Tag: bangla news

bangla news

  • PM Modi in Europe: নজরে জ্বালানি-প্রতিরক্ষা-এআই! পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেই পাঁচ দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Europe: নজরে জ্বালানি-প্রতিরক্ষা-এআই! পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেই পাঁচ দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার আবহে আগামী ১৫ মে, শুক্রবার থেকে ছয় দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে শুরু করে ইউরোপের একাধিক দেশে যাবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ভারতের কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত সম্পর্ক আরও গভীর করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। ১৫ থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা এই পাঁচ দেশের সফরে প্রধানমন্ত্রী যাবেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালিতে। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে চলেছে জ্বালানি সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, সবুজ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ব্লু ইকোনমি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, সদ্য সম্পন্ন ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (India-EU FTA) প্রেক্ষাপটে ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করাই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    আমিরশাহীতে আলোচনায় জ্বালানি ও প্রবাসী ভারতীয়রা

    প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের শুরু ১৫ মে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে। সেখানে প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (Mohamed bin Zayed Al Nahyan)-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টানরাশিপ (Comprehensive Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাবে জ্বালানি নিরাপত্তা। এছাড়াও আরবে থাকা প্রায় ৪৫ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসীর কল্যাণও মূল লক্ষ্য। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম বড় উৎস। উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চিলক ও আন্তর্জাতিক নানান বিষয়ে মত বিনিময় করবেন। দ্বিপাক্ষিক সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং মানুষে মানুষে সংযোগের বিষয়টিও স্থান পাবে তাঁদের আলোচ্য সূচীতে।

    নেদারল্যান্ডসে প্রযুক্তি ও সবুজ শক্তি

    সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী যাবেন নেদারল্যান্ডসে। সেখানে তিনি রাজা উইলিয়াম অ্যালেকজান্ডার (Willem-Alexander) এবং রানী ম্যাক্সিমার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। সেদেশের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের (Rob Jetten) সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হবেন। নেদারল্যান্ডসে এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিতীয় সফর। এর আগে তিনি ২০১৭-এ সেখানে যান। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, পরিবেশ বান্ধব হাইড্রজেন, সেমিকন্ডাক্টর ও জল সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৫ থেকে ১৭ মে নেদারল্যান্ডস সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্তমানে ভারত-নেদারল্যান্ডস দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৭.৮ বিলিয়ন ডলার। আগামী দিনে তা কয়েক গুণ বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস বর্তমানে ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ।

    সুইডেনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা ও শিল্প সহযোগিতা

    ১৭ ও ১৮ মে রবিবার সুইডেনের কোটেনবার্গে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে সুইডিস প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারসনের (Ulf Kristersson) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সম্পর্কের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখবেন তারা। এর মধ্যে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, স্টার্ট আপ, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনা। দুই প্রধানমন্ত্রী শিল্পের জন্য ইউরোপীয় রাউন্ড টেবিল বৈঠকেও ভাষণ দেবেন। এই অগ্রণী প্যান ইউরোপীয় বাণিজ্যিক ফোরামের বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েনও (Ursula von der Leyen) উপস্থিত থাকবেন। ২০২৫ সালে ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৭.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুইডেনের বিনিয়োগ ভারতে ২.৮২৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে।

    নরওয়েতে ব্লু ইকোনমি ও নর্ডিক সম্মেলন

    ১৮ থেকে ১৯ মে নরওয়ে সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৪৩ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সে দেশে যাচ্ছেন। নরওয়েতে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেখা করবেন রাজা হারলাড ভি (Harald V) এবং প্রধানমন্ত্রী জোনাস (Jonas) এর সঙ্গে। ভারত-ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং নরওয়ের ২৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। ১৯ মে অসলোতে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ইন্ডিয়া-নর্জিক সামিট (India-Nordic Summit)। সেখানে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেনের নেতারা অংশ নেবেন। আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে আর্কটিক গবেষণা, নবীকরণযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং টেকসই উন্নয়ন। ভারত-নরওয়ে বাণিজ্য ও গবেষণা সম্মেলনেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ প্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বর্তমানে ভারত-নরওয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৭৩ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া নরওয়ের গভর্নমেন্ট পেনশন ফান্ড ভারতের পুঁজিবাজারে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

    ইতালিতে প্রতিরক্ষা ও উদ্ভাবন নিয়ে আলাপচারিতা

    সফরের শেষ পর্যায়ে ১৯ ও ২০ মে ইতালি সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলানির (Giorgia Meloni) সঙ্গে বৈঠকে ২০২৫-২৯ জয়েন্ট স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান (Joint Strategic Action Plan 2025–2029) পর্যালোচনা করা হবে। এই রোডম্যাপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা, শক্তি, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দুই দেশের। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের দেশগুলির কয়েক কোটি মানুষের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। এখান থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত নির্মাণশিল্প এবং অনুসারী শিল্পগুলির ক্ষেত্রে আরও গতি আনবে। এর ফলে বাণিজ্যের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক গণতন্ত্রও পোক্ত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, ২০২৫-২০২৯ যৌথ কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, পরিচ্ছন্ন শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত-ইতালি সম্পর্ক দ্রুত এগোচ্ছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্য ১৬.৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ইতালির মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.৬৬ বিলিয়ন ডলার।

