Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Australia)। মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে খনিজ (Critical Minerals), বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলি ভারত-অস্ট্রেলিয়ার কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-কে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি ও পারমাণবিক সহযোগিতা

    সূত্রের খবর, জ্বালানি ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত-অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিভিল নিউক্লিয়ার এগ্রিমেন্ট-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ায় এবার শান্তিপূর্ণ কাজে ভারতের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে খুলে গেল। ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ভারত অস্ট্রেলিয়ার থেকে এলএনজি (LNG), কয়লা এবং ডিজেল আমদানিও বাড়াবে।

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তি

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, অস্ট্রেলিয়া শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ভারতকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির লক্ষ্যে নতুন গতি আনবে। মেলবোর্নে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত শুধু ঘনিষ্ঠ অংশীদারই নয়, বরং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তির মাধ্যমে ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে অস্ট্রেলীয় ইউরেনিয়াম। দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সরবরাহের উৎস আরও বহুমুখী হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সময় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার।

    শুধু জ্বালানি নয়, কৌশলগত বার্তাও

    ভারতের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার খনিজসম্পদ খাতের জন্যও এটি নতুন বাজার সৃষ্টি করবে। বাণিজ্যে চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিল্লিকেই নতুন বাজার হিসেবে বেছে নিল ক্যানবেরা। ২০১৪ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সরবরাহ করা জ্বালানি যাতে শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরেনিয়াম চুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় বড় অগ্রগতি

    প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে তৎপর দুই দেশই। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ডিফেন্স ইনোভেশন করিডর গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের সহযোগিতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছ। সূত্রের খবর, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে মেরিটাইম সিকিউরিটি রোডম্যাপ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক নজরদারি ও উপকূলীয় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮-২৯ শিক্ষাবর্ষে একজন ভারতীয় সেনা আধিকারিককে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স কলেজে নিয়োগ করা হতে পারে। দুই দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জয়েন্ট ডিক্লারেশন অন ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কোঅপারেশন ঘোষণা করেছে, যা ২০০৯ সালের নিরাপত্তা ঘোষণার নবীকরণ। এর মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক শিল্প, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও বাড়বে। ভারতের কোস্ট গার্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মেরিটাইম বর্ডার কমান্ড-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল

    এছাড়াও ভারত-অস্ট্রেলিয়া ক্রিটিক্যাল মিনারেল করিডর গড়ে তোলা হবে। সূত্রের খবর, ভারত-অস্ট্রেলিয়া PACTS চুক্তির আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি-সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বাড়াতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাকে নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক প্রযুক্তি অংশীদারিত্বে সম্মতি জানানো হয়েছে। ভারতের গগনযান কর্মসূচিকে সমর্থন করতে কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জে একটি অস্থায়ী স্পেস ট্র্যাকিং টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশই পরিচ্ছন্ন শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফেরত

    অস্ট্রেলিয়া ভারতের হাতে তিনটি মূল্যবান প্রত্নবস্তু ফিরিয়ে দিয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর ১১-১২ শতকের গ্রানাইটের নন্দী মূর্তি, ১১ শতকের ভদ্রকালীর ত্রিশূল এবং ১২ শতকের ষড়ানন কার্তিকেয়ের বাসাল্ট মূর্তি। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ফিল্ম স্কুলের মধ্যে চলচ্চিত্র শিক্ষা, যৌথ কর্মশালা, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্স পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইকোনমিক কর্পোরেশন অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (ECTA)-এর ইতিবাচক ফলাফলকে স্বাগত জানান। এই সফরে অনুষ্ঠিত সিইও ফোরামে- প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে সবুজ হাইড্রোজেন, সৌর প্যানেল, বায়ু শক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। গান্ধীনগরের পণ্ডিত দীনদয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় রুফটপ সোলার ট্রেনিং অ্যাকাডেমি চালু হচ্ছে যেখানে ২,০০০ মহিলা ও যুবক-যুবতীকে সৌর প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

  • Suvendu Adhikari: সরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্যভবন থেকে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করলেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: সরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্যভবন থেকে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকর করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে যাওয়ার পথে আচমকাই স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা, পরিকাঠামো, রোগী পরিষেবা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১৫ থেকে ১৬টি সরকারি ও জেলা হাসপাতালকে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (ওপিডি), ওয়ার্ড, এমনকি রান্নাঘর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত অংশে নজরদারি চালানো হবে। তিনি বলেন, “রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বরদাস্ত করা হবে না।”

    স্বাস্থ্যভবনে অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম

    হাসপাতালগুলির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য স্বাস্থ্যভবনে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুম থেকে লাইভ ফিডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাধারণ রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসেন না। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যদি বারবার একই হাসপাতালে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে তাঁকে সহজেই চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর দাবি, সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণভাবে দালালমুক্ত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    কর্মীদের জন্য আলাদা রঙের পরিচয়পত্র

    রোগী ও তাঁদের পরিবারের সুবিধার্থে হাসপাতালের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের জন্য পৃথক রঙের ল্যামিনেটেড পরিচয়পত্র চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নার্স, নিরাপত্তারক্ষী, ট্রলি চালক-সহ বিভিন্ন কর্মীর আলাদা ব্যাজ থাকলে সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁদের পরিচয় বুঝতে পারবেন এবং বিভ্রান্তির সুযোগ কমবে।

