Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) স্বপ্নই রয়ে গেল। ইচ্ছাপূরণ হল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পর্তুগাল। একমাত্র গোল মিকেল মেরিনোর, যিনি পরিবর্ত হিসাবে নেমে নিয়মিত গোল করার কারণে ‘সুপার সাব’ নামে অভিহিত হন। তাঁর গোলেই রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। ৪১ বছরের ফুটবলারকে অবসর নিতে হচ্ছে বিশ্বকাপ ছাড়াই। গত দু’দিন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় ছিল আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক। বসনিয়া ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরেও তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা। জানা যায়, হোয়াইট হাউসের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে জানান, তিনি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ জানায় বেলজিয়াম। লিখিত আবেদনও করে তারা। তাতে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলায়নি। কিন্তু এদিন বেলজিয়াম বুঝিয়ে দিল, জোর করে কাউকে জেতানো যায় না। মাঠের বাইরে যা-ই হোক না কেন, আসল খেলাটা হয় মাঠে। ৯০ মিনিটে। সেখানেই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল বেলজিয়াম। ৪-১ গোলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বেলজিয়াম। সেখানে তাদের সামনে স্পেন।

    বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে

    ডালাস স্টেডিয়ামে রেফারি অ্যান্টনি টেলরের শেষ বাঁশিটা বাজার বেশ কিছু ক্ষণ ইস্পাতকঠিন মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। শুকনো মুখে এ দিক-ও দিক তাকালেন। বোধহয় বোঝার চেষ্টা করছিলেন কী ঘটে গিয়েছে। সতীর্থ থেকে বিপক্ষ, সকলেই এসে একে একে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছুই ছুঁতে পারছিল না তাঁকে। এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তবে দলের হয়ে হয়তো খেলবেন আরও কিছুদিন। চোখে জল নিয়ে রোনাল্ডো বলেন, “এ ভাবে বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে। আমি সবটা দিয়েছি। নিজের সেরাটা দিয়েছি। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। হ্যাঁ, আমার বিশ্বকাপ কেরিয়ার শেষ।” কয়েক সেকেন্ড থেমে রোনাল্ডো আবার বলেন, “কিন্তু দেশের হয়ে অবসরের বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সময় আছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। তার পর সিদ্ধান্ত নেব।” ৪১ বছরের রোনাল্ডো জানিয়েছেন, তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না। কারণ, এই দলের এখনও তাঁকে প্রয়োজন রয়েছে। রোনাল্ডো বলেন, “আমি তাড়়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। রাগ বা আবেগের মাথায় কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সব দিক ভেবে সিদ্ধান্ত নেব। পর্তুগালের হয়ে তো ভালই খেলছি। দলকে এখনও আমার দরকার।”

    দল ভালো খেলেছে, ভাগ্য খারাপ

    পর্তুগাল ভক্ত নন। অথচ অনেকেই এ দিন চাইছিলেন রোনাল্ডো জিতুন। বিশ্বকাপ হাতে তুলতে না পারুন। অন্তত আরও কিছু দিন বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু ফাইনালের দু’সপ্তাহ আগেই রোনাল্ডোর যাত্রা থেমে গেল। থামিয়ে দিল প্রতিবেশী দেশ স্পেন। এই দলের বিরুদ্ধেই ২০১৮-য় হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই রোনাল্ডো এবং এই রোনাল্ডোর মধ্যে অনেক তফাত। এই রোনাল্ডোর ক্ষিপ্রতা, আগ্রাসন, গতি— সব কিছুই উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। এ দিন দু’-একটি এমন বল পেলেন যেখানে থেকে বছর দুয়েক আগেও অনায়াসে গোল করতে পারতেন। মিস্ করার পর হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে যতই বোঝাতে চান যে ইঞ্চিখানেকের ব্যবধান, রোনাল্ডো জানতেন অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষমতা আর তাঁর নেই। অথচ পর্তুগাল যে হারার মতো খেলেছে এ কথা বলা যাবে না। বরং ম্যাচের বেশ কিছুটা সময় তাদের আধিপত্য ছিল। গ্রুপ পর্বে বা নকআউট পর্বের ম্যাচগুলিতে পর্তুগালের খোলনলচে বেরিয়ে পড়লেও, স্পেনের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করছিল সমানে-সমানে। সংযুক্তি সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে জিতেছে স্পেন। রোনাল্ডোর মতে, তাঁদের ভাগ্য খারাপ ছিল। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের দল খুব ভাল খেলেছে। খেলার ফল যে কোনও দিকে যেতে পারত। ওদের ভাগ্য ভাল ছিল। আমরা হেরেছি ঠিক। কিন্তু মাথা উঁচু করে বিদায় নেব।” যতই বলুন চোখের জল বাধ মানছিল না। রোনাল্ডো বুঝতে পারছিলেন, এই মঞ্চে আর আসা হবে না। এটাই শেষ বার। আরও এক বার খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে।

    বেলজিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারলেন না বালোগুন

    জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামনে তাঁকে সপাটে জবাব দিল বেলজিয়াম। প্রতিপক্ষের সর্বাধিক গোলদাতাকে জোর করে খেলানোর সিদ্ধান্তই বোধহয় তাতিয়ে দিয়েছিল রুডি গার্সিয়ার দলকে। নইলে যে বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে রাউন্ড অফ ৩২ পর্যন্ত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জিতেছে, তারাই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল। গোটা ম্যাচে এক বারের জন্যও মনে হয়নি বেলজিয়াম চাপে রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা ম্যাচ খেলল তারা। উল্টে বালোগুনকেই দেখে মনে হল নিজেকে খোলসের ভিতর ঢুকিয়ে ফেলেছেন। হয়তো লাল কার্ড বিতর্ক তাঁর মাথায় এখনও রয়েছে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের খুব বেশি চ্যালেঞ্জ করলেন না। যে কয়েকটি সুযোগ পেলেন কাজে লাগাতে পারলেন না। শেষ দিকে একটি শট মারলেও তা থেকে গোল হয়নি। বালোগুনকে জোর করে খেলিয়ে খুব একটা লাভ হল না মৌরিসিয়ো পোচেত্তিনোর দলের। উল্টে ৯০ মিনিট ধরে আমেরিকার খেলায় একটা অস্বস্তি চোখে পড়ল।

    ফিফাকে জবাব বেলজিয়ামের

    বেলজিয়াম যেন জবাব দেওয়ার জন্য নেমেছিল। প্রথম ১০ মিনিটেই আমেরিকার গোলে পাঁচটি শট মারে তারা। মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ হিমশিম খাচ্ছিলেন। একই অবস্থা ছিল দলের রক্ষণের। আগের ম্যাচে সেনেগালের বিরুদ্ধে যে ডি কেটেলায়েরেকে দেখতে পাওয়া যায়নি, বেলজিয়ামের সেই স্ট্রাইকার এই ম্য়াচে দাপট দেখালেন। জোড়া গোল করলেন তিনি। প্রথমার্ধে ফ্রি কিক থেকে অবশ্য এক গোল শোধ করেন টিলমান। ব্যস, সে টুকুই। তার বেশি কিছু করতে দেখা যায়নি আমেরিকাকে। গোটা ম্যাচে আমেরিকার রক্ষণ সমস্যায় ফেলেছে। বেলজিয়ামের তৃতীয় গোল তারই ফসল। বক্সের বাইরে বেরিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে তা তুলে দেন ফ্রিজ। ভানাকেন দূর থেকেই শট মারেন। জালে জড়ায় বল। প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি রোমেলু লুকাকু। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোল করলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, গোল করতে বেশি ক্ষণ সময় তাঁর লাগে না।

     

     

     

     

  • Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভিটামিন, ফাইবারের মতোই সমান জরুরি খনিজ! শরীর সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘ জীবন যাপনের জন্য শরীরের প্রয়োজন, পর্যাপ্ত পরিমাণ খনিজ পদার্থের জোগান। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরে খনিজ পদার্থের সামান্য চাহিদা থাকে। তবে এই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেই একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। চোখের নীচে কালো দাগ, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হৃদরোগের সমস্যা, এমন একাধিক শারীরিক জটিলতার পাশপাশি মানসিক চাপ, বিষন্নতার মতো নানান মানসিক সমস্যাও তৈরি একটি একটি খনিজের ঘাটতি! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শরীরে প্রতিদিন ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সামান্য। কিন্তু সেই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেও একাধিক বিপদ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রতিদিন মাত্র ৩১০-৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

    ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঝুঁকি শরীরে একাধিক সমস্যা তৈরি করে‌। পেশিতে টান ধরে। বারবার খিঁচুনির মতো সমস্যা তৈরি হয়। ফলে পেশির সক্রিয়তা কমে। আবার হাত-পায়ে দূর্বলতা বোধ হয়। তাই ক্লান্তি গ্রাস করে। যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়। ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হাড়ের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই মহিলাদের ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলারা অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যায় বেশি ভোগেন। তাই তাঁদের হাড়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ম্যাগনেশিয়াম বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দিতে পারে। এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরের পাশপাশি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকারক বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যা দেখা যায়। ফলে যেকোনো কাজে মনোসংযোগ করা কঠিন হয়ে ওঠে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঠিকমতো পুষ্টির অভাবে যেকেউ ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগতে পারেন। কিন্তু ডায়াবেটিস আক্রান্তদের এই ধরনের খনিজের ঘাটতি বেশি দেখা যায়। তাছাড়া, দীর্ঘদিন অন্ত্রের সমস্যায় ভুগলে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হয় বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স্কদের শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। আবার মদ্যপানে আসক্তদের শরীরেও এই খনিজের ঘাটতি হয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কীভাবে এই খনিজের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে?

