Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • New Airlines: ছাড়পত্র পেল আরও ৩ নয়া উড়ান সংস্থা, গতি বাড়ছে ভারতের!

    New Airlines: ছাড়পত্র পেল আরও ৩ নয়া উড়ান সংস্থা, গতি বাড়ছে ভারতের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহণ বাজারে নতুন করে প্রতিযোগিতা বাড়তে চলেছে। কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের কাছ (India Clears) থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি)  পেয়েছে দুটি নয়া বিমান সংস্থা। একটি হল আল হিন্দ এয়ার (Al Hind Air) এবং অন্যটি ফ্লাইএক্সপ্রেস (FlyExpress)। উত্তরপ্রদেশভিত্তিক আরও একটি সংস্থা শঙ্খ এয়ার (Shankh Air), যার কাছে ইতিমধ্যেই এনওসি রয়েছে (New Airlines), তারা ২০২৬ সালে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে বর্তমানে হাতে গোণা কয়েকটি বড় সংস্থার দখলে থাকা এই খাতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে।

    অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ (New Airlines)

    এই অনুমোদনগুলি এমন একটা সময়ে এল, যখন সরকার বিশ্বের দ্রুততম হারে বেড়ে ওঠা অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ বাজারগুলির একটিতে অংশগ্রহণের পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে মাত্র ন’টি নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা সক্রিয় রয়েছে। গত অক্টোবর মাসে আঞ্চলিক বিমান সংস্থা ফ্লাই বিগ (Fly Big) নির্ধারিত উড়ান স্থগিত করার পর সেই সংখ্যা আরও কমে যায়। আল হিন্দ এয়ারের উদ্যোক্তা কেরলভিত্তিক আলহিন্দ গ্রুপ, আর ফ্লাইএক্সপ্রেস যুক্ত হচ্ছে এমন একাধিক সম্ভাব্য নতুন সংস্থার তালিকায়, যারা এমন একটি বাজারে প্রবেশ করতে চাইছে যেখানে পরিসর (স্কেল) ও ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ এখনও মূলত কয়েকটি সংস্থার হাতেই কেন্দ্রীভূত। ইতিমধ্যেই ছাড়পত্র পাওয়া শঙ্খ এয়ার আগামী বছর থেকেই বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করতে পারে বলে অনুমান।

    দ্বৈত আধিপত্য

    এই শিল্পখাতে কার্যত দ্বৈত আধিপত্য গড়ে ওঠা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় নয়া সংস্থার প্রবেশের দাবি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ, যার মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও অন্তর্ভুক্ত, এক সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবাজারের ৯০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে। শুধু ইন্ডিগোই দখল করে রেখেছে ৬৫ শতাংশেরও বেশি বাজার। এই উদ্বেগগুলি চলতি মাসের শুরুতেই আরও তীব্র হয়ে ওঠে, যখন ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে বড় ধরনের অপারেশনাল বিপর্যয় দেখা দেয়। এর প্রভাব গোটা নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত সম্প্রসারিত বাজারে একটিমাত্র এয়ারলাইনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ঝুঁকি প্রকাশ্যে চলে আসে (New Airlines)।

    মন্ত্রীর বক্তব্য

    সিভিল অ্যাভিয়েশন মন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু একটি পোস্টে অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে মন্ত্রক শঙ্খ এয়ার, আল হিন্দ এয়ার এবং ফ্লাইএক্সপ্রেসের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। উল্লেখ্য যে, যদিও শঙ্খ এয়ার ইতিমধ্যেই তাদের ছাড়পত্র পেয়েছে, অন্য দুটি ক্যারিয়ার এই সপ্তাহে তাদের এনওসি পেয়েছে। তিনি জানান, ভারতীয় বিমান চলাচল যে গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা বিবেচনা করে আরও বিমান সংস্থাকে উৎসাহিত করা আমাদের একটি ধারাবাহিক নীতি। তিনি ইউডিএএনের মতো সরকারি প্রকল্পের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যার লক্ষ্য আঞ্চলিক যোগাযোগ আরও উন্নত করা এবং একই সঙ্গে ছোট ক্যারিয়ারগুলিকে পা রাখতে সাহায্য করা। ইউডিএএন প্রকল্পের আওতায় স্টার এয়ার, ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার ও ফ্লাই৯১-এর মতো সংস্থাগুলি কম পরিষেবাপ্রাপ্ত রুটে তাদের পরিষেবা সম্প্রসারিত করেছে। এর মাধ্যমে ছোট শহরগুলিকে জাতীয় বিমান পরিবহণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মন্ত্রী বলেন, এই খাতে আরও বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা এখনও রয়ে গিয়েছে (India Clears)।

    সর্বশেষ তথ্য

    ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের নির্ধারিত এয়ারলাইন্সগুলির মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যালায়েন্স এয়ার, আকাসা এয়ার, স্পাইসজেট, স্টার এয়ার, ফ্লাই৯১ এবং ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার (New Airlines)। তবে নতুন এয়ারলাইন্সের আগমন অতীতের ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটেও ঘটছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জেট এয়ারওয়েজ ও গো ফার্স্টের মতো সংস্থাগুলি ঋণের চাপ ও পরিচালনাগত সমস্যায় জর্জরিত হয়ে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, যা এই খাতের অস্থিরতা স্পষ্টভাবে তফশিলিভুক্ত ক্যারিয়ারগুলির মধ্যে বর্তমানে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যালায়েন্স এয়ার, আকাসা এয়ার, স্পাইসজেট, স্টার এয়ার, ফ্লাই৯১ এবং ইন্ডিয়াওয়ান এয়ার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    অতীতের ব্যর্থতার পটভূমিতেও (India Clears) নতুন বিমান সংস্থাগুলির আগমন ঘটে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, জেট এয়ারওয়েজ এবং গো ফার্স্টের মতো ক্যারিয়ারগুলি ঋণ এবং পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের কারণে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, যা এই খাতের অস্থিরতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে (New Airlines)।

  • SIR: ভোটারের বাড়ি হিয়ারিংয়ের নোটিশ পৌঁছোচ্ছে তো? স্বচ্ছতা রাখতে বিএলও অ্যাপে নয়া অপশন

