Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • UPI in Greece: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ভারতের ইউপিআই-এর দাপট, এবার গ্রিসেও চালু ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবা

    UPI in Greece: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ভারতের ইউপিআই-এর দাপট, এবার গ্রিসেও চালু ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিশ্বজোড়া বিস্তার অব্যাহত। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন দেশ গ্রিস। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই। ফলে গ্রিসে বেড়াতে বা কাজের সূত্রে যাওয়া ভারতীয়দের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট করা আরও সহজ হবে। ভারতের নিজস্ব ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ইউপিআই-এর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে এটি আরও একটি বড় পদক্ষেপ। গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের উপস্থিতিতে ইউরোব্যাঙ্ক এবং এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টস লিমিটেড (এনআইপিএল)-এর অংশীদারিত্বের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই গ্রিসে ইউপিআই পরিষেবা চালুর ঘোষণা আসে।

    কী জানালেন পীযূষ গোয়েল?

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পীযূষ গোয়েল জানান, ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর কথায়, এই উদ্যোগের ফলে যোগ্য ব্যবহারকারীরা দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্বিঘ্নে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রচলিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট পদ্ধতির তুলনায় লেনদেনের খরচও কমবে। এর মাধ্যমে ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা যে আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রমশ গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে, সেটিও আরও একবার স্পষ্ট হল।

    ইউপিআই কী?

    ইউপিআই বা ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস হল ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)-এর তৈরি একটি রিয়েল-টাইম ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সরাসরি এক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে মুহূর্তের মধ্যে টাকা পাঠানো বা গ্রহণ করা যায়। কিউআর কোড স্ক্যান করে, মোবাইল নম্বর বা ইউপিআই আইডির মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অর্থপ্রদান সম্পন্ন করা সম্ভব। বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলির অন্যতম হল ইউপিআই।

    গ্রিসে ভারতীয়দের কী সুবিধা হবে?

    বিদেশে ভ্রমণের সময় সাধারণত নগদ অর্থ বহন, বিমানবন্দরে মুদ্রা বিনিময়, বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার কিংবা আন্তর্জাতিক ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হয়। গ্রিসে ইউপিআই চালু হওয়ায় সেই ঝামেলা অনেকটাই কমবে। যেখানে ইউপিআই গ্রহণ করা হবে, সেখানে যোগ্য ভারতীয় ব্যবহারকারীরা মোবাইল ফোন থেকেই কিউআর কোড স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমবে এবং দোকান, ক্যাফে বা রেস্তোরাঁয় বিল মেটানো হবে আরও সহজ।

    বিশ্বের ১০টি দেশে পৌঁছল ইউপিআই

    গত কয়েক বছরে ভারতের ইউপিআই দ্রুত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বিভিন্ন দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই পরিষেবার পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। গ্রিস যুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন ব্যবস্থায় ইউপিআই এখন বিশ্বের মোট ১০টি দেশে উপলব্ধ। এই দেশগুলি হল— সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ফ্রান্স, মরিশাস, নেপাল, ভুটান, কাতার, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া ও (সব শেষে) গ্রিস। ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Iron Dome Tamir Missile: আয়রন ডোমের ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ভারতের দ্বারস্থ ইজরায়েল, জোর জল্পনা প্রতিরক্ষা মহলে!

    Iron Dome Tamir Missile: আয়রন ডোমের ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ভারতের দ্বারস্থ ইজরায়েল, জোর জল্পনা প্রতিরক্ষা মহলে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মাটিতে তৈরি হতে পারে ইজরায়েলের বহুল আলোচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’-এর অতি-গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ‘তামির’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র। সেই লক্ষ্যেই দেশের একাধিক বেসরকারি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে ইজরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস্। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত চুক্তি বা অংশীদার সংস্থার নাম ঘোষণা করা হয়নি। রাফায়েলের লক্ষ্য, ভারতে ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে একদিকে ইজরায়েলের বাড়তে থাকা চাহিদা মেটানো, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির জন্য একটি বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা। বিশ্বজুড়ে আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা বাড়তে থাকায় সংস্থাটি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পথ খুঁজছে।

    কেন ভারতের দিকেই ঝুঁকছে রাফায়েল?

    গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ভারতের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির নজর কেড়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির ফলে দেশে প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে দক্ষ প্রযুক্তিগত কর্মী বাহিনী। তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় এবং সরকারি নীতিগত সহায়তাও বিদেশি সংস্থাগুলিকে ভারতে বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে। রাফায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও নতুন নয়। ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রকল্পে বহু বছর ধরেই ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে ইজরায়েলি এই সংস্থা। ফলে নতুন উৎপাদন অংশীদারিত্বের সম্ভাবনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।

    কী এই ‘তামির’?

    ‘তামির’ হল আয়রন ডোম বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র। শত্রুপক্ষের ছোড়া স্বল্প-পাল্লার রকেট, মর্টার কিংবা কামানের গোলা লক্ষ্যভ্রষ্ট করার আগেই মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দেওয়াই এর কাজ। আয়রন ডোমের রেডার প্রথমে সম্ভাব্য হামলা শনাক্ত করে। এরপর নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হিসাব করে দেখে রকেটটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানবে কি না। বিপদের আশঙ্কা থাকলেই উৎক্ষেপণ করা হয় ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র। মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয় লক্ষ্যবস্তু।

    ভারতের কী লাভ?

    এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে বড়সড় গতি আসতে পারে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলির সামনে খুলে যেতে পারে আন্তর্জাতিক বাজারের দরজা। বাড়তে পারে উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানও। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি ইজরায়েলের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। যদিও প্রযুক্তি হস্তান্তরের পরিমাণ নির্ভর করবে ভবিষ্যতের চুক্তির শর্তের উপর।

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কে নতুন মাত্রা?

    গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা এবং অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমশ বেড়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন শুরু হলে তা শুধু একটি শিল্প প্রকল্প হবে না; বরং ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থাকেও আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।

    এখনও চূড়ান্ত নয়

    তবে আপাতত পুরো বিষয়টি আলোচনা ও সম্ভাব্য অংশীদার খোঁজার পর্যায়ে রয়েছে। রাফায়েল বা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক উৎপাদন চুক্তির ঘোষণা করা হয়নি। বাণিজ্যিক আলোচনা, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং দুই দেশের সরকারি অনুমোদন মিললেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাই ভারতে ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাবনা জোরালো হলেও, এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে— এমনটা বলা যাবে না।

  • Doctors Day 2026: জ্যোতি বসুর কথায় বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর! ‘ডক্টর ডে’-র মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    Doctors Day 2026: জ্যোতি বসুর কথায় বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর! ‘ডক্টর ডে’-র মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় চিকিৎসক দিবস-এ রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে দুষলেন বিগত তৃণমূল সরকারকে। একই সঙ্গে ভোল বদলের আশ্বাস দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। আজ ১লা জুলাই ২০২৬, প্রখ্যাত চিকিৎসক তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় চিকিৎসক দিবস’ (National Doctor’s Day)। এই বিশেষ দিনে সল্টলেকের এক অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    বিধানচন্দ্র রায় -এর নামে হাসপাতাল

    সল্টলেকের বিধাননগর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের ভোলবদল ও নতুন নামকরণের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল’। ডক্টর ডে-র মূল মঞ্চ থেকে আজ এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বেশ কিছু অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবারও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।একই সঙ্গে চিকিৎসা ক্ষেত্রে একাধিক নতুন পরিষেবার সূচনা করার পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন তিনি।

    বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ শিক্ষনীয়, জ্যোতি বসুকে স্মরণ

    রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের কাজকে শিক্ষনীয় করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর একাধিক বক্তব্যকে নিজের ভিতরে আত্মস্থ করেছেন তিনি। বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিধান রায়ের ভূমিকার কথাও এদিন স্মরণ করা হয়। সেই কথা নিজেই এদিন জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রসঙ্গও। চিকিৎসক দিবসে শুভেন্দু অধিকারীর তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য, “জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন যেখানেই আমি হাত দিচ্ছি, দেখছি বিধানচন্দ্র রায় তা শুরু করে দিয়ে গিয়েছেন। আর আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যেখানেই হাত দিচ্ছি, দেখছি বিগত সরকারের ধ্বংসলীলা।”

    বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা

    রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৃণমূল সরকারের আমলে ভেঙে পড়েছে, লাগামছাড়া দুর্নীতিও হয়েছে, সেই অভিযোগ উঠেছে। এদিন সেই বিগত সরকারের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও তুলোধনা করেছেন তিনি। বিজেপি আমলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে উন্নত করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। “আমরা-ওরা থাকতে পারে না।” সেই কথাও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। বাংলা থেকে বহু রোগী ভিনরাজ্যে চিকিৎসার জন্য যান। এই রাজ্যে চিকিৎসা দেওয়া যায় না? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজ্যে হাসপাতালগুলোর বেহাল অবস্থা। কুকুর বেড়াল শুয়ে থাকত হাসপাতালের ভিতর। সেই প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি। “এই ধ্বংসলীলা থেকে বাংলাকে বার করতে হবে।” এদিন এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঙালি চিকিৎসকদের ইউরোপ-সহ অন্যান্য দেশে দেখা যায়। সেই কথাও মুখ্যমন্ত্রী জানান। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হাল ফেরাতে জোর দিয়েছেন তিনি।

  • Kolkata Police: ধর্মতলা চত্বরে মিছিল-ধর্না নয়! ব্যস্ত রাস্তায় জমায়েত বন্ধে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা পুলিশের

    Kolkata Police: ধর্মতলা চত্বরে মিছিল-ধর্না নয়! ব্যস্ত রাস্তায় জমায়েত বন্ধে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের অনুমতি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দিল লালবাজার। এমনকী, ধর্মতলা চত্বরে আগামী ৬০ দিনের জন্য কড়া নিষেধাজ্ঞা (Ban At Dharmatala) জারি করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। সম্ভাব্য বিক্ষোভ, অশান্তি এবং জনশৃঙ্খলা ভাঙনের আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার আওতায় এই নির্দেশ জারি করেছেন।

    পুলিশের নির্দেশে কী বলা হল

    পুলিশের (Kolkata Police) নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত ধর্মতলার একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে। একইসঙ্গে মিছিল, সভা, ধর্না, বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য মিলেছে যে, ওই এলাকায় হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তার জেরে জনশান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে বউবাজার থানা, হেয়ার স্ট্রিট থানা এবং সদর ট্র্যাফিক গার্ডের অন্তর্গত নির্দিষ্ট অংশ। কেসি দাস মোড় থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস তথা সিইএসসি দফতর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় এই নির্দেশ কার্যকর হবে। তবে বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। লাঠি, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনও বিপজ্জনক অস্ত্র বহনেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এমন কোনও কাজ করা যাবে না, যাতে শান্তিভঙ্গ, জনদুর্ভোগ বা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    প্রশাসনের বক্তব্য, ধর্মতলা (Gathering in Dharmatala) কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ওই পথ ব্যবহার করেন। সেখানে রাজনৈতিক জমায়েত বা বিক্ষোভ থেকে বড়সড় বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বৃহত্তর জনস্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এত সংখ্যক মানুষের কাছে আলাদা করে নোটিস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার উপধারা অনুযায়ী একতরফা ভাবে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম, কলকাতা পুলিশ গেজেট এবং বিভিন্ন থানার নোটিস বোর্ডের মাধ্যমে এই নির্দেশ প্রকাশ করা হবে।

