Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Congress MLA Vinay Vulkarni: খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত, বিধায়ক পদ খোয়ালেন কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা বিনয় কুলকার্নি

    Congress MLA Vinay Vulkarni: খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত, বিধায়ক পদ খোয়ালেন কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা বিনয় কুলকার্নি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খুনের মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিধানসভার সদস্যপদ হারালেন কর্নাটকের (Karnataka) প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা তথা বিধায়ক বিনয় কুলকার্নি (Congress MLA Vinay Vulkarni)। ভারতীয় সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করার নির্দেশ জারি করেছে বিধানসভা সচিবালয়।

    ঘটনার বিবরণ ও আদালতের রায় (Congress MLA Vinay Vulkarni)

    ধারওয়াড় জেলা (Karnataka) পঞ্চায়েত সদস্য যোগেশ গৌড়া খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন বিনয় কুলকার্নি (Congress MLA Vinay Vulkarni)। ২০১৬ সালে একটি জিম থেকে বেরোনোর সময় যোগেশ গৌড়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর বিশেষ আদালত বিনয় কুলকার্নিকে এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1951) অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক দুবছর বা তার বেশি মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি অবিলম্বে তাঁর পদের যোগ্যতা হারান। সেই আইনি প্রক্রিয়া মেনেই কুলকার্নির সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

    ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকেই এই পদচ্যুতি কার্যকর

    বিনয় কুলকার্নি (Congress MLA Vinay Vulkarni) কর্নাটকের ধারওয়াড় বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধি ছিলেন। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর এই অপসারণ কর্নাটক (Karnataka) কংগ্রেসের পক্ষে একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে লিঙ্গায়েত ভোটব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

    কর্নাটক বিধানসভা থেকে বিনয়কে পদচ্যুত করা হয়েছে। ২ মে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ভারতীয় সংবিধান এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তারিখ অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকেই এই পদচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে ধরওয়াড় বিধানসভা আসনটি বর্তমানে শূন্য হয়ে পড়েছে।

    পরবর্তী পদক্ষেপ

    নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই ধারওয়াড় আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে। তবে কুলকার্নির (Congress MLA Vinay Vulkarni) আইনজীবীরা এই রায়কে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উচ্চ আদালত যদি নিম্ন আদালতের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়, তবেই তাঁর সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকবে।

  • West Bengal Elections 2026: ইভিএম সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ, রাজ্যজুড়ে স্ট্রংরুম পাহারায় নামছেন মহিলা-পদ্ম কর্মীরা, জানালেন শমীক ভট্টাচার্য

    West Bengal Elections 2026: ইভিএম সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ, রাজ্যজুড়ে স্ট্রংরুম পাহারায় নামছেন মহিলা-পদ্ম কর্মীরা, জানালেন শমীক ভট্টাচার্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট গণনা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ইভিএমের (West Bengal Elections 2026) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে বিজেপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রংরুমের সামনে অবস্থানে বসছেন বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীরা। লক্ষ্য, গণনার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত ইভিএমের সুরক্ষা তদারকি করা।

    বাইরে অতন্দ্র প্রহরী (West Bengal Elections 2026)

    বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান চলবে সোমবার সকাল পর্যন্ত। যতক্ষণ না দলের প্রার্থীদের কাউন্টিং এজেন্টরা গণনা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করছেন, ততক্ষণ মহিলা কর্মীরা স্ট্রংরুমের (West Bengal Elections 2026) বাইরে অতন্দ্র প্রহরীর মতো অবস্থান করবেন। প্রতিটি জেলার নেতৃত্বকে এই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কমিশনকে (Election Commission India) সময়ে সময়ে অভাব অভিযোগ জানাবেন মহিলা কর্মকর্তারা।

    ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’

    সম্প্রতি কলকাতার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রংরুম— ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’ এবং সিসিটিভি মনিটর বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কিছু অভিযোগ সামনে আসে। শাসক ও বিরোধী (West Bengal Elections 2026)— উভয় পক্ষই এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার রেশ টেনেই বিজেপি এবার তাদের মহিলা বাহিনীকে স্ট্রংরুম পাহারার গুরুদায়িত্ব দিয়েছে।

    তৃণমূল ও কমিশনের ভূমিকা

    এর আগে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজাও ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানে বসেছিলেন। তবে কমিশনের (Election Commission India) পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তাঁরা সেই অবস্থান তুলে নেন। এবার বিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ত্রিস্তরীয় বলয়ে মোড়া এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সর্বেক্ষণ নজরদারি (West Bengal Elections 2026) চালানো হচ্ছে।

  • Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    সুশান্ত দাস

    ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল এফ-৪ (Rafale F4) বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনায় এখন এক বিরাট কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে। শুরুতে এটি ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অন্যতম বড় সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত কিন্তু কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল বিষয়— ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট (ICD) এবং সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষামন্ত্রকের স্পষ্ট অবস্থান— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”—প্রমাণ করছে যে আজকের ভারত আর শুধুমাত্র উন্নত প্ল্যাটফর্ম কেনায় আগ্রহী নয়। বরং যুদ্ধক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে চাইছে।

    কেন রাফাল এফ-৪ চুক্তি ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতীয় বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরেই স্কোয়াড্রন ঘাটতি-র সমস্যায় ভুগছে। চিন ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী সামরিক চাপের মধ্যে দ্রুত আধুনিকীকরণ ভারতের জন্য জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে ১১৪টি রাফাল এফ-৪ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে—

    • ● বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো
    • ● উচ্চমানের বহুমুখী যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা
    • ● দেশীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে মেক ইন ইন্ডিয়া-কে এগিয়ে নেওয়া

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী—

    • ● ১৮টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে সরাসরি সরবরাহ করা হবে।
    • ● ৬০ শতাংশ প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ৯৬টি বিমান ভারতে তৈরি
    • ● রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হ্যাল (HAL), টাটা (Tata) ও ফরাসি ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী সংস্থা সাফরান (Safran)-এর শিল্প অংশীদারিত্ব
    • ● ভারতে নির্মিত জেটগুলিতে ৫০-৬০% দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হবে।
    • ● এটি সফল হলে ভারতীয় বিমান ও মহাকাশ শিল্পব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হত।

