Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Elder Abuse: জীবন বাড়ছে, সম্মান কমছে! প্রতি ৬ জনে ১ প্রবীণ হেনস্থার শিকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে উদ্বেগ

    Elder Abuse: জীবন বাড়ছে, সম্মান কমছে! প্রতি ৬ জনে ১ প্রবীণ হেনস্থার শিকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে উদ্বেগ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জীবন যাপনের সময় বেড়েছে! আধুনিক চিকিৎসা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার জেরে দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকার সুযোগ বেড়েছে! কিন্তু জীবন যাপনের মান বেড়েছে কি? এই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে সাম্প্রতিক তথ্য! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে প্রকাশিত এক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মানুষের জীবনকাল বাড়লেও, প্রৌঢ় বয়সে তাঁদের জীবন যাপনের মান বাড়েনি। বরং বিশ্ব জুড়ে বয়স্কদের হেনস্থার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে! যার ফলে, তাদের জীবন যাপন আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব তাঁদের স্বাস্থ্যের উপরেও পড়ছে। তাই ১৫ জুন ওয়ার্ল্ড ওল্ডার অ্যাবিউজ অ্যাওয়ারনেস ডে-তে বিশ্ব জুড়ে নানান সচেতনতা কর্মশালার আয়োজন হয়েছে। হেনস্থা হলে কী করতে হবে, সেই সম্পর্কে জানানোর পাশপাশি এ বছরে জোর দেওয়া হয়েছে, হেনস্থা হওয়ার আগেই কীভাবে সবকিছু আটকে দেওয়া যায়।

    কী বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সমস্ত দেশেই প্রবীণ নাগরিকদের উপরে হেনস্থা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। অর্থাৎ ৬০ বছরের উর্ধ্বে বয়স্ক মানুষেরা নানান ভাবে হেনস্থার শিকার হন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি ৬ জন প্রবীণ নাগরিকের মধ্যে ১ জন হেনস্থার শিকার হন। আমেরিকা এবং ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতেও প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। তবে বাদ নেই ভারত! প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কাজ করা এক সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের ১১ শতাংশের বেশি প্রবীণ নাগরিক হেনস্থার শিকার হন। যা তাঁদের স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলে। সমাজের পক্ষেও এই ঘটনা ঠিক নয়।

    কী ধরনের হেনস্থা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে, সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছেন, অধিকাংশ হেনস্থা হয় মানসিক। একাধিক ঘটনায় দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ বয়স্ক মানুষ পরবর্তী প্রজন্মের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারেন না। ফলে এক ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়। প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গেও মানিয়ে চলতে পারেন না। ফলে তাঁদের অধিকাংশ কাজ করতে অনেকটা সময় লাগে‌। বুঝতেও সময় লাগে‌। অনেক সময়েই তাঁদের ‘বোঝা’ উপলব্ধি করানো হয়। তার ফলে তাঁরা নানান মানসিক সমস্যার শিকার হন। তাঁদের মধ্যে একাকিত্বের সমস্যা বাড়ে‌‌। তাঁরা মানসিক অবসাদে ভোগেন। এগুলো মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি করে। এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। মনে রাখার শক্তি হ্রাস পায়। অ্যালজাইমারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে। আবার অনেক সময়েই পরিবারের প্রবীণ মানুষদের দিনের অধিকাংশ সময় একা থাকতে হয়। এর ফলে তাঁদের মধ্যে একটা একাকিত্ব গ্রাস করে। এর ফলেও নানান স্নায়ুঘটিত সমস্যা তৈরি হয়।

    সাইবার অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণার শিকার বয়স্করা

    অনেক সময়েই পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি হেনস্থার জন্য দায়ী বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পেশাগত জীবনে অবসর নেওয়ার পরে বহু মানুষ নানান মানসিক জটিলতায় ভোগেন। তাঁরা নিজেদের কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। অনেক সময়েই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। এর ফলে পরিবারে অনেক সময় গুরুত্ব কমতে থাকে। এই গুরুত্ব হারিয়ে ফেলা, তাঁদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। তাঁরা যেকোনো কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে প্রতি দিনের স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য অন্যের উপরে নির্ভর হয়ে পড়েন। এর জেরে তাঁদের হেনস্থার সুযোগ বাড়ে‌। এছাড়াও বিশ্ব জুড়ে প্রৌঢ় হেনস্থার অন্যতম দিক হল আর্থিক হেনস্থা। এমনটাই জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবারের প্রৌঢ় সদস্যের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্পত্তি নিয়ে নেওয়া হয়। আবার বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বয়স্কদের প্রযুক্তিগত বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত না থাকার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় তাঁদের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা করা হচ্ছে। এগুলো বয়স্কদের আর্থিক ও শারীরিক ভাবে ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    হেনস্থা বন্ধের জন্য কী পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল?

    বিশ্ব জুড়ে চলতে থাকা প্রবীণ নাগরিকদের হেনস্থার ঘটনায় নানান আইনি সাহায্য রয়েছে। ভারতেও একাধিক শক্তিশালী আইন রয়েছে। যে আইনের সাহায্যে বয়স্ক মানুষদের হেনস্থাকারীদের শাস্তি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, হেনস্থা হলে কী কী করতে হবে, সেদিকে নজর দেওয়ার পাশপাশি সমান গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে হেনস্থার ঘটনা না ঘটে। তাঁরা জানাচ্ছেন, হেনস্থা কীভাবে আটকানো যায়, সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি। আর্থিক প্রতারণা আটকাতে প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে আরো বেশি কর্মশালা জরুরি। প্রযুক্তিগত একাধিক বিষয়ে, তাঁরা অবগত থাকেন না। ফলে, নানানভাবে প্রতারিত হতে পারেন। তাই তাঁদের সতর্ক করতে নানান কর্মশালা জরুরি। সম্পত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও, তাঁরা কোনো রকম হেনস্থার শিকার হলে, কী কী আইনি সাহায্য নেবেন, সে সম্পর্কে অবগত থাকা জরুরি।