  • Ramakrishna 645: “যে বৃক্ষের নিচে বুদ্ধদেব তপস্যা করিয়া নির্বাণ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, সেই বৃক্ষের স্থানে একটি নূতন বৃক্ষ হইয়াছে”

    Ramakrishna 645: “যে বৃক্ষের নিচে বুদ্ধদেব তপস্যা করিয়া নির্বাণ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, সেই বৃক্ষের স্থানে একটি নূতন বৃক্ষ হইয়াছে”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দশম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ৯ই এপ্রিল

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ কাশীপুরের বাগানে নরেন্দ্রাদি ভক্তসঙ্গে
    বুদ্ধদেব ও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) ভক্তসঙ্গে কাশীপুরের বাগানে আছেন। আজ শুক্রবার বেলা ৫টা, চৈত্র শুক্লা পঞ্চমী। ৯ই এপ্রিল, ১৮৮৬।

    নরেন্দ্র, কালী, নিরঞ্জন, মাস্টার নিচে বসিয়া কথা কহিতেছেন।

    নিরঞ্জন (মাস্টারের প্রতি) — বিদ্যাসাগরের নূতন একটা স্কুল নাকি হবে? নরেনকে এর একটা কর্ম যোগাড় করে —

    নরেন্দ্র — আর বিদ্যাসাগরের কাছে চাকরি করে কাজ নাই!

    নরেন্দ্র বুদ্ধগয়া হইতে সবে ফিরিয়াছেন। সেখানে বুদ্ধমূর্তি দর্শন করিয়াছেন এবং সেই মূর্তির সম্মুখে গভির ধ্যানে নিমগ্ন হইয়াছিলেন। যে বৃক্ষের নিচে বুদ্ধদেব তপস্যা করিয়া নির্বাণ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, সেই বৃক্ষের স্থানে একটি নূতন বৃক্ষ হইয়াছে, তাহাও দর্শন করিয়াছিলেন। কালী বলিলেন, “একদিন গয়ার উমেশ বাবুর বাড়িতে নরেন্দ্র গান গাইয়াছিলেন, — মৃদঙ্গ সঙ্গে খেয়াল, ধ্রুপদ ইত্যাদি।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ হলঘরে বিছানায় বসিয়া। রাত্রি কয়েক দণ্ড হইয়াছে। মণি একাকী পাখা করিতেছেন। — লাটু আসিয়া বসিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মণির প্রতি) — একখানি গায়ের চাদর ও একজোড়া চটি জুতা আনবে।

    মণি — যে আজ্ঞা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — চাদর দশ আনা ও জুতা, সর্বসুদ্ধ কত দাম?

    লাটু — একটাকা দশ আনা।

    ঠাকুর মণিকে দামের কথা শুনিতে ইঙ্গিত করিলেন।

    নরেন্দ্র আসিয়া উপবিষ্ট হলেন। শশী, রাখাল ও আরও দু-একটি ভক্ত আসিয়া বসিলেন। ঠাকুর নরেন্দ্রকে পায়ে হাত বুলাইয়া দিতে বলিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ ইঙ্গিত করিয়া নরেন্দ্রকে বলিতেছেন — “খেয়েছিস?”

    বুদ্ধদেব কি নাস্তিক? “অস্তি নাস্তির মধ্যের অবস্থা”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি, সহাস্যে) — ওখানে (অর্থাৎ বুদ্ধগয়ায়) গিছল।

    মাস্টার (নরেন্দ্রের প্রতি) — বুদ্ধদেবের কি মত?

    নরেন্দ্র — তিনি তপস্যার পর কি পেলেন, তা মুখে বলতে পারেন নাই। তাই সকলে বলে, নাস্তিক।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)  — নাস্তিক কেন? নাস্তিক নয়, মুখে বলতে পারে নাই। বুদ্ধ কি জানো? বোধ স্বরূপকে চিন্তা করে করে, — তাই হওয়া, — বোধ স্বরূপ হওয়া।

  • Trump China Visit: চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, কী কারণে বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    Trump China Visit: চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, কী কারণে বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনদিনের চিন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump China Visit)। ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চিনে থাকবেন তিনি। বহুচর্চিত এই রাষ্ট্রীয় সফর ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Xi Jinping) বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পা রাখেননি চিনে। ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও এটিই প্রথম চিন সফর। যদিও তাঁর প্রথম মেয়াদের ২০১৭ সালের সফরের পর এটিই প্রথম তাঁর চিন-যাত্রা।

    সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষার আড়ালে চাপ! (Trump China Visit)

    চিন সম্পর্কে নানা সময় কড়া ভাষায় মন্তব্য করলেও, ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। গত সপ্তাহেও তিনি শি-কে ‘ভালো মানুষ’ এবং ‘বুদ্ধিমান মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন। জানিয়ে দেন, তাঁদের মধ্যে ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির খবরাখবর যাঁরা রাখেন, তাঁদের মতে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষার আড়ালে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠক এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে কূটনৈতিক সাফল্যে রূপ দিতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্পের দেশ। ট্রাম্পের বেজিং সফরের ওপর সবচেয়ে বড় ছায়া ফেলেছে ইরান সঙ্কট। কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউস চেষ্টা করছে যাতে চিন তেহরানের ওপর তার প্রভাব খাটিয়ে মার্কিন-সমর্থিত সমাধান নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তা না হলেও, অন্তত যাতে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়া হয়, সেজন্য চাপ সৃষ্টি করে।

    মার্কিন প্রভাবের সীমাবদ্ধতা

    যদিও এই যুদ্ধে আমেরিকা সরাসরি পরাজিত হয়নি, তবে এই সংঘাত মার্কিন প্রভাবের সীমাবদ্ধতার কঙ্কালসার চেহারাটাই বেআব্রু (Xi Jinping) করে দিয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অশান্তির প্রভাব পড়লেও, এখনও যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেনি ওয়াশিংটন। ট্রাম্প অবশ্য (Trump China Visit) মচকাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “আমি এর শেষ দেখতে চাই।”  অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ ওই প্রণালী ফের চালু করতে যে তিনি মরিয়া, তা স্পষ্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্যেই। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। কারণ তিনি তেহরানের (ইরানের রাজধানী) সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। আধিকারিকদের মতে, ওই প্রস্তাবে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু সমঝোতার ইঙ্গিত ছিল। যদিও ট্রাম্প সেটিকে ‘জঞ্জাল’ বলে উড়িয়ে দেন। এহেন আবহে ওয়াশিংটন তাকিয়ে রয়েছে বেজিংয়ের সাহায্যের দিকে। চিন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার এবং এখনও বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল কেনে। তাই তেহরানের ওপর তাদের এমন প্রভাব রয়েছে, যা আমেরিকারও নেই।

    বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞের বক্তব্য

    হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিনা (Xi Jinping) বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ আলেহান্দ্রো রেয়েস বলেন, “ট্রাম্প আলোচনায় প্রবেশ করছেন দুর্বল অবস্থান থেকে। ট্রাম্পের চিনকে প্রয়োজন চিনের তুলনায় বেশি (Trump China Visit)।” তিনি এও বলেন, “ট্রাম্প একটি বিদেশনীতি-সংক্রান্ত সাফল্য চান। এমন একটি সাফল্য, যা দেখাবে তিনি শুধু বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন না, বরং স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করতে চাইছেন।” এদিকে, ট্রাম্পের চিন সফরের আগে উত্তেজনা কমানোর তেমন কোনও ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান। ইরানের নয়া সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি বলেন, “মিস্টার ট্রাম্প, কখনও ভাববেন না যে ইরানের বর্তমান শান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আপনি বিজয়ীর বেশে বেজিংয়ে ঢুকতে পারবেন।” অন্যদিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ফের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ থেকে স্পষ্ট সংঘাত এখনও শেষ হয়নি (Trump China Visit)।

    ইরান ইস্যুতে চিনের সাহায্য বিনামূল্যে!

    তবে ইরান ইস্যুতে চিনের সাহায্য বিনামূল্যে আসবে না। বেজিং হয়তো ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করবে, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে। প্রসঙ্গত, চিন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে মনে করে। তাইপের (তাইওয়ানের রাজধানী) সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরুদ্ধে বারবার সোচ্চার হয়েছে চিন। মনে রাখতে হবে, ওয়াশিংটনের নীতিতে সামান্য পরিবর্তনও এশিয়ায় মার্কিন মিত্রদের উদ্বিগ্ন করতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের কূটনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বেজিং হয়তো তাইওয়ানের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি শিথিল করার চেষ্টা করবে। তাই এই বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, চিনের সহযোগিতার বিনিময়ে কতদূর আপস করতে প্রস্তুত ট্রাম্প। শি-ট্রাম্প বৈঠকের আর একটি বড় বিষয় হবে বাণিজ্য, বিশেষ করে গত বছরের তীব্র শুল্কযুদ্ধের পর (Xi Jinping)।

