Meta To PM Modi Post: ভিআইপি অ্যাকাউন্টের জন্য কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থা! প্রধানমন্ত্রী মোদির ফেসবুক পোস্ট সরানো নিয়ে ব্যাখ্যা মেটার

meta to pm modi post facebook explain the incident outlines safeguards for vip accounts

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Meta To PM Modi Post) ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় এবার বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলল মেটা। কেন্দ্রের একটি সূত্রের দাবি, মেটা কর্তৃপক্ষের তরফে এই বিষয়ে চিঠি দিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি-সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট দেখভালের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়ার কথা জানিয়েছে মেটা। এই ধরনের ব্যক্তিদের পোস্ট শুধু মেটার উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরাই খতিয়ে দেখবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও দিয়েছে মেটা। সংস্থার দাবি, এটি একটি “প্রযুক্তিগত ত্রুটি” (Technical Glitch)-র কারণে ঘটেছিল।

কঠোর পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালু

ভারত সরকারকে পাঠানো চিঠিতে মেটা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Facebook Post), কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ পদাধিকারী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জননেতাদের অ্যাকাউন্টে পোস্ট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কঠোর পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় প্রধানমন্ত্রী-সহ নির্বাচিত উচ্চ-প্রোফাইল অ্যাকাউন্টগুলির কোনও পোস্ট সরানো বা তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের আগে একাধিক স্তরে পর্যালোচনা করা হবে। মেটার দাবি, এর ফলে ভুলবশত কোনও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

মেটার ব্যাখ্যায় খুশি ছিল না কেন্দ্র

খোদ প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা ফেসবুক থেকে মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ফেসবুকের নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা ভুল স্বীকার করলেও তাদের বক্তব্য সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্র। এর আগে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) মেটার প্রাথমিক ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে সেটিকে “অপর্যাপ্ত” বলে মন্তব্য করেছিল। বিষয়টি নিয়ে সরকারের তরফে মেটার এক শীর্ষ আধিকারিককেও তলব করা হয়েছিল। সরকারের আপত্তির পর মেটা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে তাদের কনটেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এখন থেকে এই ধরনের অ্যাকাউন্টের পোস্টের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার আগে একাধিক উচ্চ আধিকারিকের পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক হবে। সংস্থা আরও জানিয়েছে, ঘটনার একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন (Internal Assessment) করা হয়েছে, যেখানে কীভাবে এই ভুল ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে তা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

আরও সতর্ক থাকবে মেটা

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত যে কোনও মডারেশন সিদ্ধান্ত মেটা-র অন্তত দু’জন উচ্চ আধিকারিকের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যাবে না। সংস্থার দাবি, এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি কমাবে এবং সংবেদনশীল অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা নিশ্চিত করবে। যদিও মেটার নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে শীঘ্রই এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান প্রকাশ পেতে পারে। কেন্দ্রের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষে মেটা-র একটি প্রতিনিধিদল সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবে। সেখানে এই বিষয়টি নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হতে পারে।

কেন সরানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট?

নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ছাত্রবিক্ষোভের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছিলেন, প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনছে সরকার। ২৮ জুলাই ভোরে ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে মেটা সেটি পুনরুদ্ধার করে জানায়, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল। এই ঘটনার জন্য মঙ্গলবার ক্ষমা চায় ফেসবুকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেটা। একটি বিবৃতি দিয়ে মেটা-র এক মুখপাত্র জানান, ভুল করে ওই ভিডিওটি মুছে গিয়েছিল। তার পর সেটিকে ফেরানো হয় বলে জানান তিনি। মেটা-র তরফে যান্ত্রিক গোলযোগের কথাও বলা হয়। মেটা-র এই ব্যাখ্যায় অবশ্য সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্র। সরকারের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানায়, বিষয়টি এখনই মিটে যাওয়ার লক্ষণ নেই। এই ঘটনার জন্য মেটা যে যুক্তি দিয়েছে, তাকে যুক্তিযুক্ত মনে করছে না সরকার। পোস্টটি মুছে দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ওই ভিডিও বার্তার ক্যাপশনটি অবিকল থাকলেও ভিডিওর অংশে লেখা ছিল, “আইনি অনুরোধের কারণে এই পোস্টটি ভারতে পাওয়া যাচ্ছে না।”

বিজেপি নেতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

জনপ্রিয় সমাজমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম মেটা-র নিয়ন্ত্রণাধীন। এই তিনটি সমাজমাধ্যমের সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্কে প্রায়ই টানাপড়েন দেখা যায়। সম্প্রতি ‘ইউজ়ারনেমস’ ফিচার নিয়ে কেন্দ্রের আতশকাচের তলায় এসেছিল হোয়াট্‌সঅ্যাপ। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ-আন্দোলনেও সমাজমাধ্যমের বড় ভূমিকা ছিল। ছাত্রদের বিক্ষোভ উঠে যাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ‘আপত্তিকর’ ছবি, ভিডিও শনাক্ত করে কেন্দ্র। সেগুলি ফেসবুক-সহ অন্য সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দিতে বলা হয়। সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ‘মুছে দেওয়ার’ ঘটনা। ঘটনার পর বিজেপি নেতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিজেপি নেতা তাজিন্দর বাগ্গা এক্স-এ পোস্ট করে অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদির কাগজ ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সম্পর্কিত পোস্ট ভারতের দর্শকদের কাছ থেকে আড়াল করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী কী পড়বেন বা ভারতীয়রা কী দেখবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার একটি বিদেশি প্ল্যাটফর্মকে কে দিয়েছে?” উল্লেখ্য, পোস্টটি ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ভিউ অর্জন করেছিল। ফলে সাময়িকভাবে সেটি সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে পোস্টটি পুনরায় দৃশ্যমান করা হলে মেটা সেটিকে প্রযুক্তিগত ভুল বলেই ব্যাখ্যা করে।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share