Tag: bangla news

bangla news

  • Kisan Diwas: ডিজিটাল পেমেন্ট, ফসল বিমা ও পেনশন—ভারতীয় কৃষকদের জন্য নতুন যুগ

    Kisan Diwas: ডিজিটাল পেমেন্ট, ফসল বিমা ও পেনশন—ভারতীয় কৃষকদের জন্য নতুন যুগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ২৩ ডিসেম্বর দেশজুড়ে পালিত হয় কিষাণ দিবস বা জাতীয় কৃষক দিবস। এই দিনটি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী চরণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী হিসেবে চিহ্নিত, যিনি আজীবন কৃষকস্বার্থের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। কিষাণ দিবস উপলক্ষে দেশ শ্রদ্ধা জানায় সেই কৃষকদের—যাঁরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির মূল ভরকেন্দ্র। ২০১৪ সালের পর থেকে কৃষক কল্যাণ ও কৃষি উন্নয়ন নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতির কেন্দ্রে রয়েছে। আর্থিক সহায়তা, ঝুঁকি সুরক্ষা, সহজ ঋণপ্রাপ্তি, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ সামাজিক নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজকে আরও লাভজনক, নিরাপদ ও টেকসই করার চেষ্টা চলছে।

    সরাসরি আয় সহায়তা: পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি

    কৃষকদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হল প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকরা বছরে ৬,০০০ টাকা পান, যা তিনটি কিস্তিতে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এই অর্থ কৃষিজ উপকরণ কেনা থেকে শুরু করে পারিবারিক প্রয়োজনে কাজে আসে, ফলে উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন ১১ কোটিরও বেশি কৃষক এবং মোট বিতরণ করা হয়েছে ৩.২৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পিএম-কিষাণের ২১তম কিস্তি প্রদান করা হয়, যার মধ্যে শুধু হরিয়ানাতেই ৩১৬ কোটি টাকা পৌঁছেছে ১৫.৮ লক্ষের বেশি কৃষকের কাছে।

    কৃষি সুরক্ষা: প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা

    প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির ঝুঁকি থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY)। এই প্রকল্পে খরিফ ফসলের জন্য কৃষকদের মাত্র ২ শতাংশ এবং রবি ফসলের জন্য ১.৫ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হয়, বাকি অংশ বহন করে সরকার। ২০২৫ সালে উত্তরাখণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্যে হাজার হাজার কৃষক এই বিমা প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। শুধু উত্তরাখণ্ডেই ২৮,০০০-এর বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৬২ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

    আত্মনির্ভরতার পথে নতুন উদ্যোগ

    ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদি কৃষকদের আত্মনির্ভরতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দুটি নতুন উদ্যোগের সূচনা করেন—পিএম ধান-ধান্য কৃষি যোজনা এবং ডাল স্বনির্ভরতা মিশন। প্রায় ৩৫,৪৪০ কোটি টাকার এই সম্মিলিত প্রকল্প ১০০টি জেলায় সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। উদ্দেশ্য একটাই—কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি স্বাস্থ্যের উন্নতি।

    সহজ ঋণ: কিষাণ ক্রেডিট কার্ড

    বীজ, সার, যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকের জন্য মূলধনের প্রয়োজন মেটাতে কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) প্রকল্প কৃষকদের সহজ ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা দেয়। ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে কার্যকর কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ৭.৭৫ কোটিরও বেশি। পাশাপাশি সুদের ভর্তুকি কৃষকদের বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাচ্ছে। আজীবন কৃষিকাজের পর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে পিএম কিষাণ মানধন যোজনা। এটি একটি স্বেচ্ছামূলক পেনশন প্রকল্প, যার মাধ্যমে ৬০ বছর বয়সের পর কৃষকরা মাসিক পেনশন পান।

    প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির পথে

    আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সরকার কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, ফসল ফলন পূর্বাভাস প্রযুক্তি (YES-TECH) এবং উন্নত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কৃষকদের সময়োপযোগী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই কিষাণ দিবসে মোদি সরকারের কৃষিনীতি এক নতুন ভারতের ছবি তুলে ধরছে—যেখানে ডিজিটাল লেনদেন কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেয়, বিমা প্রকল্প প্রাকৃতিক ঝুঁকি কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের উর্বর মাঠ থেকে শুরু করে উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি কৃষিজমি—সর্বত্রই সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। মোদি সরকারের সহায়তায় অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও আত্মনির্ভর কৃষিই শক্তিশালী ভারতের ভিত্তি।

  • Delhi: দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বাইরে বজরং দলের চরম বিক্ষোভ, আন্দোলনের চাপে ভাঙলো ব্যারিকেড

    Delhi: দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বাইরে বজরং দলের চরম বিক্ষোভ, আন্দোলনের চাপে ভাঙলো ব্যারিকেড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত সপ্তাহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনি দিয়ে প্রথমে খুন এবং এরপর গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়। নির্মম ভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটনার প্রতিবাদে এবার দিল্লিতে (Delhi) বাংলাদেশ হাইকমিশন অফিসের (Bangladesh High Commission) সামনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ভিএইচপি এবং বজরং দল সহ অন্যান্য হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা বিরাট বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ক্ষুব্ধ জনতার একটাই প্রশ্ন, কেন মিথ্যা অপবাদ এবং গুজব রটিয়ে হিন্দুপরিবারের ছেলেকে খুন করা হল? তাই অবিলম্বে মহম্মদ ইউনূসকে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত হিন্দু সংগঠনগুলি।

    দোষীদের চিহ্নিত করে চরম শাস্তির দাবি (Delhi)

    দিল্লিতে (Delhi) বিক্ষোভের আশঙ্কা অবশ্য আগে থেকেই ছিল। তাই আগের দিনই বাংলাদেশ হাইকমিশনের (Bangladesh High Commission) বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছিল। ত্রি-স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে এলাকাটি সুরক্ষিত করা হয়েছিল এবং অতিরিক্ত ১৫,০০০ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের এগিয়ে যেতে বাধা দেওয়ার জন্য ডিটিসি বাসগুলিকে রাস্তায় দাঁড় করানো হয়েছিল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, হাইকমিশন থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যার ঘটনায় জনসাধারণের মনে ক্ষোভের আগুন ব্যাপক ভাবে প্রকাশিত হয়েছে এদিন। এক বিক্ষোভকারী বলেন, “একজন হিন্দু ব্যক্তিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে তাঁকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের সরকারকে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। আমরা দাবি জানাই যে বাংলাদেশ পুলিশকেও এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দোষীদের চিহ্নিত করে চরম শাস্তি দিতে হবে।

    ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঝুলিয়ে রেখে আগুন

    গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মিথ্যা রটিয়ে ২৫ বছর বয়সী পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে প্রথমে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তাঁকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশের কাছে নিয়ে গেলেও পুলিশ পরে জনতার হাতে ছেড়ে দেয়। এরপর তাঁকে প্রথমে পিটিয়ে খুন করা হয় এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঝুলিয়ে রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের বড় ছেলে ছিল দিপু।