    মূল বিরোধ: ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট বা আইসিডি হস্তান্তর (ICD)

    এমআরএফএ চুক্তি আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিমানের সোর্স কোড। এই সোর্স কোড হল যে কোনও যুদ্ধবিমানের মস্তিষ্ক। তবে, ফ্রান্স প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল যে সোর্স কোড তারা কখনই হস্তান্তর করবে না। ভারত তা মেনে নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব পেশ করে। আলোচনার সময় নয়াদিল্লির তরফে বলা হয়, সোর্স কোড দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু, রাফালের আইসিডি অ্যাক্সেস দেওয়া হোক। আইসিডি মূলত একটি প্রযুক্তিগত নকশাপত্র, যা নির্ধারণ করে—

    • ● অস্ত্র সংযোজন কাঠামো
    • ● সেন্সর যোগাযোগ ব্যবস্থা
    • ● মিশন কম্পিউটার সংযোগব্যবস্থা
    • ● এভিওনিক্স তথ্য প্রবাহ

    ভারত আইসিডি চায় কারণ এটি ছাড়া দেশীয় অস্ত্র স্বাধীনভাবে সংযোজন করা সম্ভব নয়। ভারত যে দেশীয় সিস্টেমগুলি সংযোজন করতে চায়—

    • ● অ্যাস্ট্রা (Astra) দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● রুদ্রম (Rudram) অ্যান্টি-রেডিয়েশন ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● স্মার্ট অ্যান্টি-এয়ারফিল্ড অস্ত্র (SAAW)
    • ● ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG)
    • ● দেশীয় ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা
    • ● ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেশীয় বীরূপাক্ষ রেডার (Virupaksha Radar)

    ভারত জানে যে, আইসিডি না থাকলে প্রতিটি সংযোজনের জন্য রাফালের নির্মাণকারী সংস্থা দাসোর অনুমোদন লাগবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতের একাধিক সমস্যা হবে। যেমন—

    • ● অভিযানগত বিলম্ব হবে।
    • ● পুনরাবৃত্ত ব্যয় বৃদ্ধি হবে।
    • ● সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা বাড়বে।
    • ● যুদ্ধকালীন ঝুঁকি থেকে যাবে।

    সব মিলিয়ে, ভারতের কাছে এটি শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, এটি যুদ্ধক্ষেত্রের সার্বভৌমত্ব-র প্রশ্ন।

    কেন ফ্রান্স প্রযুক্তিতে আপস করতে চাইছে না?

    কিন্তু এক্ষেত্রেও ফ্রান্স বেঁকে বসে। ফ্রান্সের অনীহার মূলত তিনটি কারণ হল—

    প্রথমত, স্পেকট্রা (SPECTRA) ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার গোপনীয়তা হ্রাস পেতে পারে। রাফালের সবচেয়ে সংবেদনশীল সক্ষমতা হল স্পেক্ট্রা। এটি নিয়ন্ত্রণ করে—

    • ● হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা
    • ● রেডার সতর্কীকরণ ব্যবস্থা
    • ● জ্যামিং ব্যবস্থা
    • ● প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
    • ● টিকে থাকার অ্যালগরিদম ব্যবস্থা

    ফ্রান্স মনে করে, এই জায়গায় প্রবেশাধিকার দিলে—

    • ● নিজস্ব মেধাস্বত্ব ফাঁস হতে পারে।
    • ● যুদ্ধনীতি প্রকাশ পেতে পারে।

    দ্বিতীয়ত, অনভিপ্রেত রফতানির নজির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অর্থাৎ, ভারতকে যদি বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্রেতারাও একই দাবি তুলতে পারে। এতে ফরাসি রপ্তানি মডেল দুর্বল হতে পারে।

    তৃতীয়ত, রুশ প্রযুক্তি ফাঁসের আশঙ্কা বাড়তে পারে। ভারত ব্রহ্মোস সংযোজন করতে চায়, যা ভারত-রাশিয়া যৌথ ব্যবস্থার অংশ। ফ্রান্স আশঙ্কা করছে, এর মাধ্যমে পশ্চিমা প্রযুক্তি পরোক্ষভাবে রুশ প্রকৌশল নেটওয়ার্কে পৌঁছাতে পারে।

    ভারতের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

    ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয়নীতি স্পষ্টভাবে বদলেছে। আগে দেশের লক্ষ্য ছিল— কেবলমাত্র উন্নত বিদেশি প্ল্যাটফর্ম (সামরিক অস্ত্র, সামরিক যান) কেনা। কিন্তু, ২০২৬ সালে ভারতের লক্ষ্য হল—

    • ● সার্বভৌম জীবনচক্র নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন ও আপগ্রেড ক্ষমতা
    • ● স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ শিল্পব্যবস্থা

    ভারত বুঝেছে, আমদানিকৃত প্ল্যাটফর্ম তখনই কৌশলগত সম্পদ যখন—

    • ● সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ থাকে
    • ● অস্ত্র সংযোজন স্বাধীন হয়
    • ● বিদেশি অনুমোদন-নির্ভরতা না থাকে

    ২০১৬ সালের ৩৬টা রাফাল চুক্তি থেকে ভারতের শিক্ষা হয়েছে যে, সীমিত প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকৃত কৌশলগত স্বনির্ভরতা দেয় না। ফলে নয়াদিল্লি এখন শুধু সংযোজন লাইন নয়, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব চাইছে। তবে, ভারতের এই দাবিও খারিজ করে ফ্রান্স। যার পরেই, ভারতের তরফে ফ্রান্স ও দাসোকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”।

    চুক্তি ভেস্তে গেলে কী হতে পারে?

