Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Family Over Individual: ব্যক্তি নয়, পরিবারই কেন্দ্রে! মোদি-সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি সমাজ

    Family Over Individual: ব্যক্তি নয়, পরিবারই কেন্দ্রে! মোদি-সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি সমাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি হল পরিবার, ব্যক্তি নয় (Family Over Individual)। একাকী বাঁচা যায় না, সবাইকে নিয়েই চলতে হয়। নরেন্দ্র মোদি সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির নকশা ও বাস্তবায়ন এই নীতির উপরই গঠিত। প্রকল্পগুলির দিকে নজর রাখলে স্পষ্ট হয় যে বিজেপি সরকারের সামাজিক কল্যাণ দর্শন পশ্চিমি উদারবাদী ও সমাজতান্ত্রিক মডেলের ব্যক্তি-কেন্দ্রিক চিন্তাধারা থেকে একটি সচেতন আদর্শিক বিচ্যুতি ঘটিয়েছে। এই কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দর্শন—যেখানে ব্যক্তি নয়, পরিবারকেই সমাজ, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রের মৌলিক একক হিসেবে দেখা হয়।

    সরকারি প্রকল্পগুলির পরিকল্পনায় পরিবার

    বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক পরিকল্পনাগুলিতে এই আদর্শের প্রতিফলন স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY 2.0)-এর আওতায় যোগ্য পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা বা গৃহঋণের উপর সুদের ছাড় দেওয়া হয়। এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির পরিবারগুলিকে। প্রকল্পটি ব্যক্তিকে নয়, সম্পূর্ণ পরিবারকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিত। একইভাবে জল জীবন মিশন, উজ্জ্বলা যোজনা এবং স্বচ্ছ ভারত মিশনের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলিতেও পরিবারকেই মূল ফোকাস হিসেবে ধরা হয়েছে। পানীয় জল সরবরাহ করা হয় বাড়িতে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয়। পরিষ্কার রান্নার গ্যাস পুরো পরিবারের স্বাস্থ্য ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত। স্যানিটেশনকেও ব্যক্তিগত অধিকার নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনে গৃহস্থালির স্তরে শৌচালয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দৈনন্দিন অভ্যাস, সামাজিক আচরণ এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। এই সমস্ত উদ্যোগ মিলিয়ে একটি স্পষ্ট নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে ওঠে—যেখানে পরিবারকে সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান একক হিসেবে দেখা হয়।

    আদর্শিক স্পষ্টতা, কাকতালীয় নকশা নয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবার-কেন্দ্রিক কল্যাণনীতি কোনও আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদর্শিক স্পষ্টতার ফল। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘ইন্টিগ্রাল হিউম্যানিজম’ দর্শনে পরিবারকে সেই স্থান হিসেবে দেখা হয়েছে, যেখানে ব্যক্তি প্রথম সামাজিক মূল্যবোধ—দায়িত্ব, সহযোগিতা এবং প্রজন্মগত সম্মান—শেখে। এই দর্শন অনুযায়ী, কল্যাণমূলক নীতি মানুষের আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতাকে সমর্থন করবে, কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের বিকল্প হয়ে উঠবে না। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, এই দর্শন ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধী নয়; বরং স্বাধীনতাকে দায়িত্ব ও ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করে।

    কেন পরিবারকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার?

    পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় পশ্চিমি সমাজে চরম ব্যক্তি-স্বাধীনতার ধারণার সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত ব্যক্তি-কেন্দ্রিকতা পারিবারিক বন্ধন দুর্বল করে এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ক্ষয় করে। এর ফলে পরিবার তার কার্যকর ভূমিকা হারায় এবং যত্ন ও দায়িত্বের ভার রাষ্ট্রের উপর পড়ে। এর বিপরীতে, ‘ধর্ম’-ভিত্তিক জীবনদর্শনের মাধ্যমে পরিবারকে সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রশিক্ষণক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে কল্যাণ কোনও বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়া দান নয়, বরং সেই পরিবারগুলিকে সহায়তা করা, যারা সামাজিক সামঞ্জস্য ও সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলে। বিজেপির মতে, পরিবার-কেন্দ্রিক কল্যাণনীতির মাধ্যমে সরকার একটি গভীর সভ্যতাগত বার্তা দিচ্ছে—উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক উন্নতি নয়, বরং শক্তিশালী পরিবারের মাধ্যমে সামাজিক সামঞ্জস্য পুনর্গঠন।

    বসুধৈব কুটুম্বকম ও একীভূত ভারত ভাবনা

    বিজেপি সরকারের পরিবার-কেন্দ্রিক (Family Over Individual) দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে রয়েছে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—বিশ্ব এক পরিবার—এই ধারণা। এই ভাবনায় পরিবারই সামাজিক জীবনের কেন্দ্র, যেখানে মূল্যবোধ, দায়িত্ব ও অন্যের প্রতি যত্নের শিক্ষা শুরু হয়। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ভারতকে একটি সমন্বিত পরিবার হিসেবে দেখার কথা বলেছিলেন, যেখানে বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্য বজায় থাকে। ১৯৫১ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জনসংঘের নেতৃত্বে থাকা এই চিন্তাবিদ তাঁর দার্শনিক ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের মাধ্যমে বিজেপির আদর্শিক দিশা নির্ধারণ করে গিয়েছেন। বর্তমানে বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামো সেই দর্শনেরই আধুনিক রূপ—যেখানে নীতি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র ভারতীয় সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন।

  • India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য চুক্তিতে সহমত হয়েছে ভারত এবং আমেরিকা (India US Trade Deal)। যার ফলে ভারতের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে বলে খবর। আর তাতেই ফাঁপড়ে পড়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিন। কারণ, তাদের থেকে ভারতের শুল্ক অনেকটাই কম। যার ফলে ভারতের বাণিজ্য বাড়বে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনবে এবং প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানি করতে পারে।