    দিল্লি-ঢাকার সম্পর্কের অবনতি

    উল্লেখ্য কট্টর ভারত বিরোধী ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীর ভারতীয় দূতাবাস এবং উপদূতাবাসে জামাত, এনসিপির নেতার হামলা করেছিল। এরপর বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক তলব করেছিল দিল্লিতে। বর্তমানে বাংলাদেশের সব ভিসা সেন্টারকে বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। কট্টরপন্থীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গৃহযুদ্ধ শুরু করেছে। ফলে হাসিনাকে হাতে পেতে বার বার ভারেতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যকে বিছিন্ন করার হুমকি দিয়ে চলেছে। একে হিন্দু যুবক হত্যা পরে ভারতে আক্রমণ করার হুমকিতে প্রত্যেক ভারতীয়দের মনেও ইউনূস বাহিনী চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। দিল্লির পাশাপাশি কলকাতাতেও ইউনূসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। উপহাইকমিশনারের (Bangladesh High Commission) অফিসের বাইরে পোড়ানো হয় মহম্মদ ইউনূসের কুশপুতুল। অপরদিকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। চারপাশে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশি সেনাবাহিনীকে গেটের বাইরে নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

  • BJP: বিদেশে ফের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ রাহুলের, সাংসদকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    BJP: বিদেশে ফের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ রাহুলের, সাংসদকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ দিনের সফরে জার্মানিতে রয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সেখানকার বার্লিনে হার্টি স্কুলে ‘পলিটিক্স ইজ দ্য আর্ট অফ লিসিনিং’ শীর্ষক এক অধিবেশনে ভাষণ দেন রাহুল। সেখানে তিনি আবারও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলেন এবং (BJP) ভারতে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

    ভোট চুরির অভিযোগ রাহুলের (BJP)

    রাহুলের দাবি, কংগ্রেস ২০২৪ সালের হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল এবং মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন ঠিকঠাকভাবে হয়নি। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতভূমির মাথা হেঁট করায় রাহুলের ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ বিজেপি। যার জেরে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে পদ্মশিবির। বিজেপির অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী বারবার ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।

    সাংসদকে নিশানা বিজেপির

    বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেন, “রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছেন যে ভারতের নেতা হওয়ার প্রতি তাঁর কোনও আগ্রহ নেই। তাঁর চিন্তাধারায় ভারত বিশ্বগুরু হওয়ার কথাও ভাবা উচিত নয়। এতেই বোঝা যায়, এই মানুষগুলি ভারতের কত বড় শত্রু।” ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিওয়ারি বলেন, “আজ বিশ্বের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশগুলির মধ্যে ভারত চতুর্থ স্থানে রয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা তৃতীয় স্থানে পৌঁছে যাব।” একই সুরে রাহুলের সমালোচনা করেন বিহারের মন্ত্রী দিলীপ জয়সওয়ালও। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী যখনই বিদেশে যান, তখনই ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এজন্য দেশের মানুষ তাঁকে কখনও ক্ষমা করবে না। দেশের বিষয়ে যা বলার, তা দেশের সঙ্গে যুক্ত মঞ্চেই বলা উচিত (BJP)।”

    প্রসঙ্গত, জার্মানির ওই সভায় রাহুল বলেন, “আমরা তেলঙ্গনা ও হিমাচল প্রদেশে নির্বাচন জিতেছি। ভারতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে আমরা উদ্বেগ জানিয়ে আসছি। বিরোধীরা প্রমাণ পেশ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবও চেয়েছেন।” ভোটার তালিকায় গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, “হরিয়ানায় ভোটার তালিকায় এক ব্রাজিলীয় মহিলার নাম ২২ বার ছিল।” রাহুলের আরও (BJP) অভিযোগ, ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর পূর্ণমাত্রার আক্রমণ চলছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ব্যবসায়িক মহলকে আর্থিকভাবে বিজেপিকে সমর্থন করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে (Rahul Gandhi), যা একটি ‘কুইড প্রো কো’ বা পারস্পরিক সুবিধার বিনিময়মূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত বহন করে।

  • Swami Shraddhanand: বৈদিক মূল্যবোধ ও ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পুনরুজ্জীবনে নিজেকে উৎসর্গ করেন স্বামী শ্রদ্ধানন্দ

    Swami Shraddhanand: বৈদিক মূল্যবোধ ও ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পুনরুজ্জীবনে নিজেকে উৎসর্গ করেন স্বামী শ্রদ্ধানন্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগের ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী সমাজ সংস্কারক, শিক্ষাবিদ ও জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন স্বামী শ্রদ্ধানন্দ। ২৩ ডিসেম্বর ১৯২৬ সালে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। শিক্ষা সংস্কার, সামাজিক ন্যায়, স্বাধীনতা আন্দোলন এবং হিন্দু সমাজের পুনর্গঠনে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার জন্য তিনি আজও স্মরণীয়। তাঁর শহিদ হওয়া ভারতের সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

    স্বামী শ্রদ্ধানন্দের জন্ম ২২ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৬, পাঞ্জাব প্রদেশের জলন্ধর জেলার তালওয়ান গ্রামে। তাঁর আসল নাম ছিল বৃহস্পতি বিজ, যিনি লালা মুন্সি রাম নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর পিতা লালা নানক চাঁদ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনে পুলিশ ইন্সপেক্টর ছিলেন। মুন্সি রাম তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন বারাণসীতে (বর্তমান উত্তরপ্রদেশ) এবং পরে লাহোরে আইন নিয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। তিনি প্রথমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন, কিন্তু পরে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর ফিল্লৌর ও জলন্ধরে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে তিনি একটি সফল পেশাগত জীবন গড়ে তোলেন। তিনি শিব দেবী–কে বিবাহ করেন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে স্ত্রীর মৃত্যু তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাঁদের দুই পুত্র—হরিশচন্দ্র ও ইন্দ্র—এবং দুই কন্যা ছিল, যাদের মধ্যে একজনের নাম বেদ কুমারী। এই ব্যক্তিগত শোকই তাঁর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীরভাবে রূপ দেয়।

    স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর সঙ্গে পরিচয়

    আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর সঙ্গে পরিচয় স্বামী শ্রদ্ধানন্দের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রথমে সংশয় থাকলেও, বেরেলিতে স্বামী দয়ানন্দের একটি বক্তৃতা শোনার পর তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন। দয়ানন্দের যুক্তিবাদ, নির্ভীকতা ও সংস্কারমূলক চেতনা তাঁকে আকৃষ্ট করে। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আর্য সমাজে যোগ দেন এবং বৈদিক মূল্যবোধ ও ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পুনরুজ্জীবনে নিজেকে উৎসর্গ করেন।

    দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রদূত

    স্বামী শ্রদ্ধানন্দ ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে দেশীয় ঐতিহ্য ও জাতীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে তোলার অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন। উনিশ শতকের শেষভাগে আর্য সমাজ ডিএভি (দয়ানন্দ অ্যাংলো-বৈদিক) বিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ভারতীয় মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পশ্চিমি শিক্ষার ভূমিকা নিয়ে আর্য সমাজের অভ্যন্তরে মতভেদ দেখা দেয় এবং ১৮৯২ সালে বিভাজন ঘটে। শ্রদ্ধানন্দ গুরুকুল শিক্ষাপদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নেন—যেখানে আবাসিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা, আধ্যাত্মিকতা ও চরিত্র গঠনের উপর জোর দেওয়া হয়। তিনি গুরুকুলপন্থীদের নেতৃত্ব দেন এবং পাঞ্জাব আর্য প্রতিনিধি সভা গঠন করেন। ১৯০০ সালে, তিনি গুজরানওয়ালায় (বর্তমান পাকিস্তান) প্রথম গুরুকুল প্রতিষ্ঠা করেন। পরে এটি হরিদ্বারের কাছে কাংরি অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয় এবং পরিচিত হয় গুরুকুল কাংরি নামে—ভারতের দেশীয় শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে। তিনি নিজে এর প্রথম আচার্য ছিলেন এবং তাঁর পুত্ররাও সেখানে শিক্ষা গ্রহণ করেন। গুরুকুল কাংরি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও বৌদ্ধিক জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে এখানে অবস্থান করেন এবং এখানেই তাঁকে প্রথম “মহাত্মা” সম্বোধনে ডাকা হয়। ১৯৬২ সালে, ভারত সরকার গুরুকুল কাংরিকে ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়–এর মর্যাদা দেয়।

    আধ্যাত্মিক যাত্রা ও সন্ন্যাস গ্রহণ

    ৩৫ বছর বয়সে মুন্সি রাম বানপ্রস্থ আশ্রম গ্রহণ করেন এবং পরিচিত হন মহাত্মা মুন্সি রাম নামে। ১৯১৭ সালে, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। তাঁর নাম হয় স্বামী শ্রদ্ধানন্দ। এরপর তিনি সম্পূর্ণরূপে বেদ প্রচার ও সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

    ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা

    স্বামী শ্রদ্ধানন্দ স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি রাওলাট আইন–সহ ব্রিটিশদের দমনমূলক আইনগুলোর বিরোধিতা করেন এবং পাঞ্জাবে সামরিক শাসনের প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেন। ১৯১৯ সালে, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড–এর পর তিনি কংগ্রেসকে অমৃতসরে অধিবেশন করার আহ্বান জানান এবং অন্যরা পিছিয়ে গেলে নিজেই সভাপতিত্ব করেন। দিল্লিতে ব্রিটিশ দমননীতির বিরুদ্ধে বৃহৎ প্রতিবাদ মিছিলে তিনি নেতৃত্ব দেন। চাঁদনি চকে এক ঘটনায়, ব্রিটিশ সেনারা যখন গুলি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন তিনি প্রথমে নিজেকে সামনে এগিয়ে দেন যাতে সাধারণ মানুষ রক্ষা পায়। সেনারা তখন অস্ত্র নামিয়ে রাখে এবং মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যায়।

    জামা মসজিদে ঐতিহাসিক ভাষণ

    ১৯২২ সালে, দিল্লির জামা মসজিদে তিনি একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সেখানে বৈদিক মন্ত্র পাঠের পর তিনি প্রধানত মুসলিম শ্রোতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন—যা তাঁর সংলাপ-বিশ্বাস, সাহস ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

    কংগ্রেস ত্যাগ ও হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ততা

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু স্বার্থ ও সামাজিক সংস্কারের প্রশ্নে কংগ্রেসের অবস্থানে তিনি হতাশ হন। পরে মদন মোহন মালব্য–সহ অন্যান্য নেতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি হিন্দু মহাসভা–র সঙ্গে কাজ করেন এবং হিন্দু সমাজের সংগঠনের পক্ষে সওয়াল করেন।

    অস্পৃশ্যতা বিরোধী আন্দোলন

    অস্পৃশ্যতা দূরীকরণে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কল্যাণমূলক প্রকল্পে কংগ্রেস পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা না করায় তিনি কংগ্রেসের উপ-কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। ড. বি. আর. আম্বেদকর তাঁকে “অস্পৃশ্যদের সবচেয়ে বড় ও আন্তরিক সমর্থক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি কেরালার ভাইকোম সত্যাগ্রহ-কেও সমর্থন করেন।

    সাংবাদিকতা ও সামাজিক প্রচার

    স্বামী শ্রদ্ধানন্দ ছিলেন এক দক্ষ লেখক ও সাংবাদিক। তিনি উর্দু পত্রিকা ‘তেজ’ এবং হিন্দি দৈনিক ‘অর্জুন’ প্রতিষ্ঠা করেন। দেবনাগরী লিপিতে হিন্দি ভাষার প্রসার, নারী শিক্ষা ও সমাজসেবায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা নেন।

    শুদ্ধি আন্দোলন ও হিন্দু পুনর্গঠন

    ধর্মান্তর নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি শুদ্ধি আন্দোলন–এর নেতৃত্ব দেন, যার লক্ষ্য ছিল ধর্মান্তরিত হিন্দুদের পুনরায় হিন্দু সমাজে ফিরিয়ে আনা। আগ্রা, মথুরা ও ভরতপুর অঞ্চলে—বিশেষত রাজপুত সম্প্রদায়ের মধ্যে—বৃহৎ শুদ্ধি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

    চিরস্থায়ী উত্তরাধিকার

    ২৩ ডিসেম্বর ১৯২৬, দিল্লিতে নিজের বাসভবনে নিউমোনিয়া থেকে সেরে ওঠার সময় আবদুল রশিদ নামে এক ব্যক্তি আলোচনার ছলে এসে তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে। সব চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি প্রাণ হারান। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত শিবির থেকে নিন্দা জানানো হয়। প্রায় এক শতাব্দী পরও স্বামী শ্রদ্ধানন্দ নির্ভীক সংস্কার, বৌদ্ধিক সাহস ও জাতীয় সেবার প্রতীক হিসেবে স্মরণীয়। শিক্ষা, সমাজ সংস্কার, স্বাধীনতা আন্দোলন ও সভ্যতাগত পুনর্জাগরণে তাঁর অবদান আজও প্রেরণা জোগায়। সহিংসতায় তাঁর জীবন থেমে গেলেও, তাঁর চিন্তা ও কর্ম—বিশেষত গুরুকুল কাংরি–র মাধ্যমে—আজও জীবিত।

  • VB-G-RAM-G Bill: মনরেগার নাম পরিবর্তন! লোকসভায় পাশ নতুন ‘ভিবিজিরামজি’ বিল, জানেন নতুন কী রয়েছে এতে?