    বয়স্কদের বন্ধু থাকা জরুরি

    মানসিক হেনস্থা রুখতে নিজেদের কমিউনিটি গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বয়স্কদের হেনস্থার অন্যতম কারণ একাকিত্ব। তাঁদের সঙ্গে কেউ নেই, এই ভাবনা থেকেই হেনস্থার ঘটনা ঘটছে।‌ তাই বয়স্কদের বন্ধু থাকা জরুরি। যাতে তাঁদের মনের কথা প্রকাশের জায়গা থাকে। তাহলেই অবহেলা বোধ কমবে। দিনের কিছুটা সময় নিজেদের মতো, নিজের বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো জরুরি। এতে আত্মবিশ্বাস বজায় থাকে। একাকিত্বের বোঝাও কমবে। এর ফলে মানসিক অবসাদের ঝুঁকিও কমবে‌। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর উপরে বাড়তি বোঝা পড়বে না। একাধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে‌। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক চিকিৎসা দীর্ঘ জীবনের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু জীবন যাপনের মান বাড়াতে সামাজিক পরিবর্তন জরুরি। প্রৌঢ়কালেও নিজেদের মতো ভালো থাকা যায়, এই আত্মবিশ্বাস জরুরি। বয়স বাড়লেই, অন্যের বোঝা নয়, এই অনুভব করানো প্রয়োজন। তবেই তাঁরা মানসিকভাবে ভালো থাকবেন। মানসিক চাপ ও অবসাদ কমলেই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্নায়ুর সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো একাধিক রোগের ঝুঁকি কমবে‌। ভোগান্তি কমবে। স্বাস্থ্য সঙ্কট কমবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Women’s T20 World Cup 2026: মেয়েদের টি২০ বিশ্বকাপে রবিবার মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান

    Women’s T20 World Cup 2026: মেয়েদের টি২০ বিশ্বকাপে রবিবার মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেয়েদের টি২০ বিশ্বকাপে রবিবার মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। ক্রিকেটের মহাযুদ্ধের মঞ্চে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। মহিলা টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ (Women’s T20 World Cup 2026)-এর গ্রুপ-১-এর এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে রবিবার বার্মিংহামের ঐতিহ্যবাহী এজবাস্টন স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের (India-Pakistan) বিরুদ্ধে মাঠে নামছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। ‘উইমেন ইন ব্লু’-দের এই হাই-ভোল্টেজ অভিযানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, আজ, শনিবার সন্ধে ৭টা ৩০টায় শুরু হবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ।

    বিশ্বজয়ের লক্ষ্য হরমনপ্রীতদের (Women’s T20 World Cup 2026)

    গত বছর ওয়ান-ডে বিশ্বকাপ জিতে দীর্ঘদিনের আইসিসি ট্রফির খরা কাটিয়েছে ভারত (India-Pakistan)। এবার সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই ২০ ওভারের বিশ্বমঞ্চে ট্রফি (Women’s T20 World Cup 2026) জয়ের অধরা স্বপ্ন পূরণ করতে নামছেন হরমনপ্রীত কৌর এবং স্মৃতি মন্ধনারা। এর আগে ভারতীয় দল পাঁচবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলেও এবং একবার ফাইনালে খেললেও ট্রফি ঘরে তুলতে পারেনি। এবার সেই অপ্রাপ্তি ঘোচাতে মরিয়া দল।

    পরিসংখ্যানের লড়াইয়ে ভারত এগিয়ে

    যদিও আইসিসি (Women’s T20 World Cup 2026) র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ নম্বরে থাকা ভারতের সাম্প্রতিক ফর্ম কিছুটা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তবুও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে তারা। হেড-টু-হেড রেকর্ডের দিকে তাকালে দেখা যাবে, দুই দলের মধ্যে হওয়া ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ১৩টিতে, আর পাকিস্তান জয় পেয়েছে মাত্র ৩টি ম্যাচে। তবে বিশ্বকাপে ভারতের ৬টি জয়ের বিপরীতে পাকিস্তানের (India-Pakistan) যে ৩টি জয় রয়েছে, তার মধ্যে ২টি-ই এসেছে এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে। ফলে র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বরে থাকা পাকিস্তানকেও হালকাভাবে নিচ্ছে না ভারতী।

    সরাসরি সম্প্রচার

    ভারতের (India-Pakistan) ক্রিকেট অনুরাগীরা এই টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি টেলিভিশনে স্টার স্পোর্টস (Star Sports) নেটওয়ার্কের বিভিন্ন চ্যানেলে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ‘জিওহটস্টার’ (JioHotstar)-এর মাধ্যমে সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিং দেখতে পাবেন। এই হাই-প্রোফাইল ম্যাচের (Women’s T20 World Cup 2026) মধ্যে দিয়ে ভারত বিশ্বকাপে সূচনা করতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে ক্রীড়ামোদীরা।

  • Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চাপ বাড়ছেই, এবার মৌলবাদী হুমকির মুখে থমকে গেল রামের মূর্তি নির্মাণ

    Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চাপ বাড়ছেই, এবার মৌলবাদী হুমকির মুখে থমকে গেল রামের মূর্তি নির্মাণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের আরও এক উদ্বেগজনক ছবি চলে এল সামনে। কট্টরপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলির তীব্র বিরোধিতা, উস্কানিমূলক বিক্ষোভ এবং হিংসাত্মক হুমকির মুখে একটি মন্দিরে শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি (Bhagwan Ram Murti) নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন উদ্যোক্তারা। ঘটনাটি ওপার বাংলায় হিন্দুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

    উল্লেখ্য, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে লাখ লাখ হিন্দুর জীবন অস্তিত্বের সঙ্কটে। লাগাতার মৌলবাদীদের আক্রমণের খাঁড়া নেমে এসেছে সে দেশের হিন্দুদের ওপরে। মন্দির, মঠ, সম্পত্তি, বাড়ি, দোকান সব কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে, আগুন লাগিয়ে হত্যা কিংবা ধর্ষণের মতো নানা ঘটনা ঘটানো হয়। এর জেরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক জিয়া চেয়ারে বসলেও, জামাতের মৌলবাদী কার্যকলাপ থেকে বাংলাদেশ এখনও মুক্ত হতে পারেনি।

