Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Bangladesh Crisis: বাংলাদেশে আবারও গণপিটুনির ঘটনা, রাজবাড়ীতে হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডল নিহত

    Bangladesh Crisis: বাংলাদেশে আবারও গণপিটুনির ঘটনা, রাজবাড়ীতে হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডল নিহত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ফের হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন করা হল। এবার ঘটনাস্থল রাজবাড়ি। মৃত যুবকের নাম অমৃত মণ্ডল। তিনি এলাকায় সম্রাট নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার রাত এগারোটা নাগাদ পাংশা উপজেলার হোসেনডাঙ্গা পুরাতন বাজার এলাকায় ২৯ বছরের ওই যুবককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। কয়েকদিন আগেই ময়মনসিংহের ভালুকায় ২৭ বছর বয়সী হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকেও খুন করেছিল মৌলবাদীরা। সেই রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই এই ঘটনা সামনে এল।

    বাংলাদেশে হিন্দু নিধন চলছেই

    পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অমৃত মণ্ডলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছিল, যার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, অমৃত মণ্ডল স্থানীয় একটি গ্রুপের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যা ‘সম্রাট বাহিনী’ নামে পরিচিত ছিল। তিনি রাজবাড়ী জেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অক্ষয় মণ্ডলের ছেলে। প্রসঙ্গত, মহম্মদ ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার সবথেকে বেশি বেড়েছে। শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পরই সেখানে কার্যত হিন্দু নিধন শুরু হয়। বহু সংখ্যালঘুর বাড়িতে অত্য়াচার করে মৌলবাদীরা, লুটপাট চালায়। মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছিল। সম্প্রতি পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে খুন করেছিল উগ্রপন্থীরা। সেই ঘটনার ফের পুনরাবৃত্তি।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

    ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় এখনও কোনও গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় গণপিটুনির ঘটনা। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানায় কর্মরত দীপু চন্দ্র দাসকে ইসলাম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে মারধর করা হয়, যার ফলে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর তার মরদেহের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণের অভিযোগ ওঠে, যা দেশজুড়ে ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দেয়। পরপর দুটি ঘটনায় দেশে গণপিটুনি ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে।

  • Atal Canteen: ৫ টাকায় পেট ভরে ভাত-ডাল-রুটি-সবজি, দিল্লিতে খোলা হল ১০০টি ‘অটল ক্যান্টিন’

    Atal Canteen: ৫ টাকায় পেট ভরে ভাত-ডাল-রুটি-সবজি, দিল্লিতে খোলা হল ১০০টি ‘অটল ক্যান্টিন’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুবেলা দুমুঠো অন্ন সংস্থান করতে যাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়, তাদের জন্য বড় উপহার। এবার ভরপেট খাবার মিলবে, আর খরচ? মাত্র পাঁচ টাকা। কোথায় পাবেন এত সস্তায় খাবার? দিল্লি সরকার আজ, ২৫ ডিসেম্বর উদ্বোধন করল অটল ক্যান্টিনের। মাত্র পাঁচ টাকাতেই পাওয়া যাবে খাবার। দিল্লির ১০০টি জায়গায় এই খাবার পাওয়া যাবে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে এই উদ্য়োগ নেওয়া হয়েছে।

    সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর খাবারের আশ্বাস

    দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, এই ১০০টি অটল ক্যান্টিনে গরিব, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের পরিবার দু-বেলা দুমুখো খাবার পেট ভরে খেতে পারবে। তিনি বলেন, “অটল ক্যান্টিন দিল্লির আত্মা হয়ে উঠবে। আর কেউ অভুক্ত থেকে ঘুমোতে যাবে না।” নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেই শহরের বাসিন্দাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর খাবারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। দিল্লির নগরোন্নয়ন মন্ত্রী আশিস সুদ জানান, ক্যান্টিনগুলি বিশেষ করে দৈনিক মজুর, শ্রমিক এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির জন্য বানানো হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় হাজার জনকে খাবার সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কী কী খাবার থাকবে মেনুতে

    দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এদিন দিল্লির আর কে পুরম, জাংপুরা, শালিমার বাগ, গ্রেটার কৈলাশ, রাজৌরি গার্ডেন, নারেলা, বাওয়ানা-সহ বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি অটল ক্যান্টিনের দ্বার উন্মোচন করেন। দিল্লি সরকার সূত্রে খবর, ধাপে ধাপে আরও বিভিন্ন এলাকায় বাকি ৫৫টি ক্যান্টিন খোলা হবে বলে জানিয়েছেন রেখা। দুপুরের খাবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এবং রাতের খাবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে। দিল্লি সরকার খাবার বিতরণের জন্য হাতে লেখা কুপনের পরিবর্তে একটি ডিজিটাল টোকেন ব্যবস্থা চালু করেছে। দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডের (ডিইউএসআইবি) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সিসিটিভি ক্যামেরার সাহায্যে সমস্ত কেন্দ্রগুলিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মাত্র পাঁচ টাকায় পাওয়া যাবে ভাত, ডাল, রুটি, সবজি ও আচার। এই প্রকল্পের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

  • Maoist Encounter: মাথার দাম ১ কোটি ১০ লক্ষ! হিডমার পর ওড়িশায় এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষনেতা গণেশ

    Maoist Encounter: মাথার দাম ১ কোটি ১০ লক্ষ! হিডমার পর ওড়িশায় এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষনেতা গণেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাও-দমনে ফের বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। গত মাসেই নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি সীতারামারাজুতে নিহত হয়েছিলেন মাওবাদী শীর্ষনেতা মাডবী হিডমা। তার ঠিক এক মাসের মধ্যেই ওড়িশার (Odisha) কন্ধমলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে (Maoist Encounter) নিহত হলেন আরও এক মাওবাদী শীর্ষনেতা গণেশ উইকে। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। এই সংঘর্ষের ২৪ ঘণ্টা আগে মালকানগিরিতে ২২ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেন। নিরাপত্তাবাহিনীর এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এটা আমাদের বাহিনীর জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। মাও নেতার মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। গণেশের মৃত্যুতে মাওবাদীদের সাংগঠনিক কাঠামোর মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে।’’