    স্বাগত বার্তা মোদির

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে দারুণ আনন্দিত। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার এই ঘোষণায় আমি অত্যন্ত খুশি। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্র ও অর্থনীতি একসঙ্গে কাজ করলে তা সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

    ঐতিহাসিক চুক্তি, শাহ

    অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁর পোস্টে এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ (Historic Deal) বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শুল্ক ১৮ শতাংশে নামায় ভারত–মার্কিন বাণিজ্য (India-US Trade) নতুন মাত্রা পাবে। উভয় দেশের মানুষই এর সুফল পাবেন।’ দুই দেশের তুলনামূলক শুল্ক নিয়ে সরকারি সূত্র জানায়, এখন ভারতের শুল্ক ইন্দোনেশিয়া (১৯%), ভিয়েতনাম (২০%), বাংলাদেশ (২০%), এবং চিনের (৩৪%) চেয়ে কম। ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে।

    ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    ভারত-মার্কিন বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি (India US Trade Deal) সম্পন্ন হওয়ায় আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় উত্থানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০% শুল্ক কমে ১৮%-এ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তে অটোমোবাইল (Auto Stocks), আইটি (IT Stocks), ডিফেন্স (Defence Stocks) এবং ফার্মার (Pharma Stocks) মতো রফতানি-নির্ভর সেক্টরগুলি বিনিয়োগকারীদের (Investment) নজরে রয়েছে।ভারত-আমেরিকা শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে রফতানি বাণিজ্যে নতুন জোয়ার আসবে। বিশেষ করে আইটি এবং ডিফেন্স স্টকগুলোতে ভালো মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের অবস্থান

    এই চুক্তির ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারত এখন এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে পড়ল, যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে কম শুল্ক আরোপ করছে। চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতের শুল্কহার কম। তবে ইউরোপিয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় ভারতের শুল্ক সামান্য বেশি। এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা আগের ২৫ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’-এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল। নতুন চুক্তির ফলে এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

    বেশি ট্যারিফ যাদের উপর

    চিন- ৩৭ শতাংশ

    ব্রাজিল- ৫০ শতাংশ

    দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩০ শতাংশ

    মায়ানমার- ৪০ শতাংশ

    লাওস- ৪০ শতাংশ

    কম ট্যারিফ রয়েছে যাদের উপর

    ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন- ১৫ শতাংশ

    জাপান ১৫ শতাংশ

    দক্ষিণ কোরিয়া- ১৫ শতাংশ

    সুইৎজারল্যান্ড- ১৫ শতাংশ

    ইউকে- ১০ শতাংশ

    দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন শুল্ক

    বাংলাদেশ- ২০ শতাংশ

    ভিয়েতনাম- ২০ শতাংশ

    মালেয়শিয়া- ১৯ শতাংশ

    কম্বোডিয়া- ১৯ শতাংশ

    থাইল্যান্ড- ১৯ শতাংশ

    পাকিস্তান- ১৯ শতাংশ

    ভারত-মার্কিন চুক্তির শর্ত

    সূত্রের খবর, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যে অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়েছিল, তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে জ্বালানি, কয়লা, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের মোট মার্কিন জ্বালানি ক্রয় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, ভারত ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যের দিকে নিয়ে যাবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে ভারতের গড় শুল্কহার ছিল বিশ্বের অন্যতম উচ্চ—সাধারণভাবে প্রযোজ্য হার ১৫.৬ শতাংশ এবং কার্যকর হার ৮.২ শতাংশ।

    রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ায় ভারতের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। বাণিজ্যে আরও সুবিধা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুল্ক কমার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ভারত এবার থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। তার বদলে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে তেল কিনবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্টে এ কথা উল্লেখ নেই।

    এখনো যেসব বিষয় স্পষ্ট নয়

    এই চুক্তি কবে থেকে কার্যকর হবে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের সময়সীমা কী, কিংবা কোন কোন মার্কিন পণ্য ভারত কিনবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি বা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিস জারি করেনি। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই এখনো চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে রাশিয়াও ভারতের তেল আমদানি বন্ধের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে ভারতের সঙ্গে ঘোষিত এই চুক্তিতে তেমন কোনো বিনিয়োগের উল্লেখ নেই। উল্লেখ্য, গত এক বছরে দু’দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও উচ্চ শুল্ক এবং কূটনৈতিক মতবিরোধে সম্পর্ক কিছুটা চাপের মধ্যে ছিল। শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতাকে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

     

     

     

     

     

  • T20 World Cup 2026: বাইশ গজে এক ঘরে পাকিস্তান! মোটা টাকা ক্ষতিপূরণ, ভারত ম্যাচ বয়কট নিয়ে পিসিবি-কে কী বার্তা আইসিসির?

    T20 World Cup 2026: বাইশ গজে এক ঘরে পাকিস্তান! মোটা টাকা ক্ষতিপূরণ, ভারত ম্যাচ বয়কট নিয়ে পিসিবি-কে কী বার্তা আইসিসির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) খেললেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না পাকিস্তান। পাক সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে আইসিসি। এই ভাবনা খেলার পরিপন্থী। পিসিবি এই সিদ্ধান্ত না বদলালে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে মহসিন নকভিদের। আইসিসির সূত্র জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে চাইছে তারা। মঙ্গল বা বুধবার তারা বৈঠকে বসবে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাকিস্তান যদি নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে তাহলে কড়া শাস্তি হবে তাদের। নির্বাসিত করা হতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে। সত্তরের দশকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যে ভাবে আইসিসি নির্বাসিত করেছিল, সেই পদক্ষেপ আরও এক বার করতে পারে তারা।

