Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Rahul Arunoday Death: চোরাবালিতে আটকে অস্তাচলে অরুণোদয়! শ্যুটিংয়ের অনুমতি ছিল না, দাবি ওড়িশা পুলিশের

    Rahul Arunoday Death: চোরাবালিতে আটকে অস্তাচলে অরুণোদয়! শ্যুটিংয়ের অনুমতি ছিল না, দাবি ওড়িশা পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: থেমে গেল “সহজ কথা”। শ্যুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Death)। রবিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে। রবিবার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন ৪৩ বছরের অভিনেতা। জানা গিয়েছে, শ্যুটিঙের পর তালসারির সমুদ্রে নামেন তিনি। জলে ডুবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। সূত্রের খবর, আজ সোমবার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হবে। তারপর দুপুরেই বাড়িতে নিয়ে আসা হবে অভিনেতার মরদেহ।

    কী ঘটেছিল রাহুলের সঙ্গে

    সূত্রের খবর, ওড়িশা পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, আজকের গোটা ঘটনা তারা জানতে পেরেছে দিঘা থানার থেকে। এর পাশাপাশি, ওড়িশার বালাসোর জেলার পুলিশ সুপারের দাবি, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে শ্যুটিং করার, জলে নেমে শ্যুটিং করার কোনও অনুমতি পুলিশের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি। পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে, আজ যে জায়গায় শ্যুটিং হয়েছে সেটি তালসারি বিচ। এটা তালসারি মেরিন থানার আওতাধীন। সাধারণত যেখানে এই থানা রয়েছে বা যেখানে পর্যটকরা থাকেন, তার থেকে বেশ কিছুটা দূরে, আজ দুপুরবেলায় নিরবিলি ফাঁকা জায়গায় তালসারি বিচে সমুদ্রে নেমে শ্যুটিং চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সমুদ্রের অনেকটা ভিতরে শ্যুটিং চলছিল। সেই সময় জোয়ারের প্রভাব ছিল। চোরাবালির খাঁজ ছিল। সেখানে পড়ে রাহুল তলিয়ে যান। উপস্থিত ক্রু মেম্বাররাই কোনওমতে রাহুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তাররা অভিনেতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, সমুদ্রের বেশ কিছুটা ভিতরে একটি নাচের দৃশ্যের শ্যুটিং চলছিল। অনুমান, সেই সময় চোরাবালিতে পড়ে ডুবে তলিয়ে যান অভিনেতা।

    হঠাতই জল বাড়ে

    স্থানীয় সূত্রে এও শোনা যাচ্ছে, রাহুল (Rahul Arunoday Banerjee) যখন সমুদ্রে নেমেছিলেন, তখন শান্তই ছিল সমুদ্র। তবে ৪টে নাগাদ আচমকাই জল বেড়ে যায়। অনুমান হয়তো জোয়ারের প্রভাবে এমন ঘটনা ঘটেছিল। এমনিতেও তালসারির সমুদ্র সম্পর্কে এ কথা প্রচলিত যে আচমকা সেখানে জল বেড়ে যায়। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। সিনেমা এবং সাহিত্য জগতের অপূরণীয় ক্ষতি। ৪৩ বছর বয়সে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২০০০ সালে ‘চাকা’ ছবিতে অভিনয় দিয়ে কেরিয়ার শুরু। রাহুলকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল ‘চির দিনই তুমি যে আমার’। ২০০৮ সালে ‘আবার আসব ফিরে’ ও ‘জ্যাকপট’ ছবিতে অভিনয়। ‘জুলফিকার’, ‘বিদায় ব্যোমকেশ’, ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রাহুল। ২০০৮ সাল। কৃষ্ণ ও পল্লবীর প্রেম দেখে একটা গোটা প্রজন্ম নতুন করে বাংলা ছবির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। পর্দার জুটির প্রেম বাস্তবেও পরিণতি পায়। ২০১০ সালে বিয়ে হয় রাহুল-প্রিয়াঙ্কার। তার পরে পুত্রসন্তানের জন্ম। দাম্পত্যে দূরত্বও আসে একসময়। কিন্তু, তখনও দর্শকের কাছে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি অটুট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙা সম্পর্ক আবার জোড়া লাগতে থাকে।

    মৃত্যুর কারণে একাধিক অসংগতি

    বিভিন্ন ব্যক্তিরা যা যা বলছেন, তাতে একাধিক অসংগতি রয়েছে। শ্যুটিং সেটে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ বলছেন যে, শ্যুটিং চলাকালীনই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। তবে সেই সময়ে শট চলছিল না। শট চেঞ্জ হচ্ছিল। সেই সময়টা সমুদ্রের জলেই দাঁড়িয়েছিলেন রাহুল আর তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা। তাঁরা ২ জনেই সমুদ্রের দিকে এগোচ্ছিলেন। হঠাৎই টাল সামলাতে না পেরে জলের মধ্যে পড়ে যান ২ জনেই। শ্যুটিং ক্রু-রা সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দিয়ে পড়েন। শ্বেতাকে ধরা গেলেও, সেই সময়ের মধ্যে অনেকটা জল খেয়ে ফেলেন রাহুল। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকেই বলছেন, যে সময়ে রাহুলকে জল থেকে উদ্ধার করা হয় ও গাড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, সেই সময় ও তাঁর জ্ঞান ছিল। কথাও বলেছেন।