    রাতভর চলে এনকাউন্টার

    পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ ওড়িশার (Odisha) কন্ধমল জেলার জঙ্গলে মাওবাদীদের (Maoist Encounter) একটি দলকে ঘিরে ফেলে বিএসএফ এবং সিআরএফ জওয়ানরা। এরপর শুরু হয় ধুন্ধুমার গুলির লড়াই। তাতেই মৃত্যু হয় মোট চার জন মাওবাদীর। এই চার জনের একজন হলেন মাও সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য গণেশ উইকে। নিহত বাকি তিন জনের মধ্যে দু’জন মহিলা সদস্য বলে জানা গিয়েছে। তেলেঙ্গানার নলগোন্ডা জেলার চেন্দুর মণ্ডলের পুল্লেমালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন গণেশ উইকে। যদিও মাওবাদী সদস্যদের কাছে গণেশ পাক্কা হনুমন্তু, রাজেশ তিওয়ারি, চামরু এবং রুপা নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, গণেশের মাথার দাম ছিল এক কোটি দশ লক্ষ টাকা। হিডমার মৃত্যুর পর গণেশের খোঁজেও তল্লাশি চলছিল। বুধবার রাতে গোপন সূত্রে কন্ধমলের বেলঘর থানায় খবর আসে ওই জেলার গুম্মার জঙ্গলে একদল মাওবাদী জড়ো হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শীর্ষনেতাও আছেন। সেই খবর পেয়েই রাতে অভিযানে যায় পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর যৌথ দল। রাতভর তল্লাশি অভিযান চলে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মাওবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। ওডিশার ডিজিপি যোগেশ বাহাদুর খুরানিয়া জানান, প্রথম এনকাউন্টার হয় বেলঘর থানা এলাকার গুম্মার জঙ্গলে। বুধবার রাতে ওই জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন মাওবাদীদের দুই সদস্য। তাঁরা সংগঠনের ছত্তিসগড়ের সদস্য ছিলেন। জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে থ্রিনটথ্রি রাইফেল ও ইনসাস রাইফেল, প্রচুর কার্তুজ। দ্বিতীয় এনকাউন্টার হয় বৃহস্পতিবার ভোররাতে।

    সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা

    ঝিরাম ঘাঁটি হামলার অন্যতম অভিযুক্ত গণেশ প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি (ডিকেএসজেডসি)-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও তথাকথিত ‘রেড করিডোর’-এর বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ইউনিটগুলির মধ্যে মূল সেতুবন্ধন ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা সংস্থার মতে, পূর্বঘাটে মাওবাদী (Maoist Encounter) সংগঠন বিস্তারের ‘মস্তিষ্ক’ ছিলেন উইকে। বর্তমানে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির মাত্র তিনজন সদস্য অবশিষ্ট ছিলেন—গণেশ উইকে (ওড়িশা), মল্লারাজি রেড্ডি ওরফে সংঘম (ছত্তীসগঢ়) এবং আনন্দা ওরফে তুফান (ঝাড়খণ্ড)। এই অভিযানের ফলে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার কেন্দ্রের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব হল বলে মনে করছে প্রশাসন। চলতি বছরেই একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মে মাসে সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজ এবং নভেম্বরে কমান্ডার মাডভি হিডমার নিহত হওয়ার পর এবার গণেশ উইকের মৃত্যু সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা।

  • Pakistan’s Gaza Troop: গাজায় সেনা পাঠাবে পাকিস্তান! ইসলামাবাদের প্যালেস্টাইন নীতি প্রশ্নের মুখে

    Pakistan’s Gaza Troop: গাজায় সেনা পাঠাবে পাকিস্তান! ইসলামাবাদের প্যালেস্টাইন নীতি প্রশ্নের মুখে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক “স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স”-এ (ISF) পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা দেশটির ভেতরে ও মুসলিম বিশ্বে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচিত এই পরিকল্পনায় যুদ্ধ থামার পর গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন তদারকির কথা বলা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এর বাস্তব প্রভাব হবে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ ও ইজরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থের অনুকূলে গাজাকে “শান্ত” রাখা—যা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের প্যালেস্টাইন-সমর্থক অবস্থানের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।

    ফের বিশ্বাসভঙ্গ করল পাকিস্তান!

    পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কখনও ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি পাকিস্তানের পাসপোর্টে ইজরায়েলে ভ্রমণ নিষিদ্ধ। পাক সংসদও সম্প্রতি গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে প্যালেস্টাইনের প্রতি “ঐতিহাসিক ও অটল সমর্থন” পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে গোপনে “স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স”-এ (ISF) যোগ দেওয়ার আলোচনা পাকিস্তানের নীতিগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের ভেতরে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইজরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে হামাস নিরস্ত্রীকরণে ভূমিকা রাখা হলে তা শান্তিরক্ষার চেয়ে ইজরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হবে। জনমত পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে প্যালেস্টাইনপন্থী ও ইজরায়েল-বিরোধী হওয়ায় এই উদ্যোগকে “বিশ্বাসভঙ্গ” বলেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

    পাক রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

    আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াও নেতিবাচক। ইরান, তুরস্ক ও কাতারসহ কয়েকটি প্রভাবশালী মুসলিম দেশের নীতিনির্ধারকেরা পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানকে মুসলিম বিশ্বের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। দেশীয় রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র। ইসলামি দলগুলো সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি) যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনাকে “প্যালেস্টাইনকে অধীনস্থ করার ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করে প্রতিবাদে নেমেছে। সরকারি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মুখে সংঘর্ষের খবরও আসে; পরবর্তীতে ব্যাপক ধরপাকড়, গ্রেফতার ও নানা নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী সংসদে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে যে কোনো সমঝোতা প্যালেস্টাইনের অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে বলে সতর্ক করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সংসদীয় আলোচনা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।

    রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট

    সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। সমালোচকরা দাবি করছেন, অর্থনৈতিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সুবিধার বিনিময়ে এই পরিকল্পনায় এগোনোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে সেনা মোতায়েনের জন্য অর্থনৈতিক দরকষাকষির অভিযোগও তোলা হয়েছে, যদিও এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। আরও বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে ঋণ-সহজীকরণ বা নতুন তহবিলের আশ্বাস এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি একটি শান্তিরক্ষামূলক অবদান। তবে বিরোধীদের চোখে, এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের প্যালেস্টাইন নীতিকে দুর্বল করবে, অভ্যন্তরীণ ঐক্যে ফাটল ধরাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গাজায় সেনা পাঠানোর প্রশ্নটি এখন পাকিস্তানের জন্য এক বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

  • Dni Gabbard: ইসলামপন্থী মতাদর্শ সম্পর্কে কড়া সতর্কবার্তা আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের

    Dni Gabbard: ইসলামপন্থী মতাদর্শ সম্পর্কে কড়া সতর্কবার্তা আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইসলামপন্থী মতাদর্শ (Islamist Ideology) সম্পর্কে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড (Dni Gabbard)। আমেরিকায় একটি হাইপ্রোফাইল রক্ষণশীল সমাবেশে ভাষণ দেন তিনি। সেখানেই গ্যাবার্ড এই হুমকিকে পাশ্চাত্য স্বাধীনতার সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-র বার্ষিক আমেরিকা ফেস্ট সম্মেলনে উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে গ্যাবার্ড বলেন, “এই ইসলামপন্থী মতাদর্শ থেকে আসা হুমকি নানা রূপে প্রকাশ পায়। আমরা যখন বড়দিনের দিকে এগোচ্ছি, ঠিক এই মুহূর্তে জার্মানিতে এই হুমকির কারণে বড়দিনের বিভিন্ন বাজার বাতিল করা হচ্ছে।”

    গ্যাবার্ডের বক্তব্য (Dni Gabbard)

    দেশটির ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে রয়েছন গ্যাবার্ড। তিনি বলেন, “এই মতাদর্শের সঙ্গে আমেরিকার স্বাধীনতার সরাসরি সংঘাত রয়েছে। যখন আমরা ইসলামবাদের হুমকি—এই রাজনৈতিক মতাদর্শ—নিয়ে কথা বলি, তখন সেখানে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা নাগরিক স্বাধীনতার কোনও অস্তিত্বই থাকে না।” গ্যাবার্ডের এই মন্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছেন। এটি একটি এমন পদ, যেখানে সাধারণত প্রকাশ্য বক্তব্যে, বিশেষ করে দলীয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে, প্রকাশ্য আদর্শগত অবস্থান এড়িয়ে চলা হয়।