    প্রতিটি বড় হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার

    দুর্ঘটনা বা বড়সড় বিপর্যয়ের সময় দ্রুত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রতিটি বড় সরকারি হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই কেন্দ্রগুলিতে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের পরিজনদের কথা মাথায় রেখে হাসপাতাল চত্বরে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে রাত্রিযাপনের আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ইউনিটের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছে।

    এসএসকেএমে বাড়ছে বেড ও আইসিইউ

    এসএসকেএম হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে ইতিমধ্যেই ১০০টি নতুন বেড চালু হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই আরও ২৫০টি বেড যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের আইসিইউ বেড ১১২ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২০০ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্ন ইউনিটেও দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ করে পরিষেবা আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

    রোগীদের খাবারের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ

    সরকারি হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে ২০১৭ সালের পর থেকে রোগীদের খাদ্য বরাদ্দ আর বাড়ানো হয়নি। বর্তমান সরকার সেই বরাদ্দ ৫৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করেছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল, আইসিইউ-তে ভর্তি শিশু এবং আইসিডিএস প্রকল্পের অন্তর্গত গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টি সংক্রান্ত বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    বেসরকারি হাসপাতালের ফ্রি বেড নিয়ে কড়া বার্তা

    সরকারি জমিতে তৈরি বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চুক্তি অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের জন্য ১৫ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের চাপের মুখে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলি আপাতত ১০ শতাংশ বিনামূল্যের বেড চালু করতে সম্মত হয়েছে।

    নিউটাউনে ২,০০০ শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল

    স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ২,০০০ শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তোলার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই হাসপাতালের ১,০০০টি শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

    দুর্নীতির তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ

    স্বাস্থ্য দফতরের অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি আইন মেনে দ্রুত সরবরাহ করতে হবে এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই এগোবে প্রশাসন।

  • Allahabad HC: শরিয়ত আইন নয়, পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনই প্রাধান্য পাবে, রায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের

    Allahabad HC: শরিয়ত আইন নয়, পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনই প্রাধান্য পাবে, রায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শরিয়ত আইন বা মুসলিম ব্যক্তিগত আইন কখনওই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন (Prohibition of Child Marriage Act, 2006) এবং পকসো আইন (Protection of Children from Sexual Offences Act, 2012)-কে অগ্রাহ্য করতে পারে না। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি এক মামলায় এই রায় দিয়েছে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad HC)। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশে বিয়ের ন্যূনতম বয়স সবার জন্য একই। মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর। বিচারপতি জেজে মুনির এবং আচল সচদেব-এর ডিভিশন বেঞ্চ ১ জুলাই ২০২৬ এই রায় দেয়। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের কাকোর থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর খারিজের আবেদনও আদালত খারিজ করে দেয়।

    কোন মামলার প্রেক্ষাপটে এই রায়

    মামলার সূত্রপাত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ। অভিযোগ, বুলন্দশহরের সুনপেদা বক্সুয়া গ্রামে ১৬ বছরের এক মুসলিম কিশোরীর বিয়ের খবর পেয়ে পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীরা সেখানে পৌঁছে বাল্যবিবাহ (Child Marriage Acts) রুখতে উদ্যোগ নেন। কিশোরীকে অস্থায়ীভাবে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)-র সামনে পেশ করার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা ওই কিশোরীকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান এবং সরকারি কর্মীদের হুমকি ও বাধা দেন বলে অভিযোগ। পরে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী কোনও মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছলে, অর্থাৎ সাধারণভাবে ১৫ বছর বয়সের পর, তার বিয়ে বৈধ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭ এবং ইন্ডিয়ান মেজরিটি অ্যাক্ট, ১৮৭৫-এ সেই অবস্থান স্বীকৃত রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন তাদের ব্যক্তিগত আইনের ওপর প্রাধান্য পায় না।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    অভিযুক্তদের এই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে হাইকোর্ট জানায়, ব্যক্তিগত আইন কোনওভাবেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন বা পকসো আইনের বিধানকে খর্ব করতে পারে না। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক পকসো আইনে অপরাধ। ফলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে অনুমোদন করলে তা কার্যত পকসো আইনের লঙ্ঘনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সামিল হবে। রায়ে বিচারপতি জেজে মুনির বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিয়ের বৈধ বয়স নির্ধারণ করেছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন। ধর্মের ভিত্তিতে এর কোনও ব্যতিক্রম হতে পারে না। শরিয়ত আইনে বয়ঃসন্ধিকে বিয়ের উপযুক্ত বয়স হিসেবে ধরা হলেও, তা বর্তমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    ধর্মীয় আইন পকসো-র ওপরে নয়

