Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Ashok Lahiri: অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ম ছাঁটাই, দ্রুত অনুমোদন ও লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাতে রাজ্যকে বার্তা অশোক লাহিড়ির

    Ashok Lahiri: অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ম ছাঁটাই, দ্রুত অনুমোদন ও লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাতে রাজ্যকে বার্তা অশোক লাহিড়ির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শিল্পের বিকাশে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার উপর জোর দিলেন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি অশোককুমার লাহিড়ি (Ashok Lahiri)। তাঁর মতে, ব্যবসা ও শিল্পের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়মকানুন ছেঁটে ফেলে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনাও জরুরি। নীতির প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে (Industry Growth) তা শিল্পের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। রাজ্যের নতুন সরকারের কাছেও শিল্পক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের যথেষ্ট প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর। শুক্রবার কলকাতায় বেঙ্গল চেম্বার্স অফ কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন লাহিড়ি। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় স্তরেই শিল্পবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ব্যবসা শুরু করা কিংবা সরকারি অনুমোদন পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারান। তাই এই দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ করা প্রয়োজন।

    কী বলছেন অশোক (Ashok Lahiri)

    তিনি বলেন, “ব্যবসা শুরু করতে বা সরকারি অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই সমস্যা কমানো জরুরি। সরকারের কাছে কোনও নাগরিকের তথ্য আগে থেকেই থাকলে তাঁকে বার বার একই তথ্য জমা দিতে বলা উচিত নয়।” তবে শিল্পের বিকাশের জন্য সমস্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার পক্ষে নন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রণের বদলে প্রয়োজন সময়োপযোগী ও জনস্বার্থবাহী নিয়মকানুন। অশোক বলেন, “উন্নয়নের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমন নিয়ম তৈরি করতে হবে, যা সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখবে, অথচ ব্যবসা ও শিল্পের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করবে না।”

    ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিহাস তুলে ধরে অশোক জানান, ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর থেকে পণ্য ও পরিষেবা কর চালু হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সাহায্য করেছে। ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও ভারতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর কথায়, ২০১৪ সালে বিশ্ব ব্যাঙ্কের ব্যবসা করার সহজতার তালিকায় ভারতের অবস্থান ছিল ১৪২। পরবর্তী সময়ে সংস্কারের ফলে ২০২০ সালে সেই অবস্থান উন্নীত হয়ে ৬৩-তে পৌঁছয় (Ashok Lahiri)।

    তবে শুধু কেন্দ্রীয় উদ্যোগে বাংলার শিল্পের পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। এ জন্য কেন্দ্র, রাজ্য এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছেন অশোক। নতুন রাজ্য সরকারের প্রতি প্রত্যাশা প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্য, “এই সরকারের কাছে আমার অনেক আশা রয়েছে। অতীতে কী কী ভুল হয়েছে, তা যেহেতু সরকার জানে, তাই প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলি তারা নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়িত করবে (Industry   Growth) বলে আমার বিশ্বাস।”

    শিল্পমন্ত্রীর বক্তব্য

    অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও বাংলার শিল্পক্ষেত্রের সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, একসময় বাংলা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু জমির অপ্রতুলতা, সরকারি অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতা এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগের গতি ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কেন্দ্র ও রাজ্যকে যৌথভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    শিল্পমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ৩৩টি প্রকল্পে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে রাজ্যের প্রকৌশল এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির সংযোগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে (Ashok Lahiri)।

    নতুন শিল্পনীতিতে জমি বরাদ্দ, কারখানা স্থাপনের অনুমোদন এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তাপস। শিল্পোদ্যোগীদের কাছ থেকে সরাসরি সমস্যার কথা শুনতে চান তিনি। কোন সরকারি নিয়মের কারণে শিল্প স্থাপনে অসুবিধা হচ্ছে এবং কোথায় অনুমোদন পেতে দেরি হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে শিল্পপতিদের আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    রাজ্যের লক্ষ্য

    তাপসের বক্তব্য, প্রশাসনিক জটিলতা ও লালফিতের ফাঁস কাটিয়ে শিল্পের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই রাজ্যের লক্ষ্য। সেই পথেই বাংলার শিল্পক্ষেত্রকে নতুন করে ঘুরে দাঁড় করাতে চায় (Industry   Growth) সরকার। রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগ এবং নতুন শিল্পনীতি প্রণয়নের পরিকল্পনার মধ্যে অশোককুমার লাহিড়ীর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, প্রশাসনিক সংস্কার ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে রাজ্য সরকার (Ashok Lahiri)।

     

  • Census 2027: ২৫ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা, থাকছে জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও

    Census 2027: ২৫ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা, থাকছে জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রথম ডিজিটাল জনগণনা বা সেনসাস (Census 2027)-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। আগামী ১০ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে শুরু হবে স্ব-গণনা বা সেল্ফ এনুমারেশন প্রক্রিয়া। এরপর ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা করবেন সরকারি কর্মীরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের জনগণনায় তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST)-র পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও প্রথমবারের মতো সংগ্রহ করা হবে।