  • General Dhiraj Seth: ৩১তম সেনাপ্রধান হলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ, একসঙ্গে বদল একাধিক শীর্ষ পদে

    General Dhiraj Seth: ৩১তম সেনাপ্রধান হলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ, একসঙ্গে বদল একাধিক শীর্ষ পদে

    জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরীর পর এই প্রথম সেনার কোনও আর্মার্ড কোর অফিসার সেনাপ্রধান হলেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষস্তরে বড় রদবদল। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) ৩১তম সেনাপ্রধান (Chief of the Army Staff) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ (General Dhiraj Seth)। তিনি প্রায় তিন দশক পর প্রথম আর্মার্ড কোর (Armoured Corps)-এর অফিসার, যিনি সেনাপ্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হলেন। এর আগে ১৯৯৭ সালে জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী অবসর নেওয়ার পর আর কোনও আর্মার্ড কোর অফিসার এই দায়িত্ব পাননি। এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে শুধু সেনাপ্রধানের পদেই নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডেও ব্যাপক রদবদল ঘটল। একইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনাতেও শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তিন বাহিনীর যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি, আধুনিকীকরণ এবং থিয়েটার কমান্ড গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    দক্ষিণ ব্লকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হস্তান্তর

    নয়াদিল্লির দক্ষিণ ব্লকের লনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী চার দশকেরও বেশি সামরিক জীবনের ইতি টানার আগে গার্ড অফ অনার গ্রহণ করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেনারেল ধীরজ শেঠ। এই পরিবর্তন ভারতের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র এক মাস আগেই চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন। ফলে তিন বাহিনীর নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্ব চলে এল।

    কে এই জেনারেল ধীরজ শেঠ?

    জেনারেল ধীরজ শেঠ খড়্গবাসলায় স্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির (NDA) প্রাক্তনী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি আর্মার্ড কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি প্রচলিত যুদ্ধ, সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ নিয়োগে কাজ করেছেন। তাঁর সামরিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল, পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়া। তিনি প্রথমে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে জয়পুরভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (GOC-in-C) হন। পরে পুনে-ভিত্তিক সাদার্ন কমান্ডের নেতৃত্বও গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল তিনি ভাইস চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ (Vice Chief of the Army Staff) হিসেবে দায়িত্ব নেন। সেখান থেকেই তিনি এবার দেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদে উন্নীত হলেন।

    সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে একাধিক পরিবর্তন

    জেনারেল ধীরজ শেঠ সেনাপ্রধান হওয়ার ফলে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও রদবদল হয়েছে। ভাইস চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সন্দীপ জৈন। তিনি এতদিন সাদার্ন কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজেশ পুষ্কর। বর্তমানে তিনি আম্বালা-ভিত্তিক দ্বিতীয় স্ট্রাইক কোরের (II Strike Corps) নেতৃত্বে রয়েছেন। ১ জুলাই পুনেতে সাদার্ন আর্মি কমান্ডের নতুন প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজেশ পুষ্করও আর্মার্ড কোরের অফিসার। ফলে এই রদবদলে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ড কমান্ডগুলিতে আর্মার্ড কোরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল।

    সাউথ-ওয়েস্টার্ন কমান্ডেও নতুন নেতৃত্ব

    জয়পুর-ভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডের নতুন প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহিত মালহোত্রা। বর্তমানে তিনি কলকাতার ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ হিসেবে কর্মরত। ১৯৮৯ সালের জুন মাসে ৪৭তম আর্মার্ড রেজিমেন্টে কমিশনপ্রাপ্ত মালহোত্রা এবার এমন একটি কমান্ডের দায়িত্ব নিতে চলেছেন, যা পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল সামরিক দায়িত্ব বহন করে। তিনি অবসরগ্রহণকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মঞ্জিন্দর সিং-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

    ভারতীয় বায়ুসেনাতেও নেতৃত্বে পরিবর্তন

    শুধু সেনাবাহিনী নয়, ভারতীয় বায়ুসেনাতেও গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব পরিবর্তন হতে চলেছে। এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত নতুন ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সামরিক সিনিয়রিটির নিরিখে তিনি আগামী অক্টোবর মাসে অবসর নিতে চলা বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং-এর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ফাইটার স্ট্রিমে কমিশনপ্রাপ্ত আশুতোষ দীক্ষিত বর্তমানে ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (Integrated Defence Staff)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের অধীনে থাকা এই ত্রি-সার্ভিস সংস্থায় তিনি তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের থিয়েটার কমান্ড গঠনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এর আগে তিনি বেঙ্গালুরুর এয়ারক্রাফট অ্যান্ড সিস্টেমস টেস্টিং এস্টাবলিশমেন্ট (ASTE)-এর ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কমান্ডিং অফিসার এবং ২০২৩ সালের মে মাস থেকে ডেপুটি চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

    থিয়েটার কমান্ড ও আধুনিকীকরণে নতুন নেতৃত্বের বড় চ্যালেঞ্জ

    ভারতের প্রতিরক্ষা কাঠামো বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিন বাহিনীর যৌথ থিয়েটার কমান্ড গঠন, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক অস্ত্র ও প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং সমন্বিত সামরিক কাঠামো গড়ে তোলাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। গত কয়েক বছরে এই সংস্কার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোলেও নানা প্রশাসনিক ও কাঠামোগত কারণে তা প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। ফলে নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ, নতুন সিডিএস, নৌবাহিনী প্রধান এবং বায়ুসেনার নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই সংস্কার কর্মসূচিকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে চিন ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং তিন বাহিনীর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা আগামী কয়েক বছরে ভারতের সামরিক কৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • FIFA World up 2026: জোড়া গোল রেকর্ড এমবাপের, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় দুরন্ত ফ্রান্স! জয় পেল নরওয়ে, মেক্সিকো