    আদালত আরও জানায়, পিসিএমএ (PCMA) এবং পকসো (POCSO)—দুই আইনই জনস্বাস্থ্য, শিশু সুরক্ষা এবং জাতীয় নীতির ভিত্তিতে প্রণীত বিশেষ আইন। তাই কোনও ব্যক্তিগত আইন, প্রথা বা ধর্মীয় রীতিনীতি এই আইনগুলির প্রয়োগে বাধা হতে পারে না। পরবর্তী সময়ে প্রণীত এবং সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য আইন হিসেবে পিসিএমএ-ই কার্যকর হবে। একইসঙ্গে আদালত জানায়, পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীরা আইন অনুযায়ী বাল্যবিবাহ রুখতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কাজে বাধা, হামলা ও সরকারি কর্তব্যে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে প্রাথমিকভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধের উপাদান রয়েছে। তাই তদন্ত বন্ধ করার কোনও কারণ নেই। আদালত তদন্তের ওপর জারি থাকা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করে দেয়।

    ব্যক্তিগত আইনের ঊর্ধ্বে নাবালকদের সুরক্ষা

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন হাইকোর্টে এ বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও ইলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায় শিশু অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ধর্ম বা ব্যক্তিগত আইনের ঊর্ধ্বে রয়েছে নাবালকদের সুরক্ষা এবং দেশের শিশু সুরক্ষা আইন। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, নাবালিকাদের নিরাপত্তা ও বাল্যবিবাহ রোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে প্রশাসনকে। অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে নাবালিকারা নিজেরাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে বলে অভিযোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় না। সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে বিষয়টি ধরা পড়ে। আদালত জানায়, বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া মাত্রই তা আটকাতে হবে। পাশাপাশি বিয়ের পরও যদি কোনও নাবালিকার ঘটনা সামনে আসে, তাহলে সংশ্লিষ্ট স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্তে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

    বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন

    ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনটির নানা ধারা ২০০৬ সালে সংশোধন করা হলেও এখনও কিছু ফাঁক রয়ে গিয়েছে বলে আগে বহুবার জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই ফাঁকগুলি মেরামতের পাশাপাশি আইন প্রযুক্তকারীদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলেছে শীর্ষ আদালত। বলা হয়েছে, বাল্যবিবাহের মূল কারণগুলি চিহ্নিত করে তার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে। ২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের ‘মূল ভাবনা’র কথাও সময় বিশেষে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তি শেষ পন্থা হিসেবে অবলম্বন করতে হবে। এমনকী অপ্রাপ্তবয়স্কদের পছন্দের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ইচ্ছাও এই আইনের পথে অন্তরায় হতে পারে না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের পথ রোধ করতে পারে না ব্যক্তি অধিকারের আইন। বাল্যবিবাহের পাশাপাশি নাবালিকাদের বাগ্‌দান বন্ধ করা প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে আদালত।

  • Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রকৃত মূল অভিযুক্তকে আড়াল করতেই এই ‘এনকাউন্টার’ ঘটানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

    ‘অপরাধীর ঠাঁই জেল বা মৃত্যু’— শমীকের কড়া বার্তা

    বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কোনও অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, খুন বা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। শমীকের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে অপরাধচক্র ও দৌরাত্ম্য চলছিল, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। কোনও রাজনৈতিক নেতার আশ্রয় বা প্রভাব খাটিয়ে কেউ পার পাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিল বিজেপি

    তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, মূল অভিযুক্তকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই পুলিশের এই পদক্ষেপ। সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তৃণমূলের বক্তব্যের আর জনসমর্থন বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। গত ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যের মানুষ তাদের কার্যকলাপ দেখেছেন।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে কামদুনি-সহ অতীতের একাধিক ঘটনায় তৃণমূলের ভূমিকা মানুষ ভোলেনি। তাই এই ধরনের অভিযোগকে সাধারণ মানুষ গুরুত্ব দেবে না।’’

    কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খোলার দাবি

    বারুইপুর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে কামদুনি গণধর্ষণ মামলারও উল্লেখ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কামদুনি মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হোক এবং সেই মামলার তদন্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হোক।’’ তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনায় নির্যাতিতারা পূর্ণ বিচার পাননি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে গিয়েছে।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না। জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রেখেই সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছেন। ফলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে।’’

    পুলিশের পদক্ষেপের পাশে সুকান্ত মজুমদার

    ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার পক্ষেই সওয়াল করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তার বক্তব্য, কোনও অভিযুক্ত যদি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়, তাহলে পুলিশ পাল্টা গুলি চালাতেই বাধ্য। সুকান্ত বলেন, ‘‘পুলিশের দিকে গুলি ছুড়লে পুলিশ তো আর জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না, পাল্টা গুলিই চালাবে।’’

    কী দাবি পুলিশের?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধস্থলে ঘটনাক্রমের পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সে আচমকা এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর পুলিশের দিকেই গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হলে অভিযুক্ত গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে শাসক বিজেপি।

  • FIFA World Cup 2026: শেষ আটের লড়াই শুরু! জেনে নিন ভারতীয় সময়ে কখন কোন দল কাদের বিরুদ্ধে খেলবে?