    পালংশাক

    আয়রন, ভিটামিন এ-র পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে পালংশাকও। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার সমৃদ্ধ এই শাকটি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এক কাপ বা ১৮০ গ্রাম সেদ্ধ বা রান্না করা পালংশাকে প্রায় ১৫৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।

    কাঠবাদাম

    ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদাপূরণে সকালে উঠে কাঠবাদাম ভেজানো খেতে পারেন। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সকালে ভেজানো কাঠবাদাম বা সন্ধ্যের জলখাবারে শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া কাঠবাদামও খাওয়া যায়। মোটামুটি ২০-২২টি কাঠবাদামে ৭৬-৮১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যাবে।

    ডার্ক চকোলেট

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়াম কোকো থেকে তৈরি হওয়া ডার্ক চকোলেট থেকেও পাওয়া যায়। কতটা পরিমাণ কোকোর ব্যবহার হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা।

    কাজুবাদাম

    সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাবারের তালিকায় থাকুক কাজুবাদামও। এমনটাই পরামর্শ পুষ্টিবিদদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ আউন্স অর্থাৎ ১৭-১৮টি কাজুবাদামে প্রায় ৮৩ মিলিগ্রামের মতো ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিনে অন্তত ৮-১০টি করে কাজু খেলে শুধু ম্যাগনেশিয়াম নয়, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও পাবে শরীর। হৃদ্‌যন্ত্র ভাল রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জরুরি।

    কুমড়োর বীজ

    কুমড়ো বীজে থাকে ম্যাগনেশিয়াম। হৃদ্‌যন্ত্র ঠিক রাখার জন্য, ম্যাগনেশিয়াম জরুরি উপাদান। উচ্চরক্তচাপ কমাতে, রক্তবাহী নালিকার স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে খনিজটি সাহায্য করে। ২০ গ্রাম কুমড়ো বীজে ১০০-১১০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। দৈনন্দিন চাহিদার অনেকটাই পূরণ হতে পারে, দিনে অল্প কিছু কুমড়োবীজ খেলে। তাই সপ্তাহে অন্তত দুদিন কুমড়োর বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • PM Modi in Jakarta: ইন্দোনেশিয়ায় রাজকীয় সংবর্ধনা! যুদ্ধবিমানের এসকর্টে জাকার্তায় পৌঁছল প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বিমান

    PM Modi in Jakarta: ইন্দোনেশিয়ায় রাজকীয় সংবর্ধনা! যুদ্ধবিমানের এসকর্টে জাকার্তায় পৌঁছল প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বিমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : তিন দেশ সফরের প্রথম পর্বে সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় (PM Modi in Jakarta) পৌঁছালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর সে দেশের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমানকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রথায় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভ্যর্থনা জানায় ইন্দোনেশিয়া (India Indonesia Relation)। জাকার্তায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বিমানবন্দরে তাঁকে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক

    প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে ৬ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ২০১৮ সালে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করার পর এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর এবং ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর চতুর্থ সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী সেখানের ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং রাষ্ট্রপতি প্রাবোও-র সঙ্গে ইয়োগিয়াকার্তার ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দির প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করবেন। এই মন্দির ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির হিসেবে পরিচিত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক মন্দিরকে দুই দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা

    এই সফরে প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিও এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া আসিয়ান অঞ্চলে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ১৩০টিরও বেশি ভারতীয় সংস্থা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বের মোট নিকেল মজুদের প্রায় ২১ শতাংশ ইন্দোনেশিয়ার দখলে। পাশাপাশি তামা, বক্সাইট ও টিন উৎপাদনেও দেশটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক। ফলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ও সহযোগিতা বাড়ানো এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। প্রধানমন্ত্রীর এই তিন দিনের সরকারি সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর

    ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড-এই তিন দেশে ছয় দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশ ছাড়ার আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরের প্রথম দফায় ৬ থেকে ৮ জুলাই তিনি ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে সে দেশ সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে। ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের আমন্ত্রণে মেলবোর্নে যাবেন নরেন্দ্র মোদি। এই সফরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, মোবিলিটি, উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ক্রীড়া এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে যাবেন। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে গতি এসেছে, এই সফর তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এখানে মূলত অর্থনৈতিক, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ ও ‘মহাসাগর ভিশন’

    প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এবং পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ড সফর ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ (Act East Policy) এবং ‘মহাসাগর ভিশন’ (MAHASAGAR Vision)-কে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে এটি একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর (Prabowo Subianto) ভারত সফরের পর এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম দ্বিপাক্ষিক ইন্দোনেশিয়া সফর। জাকার্তায় পৌঁছে এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “জাকার্তায় পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আন্তরিক অভ্যর্থনায় আমি আপ্লুত। ২০১৮ সালে আমরা ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করেছিলাম, যার সুফল দুই দেশের মানুষই পাচ্ছেন। এই সফর দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।”

     

     

     

     

  • Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মূল চক্রী পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed)। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের (Pahalgam Attack) তদন্তে সোমবার অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জম্মুতে এনআইয়ের বিশেষ আদালতে পেশ করা অতিরিক্ত চার্জশিটে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা পাকিস্তানের জঙ্গি নেতা তথা লস্কর-ই তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের নাম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে যুক্ত করেছে। এনআইএ-র তরফে হাফিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ২০২৩ এবং ইউএপিএ-র একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বলা হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছেন সন্ত্রাসী সংগঠন লস্করের প্রতিষ্ঠাতা।

    সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এনআইএ-র দাবি

    এর আগেও একাধিক সংঘঠিত অপরাধে এই পাক জঙ্গি নেতার যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে প্রতিবারই পাকিস্তান ভারতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে পাকবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে আসছে। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে গত বছর মে মাসে দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ নিয়েও পাকিস্তান বিশ্বব্যাপী ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা প্রচার করে। এর আগে গত ডিসেম্বরে এনআইএ’র প্রথম চার্জশিটে পাকিস্তান এবং জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গিদের নাম থাকলেও মূল ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে তদন্ত চলমান বলে জানানো হয়েছিল। সোমবার জমা করা অতিরিক্ত চার্জশিটে এনআইএ বলেছে, পাকিস্তানে বসে লস্কর-ই তইবা নেতা পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। তার পরিকল্পনা মত হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়। এই ব্যাপারে তদন্তকারীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে এনআইএ।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত হাফিজ

    এই মামলার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। সোমবার এই মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয় এনআইএ-র তরফে। যেখানে পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ, সেখানে হাফিজ সইদের ভূমিকা-সহ অন্যান্য খুঁটিনাটি তথ্য প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেখানে পাক হ্যান্ডেলার সাজিদ জাট, অপারেশন মহাদেবে নিহত তিন সন্ত্রাসী এবং গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে। একইসঙ্গে লস্কর ও তার শাখা টিআরএফ-এর ভূমিকা, হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করে। ওই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় এনআইএ-র হাতে। নানা দেশি-বিদেশি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ নিশ্চিত হয়েছে, মুম্বই হামলার মত পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডও সরাসরি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়েছিল। বিশদ তদন্তে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা জানতে পারে ওই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল হাফিজ সইদ। ‌পাক জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সহিংতা ছাড়াও ইউএপিএ-র একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

  • RG Kar Incident: আরও ১২০ দিন! আরজি করকাণ্ডে ৩ আইপিএসের সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি

    RG Kar Incident: আরও ১২০ দিন! আরজি করকাণ্ডে ৩ আইপিএসের সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরই খুলেছে ‘আরজি কর ফাইলস’ (RG Kar Incident)। সাসপেন্ড করা হয়েছিল তদন্তে যুক্ত থাকা তিন আইপিএস আধিকারিককে। এবার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তার সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হল। আরও ১২০ দিন ওই তিন আধিকারিককে সাসপেন্ড অবস্থায় থাকতে হবে। আরজি করের ঘটনার সময় তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন বিনীত গোয়েল। এ ছাড়া ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন অভিষেক গুপ্ত (ডিসি নর্থ) এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (ডিসি সেন্ট্রাল)।

    কী ঘটেছিল , নতুন করে তদন্ত শুরু

    গত ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক নাইট শিফট করতে যান। ওই রাতেই সব শেষ। সেমিনার হলে তাঁকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নতুন করে আর কাউকে পাকড়াও করেনি। শেষমেশ শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন অভয়ার বাবা-মা। বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ফের নতুন করে আর জি কর ফাইলস খোলেন। বিজেপি সরকার তিন আইপিএস আধিকারিককেই সাসপেন্ড করে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরজি কর পর্বে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। নতুন করে তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন তিন জন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও মন্ত্রী তাঁদের মেসেজে কিংবা ফোনে কোনও নির্দেশিকা জারি করেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিন অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন 

    অপরাধের পর তথ্য আড়াল করা, নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ্যে আনা এবং হাসপাতালে গড়ে ওঠা ‘অসাধু চক্র’-কে আড়ালের চেষ্টার অভিযোগে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষ তুঙ্গে উঠেছিল। এই তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে আনা মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল তদন্তে গাফিলতি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার। বিশেষ করে সেমিনার হলের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্যাতিতার দেহ উদ্ধারের জায়গাটি সুরক্ষিত ছিল কি না, তা নিয়ে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একইভাবে অপরাধের পরবর্তী সময়ে সেমিনার হলের ‘চরিত্র বদল’ এবং রাতদখলের রাতে ভাঙচুরের ঘটনায় ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আন্দোলনকারীরা।

  • Weather Update: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে ভিজছে দক্ষিণবঙ্গ, কলকাতায় কত দিন চলবে বৃষ্টি?

    Weather Update: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে ভিজছে দক্ষিণবঙ্গ, কলকাতায় কত দিন চলবে বৃষ্টি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চলছে বৃষ্টির দাপট (Rain Forecast)। রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ সোমবারও কলকাতাসহ একাধিক জেলায় স্বাভাবিক জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে। অফিস টাইমে জলজট ও যানজটের জেরে নাজেহাল হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে (Weather Update)। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হবে অতি ভারী বর্ষণও। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনিয়েছে। ধীরে ধীরে তা উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে।

    দক্ষিণবঙ্গে চলবে বৃষ্টিপাত

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ অঞ্চলটি ঘৃনীভূত হয়ে রবিবার নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সেই সময় ওড়িশার বালেশ্বর থেকে তার অবস্থান ছিল ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব, পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিম। এটি ক্রমশ আরও পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে সরবে। সোমবারের মধ্যে বালেশ্বরের কাছে ওড়িশার চান্দবালি এবং দিঘার অন্তর্বর্তী অংশ দিয়ে তা স্থলভাগে প্রবেশ করতে চলেছে। তার পরেও নিম্নচাপ আরও উত্তরে সরবে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ মঙ্গলবারের মধ্যে ওড়িশা, ছত্তীসগঢ় সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারে নিম্নচাপ। রাজ্যে বর্ষা সক্রিয়। বর্ষাকালীন অক্ষরেখা দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থান থেকে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ওড়িশা হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে দক্ষিবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তা চলবে সোমবার পর্যন্ত। সোমবারের পর থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে উত্তরবঙ্গে।

    মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ

    নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইছে। হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার, কখনও কখনও দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যাচ্ছে ৬৫ কিলোমিটারেও। মঙ্গলবার পর্যন্ত তাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে সোমবার। তালিকায় রয়েছে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া। এ ছাড়া, সারা সপ্তাহ ধরেই দক্ষিণের জেলাগুলিতে কমবেশি বৃষ্টি চলবে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে অতি ভারী বর্ষণের কমলা সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।

    জলমগ্ন শহরের বেশ কিছু জায়গা

    রবিবার রাত থেকে অনবরত বৃষ্টির প্রভাবে শহরের কিছু রাস্তা জলমগ্নও হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় ভেঙে পড়েছে গাছ। যার জেরে সকাল থেকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। জল জমে থাকায় ট্র্যাফিকের গতিও বেশ কিছুটা ধীর। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ দিনভর বৃষ্টি চলবে শহর কলকাতায়। আপাতত আবহাওয়ায় বিশেষ কোনও পরিবর্তন নেই। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। উত্তরবঙ্গে মঙ্গলবারের পর থেকে ফের ভারী বৃষ্টি শুরু হবে। তবে উত্তরবঙ্গে গোটা সপ্তাহ জুড়েই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মালদা এবং দুই দিনাজপুর-সহ প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

  • Baruipur Minor Murder: বারুইপুরে নাবালিকা-হত্যা, তদন্তে গতি, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, একের পর এক পদক্ষেপ পুলিশের

    Baruipur Minor Murder: বারুইপুরে নাবালিকা-হত্যা, তদন্তে গতি, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, একের পর এক পদক্ষেপ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় তদন্তে আরও গতি আনল পুলিশ। ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ধারাবাহিক তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করেছে তদন্তকারী দল। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে সিট।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তদন্ত

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে গঠিত সিট ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি নতুন করে আটক হওয়া তিনজনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ঘটনাস্থলে তাঁদের উপস্থিতি ছিল কি না, অপরাধ সংঘটনে তাঁরা কোনওভাবে সহযোগিতা করেছিলেন কি না অথবা গোটা ঘটনার নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন কি না। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    তিনটি পৃথক মামলা দায়ের

    বারুইপুর থানার পুলিশ এই ঘটনায় মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু করেছে। প্রথম মামলাটি নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। এছাড়া আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, পুলিশের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পথ ও রেল অবরোধ এবং গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে আরও দুটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের মোবাইলে তোলা ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে অশান্তি ও ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

    এলাকায় জারি বিএনএসের ১৬৩ ধারা

    রবিবারের উত্তেজনার পর সোমবারও বারুইপুরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। কার্যত থমথমে পরিস্থিতি গোটা এলাকায়। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং রাস্তায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও খুবই কম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন। নতুন করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

    ভবানী ভবনেরও নজরে তদন্ত

    শুধু জেলা পুলিশ নয়, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরাও ঘটনার উপর নজর রাখছেন। রবিবারই ভবানী ভবন থেকে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। অশান্তি ছড়ানো, পুলিশের উপর হামলা এবং পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা তৈরির অভিযোগগুলিও পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রেফতার ও আটক ব্যক্তিদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা চলছে।

    নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা মুখ্যমন্ত্রীর

    ঘটনার পর প্রশাসনিক তৎপরতাও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে গভীর শোকপ্রকাশ করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে কলকাতার ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তদন্তের অগ্রগতি এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    কী ঘটেছিল বারুইপুরে?

    পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের ওই নাবালিকা। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। রবিবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় তার দেহ। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশ কুলপি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধের পাশাপাশি শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। এই উত্তেজনার মধ্যেই এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ, পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    তদন্তের দিকে নজর

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা, নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ পেশ করতে পারবে কি না এবং প্রকৃত দোষীরা কত দ্রুত আইনের আওতায় আসবে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

  • Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা, পশ্চিমবঙ্গের জন্ম, স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের ভিত্তি নির্মাণ কিংবা কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই—এই প্রতিটি অধ্যায়ে বারবার ফিরে আসে একটি নাম। তিনি ‘ভারত কেশরী’ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ, ৬ জুলাই, তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন তিনি ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিত্ব, সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর জীবন, দর্শন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারে।

    কলকাতার এক মেধাবী ছাত্র থেকে জাতীয় নেতা

    ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাবা ছিলেন ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং মা যোগমায়া দেবী। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর অসামান্য মেধার পরিচয় মিলেছিল। মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে মেধাবৃত্তিসহ ম্যাট্রিক, প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ-তেও প্রথম স্থান—প্রতিটি ধাপেই তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হওয়া ছিল সেই সময়ের এক বিরল নজির।

    শিক্ষাক্ষেত্রে যে সংস্কার আজও স্মরণীয়

    আইনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে তিনি কেবল আইনজীবী হয়ে থেমে থাকেননি। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮—এই চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিবর্তনগুলি তিনি আনেন, তা সময়ের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ছিল। কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স, চীনা ও তিব্বতি ভাষা শিক্ষা, আধুনিক কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সম্প্রসারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের সূচনা—সবই তাঁর উদ্যোগে। তাঁর আমলেই প্রথমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তৃতা দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শিক্ষাকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখতেন তিনি।

    বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের ভারত ছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময়। এই সময়েই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৪১ সালে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন শ্যামা-হক মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির দাঙ্গার সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা সেই সময়ের নানা বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। দেশভাগের আগে অবিভক্ত বাংলার হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে তিনি অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের ঐতিহাসিক ভোটাভুটি পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আজও আলোচিত।

    স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের প্রথম রূপরেখা

    স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সময়েই ভারতের প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ কারখানা, সিন্ধ্রি সার কারখানা এবং একাধিক শিল্পপ্রকল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়। খড়্গপুরে দেশের প্রথম আইআইটি প্রতিষ্ঠার ভাবনা এবং কলকাতায় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তাঁর দূরদর্শিতার পরিচায়ক। আজ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ বা দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির যে আলোচনা হয়, তার প্রাথমিক শিল্পভিত্তি নির্মাণের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    মতাদর্শের প্রশ্নে মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসা

    ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনি নেহরু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এটি ছিল কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; তাঁর আদর্শগত অবস্থানেরও প্রকাশ। এরপরই তিনি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ: যে বীজ থেকে বিজেপির উত্থান

    ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসঙ্ঘ। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সমর্থনে গড়ে ওঠা এই দলেই পরবর্তীকালে যুক্ত হন দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী-সহ বহু নেতা। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এই জনসঙ্ঘই পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টির ভিত্তি হয়ে ওঠে। ফলে বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্ব কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়, একটি রাজনৈতিক ধারার স্থপতি হিসেবেও মূল্যায়িত হয়।

    ৩৭০ ধারা নিয়ে যে আন্দোলন ইতিহাস হয়ে রয়েছে

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার বিরোধিতা। ‘এক দেশে দুই বিধান, দুই নিশান, দুই প্রধান চলবে না’— এই স্লোগান তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক হয়ে ওঠে। পারমিট ব্যবস্থা অমান্য করে কাশ্মীরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ১৯৫৩ সালের ১১ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২৩ জুন বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, যা আজও নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের বিষয়। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর তাঁর এই আন্দোলন নতুন করে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় ফিরে আসে।

    ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক?

    সময়ের সঙ্গে রাজনীতি বদলেছে, দল বদলেছে, কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে আলোচনা থামেনি। কারণ, তাঁর জীবনকে একমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ শিক্ষাবিদ, সফল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক, স্বাধীন ভারতের শিল্পনীতির অন্যতম স্থপতি, সংসদীয় রাজনীতির প্রভাবশালী বক্তা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম সংগঠক। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন নেতা, যাঁর রাজনৈতিক দর্শন আজও ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের আদর্শগত ভিত্তির অংশ।

    ইতিহাসের মূল্যায়ন কখনও একরৈখিক নয়

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে একটি বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে— স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের রাজনীতি, পশ্চিমবঙ্গের গঠন, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা এবং কাশ্মীর প্রশ্নের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সম্ভব নয়। ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাই তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন নেতাকে স্মরণ করা নয়; বরং স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রগঠন, শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে ফিরে দেখা।

  • FIFA World Cup 2026: অবসর নেইমারের! হালান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের, শেষ আটে ইংল্যান্ড

    FIFA World Cup 2026: অবসর নেইমারের! হালান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের, শেষ আটে ইংল্যান্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) এখনও পর্যন্ত সেরা ম্যাচ খেলল ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো। গোটা ম্যাচ জুড়ে টান টান লড়াই। ৫ গোল। দুই পেনাল্টি। লাল কার্ড। শেষ পর্যন্ত ১০ জনে খেলেই মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। আরও এক বার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হল মেক্সিকোকে। কানাডার পর বিদায় নিল আরও এক আয়োজক দেশ। এর আগেই এদিন চলতি বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গিয়েছিল ব্রাজিলের। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল নরওয়ে। আগের দু’টি বিশ্বকাপে ব্রাজিল ছিটকে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। এবার তার থেকে এক রাউন্ড আগেই ছিটকে গেল তারা। ২০০৬ থেকে ২০২৬ দীর্ঘ ২০ বছর সাম্বার তালে নাচতে পারেনি বিশ্ব-ফুটবল। এবারও তার অন্যথা হল না। বরং আরও জঘন্য-দিশাহীন ফুটবল খেললেন সেলেকাওরা। আর নয় তাই, চোখের জলেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ব্রাজিলের ব্যর্থ নায়ক নেইমার।

