭৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকার নতুন পরিকাঠামো প্রকল্প পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ (PM Modi)

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের পরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সমস্ত মন্ত্রীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন, তা করতে হবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন হোক, বিনিয়োগ হোক কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ এক সময় ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র ছিল। এবার সেই পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে।”

    পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে পূর্ব ভারতকে দেশের অন্যতম প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান রেড্ডি। তাঁর বক্তব্য, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পের ঐতিহ্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ওড়িশার অ্যালুমিনিয়াম শিল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিকে যুক্ত করা গেলে দুই রাজ্যই উপকৃত হতে পারে। এর মাধ্যমে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সঙ্গেও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

    এদিনের অনুষ্ঠানে অঙ্গুল অ্যালুমিনিয়াম শিল্পতালুকে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। দেশের অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেই ধাতু ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির উপর জোর দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মধ্যে শিল্প করিডর গড়ে উঠলে নতুন কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ বাড়বে। কেন্দ্রের পূর্বমুখী নীতির বাস্তবায়নেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (PM Modi)।

    বঙ্গে চলেছে ‘জঙ্গলরাজ’

    পশ্চিমবঙ্গের কয়লা শিল্প নিয়েও এদিন সরব হন রেড্ডি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের কয়লা ক্ষেত্র বেআইনি খননকারী এবং কয়লা মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আগের সরকারগুলির আমলে এই ক্ষেত্রে জবাবদিহির অভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই পরিস্থিতিকে ‘জঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    রেড্ডি বলেন, “বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের কয়লা ক্ষেত্র মাফিয়া এবং বেআইনি খননকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কলকাতায় কোল ইন্ডিয়ার সদর দফতর থাকা সত্ত্বেও এই বাস্তবতার অভিজ্ঞতা সকলেরই রয়েছে (Development Investment Jobs)। খননের কোনও অনুমতি ছিল না, অথচ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে বেআইনিভাবে কয়লা উত্তোলন চলত। দুর্ঘটনা ঘটেছে, মানুষের প্রাণ গিয়েছে, কিন্তু কোনও জবাবদিহি ছিল না। পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের জঙ্গলরাজ চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আমরা সেই পরিস্থিতি বদলানোর জন্য বিশেষভাবে কাজ করছি (PM Modi)।”

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, কয়লা ও খনি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বেআইনি খনন বন্ধ করা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবহার রোধ এবং খনি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব যাতে যথাযথভাবে রাজ্য সরকারের কোষাগারে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    রাজ্য সরকারের রাজস্ব

    তিনি বলেন, “আগে কয়লা থেকে যে রাজস্ব আদায় হত, তা সরকারি কোষাগারে না গিয়ে অন্যত্র চলে যেত। এখন স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং কঠোর জবাবদিহির মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানো হচ্ছে। বহু বেআইনি কারবারি ইতিমধ্যেই সরে গিয়েছে। এর ফলে কয়লা ক্ষেত্র থেকে রাজ্য সরকারের রাজস্ব বাড়বে।”

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে দায়িত্ব পালনের সময়কার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন রেড্ডি। তাঁর অভিযোগ, অতীতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাঠানো প্রশাসনিক প্রতিবেদনে বাস্তব পরিস্থিতির যথাযথ প্রতিফলন থাকত না। তিনি দাবি করেন, খুন ও আত্মহত্যার মতো অপরাধের তথ্য চাওয়া হলেও, কোনও কোনও প্রতিবেদনে সেই সংখ্যা শূন্য দেখানো হত। তবে তাঁর এই অভিযোগের সমর্থনে অনুষ্ঠানে কোনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি (PM Modi)।

    কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সমন্বয়ে জোর

    রাজ্যের কয়লা ও খনি ক্ষেত্রের উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করার কথাও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। নতুন বিনিয়োগ আনা, শিল্পের প্রসার এবং রাজ্যের শ্রমশক্তির জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ করে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে (Development Investment Jobs) সাধারণ মানুষ এবং শিল্পমহলের সহযোগিতাও চান রেড্ডি। তাঁর বক্তব্য, বাংলার শিল্পের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি পূর্ব ভারতকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রফতানিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই কেন্দ্রের লক্ষ্য (PM Modi)।