    FIFA World Cup 2026: শেষ আটের লড়াই শুরু! জেনে নিন ভারতীয় সময়ে কখন কোন দল কাদের বিরুদ্ধে খেলবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমে উঠল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) নকআউট পর্বের খেলা। কাপ স্পর্শ করার থেকে মাত্র তিন কদম দূরে দাঁড়িয়ে আটটি দল। লক্ষ্য একটাই, পথটা কঠিন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার আশায় ফুটবলপ্রেমীরা। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026) এই বছর আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোতে যুগ্মভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বছর বিশ্বকাপে মোট ৪৮টি দল অংশ নিয়েছিল। ফিফা বিশ্বকাপে নক আউট ম্যাচগুলি চলছে, কিন্তু এই তিনটি আয়োজক দেশই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছে। তিনটি দেশকেই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে হারের মুখে পড়তে হয়েছে। শেষ ষোলো পর্ব সমাপ্ত হতেই ঠিক হয়ে গিয়েছে, কোন আট দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে।

    কোন কোন দল কোয়ার্টার ফাইনালে

    আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, মরক্কো, নরওয়ে এবং সুইৎজারল্যান্ড জায়গা পেয়েছে শেষ আটে। এ ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে ইউরোপ। কোয়ার্টারে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের ছ’টি টিম। আফ্রিকা থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছে মরক্কো। লাতিন আমেরিকা থেকে রয়েছে গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে শেষ আটের পূর্ণাঙ্গ সূচিও। কোন দল কাদের বিরুদ্ধে খেলবে? ভারতীয় সময়ে কখন, কাদের ম্যাচ? কোন ম্যাচে বেশি নজর থাকবে? রইল বিস্তারিত সূচি।

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি

    কোয়ার্টার ফাইনাল ১ – ফ্রান্স বনাম মরক্কো, বস্টন, ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১.৩০ (ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুক্রবার)

    কোয়ার্টার ফাইনাল ২ – স্পেন বনাম বেলজিয়াম, লস অ্যাঞ্জেলেস, ভারতীয় সময় শুক্রবার রাত ১২.৩০ (ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শনিবার)

    কোয়ার্টার ফাইনাল ৩ – নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ড, মায়ামি, ভারতীয় সময় শনিবার রাত ২.৩০ (ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রবিবার)

    কোয়ার্টার ফাইনাল ৪ – আর্জেন্টিনা বনাম সুইৎজারল্যান্ড, ভারতীয় সময় রবিবার সকাল ৬.৩০

    কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে কারা

    চলতি বিশ্বকাপে দেখা গিয়েছে কোনও প্রতিপক্ষই সহজ নয়। বর্তমানে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেও চমক দিয়েছে কেপ ভের্দে, প্যারাগুয়ে, কঙ্গোর মতো টিমগুলি। তবে শেষ আটে সবচেয়ে বেশি ফোকাসে ফ্রান্স বনাম মরক্কো (France vs Morocco) ম্যাচ। এর পাশাপাশি দুরন্ত ফর্মে থাকা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কী ভাবে জ্বলে ওঠেন নরওয়ের আর্লিং হাল্যান্ড (Erling Haaland), সে দিকেও নজর থাকবে। স্পেন ও বেলজিয়াম (Spain vs Belgium), দুই দলকেই নিজের সেরা ছন্দে দেখা যায়নি। শেষ আটে ফর্মে ফেরাই লক্ষ্য তাদের। অন্য দিকে, লিওনেল মেসির (Lionel Messi) আর্জেন্টিনা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে তৈরি সুইৎজারল্যান্ড। তাই রাত জাগতে প্রস্তুত ফুটবলপ্রেমী কলকাতা।

     

     

     

     

     

  • West Bengal Investment: ৩০ বছর পর বাংলায় ফের মিৎসুবিশি! সেমিকন্ডাক্টর-ইভি প্রকল্পে নজর, দুই সপ্তাহের মধ্যেই জমি দেখাবে রাজ্য

    West Bengal Investment: ৩০ বছর পর বাংলায় ফের মিৎসুবিশি! সেমিকন্ডাক্টর-ইভি প্রকল্পে নজর, দুই সপ্তাহের মধ্যেই জমি দেখাবে রাজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় নতুন শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে। প্রায় তিন দশক পর ফের পশ্চিমবঙ্গে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাল জাপানের বিশ্বখ্যাত সংস্থা মিৎসুবিশি কেমিক্যাল। সংস্থাটি রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) শিল্পের জন্য উৎপাদন ইউনিট গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে বুধবার নবান্নে রাজ্যের শিল্প ও অর্থ দফতরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা।

    নবান্নে বৈঠক, জমি চিহ্নিত করার প্রস্তুতি

    বুধবার নবান্নে মিৎসুবিশি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তেরুয়ো ফুজিতা এবং তোমাফুমি কোয়ামা। তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বৈঠকে মূলত রাজ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং জমি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জাপানি প্রতিনিধিদল আবার কলকাতায় আসবে। সেই সফরে সম্ভাব্য শিল্পাঞ্চল ও জমি সরেজমিনে দেখানো হবে।

    কেন ভারতের দিকে ঝুঁকছে মিৎসুবিশি?

    বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে ভারতকে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে দেখছে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশেষ করে চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎপাদন ঘাঁটি তৈরির কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে মিৎসুবিশি কেমিক্যালও। সংস্থাটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ব্যবহৃত আল্ট্রা-পিওর কেমিক্যাল এবং ইভি ব্যাটারির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরিতে বিশ্বস্ত নাম। দেশে একের পর এক চিপ উৎপাদন প্রকল্প এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের সম্প্রসারণের ফলে এই বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে চায় জাপানি সংস্থাটি। সেই কারণেই ভারতে একটি বৃহৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্য গন্তব্যগুলির তালিকায় উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ।

    ১৯৯৭-এর পর ফের বাংলায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা

    মিৎসুবিশি কেমিক্যালের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৯৭ সালে হলদিয়ায় সংস্থাটি পিউরিফায়েড টেরেফথ্যালিক অ্যাসিড (PTA) প্ল্যান্ট স্থাপন করেছিল। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন কোনও বড় বিনিয়োগ হয়নি। প্রায় ৩০ বছর পর আবার বাংলায় উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার আগ্রহকে শিল্পমহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।

    বাংলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অসম

    তবে এই প্রকল্পের দৌড়ে পশ্চিমবঙ্গ একা নয়। সূত্রের খবর, কলকাতায় আসার আগে মিৎসুবিশির প্রতিনিধিরা অসম সরকারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। ইতিমধ্যেই অসমে টাটা গোষ্ঠীর সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প এগোচ্ছে, ফলে সেই রাজ্যও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পবান্ধব নীতি, জমি, পরিকাঠামো, কর-সুবিধা এবং দ্রুত অনুমোদনের মতো বিষয়গুলিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কোন রাজ্যে মিৎসুবিশি তাদের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

    জুলাইতেই বাংলায় একাধিক বড় বিনিয়োগের ঘোষণা

    নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু মিৎসুবিশি নয়, চলতি জুলাই মাসেই আরও কয়েকটি বড় শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা হতে চলেছে।

    • লাক্স কোজি: আগামী ১১ জুলাই ডানকুনিতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নতুন উৎপাদন কেন্দ্রের ঘোষণা হতে পারে।
    • আমূল: ১৮ জুলাই হাওড়ার সাঁকরাইলে নতুন দই উৎপাদন ইউনিটের শিলান্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
    • শ্যাম স্টিল: ২৭ জুলাই বাঁকুড়ার মেজিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ইস্পাত প্রকল্পের ঘোষণা হওয়ার কথা।

    শিল্পমহলের একাংশের মতে, যদি এই ঘোষণাগুলি বাস্তবায়নের পথে এগোয় এবং মিৎসুবিশির প্রকল্পও পশ্চিমবঙ্গে আসে, তাহলে রাজ্যের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তা একটি বড় মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ হতে পারে।

  • PM Modi in Indonesia Visit: ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিল ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    PM Modi in Indonesia Visit: ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিল ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়া সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi visits Prambanan Temple) বুধবার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে যোগ্যাকার্তার ঐতিহাসিক প্রাম্বানান (Prambanan) মন্দির পরিদর্শন করেন। প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো এই বিশ্ববিখ্যাত হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্সের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার যৌথ প্রকল্পেরও সূচনা হয়। মন্দির পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ হেলিকপ্টার থেকে তোলা প্রাম্বানান মন্দিরের মনোরম আকাশপথের একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, “ম্যাজেস্টিক প্রাম্বানান মন্দির!” সফরের আগে তিনি প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে একটি ছবিও পোস্ট করেন। প্রধানমন্ত্রীর এদিন এই মন্দির দর্শনের সঙ্গে সঙ্গেই আরও একবার চর্চায় এসেছে বিভিন্ন দেশে ভারত সরকারের উদ্যোগে মন্দির পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে গত এক দশকে প্রতিবেশী দেশ থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক ঐতিহাসিক মন্দির ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভারত।

    নবম শতকের স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন

    বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে বিবেচিত হয় ইন্দোনেশিয়া। যেখানে এমন এক সুপ্রাচীন শিব মন্দির রয়েছে যা ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক প্রভাবের স্বাক্ষ্য বহন করে। প্রায় ১,০০০ বছর পুরনো প্রম্বানন শিব মন্দির ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির। জাভা দ্বীপের যোগ্যাকার্তার কাছে অবস্থিত প্রাম্বানান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক অন্যতম হিন্দু স্থাপত্য নিদর্শন। নবম শতকে নির্মিত এই মন্দিরসমূহ শিব, বিষ্ণু ও ব্রহ্মার উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, একাধিক ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং একাদশ শতকে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের ফলে মন্দিরগুলির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। পরে ১৭শ শতকে এই স্থাপত্য পুনরাবিষ্কৃত হয়। ২০০৬ সালের জাভা ভূমিকম্পেও মন্দির কমপ্লেক্সের ক্ষতি হয়।

    ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য

    ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাম্বানন মন্দিরটি নবম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। ভগবান মহাদেবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির চত্বরটি তার চমৎকার স্থাপত্য এবং জটিল কারুকার্যের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। মন্দিরের দেওয়ালে রামায়ণের কাহিনি খোদাই করা আছে। যা ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে তুলে ধরে। প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্সে মোট ২৪০টি মন্দিরের কাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রাঙ্গণে রয়েছে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মন্দির। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ৪৭ মিটার উঁচু শিব মন্দির, যার পাশে রয়েছে ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মন্দির। ইউনেস্কো এই মন্দির কমপ্লেক্সকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দিয়েছে। মন্দিরের পাথরের গায়ে খোদাই করা রয়েছে ইন্দোনেশীয় সংস্করণে রামায়ণের বিভিন্ন কাহিনি। প্রতি বছর মে থেকে অক্টোবর মাসের পূর্ণিমার রাতে মন্দিরের দক্ষিণ প্রান্তে খোলা মঞ্চে বিখ্যাত রামায়ণ ব্যালে মঞ্চস্থ হয়।