    কী কী প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে

    মোট ৪০টি প্রশ্নের একটি প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ১৩টি নতুন প্রশ্ন যুক্ত হয়েছে। জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যক্তিগত পরিচয়পত্রের মতো বিষয়গুলি উঠে আসবে এই প্রশ্নপত্রে। পাশাপাশি জানতে চাওয়া হবে বাবা ও মায়ের জন্মস্থান ও জন্মতারিখ, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, স্থায়ী ঠিকানা, কোভিড টিকাকরণের স্থান, পাসপোর্ট নম্বর এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে কি না, সেই তথ্যও। এছাড়াও, উত্তরদাতাদের কাছে মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর এবং ভোটার কার্ডের নম্বর চাওয়া হতে পারে, যদি সেগুলি তাঁদের কাছে থাকে।

    ভোটমুখী রাজ্যে আগে শুরু প্রক্রিয়া

    চারটি ভোটমুখী রাজ্য—উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবে এই প্রক্রিয়া কিছুটা আগেই শুরু হবে। ওই রাজ্যগুলিতে ২০২৬ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনার সুযোগ। এরপর ১ ডিসেম্বর থেকেই শুরু হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা। অন্যদিকে, দেশের বাকি অংশে ১০ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনা। এরপর ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূল জনসংখ্যা গণনার কাজ হবে। ১ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে সংশোধনী বা পুনরীক্ষণ পর্ব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৭ সালের ১ মার্চ মধ্যরাতকে জনগণনার নির্ধারিত রেফারেন্স তারিখ হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন এবং ১৯৯০ সালের জনগণনা বিধির সংশ্লিষ্ট ধারার ভিত্তিতে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

    কয়েকটি জায়গায় চলছে কাজ

    ইতিমধ্যেই লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত দুর্গম এলাকাগুলিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জনসংখ্যা গণনার কাজ শেষ হয়েছে। তবে হিংসা কবলিত মণিপুরে আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে প্রথম পর্যায়ের হাউস লিস্টিং অপারেশনস (HLO) বা বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হয়েছিল। মণিপুর বাদে দেশের সর্বত্র ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ জুন ২০২৭ সালের জনগণনা সংক্রান্ত প্রথম বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল কেন্দ্র। এবার চূড়ান্ত পর্যায়ের সময়সূচিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল।

  • PM Modi on NVS-03 Launch: সফল উৎক্ষেপণ এনভিএস-০৩ উপগ্রহের! দেশের গর্ব ইসরোর বিজ্ঞানীরা, অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi on NVS-03 Launch: সফল উৎক্ষেপণ এনভিএস-০৩ উপগ্রহের! দেশের গর্ব ইসরোর বিজ্ঞানীরা, অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। জিএসএলভি এফ-১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে এনভিএস-০৩ (NVS-03) নেভিগেশন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। এই সাফল্যের জন্য ইসরোর বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা গোটা দেশকে গর্বিত করে। শনিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’ (NavIC)-কে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত

    বিজ্ঞানীদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি ও সক্ষমতাসম্পন্ন এনভিএস-০৩ (NVS-03) উপগ্রহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি দেশবাসীর জন্য নেভিগেশন পরিষেবার মান ও কার্যকারিতা উন্নত করতেও সাহায্য করবে এই উপগ্রহ। প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বারবার দেশকে গর্বিত করে।” এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ইসরোর বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দনও জানান তিনি। শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে জিএসএলভি এফ-১৮ (GSLV-F18) রকেট। উৎক্ষেপণের ২০ মিনিটের কিছু বেশি সময় পর নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে (GTO) সফলভাবে এনভিএস-০৩ (NVS-03) উপগ্রহকে স্থাপন করে রকেটটি। মিশনের সাফল্য ঘোষণা করেন ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণন। এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত শিল্প সংস্থা, বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানান তিনি।

    ন্যাভিক পরিষেবার গুরুত্ব

    ভারতের জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা জিএসএলভি-এর এটি ছিল ২০তম উড়ান। প্রায় ২,২৫০ কেজি ওজনের এনভিএস-০৩ (NVS-03) হল ইসরোর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন উপগ্রহ সিরিজের তৃতীয় উপগ্রহ। ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টিলেশন (Navigation with Indian Constellation) বা ন্যাভিক (NavIC)-এর পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তার কার্যকারিতা ও পরিসর আরও উন্নত করাই এই উপগ্রহের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে নাগরিক পরিষেবা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র এবং দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট-নির্ভর অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন ও সময় নির্ধারণের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে এনভিএস-০৩ (NVS-03)-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Deepawali in Ayodhya: দীপাবলির আগে আলোকমালায় সেজে উঠল অযোধ্যার রাম মন্দির, নজরকাড়া আলোকসজ্জায় মুগ্ধ ভক্তরা

