Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Cyclone Arnab: মধ্যরাতে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, ১৩৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া! বিপর্যস্ত জনজীবন

    Cyclone Arnab: মধ্যরাতে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, ১৩৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া! বিপর্যস্ত জনজীবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যরাতে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব (Cyclone Arnab)। প্রবল আকারেই তার ‘ল্যান্ডফল’ হচ্ছে। ভারতের মৌসম ভবন জানিয়েছে, বুধবার রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার নিকটবর্তী পুদুচেরির ইয়ানামের কাছে ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঝড় বইছে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে। প্রবল ঝড়, মুষলধারে বৃষ্টি সঙ্গে উত্তাল সমুদ্র। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবে’র প্রভাবে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় সতর্কতা জারি হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল, সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের ঊপকূলভাগেও। দিঘা, মন্দারমনি একাধিক জায়গায় ইতিমধ্যেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশাখাপত্তনমে ২১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এখনও।

    অন্ধ্র উপকূলে ঝড়ের দাপট

    আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য অংশ থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল অতিক্রম করেছে অর্ণব। ইয়ানামের দক্ষিণে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয় বুধবার রাত দেড়টা নাগাদ। ভোরের পরেও সেই প্রক্রিয়া চলছে। কাকিনাড়া, বিশাখাপত্তনম, অনকাপল্লি ও কোনাসীমা জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং প্রবল হাওয়ার খবর মিলেছে। বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে। কাকিনাড়ার কয়েকটি এলাকায় বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির খবরও সামনে এসেছে। ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ঝড়ের দাপট আরও বেড়ে গিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগেও বেড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়ক ২১৬-এ বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মাঝরাস্তা থেকে গাছগুলি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করছে।

    ব্যাহত বিমান ও রেল পরিষেবা

    ঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। বেশ কিছু বিমান বাতিলও করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে ট্রেন পরিষেবাও। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে কারও কোনও ক্ষতি না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় দু’হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। উপকূল এলাকা থেকে ‌ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে সরিয়ে এই কেন্দ্রগুলিতে নিরাপদে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে রেল। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটির বৈঠকে প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষতি যথাসম্ভব কমানোর নির্দেশ দেন। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শেষ হলেও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব কিছু সময় বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা।

    ৮৯ হাজার মানুষকে অন্যত্র স্থানান্তর

    অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। তার মধ্যে বিশাখাপত্তনমে ২০০ মিলিমিটারের বেশি এবং কোঠাবল্লসায় ১৬২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে নিচু এলাকা ও রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কাঁকিনাড়া ও ইয়ানাম উপকূলে সমুদ্রের জলের উচ্চতা দেড় থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে উপকূলীয় গ্রামগুলো প্লাবিত। অন্ধ্রপ্রদেশ প্রশাসন প্রাথমিক সমীক্ষার পরে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পূর্ব ও পশ্চিম গোদাবরী জেলার কমবেশি ৪০ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধান ও অন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া, ঝড়ে বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রশাসন কমবেশি ৮৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশ আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চালাচ্ছে।

    ওড়িশায় প্রস্তুত উদ্ধারকারী দল

    ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় ওড়িশায় ৩১৩টি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৬০টি দল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৯টি দল এবং দমকল ও জরুরি পরিষেবার ২৪৪টি দল। পাশাপাশি প্রস্তুত রয়েছে ২,০৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী মহিলাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আগেই। মৎস্যজীবীদেরও উপকূলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সোমবারের মধ্যে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কোনও প্রাণহানি যাতে না হয়। ওড়িশা প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিভিন্ন জায়গায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। গজপতি, গঞ্জাম, রায়গাড়া, কোরাপুট, নওরংপুর, মালকানগিরি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। পুরী, খুর্দা, সম্বলপুর, দেওগড়, কালাহান্ডি, কান্ধামাল, নুয়াপাড়াতেও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি চলছে। রাজ্যের দক্ষিণ অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলি থেকে কমবেশি ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে ও মাল্টিপারপাস ফ্লাড সেন্টারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  পুরী-সহ বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং লাল সতর্কতা নিশান ওড়ানো হচ্ছে।

    স্থলভাগে  প্রবেশের পর শক্তিক্ষয় অর্ণবের

    ঝাড়খণ্ডের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। রাঁচি, খুঁটি, সিমডেগা, গুমলা, লোহারদাগা-সহ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে স্থলভাগে ঢোকার পর দ্রুত শক্তিক্ষয়ের ইঙ্গিত মিলেছে ঘূর্ণিঝড়ের। ছত্তিশগড়েই সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে অর্ণব। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ধীরে ধীরে উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    বাংলায় বৃষ্টি, দিঘায় উত্তাল সমুদ্র

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কলকাতায় মঙ্গলবার বৃষ্টি হয়েছে হালকা। বুধবার ভোর থেকে আকাশের মুখ ভার। যদিও আপাতত রোদ উঠেছে। অর্ণবের দাপট খুব বেশি বোঝা যাচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলা, বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলির অবস্থা যদিও এমন নয়। দিঘায় উত্তাল সমুদ্র, আকাশ অন্ধকার, পাশাপাশি প্রবল হাওয়ার দাপট রয়েছে মঙ্গলবার রাত থেকেই। উপকূলবর্তী সমস্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। আবহাওয়া খারাপ দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু জায়গাতেও। বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় রয়েছে হলুদ সতর্কতা। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। চার জেলায় রয়েছে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারী (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ওই চার জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ওই দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া। শুক্রবার ঝড়বৃষ্টির জন্য সতর্কতা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায়।

    উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস

    পুজোর মরশুমে পাহাড়ে এখন লোকের ঢল। মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখলেই ভেসে উঠছে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বাকি জেলাগুলিতেও রয়েছে ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা। বর্ষণের জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। আগামী শনিবার পাহাড় এবং সংলগ্ন পাঁচ জেলায় রয়েছে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা।

  • Suvendu in Delhi: গঙ্গাভাঙন ও বন্যা রুখতে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ, দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন শুভেন্দু

    Suvendu in Delhi: গঙ্গাভাঙন ও বন্যা রুখতে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ, দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গা ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে আজ, মঙ্গলবার দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Delhi)। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। কয়েক মাস আগেই সেচ দফতর গঙ্গা ভাঙন নিয়ে একটি রিপোর্ট কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েছিল। সেই রিপোর্টে গঙ্গাভাঙনের (Ganga River Bank Erosion) মোকাবিলা বিহার, ঝাড়খণ্ডকে সঙ্গে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছিল। সেই রিপোর্ট পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তিন রাজ্যের প্রধানদের বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক। গঙ্গাভাঙন নিয়ে দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। নদীভাঙন রুখতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ড্রেজিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিলের সঙ্গে বৈঠক

    সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বেরোনোর পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই দিল্লি সফরের কারণ স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। বিভিন্ন মহলে এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হলেও মুখ্যমন্ত্রী তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের সূচি রয়েছে। তিনি জানান, এই সফর কোনওভাবেই রাজনৈতিক নয়। তাঁর কথায়, “না না, রাজনৈতিক সফর নয়। কাল মালদা, মুর্শিদাবাদের গঙ্গা ভাঙন এবং বন্যাকে স্থায়ীভাবে রোখার জন্য বৈঠক ডেকেছেন জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল। বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং সেচ দফতরকে নিয়ে, মুখ্য সচিবরাও থাকবেন। ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্যই যাচ্ছি।” গঙ্গা ভাঙন সমস্যার গভীরতা তুলে ধরে তিনি এর আগে জানান, “কাল তিন রাজ্যের গঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ মিশনের বৈঠক রয়েছে। জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল মহাশয় সভাপতিত্ব করবেন। ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গকে ডাকা হয়েছে। আমি সেই বৈঠকে যাব। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।”

    নদীভাঙন রুখতে রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় জরুরি

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সংশ্লিষ্ট জলসম্পদ সংস্থা এবং এনএইচপিসির সঙ্গে নদীভাঙন মোকাবিলায় একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, সেই চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে মালদহ থেকে নদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীভাঙনের সমস্যা মোকাবিলায় আরও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের উদ্যোগে গঠিত উচ্চপর্যায়ের দলের কাজের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “নদীভাঙন রুখতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় জরুরি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিংয়ের জন্য ঝাড়খণ্ডের প্রয়োজনীয় সম্মতিপত্র এখনও পাওয়া যায়নি। বিহার ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছে বলে দাবি তাঁর। এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। নদীভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন। কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সহযোগিতায় ড্রেজিং এবং নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।”

  • Israel Election 2026: ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয়-পরাজয় নয়াদিল্লি-তেল আভিভ সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ

    Israel Election 2026: ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয়-পরাজয় নয়াদিল্লি-তেল আভিভ সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলে ২৬তম নেসেট (সংসদ) নির্বাচনের (Israel Election 2026) দিকে নজর রাখছে নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফিরবেন, নাকি বিরোধীদের হাত ধরে আসবে নতুন সরকার—এই প্রশ্নের মধ্যেই উঠে আসছে ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সম্পর্কের (India Israel Relation) ভবিষ্যৎ। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬-এ ইজরায়েলে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইজরায়েলের প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। এই নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে ইজরায়েলের ১২০ সদস্যের নেসেটের গঠন এবং পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কি বদল আসবে?

    ভারতের কাছে ইজরায়েল একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সহযোগী দেশ। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মতো একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন সমীক্ষার উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কোনও একটি দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে সরকার গঠনের জন্য একাধিক দলের মধ্যে জোট-আলোচনার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নতুন সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেই যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড়সড় পরিবর্তন আসবে, এমনটা মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাই এই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি।

    অটুট থাকবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

    ইজরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইজরায়েলি দূতাবাস। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র মিশেল সিরোটা বলেন, “কে নির্বাচিত হবেন, তা-নির্বিশেষে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের সামান্যতম পরিবর্তনও হবে না।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পাক, তার সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত ইজরায়েলি দূতাবাস। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইজরায়েলের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কোনও নির্দিষ্ট প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের মেয়াদের উপর নির্ভরশীল নয়।

    মোদি-নেতানিয়াহু সম্পর্কের পর ভবিষ্যৎ সমীকরণ কী?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমলে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কৃষি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। তবে ইজরায়েলে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলে কূটনৈতিক অগ্রাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের ধরনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সমীকরণও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে ভূমিকা নিতে পারে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলি লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালেক পোলার্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভারত ও ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী এলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিই থাকবে সহযোগিতার মূল ভিত্তি