    সংরক্ষণে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার যৌথ উদ্যোগ

    সফর চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদি ঘোষণা করেন, প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্সের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে কাজ করবে। এই প্রকল্পে ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ASI) ইন্দোনেশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারিত্বে প্রাম্বানান কমপ্লেক্সের একাধিক ছোট মন্দিরের সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনের কাজ করবে। এই উদ্যোগ দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক নতুন নয়। ঐতিহাসিকদের মতে, বহু শতাব্দী আগে ভারতীয় বণিক থেকে শুরু করে সাধু ও পণ্ডিতগণ সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁরা নিজেদের সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম এবং ঐতিহ্য নিয়ে এসেছিলেন। এই কারণেই আজও ইন্দোনেশিয়ায় রামায়ণ ও মহাভারত মঞ্চস্থ হয় এবং একাধিক জায়গায় হিন্দু সংস্কৃতির ঝলক দেখা যায়। ১৯৯১ সাল থেকে মন্দিরটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রম্বানন মন্দিরটি নবম শতাব্দীতে হিন্দু মাতারাম (মেদাং) সাম্রাজ্যের শাসক রাকাই পিকাতান নির্মাণ করেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, মন্দিরটির নির্মাণকাজ আনুমানিক ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়েছিল।

    প্রাম্বানন মন্দিরে পূজার্চনা মোদির

    শুধু পরিদর্শন নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন প্রাম্বানন মন্দিরে পূজার্চনাও করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট যৌথভাবে ‘প্রাম্বানন মন্দিরের জন্য ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ’ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমার সৌভাগ্য যে, আমি সর্বদা ভগবান শিবের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পাই। আমার জন্ম হয়েছিল ভাদনগরে, যেখানে হাতকেশ্বর মহাদেব বিরাজমান। সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ হলো প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ এবং এটি গুজরাটে অবস্থিত; এর উন্নয়নের প্রত্যক্ষ দায়িত্ব আমার ওপর ন্যস্ত। আমার নির্বাচনী এলাকা কাশী (বারাণসী)-তে রয়েছে কাশী বিশ্বনাথ মহাদেব, যাঁর আশীর্বাদ আমি সর্বদা পেয়েছি। কেদারনাথ বা উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরের পুনর্নির্মাণই হোক কিংবা এখানে আমার আগমন-এই সব ক্ষেত্রেই সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু করার সুযোগ আমি পেয়েছি। আমি একে পরম সৌভাগ্য বলে মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমার সফরের আজ তৃতীয় দিন, কিন্তু এখানকার জীবনযাত্রা, কথাবার্তা ও বাতাসে সংস্কৃতির এক সুবাস পাওয়া যাচ্ছে-এমন এক সুবাস যা আমরা ভারতে প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করি। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই সুবাসই আমাদের একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এখানকার মানুষ যেভাবে এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করেছেন, তার জন্য আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। তাই, ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক এবং এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী সকল শাসককে আমি এর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

  • TMC Party Fund: তৃণমূলের তহবিল থেকে ১৬০ কোটি টাকা দিয়েই বিমান ও হেলিকপ্টার কিনেছিল কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন! দাবি ইডির

    TMC Party Fund: তৃণমূলের তহবিল থেকে ১৬০ কোটি টাকা দিয়েই বিমান ও হেলিকপ্টার কিনেছিল কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন! দাবি ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের ব্যাঙ্ক লেনদেন তদন্তে নেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পাওয়ার দাবি করেছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের খোঁজ মিলেছে। ইডির দাবি, এই বিপুল অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চার্টার্ড বিমান পরিষেবা প্রদানকারী কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্টে গিয়েছে।

    কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনকে ঘিরে কী দাবি ইডির?

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার পরিষেবা দিত। ইডির অভিযোগ, দলীয় তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করেই সংস্থাটি একটি বিমান এবং একটি অগুস্টা হেলিকপ্টার কিনেছিল। পরে সেই উড়ানযানগুলিই আবার তৃণমূলের নেতাদের কাছে ভাড়ায় ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি, অর্থের উৎস এবং পরিষেবার বিনিময়ে অর্থপ্রদানের পদ্ধতি নিয়েই এখন বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।

    কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশি

    মঙ্গলবার কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রাজারহাট-নিউটাউন, সল্টলেক-সহ একাধিক এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডির বিভিন্ন দল। তদন্তের অংশ হিসেবে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের মালিকের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি, সংস্থার আর্থিক নথি এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়। সল্টলেকের একটি সংস্থার অফিস এবং তাদের পরিচালকদের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডির দাবি, ওই সংস্থারও চার্টার্ড বিমান পরিষেবার সঙ্গে যোগ রয়েছে। এছাড়া সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের কর্ণধার-সহ সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তাকেও জেরা করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