    SIR: ভোটারের বাড়ি হিয়ারিংয়ের নোটিশ পৌঁছোচ্ছে তো? স্বচ্ছতা রাখতে বিএলও অ্যাপে নয়া অপশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে রাজ্যে এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা (SIR)। তালিকা প্রকাশ পেতেই দেখা গিয়েছে, রাজ্যে মোট আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩২ লাখ যাঁদের ২০০২-এর এসআইআরের সঙ্গে কোনও লিঙ্কই নেই (BLO APP)। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, প্রাথমিকভাবে এই ৩২ লাখ ভোটারের কাছেই হিয়ারিংয়ের নোটিশ পৌঁছনো শুরু হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর থেকে হিয়ারিংয়ের নোটিশ নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন বিএলওরা। তবে, হিয়ারিংয়ের নোটিশ সঠিকভাবে বিএলওরা সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন কি না বা ভোটার সেটি গ্রহণ করছেন কি না, সে সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের তরফে এ বার যোগ করা হল বিএলও অ্যাপে একটি নয়া অপশন।

    নয়া অপশন (SIR)

    সোমবার সকাল থেকেই বিএলও অ্যাপ খুললে দেখা যাচ্ছে এই নতুন অপশনটি। নতুন অপশনটির নাম ‘ডেলিভারি অফ শিডিউল হিয়ারিং নোটিশ’। কমিশন সূত্রে খবর, কোনও বিএলও যখন কোনও ভোটারের বাড়ি হিয়ারিংয়ের নোটিশ নিয়ে যাবেন, তখন তাঁকে একটি কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট ফরম্যাটে থাকা ফর্মে ভোটারকে দিয়ে সই করাতে হবে এই মর্মে যে, সংশ্লিষ্ট ভোটার হিয়ারিংয়ের নোটিশটি গ্রহণ করেছেন। তবে, শুধু ভোটারই নন, ফর্মটিতে সই করতে হবে বিএলওকেও। তারপর নয়া অপশনে আপলোড করতে হবে ওই ফর্মটি। কোনও একজন বিএলও যে বুথের দায়িত্বে রয়েছেন, সেই বুথে কোন কোন ভোটারের ডাক পড়েছে হিয়ারিংয়ে, সেই তালিকা রয়েছে এই নয়া অপশনে। ফলে, ভোটারের ও বিএলওর সইয়ের পর, অপশনটিতে ক্লিক করলে যে ইন্টারফেসটি খুলবে, সেখানে ‘আপলোড রিসিপ্টে’ গিয়ে ওই ফর্মটিকে আপলোড করতে হবে এবং তারপরেই হিয়ারিং সংক্রান্ত সেই তথ্য সরাসরি পৌঁছে যাবে কমিশনের কাছে।

    ঐক্যমঞ্চের বক্তব্য

    ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, অনেক ক্ষেত্রে শাসকদল ঘনিষ্ট বিএলওরা নোটিশ না দিয়েই বলতে পারেন, তাঁরা ভোটারের কাছে নোটিশ  পৌঁছে দিয়েছেন। অথবা, এমনটাও হতে পারে কোনও ভোটার নোটিশ পেয়েছেন, অথচ তিনি বিষয়টি অস্বীকার করছেন। এসব সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বজায় থাকবে নয়া এই অপশনের মাধ্যমে। তবে, প্রতিদিন যেভাবে নতুন নতুন অপশন যোগ করছে কমিশন, তাতে অস্বস্তিতে পড়ছেন বিএলওরা। তিনি বলেন, আমরা কী অবস্থায় রয়েছি, সেটা কমিশনের দেখা উচিত (BLO APP)। প্রসঙ্গত, শনিবার রাজ্যের সিইও জানিয়েছিলেন, ২৭ ডিসেম্বর থেকেই রাজ্যে শুরু হচ্ছে এসআইআরের হিয়ারিং পর্ব। ফলে, হিয়ারিংয়ে ডাক পড়া ভোটারের সংখ্যা কোথায় দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

    বাংলায় আসছেন ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল

    এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী-সহ ৩ সদস্যের (SIR) প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার আসছেন বাংলায়। বাংলায় এসআইআরের কাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক গাফিলতি ধরা পড়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ প্রতিনিধি দল আসতে চলেছে। এই দলের সদস্যরা একদিকে যেমন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন খসড়া তালিকা, তেমনই তাঁরা আসন্ন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজে যাতে আর কোনও গাফিলতি না হয়, তাও জানিয়ে দেবেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। বিশেষ এই টিমে থাকবেন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এসবি জোশি ও ডেপুটি সেক্রেটারি অভিনব আগরওয়াল। ২৪শে ডিসেম্বর নজরুল মঞ্চে মাইক্রো অবজ়ারভারদের নিয়ে যে ট্রেনিং হবে, সেখানে উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন কমিশনের এই পদস্থ আধিকারিকেরা, এমনটাই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে। যাতে শেষ পর্যায়ে এসে আর কোনও ভুল না হয় সে কথা মনে করিয়ে দিতেই আসছেন তাঁরা (BLO APP)।

    প্রশিক্ষণ পর্ব

    অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ,মালদা, জলপাইগুড়ি, দুই দিনাজপুর, দুই ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমানের দায়িত্বে থাকা মাইক্রো অবজারভারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নজরুল মঞ্চে। দুটি পর্বে হবে এই প্রশিক্ষণ। প্রথম পর্ব, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় পর্বের মেয়াদ বেলা আড়াইটে থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত (SIR)। জানা গিয়েছে, প্রায় (BLO APP) সাড়ে ৩ হাজার মাইক্রো অবজারভার অ্যাকটিভ রাখবে কমিশন। রিজার্ভ থাকছে আরও এক হাজার জন। সব মিলিয়ে থাকছেন সাড়ে ৪ হাজার মাইক্রো অবজারভার। মেট্রো রেল, দক্ষিণ পূর্ব রেল, জীবনবিমা নিগম,  কোল ইন্ডিয়া, ডিভিসি, শুল্ক দফতর-সহ কেন্দ্রীয় সরকারি নানা দফতর থেকে নেওয়া হচ্ছে এই আধিকারিকদের। ভোটার তালিকা ত্রুটি মুক্ত রাখতে প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালাবেন অবজারভাররা। তাঁরা বিএলওদের ডিজিটাইজ করা এনুম্যারেশন ফর্মের যাবতীয় নথি যাচাই করবেন। হিয়ারিং প্রক্রিয়ায় থাকতে হবে মাইক্রো অবজারভারদের। হিয়ারিং প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ, নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম, নাম তালিকাভুক্ত করার ফর্ম, নাম (BLO APP) সংশোধন করার ফর্মের নথিপত্র যাচাই করবেন তাঁরাই (SIR)।

