Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Madrasas Closure: অনুমোদন-পরিকাঠামোহীন ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ রাজ্যের, শোকজ আরও প্রায় ১০০-টিকে

    Madrasas Closure: অনুমোদন-পরিকাঠামোহীন ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ রাজ্যের, শোকজ আরও প্রায় ১০০-টিকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অনুমোদনহীন ও ন্যূনতম পরিকাঠামোহীন মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পথে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা ও পরিদর্শনের পর ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিশ (Madrasas Closure) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ম মেনে পরিচালিত না হওয়া আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না মিললে ওই প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন (West Bengal) দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।

    দফতর সূত্রে খবর, বন্ধের নোটিশ পাওয়া ২৫২টি মাদ্রাসার অধিকাংশের ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিকাঠামো নেই। অন্যদিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। তাদের জবাব সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে প্রশাসন।

    মন্ত্রীর বক্তব্য, মাদ্রাসার পড়ুয়ারাও যাতে অন্যান্য স্কুলের পড়ুয়াদের মতো আধুনিক ও মূলধারার শিক্ষার সুযোগ পায়, সেটাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার পরিবেশ ও পরিকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    সমীক্ষায় উঠে এল অনুমোদনের বিস্তর ফারাক (Madrasas Closure)

    রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২,১৩২টি মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে চলছে। অন্যদিকে প্রায় ২,৩৯৬টি মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় সরকারি বা পর্ষদের নথিভুক্তি কিংবা সংযুক্তিকরণ ছাড়াই চলছে বলে প্রশাসনের সমীক্ষায় উঠে এসেছে। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল খারিজি মাদ্রাসাগুলির উপর।

    জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কলকাতা-সহ রাজ্যের ২২টি জেলার মাদ্রাসাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের নথিভুক্তি, পরিচালন ব্যবস্থা, পড়ুয়ার সংখ্যা ও পরিচয়, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা, পরিকাঠামো এবং অর্থের উৎস—সমীক্ষায় খতিয়ে দেখা হয় সবই।

    জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট পাওয়ার পর তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে রাজ্যস্তর থেকেও বিশেষ পরিদর্শন ও তদন্তকারী দল পাঠানো হয়। মাদ্রাসাগুলির তরফে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করা হয় (Madrasas Closure)।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীক্ষায় একাধিক সমস্যা সামনে এসেছে। কোথাও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই, কোথাও পড়ুয়া ও শিক্ষকের সংখ্যা অত্যন্ত কম। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে রাজ্য নির্ধারিত পাঠ্যক্রম থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি এবং প্রশাসনিক নিয়ম না মানার অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে। এই সমস্ত কারণেই একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    মালদায় সবচেয়ে বেশি বন্ধের নোটিশ

    জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে মালদায়। সেখানে ৪৪-৪৫টি মাদ্রাসা এই তালিকায় রয়েছে। এরপর উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ৩২টি এবং মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় প্রায় ২৫টি করে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

    প্রশাসনের ব্যাখ্যা, খারিজি মাদ্রাসা বলতে এমন স্বাধীন ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেগুলি সাধারণত সরকারি অর্থসাহায্য, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়। এই ধরনের প্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের অনুদান বা ট্রাস্টের অর্থের উপর নির্ভরশীল।

    ভারতবিরোধী শিক্ষা’র অভিযোগও নজরে

    নবান্নের এক আধিকারিকের দাবি, কয়েকটি খারিজি মাদ্রাসায় ‘ভারতবিরোধী’ শিক্ষা দেওয়া এবং পড়ুয়াদের ‘মগজধোলাই’ করার অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। সেই কারণেও মাদ্রাসাগুলির কার্যকলাপ যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল বলে দাবি ওই আধিকারিকের। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ যাচাই করে এবং আইন মেনে তবেই কোনও পদক্ষেপ করা হবে।

    এদিকে, মাদ্রাসা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, এর আগে মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগ সামনে এসেছিল। তিনি বলেন, “মাদ্রাসা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। এর আগে অনেক উগ্রপন্থী ধরা পড়েছে, যারা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিল। মাদ্রাসায় থেকে তারা ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালাত।”

    তাঁর আরও দাবি, “যারা সরকারের অনুমতি নিয়ে মাদ্রাসা চালাচ্ছেন, সেই মাদ্রাসা চলবেই। কিন্তু যেখানে-সেখানে মাদ্রাসা খুলে উৎপাত করার অনুমতি সরকার দেবে না।” তবে মাদ্রাসা নিয়ে ওঠা যে কোনও অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে (Madrasas Closure)।

    অনুমোদিত মাদ্রাসা চালু থাকবে

    সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, “ফিল্ড লেভেলে যাচাই করা হয়েছে। কলকাতা-সহ ২২টি জেলার সমস্ত মাদ্রাসার নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। যে সমস্ত মাদ্রাসার অনুমোদন রয়েছে, সেগুলি চালু থাকবে।”  প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মাদ্রাসাগুলির (West Bengal) নথি যাচাই এবং পরিদর্শনের এই প্রক্রিয়া আগামী দিনেও চলবে। অনুমোদনহীন বা নিয়ম না মেনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে এবং আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Madrasas Closure)।

     

  • Varanasi: বারাণসীতে নিকাশি নালা বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, বস্তাভর্তি বালি উদ্ধার

    Varanasi: বারাণসীতে নিকাশি নালা বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, বস্তাভর্তি বালি উদ্ধার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারাণসীতে ইচ্ছাকৃতভাবে নিকাশি নালার পথ বন্ধ করে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে। পুরসভার (Varanasi) সাফাই অভিযানের সময় শহরের একাধিক এলাকার মূল নিকাশি নালার ভিতর থেকে বালিভর্তি বস্তা, পাথর, কাঠের গুঁড়ো, প্লাইউড এবং প্লাস্টিকের বর্জ্য উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুরসভার আধিকারিকদের অনুমান, পরিকল্পিতভাবেই নালাগুলি (Waterlogging Investigation) আটকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