     

  • Social Media Accounts Rule: ১৮ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নয়? নাবালকদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রকে বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    Social Media Accounts Rule: ১৮ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নয়? নাবালকদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রকে বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক ক্লিকেই অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলছে বাচ্চারা (Minors Social Media Account)। কিন্তু ভারতীয় আইন অনুযায়ী এটি কতটা সঙ্গত? ১৮ বছরের কম বয়সিরা (Social Media Age Limit) কি আদৌ কোনও ডিজিটাল চুক্তিতে সই করতে পারে? এই নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সের কম বয়সি অর্থাৎ নাবালকরা কোনও আইনি চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারে না (Child Online Safety)। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার আইনি শর্তাবলী মেনে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য বিধিবদ্ধ আইনি নিয়মের আওতায় আনা যায় কি না, তা কেন্দ্রকে খতিয়ে দেখতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা-র বেঞ্চে এই বিষয়ে শুনানি হয়। জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্স (Just Rights for Children Alliance বা JRCA)-এর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত এই পর্যবেক্ষণ করে।

    কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    শুনানিকালে বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কেন্দ্রের আইনজীবী অর্থাৎ ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিষয়টি আপনাদের গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ যেকোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলেই ডিজিটাল ‘টার্মস অফ সার্ভিস’ বা ব্যবহারের শর্তাবলী মেনে নিতে হয়, যা মূলত একটি আইনি চুক্তি বা কন্ট্রাক্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।” এরপরই ১৮৭২ সালের ঐতিহাসিক ‘ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্ট’-এর (ভারতীয় চুক্তি আইন) প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বাগচী বলেন, “এই আইনের ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও ১২ বা ১৫ বছরের নাবালক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আইনি চুক্তি সই করতে পারে না। নাবালকদের সঙ্গে করা এই ধরনের যেকোনও চুক্তি বা চুক্তিপত্র শুরু থেকেই সম্পূর্ণ বেআইনি ও বাতিল বলে গণ্য হয় (void ab initio)।” ফলে একজন নাবালক একা কী করে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এই চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে, প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের।

    শুধু নির্দেশিকা নয়, প্রয়োজন আইনি কাঠামো

    বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, নাবালকদের সুরক্ষা শুধুমাত্র নির্দেশিকা বা গাইডলাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এই সুরক্ষাগুলিকে সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টারমিডিয়ারিদের নিয়ন্ত্রণকারী আইনি কাঠামোর আওতায় আনা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে বলেন আদালত। ভারতে পরিষেবা পরিচালনা করা সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে বলেও স্পষ্ট করেছে বেঞ্চ। বিশেষ করে শিশু ও নাবালকদের সংক্রান্ত আইনি বিধানগুলি মেনে চলার বিষয়টির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ১৮ বছরের আইনি সীমা নিয়ে প্রশ্ন

    মামলাকারীদের মূল যুক্তির একটি হল, ভারতীয় আইনে ১৮ বছরের কম বয়সি ব্যক্তিরা স্বাধীনভাবে অনেক ধরনের আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি করতে পারেন না। অথচ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে সম্মতি দিতে হয়। তাহলে ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও শিশু কীভাবে স্বাধীনভাবে এমন অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালনা করতে পারে—সেই প্রশ্নই তুলেছে জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্স। জেআরসিএ-র হয়ে সিনিয়র আইনজীবী এইচ এস ফুলকা আদালতে জানান, ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন কাঠামো সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তাঁর যুক্তি, নাবালকদের চুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে বিদ্যমান ভারতীয় আইনেই প্রয়োজনীয় ভিত্তি রয়েছে।