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি উৎপাদন, জল ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ইজরায়েলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এই ক্ষেত্রগুলিতে চলমান সহযোগিতা বজায় রাখা ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নতুন সরকার পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইজরায়েলের অবস্থান কীভাবে নির্ধারণ করে, সেদিকেও নজর রাখবে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে, ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয় বা পরাজয় দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ইজরায়েলে নির্বাচনী লড়াই

    ইজরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকা নেতা নেতানিয়াহু আরও একবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। তবে তাঁর লিকুদ পার্টি এবং দক্ষিণপন্থী সহযোগী দলগুলিকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইজরায়েলের ভোটের আগে ফের এক বার ‘বন্ধু’ বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হয়ে প্রচারে নেমেছেন ট্রাম্প। আজ, মঙ্গলবার ইজরায়েলে নির্বাচন রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইজরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের হামলার পর এই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে সে দেশে।

    ইজরায়েলি দূতাবাসের বার্তা

    ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের ফলাফলের কারণে এতে বিন্দুমাত্র কোনো পরিবর্তন আসবে না। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র মিশেল সিরোটা (Mishelle Sirota) ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আগেই জানান, ইজরায়েলের অভ্যন্তরে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ভারতকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার ব্যাপারে একটি দৃঢ় ও অভিন্ন ঐক্যমত্য বা ‘ক্রস-পার্টি কনসেনসাস’ রয়েছে। তাই জরায়েলে নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক বা যে নেতাই প্রধানমন্ত্রী হোন না কেন, ভারতের সাথে দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত একাধিকবার সরকার এবং জোটের পরিবর্তন হলেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিধি কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে। বর্তমানে ভারত ও ইজরায়েলের এই অংশীদারিত্ব শুধু কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি, কৃষি ও জল ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক ক্ষেত্রে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করেছে।

  • Neville Roy Singham Row: নেভিল রয় সিংহাম বিতর্ক! ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর অভিযোগে কেন মার্কিন ধনকুবেরকে ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল?

    Neville Roy Singham Row: নেভিল রয় সিংহাম বিতর্ক! ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর অভিযোগে কেন মার্কিন ধনকুবেরকে ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নেভিল রয় সিংহামের নাম সামনে এনে বিজেপির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক কর্মী সংগঠনগুলির একটি নেটওয়ার্ক ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এই বিতর্কে কংগ্রেস, বিরোধী নেতাদের বিদেশি যোগাযোগ এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তুলে ধরেছে গেরুয়া শিবির। সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সাংবাদিক বৈঠকে নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাহুল গান্ধী, ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিটকয়েন, অনলাইন জুয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির প্রসঙ্গ। বিজেপির দাবি, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কিছু সংগঠন ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।

    কে এই নেভিল রয় সিংহাম?

    নেভিল রয় সিংহাম একজন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিচিত অর্থদাতা। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শদাতা সংস্থা থট ওয়ার্কস (Thoughtworks)-এর প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সালে প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থার কাছে প্রায় ৭৮৫ মিলিয়ন ডলারে সংস্থাটি বিক্রি করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিংহাম নিউ ইয়র্কভিত্তিক বামপন্থী অলাভজনক সংগঠন দ্য পিপলস ফোরাম (The People’s Forum)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থদাতা হিসেবেও পরিচিত। তাঁর স্ত্রী জোডি ইভান্স যুদ্ধবিরোধী সংগঠন কোডপিঙ্ক (CODEPINK)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সংস্থা বিক্রির পর সিংহাম আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক প্রচার সংগঠন এবং থিঙ্কট্যাঙ্ককে অর্থসাহায্য করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কেন্দ্র সাংহাইয়ে সরিয়ে নেওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। এই অর্থসাহায্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের পরিসরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। তবে সিংহম চিন সরকারের নির্দেশে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    কী এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ অভিযোগ?

    বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের কিছু রাজনৈতিক ও কর্মী সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার এবং প্রসার ঘটাতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের কার্যকলাপ ভারতের নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী ‘Global Chaos Inc Grows to 101 Groups’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে ১৩টি দেশের ১০১টি সংগঠনের একটি নেটওয়ার্কের কথা বলা হয়েছে, যারা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার, সংগঠন বা প্রসারে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ। বিজেপির তরফে ভারত, ফ্রান্স, স্পেন এবং আলবেনিয়ায় প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সিংহামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করা কিছু সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে বিরোধী নেতাদের যোগাযোগ এবং ভারতের বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে বিভিন্ন দেশের প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে যোগসূত্র থাকার দাবি থেকেই ভারতে সরকার পরিবর্তনের কোনও পরিকল্পনা প্রমাণিত হয় না।

    রাহুল গান্ধীকে ঘিরে নিশিকান্ত দুবের প্রশ্ন

    এই বিতর্কে সরাসরি কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত পাঁচ বছরে রাহুল গান্ধী ক্রিপ্টোকারেন্সি, অনলাইন জুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা বিভিন্ন মহলের কার কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুবে আরও প্রশ্ন করেন, ওই মহলের কেউ রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন কি না। বিদেশ সফরের সময় তাঁর বৈঠকগুলির উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সাংসদ। এ ছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি সংক্রান্ত দাবিতে চলা প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলিকেও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে বিজেপি।

