Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Simhastha Kumbh Mela: গোদাবরীর তীরে ভক্তির মহাসমারোহ, গিনেস বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে ৬৫০০ আদিবাসীর সমবেত আরতি

    Simhastha Kumbh Mela: গোদাবরীর তীরে ভক্তির মহাসমারোহ, গিনেস বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে ৬৫০০ আদিবাসীর সমবেত আরতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে গোদাবরী নদীর তীরে ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ। ৬৫০টি গ্রামের প্রায় ৬৫০০ আদিবাসী পুরুষ ও মহিলা একসঙ্গে গোদাবরী আরতিতে অংশ নেন। সমবেত আরতির মাধ্যমে গিনেস বিশ্বরেকর্ডে জায়গা করে নেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলার (Simhastha Kumbh Mela) আনুষ্ঠানিক সূচনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গিনেস বিশ্বরেকর্ড কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা। তাঁদের উপস্থিতিতেই রেকর্ড গড়ার প্রচেষ্টা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয় (Guinness World Record)।

    অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশের পরনেই ছিল সাদা পোশাক। স্থানীয় কমিটিগুলির তত্ত্বাবধানে কয়েক মাস ধরে তাঁরা এই বিশেষ আরতির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। নাসিকের পঞ্চবটি এলাকার রামকুণ্ড সংলগ্ন নদীর ঘাটে একই ছন্দে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি ও মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেন তাঁরা।

    আরও এক রেকর্ড (Simhastha Kumbh Mela)

    এই সমবেত আরতির মাত্র ছ’দিন আগেই গোদাবরীর তীরে আরও একটি উল্লেখযোগ্য নজির তৈরি হয়েছিল। ২৫ অক্টোবর যশবন্ত মহারাজ পটাঙ্গণে একসঙ্গে শঙ্খধ্বনি করেছিলেন ৫১৭ জন ভক্ত। টানা সাড়ে পাঁচ মিনিট ধরে চলেছিল সেই শঙ্খধ্বনি। গিনেস বিশ্বরেকর্ড কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

    গিনেস বিশ্বরেকর্ডের নথি অনুযায়ী, একসঙ্গে সর্বাধিক মানুষের শঙ্খধ্বনির নতুন নজির গড়েছেন নাসিক ত্র্যম্বকেশ্বর কুম্ভমেলা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অংশ নেওয়া ৫১৭ জন। এর আগে ২০১৯ সালে আমেরিকার নিউ জার্সিতে ৩০৩ জনের একযোগে শঙ্খধ্বনির রেকর্ড ছিল। নতুন নজির গড়ার জন্য বিশেষভাবে শংসাপত্রপ্রাপ্ত শঙ্খ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের নথিভুক্তকরণ, উপস্থিতি এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন বিচারকরা।

    নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলা কর্তৃপক্ষ, অনন্ত বিজয় শঙ্খনাদ পাঠক এবং নাসিক পুরনিগমের যৌথ উদ্যোগে এই শঙ্খধ্বনির আয়োজন করা হয়েছিল। কুম্ভমেলার পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের আগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    পরবর্তী সময়ে জানা যায়, এই আরতির ক্ষেত্রেও নাসিক নয়া বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। প্রায় ৬৫০০ জনের উপস্থিতিতে ৬২৩৩ জন ভক্ত একযোগে গোদাবরী আরতিতে অংশ নেন। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে শঙ্খধ্বনি ও সমবেত আরতি—দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বরেকর্ড গড়ার নজির গড়ল নাসিক।

    সিংহস্থ কুম্ভমেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা

    ৩১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ২ মিনিটে নাসিকের রামকুণ্ড এবং ত্র্যম্বকেশ্বরের কুশাবর্ত তীর্থে একই সময়ে ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে সিংহস্থ কুম্ভমেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। নাসিকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পতাকা উত্তোলন করেন। অন্যদিকে ত্র্যম্বকেশ্বরে পতাকা উত্তোলন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজার্চনা ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

    রাষ্ট্রপতি নাসিকের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গোদাবরীর পুজো দেন এবং ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানজুড়ে উপস্থিত ছিলেন সাধু-সন্ত, ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বহু ভক্ত।

    সিংহস্থ কুম্ভমেলা ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলার কথা। অর্থাৎ ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলবে এই ধর্মীয় সমাবেশ। এই দীর্ঘ সময়ে পুণ্যস্নান, সাধুদের শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    গোদাবরী নদী ও রামকুণ্ডের ধর্মীয় গুরুত্ব

    হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে গোদাবরী নদীর বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা বা দক্ষিণ গঙ্গা হিসেবেও পরিচিত এই নদীর উৎপত্তি মহারাষ্ট্রের ত্র্যম্বকেশ্বরের কাছে ব্রহ্মগিরি পর্বতের পাদদেশে। সেখান থেকে ১৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে নদীটি প্রবাহিত হয়েছে (Simhastha Kumbh Mela)।

    ধর্মীয় শাস্ত্র ও পুরাণে কুম্ভমেলার উৎপত্তি নিয়ে একাধিক কাহিনি রয়েছে। সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের কলস থেকে অমৃতের কয়েক ফোঁটা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় পড়েছিল বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। নাসিকও সেই পবিত্র স্থানগুলির অন্যতম বলে বিশ্বাস। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, বৃহস্পতি ও সূর্য যখন সিংহ রাশিতে প্রবেশ করে, তখন সিংহস্থ যোগ তৈরি হয়। এই বিশেষ মহাজাগতিক অবস্থানে গোদাবরীর জল বিশেষ পবিত্র হয়ে ওঠে বলে ভক্তদের বিশ্বাস। সেই সময়ে নদীতে স্নান করলে পাপমুক্তি ঘটে এবং মোক্ষলাভের পথ প্রশস্ত হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।

    নাসিকের রামকুণ্ডকে গোদাবরীর তীরবর্তী সবচেয়ে পবিত্র স্নানঘাটগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়। রামায়ণের কাহিনি অনুসারে, বনবাসের ১৪ বছরের একটি সময়ে সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে পঞ্চবটী অঞ্চলে অবস্থানকালে ভগবান রাম এই কুণ্ডে স্নান করেছিলেন। সেই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই জায়গাটির ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    রামকুণ্ডের আর একটি পরিচয় হল অস্থিবিলয় তীর্থ। হিন্দু রীতি অনুযায়ী, প্রয়াত ব্যক্তিদের অস্থি এখানে বিসর্জন দেওয়া হয়, যাতে তাঁদের আত্মার শান্তি পায়। সারা বছর ধরে এখানে সকাল ও সন্ধ্যায় আরতি, পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে পিণ্ডদান এবং পবিত্র স্নানের মতো নানা ধর্মীয় আচার পালিত হয়।

    কুম্ভমেলার সময়ে রামকুণ্ড হয়ে ওঠে বৈষ্ণব আখড়াগুলির প্রধান স্নানস্থল। অন্যদিকে, শৈব আখড়াগুলির সাধু-সন্তরা ত্র্যম্বকেশ্বরের কুশাবর্ত তীর্থে পুণ্যস্নান করেন। দীর্ঘদিনের এই ধর্মীয় রীতিই নাসিক ও ত্র্যম্বকেশ্বরকে কেন্দ্র করে কুম্ভমেলার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে।

    বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলির অন্যতম কুম্ভমেলা

    বিশ্বের বৃহত্তম শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশগুলির মধ্যে কুম্ভমেলা অন্যতম। প্রতি ১২ বছর অন্তর নির্দিষ্ট জ্যোতিষশাস্ত্রীয় অবস্থানের ভিত্তিতে প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, উজ্জয়িনী এবং নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বরে পর্যায়ক্রমে এই মেলার আয়োজন করা হয়। লাখ লাখ পুণ্যার্থী, সাধু, নাগা সন্ন্যাসী এবং আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানী মানুষ এই সমাবেশে যোগ দেন।