    অভিভাবকের সম্মতির প্রস্তাব

    কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তিনি ডিজিটাল পার্সোনাল ডাটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট ২০২৩ (Digital Personal Data Protection Act, 2023)-এর কথাও উল্লেখ করেন। নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি (parental consent)-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনও শিশু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট তৈরি করলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিগত সম্পর্কটি বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

    আইটি অ্যাক্টের ৭৯ নম্বর ধারাও আলোচনায়

    শুনানিতে ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট (Information Technology Act)-এর ৭৯ নম্বর ধারা নিয়েও আলোচনা হয়। এই ধারা অনলাইন ইন্টারমিডিয়ারিদের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে, নাবালকদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। তবে আদালতের সাম্প্রতিক শুনানির অর্থ এই নয় যে ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য গোটা দেশে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বরং কেন্দ্রকে এমন একটি বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, যা ভারতীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাবালকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

    শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক উদ্বেগ

    জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্সের (JRCA) আবেদনে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— অনলাইন গ্রুমিং, যৌন শোষণ, শিশু পাচার, সেক্সটরশন বা অনলাইনে যৌন হয়রানির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল, আচরণগত প্রোফাইলিং, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, সাইবারবুলিং, বয়সের অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শ। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ১৩ বছর বয়স থেকেই অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে ভারতের নাবালকদের সম্পর্কিত আইনি কাঠামোর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিও মামলাকারীরা আদালতের নজরে এনেছেন।

    ফের শুনানি কবে

    এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবার কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল ১০ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি ফের শুনানিতে ওঠে। এদিন বেঞ্চ নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রকে বলেছে শীর্ষ আদালাত। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মামলাটি ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠতে পারে।

     

     

     

     

     

  • ED in Indranil Sen’s House: প্রতি বছর কোটি টাকার কারবার! দুর্গাপুজোয় ৫০-৬০ কোটির দুর্নীতি, ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডি

    ED in Indranil Sen’s House: প্রতি বছর কোটি টাকার কারবার! দুর্গাপুজোয় ৫০-৬০ কোটির দুর্নীতি, ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen) ও তাঁর স্ত্রীর সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোর ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ভাঙিয়ে পুজো (Durga Puja)পরিক্রমার ভুয়ো পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরেছেন বাংলার এই গায়ক। সেই অভিযোগের তদন্তেই মঙ্গলবার সাতসকালে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে পৌঁছে গেল ইডি (ED Raid)। সূত্রের খবর, তাঁর কসবার বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তকারীরা। শুধু প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িই নয়, এ দিন ভোর থেকে একইসঙ্গে তাঁর সংস্থার অফিস-সহ শহরের একাধিক জায়গায় চলছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযান। জানা গিয়েছে, ইন্দ্রনীলের হুগলির ফার্ম হাউসেও পৌঁছে গিয়েছে ইডির দল।

    শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইডির দল

    মঙ্গলবার ভোরে শহরের ১০টি ঠিকানায় হানা দেয় ইডির (ED Raid in Kolkata) একাধিক দল। তার মধ্যে রয়েছে তৃণমূল আমলের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়ি, হিন্দুস্তান পার্কে তাঁর আত্মীয়ের বাড়ি এবং হাইল্যান্ড পার্কের এক ইভেন্ট ম্যানেজারের বাড়ি। প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় জওয়ানরা। তবে তিনি এই মুহূর্তে বাড়িতে আছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযোগ, মাস-আর্ট নামক সংস্থার নামে বাজার থেকে বিরাট অঙ্কের টাকা তোলেন ইন্দ্রনীল সেন। ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, গত তিন বছর ধরে এই টিকিট বিক্রির মাধ্যমে তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