    শিবালা, সরায়নন্দন এবং নাগওয়া-সহ প্রায় ছ’টি ওয়ার্ডে নিকাশি নালা পরিষ্কারের সময় এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা নজরে আসে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত করা এবং জল জমিয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন বারাণসী পুরসভা কর্তৃপক্ষ। পুলিশও ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

    উদ্ধার ১২ বস্তা বালি (Varanasi)

    শুক্রবার রাতে, ১১ সেপ্টেম্বর, শিবালা ওয়ার্ডের ৭৫ নম্বর এলাকায় আগরওয়াল রেডিও এবং রত্নাকর পার্কের কাছে নিকাশি নালা পরিষ্কারের সময় প্রায় ১২ বস্তা বালি উদ্ধার করেন পুরসভার কর্মীরা। বস্তাগুলি মূল নিকাশি নালার ভিতরে রাখা ছিল।

    বারাণসীর মেয়র অশোক তিওয়ারি বলেন, নালার ভিতরে যেভাবে বস্তাগুলি রাখা হয়েছিল, তাতে মনে হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবেই নালাটি বন্ধ করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ। মূল নিকাশি নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নোংরা জল সংযোগকারী গলিগুলিতে উপচে পড়ে। এর ফলে জনজীবন ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যায়।”

    পুরসভার অভিযোগ অনুযায়ী, নিকাশি ব্যবস্থা ব্যাহত করার পাশাপাশি জলকল দফতর এবং শহর প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে এই ঘটনার পিছনে।

    ষড়যন্ত্রের দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    বারাণসী পুরসভার জলকল দফতরের পক্ষ থেকে ভেলুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৬(গ) ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই ধারাটি জলমগ্নতা ঘটিয়ে (Varanasi) ক্ষতিসাধনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    ভেলুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দুর্গা সিং বলেন, “এই ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৬(গ) ধারায় জলমগ্নতা ঘটিয়ে ক্ষতিসাধনের অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

    দোষীদের চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকরা। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, অন্য কয়েকটি ওয়ার্ডের নিকাশি নালার ভিতর থেকেও বালি, পাথর, প্লাইউড, কাঠের গুঁড়ো এবং প্লাস্টিকের বর্জ্য উদ্ধার হয়েছে।

    কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পুর কমিশনারের

    বারাণসীর পুর কমিশনার হিমাংশু নাগপাল এই ঘটনার পিছনে সমাজবিরোধীদের হাত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নিকাশি নালাগুলি কীভাবে এবং কারা বন্ধ করল, তা চিহ্নিত করতে পুরসভার পক্ষ থেকে তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    নিকাশি নালা পরিষ্কার করা এবং নিচু এলাকাগুলিতে জমে থাকা জল সরানোর কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মেয়র অশোক তিওয়ারি ও পুর কমিশনার হিমাংশু নাগপাল। পুরসভা এবং জলকল দফতরের কর্মীরা নিকাশি ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পুর কমিশনার বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, কাউকে নিকাশি নালা কিংবা সরকারি সম্পত্তিতে ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তক্ষেপ বা ক্ষতিসাধন করতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুরনিসভাকে জানাতে হবে (Waterlogging Investigation)। এই ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও (Varanasi) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

     

  • BRICS: “ব্রিকসের কাছে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর”, বললেন মোদি

    BRICS: “ব্রিকসের কাছে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর”, বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃতীয় দশকে প্রবেশ করতে চলেছে ব্রিকস (BRICS)। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন শুধু ভাবনা ও প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর। রবিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের উন্মুক্ত অধিবেশনে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ চিনকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

    ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্রিকস তৃতীয় দশকে প্রবেশ করতে চলেছে। এখন বিশ্ব আমাদের কাছ থেকে শুধু ভাবনা ও প্রতিশ্রুতি নয়, সুনির্দিষ্ট ফলাফল প্রত্যাশা করে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অবশ্যই এই প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হব।”

    চিনকে শুভেচ্ছা মোদির (BRICS)

    ২০২৭ সালে ব্রিকসের পরবর্তী আয়োজক দেশ হিসেবে চিনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদি নয়াদিল্লি সম্মেলন সফল করার জন্য সদস্য দেশগুলির নেতৃবৃন্দ এবং তাঁদের দলগুলির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “পরবর্তী আয়োজক দেশ হিসেবে চিনকে আবারও আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। নয়াদিল্লি সম্মেলনকে সফল করে তোলার জন্য আপনাদের প্রত্যেককে এবং আপনাদের দলগুলিকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। আপনাদের সকলের নিরাপদ ও আনন্দময় যাত্রা কামনা করি।”

    এর আগে রবিবার সকালে ভারত মণ্ডপমে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “ভারত মণ্ডপমে আরও একটি ফলপ্রসূ সকাল। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিদের এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রধানদের স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত।”

    রবিবার ব্রিকস নেতাদের বৈঠকে “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ নির্মাণ” শীর্ষক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় (BRICS)।

    অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিকসের প্রতি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আস্থা বেড়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ব্রিকসের মঞ্চের মাধ্যমে বন্ধুত্ব, অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।”

    সবাই ব্রিকসের সহযোগিতার অংশীদার হয়ে উঠুন

    তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি, যাতে ব্রিকসের সহযোগিতা শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমরা চাই আমাদের উদ্যোগপতি, কৃষক, গবেষক, মহিলা, যুবসমাজ এবং সাধারণ নাগরিকরাও এর সক্রিয় অংশীদার হয়ে উঠুন।”

    গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে ব্রিকসের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে ব্রিকসের প্রতি আস্থা বেড়েছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির। কারণ এখানে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয়, তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা হয় এবং সমাধান শুধু তাদের জন্য তৈরি করা হয় না, তাদের সঙ্গে নিয়েই তৈরি করা হয়।”

    ব্রিকসের শক্তি তার বৈচিত্র্য ও সহযোগিতার মধ্যে নিহিত বলেও মন্তব্য করেন মোদি। তাঁর কথায়, “আমরা হয়তো ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই এবং মানবতার কল্যাণে বিকশিত হই। আমাদের বৈচিত্র্য যেন আমাদের পরিচয় হয়ে থাকে, আমাদের সহযোগিতা যেন আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং আমাদের অগ্রগতি যেন সমগ্র মানবজাতির উপকারে আসে।”

    এদিকে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্রিকস দেশগুলিকে “ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ” করার আহ্বান জানান।

    জিনপিং বলেন, ব্রিকসের উচিত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি “সক্রিয়, স্থিতিশীল ও ইতিবাচক শক্তি” হয়ে ওঠা। চিনের বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দুই দিনের সম্মেলনে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথের অগ্রাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিকে ব্রিকসের আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

    ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দু’দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর রবিবার নয়াদিল্লি ছেড়ে চিনে ফিরে যান জিনপিং। ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নেন তিনি।

    সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। দুই প্রতিবেশী দেশের (BRICS) মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Muslim Group: ৯/১১-র ২৫ তম বার্ষিকীতে উত্তপ্ত নিউ ইয়র্ক, সিটি হলের সামনে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি-পাল্টা বিক্ষোভ

    Muslim Group: ৯/১১-র ২৫ তম বার্ষিকীতে উত্তপ্ত নিউ ইয়র্ক, সিটি হলের সামনে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি-পাল্টা বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার (9/11 Anniversary) ২৫ বছর পূর্তিতে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে স্মরণসভা চলছিল, ঠিক তখনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল নিউ ইয়র্ক সিটি হলের বাইরের এলাকা (Muslim Group)। প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানির স্মৃতিতে আয়োজিত এই শোকের আবহেই সিটি হলের বাইরে জড়ো হন একদল মুসলিম বিক্ষোভকারী। তাঁরা বারবার “আল্লাহু আকবর” (যার অর্থ “ঈশ্বর মহান”) ধ্বনি দিতে থাকেন। অন্যদিকে, তাঁদের মুখোমুখি হয়ে একদল আন্দোলনকারী “সব মুসলিমকে বিতাড়িত করো” লেখা ব্যানার নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। জোড়া প্রতিবাদের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শোকের অনুষ্ঠান।

    প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত (Muslim Group)

    এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি এবং প্রাক্তন মেয়র রুডি জুলিয়ানির মধ্যের প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত। এদিন ন্যাশনাল ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামের সামনে দু’জনকে হ্যান্ডশেক করতে দেখা গেলেও, ক্ষোভ চেপে রাখেননি জুলিয়ানি। নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানির এই মেমোরিয়ালে উপস্থিতি তাঁকে “অপারগ ও অপমানিত” করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানের কিছুদিন আগেই মামদানি ৯/১১ সম্পর্কিত ১৭০,০০০ পাতার গোপন নথি প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের পরে তৎকালীন নেতারা বাতাস বিশুদ্ধ থাকার ভুয়া দাবি করে জনগণের কাছে “মিথ্যা” বলেছিলেন।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদা জঙ্গিদের অপহৃত চারটি বিমানের তাণ্ডবে অন্তত ২,৯৭৭ জন নিহত হন। দুটি বিমান আছড়ে পড়ে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এবং একটি পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভ্যানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে ভেঙে পড়ে (Muslim Group)।

    ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল সার্ভিসে যোগ দেননি ট্রাম্প

    এবারের ২৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল সার্ভিসে যোগ দেননি। সেখানে তাঁকে বক্তৃতা দিতে না দেওয়ায় তিনি অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে পেন্টাগনে বক্তৃতা দেন। সব মিলিয়ে, এক ঐতিহাসিক শোকের দিনে সিটি হলের বাইরের এই বিভাজনমূলক স্লোগান ও বিক্ষোভ (9/11 Anniversary) গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই যেন আবার একবার তুলে ধরল তামাম বিশ্বের কাছে (Muslim Group)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ভারতের বাইরে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল এবং বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই (Roundup Week) করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনটির দাবি, হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের মধ্যে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি অবমাননা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং যৌন হিংসার মতো ঘটনাও রয়েছে।

    মুর্শিদাবাদে যুবক খুনের অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুর্শিদাবাদের সুজিত মণ্ডলকে খুন ও দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে জানি শেখ, সামাউল হক এবং তাজকিরা বিবির বিরুদ্ধে। পুলিশের অনুমান, ঘটনার নেপথ্যে অর্থনৈতিক বিবাদ থাকতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাক্কার বাসিন্দা সামাউল একটি পোশাকের দোকান চালান এবং এর আগে একটি বিড়ি কারখানায় গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় থেকেই সুজিতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। অভিযোগ, সুজিত সামাউলকে কয়েক হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। টাকা ফেরত চাওয়ার পর দু’জনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ

    স্বঘোষিত নারীবাদী চিন্ময়ী শ্রীপাদার বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবকে অবমাননা করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বরলক্ষ্মী ব্রতের সময় তিনি হিন্দু মহিলাদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