    FIFA World up 2026: জোড়া গোল রেকর্ড এমবাপের, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় দুরন্ত ফ্রান্স! জয় পেল নরওয়ে, মেক্সিকো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সের নিখুঁত টোটাল ফুটবলের (FIFA World up 2026) সামনে দাঁড়াতে পারল না সুইডেন। এমবাপে, বার্কোলাদের গতি ও স্কিলের সামনে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেল সুইডিশরা। যার ফল মিলল খেলার শেষেই। সুইডেনের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জিতে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোয় জায়গা পাকা করে নিল দিদিয়ের দেঁশর ছেলেরা। ম্যাচে জোড়া গোল করলেন এমবাপে, একটি গোল করলেন বার্কোলা। শেষ ১৬-তে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। ৫ জুলাই রবিবার রাত আড়াইটের সময়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছোল নরওয়ে। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওদেগার্ডদের দাপটে আইভোরি কোস্টের বিরুদ্ধে ২-১ গেলো জয় পেল নরওয়ে। পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। রাউন্ড অফ ৩২-এর অপর ম্যাচে মেক্সিকো-ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে দেয়।

    ফ্রান্সের রেকর্ড

    ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল ফ্রান্সের। এ বার তারা ট্রফির জয়ের জন্য দুর্দান্ত ছন্দে ছুটে চলেছে। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুধু শেষ ষোলোয় ওঠাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন এক নজির গড়েছে গতবারের রানার্স আপরা। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, আর একটি গোল যোগ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচটি ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার কীর্তি গড়েছে ফ্রান্স। ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্তিনার বিপক্ষে তিন গোল করার পর চলতি বিশ্বকাপে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ের বিপক্ষেও তিন বা তার বেশি গোল করে তারা। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল সুইডেনের বিপক্ষেও।

    বেগ পেতে হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকেও

    নকআউট পর্বের ফ্রান্স আলাদা। যে কোনও দলকে হারাতে পারে। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার দিদিয়ের দেশঁর দলকে হারাতে হলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকেও নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। লিয়োনেল মেসি বা ভিনিসিয়াস জুনিয়র একা এই ফ্রান্সকে রুখতে পারবেন না। নিখুঁত, তীক্ষ্ণ, দ্রুত, পরিকল্পিত ফুটবল খেলল ফ্রান্স। দেশঁ যেন কম্পিউটার পোগ্রামিং করে দল নামিয়ে ছিলেন। রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ— ফুটবলের তিন বিভাগেই নিখুঁত ছিল ফ্রান্স। মাঠের সব প্রান্তে দৌড়ে বেড়িয়েছেন ফরাসি ফুটবলারেরা। নিজেদের মধ্যে ছোট-বড় নিখুঁত পাস খেলেছেন। প্রতিপক্ষকে ধোঁকা দিতে নিজেদের মধ্যে জায়গা বদল করেছেন। পায়ে অযথা বল রাখেননি। সবচেয়ে ভাল জায়গায় থাকা সতীর্থকে মুহূর্তে খুঁজে নিয়েছেন। সেরা ফুটবল খেলার জন্য যা যা করা দরকার সব করেছেন।

    জোড়া গোল এম বাপের

    ফ্রান্সের প্রথম গোল সেটপিসের ফসল। ছোট কর্নারের পর দেম্বেলের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে সুইডেনের দু’জন ফুটবলারকে কাটিয়ে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপে। প্রথমার্ধথে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ফ্রান্সকে দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিপজ্জনক দেখিয়েছে। ৫৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ফ্রান্স। ওলিসের পাস থেকে গোল করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। তাঁর দুরন্ত ফিনিশিংও মনে রাখার মতো। ৭৪ মিনিটে ফ্রান্সকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এমবাপে। এই গোলেও ওলিসের অবদান। তাঁর ডিফেন্স চেরা পাস থেকে গোল না করে উপায় ছিল না এমবাপের! ছ’নম্বর গোল করে এ বারের বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়ে ছুঁয়ে ফেললেন মেসিকে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর গোল সংখ্যা হল ১৮। শুধু নকআউটেই রেকর্ড ১০টি।

    নজির ওলিসের

    দিনটা ছিল আসলে ওলিসের। তিনিই সুইডেনকে সবচেয়ে বিব্রত করেন। খেলা তৈরি করলেন, গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়ালেন, নিজে একাধিক দুরন্ত শট মারলেন। কিন্তু গোল পেলেন না। তবে নজির গড়লেন তিনি। এ বারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি গোল করালেন সতীর্থদের দিয়ে। যা সর্বোচ্চ। ওলিসেই হলেন দেশঁর দলের ব্যান্ড মাস্টার। সম্ভবত জীবনের সেরা ফর্মে রয়েছেন তিনি।

    দাপট দেখিয়েই ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে

    এদিন ম্যাচের প্রথম থেকেই দাপট ছিল নরওয়ের। একের পর আক্রম‌ণ তৈরি করেছেন হালান্ডেরা। যত আক্রমণ তৈরি হয়েছে, তত সুযোগও নষ্ট হয়েছে। হালান্ড একাই নষ্ট করেছেন অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ। কখনও বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। কখনও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে শট মেরেছেন। নরওয়ের আগ্রাসী ফুটবলের জবাবে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছিল আইভোরি কোস্ট। প্রতি আক্রম‌ণে উঠে বেশ কয়েক বার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে আফ্রিকার দেশটিও। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দিয়েছে দু’দলই। খেলায় পরিকল্পনার ছাপ ছিল স্পষ্ট। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার ক্ষেত্রেই হোক বা আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে, দু’দল পরস্পরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবু নরওয়ের আধিপত্য ছিল বেশি। অন্তত আধ ডজন গোলে জেতা উচিত ছিল তাদের। আবার নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড কয়েক বার দলের পতন আটকেছেন। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে না পারলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেও পারত।