    VB-G-RAM-G Bill: মনরেগার নাম পরিবর্তন! লোকসভায় পাশ নতুন ‘ভিবিজিরামজি’ বিল, জানেন নতুন কী রয়েছে এতে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে জননীতি ও কল্যাণমূলক প্রকল্প মানেই সংক্ষিপ্ত নাম বা অ্যাক্রোনিম। পোষাণ (POSHAN), পিএম-আশা (PM-AASHA)-র মতো প্রকল্পগুলির নামেই সরকারের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ধারাবাহিকতাতেই সংসদ সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA) বাতিল করে পাশ হয়েছে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন গ্রামীণ (VB-G-RAM-G) আইন। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রতীকের রাজনীতির চোখে দেখলেও, বাস্তবে এটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান নীতিতে একটি গুণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। নতুন আইন কেবল নাম বদল নয়, বরং কাজের সুযোগ, উৎপাদনশীলতা এবং জবাবদিহির প্রশ্নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

    নতুন আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল— কাজের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা। এটি সরাসরি গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রের একক ১০০ শতাংশ অর্থায়নের বদলে রাজ্যগুলিকেও অর্থনৈতিক দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ)। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের দায়বদ্ধতা ও নজরদারি দু’টিই বাড়বে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল— বপন ও ফসল কাটার সময়ে ৬০ দিনের কাজ-বিরতি। প্রথম দর্শনে এটি সীমাবদ্ধতা মনে হলেও, বাস্তবে এর লক্ষ্য গ্রামীণ শ্রমকে কৃষি চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। এতে শ্রমিকরা কৃষিকাজে বেশি মজুরি আদায়ের সুযোগ পাবে এবং সরকারি প্রকল্পের কাজও কৃষির পরিপূরক হিসেবে পরিকল্পিত হবে। চতুর্থত, ‘ভিবিজিরামজি’( VB-G-RAM-G) চারটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজকে কেন্দ্রীভূত করেছে— জল, নিরাপত্তা, পরিকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীলতা। মনরেগা-র অধীনে কাজের পরিধি বিস্তৃত হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছিল। নতুন কাঠামোতে থিমভিত্তিক কাজের ফলে গ্রামীণ এলাকায় টেকসই সম্পদ, জল সংরক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    দুর্নীতি কমার সম্ভাবনা

    তৃণমূলভিত্তিক বিচ্ছিন্ন কাঠামোর বদলে এই প্রকল্পকে প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি-র সঙ্গে সংযুক্ত করা। এর ফলে কাজের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও নজরদারি হবে কেন্দ্রীয় ডেটা ও প্রযুক্তিনির্ভর। এতে একদিকে যেমন দুর্নীতি কমার সম্ভাবনা বাড়ে, তেমনই প্রকল্পের আউটপুট ও ফলাফল পরিমাপযোগ্য হয়। এখানে স্মরণ করা প্রয়োজন, মনরেগা নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক প্রকল্প ছিল। এটি ৭৪১টি জেলা, ২.৬৯ লক্ষ পঞ্চায়েত এবং ১২.১ কোটি শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। সংসদের স্থায়ী কমিটি বারবার জানিয়েছে, শ্রমিকদের গড় মজুরি অনেক ক্ষেত্রে ন্যূনতম মজুরির নিচে ছিল। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল— বিপুল বকেয়া মজুরি। ২০২৫ সালের অগস্টে দেখা যায়, ১২,২১৯.১৮ কোটি টাকা অবৈতনিক মজুরি পড়ে রয়েছে, যা ওই বছরের বরাদ্দের প্রায় ১৪ শতাংশ।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প

    গত পাঁচ বছরে প্রকৃত কাজের দিন গড়ে ৪৮–৫২ দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ২০২৪-২৫ সালে কাজ পাওয়া ৫.৭৮ কোটি পরিবারের মধ্যে মাত্র ৪০ লক্ষ পরিবার ১০০ দিনের কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছে। অর্থাৎ, আইনে অধিকার থাকলেও বাস্তবে সেই সুযোগ পূর্ণমাত্রায় পৌঁছয়নি। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সরকার নতুন আইনে কাজের সুযোগের পাশাপাশি জবাবদিহি ও দক্ষতার ওপর জোর দিয়েছে। রাজ্যগুলির আর্থিক অংশগ্রহণ, থিমভিত্তিক কাজ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়— এই সবকিছু মিলিয়ে নতুন প্রকল্প অধিক ফলপ্রসূ ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে পারে। বর্তমানে ভারত চালাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প, ৮১ কোটি মানুষকে নিয়ে বিনামূল্যের খাদ্য প্রকল্প (ব্যয় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকা), স্বাস্থ্য বিমা, কৃষক আয় সহায়তা ও গ্রামীণ আবাসন প্রকল্প। মোট ব্যয় প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা। এত বিপুল ব্যয়ের ক্ষেত্রে ফলাফল ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

     

     

  • Bhagavad Gita: “ভগবদগীতা ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ”, রায় মাদ্রাজ হাইকোর্টের

    Bhagavad Gita: “ভগবদগীতা ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ”, রায় মাদ্রাজ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভগবদগীতা (Bhagavad Gita) কোনও ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং এটি নৈতিক বিজ্ঞান এবং ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।” ঠিক এমনই মন্তব্য করলেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের (Madras HC) বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন। তাঁর মতে, ভগবদ গীতার শিক্ষা দিলেই কোনও ট্রাস্টকে ধর্মীয় বলা যাবে না এবং সেই কারণে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA), ২০১০–এর অধীনে নিবন্ধন অস্বীকার করাও যায় না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদালত ভারতীয় চেতনায় গভীরভাবে প্রোথিত যে সত্যটিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে, তা হল গীতা কোনও সাম্প্রদায়িক ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি একটি সভ্যতাগত জ্ঞানভান্ডার।

    জনকল্যাণমূলক ট্রাস্টের এফসিআরএ আবেদন (Bhagavad Gita)

    এই মামলার সূত্রপাত একটি জনকল্যাণমূলক ট্রাস্টের এফসিআরএ আবেদন খারিজ হওয়া থেকে। সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টটি বেদান্ত, সংস্কৃত, যোগশাস্ত্র ও ভগবদগীতার শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের কাজেও যুক্ত ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই আবেদনটি এই অনুমানের ভিত্তিতে খারিজ করে যে, এই কার্যকলাপগুলি ধর্মীয় প্রকৃতির। ঔপনিবেশিক যুগের ভুল ধারণা থেকে উৎসারিত এই আমলাতান্ত্রিক যুক্তিকে সংবিধানসম্মত স্পষ্টতার ভিত্তিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে খারিজ করে দেয়।