    নাসিকের সিংহস্থ কুম্ভমেলা বিশেষত বৃহস্পতি ও সূর্যের সিংহ রাশিতে অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে পবিত্র স্নান, যা শাহী স্নান বা অমৃতস্নান নামে পরিচিত, মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পাশাপাশি বিভিন্ন আখড়ার শোভাযাত্রা, ধর্মীয় প্রবচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সমাজসেবামূলক কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।

    এ বারের কুম্ভমেলার প্রস্তুতিতে আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিপুল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং নদী সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোদাবরীর পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    আদিবাসী সংস্কৃতি, প্রকৃতিপূজা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা

    ৩১ অক্টোবরের সমবেত গোদাবরী আরতির বিশেষ তাৎপর্য ছিল আদিবাসী সমাজের ব্যাপক অংশগ্রহণ। নাসিক জেলার পেঠ, সুরগানা, ত্র্যম্বকেশ্বর, দিণ্ডোরি ও নিফাড়-সহ বিভিন্ন এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। আয়োজকদের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে বৃহত্তর মঞ্চে তুলে ধরা।

    এই আরতির প্রস্তুতির জন্য অংশগ্রহণকারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। যাতে প্রত্যেকে একই সময়ে প্রদীপ হাতে আরতি করতে পারেন এবং সমবেত মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে নদীর দুই তীরজুড়ে এক অভিন্ন দৃশ্য ও শব্দের আবহ তৈরি হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছিল। সাদা পোশাকে সজ্জিত হাজার হাজার ভক্তের হাতে জ্বলন্ত প্রদীপের আলোয় গোদাবরীর ঘাট কার্যত এক আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।

    একই সপ্তাহে শঙ্খধ্বনির বিশ্বরেকর্ড এবং বিপুল সংখ্যক আদিবাসীর অংশগ্রহণে সমবেত আরতি—এই দুই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে নাসিক। হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে শঙ্খকে শুভ সূচনা, জাগরণ এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই শঙ্খধ্বনিকে একযোগে বিশ্বরেকর্ডের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং তার সঙ্গে আদিবাসী সমাজের সমবেত আরতির সংযোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে (Guinness World Record)।

    আগামী কয়েক মাস ধরে সিংহস্থ কুম্ভমেলাকে কেন্দ্র করে গোদাবরীর তীরে আরও বহু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। রামকুণ্ড ও আশপাশের পবিত্র ঘাটগুলিকে কেন্দ্র করে এই বিশাল আয়োজনের সূচনা পর্বেই ভক্তি, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের (Simhastha Kumbh Mela) এক সম্মিলিত ছবি উঠে এল।

     

  • Rajasthan: দুর্নীতির অভিযোগে কাঠগড়ায় রাজস্থানের আইপিএস আধিকারিক, তদন্ত শুরু তাঁর আইএসএস স্বামীর বিরুদ্ধেও

    Rajasthan: দুর্নীতির অভিযোগে কাঠগড়ায় রাজস্থানের আইপিএস আধিকারিক, তদন্ত শুরু তাঁর আইএসএস স্বামীর বিরুদ্ধেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজস্থানে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে আইপিএস কর্তা প্রশাখা মাথুরকে আপাতত নতুন পদে নিয়োগের নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। প্রশাখা রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় আইএএস কর্তা শিখর আগরওয়ালের স্ত্রী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শিখরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের অনুমোদন দেওয়ার ঠিক এক দিন পরেই তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা (IPS Officer Prashakha Mathur) হল।

    ৩০ অক্টোবর রাজস্থান সরকার শিখরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখাকে তদন্তের অনুমতি দেয়। একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশ এবং সরকারি পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই সংস্থাকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ১৯৯৫ সালের ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক প্রশাখা পুলিশের অতিরিক্ত ডিজি পদে কর্মরত ছিলেন। পরিকল্পনা, আধুনিকীকরণ ও কল্যাণ বিভাগের দায়িত্বও তাঁর হাতে ছিল। তাঁকে অপেক্ষায় রাখার সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, অনন্ত ব্র্যান্ডের অধীনে হোটেল ও রিসর্ট পরিচালনাকারী একটি বেসরকারি সংস্থাকে শিখর বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন।

    শিখরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তে অনুমোদন (Rajasthan)

    গত ৩০ অক্টোবর রাজস্থান সরকার শিখরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তে অনুমোদন দেয়। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই আধিকারিক এবং বেসরকারি সংস্থাটির মধ্যে যোগসাজশের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    রাজস্থান সরকারের কর্মিবর্গ দফতর প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে শিখরকেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখার নির্দেশ জারি করেছে।

    দুর্নীতি দমন শাখার অভিযোগ, নিজের সরকারি পদমর্যাদা ও প্রভাব খাটিয়ে শিখর নিজে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন। এর ফলে রাজ্য সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারী সংস্থার।

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে রিসর্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মে ছাড় দেওয়া, প্রয়োজনীয় শংসাপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করেই অনুমোদন দেওয়া এবং সংস্থাটিকে বিশেষ আর্থিক ছাড়ের সুযোগ করে দেওয়া।

    ৪০টি ভিলা-কটেজ কেনা নিয়েও প্রশ্ন

    দুর্নীতি দমন শাখার প্রাথমিক অনুসন্ধানে উদয়পুরের বুঝড়া এবং আলওয়ারের আজবগড় এলাকায় সংস্থাটির রিসর্টে ৪০টি ভিলা ও কটেজ কেনার বিষয়েও একাধিক অসঙ্গতির ইঙ্গিত মিলেছে।

    অভিযোগ, ওই সম্পত্তিগুলি শিখর, তাঁর স্ত্রী প্রশাখা, তাঁদের দুই পুত্র এবং মাথুরের বাবা-মায়ের নামে নথিভুক্ত করা হয়েছিল।

    দুর্নীতি দমন শাখার ডিজি গোবিন্দ গুপ্ত জানিয়েছেন, অভিযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন, শিল্প দফতরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট এবং গোপন সূত্রে সংগৃহীত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Rajasthan)।

    গোবিন্দের বক্তব্য, অভিযোগ রয়েছে, গত ২৭ মার্চ শিখরের নামে ২০টি ভিলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয়, ওই একই দিনে অর্থ দফতর সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাটিকে বিশেষ আর্থিক ছাড়ের প্যাকেজ দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছিল।

    সম্পত্তি কিনে ফের ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ

    শিখর ও তাঁর পরিবারের সম্পত্তি কেনাবেচার বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায়। এর আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আইএএস-আইপিএস আধিকারিকের পরিবার একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে ৪০টি ভিলা ও কটেজ কিনেছিল। পরে সেই সম্পত্তিগুলিই আবার সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বার্ষিক ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেওয়া হয়।

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনন্ত ব্র্যান্ডের অধীনে হোটেল ও রিসর্ট পরিচালনাকারী গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এই সম্পত্তিগুলি কেনা হয়েছিল। ৪০টি সম্পত্তি কেনার জন্য পরিবারটির মোট খরচ হয়েছিল ৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

    এর মধ্যে উদয়পুরের বুঝড়া রিসর্টে ছিল ২০টি কটেজ এবং আলওয়ারের আজবগড়ের সম্পত্তিতে ছিল ২০টি ভিলা।

    সম্পত্তিগুলি কেনার পর পরিবারের সদস্যরা ৪০টি ইউনিটই ফের গোয়েল ফ্যাশনসকে ভাড়া দেন বলে অভিযোগ। বুঝড়ার প্রতিটি কটেজের বার্ষিক ভাড়া নির্ধারিত হয়েছিল ৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে, আজবগড়ের প্রতিটি ভিলার বার্ষিক ভাড়া ছিল ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এই সম্পত্তি থেকে বছরে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ভাড়া পাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল।

    আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্পত্তি বিক্রি এবং পুনরায় ভাড়া দেওয়ার নথিগুলি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার দফতরে একই দিনে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। শিখর, প্রশাখা, তাঁদের দুই পুত্র এবং মাথুরের বাবা-মায়ের নামে এই নথিভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

    বার্ষিক সম্পত্তির বিবরণ জমা দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন

    এই সম্পত্তি কেনার ঘটনায় সরকারি আধিকারিকদের বার্ষিক স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ জমা দেওয়ার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    মোট ৪০টি সম্পত্তির মধ্যে ২৮টি নথিভুক্ত হয়েছিল শিখর ও প্রশাখার নামে। দু’জনের নামেই ১৪টি করে সম্পত্তি ছিল।

    শিখর তাঁর বার্ষিক সম্পত্তির বিবরণীতে নিজের নামে থাকা ১৪টি সম্পত্তির তথ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাখার জমা দেওয়া বিবরণীতে তাঁর নামে নথিভুক্ত ১৪টি সম্পত্তির উল্লেখ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।

    এই বিষয়টিও নজরে রয়েছে তদন্তকারী সংস্থার।

    প্রশাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন শিখর

    রাজস্থান প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন শিখর। উদয়পুরের জেলাশাসক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি রাজস্থান রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং শিল্প দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।

    এছাড়াও শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, দিল্লি-মুম্বই শিল্প করিডর, বিনিয়োগ এবং দেশ-বিদেশে বসবাসকারী রাজস্থানিদের বিষয়ক দফতরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

    রাজস্থান রাজ্য শিল্পোন্নয়ন ও বিনিয়োগ নিগমের চেয়ারম্যান, রাজস্থান ক্ষুদ্র শিল্প নিগমের চেয়ারম্যান তথা ব্যবস্থাপনা অধিকর্তা এবং ভিওয়াড়ি সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিশেষ কর্তব্যরত আধিকারিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন (IPS Officer Prashakha Mathur) শিখর।

    সব মিলিয়ে, একটি বেসরকারি সংস্থাকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ থেকে শুরু করে পরিবারের নামে বিপুল সম্পত্তি কেনা, পুনরায় সেই সংস্থাকেই ভাড়া দেওয়া এবং সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশ না করার অভিযোগ—সব কিছুই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। তদন্তের অগ্রগতিতে এই (Rajasthan) অভিযোগগুলির প্রকৃত সত্য কতটা সামনে আসে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • New Pollution Rules: শীতের দূষণ রুখতে দিল্লি-এনসিআরে গুচ্ছের কড়া বিধিনিষেধ, জানুন বিশদে

    New Pollution Rules: শীতের দূষণ রুখতে দিল্লি-এনসিআরে গুচ্ছের কড়া বিধিনিষেধ, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীতের মরশুমে বায়ুদূষণের ভয়াবহতা মোকাবিলায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করল দিল্লি সরকার। দিল্লি-সহ সংলগ্ন জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে ধোঁয়াশা নিয়ন্ত্রণ এবং বাতাসের গুণমান উন্নত করতে আগামী কয়েক (New Pollution Rules) মাসের জন্য জারি করা হয়েছে বিশেষ বিধিনিষেধ। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে দিল্লিতে বিএস-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত (Vehicles Ban)।

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বিধিনিষেধ কার্যকর করতে বিশেষ নজরদারি দল মোতায়েন করা হবে। স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর যৌথ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি কেন্দ্রের সাহায্য নেওয়া হবে। নিয়ম অমান্য করে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈদ্যুতিন জরিমানার নোটিশও পাঠানো হবে।

    পুরনো গাড়ির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা (New Pollution Rules)

    দিল্লির বাইরে নথিভুক্ত এবং বিএস-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন কোনও যানবাহন আর দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে নয়ডা, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ ও গাজিয়াবাদ-সহ সংলগ্ন অঞ্চল থেকে আসা আনুমানিক ১০ লাখ পুরনো পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি প্রভাবিত হতে পারে।

    তবে বৈদ্যুতিক গাড়ি, সিএনজি চালিত যানবাহন এবং অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের মতো জরুরি পরিষেবার যানবাহনকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ধুলো সৃষ্টি হয়, এমন ভাঙার কাজ এবং খোলা জায়গায় নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত অসামরিক কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে জরুরি জনপরিকাঠামো প্রকল্পের কিছু কাজের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ধুলো নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে ঘরের ভিতরে নির্মাণের শেষ পর্যায়ের কাজ, জলের পাইপ বসানো এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ চালানো যাবে।

    সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, দিল্লির সরকারি ও বেসরকারি দফতরগুলিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কর্মীকে সশরীরে উপস্থিত থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে। তবে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এই নিয়মের আওতাভুক্ত নন।

    অফিসের সময়সূচি বদল, পার্কিং ফি দ্বিগুণ

    যানজট কমাতে এবং ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় গাড়ির চাপ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিল্লি পুরনিগমের দফতরগুলি সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। অন্যদিকে, দিল্লি সরকারের দফতরগুলির কাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে একাধিক সরকারি পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখার খরচ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দিল্লি মেট্রো রেল নিগমের মালিকানাধীন ও পরিচালিত পার্কিং কেন্দ্রগুলিকে এই বর্ধিত মাশুলের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে (New Pollution Rules)।

    মিলবে না জ্বালানি!

    ১ নভেম্বর থেকে দিল্লির পেট্রল পাম্পগুলিতে কার্যকর হচ্ছে ‘দূষণ নিয়ন্ত্রণের শংসাপত্র নেই, জ্বালানিও নেই’ নীতি। এই নিয়ম কার্যকর করতে দিল্লির ৫০০টি পেট্রল পাম্পে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরার মাধ্যমে গাড়ির নম্বরপ্লেট এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হবে।

    কোনও গাড়ির দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত শংসাপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে বা সেটি বৈধ না থাকলে সংশ্লিষ্ট পেট্রল পাম্প থেকে পেট্রল, ডিজেল কিংবা সিএনজি দেওয়া হবে না।

    ফলে দিল্লি ও সংলগ্ন শহরগুলির মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করেন যাঁরা, তাঁদের আগেভাগেই নিজেদের গাড়ির নির্গমন সংক্রান্ত মান যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় গাড়ি পরীক্ষা চলাকালীন জরিমানা কিংবা প্রবেশে বাধার মুখে পড়া এড়াতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে (Vehicles Ban)।

    মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত বাসিন্দাদের এই সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি, যাতায়াত সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা এবং নিয়মিত পরিস্থিতির খবর জানতে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের সরকারি (New Pollution Rules) সোশ্যাল মিডিয়া পেজে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

     

  • Largest Green Hydrogen Order: বিশ্বে সব থেকে বেশি গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে, বরাত ৫.৫৫ লাখ মেট্রিক টনের

    Largest Green Hydrogen Order: বিশ্বে সব থেকে বেশি গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে, বরাত ৫.৫৫ লাখ মেট্রিক টনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাণিজ্যে ক্রমশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে ভারত। গ্রিন হাইড্রোজেন বা পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন (Largest Green Hydrogen Order) সরবরাহের ক্ষেত্রে এখন বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক বরাত রয়েছে ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে। কেন্দ্রীয় সরকারের ২৯ অক্টোবর, ২০২৬-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতীয় সংস্থাগুলি বছরে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেনের সমতুল্য জ্বালানি সরবরাহের জন্য বাধ্যতামূলক ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান (Japan Germany Korea) প্রভাবেরই ইঙ্গিত।

    ২০২৩ সালে জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন চালু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ২৩টি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার মধ্যে ১৮টিই স্বাক্ষরিত হয়েছে ২০২৬ সালে। এই চুক্তিগুলির আওতায় বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি গ্রিন হাইড্রোজেনের সমতুল্য জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। মোট চুক্তিবদ্ধ জ্বালানির ৭০ শতাংশেরও বেশি বিদেশে রফতানির জন্য নির্ধারিত। এই বিপুল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করতে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

    ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির সাফল্য (Largest Green Hydrogen Order)

    এই পরিসংখ্যান ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির সাফল্য পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এত দিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা সামনে আসছিল। কিন্তু এখন বিদেশি ও দেশীয় ক্রেতাদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার চুক্তি প্রমাণ করছে, ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি কিনতে ক্রেতারা বাস্তবিক অর্থেই আগ্রহী।

    গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে বিপুল পরিমাণ মূলধনের প্রয়োজন হয়। কোনও নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি কেনার নিশ্চয়তা না থাকলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও সাধারণত এই ধরনের প্রকল্পে ঋণ দিতে আগ্রহী হয় না। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বা ক্রয়চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তির মাধ্যমে ক্রেতা নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার প্রতিশ্রুতি দেন। ফলে উৎপাদক সংস্থাগুলি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক নিশ্চয়তা পায়।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন বহু গ্রিন হাইড্রোজেন প্রকল্প রয়েছে, যেগুলি দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তির অভাবে থমকে গিয়েছে। সেই জায়গায় ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে বিপুল পরিমাণ নিশ্চিত ক্রয়াদেশ থাকা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

    রফতানিতে গুরুত্ব অ্যামোনিয়া-মিথানলের

    ভারতের মোট সরবরাহের পরিমাণ হাইড্রোজেনের সমতুল্য হিসাবে প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ, ভারত থেকে রফতানি হতে চলা জ্বালানির অধিকাংশই সরাসরি হাইড্রোজেন গ্যাস নয়। দীর্ঘ দূরত্বে হাইড্রোজেন পরিবহণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তাই হাইড্রোজেনকে গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানলে রূপান্তরিত করে জাহাজে পরিবহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রচলিত পণ্যবাহী জাহাজেই এই দুই ধরনের জ্বালানি পরিবহণ করা সম্ভব।

    ওজনের হিসাবে অ্যামোনিয়ার প্রায় ১৮ শতাংশ হাইড্রোজেন। ফলে অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তিতে কয়েক লাখ মেট্রিক টনের উল্লেখ থাকলেও তার হাইড্রোজেন-সমতুল্য পরিমাণ তুলনায় অনেক কম হয়। মিথানলের ক্ষেত্রে হাইড্রোজেনের অনুপাত আরও কম, প্রায় ১২.৫ শতাংশ।

    জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের ২০৩০ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১১ শতাংশের সমান হল ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির পরিমাণ।

    ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ার পথে

    ভারতের গ্রিন জ্বালানি রফতানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠছে জাপান। দেশটি দীর্ঘমেয়াদি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের পরিকল্পনায় আমদানি করা হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে একের পর এক সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করছে জাপানের বিভিন্ন সংস্থা।

    এসিএমই গোষ্ঠী জাপানের ইহাই কর্পোরেশনকে বছরে ৪ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তি করেছে। পাশাপাশি মিতসুবিশি গ্যাস কেমিক্যালকে বছরে ১ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন মিথানল সরবরাহের জন্য পৃথক চুক্তিও (Largest Green Hydrogen Order) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    এদিকে, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো এবং জাপানের বাণিজ্যিক সংস্থা ইতোকু যৌথভাবে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করেছে। এর মাধ্যমে বছরে ৩ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এই সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

    জাপানের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থা জেরার সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক চুক্তি করেছে এএম গ্রিন। এই চুক্তির আওতায় বছরে ৭০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হবে।

    জাপানে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির কার্বন নিঃসরণ কমানোর অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জ্বালানোর প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্যোগেও ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।

    ইউরোপের কঠোর পরিবেশবিধির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ভারত

    গ্রিন হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে ইউরোপের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেখানে কোনও জ্বালানিকে পুনর্নবীকরণযোগ্য হাইড্রোজেন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড রয়েছে। ভারতীয় উৎপাদকরা সেই মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হয়েছে।

    ২০২৩ সালের অগাস্টে ভারত নিজস্ব গ্রিন হাইড্রোজেন মানদণ্ড ঘোষণা করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি কেজি হাইড্রোজেন উৎপাদনে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য নিঃসরণের পরিমাণ ২ কেজির মধ্যে থাকলেই তাকে গ্রিন হাইড্রোজেন হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এই জাতীয় মানদণ্ড বিদেশি ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। জার্মান সংস্থা হিন্টকো জিএমবিএইচ পরিচালিত এইচটু গ্লোবাল নিলামে এশীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত বরাতের একমাত্র বিজয়ী হয়েছে এএম গ্রিন।

    এই চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এএম গ্রিনের কাছ থেকে অন্তত ৫৮ কোটি ৫০ লাখ ইউরো মূল্যের পুনর্নবীকরণযোগ্য অ্যামোনিয়া কিনবে হিন্টকো। ২০২৯ সালে জার্মানিতে প্রথম দফার জ্বালানি সরবরাহ শুরু (Largest Green Hydrogen Order) হওয়ার কথা।

    এ ছাড়াও জার্মানির অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি সংস্থা ইউনিপারের সঙ্গে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তি করেছে এএম গ্রিন। অন্যদিকে, জৌনো জুলস প্রতিদিন ৬০০ টন, অর্থাৎ বছরে প্রায় ২ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের জন্য সিলেক্ট এনার্জি জিএমবিএইচের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

    ইউরোপের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রিত বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে জয়ী হওয়া শুধু আর্থিক সাফল্য নয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, ভারতীয় গ্রিন অ্যামোনিয়া আন্তর্জাতিক মানের শংসাপত্র, পরিবেশগত স্বচ্ছতা এবং সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে (Japan Germany Korea) সক্ষম।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও ভারতের প্রবেশ

    এশিয়ার আর এক গুরুত্বপূর্ণ বাজার দক্ষিণ কোরিয়া। রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ ও ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। বিশ্বের বৃহত্তম গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ চুক্তিগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। ২০২৮ সালের মধ্যে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

    জাপানের মতো দক্ষিণ কোরিয়াও জ্বালানি আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশের অভ্যন্তরে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হওয়ায় ভারতীয় গ্রিন জ্বালানি তাদের কাছে একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠছে।

    প্রতিবেশী দেশগুলির বাজারেও ভারতীয় সংস্থাগুলি নিজেদের জায়গা তৈরি করছে। শ্রীলঙ্কার সার সংস্থাকে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন মিথানল সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে অগস্ত্য। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাণিজ্য প্রতিবেশী দেশগুলিতেও আরও সম্প্রসারিত হবে।

    জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পশ্চিম ইউরোপ এবং দক্ষিণ এশিয়া—বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতের ক্রেতা তৈরি হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট দেশের বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। সরকারি ভর্তুকি এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশবিধির উপর নির্ভরশীল এই আন্তর্জাতিক বাজারে এই বৈচিত্র্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    দামের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ভারত

    কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানল সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দাম দিতে পারছে। এর ফলে ইউরোপ ও জাপানের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে (Largest Green Hydrogen Order)।

    এই শিল্পে উৎপাদন খরচই অন্যতম নির্ধারক বিষয়। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জলের তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হয়। উৎপাদন খরচের সবচেয়ে বড় অংশই বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হয়।

    ভারতে প্রচুর সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের দাম ক্রমশ কমছে। তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও সরকারি নীতিগত সহায়তা রয়েছে। এই সমস্ত সুবিধা মিলিয়ে ভারতীয় উৎপাদকরা এমন অনেক দেশের তুলনায় কম খরচে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করতে পারছেন, যেখানে বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি।

    উৎপাদনের পাশাপাশি ক্রেতার কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার খরচ কম রাখতে পারাও আন্তর্জাতিক দরপত্রে ভারতের সাফল্যের অন্যতম কারণ। এইচটু গ্লোবালের মতো সরকারি সহায়তাপুষ্ট আন্তর্জাতিক দরপত্রে মূলত দামের ভিত্তিতেই সরবরাহকারী নির্বাচন করা হয়।

    বাড়ছে গ্রিন জ্বালানির ব্যবহার

    গ্রিন হাইড্রোজেন থেকে উৎপাদিত জ্বালানির ব্যবহারও ক্রমশ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহণ শিল্পে গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানল পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ২০৫০ সালের মধ্যে জাহাজ পরিবহণ ক্ষেত্রে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় এই বিকল্প জ্বালানির চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জ্বালানোর প্রযুক্তি চালু হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সার উৎপাদন এবং পেট্রোলিয়াম পরিশোধন শিল্পেও গ্রিন হাইড্রোজেন ও তার উপজাত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। এই দুই শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমানো অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।

    দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও তৈরি হচ্ছে চাহিদা

    শুধু রফতানি নয়, দেশের অভ্যন্তরেও গ্রিন হাইড্রোজেনের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রিন হাইড্রোজেন রূপান্তরের কৌশলগত উদ্যোগের আওতায় দেশের ১১টি সার কারখানায় গ্রিন অ্যামোনিয়া উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির সম্মিলিত সরবরাহ ক্ষমতা বছরে ৬ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।

    প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত প্রচলিত অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে গ্রিন অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা সম্ভব। ভারতকে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে হয়। ফলে দেশীয় উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়ার ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভরতাও কমতে পারে।

    একই কর্মসূচির আওতায় ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং নুমালিগড় রিফাইনারির শোধনাগারগুলিতে বছরে ৩০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের প্রকল্পও বরাদ্দ করা হয়েছে।

    ভারত সার তৈরির কাঁচামাল এবং অপরিশোধিত তেলের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার বাড়ানো হলে একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যও পূরণ হবে।

    জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনে ১৯,৭৪৪ কোটি টাকার বরাদ্দ

    ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনে অনুমোদন দেয়। ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের প্রাথমিক বরাদ্দ রাখা হয় ১৯ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল কৌশলগত উদ্যোগ বা সাইট কর্মসূচির জন্য। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্রের উৎপাদন এবং গ্রিন হাইড্রোজেন তৈরিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    অবশিষ্ট অর্থ পরীক্ষামূলক প্রকল্প, গবেষণা, উন্নয়ন এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১৫টি সংস্থাকে বছরে ৩ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র উৎপাদনের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৮ লাখ ৬২ হাজার টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৫০ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষমতা তৈরি করাই এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১২৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি, ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ, ৬ লাখেরও বেশি স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং প্রতি বছর প্রায় ৫ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় হতে পারে।

    এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন

    চুক্তির পরিমাণের নিরিখে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও প্রকৃত উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক চুক্তির সরবরাহ ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা। তাই এখন প্রধান কাজ হল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করা।

    এর জন্য বৃহৎ পরিসরে পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র বসানো, উৎপাদন কেন্দ্র চালু করা এবং অ্যামোনিয়া ও মিথানল জাহাজে তোলার উপযোগী বন্দর ও সংরক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পরিকাঠামো অত্যন্ত জরুরি (Largest Green Hydrogen Order)।

    ২০২৬ সালের গোড়ায় দেশে চালু হওয়া গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন ক্ষমতা ছিল বছরে প্রায় ৮ হাজার টন। ফলে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তব উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে এখনও যথেষ্ট ব্যবধান রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১১ শতাংশের সমতুল্য সরবরাহের জন্য এখনও পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের সিংহভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আগামী দিনে আরও বিপুল পরিমাণ ক্রয়চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

    তবে ভারতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, দেশ এখন আর শুধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাজারে প্রবেশ করছে না। বরং ইতিমধ্যেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে (Japan Germany Korea) নির্দিষ্ট ক্রেতা, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের সুবিধা নিয়ে এগোচ্ছে। এই চুক্তিগুলির যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হলে আগামী দিনে বিশ্ব গ্রিন হাইড্রোজেন বাণিজ্যে অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে ভারত।

     

  • Bengal Political Violence: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারে স্থায়ী চাকরি, বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    Bengal Political Violence: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারে স্থায়ী চাকরি, বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে এবার রাজনৈতিক হিংসায় বলি পরিবারগুলির (Bengal Political Violence) একজন সদস্যকে স্থায়ী সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ২০০১ সাল থেকে গত ২৫ বছরে বিভিন্ন নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার (Suvendu Adhikari)।

    বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করার জন্য জেলাশাসকদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞাপন প্রকাশ কবে (Bengal Political Violence)

    নবান্ন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের বিষয়ে শীঘ্রই সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে পারে রাজ্য সরকার। সেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে চাকরির জন্য আবেদন জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনে নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। কোথায়, কোন সালে, কত তারিখে এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, তা উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি, পরিবারের কোন সদস্য চাকরির আবেদন করছেন, নিহতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী, তাঁর বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণও জমা দিতে হবে।

    এরপর শুরু হবে পুলিশি তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু রাজনৈতিক হিংসার কারণে হয়েছিল কি না, আবেদনে দেওয়া তথ্যের সত্যতা কতটা, তা খতিয়ে দেখবে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তদন্তের রিপোর্ট জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে জেলাশাসক পরিবারের মনোনীত একজন সদস্যের চাকরির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবেন। শেষ পর্যন্ত রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    নবান্নের একটি সূত্রের দাবি, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাউকে স্থায়ী সরকারি পদে নিয়োগের এমন সিদ্ধান্ত রাজ্যে এই প্রথম। স্বরাষ্ট্র দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, অতীতে এই ধরনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পুলিশে হোমগার্ড অথবা কনস্টেবল পদে কাজের সুযোগ দেওয়া হত। তৃণমূল সরকারের আমলে নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও নিয়োগের নজির রয়েছে। পরবর্তী সময়ে চুক্তিভিত্তিক কিছু নিয়োগও হয়েছিল। তবে এবার প্রত্যেককে চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী সরকারি কর্মী হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কী বলছে সরকার

    সরকারের যুক্তি, রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো বহু ব্যক্তির পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যুতে গোটা পরিবারকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। সেই সমস্ত পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। বাম আমলে তৃণমূল কর্মী কিংবা মাওবাদীদের হাতে নিহত সিপিএম নেতা ও কর্মীদের পরিবারের সদস্যরাও নিয়ম মেনে (Bengal Political Violence) আবেদন করতে পারবেন বলে সরকারি সূত্রে খবর। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই পুলিশি তদন্ত ও তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক।

    রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “বিজেপি সরকারে থাকলেও আমরা দলীয় বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। অতীতে কোনও সরকার এই ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। বরং শাসক দল রাজনৈতিক হত্যার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। গত ২৫ বছরে অন্তত ৪৫০ জন বিজেপি নেতা ও কর্মী খুন হয়েছেন।”

    সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন(Suvendu Adhikari), “রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে হিংসার শিকার হওয়া সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মীদের পরিবার যেন এই সুবিধা পান। কোনও রকম দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা চলবে না (Bengal Political Violence)।”

    সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে যোগ করেছে নয়া মাত্রা। উপকৃত পরিবারগুলির মুখে কবে হাসি ফোটে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Israel Election 2026: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক নেতানিয়াহু! ভোটে কারচুপি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    Israel Election 2026: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক নেতানিয়াহু! ভোটে কারচুপি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক অভিযোগ নেতানিয়াহুর! ভোটে কারচুপি ও ঘুষের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কাতারকে। ইজরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কোনও রাজনৈতিক দলই এককভাবে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী,  প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। আর আরব দলগুলি পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও ৮টি আসন দূরে রয়েছে নেতানিয়াহুর শিবির। ইজরায়েলের সংসদ নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সেখানে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনও শিবিরই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

    শিন বেটকে তদন্তের নির্দেশ

    এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, ভোটারদের ঘুষ দেওয়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইজরায়েলের রাজনীতি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি তথা সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির (CEC) চেয়ারম্যান নোয়াম সোলবার্গ নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের ‘গুরুতর সন্দেহ’ খতিয়ে দেখার জন্য ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। হিব্রু সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির অভিযোগ, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলি ভোটে কারচুপি এবং ভোটারদের ভয় দেখিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করেছে।