    হাতিয়ার যখন বিরল খনিজ রফতানি

    এই বৈঠকের পথ তৈরি হয় অক্টোবর মাসে বুসানে, যখন দুই দেশ ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছিল। সেই সংঘাতে চিনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক পৌঁছেছিল ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (Trump China Visit)। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চিন বিরল খনিজ (Rare Earth Minerals) রফতানিতে কড়াকড়ি করে। এসব খনিজ আমেরিকার প্রযুক্তি কোম্পানি ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিনের কড়াকড়ির জেরে আমেরিকার কয়েকটি কারখানায় দেখা দেয় বড় ধরনের উৎপাদন সমস্যা। এই অচলাবস্থা দেখিয়ে দেয়, চিন এখন আমেরিকার অর্থনীতির কৌশলগত খাতগুলিতেও আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। বর্তমানে উভয় পক্ষই অন্তত সাময়িকভাবে সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে আগ্রহী। চিন মার্কিন প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও রফতানি নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা চায়। আর ওয়াশিংটন চায় চিন আরও বেশি করে মার্কিন পণ্য কিনুক, প্রতিশ্রুতি দিক নয়া লগ্নির (Trump China Visit)।

    সংঘর্ষের সুতোয় জড়িয়ে গিয়েছে সব

    সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচিত বিমান চুক্তি। জানা গিয়েছে, চিন ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এবং আরও কয়েক ডজন ওয়াইড-বডি বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ২০১৭ সালের পর এটাই হবে চিনের সবচেয়ে বড় বোয়িং কেনা। আমেরিকা আরও চাইছে চিন যেন সয়াবিন, মুরগি, গরুর মাংস, কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস-সহ মার্কিন কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়ায় (Xi Jinping)। বিশ্লেষকদের মতে, চিনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার এখনও তাদের বিরল খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ। বেজিং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য আমেরিকাকে দীর্ঘমেয়াদি বিরল খনিজ সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে পারে, যদিও সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত সরবরাহ সীমিত রাখবে (Trump China Visit)। এই কৌশলগত প্রভাবই ট্রাম্পের চিন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হয়ে উঠতে পারে, যেখানে কূটনীতি, বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা – সব একসঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে সংঘর্ষের সুতোয়।

     

  • Shamik Bhattacharya: ‘কোনও দলকে টাকা দিতে হবে না’! শিল্পপতিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান শমীক ভট্টাচার্যের

    Shamik Bhattacharya: ‘কোনও দলকে টাকা দিতে হবে না’! শিল্পপতিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান শমীক ভট্টাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্প করতে গেলে আর কোনও রাজনৈতিক দলকে টাকা দিতে হবে না। বাংলায় নতুন সরকার ভয়মুক্ত শিল্পের পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর। রাজ্য তথা দেশের শিল্পপতিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার শহরে একটি বণিকসভার অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শমীক। তিনি জানান, এই রাজ্যে যে সরকার তৈরি হয়েছে, সেটা পশ্চিমবঙ্গের সরকার হবে, বিজেপির নয়। রাজনৈতিক দল এবং সরকারে মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করতে হবে বলেও দাবি রাজ্য বিজেপি সভাপতির।

    শিল্পপতিদের আহ্বান

    পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের ‘দুরবস্থার’ কথা বলতে গিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলেন, ‘‘এখানে মেধার বিকাশের কোনও সুযোগ নেই।’’ পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যে শিল্পের কী অবস্থা হয়েছে, তার উদাহরণ তুলে ধরেন শমীক। তৃণমূল সরকারের আমলে ফি বছরই পশ্চিমবঙ্গে ‘গ্লোবাল বিজনেস সামিট’-এর আয়োজন করা হত। সেই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের পাশাপাশি রাজ্যের অনেক শিল্পপতিও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মঞ্চে থাকতেন। সেই প্রসঙ্গে টেনে শমীক বলেন, ‘‘যাঁরা বিবৃতি দিতেন, তাঁদের ১০ বছরের ব্যালেন্স সিটগুলি খুলে দেখুন। প্রায় সকলেই তাঁদের মূলধন অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পপতিদের জন্য নতুন গন্তব্য হয়ে গিয়েছে উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ।’’

    জমিনীতির বদল চাই

    পূর্বতন সরকারে জমিনীতিরও সমালোচনা করেছেন শমীক। জমি অধিগ্রহণের নীতি বদলের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। আশ্বস্ত করেন, নতুন সরকার নতুন ভাবে সব কিছু ভাবছে। রাজ্যে শিল্প আসার পথে যে যে বাধা, প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর হবে। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানায় যে পন্থা নেওয়া হয়, পশ্চিমবঙ্গে তা চালু হবে। তার পরেই শিল্পপতিদের বার্তা, ‘‘আপনারা এখানে নির্ভয়ে বিনিয়োগ করুন। কোম্পানি তৈরি করুন। পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্প আনতে হবে। আমরা নতুন জমি নীতি নিয়ে আসব। আগামী দিনে কেউ এখানে কোনও ফ্যাক্টরি করতে গেলে কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী আপনাদের কাছে টাকা চাইতে আসবে না।’’