    Deepawali in Ayodhya: দীপাবলির আগে আলোকমালায় সেজে উঠল অযোধ্যার রাম মন্দির, নজরকাড়া আলোকসজ্জায় মুগ্ধ ভক্তরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির (Deepawali in Ayodhya) আগে আলোর অপরূপ সাজে সেজে উঠেছে রামনগরী অযোধ্যা। আসন্ন দীপোৎসবকে কেন্দ্র করে ঝলমলে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির চত্বর। আধুনিক আলোর সাজে মন্দিরের অপূর্ব রূপ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে ভক্তদের। উৎসবের আবহে মন্দিরের এই অপরূপ দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি (Ram Janmabhoomi Mandir Ayodhya) তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে বিশেষ আলোকসজ্জা। ট্রাস্টের তরফে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে দেখা গিয়েছে, বর্ণিল আলোর সাজে ঝলমল করছে গোটা মন্দির চত্বর। দীপোৎসবের আগে এই সাজে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে রাম জন্মভূমি মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

    দীপোৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রামচন্দ্রের অযোধ্যা প্রত্যাবর্তনের কাহিনি

    দীপোৎসবের সঙ্গে অযোধ্যার সম্পর্ক বহু প্রাচীন। রামায়ণের কাহিনি অনুযায়ী, ১৪ বছরের বনবাস শেষে ভগবান শ্রী রাম, মাতা সীতা এবং লক্ষ্মণের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নগরবাসী সারি সারি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্য থেকেই দীপাবলিতে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা চলে আসছে। অন্ধকারের উপর আলোর জয় এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবেই পালিত হয় দীপাবলি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিশ্বের নানা জায়গায় এই উৎসব পালিত হলেও রামচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত অযোধ্যার দীপোৎসবের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য আলাদা।

    ভক্তির প্রদীপ জ্বালাতে আহ্বান, মন্দির ট্রাস্টের

    ট্রাস্টের সাম্প্রতিক পোস্টেও সেই ভক্তি ও ঐতিহ্যের কথাই তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাস্টের বার্তায় জানানো হয়েছে, দীপোৎসবের অপেক্ষায় দিব্য আলোয় সেজে উঠেছে গোটা শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির প্রাঙ্গণ। বড় বড় গেট লাগানো হয়েছে রাজপথে। রাস্তার দু’ধারে মায়াবী আলো। একই সঙ্গে ভক্তদের এই পুণ্যলগ্নে ভক্তির প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দীপাবলির আগে আলোয় সেজে ওঠা রাম জন্মভূমি মন্দির যেন ভক্তি, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য ছবি তুলে ধরছে। ভগবান শ্রী রামের নামে দীপাবলি উদযাপনের প্রস্তুতিতে এখন উৎসবমুখর রামনগরী অযোধ্যা।

  • Saurav Das: ‘ককরোচ’ নেতা সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে তদন্তের আর্জি, মাদ্রাজ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলায় নোটিস জারি

    Saurav Das: ‘ককরোচ’ নেতা সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে তদন্তের আর্জি, মাদ্রাজ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলায় নোটিস জারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র মুখপাত্র তথা সাংবাদিক সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব ও ব্যক্তিগত পরিচয় খতিয়ে দেখার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় নোটিস জারি করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। পাশাপাশি, বিচারব্যবস্থা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে তাঁর কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে সৌরভের এক্স ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করারও আবেদন জানানো হয়েছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, প্রধান বিচারপতি এস এ ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি জি অরুল মুরুগনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। কাঞ্চিপুরম জেলার বাসিন্দা গণেশ কুমার এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। গত ২৬ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করা হয় এবং ২৮ অক্টোবর তা নথিভুক্ত হয়। আগামী ১১ ডিসেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

    সৌরভ দাসের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে তদন্ত

    আবেদনকারীর দাবি, সৌরভ দাসের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মামলায় তাঁকে ‘যোগেশ শর্মা ওরফে সৌরভ দাস’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বাবা-মায়ের পরিচয়-সহ পারিবারিক পটভূমিও খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন মামলাকারী। তদন্তে তিনি বিদেশি নাগরিক বলে প্রমাণিত হলে তাঁর পাসপোর্ট এবং আধার কার্ড বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে। শুক্রবারের শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী বি জগন্নাথ, সৌরভ দাসের পরিচয় ও ঠিকানা সংক্রান্ত কয়েকটি নথি আদালতের সামনে পেশ করেন। বিচারপতিরা সেই নথিগুলি খতিয়ে দেখেন এবং তাতে উল্লেখ করা কয়েকটি তথ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা চান বলে জানা গিয়েছে।

    বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সৌরভের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন

    এছাড়াও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সৌরভ দাসের কথিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন মামলাকারীর আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতও প্রশ্ন তোলে। হাইকোর্ট জানতে চায়, আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগে মামলাকারী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও অভিযোগ জানিয়েছিলেন কি না। এর উত্তরে আইনজীবী জানান, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গণেশ কুমার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই আবেদনের কোনও জবাব মেলেনি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওই আবেদনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

    সোশ্যাল সাইটে সৌরভ দাসের অ্যাকাউন্ট বন্ধের দাবি

    সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি তাঁর নামে পরিচালিত এক্স এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন মামলাকারী। একই সঙ্গে, বিচারব্যবস্থা ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সম্পর্কে ভবিষ্যতে কোনও অবমাননাকর মন্তব্য করা থেকে তাঁকে বিরত রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এই মামলায় যাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চেন্নাইয়ের আঞ্চলিক পাসপোর্ট আধিকারিক, ইউআইডিএআই-এর চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, বিদেশসচিব এবং আইন ও বিচার মন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের আধিকারিকরা। অন্যদিকে, এই মামলার প্রতিক্রিয়ায় ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য আশুতোষ রাঙ্কা আবেদনটির সমালোচনা করেছেন।