  • Indian Economy: বিশ্ব মন্দার মধ্যেও ভারতের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে, দাবি কেয়ারএজ রিপোর্টে

    Indian Economy: বিশ্ব মন্দার মধ্যেও ভারতের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে, দাবি কেয়ারএজ রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বাড়লেও আগামী অর্থবছরগুলোতে ভারতের অর্থনৈতিক (Indian Economy) প্রবৃদ্ধি বড় অর্থনীতিগুলির তুলনায় ভালো থাকবে বলে জানিয়েছে কেয়ারএজ (CareEdge)। বুধবার প্রকাশিত সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্থবর্ষ ২০২৬ ও ২০২৭-এ ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৭.৫ শতাংশ ও ৭ শতাংশে স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির পিছনে চাহিদা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিই প্রধান চালিকা শক্তি বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বব্যাপী যেখানে আগামী পাঁচ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩.১ শতাংশে নামতে পারে, সেখানে ভারতের এই পারফরম্যান্স স্পষ্টভাবেই ব্যতিক্রমী।

    কেন্দ্রের নীতির ফলেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে জোরালো অগ্রগতির ফলে চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হয়েছে। উন্নত চাহিদা পরিস্থিতি ও জিএসটি হ্রাসও এতে সহায়ক হয়েছে। ভারত সরকারের নানা জনকল্যাণমূলক নীতি দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতিকে (Indian Economy) শক্তিশালী করেছে বলে মত নানা মহলে। কেয়ারএজ (CareEdge) রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধির পক্ষে একাধিক অনুকূল বিষয় কাজ করছে—ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি, তুলনামূলকভাবে কম সুদের হার এবং গৃহস্থালির উপর করের চাপ কমা। এই কারণগুলো বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে এবং ২০২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ভোগ ও বিনিয়োগের গতি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

    বিশ্ববাজারে মন্দা, দেশের অভ্যন্তরে স্থিতি

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিক গড়ের নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চিনের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় প্রায় তিন শতাংশ কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে কেয়ারএজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই ভারতের অনুকূলে রয়েছে। ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতি ২০২৬ অর্থবর্ষে গড়ে ২.১ শতাংশে থাকতে পারে, যার প্রধান কারণ খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে দামের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ। তবে ২০২৬ সালে নিম্ন ভিত্তি থাকার ফলে পরের বছর মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা বেড়ে গড়ে প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যের কাছাকাছি। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যেসব বৈশ্বিক কারণ এতদিন মুদ্রাস্ফীতি দমনে সহায়ক ছিল, সেগুলি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। পণ্যের দাম স্থিতিশীল হতে পারে এবং রুপির মৌলিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবমূল্যায়নের ফলে আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতির চাপ ফের বাড়তে পারে। তবে ভালো বর্ষা, নিয়ন্ত্রিত পণ্যমূল্য ও জিএসটি সংস্কার মুদ্রাস্ফীতির পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    আরবিআইয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ

    ২০২৫ সালের শেষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক সুদ কমানোর চক্র শেষ করেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নীতিগত রেপো রেট মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৬.৫ শতাংশ থেকে ৫.২৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা প্রবৃদ্ধিমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছেন, জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ৮.২ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি এবং অক্টোবর মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার মাত্র ০.২৫ শতাংশে নেমে আসার প্রেক্ষিতে। আগামী বছরে আরবিআইয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ হবে—মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখা। রিপোর্ট অনুযায়ী, আর একটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমানোর সুযোগ থাকলেও বড়সড় শিথিলতার পথে হাঁটার সম্ভাবনা কম। সীমিত হারে সুদ কমিয়ে তারপর বিরতি নেওয়াই সম্ভাব্য কৌশল, যাতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    ডলার-রুপির তুলনা

    এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডলারের বিপরীতে রুপির উপর চাপ বেড়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রবাহ দুর্বল থাকা এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বিলম্বিত হওয়া নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব এর কারণ। এর জেরে আরবিআই বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ কিছুটা কমিয়ে রুপিকে ধীরে ধীরে মৌলিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে দিচ্ছে, যদিও অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে প্রয়োজনে হস্তক্ষেপের বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। বাস্তব কার্যকর বিনিময় হার (REER) অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষে রুপি প্রায় ৩ শতাংশ অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। ফলে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের ঝুঁকি সীমিত বলে মনে করছে কেয়ারএজ। যুক্তরাষ্ট্রে সুদ কমার সম্ভাবনা, দুর্বল ডলার ও নিয়ন্ত্রিত চলতি হিসাব ঘাটতি রুপির উপর চাপ কমাতে পারে। পাশাপাশি, ব্লুমবার্গ গ্লোবাল অ্যাগ্রিগেট সূচকে ভারতের অন্তর্ভুক্তির ফলে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি লাভ হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৭ অর্থবর্ষে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৮৯–৯০ টাকার মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

  • Vishwa Sangh Shibir 2025: হায়দরাবাদে শুরু হচ্ছে বিশ্ব সংঘ শিবির, কারা থাকছেন অনুষ্ঠানে?

    Vishwa Sangh Shibir 2025: হায়দরাবাদে শুরু হচ্ছে বিশ্ব সংঘ শিবির, কারা থাকছেন অনুষ্ঠানে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই ২৫ ডিসেম্বর। এদিন থেকেই হায়দরাবাদের (Hyderabad) কাছে কানহা শান্তি বনমে শুরু হচ্ছে বিশ্ব সংঘ শিবির ২০২৫ (Vishwa Sangh Shibir 2025)। চলবে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পাঁচ দিনের এই আন্তর্জাতিক সমাবেশে ৭৫টিরও বেশি দেশের প্রায় ২ হাজার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    শেখার পরিবেশ (Vishwa Sangh Shibir 2025)