    বেলিংহ্যামের ঝড়, হ্যারিকেন-এর দাপট

    এই ম্যাচে নামার আগে আজতেকায় পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল। মেক্সিকোয় তারা কোনও দিন মেক্সিকোকে হারাতে পারেনি। শেষ বার ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলের স্মৃতি এখনও টাটকা ইংরেজ সমর্থকদের মনে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৫০০ ফুটের বেশি উচ্চতা। তার উপর ৮০,০০০ দর্শকের সিংহ ভাগই মেক্সিকোর। ইংল্যান্ড জানত, তাদের সামনে কী আসতে চলেছে। ম্যাচের আগে থেকে মেক্সিকোর সমর্থকদের উগ্র আচরণ বা কোচের হুমকি হালকা ভাবে নেননি টমাস টুখেল। তিনি জানতেন, এই ম্যাচে কেনকে নড়তে দেবেন না মেক্সিকোর ডিফেন্ডারেরা। সেই কারণে কেনের বদলে তিনি গোল করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন জুড বেলিহ্যামকে। নিজের কাজ ভাল ভাবে পালন করলেন বেলিংহ্যাম। প্রথম ৩০ মিনিট মেক্সিকো দাপট দেখায়। ঘরের মাঠে সেটাই স্বাভাবিক। ইংল্যান্ডকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, চাপ সামলে প্রতি আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা করেছেন। বেলিংহ্যামকে শুরু থেকেই ছটফটে লাগছিল। ৩৬ মিনিটের মাথায় খেলার গতির বিপরীতে গোল ইংল্যান্ডের। বল জালে জড়ান বেলিংহ্যাম। সেই গোলের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আবার গোল বেলিংহ্যামের। ৯৮ সেকেন্ডের মধ্যে। মেক্সিকোর ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে কেনকে পাস দেন গর্ডন। কেনের মাইনাস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন বেলিংহ্যাম। মেক্সিকোর সমর্থকদের দেখে মনে হচ্ছিল, বিশ্বাস করতে পারছেন না। বিশ্বাস হচ্ছিল না টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখা দর্শকদেরও।

    অ্যান্থনি গর্ডন-পিকফোর্ডও দুরন্ত

    এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের তিন ফুটবলার সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লেন। বেলিংহ্যামের পাশাপাশি অ্যান্থনি গর্ডন দুর্দান্ত খেললেন। আগের ম্যাচে পরিবর্ত হিসাবে নেমে ইংল্যান্ডের দু’টি গোলেই তাঁর অবদান ছিল। ফলে এই ম্যাচে শুরু থেকে তাঁকে খেলান টুখেল। কোচের ভরসা রাখলেন তিনি। তৃতীয় নাম গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ড। তিনি না থাকলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ত ইংল্যান্ড। রাউল হিমেনেজের হেড দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। গোটা ম্যাচে বেশ কয়েক বার ইংল্যান্ডের পতন রোধ করেন তিনি। বিরতির আগে ফ্রি কিক থেকে ফিরতি বলে এক গোল শোধ করেন জুলিয়ান কিনোনেস। মেক্সিকো প্রাণ ফিরে পায়। পরের কয়েক মিনিট ইংল্যান্ডের রক্ষণে ত্রাহিরব তোলে তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আবার টান টান ফুটবল। কেউ কাউকে জমি ছাড়ছিল না। কিন্তু ৫৪ মিনিটের মাথায় বড় সিদ্ধান্ত নিলেন রেফারি আলি রেজা ফাঘানি। ভার রিপ্লে দেখে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালেন তিনি। এই মাঠে আধ ঘণ্টার বেশি সময় এক জন কম খেলে মেক্সিকোকে আটকে রাখা কঠিন ছিল। বাধ্য হয়ে পরিকল্পনা বদলালেন টুখেল। রাইসকে নীচে নামালেন। সাকাকে তুলে নামিয়ে দিলেন জন স্টোন্সকে। দুই অভিজ্ঞ ফুটবলার ইংল্যান্ডের রক্ষণ সামলালেন। ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও আক্রমণ থামায়নি ইংল্যান্ড। তার ফলও পায় তারা। বক্সের মধ্যে গর্ডনের গতি বুঝতে পারেননি মেক্সিকোর গোলরক্ষক। ফাউল করে বসেন। পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। গোল করতে ভুল করেননি কেন।

    দিশাহীন ফুটবল ব্রাজিলের

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধেই দুর্বলতা বোঝা গিয়েছিল। শেষ ৩২-এ জাপান দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। তা থেকে শিক্ষাই নিল না ব্রাজিল। সঙ্গত কারণেই বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গেল ব্রাজিলের। ছুটি করে দিলেন আর্লিং হালান্ড, যিনি সাত গোল করে বিশ্বকাপে লিয়োনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। বিশ্বকাপের নকআউটে কোনও না কোনও দলকে হারতেই হবে। সেটাই নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় সেই হারেও থাকে গর্ব। যেমন কিছু দিন আগে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কাবো ভার্দে হারলেও মন জয় করে নিয়েছিল। কিন্তু এ দিন ব্রাজিল যে ফুটবলটা খেলল, তাকে জঘন্য, দিশাহীন, লজ্জাজনক বললেও কম বলা হয়। গোটা ম্যাচে এক বারও দেখে মনে হয়নি তারা জিততে পারে। পেনাল্টি নষ্ট করেন ব্রুনো গিমারায়েস। এই কি সেই ব্রাজিল, যেখানে খেলে গিয়েছেন রোনাল্ডো, রিভাল্ডো, রোনাল্ডিনহোর মতো ফুটবলার? তিন জনেই এ দিন নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। অবসর ভেঙে তারা ফিরে এলে বোধহয় কাসেমিরো, ব্রুনোদের চেয়ে ভাল খেলতেন। অন্তত এ ভাবে মাথা নিচু করে, লজ্জা নিয়ে ফিরতে হত না। নরওয়ের কাছে আগেই নিজেদের সমর্পণ করে দিয়েছিল ব্রা‌জিল। শুরু থেকেই ভয় নিয়ে ফুটবল খেলেছে তারা। ভাবটা এমন, যেন সামনে ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনার মতো দল খেলছে। এত রক্ষণাত্মক ফুটবল ব্রাজ়িল কবে খেলেছে তা মনে পড়া দুষ্কর।