    ২০২৩ সালেই ভারতে আলোচনায় উঠে আসে সিংহামের নাম

    ভারতে নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত আরও আগে। ২০২৩ সালে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সিংহামের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠন এবং চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের পরিসরের সঙ্গে তাঁর কথিত যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিবেদনটিতে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম নিউজক্লিকের (NewsClick) সঙ্গে সিংহামের আর্থিক যোগসূত্রের অভিযোগও উঠে আসে। নিউজক্লিকের প্রতিষ্ঠাতা প্রবীর পুরকায়স্থ। অভিযোগ ছিল, আন্তর্জাতিক অর্থসাহায্যের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমটি অর্থ পেয়েছিল। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিউজক্লিকের অর্থের উৎস এবং বিদেশি অর্থপ্রবাহ নিয়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তদন্ত শুরু করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দিল্লি পুলিশ প্রবীর পুরকায়স্থ এবং নিউজক্লিকের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি বিদেশি অর্থসাহায্য এবং চিনপন্থী প্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের বিষয়টি আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।

    ফ্রান্সের বিক্ষোভ ও দিল্লির প্রতিবাদের মধ্যে যোগসূত্র?

    এই বিতর্কে ফক্স নিউজ-এর একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেছে বিজেপি। ওই প্রতিবেদনে ফ্রান্সের দাঙ্গা এবং দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগের দাবি করা হয়েছে বলে বিজেপির বক্তব্য। প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ১০১টি সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিবাদ কর্মসূচির সমন্বয়, আয়োজন অথবা প্রচারে ভূমিকা রাখছে। বিজেপি এই দাবিকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে এই দাবিগুলির স্বাধীন যাচাই, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির নির্দিষ্ট ভূমিকা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলির মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের প্রমাণ আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনও সংগঠন প্রতিবাদের পক্ষে প্রচার চালালেই তার পিছনে বিদেশি সরকারের নির্দেশ বা সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্ক?

    নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে বিতর্ক মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।
    – বিদেশি অর্থসাহায্যের স্বচ্ছতা: আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিকে দেওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে তা পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
    – রাজনৈতিক প্রতিবাদের স্বাধীনতা: কোনও প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সমর্থন থাকলেই সেটিকে ষড়যন্ত্র বলা যায় না। অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি।
    – রাজনৈতিক যোগাযোগ ও জবাবদিহি: রাজনৈতিক নেতাদের বিদেশি যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে যোগাযোগের অস্তিত্ব এবং বেআইনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ এক বিষয় নয়।
    সব মিলিয়ে, নেভিল রয় সিংহামকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন করে ভারতের রাজনীতিতে বিদেশি অর্থসাহায্য, আন্তর্জাতিক কর্মী সংগঠন এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি এই ঘটনাকে মোদি সরকারকে অস্থিতিশীল করার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

  • Para Asian Games 2026: প্যারা এশিয়ান গেমসে রেকর্ড পদক! ৩০টি সোনা-সহ ১১৪টি পদক, শুভেচ্ছাবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Para Asian Games 2026: প্যারা এশিয়ান গেমসে রেকর্ড পদক! ৩০টি সোনা-সহ ১১৪টি পদক, শুভেচ্ছাবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্যারা এশিয়ান গেমসে মোট ১১৪টি পদক নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করল ভারত। ইতিহাসে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করলেন ভারতের ক্রীড়াবিদরা। এত পদক এর আগে কোনও এশিয়ান গেমসে জেতেনি ভারত। ঝুলিতে তাঁরা পুরেছে মোট ৩০টি সোনা। দেশের প্যারা ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের পর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই সাফল্য গোটা দেশের জন্য গর্বের, গোটা দেশ ক্রীড়াবিদদের জন্য গর্বিত। দেশের প্যারা এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এটাই সেরা সাফল্য বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    গোটা দেশের জন্য গর্বের

    নিজের সোশ্য়াল মিডিয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘দুর্দান্ত পারফরম্য়ান্স ভারতের ক্রীড়াবিদদের জন্য। ১১৪টি পদক জিতেছে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা। এটা গোটা দেশের জন্য গর্বের। প্রত্যেকে দেশের জন্য নিজেদের সেরা পারফরম্য়ান্সটা দিয়ে থাকেন। আমি প্রত্যেক ক্রীড়াবিদকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। প্রত্যেক অ্য়াথলিট তাঁদের সেরাটা দিয়েছেন।’২০২৩ এশিয়ান গেমস হাংঝাউতে মোট ১০৮টি পদক জেতে। সেবার ২৭টি সোনা জিতেছিলেন ভারতের প্যারা অ্য়াথলিটরা। এবার পুরুষদের শটপাট এফ ৪৬ ইভেন্টে ভারতের প্যারা ক্রীড়াবিদরা ‘ক্লিন সুইপ’ করে তিনটি পদকই জিতেছিল। প্যারা তিরন্দাজি, প্যারা সাঁতার ও পাওয়ারলিফটিংয়েও ভারত পদক পেয়েছে।

    কোন বিভাগে কয়টি পদক

    এবারের প্যারা এশিয়ান গেমসে ২০৪টি সোনা, ১১৫টি রুপো ও ১০৮টি ব্রোঞ্জ নিয়ে প্রতিযোগিতায় একক আধিপত্য বজায় রেখে শীর্ষে শেষ করেছিল চিন। ৬৩টি সোনা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান ও ৪৫টি সোনা জিতে তৃতীয় স্থান দখল করেছে উজবেকিস্তান। ভারতের এবারের পদক তালিকায় সাফল্যের সিংহভাগ এসেছে প্যারা অ্য়াথলেটিক্স থেকে। সেখানে থেকেই ভারত সর্বাধিক ৬৫টি পদক জিতেছে। এরমধ্য়ে ২২টি সোনা ছিল। এছাড়া প্যারা ব্যাডমিন্টন থেকে এসেছে ১৬টি পদক ও প্যারা সাঁতার থেকে এসেছে ১১টি পদক। অন্যদিকে প্যারা-আর্চারি থেকে ৬টি ও প্যারা শ্যুটিং থেকে ৫টি পদক এসেছে এবারের প্যারা এশিয়ান গেমস থেকে।