    অভিনেতা, লেখক, সঞ্চালক

    টলিউডের পর্দায় এক আলাদা স্বকীয়তা নিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)। নায়ক হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও খুব দ্রুতই প্রমাণ করেছিলেন, শুধু রোম্যান্টিক হিরো নন, চরিত্রের গভীরে ঢুকে অভিনয় করতে পারাই ছিল তাঁর প্রকৃত ইউএসপি। মঞ্চ থেকে অভিনয়ে হাতেখড়ি রাহুলের। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন লেখকও। বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখালেখি প্রকাশিত হয়েছে। বহুমুখী সত্তাই যেন তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। অভিনয় ছাড়াও সম্প্রতি ‘সহজ কথা’ নামক একটি পডকাস্ট শো সঞ্চালনা করতেন রাহুল। সেটিও তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল। রাহুলের অকাল প্রয়াণ যেন অসময়ে থেমে যাওয়া এক সম্ভাবনাময় যাত্রা। তবুও তাঁর কাজ, তাঁর সংলাপ বলার ভঙ্গি, আর চরিত্রের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা—সব মিলিয়ে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে থাকবেন দর্শকের স্মৃতিতে।

    শোকস্তব্ধ টলিউড

    রাহুলের প্রথম ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় প্রথম ছবিতেই নায়ক তিনি। পরিচালক হিসেবেও রাজের সেই ছবিতেই হাতেখড়ি। রাজের কথায়, “এখনও মনে হচ্ছে খবরটা ভুল। আমাদের প্রথম ছবি একসঙ্গে। ১৮ বছর হয়ে গিয়েছে সেই ছবির। ও মঞ্চেও ভালো কাজ করেছে। ভালো লেখালিখি করত। খুব গুণী ছেল। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য বড় ক্ষতি। ওর পরিবারেরও বড় ক্ষতি।” ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। রাহুল প্রয়াণে আজ চোখে জল তাঁর। বলেন, “ওর সঙ্গে চিরদিনই তুমি যে আমারের সেটে আলাপ। বন্ধু বলব না, ভাই ছিল, বড্ড ভালো ছাত্র ছিল। শেষ একসঙ্গে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস করলাম। কী করে বুঝব এমন হবে? আমরা একসঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়ার খাওয়া-দাওয়া করার প্ল্যান করেছিলাম ক’দিন ধরে। ওর সঙ্গে তো আত্মার সম্পর্ক ছিল।”

    বিনোদন জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি

    অভিনেতার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সমাজমাধ্যমে লেখেন, “টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু বাংলা বিনোদন জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর অসাধারণ অভিনয়, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব এবং স্পষ্ট মতামত আমাদের মনে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা— সর্বত্র তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের প্রতি রইল আন্তরিক সমবেদনা।”  অভিনেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • Bodyguard Satellites: মহাকাশে নিরাপত্তা বাড়াতে ‘বডিগার্ড’ স্যাটেলাইট আনছে ভারত! মহাশূন্যেও যুদ্ধের প্রস্তুতি?

    Bodyguard Satellites: মহাকাশে নিরাপত্তা বাড়াতে ‘বডিগার্ড’ স্যাটেলাইট আনছে ভারত! মহাশূন্যেও যুদ্ধের প্রস্তুতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইটগুলির কক্ষপথে ধেয়ে আসা সম্ভাব্য হুমকি থেকে রক্ষা করতে নতুন ধরনের ‘বডিগার্ড’ স্যাটেলাইট (Bodyguard Satellites) তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এই প্রকল্পে বেসরকারি স্টার্টআপ সংস্থাগুলিকে যুক্ত করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা অনেকটাই এগিয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, চলতি বছরের প্রথমার্ধেই প্রথম পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের (India Satellite Technology) লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরপর ২০২৬ সালের শেষ অথবা ২০২৭ সালের শুরুর মধ্যে আরও কয়েকটি উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। পরবর্তীতে সরকার নিজেই এই ধরনের প্রতিরক্ষামূলক স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

    কেন এই উদ্যোগের প্রয়োজন হল?

    ২০২৪ সালের একটি ঘটনাকে ঘিরেই এই পরিকল্পনার সূত্রপাত। সেই সময় একটি অজ্ঞাত প্রতিবেশী দেশের মহাকাশযান ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইটের (India Satellite Technology) মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে চলে আসে। ওই স্যাটেলাইটটি সামরিক কাজে—বিশেষ করে ভূমি পর্যবেক্ষণ ও নজরদারিতে—ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানা যায়। এর পাশাপাশি, ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক স্বল্পমেয়াদি সামরিক উত্তেজনার সময়ও স্যাটেলাইটের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উভয় দেশই লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও ট্র্যাকিংয়ে মহাকাশ প্রযুক্তির উপর নির্ভর করেছিল। এমনকি, চিনের তরফে পাকিস্তানকে স্যাটেলাইট সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে, যা ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় স্পেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক ও প্রাক্তন সামরিক আধিকারিক লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিল ভাট বলেন, “স্যাটেলাইটে হস্তক্ষেপ বা বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মহাকাশ ক্ষেত্রে শক্তিশালী হতে গেলে প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।”

    কীভাবে কাজ করবে এই স্যাটেলাইট?

    জানা গিয়েছে, এই ‘বডিগার্ড’ স্যাটেলাইট (Bodyguard Satellites) মূলত দুই ধরনের হবে—

    • প্রথম ধরনের স্যাটেলাইটে থাকবে একটি রোবোটিক বাহু, যা হুমকিস্বরূপ অন্য মহাকাশযানকে ধরে সরিয়ে দিতে পারবে।
    • দ্বিতীয় ধরনের স্যাটেলাইট ছোট আক্রমণকারী স্যাটেলাইটকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।

    মহাকাশ নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মহাকাশ সম্পদের নিরাপত্তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে চিনের সক্রিয় স্যাটেলাইট সংখ্যা ১১০০-র বেশি, যেখানে ভারতের সংখ্যা মাত্র ১০০-র কিছু বেশি। চিন ইতিমধ্যেই এই ধরনের প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি (Bodyguard Satellites) নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