  • Railway Recruitment 2026: রেলে চাকরির বড় সুযোগ! স্টেশন মাস্টার পদে ১,২৬৫ জন নিয়োগ, আবেদন শেষ ২৫ নভেম্বর

    Railway Recruitment 2026: রেলে চাকরির বড় সুযোগ! স্টেশন মাস্টার পদে ১,২৬৫ জন নিয়োগ, আবেদন শেষ ২৫ নভেম্বর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় রেলে চাকরি করতে ইচ্ছুক স্নাতক চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুযোগ। স্টেশন মাস্টার পদে মোট ১,২৬৫টি শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। সেন্ট্রালাইজড এমপ্লয়মেন্ট নোটিফিকেশন (CEN) নম্বর ০৮/২০২৬-এর অধীনে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। প্রকাশিত নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ২০২৬ সালের ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (RRB) অধীনে এই নিয়োগ করা হবে। রেলে স্থায়ী চাকরির সুযোগ খুঁজছেন, এমন প্রার্থীদের জন্য এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সমস্ত শর্ত ও যোগ্যতার মাপকাঠি ভালো করে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কোন আরআরবি-তে কত শূন্যপদ?

    প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে স্টেশন মাস্টার পদের শূন্যপদের সংখ্যা নিম্নরূপ—
    – আরআরবি মুম্বই: ১৭৭টি পদ
    – আরআরবি জম্মু-শ্রীনগর: ১২২টি পদ
    – আরআরবি চেন্নাই: ১১৯টি পদ
    সব মিলিয়ে এই নিয়োগ অভিযানে মোট ১,২৬৫টি শূন্যপদ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    কারা আবেদন করতে পারবেন?

    স্টেশন মাস্টার পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের স্নাতক হতে হবে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বয়সসীমা, সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খতিয়ে দেখা জরুরি। নিয়োগের নির্বাচন পদ্ধতি, পরীক্ষার ধরন এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কেও বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।

    কীভাবে করবেন আবেদন?

    আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন সংক্রান্ত তথ্য এবং বিজ্ঞপ্তি দেখতে নিচের ওয়েবসাইটগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে—
    – সরকারি আরআরবি ওয়েবসাইট: rrb.indianrailways.gov.in
    – অনলাইন আবেদন পোর্টাল: rrbapply.gov.in
    – নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: CEN 08/2026-এর স্টেশন মাস্টার নিয়োগ

    আবেদনের পদ্ধতি অনলাইন

    অনলাইনে আবেদন করার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে শূন্যপদের সংখ্যা, বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং আবেদনের শেষ তারিখ যাচাই করে নিন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সমস্ত শর্ত পূরণ করলেই আবেদন করা উচিত।

  • Supreme Court on Firecracker: দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের বার্তা

    Supreme Court on Firecracker: দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলি এলেই দূষণের কথা মনে পড়ে! ক্রিসমাস, নববর্ষের সময়ও বাজি ফাটে, তখন এই উদ্বেগ কেন চোখে পড়ে না? দূষণ রোধ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ মানুষের উৎসব উদযাপনের অধিকার। একটা ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। দীপাবলিতে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বাজি পোড়ানোর উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে নয় সুপ্রিম কোর্ট। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও মানুষের উৎসব পালনের অধিকার ও আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দূষণ রোধ করতে হবে ঠিকই, তবে তার জন্য উৎসবের আনন্দকে সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। তাই বাজি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপের পক্ষেই মত আদালতের। দীপাবলি উদ্‌যাপনের সময় আমজনতাকে কম দূষণকারী বিকল্প গ্রহণ করার পরামর্শও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

    বেআইনিভাবে বাজি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ এ বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বেঞ্চটি মন্তব্য করে, “প্রতি বছরই আমরা এই বিষয়ে নির্দেশ জারি করি… কিন্তু আমাদের কাছে এটি এখন কেবল একটি ‘তাত্ত্বিক চর্চা’য় পরিণত হয়েছে। আমাদের নির্দেশগুলো মানার চেয়ে অমান্যই বেশি করা হয়।” আদালত আরও বলে, এখন সময় এসেছে “নতুন ও উদ্ভাবনী কিছু” করার। বাজি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বেআইনিভাবে বাজি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরেও জোর দেয় আদালত। প্রতি বছর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে কতটা সুফল মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। কারণ, বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তার যথাযথ পালন হচ্ছে না। ফলে শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলির সহায়তা!

