Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Weather Update: লক্ষ্মীপুজোতেও দুর্যোগ! ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, আছড়ে পড়তে পারে কোন উপকূলে?

    Weather Update: লক্ষ্মীপুজোতেও দুর্যোগ! ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, আছড়ে পড়তে পারে কোন উপকূলে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লক্ষ্মীপুজোর আগেই বঙ্গোপসাগরে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি। নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়ে গিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার সকালের মধ্যেই সাগরে তৈরি হয়ে যেতে পারে ঘূর্ণিঝড়। তা ক্রমে উপকূলের দিকে ধেয়ে যাবে। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোই আবহাওয়া ঠিক থাকবে বলেই পূর্বাভাস। হাওয়া বদল ঘটতে পারে বুধবার থেকে। সোমবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে কোনও সতর্কতা নেই। মঙ্গলবার থেকে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। ওই দিন থেকে উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ৬০ কিলোমিটারেও। ফলে সমুদ্র উত্তাল থাকবে।

    কোথায় তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ!

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর শুক্রবার নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। তার আশপাশে ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে সমুদ্রতল থেকে ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায়। নিম্নচাপ অঞ্চলটি আরও ঘনীভূত হয়ে শনিবার নিম্নচাপে পরিণত হবে। ক্রমশ পশ্চিম-উত্তর পশ্চিমে সরতে সরতে তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে রবিবার। সোমবার সকালের মধ্যে সমুদ্রেই গভীর নিম্নচাপ থেকে জন্ম নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়। সেটি পরবর্তী দু’দিনে আরও শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাবে। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বুধবার থেকে। উত্তরবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতে ওই দু’দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে।

    দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টি!

    কলকাতায় বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। একই পূর্বাভাস রয়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায়। দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বর্ষণের (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) সম্ভাবনা রয়েছে বুধবার থেকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে বুধবার, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার। মঙ্গলবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে।

     

  • India Pakistan: কার্গিল যুদ্ধে নিহত পাক সেনাদের দেহ ফিরিয়ে নেয়নি ইসলামাবাদ! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

    India Pakistan: কার্গিল যুদ্ধে নিহত পাক সেনাদের দেহ ফিরিয়ে নেয়নি ইসলামাবাদ! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্য ও তাঁদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল পাকিস্তান। রাষ্ট্রসংঘে সেই অভিযোগের কড়া জবাব দিল ভারত। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে নয়াদিল্লি মনে করিয়ে দিল, নিজেদের সেনাদের মৃত্যুর ঘটনাও একসময় স্বীকার করতে চায়নি ইসলামাবাদ। অথচ আজ তারাই ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও শেষকৃত্যের অধিকার নিয়ে সরব হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘে বিশেষ পরিস্থিতিতে শেষকৃত্যের অধিকার সংক্রান্ত এক আলোচনায় ভারতের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভাবিকা মঙ্গলানন্দন।

    শেষকৃত্যের অধিকার খর্ব করার অভিযোগ

    ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত নাজিলা ঘানিয়ার একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্টকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়, জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের অধিকার পদ্ধতিগতভাবে খর্ব করা হয়েছে। পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে না দেওয়া এবং দূরবর্তী স্থানে গোপনে দেহ সমাধিস্থ করার মতো ঘটনাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে এই ধরনের ঘটনার অসঙ্গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    পাকিস্তানকে নিশানা ভারতের

    এর জবাবে পাকিস্তানকে নিশানা করে ভাবিকা মঙ্গলানন্দন বলেন, “যে রাষ্ট্র ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে নিহত নিজেদের সেনাদের মৃতদেহ পর্যন্ত গ্রহণ করেনি, সেই রাষ্ট্রই আজ ধর্মবিশ্বাস, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমাধিস্থ করার অধিকার নিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখছে—এ এক গভীর পরিহাস।” উল্লেখ্য, কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তান তাদের সেনা সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিহত পাকিস্তানি সেনাদের দেহ উদ্ধার করে সামরিক মর্যাদায় এবং ইসলামি রীতি মেনে তাঁদের সমাধিস্থ করেছিল বলে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের লাগাতার মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন ভারতের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অতিরিক্ত আগ্রহ না দেখিয়ে তাদের উচিত পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি রাওয়ালকোটের কথাও উল্লেখ করেন।

    সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়েও পাকিস্তানকে আক্রমণ

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মঙ্গলানন্দন। তাঁর অভিযোগ, দেশটিতে সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে এবং তাঁদের অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্র নিজের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, ভারতকে উপদেশ দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার তার নেই।” পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখ-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন। এদিকে, হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তানের প্রকাশিত সপ্তম বার্ষিক রিপোর্টেও (Sanctuary Denied: Freedom of Religion or Belief in 2025/26) দেশটির সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। রিপোর্টে ধর্মনিন্দা সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহার, জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্মান্তর এবং বৈষম্যমূলক আচরণের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্য নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের অধিকার নিয়েও আপত্তি জানান ভারতের প্রতিনিধি। তাঁর বক্তব্য, রিপোর্টে রাষ্ট্রের তরফে সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্যের অধিকার সীমিত করার সুযোগ স্বীকার করা হলেও সেই ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলানন্দনের মতে, এই আইনি সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদীরা নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি একটি গোটা জাতির মানসিকতার উপর গভীর আঘাত হানে। ভারতের প্রতিনিধির অভিযোগ, রিপোর্টে সন্ত্রাসবাদীদের অধিকারের উপর যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সন্ত্রাসের শিকার হওয়া মানুষদের অধিকারের ক্ষেত্রে ততটা গুরুত্ব দেখা যায়নি। তিনি আরও দাবি করেন, রিপোর্টে ভারতের প্রসঙ্গ টানতে প্রায় পাঁচ বছর আগের ঘটনাগুলির উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে এবং উন্নত দেশগুলিতে ঘটে যাওয়া গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনাগুলিকে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

    কোভিড পরিস্থিতি নিয়েও রিপোর্টকে নিশানা

    কোভিড-১৯ মহামারির সময় মৃতদেহের শেষকৃত্য ও ধর্মীয় আচরণ নিয়ে বৈষম্যের প্রসঙ্গেও রিপোর্টের সমালোচনা করেন মঙ্গলানন্দন। তাঁর বক্তব্য, রিপোর্টে এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যেন এই ধরনের ঘটনা মূলত গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতেই ঘটেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উন্নত দেশগুলিতে একই ধরনের মর্মান্তিক পরিস্থিতির উল্লেখ করা হয়নি কেন। মানুষের যন্ত্রণা ও মৃত্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন ভারতের প্রতিনিধি। রাষ্ট্রসংঘে এই বক্তব্যের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের অধিকার, সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তর্জাতিক রিপোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি।

  • WhatsApp Telegram: ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে সক্রিয় সিম ছাড়া চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ! কী বদল আসছে ব্যবহারকারীদের জন্য?

    WhatsApp Telegram: ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে সক্রিয় সিম ছাড়া চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ! কী বদল আসছে ব্যবহারকারীদের জন্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), টেলিগ্রাম (Telegram)-সহ একাধিক জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য আসতে চলেছে নতুন নিয়ম। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সক্রিয় সিম কার্ডের সংযোগ বজায় রাখতে হবে নির্দিষ্ট মেসেজিং অ্যাপগুলিকে। সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা এবং ভুয়ো পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মতো ঘটনা রুখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনে চলার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়েছে। ফলে নতুন বছরের শুরু থেকেই নিয়মটি কার্যকর হওয়ার কথা।

    কী এই সিম-বাইন্ডিং নিয়ম?

    এতদিন হোয়াটসঅ্যাপ-এর মতো অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় মোবাইল নম্বর যাচাই করলেই সাধারণত চলত। একবার অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গেলে, সংশ্লিষ্ট সিম কার্ড ফোন থেকে খুলে নিলেও অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপ ব্যবহার করা যেত। একইভাবে লিঙ্কড ডিভাইসের মাধ্যমে ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট থেকেও মেসেজিং পরিষেবা ব্যবহার করা সম্ভব হত। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। সিম-বাইন্ডিং ব্যবস্থার অধীনে, অ্যাকাউন্টের পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় সিম কার্ডের উপস্থিতি ও সংযোগ বজায় রাখার শর্ত কার্যকর হবে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট সিম কার্ড সরিয়ে নেওয়া, নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কিংবা নির্দিষ্ট ডিভাইসে সিমের সংযোগ না থাকলে অ্যাপ ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে এই নিয়ম কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির বাস্তবায়ন পদ্ধতির উপর নির্ভর করবে। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর নির্দেশিকার আওতায় রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), টেলিগ্রাম (Telegram), সিগনাল (Signal), স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat), শেয়ারচ্যাট (ShareChat), জিওচ্যাট (JioChat), আরাতাই (Arattai) এবং জোশ (Josh)-সহ মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে এমন একাধিক পরিষেবা।

    কেন এই পদক্ষেপ কেন্দ্রের?

    সাইবার অপরাধ দমনে কড়া পদক্ষেপ হিসেবেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতারকরা ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একবার অ্যাকাউন্ট যাচাই করার পর সংশ্লিষ্ট সিম সরিয়ে ফেলেও দূর থেকে সেই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারে। এর ফলে প্রতারণার উৎস শনাক্ত করা এবং অপরাধীদের নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষত, পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং, ভুয়ো বিনিয়োগের প্রলোভন এবং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে প্রতারণার মতো অপরাধ মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছে সরকার। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর বক্তব্য, দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রেও এই ধরনের ব্যবস্থার অপব্যবহার হচ্ছে। তাই মোবাইল নম্বর, সক্রিয় সিম কার্ড এবং মেসেজিং পরিষেবার মধ্যে ধারাবাহিক সংযোগ বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দফতরের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে সাইবার প্রতারণার কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২২,৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল।

    হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ব্যবহারকারীদের কী হবে?