    আমেরিকা ফেস্ট

    টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ–র আমেরিকা ফেস্ট এখন রক্ষণশীল কর্মী, আইনপ্রণেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে পরিণত হয়েছে, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা, অভিবাসন ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলিকে ক্রমেই একটি বৃহত্তর আদর্শগত সংগ্রামের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক হিসেবে নিজের সরকারি ক্ষমতাবলে গ্যাবার্ড এই মন্তব্যগুলি করেছেন বলে জানান ওডিএনআইয়ের এক মুখপাত্র। টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ–র প্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্ক সংগঠনটিকে রক্ষণশীল যুব আন্দোলনের একটি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি নিয়মিতভাবে উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানান, যাঁরা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্ককে আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করেন (Dni Gabbard)।

    সতর্কবার্তা জারি

    কার্ক সেই প্রভাবকে সারা দেশের কলেজ ক্যাম্পাসগুলিতে ছড়িয়ে দেন। ধর্ম, ইসলামবাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অভিবাসন এবং আমেরিকান সংস্কৃতি নিয়ে সরাসরি, তাৎক্ষণিক ও পূর্বপরিকল্পনাহীন বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি বিপুল সংখ্যক দর্শককে আকর্ষণ করতেন। এমনই এক অনুষ্ঠানে, উটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে, গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি হাজারো মানুষের খোলা মাইকে করা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন, তখনই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আধুনিক রাজনৈতিক সক্রিয়তার উত্তপ্ত ও সংঘাতপূর্ণ চরিত্র রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বড় জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ক্রমেই বেশি সতর্কবার্তা জারি করছে (Islamist Ideology)।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইউরোপের নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও ছুটির মৌসুমের বিভিন্ন আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছেন। জার্মানি, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে ইসলামপন্থী অনুপ্রেরণায় সংঘটিত একাধিক প্রাণঘাতী হামলার পর অনেক ক্রিসমাস মার্কেটে পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে কিংবা সাময়িকভাবে সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে (Dni Gabbard)।

  • Tarique Rahman: ১৭ বছর পর দেশে খালেদার পুত্র তারেক রহমান, জানেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব

    Tarique Rahman: ১৭ বছর পর দেশে খালেদার পুত্র তারেক রহমান, জানেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান (Tarique Rahman)। দীর্ঘদিন লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বরণ করে নিতে জড়ো হয়েছেন হাজারো বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক। বিমানবন্দর সড়ক থেকে বনানী পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে পদযাত্রা করেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক ও নির্ধারণী মুহূর্ত।”

    ২০০৮–২০২৫: নির্বাসনের জীবন

    ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে দেশ ছাড়ার পর থেকে তারেক রহমান (Tarique Rahman) লন্ডনে ছিলেন। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং বিদেশ থেকেই দল পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে ‘হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি পিআর ও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশে মানি লন্ডারিংসহ একাধিক মামলা ছিল, এমনকি শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে ২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর সব মামলা থেকে তিনি খালাস পান, ফলে তাঁর দেশে ফেরার আইনি বাধা দূর হয়।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাবর্তনের সময়

    তারেক রহমানের (Tarique Rahman) দেশে ফেরা এমন এক সময়ে হলো, যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদায় নিয়েছেন এবং নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তবে, ইউনূসের আমলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (IRI) ডিসেম্বরের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান—যিনি তারেক জিয়া নামেও পরিচিত—বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং তাঁকে দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ব্যক্তিগত কারণও বড় ভূমিকা

    দলীয় সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমানের (Tarique Rahman) দেশে ফেরার পেছনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি তার মায়ের শারীরিক অসুস্থতাও বড় কারণ। বেগম খালেদা জিয়া কয়েক মাস ধরে গুরুতর অসুস্থ। শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলন থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এনসিপির মুখপাত্র খান মুহাম্মদ মুরসালিন বলেন, “চাপ ও হুমকির মুখে তারেক রহমানকে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল। তার প্রত্যাবর্তন প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের পথে আমরা তাঁর সঙ্গে থাকব।”

  • Cash Transfers: মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ, বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হচ্ছে ভারত

    Cash Transfers: মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ, বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হচ্ছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’দশক আগে মহিলাদের জন্য সরাসরি নগদ অর্থ হস্তান্তরকে (Cash Transfers) একটি পরীক্ষামূলক নীতি হিসেবে দেখা হত। একে অনেক সময় আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী উদ্যোগ বলে খারিজ করা হয়েছিল। কিন্তু আজ এই ব্যবস্থা ভারতের কল্যাণমূলক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কয়েকটি রাজ্যে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগই এখন পরিণত হয়েছে তামাম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে (Bharat)।

    ভারতের মোট ব্যয় (Cash Transfers)

    ২০০৫ সালে এই ধরনের নগদ হস্তান্তরে ভারতের মোট ব্যয় ছিল আনুমানিক ১,৩০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে এসে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৪৬ লক্ষ কোটি টাকায়। রাজ্যস্তরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ১৫টি রাজ্যের ১৩ কোটিরও বেশি নারী সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন। এই দ্রুত বিস্তারই প্রমাণ করে, কীভাবে সরাসরি নগদ হস্তান্তর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি নতুন ধারণা থেকে স্বাভাবিক নীতিতে পরিণত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এই পরিবর্তন বিশেষভাবে দ্রুত হয়েছে। ২০২০ সালে নারীদের জন্য বৃহৎ পরিসরের নগদ হস্তান্তর প্রকল্প ছিল মাত্র একটি রাজ্যে। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫। এই প্রবৃদ্ধি রাজ্যগুলির কল্যাণ ভাবনায় এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। খণ্ডিত ভর্তুকির ব্যবস্থা থেকে সরে এসে সরাসরি আয় সহায়তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতা এখন স্পষ্ট। এই প্রকল্পগুলির মূল নীতিটি সহজ হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী। অর্থ সরাসরি একজন নারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। তাই তিনি নিজেই ঠিক করতে পারেন কীভাবে সেই অর্থ সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার করবেন। তবে এর ফল শুধু পারিবারিক ভোগব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব বিস্তৃত অনেক দূর পর্যন্ত।

    পণ্যভিত্তিক ভর্তুকি

    সম্পদ, কর্মসংস্থানের অবস্থা বা পণ্যভিত্তিক ভর্তুকির সঙ্গে যুক্ত প্রচলিত কল্যাণমূলক কর্মসূচির তুলনায় সরাসরি নগদ হস্তান্তর পদ্ধতি বেশি পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বচ্ছ। সুবিধাভোগীদের কাছে এর অর্থ হল আয়ের সাহায্য পাওয়ার নিশ্চয়তা। সরকারের ক্ষেত্রে এটি পরিমাপযোগ্য ফল ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে, পাশাপাশি অর্থের অপচয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমায়। নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়েও প্রমাণ বলছে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তব ও তাৎপর্যপূর্ণ সামাজিক ফল দিচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত নগদ হস্তান্তর পারিবারিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ায়, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করে এবং গৃহস্থালির সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করে। বহু ক্ষেত্রে নারীরা জানিয়েছেন, সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ ব্যবস্থাপনায় তাঁদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে (Cash Transfers)।