    শেষ ষোলোয় মেক্সিকো

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচ। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা পরে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে খেলা বন্ধ থাকে। ইউলিয়ান কুইনোনেনেস-রাউল খিনেমেস যুগলবন্দিতে ৩১ মিনিটের মধ্যেই ২-০ এগিয়ে গেল মেক্সিকো। ২২ মিনিটে গোল করেন। ৩১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান রাউল। দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

  • WhatsApp Username Feature: গোপনীয়তায় গুরুত্ব! হোয়াটসঅ্যাপে ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে বিতর্ক, প্রতারণার আশঙ্কায় উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

    WhatsApp Username Feature: গোপনীয়তায় গুরুত্ব! হোয়াটসঅ্যাপে ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে বিতর্ক, প্রতারণার আশঙ্কায় উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে তাদের বহু প্রতীক্ষিত ‘ইউজারনেম’ (Username) ফিচার চালু করছে। মেটা-অধীন এই সংস্থার দাবি, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আর নিজের মোবাইল নম্বর শেয়ার না করেও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে ফিচারটি আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য চালু হওয়ার আগেই এটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশেষ করে ভারতে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি এবং গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞেরা।

    দ্রুত ইউজারনেম সংরক্ষণ

    হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, প্রত্যেক ব্যবহারকারী একটি স্বতন্ত্র ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন। প্রয়োজনে সেই ইউজারনেম পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ মুছেও ফেলা যাবে। সংস্থার দাবি, বর্তমানে তাদের প্ল্যাটফর্মে তিনশো কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। ফলে পছন্দের ইউজারনেম অন্য কেউ নিয়ে নেওয়ার আগে দ্রুত সেটি সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সংস্থার নতুন সিইও কুনাল শাহও ইতিমধ্যেই নিজের ইউজারনেম সংরক্ষণ করেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লেখেন, “সঠিক সময়টাই সবকিছু। ফিচারটি সবার জন্য চালু হওয়ার আগেই আমি আমার ইউজারনেম নিশ্চিত করেছি। আপনিও দ্রুত নিজেরটি সংরক্ষণ করুন।”

    সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে উদ্বেগ

    হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, এই ফিচারের মূল লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরের গোপনীয়তা আরও শক্তিশালী করা। তবে সমালোচকদের মতে, এই সুবিধাই আবার প্রতারকদের জন্য নতুন অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জনপরিচিত ব্যক্তিদের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়ো ইউজারনেম তৈরি করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা, ভুয়ো বিনিয়োগ প্রকল্পে যুক্ত করা কিংবা প্রতারণামূলক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আমন্ত্রণ জানানোর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

    অনকুর ওয়ারিকুর কড়া সতর্কবার্তা

    উদ্যোক্তা ও জনপ্রিয় মোটিভেশনাল স্পিকার অনকুর ওয়ারিকু এই ফিচার নিয়ে সরব হয়েছেন। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ভারতে যদি যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপব্যবহার রোধের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে এই ফিচার বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, “ভারতের মতো দেশে সঠিক অ্যান্টি-অ্যাবিউজ সিস্টেম ছাড়া এই ফিচার বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। প্রতারকরা খুব সহজেই জনপরিচিত ব্যক্তিদের মতো দেখতে ইউজারনেম তৈরি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারবে।” ওয়ারিকু আরও দাবি করেন, অতীতে তাঁর মুখ ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভুয়ো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে টানার ঘটনা ঘটেছে। সেই কারণে তিনি মেটার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইও করেছেন। তাঁর কথায়, “আমি নিজে দেখেছি এই ধরনের প্রতারণা কত বড় আকার ধারণ করেছে এবং আমাদের দেশে কত সহজে তা পরিচালিত হয়। তাই একজন জনপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে এই ফিচার নিয়ে আমার উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”

    সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

    ওয়ারিকুর পোস্টের পর বহু ব্যবহারকারী একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আদৌ হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম ফিচারের প্রয়োজন ছিল কি না। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “হোয়াটসঅ্যাপ তো শুধুই একটি মেসেজিং অ্যাপ হওয়ার কথা ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়। অপ্রয়োজনীয় ফিচার যোগ করতে গিয়ে অ্যাপটির মূল চরিত্রই বদলে যাচ্ছে।” আরেকজনের মতে, “গোপনীয়তার কথা বলে এই ফিচার আনা হলেও বাস্তবে যদি সত্যিই ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার কথা ভাবা হতো, তাহলে এমন ব্যবস্থা করা উচিত ছিল যাতে শুধুমাত্র কনট্যাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিরাই কল বা মেসেজ করতে পারেন।”

    হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    সমালোচনার জবাবে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, পরিচয় জালিয়াতি রোধে বিশিষ্ট জনপরিচিত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণা রুখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার কথাও সংস্থা জানিয়েছে। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র পরিচিত ব্যক্তিদের ইউজারনেম সংরক্ষণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। একই রকম বানান, অতিরিক্ত অক্ষর বা বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ইউজারনেম তৈরি করা এখনও সম্ভব হতে পারে। তাই শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করার কার্যকর প্রযুক্তি প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।

    নজর নিরাপত্তার দিকে

    হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার নিঃসন্দেহে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত নম্বর গোপন রাখার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি পরিচয় জালিয়াতি, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট এবং অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, ধাপে ধাপে বিশ্বব্যাপী এই ফিচার চালুর সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ কতটা কার্যকরভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

  • Teen Mental Health: প্রতি ৭ জনে ১ জন কিশোর-কিশোরী মানসিক সমস্যায়! ইউনিসেফ রিপোর্টে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নতুন তথ্য

    Teen Mental Health: প্রতি ৭ জনে ১ জন কিশোর-কিশোরী মানসিক সমস্যায়! ইউনিসেফ রিপোর্টে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নতুন তথ্য