    এই প্রকল্পটি সরকারের বৃহত্তর মহাকাশ নিরাপত্তা কৌশলের অংশ। ভারত ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি উন্নত নজরদারি স্যাটেলাইট (Bodyguard Satellites) উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা রাত ও সব ধরনের আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে দেশের সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বজায় রাখতে প্রায় ১৫০টি নতুন স্যাটেলাইট (India Satellite Technology) স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি, দেশে ও বিদেশে নতুন গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও বিদেশি মহাকাশযানের উপর নজরদারি জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • Bengal Elections 2026: এবার ভবানীপুর সহ কলকাতার ৩১ থানার ওসি, জেলায় ১৪২ থানায় আইসি বদল কমিশনের

    Bengal Elections 2026: এবার ভবানীপুর সহ কলকাতার ৩১ থানার ওসি, জেলায় ১৪২ থানায় আইসি বদল কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে ফের পুলিশের একাধিক পদে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। রবিবার জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ১৭৩টি থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) ও ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ (আইসি) বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশের আওতাধীন ৩১টি থানাও রয়েছে। কমিশনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। এই বদলির তালিকায় রয়েছে কলকাতার ভবানীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পাশাপাশি কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এই সব জেলার একাধিক থানার ওসি ও আইসি-দেরও সরানো হয়েছে।

    ভবানীপুর থানার নতুন ওসি

    কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এ কর্মরত সৌমিত্র বসু ভবানীপুর থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। নির্বাচনের আগে এই ধরনের রদবদল যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এই কেন্দ্রের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের। সেই প্রেক্ষিতে ভোটের আগে এই থানার আইসি বদলি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    কলকাতায় বহু থানার ওসি বদল

    এছাড়াও কলকাতার আলিপুর, ইকবালপুর, হরিদেবপুর, এন্টালি, জোড়াসাঁকো, গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট, বউবাজার, টালিগঞ্জ, অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট, তারাতলা ও বেহালা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় নতুন ওসি নিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে, আরজি কর-কাণ্ডের সময় টালা থানর ওসি ছিলেন অভিজিৎ মণ্ডল। তাঁকে উত্তর কলকাতার মানিকতলা থানার ওসি করেছিল কমিশন। তবে, নোটিস জারির পরে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত ভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া অভিজিৎ মানিকতলা থানায় যোগদান করছেন না। তিনি পর্ণশ্রী থানাতেই আগের দায়িত্বে বহাল থাকবেন। মানিকতলা থানার ওসি করা হচ্ছে নিরূপম নাথকে।

    জেলাতেও বিপুল সংখ্যক আইসি বদলি

    জেলা স্তরেও একাধিক বদলি হয়েছে। দেবদুলাল মণ্ডল হালদিয়ার আইসি, কাজল দত্ত কোলাঘাটের দায়িত্বে, সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় এগরার আইসি এবং চন্দ্রকান্ত শাসমল পটাশপুরের ওসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শুধু পুলিশ নয়, প্রশাসনিক স্তরেও বদল এনেছে কমিশন। পূর্ব মেদিনীপুরে নন্দীগ্রাম–১ ও নন্দীগ্রাম–২ সহ মোট ১৪ জন বিডিওকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভব্রত নাথকে। এর আগে তিনি চন্দননগর থানায় কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি, খেজুরি, চণ্ডীপুর, হলদিয়া, কোলাঘাট, তমলুক, এগরা ও পটাশপুর-সহ একাধিক থানার ওসি পদেও রবিবার বদল আনা হয়েছে। অন্যদিকে, শীতলকুচি থানার ওসি করা হয়েছে অভিষেক লামাকে, যিনি আগে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় এসআই পদে ছিলেন। এছাড়াও দিনহাটা, মাথাভাঙা, গোকসাডাঙা, রায়গঞ্জ, ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, করণদিঘি, চোপড়া ও ইসলামপুর-সহ একাধিক থানার ওসি বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পিন্টু মুখোপাধ্যায়কে দার্জিলিঙের ডিআইবি পদে পাঠানো হয়েছে।

    কী বলছে কমিশন?

    দেখা যাচ্ছে, একই জেলায় যাঁরা দীর্ঘদিব ধরে রয়েছেন, মূলত সেইসব পুলিস আধিকারিকদেরও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। আবার সাইবার সেল, ট্রাফিক বা পুলিসে বিশেষ শাখার কর্মরত অফিসারদের থানায় দায়িত্বে আনা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এই রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ভোটের সময় স্থানীয় প্রভাব কমানো। এর আগে কমিশন ১৮টি জেলায় ৮৩ জন বিডিও ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকেও বদলি করেছিল। এদিকে, নির্বাচন ঘিরে এই ধরনের প্রশাসনিক বদলি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েনও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, এই বদলিগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নতুন করে পুলিশে এই রদবদল হওয়ায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

  • Eyesight Problems: স্ক্রিন টাইম নয়, দৃষ্টিশক্তি কমার নেপথ্যে দায়ী এই সাধারণ অভ্যাস!

    Eyesight Problems: স্ক্রিন টাইম নয়, দৃষ্টিশক্তি কমার নেপথ্যে দায়ী এই সাধারণ অভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কমছে দৃষ্টিশক্তি! আট থেকে আশি, চোখের সমস্যায় কাবু! স্কুলের চৌকাঠে ঢোকার আগেই অনেক শিশুর চোখে চশমা! অনেকের দূরের জিনিস ঝাপসা দেখেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবন যাপনের অভ্যাসের জেরেই চোখের সমস্যা বাড়ছে। কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি কমছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার নেপথ্যে এক সাধারণ অভ্যাস রয়েছে বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কী বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা?

