Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • West Bengal Public Safety Bill: কে ‘গুন্ডা’, কে ‘সমাজবিরোধী’? পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিলে স্পষ্ট সংজ্ঞা, জেনে নিন সব নিয়ম

    West Bengal Public Safety Bill: কে ‘গুন্ডা’, কে ‘সমাজবিরোধী’? পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিলে স্পষ্ট সংজ্ঞা, জেনে নিন সব নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সংগঠিত অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং হিংসাত্মক অশান্তি মোকাবিলায় কড়া অবস্থান নিল সরকার। বিধানসভায় সোমবার পাশ হয়েছে গুন্ডা-দমন সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল— ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেন্টেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। সরকারের দাবি, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষা না করে সম্ভাব্য বিপদের আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেবে এই আইন। একইসঙ্গে সমাজ-বিরোধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কড়া আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সংগঠিত অপরাধ ও জনশৃঙ্খলা ভাঙার প্রবণতা দমনে এই আইন কার্যকর ভূমিকা নেবে। যদিও বিরোধী মহল ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, বিলের কয়েকটি ধারা প্রশাসনকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেবে, যা ভবিষ্যতে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে?

    বিল অনুযায়ী, কোনও জেলাশাসক (ডিএম), পুলিশ কমিশনার (সিপি) অথবা রাজ্য সরকারের মনোনীত ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও পুলিশ আধিকারিক যদি মনে করেন, কোনও ব্যক্তি সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত অথবা ভবিষ্যতে তেমন কাজে জড়াতে পারেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কার (Externment) করার ক্ষমতা থাকবে প্রশাসনের হাতে। ওই সময় তিনি সেই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি তাঁকে নিয়মিত থানায় হাজিরা দেওয়া অথবা নিজের গতিবিধি সম্পর্কে পুলিশকে জানাতেও হতে পারে।

    এক বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটক

    বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত অংশ হল প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention)-এর বিধান। জনসুরক্ষার স্বার্থে কোনও ব্যক্তিকে বিচার শুরু হওয়ার আগেই সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই আটক অনির্দিষ্টকালের জন্য হবে না। আটক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড বা পরামর্শদাতা বোর্ড গঠনের কথাও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। এই বিধান জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর কাঠামোর সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    জামিন অযোগ্য অপরাধ, তল্লাশি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

    নতুন আইনের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু অপরাধকে ‘কগনিজেবল’ এবং ‘নন-বেলেবল’ বা জামিন অযোগ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে পুলিশ প্রয়োজনে ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালাতে, গ্রেফতার করতে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

    অভিযুক্তকে আশ্রয় দিলেও শাস্তি

    শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিই নন, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা আটকাদেশ জারি থাকার পরও যদি কেউ তাঁকে আশ্রয় দেন বা কোনওভাবে সাহায্য করেন, তবে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

    সমাজবিরোধী বলতে কাদের বলা হয়েছে?

    বিলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

    • ● সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করা।
    • ● ব্যক্তি বা সম্পত্তির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা।
    • ● জনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শান্তি নষ্ট করা।
    • ● বৈধ ব্যবসা, বাণিজ্য বা পেশায় বাধা সৃষ্টি করা।
    • ● বেআইনিভাবে কাউকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করা।
    • ● সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা।
    • ● খনি, বালিখাদান, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী পাচারের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করা।

    আইনের চোখে ‘গুন্ডা’ কারা?

    বিলে ‘গুন্ডা’ শব্দটিরও নির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পড়বেন—

    • ● যাঁরা একা বা কোনও গোষ্ঠী, সিন্ডিকেট কিংবা চক্রের সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত অথবা তাতে অর্থ ও সহায়তা জোগান।
    • ● ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১১১ বা ১১২ ধারায় যাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে।
    • ● অস্ত্র আইন, এনডিপিএস আইন, বিস্ফোরক পদার্থ আইন বা অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তি।
    • ● যাঁদের সাধারণ মানুষ বিপজ্জনক বা বেপরোয়া বলে মনে করেন এবং যাঁদের কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

    সরকার বনাম সমালোচনা

    সরকারের দাবি, সংগঠিত অপরাধ, দখলদারি, সিন্ডিকেটরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড রুখতেই এই আইন আনা হয়েছে। অপরাধ ঘটার আগেই প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেবে এই বিল। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, প্রতিরোধমূলক আটক, ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশি এবং প্রশাসনের বিস্তৃত ক্ষমতা নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর বাস্তবে তার প্রয়োগ কীভাবে হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে আইন বিশেষজ্ঞ— সব পক্ষের।

  • Uniform Civil Code Bengal Bill: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল অগাস্টে! রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিটি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Uniform Civil Code Bengal Bill: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল অগাস্টে! রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিটি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) কার্যকর করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। সোমবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইউসিসি (uniform civil code west bengal) প্রণয়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি চার সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশ জমা দেবে।

    অগাস্টেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল!