    এই শিবিরে হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ, সনাতন ধর্ম স্বয়ংসেবক সংঘ, হিন্দু সেবা সংঘ, সেবা ইন্টারন্যাশনাল, সংস্কৃত ভারতী এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-সহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সদস্য ও তাঁদের পরিবারেরা একত্রিত হবেন। এই মঞ্চের উদ্দেশ্য হল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপন করা, আলাপ-আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং একে অপরের কাছ থেকে শেখার পরিবেশ গড়ে তোলা। খবরে বলা হয়েছে, এই সমস্ত সংগঠনই সংস্কার (মূল্যবোধ), সেবা (সমাজসেবা) ও সংগঠন (সমষ্টিগত কার্যক্রম)—এই অভিন্ন মূল্যবোধ থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে। বিভিন্ন দেশে এই সংগঠনগুলির সূচনা হয়েছে ভারত বা পূর্ব আফ্রিকা থেকে অভিবাসিত আরএসএস স্বয়ংসেবকদের মাধ্যমে, পাশাপাশি এমন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হিন্দুদের হাত ধরেও, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে ব্যক্তিত্ব গঠনই সামাজিক পুনর্গঠনের ভিত্তি।

    শিবিরের আয়োজক সংস্থার বক্তব্য

    শিবিরের আয়োজক সংস্থা শ্রী বিশ্ব নিকেতনের সম্পাদক শ্যাম পারান্ডে জানান, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি সংগঠনই স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে এবং তারা যেসব সম্প্রদায়ের সেবা (Hyderabad) করে, সেইসব সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে (Vishwa Sangh Shibir 2025)। প্রতি পাঁচ বছরে অন্তর আয়োজিত হয় বিশ্ব সংঘ শিবির। প্রথম শিবিরটি ১৯৯০ সালে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর পর্যায়ক্রমে ভদোদরা, মুম্বাই, গান্ধীনগর, পুনে ও ইন্দোরে শিবির হয়েছে। আসন্ন সংস্করণটি সপ্তম শিবির।

    “ধর্মই সমস্ত কিছুর ভিত্তি”

    ভিএসএস ২০২৫-এর মূল ভাবনা হল “ধর্মে সর্বং প্রতিষ্ঠিতম”, যার অর্থ— “ধর্মই সমস্ত কিছুর ভিত্তি”। নিয়মিত অনলাইন সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক আয়োজক দলের উদ্যোগে এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশু, যুবক, প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের জন্য আলাদা আলাদা অধিবেশন ও কার্যক্রম সাজানো হয়েছে (Hyderabad)। অংশগ্রহণকারীদের ২৫ ডিসেম্বরের সকালেই উপস্থিত হওয়ার কথা। শিবিরটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ স্বামী গোবিন্দ দেব গিরির আশীর্বাদের মাধ্যমে। মূল ভাবনার ওপর প্রধান বক্তৃতা দেবেন আরএসএসের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে। ‘হার্টফুলনেস মুভমেন্টে’র আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক দাজিরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে (Vishwa Sangh Shibir 2025)।

    মোহন ভাগবত

    শিবিরের সমাপনী অধিবেশনটি ২৮ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই অধিবেশনে আরএসএসের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত উপস্থিত থাকবেন এবং ভাষণ দেবেন। এই দিনেই দুপুর দেড়টা থেকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তামিলনাড়ু ও পাঞ্জাবের প্রাক্তন রাজ্যপাল বানওয়ারিলাল পুরোহিত ভিএসএস ২০২৫-এর জন্য ক্যাম্প ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্ব সংঘ শিবির ২০২৫-এর আয়োজন (Hyderabad) করছে শ্রী বিশ্ব নিকেতন, নয়াদিল্লিভিত্তিক একটি নথিভুক্ত ট্রাস্ট। এই সংস্থাটি প্রবাসী ভারতীয়দের—বিশেষ করে অনাবাসী ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসারে নিবেদিত (Vishwa Sangh Shibir 2025)।

  • Chhattisgarh: ছত্তিশগড়ে ধর্মান্তরিত ব্যক্তির কবরকে ঘিরে বিতর্ক, পালিত হল বনধও

    Chhattisgarh: ছত্তিশগড়ে ধর্মান্তরিত ব্যক্তির কবরকে ঘিরে বিতর্ক, পালিত হল বনধও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) ধর্মান্তরণ এবং কাঁকর জেলায় ধর্মান্তরিত এক ব্যক্তির কবর দেওয়া(দাফন)-কে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের (Burial Dispute) প্রতিবাদে ২৪ ডিসেম্বর, বুধবার রাজ্যজুড়ে পালিত হল বনধ। দিনব্যাপী ডাকা এই বনধে সমর্থন জানিয়েছে ছত্তিশগড় চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স।

    বনধ পালিত (Chhattisgarh)

    বনধের জেরে রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় দোকানপাট বন্ধ ছিল। সবজি বাজারও বসেনি। বন্ধ ছিল যান চলাচলও। যাঁরা বনধ ডেকেছেন, তাঁরা কাঁকর জেলায় একটি মিছিলও করেন। প্রশাসনের কাছে জমা দেন স্মারকলিপি। কাঁকর জেলার আমাবেড়া এলাকায় এক সরপঞ্চের (গ্রামপ্রধান) বাবার দাফনকে ঘিরে বড়সড় বিতর্ক শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর এই বনধের ডাক দেওয়া হয়। গত ১৬ ডিসেম্বর বাদে তেওদা গ্রামের সরপঞ্চ রাজমান সালাম গ্রামবাসীদের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে গ্রামের সীমানার মধ্যেই তাঁরই একটি জমিতে তাঁর প্রয়াত বাবার দেহ দাফন দেন, যা থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।

    গ্রামের সীমানার মধ্যে ওই দাফনে বিতর্ক

    গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গ্রামের সীমানার মধ্যে ওই দাফন পঞ্চম তফসিলের অধীন নিয়মকানুন এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংক্রান্ত প্রথাগত রীতিনীতির লঙ্ঘন। স্থানীয়রা সরপঞ্চের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। অভিযোগ, সরপঞ্চ গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়েও দাফন সম্পন্ন করেন। গ্রামবাসীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন এবং দাফন করা দেহটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। মৃতদেহ দাফনের পরের দিন সকালে কবরের ওপর ইটের গাঁথুনি দেখতে পাওয়ার পর গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ব্যাপক উত্তেজনা দেখা যায় গ্রামে। শেষ পর্যন্ত শুরু হয় সংঘর্ষ, পাথর ছোড়া। স্থানীয় দু’টি গির্জায় ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। এই সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি জখম হন (Chhattisgarh)। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশকর্মীও ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ১৮ ডিসেম্বর মৃত ব্যক্তির দেহ কবর থেকে সরিয়ে নেয়।

    উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি

    ২১ ডিসেম্বর এক সাংবাদিক সম্মেলনে সর্ব সমাজের পদাধিকারীরা ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের পদক্ষেপ ছিল বৈষম্যমূলক। তাঁদের দাবি, প্রশাসন প্রথমে গ্রামবাসীদের আবেদন নিতে অস্বীকার করে এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়। এদিকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা বলেন, বহিরাগতদের আক্রমণে স্থানীয় বাসিন্দারা জখম হয়েছেন। এতে প্রায় ২৪জন জখম হন।গ্রামসভার অনুমতি ছাড়াই ওই ব্যক্তির দাফন করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁদের বক্তব্য, পঞ্চম তফসিলভুক্ত এলাকায় এই ধরনের অনুমতি বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, অস্থায়ী গির্জাগুলির কার্যকলাপ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সর্ব সমাজের সদস্যরা হুঁশিয়ারি দেন, প্রশাসন যদি সর্ব সমাজের অধিকার ও সংস্কৃতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে সমাজকে রাস্তায় থেকে আদালত পর্যন্ত নিজের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নামতে বাধ্য হতে হবে।

    এর আগে সর্ব সমাজের সদস্যরা ধর্মান্তর ও কাঁকেরের দাফন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে একদিনের বন্‌ধের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সদস্যরা জানান, এটি এই ধরনের একমাত্র ঘটনা নয়, রাজ্যের অন্যান্য জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল থেকেও একই ধরনের ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসছে। তাঁদের অভিযোগ, খ্রিস্টান মিশনারিদের সঙ্গে যুক্ত ধর্মান্তরকারী গোষ্ঠীগুলি পরিকল্পিতভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, যার ফলে সমাজে অশান্তি ও বিভাজন তৈরি হচ্ছে (Burial Dispute)। এদিকে, সোমবার সরকার কাঁকের জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে অশোক কুমার রাখেচাকে। প্রাক্তন কাঁকের এসপি ইন্দিরা কল্যাণ এলেসেলারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। ইন্দিরা কল্যাণ এলেসেলাকে ছত্তিশগঢ় সশস্ত্র পুলিশের সুরগুজা রেঞ্জের ডিআইজির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে (Chhattisgarh)।

  • ISRO: ৬০০০ কেজির কৃত্রিম উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ! নতুন রেকর্ড গড়ল ইসরো, অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

    ISRO: ৬০০০ কেজির কৃত্রিম উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ! নতুন রেকর্ড গড়ল ইসরো, অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়দিনের আগে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরোর (ISRO) মুকুটে যুক্ত হল নয়া পালক। ভারতের ‘বাহুবলী’ রকেটে চেপে মহাকাশে পাড়ি দিল মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহ। বুধবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে সফল ভাবে উৎক্ষেপণ করা হল মার্কিন সংস্থা এএসটি স্পেসমোবাইল-এর তৈরি অত্যাধুনিক কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট ‘ব্লু বার্ড ৬’। প্রায় ৬০০০ কেজি ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে ইতিহাস গড়ল ভারতের এলভিএম৩-এম৬ রকেট। ৬,১০০ কেজি ওজনের এই উপগ্রহটি এখনও পর্যন্ত ভারতীয় মাটি থেকে উৎক্ষেপিত সবচেয়ে ভারী বিদেশি উপগ্রহ।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    এদিন রকেট উৎক্ষেপণের পরই এক্স হ্যান্ডলে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি লেখেন, ‘মহাকাশে ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি… এলভিএম৩-এম৬-এর সফল উৎক্ষেপণ, এর মাধ্যমে ভারতের মাটি থেকে উৎক্ষেপিত সবচেয়ে ভারী উপগ্রহ আমেরিকার ব্লুবার্ড ব্লক-২-কে তার নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। এটি ভারতের মহাকাশ যাত্রায় এক গর্বের মাইলফলক। আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টার আরও একটি প্রতিফলন। আমাদের পরিশ্রমী মহাকাশ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের অভিনন্দন।’

    শ্রীহরিকোটা থেকে সফল উৎক্ষেপণ

    অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে এই উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়। বুধবার সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে কৃত্রিম উপগ্রহটি সমেত উৎক্ষেপণের কথা ছিল এলভিএম৩-এম৬ রকেটের। কিন্তু মহাকাশের বর্জ্য কিংবা অন্যান্য স্যাটেলাইটের গতিপথের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে শেষ মুহূর্তে উৎক্ষেপণের সময় ৯০ সেকেন্ড পিছিয়ে দেয় ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। শেষমেশ ৮টা ৫৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে ‘বাহুবলী’ রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয় উপগ্রহটি। ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, উৎক্ষেপণের প্রায় ১৫ মিনিট পর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা ব্লু বার্ড ৬-এর। তার পর প্রায় ৫২০ কিলোমিটার উচ্চতায় তার নির্ধারিত কক্ষপথে গিয়ে থিতু হবে সে।

    বাণিজ্যিক চুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

    এই মিশনটি সম্পন্ন হয়েছে ইসরোর বাণিজ্যিক শাখা নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড (NSIL) এবং মার্কিন সংস্থা এএসটি স্পেসমোবাইল (AST SpaceMobile)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায়। ৪৩.৫ মিটার উচ্চতার এলভিএম৩ (LVM3) রকেটটি ইসরোর সবচেয়ে শক্তিশালী উৎক্ষেপণ যান। এই রকেটে রয়েছে তিনটি ধাপ, যার মধ্যে উপরের ধাপটি ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তির। ক্রায়োজেনিক স্টেজটি তৈরি করেছে ইসরোর লিকুইড প্রপালশন সিস্টেমস সেন্টার, আর উৎক্ষেপণের সময় প্রয়োজনীয় বিপুল শক্তি জুগিয়েছে দুটি বিশাল এস-২০০ সলিড স্ট্র্যাপ-অন বুস্টার, যা তৈরি করেছে বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার, তিরুবনন্তপুরম।