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্কুল থেকে ফিরেই কেউ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। আবার কেউ বাড়িতে আত্মীয় আসলে, চলে যায় বন্ধুর বাড়ি।‌‌ আবার কখনও পরীক্ষার আগের রাতে মাথায় যন্ত্রণা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় ভোগে! বয়স তাদের ১২ থেকে ১৭! কয়েক বছর আগেও তাদের দুষ্টুমি আর উচ্ছ্বাসে গোটা বাড়ি নাজেহাল হতো। কিন্তু বয়ঃসন্ধিকালের দোড়গোড়ায় আসতেই বদলে যাচ্ছে আচরণ।‌ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে। এমনকি বাবা-মায়ের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। যার ফলে একাধিক জটিলতা বাড়ছে। সম্প্রতি ইউনিসেফের এক রিপোর্টে বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের মানসিক জটিলতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। যা দেখে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্কুল ও পরিবারের মধ্যে আগাম সচেতনতা তৈরি না হলে পরবর্তী প্রজন্মকে আরও বেশি ভুগতে হতে পারে।

    কী বলছে ইউনিসেফের রিপোর্ট?

    সম্প্রতি ইউনিসেফের প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে দেশ জুড়ে একটা সমীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগের পর্বে অর্থাৎ মূলত বয়ঃসন্ধিকালে থাকা প্রতি ৭ জন ছেলেমেয়ের মধ্যে ১ জন মানসিক জটিলতায় ভুগছে। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় ছেলেমেয়েদের মধ্যে সামাজিক আচরণে পরিবর্তন হচ্ছে। বিশেষত ব্যবহারের পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য ভাবে হচ্ছে। সামাজিক মেলামেশার প্রতি অনীহা বা ভয় দেখা দিচ্ছে। অন্যদের সঙ্গে কথা বলার আত্মবিশ্বাস কমছে। নিজের মত প্রকাশ নিয়ে বাড়তি আড়ষ্টতা তৈরি হচ্ছে। সিদ্ধান্তহীনতায় তারা ভুগছে। আর এই সবকিছুই তাদের মনের উপরে গভীর প্রভাব ফেলছে। যার জেরে একাকিত্ব , উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং অবসাদের মতো মানসিক সমস্যা বাড়ছে। কম বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ার অন্যতম কারণ এই মানসিক জটিলতা।

    কেন এই সমস্যা হচ্ছে?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের মনের পরিবর্তন স্বাভাবিক। শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন হয়। আর সেই পরিবর্তনের সূত্র ধরেই এই বয়সে মনে নানান জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের প্রতি অনীহা, পরিবারের সঙ্গে সমস্যা ভাগ করতে না পারার সমস্যা কিংবা অত্যাধিক দুশ্চিন্তার মতো আচরণ দেখা দিলে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে রাশ টানা

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের সদস্য কিংবা আত্মীয়দের সঙ্গে কথা না বলার প্রবণতা তৈরি হয় অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের জন্য। তাঁরা জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই বিনোদনের অর্থ হয়ে উঠেছে মোবাইলের স্ক্রিন। নিজের মতো সময় কাটানোই হলো বিনোদন। এটা জেনেই অনেক শিশু বড় হচ্ছে। ঘরে নিজের মতো ভিডিও গেম খেলা বা মোবাইল দেখা সবচেয়ে আনন্দের, এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। ছোটো থেকেই দিনের কিছুটা সময় মা-বাবা কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কাটানোর অভ্যাস তৈরি জরুরি। পরিবারের সঙ্গে বসে গল্প করা এবং তাঁদের সারাদিন কীভাবে কাটলো, সেই গল্প শোনার অভ্যাস জরুরি। এই ভাবে সময় কাটালে ছোটো থেকেই পরিবারের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হবে। যেকোনও কথা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায় এই বিশ্বাস গড়ে উঠবে। এরফলে বয়ঃসন্ধিকালে মনের ও শরীরের পরিবর্তনও ছেলেমেয়েরা সহজেই পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেবে। নিজের সমস্যা ভাগ করতে তখন আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। এর ফলে যেকোনো সমস্যা জটিল রূপ নেবে না।

    অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কোয়ালিটি টাইমের অভাব বয়ঃসন্ধিকালে এই ধরনের মানসিক জটিলতার জন্ম দিচ্ছে। অভিভাবকদের সপ্তাহের কিছুটা সময় বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বিশেষ ভাবে কাটানো জরুরি। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সেই ঘাটতি প্রবল ভাবে দেখা দিচ্ছে। এমন কিছু কাজ অভিভাবক ও সেই ছেলেমেয়ের একসঙ্গে করতে হবে, যাতে তাদের পরস্পরের সাহায্য প্রয়োজন। তাঁদের পরামর্শ, সপ্তাহে একদিন সঙ্গে রান্না করা কিংবা বাগানে গাছের পরিচর্যা করা বা ঘর গোছানোর মতো এমন কিছু কাজ। এই ধরনের কাজ একসঙ্গে করলে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় হবে। বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েরা সহজেই পরস্পরের সাহায্য সম্পর্কে বুঝতে পারবে। তখন অনেক কথাই সহজে বলতে পারবে। একাকিত্বের মতো সমস্যা তৈরি হবে না।‌

    অতিরিক্ত উদ্বেগ থেকে মানসিক চাপ

    কেরিয়ার বা পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের আরও বেশি মানসিক চাপ তৈরি করছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এর ফলে স্কুল পড়ুয়ারাও প্যানিক অ্যাটাকের মতো সমস্যায় ভুগছে। অতিরিক্ত চাপ দেওয়া নয়। বরং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর দিকে স্কুল ও পরিবারের নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশপাশি নতুন ধরনের পেশা সম্পর্কে তাদের জানানো এবং তাদের থেকেও জানা জরুরি। তাহলে মানসিক উদ্বেগ কমবে।