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অগাস্ট মাসেই রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির সুপারিশের উপর ভিত্তি করে বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করা হবে। তবে প্রস্তাবিত আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে রাজ্যের আদিবাসী, মূলবাসী, কুড়মি এবং অন্যান্য স্বীকৃত প্রাচীন জনজাতির সম্প্রদায়কে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলে দেন যে, উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাট মডেলকে অনুসরণ করেই এই ব্যতিক্রম রাখা হচ্ছে বিলে।

    বিলের খসড়া নিয়ে আলোচনা

    আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইউসিসি বিলের খসড়া অনুমোদনের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এই বিল তৈরির ক্ষেত্রে গুজরাটের ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল-২০২৬, অসমের ইউসিসি আইন এবং উত্তরাখণ্ডের ইউনিফর্ম সিভিল কোড আইন-২০২৪-কে একটি ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা ব্যক্তিগত আইন চালু থাকার পরিবর্তে গোটা রাজ্যে একটিই আইন কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েই এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচনী সংকল্পপত্রে ইউসিসি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি ছিল এবং সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর।’’ তিনি আরও বলেন, “আমরা কমিটেড। সংকল্পপত্রে যা লিখেছি তা বাস্তবায়ন করব। পশ্চিমবঙ্গেও ইউনিফর্ম সিভিল কোড কার্যকর হবে।”

    সুপারিশ কমিটিতে থাকছেন কারা

    রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, একজন আইন বিশেষজ্ঞ, একজন শিক্ষাবিদ, একজন সমাজকর্মী এবং রাজ্য সরকারের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব সদস্য হিসেবে থাকবেন। প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য ঐ অতিরিক্ত সচিবই কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। কমিটির কাজের পরিধিও সোমবার বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন নিয়ে বিস্তৃত সমীক্ষা চালাবে কমিটি। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ, লিভ-ইন সম্পর্ক-সহ একাধিক বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধানের পর্যালোচনা করবে তারা। এ ছাড়াও সামাজিক ও আইনি প্রভাব, সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়েও সুপারিশ করবে কমিটি।

  • Suvendu Adhikari Warning: মুখ্যমন্ত্রীর ‘এনাফ ইজ এনাফ’ বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! হুমায়ুনের সভা নিয়ে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    Suvendu Adhikari Warning: মুখ্যমন্ত্রীর ‘এনাফ ইজ এনাফ’ বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! হুমায়ুনের সভা নিয়ে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার এক দিনের মধ্যেই হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত জনসভার তিন আয়োজককে গ্রেফতার করল পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে দুই পৃথক অভিযানে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ গোলাম মোস্তাফা, মহম্মদ আমিনুল (আমিনুক) হক এবং আনিসুর রহমানকে আটক করে।

    রেজিনগর, শক্তিপুর থানায় অভিযোগ…

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রেজিনগর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন গোলাম মোস্তাফা ও মহম্মদ আমিনুল হক। গোলাম আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র কাশীপুর-২ অঞ্চলের সভাপতি। অন্যদিকে, শক্তিপুর থানার মামলায় ধরা পড়েছেন আনিসুর রহমান, যিনি এজেইউপির বেলডাঙা-২ ব্লকের আহ্বায়ক। সম্প্রতি রেজিনগর ও শক্তিপুরে আয়োজিত দুটি জনসভায় এজেইউপির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, তাঁর ভাষণে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়।

    সোমবারই বিধানসভায় হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    এই ইস্যু সোমবার বিধানসভাতেও ওঠে। অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুনের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং স্পষ্ট জানান, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যাঁরা ওই সভার আয়োজন করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই আগে পদক্ষেপ করা হবে, তারপর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘এনাফ ইজ এনাফ। এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।’’ পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরকে ভবিষ্যতে সংযত ভাষা ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন তিনি।

    ‘স্যাঁটা’ শব্দটি নিয়েও আলোচনা শুরু

    বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী রেজিনগরের সভায় হুমায়ুনের বক্তব্যের একটি অংশও পড়ে শোনান। তাঁর অভিযোগ, ওই ভাষণে রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশে হুমকি ও সংঘাতমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এমন বক্তব্য দেওয়ার অধিকার কাউকেই দেওয়া হয়নি এবং রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কোনও রকম আপস করবে না। এদিকে, বিতর্কিত মন্তব্যে ব্যবহৃত ‘স্যাঁটা’ শব্দটি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাষাতত্ত্ববিদদের মতে, শব্দটির অর্থ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। কোথাও এটি শিরদাঁড়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, কোথাও আবার অবমাননাকর বা ঘৃণাসূচক অর্থে প্রচলিত। ফলে বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়েও নানা মত উঠে এসেছে।

    কী প্রতিক্রিয়া হুমায়ুনের?

    অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে কোনও মন্তব্য করেননি। হুমায়ুন জানান, এই বক্তব্যের জন্য যদি তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়, তাতেও তিনি বিচলিত নন। তাঁর দাবি, মানুষের স্বার্থে লড়াই করেই তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গড়েছেন এবং নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, দুই থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

  • FIFA World Cup 2026: বিদায় জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের! নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় প্যারাগুয়ে, মরক্কোর, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

    FIFA World Cup 2026: বিদায় জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের! নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় প্যারাগুয়ে, মরক্কোর, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি ফুটবল বিশ্বযুদ্ধে (FIFA World Cup 2026) এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঘটন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিল চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানকে। নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরে গেলেন জোসুয়া কিমিচেরা। জোড়া শট আটকে প্যারাগুয়ের জয়ের নায়ক গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। অন্যদিকে শুরুতে জাপানের কাছে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিল ব্রাজিল। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা (Brazil vs Japan Match Report)। কার্লো আন্সেলোত্তির দল ছিটকে যাওয়াটা অঘটন। তাই তাদের জয়ের চেয়েও সামুরাই ব্লুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই যেন বেশি করে মনে রাখবেন দর্শকরা। এদিন জার্মানির পর বিদায় হল বিশ্বফুটবলের আরও এক শক্তির। আরও এক বার টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল নেদারল্যান্ডসও। ২০১৪, ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও সেই টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হল কমলাবাহিনীকে। এগিয়ে গিয়েও মরক্কোর কাছে হারতে হল কোডি গাকপো, ভার্জিল ভ্যান ডাইকদের।