    প্রি-পূজা ও প্রিভিউ শোয়ের টিকিট বিক্রি চড়া দামে

    ইডির দাবি, বাংলার দুর্গাপুজো ২০২১ সালে ইউনেস্কোর (UNESCO) হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরই শুরু হয়েছিল অন্য এক খেলা। সেই বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম অপব্যবহার করে প্রি-পূজা ও প্রিভিউ শোয়ের চড়া দামের টিকিট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ইউনেস্কোর হেরিটেজ পাওয়ার ঠিক এক বছর পরেই (২০২২ নাগাদ) একটি বিশেষ সংস্থা গড়ে তোলা হয়। যার নাম দেওয়া হয়, ‘মাস আর্ট’ (Mass Art)। এর নেপথ্যে ছিলেন ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। সংস্থাটির কাজ ছিল দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার আগেই দর্শনার্থীদের বিশেষ ‘প্রি-পূজা টিকিট’ বিক্রি করা। কলকাতার নামজাদা প্রায় ২৪টি পুজোকে বেছে নিয়ে একটি মিউজিয়াম বা প্রদর্শনীতে তাদের থিম ও শিল্পকর্ম দেখানো হত। সংস্থাটি দাবি করত, এই উদ্যোগ ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    ইউনেস্কো যুক্ত ছিল না কখনওই

    অভিযোগকারীর দাবি, ইউনেস্কো কোনওদিনই পুজোর এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ বা প্রদর্শনীর সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে ভুয়ো আন্তর্জাতিক তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে বিপুল দামে এই টিকিট বিক্রি করা হত। তদন্তে উঠে আসে এই পাসগুলি পাওয়ার জন্য ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার জন, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার জন এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার জন নাম রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। ২০২২ সালে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নেতৃত্বে ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে এই সংস্থাটি গড়ে ওঠে। যে পুজোগুলোকে এই প্রদর্শনীতে বাছা হত, নিয়ম করে কেবল তারাই বড় বড় স্পনসর এবং পুরস্কার পেত। টিকিট বিক্রি ও স্পনসরশিপের বিপুল কোটি টাকার সামান্য একটু অংশ পেত পুজো ক্লাবগুলো, আর সিংহভাগ টাকাই চলে যেত ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর পকেটে। ইডির দাবি, সব মিলিয়ে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছে।

    কোটি কোটি টাকার কারবার

    এতদিন ভীতি ও প্রভাবশালী চাপের কারণে মুখ খুলতে না পারলেও, এবার আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান অভিযোগকারী। চলতি বছরের জুন মাসে বউবাজার থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। মঙ্গলবার তার ভিত্তিতে ইডি তল্লাশি শুরু করল। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে পুজোর পাস নিয়ে ইডির এই তদন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোনওরকম অনুমতি ছাড়াই ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীলের সংস্থার বিরুদ্ধে। কলকাতার প্রায় চব্বিশটি বাছাই করা পুজোমণ্ডপের প্রিভিউ শো দেখানোর নামে যে পাস বিক্রি করা হতো তার একেকটির মূল্য ১৭৪৯ টাকা থেকে শুরু করে ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইউনেস্কো ওই মণ্ডপগুলি নির্বাচন করেছে বলে দাবি করা হলেও তার কোনও সত্যতা মেলেনি।

    কীভাবে টাকার লেনদেন হত

    যদিও এই সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর হয়েছিল। তবে দুর্নীতির অঙ্ক বিপুল হওয়ায় ইসিআইআর করে তদন্ত শুরু করে ইডি। প্রাক্তন মন্ত্রীর সংস্থার নামে যদি টাকা তোলা হয়, তবে তা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, কীভাবে টাকার লেনদেন হত, এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এদিন শহরের একাধিক ঠিকানায় হানা দেয় তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে খবর, সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের একটি বাগানবাড়ি রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সেখানেও ইডি আধিকারিকরাও হানা দিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই, আর্থিক দুর্নীতির উৎসে পৌঁছনো।

  • Modi’s Canada Visit: ১০ বছর পর কানাডা সফরে মোদি? ডিসেম্বরেই কি চূড়ান্ত হতে পারে ভারত-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি?