    গড় মাসিক মাথাপিছু ব্যয়

    যে অর্থনীতিতে নিম্ন আয়ের পরিবারের গড় মাসিক মাথাপিছু ব্যয় ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকার মধ্যে, সেখানে প্রতি মাসে ১,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পারিবারিক সম্পদের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এটি কোনও প্রতীকী সহায়তা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থ মাসিক বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নগদ সহায়তা দানের মূল ধারণা এক হলেও, রাজ্যগুলি তাদের জনসংখ্যাগত বাস্তবতা ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রকল্পগুলির নকশা নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে। তেলঙ্গনার মহালক্ষ্মী প্রকল্পে যোগ্য নারীদের প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা দেওয়া হয়, যার জন্য বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯,২০০ কোটি টাকা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লাডকি বহিন যোজনায় মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়, যার ফলে রাজ্যের বার্ষিক খরচ প্রায় ৩৬,০০০ কোটি টাকা (Bharat)।

    গৃহলক্ষ্মী যোজনা

    কর্নাটকের গৃহলক্ষ্মী যোজনা পরিবারপ্রধান নারীদের প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা দেয়, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০,৬০৮ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প, যা ২০২১ সালে চালু হয়, মাসে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা দেয়। এটি পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ নারী-কেন্দ্রিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের লাডলি বেহনা যোজনা, বৃহৎ পরিসরে শুরু হওয়া প্রাথমিক উদ্যোগগুলির একটি। এখানে মাসে ১,২৫০ টাকা দেওয়া হয়। এটি পরবর্তীকালে চালু হওয়া একাধিক প্রকল্পের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করেছে (Cash Transfers)।

    বার্ষিক এককালীন অর্থ

    বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ কিছু রাজ্য মাসিক অর্থ দেওয়ার বদলে বার্ষিক এককালীন অর্থ মঞ্জুর করার পথ বেছে নিয়েছে। অন্য রাজ্যগুলি গৃহস্থালির ব্যয়চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মাসিক সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেয়। যোগ্যতার মানদণ্ডও রাজ্যভেদে ভিন্ন। কোথাও শুধুমাত্র বিবাহিত নারীরা অন্তর্ভুক্ত, আবার কোথাও বিধবা, অবিবাহিত নারী বা পরিবারপ্রধান নারীরাও এই প্রকল্পের আওতায় পড়েন। এই ভিন্নতা সত্ত্বেও, সব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য একটাই, নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা।

    নগদ অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচি

    নারীদের জন্য নগদ অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচির আর্থিক প্রভাব নিঃসন্দেহে ব্যাপক। একাধিক রাজ্যে এই প্রকল্পগুলির ব্যয় এখন মোট রাজ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় দুই থেকে তিন শতাংশের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে। মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্নাটকে নারীকেন্দ্রিক নগদ হস্তান্তর খাতে ব্যয় সামগ্রিক কল্যাণ বাজেটের (Bharat) একটি প্রধান অংশ দখল করে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহ্যবাহী কল্যাণমূলক কর্মসূচির সম্মিলিত বরাদ্দকেও ছাপিয়ে গিয়েছে (Cash Transfers)। জাতীয় স্তরে, ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে এই নগদ হস্তান্তর ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ০.২ শতাংশের সমান ছিল। ২০২০–২১ সালে যেখানে এই হার ছিল মাত্র ০.০৪ শতাংশ, সেখান থেকে এই দ্রুত বৃদ্ধি নীতিটির দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের প্রতিফলন।

    ব্যয়ের পরিমাণ

    অনেকের মতে, ব্যয়ের পরিমাণ বড় হলেও তা অযথা বা অপচয়মূলক ভোগে পরিণত হয় না। বরং এই নগদ হস্তান্তরগুলি আয়ের একটি স্থিতিশীল সহায়ক হিসেবে কাজ করে, যা পরিবারগুলিকে মূল্যবৃদ্ধি, মৌসুমি আয়ের ওঠানামা এবং আকস্মিক খরচ সামাল দিতে সাহায্য করে। রাজ্যস্তরের বিভিন্ন সমীক্ষায় একটি বিষয় ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে, নারীরা এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করেন। সন্দেহপ্রবণ ধারণার বিপরীতে, এই অর্থ খুব কম ক্ষেত্রেই বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় হয়। বরং এটি পারিবারিক বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেকই খাদ্য খাতে ব্যয় হয়, আর কর্নাটকে এই হার বেড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশে পৌঁছায়। ব্যয়ের অন্যান্য প্রধান ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ, বিদ্যুৎ ও জল বিল পরিশোধ, এবং অনানুষ্ঠানিক ঋণ শোধ।

    মাসিক নগদ হস্তান্তর

    গ্রামীণ এলাকায় মাসিক নগদ হস্তান্তর প্রায়ই মাথাপিছু ব্যয়ের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের সমান হয়। এর ফলে এটি অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাফার হিসেবে কাজ করে—বিশেষত কৃষি বা অনানুষ্ঠানিক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলির জন্য। অনেক নারীর কাছে এই অর্থের পরিমাণের মতোই এর নিয়মিত ও পূর্বানুমেয় প্রাপ্তি সমান গুরুত্বপূর্ণ (Cash Transfers)। অর্থনৈতিক সূচকের সীমা অতিক্রম করে সরাসরি নগদ হস্তান্তর কর্মসূচিগুলি এখন পরিবারভিত্তিক সামাজিক সম্পর্কের ভেতরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। নারীদের কেবল গৌণ সুবিধাভোগী হিসেবে না দেখে সরাসরি প্রাপক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লিঙ্গভিত্তিক ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে (Bharat)। উপভোক্তা নারীরা জানাচ্ছেন, সংসারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তাঁদের মতামতের গুরুত্ব বেড়েছে—নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা থেকে শুরু করে সন্তানের শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় নির্ধারণ পর্যন্ত। নিজের নামে নিয়মিত আয়ের একটি উৎস থাকার মানসিক প্রভাব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অঞ্চলে, যেখানে এতদিন নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা সীমিত ছিল।

    কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন

    এই পরিবর্তনের প্রতিফলন রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন, জবাবদিহি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে নারীরা ক্রমশ আরও সোচ্চার হচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ, নারী-কেন্দ্রিক নগদ হস্তান্তর কর্মসূচিগুলি একটি স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী ভোটব্যাঙ্কের উত্থানে সহায়তা করছে, যা রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী কৌশলকে নতুন করে রূপ দিচ্ছে। তবে বিরোধীরা এই প্রকল্পগুলিকে ঘিরে বাড়তি আর্থিক চাপ এবং বিকল্প খাতে ব্যয়ের সুযোগ হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বাজেট সংক্রান্ত আপস বাস্তব হলেও বহু নীতিবিশেষজ্ঞের মতে, সরাসরি নগদ হস্তান্তরকে স্বল্পমেয়াদি অনুদান হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। উন্নত পুষ্টি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা, স্বাস্থ্যসেবায় অধিকতর প্রবেশাধিকার এবং গভীরতর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো সুফলগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো ও প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর (ডিবিটি) ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই কর্মসূচিগুলি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও শাসনব্যবস্থাকেও আরও মজবুত করছে (Cash Transfers)।