    ভালো খেলেও ব্রাজিলের কাছে হার মানতে হল জাপানকে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে এশীয় সূর্যের উত্থান মন কেড়েছে ফুটবল দুনিয়ার। গোটা মহাদেশকে বিশ্বমঞ্চে মিরাকলের স্বপ্ন দেখিয়েছে জাপান। নেদারল্যান্ডসের মতো দলকে আটকে দিয়ে পৌঁছে গিয়েছে শেষ ৩২-এ। কিন্তু নকআউটের প্রথম লড়াইটাই ছিল পাহাড় প্রমাণ কঠিন। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্থে খোদ জাপানই ভিনি জুনিয়রদের খেলাটাকে এলোমেলো করে দিল। ২৯ মিনিটে অনবদ্য গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়ে দুনিয়াকে যেন সানো বার্তা দিলেন, হাম ভি কিসিসে কম নহি!তবে জাপানি বোমাকে শক্ত হাতে ব্রাজিল সামাল দিল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। জোড়াল হল আক্রমণ। ৫৬ মিনিটে ক্যাসেমিরোর নিখুঁত হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। আর ইনজুরি টাইমের শেষ লগ্নে গোটা স্টেডিয়াম যখন ধরেই নিয়েছে ম্যাচ গড়াবে এক্সট্রা টাইম, ঠিক তখন এল জয়সূচক গোল। দলের শেষ ষোলোর টিকিট পাকা করে দিলেন মার্টিনেলি। তবে জাপানি গোলকিপার সুজুকির দুরন্ত সেভ আর ভিনির শট বারে লেগে ফিরে না এলে আরও বড় ব্যবধানে জিততেই পারত ব্রাজিল।

    প্যারাগুয়ের কাছে হেরে  বিদায় জার্মানির

    ব্রাজিল জিতলেও নাটক বাকি ছিল। মঙ্গলবার ভোর রাতে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে চলতি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জার্মানি। ম্যাচের শুরু থেকে প্রত্যাশা মতোই দাপট ছিল জার্মানির। ফেলিক্স মেচা, কাই হাভার্ৎজ়েরা একের পর আক্রমণ তৈরি করেছিলেন। নিজেদের মধ্যে প্রচুর পাস খেলে কখনও মাঠের মাঝ খান দিয়ে আবার কখনও উইং ব্যবহার করে প্যারাগুয়ের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ছ’গজের বক্সের মধ্যে তাঁদের জায়গা দিচ্ছিলেন না প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারেরা। জার্মানেরা গোলমুখী শট নেওয়ার চেষ্টা করলেই ব্লক করে দিচ্ছিলেন তাঁরা। ৪২ মিনিটে প্যারাগুয়ে এগিয়ে যায়। ৫৪ মিনিটে সমতায় ফেরে জার্মানি। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়। ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ ফলে। এরপর টাইব্রেকার। হাভার্ৎজের প্রথম শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে চপে ফেলে দেন গিল। আবার নিক ওল্টেমেডকে রুখে দেন চতুর্থ শটে। সে সময় টানা তিন শটে গোল করে জয়ের অপেক্ষায় প্যারাগুয়ে। কিন্তু চতুর্থ শট নিতে এসে বাইরে মারেন অ্যান্তোনিয়ো সানাব্রিয়া। পঞ্চম শটে গোল করে জার্মানির আশা জিইয়ে রাখেন নাদিম আমিরি। এর পর ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে লড়াইয়ে ফেরান নয়ার। তাতেও লাভ হল না। প্রথম পাঁচ শটেল পর ফলাফল ৩-৩ হওয়ার পর তুঙ্গে পৌঁছোয় উত্তেজনা। জার্মানির হয়ে ষষ্ঠ শট নিতে আসা তাহ বল উড়িয়ে দেন বারের উপর দিয়ে। আবার চাপে পড়ে যায় চার বারের চ্যাম্পিয়নেরা। এর পর হোসে ক্যানালে গোল করতেই বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে।

    বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল নেদারল্যান্ডস-ও

    গত বিশ্বকাপে টাইব্রেকার স্পেনের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছিলেন। এ বার তাঁর হাতে আটকে গেল ডাচেরা। মরক্কোর রক্ষাকর্তা হয়ে দেখা দিলেন সেই ইয়াসিন বোনো। এদিন টাইব্রেকারে প্রথম শটে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন টিউন কুপমেইনার্স। মরক্কোর আল আয়নায়োই প্রথম শট বারে মারেন। ডাচদের হয়ে দ্বিতীয় শট পোস্টে মারেন জাস্টিন ক্লুইভার্ট। রহিমি গোল করে সমতা ফেরান। নেদারল্যান্ডসকে আবার এগিয়ে দেন উইট উইঘর্স্ট। গোল করেন মরক্কোর তালবিও। চতুর্থ শট মিস্‌ করেন কুইন্টন টিম্বার। মরক্কোর কাছে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু আশরফ হাকিমিও গোল করতে পারেননি। সামারভিলের পঞ্চম শট আটকে দেন বোনো। শেষ শটে গোল করতে ভুল করেননি সাইবারি। ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে ওঠে আফ্রিকার দেশ। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই গুটিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। পাঁচ ডিফেন্ডারে খেলা শুরু করে ডাচেরা। নেদারল্যান্ডসের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা কাজে লাগায় মরক্কো। হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ, সাইবারিদের পায়ে আক্রমণে উঠছিল তারা। প্রথমার্ধের গোল পেয়ে যেতে পারত মরক্কো। হাকিমির শট ভাল বাঁচান ভারব্রুগেন। সাইবারির শট অল্পের জন্য গোলের বাইরে যায়। প্রথমার্ধ গোল শূন্য থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে নেদারল্যান্ডসকে গোল করে এগিয়ে দেন গাকপো। ৭২ মিনিটের মাথায় গাকপোর সেই গোলের পর মনে হচ্ছিল, নেদারল্যান্ডস জিতে যাবে। কিন্তু সংযুক্তি সময়ে এক ক্রসে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন দিয়প। সমতা ফেরায় মরক্কো। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই স্বপ্ন শেষ ডাচদের।