    ইজরায়েলের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত

    গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, সমাজমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরে নেতানিয়াহু লেখেন, “রামগেট কাণ্ড একটি ভূমিকম্পের সমান। ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করা হয়েছে। আরব দলগুলির পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ও ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে বিচারপতি সোলবার্গের মন্তব্য নজিরবিহীন ধাক্কা।” লিকুদ পার্টির বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এটি ইজরায়েলের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। এর উদ্দেশ্য বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নেসেটে প্রভাব বিস্তার, ইজরায়েলের ইসলামিকরণ এবং দক্ষিণপন্থী শাসনের অবসান ঘটানো। পাশাপাশি, ইরান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীকে (IDF) পিছিয়ে আসতে বাধ্য করার চক্রান্তও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    বিদেশি শক্তি নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায়

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি শক্তি নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ সামনে আসার পর কোনও জায়নবাদী দলেরই রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে হাত মেলানো উচিত নয়। নগদ অর্থের বিনিময়ে ভোট কিনে নেসেটের স্পিকার পরিবর্তন কিংবা ইজরায়েলের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক সরকার গঠনের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে লিকুদ পার্টি। এই ঘটনায় অবিলম্বে শিন বেট ও পুলিশকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা। বুধবার শিন বেটের প্রধান ডেভিড জিনিকে চিঠি দিয়ে বিচারপতি সোলবার্গ জানান, বিদেশি শক্তির অর্থায়নের মাধ্যমে ইজরায়েলের স্বার্থবিরোধী নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে তাঁর কাছে গুরুতর সন্দেহের তথ্য এসেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিজে নিশ্চিত নন, তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি চিঠিতে শিন বেট প্রধানকে সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের ফলাফল জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার

    এদিকে, ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম কান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র জানিয়েছে, গত দু’সপ্তাহের মধ্যে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টিতে কিছু সমস্যাজনক তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং সমস্ত তথ্য সামনে আনতে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। ‘দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল’-এ এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির ডিরেক্টর জেনারেল ডিন লিভনে। কাতারের বিদেশ মন্ত্রকও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে। তা সত্ত্বেও ইজরায়েলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    আরব সংগঠনে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার

    নিরাপত্তা সংস্থা এবং নির্বাচনী কমিশনের একাধিক সূত্রের দাবি, আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার নামে বিভিন্ন আরব সংগঠনের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার। এর মাধ্যমে ভোটের হার ও নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। দাবি করা হয়েছে, ওই সংগঠনগুলির কাছে অর্থ পাঠানোর জন্য যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল, তার সঙ্গে অতীতে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত নেটওয়ার্কের যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ফলে ইজরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

     

  • India Poverty: বিশ্বে দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের নজির ভারতে, ১২ বছরে দারিদ্র্যসীমার উপরে ৪৯.৬ কোটি মানুষ

    India Poverty: বিশ্বে দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের নজির ভারতে, ১২ বছরে দারিদ্র্যসীমার উপরে ৪৯.৬ কোটি মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দারিদ্র্য দূরীকরণে (India Poverty) উল্লেখযোগ্য সাফল্য ভারতের। বিশ্বের দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের নজির গড়েছে দেশ। বিশ্বব্যাঙ্কের (World Bank) সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৯.৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। দৈনিক ৪.২ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করা মানুষের হার ২০১১ সালে যেখানে ছিল ৫৭.৭ শতাংশ, ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬.১ শতাংশে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই হার আরও কমে ১২.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    কীভাবে সম্ভব হল এই সাফল্য?

    চরম দারিদ্র্যের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের সংজ্ঞা অনুযায়ী, দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করা মানুষের হার ২০১১ সালে ছিল ২৭.১ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে হয়েছে মাত্র ২.৬ শতাংশ। দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে। তবে উত্তরপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে এখনও দেশের মোট দরিদ্র জনসংখ্যার প্রায় ৫৭ শতাংশ বসবাস করেন। ফলে দারিদ্র্য দূরীকরণে আঞ্চলিক বৈষম্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে দারিদ্র্য কমার অন্যতম কারণ হিসেবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে অতিরিক্ত ১৩.৪ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই বৃদ্ধির হার কর্মক্ষম জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এর ফলে পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যের সংখ্যাও বেড়েছে।

    ১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন

    পাশাপাশি মানুষের ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্য ভর্তুকির সম্প্রসারণকেও দারিদ্র্য কমার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। কোভিড অতিমারির সময় ২০২০ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের অন্তত ৮১ কোটি উপভোক্তাকে প্রতি মাসে পাঁচ কেজি করে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দিয়ে আসছে। এই বিনামূল্যের রেশন প্রকল্পও দরিদ্র পরিবারগুলির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এদিকে, সরকারি পরিষেবায় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দারিদ্র্য দূরীকরণে ভারতের এই অগ্রগতিকে ১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার পথে ভারত

    তবে দারিদ্র্য হ্রাসের এই সাফল্যের পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন আয়ের কর্মীদের মধ্যে উপার্জনের ব্যবধান এখনও যথেষ্ট বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ উপার্জনকারীর আয় সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ উপার্জনকারীদের তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ভারত। সেই যাত্রাপথে দারিদ্র্য হ্রাসে এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আয়বৈষম্য দূর করা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই আগামী দিনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Amit Shah Attacks Rahul: ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত বিজেপি! আগ্রহী নয় বিরোধীরা, দাবি শাহের

    Amit Shah Attacks Rahul: ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত বিজেপি! আগ্রহী নয় বিরোধীরা, দাবি শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভোট চুরি’ বিতর্কে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য বিজেপি প্রস্তুত। কিন্তু বিরোধী দলগুলি সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়। শুক্রবার লখনউয়ে দলীয় কর্মীদের সভায় এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah Attacks Rahul)। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলেও খারিজ করেছেন তিনি। এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অমিত শাহ বলেন, “সংসদের ভিতরে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে বিজেপি প্রস্তুত। আমরা কিছু লুকোতে চাই না। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। কিন্তু বিরোধীরা সেখানে আলোচনা করতে চায় না। তারা সংসদ চলতে দেয় না, বরং হইচই করে।”

    আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে

    বিজেপির একাধিক নির্বাচনী জয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শাহ বলেন, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বিহার, দিল্লি, পুদুচেরি, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর বিরোধীরা বুঝতে পেরেছে যে তারা নির্বাচনে জিততে পারছে না। তাঁর কথায়, “কোনও দল বা টিম ম্যাচে হারলে তাদের আরও অনুশীলন করা উচিত। কিন্তু পরাজয় মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তারা আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। বলছে, ভোট চুরি হয়েছে।” অন্যদিকে, অমিত শাহের এই মন্তব্যের মধ্যেই শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘জনতার অভিশংসন’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। পাশাপাশি রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

    রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলাই লক্ষ্য

    জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেছে বিরোধী দলগুলি। এই আবহে উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রণকৌশল ঠিক করতে শুক্রবার লখনউয়ে বৈঠকে বসেছিল রাজ্য বিজেপি। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাহ। বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বিরোধীদের আক্রমণও শানান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিরোধী শিবির ভোট চুরির যে অভিযোগ তুলেছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতানেত্রীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শাহ সংসদে বিশেষ অধিবেশনের কথা বলেন। জানান, ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত তিনি। তবে তার পরেই বলেন, ‘‘রাহুল বাবা কখনওই রাজি হবেন না। সংসদে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা না-করে উনি রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা করতে চান।’’

    শাহী নিশানায় অখিলেশও

    শুধু রাহুল নন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা সাংসদ অখিলেশ যাদবকে নিশানা করেছেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘রাহুল এবং অখিলেশকে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে সংসদের ভিতরে আলোচনার জন্য আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। ওঁরা (বিরোধী) আলোচনা চান না, চান রাস্তায় নাটক করতে।’’উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে রবিবারের মিছিলে বিপুল সংখ্যায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষার লড়াইয়ের অংশ।