    ঘটনার সূত্রপাত ও মৌলবাদী তৎপরতা (Bangladesh)

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের (Bangladesh) একটি ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দিরের অভ্যন্তরে সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব উদ্যোগে এবং ধর্মীয় রীতি মেনে ভগবান রামের একটি মূর্তি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এই নির্মাণকাজের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কোমর বেঁধে মাঠে নামে স্থানীয় বেশ কয়েকটি উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী ইসলামি সংগঠন। মসজিদ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই মূর্তি নির্মাণের বিরুদ্ধে তীব্র উস্কানিমূলক প্রচার শুরু হয়।

    পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে যখন মৌলবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে মন্দির প্রাঙ্গনের (Bhagwan Ram Murti) বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে হুমকি দেয় যে, যদি অবিলম্বে রামমূর্তির নির্মাণের কাজ বন্ধ করা না হয়, তবে মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। মন্দিরের পুরোহিত এবং মূর্তি গড়ার কারিগরদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

    প্রশাসনের ভূমিকা ও হিন্দুদের আতঙ্ক

    ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। যদিও উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে প্রশাসন মন্দির কমিটিকে রামমূর্তি (Bhagwan Ram Murti) নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। প্রশাসনের (Bangladesh) এই একতরফা সিদ্ধান্তে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর হতাশা, ক্ষোভ এবং তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক হিন্দু নেতা বলেন, “আমরা আমাদের নিজস্ব উপাসনালয়ে, নিজেদের অর্থ ও জমিতে আরাধ্য দেবতার মূর্তি স্থাপন করতে পারছি না। প্রশাসনের এই নির্দেশ আসলে মৌলবাদীদের অন্যায় দাবির কাছে মাথানত করার শামিল। এভাবে চলতে থাকলে এ দেশে আমাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

    ধারাবাহিক হিন্দু-বিদ্বেষের প্রতিফলন

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে (Bangladesh) রামমূর্তি নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ওপার বাংলায় হিন্দু বিরোধী হিংসা, মঠ-মন্দির (Bhagwan Ram Murti) ভাঙচুর, উৎসব পালনে জোরপূর্বক বাধা দেওয়া এবং প্রতিমা অপবিত্রকরণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কট্টরপন্থীদের এই ক্রমবর্ধমান দাপট এবং তাদের প্রতি প্রশাসনের পরোক্ষ নমনীয়তা দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    আন্তর্জাতিক স্তরে নিন্দার ঝড়

    এই ঘটনার নিন্দা করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সনাতনী সংগঠন বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু নাগরিকরা যদি নিজেদের ধর্মীয় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার এবং পূর্ণ নিরাপত্তা-সহ মূর্তির (Bhagwan Ram Murti) কাজ ফের শুরু করার দাবিও জানানো হয়েছে।

    ভবিষ্যতের অন্ধকার মেঘ

    বর্তমানে ওই মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হলেও, হিন্দুদের (Bhagwan Ram Murti) মন থেকে ভয় দূর হচ্ছে না। রামমূর্তির এই অসমাপ্ত কাঠামোটি এখন বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দুদের বিপন্ন অস্তিত্ব এবং হারিয়ে যাওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার এক নীরব প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওপার বাংলার বর্তমান সরকার এই ক্রমবর্ধমান মৌলবাদ দমন করে হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে পারবে কি না, আপাতত তা-ই তুলে দিয়েছে এক অতিকায় প্রশ্নচিহ্ন।

  • Amul: পশ্চিমবঙ্গে আমূলের ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প! রবিবার কারখানার শিলান্যাস, আসতে পারেন শাহ

    Amul: পশ্চিমবঙ্গে আমূলের ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প! রবিবার কারখানার শিলান্যাস, আসতে পারেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাটতে চলেছে রাজ্যে শিল্পায়নের খরা! বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হতেই হইহই করে শুরু হয়ে গেল শিল্পায়নের কাজ। পশ্চিমবঙ্গে দুগ্ধ শিল্পের হতশ্রী দশা ঘোচাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করল দেশের শীর্ষস্থানীয় দুগ্ধ সমবায় সংস্থা ‘আমূল’ (Amul)। রাজ্যের শিল্প ও কৃষি অর্থনীতিতে বড়সড় গতি আনতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (৭৪.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে (700-cr Dairy Plant) একটি অত্যাধুনিক ডেয়ারি প্ল্যান্ট তৈরি করতে চলেছে তারা। ১৪ জুন, রবিবার এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস হবে। উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তিনিই এই প্রকল্পের সূচনা করবেন বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। প্রথমে বাম জমানা এবং পরে তৃণমূলের গত ১৫ বছরের রাজত্বে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজ্যে দেখা দেয় শিল্পের খরা। বঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার আসতেই কাটতে চলেছে হা-শিল্প দশা। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য সূচনা বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    শিল্পের নয়া গন্তব্য হাওড়া (Amul)

    গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF), যারা ‘আমূল’ (Amul) ব্র্যান্ডের পরিচালক, তারা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় এই বিশাল প্ল্যান্টটি গড়ে তোলা হবে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে হাওড়াকেই এই বিনিয়োগের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি কারখানা নয়, বরং এটি পূর্ব ভারতের দুগ্ধ বিপণন ব্যবস্থার প্রধান কেন্দ্র (Hub) হিসেবে কাজ করবে।

    উৎপাদন ক্ষমতায় বড় চমক

    আমূল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্ল্যান্টটি যখন পূর্ণ মাত্রায় কাজ শুরু করবে, তখন এর উৎপাদন ক্ষমতা হবে ঈর্ষণীয়। ‘আমূল’ (Amul) জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ লিটার তরল দুধ প্রক্রিয়াকরণ করার ক্ষমতা থাকবে এই কেন্দ্রে। তবে শুধু তরল দুধ নয়, বাঙালির খাদ্যতালিকায় দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখানে প্রতিদিন ১০ লাখ কেজি দই, মিষ্টি দই, ইয়োগার্ট, লস্যি এবং ঘোল বাটারমিল্ক (700-cr Dairy Plant) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের এই বিশাল পরিকাঠামো রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে টাটকা ও উন্নতমানের দুগ্ধজাত পণ্য পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা পালন করবে।

    কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব

    এই ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ (700-cr Dairy Plant) পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে এক ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পটি সরাসরি কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন রাজ্যের হাজার হাজার দুগ্ধ খামারি ও পশুপালক। ‘আমূল’ (Amul)-এর সমবায় মডেল অনুযায়ী, স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করা হবে, যার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের জোগান বাড়বে এবং পশুপালকরা তাঁদের পণ্যের ন্যায্য ও সঠিক মূল্য নিশ্চিতভাবে পাবেন।

    প্রযুক্তির মেলবন্ধন ও ‘সরলাবেন’

    ‘আমূল’ (Amul) কেবল ইঁট-পাথরের কারখানা তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকছে না, দুগ্ধ চাষের আধুনিকীকরণে তারা নিয়ে আসছে এআই (AI) প্রযুক্তি। দুগ্ধ খামারিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে তারা ‘সরলাবেন’ (Sarlaben) নামক একটি এআই-চালিত ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সেবা চালু করতে চলেছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পশুপালকরা পশুর স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং দুধের গুণমান (700-cr Dairy Plant) বৃদ্ধি সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যার সমাধান নিমেষের মধ্যে ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন।

    পূর্ব ভারতে আমূলের মাস্টারপ্ল্যান

    গত কয়েক বছর ধরেই ‘আমূল’ (Amul) উত্তর ও পূর্ব ভারতে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল। পশ্চিমবঙ্গের এই ৭০০ কোটি টাকার (700-cr Dairy Plant) প্রকল্প সেই পরিকল্পনারই অংশ। এর মাধ্যমে তারা বিহার, ওডিশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে তাদের সাপ্লাই চেন আরও মজবুত করতে পারবে।

    শিল্পায়নের পথে বড় মাইলফলক

    সব মিলিয়ে, ১৪ জুনের এই শিলান্যাস অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের পথে এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে। একদিকে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং অন্যদিকে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ—এই দুইয়ের মিশেলে আমূল রাজ্যে এক নতুন দুগ্ধ বিপ্লবের ডাক দিয়েছে। রাজ্যে তৃণমূলের বিসর্জন হতেই একের পর এক বিনিয়োগ আসছে বলে মনে করছে বিজেপির একটা বড় অংশ। সিঙ্গুর থেকে টাটা বিতাড়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে শিল্পায়নের কফিনে পোঁতা হয়ে গিয়েছিল শেষ পেরেকটি। তৃণমূলের আমলে বছর বছর ঘটা করে বিশ্ব বাণিজ্য সম্মলেন হলেও, তার ছাপ বিশেষ পড়েনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বঙ্গে শিল্প এবং কর্মসংস্থান নিয়ে ব্যাপক আলো দেখিয়ে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। টাটাকে বাংলায় এনে ফের কারখানা গড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে পদ্ম সরকার।

  • India’s Protest: ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর নয়া নাটক! মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে সরব ভারত, পিঠ বাঁচাতে পাল্টা দাবি ট্রাম্পের

    India’s Protest: ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর নয়া নাটক! মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে সরব ভারত, পিঠ বাঁচাতে পাল্টা দাবি ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে ওমান উপসাগর এলাকায় ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার— এমটি মার্টিভেক্স (MT Marivex), এমটি সেটেবলো (MT Settebello) এবং এমটি জলভীর (MT Jalveer)— হামলার মুখে পড়ে। এর মধ্যে এমটি সেটেবলো-তে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই দু’বার মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করেছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের উপর এই ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।

    ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

    গত চার-পাঁচ দিনে ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মার্কিন বাহিনীর এই ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত। মার্কিন হানার তীব্র নিন্দা করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার এই ঘটনা নিয়ে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি হামলার তীব্র নিন্দাও করেছেন জয়শঙ্কর। গত বুধবার নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে তলবও করা হয়। কিন্তু তার পরেও বৃহস্পতিবার আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ১২ জুন এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানান, তিনি মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন। জয়শঙ্কর লেখেন, “ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু নিয়ে ভারতের তীব্র আপত্তির কথা আমি পুনরায় জানিয়েছি। বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রাণঘাতী পদক্ষেপ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা দাবি

    ভারতের কড়া অবস্থানের পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান নাকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলির উপর একাধিক ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল। মার্কিন বাহিনী সেই সমস্ত ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। সেন্টকম (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ইরান একাধিক একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছিল। মার্কিন বাহিনী সবকটি ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।” এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ইরানের লক্ষ্য ছিল ‘ভারতীয় জাহাজ’। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলি ভারতের মালিকানাধীন ছিল না। এমটি জলভীর (MT Jalveer) ছিল গিনি-বিসাউ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার এবং এমটি মার্টিভেক্স (MT Marivex) ও এমটি সেটেবলো (MT Settebello) ছিল পালাউ-নিবন্ধিত জাহাজ। যদিও ওই জাহাজগুলির ক্রুদের মধ্যে বহু ভারতীয় নাবিক ছিলেন।

    ট্রাম্পের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

    আরব দুনিয়ায় উত্তেজনার আবহে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী ছেড়ে বেরিয়ে আসা ভারতীয় জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে মানববিহীন উড়ন্ত যানের মাধ্যমে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল ইরান। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আগের রাতে ভারতীয় জাহাজগুলির বিরুদ্ধে যে হামলার চেষ্টা হয়েছিল, তা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধু জাহাজে হামলার অভিযোগই নয়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও কড়া ভাষায় সরব হয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যে খসড়া সমঝোতার কথা ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, তার সঙ্গে প্রকৃত আলোচনার কোনও মিল নেই। ইরানের বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে সদিচ্ছার ভিত্তিতে আলোচনা করা অত্যন্ত কঠিন।