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাফাল চুক্তি না হলে ভারত কী করবে? এক্ষেত্রে ভারতের হাতে যে যে বিকল্প থাকবে, সেগুলি হল—

    প্রথমত, তেজস মার্ক ২ (Tejas Mk2) যুদ্ধবিমানের গতি বৃদ্ধি করতে পারে। রাফাল চুক্তি ভেঙে গেলে তেজস মার্ক ২-তে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন বাড়বে। এতে সুবিধা হবে—

    • ● পূর্ণ সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ
    • ● দেশীয় সংযোজন
    • ● জীবনচক্র সার্বভৌমত্ব

    অসুবিধাও আছে। যেগুলি হল—

    • ● উন্নয়নে বিলম্ব
    • ● সক্ষমতা পরিপক্বতার ঝুঁকি

    দ্বিতীয়ত, ভারত অ্যামকা (AMCA) কর্মসূচির গতি বৃদ্ধি করতে পারে। অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA) ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম যুদ্ধবিমান প্রকল্প। রাফাল ব্যর্থ হলে অ্যামকা আরও কৌশলগত অগ্রাধিকার পাবে।

    তৃতীয়ত, রাশিয়া বিকল্প হিসেবে ফিরে আসা। রাশিয়ার প্রস্তাবিত সুখোই সু-৫৭ই (Su-57E) নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

    রাশিয়ার সুবিধা—

    • ● গভীরতর প্রযুক্তি হস্তান্তর
    • ● স্থানীয় উৎপাদনে নমনীয়তা

    ঝুঁকি—

    • ● মার্কিন ক্যাটসা (CAATSA) নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি
    • ● রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা
    • ● ভূরাজনৈতিক বার্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ

    ফ্রান্সের জন্য চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি কত বড়?

    অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে রাফাল চুক্তি বাতিল হলে, বড় সমস্যায় পড়ে যাবে ফ্রান্স। ফ্রান্সের কাছে এই চুক্তি শুধু রাজস্বের বিষয় নয়। ১১৪টি বিমানের অর্ডার মানে—

    • ● দাসো-র উৎপাদন ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে।
    • ● সরবরাহকারী শিল্পব্যবস্থার স্থায়িত্ব কমবে।
    • ● ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত উপস্থিতি হ্রাস পাবে ফ্রান্সের
    • ● ১৮ থেকে ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খোয়াবে ফ্রান্স, যা সেদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে।
    • ● ভবিষ্যতে, ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক অংশিদারিত্বে যেতে চাইবে না অন্যান্য দেশ।

    ফ্রান্স ভালোই জানে যে, চুক্তি হারালে দেশের রফতানি বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একইসঙ্গে, উৎপাদন লাইনে চাপ বাড়বে। তা সত্ত্বেও কিন্তু প্যারিস সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বে আপস করতেও অনিচ্ছুক। ফলে ফ্রান্স একটি ধন্দে পড়ে গিয়েছে। একদিকে, প্রযুক্তি সুরক্ষা অন্যদিকে রফতানি টিকিয়ে রাখা। কয়েক দিন আগে, রাফাল এফ-৫ কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সেখানেও কারণ একই। প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিরোধ, বিশেষ করে অপট্রনিক্সের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে। যা ইতিমধ্যেই ফরাসি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করেছে। এবার একই ধরনের পরিস্থিতি এখন ভারতের ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আমিরশাহি এবং ভারতের ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ করে অন্যান্য দেশও নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভবিষ্যতে ফ্রান্সের সঙ্গে অনুরূপ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আগে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তিগত প্রবেশাধিকার ও নিশ্চয়তা দাবি করতে পারে।

    বৃহত্তর কৌশলগত তাৎপর্য

    ভারত-ফ্রান্সের এই বিরোধ দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের অস্ত্রচুক্তি আর শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার ক্রয় নয়। নতুন যুগের সামরিক শক্তি নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। যেমন—

    • ● সফটওয়্যার মালিকানা
    • ● ডিজিটাল স্থাপত্য নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন সক্ষমতা
    • ● ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন

    ভারত এই আলোচনার মাধ্যমে একটি বড় বার্তা দিচ্ছে। তা হল— “ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ছাড়া স্থানীয় সংযোজন প্রকৃত দেশীয়করণ নয়।” ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি আর শুধুমাত্র একটি প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন। অস্ত্র সংযোজন এবং সফটওয়্যারের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, সবচেয়ে উন্নত প্ল্যাটফর্মও সক্ষমতার পরিবর্তে নির্ভরশীলতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি শুধু রাফাল চুক্তি নয়, ভবিষ্যতের পশ্চিমি প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের জন্যও একটি মানদণ্ড।

    টার্নিং পয়েন্ট…

    রাফাল এফ-৪ আলোচনা ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের একটি টার্নিং পয়েন্ট। ভারত এখন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, উন্নত প্ল্যাটফর্ম ক্রয়ের চেয়ে অভিযানগত সার্বভৌমত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স মূল প্রযুক্তি সুরক্ষিত রাখতে চায়, আর ভারত বিদেশি-নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ স্থাপত্য মেনে নিতে রাজি নয়। ফলে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর। তা হল— ফ্রান্স কি ভারতকে যথেষ্ট ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ দিতে প্রস্তুত, নাকি সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিশ্বের অন্যতম বড় যুদ্ধবিমান চুক্তি ভেস্তে যাবে? বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে—এই আলোচনা শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়, বরং একবিংশ শতকের প্রতিরক্ষা শিল্পে সার্বভৌমত্ব বনাম নির্ভরতার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে।

  • India Bangladesh Relation: ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বরফ গলছে, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ভিসা পরিষেবা

    India Bangladesh Relation: ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে বরফ গলছে, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ভিসা পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর আবারও সম্পর্কের উন্নতির পথে হাঁটছে ভারত ও বাংলাদেশ (India Bangladesh Relation)। মহম্মদ ইউনূসের পরবর্তী জমানায় ঢাকায় নতুন সরকারের গঠন ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দুই দেশ ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের স্বার্থে সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করেছে। অন্যদিকে, ভারত সরকারও ধাপে ধাপে তাদের ভিসা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতীয়দের জন্য ভিসা পরিষেবা পুরোপুরি চালু

    বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের ভিসা সেন্টারগুলো এখন পুরোপুরি কার্যকর। বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ (Riaz Hamidullah) জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বর মাসে যে পরিষেবাগুলি বন্ধ হয়েছিল, সেগুলি ফেব্রুয়ারি থেকেই ধাপে ধাপে চালু হয়েছে। গত দুই মাসেই ১৩ হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিককে পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা এবং পারিবারিক কারণে ভিসা দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন থেকে ফের ভারতীয় নাগরিকেরা বাংলাদেশের ভিসা পাবেন। ভিসা ও দূতাবাস সংক্রান্ত (কনস্যুলার) অন্যান্য সুযোগসুবিধা ভারতীয়দের জন্য ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা।

    ভেবেচিন্তে এগোচ্ছে ভারতও

    বাংলাদেশ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলেও ভারত এখনও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ বর্তমানে আগের তুলনায় মাত্র ১৫–২০ শতাংশ হারে চলছে। জরুরি ও চিকিৎসাজনিত আবেদনগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের সফরে এসে ভিসা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman)। এর কিছুদিন পরই ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি (Vikram Misri) ঢাকায় যান। তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভিসা পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এছাড়া নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর (Dinesh Trivedi) নিয়োগ এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে নানাবিধ অশান্তির প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের ভিসা পরিষেবায় কড়াকড়ি করেছিল। কেবল চিকিৎসার প্রয়োজন এবং ‘ডবল-এন্ট্রি’ ছাড়া বাকি সব ধরনের ভিসা পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল অনির্দিষ্ট কালের জন্য। তবে এ বার সেই পরিষেবাও চালু হচ্ছে। সে দেশে অবস্থিত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন, ভিসা পরিষেবা চালু করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

    ফের পর্যটনে সাড়া

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম বড় বিদেশি পর্যটক উৎস। ২০২৩ সালে প্রায় ২১.২ লক্ষ বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়ায় ১৭.৫ লক্ষে। তবে ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংখ্যা তীব্রভাবে নেমে আসে প্রায় ৪.৭ লক্ষে। চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো শহরে ভারতীয় মিশনের সামনে বিক্ষোভের জেরে পরিষেবা কমানো হয়েছিল। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভিসা পরিষেবা সহজ করা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রথম ধাপ। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিচ্ছে দুই দেশ। সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সময় বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত ডিজেল সরবরাহ করেছে। সব মিলিয়ে, নয়াদিল্লি ও ঢাকা—দুই পক্ষই সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

  • Islamabad: পরপর খতম ৩ জঙ্গি! পাকভূমে ‘অজ্ঞাত হামলা’য় মৃত কাশ্মীরে বহু সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড সাজ্জাদ

    Islamabad: পরপর খতম ৩ জঙ্গি! পাকভূমে ‘অজ্ঞাত হামলা’য় মৃত কাশ্মীরে বহু সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড সাজ্জাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) ফের সক্রিয় অজ্ঞাত হামলাকারীদের রহস্যময় নেটওয়ার্ক। রহস্যমৃত্যু আরও এক ভারতশত্রুর। দিল্লির হিট লিস্টে থাকা হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি সাজ্জাদ আহমেদের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কোনও অজ্ঞাত আততায়ীর হামলায় মৃত্যু হয়েছে এই জঙ্গির। জানা যাচ্ছে, কাশ্মীরি এই জঙ্গি উপত্যকায় একাধিক সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড। তার মৃত্যু পাকিস্তানে সক্রিয় ভারত-বিরোধী নেটওয়ার্কের জন্য বিরাট ধাক্কা।

    অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা

    সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক টার্গেটেড হামলায় লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের হত্যা করা হচ্ছে। এবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে, অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন হিজবুল মুজাহিদিনের এক কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদ। এ নিয়ে পাকিস্তানের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন মৃত্যুর (Death) কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর। অনেকে মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে অভ্যন্তরীণ কোনও সংঘাত। সাজ্জাদের প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গিয়েছে, সাজ্জাদ আদতে কাশ্মীরের বাসিন্দা ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত ছিল। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, আততায়ীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    কে এই সাজ্জাদ

    সাজ্জাদ আহমেদ কাশ্মীরের বারামুলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ১৯৯৭ সালে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে আসে সাজ্জাদ। এরপর ধীরে ধীরে হিজবুল মুজাহিদিনে সক্রিয় হয়ে ওঠে। বলা হচ্ছে, বর্তমানে সে সংগঠনে কমান্ডার স্তরের দায়িত্বে ছিল। কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে যায় সাজ্জাদ। সেখানে বসেই ভারতীয় বিরোধী সন্ত্রাসী কার্যকলাপে নামে। সূত্রের খবর, জম্মু ও কাশ্মীর-সহ ভারতের নানা প্রান্তে জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র ও তা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা ছিল এই জঙ্গির। দেশের গোয়েন্দা বিভাগের হিট লিস্টে দীর্ঘদিন ধরে নাম ছিল এই জঙ্গির। ভারতে সন্ত্রাসী হামলাগুলির অন্যতম অপারেটর হিসেবে গণ্য করা হত এই জঙ্গিকে। তার মৃত্যু দেশের নিরাপত্তা বিভাগের জন্য নিশ্চিতভাবে স্বস্তির।

    ভারত-বিরোধীদের মৃত্যু

    সাম্প্রতিক সময়ে পাকভূমে অজ্ঞাত বন্দুকবাজের হামলায় মৃত্যু হয়েছে একাধিক ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসীর। আড়ালে থাকা এই হামলাকারীদের হিরো হিসেবে গণ্য করছে ভারতের জনগণ। সাজ্জাদের হত্যাও এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন গত কয়েকদিনে পাকিস্তানে বেশ কয়েকজন বড় জঙ্গি নেতা রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গিয়েছে।