     

     

     

     

     

  • Control of Anti-Social Activities Bill: বিধানসভায় ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেল গুন্ডাদমন বিল, পক্ষে ১৭৬ বিধায়ক, বিপক্ষে ৪১

    Control of Anti-Social Activities Bill: বিধানসভায় ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেল গুন্ডাদমন বিল, পক্ষে ১৭৬ বিধায়ক, বিপক্ষে ৪১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধ্বনি ভোটে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল গুন্ডা দমন বিল (Control of Anti-Social Activities Bill)। এই বিলের পক্ষে ভোট দিলেন ১৭৬ জন বিধায়ক। অন্যদিকে, বিপক্ষে ভোট দিলেন ৪১ জন। আর ভোটদানে বিরত থাকলেন ২০ জন বিধায়ক। সম্পত্তি নষ্ট করলে গ্রেফতার, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এই আইনে। কড়া ভাবে এই আইন প্রয়োগ করা হবে, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Cm Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন,“এই আইনে একবছর কারাবাস করতে হবে। তবে কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হবে না।”

    কাদের বিরুদ্ধে এই বিল

    উত্তরাখন্ড, গুজরাট এবং উত্তর প্রদেশের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও সমাজবিরোধী ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে চরম কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ হল বহুল চর্চিত ‘অ্যান্টি-গ্যাংস্টার বিল’ বা গুন্ডাদমন বিল। ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশও হয়ে যায়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অপরাধ দমনে যে কঠোর আইনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, এই বিল তারই বাস্তব রূপায়ন। প্রস্তাবিত এই খসড়া আইনে সমাজের জন্য বিপজ্জনক ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে ‘গুণ্ডা’ বা ‘গ্যাংস্টার’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে এমন যেকোনো ব্যক্তিকে ‘গুণ্ডা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যিনি নিজে অথবা কোনো দল বা সিন্ডিকেটের নেতা বা সক্রিয় সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কাজ করেন বা তাতে অর্থায়ন করেন। এ ছাড়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS, ২০২৩)-এর ১১১ বা ১১২ ধারার অধীনে (সংগঠিত অপরাধ) অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অস্ত্র আইন, মাদক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন বা বিস্ফোরক আইনের অধীনে অপরাধী বা অপরাধে উস্কানিদাতাদেরও এই আইনের আওতায় আনা হবে।

    ফৌজদারি আইনের সঙ্গে নতুন এই আইনের পার্থক্য

    গুন্ডা দমন বিল চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে। আজ, সোমবার দীর্ঘক্ষণ ধরে এই বিল নিয়ে আলোচনা চলে। এবং সেই আলোচনার পর অবশেষে হয় ভোটভুটি। সেই ভোটাভুটিতে দেখা গেল, সংখ্যা গরিষ্ঠ বিধায়করা এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই বিলে বলে দেওয়া হয়েছে কারা গুন্ডা। চিহ্নিত করা হয়েছে কারা সমাজ বিরোধী। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যদি কোনও ভাঙচুর হয়, অগ্নি সংযোগ হয় বা অন্য কোনও ভাবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়, তাহলে দোষীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে, সেখান থেকে সেই ক্ষতি পূরণ করার প্রভিশনও রাখা হয়েছে। দাঙ্গা, বেআইনি সমাবেশ, হিংসাত্মক বিক্ষোভ, সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফৌজদারি আইনে প্রকৃত দোষীদের থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে কোনও ব্যবস্থা ছিল না। আর সেই কারণেই এই আইনের প্রয়োজন।

  • Suvendu Adhikari: ‘দাঙ্গাবাজদের ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা তোলা হবে’— বিধানসভায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘দাঙ্গাবাজদের ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা তোলা হবে’— বিধানসভায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দাঙ্গা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং আইন অমান্যের প্রবণতা রুখতে বিধানসভায় সোমবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পেশ করল নতুন সরকার। বিলের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিগত তৃণমূল সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি এবং প্রশাসনিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। বিরোধীদের হইচইয়ের মধ্যেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন— দাঙ্গা বা ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু ফৌজদারি ব্যবস্থাই নয়, প্রয়োজনে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করেও ক্ষতিপূরণ আদায় করবে সরকার।

    গ্যালারিতে উপস্থিত হরগোবিন্দ দাসের পরিবার

    বক্তব্যের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার দর্শক গ্যালারির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজনৈতিক হিংসার একাধিক নিহত ও আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা এ দিন হাউসে উপস্থিত রয়েছেন। ডায়মন্ড হারবারে নিহত রাজু সামন্ত, মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস এবং নন্দীগ্রামের আক্রান্ত দেবব্রত মাইতির পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, অতীতে প্রশাসন সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ নিলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না।

    তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    বিগত সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, সাধারণ অপরাধ ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির মধ্যে সীমারেখা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল তৎকালীন সরকার। তাঁর কথায়, সেই কারণেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছিল এবং সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে সেই সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। নিজেদের নির্বাচনী সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে বিজেপি বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল নিয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন তিনি।

    শুভেন্দুর ভাষণে ‘হার্মাদ রাজনীতি’র উল্লেখ

    বর্তমান বিরোধী শিবিরের অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাঁর দাবি, বিধানসভায় এখন কার্যকর বিরোধী শক্তির অভাব রয়েছে। কেউ ওয়াকআউট করছেন, কেউ আবার নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে বাম আমলের ‘হার্মাদ রাজনীতি’র প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সংস্কৃতির সূচনা হয়েছিল সেই সময়েই।

    এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে শুভেন্দু

    ২০১৯ সালের সিএএ ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আন্দোলনের নামে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছিল। তাঁর দাবি, সামশিতে রেললাইন উপড়ে ফেলা, রেজিনগর স্টেশনে অগ্নিসংযোগ এবং সাঁতরাগাছিতে একাধিক বাসে আগুন লাগানোর মতো ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সেই সময় তিনি পরিবহণমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও দাবি করেন।

    শুভেন্দুর বক্তব্যে মোথাবাড়ি, ধুলিয়ান

    পরবর্তীকালে নুপূর শর্মার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে হাওড়ায় অশান্তির ঘটনাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন এবং প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। মোথাবাড়ি, ধুলিয়ান-সহ একাধিক এলাকার সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গও এ দিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ওয়াকফ্ সংশোধনী বিলের বিরোধিতার নামে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছিল। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই তৎকালীন সরকার যথাসময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

    ‘‘যাঁরা সম্পত্তি ধ্বংস করবেন…’’! চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    নতুন আইনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই আইন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য নয়, বরং দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের মতো অপরাধ রোধ করতেই আনা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা সম্পত্তি ধ্বংস করবেন, তাঁদের থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। প্রয়োজন হলে তাঁদের ভিটেমাটি বিক্রি করেও সেই টাকা উদ্ধার করবে সরকার। আগের আইনে ফাঁক ফোকর ছিল। বর্তমান আইনে ফাঁক-ফোকড় রাখা হল না। এই আইন গুণ্ডা দের জন্য প্রযোজ্য।’’ তিনি আরও জানান, অতীতে আসানসোলে দাঙ্গার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের নজির তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে। পুলিশের উপর হামলা বা আইনশৃঙ্খলা ভাঙার চেষ্টা করলে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    ভাঙড় নিয়ে নওশাদকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ভাঙড়ের নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে সেখানে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি বিরোধী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে উদ্দেশ্য করে রাজনৈতিক মন্তব্যও করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘‘ভাঙড়ে তো কোনও মৃত্যু নেই। বিজেপির ওইখানে ৭০ হাজার ভোট আছে। আমরা ভাঙড়টাকে ছেড়ে দিতে পারতাম। ছেড়ে দিলে যিনি জেলে ছিলেন তিনি এখানে আসতেন। আর বিলের যিনি বিরোধিতা করেছেন তিনি এখানে আসতে পারতেন না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য চলাকালীন বিরোধী সদস্যরা একাধিকবার প্রতিবাদ ও স্লোগান তোলেন। হইচইয়ের মধ্যেই সরকার সংশোধনী বিল দুটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কঠোর আইন প্রয়োগের বার্তা দেয়।

  • Suvendu Adhikari: ‘লাগামছাড়া কথা বলতে দেবো না’, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ২টি এফআইআর, শেষ দেখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ‘লাগামছাড়া কথা বলতে দেবো না’, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ২টি এফআইআর, শেষ দেখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যথেষ্ট হয়েছে,আর নয়। হুমায়ুন কবীরের মতো লোকজনকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার সময় এসেছে। সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এ ভাবেই ভরতপুরের বিধায়ককে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রেজিনগর এবং শক্তিপুরে যে ভাষণ দিয়েছিলেন হুমায়ুন, তার পরিপ্রেক্ষিতে কোন কোন ধারায় এফআইআর রুজুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা-ও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিজের ছেড়ে আসা রেজিনগর আসনে পুত্রকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করে জিতিয়ে আনতে চান বলেই এ সব বলছেন হুমায়ুন। তবে এ ধরনের কথাবার্তা আর বলা যাবে না। হুমায়ুনকে ‘সংযত’ হতেও বলেন শুভেন্দু।

    ‘এনাফ ইজ এনাফ’

    প্রথমে বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের দুটো জায়গার অর্থাৎ গত ২৬ তারিখের কাশীপুরের রেজিনগরের বলা বক্তব্য ও ২৮ তারিখে শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটের কর্মসূচির বক্তব্য পাঠ করে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বলেন, “এই দুটো ঘটনার পর মনে হয়েছে, এনাফ ইজ এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য়মন্ত্রী নন। আগে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন, যা খুশি করেছেন। এখন এসব চলবে না।” মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ঘটনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দুটি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাজ্যের জন্য ক্ষতিকারক বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর সঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ যোগাযোগ করেছিলেন।

    হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা?

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২ টো এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। রেজিনগরে কেস নম্বর ২১৯, ২২৬। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার, ১৫২, ১৯২, ১৯৬, ১৯৭, ২২৪. ২৯৯,৩৫১ (২), ৩৫২, ৩৫৩ ধারায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাতেও শক্তিপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭৬/২২৬ এ মামলা রুজু রয়েছে।

    কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর?