    ট্রাম্পের দাবি খারিজ করল ইরান

    তবে, মার্কিন দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ভারতে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট এক বিবৃতিতে বলেছে, “হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে— মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গত এক সপ্তাহে তিনটি জাহাজে হামলা ও তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।” ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তেহরান আরও দাবি করেছে, ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনার দায় এড়াতেই নতুন এই অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।

    উত্তপ্ত হরমুজ ও ওমান উপসাগর

    বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগর ঘিরে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে সামরিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ভারত শুরু থেকেই সংঘাতের বদলে শান্তি ও সংলাপের পক্ষে সওয়াল করে আসছে। এদিকে ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও নৌ-নিরাপত্তার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি এবং ইরানের পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে সত্যতা নিয়ে এখনও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতময় পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

     

     

     

     

  • El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই বর্ষা। তার আগে এক বড় আশঙ্কার কথা শোনাল ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। শুধু তাই নয়, সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছর বর্ষার মরশুম (Weather Update) যত এগোবে, এটি আরও বেশি শক্তিশালী ও দাপুটে হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির জেরে ভারতে বর্ষার মানচিত্র পুরো বদলে যেতে পারে। এর জেরে বিলম্বিত বর্ষা থেকে, কম বৃষ্টিপাত ও অসময়ে অতিবৃষ্টির সঙ্কট তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রাণান্তকর গরমে ছটফট করতে পারে মানুষ।

    ভারতে বর্ষার উপর এল-নিনো-র প্রভাব

    দেশে বর্ষার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কথা জানাল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আইএমডি-র বুলেটিন অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (Sea Surface Temperatures) স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ‘এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম করে গিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, সমুদ্রপৃষ্ঠের এই উষ্ণায়নের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলও সমান্তরালভাবে সাড়া দিতে শুরু করেছে। এর অর্থ, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের এই যৌথ বা কাপল্ড সিস্টেমটি এখন সম্পূর্ণভাবে ‘এল নিনো’র গ্রাসে চলে গিয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো (El Nino) পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    আরও শক্তিশালী হবে ‘এল নিনো’

    মৌসম ভবনের বুলেটিনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বর্তমানে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এটি আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মাসগুলিতে ‘এল নিনো’র তীব্রতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জুন ২০২৬-এ মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ‘এল নিনো’র জন্য নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক তথা ‘নিনো ৩.৪ ইনডেক্স’ (Niño 3.4 index)-এর গত তিন মাসের গড় তাপমাত্রা +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে গিয়েছে, যা ‘এল নিনো’র আনুষ্ঠানিক আগমনকে সিলমোহর দেয়। এ ছাড়াও, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশেও তাপমাত্রার ব্যাপক অসঙ্গতি বা উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার অর্থ গভীরের এই গরম জল আগামী দিনগুলিতে অনবরত সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে এসে ‘এল নিনো’কে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলবে।

    দেশে বর্ষার উপর কী প্রভাব?

    সাধারণত ‘এল নিনো’ হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের অতিরিক্ত উষ্ণায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতের আবহাওয়ার ইতিহাসে এই ‘এল নিনো’র রেকর্ড মোটেও ভাল নয়। ঐতিহাসিকভাবে, ‘এল নিনো’ সক্রিয় থাকলে ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কমে যায়। এর ফলে দেশের একাধিক রাজ্যে তীব্র দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মরশুম এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভয়াবহ খরার (Drought) ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তবে আইএমডি জোর দিয়ে বলেছে যে, ভারতের বর্ষা কেবল ‘এল নিনো’র ওপর নির্ভর করে না, অন্যান্য অনেক আঞ্চলিক উপাদানও এর সঙ্গে জড়িত।

    ‘এল নিনো’ কী?

    সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে চলা হাওয়া গরম জলকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু কয়েক বছর পরপর এই হাওয়া দুর্বল হয়ে পড়লে গরম জল উল্টো অভিমুখে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের দিকে চলে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের এই অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার চেনা নামই হল ‘এল নিনো’। গ্রীষ্মকালে ভারতের ভূখণ্ড প্রচণ্ড উত্তপ্ত হলে ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস দেশের দিকে ছুটে আসে, যা বর্ষা ডেকে আনে। কিন্তু এল নিনো এই বাতাসের গতিপথকে ভারত থেকে দূরে, প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ফলে মেঘ ও বৃষ্টির চাকা থমকে যায়। তথ্য বলছে, ১৯৫১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে হওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ এল নিনোর বছরগুলিতেই ভারতে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশ কমে গিয়েছিল।

    ভারতের নিজস্ব ‘রক্ষাকবচ’

    এল নিনো এলেই যে খরা হবে, তা নয়। অনেক সময় ভারতের ত্রাতা হয়ে ওঠে ভারত মহাসাগর নিজেই। একে বলা হয় ‘ইন্ডিয়ান ওশেন ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD)।

    • পজিটিভ আইওডি : যখন পূর্ব আফ্রিকার উপকূলবর্তী পশ্চিম ভারত মহাসাগর উত্তপ্ত হয় এবং ইন্দোনেশিয়ার দিকের পূর্ব অংশ শীতল থাকে। এই পরিস্থিতি এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে রুখে দিয়ে ভারতে বাড়তি বৃষ্টির জোগান দেয়।
    • নেগেটিভ আইওডি: এর উল্টো পরিস্থিতি বর্ষাকে আরও দুর্বল করে। ২০০২ এবং ২০১৫ সালের মতো এল নিনো ও নেগেটিভ আইওডির যুগলবন্দি ভারতের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ খরা ডেকে এনেছিল।
    • নিরপেক্ষ আইওডি: আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ভারত মহাসাগরে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD) পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ‘নিরপেক্ষ’ বা নিউট্রাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা জুড়েই এই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা। নিরপেক্ষ আইওডি থাকার অর্থ হল – এটি এবার ‘এল নিনো’র ক্ষতিকারক প্রভাবকে কমাতেও পারবে না, আবার বাড়িয়ে তুলতেও ভূমিকা নেবে না।
  • Elon Musk: বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক, রেকর্ড গড়ে শেয়ার বাজারে পা রাখল স্পেসএক্স, মূল্যায়ন ছাড়াল ২ লক্ষ কোটি ডলার