    ভারত যখন কল্যাণমূলক পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছে, তখন নারীদের লক্ষ্য করে চালু করা এই নগদ হস্তান্তর প্রকল্পগুলি তাদের সরলতা, দক্ষতা ও মর্যাদাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। রাজনৈতিকভাবে সতর্ক এক পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে যার সূচনা হয়েছিল, তা আজ ধারাবাহিক (Bharat) ব্যাঙ্ক হস্তান্তরের মাধ্যমে ভারতের কল্যাণ রাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।

  • Atal Bihari Vajpayee: ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র, বিশ্বাস, আচরণ! জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ভারতীয় রাজনীতির এক অবিচল নক্ষত্রকে

    Atal Bihari Vajpayee: ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র, বিশ্বাস, আচরণ! জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ভারতীয় রাজনীতির এক অবিচল নক্ষত্রকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতরত্ন অটল বিহারি বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) ছিলেন ভারতীয় রাজনীতির এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যাঁর পরিচয় ক্ষমতা বা পদে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আদর্শ, মানবিকতা ও দেশভক্তির দ্বারা গড়ে উঠেছিল। তাঁর নামের মতোই ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র—দৃঢ় বিশ্বাস, শালীন আচরণ এবং সহমর্মিতায় ভরপুর এক রাষ্ট্রনায়ক। রাজনৈতিক মতভেদ সত্ত্বেও বিরোধীরাও তাঁকে সম্মান করতেন। প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। আস্থা ভোটের আগে লোকসভায় এক অবিস্মরণীয় ভাষণ দিলেন অটলজি। অথবা, তাঁর কাব্যচর্চাকে কটাক্ষ করে কংগ্রেসের তৎকালীন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী বললেন, শুধু কবিতা লিখলে দেশ চলে না। একটুও মেজাজ না হারিয়ে ততোধিক তীক্ষ্ণ শ্লেষে তিনি বললেন, ঠিকই, শুধু কবিতা লিখলে দেশ চলে না, লিখে রাখা ভাষণ জনসভায় গিয়ে পড়লে দেশ দৌড়য়। তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এমন নানা মুহূর্তের কথা দেশবাসীর মুখে মুখে আজও ঘোরে।

    জন্ম-বড় হওয়া, রাজনীতিতে যোগ

    ১৯২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর গ্বালিয়রে জন্ম অটল বিহারী বাজপেয়ীর (Atal Bihari Vajpayee)৷ অটল বিহারীর পৈত্রিক গ্রাম যদিও ছিল উত্তর প্রদেশের আগ্রা জেলার বটেশ্বরে। সেখান থেকে মধ্য়প্রদেশে গিয়ে বসবাস শুরু করেন অটল বিহারীর ঠাকুরদা শ্যামলাল বাজপেয়ী। তাঁর মা কৃষ্ণা দেবী, বাবা কৃষ্ণবিহারী বাজপেয়ী৷ বাবা ছিলেন কবি, পেশায় স্কুলশিক্ষক৷ কবিতায় হাতেখড়ি বাবার কাছেই৷ গ্বালিয়রের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক হন। পরে কানপুরের ডিএভি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তরে উত্তীর্ণ হন প্রথম শ্রেণিতে। ইংরেজি, হিন্দি, সংস্কৃত— বেশ তরুণ বয়সেই তিনটি ভাষায় পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন বাজপেয়ী। রাজনীতি বোধ হয় ছিল তাঁর মজ্জায়। ছাত্রাবস্থাতেই ‘আর্যসমাজ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। বাবাসাহেব আপ্তে-র অনুপ্রেরণায় ১৯৩৯ সালে যোগ দেন আরএসএসে। কয়েক বছরের মধ্যেই হয়ে ওঠেন সঙ্ঘের প্রচারক।

    স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ

    দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও যোগ দিয়েছিলেন অটল বিহারী ((Atal Bihari Vajpayee)৷ ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন৷ জেল খেটেছিলেন ২৩ দিন। ১৯৫১ সালে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় অটল যোগ দেন ভারতীয় জনসঙ্ঘে৷ দলের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রিয়পাত্রও হয়ে ওঠেন শীঘ্রই৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অন্ধ ভক্ত ছিলেন অটলবিহারী। কাশ্মীরে যেতে বিশেষ অনুমতি পত্রকে বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতায় ১৯৫৩ সালে আমরণ অনশনে বসেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। একই সঙ্গে অনশনে বসেছিলেন অটল বিহারীও। এই আন্দোলন চলাকালীনই শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু হলে ভেঙে পড়েন অটল বিহারী। ১৯৫৭ সালে উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর থেকে বাজপেয়ী প্রথম বার লোকসভায় নির্বাচিত হন৷ ১৯৬৮ সালে ভারতীয় জনসঙ্ঘের সর্বভারতীয় সভাপতি হন।

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে প্রথম হিন্দিতে ভাষণ

    হিন্দিতে তাঁর দক্ষতার জন্য সংসদে বার বার প্রশংসিত হয়েছে বাজপেয়ীর বক্তৃতা। এমনকী, অটল বিহারী একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। প্রথম ব্যক্তি হিসাবে বাজপেয়ীই রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে হিন্দিতে ভাষণ দেন। হিন্দির প্রসারে সব সময় সক্রিয় ছিলেন তিনি। উত্তর প্রদেশের সঙ্গে আত্মার যোগাযোগ থাকলেও গোটা দেশে সমান জনপ্রিয় ছিলেন অটল বিহারী। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি গোটা জীবনে চারটি আলাদা রাজ্য থেকে ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছেন। উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাট থেকে সাংসদ ছিলেন তিনি।

    বিজেপির প্রথম সভাপতি

    ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার অবসান। ইন্দিরা-বিরোধী ঐক্য জোরদার করতে চরণ সিং-এর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় লোক দল এবং মোরারজি দেশাইদের কংগ্রেস (ও) এবং বাজপেয়ী-আডবাণীদের জনসঙ্ঘ মিশে যায়, তৈরি হয় জনতা পার্টি। নির্বাচনে ভরাডুবি হয় কংগ্রেসের। মোরারজি দেশাইয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশে প্রথম অকংগ্রেসি মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। অটল বিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) সে মন্ত্রিসভায় বিদেশমন্ত্রী হন। নানান মতাদর্শের ‘জগাখিচুড়ি’ জনতা পার্টি অবশ্য বেশি দিন ঐক্যবদ্ধ থাকেনি। ১৯৮০ সালে সাবেক জনসঙ্ঘীরা বেরিয়ে যান জনতা পার্টি থেকে। তৈরি হয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যার প্রথম সভাপতি হন বাজপেয়ী।