    ২৬ জুন দুপুরে হুমায়ুন কবীর কাশীপুরের রেজিনগরে তাঁর দলীয় কর্মসূচিতে বলছেন, “অনামিকা ঘোষ ভোটে হেরে মনে করছেন আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে, আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫০০০ হাজার লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ধরে না। লাখে লাখে লোক রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর স্যাটা ভাঙা মার দেব আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন?” শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে গত ২৮ তারিখে কথা বলার সময়ে বেশ কয়েকটি শব্দও প্রয়োগ করেছেন হুমায়ুন কবীর, যা অশ্রাব্য। তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ।

    কেন এই মন্তব্য হুমায়ুনের?

    মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুমায়ুন যে ভাষায় বক্তৃতা করেছেন, তা করার ক্ষমতা তাঁকে কেউ দেয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘আপনাদের নিশ্চিত করছি, এত বড় ক্ষমতা (ওঁকে) কেউ দেয়নি।’’ কেন নওদার বিধায়ক এ সব বলছেন, তার কারণ ব্যাখ্যাও করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘কেন করছেন জানি, রাজনৈতিক কারণ জানি, দু’টি এজেন্ডা ছিল।’’ এর পরেই আরও বিশদে শুভেন্দু জানান, হুমায়ুনের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল, ভরতপুর, রেজিনগর, নওদায় সব নির্বাচিত পঞ্চায়েত, তা সে যে দলেরই হোক, নিজের দলে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু তিনি তা করতে পারছেন না। হুমায়ুনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘বিধানসভা ভোটে দু’টি আসনে জিতেছেন। নিয়ম মেনে রেজিনগর আসন ছেড়ে দিয়েছেন। আগামী ২-৩ মাসে সেখানে ভোট হবে। ওই আসনে আপনি আপনার ছেলেকে জেতাতে চাইছেন।’’ শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ওই আসনে ৭২ শতাংশ মুসলিম রয়েছেন। মুসলিম ভোট কনসোলিডেট (ঐক্যবদ্ধ) করার জন্য আপনি এই খেলা খেলছেন।’’

    ভেবে কাজ করুন

    হুমায়ুনকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান খুলে শুনে রাখুন, এইভাবে ধমক-হুমকি, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না—দেব না—দেব না।” আর এক্ষেত্রে তিনি তিনটে উদাহরণও দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সন্দেশখালিতে একজন ছিল, জীবনতলার গুন্ডা,আরেকজন পুষ্পা- এমন ঝুঁকেছেন, খালি পায়ে ছোট প্যান্ট পরে ওঠবোস করতে করতে যাচ্ছেন।” আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ যাচ্ছেন। তিনি জানিয়ে রাখলেন, আগে তিনি যাঁরা হুমায়ুনকে ওই সভায় ডেকেছিলেন, তাঁদের কাছে যাবেন। পরে হুমায়ুনের কাছে যাবেন। তিনি আবারও বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। গুন্ডাদের নয়।” শুভেন্দু বলেন, “এই ধরনের কথা বলার আগে এরপর থেকে ২৫ বার ভাবুন।”

    ঢোঁক গিললেন হুমায়ুন!

    শুভেন্দু বিধানসভায় বক্তব্য রাখার পরে এ দিন হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, ‘আমি তো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি বিজেপিকে বলেছি। নবাগত বিজেপিরা আমার বাড়ির কাছে গিয়ে আমাকে আক্রমণ করেছে। আমি কী করব? রাজনৈতিক ভাবে আমি আক্রমণ করব না? কার কাছে উনি ক্ষমা চাইতে বলছেন, তা তিনি স্পষ্ট করুন। যদি সেটা বলার হয়, নিশ্চয়ই বলব।’ ওয়াকিবহাল মহলের মত, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারিতে ততটা আস্ফালন আর দেখাতে পারছেন না হুমায়ুন কবীর, কিছুটা ভয় পেয়েই সুর নরম করেছেন।

  • Shams Iqbal: মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়েও রেহাই মিলল না! তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলার শামস ইকবাল

    Shams Iqbal: মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়েও রেহাই মিলল না! তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলার শামস ইকবাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তোলাবাজির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার আরও এক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে গার্ডেনরিচের তৃণমূল নেতা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ শাম্‌স ইকবালকে। একাধিক জনসভা, কর্মসূচিতে একই মঞ্চে ফিরহাদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে তাঁকে। অভিযোগ, গার্ডেনরিচ এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে ৭০ লক্ষ টাকা তুলেছেন এই নেতা। শাম্‌স কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। যোগ দিবসেও মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরে দু’জনের পিছনেই বসে যোগ দিবস পালন করেছিলেন। নাম লিখিয়েছিলেন ঋতব্রত-শিবিরে। কিন্তু তা-ও রেহাই মিলল না। দোষীদের ক্ষমা করা হবে না আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইমতোই কাজ করছে তাঁর প্রশাসন।

    কী অভিযোগ ইকবালের বিরুদ্ধে

    শামস ইকবালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মহম্মদ শাদাব নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে শাম্‌স এবং তাঁর ঘনিষ্ঠেরা অভিযোগকারীর কাছ থেকে টাকা তোলা শুরু করেন। জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্বিঘ্নে ওই এলাকায় ব্যবসা করতে হলে তাঁদের টাকা দিতে হবে। মোট ৭০ লক্ষ টাকা তোলা হয় তাঁর কাছ থেকে। টাকা না দিলে ওই ব্যবসায়ী এবং তাঁর পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন কাউন্সিলর। নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালাতে সেই টাকা তখন দিয়ে দিয়েছিলেন অভিযোগকারী। দাবি, ভয়ে এত দিন পুলিশের কাছে যেতে পারেননি। এর পরেও পিস্তল দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় আরও টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে পুলিশ।