    দিল্লি-এনসিআরে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো থেকে মানুষকে বিরত রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারে বিরাট কোহলির (Virat Kohli) মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের যুক্ত করার প্রস্তাব দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, রাজধানী অঞ্চলের বায়ুদূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লির কর্তৃপক্ষকে এই পরামর্শ দেয় বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ। আদালতের মতে, জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে মানুষের কাছে পরিবেশবান্ধব দীপাবলির বার্তা পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, উৎসবের সময় মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় বাধা দিতে চায় না তারা। বর্তমান প্রজন্মও বাজি পোড়ানোর ফলে পরিবেশের ক্ষতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।

    দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপের প্রস্তাব

    সম্পূর্ণ বাজি নিষিদ্ধের বিষয়ে আপত্তি থাকলেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দিল্লি-এনসিআরের বায়ুদূষণের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানিতে দিল্লি সরকার দূষণ মোকাবিলায় একাধিক প্রস্তাবের কথা জানিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বিএস-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন পুরনো গাড়ির প্রবেশে বিধিনিষেধ, সরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্মগ গান ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ। শীতের মরশুমে দিল্লির বাতাসের গুণমান ক্রমশ খারাপ হওয়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে রয়েছে। একাধিক কারণে এই সময় দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই শুধু বাজির উপর বিধিনিষেধ আরোপ না করে সামগ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে শুনানিতে।

    বাজির ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যের ঝুঁকি, উদ্বেগ আদালতের

    শুনানিতে আদালত নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরিয়েও বাজির ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষ করে পিএম২.৫-এর মতো সূক্ষ্ম দূষিত কণার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হয়। জানানো হয়, এই অতি সূক্ষ্ম কণাগুলি শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে এই দূষিত কণাগুলি। এমনকী, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন ক্র্যাকারও সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত নয় বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। সাধারণ বাজির তুলনায় এগুলি কম দূষণ ছড়ালেও বায়ুদূষণে এর প্রভাব থেকে যায়।

    শুধু দীপাবলিতেই কেন দূষণ নিয়ে এত বিতর্ক?

    সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর নতুন করে সামনে এসেছে উৎসব ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে বিতর্ক। প্রতি বছর দীপাবলি এলেই বাজি পোড়ানো এবং বায়ুদূষণ নিয়ে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। বাজি নিষিদ্ধ করার দাবিও ওঠে। পরিবেশ দূষণ যে একটি বাস্তব সমস্যা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবে প্রশ্ন উঠছে, অন্যান্য উৎসব বা উদযাপনের ক্ষেত্রেও কি একইভাবে দূষণ নিয়ে আলোচনা ও সচেতনতা দেখা যায়? দেশের বিভিন্ন জায়গায় বর্ষবরণ কিংবা বড়দিনের উদযাপনেও আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রেও কি একই ধরনের পরিবেশগত পর্যালোচনা হওয়া উচিত নয়?

    পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার

    পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কোনও নির্দিষ্ট উৎসব বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। দূষণের মাত্রা, নির্গমনের পরিমাণ, নিয়ম মেনে চলা এবং প্রশাসনিক নজরদারি—সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীপাবলির মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে প্রতি বছর দূষণের একমাত্র কারণ হিসেবে তুলে না ধরে, সমস্ত উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশবিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া উচিত বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। বাজির ব্যবহার কমানো, পরিবেশবান্ধব বিকল্প বেছে নেওয়া এবং সচেতনভাবে উৎসব পালনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসছে।

     

     

     

     

     

  • Kolkata Police Recruitment: কলকাতা পুলিশে ৫,৮৯৩ পদে নিয়োগে রাজ্যের অনুমোদন, শীঘ্রই প্রকাশিত হতে পারে বিজ্ঞপ্তি

    Kolkata Police Recruitment: কলকাতা পুলিশে ৫,৮৯৩ পদে নিয়োগে রাজ্যের অনুমোদন, শীঘ্রই প্রকাশিত হতে পারে বিজ্ঞপ্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুলিশে (Kolkata Police Recruitment) একসঙ্গে প্রায় ৫,৯০০ শূন্যপদে নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন দিল রাজ্য সরকার (West Bengal Govt)। দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা থাকা মোট ৫,৮৯৩টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার সবুজ সংকেত মিলেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (WBPRB) মাধ্যমে সম্পূর্ণ মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, গত ২৭ অক্টোবর এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের প্রশাসনিক কাজকর্ম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর একাধিক পদে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। সেই প্রস্তাব পর্যালোচনার পর অর্থ দফতর এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ায় নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনও প্রশাসনিক বাধা রইল না।

    কোন কোন পদে নিয়োগ

    অনুমোদিত শূন্যপদগুলির মধ্যে রয়েছে ৬৪৮টি সার্জেন্ট এবং ৪২৫টি সাব-ইনস্পেক্টর পদ। সাব-ইনস্পেক্টর পদগুলির মধ্যে ৭০টি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। পাশাপাশি ৪,৩১৯টি কনস্টেবল পদেও নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে মহিলা প্রার্থীদের জন্য রয়েছে ৪৩০টি পদ। তবে কবে থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশিত হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি। নির্দেশিকায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কর্মসংস্থান ও সরকারি নিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে নতুন সরকার। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া ফের চালু করা—একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছে প্রশাসন। এর আগে বিভিন্ন সরকারি দফতরে ১৪ হাজার ৪৫৪টি পদে নিয়োগের প্রস্তাবেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় কলকাতা পুলিশের এই নিয়োগকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এক লক্ষ সরকারি চাকরি

    কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি চাকরি নিয়ে রাজ্যের যুবক-যুবতীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নিয়োগে অনিয়ম এবং ওবিসি তালিকা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই আইনি ও প্রশাসনিক সমস্যা কাটিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পরীক্ষাগুলিও ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও আশ্বাস দিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই ধাপে ধাপে এক লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে। যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

  • VBGRAMG: গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর, মোদি সরকারের আমলে ভিবি-জিরামজিতে রেকর্ড শ্রমদিবস সৃষ্টি

    VBGRAMG: গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর, মোদি সরকারের আমলে ভিবি-জিরামজিতে রেকর্ড শ্রমদিবস সৃষ্টি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত ৩১.৬৯ কোটিরও বেশি শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে। ‘বিকশিত ভারত—গ্রামীণ রোজগার ও আজীবিকা মিশন’ (VBGRAMG) নামের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে মজুরির বিনিময়ে কাজের আইনি নিশ্চয়তা দেওয়া এবং সেই সঙ্গে গ্রামে স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা।

    ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে ‘বিকশিত ভারত—গ্রামীণ রোজগার ও আজীবিকা মিশন আইন, ২০২৫’। এর ফলে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনের পরিবর্তে নতুন কাঠামো চালু হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার যোগ্য পরিবারগুলির প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যেরা অদক্ষ কায়িক শ্রমে কাজ করতে আগ্রহী হলে প্রতি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের আইনি নিশ্চয়তা পাবেন (Person Days)।

    সরকারের দাবি, নয়া ব্যবস্থা চালুর সময় থেকেই প্রয়োজনীয় ডিজিটাল পরিকাঠামো কার্যকর ছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ সম্পদ নির্মাণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং গ্রামস্তরে উন্নয়ন পরিকল্পনা—এই চারটি দিককে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ২.২৩ কোটিরও বেশি গ্রামীণ পরিবারকে কাজ দেওয়ার দাবি (VBGRAMG)

    সরকারি তথ্য অনুয়ায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে সক্রিয় শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১০.৮৮ কোটি। প্রায় ২.২৩ কোটি গ্রামীণ পরিবারের ২.৮১ কোটিরও বেশি শ্রমিক কাজের চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পেয়েছেন।

    চলতি অর্থবর্ষে কর্মসূচিতে মহিলাদের অংশগ্রহণের হার ৬১.৬৫ শতাংশ। গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মহিলাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিরই প্রতিফলন এই পরিসংখ্যান।

    সরকার জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার অধীনে ২.৮৩ লাখ সম্পদ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, ৯৭.১৭ লাখ উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। দেশজুড়ে প্রায় ২০.১৬ লক্ষ কর্মস্থল চালু রয়েছে এবং ২.৩১ লাখের কাছাকাছি গ্রাম পঞ্চায়েত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

    ভবিষ্যতে কাজের চাহিদা মেটানোর জন্য অনুমোদিত ৭৩.২৪ লাখ কাজ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া, ১৫.১৭ কোটি গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

    এই কর্মসূচিতে দৈনিক মজুরির হার ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রযোজ্য মজুরির হার অনুযায়ী শ্রমিকেরা অর্থ পাবেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও জোর দেওয়া হচ্ছে। অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা বেশি থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে কাজের চাহিদা অনুযায়ী প্রকল্প (VBGRAMG) চালু করা সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বরাদ্দ ৯৩,৮৪১ কোটি টাকা

    নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে অন্তর্বর্তী বরাদ্দ হিসেবে ৯৩,৮৪১ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারি তথ্য বলছে, এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ২৫,৮৮০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।

    এই অর্থ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা। অনুমোদিত কাজ শুরু করা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং সময়মতো মজুরি মেটানোর জন্য নিয়মিত অর্থের জোগান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে উল্লিখিত সময় পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩.৭৬ কোটি লেনদেন হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মজুরি পাঠানোর ফলে অর্থ বণ্টনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং লেনদেনের উপর নজরদারি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের বাস্তবায়নে অনিয়ম কমানো, হিসাব সংরক্ষণ এবং দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিকল্পনায় গুরুত্ব

    নতুন কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘বিকশিত গ্রাম পঞ্চায়েত পরিকল্পনা’। এর মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও অংশগ্রহণমূলক, তথ্যনির্ভর এবং স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গ্রামসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতের অংশগ্রহণে তৈরি এই পরিকল্পনায় গ্রামের বর্তমান সম্পদের তালিকা প্রস্তুত করা, পরিকাঠামোর ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়।

    কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে তৈরি সম্পদেরও তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে কোন এলাকায় কী ধরনের পরিকাঠামো রয়েছে এবং কোথায় নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা সহজ (VBGRAMG) হবে।

    এই কাজে ভৌগোলিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং ‘যুক্তধারা’ ও ‘প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তি’র মতো ডিজিটাল মঞ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