    শেখ ইউসুফ আফ্রিদির হত্যা: সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অজ্ঞাত হামলায় মৃত্যু হয়েছিল লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদির। জানা যায়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে লস্করের সংগঠনের প্রধান ছিল আফ্রিদি। মূলত এখান থেকে মুজাহিদদের (আত্মঘাতী জঙ্গি) প্রশিক্ষণ দিয়ে কাশ্মীর-সহ অন্যান্য জায়গায় পাঠানোর দায়িত্ব ছিল এর উপরেই। বহুবার হাফিজ সইদের সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা এই আফ্রিদিকে।

    সালমান আজহারের মৃত্যু: দু’দিন আগে জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ কমান্ডারদের মধ্যে অন্যতম সালমান আজহারের মৃত্যুও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। সালমান আজহারকে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হত। তাকে বাহাওয়ালপুরের সুবহানআল্লাহ মরকজে কবর দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৯ সাল থেকে চলছে রহস্যজনক হত্যার ধারা

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালের পর থেকে পাকিস্তানে টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে অনেক জঙ্গিকে নিশানা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি জঙ্গি অজ্ঞাত আততায়ীদের হাতে মারা গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ঘটনাগুলি নিয়ে পাকিস্তান সরকার বা তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে খুব কমই সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্তের অবস্থাও স্পষ্ট নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানে লস্কর এবং জইশের মতো সংগঠনের হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের পঞ্জাব, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এলাকায় অনেক ট্রেনিং ক্যাম্প সক্রিয় রয়েছে, যেখানে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আসলে পাকিস্তানে হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। তাদের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত হলে আরও সমস্যায় পড়তে পারে পাক সরকার। তাই পুরোটাই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা হয়।

  • Assembly Election 2026: ভোট গণনা নিয়ে সতর্ক বিজেপি, কর্মীদের প্রস্তুত করতে বিশেষ কর্মশালা

    Assembly Election 2026: ভোট গণনা নিয়ে সতর্ক বিজেপি, কর্মীদের প্রস্তুত করতে বিশেষ কর্মশালা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। মানুষও ঢেলে ভোট (Assembly Election 2026) দিয়েছেন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে সফল কমিশন। ৪ মে হবে ভোট গণনা। ভোট গণনার সময় যাতে কোনওরকম কারচুপি তৃণমূল না করতে পারে তাই কাউন্টিং নিয়ে সতর্ক বিজেপি। শিলিগুড়ি ও মালদায় বিশেষ বৈঠকে বসেছে গেরুয়া শিবির। শিলিগুড়ি, মালদায় এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা ও প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘এটা সাংগঠনিক মিটিং। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এসেছিলেন। মূলত, ভোটদান হওয়ার পর আর যে যে বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি..কাউন্টিংয়ের প্রস্তুতি-সহ…কীভাবে আমরা সাংগঠনিক যে দায়-দায়বদ্ধতা রয়েছে সেগুলো পালন করব, মূলত এটা রেগুলার অর্গানাইজেশনাল মিটিং। যেখানে প্রাথমিক কিছু কথা বলা হয়েছে। তারপরে আমরা আমাদের যে কাজ দেওয়া হয়েছে সেগুলি করব।’’

    গণনাকে কেন্দ্র করে বিশেষ কর্মশালা

    গণনাকে কেন্দ্র করে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে। ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের জন্য ১০টি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের নেতৃত্বে শিলিগুড়ি ও মালদায় কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। শিলিগুড়িতে যে কর্মশালার আয়োজন করা হয় সেখানে- শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার…এই পাঁচ সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির গণনাকর্মীরা ছিলেন। তাঁদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এখানে ভূপেন্দ্র যাদব ছাড়াও সাংসদদের মধ্যে মনোজ টিগ্গা, জয়ন্ত রায়-রা উপস্থিত ছিলেন। এরপরেই ভূপেন্দ্র যাদব চলে যান মালদায়। একইভাবে সেখানেও ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের গণনাকর্মীদের নিয়ে আরও একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল।

    গণনাকর্মীদের নিয়ে দুই দিন কর্মশালা

    সার্বিকভাবে রাজ্য বিজেপির তরফে জানা যাচ্ছে, ১০টি বিভাগে এভাবেই ২৮-৩০টি করে বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে আলোচনা হবে। গণনাকর্মীদের নিয়ে দুই দিন কর্মশালার করা হবে। সেখানে গণনা-কর্মীদের বিশেষভাবে প্রস্তুত করবে বিজেপি নেতৃত্ব। ভোট শেষ হয়ে গেছে। দুই দফায় রেকর্ড হারে ভোট পড়েছে রাজ্যজুড়ে। যা নিয়ে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের বাকি পর্বটুকু নির্বিঘ্নে শেষ করতে মরিয়া তারা। অর্থাৎ, গণনাও যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়। কিন্তু, তার আগে কলকাতা থেকে জেলা, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ লেগেই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় কর্মীদের সতর্ক করছে, অন্যদিকে সতর্ক রয়েছে অন্যান্য দলও। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটদানের পর রাজ্যে বিজেপির সরকার গড়া এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

  • Donald Trump: ট্রাম্প কি ‘মানসিকভাবে সুস্থ?’ মার্কিন আইনপ্রণেতার প্রশ্নে ক্ষিপ্ত আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    Donald Trump: ট্রাম্প কি ‘মানসিকভাবে সুস্থ?’ মার্কিন আইনপ্রণেতার প্রশ্নে ক্ষিপ্ত আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সরব হলেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের শুনানিতে (US Congress) এই প্রশ্ন ঘিরে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। প্রশ্নের মুখে পড়েন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ (Pete Hegseth)। ইরানকে কেন্দ্র করে চলা সংঘাতের আবহে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য—বিশেষ করে “পুরো সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে” এই ধরনের হুমকি—নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই প্রেক্ষিতেই কংগ্রেসে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন ডেমোক্র্যাট সাংসদ সারা জেকব্স (Sara Jacobs)। তাঁর প্রশ্ন ছিল, ট্রাম্প কি “কমান্ডার-ইন-চিফ” হওয়ার মতো মানসিকভাবে স্থিতিশীল?