    ভয়মুক্ত পরিবেশ

    শমীক আরও বলেন, ‘‘ভারতের বহু বিনিয়োগকারী পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না।’’ শিল্প নিয়ে বিজেপির যে ‘সংকল্প’ ছিল, তা পূরণ হবে বলেও আশ্বাস দেন শমীক। তাঁর বার্তা, শিল্প বা কারখানা তৈরি করতে কেউ যদি কোনও বাধার সৃষ্টি করেন, তবে সরাসরি পুলিশকে জানান।

    শমীকের নিশানায় সৌরভ

    প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম না করে এদিন তাঁকে খোঁচা দেন শমীক। তাঁর কথায়, ‘‘আমি এক ভদ্রলোককে চিনতাম। আমরা জানতাম উনি স্টেপ আউট মেরে ওভার বাউন্ডারি মারতেন। তার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। আমরা দেখলাম তিনি বাউন্ডারির বাইরে থেকে বল থ্রো করছেন। স্পেন থেকে ঘোষণা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের। কোনও মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না।’’ উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মমতার স্পেন সফরে সঙ্গী ছিলেন সৌরভও। মাদ্রিদের বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, শালবনিতে নতুন করে ইস্পাত কারখানা গড়ে উঠবে। শমীকের স্পষ্ট বার্তা, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে এ রাজ্যের জন্য বিনিয়োগ হোক। কোনও বিনিয়োগের ঘোষণার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

  • Sujit Bose: ইডি হেফাজতে তৃণমূলের সুজিত বসু, ‘রহস্যজনক’ লেনদেনে নজর ইডির

    Sujit Bose: ইডি হেফাজতে তৃণমূলের সুজিত বসু, ‘রহস্যজনক’ লেনদেনে নজর ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে পেশ করা হয় তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে (Sujit Bose)। তদন্তকারী সংস্থা ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী জানিয়েছিলেন, সুজিত বসুকে ১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার জন্য (BKM Project) তাঁরা আবেদন করেছিলেন। আদালত সুজিতকে ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।

    ইডি গ্রেফতার করে সুজিতকে (Sujit Bose)

    পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার রাতেই টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি গ্রেফতার করে সুজিতকে। মঙ্গলবার তোলা হয় আদালতে। ইডির আইনজীবী জানান, সুজিতের রহস্যজনক লেনদেনে নজর রাখছেন তাঁরা। ‘স্বভূমি প্রজেক্ট প্রাইভেট লিমিটেডে’র সঙ্গে লেনদেনের হদিশও মিলেছে। তাঁর দাবি, একাধিক ভুয়ো সংস্থা এবং জমিতে বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করার চেষ্টা হয়েছে। আদালতে ধীরাজ জানান, নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মধ্যে দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন সুজিত। বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থায় লগ্নিও করেছেন। করোনা অতিমারীর সময় লকডাউন চলাকালীন সুজিতের রেস্টুরেন্ট পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও সেখান থেকে তিনি রোজগার করেন কোটি টাকা। ধীরাজ বলেন, “লকডাউনের সময় সুজিতের রেস্টুরেন্ট, বেঙ্গল ধাবা বন্ধ ছিল। তা সত্বেও সেখানে লেনদেন হয়েছে কোটি কোটি টাকা।”

    দুর্নীতির টাকা

    আইনজীবী জানান, দুর্নীতির টাকা চাইনিজ কুইজিনের রেস্টুরেন্ট, বেঙ্গল ধাবা এমনকি অন্য একটি রেস্টুরেন্টে ক্যাশ ডিপোজিটও করা হয়েছে। ইডির বক্তব্য, লকডাউনের সময় ১.১১ কোটি টাকার বিক্রি হয়েছে সুজিত বসুর রেস্টুরেন্টে! কোভিডের সময় রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। কর্মীরা ছুটিতে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও রোজগার বন্ধ হয়নি ওই রেস্টুরেন্ট থেকে। কোটি কোটি টাকার বিক্রি দেখানো হয়েছে। ইডির দাবি, এই গোটা বিষয়টিই মানি লন্ডারিংয়ের নজির। সওয়াল করতে গিয়ে আদালতে ধীরাজ বলেন, “করোনার সময় ধাবা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সুজিতের (Sujit Bose) ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। সুজিতের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির লেনদেনের হদিশ মিলেছে। একাধিক সংস্থার সঙ্গেও লেনদেন করেছেন তিনি।”