    ‘বাহুবলী’র সাফল্য

    ইসরোর (ISRO) চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন, ভারতের মাটি থেকে এর আগে এত ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ হয়নি। তাই ৪৩.৫ মিটার উঁচু এলভিএম৩-এম৬ রকেটটিকেই এই কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়। ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ বহনে সক্ষম এই রকেটকে ইসরোর বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘বাহুবলী’। ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ বহনে সক্ষম এলভিএম৩ রকেটগুলির মধ্যে এটি ষষ্ঠ সংস্করণ। ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, ব্লুবার্ড ব্লক-২ (BlueBird Block-2) বিশ্বজুড়ে উচ্চগতির মোবাইল সংযোগ প্রদান করতে সক্ষম। এটি ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্ক, ভয়েস কল, ভিডিও কল, মেসেজিং, ডেটা ট্রান্সফার এবং মিডিয়া স্ট্রিমিং-এ সাহায্য করবে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ২২০০ বর্গমিটারের অ্যারে অ্যান্টেনা। পুরনো কৃত্রিম উপগ্রহগুলির তুলনায় তাই ১০ গুণ বেশি তথ্য মজুত করার ক্ষমতা রয়েছে। এর আগে গত নভেম্বরে এলভিএম৩-এম৫ রকেট চেপে মহাকাশে পাড়ি দেয় ইসরোর সবচেয়ে ভারী উপগ্রহ সিএমএস-০৩। এবার সেই রকেট পেল নয়া সাফল্য। একই সঙ্গে মহাকাশে এগিয়ে চলল আত্মনির্ভর ভারত।

  • Osman Hadi Killed: হাদি হত্যার রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন মৃতের ভাই ওমর

    Osman Hadi Killed: হাদি হত্যার রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন মৃতের ভাই ওমর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই ভরদুপুরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করা হয় বাংলাদেশি ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদিকে (Osman Hadi Killed)। এর পর সিঙ্গাপুর হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুর কয়েক দিন পর তাঁর ভাইয়ের অভিযোগ, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের একটি গোষ্ঠী আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিল (Yunus Regime)।

    হাদিকে খুব কাছ থেকে গুলি (Osman Hadi Killed)

    ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় তাঁর। হাদির হত্যাকাণ্ডের জেরে ফের হিংসা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে বাংলাদেশে। উত্তেজিত জনতা একাধিক প্রথম শ্রেণির সংবাদপত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা চালায়। হাদির ভাই শরিফ ওমর হাদি ঢাকার শাহবাগে এক প্রতিবাদ সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন। তিনি বলেন, “আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন। আর এখন এই ঘটনাকে ইস্যু করে নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছেন!”

    ওমরের অভিযোগ

    ওমর বলেন, “ওসমান চেয়েছিলেন ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্বাচনী পরিবেশে কোনও ধরনের বিঘ্ন ঘটতে দেওয়া যাবে না।” তিনি বলেন, “খুনিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি তদন্তের ফল আমাদের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। যদি ওসমান হাদির মৃত্যুর ন্যায়বিচার না হয়, তাহলে আপনাকেও (ইউনূসকে) একদিন বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হবে।” ওমরের অভিযোগ, তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ তিনি কোনও সংস্থা বা কোনও বিদেশি প্রভুর কাছে মাথা নত করেননি (Osman Hadi Killed)।

    ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের দাবি করেন, ওসমানের হত্যাকাণ্ড জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের লক্ষ্যে করা একটি ‘গভীর ষড়যন্ত্রে’র অংশ। তাঁর অভিযোগ, দেশের ভেতরে সক্রিয় আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং ‘ফ্যাসিস্ট সহযোগীরা’ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। জাবের আরও দাবি করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের তদন্তের মাধ্যমে সরকার যেন খুনিদের জনসমক্ষে হাজির করে। অন্যথায়, তারা আন্দোলন আরও তীব্র করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বিক্ষোভকারীরা জানান, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন (Osman Hadi Killed)।

    ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা ২৫ ডিসেম্বর। তাঁরা কোনও কর্মসূচি পালন করবেন না। ওমরদের আশা, তারেক রহমান তাঁদের আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতি জানাবেন (Yunus Regime)।”

  • Bhopal: কাঠ থেকে সন্ত্রাস! এক পাচার চক্রের সন্ধানে নেমে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য, ফাঁস হলো বিশাল নেটওয়ার্ক

    Bhopal: কাঠ থেকে সন্ত্রাস! এক পাচার চক্রের সন্ধানে নেমে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য, ফাঁস হলো বিশাল নেটওয়ার্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাঠ পাচারের অর্থ দিয়ে চলত সন্ত্রাস (Terror-Funding Network)। কেনা হত অবৈধ অস্ত্র। মধ্যপ্রদেশের (Bhopal) আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে অবৈধ কাঠ পাচারের একটি সাধারণ মামলার তদন্তে উঠে এল এমনই ভয়ঙ্কর তথ্য। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুর জেলা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED), ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA), রাজ্য এটিএস এবং একাধিক রাজ্যের বন দফতর এই জেলায় কাঠ পাচারের তদন্তে নেমেছে। দেখা গিয়েছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বন লুণ্ঠনের অর্থ সন্ত্রাসে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও।

    ২০০ কোটি টাকার খৈর কাঠ সাম্রাজ্য

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, গুজরাটের গোধরার বাসিন্দা মোহন তাহির গত তিন বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার খৈর (কাঠা) কাঠ অবৈধভাবে কেটে পাচার করেছেন। বাজারমূল্য অনুযায়ী, খৈরের ব্যাপক ব্যবহার (কাঠা উৎপাদনে) বিবেচনায় এই অঙ্ক ৭০০ কোটি টাকাতেও পৌঁছতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, আলিরাজপুরের মালওয়াই গ্রামে ব্যক্তিগত জমিতে ‘শালিমার এন্টারপ্রাইজেস’-এর নামে একটি গোপন কাঠের ডিপো চালাতেন তাহির। ডিপোর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন আরিফ (আলিফ) আলি মাকরানি, যাঁকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে গুজরাটে একটি ট্রাক অবৈধ খৈর কাঠসহ আটক হওয়ার পর এই চক্রের হদিশ মেলে। জেরায় চালক জানায়, কাঠটি আলিরাজপুরের একটি ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে সুরাটের মাণ্ডভি ফরেস্ট ডিভিশনের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান চালিয়ে আলিরাজপুরের ডিপোটি সিল করে তদন্তকারী অফিসাররা।