    কীভাবে আটকানো হয়েছে তার প্রমাণ দিক কংগ্রেস

    রাহুলের অভিযোগ, সভায় যোগ দিতে আসা মানুষজনকে দিল্লি প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন যাতে মানুষ দিল্লিতে আসতে না পারে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও আমাদের কর্মীদের আটকানো হচ্ছে। তবে সভায় আসা মানুষকে আটকানোর অভিযোগের পালটা বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “ডাহা মিথ্যে কথা বলছেন উনি। কাকে, কোথায়, কীভাবে আটকানো হয়েছে তার প্রমাণ দিক কংগ্রেস।”

    ৩০ বছরেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না

    উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে মোট ১৩.৩৯ কোটি ভোটারের নাম ‘অনুপস্থিত’, ‘স্থানান্তরিত’, ‘মৃত’ এবং ‘একাধিকবার নথিভুক্ত’ (ASDD) শ্রেণিতে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য ও ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। তবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ে থাকলে তা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন। প্রসঙ্গত, শুক্রবারের বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্ববাণী করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী ৩০ বছরেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না অখিলেশেরা। অখিলেশকে নিশানা করে শাহ বলেন, ‘‘আপনারা নিজের চেষ্টায় একটা নির্বাচনও জিততে পারেননি। রাহুল বাবার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’’

    সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই গৃহীত

    এদিকে, এসআইআর এবং ভোটার তালিকা পরিচালনা সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

     

     

     

  • Bharatiya Kisan Sangh: কলকাতায় ভারতীয় কিষান সংঘের সমাবেশে ১০ হাজারের জমায়েত, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ ২১ দফা দাবি

    Bharatiya Kisan Sangh: কলকাতায় ভারতীয় কিষান সংঘের সমাবেশে ১০ হাজারের জমায়েত, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ ২১ দফা দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের দাবিতে কলকাতায় বিশাল কৃষক সমাবেশের আয়োজন করল ভারতীয় কিষান সংঘের (Bharatiya Kisan Sangh) পশ্চিমবঙ্গ শাখা। ৩০ অক্টোবর ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে আয়োজিত ‘কৃষক সমাবেশ ২০২৬’-এ রাজ্যের ২৩টি জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার কৃষক, মহিলা কৃষক এবং সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কৃষি ও কৃষির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক পদক্ষেপের দাবি জানান (Farmers Demands) তাঁরা।

    সমাবেশের শেষে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে ২১ দফা দাবিসনদ গ্রহণ করা হয়। কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কার্যকর করা, কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন, সেচের ব্যবস্থা, সারের পর্যাপ্ত জোগান, জৈব চাষে উৎসাহ, মৎস্যচাষের উন্নয়ন এবং পশুপালকদের আর্থিক সহায়তার মতো বিষয়গুলি দাবিসনদে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় কিষান সংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি কে সাই রেড্ডি, সর্বভারতীয় মহিলা সংযোজক মঞ্জু দীক্ষিত, পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রীনিবাস, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি অনিমেষ পাহাড়ি এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশিস সরকার-সহ সংগঠনের একাধিক পদাধিকারী ও প্রতিনিধিরা।

    সমাবেশে কৃষকরা কৃষি উৎপাদন, কৃষিজ পণ্যের বিপণন এবং কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য কাজকর্মের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিদিনের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে শুধু ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করলেই হবে না। পাশাপাশি প্রয়োজন উন্নত কৃষি পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় উপকরণের সহজলভ্যতা এবং সরকারের কার্যকর সহযোগিতা।

    মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ২১ দফা দাবিসনদ পেশ (Bharatiya Kisan Sangh)

    সমাবেশের পর ভারতীয় কিষান সংঘের নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে দাবিসনদ তুলে দেওয়া হয়।

    প্রতিনিধিদলে ছিলেন কে সাই রেড্ডি, মঞ্জু দীক্ষিত, শ্রীনিবাস, অনিমেষ পাহাড়ি এবং আশিস সরকার-সহ কৃষক সংগঠনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা।

    সাক্ষাৎপর্বে প্রতিনিধিরা কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্যস্তরের সমাবেশে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলির বিষয়েও তাঁকে অবহিত করা হয়। কৃষকদের সম্মিলিত মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি এই দাবিসনদে কৃষি উৎপাদন, কৃষকদের আয় এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে (Bharatiya Kisan Sangh)।

    প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সমাজের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সংগঠনের উত্থাপিত দাবিগুলি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে যাতে কৃষকদের একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, নভেম্বর মাসে ভারতীয় কিষান সংঘের প্রতিনিধি এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের নিয়ে একটি সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

    কৃষি ও মৎস্য দফতরের সঙ্গে বৈঠক

    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত নভেম্বরের বৈঠকে কৃষি দফতর, মৎস্য দফতর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরের আধিকারিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

    ওই বৈঠকে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ এবং দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলির সম্ভাব্য সমাধানের পথ খোঁজাই হবে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংগঠনের দাবিগুলি শুধু প্রচলিত কৃষিকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে মৎস্যচাষ, পশুপালন, কৃষি গবেষণা, সেচ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের জোগানের মতো বিষয়ও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে একসঙ্গে নিয়ে আলোচনার উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠন।

    ভারতীয় কিষান সংঘের আশা, এই বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের অভিযোগ ও সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ তৈরি হবে। পাশাপাশি কৃষক সমাজ এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হবে।

    ধানের কুইন্টালপ্রতি ৩১০০ টাকা দর নিশ্চিত করার দাবি

    ২১ দফা দাবিসনদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। ভারতীয় কিষান সংঘের বক্তব্য, উৎপাদন খরচ ও কৃষকদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য দিতে হবে। শুধু ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মতো দাম নিশ্চিত করতে হবে।

    বিশেষ করে ধান কেনার ক্ষেত্রে কুইন্টালপ্রতি ৩১০০ টাকা মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠন। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত বোনাস দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এর ফলে ধানচাষিদের আয় বাড়বে এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছে সংগঠন।

    জৈব চাষের প্রসার এবং জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের জন্য সুস্থ ও কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য যাতে সহজে বাজারে পৌঁছতে পারে এবং তাঁরা যাতে উপযুক্ত দাম পান, তার জন্য বাজারের সুযোগ বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে (Bharatiya Kisan Sangh)।

    সারের কালোবাজারি বন্ধের দাবি

    কৃষকদের অন্যতম বড় সমস্যা সারের কালোবাজারি। এই পরিস্থিতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভারতীয় কিষান সংঘ। চাষের মরশুমে যাতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও অন্যান্য উপকরণ সময়মতো এবং নির্ধারিত দামে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কালোবাজারের উপর নির্ভরশীলতা এবং অতিরিক্ত দামে সার কেনার বাধ্যবাধকতা থেকে কৃষকদের মুক্তি দেওয়ার দাবি উঠেছে।

    কৃষিকাজের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিও জানিয়েছে সংগঠন। বিশেষ করে সেচের কাজে বৈদ্যুতিক পাম্প এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির উপর নির্ভরশীল কৃষকদের আর্থিক বোঝা কমাতে সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    অঞ্চলভিত্তিক সেচ ও নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও জানানো হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকার ভৌগোলিক ও কৃষিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ পরিকাঠামো এবং জল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সংগঠনের মতে, উন্নত সেচ ও নিকাশি ব্যবস্থা কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলসম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জলজনিত কারণে ফসলের ক্ষতি প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    মৎস্যচাষ ও পশুপালনের উন্নয়নেও বিশেষ নজর

    কৃষির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র মৎস্যচাষ ও পশুপালনের উন্নয়নের উপরেও গুরুত্ব দিয়েছে ভারতীয় কিষান সংঘ।

    মৎস্যচাষিদের জন্য চুন, নুন এবং জলে অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিনামূল্যে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পুকুরের জলের গুণমান বজায় রাখা, মাছের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা এবং উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উপকরণগুলির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে সংগঠন।

    কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে জমি, বীজ, সার এবং জল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে সুসংহত কৃষিনীতি প্রণয়নের দাবি উঠেছে। কৃষকদের বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে গবেষণা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়ন ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে (Farmers Demands)।

    পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার দাবিও রয়েছে ২১ দফা দাবিসনদে। সংগঠনের বক্তব্য, গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে পশুপালনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও সরকারি আর্থিক সহযোগিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন এবং কৃষি গবেষণাকে একই উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার পক্ষেই সওয়াল করেছে সংগঠন (Bharatiya Kisan Sangh)।

    কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে অঙ্গীকার

    নির্দিষ্ট দাবিগুলির পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করা, কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং কৃষক সমাজের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের বিষয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতীয় কিষান সংঘ।

    সংগঠনের তরফে উন্নতমানের বীজ, পর্যাপ্ত হিমঘর, কৃষক মান্ডির সম্প্রসারণ এবং আধুনিক কৃষি পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি কার্যকর হলে ফসল তোলার পর ক্ষতির পরিমাণ কমবে, কৃষকদের বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ বাড়বে এবং উৎপাদিত ফসলের জন্য তাঁরা আরও ভালো দাম পেতে পারবেন।

    সমাবেশে রাজ্যের ২৩টি জেলা থেকে আসা প্রায় ১০ হাজার কৃষক, মহিলা কৃষক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণকে কৃষক সমাজের সম্মিলিত ঐক্যের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে ভারতীয় কিষান সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখা। কর্মসূচিকে সফল করে তোলার জন্য অংশগ্রহণকারী কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছে (Farmers Demands) সংগঠন।

    কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি আগামী দিনেও রাজ্য সরকারের সামনে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেছে তারা। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী নভেম্বর মাসে প্রস্তাবিত সমন্বয় বৈঠকের দিকে এখন তাকিয়ে কৃষক সংগঠন। সেই বৈঠকে ২১ দফা দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পথ তৈরি হবে বলে আশা ভারতীয় কিষান সংঘের (Bharatiya Kisan Sangh)।

     

  • West Bengal: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! ভুয়ো অস্ত্রোপচার, জাল বিল, টাকার ভাগ স্বাস্থ্যকর্তাদেরও?

    West Bengal: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! ভুয়ো অস্ত্রোপচার, জাল বিল, টাকার ভাগ স্বাস্থ্যকর্তাদেরও?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছুরি-কাঁচি ছাড়াই অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে দাবি, কোথাও আবার চিকিৎসার খরচ কয়েক গুণ বাড়িয়ে জমা পড়েছে বিল। এমনকী, যে চিকিৎসা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাতেই নেই, সেই চিকিৎসার নামেও সরকারি অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে (West Bengal)। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভুয়ো কিংবা অস্তিত্বহীন স্বাস্থ্যসাথী উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে (Swasthya Sathi Project Scam) বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক ভুয়ো উপভোক্তার আড়ালে সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোর।

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর কথায়, “সবে ওপেনিং ব্যাটসম্যান নেমেছে, তাতেই ২৫-৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে। পুরো ইনিংস এখনও বাকি। এটা তো টি-২০ ম্যাচ নয়, তাই সময় লাগবে। আস্তে আস্তে দেখবেন আরও কত তথ্য বেরিয়ে আসে।”

    কীভাবে চলত দুর্নীতির কারবার? (West Bengal)

    স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে বিমা সংস্থা এবং উপভোক্তার মধ্যে সংযোগ রক্ষার কাজ করে তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থা। চিকিৎসার খরচ বাবদ দাবি যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করে তারা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই সংস্থাগুলির একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

    বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার বিলের দুই থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আদায় করত অভিযুক্ত তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থাগুলি। দাবি মতো টাকা না দিলে আটকে দেওয়া হত চিকিৎসার বিলের টাকা। এই চক্রের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কয়েক জন আধিকারিকের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। তাঁদের অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত বিল পাশ করানো সম্ভব হত না বলেও অভিযোগ।

    ৪০ হাজারের অস্ত্রোপচারে বিল ২ লাখ টাকা!

    প্রতিটি অস্ত্রোপচারের জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে নির্দিষ্ট আর্থিক প্যাকেজ রয়েছে। অভিযোগ, সেই প্যাকেজের অঙ্ক বাড়িয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দাবি করত কিছু নার্সিংহোম। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে, ৪০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচারের প্যাকেজকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। নার্সিংহোমের তরফে বেশি টাকার আবেদন জমা পড়ার পর স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের অনুমোদনে তা পাশ হয়ে যেত বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ ভাগ হয়ে যেত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে।

    এখানেই শেষ নয়। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের নির্ধারিত চিকিৎসা প্যাকেজের বাইরে থাকা কিছু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সরকারি অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রোগীর অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে দেখিয়েও বিল জমা দেওয়া হত বলে (West Bengal) অভিযোগ।

    একজনের অস্ত্রোপচারে চারজনের কার্ড ব্যবহার!

    দুর্নীতির অভিযোগের আরও একটি চাঞ্চল্যকর দিক সামনে এনেছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠন। সংগঠনের প্রতিনিধি চিকিৎসক রাজীব পাণ্ডের বক্তব্য, একটি পরিবারের চার সদস্যের নাম স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নথিভুক্ত ছিল। পরিবারের একজন সদস্যের অস্ত্রোপচার হলেও বাকি তিনজনের নামও প্রকল্পের আওতায় ব্যবহার করে আটকে দেওয়া হত। ওই পরিবারের অন্য সদস্যদের নার্সিংহোমে অতিথি হিসেবে থাকার ব্যবস্থাও করা হত বলে অভিযোগ।

    অভিযোগ, বাস্তবে ২০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচার হলেও ভুয়ো অস্ত্রোপচারের হিসাব দেখিয়ে বিল তৈরি করা হত ৮০ হাজার টাকার। অর্থাৎ, প্রকৃত চিকিৎসার খরচের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা হত।

    ২৫ লাখেরও বেশি ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান?

    সম্প্রতি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের উপভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাই করতে গিয়ে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা শুরু করেছে প্রশাসন। সেই যাচাইয়ের কাজেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন উপভোক্তার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি।

    মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল বৃহস্পতিবার এই অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, অস্তিত্বহীন উপভোক্তাদের নামেও বছরের পর বছর সরকারি কোষাগার থেকে বিমার প্রিমিয়াম বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ লাখ ভুয়ো বা অদৃশ্য উপভোক্তার কারণে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, উপভোক্তা যাচাইয়ের সূত্রে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভুয়ো কার্ডের সন্ধান পাওয়ার দাবিও সামনে (West Bengal) এসেছে।

    নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বেসরকারি হাসপাতাল সংগঠনের

    এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম। সংগঠনের সভাপতি অভিজিৎ মণ্ডল এবং সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত করে অভিযুক্ত হাসপাতাল, নার্সিংহোম, তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, যে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তা উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে (Swasthya Sathi Project Scam) হবে।

    সংগঠনের বক্তব্য, কেবল অভিযুক্ত কোনও সংস্থাকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে বাদ দিলেই দায় শেষ হয়ে যায় না। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা জরুরি।

    স্বাস্থ্যসাথী-আয়ুষ্মান ভারত বাতিলের দাবি চিকিৎসক সংগঠনের

    অন্যদিকে, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার বিরোধিতা করে স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত—দুই প্রকল্পই বাতিলের দাবি তুলেছে সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের দাবি, গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে।

    তাঁদের মতে, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য প্রকল্পের পরিবর্তে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়ানোর কাজে ব্যয় করা উচিত। তাতে রাজ্যের সমস্ত মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। সংগঠনের অভিযোগ, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলির অন্যায্য মুনাফার সুযোগ বাড়ছে (Swasthya Sathi Project Scam)।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তা, অতিরিক্ত বিল, অস্তিত্বহীন অস্ত্রোপচার এবং সরকারি আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নির্ধারণ করতে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের। সরকারি অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে তা উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে (West Bengal), এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলের।

     

LinkedIn
Share