    Modi’s Canada Visit: ১০ বছর পর কানাডা সফরে মোদি? ডিসেম্বরেই কি চূড়ান্ত হতে পারে ভারত-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ এক দশক পর ফের কানাডা সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi’s Canada Visit)। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তাঁর কানাডা সফরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ভারত ও কানাডার (India Canada Relation) মধ্যে প্রস্তাবিত কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (CEPA)-এর আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। দুই দেশের লক্ষ্য, এই বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়া। মোদি-র সম্ভাব্য কানাডা সফর এবং আগামী ৫ অক্টোবর পরবর্তী দফার বাণিজ্য আলোচনা—দুই দেশই কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৩ সালে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর ভারত-কানাডা সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    রাষ্ট্রপুঞ্জে জয়শঙ্কর-আনন্দ বৈঠক

    শনিবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকের পর জয়শঙ্কর সমাজমাধ্যমে জানান, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি লেখেন, কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে দেখা করা সবসময়ই আনন্দের। দুই দেশের সম্পর্ককে “আরও উচ্চতায়” নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে কানাডার বিদেশমন্ত্রীও ভারতের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কানাডা বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বৈচিত্র্যময় করার দিকে নজর দিচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যও রয়েছে কানাডার। এই লক্ষ্যে ইন্দো-প্যাসিফিক, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে অটোয়া। সেই তালিকায় ভারত ও চিনের মতো বড় অর্থনীতির দেশও রয়েছে বলে জানান আনন্দ।

    ডিসেম্বরেই কানাডা যেতে পারেন মোদি

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এর আগে জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বর নাগাদ প্রধানমন্ত্রী মোদির কানাডা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কার্নি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা “ভাল গতিতে” এগোচ্ছে। কার্নির কথায়, ভারত-কানাডা সম্পর্ক মানুষে-মানুষে যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ও অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর জি-২০-তে ভারত ও কানাডা চলতি বছর জি২০ সম্মেলনের মধ্যে সেপা-র আলোচনা শেষ করার দিকে এগোনোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন কার্নি। মোদি ডিসেম্বর মাসে কানাডা গেলে, সেটি হবে ২০১৫ সালের পর তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক কানাডা সফর।

    ৫ অক্টোবর থেকে ফের বাণিজ্য আলোচনা

    সেপা নিয়ে ভারত ও কানাডার মধ্যে আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী মনিন্দর সিধু একাধিক বৈঠক করেছেন। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। দুই দেশের লক্ষ্য, সেপা (CEPA)-র মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। তবে এখনও চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো, পরিষেবা, বিনিয়োগ কিংবা নিয়ন্ত্রক সহযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতাতেও জোর

    বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগও ভারত-কানাডা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কানাডার পেনশন ফান্ডগুলি ইতিমধ্যেই ভারতের পরিকাঠামো, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক আবাসন ক্ষেত্রে বড় আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে। সেপা চূড়ান্ত হলে এই বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ-শৃঙ্খলের উপর নির্ভরতা কমানো এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই দেশ একটি নতুন দ্বিপাক্ষিক কৌশলও গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র।

    ২০২৩-এর কূটনৈতিক সংঘাতের পর ফের সম্পর্ক স্বাভাবিকের পথে

    ২০২৩ সালে ভারত-কানাডা সম্পর্কের বড় অবনতি হয়। তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতীয় সরকারি এজেন্টদের সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগের তদন্তের কথা বলেছিলেন। ভারত সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে এবং একে অপরের কূটনীতিকদের বহিষ্কার ও কূটনৈতিক উপস্থিতি কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের মার্চে মার্ক কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। জুন ২০২৫-এ কার্নি ও মোদি দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ফেরাতে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। এরপর দুই দেশের হাইকমিশনাররা ফের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়।

    নজর ৫ অক্টোবরের বৈঠকে

    ভারত-কানাডা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন বড় পরীক্ষা ৫ অক্টোবরের সেপা আলোচনা। বাণিজ্য চুক্তির বাকি মতপার্থক্যগুলি কতটা দ্রুত মেটানো যায়, তার উপরই নির্ভর করবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ। ডিসেম্বরে মোদির সম্ভাব্য কানাডা সফর সেই আলোচনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা দিতে পারে। তবে সফরের আগে সেপা-র বাকি বিষয়গুলিতে ঐকমত্য তৈরি হবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • RSS: ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবত, বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় বদলের প্রস্তুতি