    কেন বয়ঃসন্ধিকালের এই সমস্যা ভবিষ্যতে বিপদ তৈরি করতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে উদ্বেগ, একাকিত্ব এবং বিষন্নতার মতো সমস্যা ভবিষ্যতে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সামাজিক যোগাযোগের প্রতি অনীহা তাদের আত্মবিশ্বাসে‌ ঘাটতি তৈরি করতে পারে। যার প্রভাব ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনেও সূদূর প্রসারিত হয়। তাছাড়া বয়ঃসন্ধিকাল থেকে একাকিত্ব গ্রাস করলে একধরণের অবসাদ তৈরি হয়। সিদ্ধান্তহীনতার জন্ম নেয়। যার ফলে যেকোনো কাজের দক্ষতা কমে। পড়াশোনা ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ে। তাই বয়ঃসন্ধিকালের সন্তানের কী ধরনের মানসিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে, সেই দিকে নজর রাখা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে খেয়াল রাখবেন?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তানের আচরণের পরিবর্তন নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।‌ দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ ঘরে নিজের মতো থাকার অভ্যাস একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। সেই নিয়ে আগাম সচেতনতা জরুরি। তাছাড়া তার বন্ধুদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক, সেই সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। তাহলে তার আচরণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা করা যেতে পারে। পরিবারের পাশপাশি বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের বাড়তি যত্ন জরুরি বলেই মনে করছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই বয়সের ছেলেমেয়েরা দিনের অনেকটা সময় স্কুলে কাটায়। তাই তাদের আচরণ সম্পর্কে স্কুল সবচেয়ে বেশি‌ ওয়াকিবহাল হয়। তাদের আচরণ নিয়ে কোনো বাড়তি সমস্যা তৈরি হলে পরিবারকে জানানো, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তাহলেই পরিস্থিতি জটিল হবে না।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Europe Record Heatwave: রোদেই রান্না হচ্ছে ডিম! গলছে রাস্তা-ট্রামলাইন, নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ইউরোপে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

    Europe Record Heatwave: রোদেই রান্না হচ্ছে ডিম! গলছে রাস্তা-ট্রামলাইন, নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ইউরোপে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে চলছে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ। একাধিক দেশে তাপমাত্রা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রবল গরমে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ, চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ফ্রান্সে মর্গ ও শ্মশান পরিষেবার উপর তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত চাপ, জার্মানিতে গলে যাচ্ছে ট্রামলাইন, আর ইউক্রেনে বিদ্যুৎ গ্রিড বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

    সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল তাপপ্রবাহের চিত্র

    এই তীব্র গরমের একাধিক ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, খোলা রোদে রাখা ফ্রাইং প্যানে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডিম ও বেকন রান্না হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে—

    • ● দোকানের ভিতরেই গলে যাচ্ছে চকোলেট ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য।
    • ● দীর্ঘক্ষণ রোদে পড়ে থাকা শপিং ট্রলির প্লাস্টিকের অংশ বিকৃত হয়ে যাচ্ছে।
    • ● জুতোর সোল গলে যাচ্ছে।
    • ● অতিরিক্ত গরমে কলার খোসা আলাদা হয়ে ফল নিচে পড়ে যাচ্ছে।
    • ● বার্লিনে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে জলকামান থেকে জল ছিটিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।

    তবে এই সমস্ত ভাইরাল ছবি ও ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি মাধ্যম

    জার্মানিতে গলে গেছে ট্রামলাইন

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জার্মানির একাধিক এলাকায় অতিরিক্ত তাপের কারণে ট্রামলাইন বিকৃত ও গলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর জেরে সপ্তাহান্তে লাইপজিগ শহরে ট্রাম পরিষেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরিবহণ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেসুস ইউরোপের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
    তিনি বলেছেন, “ইউরোপ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে বসবাস করছেন। ২১ জুনের পর থেকে ইউরোপে অতিরিক্ত গরমের কারণে ১,৩০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বহু স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। তেদ্রোস এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ লিখেছেন, “হিট স্ট্রেসকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। ইউরোপের বাড়ি, অফিস বা স্কুল—কোনওটাই এই ধরনের চরম তাপমাত্রার জন্য নির্মিত নয়।”

    কোথায় কত তাপমাত্রা?

    সপ্তাহান্তে ইউরোপের একাধিক দেশে রেকর্ড তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে—

    • ● চেক প্রজাতন্ত্র – ৪১.৯° সেলসিয়াস
    • ● জার্মানি – ৪১.৭° সেলসিয়াস
    • ● পোল্যান্ড – ৪০.৫° সেলসিয়াস

    এই তাপমাত্রা ওই দেশগুলির স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার তুলনায় অনেক বেশি।

    ফ্রান্সে এক হাজারের বেশি মৃত্যু

    ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত এই সময়ে সাধারণ বছরের তুলনায় প্রায় ১,০০০ জন বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফরাসি ন্যাশনাল ফিউনারেল ফেডারেশনের প্রতিনিধি এলিজাবেথ শারিয়ের জানান—

    • ● সাধারণত গ্রীষ্মকালে ফিউনারেল হোমগুলিতে ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ দখল থাকে।
    • ● বর্তমানে সেই হার বেড়ে ৬০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।

    প্যারিসের অবস্থা শোচনীয়, চাপ বাড়ছে মর্গে…

    সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজধানী প্যারিসে। শারিয়ের বলেন, “গত শুক্রবার থেকেই প্যারিসের মাত্র দুটি ফিউনারেল হোম পুরোপুরি ভর্তি। ফলে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহরের বাইরে, উপকণ্ঠ বা আরও দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাঁর মতে—

    • ● দাহ করার জন্য অপেক্ষার সময় বেড়ে যাবে।
    • ● কবরস্থানে সমাধিস্থ করার জায়গা দ্রুত ফুরিয়ে আসবে।
    • ● কবর খোঁড়ার কাজ সীমিত গতিতে হওয়ায় চাপ আরও বাড়বে।
    • ● এর ফলে এক ধরনের ‘ডোমিনো এফেক্ট’ তৈরি হতে পারে।