    গ্রামস্তরে তৈরি পরিকল্পনাগুলিকে ব্লক, জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে একত্রিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত জাতীয় গ্রামীণ পরিকাঠামো কাঠামো’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য হল, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন প্রকল্প চালানোর পরিবর্তে গ্রামের প্রয়োজনকে বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা। ফলে পরিকাঠামো নির্মাণে সমন্বয় বাড়বে এবং সরকারি অর্থের ব্যবহার আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে (Person Days)।

    চারটি ক্ষেত্রে ৩১৮ ধরনের কাজের অনুমোদন

    নতুন পরিকল্পনা কাঠামোয় চারটি প্রধান ক্ষেত্রের অধীনে মোট ৩১৮ ধরনের কাজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ক্ষেত্রগুলি হল—জল নিরাপত্তা, মৌলিক গ্রামীণ পরিকাঠামো, জীবিকা-সহায়ক পরিকাঠামো এবং চরম আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়ের প্রভাব প্রশমন।

    জল নিরাপত্তার আওতায় জল সংরক্ষণ এবং জলের সহজলভ্যতা বাড়ানোর মতো প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে। মৌলিক গ্রামীণ পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে গ্রামের প্রয়োজনীয় সম্পদ ও পরিষেবা উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হবে।

    জীবিকা-সহায়ক পরিকাঠামোর লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করা এবং মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়ানো। অন্যদিকে, চরম আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাজও এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত (VBGRAMG)। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্রামীণ এলাকার সহনশীলতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।

    সরকারের বক্তব্য, বিভিন্ন দফতর ও প্রকল্পের সম্পদকে একত্রে কাজে লাগিয়ে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি এড়ানো এবং গ্রামস্তরে উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলির মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য।

    কর্মসংস্থানের সঙ্গে স্থায়ী সম্পদ নির্মাণকে যুক্ত করার ফলে সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ পরিবারের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে গ্রামের পরিকাঠামোরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই লক্ষ্য পূরণে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প নির্বাচন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং নির্মিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

    নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি

    ‘বিকশিত ভারত—গ্রামীণ রোজগার ও আজীবিকা মিশনে’র বাস্তবায়নে প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকের পরিচয় যাচাই, উপস্থিতি নথিভুক্ত করা, মজুরি প্রদান এবং উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে একাধিক ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।

    এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ই-কেওয়াইসি, মুখমণ্ডল ও জীবমিতিক পরিচয় যাচাই, ভৌগোলিক অবস্থান-চিহ্নিতকরণ, ডিজিটাল পরিমাপ এবং বৈদ্যুতিন পরিমাপের খাতা। সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে মজুরি পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি, তাৎক্ষণিক তথ্যচিত্র এবং স্থানভিত্তিক প্রযুক্তির সাহায্যে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেও নজরদারি, প্রতিবেদন তৈরি এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা পাওয়ার কথা। স্থানীয় স্তরে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করতে পৃথক ডিজিটাল মঞ্চ, নাগরিকদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণমূলক উদ্যোগও রাখা হয়েছে।

    এই প্রযুক্তিগুলি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, নথি সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়নের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পরিকাঠামো, তথ্যের নির্ভুলতা এবং স্থানীয় আধিকারিক ও শ্রমিকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগের উপর।

    সরকারের লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে কর্মসংস্থান প্রদান ও গ্রামীণ উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বাড়ানো।

    কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থায়ী সম্পদ নির্মাণে জোর

    নতুন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু মজুরির বিনিময়ে কাজ দেওয়া নয়, একই সঙ্গে গ্রামের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের উপযোগী সম্পদ তৈরি করা। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে পরিকল্পনা তৈরি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা চলছে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৩১.৬৯ কোটিরও বেশি শ্রমদিবস তৈরির পরিসংখ্যান কর্মসূচির প্রাথমিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কতগুলি পরিবার কাজ পেয়েছে, মহিলাদের অংশগ্রহণ কতটা, কতগুলি প্রকল্প চলছে এবং কত অর্থ বরাদ্দ হয়েছে—এই তথ্যগুলি কর্মসূচির ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণা দেয় (VBGRAMG)।

    তবে প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কাজের চাহিদা নিয়মিত মেটানো যাচ্ছে কি না, শ্রমিকেরা সময়মতো মজুরি পাচ্ছেন কি না এবং তৈরি হওয়া সম্পদগুলি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন পূরণ করছে কি না, তার উপর।

    প্রতি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের আইনি নিশ্চয়তা, ৯৩,৮৪১ কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বরাদ্দ এবং ৩১৮ ধরনের অনুমোদিত কাজের পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্র গ্রামীণ জীবিকা ও পরিকাঠামো উন্নয়নকে একসূত্রে বাঁধতে চাইছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি কতটা কার্যকর হয়, তা (Person Days) নির্ধারণ করবে বাস্তবায়নের গুণমান এবং গ্রামীণ মানুষের কাছে এর সুফল পৌঁছনোর মাত্রা।

     

  • Jiu-jitsu to Capt Smit: মাথার সেলাই দেখে চমকে উঠল বিশ্ব! সুস্থ হয়ে উঠলে জিউ-জিৎসু শেখাব, ভারতীয় পাইলটকে ইউএই প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রস্তাব