    নতুন নির্দেশিকায় ওয়েব-ভিত্তিক পরিষেবা এবং লিঙ্কড ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাথমিক নির্দেশিকায় হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web)-এর মতো পরিষেবার সেশন সর্বোচ্চ ছ’ঘণ্টার মধ্যে লগ-আউট করার কথা বলা হয়েছিল। লগ-আউটের পর কিউআর কোড স্ক্যান করে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের সুযোগ রাখার কথাও ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সরকার জানিয়েছে, ওয়েব সেশনের লগ-আউটের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। ফলে সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছ’ঘণ্টার সময়সীমা বাধ্যতামূলক হবে কি না, তা স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখা জরুরি। অর্থাৎ, অফিসে দীর্ঘক্ষণ হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web) ব্যবহার করেন যাঁরা, তাঁদের ভবিষ্যতে নতুন করে কিউআর কোড স্ক্যান করে লগ-ইন করতে হতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম সংশ্লিষ্ট পরিষেবার বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করবে।

    সরকার কী জানিয়েছে?

    রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী পেম্মাসানি চন্দ্র শেখর জানান, গ্রাহক বা ব্যবহারকারীর পরিচয় নির্ধারণ কিংবা পরিষেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিম কার্ডকে মেসেজিং অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনে চলার সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

    সাধারণ ব্যবহারকারীদের কী করণীয়?

    নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—

    • ● সিম সক্রিয় রাখুন: যে মোবাইল নম্বর দিয়ে মেসেজিং অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত সিম কার্ড সক্রিয় রাখুন।
    • ● সিম ছাড়া অন্য ডিভাইস ব্যবহারে সতর্ক থাকুন: ওয়াই-ফাই-নির্ভর ট্যাবলেট বা সিমবিহীন দ্বিতীয় ফোনে পরিষেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
    • ● হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web)-এর জন্য প্রস্তুত থাকুন: প্রয়োজনে পুনরায় কিউআর কোড স্ক্যান করে লগ-ইন করতে হতে পারে।
    • ● নম্বর পরিবর্তনের আগে সতর্ক হন: সিম নিষ্ক্রিয় করা বা মোবাইল নম্বর বদলানোর আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পরিষেবা সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেখে নিন।

    বন্ধ হচ্ছে না হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম

    নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বরং ভারতীয় মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত কার্যকর হতে চলেছে। সাইবার প্রতারণা রুখতে সরকারের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয় এবং একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজে কতটা প্রভাব ফেলে, তা বোঝা যাবে নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর।

  • PM Modi Attacks Congress: ‘কংগ্রেস ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে দিমাগি নকশালরা’, আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi Attacks Congress: ‘কংগ্রেস ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে দিমাগি নকশালরা’, আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Attacks Congress)। তাঁর অভিযোগ, ‘দিমাগি নকশালরা’ কংগ্রেসের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে দলটি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দেশের সাফল্য ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরার পরিবর্তে কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাহুল (Modi to Rahul) গান্ধীকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশ্ন, আর কতদিন নিজেদের ‘ব্যর্থ প্রোডাক্ট’ লঞ্চ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে হাত শিবির? একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের হস্তক্ষেপে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

    ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রতিবাদের আবহেই প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মোদি বলেন, “যখন গোটা বিশ্ব নতুন বিশ্বব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু মানুষ ভারতে বিশৃঙ্খলার স্বপ্ন দেখছেন।” কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা করার অভিযোগও তোলেন তিনি। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, নিজেদের ‘ব্যর্থ পণ্য’কে সামনে আনতে কংগ্রেস আর কত দিন দেশের স্বার্থকে বাজি রাখবে?

    ‘বিক্ষোভের আওয়াজে চাপা পড়ছে অন্য বিরোধীদের বক্তব্য’

    প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যুক্তিসংগত বক্তব্য তুলে ধরতে চাওয়া বিরোধী নেতাদের কণ্ঠস্বর কংগ্রেসের হট্টগোলে চাপা পড়ছে। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে যাঁরা বৈধ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের বক্তব্য জানাতে চান, কংগ্রেসের বিক্ষোভ ও হইচইয়ের কারণে তাঁদের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছে না। কংগ্রেসের আদর্শগত অবস্থান নিয়ে আক্রমণ আরও তীব্র করে মোদি দাবি করেন, একসময় যারা জঙ্গলে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাত, তারাই এখন কংগ্রেসের চিন্তাভাবনার মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং দেশের ক্ষতি করার পথে এগোচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন।

    ‘পরিবারতন্ত্রই কংগ্রেসের বোঝা’

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশের উন্নয়ন, সাফল্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্জনকে রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় করে তোলা হচ্ছে। নেতৃত্বের বারবার ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদির দাবি, কংগ্রেসের অন্দরেও দলের সমস্যাগুলি সম্পর্কে প্রবীণ নেতারা অবগত। কিন্তু অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তিনি বলেন, “এই পরিবার কংগ্রেস দলের কাছে বোঝা হয়ে উঠেছে। দলের প্রবীণ নেতারাও বিষয়টি উপলব্ধি করছেন।” প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক আচরণ সরকারের সমালোচনা করতে চাওয়া অন্য নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং গণতান্ত্রিক পরিসরকে দুর্বল করছে।

    ‘ব্যর্থ প্রোডাক্ট লঞ্চ করতে আর কত চেষ্টা করবে কংগ্রেস?’