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক কলেজ অফ অপ্টোমেট্রি-র গবেষকেরা এক পরীক্ষা চালিয়েছেন। তার সাম্প্রতিক রিপোর্ট বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাবে। বিশেষত, দূরের জিনিস স্পষ্ট ভাবে দেখার ক্ষমতা কমবে। শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়বে। দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা আর বয়সের সীমারেখায় আটকে থাকবে না। এই সমস্যার জেরে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যা চোখের দীর্ঘমেয়াদি জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    কোন অভ্যাসের জেরে এই সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হোক কিংবা অবসর যাপনের সঙ্গী হলো ল্যাপটপ, মোবাইলের মতো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট। ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকার জেরে চোখের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এর থেকেও বেশি বিপদ বাড়াচ্ছে এক সাধারণ অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই অন্ধকার ঘরে কিংবা আবছা আলোয় ল্যাপটপ‌ কিংবা মোবাইল দেখেন। অনেকেই কাজে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য ঘর অন্ধকার করে দেন। রাতে বিনোদনের জন্য মোবাইলে সময় কাটানোর সময় অন্ধকার ঘর বেশিরভাগ কম বয়সি ছেলেমেয়েদের পছন্দ। আর তাতেই বিপদ বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অন্ধকারে কোনও জিনিস দেখার সময় চোখের পেশিতে মারাত্মক চাপ পড়ে। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে চোখের পেশি সংকুচিত হয়। সেই সংকোচনের ফলেই প্রতিফলিত হয়ে, আমরা যে কোনও বস্তু দেখতে পাই। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় চোখের পেশিতে বাড়তি চাপ পড়লে কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দৃষ্টিশক্তি কমে। এর ফলে, চোখ ঝাপসা হয়। দূরের জিনিস দেখার ক্ষমতাও কমে যায়।

    বিপদ এড়াতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখের শক্তি অক্ষুন্ন রাখতে কয়েকটি অভ্যাস বদল জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাতে ঘর অন্ধকার করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস বদল জরুরি। ল্যাপটপে কাজ করা হোক কিংবা মোবাইলে সিনেমা দেখা, ঘরে আলো জ্বালানো জরুরি। তাহলে চোখের পেশির উপরে বাড়তি চাপ পড়বে না। স্ক্রিন টাইম নিয়ে সচেতনতা জরুরি। দিনের কতটা সময় একটানা ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকব, সে নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। আধ ঘণ্টার বেশি একনাগাড়ে স্ক্রিনের দিকে থাকা চলবে না। চোখে বারবার জল দিতে হবে। কয়েক ঘণ্টা ল্যাপটপে বা মোবাইলের স্ক্রিনে সময় কাটালে, অন্তত আট ঘণ্টা বা চল্লিশ মিনিট বাগানে বা গাছে ঘেরা এলাকায় থাকতে হবে। তাছাড়া লেবু ও বেরি জাতীয় ফল নিয়মিত খেতে হবে, এতে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তাহলে চোখের স্নায়ু ও পেশির প্রয়োজনীয় বিশ্রাম হবে। চোখের ক্ষমতা বজায় থাকবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • US Iran Conflicts: রণাঙ্গন মধ্যপ্রাচ্য! ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ, কী ভাবছে আমেরিকা? কতটা প্রভাব বিশ্বে?

    US Iran Conflicts: রণাঙ্গন মধ্যপ্রাচ্য! ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ, কী ভাবছে আমেরিকা? কতটা প্রভাব বিশ্বে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের (US Iran Conflicts) একমাস পার। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে (Iran‑Israel War) গোটা মধ্যপ্রাচ্য রণাঙ্গন হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের জেরে বিশ্বের ‘তৈলধমনী’ হরমুজ প্রণালী বন্ধ, আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব গড়িয়েছে বহু দূর। পরিবেশই বদলে গিয়েছে। আতঙ্কিত যুদ্ধ কবলিত দেশের মানুষজন। যেসব দেশের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব নেই, তাঁরা আশঙ্কায়। গত ২৮ মার্চ আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথ হামলায় তেহরানে প্রথম ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই-সহ শীর্ষ একাধিক নেতৃত্ব নিহত হন। এই হামলার আসল উদ্দেশ্য ছিল, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে একটি পশ্চিমপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এই হামলার পরিকল্পনা চলছিল গত কয়েক মাস ধরেই। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আমেরিকা ও ইজরায়েল বুঝতে পারে যে, তারা এমন এক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে, যারা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সহনশীল ও বিধ্বংসী।

    যুদ্ধের শুরু ও বিস্তার

    ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ যৌথভাবে তেহরান, মিনাবসহ একাধিক শহরে বিমান হামলা শুরু করে। হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই এবং সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তবে এত বড় আঘাতের পরও তেহরান নতিস্বীকার করেনি। প্রতিশোধে ইরান ইজরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় দেশগুলো—কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও জর্ডান—এর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। আবুধাবিতে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে দুজন নিহত হন, আর কুয়েতের শুওয়াইক বন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, বাঙ্কার-বাস্টার এবং আরও নানা ধরণের মারণাস্ত্রের অবিরাম আঘাতে জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও, ইরান স্বল্পমূল্যের অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে নাজেহাল করে চলেছে এবং হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

    হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি

    সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১২টিরও বেশি দেশে প্রায় ৪,৫০০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইরানেই মারা গিয়েছেন প্রায় ১,৯০০ জন। লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইরানের দুটি বড় ইস্পাত কারখানা ধ্বংস হয়েছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ-কে ঘিরে ইজরায়েলের সঙ্গে লেবাননে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ১,১০০-র বেশি মানুষ নিহত এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া। আমেরিকা-ভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থার মতে, ইরানে এ পর্যন্ত ৩,৩০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১,৪০০ জনই সাধারণ নাগরিক।

    মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যয়

    মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১০,০০০-র বেশি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে এবং ইরানের ১৫০টিরও বেশি নৌযান ডুবিয়েছে। প্রাক্তন পেন্টাগন কর্মকর্তা ইলেইন ম্যাককাস্কার-এর মতে, যুদ্ধের প্রথম তিন সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির খরচ ১.৪ থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যে, আইআরজিসি এবং অন্যান্য সামরিক ইউনিটগুলো কোনও একক বা কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। কূটনৈতিক আঙিনায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবাফই মূলত নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।

    অর্থনৈতিক চাপ ও তেলের বাজার

    ইরান তার কৌশলগত অবস্থান ব্যবহার করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। স্ট্রেইট অফ হরমুজ—যেখানে দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবাহিত হয়—সেখানে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়ে তারা সরবরাহ ব্যাহত করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে। বিশ্ব-বাজারে তেলের দাম ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প শেষমেশ আলোচনার পথে ঝুঁকতে বাধ্য হন। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত (মোট ১০ দিন) ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা করেন তিনি। এক মাসের মধ্যে এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। সামরিক, মানবিক ও অর্থনৈতিক—সব দিক থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

    যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শান্তি আলোচনা “ভালোই এগোচ্ছে।” তবে ইরান মার্কিন প্রস্তাবকে “একপাক্ষিক ও অন্যায্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে স্ট্রেইট অব হরমুজে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। এদিকে, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় কোনওরকম শিথিলতা আসবে না। যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরান এখনও অদম্য মনোবলে বলীয়ান। তেহরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে একমাত্র তাদের শর্তেই। এই ঘোষণার সঙ্গে সাদুর্য রেখে তারা যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে গোপন বা ‘ব্যাক-চ্যানেল’ আলোচনাও শুরু করেছে। তবে এই আপাত শান্তির আড়ালেই লুকিয়ে আছে ইরানে মার্কিন স্থল অভিযানের এক ভয়াবহ আশঙ্কা। যার প্রস্তুতি হিসেবে হাজার হাজার মেরিন সেনা ও প্যারাট্রুপার ইতিমধ্যেই মধ্য এশিয়ার দিকে এগিয়ে আসছে।

    ভারতের কৌশলগত অবস্থানের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসতেই বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে ফের একবার উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে ভারতের নাম। সূত্রের খবর, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ রুখতে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, মোদি ও ট্রাম্পের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি তথা ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইলন মাস্কও। ২০২৬-এর এই উত্তাল সময়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বশান্তি ফেরাতে মোদি-ট্রাম্প-মাস্ক ত্রয়ীর এই ‘কানেকশন’ এক নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ইরান-ইজরায়েল সংঘাত যাতে কোনওভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে মোদির পরামর্শ চেয়েছেন ট্রাম্প। ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও ইরানের সঙ্গে দিল্লির সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধের আগুন নেভাতে মরিয়া আমেরিকা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকটে ভারতের মধ্যস্থতা এখন বিশ্বের কাছে সবথেকে বড় ভরসা। প্রধানমন্ত্রী মোদি আগেই ‘টিম ইন্ডিয়া’র আদলে বিশ্বব্যাপী সমন্বিত প্রয়াসের কথা বলেছিলেন, এবার ট্রাম্পের সঙ্গে এই কথা সেই পথকেই আরও প্রশস্ত করল।

  • IPl 2026: অপেক্ষার অবসান! বাইশ গজে ফিরছেন কিং কোহলি, আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ মুখোমুখি আরসিবি বনাম এসআরএইচ

    IPl 2026: অপেক্ষার অবসান! বাইশ গজে ফিরছেন কিং কোহলি, আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ মুখোমুখি আরসিবি বনাম এসআরএইচ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে আইপিএল ২০২৬-এর ১৯তম মরশুম (IPl 2026)। প্রথম ম্যাচেই নামছে বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru) এবং ঈশান কিশনের হায়দরাবাদ (SunRisers Hyderabad)। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া কোহলিকে আবার সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে দেখা যাবে। গত আইপিএলে আরসিবির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন বিরাট। ৬৫৭। যা আঠারো বছরের খরা কাটিয়ে আরসিবিকে তাদের প্রথম আইপিএল ট্রফি জিতিয়ে দেয়। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার এবারও কোহলির সেই রুদ্ররূপ প্রত্যাশা করছেন। তবে, গত জানুয়ারি মাসের পর আর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়নি বিরাটকে। কিন্তু তাতে কী? তিনি তো কিং কোহলি।

    কিছুক্ষণ পরই শুরু আইপিএল

    মঞ্চ তৈরি। আর কিছুক্ষণ পরই শুরু আইপিএল (IPl 2026)। এই মরশুমের শুরুটা কিছুটা ব্যতিক্রমী। গত বছরের ট্র্যাজেডির কথা মাথায় রেখে কোনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাখা হয়নি। গতবার আরসিবি-র বিজয় উদযাপনের সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় ১১ জন সমর্থকের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের স্মৃতিতে আরসিবি ভবিষ্যতে স্টেডিয়ামে ১১টি আসন খালি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেঙ্গালুরুতে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা সবসময় থাকে। ম্যাচ চলাকালীন প্রায়শই বৃষ্টি হয়। কিন্তু বেশিক্ষণ না। তবে শনিবারের আবহাওয়া ক্রিকেটের জন্য আদর্শ। আকাশ পরিষ্কার থাকবে। ম্যাচের সময় তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৮ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। বাতাসে আর্দ্রতা ৬০ শতাংশ। এদিন ম্যাচ বৃষ্টিতে বিঘ্নিত যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলা যায়। দীর্ঘদিন পর আবার ক্রিকেট ফিরছে বেঙ্গালুরুর স্টেডিয়ামে। একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় থাকবে সবাই।