    প্রেসিডেন্টকে রক্ষার চেষ্টা

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ-পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মানসিক স্থিতিশীলতা’ এবং তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘অসংলগ্ন’ পোস্টগুলো নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর একটি পোস্টে এমনকি ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ক্যাপিটল হিলে শুনানির সময় এই প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ যা বলেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সেখানে তিনি সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর না দিয়ে প্রেসিডেন্টকে রক্ষার চেষ্টা করেন।

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

    ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সারা জেকব্স প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘কমান্ডার ইন চিফ’ হওয়ার মতো ট্রাম্প ‘মানসিকভাবে যথেষ্ট স্থিতিশীল’ কি না। সারা বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে এই প্রশ্নটি করতেও আমার কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে, আপনারা কি মনে করেন যে রাষ্ট্রপতি সর্বাধিনায়ক হওয়ার জন্য মানসিকভাবে যথেষ্ট স্থিতিশীল?” এ সময় অনেকটা বিরক্ত মুখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দ্রুত প্রেসিডেন্টের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনের ক্ষেত্রেও কি চার বছর ধরে একই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। জেকব্স উত্তর দেন, জো বাইডেন এখন প্রেসিডেন্ট নন। ট্রাম্প দেড় বছর ধরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন। রাগান্বিত হেগসেথ বলেন, ‘আপনি কমান্ডার ইন চিফকে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন, আমি সেই পর্যায়ে তর্কে জড়াব না।’ পরে তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্প একজন ‘অসাধারণ কমান্ডার ইন চিফ, যিনি আমাদের সৈন্যদের স্বার্থকে সবার আগে দেখেন। জেকব্স যুক্তি দেন যে ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ দলমত নির্বিশেষে সবার মধ্যেই রয়েছে এবং এ প্রসঙ্গে তিনি মার্জোরি টেইলর গ্রিন, ক্যান্ডেস ওয়েন্স, মেগিন কেলি, টাকার কার্লসন, অ্যালেক্স জোনস এবং স্টেফানি গ্রিশামের মতো ব্যক্তিত্বদের সমালোচনার কথা উল্লেখ করেন।

    আমেরিকার সামরিক বাজেট

    হাউস ও সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যরা ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৭ সালের সামরিক বাজেট প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই প্রস্তাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে ঐতিহাসিকভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে হেগসেথ বলেন, এই রেকর্ড পরিমাণ বাজেটের অনুরোধ বছরের পর বছর ধরে চলা ‘অল্প বিনিয়োগ এবং অব্যবস্থাপনা’ দূর করে ‘আমাদের বাহিনীকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করবে।’ হেগসেথ বলেন, ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের এই বাজেট নিশ্চিত করবে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সক্ষম সামরিক বাহিনী হিসেবে টিকে থাকবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই প্রস্তাবকে মার্কিন সামরিক শক্তির একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি শিল্প সক্ষমতা, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং সৈন্যদের কল্যাণে বিনিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি তরুণ তালিকাভুক্ত কর্মীদের বেতন ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করার কথা জানিয়ে বলেন, এই বাজেটের মাধ্যমে ‘নিম্নমানের বা জরাজীর্ণ সব ব্যারাক’ নির্মূল করা হবে। হেগসেথ আরও বলেন, একটি জাতির দ্রুত ও বড় পরিসরে উদ্ভাবন করা, নির্মাণ করা এবং যোদ্ধাদের সংকটকালীন প্রয়োজনগুলো মেটানোর সক্ষমতাই হলো তার প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং টিকে থাকার মূল ভিত্তি।

    ট্রাম্পের মানসিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ কেন

    ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু হুমকিমূলক এবং উত্তেজনাকর পোস্ট করেন। এর মধ্যে অনেক পোস্ট মাঝরাতে করা হয়েছে, যখন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ঘুমিয়ে থাকেন, যা তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, এমনই অভিমত সেনেটের। একটি বিশেষ ঘটনায় ট্রাম্প পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি ঘোষণা করেন, ইরান যদি তাঁর দাবি মেনে না নেয়, তবে ‘এক রাতে একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস হবে’। ট্রাম্প এআই-প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি নিজের একটি ছবিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তাঁকে যিশুখ্রিষ্টের মতো একটি ঐশ্বরিক অবয়বে দেখানো হয়েছে এবং তাঁর হাত থেকে পবিত্র আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ছবিটি সরিয়ে নেন। তবে নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘ছবিটিতে আমাকে একজন চিকিৎসক হিসেবে দেখানোর কথা ছিল, যে মানুষকে সুস্থ করার কাজ করছে।’

  • Hypersonic Glide Missile Test: হাইপারসনিক যুগে ভারতের বড় লাফ! নতুন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

    Hypersonic Glide Missile Test: হাইপারসনিক যুগে ভারতের বড় লাফ! নতুন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তিতে বড়সড় সাফল্য পেল ভারত। শুক্রবার ওড়িশা উপকূলের কাছে দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের (Long-Range Anti-Ship Missile বা LR-AShM) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ১,৫০০ কিলোমিটার দূরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে, যা দেশের সমুদ্র প্রতিরক্ষার পরিসর আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক।

    গতি ঘণ্টায় ৬১০০ কিমি…

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ম্যাক ৫ (শব্দের পাঁচগুণ বা আনুমানিক ঘণ্টায় ৬১০০ কিমি)-এর বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। ফলে আধুনিক যুদ্ধজাহাজে থাকা ইন্টারসেপশন সিস্টেম বা প্রতিরোধী প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা এই ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নত টার্মিনাল গাইডেন্স সিস্টেমের নির্ভুলতাও যাচাই করা হয়েছে। উৎক্ষেপণ থেকে চূড়ান্ত আঘাত পর্যন্ত সব মিশন উদ্দেশ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল মিড-কোর্স ম্যানুভার এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চগতির ফ্লাইট।

