Tag: Bangla khabor

Bangla khabor

  • India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানজুড়ে ঘটে চলা বিক্ষোভ সাম্প্রতিক বছরের যে কোনও আন্দোলনের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা (India)। আগের দফাগুলির বিক্ষোভের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবার ওয়াশিংটন প্রকাশ্যেই এই আন্দোলনকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায়, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা আর নিছক গল্প-গুজব নয়। কূটনৈতিক ও কৌশলগত মহলে বিষয়টি এখন নীরবে হলেও গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে যে একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে অন্যতম হল, ইরানে শাহ শাসনের প্রত্যাবর্তন। বিশেষ করে, বর্তমানে বিতাড়িত ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বে পাহলভি রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উঠছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় তিনি ছিলেন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। তখনই নির্বাসনে যেতে হয় তাঁর পরিবারকে (India)।

    পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন (India)

    চার দশক পর সেই পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে ‘স্থিতিশীলতা’, ‘ধারাবাহিকতা’ এবং ‘বিশ্ব মঞ্চে ইরানের প্রত্যাবর্তনে’র প্রতীক হিসেবে। ইরানে যদি সত্যিই কোনও পাল্টা বিপ্লব হয়, তার ফল হতে পারে নানা রকম। তবে ভারতের কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হবে, শাহ-নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার পুনরাগমন। এই উদ্বেগের কারণ এই নয় যে, নয়াদিল্লি বর্তমান ইরানি ধর্মীয় শাসকদের প্রতি কোনও সহানুভূতি পোষণ করে। ভারতের দুশ্চিন্তা অনেক বেশি কাঠামোগত ও কৌশলগত। একজন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত শাহ আদতে স্বাধীন শক্তি হবেন না, বরং তিনি হবেন পশ্চিমী, বিশেষ করে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা শাসক। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এমন সরকারের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থাকাই স্বাভাবিক (India)।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়

    এর ফলে ইরান আবারও সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়বে, মার্কিন জ্বালানি নীতি, নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে তেহরান। ভারতের দৃষ্টিতে এই পরিবর্তনই যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ইরান যদি পুরোপুরি মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই, ইরানের বর্তমান অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহল। যদি ইরান ভবিষ্যতে আমেরিকা-নির্ভর বা ওয়াশিংটনের অধীন এক শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত হয়, তাহলে দেশটির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে। এমন ইরান ভারতের স্বার্থে এমন কোনও ব্যতিক্রম তৈরি করতে আগ্রহী বা সক্ষম হবে না, যা আমেরিকার নীতির পরিপন্থী (India)।

    বৃহত্তর কৌশল

    এর প্রথম এবং সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ধাক্কা আসবে যোগাযোগ ও সংযোগ ক্ষেত্রে। বর্তমানে ইরানের মাধ্যমেই ভারত মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানে সীমিত হলেও একটি বিকল্প স্থলপথ পেয়ে থাকে। এই সুযোগটি সম্ভব হয়েছে কারণ বর্তমান তেহরান মার্কিন চাপ উপেক্ষা করতে রাজি। ঠিক এই রাজনৈতিক ফাঁকফোকরের মধ্যেই টিকে আছে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্প, সেখানে ভারতের উপস্থিতি এবং পশ্চিমমুখী স্থলপথে পৌঁছনোর বৃহত্তর কৌশল। কিন্তু শাহ-নেতৃত্বাধীন ইরান সেই ফাঁক বন্ধ করে দেবে। মধ্য এশিয়া কোনও পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল নয়, সেখানে মূল প্রভাব রাশিয়া ও চিনের। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ইরান সেই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বেমানান হয়ে পড়বে, যার মাধ্যমে ভারত ওই অঞ্চলে পৌঁছতে চায়।

    চাবাহার বন্দর

    এর প্রত্যক্ষ ফল হবে চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ এবং রাশিয়াগামী নর্থ-সাউথ করিডর-সহ সংশ্লিষ্ট স্থলপথ কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া (India)। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল হবে। যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ইরানকে কাবুল সম্ভবত অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখবে। এর ফলে আফগানিস্তান আরও একবার পাকিস্তানের প্রভাববলয়ে ফিরে যেতে পারে, যে পরিস্থিতি এড়াতে ভারত গত কয়েক দশক ধরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কাজ করে এসেছে। তবে ভারতের অস্বস্তির কারণ কেবল সংযোগ ব্যবস্থা নয়। এর গভীরে রয়েছে ইতিহাসের স্মৃতি। শেষবার যখন ইরানে শাহ শাসন ছিল, তখন ভারতের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পাহলভি রাজতন্ত্র শুধু পশ্চিমের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং অঞ্চলটিতে পশ্চিমী নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিল।

    পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান

    এই অবস্থানের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পড়েছিল ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে। সেই সময় ইরানের পশ্চিমঘেঁষা অবস্থান ভারতের কৌশলগত স্বার্থের পক্ষে ছিল না—এই স্মৃতি এখনও দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মনে টাটকা রয়েছে (India)। ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমী দেশগুলি থেকে সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে ইসলামাবাদের জন্য। বিশেষ করে পাক  বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি বজায় রাখা তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সঙ্কটের সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান। তৎকালীন শাহের শাসনাধীন ইরান কার্যত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তানের জন্য অস্ত্র সংগ্রহে। পশ্চিমি দেশগুলির কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র কিনতে না পারায়, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে তা তেহরান হয়ে পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ইরান (India)।

    পাকিস্তানের হাতে যুদ্ধবিমান

    ১৯৬৬ ও ১৯৬৭ সালে ইরান প্রায় ৯০টি অতিরিক্ত এফ-৮৬ সাবার যুদ্ধবিমান  তুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এই যুদ্ধবিমানগুলি ছিল কানাডায় নির্মিত কানাডায়ার সিএল-১৩ এমকে৬ মডেল, যা আগে পশ্চিম জার্মানির লুফটওয়াফের (West German Air Force) অধীনে ছিল। জার্মান মজুত থেকে এই বিমানগুলি সংগ্রহ করে ইরানের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। লুফটওয়াফের পাইলটরা বিমানগুলি উড়িয়ে তেহরানে নিয়ে আসতেন, তারপর ইরানি পাইলটরা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সেগুলি পাকিস্তানে নিয়ে যেতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোটা প্রক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অজান্তে হওয়া সম্ভব ছিল না। যদিও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশকেই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছিল, বাস্তবে এই লেনদেন ঘটেছে আমেরিকার নীরব সম্মতিতেই। কারণ ইরান তখন আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র ছিল (India)।

    অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে কারা যুক্ত

    এই অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে যুক্ত জার্মান অস্ত্র ব্যবসায়ী গেরহার্ড মার্টিন্স পরে দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সাবার যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত ছিল এবং পাকিস্তানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য স্টুয়ার্ট সাইমিংটন, যিনি এই চুক্তি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, তিনিও জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানত যে বিমানগুলি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছেই পৌঁছবে। ১৯৭১ সালের মধ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলিতে সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্রও সংযোজন করা হয়। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই সমর্থন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের অবস্থান যখন দ্রুত অবনতি হচ্ছিল, তখন ইরান প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শাহ প্রকাশ্যে ভারতের ভূমিকার নিন্দা করেন এবং সংঘর্ষকে আগ্রাসন হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে তেহরান সম্পূর্ণভাবে ইসলামাবাদের পাশে রয়েছে।

    ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই

    নয়াদিল্লিকে পাঠানো এক কড়া বার্তায় ইরানের তৎকালীন শাসক ঘোষণা করেছিলেন, “ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করার কোনও প্রচেষ্টা আমরা মেনে নেব না। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতকে আমাদের এই অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকতে হবে। আমরা ইরানের সীমান্তে আর একটি ভিয়েতনাম চাই না (India)।” এই বক্তব্য শুধু আদর্শগত অবস্থান বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন নয়। শাহের দৃষ্টিতে পাকিস্তান ছিল পশ্চিমী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রন্টলাইন স্টেট’, অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধক এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর সহযোগী শক্তি। অন্যদিকে, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা ভারত এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেনি।

    শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না

    ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি ছিল স্পষ্ট। শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না, ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তিও ছিল না। বরং পাকিস্তানকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছিল, একটি এমন পশ্চিমী নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে, যেখানে ভারতের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। এই কাঠামোগত বাস্তবতা সহজে বদলে যাওয়ার নয়। ২০২৫ সালে যদি ইরানে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেই সরকার আবারও টিকে থাকা ও বৈধতার জন্য পশ্চিমী সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে। এই নির্ভরশীলতা পাকিস্তান প্রশ্নে, আঞ্চলিক সংঘাতে, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলবে (India)। বিশেষত যুবরাজের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা এই ইঙ্গিতই দেয় যে, ভবিষ্যতের কোনও শাহ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক-কূটনৈতিক সমীকরণে ঝুঁকবেন।

    ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা শিক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অধীনস্থ একটি ইরান ভারতের জন্য কখনও ততটা সহায়ক হয়নি, যতটা হয়েছে একটি স্বাধীন, সীমাবদ্ধ হলেও কৌশলগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পশ্চিমী চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া (India) ইরান।

     

  • US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারীদের মধ্যে যে আশঙ্কা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ভারতের ইরান-বাণিজ্যের পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বহুমুখী হওয়ায় এই শুল্কের প্রভাব অত্যন্ত সামান্য হবে।

    ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার (US)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে ইরানের সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির খুবই ছোট অংশ। ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ২১০০ কোটি মার্কিন ডলার, চিন ১৭০০ কোটি মার্কিন ডলার, তুরস্ক ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই তালিকায় ভারতের অংশীদারিত্ব তুলনামূলকভাবে খুবই নগণ্য। তবে সোমবার প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করার পরেই ভারতীয় চাল রফতানিকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ইরানে চাল রফতানির ক্ষেত্রে ভারতই সবচেয়ে বড় জোগানদাতা। তেহরান তার মোট চাল আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভারত থেকেই করে। ফলে এই বাজার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার পর বহু ভারতীয় রফতানিকারী ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে অনিচ্ছুক। শীর্ষস্থানীয় চাল রফতানিকারী সংস্থার বাল্ক এক্সপোর্ট বিভাগের প্রধান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ট্রাম্পের কাঠামোর আওতায় প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় বাসমতি চাল শিল্পের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।” নয়াদিল্লি-ভিত্তিক এক রফতানিকারী সংস্থা বলেন, “গত দু’মাসে যে চাল পাঠানো হয়েছে, তার অর্থপ্রাপ্তি নিয়েই আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ চাল পাননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে অশান্তির কারণে ক্রেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।”

    এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত চিনের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, চিন ইরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিনে ইরানের রফতানির পরিমাণ ছিল ২২০০ কোটি ডলার, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল জ্বালানি তেল। একই বছরে চিন থেকে ইরানের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিন ইরানের রফতানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের ক্রেতার সংখ্যা সীমিত, কারণ এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে অর্থের জোগান বন্ধ করা।

     

  • Venezuela President Captured: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, দাম বাড়তে পারে অপরিশোধিত তেলের?

    Venezuela President Captured: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, দাম বাড়তে পারে অপরিশোধিত তেলের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে গেল ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাশাসন। বন্দি করা হয়েছে মাদুরোর স্ত্রীকেও। ভেনেজুয়েলা তেল (Crude Oil) সমৃদ্ধ দেশ। বিভিন্ন রকমের বিরল খনিজও রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশের মাটির নীচে। তাই প্রেসিডেন্ট অপহরণ (Venezuela President Captured) হওয়ার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাবেই সোমবার অপরিশোধিত তেলের দামে গ্যাপ-আপ ওপেনিং দেখা যেতে পারে।

    ব্রেন্ট ক্রুডের দাম (Venezuela President Captured)

    বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুডের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ বাড়তে পারে। মার্কিন সামরিক হামালার ফলে যদি ভেনেজুয়েলার তেল পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৬৫ ডলারের দিকে এগোতে পারে বলে অনুমান। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক শক্তির বাজারে। ফলে বিনিয়োগকারী ও তেল আমদানিকারী দেশগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন তেল ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকরা। ভারতের জটিল কাঠামোর তেল শোধনাগারগুলি বিশেষ করে গুজরাটের জামনগর রিফাইনারি ভেনেজুয়েলার ঘন ও ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এই ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধনের জন্য প্রয়োজন হয় উন্নত প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট পরিকাঠামো, যা ভারতের হাতে গোণা কয়েকটি রিফাইনারিতেই রয়েছে।

    বিকল্প উৎস খুঁজতে হিমশিম খেতে হবে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ কার্যকর হয়, তাহলে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলিকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হিমশিম খেতে হবে। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির দিকে ঝুঁকতে হবে ভারতকে, যেখানে তুলনামূলকভাবে হালকা অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি এবং শোধন করার খরচও বাড়তে পারে। এর ফলে ভারতের জ্বালানি আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্য ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে (Crude Oil)। ২০২৪ সালে ভারত ভেনেজুয়েলা থেকে ১.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছিল। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, দক্ষিণ আমেরিকার তেল সরবরাহের ওপর ভারতের নির্ভরতা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে বজায় রয়েছে।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। সাধারণত বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্থায়ী বৃদ্ধি ঘটলে তার প্রতিফলন ভারতীয় বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে দেখা যায় সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই। ফলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধই, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা এবং সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা। ২০২৫ সালের শেষাশেষি নাগাদ ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা ডিসকাউন্টেড তেল থেকে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই মজবুত হয়েছে।