    RSS: ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবত, বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় বদলের প্রস্তুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা আরও জোরদার করতে ৮ অক্টোবর রাজ্যে আসছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। সংঘ সূত্রের খবর, বর্ধমানে সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা তাঁর। রাজ্যে সংগঠনের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন, শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আগামী এক (Mohan Bhagwat) বছরের কর্মসূচি নির্ধারণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

    রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলায় সংগঠন বিস্তারে নতুন করে জোর দিয়েছে আরএসএস। সেই আবহেই সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এতদিন রাজ্যে ‘প্রান্ত’ কাঠামোর মাধ্যমে সাংগঠনিক কাজ চললেও এবার সারা দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘সম্ভাগ’ ভিত্তিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোন অঞ্চলে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, কোথায় সাংগঠনিক পরিবর্তন প্রয়োজন এবং আগামী এক বছরে সংগঠনের অগ্রাধিকার কী হবে, ভাগবতের বৈঠকে সেই রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আরএসএসের বক্তব্য (RSS)

    আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গের প্রান্ত প্রচারপ্রমুখ বিপ্লব রায়ের বক্তব্য, বর্তমানে বাংলায় তিনটি প্রান্ত রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সেই কাঠামো ভেঙে পাঁচটি সম্ভাগে সংগঠন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ, বর্ধমান ও মেদিনীপুরকে কেন্দ্র করে নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসের কথা সামনে এসেছে। চার-পাঁচটি জেলা নিয়ে একটি করে সাংগঠনিক অঞ্চল গড়ে তোলা হতে পারে। সংঘ সূত্রের দাবি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তৃণমূল স্তরে সরাসরি জনসংযোগ বাড়ানোই এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    শুধু বাংলা নয়, সারা দেশেই সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে আরএসএসের। সংঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে প্রান্তের সংখ্যা ৪৪ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১১০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারই প্রভাব পড়তে চলেছে বাংলার সাংগঠনিক বিন্যাসে।

    কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজ্যে শাখা বিস্তারেও (RSS) বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংঘ। সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বাংলায় প্রায় পাঁচ হাজার শাখা ছিল। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ করে ১০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে ১ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মকে স্বয়ংসেবক হিসেবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    সংগঠনের পরিধি বাড়াতে সংখ্যালঘু সমাজের কাছেও পৌঁছতে চাইছে আরএসএস। সেই লক্ষ্যে জনসংযোগ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংঘ সূত্রের খবর, ২ ও ৩ অক্টোবর কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে ‘মাইনরিটি সিটিজেন্স ফোরাম’-এর উদ্যোগে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।

    কলকাতায় নতুন পরিকাঠামো

    এদিকে, বাংলায় সংগঠনের কাজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় নতুন পরিকাঠামোও গড়ে তুলেছে আরএসএস। নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ২ডি-তে তৈরি হয়েছে পাঁচতলা ‘কেশব স্মৃতি ভবন’। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংঘের সর্বভারতীয় সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসেবল। নতুন ভবনে রয়েছে সভাকক্ষ, প্রেক্ষাগৃহ, সংঘের পদাধিকারীদের থাকার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক পরিকাঠামো।

    এতদিন মানিকতলার কেশব ভবন থেকেই বাংলায় সংঘের মূল সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হত। নতুন ভবনটি অতিরিক্ত সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক ও থাকার ক্ষেত্রেও এই ভবন কাজে আসবে (Mohan Bhagwat) বলে খবর।

    ইতিমধ্যেই ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবতের (RSS) সফর ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংঘ সূত্রের খবর, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো কার্যকর করা, দায়িত্ব বণ্টন, শাখা বিস্তার এবং আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে ওই সফরে। রাজ্যের আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও স্বয়ংসেবকদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

     

LinkedIn
Share