    আইসিসির বার্তা

    রবিবার পাকিস্তান সরকার এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তারা বলেছে, “পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যোগ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না পাকিস্তান।” অবশ্য যদি ফাইনালে দু’দল মুখোমুখি হয় তখন পাকিস্তান কী করবে, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু বলেনি পাক সরকার বা সে দেশের বোর্ড। যদি সত্যিই তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয় তা হলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসি, দুই সংস্থারই সমস্যা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপে জটিলতা আরও বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা বলেছে, “জাতীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের ভূমিকাকে আইসিসি সম্মান করে। কিন্তু পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থের পরিপন্থী। গোটা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ক্রিকেটপ্রেমী, যাঁদের মধ‍্যে পাকিস্তানের সমর্থকেরাও রয়েছেন, তাঁদের ভালর কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নয়।” আইসিসি জানিয়েছে, তারা প্রত‍্যাশা করে পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি লিখেছে, “পিসিবি তাদের দেশের ক্রিকেটের উপর এর সুদূরপ্রসারী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবের কথা বিবেচনা করবে। কারণ এটি বিশ্ব ক্রিকেটের বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে, যার অন্যতম সদস্য এবং সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেই।”

    আর্থিক জরিমানা

    আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়া বিজ্ঞাপন এবং স্পনসরশিপ ইন্টিগ্রেশনের জন্য ৩৮ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৩৪৭.৮৯ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আইসিসি-র থেকে বছরে ৩৪.৫ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৩১৫.৮৯ কোটি টাকা, ৫.৭৫% অংশ) পায় পাকিস্তান। চুক্তি লঙ্ঘন হলে সেই টাকা আটকে যেতে পারে। ম্যাচের দিনের বিজ্ঞাপনের সরাসরি ক্ষতি; ১০ সেকেন্ডের স্লটের দাম ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে সেই টাকার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২০০-২৫০ কোটি টাকা অংশগ্রহণ ফি বাজেয়াপ্ত এবং আইসিসি কর্তৃক ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য জরিমানা হতে পারে পাকিস্তানের।

    ব্রাত্য পাকিস্তান ক্রিকেট

    আইসিসি সদস্য বোর্ডগুলিকে পাকিস্তান সুপার লিগের জন্য বিদেশি খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দিতে পারে। যা লিগটির বাণিজ্যিক মূল্যকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। দুই দল যোগ হওয়ায় এই মুহর্তে পিএসএলের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজক স্বত্ব বাতিল হতে পারে! যার ফলে বহু বছর ধরে রাজস্বে ধারাবাহিক ক্ষতি হবে। পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে ওই ম্যাচের পয়েন্ট হারাবে এবং ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ-সহ ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে পারে পাকিস্তান। তেমনটা হলে পাকিস্তান ক্রিকেট পিছিয়ে যাবে বেশ কয়েক বছর। অন্ধকার হয়ে যাবে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ।

  • India’s GDP: বিশ্ব অর্থনীতিতে চিনের পরই ভারত, তিনে আমেরিকা! মাস্কের মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ নির্মলার

    India’s GDP: বিশ্ব অর্থনীতিতে চিনের পরই ভারত, তিনে আমেরিকা! মাস্কের মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ নির্মলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার একছত্র আধিপত্য আর নয়! সদ্য প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির রিপোর্ট সামনে আসার পর তেমনই ইঙ্গিত দিলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ডের (IMF) রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বিশ্বের আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত। এই ঘটনায় প্রশংসার সুরেই টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কের দাবি, ‘অবশেষে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে।’ মাস্কের মতে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৬ সালে গোটা বিশ্বের সম্ভাব্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি ও তাতে সবচেয়ে বেশি যোগদান রাখা ১০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করে আইএমএফ। সেই রিপোর্টেই দেখা গিয়েছে, ডলারের দেশ আমেরিকাকে ছাপিয়ে বিশ্ব তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। বিশ্বের জিডিপিতে ভারতের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে ১৭.০ শতাংশ। এই তথ্য সামনে রেখে বাজেট অধিবেশনের পর বিরোধীদের এক হাত নিয়েছেন নির্মলা।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর সাম্প্রতিক তথ্য

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধিতে অবদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে ভারত। আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ১৭ শতাংশ অবদান রাখবে ভারত। আমেরিকার (৯.৯ শতাংশ) ঠাঁই হয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছে চিন। বিশ্ব জিডিপিতে তাদের যোগদান হতে চলেছে ২৬.৬ শতাংশ। পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (৩.৮%), তুরস্ক (২.২%), নাইজেরিয়া (১.৫%), ব্রাজিল (১.৫%), ভিয়েতনাম(১.৬%), সৌদি আরব (১.৭%), জার্মানি (০.৯%)। অর্থাৎ রিপোর্টে স্পষ্ট যে বিশ্ব অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক যোগদান হতে চলেছে এশিয়ার দুই দেশ চিন ও ভারতের। যৌথভাবে দুই দেশের যোগদান হতে চলেছে ৪৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ গোটা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক আর্থিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে চিন ও ভারতে। দীর্ঘ বছর ধরে যার কেন্দ্র ছিল আমেরিকা ও ইউরোপ বেষ্টিত।

    আমেরিকার দাদাগিরি আর কতদিন

    সোশাল মিডিয়ায় এই রিপোর্ট তুলে ধরেই ইলন মাস্ক লেখেন, ‘অবশেষে বিশ্বে পরিবর্তিত হচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য।’ উল্লেখ্য, ইলন মাস্কের এহেন মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল যখন শুধুমাত্র আমেরিকার দাদাগিরির জেরে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। নানা কূটনৈতিক সংঘাতের জেরে বিশ্বের দেশগুলির উপর আরোপ করা হচ্ছে কড়া শুল্ক। চিন ও ভারতের উপর সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। এবার আইএমএফের রিপোর্টেই জানা গেল, গোটা বিশ্বে আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি যোগদান সেই চিন ও ভারতের।