    প্যারা অ্যাথলেটিক্স: ২২টি সোনা, ১৯টি রুপো, ২৪টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ৬৫টি পদক

    প্যারা সাঁতার: ০টি সোনা, ৩টি রূপাে ও ৮টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ১১টি পদক

    প্যারা টেবিল টেনিস: ০টি সোনা, ০টি রূপো ও ৭টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ৭টি পদক

    প্যারা শ্যুটিং: ২টি সোনা, ২টি রূপা ও ১টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ৫টি পদক

    প্যারা জুডো: ০টি সোনা, ১টি রুপাে ও ১টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ২টি পদক

    প্যারা পাওয়ারলিফটিং: ০টি সোনা, ২টি রূপা, কোনও ব্রোঞ্জ জেতেনি এই ইভেন্টে ভারত, মোট ২টো পদক

    প্যারা আর্চারি (তিরন্দাজি): ৩টি সোনা, ৩টি রুপাে, কোনও ব্রোঞ্জ নেই, মোট ৬টি পদক

    প্যারা ব্যাডমিন্টন: ৩টি সোনা, ৫টি রূপাে ও ৮টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ১৬টি পদক

  • Suvendu on Woman Safety: নাবালিকা বিবাহ রুখতে পদক্ষেপ! নারী-নিরাপত্তায় জোর, লক্ষ্মীপুজোয় বাংলার ‘লক্ষ্মী’দের ভালো রাখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu on Woman Safety: নাবালিকা বিবাহ রুখতে পদক্ষেপ! নারী-নিরাপত্তায় জোর, লক্ষ্মীপুজোয় বাংলার ‘লক্ষ্মী’দের ভালো রাখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের লক্ষ্মীদের ভালো রাখতে বদ্ধ পরিকর সরকার। লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় মহানায়ক উত্তম কুমারের বাড়ির পুজোয় গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে এল নাবালিকা বিবাহ (prevention of child marriage) থেকে নেশার কবলের মতো সমাজের সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলের প্রসঙ্গও। সে বিষয়ে শুধু একা সরকার নয়, মানুষের সাহায্যও চাইলেন তিনি।

    নাবালিকাদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ

    রাজ্যের নাবালিকা বিবাহ এবং সন্তান প্রসবে নাবালিকাদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নাবালিকাদের সন্তান প্রসবের ঘটনা রীতিমতো উদ্বেগের। তিনি এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, গত ছয় মাসে মুর্শিদাবাদে মোট ১২,৮৫৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ১২,৫৮৫ এবং শহরাঞ্চলে ২৬৫টি ঘটনা বলে জানানো হয়েছে। বয়সের নিরিখে ১০–১৩ বছর বয়সিদের মধ্যে ২৮টি, ১৩–১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ৮১৭টি এবং ১৫–১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ৬,৫২৭টি ঘটনা রয়েছে। ১৮ বছর বয়সে নথিভুক্ত ঘটনা ৫,৪৮৩টি। তালিকায় পরবর্তী স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সেখানে মোট ৪,১৭৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ৪,০৬৩ এবং শহরাঞ্চলে ১১৫টি। বয়সভিত্তিক হিসাবে ১০–১৩ বছর বয়সিদের মধ্যে ৫টি, ১৩–১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ২৪৪টি, ১৫–১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ১,৯৬৯টি এবং ১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ১,৯৬০টি ঘটনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে সমস্ত ঘটনাই হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব (institutional delivery) হওয়ায় নথিভুক্ত হয়েছে। ফলে এই পরিসংখ্যানের বাইরে থাকা ঘটনা থাকলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

    নাবালিকা বিবাহ রুখতে পদক্ষেপ

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্র বলছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রাজ্যে প্রায় ৬৭ হাজার নাবালিকা গর্ভধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। এই তালিকায় ১২,৮৪৭টি ঘটনা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। এর মধ্যে বড় অংশই ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরী, এমনকি ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সের প্রসূতিও রয়েছে সেখানে। তালিকায় পরবর্তী স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৪,১৭৮) ও পূর্ব বর্ধমান (৩,৭৭৭)। এর পর পর্যায়ক্রমে মালদহ, পশ্চিম মেদিনীপুর ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলি রয়েছে। ধর্মীয় পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ এক বিশেষ সম্প্রদায়ের হলেও, আইন ও অপরাধের বিচার সব নাগরিকের জন্য সমান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সন্তান প্রসবকারী নাবালিকাদের স্বামীদের স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে শোকজ নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক মাসের মধ্যে তাঁদের স্ত্রীদের বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের বয়স ২১ বছর হওয়ার আইনি যোগ্যতা ও বয়সের প্রমাণ পেশ করতে বলা হবে বলে জানানো হয়েছে। বয়সের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, নাবালিকা বিবাহ এবং নাবালিকাদের সন্তান প্রসব—দুই ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    গ্রেফতার এবং ধারাবাহিক পুলিশি অভিযান

    সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বাল্যবিবাহের ঘটনা নজরে এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, শুধু সচেতনতা বা সতর্কবার্তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। তাই বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকা প্রসবের ঘটনাগুলি চিহ্নিত করে মামলা, গ্রেফতার এবং ধারাবাহিক পুলিশি অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা নাবালিকা বিবাহ করেছেন তাঁদের স্বামীদের বয়স ২১ পেরিয়ে যাওয়ার কারণে এবং ইনস্টিটিউশনাল ডেলিভারি হওয়ায় স্বাস্থ্য দফতর থেকে এই সব ব‍্যক্তিদের কাছে নোটিশ যাবে। শুধু তাই নয়, এই সব পরিবারের লোকজন বিয়ে দিয়ে থাকলে সব রকম সরকারি প্রকল্প থেকেও বঞ্চিত থাকবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন।

    বাংলার প্রতিটি পরিবারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    বাংলার প্রতিটি পরিবারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘অভিভাবক, অভিভাবিকাদের বলব, ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ে দেবেন না। এই কারণে বহু প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব হচ্ছে। ১৫-১৪ বছরের বাচ্চা মেয়েদের তো এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। কিন্তু তাদেরও ১৮-র নীচে বিয়ে হচ্ছে এবং সন্তান প্রসব হচ্ছে হাসপাতালে। এ এক ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধি। এইটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ তাঁর কথায় উঠে এল বাল্যবিবাহ এখনও গ্রামীণ বাংলার একটা বড় সমস্যা। এখানে শুধু বাংলার মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষাই নয়, তাঁদের জীবন-মরণের মতো বড় একটা সমস্যার শিকড়ও জুড়ে রয়েছে। সরকারের কাজ কী? শুধু তো ভাতা দেওয়া বা রাস্তা তৈরি করা নয়। সরকারের কাজ সমাজের মধ্যে সংস্কার আনা। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সংস্কার আনার ক্ষেত্রে মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়করা শুধু নয়, জনগণকে যুক্ত করে করতে হবে এবং সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    নেশামুক্ত সমাজ, পুলিশের কড়া পদক্ষেপ

    প্রশাসনের ভূমিকা তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় লক্ষ্মীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের আরও পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আরও শক্ত হাতে আইন কার্যকর করতে হবে।’কিন্তু এখানে আইনের কার্যকর হওয়ারও একটা বড় গুরুত্ব রয়েছে। তা মনে করিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৮ জনের মতো ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হয়ে আছে, তার মধ্যে ছটা পকসো (POCSO) মামলা। তাদের ডেথ পানিশমেন্ট হয়ে আছে। তাদের যে শাস্তি কার্যকর হচ্ছে না, এর ফলে বেপরোয়া ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটছে। এই জায়গা থেকে আমাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এক নম্বর।’ শুধু আইন নয়, বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নেশার মতো ভয়ানক সামাজিক ব্যাধির কোপও। তা নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘নেশামুক্তি না ঘটলে বাংলার আমাদের মা-বোন, দিদি-কন্যারা সুরক্ষিত থাকবে না। আমি মনে করি, এই বিকৃত মানসিকতার মূলে রয়েছে নেশা। এই জায়গা থেকে বাংলাকে, ভারতবর্ষকে যেমন নেশামুক্ত করতে বলছে বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গকেও নেশামুক্ত করতে হবে।’

     

     

     

     

  • Weather Update: শক্তি বাড়াচ্ছে ‘অর্ণব’, ধেয়ে যাচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে! দুর্যোগের কবলে পড়বে উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গ

    Weather Update: শক্তি বাড়াচ্ছে ‘অর্ণব’, ধেয়ে যাচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে! দুর্যোগের কবলে পড়বে উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’–এ পরিণত হল ‘অর্ণব’ (Cyclone Arnab)। আজ, সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ছিল পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর। আন্দামান থেকে ৫৯০ কিমি উত্তর পশ্চিমে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৬৫০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ৭৩০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। মৌসম ভবন (Weather Update) জানাচ্ছে, ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল দিয়ে ওই ঘূর্ণিঝড়ের স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা খুব বেশি। ‘ল্যান্ডফলের’ সময় ঝড়ের গতি থাকবে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারেও। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার কারণে সমুদ্র এখন উত্তাল। বঙ্গোপসাগরের সংশ্লিষ্ট অংশের উপর ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হচ্ছে। উপকূলের দিকে যত এগোবে, ঝড়ের গতি আরও বাড়বে। অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে ঝড়ের তাণ্ডবের সম্ভাবনা রয়েছে। জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। পশ্চিমবঙ্গেও এই ঘূর্ণিঝড়ের কিছুটা প্রভাব পড়বে। একাধিক জেলায় হতে পারে ভারী বৃষ্টি।

    অর্ণব বলতে কী বোঝায়

    বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার বেগ কতটা হবে, পুরোটাই নির্ভর করছে সিস্টেমটির অভিমুখ কোন দিকে থাকবে তার ওপর। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার নামকরণ করে থাকে এই ১৩টি দেশ: বাংলাদেশ, ভারত, মলদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তাইল্যান্ড, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও ইরান। অর্ণব নামটি বাংলাদেশের দেওয়া। যার অর্থ সাগর বা সমুদ্র। ‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং এটি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) ও রাষ্ট্রসঙ্ঘ  এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ESCAP)-এর ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় প্যানেল কর্তৃক ২০২০ সালের এপ্রিলে গৃহীত ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামের সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সাধারণত অর্ণব নামটি সমুদ্র বা মহাসাগর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। যদিও আইএমডি-র আনুষ্ঠানিক নামকরণ তালিকায় প্রস্তাবকারী দেশ এবং নামটির উচ্চারণ নিশ্চিত করা হয়েছে, কিন্তু শব্দটির কোনও সংজ্ঞা দেওয়া হয় না।