    Elon Musk: বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক, রেকর্ড গড়ে শেয়ার বাজারে পা রাখল স্পেসএক্স, মূল্যায়ন ছাড়াল ২ লক্ষ কোটি ডলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের শীর্ষ জায়ান্ট ‘স্পেসএক্স’ (SpaceX) বিশ্ব শেয়ার বাজারে তাদের প্রথম পা রেখেই এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার ইতিহাসের বৃহত্তম ‘আইপিও’ (Initial Public Offering) বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব সম্পন্ন করে নাসদাক (Nasdaq) এবং নাসদাক টেক্সাসে এসপিসিএস্ক (SPCX) টিকারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ইলন মাস্কের এই প্রতিষ্ঠানটি।

    শেয়ারের দাম ২২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১৬৫ ডলারে পৌঁছায় (Elon Musk)

    আইপিও-তে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩৫ ডলার। এর মাধ্যমে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলার পুঁজি সংগ্রহ করে স্পেসএক্স (SpaceX), যার ফলে শুরুতেই কোম্পানির মোট বাজার মূল্যায়ন দাঁড়ায় প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

    শুক্রবার সকালে বাজার খোলার পর থেকেই স্পেসএক্সের শেয়ারের ব্যাপক চাহিদা দেখা যায়। প্রথম দিনেই শেয়ারের দাম ২২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১৬৫ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে কোম্পানির সামগ্রিক বাজার মূল্য ২ ট্রিলিয়ন (২ লাখ কোটি) ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়, যা বিশ্বের একাধিক বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। আর এই অভাবনীয় সাফল্যের হাত ধরেই স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক (Elon Musk) বিশ্বের প্রথম অফিশিয়াল ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ (১ লাখ কোটি ডলারের মালিক) হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালেন।

    শুক্রবার সকালে শেয়ার বাজারের উদ্বোধনী ঘণ্টা বাজিয়ে এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা করেন ইলন মাস্ক এবং স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট ও সিওও (COO) গোয়েন শটওয়েল। এ সময় মাস্ক টেক্সাস থেকে এবং শটওয়েল নিউ ইয়র্কের নাসদাক কেন্দ্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।

    মোট রাজস্ব আয় ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার

    ২০০২ সালে যখন স্পেসএক্স যাত্রা শুরু করেছিল, তখন মানবজাতিকে বহু-গ্রহের বাসিন্দা (multiplanetary) করার স্বপ্নকে অনেকেই দুঃসাহসিক বা অসম্ভব বলে মনে করেছিলেন। গত দুই দশকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি, লাখ লাখ গ্রাহকের কাছে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া এবং মার্কিন সরকারের লাভজনক সব চুক্তি হাতিয়ে নিয়ে মহাকাশ শিল্পকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে এই সংস্থা (Elon Musk)। যদিও সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকগুলোতে কোম্পানিটি কিছুটা পরিচালন লোকসানের মুখোমুখি হয়েছিল, তবুও মূলত স্টারলিংক এবং রকেট উৎক্ষেপণ সেবার অভাবনীয় বৃদ্ধির ওপর ভর করে গত বছর তাদের মোট রাজস্ব আয় ১৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।

    দ্বিতীয় শীর্ষ ধনীর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সম্পত্তির মালিক মাস্ক

    ১২ জুন শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হতেই ইলন মাস্কের সম্পদ এক ধাক্কায় ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে। স্পেসএক্সের (SpaceX) সিংহভাগ মালিকানার পাশাপাশি টেসলা এবং অন্যান্য লাভজনক সংস্থায় মাস্কের যে শেয়ার রয়েছে, তা মিলিয়ে বর্তমানে কাগজে-কলমে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এই বিশাল অঙ্কের সম্পদ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির (GDP) চেয়েও বেশি। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ যার সম্পদ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে মাস্ক (Elon Musk) এখন দ্বিতীয় শীর্ষ ধনীর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সম্পদের মালিক।

    মঙ্গলে মানব অভিযান ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি প্রধান উদ্দেশ্য

    আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ডের তুমুল আগ্রহের কারণেই স্পেসএক্সের আইপিও এতটা সফল হয়েছে। কোম্পানির শেয়ারের আবেদন বা সাবস্ক্রিপশন নির্ধারিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ছিল। এই লিস্টিংয়ের ফলে স্পেসএক্সের শুরুর দিকের কর্মকর্তা ও কর্মীরাও বিপুল আর্থিক রিটার্ন পেতে চলেছেন, যা কোম্পানির ভেতরেই হাজার হাজার নতুন মিলিওনেয়ার তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে ইলন মাস্কের (Elon Musk) লক্ষ্য কেবল বাণিজ্যিক মুনাফায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “মঙ্গলে মানব অভিযান এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির আরও আধুনিকায়নের জন্য বিপুল পুঁজি সংগ্রহ করতেই স্পেসএক্সকে শেয়ার বাজারে আনা হয়েছে। আগামী দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য মহাকাশের কক্ষপথে ১ লাখেরও বেশি স্যাটেলাইট স্থাপন এবং মহাশূন্যেই ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডেটা সেন্টার’ গড়ে তোলার মতো বড় সব পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় একদিকে যেমন স্পেসএক্সের (SpaceX) তহবিল শক্তিশালী হলো, অন্যদিকে পাবলিক কোম্পানি হিসেবে এখন থেকে তাদের ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও অনেক বৃদ্ধি পাবে।

  • Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সবার জন্য উন্নয়ন,সবার জন্য সরকার। সবার সঙ্গে কথা বলেই তৈরি হবে রাজ্যে উন্নয়নের গতিপথ। শুক্রবার বিকেলে মালদায় চার জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে প্রশাসনিক কর্তাদের সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Malda)৷ এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে৷ তাঁদের অনেকে অ্যাপিলেট ট্র্যাইবুনালে আবেদন করেছেন, অনেকে আবার সিএএ-তে আবেদন করেছেন ৷ যতদিন না তাঁরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন, তাঁদের কাউকে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না ৷ এক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচিতি বিচার্য নয়, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ৷ জানান, উত্তরবঙ্গে তৈরি হবে দুটি এমস্। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদে সীমান্ত সমস্যাও দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে, বলে দাবি শুভেন্দুর।

    মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণ

    এদিন মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি বলেন, ‘‘মালদা জেলায় চাঁচল ও গাজোল পুরসভার দাবি বহুদিনের ৷ প্রাথমিকভাবে এই দুটি পুরসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ তার প্রাথমিক কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ বাকিটা বাজেটে ঘোষিত হবে ৷”

    গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ

    আগামী বর্ষার আগেই গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ করার আশ্বাসও দেন ৷ মালদা, মুর্শিদাবাদের বন্যা ও ফি বছর নদী ভাঙন এই দুই জেলার বাসিন্দাদের কাছে একটা আতঙ্ক। এতদিন এ নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করেছে। শুক্রবার শুভেন্দু জানান, এখন থেকে এই দুই জেলায় বন্যা ও ভাঙন রোধে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।

    চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ

    একইসঙ্গে চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্য কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷ শুভেন্দু এদিন জানান, দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাব রয়েছে ৷ তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে ৷ একইসঙ্গে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও মেডিক্যাল কলেজ করতে হবে ৷

    উত্তরবঙ্গে এমস্

    উত্তরবঙ্গে এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনওরকম সমস্যা হবে না, বলেও এদিন মত প্রকাশ করেন শুভেন্দু । সূত্রের খবর, এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্ভবত রায়গঞ্জের মাটিকেই বেছে নেওয়া হবে। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। চার জেলায় আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোর মান উন্নত করার ব্যাপারে জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৫০ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে ৷ এই প্রক্রিয়া এখন চলবে ৷ একইভাবে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা-সহ অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পগুলি নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি ৷” শুভেন্দু এদিন আরও জানান, রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যুক্ত হয়েছে ৷ প্রত্যেক গরিব মানুষ এবার সরকারি বাড়ি পাবেন ৷ আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে তার নতুন তালিকা তৈরিও হয়ে যাবে ৷ বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্তাদের সহযোগিতায় এই কাজ হবে ৷ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘বিগত সরকার চার মাসের বাজেট করে গিয়েছিল ৷ আগামী ১৮ জুন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে ৷ ২২ তারিখ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হবে ৷” রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বক্তব্য, ‘‘আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির হবে ৷ বিধায়ক, সাংসদ ও বিডিওরা শিবিরগুলি পর্যবেক্ষণ করবেন ৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে অনেক ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে ৷ সেসব বাদ দিয়ে মানুষকে এই স্কিম নিয়ে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে ৷ এই প্রকল্পের কার্ড গোটা ভারতে কাজ করে ৷ একইভাবে আমরা রেশন কার্ডেও এই ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছি ৷ তার ফলে রাজ্যের বাইরে থাকলেও ওই কার্ডে রেশন তোলা যাবে৷”

    পুলিশকে বার্তা শুভেন্দুর

    পুলিশের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তাঁর বার্তা, ‘‘ক্রশিং ছাড়া জাতীয় সড়ক জুড়ে ব্যারিকেড লাগানো যাবে না ৷ যানজটের জন্য কালিয়াচক-ফরাক্কায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে ৷ ওভারলোডিং সংক্রান্ত অনেক অভিযোগও আসে ৷ এসব চলবে না ৷ কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে তা যাত্রীরা সোশাল মিডিয়ায় জানাতে পারবেন ৷ যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা সরকার নেবে ৷ প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করতে হবে ৷ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় 12 হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে ৷ প্রায় ৪ হাজার ভিলেজ পুলিশও নিয়োগ হবে ৷ মোথাবাড়ি, কালিয়াচক, বেলডাঙা, সামশেরগঞ্জের মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে তার জন্য পুলিশকে দায়িত্ব নিতে হবে ৷” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দল আন্দোলন করার অধিকার হারাক তা আমরা চাই না ৷”

    সীমান্ত সমস্যা সমাধান

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন ৷ বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ৷ এক্ষেত্রে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছেন শুভেন্দু ৷ ধরা পড়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত ডিপোর্ট করার নির্দেশ দেন ৷ তিনি জানান, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিকে সাজিয়ে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ সাহায্য করতে প্রস্তুত ৷ তার সুযোগ জেলাশাসকদের নিতে হবে৷ দুই দিনাজপুর ও মালদায় বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। ক্ষমতায় এসেই বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছিল যে, উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হবে। এদিনের বৈঠকে এখনও পর্যন্ত কত জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হলো, তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিরোধী বিধায়কদের সমান গুরুত্ব

    এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো উত্তরের তিন জেলার তৃণমূলের সব বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলের বিধায়কদের অভাব–অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন শুভেন্দু। মালদা মেডিক্যাল কলেজে হার্ট কেয়ার ইউনিট, মালদা বিমান বন্দরের জন্য জমি, কালিয়াচকে দমকল কেন্দ্র, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে বিড়ি শ্রমিকদের জন্যে বন্ধ হয়ে থাকা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ–সহ বিভিন্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কালিয়াচক, মোথাবাড়ি, বেলডাঙ্গায় বিগত দিনের গন্ডগোল প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শুভেন্দু বলেন, ‘আশা করব আগামীতে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তিনি বিরোধী বিধায়কদেরও সাহায্য চান। এদিন দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক বেনজির সৌজন্যের আবহ তৈরি হয়েছিলো মালদার প্রশাসনিক বৈঠকে।

  • Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যোগ হল। দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে (Ballistic Missile Defence বা BMD) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে টানা তিনটি সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)।

    অভিনন্দন রাজনাথ সিংয়ের

    একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও সফল পরীক্ষা হয়েছে। এই সাফল্যের পর ভারত এখন বিশ্বের সেই নির্বাচিত দেশগুলির তালিকায় উঠে এসেছে, যারা দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করে ডিআরডিও-র বিজ্ঞানী, শিল্প অংশীদার এবং সশস্ত্র বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (X) তিনি জানান, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিচালিত একাধিক জটিল পরীক্ষায় ভারতের বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

    কী কী পরীক্ষা চালানো হয়েছে?