    হাই-স্কোরিং ম্যাচের ইঙ্গিত

    আরসিবি বনাম এসআরএইচ ম্যাচ মানেই বড় রান—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দুই দলের লড়াইয়ে রানের বন্যা দেখা গেছে। এবারের ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে দুই দলের বোলিং আক্রমণ কিছুটা দুর্বল হওয়ায় ব্যাটারদের দাপট দেখার আশা করা হচ্ছে। দেখতে গেলে, শক্তি বিচারে দু’টো টিমের ব্যাটিং প্রায় সমানে-সমানে। আরসিবিতে ফিল সল্ট, রজত পাতিদার, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, উইল জ্যাকস, বিরাট কোহলিরা রয়েছে। হায়দরাবাদে আবার রয়েছেন অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান, ট্রাভিস হেড, হেনরিক ক্লাসেনরা। আরসিবি ব্যাটিং লাইন-আপে প্রচুর বিকল্প থাকলেও বোলিংয়ে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে এসআরএইচ-ও তাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স-কে প্রথমদিকে পাচ্ছে না, যা তাদের বোলিং শক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। এই মরশুমের প্রথম ভাগে এসআরএইচ-কে নেতৃত্ব দেবেন ঈশান কিষাণ। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রিকেটমহলে। যদিও তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে আইপিএল-এর চাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

  • Assembly Elections 2026: নির্বাচনের আগে ও পরে হিংসা আটকাতেই হবে! পুলিশকে কড়া নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের

    Assembly Elections 2026: নির্বাচনের আগে ও পরে হিংসা আটকাতেই হবে! পুলিশকে কড়া নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন (Assembly Elections 2026)। ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা থেকে নিচু স্তরের কর্মীদের একগুচ্ছ নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। জামিন অযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করা নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে কমিশনের। সূত্রের খবর, গত নির্বাচনের সময় যে সব অপরাধমূলক মামলা হয়েছিল সেগুলির তদন্ত দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসডিপিও-দেরও। পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি দিয়েছে কমিশন। এসডিপিও-দের নিজের কর্মক্ষেত্রের পাশের মহকুমা ও জেলার পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই ভোট যেন হয় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ।

    এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশিকা

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দফতরের তরফে কড়া নির্দেশিকা, আগেরবারের ভোটের (Assembly Elections 2026) সময় দায়ের হওয়া সমস্ত ফৌজদারি মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে। সমস্ত জামিন-অযোগ্য ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে হবে। কোনও ওয়ারেন্ট ১০ দিনের বেশি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এছাড়া, থানায় থানায় সমস্ত ঘোষিত ‘পলাতক’ ও ‘ওয়ান্টেড’ আসামিদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের তরফে সমস্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অতীতে যে সব জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বিক্ষোভ বা গোলমালের ইতিহাস রয়েছে সেখানে বিশেষ পদক্ষেপ করতে হবে। কারা সম্ভাব্য গোলমালকারী, তাও চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

    অপরাধপ্রবণ ও মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করতে হবে

    নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ, অপরাধপ্রবণ ও মাদক কারবারিদের এলাকা চিহ্নিত করে, সেখানে সারাক্ষণ টহল ও পিকেটিং চালাতে হবে। দুষ্কৃতী বা সমাজবিরোধীরা থাকতে পারে এমন সন্দেহজনক হোটেল, বার, ধর্মশালা ইত্যাদি জায়গায় নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে। নির্বাচনী অপরাধ বা আইনশৃঙ্খলার ঘটনার খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে লুক আউট নোটিস জারি করতে হবে পুলিশকে।

    আন্তঃজেলাভিত্তিক নাকা চেকিং

    আন্তঃজেলাভিত্তিক বেআইনি কার্যকলাপ, বিশেষ করে অবৈধ মদের কারবারের তথ্য দুই জেলার পুলিশদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেইসঙ্গে আন্তঃজেলা ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে দিনরাত নাকা চেকিং চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে, সীমান্তবর্তী সমস্ত রাস্তা, একাধিক লিঙ্ক রোড ও কাঁচা রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে নজরদারি জারি রাখতে হবে, নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। থানায় থানায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, নাকা পয়েন্টে গাড়িতে গাড়িতে তল্লাশি জোরদার করতে হবে। নাকায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টা সচল আছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

    রাজনৈতিক সভায় নজরদারি

    রাজনৈতিক দলের সভা-জমায়েতও নজর রাখতে বলা হয়েছে। প্রার্থী, সভা, রোড শো, পথসভা ইত্যাদির নিরাপত্তা নিয়মিত খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভোটের প্রচারে আসা হুমকির মুখে থাকা ভিআইপি বা নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন আধিকারিকদের সফরেও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে।

    কমিশনের নিয়ন্ত্রণে

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) স্পষ্ট বার্তা, ভোটের সময় সকল সরকারি কর্মচারী কমিশনের অধীনে কাজ করেন। তাঁরা কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে কমিশন। কমিশনের বার্তা, এই নির্দেশ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। যদি কেউ নিজের কাজ ঠিক ভাবে না করেন, তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। শুধু ভোটের দিনেই নয়, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতেও সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। গণনা পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে ও প্রয়োজনে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে হবে কমিশনের কাছে।

    বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং পরিকাঠামো

    ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা হয়েছে একাধিক নির্দেশ। প্রচারের উত্তাপে জমে উঠেছে রাজনৈতিক ময়দান। ঠিক এই আবহেই ভোট প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও নিরপেক্ষ রাখতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন। বুথে পাঁচ মিনিট ক্যামেরা বন্ধ থাকলে রিপোল হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। সেই মর্মেই এবার বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