    ইলন মাস্কের মন্তব্যের তাৎপর্য

    ইলন মাস্কের এই মন্তব্যকে নিছক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি দু’বার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, ভারতে টেসলার উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছেন এবং ১৪০ কোটির বাজারে চীনের মতো সাফল্যের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সময়েই মাস্ক ভারতের অর্থনৈতিক উত্থানের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন, যখন টেসলার পশ্চিমি বাজারে বিক্রি শ্লথ। চিনে টেসলার গতি কমেছে, ইউরোপ জটিল নিয়ন্ত্রক সমস্যায় আটকে। এই প্রেক্ষাপটে আইএমএফ কর্তৃক ভারতের ৬.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস মাস্কের মতো শিল্পপতিদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণীয়।

    পশ্চিমি অর্থনীতির স্থবিরতা, উদীয়মান দেশের উত্থান

    আইএমএফ-এর তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে জার্মানির অবদান বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে মাত্র ০.৯ শতাংশ। গোটা ইউরোজোন মিলিয়ে অবদান মাত্র ২ শতাংশ। উন্নত অর্থনীতিগুলির গড় প্রবৃদ্ধি যেখানে ১.৮ শতাংশ, সেখানে উদীয়মান বাজারগুলির প্রবৃদ্ধি হার ৪.২ শতাংশ—যা বছর বছর ব্যবধান আরও বাড়াচ্ছে। ভারতের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া (৩.৮%), তুরস্ক (২.২%), ভিয়েতনাম (১.৬%) এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে, নাইজেরিয়ার ১.৫ শতাংশ অবদান অনেক ইউরোপীয় দেশের সম্মিলিত অবদানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

    জনসংখ্যা নয়, উৎপাদনই চালিকাশক্তি

    আইএমএফ জানিয়েছে, ভারতের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি রফতানি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন। ২০২৫ সালে দেশের পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য শ্লথ থাকলেও ভারতের উৎপাদন খাত গতি ধরে রেখেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত থাকায় ভোক্তা চাহিদাও স্থিতিশীল। অর্থনীতিবিদদের মতে, মাস্কের মন্তব্য আসলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এক নীরব বাস্তবতার প্রকাশ—বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র ধীরে ধীরে পশ্চিম থেকে সরে এশিয়া ও উদীয়মান অর্থনীতির দিকে যাচ্ছে।

    বিরোধীদের সচেতন করলেন অর্থমন্ত্রী

    বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের (India) ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও (Nirmala Sitharaman)। বাজেট ২০২৬-২৭ (Budget 2026-27) পেশের পর সংসদ ভবনে যুব সংলাপের (Youth Dialogue) মঞ্চে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি তুলে ধরলেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডারের (IMF) সাম্প্রতিক হিসেব। ‘ওয়াও’ মন্তব্য করলেন ইলন মাস্ক। উদ্ধৃত করে বক্তব্য রাখলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে হয়তো দেখেছেন, মাস্ক আইএমএফ–এর ডেটা শেয়ার করে আশ্চর্য হয়ে লেখেন, “ওয়াও, এটা সত্যি?” অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি ঠিক মনে করতে পারছি না তিনি ‘ওয়াও’ বলেছেন, না অন্য কিছু বলেছেন। কিন্তু আইএমএফ–এর তথ্য তুলে তিনি ভারতের অবদান নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।” মাস্কের মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিরোধীদের একহাত নেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর সাফ বক্তব্য, “আমি তো সংসদে বলবই। কিন্তু দেশের বিরোধীদের (Opposition) বোঝা উচিত, এখন ভারত যে জায়গায় দাঁড়িয়ে— তা শক্তির পরিচয়। আমরা চিনের পরেই। ব্যবধান হয়তো একটু বেশি— ২৬ আর ১৭। কিন্তু আমরা এটা কমিয়ে আনব।”

  • Durgapur Industry Corridor: বেকার সমস্যার সমাধান থেকে পরিকাঠামো উন্নয়ন! শিল্প করিডর প্রস্তাবে আশাবাদী দুর্গাপুর

    Durgapur Industry Corridor: বেকার সমস্যার সমাধান থেকে পরিকাঠামো উন্নয়ন! শিল্প করিডর প্রস্তাবে আশাবাদী দুর্গাপুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ শিল্পঐতিহ্যের শহর দুর্গাপুর (Durgapur Industry Corridor) আসন্ন বাজেটে প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর থেকে বড়সড় সুবিধা পেতে পারে। ‘পুর্বোদয়া স্টেটস’ উদ্যোগের আওতায় গড়ে ওঠা এই করিডরের একটি সুসংযুক্ত নোড দুর্গাপুরে হলে শিল্পখাতে খরচ কমবে বলে মনে করছেন শহরের শিল্পপতিরা। রবিবার বাজেটে দুর্গাপুরে নয়া শিল্প করিডরের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট ভাষণে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ব ভারত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের জন্য বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই রেশ ধরে ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট-কোস্ট করিডর তৈরি করা হবে। আর তার একটি কেন্দ্র তৈরি করা হবে দুর্গাপুরে।

    পূর্বোদয় পরিকল্পনার অংশ দুর্গাপুর শিল্প করিডর

    ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের বাজেটে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন৷ পূর্বোদয়, অর্থাৎ পূর্বের উদয় নামে একটি পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি৷ বাজেট বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘‘আমি একটি সুসংযুক্ত দুর্গাপুর নোড-সহ একটি সমন্বিত পূর্ব উপকূল শিল্প করিডর (ইস্ট-কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর) গড়ে তোলা, পূর্বোদয় প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি রাজ্যে পাঁচটি পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন এবং চার হাজার ই-বাসের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করছি।’’এই ঘোষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শিল্পশহর দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর তৈরি করা, যার মাধ্যমে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নতিও করা যাবে৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পর অত্যন্ত আশাবাদী দুর্গাপুর বণিক সভা।