    এর পর জন্মাষ্টমীর সময় একটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদনের দাবি, অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ না করে তিনি জানান, তারা মুসলিম হওয়ায় তাঁদের নাম প্রকাশ করা হবে না। এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    নেপালে বন্যাত্রাণে ধর্মভিত্তিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    নেপালের বন্যাকবলিতদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ লাখ ডলারের ত্রাণ সহায়তা ঘোষণা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফার ত্রাণ ক্যাথলিক ত্রাণ পরিষেবা এবং তাদের স্থানীয় সহযোগী কারিতাস নেপালের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

    এই ত্রাণ বণ্টনের মাধ্যমকে কেন্দ্র করে ভারতীয় উপমহাদেশে পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলির মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সেই সাহায্য শুধুই মানবিক উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি ধর্মপ্রচার ও ধর্মান্তরের ক্ষেত্রেও তা ব্যবহৃত হতে পারে।

    ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘ লড়াই

    বছর তিয়াত্তরের ভক্ত বাসাই জয়রামনের কয়েক দশকের আন্দোলনের পর একটি ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে প্রশাসন পদক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    জয়রামনের বক্তব্য, গত ৪৫ বছর ধরে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন বিধায়ক, মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বহুবার আবেদন করেও এত দিন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি।

    সুক্র তীর্থম নামে পরিচিত ওই জলাধারটি এলাকার প্রায় ১,৪৫০ বছরের পুরনো একটি শিবমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ওই জলাধারে স্নান করে দেবতার পুজো করলে মানসিক অসুস্থতা নিরাময় হয়।

    ধর্মান্তরের অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর জেলার বলুরওয়া গ্রামে একটি মাঠে ধর্মান্তরের চেষ্টা চালানোর অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা একটি খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধর্মান্তরের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ করেন।

    খবর পেয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে পুলিশে খবর দেন। তাঁদের আসার পর কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভিঠা থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক নরেশ কুমার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, তদন্ত চলছে।

    ধর্মান্তরের চাপে মৃত্যুর অভিযোগ

    অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলায় নূকরাজু পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বছর আটত্রিশের সৌজন্যার নামে লেখা পাঁচ পাতার একটি আত্মহত্যার নোট প্রকাশ্যে আসার পর দীর্ঘদিনের ভয় দেখানো, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, তাঁর ছেলেকে হুমকি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌজন্যা, তাঁর বাবা নূকরাজু, মা মীনা এবং নাতি রিয়ানশ রাজামহেন্দ্রবরমের সড়ক-রেল সেতু থেকে গোদাবরী নদীতে ঝাঁপ দেন বলে অভিযোগ।

    কর্নাটকে মহিলার মৃত্যু ঘিরে তদন্ত

    কর্নাটকের চিক্কবল্লাপুর জেলার চক্কাহল্লি গ্রামের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে চৈত্রা নামে এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় আট বছর ধরে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছিলেন চৈত্রা এবং সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বাস করতেন। তাঁর সঙ্গে সাব্বির নামে এক ব্যক্তির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নন্দী হিলস থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে (Hindus Under Attack)।

    মন্দিরের দানস্বরূপ ঘণ্টা বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

    একটি মন্দিরের দানস্বরূপ পাওয়া ঘণ্টা আত্মসাৎ এবং বেআইনিভাবে পরিবহণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনায় মন্দিরের ৪০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হলেও, ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যত থেমে গিয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্তও অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। নথিতে উল্লিখিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আবু বকর নামে এক দরদাতার মাধ্যমে ঘণ্টাগুলি পরিবহণ ও বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্ত থেকে আবু বকরের নাম বাদ পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা নিয়ে প্রতিবেদনে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্মনিন্দার অভিযোগ তুলে গণহামলা, মহিলাদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস ও এর পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে সাময়িক মুক্তি

    বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে তাঁর মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য চলতি সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রায় দু’বছর কারাগারে থাকার পর প্যারোলে মুক্তি পান তিনি।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি আবেগঘন ভিডিওর উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিতে প্রণাম করার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কাঁদতে দেখা যায়। পরে তাঁকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ঘটনাটি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিস্থিতির একটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পিছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    হিন্দু উৎসব নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষের পাশাপাশি নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত কিছু দেশেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায়।

    এই ধরনের বৈষম্য আইন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং জনপরিসরের আচরণের মধ্যেও প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারে ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    প্রতিবেদনটির বক্তব্য, উপরিতলে এই নিষেধাজ্ঞাকে পরিবেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে (Roundup Week) অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে অনুরূপ বিধিনিষেধ কতটা প্রয়োগ করা হয়, সেই তুলনামূলক ছবি বিবেচনা করলে উঠতে পারে বৈষম্যের প্রশ্ন।

     

  • Anthropic CEO: এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রপিক কর্তার

    Anthropic CEO: এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রপিক কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে (Anthropic CEO) নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই। তাঁর (AI Model Development) বক্তব্য, প্রযুক্তির অগ্রগতি থামানো নয়, বরং নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও প্রস্তুত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়াই এখন জরুরি।

    একটি ব্লগ পোস্টে আমোদেই জানান, মানুষের জীবনকে আমূল উন্নত করার সম্ভাবনায় বিশ্বাস করেন বলেই গত ১২ বছর ধরে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি রোগ নিরাময়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং মানুষের সুযোগের পরিসর সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    আমোদেইয়ের বক্তব্য (Anthropic CEO)

    এই বিশ্বাস তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমোদেই জানান, তাঁর বাবা এমন একটি রোগে মারা গিয়েছিলেন, যার কয়েক বছর পরেই চিকিৎসা সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে, তিনি নিজেও প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসার থেকে বেঁচে গিয়েছেন, যে রোগটি ৫০ বছর আগে হলে তাঁর চিকিৎসা করা সম্ভব হত না।

    তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনার পাশাপাশি এর ঝুঁকিও যে অত্যন্ত গুরুতর, তা স্পষ্ট করেছেন আমোদেই। এর মধ্যে রয়েছে এআই ব্যবস্থার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা, সাইবার হামলা ও জৈব সন্ত্রাসে প্রযুক্তিটির অপব্যবহার এবং অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা। তাঁর মতে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এই ঝুঁকিগুলিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

    আমোদেইয়ের এই সতর্কবার্তা এসেছে অ্যানথ্রপিকের প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সনের একাধিক সতর্কবার্তার কয়েক দিন পর। কক্সন দাবি করেছেন, “এআই সমস্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে।” তাঁর আরও বক্তব্য, “বর্তমানের সবচেয়ে উন্নত এআই তৈরি করা মানুষরা বিশ্বাস করেন, এই দশক শেষ হওয়ার আগেই এটি মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।”

    অ্যানথ্রপিক শুরু থেকেই প্রযুক্তি তৈরি এবং তার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে বলে জানান আমোদেই। তবে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে তাঁর নিজের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। তিনি লিখেছেন, “আমাদের এআই মডেলের সক্ষমতা উন্নত করার গতি কমাতেই হবে।” তাঁর মতে, গতি কমালেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি যথেষ্ট দ্রুতই থাকবে।

    এআইয়ের স্ব-উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ

    আমোদেইয়ের সতর্কতার পেছনে দু’টি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমটি হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া। বর্তমানে এআই ব্যবস্থাগুলিকে ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মের এআই মডেল তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় পুনরাবৃত্তিমূলক স্ব-উন্নয়ন।

    আমোদেইয়ের আশঙ্কা, এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এগোলে গবেষকরা এআই ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী বোঝা এবং তার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সক্ষমতার চেয়েও দ্রুত প্রযুক্তি এগিয়ে যেতে পারে।

    দ্বিতীয় উদ্বেগের বিষয়টি একটি সাম্প্রতিক ঘটনা, যেখানে অ্যানথ্রপিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ওপেন এআই ও হাগিং ফেস-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় একদল এআই এজেন্ট এমন কিছু লক্ষ্যের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল, যেগুলিতে হামলা করার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়নি। এমনকি নিজেদের কার্যক্ষমতা যাচাই করার জন্য ব্যবহৃত ব্যবস্থাতেও হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

    আমোদেই জানান, ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও সীমিত ছিল। কিন্তু আরও সক্ষম এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মাত্র ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এমন একটি স্বয়ংক্রিয় এআই বাহিনী তৈরি হতে পারে, যা বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম হবে (Anthropic CEO)।

    তিনি বলেন, “এআইয়ের সক্ষমতা যে হারে দ্রুত বাড়ছে, তাতে আমার আশঙ্কা, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এমন একটি বাহিনী স্থায়ী সাইবার-জাল তৈরি করে গোটা ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এর ফলে কয়েকশো বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। আর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া এআই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে থাকবে।”

    উন্নয়ন থামানো নয়, নিরাপত্তাকে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা

    এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এআইয়ের উন্নয়নের গতি দায়িত্বশীলভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য তিন দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আমোদেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, উন্নয়নের গতি কমানো মানে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সংস্থাগুলিকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

    তাঁর কথায়, “স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন, গতি নিয়ন্ত্রণের অর্থ মডেল প্রশিক্ষণ বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। এর অর্থ হল, সংস্থাগুলি যেন তাদের মডেলগুলিকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেয় এবং তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নকারীরা যাতে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।”

    প্রথম ধাপে অ্যানথ্রপিক নিজেই বহিরাগত মূল্যায়নকারীদের সংস্থার কর্মীদের মতো নিয়মিত প্রবেশাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে তাঁরা স্বাধীনভাবে সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে পারবেন।

    দ্বিতীয় ধাপে গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে কাজ করা এআই সংস্থাগুলিকে অভিন্ন নিরাপত্তামান তৈরির জন্য পারস্পরিক সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্প সংস্থাগুলির মাধ্যমে অথবা সরকারের সহায়তায় এই সমন্বয় করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত আইনগত বাধা, যেমন একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ, কীভাবে সামলানো যায়, তাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

    তৃতীয় ধাপে রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয়। এর আওতায় গণতান্ত্রিক দেশগুলির পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলির সঙ্গেও নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার কথা বলেছেন আমোদেই।

    সতর্কভাবে তৈরি হলেই এআইয়ের সুফল মিলবে

    সবশেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে নিজের আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছেন আমোদেই। তাঁর মতে, সঠিকভাবে প্রযুক্তিটি তৈরি করা গেলে এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপুলভাবে উন্নত করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমি এখনও বিশ্বাস করি, এআই মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপুলভাবে উন্নত করতে পারে। এই সুফল অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আমার একটুও কমেনি। কিন্তু এই সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন আমরা প্রযুক্তিটিকে সঠিকভাবে তৈরি করব। আর (AI Model Development) আমরা যে অতিরিক্ত সময় পাচ্ছি, সেটিকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রযুক্তিটিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত (Anthropic CEO)।”

     

  • Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচনে (Nandigram Bypoll) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মমতা (Mamata Banerjee) নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না বলেও জানিয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। এর মধ্যেই দলের প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েন নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে।

    শনিবার নয়াদিল্লিতে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের প্রার্থী বাছাই সম্মিলিতভাবে হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও তা ঘোষণা করা হয়নি।”

    এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না মমতা (Nandigram Bypoll)

    ঋতব্রত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না। কিন্তু উপনির্বাচনে জেতেন। আর এটা ভালো দেখায় না, তাই না যে এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এলাকায় হেরেছেন এবং নিজের বুথেও হেরেছেন?”