    বিশেষ পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব

    কমিশন সূত্রে খবর, সাধারণ নির্বাচন হোক বা উপনির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব থাকবে বিশেষ পর্যবেক্ষকদের উপর। বিশেষ করে স্পর্শকাতর ও অশান্তি প্রবণ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে। বুথভিত্তিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোটের দিন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে হবে। কোথাও কোনও অনিয়ম বা অভিযোগের খবর মিললেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাও পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

     

     

     

     

  • Defence Procurement: আরও এস-৪০০ থেকে নতুন পরিবহণ বিমান— ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার সামরিক কেনাকাটায় ছাড়পত্র কেন্দ্রের

    Defence Procurement: আরও এস-৪০০ থেকে নতুন পরিবহণ বিমান— ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার সামরিক কেনাকাটায় ছাড়পত্র কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে একযোগে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। শুক্রবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ ক্রয় সংস্থা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রস্তাবে ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অনুমোদনের আওতায় ভারতীয় বায়ুসেনা, স্থলসেনা ও কোস্ট গার্ডের জন্য অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ব্যাচের এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (S-400 Air Defence System), মাঝারি ক্ষমতার পরিবহণ বিমান (MTA), আধুনিক আর্টিলারি গান ও নজরদারি ব্যবস্থা (AEW&C) এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত মানবহীন বিমান (RPA)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এটি সাম্প্রতিক কালের অন্যতম বৃহত্তম একদিনে অনুমোদিত প্রতিরক্ষা প্রকল্প।

    বায়ুসেনার শক্তি বাড়াতে ৬০টি নতুন পরিবহণ বিমান

    বায়ুসেনার জন্য ৬০টি মাঝারি পরিবহণ বিমান কেনার প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল। এগুলি পুরনো সোভিয়েত আমলের এএন-৩২ (AN-32) ও আইএল-৭৬ (IL-76) বিমানের জায়গা নেবে। নতুন বিমানগুলির বহন ক্ষমতা ১৮ থেকে ৩০ টনের মধ্যে হবে, যা কৌশলগত ও ট্যাকটিক্যাল এয়ারলিফ্ট ক্ষমতা বাড়াবে। সূত্রের খবর, ১২টি বিমান সরাসরি বিদেশ থেকে কেনা হবে এবং বাকি ৪৮টি ভারতে তৈরি করা হবে, যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও জোরদার করবে। এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে মার্কিন সংস্থা লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin) নির্মিত সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস (C-130J Super Hercules), এমব্রেয়ার (Embraer) নির্মিত সি-৩৯০ মিলেনিয়াম (C-390 Millennium) এবং এয়ারবাস ডিফেন্স নির্মিত (Airbus Defence and Space) নির্মিত এ-৪০০এম অ্যাটলাস (A-400M Atlas)।

    এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও ৫টি ইউনিট

    এর পাশাপাশি, রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও পাঁচটি ইউনিট কেনার অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। ২০১৮ সালে ভারত ৫টি এস-৪০০ সিস্টেম কেনার জন্য ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই তিনটি স্কোয়াড্রন হাতে এসেছে। গত বছরের ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা বিশেষভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলেই নতুন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ঘাতক ইউসিএভি-র চারটি রেজিমেন্ট গঠন

    রিমোটলি পাইলটেড স্ট্রাইক এয়ারক্রাফ্ট (RPA) কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল, যা আক্রমণাত্মক ও নজরদারি অভিযানে ব্যবহৃত হবে। সূত্রের খবর, ডিআরডিও-র তৈরি ঘাতক ড্রোনের (Ghatak UCAV) চারটি স্কোয়াড্রন গড়ে তোলার সবুজ সঙ্কেত মিলেছে কেন্দ্রের তরফে। দূরনিয়ন্ত্রিত আক্রমণাত্মক ঘাতক মানবহীন বিমানটি আক্রমণাত্মক প্রতিরোধমূলক ও সমন্বিত আকাশ অভিযানে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি এটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও গোপনে পরিদর্শন (ISR) কার্যক্রমও পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি সুখোই-৩০এমকেআই (Sukhoi Su-30MKI) যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আপগ্রেডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের কার্যক্ষমতা ও পরিষেবা জীবন বাড়ে।

    সেনাবাহিনীর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি

    স্থলসেনার জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ছাড়পত্র মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ডিফেন্স ট্র্যাকড সিস্টেম, হাই ক্যাপাসিটি রেডিও রিলে সিস্টেম, ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী (আর্মার পিয়ার্সিং) গোলাবারুদ এবং আকাশে নজরদারি ব্যবস্থা। এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ধনুষ আর্টিলারি গান (Dhanush artillery gun) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশীয়ভাবে তৈরি ১৫৫ মিমি x ৪৫-ক্যালিবার টোড আর্টিলারি গান বোফর্স প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই সিস্টেমে ডিজিটাল কন্ট্রোল, উন্নত টার্গেটিং ও ন্যাভিগেশন রয়েছে এবং এটি প্রায় ৩৮ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম।

    উপকূলরক্ষীদের জন্য হাই-স্পিড হোভারক্রাফ্ট

    ভারতীয় কোস্ট গার্ড বা উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য হেভি ডিউটি এয়ার কুশন ভেহিকল (হোভারক্রাফ্ট) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলি উপকূলীয় নজরদারি, উদ্ধারকাজ ও দ্রুত লজিস্টিক সাপোর্টে ব্যবহৃত হবে।

    রেকর্ড পরিমাণ প্রতিরক্ষা অনুমোদন

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত ডিএসি মোট ৫৫টি প্রস্তাবে ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। একই সময়ে ২.২৮ লক্ষ কোটি টাকার ৫০৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। কর্তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলি দেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ, স্বনির্ভরতা এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি আরও মজবুত করার দিকেই বড় পদক্ষেপ।