    রাহুল গান্ধীর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁকে লক্ষ্য করেই কংগ্রেসের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বারবার চেষ্টা নিয়ে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক উৎক্ষেপণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শ্রীহরিকোটায় এক বছরে যত উৎক্ষেপণ হয়, তার চেয়েও বেশি বার কংগ্রেস তাদের নেতাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “কংগ্রেস তাদের ব্যর্থ প্রোডাক্ট লঞ্চ করার জন্য দেশের স্বার্থকে আর কতদিন বাজি রাখবে, তা আমি জানি না। শ্রীহরিকোটায় এক বছরে যত লঞ্চ হয়, কংগ্রেস তার নেতাকে লঞ্চ করার ব্যর্থ চেষ্টা তার চেয়েও বেশি বার করে।” এখানেই থামেননি মোদি। তাঁর অভিযোগ, একটি পরিবারকে ব্যর্থতার দাগ থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের সাফল্য, গৌরব ও উন্নয়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আঙুর টক হওয়ার উপমা টেনে তিনি বলেন, কংগ্রেস এখন নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার জেরে গোটা ব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে।

    কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলেও কটাক্ষ

    এদিন কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলেও আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অন্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কংগ্রেস। ক্ষমতা হারানোর পর দলটির রাজনৈতিক অবস্থানেও ক্ষোভ ও বিরূপ মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি। মোদির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই মতপার্থক্যের কারণে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি কিংবা উন্নয়নের সাফল্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলা উচিত নয়। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই মন্তব্য ঘিরে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়ার দিকে। রাহুল গান্ধীকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণ জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সংসদ অচল করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, সংসদের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে কংগ্রেস বিরোধী শিবিরের তরুণ সাংসদদের নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। একই সঙ্গে বিরোধী শিবিরের অন্য নেতাদের গুরুত্ব কমিয়ে একজন নেতাকেই বারবার সামনে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসনিক দুর্বলতা তুলে ধরা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আয়োজিত প্রতিবাদগুলিকে কংগ্রেস রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষে কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, দলের এই রাজনৈতিক কৌশল অন্য বিরোধী নেতাদের নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • India on Saudi Attack: সৌদিতে বিমানবন্দর ও তেলকূপে হামলায় মৃত এক ভারতীয়, নিন্দা নয়াদিল্লির

    India on Saudi Attack: সৌদিতে বিমানবন্দর ও তেলকূপে হামলায় মৃত এক ভারতীয়, নিন্দা নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, বিমানবন্দর ও তেলকূপে ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাল ভারত। এই হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক-সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আটজন, যাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয়। বুধবার রাতে সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তি আহত হন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয়, পাকিস্তানি, বাংলাদেশিও রয়েছেন। ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলকূপেও হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। এই হামলার ঘটনায় নিন্দা করেছে ভারত।

    সৌদির ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা

    বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর এই ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির সরকার ও জনগণের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছে নয়াদিল্লি। হামলায় নিহত ভারতীয় নাগরিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে। রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করছে বলেও জানানো হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই হামলার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, ‘‘আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি, সাধারণ নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উপর এ ধরনের হামলা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এমন হামলা বন্ধ হওয়া উচিত। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা সে দেশের জনগণ এবং সরকারের পাশে আছি। আশা করি, দ্রুত ওই অঞ্চলে শান্তি এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।’’

    হামলার নেপথ্যে কারা 

    রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা হামলার ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। শুধু তা-ই নয়, নিহত এবং আহত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে কে বা কারা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও অতীতে সৌদির বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হামলার ফলে কিং ফাহদ বিমানবন্দরে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করে দেখা হচ্ছে। বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ছিল। তবে কিছুক্ষণ পরে আবার পরিষেবা স্বাভাবিক হয় বিমানবন্দরের।

    সৌদি-আরবে অশান্তি চেষ্টা

    চলতি মাসে প্রায় প্রতি দিনই সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে হুথি। দিন কয়েক আগেই রিয়াধ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে দামাম বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গত কয়েক দিন ধরেই সৌদির রাজধানী রিয়াদে কিং খলিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিশানা করে যাচ্ছে হুথি গোষ্ঠী। গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তারা। তাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন তিন শতাধিক। জখমদের মধ্যে রয়েছে ১১ জন ভারতীয়ও। হামলার নিন্দা জানিয়েছিল ভারতও। সৌদির দামাম বিমানবন্দর এবং জ্বালানি সংস্থা আরামকোর বেশ কয়েকটি শোধনাগারেও হামলা চালায় হুথি।

    নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা মোদির

    পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে ইতিমধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতা ভারত-ইজরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং দুই দেশের বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বিবৃতি অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। অবিলম্বে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার উপর তাঁরা জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি পুনরায় স্পষ্ট করে দেন, আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক পথেই এই সংকটের সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।

    আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রীদের ফেরাতে উদ্যোগ

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির অবনতির জেরে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবে আটকে পড়া ভারতীয় ওমরাহ যাত্রীদের দেশে ফেরাতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। রিয়াধ ও জেদ্দায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বিমান সংস্থা এবং ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩,০০০ আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রী উপলব্ধ বিমান পরিষেবার মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে ভারতে ফিরেছেন। পাশাপাশি, আগে থেকেই উপলব্ধ বিমানের টিকিট বুক করা আরও ১০,০০০-এর বেশি ওমরাহ যাত্রীও ওই সময়ের মধ্যে দেশে ফিরেছেন। বাকি যাত্রীদের দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং নিয়মিত সতর্কবার্তা ও পরামর্শ জারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

     কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর বার্তা

    সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় বহু ভারতীয় তীর্থযাত্রী আটকে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত বিমানের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানিয়েছেন ওয়েইসি। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে একদিকে সৌদি আরবে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে আটকে পড়া তীর্থযাত্রীদের দেশে ফেরানো—এই দুই বিষয়েই তৎপরতা বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর বার্তাও দিয়েছে ভারত সরকার।

  • ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে বিশাল ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। রবিবার, ১৮ অক্টোবর, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজরতগঞ্জের গান্ধী চৌক পর্যন্ত এই মিছিলে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও সংগঠনের সদস্য অংশ নেন। গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষার বার্তাই ছিল এই কর্মসূচির মূল বক্তব্য। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং, কাশী প্রান্তের সম্পাদক শিবম সিং, গোরক্ষ প্রান্তের সম্পাদক মঙ্গল গুপ্ত, অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা এবং কানপুর প্রান্তের সম্পাদক দীনেশ যাদব।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার

    সমাবেশ থেকে এবিভিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার একমাত্র জনগণের হাতে। ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠন বা পরিবর্তন সম্ভব; রাস্তায় শক্তি প্রদর্শন, জনতার চাপ কিংবা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা।

    নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নিয়ে বক্তব্য

    নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে উপযুক্ত প্রমাণ-সহ সাংবিধানিক ও আইনি পদ্ধতিতে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে জানায় এবিভিপি। সংগঠনের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন বা সুপ্রিম কোর্টের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশ্ন তোলা কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণ-সহ যথাযথ সাংবিধানিক মঞ্চে পেশ করা উচিত। কেরল, পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবিভিপি। সংগঠনের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যার ফলে ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।

    ‘জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে সরকারের ভবিষ্যৎ’

    এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের ভিত্তি হল জনগণের আস্থা, ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা। রাজনৈতিক মতবিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও, জনতার চাপ বা অরাজকতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ থাকলে প্রমাণ পেশ করে আইনি ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ও নেপালের ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের বুঝতে হবে যে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র ভারতীয় জনগণের। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরাখণ্ড, কেরল ও ওড়িশায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবিভিপির সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, লখনউয়ের সমাবেশে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

    ‘জাতি গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’

    এবিভিপির অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা বলেন, ভারতের যুবসমাজের শক্তির উৎস দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত চেতনা এবং জাতির প্রতি কর্তব্যবোধ। বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ভারতের বাস্তবতার সঙ্গে এক করে দেখা দেশের স্বতন্ত্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে উপেক্ষা করার শামিল। তাঁর বক্তব্য, ভারতের যুবসমাজ নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে গর্বিত এবং দেশের সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। যুবসমাজের ভূমিকা শুধু পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিজেদের চিন্তাভাবনা, আচরণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ গঠনেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। লখনউয়ের এই ছাত্র সমাবেশের মাধ্যমে যুবসমাজ জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছে বলে দাবি করে এবিভিপি। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষায় দেশের ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

  • India China: চিনা গোয়েন্দাদের ‘অ্যাকাডেমিক’ পরিচয়ের ফাঁদ! সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ

    India China: চিনা গোয়েন্দাদের ‘অ্যাকাডেমিক’ পরিচয়ের ফাঁদ! সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনা গোয়েন্দাদের কৌশলী ফাঁদে পড়ে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠল এক উচ্চপদস্থ সেনা (India China) আধিকারিকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের দাবি, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের শিক্ষাবিদ বা অ্যাকাডেমিশিয়ান পরিচয় দিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত মহিলা তেলঙ্গানার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে জম্মুর গান্ধীনগর থানা এলাকার অধীনে বসবাস করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গান্ধীনগর থানায় ২৯০/২০২৬ নম্বর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে ভারতীয় সরকারি গোপনীয়তা আইন, ১৯২৩-এর ৩ ও ৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ ও ৬১(২) নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

    পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি থেকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়

    প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা প্রথমে পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ এবং নিবন্ধ লেখার জন্য ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়েও লেখালেখি করতে উৎসাহিত করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, শিক্ষাবিদ পরিচয়ের আড়ালে ওই ব্যক্তিরা কৌশলে মহিলার কাছ থেকে কৌশলগত ও সামরিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে থাকতে পারেন। গোয়েন্দা মহলে এই ধরনের কৌশলকে ‘ইন্টেলেকচুয়াল ট্র্যাপ’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক ফাঁদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের সন্দেহ

    সূত্রের দাবি, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মহিলার গতিবিধি ও যোগাযোগের উপর নজরদারি শুরু হয়। অভিযোগ, দেশের নিরাপত্তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ছবি এবং ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহ, নিজের কাছে রাখা ও অন্যের কাছে পাঠানোর সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকতে পারেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে ওই তথ্য পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। চিন-সহ একাধিক বিদেশি দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে বলে তদন্ত সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

    এখনও স্পষ্ট নয় তথ্য পাচারের পরিমাণ

    তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঠিক কী ধরনের নথি বা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, সন্দেহভাজন বিদেশি যোগাযোগগুলির পরিচয় কী এবং বাস্তবে কতটা তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। অভিযুক্তের কাছ থেকে কোনও নথি বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে কি না, কিংবা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কীভাবে ওই মহিলার সঙ্গে বিদেশি যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল, সেই যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল এবং দেশের নিরাপত্তার উপর এর কোনও প্রভাব পড়েছে কি না—এখন সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

  • Swadeshi Jagran Manch: জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে স্টারলিঙ্ককে ভারতে অনুমতি না দেওয়ার দাবি স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের

    Swadeshi Jagran Manch: জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে স্টারলিঙ্ককে ভারতে অনুমতি না দেওয়ার দাবি স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে ইলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ককে ভারতে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানাল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ (Swadeshi Jagran Manch)। গত ১৩ অক্টোবর এই বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে নিজেদের আপত্তির কথা জানায় সংগঠনটি। স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের জাতীয় সহ-আহ্বায়ক অশ্বিনী মহাজনের দাবি, স্টারলিঙ্কের প্রযুক্তি ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন কার্যকর করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, স্যাটেলাইটের মধ্যে লেজার-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি তথ্য আদানপ্রদান হওয়ায় সেই তথ্য ভারতীয় গ্রাউন্ড স্টেশনে পৌঁছনোর আগে সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ জরুরি’

    এসজেএমের বক্তব্য, বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে গুজব ও দেশবিরোধী প্রচার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ, দাঙ্গা, বিক্ষোভ-সহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনেক সময় ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ বা সাময়িকভাবে বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়ে। অশ্বিনী মহাজনের বক্তব্য, স্টারলিঙ্কের মতো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশ দিলে দ্রুত ও নির্দিষ্ট এলাকায় পরিষেবা বন্ধ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, স্টারলিঙ্ক এখনও এই শর্ত পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়নি। অথবা সংস্থাটির প্রযুক্তিগত কাঠামোতেই এই ধরনের নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

    ইলন মাস্কের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক

    ভারতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালুর অনুমতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালুর পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে কেন্দ্র সেই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার নিয়ন্ত্রক কাঠামো ন্যায্য ও বৈষম্যহীন। মাস্কের এই মন্তব্যের সমালোচনা করে মহাজনের দাবি, ভারতের নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করার পরিবর্তে জনমতকে কাজে লাগিয়ে সরকারের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে স্টারলিঙ্ক। তাঁর মতে, সংস্থাটি যদি ভারতীয় নিয়ম মেনে চলতে প্রস্তুত না থাকে, তা হলে পরিষেবা চালুর অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।

    ইউক্রেন থেকে তাইওয়ান—বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার উল্লেখ

    স্টারলিঙ্কের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইউক্রেন, ইরান, রাশিয়া, চিন, তাইওয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা ও সুদানের মতো বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছে স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। সংগঠনটির দাবি, এই দেশগুলির অভিজ্ঞতা থেকে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার কৌশলগত ও নিরাপত্তাগত প্রভাব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মহাজনের বক্তব্য, দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হতে সামান্য দেরি হলেও তাতে সমস্যা নেই। বরং দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে স্টারলিঙ্কের তুলনায় কম খরচে পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে বলে দাবি তাঁর।