    কোথায় কোথায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব

    আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা থেকে বিশাখাপত্তনমের মধ্যে ২৮ অক্টোবর দুপুরের আগেই ঘূর্ণিঝড়টির ল্যান্ডফল হবে। সে সময়ে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, ২৭ অক্টোবর কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া এবং হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুতের পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের এক-দু’টি জায়গায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। ২৮ অক্টোবর পরিস্থিতির অবনতি হবে। এ দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি (৭-১১ সেমি) হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুতের পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

    কলকাতা-সহ সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি! 

    ২৯ অক্টোবর বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে। কলকাতা-সহ সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।৩০ অক্টোবর কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার এক-দু’টি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবারের পর থেকে তাঁরা আপাতত আর সমুদ্রে যেতে পারবেন না। যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদের মঙ্গলবারের মধ্যেই ফিরে আসতে হবে। দক্ষিণবঙ্গে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা ৩০ অক্টোবর।

    উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের প্রভাব

    দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কিছুটা দেরিতে। ৩০ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারের বিক্ষিপ্ত কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ দিন উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুতের আশঙ্কা। ৩১ অক্টোবরও উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এ দিন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ওড়িশায় ছুটি বাতিল করা হয়েছে

    প্রায় প্রতিবছরই কোনও না কোনও ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয় ওড়িশা। এখন শিয়রে আরও একটা ঘূর্ণিঝড়। চোখ রাঙাচ্ছে অর্ণব। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পরিপ্রেক্ষিতে ওড়িশা সরকার সমস্ত কৃষি কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করেছে এবং ২৫  অক্টোবর থেকে ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিপাতের মোকাবিলায় প্রশাসন যেন দ্রুত সাড়া দিতে পারে, ফসলের ক্ষতি কমানো যায় এবং কৃষকদের সময়মতো সহায়তা প্রদান করা যায়। ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। জেলায় জেলায় বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল।  ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রও গুলিও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

  • Health Minster Of Bengal: পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে জরুরি বৈঠক! সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাতে জোর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    Health Minster Of Bengal: পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে জরুরি বৈঠক! সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাতে জোর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালের (Govt Hospital) পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর আশা, বেসরকারি হাসপাতালের মতো পরিষেবার বন্দোবস্ত করতে হবে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও (Sharadwat Mukherjee) তাই সচেষ্ট। সেই লক্ষ্যে প্রথমেই তিনি সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাতে জোর দিলেন। হাসপাতাল চত্বর ও তার ভিতরের অংশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুরসভা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ রক্ষায় জোর

    শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা করে তিনি জানান, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব যেমন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা স্বাস্থ্য দফতরের ওপর বর্তায়, তেমনই হাসপাতাল চত্বর বা বাইরের ক্যাম্পাসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিকাশি ব্যবস্থার দায়িত্ব স্থানীয় পুরসভা বা লোকাল বডির। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কোনও সরকারি হাসপাতালে ঢুকে রাস্তায় নোংরা দেখলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে কেন হাসপাতাল চত্বর পুরসভা দেখবে। কিন্তু প্রশাসনিক কাঠামোগত নিয়মে রাস্তাঘাট লোকাল বডির অধীনস্থ হওয়ায় পুরসভা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মেলবন্ধন থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোথাও যেন কোনও ফাঁক না থাকে, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    কোন কোন হাসপাতালে বিশেষ নজর

    যে সমস্ত হাসপাতালে রোগীর চাপ বা ভিড় অত্যন্ত বেশি, সেই হাসপাতালগুলোতে সাফাইয়ের কাজ আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসএসকেএম, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস, আরজি কর কিংবা বর্ধমান, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গের মতো বড় মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বর্তমানে পুরসভা বা মিউনিসিপ্যালিটি থেকে দিনে একবার জঞ্জাল বা বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করা হলেও, তা বাড়িয়ে দিনে অন্তত দু’বার করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মূল দায়িত্ব নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্টদের ওপর রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে সুদৃঢ় করা, পরিকল্পনা মাফিক তা পরিচালনা করা এবং নির্দিষ্ট ফল প্রাপ্তির লক্ষ্যেই এদিনের ওই বৈঠকে সাফাইকর্মী থেকে শুরু করে অধ্যক্ষ এবং নার্সিং স্টাফ—সকলকেই উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান মন্ত্রী।

  • Laxmi Puja 2026: বিভিন্ন পঞ্জিকায় তিথির পার্থক্য! জেনে নিন ২৫ অক্টোবর কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপুজোর শুভ সময় কখন?