  • Assembly Election 2026: কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ! রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব কমিশনের

    Assembly Election 2026: কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণ! রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পরোক্ষে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি নকশালবাড়িতে জনসভা করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই সভার একটি বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এনিয়ে রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে দিল্লি থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

    অভিযোগ, গত ২৫ মার্চ দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ির নন্দপ্রসাদ গার্লস’ হাই স্কুলের মাঠে একটি জনসভায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই সভায় তিনি সিআরপিএফ জওয়ানদের উদ্দেশে পরোক্ষ ভাবে হুঁশিয়ারি দেন এবং মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে বলেন। প্রয়োজনে গৃহস্থালির রান্নার সামগ্রী ব্যবহার করার কথাও উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ। এক্ষেত্রে, সিআরপিএফ জওয়ানেরা যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন, তবে তাঁরা আইনি জটিলতা বা ফৌজদারি অভিযোগের মুখে পড়তে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, ওই মন্তব‍্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব

    উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দুপুরে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী শঙ্কর মালাকারের সমর্থনে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মা-বোনেদের ভোটকেন্দ্র পাহারার দায়িত্ব দেন তিনি। যত ক্ষণ না ইভিএম গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যাচ্ছে তত ক্ষণ হাতা-খুন্তি নিয়ে সেখানে পাহারা দেওয়ার কথাও বলেন তৃণমূল নেত্রী। মমতার আশঙ্কা, ভোট লুট হতে পারে, কেউ ভয় দেখাতে পারে। তাই মা-বোনেদের কেউ ভয় দেখাতে এলে রান্না ঘরের নানা সামগ্রী নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বলেছেন তিনি। এনিয়ে বিরোধীদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যেহেতু এখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে বলা হয়েছে, বাহিনীর জওয়ানরা কোনও সংঘাতের পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কমিশন। সেই কারণে কমিশন ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। এই রিপোর্ট গেলেই বোঝা যাবে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়।

  • Amit Shah in Bengal: ঝেঁপে বৃষ্টি সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া, দুর্যোগের মধ্যে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিমান

    Amit Shah in Bengal: ঝেঁপে বৃষ্টি সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া, দুর্যোগের মধ্যে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্যোগের মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। খারাপ আবহাওয়া, দুর্যোগের কারণে বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা, মাঝ আকাশেই চক্কর খেতে হল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। দীর্ঘক্ষণ আকাশে পাক দেওয়ার পর অবশেষে রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে অমিত শাহের (Amit Shah in Bengal) চার্টার্ড বিমান। বঙ্গ সফরে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর চার্জশিট প্রকাশ করার কথা। এর আগে বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে কর্মসূচি সেরে কলকাতায় ফিরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমানও ঝড়বৃষ্টির মুখে পড়েছিল।

    ৪৫ মিনিট মাঝ আকাশে চক্কর

    শুক্রবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ কলকাতায় শাহের বিমান অবতরণ করার কথা ছিল, তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে দেরি হচ্ছিল। রাত ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ কলকাতায় আসে বিমান, কিন্তু লাগাতার প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে অবতরণ করা যাচ্ছিল না। জানা গিয়েছে, মধ্যরাতে যখন কলকাতায় তুমুল ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে, সেই সময় ঠাকুরনগরের আকাশে চক্কর খায় অমিত শাহের বিমান। ঠাকুরনগরের কাছ থেকে ভীমপুরের আকাশে এক পাক ঘোরে বিমানটি। এরপর সেখান থেকে ধুবুলিয়ার দিকে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়া, প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে বেথুয়াডহরির আকাশেও চক্কর খেতে হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিমানকে। অবশেষে রাত ১টা ২০ মিনিট নাগাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিমানটি অবতরণ করে। দুর্যোগের কারণে প্রায় ৪৫ মিনিট মাঝ আকাশে চক্কর খায় বিমানটি।

    কেন সমস্যা হচ্ছিল

    সাধারণত বিএসএফের বিমানে যাতায়াত করেন শাহ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে শুক্রবার তিনি সেই বিমানে আসেননি। এসেছেন ছোট আকারের একটি বেসরকারি বিমানে। সেই কারণেই দুর্যোগে তা অবতরণ করাতে সমস্যায় পড়েছিলেন পাইলটেরা। শাহের সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। বিমানবন্দরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বরা।

    রাতেই ঝেঁপে বৃষ্টি, বিপর্যস্ত শহর

    দিনভর গুমোট গরমের পর রাতেই ঝেঁপে বৃষ্টি (Rain in Kolkata) নেমেছিল কলকাতা ও শহরতলিতে। সঙ্গে ছিল অনবরত মেঘের গর্জন। ঝড়ও ওঠে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। দুর্যোগের কারণে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর রাতে ছয় জেলায় লাল সতর্কতা জারি করে। সেই তালিকায় কলকাতাও ছিল। লাল সতর্কতা জারি করা হয় হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। শুক্রবার রাতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছে বেহালা, গড়িয়া, বরানগর, যাদবপুর, কালিকাপুর, নিউ টাউন, কালিন্দিতে। ডানকুনি, শ্যামনগরের মতো এলাকায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। ডানলপ, সিঁথির মতো এলাকায় বজ্রপাতের সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার শোঁ শোঁ শব্দও শোনা গিয়েছে। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর সামনে উত্তম কুমার সরণিতে একটি গাড়ির উপরে গাছ পড়ে যায়। শুক্র বার রাতে গল্ফগ্রিনেও গাছ পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ঝড়বৃষ্টির জেরে এন্টালিতে একটি পাঁচিল ভেঙে গিয়েছে।

LinkedIn
Share