    কে এই ইকবাল

    গার্ডেনরিচে পুলিশ কর্মী তাপস চৌধুরী খুনে অভিযুক্ত মুন্না ইকবালের ছেলে শামস ইকবাল। মুন্না ইকবাল, সে সময়কার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। যাঁর বিরুদ্ধেও ছিল সিরিজ অফ্ অভিযোগ। ২০১৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গার্ডেন রিচের হরিমোহন ঘোষ কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও কংগ্রেসের সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাব-ইন্সপেক্টর তাপস চৌধুরী। সে সময়ে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল মহম্মদ ইকবাল ওরফে মুন্নাকে। বাবার হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে পরবর্তীতে পদাপর্ণ শামসের। ২০২১ সালের কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে একমাত্র তৃণমূল প্রার্থী শামস ইকবাল, যিনি কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন।

    বিলাসবহুল জীবনযাত্রা

    সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে একাধিক বিদেশ যাত্রার ছবি রীতিমতো তাক লাগানোর মতো। প্রোফাইল দেখা যাচ্ছে, বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গেও ছবি রয়েছে শামসের। কোনও রঙিন দুনিয়ার অভিনেতার থেকে কম নন। একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। বছর কয়েক আগে কলকাতা পুরসভায় ফেরারি গাড়ি এনে বিতর্কে জড়িয়ে ছিল এই কাউন্সিলর। গাড়ির মূল্য সে সময়ে ৫ কোটি টাকার কাছাকাছি ছিল। ফিরহাদ হাকিমের ‘পুত্র’ বলা হয় এই কাউন্সিলরকে। কলকাতা বন্দর এলাকায় বিধানসভার যাবতীয় কাজ ইকবাল দেখেন। ২০২৪ সালে ১৭ মার্চ গার্ডেনরিচে যে বহুতল ভেঙে পড়ে ১৫ জনের মতো মানুষের প্রাণ গিয়েছিল, তাতে নাম জড়িয়েছিল এই শামসের। রাজ্যে পালাবদলের পর এখন এই ইকবালই নাম লিখিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের তালিকায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মডেলে যুক্ত হয়ে প্রতি বৈঠকে হাজির থেকেছেন। সম্প্রতি যোগা দিবসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পা ধরেও প্রণাম করেছিল এই কাউন্সিলর। কিন্ত রেহাই পেলেন না।

  • OBC Reservation Amendment Bill: ওবিসি সংরক্ষণে বড় বদল! বিধানসভায় পাশ জোড়া সংশোধনী বিল, বদলে গেল একাধিক নিয়ম

    OBC Reservation Amendment Bill: ওবিসি সংরক্ষণে বড় বদল! বিধানসভায় পাশ জোড়া সংশোধনী বিল, বদলে গেল একাধিক নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) সংরক্ষণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে এগোল শুভেন্দুর সরকার। সোমবার বিধানসভায় ওবিসি সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ভোটাভুটিতে বিল দুটির পক্ষে ১৮৬ জন বিধায়ক সমর্থন জানান, বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭টি। ছ’জন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। প্রথমে ধ্বনিভোটে বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি আনুষ্ঠানিক ভোটাভুটির দাবি জানান। সেই আবেদন গ্রহণ করেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়ার পর কক্ষত্যাগ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিধায়কেরা।

    দুটি সংশোধনী বিল পেশ

    অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এদিন দুটি সংশোধনী বিল পেশ করেন। বিল দুটি হল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল কাস্ট অ্যান্ড শিডিউল ট্রাইব) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী অভিযোগ করেন, আগের সরকার রাজনৈতিক ও ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে ওবিসি তালিকা সম্প্রসারণ করেছিল। তাঁর দাবি, প্রকৃত সামাজিক ও শিক্ষাগত অনগ্রসরতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনাই তখন বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।

    নতুন সংশোধনীতে কী বলা হয়েছে?

    নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, বর্তমানে ক্যাটেগরি ‘এ’-এর আওতায় থাকা ৬৫টি জনগোষ্ঠীর তালিকা বহাল থাকছে। তবে ২০১২ সালের আইনে যুক্ত হওয়া ক্যাটেগরি ‘বি’-এর ৭৮টি জনগোষ্ঠী-সংবলিত তফসিল আইন থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ওবিসি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা, বাদ দেওয়া বা শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়ে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    সাধারণ নাগরিকদের জন্যেও নতুন সুযোগ

    সংশোধিত আইনে আরও বলা হয়েছে, ওবিসি সংরক্ষণের হার নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার, তবে তা করতে হবে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণের শতাংশ পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, যদিও মোট সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। একই সঙ্গে অনগ্রসরতার মাত্রা অনুযায়ী ওবিসি সম্প্রদায়গুলিকে পৃথক বিভাগে ভাগ করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংক্রান্ত সংশোধনীতে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার আবেদন, অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অভিযোগ— সবই কমিশনের কাছে জমা দেওয়া যাবে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিলে উল্লেখ রয়েছে।

    কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছরই বহাল

    আইন সংশোধনের মাধ্যমে কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছরই বহাল রাখা হয়েছে। তবে সদস্য-সচিব, যিনি রাজ্য সরকারের কর্মরত আধিকারিক, তাঁর দায়িত্বকাল কতদিন হবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা রাজ্য সরকারের হাতেই থাকবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে ওঠে রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশের পর। বামফ্রন্ট আমলে অনগ্রসরতার ভিত্তিতে ক্যাটেগরি ‘এ’ ও ‘বি’— এই দুই ভাগে সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। পরে ২০১২ সালে তৎকালীন সরকার সেই আইনে সংশোধন এনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পৃথক তালিকা যুক্ত করে। সদ্য পাশ হওয়া সংশোধনী বিলের মাধ্যমে সেই কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হল।