    প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী

    ১৯৯৬ সালে লোকসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। দেশের দশম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন অটলবিহারী৷ কিন্তু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না দলের। ম্যাজিক ফিগার জোগাড়ও করতে পারেননি বাজপেয়ী। ১৩ দিনে পতন ঘটে বাজপেয়ী সরকারের। কিন্তু ইস্তফা দেওয়ার আগে যে ভাষণ অটল দিয়েছিলেন লোকসভায়, তা সংসদে প্রধানমন্ত্রীদের দেওয়া স্মরণীয় ভাষণগুলোর অন্যতম হয়ে রয়ে গিয়েছে। বাজপেয়ী সরকার টেকেনি ঠিকই। কিন্তু কংগ্রেস সমর্থন নিয়ে তৈরি হওয়া সংযুক্ত মোর্চা সরকারও বছর দু’য়েকের বেশি টিকতে পারেনি। ফলে ১৯৯৮ সালে ফের নির্বাচনের মুখোমুখি হয় দেশ। আরও বেশি আসন নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। ফের সরকার গঠন করে এনডিএ। কিন্তু সে বারও পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকতে পারেননি বাজপেয়ী। তেরো মাসে সরকার পড়ে যায়। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনের রায়ও ছিল বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের পক্ষেই। তৃতীয় বার সুযোগ পেয়ে প্রথম অকংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়েন বাজপেয়ী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় কার্যকালে অটলবিহারী বাজপেয়ী অনেকগুলি ক্ষেত্রে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। দেশের আর্থিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছিল। রাজকোষ দ্রুত ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল। দেশ জুড়ে পরিকাঠামো উন্নয়ন গতি পেয়েছিল।

    তাঁর মুখচ্ছবি সহাস্য

    এক টালমাটাল সন্ধিক্ষণে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন— এক দিকে জোট রাজনীতির উত্থান, অন্য দিকে দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় বদল আনার প্রক্রিয়া। কিন্তু হাজার ঝড়ঝাপ্টা সামলেও অধিকাংশ অবকাশে তাঁর মুখচ্ছবি সহাস্য। আর সর্বোপরি ছিল তাঁর অসামান্য বাগ্মিতা এবং পাণ্ডিত্য। ২৪টি দল নিয়ে গঠিত এনডিএ সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সমন্বয় ও সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর সময়েই জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ও গোল্ডেন কোয়াড্রিল্যাটারালের মাধ্যমে দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসে।

    অসাধারণ কূটনীতিক

    রাজনীতির মতো, কূটনীতিতেও ভারসাম্যের পরিচয় দিতে চেয়েছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee)। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে বড়সড় পদক্ষেপ করেছিল ভারত। তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সঙ্গে নিয়ে ভারত-পাক বাসযাত্রার সূচনা করেছিলেন বাজপেয়ী। বলেছিলেন, ‘‘বন্ধু বদলানো যায়৷ কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না।’’ কিন্তু কার্গিলে পাক অনুপ্রবেশ ও দখলদারির খবর পেয়েই সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিতে দ্বিধা করেননি তিনি। অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে পোখরানে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায় ভারত। তাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয় নয়াদিল্লিকে। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে ভারতের অভূতপূর্ব সুসম্পর্কের দরজাটাও খুলে দিয়ে যান অটলবিহারী বাজপেয়ী-ই। তাঁর আমলেই ভারত সফরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন। ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা হয়ে যায় ক্লিন্টনের সেই ভারত সফরেই।

    ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    জনসংঘ ও পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টিকে আদর্শিক শক্তি জোগানো এই নেতা সংসদীয় গণতন্ত্রে শালীনতা ও যুক্তিবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সংসদে তাঁর বক্তৃতা ছিল যুক্তি, রসবোধ ও সৌজন্যের অনবদ্য মিশ্রণ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাজপেয়ী লোকসভায় ১০ বার এবং রাজ্যসভায় ২ বার নির্বাচিত হন। জাতীয় স্বার্থকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার এক উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি হয় যখন প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিংহ রাও বিরোধী দলের নেতা হয়েও অটল বিহারি বাজপেয়ীকে জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। কাশ্মীর ও মানবাধিকার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর সংযত অথচ দৃঢ় বক্তব্য ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। মতাদর্শগত দিক থেকে বাজপেয়ীর চেয়ে অনেকটা দূরত্বে অবস্থান করা মনমোহন সিং বলেছিলেন, ‘‘অটল বিহারী বাজপেয়ী হলেন ভারতীয় রাজনীতির ভীষ্ম।’’ দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট নয়াদিল্লির এইমসে তাঁর মৃত্যু হয়। ‘সদৈব অটল’ নামে তাঁর স্মৃতিসৌধ আজও তাঁর অবিচল আদর্শের প্রতীক।

     

     

     

     

  • Christmas: খ্রিস্টমাসের কোনও অস্তিত্বই ছিল না! হিন্দুদের উৎসবই রং বদলে নয়া ফর্মে

    Christmas: খ্রিস্টমাসের কোনও অস্তিত্বই ছিল না! হিন্দুদের উৎসবই রং বদলে নয়া ফর্মে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “খ্রিস্টমাস (Christmas) আসলে খ্রিস্টীয় ছিল না। পৌত্তলিক উৎসবগুলিকে এতটাই সম্পূর্ণভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছিল যে মাত্র দু’প্রজন্মের মধ্যেই মানুষ ভুলে গিয়েছিল, এই উৎসবগুলির আদৌ কোনও অস্তিত্বই ছিল না। আর ৬০১ খ্রিস্টাব্দের একটি চিঠি আমাদের হাতে আছে, যা প্রমাণ করে যে এটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। কিন্তু যেটি আমার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিল, তা হল, আমি উপলব্ধি করলাম, আজও ঠিক এই একই কৌশলটি ব্যবহার করা হচ্ছে পৃথিবীতে টিকে থাকা শেষ প্রাচীন সভ্যতার ওপর। একবার আপনি এটি দেখতে পেলে, আর না দেখে থাকতে পারবেন না।” কথাগুলি বললেন শন বিন্ডা, যাঁর পূর্বপুরুষদের খ্রিস্টান ব্রিটিশরা দাস হিসেবে ক্যারিবীয় দেশগুলিতে নিয়ে গিয়েছিল।

    সনাতন হিন্দু ধর্ম (Christmas)

    সনাতন হিন্দু ধর্ম খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মতো ধর্মগুলির তুলনায় সর্বাধিক প্রাচীন। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র, ভারত-সহ মানুষ কর্মনির্ভর জীবনদর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন, প্রকৃতির পুজারি ছিলেন, মূর্তিপুজোর প্রচলন ছিল, বহু দেবতায় বিশ্বাসী ছিলেন, যাঁদের ‘পৌত্তলিক’ বলা হত। এছাড়াও, ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টানরা ভারতের হিন্দুদের ‘পৌত্তলিক’, ‘মূর্তিপূজক’ ও ‘বহুদেবতাবাদী’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করে এসেছে। শন বলেন, “একটি আইটি প্রকল্পের কাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় আমি লক্ষ্য করেছি, সেখানে খ্রিস্টানরা কীভাবে ঘটা করে বড়দিন উদযাপন করে (Hindu Festivals)।”

    যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন

    খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন সারা বিশ্বে খ্রিস্টানরা যে প্রধান উৎসব হিসেবে পালন করেন, সেটিই বড়দিন (Christmas)। তবে বহু ইতিহাসবিদ ও গবেষকের মতে, এই উৎসবটির ধারণা এসেছে প্রাচীন পৌত্তলিক উৎসব থেকে, কিংবা বলা যায়, সেখান থেকেই তা সরাসরি অনুকরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে এটি রোমান সভ্যতার দুটি উৎসব -‘স্যাটারনালিয়া’ (Saturnalia) এবং ‘সল ইনভিক্টাস’ (Sol Invictus)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এই উৎসবগুলি শীতকালীন অয়নান্তকে কেন্দ্র করে পালিত হত, যা সূর্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা (Christmas)।

    ‘সল ইনভিক্টাস’ উৎসব

    খ্রিস্টমাসের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ‘সল ইনভিক্টাস’ উৎসবের তারিখের সঙ্গে মিলে যায়। ‘সল’ অর্থ সূর্য এবং ‘ইনভিক্টাস’ অর্থ অজেয়। উপহার দেওয়া, ভোজের আয়োজন, গাছ সাজানো, এসব বহু রীতিই ছিল প্রাচীন পৌত্তলিক উৎসবগুলির সঙ্গে যুক্ত। ভারতে হিন্দুরাও তুলসী, বট, অশ্বত্থ ও ডুমুর গাছকে পবিত্র বলে মনে করে সেগুলির পূজা করে। সংক্রান্তি এবং ছট পুজোও সূর্যকে কেন্দ্র করেই পালিত উৎসব। ভারতে সূর্যদেবের উদ্দেশে নিবেদিত বহু মন্দির রয়েছে, যেমন কোনার্ক, মোধেরা, মার্তণ্ড, মুলতান (পাকিস্তান), এছাড়াও মিশর, চিন, জাপান, পেরু প্রভৃতি দেশে সূর্য উপাসনার নিদর্শন দেখা যায়। হিন্দুরা সূর্যকে অর্ঘ্য দান করেন এবং সূর্য নমস্কার করেন (Hindu Festivals)।

    স্বর্ণযুগের স্মৃতি

    দীপাবলি, কার্তিক পূর্ণিমা, কার্তিগাই দীপম প্রভৃতি উৎসবে হিন্দুরা প্রদীপ ও দীপমালার মাধ্যমে নিজেদের ঘর আলোকিত করেন, দীপস্তম্ভেও প্রদীপ জ্বালানো হয়। খ্রিস্টধর্মের আগমনের পূর্বে ইউরোপের মানুষও একই অনুভূতি ও ভাবধারায় এসব উৎসব পালন করত। স্যাটারনালিয়া ছিল প্রাচীন রোমের একটি উৎসব, যা কৃষির দেবতা স্যাটার্নের সম্মানে পালিত হত। প্রথমে এটি ১৭ ডিসেম্বর একদিনের উৎসব ছিল, কিন্তু খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে তা বেড়ে সাত দিনের উৎসবে পরিণত হয় (Christmas)। এই সময় উৎসবের বৈশিষ্ট্য ছিল ঘর সাজানো, গাছ সাজানো, কৃষিশ্রমিকদের উপহার দেওয়া ভোজসভা এবং আনন্দঘন ‘ইও স্যাটারনালিয়া!’ ধ্বনি উচ্চারণ করা। জনসমাগমেও পালিত হত এই উৎসব। এই উৎসব সেই ‘স্বর্ণযুগে’র স্মৃতিকে উদযাপন করত, যখন দাসপ্রথা ছিল না।

    স্যাটার্নালিয়া উৎসবের রীতিনীতির ছাপ

    স্যাটার্নালিয়া উৎসবের রীতিনীতির ছাপ ক্রিসমাসে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাজসজ্জা, উপহার আদান–প্রদান, ভোজসভা ইত্যাদি। এগুলি সরাসরি প্রভাবের ফল।
    চতুর্থ শতকে খ্রিস্টান চার্চ এই উৎসবগুলি গ্রহণ করে, মূলত পৌত্তলিক রোমানদের খ্রিস্টধর্মে রূপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে (Hindu Festivals)। স্যাটার্নালিয়া উৎসবটি সূর্যের দক্ষিণ অয়ন থেকে উত্তর অয়নে যাত্রার সঙ্গে যুক্ত। উত্তর অয়নের সময় দিন বড় হতে থাকে এবং সূর্যালোক বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই খ্রিস্টানরা ক্রিসমাসকে ‘আলোর জন্মে’র সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে যিশুকে বলা হয় ‘বিশ্বের আলো’।

    সোল ইনভিক্টাস উৎসব

    সোল (সূর্য) ইনভিক্টাস (অজেয়) ছিল রোমান সাম্রাজ্যের সূর্যদেবতা। সম্রাট অরেলিয়ান ‘ডিয়েস নাতালিস সোলিস ইনভিক্টি’ (অজেয় সূর্যের জন্মদিন) নামে একটি উৎসব প্রবর্তন করেন, যা ২৫ ডিসেম্বর পালিত হত (Christmas)। এই উৎসব পালিত হত কারণ এই সময়ে সূর্যের শক্তি আবার বৃদ্ধি পায়, অর্থাৎ দিনের দৈর্ঘ্য বাড়তে শুরু করে। রথেরদৌড়, ভোজসভা এবং উপহার আদান–প্রদান ছিল এই উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সম্রাট কনস্টানটাইনও সোল ইনভিক্টাসের প্রচার করেছিলেন এবং তাঁর মুদ্রায় সূর্যদেবতার প্রতিকৃতি আঁকা ছিল। অনেকের বিশ্বাস, ২৫ ডিসেম্বর তারিখটি সরাসরি সোল ইনভিক্টাস উৎসব থেকেই নেওয়া হয়েছে। চার্চ ইচ্ছাকৃতভাবে এই তারিখটিকেই যিশুর জন্মদিন হিসেবে নির্ধারণ করে, যাতে পৌত্তলিক উৎসবকে খ্রিস্টীয় উৎসবে রূপান্তর করা যায় (Hindu Festivals)।

    ‘ন্যায়ের সূর্য’

    প্রাচীন খ্রিস্টীয় গ্রন্থে যিশুকে ‘ন্যায়ের সূর্য’ বলা হয়েছে। সেন্ট অগাস্টিন জনগণকে আহ্বান জানান, ২৫ ডিসেম্বর সূর্য নয়, যিশুকেই উদযাপন করতেন মানুষ। এসব তথ্য স্পষ্ট করে যে খ্রিস্টানরা একটি পৌত্তলিক উৎসবকে খ্রিস্টীয় রূপ দিয়েছিল (Christmas)। সমাস ট্রি, ইউল লগ ও মিস্টলটো—এসবই পৌত্তলিক ঐতিহ্য থেকে এসেছে। উত্তর ইউরোপের জার্মানিক জনগোষ্ঠীর ইউল উৎসব শীতকালীন অয়নান্তকে কেন্দ্র করে পালিত হত। এই উৎসবে ইউল লগ পোড়ানো, সাজসজ্জা ও ভোজসভা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেসব অঞ্চলের মানুষ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার পর এই প্রাচীন পৌত্তলিক উৎসবগুলি ধীরে ধীরে ক্রিসমাসের অংশ হয়ে যায়। ইউল লগ পোড়ানো সূর্যের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। আজও অনেক দেশে ক্রিসমাস কেক বা মিষ্টি কাঠের গুঁড়ির আদলে তৈরি করা হয়, যা সেই প্রাচীন ঐতিহ্যেরই স্মারক।