    Laxmi Puja 2026: বিভিন্ন পঞ্জিকায় তিথির পার্থক্য! জেনে নিন ২৫ অক্টোবর কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপুজোর শুভ সময় কখন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উমা বিদায়ের পরই বাঙালির ঘরে ঘরে চলে মা লক্ষ্মীকে বরণ করার প্রস্তুতি। ২০২৬ সালে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন, পুজো ২৫ অক্টোবর হবে, নাকি ২৬ অক্টোবর? পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর, রবিবার সন্ধ্যাতেই লক্ষ্মীপুজো করা হবে। কারণ, পূর্ণিমা তিথি ২৫ অক্টোবর সকালেই শুরু হচ্ছে এবং রাতেও থাকছে। ২৬ অক্টোবর সকালে তিথি শেষ হয়ে যাবে। তাই কোজাগরী পূর্ণিমার রাতেই দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার আয়োজন করতে পারেন ভক্তরা। তবে বিভিন্ন পঞ্জিকায় তিথি শুরুর সময়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকায় পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে পরের দিন সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে। অন্যদিকে, গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকায় তিথি শুরুর সময় সকাল ১০টা ৫৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।

    এসো মা লক্ষ্মী, বসো ঘরে

    দুর্গাপুজো শেষ হওয়ার পর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বাঙালি হিন্দু পরিবারে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালিত হয়। সংসারে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নতির কামনায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। ‘কোজাগরী’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘কো জাগর্তি’ থেকে, যার অর্থ ‘কে জেগে আছো?’ প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে পরিভ্রমণ করেন এবং যাঁরা রাত জেগে তাঁর আরাধনা করেন, তাঁদের আশীর্বাদ করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই কোজাগরী পূর্ণিমায় রাত জেগে পুজো করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। কথিত রয়েছে, এই পূর্ণিমার রাতে নাকি দেবী লক্ষ্মী জগৎ পরিক্রমায় বেরন। তিনি দেখেন কেউ সারারাত জেগে আছেন কিনা। অনেকে এ-ও বলে থাকেন, ওইদিন রাতে যে ব্যক্তি জেগে থাকেন তাঁকে মা লক্ষ্মী ধনসম্পত্তি দান করেন।

    কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালনের রীতি

    প্রথমে পুজোর স্থান পরিষ্কার করে লক্ষ্মীর আসন সাজিয়ে নিন। বাংলায় বাড়ির প্রবেশপথে চালের গুঁড়ি দিয়ে আলপনা ও লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার রীতি রয়েছে। ফুল, ফল, মিষ্টি, নারকেল, চিঁড়ে, খই ও অন্যান্য নৈবেদ্য দিয়ে পুজোর আয়োজন করতে পারেন। পরিবারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করুন। রাত জেগে পুজো করার রীতি থাকলেও নিজের পারিবারিক প্রথা ও পুরোহিতের পরামর্শ মেনে চলুন। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন বাংলার প্রতিটি ঘর মুখরিত হয়ে ওঠে শঙ্খধ্বনিতে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে কৃষি সমাজ। এই পুজো হয় মূলত প্রতিমা, সরা, নবপত্রিকা কিংবা থোড়ের তৈরি নৌকোয়। লক্ষ্মীর সরাও হয় নানারকমের। যেমন – ঢাকাই সরা, ফরিদপুরি, সুরেশ্বরী এবং শান্তিপুরী সরা।

  • Health Minster Of Bengal: ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো টানা ছুটি নয়! সরকারি হাসপাতালে ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ করার ঘোষণা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    Health Minster Of Bengal: ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো টানা ছুটি নয়! সরকারি হাসপাতালে ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ করার ঘোষণা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বছর দুর্গাপুজো থেকে আর টানা ছুটি পাবেন না রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের কর্মীরা। দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত, প্রায় ১০ দিন ছুটি আর হবে না। শুক্রবার দ্বাদশীর দিন এ কথা ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আর পাঁচটা সরকারি দফতরের মতো স্বাস্থ্য দফতর নয়। স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে জরুরি পরিষেবা দিতে হয়। মানুষের স্বার্থে পুজোর মধ্যে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত রস্টার ডিউটি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ!

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্যে অঘোষিত একটি রেওয়াজ ছিল যে, ষষ্ঠী মানেই অফিস-কাছারিতে পুজো-পুজো ভাব। সেই ছুটির রেশ চলে যায় একেবারে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। শারদ্বতের কথায়, ‘‘ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়া বন্ধ হোক। এত দিন ধরে এটা রীতি-রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৪৭ সালের পর থেকে ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো হাসপাতালে একটা ছুটি-ছুটি ভাব ছিল। এটাই চলে আসছিল।’’ তার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘পরের বার থেকে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমীর জন্য শুধু পুজো রস্টার হবে। আজ থেকেই যাঁরা ছুটিতে ছিলেন তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।’’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এ বছরই বাকি সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে সাফাইকর্মী, সকলেই কাজে ফিরে এসেছেন। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও আধিকারিকদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী।

    স্বাস্থ্য পরিষেবা জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, পুজোর সময়ে হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও অন্য কর্মীদের উপস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েই একাংশের অনুপস্থিতির বিষয়টি নজরে আসে। পুজোর সময়ে পুরলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে সাফাইয়ের দুরবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো সরাসরি ফোন করে বিষয়টি জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। তাতে অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে আরও জলঘোলা হয়। মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত। ফলে উৎসবের মরশুমেও দায়িত্ব পালনে কোনও শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।’ সরকারি কর্মীদের জনগণের করের টাকায় চলা পরিষেবার প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কাজ করানোর জন্যেও কি নির্দেশিকা জারি করতে হবে?’এ বারও পুজোর চার দিনের জন্যে বিশেষ রস্টার চালু থাকলেও আগামী বছর থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য কর্মীদের জন্য আগের মতোই রস্টার ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। আগাম ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা বন্ধ করতেও কড়া অবস্থান নিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।

LinkedIn
Share