    ভগবদগীতা কোনও ধর্মীয় গ্রন্থ নয়

    এর পরেই বিচারপতি স্বামীনাথনের মন্তব্য, “ভগবদগীতা কোনও ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং এটি নৈতিক বিজ্ঞান এবং ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি সভ্যতাগত ঘোষণা। গীতা উপাসনা, আচার বা কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্বের গ্রন্থ নয়। এটি একটি দার্শনিক সংলাপ, যা কর্তব্য, কর্ম, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, অনাসক্তি এবং জটিল পরিস্থিতিতে ন্যায়সঙ্গতভাবে (Madras HC) কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অন্তর্নিহিত শৃঙ্খলার কথা বলে। মন্দির নয়, যুদ্ধক্ষেত্রকে পটভূমি হিসেবে বেছে নেওয়াই প্রতীকী, এটি জীবনের নৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি, ধর্মীয় বিধান নয় (Bhagavad Gita)।”

    নিষ্কাম কর্মের তত্ত্ব

    হাজার হাজার বছর ধরে ভগবদগীতা ভারতের নৈতিক দিশারি হিসেবে কাজ করে এসেছে। নিষ্কাম কর্মের তত্ত্ব নিঃস্বার্থ জনসেবার ভিত্তি রচনা করেছে। স্বধর্মের ধারণা অধিকার নয়, দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কর্মের মধ্যেও সমত্ব বজায় রাখার শিক্ষা ভারতীয় শাসনব্যবস্থা, যুদ্ধনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত আচরণের বোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই কারণেই মহাত্মা গান্ধী থেকে লোকমান্য তিলক, শ্রী অরবিন্দ থেকে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চিন্তাবিদরা, সকলেই গীতার ভাবধারা থেকে প্রেরণা গ্রহণ করেছেন।

    সভ্যতাগত পক্ষপাত

    হাইকোর্টের এই রায় ভারতীয় শাসনব্যবস্থার এক দীর্ঘদিনের অন্তর্নিহিত বৈপরীত্যকে উন্মোচিত করেছে। পাশ্চাত্য দার্শনিক ঐতিহ্য, অ্যারিস্টটল, প্লেটো, কান্ট – নির্বিবাদে ধর্মনিরপেক্ষ জ্ঞান হিসেবে স্বীকৃত হলেও ভারতীয় দার্শনিক ধারাগুলিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মীয় তকমা দেওয়া হয়। যোগ আজ বিশ্বজুড়ে একটি সুস্থতা ও কল্যাণমূলক অনুশীলন হিসেবে স্বীকৃত। অথচ ভারতের ভেতরেই তা প্রায়ই আদর্শগত সন্দেহের চোখে দেখা হয়। সংস্কৃত বিশ্বের অন্যতম সূক্ষ্ম ও পরিশীলিত ভাষাতাত্ত্বিক ব্যবস্থাগুলির একটি হলেও, তার শিক্ষাদানকে বহু সময় সাম্প্রদায়িক বলে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হয়। বেদান্ত চেতনা ও বাস্তবতার ওপর এক গভীর দার্শনিক অনুসন্ধান, তবু ইউরোপীয় দর্শনশাস্ত্রের সমতুল্য দর্শন হিসেবে তাকে খুব কমই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই বৈষম্য ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, এটি এক ধরনের সভ্যতাগত পক্ষপাত(Bhagavad Gita)।

    রায় প্রশ্নাতীত

    সংবিধানের দৃষ্টিতে এই রায় প্রশ্নাতীত। সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ আইনের সামনে সমতার নিশ্চয়তা দেয় এবং খামখেয়ালি শ্রেণিবিভাগ নিষিদ্ধ করে। কেবল সাংস্কৃতিক উৎসের কারণে ভারতীয় দর্শনের পাঠদানকে পাশ্চাত্য দর্শনের পাঠদানের থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। ২৫ ও ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারতীয় জ্ঞানের প্রতিটি দিককে ধর্মের সংকীর্ণ সংজ্ঞার মধ্যে আবদ্ধ রাখতে হবে। ভারতের সংবিধান রাষ্ট্রকে সভ্যতার প্রতি বিরূপ হতে বলে না, বরং বলে রাষ্ট্রকে ন্যায্য হতে(Madras HC) ।

    প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলার ওপর আদালতের জোর

    এফসিআরএ ব্যবস্থার অধীনে প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলার ওপর আদালতের জোর দেওয়াটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যাখ্যানের আদেশটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বদলে অনুমাননির্ভর ধারণার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল, এবং পূর্ববর্তী কারিগরি ত্রুটিগুলি, যেগুলি ইতিমধ্যেই আইনের আওতায় নিষ্পত্তি হয়েছিল, অযৌক্তিকভাবে আবার অযোগ্যতার কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়। বিদেশি তহবিলের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজনীয়, কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণ যেন আদর্শগত প্রহরায় পরিণত হতে না পারে। আদালত যথার্থভাবেই এই নীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা ন্যায্যতা, স্পষ্টতা এবং সাংবিধানিক সংযমের সঙ্গে আমাদের সহাবস্থান করতেই হবে (Bhagavad Gita)। ভারত যেভাবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বোঝে, সেই প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ নিজের ঐতিহ্য মুছে ফেলা নয়। এর অর্থ হল, সব পথের প্রতি সম্মান দেখানো, কিন্তু কাউকেই বিশেষ সুবিধা না দেওয়া। এর মানে হল, এই সত্যকে স্বীকৃতি দেওয়া যে সভ্যতাগত গ্রন্থগুলি বিশ্বাস চাপিয়ে না দিয়েই সর্বজনীন নৈতিকতা দান করতে পারে। ভগবদগীতা ঠিক সেটাই করে। গীতা আসক্তিহীন কর্মের শিক্ষা দেয়, অহংকারহীন নেতৃত্বের কথা বলে, এবং বিদ্বেষহীন কর্তব্য পালনের পথ দেখায়। এই মূল্যবোধগুলি সমাজকে শক্তিশালী করে, বিভক্ত করে না(Madras HC) ।

    মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়

    অতএব, মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়টি শুধু এফসিআরএ নিবন্ধনের তাৎক্ষণিক প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি ভারতীয় প্রজ্ঞার ভুল ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে এক সাংবিধানিক সীমারেখাও টেনে দেয়। এই রায় প্রজাতন্ত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আধুনিক শাসনব্যবস্থা বৌদ্ধিক বিস্মৃতির ওপর দাঁড়াতে পারে না। গীতাকে সাম্প্রদায়িক ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং নৈতিক বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আদালত সাংবিধানিক ব্যাখ্যাকে সভ্যতাগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে (Bhagavad Gita)। ভগবদগীতার শিক্ষা দেওয়া ধর্মপ্রচার নয়, বরং শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের সংক্রমণ হিসেবে পুনরায় নিশ্চিত করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট ভারত জাতির প্রতি এক নীরব কিন্তু ঐতিহাসিক সেবা দিয়েছে। এই রায় নিশ্চিত করেছে যে ভারতের আত্মাকে কোনও ব্যুরোক্র্যাটিক অসুবিধা হিসেবে নয়, বরং শক্তির উৎস হিসেবে দেখা হবে।