    বিরাট সাফল্য ভারতের…

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য তৈরি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (LR-AShM) হল একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র, যা স্থির ও চলমান—দুই ধরনের লক্ষ্যবস্তুকেই নিশানা করতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাভিওনিক্স এবং উচ্চ-নির্ভুলতার সেন্সর। ক্ষেপণাস্ত্রটি আধা-ক্ষেপণাস্ত্র গতিপথ (quasi-ballistic trajectory) অনুসরণ করে এবং সর্বোচ্চ ম্যাক ১০ (শব্দের দশ গুণ) পর্যন্ত গতি অর্জন করতে পারে, যদিও গড় গতি থাকে প্রায় ম্যাক ৫। একাধিক ‘স্কিপ’ কৌশল, কম উচ্চতায় উড়ান এবং দ্রুত গতির কারণে শত্রুপক্ষের রাডারে এটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

    হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র..

    দুই-ধাপের সলিড রকেট মোটরের সাহায্যে চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমে বুস্টারের মাধ্যমে গতি অর্জন করে। এরপর প্রাথমিক ধাপ শেষে এটি পৃথক হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় ধাপে এটি ইঞ্জিনবিহীন গ্লাইড পর্যায়ে (unpowered glide phase) প্রবেশ করে, তারপর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই সফল পরীক্ষা ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে আরও একবার সামনে আনল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে দূরপাল্লায় শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সম্পদ ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে গেল।

    দুটি পৃথক হাইপারসনিক প্রকল্প….

    চলতি সপ্তাহের গোড়ায় জাতীয় নিরাপত্তা সম্মেলনে (National Security Summit) বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিআরডিও-র (DRDO) প্রধান ড. সমীর ভি কামাত জানিয়েছিলেন, ভারত বর্তমানে দুটি পৃথক হাইপারসনিক প্রকল্পে কাজ করছে— একটি হল হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল (Hypersonic Glide Missile) এবং দ্বিতীয়টি হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল (Hypersonic Cruise Missile)। তিনি বলেন, “হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে এয়ার ব্রদিং স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন (air-breathing scramjet engine) থাকে এবং পুরো উড়ানের সময় সেটি চালু থাকে। অন্যদিকে হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র বুস্টারের মাধ্যমে প্রাথমিক গতি পেয়ে পরে কোনও প্রোপালসান (ইঞ্জিন) ছাড়াই গ্লাইড করে বা বাতাসে ভেসে যায়।” কামাত আরও জানান, গ্লাইড মিসাইল প্রকল্পটি তুলনামূলকভাবে বেশি উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, “গ্লাইড মিসাইলই আগে আসবে।”

    কনভেনশনাল মিসাইল ফোর্স গঠনের ভাবনা

    একই সঙ্গে তিনি একটি সম্ভাব্য কনভেনশনাল মিসাইল ফোর্স (conventional missile force) গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, স্বল্প, মধ্যম এবং প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের (ballistic missile) পাশাপাশি ক্রুজ মিসাইল (cruise missile) এবং হাইপারসনিক মিসাইল (hypersonic missile) সহ বহুমুখী অস্ত্রভান্ডার দরকার, যাতে বিভিন্ন কৌশলগত ব্যবহারের (tactical application) প্রয়োজন অনুযায়ী জন্য আলাদা আলাদা আঘাত হানার ক্ষমতা (strike capability) তৈরি হয়।

    “ঐতিহাসিক অর্জন” বলেছেন রাজনাথ

    উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে ভারত ধারাবাহিক অগ্রগতি করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে দীর্ঘ-পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় ডিআরডিও। এর আগে ২০২০ সালে হাইপারসনিক টেকনোলজি ডেমোন্সট্রেটর ভেহিক্যল (Hypersonic Technology Demonstration Vehicle বা HSTDV)-এর সফল পরীক্ষা এবং পরবর্তী স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিনের পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সাফল্য এনে দেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এর আগেই এই ধরনের সাফল্যকে “ঐতিহাসিক অর্জন” বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর কথায়, এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই নির্বাচিত কয়েকটি দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে, যাদের হাতে উন্নত হাইপারসনিক প্রযুক্তি রয়েছে।

  • Assembly Election 2026: শনি-সকালেও ভোটারদের লম্বা লাইন! মগরাহাট, ডায়মন্ড হারবারের ১৫টি বুথে চলছে পুনর্নির্বাচন

    Assembly Election 2026: শনি-সকালেও ভোটারদের লম্বা লাইন! মগরাহাট, ডায়মন্ড হারবারের ১৫টি বুথে চলছে পুনর্নির্বাচন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Pargana) দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫টি বুথে নতুন করে ভোট (Repolling) গ্রহণ চলছে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নির্দেশ মেনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় সকাল ৭টা থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে পুনর্নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026 Repolling)। ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। মগরাহাট পশ্চিম (Magrahat Paschim) কেন্দ্রের ১১টি বুথে এবং ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) কেন্দ্রের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচন চলছে। ফলতার ক্ষেত্রে কোনও সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানায়নি নির্বাচন কমিশন।

    কোথায় কোথায় চলছে পুনর্নির্বাচন

    মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের ১১টি বুথ যেমন উত্তর ইয়ারপুর এফপি স্কুল, নাজরা এফপি স্কুলের দু’টি বুথ এবং একতারা মালয়া এফপি স্কুলের দু’টি বুথের মতো একাধিক বুথে চলছে ভোটগ্রহণ। অন্যদিকে হাই-প্রোফাইল ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচন। বাগদা জুনিয়র হাই স্কুল এবং রায়নগর এফপি স্কুলের মতো বুথগুলিতে ফের লাইন দিয়েছেন ভোটাররা। শনিবার সকাল থেকেই সারিবদ্ধভাবে ভোট দিতে সামিল হতে দেখা গিয়েছে ভোটারদের। ১৫টি বুথে একই চিত্র দেখা গিয়েছে। নির্বিঘ্নেই চলছে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। পুনর্নির্বাচনেও তৎপর কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ। বুথের সামনে কোনও জমায়েত করতে দেওয়া হচ্ছে না। এলাকায় জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন।