    ১০ এবং ১১ জুন ধারাবাহিকভাবে তিনটি ফ্লাইট টেস্ট পরিচালনা করে ডিআরডিও। এই পরীক্ষাগুলির মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের বহুস্তরীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার সময় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুকে সফলভাবে শনাক্ত, অনুসরণ এবং ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মোকাবিলা করা যায়। সরকারি সূত্রের দাবি, পরীক্ষিত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের ২,০০০ থেকে ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে সাধারণত ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল (IRBM) বলা হয়।

    এক্সো-অ্যাটমোস্ফেরিক ও এন্ডো-অ্যাটমোস্ফেরিক প্রতিরক্ষা

    সূত্রের খবর, পরীক্ষায় ব্যবহৃত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি বায়ুমণ্ডলের বাইরে (Exo-atmospheric) এবং অন্যটি বায়ুমণ্ডলের ভিতরে (Endo-atmospheric) শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই দুই স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের বিএমডি শিল্ডকে আরও শক্তিশালী করবে। কোনও শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ভেদ করলেও দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। ফলে সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

    প্রথমবার সফল অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা পরীক্ষা

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরীক্ষার পাশাপাশি মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ ডিফেন্স সিস্টেমেরও প্রথম সফল ফ্লাইট টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদিও সরকার এখনও এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় জোর দিচ্ছে ভারত?

    গত কয়েক বছরে ভারত তার কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে দ্রুত শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গত বছর ডিআরডিও অগ্নি-৫ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উন্নত সংস্করণের কাজ শুরু করে, যা ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী বাঙ্কার বা সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের তৃতীয় অরিহন্ত শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন আইএনএস অরিদ্ধমানকে (INS Aridaman) অন্তর্ভুক্ত করে। এই সাবমেরিন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম।

    পাকিস্তান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব

    প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, পাকিস্তানও সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে। ফাতাহ-১ (Fatah-I), ফাতাহ-২ (Fatah-II) এবং চিনা প্রযুক্তিভিত্তিক পি২৮২-র (P282) মতো ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। শুধু পাকিস্তান নয়, এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্রুত পরিবর্তিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটেও ভারত তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে আক্রমণাত্মক সক্ষমতার পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    বিশ্বের কোন এলিট ক্লাবে ভারত?

    রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত এখন সেই সীমিত সংখ্যক দেশের দলে যোগ দিয়েছে, যাদের কাছে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আইসিবিএম মোকাবিলার সক্ষমতা রয়েছে। যদিও তিনি নির্দিষ্টভাবে দেশগুলির নাম উল্লেখ করেননি, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এই ধরনের উন্নত ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স প্রযুক্তি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন এবং ইজরায়েলের মতো কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে। ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্য সেই তালিকায় তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা তিনটি সফল পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির একটি নতুন দিকও তুলে ধরেছে। দেশটি এখন শুধু শক্তিশালী আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে না, পাশাপাশি সম্ভাব্য শত্রুর দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতাও দ্রুত গড়ে তুলছে। ডিআরডিওর এই সাফল্য ভবিষ্যতে ভারতের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল নির্মাণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিবিএম স্তরের হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতার দাবি ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

  • Madan Mitra: সিআইডির পর এবার মদন মিত্রের বাড়িতে পৌঁছল ইডি! কেন কামারহাটির বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি?

    Madan Mitra: সিআইডির পর এবার মদন মিত্রের বাড়িতে পৌঁছল ইডি! কেন কামারহাটির বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শনিবার সকালে মদন মিত্রর (Madan Mitra) বাড়িতে পৌঁছল ইডি। এদিন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের কামারহাটি, ভবানীপুরের ঠিকানায় যায় ইডি আধিকারিকরা। সন্তোষপুরের একটি ক্লাব ও বেলেঘাটার একটি ফ্ল্যাটেও পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। এখনও পর্যন্ত খবর মোট ৮টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছ ইডি (ED Raid)। শুক্রবারই মদন মিত্রের বাড়িতে যায় সিআইডি-র একটি দল। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের জন্যই তাঁর বাড়িতে গোয়েন্দারা এসেছিলেন বলে জানান মদন।

    কেন মদন মিত্রর বাড়িতে ইডি

    সিআইডি-র পর রাত পোহাতেই আবার মদন মিত্রের বাড়িতে হানা দিল ইডি। পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই তাঁর বাড়িতে অভিযান চলছে বলে জানা যাচ্ছে। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রচণ্ড সক্রিয় ইডি। তারা ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে। আর সেই মামলাতেই আবার মদন মিত্রের বাড়িতে গেল ইডি। তারা সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে। শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা ও তার আশপাশের ৬ থেকে ৭টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে ইডি। মদনের ভবানীপুর এবং কালীঘাটের বাড়িতে সকাল থেকে তল্লাশি চলছে বলে সূত্রের খবর। মদন কোন বাড়িতে আছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মদন মিত্রের বাড়িতে এই অভিযান।

    সই-জাল কাণ্ডে মদনের বাড়িতে সিআইডি

    বাড়িতে সিআইডি প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, ‘‘আমার বাড়িতে এসেছিল সিআইডি। সই জাল কাণ্ড নিয়ে আমাকে সহযোগিতা করতে বলে। আমাকে নোটিস নিতে বলেছে। আমাকে বলেছে আপনি এই নোটিসটা শুধু রিসিভ করে নিন। আমি রিসিভ করলাম। আমাকে একটা নোটিস দিয়ে চলে গেছে। দেড় মিনিট ছিল।’’ শুক্রবার বিধায়কদের সই জালিয়াতি কাণ্ডে কুণাল ঘোষকেও তলব করে সিআইডি। রবিবার বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার বেলা ১২টায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ফের সিআইডি দফতরে যেতে বলা হয়েছে।

LinkedIn
Share