    তিনি ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামেও জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটান।

    এর পরেই ঋতব্রত বলেন, “আমরাও চাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় আসুন।” ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি মমতা।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরে দলের অধিকাংশ বিধায়ক দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন। দলের এই ভাঙনের জন্য তাঁরা মমতার ভাইপো তথা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। পরবর্তী সময়ে মমতার পাশ থেকে সরে যান তাঁর হাতে গড়া তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদও। যদিও বিদ্রোহী বিধায়কেরা বারবার দাবি করে এসেছেন, তাঁদের মূল আপত্তি মমতাকে নিয়ে নয়, অভিষেককে ঘিরে (Nandigram Bypoll)।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য

    বছর একাত্তরের মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে কখনও সাধারণ নির্বাচনে জেতেননি।” তিনি ২০২১ সালের নির্বাচনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে মমতা হেরে গেলেও, রাজ্যে তৃণমূল জয়ী হয় এবং মমতা মুখ্যমন্ত্রী হন। পরে ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় প্রবেশাধিকার পান মমতা।

    আখরুজ্জামান এও বলেন, “এখন যেহেতু উপনির্বাচন হচ্ছে, আমরা বলেছি, নন্দীগ্রামে আসুন। আমরা কোনও প্রার্থী দেব না। জিতে বিধানসভায় আসুন এবং উন্নয়নের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”

    নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগর আসনেও উপনির্বাচন হতে চলেছে।

    নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই এলাকায় কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মমতার নেতৃত্বে বড় আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সেই আন্দোলনের পরেই রাজ্যে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল।

    এদিকে, রেজিনগর আসনটি শূন্য হয় তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা হুমায়ুন কবিরের পদত্যাগের পর। নির্বাচনের আগে তিনি নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেছিলেন। হুমায়ুন কবির নওদা এবং রেজিনগর—দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নওদা আসনটি ধরে রাখেন এবং ছেড়ে দেন রেজিনগর আসনটি।

    এদিকে, বিজেপি জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের প্রতীকে (Mamata Banerjee) কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। যে-ই প্রার্থী হোন না কেন, উপনির্বাচনে বিজেপিই জয়ী হবে বলে দাবি করেছেন (Nandigram Bypoll) পদ্ম নেতারা।

     

  • PM Modi: ব্রিকস নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং

    PM Modi: ব্রিকস নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত অষ্টাদশ ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আসা রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সম্মানে শনিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস-সহ একাধিক বিশিষ্ট অতিথি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন (Gala Dinner)।

    নৈশভোজের আসরে রাষ্ট্রনেতারা (PM Modi)

    নৈশভোজে যোগ দিতে প্রথমে ভারত মণ্ডপমে পৌঁছন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর সেখানে আসেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

    ভারতের সভাপতিত্বে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রতিনিধি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানাতেই এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং অর্জুন রাম মেঘওয়াল, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ একাধিক মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে বাসে করে ভারত মণ্ডপমে পৌঁছন। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, শিবরাজ সিং চৌহান ও কিরেন রিজিজু-সহ অন্য মন্ত্রীরা অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা দেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও অন্যান্য মন্ত্রীর সঙ্গে ভারত মণ্ডপমের উদ্দেশে রওনা দেন।

    নৈশভোজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন

    নৈশভোজ উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “নবরস—অভিন্ন অনুভূতির মহাবিশ্ব” পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি ছিল ব্রিকসের বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান “এক ছন্দ, বহু সংস্কৃতি”। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির শিল্পীরা যৌথভাবে এই সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

    বিভিন্ন দেশের সঙ্গীত ঐতিহ্যকে একত্রিত করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল ব্রিকস পরিবারের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক ঐক্যের ভাবনাকে তুলে ধরা।

    এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ব্রিকসের নেতারা সর্বসম্মতভাবে ২০২৬ সালের নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করেন। এই ঘোষণায় বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলির আরও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বের দাবি জানানো হয়েছে।

    মোদি-জিনপিং বৈঠক

    শনিবার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারত-চিন সম্পর্ককে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জিনপিং।

    জিনপিং বলেন, “দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে এসেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “দুই দেশ একে অপরের থেকে ভিন্ন হলেও অভিন্ন উন্নয়ন অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা ও সাহায্য করতে পেরেছি।”

    নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে চিনা প্রেসিডেন্ট বলেন, “নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে এবং আপনার সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভারতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যের জন্য আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

    তিনি জানান, ১২ বছরের মধ্যে এটি তাঁর দ্বিতীয় নয়াদিল্লি সফর। এই সময়ে দুই দেশের দুই নেতা ২০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ করেছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

    বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত ও চিনের অভিন্ন দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন জিনপিং। তিনি বলেন, “দুই দেশ ভিন্ন হলেও অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা ও সাহায্য করতে পেরেছি। চিন ও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের অংশ। মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কারণে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। মানুষের স্বার্থকে ভিত্তি করে উচ্চমানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে এবং আরও ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উন্মুক্ত ও অর্থনৈতিকভাবে সংযুক্ত বিশ্বের জন্য কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।”

    কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মোদির

    ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে চিনের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    তিনি বলেন, “আপনাকে আন্তরিক স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ব্রিকস সম্মেলনে আপনার ইতিবাচক বক্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে চিনের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

    মোদি আরও বলেন, “এখন আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। আবারও আপনাকে ভারতে আন্তরিক স্বাগত জানাই।”