    বৈধ ব্যবসার আড়ালে চোরাচালান

    বন দফতর পরে জানায়, ওই অঞ্চল থেকে প্রায় ১,৬০০ ঘনমিটার বা ২,০০০ মেট্রিক টনের বেশি খৈর কাঠ উদ্ধার হয়েছে, যা বৈধ ব্যবসার আড়ালে মজুত করা ছিল। মাণ্ডভি (সুরাট) বন বিভাগের আধিকারিক এইচ আর যাদব বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে আমরা মামলা দায়ের করি। আলিরাজপুরের শালিমার এন্টারপ্রাইজেসে যাওয়ার পথে একটি ট্রাক আটক করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, এই চক্র গুজরাট, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা হয়ে হরিয়ানা ও দিল্লি পর্যন্ত সক্রিয় ছিল এবং প্রায় দুই বছর ধরে চলছিল।”

    কাঠ থেকে সন্ত্রাস: তদন্তের ভয়াবহ মোড়

    তদন্ত আরও ভয়ঙ্কর মোড় নেয়, যখন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি আলিরাজপুর ডিপোর সঙ্গে উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের যোগসূত্র খুঁজে পায়। রাজ্য এটিএস-এর এক শীর্ষ কর্তা জানান, “আলিরাজপুরের ডিপো ও খৈর কাঠের মজুতের সঙ্গে আইএসআইএস-প্রভাবিত পদঘা মডিউলের যোগ মিলেছে। অবৈধ কাঠ ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ডিপো পরিচালনাকারীদের সঙ্গে সাকিব নাচানের যোগসূত্রও সামনে এসেছে।” ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর, ইডি মহারাষ্ট্র, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, গুজরাট, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে মোট ৪০টি জায়গায় অভিযান চালায়। পিএমএলএ আইনের আওতায় চালানো এই অভিযানে উদ্ধার হয় ৯.৭০ কোটি টাকা নগদ, ৬.৬ কোটি টাকার সোনা ও গয়না, ২৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয় এবং হাওয়ালা নথি, ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়। মেলে উগ্রপন্থার সঙ্গে জড়িত নানা নথিও। ইডি জানিয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছিল যে হাওয়ালা, অবৈধ গবাদি পশু পাচার এবং খৈর কাঠ ব্যবসা থেকে আয় করা অর্থ চরমপন্থী কার্যকলাপে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ইডি অভিযানে চিহ্নিত অভিযুক্ত সচিন ফাকলে ও খলিল উসমান মুল্লার নাম আলিরাজপুর খৈর কাঠ মামলাতেও রয়েছে, যা সন্ত্রাস-অর্থায়নের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। এনআইএ-র দাবি অবৈধ কাঠ পাচারের টাকা জঙ্গি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সংগ্রহে ব্যবহৃত হতো।

    মূল অভিযুক্ত পলাতক

    আদালতের নির্দেশে ডিপো ডি-সিল করার সময় গুজরাটের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি ড. মহেন্দ্র সিং কচ্ছাওয়া জানান, “ডিপোর মালিক মোহন তাহির পলাতক। ইমিগ্রেশন রেকর্ড অনুযায়ী তিনি হজ করতে দেশ ছেড়েছেন এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ফেরেননি। অবৈধ খৈর কাঠ ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ডিপো ম্যানেজারের সঙ্গে যুক্ত হাওয়ালা লেনদেনের তথ্য ইডি-কে দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রায় ৪ কোটি টাকার লেনদেনের হদিশ মিলেছে।

    একাধিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন

    তদন্তকারীরা জানান, ২০২১ সালের পর মধ্যপ্রদেশে খৈরকে সংরক্ষিত প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, ফলে পরিবহণ ও মজুতের নিয়ম শিথিল হয়। তবে প্রশ্ন উঠছে—গুজরাটে কাটা খৈর কাঠ কেন আলিরাজপুরে এনে মজুত করা হলো? শাল ও সেগুনের জন্য পরিচিত একটি ডিপোতে কেন শুধুই খৈর কাঠ ছিল? বন দপ্তরের কেউ কি জড়িত ছিলেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরবতা পালন করা হয়েছিল? ড. কচ্ছাওয়া স্পষ্ট করে বলেন, “যদি কোনো বন কর্মকর্তা জড়িত থাকেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একাধিক সংস্থা—বন দফতর, পুলিশ, এটিএস, ইডি ও এনআইএ—তদন্তে নেমেছে। আলিরাজপুরের খৈর কাঠ কেলেঙ্কারি এখন আর শুধু অবৈধ লগিংয়ের মামলা নয়; এটি হয়ে উঠেছে এমন এক ভয়াবহ প্রশ্ন, যেখানে বন লুণ্ঠনের অর্থ সন্ত্রাসে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, এবং বছরের পর বছর ধরে কীভাবে একটি ২০০ কোটি টাকার ছায়া অর্থনীতি নীরবতার সুযোগে বেড়ে উঠল—তার উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

  • Andhra Pradesh: নাবালিকাকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    Andhra Pradesh: নাবালিকাকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছর তেরোর এক নাবালিকাকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চারজনের বিরুদ্ধে। অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) গুন্টুর জেলার মঙ্গলগিরি শহর এলাকার ওই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে, দায়ের হয়েছে পকসো আইনে মামলাও (Gang Rape Case)।

    গণধর্ষিতা নাবালিকা (Andhra Pradesh)

    পুলিশ সূত্রে খবর, ১৮ ডিসেম্বর রাতে গুন্টুর অঞ্চলের মঙ্গলগিরি রেলস্টেশনের কাছে ঘটনাটি ঘটে। রাত ১০টা নাগাদ নাবালিকাটি তার বন্ধুদের সঙ্গে ছিল। সেই সময় অভিযুক্তরা তাকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি অটো-রিকশায় তুলে নেয় এবং শহরের উপকণ্ঠের একাধিক নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে কিশোরীটিকে বারংবার যৌন নিগ্রহ করা হয়। অভিযুক্তরা হল, তাড়েপল্লির কেএল রাও কলোনির বাসিন্দা শেখ খাদর বাশা (৫০), তার ছেলে কামাল সাহেব (২৫), বিজয়ওয়াড়ার প্রকাশ নগরের বাসিন্দা শেখ সেলিম (৪২) এবং অটো-রিকশাচালক শেখ রাব্বানি (৩৯)।