    শিল্প-মানচিত্রে ফের শক্ত জায়গায় দুর্গাপুর

    অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এই করিডর উৎপাদন, লজিস্টিক্স ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে। দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী শিল্প পরিকাঠামো এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে সামনে রেখে এই অঞ্চলকে শিল্প মানচিত্রে আরও শক্তপোক্ত জায়গা করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। ইস্পাত শিল্পের জন্য পরিচিত দুর্গাপুরে সেলের (SAIL) অন্যতম পুরনো কারখানা দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (DSP) অবস্থিত। শ্যাম স্টিলের ডিরেক্টর ললিত বেরিওয়ালা বলেন, এই করিডর চালু হলে এলাকার লজিস্টিক ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। তাঁর কথায়, দুর্গাপুরের অধিকাংশ শিল্পই বাইরে থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ প্রস্তুত পণ্য রাজ্যের বাইরে পাঠানো হয়। সে ক্ষেত্রে একটি শিল্প করিডর শিল্পগুলির জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে। অন্ডালের বিমানবন্দর পরিচালনাকারী বেঙ্গল অ্যারোট্রোপলিস (BAPL)-এর ডিরেক্টর উৎসব পারেখ জানান, এই প্রস্তাব নিয়ে তাঁরা অত্যন্ত উৎসাহী। তিনি বলেন, “এখানে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আমরা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করছি।”

    দক্ষিণবঙ্গের অলিখিত রাজধানী হতে পারে দুর্গাপুর

    দুর্গাপুর (Durgapur Industry Corridor) চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি চন্দন দত্ত বলেন, ‘‘দুর্গাপুর শিল্পনগরী থেকে স্বাস্থ্য নগরী এবং শিক্ষা নগরীতেও পরিণত হয়েছে। যদিও দুর্গাপুরে একের পর এক ভারী শিল্প বন্ধ হওয়ার পর, তা আর খোলা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই দুর্গাপুর তার গৌরব অনেকখানি হারিয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বাজেট অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বেকার সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অলিখিত রাজধানী হয়ে যেতে পারে দুর্গাপুর।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পাশাপাশি অন্ডাল বিমাননগরীতে যে কারগো পরিষেবা চালু হয়েছে, তার আরও উন্নতি হলে আশপাশের জেলা বীরভূম, বাঁকুড়া, নদিয়া , পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান এমনকী প্রতিবেশী রাজ্য বিহার, ঝাড়খণ্ড দারুণভাবে উপকৃত হবে। মুম্বইয়ের পুনে এবং নয়াদিল্লির নয়ডা যেভাবে উন্নয়ন ঘটছে, কলকাতা থেকে মাত্র ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে দুর্গাপুরে সেই উন্নয়নে জরুরি।’’

    দুর্গাপুরের কী কী সুবিধা

    দুর্গাপুরকে এই করিডোরের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে লৌহ-ইস্পাত এবং ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বার্জার পেইন্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও অভিজিৎ রায় বলেন, দুর্গাপুর সংলগ্ন পানাগড়ে তাঁদের প্রস্তাবিত উৎপাদন কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এই শিল্প করিডর লজিস্টিক ও সংযোগ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, আসানসোল চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক শম্ভু ঝা বলেন, দুর্গাপুরকে বড় শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত এবং এই করিডর পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের সময়কালে দুর্গাপুরে ডিভিসির ৮০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন পরিবেশবান্ধব নতুন ইউনিট গড়ার প্রস্তুতি চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় বাজেটে দুর্গাপুরকে নিয়ে নতুন করে শিল্প করিডর গড়ার ঘোষণা অত্যন্ত আশাবাদী দুর্গাপুরের আমজনতা।

    শিল্পের জোয়ার আসবে জেলায় জেলায়

    দীর্ঘদিন ধরে শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঘিরে যে প্রশ্ন উঠছিল পশ্চিমবঙ্গে, বাজেটের এই ঘোষণায় তারই একটি সম্ভাব্য উত্তর মিলেছে বলে মনে করছেন শিল্প ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রাজ্য সরকার যেখানে বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে এসেছে, সেখানে দুর্গাপুরে শিল্প করিডরের প্রস্তাব বাংলাকে ঘিরে কেন্দ্রের আগ্রহই স্পষ্ট করছে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। যদিও বাজেটে এই প্রকল্পের আর্থিক পরিমাণ বা নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও শিল্প মহলের মতে এটি বাংলার শিল্প পুনরুজ্জীবনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন,‘‘আমরা বলেছিলাম, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে শিল্পায়ন হবে। ক্ষমতায় আসার আগেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দুর্গাপুরে শিল্পের কথা ঘোষণা করলেন। এ বার আর দুর্গাপুর ও আশপাশের যুবকদের ভিন রাজ্যে কাজে যেতে হবে না।’’ বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, ‘‘এই রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা দেখা দিল আবার দুর্গাপুরকে সামনে রেখেই। তৃণমূল কংগ্রেসের ইউনিয়ন তাদের জঙ্গিপনার কারণে এ রাজ্যে শিল্প আসেনি। আবার নতুন করে শিল্প আসবে, এটা বেকার যুবকদের কাছে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এই রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হলে শিল্পের জোয়ার আসবে জেলায় জেলায়।’’

     

     

     

     

     

  • T20 World Cup 2026: ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে বড় অঙ্কের জরিমানা! পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট নিয়ে কড়া বার্তা আইসিসির