    লম্বা রেসের ঘোড়া হালান্ড

    বিশ্বকাপ তাঁকেই মনে রাখে, যিনি বড় ম্যাচে কাজের কাজ করে দেখাতে পারেন। ঠিক সেটাই করে দেখালেন হালান্ড। প্রথম গোলটি করলেন হেডে। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতায় হওয়ায় এমনিই বাড়তি সুবিধা পান। ব্রাজ়‌িলের দুই ডিফেন্ডারের মাঝে লাফিয়ে হেড করতে অসুবিধাই হয়নি। দ্বিতীয় গোলটি ব্রাজ়‌িলকে আরও লজ্জায় ফেলার মতো। অন্তত তিন জন ডিফেন্ডার দাঁড়িয়েছিলেন সামনে। তাঁদের পিছনে ছিলেন ব্রাজিলের গোলকিপার। বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাঁ পায়ে মাটি ঘেষা শট মারলেন তিনি। সকলকে টপকে বল জালে জড়িয়ে গেল। ম্যাচের শেষে সমর্থক এবং সতীর্থদের সঙ্গে ‘ভাইকিং রো’ করতেও দেখা গেল তাঁকে। হালান্ড বোঝালেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।

    বিশ্বকাপ স্পর্শের স্বপ্ন অধরা নেইমারের

    ১৬ বছর আগে মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর। ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল এই মাঠেই। রবিবার রাতে যেন সম্পূর্ণ হলো একটা বৃত্ত। যেখান থেকে শুরু হয়েছিল পথচলা, সেখানেই ইতি টানলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার (Neymar)। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে হেরে ব্রাজিল ছিটকে যেতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে ঘোষণা করেন অবসরের। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরে নেইমারের এই ঘোষণায় আরও ভেঙে পড়েছেন ব্রাজিল ভক্তরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেছি। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এ বার সব শেষ। এখানেই যাত্রা শুরু করেছিলাম আমি। এখানেই শেষ করলাম।’ ১৬ বছরের কেরিয়ার শেষ হলো হার দিয়ে। ছিটকে যাওয়ার যন্ত্রণা দিয়ে। চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসে একটা যুগের যেন অবসান ঘটল রবিবার। চোটসমস্যা, ফর্মের ওঠাপড়া, মাঠের বাইরের একাধিক বিতর্ক পেরিয়েও নেইমার স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বকাপে খেলার। তবে শেষটা হলো বেদনাদায়ক। জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের পরিসংখ্যান অসাধারণ। ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০টি গোল করেছেন নেইমার। রয়েছে চারটি হ্যাটট্রিকও। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ২০১০ সালে অভিষেক হয় জাতীয় দলের জার্সিতে। খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ। তবুও ব্যর্থ নায়ক নেইমার।

  • VB-G RAM-G: পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের জন্য ১,২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

    VB-G RAM-G: পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের জন্য ১,২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের মাত্র দু’মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজ্যের জন্য ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রথম কিস্তির অর্থ বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১,২৬৪.৪৯ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১ জুলাই থেকে রাজ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের জন্য অন্যতম বড় আর্থিক বরাদ্দ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রবিবার কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড়ার ঘোষণা করেন।

    দেশজুড়ে ২৫,৮৬৩ কোটি টাকার বরাদ্দ

    কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এদিন গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য মোট ২৫,৮৬৩ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দের নিরিখে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে দেওয়া হয়েছে ৩,২১০.৭৬ কোটি টাকা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই ওই রাজ্যে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রাখা হয়েছে।

    দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল কেন্দ্রীয় অর্থপ্রবাহ

    বিগত সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে প্রকৃত শ্রমিকদের কাছে মজুরি পৌঁছাতে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল রাজ্যে পরিদর্শন করে। পরে বিভিন্ন সুপারিশের ভিত্তিতে উপভোক্তা তালিকা সংশোধন ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

    এবার জোর স্বচ্ছতা ও সময়মতো মজুরি প্রদানে

    কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মজুরি পৌঁছে দেওয়ার উপর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রতিটি স্তরে নজরদারি আরও কঠোর করা হবে যাতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা যায় এবং প্রকৃত উপভোক্তারাই এর সুবিধা পান।

    ১০০ দিনের বদলে এখন ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান

    একসময় মনরেগা (MGNREGA) নামে পরিচিত এই গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের নতুন নাম হয়েছে ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ভিবি-জিরাম-জি। নতুন কাঠামোয় বছরে কর্মসংস্থানের সীমা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এর ফলে গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য পূরণ হবে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বড় আর্থিক বরাদ্দকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি প্রদান এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়গুলিই সবচেয়ে বেশি নজরে থাকবে।

LinkedIn
Share