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

    ভারত-চিন বৈঠকের আগে ব্রিকস দেশগুলি সর্বসম্মতভাবে নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে সর্বোচ্চ সংযম দেখানো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামো রক্ষার ওপর জোর দিয়ে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা অসামরিক পরিকাঠামো এবং শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় হামলা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সশস্ত্র সংঘাতের সময়ও পরমাণু নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা যাতে সম্পূর্ণ ও বাধাহীনভাবে পৌঁছতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    আগামী বছর ব্রিকসের দায়িত্ব চিনের

    জিনপিং ঘোষণা করেন, আগামী বছর চিন ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং (PM Modi) উনিশতম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে।

    চিনের মুখপাত্র মাও নিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, জিনপিং বলেন, “চিন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঐকমত্য তৈরি করবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে।”

    তিনি আরও (BRICS) বলেন, “আমরা একসঙ্গে ব্রিকস সহযোগিতার তৃতীয় স্বর্ণযুগের সূচনা করব।”

    উল্লেখ্য, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর (Gala Dinner) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারতের সভাপতিত্বে এবারের সম্মেলনের মূল ভাবনা হল “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ” (PM Modi)।

     

     

  • PM Modi: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের ১০ প্রস্তাব মোদির, ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’ হোক গ্লোবাল সাউথ

    PM Modi: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের ১০ প্রস্তাব মোদির, ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’ হোক গ্লোবাল সাউথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে ১০টি প্রস্তাব প্রণয়নের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব শাসন ও শক্তিশালীকরণ’ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে ব্রিকসের (BRICS 2026) সদস্য দেশগুলি এই প্রস্তাবগুলিকে একটি সংস্কার রূপরেখায় পরিণত করতে পারে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথকে ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’য় রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি।

    সামনের সারিতে গ্লোবাল সাউথ (PM Modi)

    মোদি বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংকটের সম্মুখভাগে রয়েছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান এখনও পিছনের সারিতে। তাঁর কথায়, “গ্লোবাল সাউথ আজ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সামনের সারিতে রয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছনের সারিতে। আমাদের এই ‘সুবিধাভোগের পিরামিড’কে ‘অংশীদারির মঞ্চে’ রূপান্তর করতে হবে, যেখানে প্রতিটি দেশের কণ্ঠস্বর থাকবে, প্রতিটি সদস্যের অংশীদারি থাকবে এবং মানব উন্নয়ন প্রতিটি প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।”

    তিনি আরও বলেন, “এই লক্ষ্যেই আমি প্রস্তাব করছি, আমরা যৌথভাবে বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ১০টি প্রস্তাব তৈরি করি। আগামী শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে এগুলিকে ব্রিকসের সংস্কার রূপরেখায় পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”

    প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত সংস্কার রূপরেখায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত—প্রতিনিধিত্ব, সাড়াদানের সক্ষমতা এবং নিয়ম প্রণয়ন।

    প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন মোদি। তিনি বলেন, লিখিত প্রস্তাবভিত্তিক আলোচনা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সুস্পষ্ট ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

    আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভোটাধিকার, নেতৃত্বের পদ এবং নীতিগত অগ্রাধিকারও বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানো উচিত বলে জানান তিনি। মোদির কথায়, “যে দেশগুলি বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশ্ব অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাদের উপযুক্ত ভূমিকা থাকা উচিত।”

    সাড়াদানের সক্ষমতার প্রসঙ্গে মোদি বলেন, বিশ্ব প্রতিষ্ঠানগুলি তখনই মানবজাতির আস্থা অর্জন করতে পারবে, যখন তারা বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে সক্ষম হবে। তিনি (PM Modi) বলেন, “আমাদের সম্মিলিত সাড়ার গতি, ব্যাপ্তি এবং শেষ প্রান্তে তার প্রভাবের দিকে নজর দিতে হবে।”

    সমুদ্রযাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান

    বিশ্ব বাণিজ্যে সমুদ্রযাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে একটি জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এবং দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। এর মাধ্যমে বিপদসংকেত পাঠানো, চিকিৎসা সহায়তা, পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

    বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়মকানুন তৈরির ক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার পরিসর, মহাকাশ, জৈবপ্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলি শুধু ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করছে না, ভবিষ্যতের নিয়মকানুনও নির্ধারণ করছে।

    মোদি বলেন, “গ্লোবাল সাউথকে নিয়মগ্রহীতা থেকে নিয়মপ্রণেতায় রূপান্তর করার জন্য আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।”

    তিনি আরও জানান, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির তরুণ কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের আলোচনার দক্ষতা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং আইনি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারে ব্রিকস।

    ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রসংঘের নির্ধারিত দিন হওয়ায় এই দিনেই বিশ্ব দক্ষিণকে কেন্দ্র করে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। তিনি বলেন, “এই বিষয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত।”

    ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ভারত। ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হল—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ। উন্নয়ন, স্থায়িত্ব এবং উদ্ভাবনকে এবারের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে রাখা হয়েছে।

    প্রধান উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিকস ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ-সহ একাধিক বিষয় ব্রিকসের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।

    বর্তমানে ব্রিকস (BRICS 2026) গোষ্ঠীতে ১১টি দেশ রয়েছে। দেশগুলি হল—ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।

     

  • 80s Style AI Photo: ৮০-এর দশকের AI ছবি সাময়িক, কিন্তু আপনার আসল ছবি কোথায় থাকে?