    T20 World Cup 2026: ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে বড় অঙ্কের জরিমানা! পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট নিয়ে কড়া বার্তা আইসিসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০২৬ (T20 World Cup 2026) ভারতের (India) বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির গ্রুপ ম্যাচ খেলতে রাজি নয় পাকিস্তান। পাক সরকারের এই নির্দেশ জারি হতেই সরব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। প্রকাশ্যে তাদের প্রশ্ন, বেছে বেছে ম্যাচ না খেলা, আইসিসি ইভেন্টে অসম্ভব। এটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে করা যায় না! এরকম করলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে জানায় আইসিসি। পাকিস্তানকে বড় অঙ্কের জরিমানাও দিতে হতে পারে।

    সব দলকে সমান শর্তে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হয়

    রবিবার বিকেলে পাকিস্তানের তরফে খবরটি সামনে আসে এবং রাতের মধ্যেই বিবৃতি দেয় আইসিসি। কাউন্সিলের স্পষ্ট বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) কাছ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে পাকিস্তান সরকারের বিবৃতি লক্ষ্য করার পর তারা অবস্থান স্পষ্ট করছে। জানানো হয়, “সকল যোগ্য দলকে সমান শর্তে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হয়। সিলেকটিভ পার্টিসিপেশন (Selective Participation) বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মৌলিক ধারণার সঙ্গে যায় না।” পাকিস্তানের এই হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে খুব একটা ভালভাবে নেয়নি আইসিসি। দেওয়া হয়েছে কড়া হুঁশিয়ারিও। কাউন্সিলের ভাষায়, “আমরা সরকারি নীতিকে সম্মান করি ঠিকই, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেট এবং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটভক্তদের, এমনকি পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ সমর্থকেরও স্বার্থের পরিপন্থী। আইসিসি টুর্নামেন্ট স্পোর্টিং ইন্টেগ্রিটি (Sporting Integrity), ন্যায্যতা এবং ধারাবাহিকতার ওপর দাঁড়িয়ে। কোনও ম্যাচে না নামা এই ভিত্তিকে দুর্বল করবে।”

    পাক সরকারে অবান্তর ইচ্ছা

    আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) পাকিস্তানের অংশগ্রহণ করা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সোমবারই ঘোষণা করা হবে। তবে তার আগে সপ্তাহান্তে পাকিস্তান সরকারের (Pakistan government) তরফে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ খেলার জন্য শ্রীলঙ্কায় সফর করার অনুমতি দেওয়া হলেও, জানানো হয় তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ বয়কট করছে। দিনকয়েক আগে বাংলাদেশ নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ভারত থেকে তাঁদের ম্যাচ সরানোর দাবি করেছিল। সেই সময়ে পাকিস্তানই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশকে শেষমেশ বিশ্বকাপ থেকে ছাঁটাই করা হলে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়। পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলবে কি না, সেই নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি এক বৈঠক সারেন। সেই বৈঠকের পরেই না না রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছিল যে পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের ম্যাচ তারা বয়কট করবে কি না, সেই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্য়মে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের কথাজানায় শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সরকার। তবে পিসিবি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাকে এখনও এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে লিখিতভাবে কিছু জানায়নি বলেই শোনা যাচ্ছে।

    দায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও

    টুর্নামেন্টে ভারত-পাক ম্য়াচ না হলে আইসিসির কিন্তু বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ যে কোনও ক্রিকেট টুর্নামেন্টেরই সবচেয়ে বেশি দরাদরি ও ভিউয়ারশিপ–নির্ভর ম্যাচ। বাতিল হলে টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক মান—দুই–ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি খেলার মতো সেক্টরে শুধুমাত্র একটি দেশের বিরুদ্ধে মাঠে না নামা মোটেও ভাল বার্তা দেবে না। সব বিবেচনা করে আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য একটাই—টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে আয়োজন। এর দায়িত্ব সব সদস্য দেশের, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও।

  • Adampur Airport: আদমপুর বিমানবন্দর এখন ‘শ্রী গুরু রবিদাস মহারাজ জি এয়ারপোর্ট’, উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

    Adampur Airport: আদমপুর বিমানবন্দর এখন ‘শ্রী গুরু রবিদাস মহারাজ জি এয়ারপোর্ট’, উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের ৪ ঘণ্টা পরই বাল্লান গ্রামে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। পাকিস্তানের সীমান্তের রাজ্য পাঞ্জাবের জলন্ধরে অবস্থিত এই বাল্লান গ্রাম। তথ্য বলছে, পাকিস্তানের কাছে অবস্থিত অমৃতসররে ওয়াঘা সীমান্ত, জলন্ধরের বাল্লান গ্রাম থেকে ১০০-১২০ কিলোমিটার দূরে। আর সেই বাল্লান গ্রামই পরিদর্শন করলেন মোদি। বাল্লান গ্রামের ডেরা সচখন্দ-এ যান প্রধানমন্ত্রী। তার আগে প্রধানমন্ত্রী পাঞ্জাবের আদমপুর বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। বিমানবন্দরের (Adampur Airport) নতুন নাম হিসেবে ‘শ্রী গুরু রবিদাস মহারাজ জি বিমানবন্দর, আদমপুর’ উন্মোচন করেন।