    Jiu-jitsu to Capt Smit: মাথার সেলাই দেখে চমকে উঠল বিশ্ব! সুস্থ হয়ে উঠলে জিউ-জিৎসু শেখাব, ভারতীয় পাইলটকে ইউএই প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলগামী বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা রুখে দিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর (Captain Smit Machchhar)। তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। তবে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সকলের নজর কাড়ল তাঁর মাথার পিছনে থাকা সেলাইয়ের দীর্ঘ দাগ। পাইলটের ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেই সাক্ষাতেই স্মিতকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর জিউ-জিৎসু (Jiu-jitsu to Capt Smit) শেখানোর প্রস্তাব দিলেন তিনি।

    জিউ-জিৎসু শেখানোর প্রস্তাব

    বুধবার ইউএই-তে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছর এবং ফ্লাইদুবাইয়ের (Fly Dubai Attack) অন্যান্য কর্মীদের সম্মানিত করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় ১৭৪ জন যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ ২’ সম্মান। অনুষ্ঠানে স্মিতের বাঁ হাত ছিল স্লিংয়ে বাঁধা। মাথার পিছনে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল সেলাইয়ের দীর্ঘ দাগ। তাঁর এই শারীরিক অবস্থা থেকেই হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রথমবার স্পষ্ট ধারণা পেল বিশ্ব। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে স্মিতের সঙ্গে ইউএই-র প্রেসিডেন্টের কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্টকে স্মিতের মাথার আঘাতের দাগ ও হাতের স্লিংয়ের দিকে নজর দিতে দেখা যায়। স্মিত কবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে ভারতীয় পাইলট জানান, সুস্থ হতে সম্ভবত আরও দু’মাস সময় লাগতে পারে। এরপরই প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার একটা পরিকল্পনা আছে। তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে আমি তোমার সঙ্গে একটি সেশন করতে চাই। তোমাকে লড়াই করতে শেখাব—একটি জিউ-জিৎসু সেশন।” প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবে হেসে ফেলেন স্মিত। তিনি বলেন, “এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় সম্মান।” এরপর দু’জনকে হাসিমুখে আলিঙ্গন করতেও দেখা যায়।

    মাথায় কুড়ুলের আঘাত, তবুও হাল ছাড়েননি স্মিত

    ঘটনাটি ঘটে যখন বিমানটি ইজরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে চলেছিল। অভিযোগ, সেই সময় ৩৮ বছর বয়সি স্মিত মাচ্ছরের উপর পিছন থেকে ক্র্যাশ অ্যাক্স বা ভারী কুড়ুল দিয়ে হামলা চালান তাঁর ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেল আভিভের একটি বহুতলে বিমানটি আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও স্মিত দমে যাননি। প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও দ্রুত রক্তক্ষরণের মধ্যেও তিনি ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর বিমানকর্মী ও যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে কাবু করেন। এই তীব্র বিশৃঙ্খলার মধ্যে মাত্র দু’মিনিটে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    ভেঙে গিয়েছিল মাথার খুলি

    এই হামলায় স্মিতের মাথার খুলি ভেঙে যায়। তাঁর বাঁ হাতেও গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর ‘ডিপ্রেসড স্কাল ফ্র্যাকচার’ হয়েছিল। এই ধরনের আঘাতে খুলির ভাঙা হাড়ের একটি অংশ ভিতরের দিকে মস্তিষ্কের দিকে ঢুকে যায়। সৌদি আরবে জরুরি চিকিৎসার সময় চিকিৎসকেরা তাঁর খুলির পুনর্গঠন করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ইউএই-তে নিয়ে যাওয়া হয়। মাথা ও হাতের পাশাপাশি তাঁর হাত-পা, বুক এবং পেটের উপরিভাগেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্মিত মাচ্ছরের মাথার আঘাতের একটি ক্লোজ-আপ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন ব্রিটেনের অতি-ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, সব নায়ক কেপ পরে থাকেন না, কেউ কেউ যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন বহন করেন। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    জিউ-জিৎসু কী

    জিউ-জিৎসু একটি মার্শাল আর্ট বা আত্মরক্ষার কৌশল। ইউএই-তে, বিশেষত আবু ধাবিতে, এই খেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক স্তরেও জিউ-জিৎসুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইউএই-র এই সম্মান স্মিতের প্রাপ্ত স্বীকৃতির তালিকায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। গুজরাট সরকার তাঁকে ‘বিশিষ্ট গুজরাট গরিমা’ সম্মানে ভূষিত করেছে। অন্যদিকে, ইজরায়েল সরকারও তাঁকে বেসামরিক সাহসিকতার জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। গত সপ্তাহে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মাথায় গুরুতর আঘাত, শরীরে অসংখ্য ক্ষত—সবকিছুকে উপেক্ষা করে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় স্মিতের ভূমিকা আজ আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত। তাঁর সাহসিকতার কাহিনি আরও একবার প্রমাণ করল, বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ববোধ ও উপস্থিত বুদ্ধিই হয়ে উঠতে পারে বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

LinkedIn
Share