    সুজিতের আইনজীবী বলেন, “ওঁরা যে নথির ওপর ভিত্তি করে সুজিতকে গ্রেফতার করেছেন, সেসব ২০২২-২৩ সালের নথি। তাহলে ২০২৬ সালের মে মাসে এসে এখন কেন গ্রেফতার করা হল? ২০২২ সালে বয়ান নেওয়ার পর এখন গ্রেফতার করা হচ্ছে কেন?” যদিও তদন্তে মেলা একাধিক তথ্যপ্রমাণ সামনে রেখে (BKM Project) ইডির আইনজাবী বলেন, “সুজিত বসু প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি ছাড়া পেলে অন্যদের সতর্ক করে দেবেন। এতে তদন্ত ব্যাহত হবে (Sujit Bose)।”

     

     

  • TMC Leader Shamim Ahmed: অরূপ রায়-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়িতে গোপন সুড়ঙ্গ! শোয়ার ঘরে রাজ-পালঙ্ক, তল্লাশিতে গিয়ে পুলিশ থ

    TMC Leader Shamim Ahmed: অরূপ রায়-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়িতে গোপন সুড়ঙ্গ! শোয়ার ঘরে রাজ-পালঙ্ক, তল্লাশিতে গিয়ে পুলিশ থ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের শাসনে এই রকম উন্নয়ন অকল্পনীয়। তবে তৃণমূল নেতাদের আর্থিক সমৃদ্ধির দৃশ্য খোদ তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদেরকেই রীতিমতো চমকে দিয়েছে। ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন স্থাপত্যের অস্তিত্ব থাকতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তদন্তকারীরা। হাওড়ার (Howrah) শিবপুরের চওড়াবস্তি এলাকায় পলাতক তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ ওরফে ‘বড়ে’-র বাসভবনে তল্লাশি চালাতে গিয়ে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গেলেন পুলিশ আধিকারিকরা। কেবল বহুমূল্য আসবাব বা মুঘল ঘরানার স্থাপত্য নয়, বাড়ির অন্দরে মাটির নিচে আবিষ্কৃত হয়েছে এক রহস্যময় গোপন সুড়ঙ্গ। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, বিপদের সময় আইন-শৃঙ্খলার নজর এড়িয়ে পলায়নের উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে এই আলিশান রাজমহল (TMC Leader Shamim Ahmed) নির্মাণের টাকা কোথা থেকে আসতো? আসুন দেখে নিই কুখ্যত শামিম আহমেদের কুকীর্তি।

    আভিজাত্যের আড়ালে রহস্যের জাল (Howrah)

    নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা এবং বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের এক নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত শামিম আহমেদ (TMC Leader Shamim Ahmed) বর্তমানে পলাতক। তাঁর খোঁজে শিবপুরের ওই প্রাসাদে হানা দেয় পুলিশ। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই আধিকারিকদের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। সুড়ঙ্গ পেরলেই ‘সিংহদুয়ার’। নেমপ্লেটে লেখা শামিম আহম্মেদ নাম। দরজা খুললেই ভিতরে এলাহি ব্যবস্থা। গোটা বাড়ির সিসিটিভি মনিটরিং চলছে ওই ঘর থেকে।

    হাওড়ার তৃণমূল (TMC) নেতা শামিম আহমেদের সেই বাড়ির ছবি ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। দামি আসবাবপত্র, সিনেমার সেটের মতো সজ্জা এবং কারুকার্যমণ্ডিত ঘরগুলি আভিজাত্যের চরম নিদর্শন। তবে তল্লাশি চলাকালীন মাটির নিচে সুড়ঙ্গের সন্ধান মিলতেই পুরো পরিস্থিতি ভিন্ন মাত্রা পায়। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই রহস্যময় সুড়ঙ্গ এবং নেমপ্লেট সম্বলিত শামিমের ঘরের চিত্র। এই সুড়ঙ্গ পথটি ঠিক কোথায় গিয়ে মিশেছে এবং এর মাধ্যমে কোনও অপরাধমূলক কারসাজি চলত কি না, তা নিয়ে ইতিপূর্বেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

    সাধারণ জীবন থেকে ক্ষমতার শিখরে: শামিমের উত্থান

    মধ্য হাওড়ার (Howrah) রাজনৈতিক অলিন্দে কান পাতলে শামিম আহমেদের উল্কাসম উত্থানের কাহিনী শোনা যায়। জানা যায়, একসময় শপিং মলের সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করা এই ব্যক্তি সময়ের ব্যবধানে এলাকার বেতাজ বাদশা হয়ে ওঠেন। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্বামী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের ছায়াসঙ্গী (TMC Leader Shamim Ahmed) হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘বড়ে’ বা কেউ কেউ ‘ডন’ হিসেবেও পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে তিনি ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।

    রাজনৈতিক উত্তাপ ও অভিযোগের আঙুল

    শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed) বাড়িতে (Howrah) এই গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা শুরু করেছে।

    রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “তদন্ত যত এগোবে, সুড়ঙ্গ বা গুহার পাশাপাশি টাকার পাহাড়ও বেরিয়ে আসবে।” অন্যদিকে, শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ সরাসরি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, “হাওড়ার মতো প্রাচীন শহরকে জমি প্রোমোটিং, মাদক ব্যবসা এবং লুটের রাজত্বে পরিণত করার নেপথ্যে এই নেতারাই মদতদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। অপরাধীদের সুরক্ষা দিতে পুলিশকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”

    প্রশাসনিক তৎপরতা

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed)  সুড়ঙ্গ পথটি জরুরি অবস্থায় আত্মগোপন করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তৃণমূল নেতার এই ‘অপারেশনাল স্টাইল’ কোনও অন্ধকার জগতের অপরাধীদের কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সুড়ঙ্গের বিস্তৃতি এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো গোপন কার্যকলাপের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এনআইএ-ও গ্রেফতার করেছিল শামিমকে

    এই প্রথমবার শামিমের (TMC Leader Shamim Ahmed) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, তা নয়। আগেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। হাওড়ায় (Howrah) রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলা চালানোর অভিযোগে যখন এনআইএ তদন্তভার নিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল এই বড়েকে। যদিও সেই সময় তদন্তে ভাইরাল ভিডিয়ো সম্পর্কে হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা কিছু জানাতে চাননি। তৃণমূলের শাসনে তোষণ নীতির কারণে শামিম রক্ষা পেলেও বিজেপি সরকারের দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে জিরো টোলারেন্স নীতি গ্রহণ করার সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে। রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল এবং নতুন সরকারের কড়া অবস্থানের মাঝেই এই ধরণের ঘটনা শাসকদলের ভাবমূর্তিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার, এই সুড়ঙ্গের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কোন পথে এগোয়।

  • Bangladesh Cricket Investigation: টি২০ বিশ্বকাপে ভারতে কেন খেলেনি বাংলাদেশ? তদন্ত কমিটি গঠন তারেক প্রশাসনের

    Bangladesh Cricket Investigation: টি২০ বিশ্বকাপে ভারতে কেন খেলেনি বাংলাদেশ? তদন্ত কমিটি গঠন তারেক প্রশাসনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে খেলতে আসতে পারবে না, এই অজুহাতে ২০২৬ সালের আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ (Bangladesh Cricket Investigation)। আর সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল, তার কারণ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করল বাংলাদেশ সরকার। সরকার বদলের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটেও বদল এসেছে। অন্তর্বর্তী বোর্ডের সভাপতি হয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে ঠিক করেননি তৎকালীন বিসিবি (BCB) কর্তারা। প্রথম থেকে কড়া অবস্থান ছিল না আইসিসি-র, এমনটাই মনে করেন তামিম। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করার সুযোগ ছিল বলেই জানালেন তিনি। তার পরেও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করা যে হতাশাজনক, তা স্পষ্ট জানালেন তামিম।

    তদন্ত কমিটি গঠন

    চলতি বছর সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপ থেকে বয়কট করা হয়েছিল। সেই বিষয়ে এবার শুরু হবে তদন্ত। বাংলাদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া দফতরের সচিব মাহবুব উল ইসলাম সংবাদসংস্থা এএনআই-কে বলেন, “ভারতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া দফতর।”কমিটিতে রয়েছেন যুব ও ক্রীড়া দফতরের প্রশাসনিত শাখার অতিরিক্ত সচিব একেএম ওলি উল্লাহ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান নির্বাচক তথা দেশের ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা ক্রীড়া উদ্যোক্তা ফয়সল দাস্তগির। ওলি উল্লাহকে এই কমিটিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হবে

    জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ঠিক কী কী কারণ ছিল, কোনও কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে ভারতে খেলতে আসতে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের অভিযোগ ছিল, ভারতে চরমপন্থী গোষ্ঠীর হুমকির জেরে বিসিসিআই নাকি বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের দল ভারতে খেলতে আসতে চায়নি। তৎকালীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম ভারতে বাংলাদেশী খেলোয়াড়, স্টাফ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও তাঁর যুক্তি উড়িয়ে দেয় আইসিসি এবং বিসিসিআই। কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বিসিবিকে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয়।

    বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত ভুল!

    তৎকালীন বিসিবি কর্তাদের বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রাক্তন ক্রিকেটার ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের একাংশ তীব্র সমালোচনা করেন। শাকিব আল হাসানের মতো বাংলাদেশি ক্রিকেটার জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। বিশ্বকাপ খেলা উচিত ছিল বাংলাদেশের। বিসিবি-র বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল বলেন, ‘বিশ্বকাপের এই ইস্যু নিয়ে সম্ভবত আমিই প্রথম মুখ খুলেছিলাম। কিন্তু যা হয়েছে, তা একেবারেই উচিত হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন কর্তারা যে ভাবে এই বিষয়টা সামলান, তা ভুল ছিল।’