    আর্থিক সুরক্ষা বলয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সস্তা তেলের ওপর নির্ভরতা ভারতের জন্য এক বড় আর্থিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। এর ফলে এক দশক আগের তুলনায় ভেনেজুয়েলার মতো তেল-উৎপাদক দেশের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ওপর এখন অনেক কম প্রভাব ফেলবে (Venezuela President Captured)। একসময় ভেনেজুয়েলা ছিল ভারতের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশগুলির অন্যতম। কিন্তু সেখানকার উৎপাদন সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতকে বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ান তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ে পাওয়া শুরু হলে, ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগায়।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিগত সিদ্ধান্ত শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই বাড়ায়নি, বরং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতেও সাহায্য করেছে। ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও ভারত তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে।বিশ্ববাজারে বর্তমানে একটি বিশাল তেল উদ্বৃত্ত কার্যত সুরক্ষা বলয়ের মতো কাজ করছে। বিভিন্ন জাহাজে সংরক্ষিত অবস্থায় প্রায় ১৩০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যাকে বাজারের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘অন ওয়াটার স্টোরেজ’। এই বিপুল মজুতের কারণে হঠাৎ করে তেলের দামে বড় কোনও ধাক্কা লাগার আশঙ্কা আপাতত কম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনকি যদি ভেনেজুয়েলা থেকে রাতারাতি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলেও তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

    বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম

    বিশ্লেষকদের মতে, এই মজুত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যাহত হলে বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলেও ভারতীয় গ্রাহকদের ওপর তাৎক্ষণিক কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলি খুচরো পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নির্ধারণের আগে সাধারণত ১৫ দিনের গড় হিসেবে অপরিশোধিত তেলের দাম বিবেচনা করে।তাই আজ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলেও দেশের সাধারণ যাত্রী বা দৈনন্দিন যাতায়াতকারীরা সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব অনুভব করবেন না। তেলের দামের ওঠানামা সরাসরি খুচরো বাজারে প্রতিফলিত হওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরোতে হয় (Crude Oil)।

    আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির ফলে হঠাৎ আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা থেকে সাধারণ মানুষ কিছুটা সুরক্ষা পান। তবে যদি দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চড়া থাকে, সেক্ষেত্রে খুচরো দামে পরিবর্তন আসতে পারে। নয়া লগ্নি এলে ভেনেজুয়েলা সরকার ভবিষ্যতে দৈনিক তেল উৎপাদন বাড়িয়ে ২০ লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে বলে অনুমান। দেশটির তেল খাতে বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদে তেলের সরবরাহ বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে  জ্বালানির দামে। অতিরিক্ত সরবরাহের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা বড় তেল আমদানিকারী দেশগুলির জন্য স্বস্তির খবর।

    ‘সারপ্লাস শিল্ড’

    বিশেষ করে ভারতের মতো দেশ, যারা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তারা এই পরিস্থিতি থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। কম দামে তেল আমদানি করতে পারলে জ্বালানি ব্যয় হ্রাস পাবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবহণ, শিল্প এবং সাধারণ ভোক্তার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার উৎপাদন বৃদ্ধি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তন আনতে পারে (Venezuela President Captured)। ‘সারপ্লাস শিল্ড’ বা অতিরিক্ত মজুত সুরক্ষা থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়তে থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনও রকম বিঘ্ন ঘটতে পারে, এমনতর আশঙ্কা মাথায় রেখেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা

    সরকারি সূত্রে খবর, বর্তমানে প্রায় ১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য ভারতের। মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল এবং গ্যাসের আমদানি ও পরিবহণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি মজুত ব্যবস্থাপনা, বিকল্প সরবরাহ উৎস এবং লজিস্টিক পরিকল্পনা আরও জোরদার করছে, যাতে কোনও সংকটের প্রভাব দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে না পড়ে (Crude Oil)। প্রসঙ্গত, ভারত তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ মেটায় আমদানির মাধ্যমে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে ভারতের আমদানি ব্যয় কমবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়লে শুধু ভারত নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে (Venezuela President Captured)।

LinkedIn
Share