  • Enforcement Directorate: প্রয়াগ গ্রুপ অফ কোম্পানিজের ১১০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    Enforcement Directorate: প্রয়াগ গ্রুপ অফ কোম্পানিজের ১১০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াগ গ্রুপ অফ কোম্পানিজ (Prayag Group of Companies Case) এবং এর পরিচালকদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় মোট ১১০ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অর্থাৎ ইডি (Enforcement Directorate)। বাজেয়াপ্ত করা এই সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং আসাম জুড়ে প্রয়াগ গ্রুপের একাধিক কোম্পানি। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে রয়েছে ৪৫.৪২ একর জমি, নির্মীয়মাণ বাড়ি, পরিচালক বাসুদেব বাগচী, অভিক বাগচী ও স্বপ্না বাগচীর নামে থাকা ৬ কোটি টাকার সম্পত্তি। ইতিমধ্যে ইডি-এর কলকাতা আঞ্চলিক অফিস প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA) ২০০২-এর অধীনে এই সম্পত্তিগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    ২,৮৬৩ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ (Enforcement Directorate)

    প্রয়াগ (Prayag Group of Companies Case) গ্রুপ পদ্ধতিগত আইন না মেনেই স্বল্প সঞ্চয়ে অধিক লাভের প্রকল্প ঘোষণা করে বৃহৎ পরিসরে অবৈধভাবে টাকা তুলেছিল গ্রাহকদের কাছ থেকে। এরপর অভিযোগ পেয়ে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) এফআইআর দায়ের করে। বর্তমানে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়ার ভিত্তিতে ইডি (Enforcement Directorate) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, প্রয়াগ গ্রুপ তাদের একাধিক কোম্পানি যেমন- প্রয়াগ ইনফোটেক হাই-রাইজ লিমিটেড এবং প্রয়াগ ইনফোটেক নেটওয়ার্ক প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) বা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি)-এর কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই টাকা সংগ্রহ এবং মানি সার্কুলেশন স্কিমের মাধ্যমে বেশি পরিমাণে লাভের টোপ দিয়ে আর্থিক প্রতারণা করেছে। এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮,৭১,৬৭৪ জন আমানতকারীর কাছ থেকে ২,৮৬৩ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

    ১,৯০৬ কোটি টাকা ফেরত দেয়নি

    আর্থিক দুর্নীতির প্রসঙ্গে ইডি (Enforcement Directorate) সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়াগ গ্রুপ (Prayag Group of Companies Case) ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত আমানতকারীদের বকেয়া সুদের টাকা বাদেও ১,৯০৬ কোটি টাকা অপরিশোধিত রেখেছে। এই গ্রুপটি একটি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির দুর্নীতি চক্রের মাধ্যমে কাজ করত। সংগৃহীত অর্থ কোনো বৈধ ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার না করে জমি, হোটেল, ফিল্ম সিটি প্রকল্প নির্মাণ, কোম্পানি তৈরিতে এজেন্টদের কমিশন দেওয়া, বিজ্ঞাপন, সেলিব্রিটি প্রচার-সহ সংস্থার সমৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হতো। প্রধান অভিযুক্ত বাসুদেব বাগচী এবং অভিক বাগচী বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

  • Donations: ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তৃণমূলের অনুদান বেড়েছে ৩ গুণ টাকা, চলতি বছরে জমা পড়েছে ১৮৪.৯৬ কোটি

    Donations: ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তৃণমূলের অনুদান বেড়েছে ৩ গুণ টাকা, চলতি বছরে জমা পড়েছে ১৮৪.৯৬ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) ৪৪৮ জন অনুদানকারী ১৮৪.৯৬ কোটি টাকা অনুদান (Donations) দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে দেখানো গত অর্থবছরের ৬৪.২৪ কোটি টাকার অনুদানের তুলনায় এটি প্রায় তিনগুণ বেশি বলে জানা গিয়েছ। এই দশজন দাতাদের মধ্যে রয়েছেন, দিল্লি ও মুম্বাইয়ের নির্বাচনী ট্রাস্ট, বাংলার লটারি ব্যবসায়ী এবং রাজ্যে উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। তৃণমূল পার্টির দফতরের তহবিল এতো ফুলেফেঁপে ওঠার বিষয়টি এখন আলোচনার শিরোনামে।

    টাইগার অ্যাসোসিয়েটস থেকে ৫০ কোটি টাকা অনুদান (Donations)

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রুডেন্ট ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট থেকে ৯২ কোটি টাকা এবং টাইগার অ্যাসোসিয়েটস থেকে ৫০ কোটি টাকা অনুদান (Donations) দেওয়া হয়েছে। টাইগার অ্যাসোসিয়েটস হল পশ্চিমবঙ্গে নাগাল্যান্ড রাজ্য লটারি, সিকিম রাজ্য লটারি এবং পাঞ্জাব রাজ্য লটারি বিক্রির সংস্থা। লোহা, ইস্পাত, সিমেন্ট কোম্পানি রশ্মি সিমেন্ট লিমিটেড টিএমসিকে (TMC) ৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। মুম্বয়ের প্রোগ্রেসিভ ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের পক্ষে থেকে টাটা গ্রুপ কোম্পানিগুলি ১০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। এই গ্রুপের কারখানা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঝাড়গ্রাম এবং খড়গপুরে রয়েছে। একই ভাবে কলকাতায়ও একটি কর্পোরেট অফিস রয়েছে।

    স্টেইনলেস স্টিল-শ্যাম ফেরো অ্যালয়স লিমিটেড

    তৃণমূলকে (TMC) স্টেইনলেস স্টিলের প্রস্তুতকারক এবং রফতানীকারক শ্যাম ফেরো অ্যালয়স লিমিটেড ৩ কোটি টাকা অনুদান (Donations) দিয়েছে। কলকাতার একটি ট্রেডিং এবং মাইনিং কোম্পানি, কেজরিওয়াল মাইনিংও ৩ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে একটি ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনাকারী লোহা ও ইস্পাত প্রস্তুতকারক সুপার স্মেল্টার্স ২ কোটি টাকা দিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বন্দর শহর হলদিয়া এবং পাঞ্জাবের কর্ণালে কারখানা সহ প্লাস্টিক প্রস্তুতকারক আইভিএল ধানসেরি পেট্রোকেম ইন্ডাস্ট্রিজ সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করেছে।

    কোন তৃণমূল নেতা কত দিয়েছেন?