    চার্টার্ড বিমানের খরচের উৎস খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা

    ইডির তদন্তে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান ব্যবহারের খরচ কীভাবে মেটানো হতো এবং সেই অর্থের উৎস কী ছিল। বিমান ভাড়ার বাবদ কত টাকা দেওয়া হয়েছে, কতদিন পরিষেবা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থা। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অ্যাকাউন্টে কোন কোন উৎস থেকে অর্থ জমা পড়েছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গিয়েছে।

    শিক্ষা ও রেশন মামলার অর্থের যোগ খতিয়ে দেখছে ইডি

    ইডি সূত্রে দাবি, শিক্ষা দুর্নীতি এবং রেশন দুর্নীতির মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও অর্থ দলীয় তহবিলে এসেছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক ট্রানজ্যাকশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির হিসাব পরীক্ষা করছেন।

    পুরনো অভিযোগও তদন্তের আওতায়

    তদন্তে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বের অভিযোগকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তিনি দাবি করেছিলেন, চার্টার্ড বিমানের খরচের জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস ছিল কাটমানি ও তোলাবাজির টাকা। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া এখনও নেই

    এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অন্যদিকে, ইডির বক্তব্য, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সমস্ত আর্থিক লেনদেন এবং উদ্ধার হওয়া নথি বিশদে পরীক্ষা করার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • Indonesia on Indian EVMs: ইভিএম ও নির্বাচন পরিচালনায় ভারতের অভিজ্ঞতায় আগ্রহী ইন্দোনেশিয়া, বড় চুক্তি শীঘ্রই?

    Indonesia on Indian EVMs: ইভিএম ও নির্বাচন পরিচালনায় ভারতের অভিজ্ঞতায় আগ্রহী ইন্দোনেশিয়া, বড় চুক্তি শীঘ্রই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (Indonesia on Indian EVMs) নিয়ে বিরোধী দলগুলির প্রশ্ন অব্যাহত থাকলেও, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের নির্বাচন প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতন্ত্র ইন্দোনেশিয়া এবার ভারতের তৈরি ইভিএমের একটি কাস্টমাইজড সংস্করণ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাকার্তা সফরের সময় এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর হয়েছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে নির্বাচন প্রযুক্তি, নির্বাচন পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী সেরা পদ্ধতি বিনিময়ের বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ইভিএম রফতানির পথও প্রশস্ত হতে পারে।

    ভারত থেকে শিখছে জাকার্তা

    প্রায় ২৮.৮ কোটি জনসংখ্যার ইন্দোনেশিয়ায় বর্তমানে কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন হয়। তবে ২০২৯ সালের নির্বাচন থেকে ধাপে ধাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সে দেশ। সেই লক্ষ্যে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা, ইভিএম প্রযুক্তি এবং নির্বাচন কমিশনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে একাধিকবার ভারত সফর করেছেন ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা। ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের সময় ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের সদস্য হিসেবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সরেজমিনে দেখেন। সফর শেষে ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচন কমিশনার ইধাম হোলিক ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলেন, “সবাই দেখেছেন যে নির্বাচন ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু। ভারত সত্যিই গণতন্ত্রের দেশ।” তিনি এই অভিজ্ঞতাকে “অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক” বলেও উল্লেখ করেন।

    ভারতে ইভিএম ব্যবহারের ইতিহাস

    ভারতে ইভিএম ব্যবহারের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার শুরু হয়। ধাপে ধাপে পরীক্ষার পর ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবার দেশের সব আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। পরে ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেল (VVPAT) ব্যবস্থাও যুক্ত হয়, যা বর্তমানে প্রতিটি নির্বাচনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের ধারণা প্রথম আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (United States of America)। বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে সেখানে পাঞ্চ কার্ড এবং প্রাইমারি ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম ব্যবহার শুরু হয়। যদিও সেই সময়কার প্রযুক্তি আজকের ইভিএমের মতো উন্নত বা নিরাপদ ছিল না, তবুও সেটাই ছিল ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের সূচনা পর্ব। ধীরে ধীরে সেই প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে। ভারতে ইভিএমের যাত্রা শুরু হয় অনেক পরে। ১৯৮২ সালে কেরালা-র পারুর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এই মেশিন ব্যবহার করা হয়। সেই সময় এটি সীমিত পর্যায়ে প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটায় এবং আইনি কাঠামোর মধ্যেও ইভিএমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    ইভিএম-এর সবচেয়ে বিস্তৃত ও সংগঠিত ব্যবহার ভারতে