    নির্যাতিতার চিৎকার

    জানা গিয়েছে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন অটো-রিকশায় করে নিয়ে যাওয়ার সময় নির্যাতিতা চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন। তারপরেই অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে মাকে ভয়াবহ এই ঘটনার বিবরণ দেয়। অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায় (Andhra Pradesh)। অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ আধিকারিক কে বীরস্বামী ও তাঁর দল অভিযানে নামেন। ২১ ডিসেম্বর বিকেলে ডন বসকো এলাকার কাছে চারজন সন্দেহভাজনকেই গ্রেফতার করা হয়। ডিএসপি নিশ্চিত করেছেন যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে অভিযুক্তদের রাস্তায় প্যারেড করানো হয়। ডিএসপি মুরলীকৃষ্ণ সংবাদমাধ্যমে বলেন, “এই প্যারেড আমাদের এলাকায় নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে যারা অপরাধ করে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা দেওয়া।”

    পুলিশ জানিয়েছে, চার অভিযুক্তকেই বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে (Gang Rape Case)। এই ঘটনাটি কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত কিনা, কিংবা অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখাতেই হচ্ছে তদন্ত (Andhra Pradesh)।

  • Samserganj Verdict: মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা! তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, সামসেরগঞ্জে বাবা–ছেলে খুনের ঘটনায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন

    Samserganj Verdict: মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা! তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, সামসেরগঞ্জে বাবা–ছেলে খুনের ঘটনায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়াকফ হিংসার মাঝে পড়ে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জাফরাবাদে বাবা-ছেলের হত্যাকাণ্ডে সাজা ঘোষণা করল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত। দোষী ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি মৃত চন্দন দাস ও হরগোবিন্দ দাসের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। নতুন ফৌজদারি আইনের অধীনে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশে এটি দ্বিতীয় দোষী সাব্যস্তের নজির। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য এই সাজায় (Samserganj Verdict) অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মন্তব্য, ফাঁসির রায় হওয়া উচিত ছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    নিহতদের পরিবারের পাশে বিজেপি

    সামশেরগঞ্জের (Shamsergunj) ঘটনা নিয়ে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত যে রায় শুনিয়েছে তাতে যেমন খুশি নন হরগোবিন্দ দাস (Hargovinda Das) ও চন্দন দাসের (Chandan Das) পরিবার, তেমনই অখুশি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানান, এই রায়ের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) যাবেন। পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি এও বলেন, তাঁদের জন্যই সর্বোচ্চ সাজা হয়নি দোষীদের। শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী ও চন্দন দাসের মা পারুল দাস। তাঁদের বক্তব্য, বাড়িতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও পুলিশ (WBP) আধিকারিকরা বলে এসেছিলেন যে ফাঁসি হবে, কিন্তু হল না। তাঁরা ফাঁসি ছাড়া কিছু চাইছেন না। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শুভেন্দুর বক্তব্য, পুলিশের সিট (SIT) সবাইকে একই দোষে দোষী দেখিয়েছিল। আসলে লক্ষ্য একটাই – এদের বাড়ির ভাতের বদলে জেলের ভাত খাওয়ানো। এদের বাঁচিয়ে রাখা। বিরোধী দলনেতা এই ইস্যুতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে পরিবার উচ্চ আদালতে গেলে তাঁরা সর্বোচ্চ আইনি সাহায্য করবেন। দরকারে কলকাতা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দিয়ে সাহায্য করা হবে।

    কীভাবে ঘটেছিল নির্মম ঘটনা

    ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল ৭২ বছরের হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ৪০ বছরের ছেলে চন্দন দাসকে তাঁদের বাড়ি থেকে টেনে বের করে উত্তেজিত জনতা জাফরাবাদ এলাকায় হত্যা করে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে খুন, দাঙ্গা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, লুটপাট ও মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা হলেন— দিলদার নাদাব, আসমাউল নাদাব ওরফে কালু নাদাব, এনজামুল হক, জিয়াউল হক, ফেকারুল শেখ, আজফারুল শেখ ওরফে বিলাই, মনিরুল শেখ, একবাল শেখ, নুরুল শেখ, সাবা করিম, হাজরত শেখ, হাজরত আলি, আকবর আলি ওরফে একবার শেখ এবং ইউসুফ শেখ। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, “এই মামলাটি রাজ্যের অন্যতম দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের মামলা। ২৫ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) প্রায় এক হাজার পাতার চার্জশিট জমা দেয়।”

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা

    আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগে দুই দফা হামলা প্রতিহত করেছিলেন নিহতরা। তবে তৃতীয়বার হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফিরে এসে তাঁদের হত্যা করে। পরিবারের সদস্যরা আদালতে ঘটনার বিবরণ দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। পরিবারের দাবি, পুলিশের জন্যই দোষীদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়নি। তাদের যাবজ্জীবন হয়েছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ সময়মতো পৌঁছালে প্রাণহানি এড়ানো যেত। নিহত চন্দন দাসের মা পারুল দাস জানান, হামলার কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তিনি আরও বলেন, টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্য দেখে তিনি হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পেরেছিলেন। এসআইটি-র চার্জশিট অনুযায়ী, এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    মুখ্যমন্ত্রীর অনৈতিক দাবি

    ঘটনার সময় রাজ্যে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় এই অশান্তির পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির দায়িত্ব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন এবং বলেন, এই ধরনের রাজনীতি সমাজে বিভাজন তৈরি করছে। যদিও বিচারচলাকালীন দেখা যায়, গত ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে এই ওয়াকফ হিংসার প্রতিবাদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক না থাকলেও প্রাণ গিয়েছিল স্থানীয় দাস পরিবারের বাবা-ছেলের। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যাওয়ায় বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে খুন করা হয়। এতে আগুনে নতুন করে ঘি পড়ে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিট গড়া হয় জেলা পুলিশের তরফে। একে একে গ্রেপ্তার হতে থাকে অভিযুক্তরা। শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে চলে শুনানি। ২২ তারিখ, সোমবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জঙ্গিপুর আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(২), ৩১০(২), ৩৩১(৫), ১৯১(৩), ১২৫(২), ১২৬(২) , ৩৩২( এ) এবং ৩(৫) ধারায় মঙ্গলবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করলেন বিচারক।

    রাজ্যে নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে

    মুর্শিদাবাদের এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ড রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের রায়ে দোষীদের অপরাধ প্রমাণিত হলেও, ঘটনার প্রেক্ষাপট, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দায় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রায়ের পর বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা রাজ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওয়াকফ সংশোধনী আইন সংক্রান্ত আন্দোলনের সরাসরি যোগ পাওয়া যায়নি।

LinkedIn
Share