    80s Style AI Photo: ৮০-এর দশকের AI ছবি সাময়িক, কিন্তু আপনার আসল ছবি কোথায় থাকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : সামাজিক মাধ্যমে ফের জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ’৮০-এর দশকের নস্টালজিক লুকে (80s Style AI Photo) এআই-নির্মিত ছবি। নিজের বর্তমান ছবি আপলোড করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিজেকে পুরনো সময়ের পোশাক, চুলের স্টাইল বা ভিনটেজ গাড়ির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এর আগে ‘ঘিবলিফাই’-এর মতো এআই-নির্ভর ছবির ট্রেন্ডও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের ছবি তৈরির সময় ব্যবহারকারীরা যে ব্যক্তিগত তথ্য এআই প্ল্যাটফর্মের হাতে তুলে দিচ্ছেন, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এনিয়ে চিন্তাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ছবি শুধু একটি ছবি নয়—এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে একাধিক তথ্য।

    ছবির সঙ্গে যায় আরও অনেক তথ্য

    স্মার্টফোনে থাকা ছবিতে কখন সেটি তোলা হয়েছে, কোন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোনও ক্ষেত্রে কোথায় ছবি তোলা হয়েছে—এ ধরনের মেটাডেটা থাকতে পারে। আর কোনও ছবিতে ব্যক্তির মুখ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা গেলে সেটি ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি আবু ধাবির সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা পপার-বলেছেন, এআই সিস্টেমে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি একাধিক স্তরে ঘটতে পারে। ব্যবহারকারী কী লিখছেন এবং কী ছবি বা ফাইল আপলোড করছেন, তার পাশাপাশি সেশন-সংক্রান্ত তথ্য, যেমন আইপি ঠিকানা ও ডিভাইসের ধরনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংরক্ষিত হতে পারে। সেই সঙ্গে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ থেকে কিছু তথ্য অনুমান করাও সম্ভব। ফলে কোনও জনপ্রিয় ট্রেন্ডে অংশ নিতে একটি ছবি আপলোড করলেও ব্যবহারকারী অজান্তেই ছবির বাইরের আরও কিছু তথ্য এআই পরিষেবার কাছে তুলে দিতে পারেন।

    মূল ছবি থেকে যেতে পারে

    এআই দিয়ে তৈরি ’৮০-এর দশকের ছবিটি হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমের ফিড থেকে হারিয়ে যাবে। কিন্তু সেই ছবি তৈরির জন্য আপলোড করা মূল ছবিটি কতদিন এআই সংস্থার সার্ভারে থাকবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য সংরক্ষণ নীতির ওপর। বিভিন্ন এআই পরিষেবার তথ্য সংরক্ষণের সময়সীমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি-তে চ্যাট ব্যবহারকারী নিজে মুছে না দেওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ওপেন এআই-এর সার্ভারে তা ৩০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা করে দেওয়া তথ্য আরও দীর্ঘ সময় থাকতে পারে। জেমিনাই-এর ক্ষেত্রে চ্যাট ডেটা ডিফল্টভাবে ১৮ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের কথা রয়েছে। ক্লড-এ মুছে দেওয়া চ্যাট সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে অ্যানথ্রোপিক-এর ব্যাক-এন্ড থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। তবে ব্যবহারকারী যদি নিজের চ্যাটকে মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকেন, তাহলে পরিচয়বিহীন কপি দীর্ঘ সময়—সর্বোচ্চ পাঁচ বছর—সংরক্ষিত থাকতে পারে।

    এর অর্থ ছবি ফাঁস হবেই, এমন নয়

    তবে কোনও এআই প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার অর্থ এই নয় যে সেই ছবি অবশ্যই ফাঁস হবে বা অপব্যবহার করা হবে। মূল বিষয়টি হল, ব্যবহারকারীর মুখের আরেকটি ডিজিটাল কপি তখন সংশ্লিষ্ট এআই সংস্থার সার্ভারে রয়েছে এবং সেটি সংস্থার তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতির আওতায় চলে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্যবহারকারী কী ধরনের ছবি আপলোড করছেন এবং কী বিষয়ে এআই-কে প্রশ্ন করছেন—এই তথ্যের ধারাবাহিকতা থেকে তার অভ্যাস, আগ্রহ বা পেশা সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হতে পারে। নাম বা সরাসরি পরিচয় না থাকলেও এই ধরনের তথ্যের সমন্বয়ে একজন ব্যবহারকারীর একটি বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এআই পরিষেবাগুলো এখন ই-মেল, কেনাকাটা, ছবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে ক্রমশ বেশি যুক্ত হচ্ছে। ফলে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে থাকা ব্যক্তিগত তথ্যের গুরুত্বও বাড়ছে।

    কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এআই ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে—

    পরিচয়পত্র বা অত্যন্ত ব্যক্তিগত নথির ছবি এআই চ্যাটবটে আপলোড না করা।
    শিশু বা অন্য ব্যক্তির ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া আপলোড না করা।
    যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে এআই মডেল প্রশিক্ষণে নিজের ডেটা ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ রাখা।
    সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে সাময়িক বা প্রাইভেট চ্যাটের সুবিধা ব্যবহার করা।
    প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে পুরনো চ্যাট ও আপলোড করা ফাইল মুছে ফেলা।
    কোনও এআই অ্যাপে ছবি আপলোড করার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ডেটা ব্যবহারের নীতি ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম দেখে নেওয়া।

    এআই চ্যাটবটকে অন্যান্য বহুল ব্যবহৃত অ্যাপের তুলনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি বিপজ্জনক বলা যায় না। তবে ব্যবহারকারীদের মনে রাখা জরুরি—এআই পরিষেবায় আপলোড করা তথ্য ব্যক্তিগত হলেও তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিবেশে থাকে না। তাই শুধুমাত্র কয়েক সেকেন্ডের মজার ছবি তৈরির জন্য ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করাই নিরাপদ।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share