    কেন এই পুনর্নির্বাচন

    কমিশন সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এবং পর্যবেক্ষকদের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন এই সব বুথ থেকে গোলমালের খবর এসেছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু বুথে ২৯ এপ্রিলের ভোট বাতিল করা হয়েছে। যাবতীয় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তবেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছেন কমিশন। এখনও ফলতা বিধানসভার কোন‌ও বুথে রিপোলের অর্ডার দেওয়া হয়নি। তবে কমিশন সূত্রে খবর, ফলতার একাধিক বুথে গোলযোগের বিষয় নিয়ে স্ক্রুটিনির রিপোর্ট জমা পড়লে সেক্ষেত্রে তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলতা বিধানসভার প্রায় ৩০টার বেশি বুথের সিসি ক্যামেরা খতিয়ে দেখা হয়েছে। কোথাও ইভিএমে টেপ লাগানো, কোথাও বুথের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আবার কোন‌ও বুথে ১০০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়েছে। এই বিষয়গুলিই একাধিকবার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারপর সেই রিপোর্ট কমিশনের কাছে জমা দেবেন ফলতা বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার, সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

  • Kailash Mansarovar Yatra 2026: কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা শুরু হতে চলেছে আগামী জুন মাসে, আপনি কী যেতে চান, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কীভাবে হবে জানুন

    Kailash Mansarovar Yatra 2026: কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা শুরু হতে চলেছে আগামী জুন মাসে, আপনি কী যেতে চান, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কীভাবে হবে জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বহুল প্রতীক্ষিত কৈলাস মানসরোবর (Kailash Mansarovar Yatra 2026) যাত্রা আগামী জুন মাস থেকে শুরু হতে চলেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এই তীর্থযাত্রা। ইতিমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা এবং আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে।

    ভারত ও চীন—উভয় দেশের সরকারের সমন্বয়ে আয়োজিত এই যাত্রাটি আধ্যাত্মিক শান্তির পাশাপাশি হিমালয়ের (Mount Kailash) অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাক্ষী হওয়ার এক অনন্য সুযোগ থাকে। যারা এই বছর যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা দ্রুত অফিসিয়াল পোর্টালে নজর রাখুন।

    জুন মাস থেকে শুরু হচ্ছে যাত্রা (Kailash Mansarovar Yatra 2026)

    প্রতি বছরের মতো এই বছরেও জুন মাস থেকে কৈলাস মানসরোবর যাত্রা (Kailash Mansarovar Yatra 2026) শুরু হওয়ার কথা। উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস এবং সিকিমের নাথুলা পাস—এই দুটি প্রধান পথ দিয়ে যাত্রীরা তিব্বতের এই পবিত্র স্থানে পৌঁছাতে পারেন।

    আবেদনের যোগ্যতা (Eligibility)

    এই যাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়মাবলী রয়েছে। যা হল-

    ১. আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।

    ২. যাত্রীর বয়স ১৮ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হওয়া বাধ্যতামূলক।

    ৩. যাত্রীকে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে (বডি মাস ইনডেক্স বা BMI ২৫ বা তার কম হওয়া বাঞ্ছনীয়)।

    ৪. তীর্থযাত্রীদের (Mount Kailash) নির্বাচন করা হয় কম্পিউটারাইজড ড্র-এর (Computerized Draw) মাধ্যমে।

    রেজিসট্রেশন বা নিবন্ধন প্রক্রিয়া

    কৈলাস মানসরোবর যাত্রার (Kailash Mansarovar Yatra 2026) জন্য ভারতের বিদেশমন্ত্রক (Ministry of External Affairs) নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদন করার সময় বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক, যার মেয়াদ অন্তত ছয় মাস অবশিষ্ট থাকতে হবে।

    যাত্রার রুট বা পথ। সাধারণত দুটি পথ দিয়ে এই যাত্রা সম্পন্ন হয়:

    উত্তরাখণ্ড রুট: লিপুলেখ পাসের মাধ্যমে এই পথটি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং এবং ট্রেকিংয়ের ওপর নির্ভরশীল।

    সিকিম রুট: নাথুলা পাসের মাধ্যমে এই পথটি বয়স্কদের জন্য সুবিধাজনক, কারণ এখানে অধিকাংশ পথই মোটরগাড়িতে যাওয়া যায়।

    প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    নির্বাচিত হওয়ার পর যাত্রীদের (Kailash Mansarovar Yatra 2026) দিল্লিতে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা (Altitude Sickness) মোকাবিলা করার মতো শারীরিক ক্ষমতা থাকলেই কেবল যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া যাত্রীদের সাথে রাখতে হয় যথাযথ পরিচয়পত্র এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট।

    পৌরাণিক কাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত মানসরোবর যাত্রা

    কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা (Kailash Mansarovar Yatra 2026) একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থযাত্রা, যেখানে কৈলাস পর্বতকে (Mount Kailash) ভগবান শিবের বাসস্থান হিসেবে পূজা করা হয়। এটি কেবল হিন্দুদের জন্যই নয়, জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্যও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। হিন্দু বিশ্বাসে এটিকে অন্যতম পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এটি সমৃদ্ধ পৌরাণিক কাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত। পুরাণে শ্রুতি রয়েছে, এই পবিত্র স্থানটি ভগবান ব্রহ্মা তৈরি করেছিলেন এবং বিশ্বাস করা হয় যে এর জলে স্নান করলে মোক্ষ লাভ হয়।

    ভারত সরকারের তরফে এই বছর পবিত্র এই তীর্থযাত্রা জুন মাসে শুরু হতে চলেছে। যাত্রার পথ, নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং আরও অনেক কিছু সম্পর্কে জানতে সরকারের ওয়েব সাইটে নজর রাখুন।

LinkedIn
Share