    জন্মবার্ষিকীতে সন্ত গুরু রবিদাসকে শ্রদ্ধা

    ১ ফেব্রুয়ারি গুরু রবিদাসের জন্মতিথি পালিত হয়। সেই দিনেই পাঞ্জাবের এই বাল্লান গ্রামে পৌঁছচ্ছেন মোদি। উল্লেখ্য, পাঞ্জাবের ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত গুরু রবিদাস। এদিন জলন্ধরের আদমপুর বিমানবন্দর থেকে নেমে বাল্লান গ্রামে যান মোদি। গুরু রবিদাসের নামে এই বিমানবন্দরের নামকরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এই ডেরা সচখন্দ মূলত, রবিদাসী গোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ৬৪৯তম জন্মবার্ষিকীতে সন্ত গুরু রবিদাসকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আদমপুর বিমানবন্দরের নামকরণ করা হয়েছে। সমতা, করুণা ও মানব মর্যাদার বাণী প্রচারকারী এই মহান সমাজ সংস্কারকের শিক্ষাই আজও ভারতের সামাজিক চেতনাকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

    বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন

    এই সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় অবস্থিত হালওয়ারা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন-এরও উদ্বোধন করেন। হালওয়ারা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন লুধিয়ানা ও তার আশপাশের শিল্প ও কৃষিভিত্তিক অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। লুধিয়ানা জেলায় অবস্থিত হালওয়ারা এলাকায় একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় বায়ুসেনা ঘাঁটিও রয়েছে। উল্লেখ্য, লুধিয়ানার পুরনো বিমানবন্দরের রানওয়ে তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল, যা কেবল ছোট বিমানের জন্য উপযুক্ত। বিমান যোগাযোগ উন্নত করতে এবং বড় বিমান চলাচলের সুবিধার্থে হালওয়ারায় একটি নতুন সিভিল এনক্লেভ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে। নতুন টার্মিনাল ভবনে পরিবেশবান্ধব ও শক্তি সাশ্রয়ী একাধিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এলইডি আলো, তাপ নিরোধক ছাদ, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নিকাশি ও জল শোধনাগার এবং বাগান পরিচর্যার জন্য পুনর্ব্যবহৃত জল ব্যবহারের সুবিধা। স্থাপত্য নকশায় পাঞ্জাবের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যায়, যা যাত্রীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।

  • Amit Shah Attacks Mamata: “মমতা বাংলার ঐক্য ভেঙে দিয়েছেন” বাগডোগরায় তৃণমূলকে আক্রমণ শাহের

    Amit Shah Attacks Mamata: “মমতা বাংলার ঐক্য ভেঙে দিয়েছেন” বাগডোগরায় তৃণমূলকে আক্রমণ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার সমাজকে বিভক্ত করছে এবং বাংলার সামাজিক ঐক্য ধ্বংস করেছে। শনিবার বাগডোগরায় বিজেপির কার্যকর্তা সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah Attacks Mamata)। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার ঐক্য ছিন্নভিন্ন করেছেন। তিনি এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আরেক সম্প্রদায়কে দাঁড় করিয়েছেন। আদিবাসীদের সঙ্গে কুর্মিদের সংঘাত তৈরি করা হয়েছে। মমতা দিদি, আপনার সময় শেষ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে স্বামী বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনের সময় এসে গিয়েছে।”

    বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না

    বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শাহ বলেন, গত সাড়ে চার দশক ধরে রাজ্য পিছিয়ে পড়েছে। প্রথমে বামফ্রন্ট সরকার এবং পরে ‘মা, মাটি, মানুষ’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন বলে তাঁর অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রতীক বিরোধিতার অভিযোগও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গে আলোচনার সময় তৃণমূলের বিরোধিতার কথা তুলে ধরে শাহ বলেন, “ব্যাঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলার মানুষ। অথচ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য তৃণমূল ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরোধিতা করেছে। বাংলার মানুষ এটা ক্ষমা করবে না।” ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে এর জবাব দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন শাহ।

    বাংলায় অনুপ্রবেশ, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

    বাংলায় অনুপ্রবেশ ইস্যুকেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন বলে উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপ্রবেশে মদত দিচ্ছে। অসম, গুজরাট ও রাজস্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “যেখানে বিজেপি সরকার আছে, সেখানে অনুপ্রবেশ নেই।” কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালত ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, কিন্তু তৃণমূল সরকার তা মানবে না বলেই তাঁর আশঙ্কা। তিনি দাবি করেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হলে ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করা হবে এবং অনুপ্রবেশ বন্ধ করে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হবে।

    নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব শাহ

    পশ্চিমবঙ্গে নারী নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, “আজ বাংলায় নারীরা নিরাপদ নন। তৃণমূল সরকারের আমলে বিজেপির এক আদিবাসী সাংসদের উপর হামলা হয়েছে, দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।” উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে শাহ বলেন, রাজ্যে ২৮টির মধ্যে সবকটি লোকসভা আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দল এগোচ্ছে। বিজেপির ভোট শতাংশ বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি এবং বলেন, “পরিবর্তন আসছে, এটা অনিবার্য।”

  • India AI Impact Summit: ‘সবার জন্য এআই’ এই মন্ত্রকে সামনে রেখেই শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট

    India AI Impact Summit: ‘সবার জন্য এআই’ এই মন্ত্রকে সামনে রেখেই শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘সবার জন্য এআই’ (AI for All) এই মন্ত্রকে সামনে রেখেই ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-এর উদ্যোগে আগামী ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬। এই সম্মেলন বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে। এটি এখনও পর্যন্ত আয়োজিত সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক এআই সম্মেলনে পরিণত হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি, ২০২৬) এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাম্প্রতিক কালে এআই নিয়ে বিভিন্ন শিল্পনেতা, ডেভেলপার ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করেছেন। ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইকোসিস্টেমের সুসংগঠিত অগ্রগতির লক্ষ্যে এই বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ।

