মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেঘালয়ের (Meghalaya) পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমা করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছিল রাজা রঘুবংশীর। সেই চাঞ্চল্যকর ‘হানিমুন মার্ডার’ মামলায় (Honeymoon Murder Case) মূল অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী, পেশ করা একটি ছোট তথ্যগত ভুলের (Clerical Error) সুযোগে জামিন পেয়ে গেল। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজার পরিবারের তরফে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট (Honeymoon Murder Case)
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা রাজা রঘুবংশী ও সোনম রঘুবংশী বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমায় (Honeymoon Murder Case) গিয়েছিলেন মেঘালয়ে (Meghalaya) । সেখানে একটি গভীর খাদ থেকে উদ্ধার হয় রাজার দেহ। পারিবারিক ব্যবসার প্রাক্তন কর্মী রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে মিলে হানিমুনের সময় রাজাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর পরিকল্পনা করে। সোনমের উপস্থিতিতেই তিনজন ভাড়াটে খুনি ওয়েই সাওডং জলপ্রপাতের কাছে দা দিয়ে রাজাকে আক্রমণ করে। তারপর তাঁর দেহ ফেলে দেওয়া হয় একটি গিরিখাতে, বন্ধ করে দেওয়া হয় ফোনটি।
কীভাবে মিলল জামিন?
আদালতে জামিনের আবেদন চলাকালীন একটি চাঞ্চল্যকর বিষয় সামনে আসে। পুলিশি নথিপত্রে নিম্ন আদালতের আদেশে রাজার মৃত্যুর তারিখ বা সময়ের বর্ণনায় একটি করণীয় ছোট তথ্যগত ভুল ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তের আইনজীবী সেই তথ্যগত ত্রুটিকে (Honeymoon Murder Case) হাতিয়ার করে দাবি করেন যে, পুলিশের পেশ করা তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে এবং তাঁর মক্কেলকে ভিত্তিহীনভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আদালত লক্ষ্য করে যে, মামলার নথিতে থাকা সেই নির্দিষ্ট ভুলটি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্বকে কিছুটা লঘু করে দিয়েছে। এর ফলে আইনি প্রক্রিয়ার নিয়ম মেনে আদালত রাজাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিবারের ক্ষোভ
রাজার পরিবার এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতি বা নথিপত্র তৈরির সময় অসতর্কতার কারণেই একজন খুনের আসামী (Honeymoon Murder Case) এভাবে মুক্তি পেয়ে গেল। তাঁরা এই জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে (Meghalaya) যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
আদালতে পুলিশ জানিয়েছিল, রাজাকে খুনের পর শিলং থেকে বেশ কয়েকটি রাস্তা বদল করে ইন্দোরে পৌঁছয় সোনম। সেখানে ৩-৪ দিন সে তার প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার বাড়িতে ছিল। ৩-৪ দিন পর সোনমকে ইন্দোরের দেবাসের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় রাজ। সেখানে পৌঁছে নিজের মোবাইলের সিম খুলে রাজকে দিয়েছিল সেনম। তার জন্য নতুন একটি সিমকার্ডের ব্যবস্থা করেছিল রাজ। এত কিছুর পরেও অবশ্য বেশি দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেনি সোনম।
আইনি মহলের প্রতিক্রিয়া
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় তদন্তকারী আধিকারিকদের তাড়াহুড়ো বা খসড়া তৈরির সময় অসাবধানতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বড় ধরণের ত্রুটি থেকে যায়। এই ‘ক্ল্যারিক্যাল এরর’ বা তথ্যগত ও করণীয় ভুলের সুযোগ নিয়ে অনেক অপরাধীই আইনি সুবিধা পেয়ে যায়, যা এই ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
মেঘালয় (Meghalaya) পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই ভুল সংশোধন করে জোরালো তথ্য পেশ করা হবে। আপাতত জামিনে মুক্ত হয়ে রাজা রঘুবংশী ইন্দোরে ফিরে গেলেও, তার ওপর একাধিক আইনি বিধিনিষেধ জারি (Honeymoon Murder Case) করা হয়েছে।

Leave a Reply