    লাইসেন্স পেলেও বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর ছাড়পত্র মেলেনি

    উল্লেখ্য, ভারতে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালুর জন্য স্টারলিঙ্ক আবেদন করেছে। রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী গোষ্ঠী-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবও এই পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে অনুমোদন পেয়েছে। তবে লাইসেন্স থাকলেই বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু করা যাবে না। স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও পরিষেবা চালুর আগে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনটি সংস্থারই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন চলছে এবং নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তারা মোটামুটি একই পর্যায়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াও জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাধীন। ফলে স্টারলিঙ্কের ভারতে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদনের উপর। স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের আপত্তি এই বিতর্ককে আরও জোরালো করল।

  • World Food Day 2026: খাদ্যে স্বনির্ভরতা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা, কৃষিক্ষেত্রে মোদি সরকারের একাধিক উদ্যোগ

    World Food Day 2026: খাদ্যে স্বনির্ভরতা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা, কৃষিক্ষেত্রে মোদি সরকারের একাধিক উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। ২০২৬ সালের জন্য রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-র নির্ধারিত থিম ‘ইনোভেট টুডে, নারিশ টুমরো’—অর্থাৎ, ‘আজ উদ্ভাবন, আগামী দিনের পুষ্টি সুনিশ্চিতকরণ’। এই প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং পুষ্টি সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় খাদ্যসংকট মোকাবিলায় বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হত ভারতকে। ১৯৬০-এর দশকে ‘শিপ-টু-মাউথ’ পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে আসা খাদ্যশস্যের উপর নির্ভরশীল ছিল দেশ। সেখান থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আজ ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কৃষি বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার গত এক দশকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচের সম্প্রসারণ, উন্নত বীজের ব্যবহার এবং খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ করেছে।

    ৮১ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য সুরক্ষা

    কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে ৩৭৬.৫৬ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। চাল উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি দুধ ও মিলেট উৎপাদনে ভারত বিশ্বে প্রথম এবং মাছ, ফল ও সবজি উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের অন্যতম বড় কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা (PMGKAY)। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA)-এর আওতায় প্রায় ৮১.৩৫ কোটি উপভোক্তা এই ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছেন। কোভিড অতিমারির সময় চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহের মেয়াদ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আরও পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক চাপও কমানো সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য মোট ১১.৮০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে এই প্রকল্প দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি মানুষের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল ও অপুষ্টি মোকাবিলায় উদ্যোগ

    শুধু পেট ভরলেই খাদ্য নিরাপত্তা সম্পূর্ণ হয় না। শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব বা ‘হিডেন হাঙ্গার’ দূর করাও সমান জরুরি। বিশেষত মহিলা ও শিশুদের মধ্যে রক্তাল্পতা এবং অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় চালের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল সরবরাহের কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই চালের সঙ্গে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি১২ যুক্ত করা হচ্ছে। গণবণ্টন ব্যবস্থা (PDS) এবং পিএম-পোষণ প্রকল্পের আওতায় এই চাল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য মোট ১৭,০৮২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR) ১০০টিরও বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসলের নতুন জাত তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির পরিমাণ বাড়ানো।

    ‘শ্রী অন্ন’-এর প্রচার, মিলেটে বিশ্ববাজারের নজর

    জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং জলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে মিলেট বা বাজরা-জাতীয় শস্যের গুরুত্ব বাড়ছে। তুলনামূলকভাবে কম জলে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই শস্য চাষ করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। ভারতের উদ্যোগে রাষ্ট্রসংঘ ২০২৩ সালকে আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। দেশীয় এই শস্যকে ‘শ্রী অন্ন’ নামে প্রচারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা চলছে। মিলেট প্রক্রিয়াকরণ, কৃষিভিত্তিক স্টার্টআপ এবং রফতানি বৃদ্ধির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই শস্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন কৃষকদের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় কৃষিক্ষেত্রের সহনশীলতাও বাড়তে পারে।

    ডাল ও ভোজ্যতেলে স্বনির্ভরতার লক্ষ্য

    খাদ্যশস্য উৎপাদনে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও ডাল ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই নির্ভরতা কমাতে কেন্দ্র ডাল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তৈলবীজ চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত জাতীয় ডাল স্বনির্ভরতা মিশনের জন্য ১১,৪৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ডালের চাহিদা মেটাতে দেশীয় উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, দেশের মোট ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নির্ভরতা কমাতে জাতীয় ভোজ্যতেল মিশন—অয়েল পাম প্রকল্পের অধীনে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পাম তেলের চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় এবং দেশীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ডিজিটাল কৃষি ও কৃষকদের আর্থিক সহায়তা

    কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেও একাধিক প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্র। ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন বা এগ্রিস্ট্যাকের জন্য ২,৮১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আওতায় কৃষকদের জমির ডিজিটাল তথ্যভান্ডার, কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহার এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মতো প্রযুক্তির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রকল্পে ১১ কোটিরও বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর বা DBT-র মাধ্যমে ৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। কৃষকদের বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা জোগানোই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষিকাজের খরচ নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হতে পারে।