    প্রাচীন পৌত্তলিকত্বর ঐতিহ্য

    ক্রিসমাস ট্রি-র উৎস প্রাচীন পৌত্তলিকত্বর ঐতিহ্যের মধ্যেই নিহিত। প্রাচীন মিশরীয়, রোমান ও সেল্টরা চিরসবুজ গাছ ব্যবহার করত, যা চিরন্তন জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হত। রোমানদের স্যাটার্নালিয়া উৎসবে চিরসবুজ ডালপালা সাজানো হতো। ষোড়শ শতকে জার্মানিতে প্রথম ক্রিসমাসট্রি সাজানোর প্রথা শুরু হয়। একটি কিংবদন্তি অনুযায়ী, মার্টিন লুথার নাকি গাছের ওপর আলো জ্বালিয়ে তারকার প্রতীক স্থাপন করেছিলেন (Hindu Festivals)। ঐতিহাসিক প্রমাণ ও প্রভাব অনুযায়ী, ইতিহাসবিদদের মতে চতুর্থ শতকে রোমান সম্রাট কনস্টান্টাইন খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সময় বিভিন্ন পৌত্তলিক উৎসবকে তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন। উদাহরণ হিসেবে, ‘ক্রোনোগ্রাফ অফ ৩৫৪’ গ্রন্থে ২৫ ডিসেম্বর তারিখে একসঙ্গে ‘সোল ইনভিক্টাস’ এবং ‘ক্রিসমাসে’ উল্লেখ পাওয়া যায় (Christmas)।

    খ্রিস্টান চার্চ

    অনেক গবেষকের মতে, খ্রিস্টান চার্চ ইচ্ছাকৃতভাবেই এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল পৌত্তলিকদের আকৃষ্ট করার জন্য। যেমন, সূর্যদেবতার সঙ্গে যিশুকে যুক্ত করা। উপহার দেওয়া, ভোজসভার আয়োজন এবং আনন্দোৎসবের ধারণা এসেছে স্যাটার্নালিয়া উৎসব থেকে। আর আলো ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সূর্যসংক্রান্ত উপাদান এসেছে সোল ইনভিক্টাস উৎসব থেকে। ইউরোপে ইউল  ও সেল্টিক ঐতিহ্যপূর্ণ গাছ। এগুলি সবুজ সাজসজ্জার প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে কিছু সমালোচক এই দাবিগুলি নাকচ করেন। তাঁদের মতে, ক্রিসমাসের তারিখ স্বতন্ত্রভাবেই নির্ধারিত হয়েছিল, ২৫ মার্চ থেকে ন’মাস হিসেব করেই ২৫ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

    ক্রিসমাস পৌত্তলিক উৎসবগুলির অনুকরণে গড়ে উঠেছে

    তা সত্ত্বেও, ঐতিহাসিক সমাপতন ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মিল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, খ্রিস্টধর্ম প্রসারের সুবিধার্থে ক্রিসমাস অনেকাংশেই পৌত্তলিক (বহুদেববাদী হিন্দু) উৎসবগুলির অনুকরণে গড়ে উঠেছে (Christmas)। আজকের দিনে ক্রিসমাস একটি সুন্দর ও আনন্দঘন উৎসব হলেও, এর মূল শেকড় প্রাক্-খ্রিস্টীয় পৌত্তলিক উৎসবগুলির মধ্যেই নিহিত। স্যাটার্নালিয়া, সোল ইনভিক্টাস ও ইউল উৎসব থেকে উপহার দেওয়া, ভোজ, গাছ ব্যবহার এবং আলো দিয়ে সাজানোর মতো নানা উপাদান ক্রিসমাসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টানরা নিশ্চয়ই জানতে পেরে আনন্দিত হবেন যে, তাঁদের এই উৎসবের সঙ্গে গভীর যোগ রয়েছে প্রাচীন পৌত্তলিকতা বা সনাতন হিন্দু ধর্মের। এই ঘটনাপ্রবাহ দেখায় কীভাবে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে (Hindu Festivals)। আজও বিশ্বজুড়ে নানা উৎসব পালিত হয়, যদিও তাদের ঐতিহাসিক পটভূমি বিস্মৃত হওয়া (Christmas) উচিত নয়।

  • Demolition Of Hindu Deitys: এবার মূর্তি ভাঙার অভিযোগ কাম্বোডিয়ায়, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Demolition Of Hindu Deitys: এবার মূর্তি ভাঙার অভিযোগ কাম্বোডিয়ায়, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার মূর্তি ভাঙার (Demolition Of Hindu Deitys) অভিযোগ কাম্বোডিয়ায় (Cambodia)। সেখানে একটি বিষ্ণুমূর্তি ভাঙা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে একটি ব্যাকহো লোডার দিয়ে বিষ্ণু মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। মূর্তি ভাঙছে সে দেশের সেনাবাহিনী। বুধবার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এই ধরনের অশ্রদ্ধাজনক কাজ বিশ্বজুড়ে অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত করে এবং এমন ঘটনা ঘটা উচিত নয়।

    কী বললেন রণধীর জয়সওয়াল?

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা সম্প্রতি নির্মিত একটি হিন্দু ধর্মীয় দেবমূর্তি ভাঙচুর সংক্রান্ত খবর দেখেছি। এই মূর্তিটি ছিল বর্তমানে থাই–কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ প্রভাবিত একটি এলাকায়।” তিনি জানান, হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবদেবীরা এই অঞ্চলের মানুষের কাছে পূজিত হন। এগুলি আমাদের সাধারণ সভ্যতাগত ঐতিহ্যের অংশ। প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে ভারত দুই দেশকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলাপ-আলোচনা ও কূটনীতির পথ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। জুলাই মাসে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি হলেও, চলতি মাসে ফের শুরু হয়েছে সংঘাত।

    কাম্বোডিয়ার বক্তব্য

    প্রেহ ভিহেয়ারের (কাম্বোডিয়ার রাজধানী) মুখপাত্র লিম চ্যানপানহা জানান, মূর্তিটি কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডের মধ্যেই আন সেস এলাকায় অবস্থিত ছিল (Cambodia)। তিনি বলেন, “২০১৪ সালে নির্মিত বিষ্ণু মূর্তিটি সোমবার ভেঙে ফেলা হয়। এটা থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত ছিল। বৌদ্ধ ও হিন্দুধর্ম অনুসারীদের দ্বারা পূজিত প্রাচীন মন্দির ও মূর্তিগুলির ধ্বংসের আমরা তীব্র নিন্দা করি (Demolition Of Hindu Deitys)।”

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের সাফ কথা, আঞ্চলিক দাবি সত্ত্বেও, এই ধরনের অসন্মানজনক কাজ বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও অনুগামীদের অনুভূতিতে আঘাত করে। তাই এই ধরনের কাজ করা উচিত নয়। আর কোনও প্রাণহানি, সম্পত্তি এবং ঐতিহ্যের ক্ষতি এড়াতে আমরা আবারও উভয় পক্ষকে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার এবং কূটনীতির ওপর ভরসা রাখার অনুরোধ করছি। শান্তি পুনরুদ্ধার করার আহ্বানও জানাচ্ছি (Demolition Of Hindu Deitys)।

LinkedIn
Share