    কিষাণ গোপাল মোহতা নামে একজন ধনবান ব্যক্তি ৩ কোটি টাকা তৃণমূলকে (TMC) দিয়েছেন। ২০২৪ সালে নির্বাচনী বন্ডের তথ্য প্রকাশের সময় পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল এপ্রিল ২০১৯ থেকে জানুয়ারী ২০২৪ এর মধ্যে ১,৬০৯ কোটি টাকা অনুদান (Donations) গ্রহণ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসও তাদের ২১৩ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ১৯৯ জনের কাছ থেকে মাথা পিছু ২২,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকার অনুদান নিয়েছে। এই বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাত্য বসু, বাবুল সুপ্রিয়, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ফিরহাদ হাকিমের মতো মন্ত্রীরাও। এছাড়াও, চল্লিশজন বর্তমান এবং প্রাক্তন সাংসদ একইভাবে অনুদান দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে হলেন রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ১.২ লক্ষ টাকা, জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান ৩.৮ লক্ষ টাকা, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ১ লক্ষ টাকা এবং কলকাতার দক্ষিণের সাংসদ মালা রায় ৬.১২ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। গত কয়েক বছর সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলে বিপুল পরিমাণে টাকা জমা পড়ার তথ্য এখন রাজনীতির আঙ্গিনায় বহুল চর্চিত বিষয়।

  • Ethiopia: ইথিওপিয়া সফর সেরে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, বড় লাভ হল ভারতের

    Ethiopia: ইথিওপিয়া সফর সেরে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, বড় লাভ হল ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই প্রথমবার ইথিওপিয়া (Ethiopia) সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (India)। আর তাতেই মাত করে ফেলেছেন বাজি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ইথিওপিয়া সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুণগত উত্তরণ ঘটিয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করা হয়েছে এবং বাণিজ্য, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও জনকেন্দ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। উভয় সরকারের ঘোষিত ফলগুলি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে, কীভাবে নয়াদিল্লি ও আদ্দিস আবাবা (ইথিওপিয়ার রাজধানী) কয়েক দশকের রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে বাস্তবে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সাফল্যে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছে।

    ভারত ও ইথিওপিয়ার সম্পর্ক (Ethiopia)

    ভারত ও ইথিওপিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই ঘনিষ্ঠ ছিল। এই সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করা সেই ঐতিহ্যকে সমসাময়িক বাস্তবতায় দৃঢ় ভিত্তি দিচ্ছে। এর মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ, লোহিত সাগর–হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং আদ্দিস আবাবায় অবস্থিত আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক সেতু গড়ে ওঠার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে। ইথিওপিয়ার জন্যও এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অর্থনৈতিক চাপ ও জটিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করার একটি কার্যকর পথ হিসেবেও এই উদ্যোগ কাজ করছে (India)।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক 

    প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিশেষ করে রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে। রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সহযোগিতার জন্য একটি ইমপ্লিমেন্টিং অ্যারেঞ্জমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা শান্তিরক্ষায় অন্যতম বৃহৎ সেনা-অবদানকারী দেশ হিসেবে ভারতের অভিজ্ঞতা এবং আফ্রিকা-কেন্দ্রিক মিশনে সেনাদল মোতায়েনের ক্ষেত্রে ইথিওপিয়ার সুনামের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যৌথ প্রশিক্ষণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে উভয় দেশই পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারবে এবং রাষ্ট্রসংঘের সেই সব ফোরামে রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করবে, যেখানে শান্তিরক্ষা সংস্কার ও ম্যান্ডেট নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।

    সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াই

    সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াই এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাও কৌশলগত আলোচনার অংশ ছিল। এর কারণ হল লোহিত সাগরের (Ethiopia) গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথগুলির কাছে ইথিওপিয়ার অবস্থান এবং পশ্চিম ভারত মহাসাগরে ভারতের ক্রমবর্ধমান নৌ উপস্থিতি। আনুষ্ঠানিকভাবে একে কোনও সামরিক জোট বলা না হলেও, এই অংশীদারিত্ব আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে উগ্রপন্থার বিস্তার এবং বিরাট শক্তিগুলির প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে সূক্ষ্মভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই সফরের লক্ষ্য

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই সফরের লক্ষ্য হল প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনামূলকভাবে সীমিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পথে থাকা কিছু বাধা দূর করা। যদিও ভারত ইথিওপিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। শুল্ক বিষয়ে সহযোগিতা ও পারস্পরিক প্রশাসনিক সহায়তা সংক্রান্ত চুক্তির উদ্দেশ্য হল নথিপত্রের জটিলতা কমানো, তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং চোরাচালান বা ভুল ইনভয়েসিংয়ের মতো সমস্যার মোকাবিলা করা, যা উভয় দেশের রাজস্বের ক্ষতি করতে পারে (Ethiopia)।

    ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য মউ স্বাক্ষরিত

    সমান গুরুত্বপূর্ণ হল ইথিওপিয়ার বিদেশমন্ত্রকে একটি ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য মউ স্বাক্ষরিত হওয়া। এটি সরাসরি ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার রফতানির উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে পরিচয়, লেনদেন (India) ও শাসনব্যবস্থার জন্য নিরাপদ ও স্বল্পব্যয়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত। অনেক আফ্রিকান দেশই এগুলিকে পুরানো ব্যবস্থা এড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে দেখছে। টেলিকম ও আর্থিক খাতের মতো ক্ষেত্রগুলি উদারীকরণে এগিয়ে থাকা ইথিওপিয়ার জন্য, নিরাপদ ডেটা কাঠামো গড়ে তুলতে ভারতের সহায়তা প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি রাজনৈতিক নিশ্চয়তাও জোগায়।

    জি২০ কমন ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে ইথিওপিয়ার ঋণ পুনর্গঠন

    রাজনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফলগুলির একটি হল জি২০ কমন ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে ইথিওপিয়ার ঋণ পুনর্গঠন সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষরিত হওয়া। ইথিওপিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ বৈদেশিক ঋণের চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে। এই বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় ভারতের সমর্থন আদ্দিস আবাবার জন্য বড় ঋণদাতাদের সঙ্গে পুনর্গঠন সংক্রান্ত আলোচনায় একদিকে যেমন নমনীয়তা যোগ করছে, তেমনই আলোচনার বিশ্বাসযোগ্যতাও বাড়াচ্ছে। নয়াদিল্লির দৃষ্টিতে এটি সার্বভৌম ঋণ সংকটে গ্লোবাল সাউথ-বান্ধব একটি দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ, যা অন্য কিছু বড় শক্তির তথাকথিত অস্বচ্ছ বা নিরাপত্তা-সংযুক্ত ঋণদানের ধারণার স্পষ্ট বিরোধী (Ethiopia)।

    মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালের ক্ষমতা বাড়াতে ভারতের প্রতিশ্রুতি