    এআই নিয়ে ভারতের ভাবনা

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই ২০০-র বেশি খাতভিত্তিক ও নির্দিষ্ট এআই মডেল তৈরি করেছে, যা এই সম্মেলনের সময় উদ্বোধন করা হবে। এআই পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। সম্মেলন শেষে এই অঙ্ক দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এআই প্রতিভা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, শিল্প-সম্মত পাঠক্রম ও পরিকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৫০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ চালু করা হবে। শক্তি চাহিদা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এআই প্রযুক্তির জন্য বিপুল শক্তি প্রয়োজন হওয়ায় পারমাণবিক শক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৫০ শতাংশই সবুজ শক্তি, যা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

    সবার জন্য এআই-এটাই লক্ষ্য

    এই উপলক্ষে প্রায় ৬০ জন বিশিষ্ট শিল্প বিশেষজ্ঞের মতামত সংকলিত একটি কম্পেন্ডিয়াম — ‘দ্য ইমপ্যাক্ট এজেন্ডা: লিডারশিপ রিফ্লেকশনস’ — প্রকাশ করা হয়, যেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও সমাজে এআই-এর প্রভাব সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইলেকট্রনিক্স ও আইটি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অজয় সুদ, এবং মেইটি-র শীর্ষ আধিকারিকরা। মেইটি সচিব এস. কৃষ্ণন জানান, এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির গণতান্ত্রিকীকরণ, বিশেষ করে এআই, যাতে এর সুফল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

    সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টা

    সম্মেলন সপ্তাহে ভারত মণ্ডপম ও সুষমা স্বরাজ ভবনে প্রায় ৫০০টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি, এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপো-তে থাকবে ৮৪০টিরও বেশি প্রদর্শনী, যার মধ্যে বিভিন্ন দেশের প্যাভিলিয়ন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার, শিল্প সংস্থা, স্টার্টআপ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এই সম্মেলনে ১৫ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, ৪০ জনের বেশি মন্ত্রী, ১০০-রও বেশি শীর্ষস্থানীয় সিইও ও সিএক্সও, এবং ১০০ জনের বেশি খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ অংশগ্রহণ করতে চলেছেন। জিও, কোয়ালকম, ওপেনএআই, এনভিডিয়া, গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যাডোব এবং গেটস ফাউন্ডেশন-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক শিল্প অংশীদারের উপস্থিতিও প্রত্যাশিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি করতে ইতিমধ্যেই দেশের প্রথম সারির প্রযুক্তি সংস্থার সিইও এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামনেই আসছে ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’। তার আগে এই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রযুক্তিবিদরা ভারতকে এআই প্রযুক্তির হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের এই নিরন্তর প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন।

  • Pakistan:‘‘মাথা নিচু করে ভিক্ষে করতে হয়’’ দেশের করুণ অবস্থার কথা মেনে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী

    Pakistan:‘‘মাথা নিচু করে ভিক্ষে করতে হয়’’ দেশের করুণ অবস্থার কথা মেনে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দৈন্যদশা আর লুকোতে পারলেন না! বিদেশি ঋণের উপর পাকিস্তানের নির্ভরশীলতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, এতে দেশের জনগণ ও কর্তাদের আত্মসম্মান নষ্ট হয়। ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পরিচিত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের নিয়ে একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘যখন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আমি দেশে দেশে অর্থ ভিক্ষা করে বেড়াই, তখন আমার অত্যন্ত খারাপ লাগে। লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে যায়। তারা অনেক কিছু আমাদের করতে বলে, আমরা না বলতে পারি না।’’

    আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করতে হয়

    শুক্রবার ইসলামাবাদে শীর্ষ পাকিস্তানি রফতানিকারকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় শরিফ স্বীকার করে নিলেন, পাকিস্তান সম্পূর্ণরূপে বিদেশি আর্থিক সাহায্য এবং নানা ধরনের প্যাকেজের উপর নির্ভরশীল। ঋণ চেয়ে চেয়ে দেশের মুখ আন্তর্জাতিক স্তরে একেবারে পুড়ে গিয়েছে, এ কথাও মেনে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। শরিফ বলেন, ‘‘আমি কীভাবে বলব আমরা কোন কোন বন্ধু দেশের থেকে ঋণ চেয়েছি! সেই দেশগুলি আমাদের হতাশ করেনি যদিও। কিন্তু ঋণ যে নিতে যায় তার মাথা হেঁট তো থাকবেই।’’ তিনি স্পষ্ট ভাবে স্বীকার করেছেন, যখন কোনও দেশ আর্থিক সাহায্য চায় তখন তাকে তার আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করতে হয়। অনেক বাধ্যবাধকতা থাকে। এক একটা সময়ে যা মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    পাক অর্থনীতি বর্তমানে ঋণের উপর নির্ভরশীল

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের পুরো অর্থনীতি বর্তমানে ঋণের উপর নির্ভরশীল। তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫২.৩৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শাহবাজ শরিফের বক্তব্য প্রমাণ করে, পাকিস্তান এখন সম্পূর্ণরূপে ঋণের ফাঁদে আটকে পড়েছে এবং সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই তাদের কাছে। শাহবাজ বলেন, তাঁর সরকার- কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং অর্থ মন্ত্রককে পুঁজির সহজলভ্যতা বাড়িয়ে শিল্প বৃদ্ধিকে সমর্থন করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘গভর্নরকে ব্যবসায়িক নেতাদের কথা শুনতে হবে এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত ভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দেশে তিনিও সফর করেছেন। আইএমএফ প্রোগ্রাম বাঁচাতে কোটি কোটি ডলার সাহায্যের অনুরোধ করেছি।’’ আইএমএফ-এর কঠোর শর্ত মেনে চলার জন্য সরকার জনসাধারণের উপর ভারী কর এবং মুদ্রাস্ফীতি চাপিয়ে দিচ্ছে। তবে, পাকিস্তান কেবল আইএণএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে ঋণী নয় বরং চিন ও সৌদি আরবের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণের বোঝায় চাপা পড়ে রয়েছে।

LinkedIn
Share