    ইউক্রেনে বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়তি চাপ

    রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আগেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার উপর এই তীব্র তাপপ্রবাহ নতুন সংকট তৈরি করেছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রিভনে অঞ্চলে বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর চাপ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার ইউক্রেনের পাঁচটি অঞ্চলের বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে মঙ্গলবার ব্ল্যাকআউট হতে পারে। ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সংস্থা ইয়াসনো-র সিইও সেরহি কোভালেঙ্কো বলেন, “চার বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলা এবং একাধিক হামলা সহ্য করা বিদ্যুৎ সরঞ্জামের জন্য এই তাপপ্রবাহও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

    কেন এত বিপজ্জনক এই তাপপ্রবাহ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের অধিকাংশ দেশ ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত। ফলে—

    • ● বহু বাড়িতে এখনও পর্যাপ্ত এয়ার কন্ডিশনিং নেই।
    • ● হাসপাতাল, স্কুল ও অফিস ভবনের নকশা এত উচ্চ তাপমাত্রার উপযোগী নয়।
    • ● রেললাইন, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামোও এত বেশি তাপ সহ্য করার মতো করে নির্মিত নয়।
    • ● বয়স্ক, শিশু ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
    • ● বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গ্রিডের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি সতর্কবার্তা

    আবহাওয়াবিদদের মতে, ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চরম তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে দীর্ঘস্থায়ী ও প্রাণঘাতী হিটওয়েভ এখন আর ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং ক্রমশ নতুন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাই নয়, ভবিষ্যতে ইউরোপকে নগর পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, গণপরিবহণ এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। না হলে প্রতি বছর গ্রীষ্মেই আরও বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

  • College Street Make Over: লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট! বইয়ের দোকান নিয়ে ব্যতিক্রমী ভাবনা অগ্নিমিত্রার

    College Street Make Over: লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট! বইয়ের দোকান নিয়ে ব্যতিক্রমী ভাবনা অগ্নিমিত্রার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে সেজে উঠবে বইপাড়া। ঐতিহ্যবাহী বইপাড়া অর্থাৎ কলেজ স্ট্রিটের (College Street Make Over) এবার ভোলবদল করতে চলেছে বিজেপি সরকার। এক আন্তর্জাতিক রূপরেখায় এই বদল হবে। এবার আর যানজট বা হর্ন-এর শব্দ নয়, লন্ডনের বিখ্যাত ‘অক্সফোর্ড স্ট্রিট’-এর আদলে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত এবং ‘নো ভেহিকল জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে এই এলাকাকে। এমনকী, বইয়ের দোকানগুলিকেও নতুন থিমে সাজানো হবে। আসানসোলের জেলা গ্রন্থাগারে এসে এই অত্যন্ত অভিনব ও মেগা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।

    কেন এই উদ্যোগ

    আগামী প্রজন্মকে মোবাইল ও ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে এনে ফের বইমুখী করতেই বইপাড়া হিসেবে পরিচিত কলেজ স্ট্রিটকে নতুন ভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুধু কলকাতাই নয়, মন্ত্রীর এই মেগা ভাবনার ছোঁয়া পেতে চলেছে শিল্পাঞ্চল আসানসোলও। তিনি জানান, আগামী প্রজন্মকে মোবাইল ও ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে ফের বইমুখী করাই সরকারের লক্ষ্য।

    কীভাবে সাজবে কলেজ স্ট্রিট

    নতুন এই রূপরেখা অনুযায়ী, কলেজ স্ট্রিটের একটি নির্দিষ্ট বৃত্তাকার অংশে সাধারণ কোনও গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কিছুটা দূরে সাইকেল স্ট্যান্ড থাকবে, যেখান থেকে পরিবেশবান্ধব সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা যাবে। বয়স্ক মানুষদের চলাচলের সুবিধার্থে থাকবে ব্যাটারিচালিত গাড়ি। শহরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কলেজ স্ট্রিটে বিশেষভাবে ডিজাইন করা ট্রাম চালানোর ইচ্ছা রয়েছে মন্ত্রীর। তিনি জানান, সম্পূর্ণ বইপাড়ার ফুটপাত ও রাস্তা সেজে উঠবে ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে। চারপাশের বইয়ের দোকানগুলোকে একই রকম থিমে সাজানো হবে। পুরনো দিনের ভিন্টেজ ল্যাম্পপোস্ট, বসার বেঞ্চ ও ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম শান্ত মনে বসে বই পড়তে বা হেডফোন নিয়ে গান শুনতে পারে। হেরিটেজ রেলিংগুলোকে সংস্কার করে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।

    আসানসোলেও অক্সফোর্ড স্ট্রিট!

    কলকাতার এই মডেলের অনুপ্রেরণায় আসানসোলেও একটি আন্তর্জাতিক মানের পড়ার জায়গা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রীর। তাঁর নিজস্ব বিধানসভা এলাকা আসানসোল দক্ষিণে দামোদর নদের অববাহিকায় ভূতাবেরিয়া থেকে ছটঘাট পর্যন্ত যে দীর্ঘ এলাকা রয়েছে, সেটিকেও বিশেষভাবে উন্নত করার কথা ভাবা হচ্ছে। সেখানেও অক্সফোর্ড স্ট্রিটের থিম মাথায় রেখে কোলাহলমুক্ত, শান্ত একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করা হবে। ডিজিটাল যুগে বইয়ের কোনও বিকল্প হয় না দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল স্ক্রিনে আটকে গিয়ে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই এই আধুনিক ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে আবার লাইব্রেরি ও বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনাই তাদের আসল লক্ষ্য।”

LinkedIn
Share