    ভারতের ইভিএম ব্যবস্থাকে আলাদা করে তোলে তার গঠন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই মেশিনগুলি সম্পূর্ণ স্ট্যান্ডঅ্যালোন, অর্থাৎ ইন্টারনেটের সঙ্গে কোনও সংযোগ থাকে না। ফলে বাইরের হ্যাকিং বা ডেটা ম্যানিপুলেশনের সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই দাবি করা হয়। পরে ভোটারদের আস্থা বাড়াতে ভিভিপ্যাট বা ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেল যুক্ত করা হয়েছে। এতে ভোট দেওয়ার পর একটি কাগজে ভোটের প্রতিফলন দেখা যায়, যা স্বচ্ছতা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের ধারণা বিদেশে শুরু হলেও, বৃহৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সফলভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারত অন্যতম উদাহরণ। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে কোটি কোটি ভোটারকে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এই প্রযুক্তি। সব মিলিয়ে বলা যায়, ইভিএমের জন্ম বিদেশে হলেও, তার সবচেয়ে বিস্তৃত ও সংগঠিত ব্যবহার হয়েছে ভারতে।

    ইভিএমের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের

    যদিও দেশে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলগুলি ইভিএমের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, ভারতের নির্বাচন কমিশন বারবার জানিয়েছে যে ইভিএম সম্পূর্ণ স্ট্যান্ডঅ্যালোন, ইন্টারনেটবিহীন যন্ত্র, যা দূর থেকে হ্যাক বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও একাধিক রায়ে ইভিএম-ভিভিপ্যাট ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা স্বীকার করেছে এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে কিছু অতিরিক্ত প্রক্রিয়াগত নির্দেশ দিয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়াই প্রথম নয়

    ভারতের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) এবং ভোট পরিচালনা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সমাদৃত ও জনপ্রিয়। উন্নত গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং বিশাল সংখ্যক ভোটারের নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার দক্ষতার কারণে বিশ্বের বহু দেশ ভারতের কাছ থেকে ইভিএম ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণ করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইন্দোনেশিয়াই প্রথম নয়, এর আগে ভুটান ভারতের প্রযুক্তিগত সহায়তায় কাস্টমাইজড ইভিএম ব্যবহার করেছে। নেপালেও পরীক্ষামূলকভাবে ভারতীয় ইভিএম সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া নামিবিয়া জাতীয় নির্বাচনে ভারতে নির্মিত ইভিএম ব্যবহার করে এবং পরে ভারতীয় ভিভিপ্যাট ব্যবস্থাও গ্রহণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-ইন্দোনেশিয়ার এই সম্ভাব্য সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন প্রযুক্তি ও নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারতের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও আরও বৃদ্ধি পাবে।

  • Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) শোপিয়ান (Shopian Anti-Terror Operation) জেলায় দীর্ঘ চার দিনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র কমান্ডার জাকির গনাই। বুধবার তার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের মতে, এই অভিযান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ শোপিয়ান জঙ্গিদের ট্রানজিট বা পালানোর পথ হিসেবে আগেও ব্যবহৃত হয়েছে। এই করিডর দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে মধ্য কাশ্মীর ও পীর পাঞ্জাল রেঞ্জকে যুক্ত করে।

    জঙ্গি দমন অভিযান অব্যাহত

    গত ৩ জুলাই শোপিয়ানের একটি ঘন আপেল বাগানে নজরদারি ক্যামেরায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা পড়ে। শুক্রবার নজরদারি ক্যামেরায় মীমান্দর এলাকায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা প঩ড়ে। এরপরই ওই এলাকার ফলের বাগান ঘিরে ফেলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী। তল্লাশির সময় জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পালটা জবাব দেয় বাহিনী। এরইমধ্যে দুই জঙ্গির পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। তারা দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাঁওয়ের বাসিন্দা লতিফ ও জাকির। ২০২৪ সালে লস্করে যোগ দেয় জাকির। লতিফ গত বছর। রাতে জঙ্গিদের গতিবিধি জানতে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলিতে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি জঙ্গিদমনে বিশেষ পারদর্শী ‘ভিক্টর ফোর্স’কে সেখানে মোতায়েন করা হয়। জঙ্গিদের পালানোর সব পথ সিল করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে খবর, জঙ্গিদের গোপন ডেরা রয়েছে পাহাড় ঘেরা ঘন জঙ্গলে। জঙ্গলের মধ্যে বেশ কয়েকটি ‘ব্লাইন্ড স্পট’ রয়েছে। যেখানে দিনের বেলাতেও ভালোভাবে দেখা যায় না। তারই সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ঘনঘন স্থান পালটে ফেলছিল।

    শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি

    এরপরই সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF) যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একাধিক গ্রাম ঘিরে চলতে থাকে সাঁড়াশি অভিযান। এনকাউন্টারের পরও এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে গুলির শব্দ শোনা যায়। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, জাকির গনাইয়ের সঙ্গে থাকা অপর এক লস্কর জঙ্গি লতিফ এখনও এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি চলছে। সেনাবাহিনীর বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ভিক্টর ফোর্স অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে সম্ভাব্য পালানোর পথগুলো ঘিরে ফেলেছে। রাতের অভিযান চালাতে আলোকসজ্জারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, গ্রীষ্মকালের ঘন পাতার আচ্ছাদন ও বিস্তীর্ণ ফলের বাগান জঙ্গিদের আত্মগোপনের সুযোগ করে দিচ্ছে, ফলে অভিযান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি জঙ্গিদের পাশাপাশি স্থানীয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং নতুন নিয়োগ রুখতে জাকির গনাইয়ের মৃত্যু ও লতিফকে গ্রেফতার বা নিকেশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

LinkedIn
Share