  • gadchiroli: জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল মাওবাদীদের গোপন অস্ত্র কারখানা! বিশাল অভিযানে বড় সাফল্য পুলিশ-সিআরপিএফের

    gadchiroli: জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল মাওবাদীদের গোপন অস্ত্র কারখানা! বিশাল অভিযানে বড় সাফল্য পুলিশ-সিআরপিএফের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদী দমনে আরও একটি বড় সাফল্য পেল মহারাষ্ট্র পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তবর্তী গড়চিরোলির ঘন জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী একটি গোপন মাওবাদী অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে। শুধু তাই নয়, মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও যুদ্ধসামগ্রী উদ্ধার করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই অভিযানের ফলে মাওবাদীদের সংগঠন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা লেগেছে।

    গোপন সূত্রের ভিত্তিতে শুরু অভিযান

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৭ জুনের অভিযান ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মাওবাদী-বিরোধী অপারেশন। গোপন সূত্রে খবর মিলেছিল, মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তের বালবেদা জঙ্গল এলাকায় মাওবাদীরা একটি ভূগর্ভস্থ অস্ত্র উৎপাদন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি ও মজুত করা হচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ জুন গড়চিরোলি জেলার পুলিশ সুপার এম রমেশের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে অংশ নেয় গড়চিরোলি ও প্রণহিতা স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের ছয়টি দল, একটি বম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াড (বিডিডিএস) এবং সিআরপিএফ-এর একটি বিশেষ দল।

    জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল অস্ত্র কারখানা

    ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া তল্লাশি অভিযান ২৭ জুন আরও জোরদার করা হয়। বিডিডিএস-এর সদস্যরা সন্দেহজনক এলাকাগুলি ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির যন্ত্রপাতি এবং সামগ্রী উদ্ধার করেন।

    উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—

    • ● প্রায় ৫ থেকে ৬ টন ওজনের একটি ভারী লেদ মেশিন
    • ● ১৫০টি ক্লেমোর মাইন ও ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের (BGL) পাইপ
    • ● ২২০টি ১২-বোর বন্দুকের ব্যারেল বা পাইপ
    • ● ২০টি রাইফেলের রড ও ধাতব স্ট্রিপ
    • ● অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত আরও বহু ধরনের যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল

    তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, এই কারখানায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, মেরামত এবং বিস্ফোরক প্রস্তুতের কাজ চলত। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলি ভবিষ্যতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করা হতে পারত।

    ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হল সব সামগ্রী

    উদ্ধারের পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সমস্ত অস্ত্র, যন্ত্রপাতি এবং কারখানার অবকাঠামো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বিডিডিএস ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভারী লেদ মেশিনসহ সমস্ত সরঞ্জাম নষ্ট করেন, যাতে ভবিষ্যতে মাওবাদীরা সেগুলি পুনরায় ব্যবহার করতে না পারে। পুলিশের মতে, শুধু অস্ত্র উদ্ধার করাই নয়, অস্ত্র তৈরির পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া আরও বড় সাফল্য। এর ফলে মাওবাদীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

    আগের অভিযানগুলির ধারাবাহিক সাফল্য

    এটি গত কয়েক মাসে গড়চিরোলিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক সফল অভিযানেরই অংশ। এর আগে ২৩ মে এবং ২৭ মে পরিচালিত পৃথক অভিযানে মাওবাদীদের আরও বেশ কিছু অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই অভিযানের সূত্র ধরেই নতুন গোয়েন্দা তথ্য হাতে আসে এবং বালবেদা জঙ্গলে এই বৃহৎ অপারেশন চালানো সম্ভব হয়।

    মাওবাদী নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা

    পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়ের সীমান্তবর্তী দুর্গম বনাঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে মাওবাদীরা অস্ত্র তৈরি, বিস্ফোরক মজুত এবং যুদ্ধসামগ্রী লুকিয়ে রাখত। নির্বাচনের সময়, তথাকথিত ‘মাওবাদী পর্যবেক্ষণ সপ্তাহ’ কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার আগে এই গোপন ভাণ্ডারগুলি থেকে অস্ত্র বের করে ব্যবহার করা হত। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, এই ধরনের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার ও উৎপাদন কেন্দ্র চিহ্নিত করে ধ্বংস করা গেলে ভবিষ্যতে মাওবাদী কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

    ‘গড়চিরোলিতে মাওবাদী প্রভাব প্রায় শেষ’

    পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য, গড়চিরোলি জেলায় মাওবাদী কার্যকলাপ এখন কার্যত নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে এবং জেলায় চরমপন্থী সংগঠনের প্রভাব শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী এবং সিআরপিএফ-এর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে একসময়ের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই জেলায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। অধিকর্তাদের মতে, ভূগর্ভস্থ অস্ত্র কারখানা ধ্বংস এবং বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার নষ্ট করার এই অভিযান শুধু গড়চিরোলির জন্য নয়, সমগ্র মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তে মাওবাদী কার্যকলাপ নির্মূলের লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। নিরাপত্তা বাহিনী ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই ধরনের অভিযান চালিয়ে মাওবাদীদের অবশিষ্ট নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।

LinkedIn
Share