    এই সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল ‘জনকেন্দ্রিক’ ফলের ওপর জোর। এই শব্দবন্ধটি প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। আদ্দিস আবাবার মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালের ক্ষমতা বাড়াতে ভারতের (India) প্রতিশ্রুতি, বিশেষ করে মাতৃ ও নবজাতক পরিচর্যার ক্ষেত্রে, ইথিওপিয়ার জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের একটি দৃশ্যমান ও উচ্চ-প্রভাবযুক্ত প্রকল্প হিসেবেও সামনে আসে। বিশেষায়িত ইউনিট নির্মাণ, চিকিৎসাকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অত্যাবশ্যক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ – এসব উদ্যোগ শহর ও শহরতলি এলাকার মহিলা ও নবজাতকদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে (Ethiopia)।

    ইথিওপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা দ্বিগুণ

    মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আইসিসিআর কর্মসূচির আওতায় ইথিওপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা দ্বিগুণ করা এবং আইটিইসি কাঠামোর অধীনে এআই বিষয়ক স্বল্পমেয়াদি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা – এই দুই উদ্যোগ ইথিওপিয়ার অভিজাত মহলের ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত করছে। বিশেষত এআই-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্সগুলি আদ্দিস আবাবার প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোকে উদীয়মান প্রযুক্তি বোঝার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করবে। এসব উদ্যোগ এমন এক প্রজন্মের ইথিওপীয় পেশাজীবী গড়ে তুলছে, যাঁদের ভারত-অভিজ্ঞতা বাস্তব ও প্রত্যক্ষ – যা কোনও একক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমেও অর্জন করা সম্ভব নয়, এবং যা ভারতের সফট পাওয়ারকে দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর ও শক্তিশালী করে তোলে।

    গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরীক্ষাক্ষেত্র

    একটু পিছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই সফরের ফলগুলি এটা স্পষ্ট করে যে, ভারত আফ্রিকার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততাকে সমমর্যাদার অংশীদারিত্ব হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যার মূল লক্ষ্য সক্ষমতা গঠন, স্থিতিশীলতা এবং স্বনির্ভরতা, কোনও শোষণমূলক চুক্তি নয়। আফ্রিকার একটি জনবহুল রাষ্ট্র হিসেবে (India), আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতরের আতিথ্যকারী এবং লোহিত সাগর, নীল নদের অববাহিকা ও বিস্তৃত হর্ন অব আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থানকারী ইথিওপিয়া এই মডেলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরীক্ষাক্ষেত্র (Ethiopia)। ঋণমকুব, ডিজিটাল পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য সহযোগিতা, শিক্ষা এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ – এই সব কিছুকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত প্যাকেজে উপস্থাপন করার মাধ্যমে মোদি–আবিই রোডম্যাপ দক্ষিণ–দক্ষিণ সহযোগিতার একটি বিকল্প বয়ান হাজির করছে, এমন একটা সময়ে যখন হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাপনা উভয়ই চাপের মুখে রয়েছে। যদি এই উদ্যোগগুলির বাস্তব প্রতিফলন ফিল্ড লেভেলে দেখা যায়, যেমন দ্রুততর শুল্ক ছাড়পত্র, কার্যকর একটি ডেটা সেন্টার, আরও ভালোভাবে সজ্জিত সরকারি হাসপাতাল, এবং ভারতীয় সহায়তায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও বেশি ইথিওপীয় ছাত্র ও শান্তিরক্ষী, তাহলে ভারত–ইথিওপিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্ব নয়াদিল্লির জন্য মহাদেশের অন্যত্রও অনুসরণযোগ্য একটি মডেলে পরিণত হতে পারে (Ethiopia) ।

  • Sheikh Hasina: হিন্দু হত্যা, মিডিয়া অফিসে আগুন, বাংলাদেশের অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: হিন্দু হত্যা, মিডিয়া অফিসে আগুন, বাংলাদেশের অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কট্টরপন্থী ভারতবিরোধী যুবনেতা ওসমান হাদির মৃত্যু এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন শেখ হাসিনা। এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, যে আইনহীন পরিস্থিতি আমার সরকারকে উৎখাত করেছিল, তা ইউনুসের অধীনে আরও বেড়েছে। সহিংসতা এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর অন্তর্বর্তী সরকার হয় তা অস্বীকার করছে, নয়তো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এর ফলে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নয়, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গেও সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

    উনুস মন্ত্রিসভায় চরমপন্থীদের স্থান দিয়েছেন

    শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ইউনুসের শাসনে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উগ্র ইসলামপন্থা ও চরমপন্থী শক্তির কবলে পড়ছে। তাঁর দাবি, “ইউনুস মন্ত্রিসভায় চরমপন্থীদের স্থান দিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের মুক্তি দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিকে প্রকাশ্য জীবনে ভূমিকা নিতে দিয়েছেন। আমার আশঙ্কা, চরমপন্থীরা তাঁকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য মুখ দেখাচ্ছে, আর আড়ালে প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধীরে ধীরে উগ্রপন্থী করে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত এই বিশৃঙ্খলা, সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন এবং আমরা একসঙ্গে যা গড়ে তুলেছিলাম তার ক্ষয় লক্ষ্য করছে। যখন একটি দেশ নিজের সীমানার ভেতর ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারে না, তখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।” হাসিনার কথায়, “এটি শুধু ভারতের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী সব দেশের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের রাজনীতির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ছিল আমাদের অন্যতম শক্তি, যা কয়েকজন উগ্রবাদীর খেয়ালে বিসর্জন দেওয়া যায় না।”

    কেন বাংলাদেশে ভারত বিরোধী হাওয়া চলছে?

    ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির জন্য ফের একবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকেই দায়ী করলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “ইউনূস সরকার যে চরমপন্থীদের বাংলাদেশে বেড়ে উঠতে দিচ্ছেন, তাদের জন্যই এই দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরাই সেই চরমপন্থী যারা ভারতীয় দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের অফিস জ্বালিয়েছে, সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করেছে। এরাই আমাকে এবং আমার পরিবারকে প্রাণ হাতে নিয়ে পালাতে বাধ্য করেছে। ফলে ভারত নিজেদের প্রতিনিধিদের নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে, এটাই স্বাভাবিক। আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, দায়িত্ববান সরকার হলে কূটনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিত, তবে ইউনূস নৈরাজ্যবাদীদের আরও বেশি করে ছাড় দিচ্ছেন। এমনকী তাদের যোদ্ধা হিসেবে তকমা দিচ্ছেন।” প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “ইউনূস প্রশাসন ভারতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বিবৃতি জারি করে। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ওরা ব্যর্থ। বিদেশনীতি পরিচালনা করছে চরমপন্থীরা। এরপর যখন অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে তখন মাথাব্যথা হয়। দশকের পর দশক ভারত এবং বাংলাদেশে একে অপরের বন্ধু রাষ্ট্র। আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অনেক গভীর। ফলে কোনও অস্থায়ী সরকারের কারণে তা নষ্ট হতে পারে না। আমি আশাবাদী, বাংলাদেশে স্থায়ী গণতান্তান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক আবারও দৃঢ় হবে। এই সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস।”

     

     

     

LinkedIn
Share