    কৃষি রফতানি ও বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় ভারতের ভূমিকা

    দেশীয় খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের কৃষিপণ্যের গুরুত্ব বাড়ছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট কৃষিপণ্য রফতানির পরিমাণ ৫৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। নন-বাসমতি চাল রফতানির উপর ন্যূনতম রফতানি মূল্য ও অন্যান্য বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চালের সরবরাহ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে খাদ্যশস্য সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের সময় খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’—দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় ভারতের অবদান তুলে ধরছে কেন্দ্র।

    খাদ্য নিরাপত্তা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা—নতুন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬-এ ভারতের কৃষিক্ষেত্রের অগ্রগতি যেমন সামনে এসেছে, তেমনই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনামূল্যে রেশন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার—এই সমস্ত উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। তবে উৎপাদনের সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টি সুরক্ষায় রূপান্তরিত করতে হলে অপুষ্টি মোকাবিলা, কৃষকদের ন্যায্য আয়, জলসম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি সাহায্যনির্ভরতা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য উৎপাদক দেশে পরিণত হওয়ার যাত্রায় ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন সেই অগ্রগতির পরবর্তী লক্ষ্য—প্রতিটি মানুষের কাছে পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং একই সঙ্গে কৃষিক্ষেত্রকে আরও স্বনির্ভর ও টেকসই করে তোলা।

  • US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (US Midterm Elections) আগে বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এর জেরে একাধিক জনমত সমীক্ষায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কয়েকটি সমীক্ষায় তাঁর অনুমোদনের হার ৩১ থেকে ৩৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের কাছে কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

    ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানির খরচ এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বহু মানুষ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়েও সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ ভোটার। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক-এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি সমর্থনের হার ২৬ শতাংশ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ শতাংশের মতে, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিই বহুলাংশে দায়ী। কর্মসংস্থানের ছবিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই কম। ফলে মার্কিন শ্রমবাজারের শক্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

    ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম

    ফিনান্সিয়াল টাইমস-ফোকালডেটার একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ৪৫ শতাংশের ধারণা, ট্রাম্পের অবস্থান রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী জয়ের সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। অন্যদিকে, দেশের অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি উত্তরদাতা। এপি-নরক-এর ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। প্রায় ৪৬ শতাংশের দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময়ের তুলনায় তাঁদের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জ্বালানি ও খাবারের খরচ বহন করা নিয়েও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প

    ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি বড় রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত। যুদ্ধের মেয়াদ, আর্থিক ব্যয় এবং তার কৌশলগত পরিণতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়নি। মাত্র ২৮ শতাংশ এই সংঘাত মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকী, রিপাবলিকান সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কিন পরিবারগুলির দৈনন্দিন ব্যয়ে। প্রথমদিকে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় যুদ্ধের আর্থিক ও কৌশলগত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমীক্ষায় প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিন চলতে পারে। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এই আশঙ্কা রয়েছে।

    শুল্কনীতি নিয়েও বাড়ছে বিরোধিতা

    ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ও আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও জনসমর্থন হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সমীক্ষায় প্রায় ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। জানুয়ারিতে এই মত পোষণকারীর হার ছিল ৫৮ শতাংশ। অন্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশের কাছাকাছি উত্তরদাতা। প্রশাসনের দাবি, শুল্কনীতি মার্কিন শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, এই নীতির ফলে আমদানি করা পণ্য ও বিভিন্ন উপকরণের খরচ বাড়তে পারে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের উপরেই পড়বে।

    হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থনেও ভাঙন

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হিস্পানিক বা লাতিনো বংশোদ্ভূত মার্কিন ভোটারদের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়া। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন ট্রাম্পের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় মাত্র ২৪ শতাংশ হিস্পানিক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাত্র ২৬ শতাংশ হিস্পানিক ভোটার। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বয়স্ক ভোটারদের মধ্যেও রিপাবলিকানদের ব্যবধান কমেছে। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র দুই শতাংশে। গত ডিসেম্বরে এই ব্যবধান ছিল আট শতাংশ। অন্যদিকে, ৫০ বছরের কম বয়সি ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ১৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

    কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ

    আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ফলের পরিবর্তনই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে পারে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী মূল্যায়নে ১৮টি প্রতিনিধি পরিষদের আসনের লড়াই ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে সরে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই মূল্যায়ন অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ৯ থেকে ১৯টি আসন বাড়াতে পারেন। মূল্যবৃদ্ধি, দুর্বল কর্মসংস্থান, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং হিস্পানিক ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন হ্রাস—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রিপাবলিকানরা। ট্রাম্পের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং দলের নির্বাচনী সমর্থন ধরে রাখা।

     

LinkedIn
Share