  • NEET UG Exam Cancelled: প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, নিট ইউজি ২০২৬-এর পরীক্ষা বাতিল, ফের বসতে হবে পরীক্ষায়

    NEET UG Exam Cancelled: প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, নিট ইউজি ২০২৬-এর পরীক্ষা বাতিল, ফের বসতে হবে পরীক্ষায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কলঙ্কিত হয়েছিল নিট ইউজি ২০২৬-এর পরীক্ষা (NEET UG Exam Cancelled)। ৩ মে হওয়া ওই পরীক্ষাই বাতিল করে দেওয়া হল মঙ্গলবার (CBI Probe)। উল্লেখ্য, স্নাতক স্তরের মেডিকেল কোর্সে ভর্তি হতে নেওয়া হয় এই পরীক্ষা। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) জানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বর্তমান পরীক্ষাপদ্ধতি বহাল রাখা সম্ভব নয়। তারা এও জানিয়েছে, ফের পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং নয়া তারিখ ঘোষণা করা হবে খুব শীঘ্রই। জানা গিয়েছে, প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম প্রবেশিকা পরীক্ষা।

    ‘গেস পেপার’ (NEET UG Exam Cancelled)

    ৩ মে পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল কিনা, তা জানতে রাজস্থানে তদন্ত করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ। তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি হাতে লেখা প্রশ্নপত্র, যেটিকে ‘গেস পেপার’ বলা হচ্ছিল (শেষ মুহূর্তের অনুশীলনের জন্য তৈরি কোয়েশ্চানব্যাঙ্ক), তার সঙ্গে আসল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের আংশিক মিল পাওয়া গিয়েছে। প্রকৃত পরীক্ষায় আসা প্রায় ১৪০টি প্রশ্ন, যার মান ৬০০ নম্বর (মোট ৭২০ নম্বরের পরীক্ষা), সেই হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যায়। এই প্রশ্নপত্রটি পরীক্ষার দু’ থেকে তিনদিন আগে ছড়িয়ে পড়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রশ্নপত্র রাজস্থানের সীকর জেলা থেকেই ফাঁস হয়েছে। রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ ইতিমধ্যেই সীকর জেলা থেকে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৫ জনকে আটক করেছে। জয়পুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মণীশ নামে এক ব্যক্তিকে। অনুমান, সে-ই এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ‘মূলচক্রী’।

    পরীক্ষাকে ঘিরে ‘অনিয়মের অভিযোগ’

    রবিবারই এনটিএ জানিয়েছিল, তারা রাজস্থান পুলিশের তদন্ত সম্পর্কে অবগত, পরীক্ষাকে ঘিরে ‘অনিয়মের অভিযোগ’ সম্পর্কেও তারা জানে। তাদের দাবি, পরীক্ষার কয়েকদিন পর তারাই প্রথম ‘অসৎ উপায়’ সম্পর্কে জানতে পারে। সঙ্গে সঙ্গেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে। সেই বিবৃতি জারির দু’দিন পরে মঙ্গলবার, পুরো পরীক্ষাই বাতিল করে দিল এনটিএ। তাদের মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখার পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট, পরীক্ষাপদ্ধতি সম্ভবত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে ওই সংস্থা জানিয়েছে, সমস্ত প্রমাণ বিবেচনা করে দেখা গিয়েছে, এই পরীক্ষা বহাল রাখা সম্ভব নয়। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, জাতীয় স্তরের পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজন ছিল (CBI Probe)।

    ফের ওই পরীক্ষা হবে

    কেন্দ্রীয় সরকার এই মামলাটির তদন্তের ভার তুলে দিয়েছে সিবিআইয়ের হাতে। পরীক্ষার (NEET UG Exam Cancelled) আগে কীভাবে এই তথাকথিত ‘গেস পেপার’ ছড়িয়ে পড়ল, এর পেছনে কোনও সংগঠিত দুর্নীতি ছিল কিনা, তা তদন্ত করবে সিবিআই। এনটিএ  জানিয়েছে, তারা তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি, তথ্য সরবরাহ করবে। কেবলমাত্র রাজস্থানেই নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে এখনও পর্যন্ত ৪৫ জনেরও বেশি জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ‘গেস পেপার’টি সম্ভবত ছাপাখানা থেকে বেরিয়েছিল, যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় ত্রুটির ইঙ্গিত। সূত্রের খবর, হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের একটি সংস্করণ ছড়িয়ে পড়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট, ছাপার সময়ই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে থাকতে পারে (CBI Probe)। এনটিএ জানিয়েছে, ফের ওই পরীক্ষা হবে, শীঘ্রই সরকারি মাধ্যমে জানানো হবে নতুন তারিখ।

    কী বলছে সংস্থা?

    সংস্থাটি স্বীকার করেছে, ফের পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অসুবিধা হবে। কিন্তু তাদের মতে, একটি কম্প্রোমাইজড পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় ক্ষতির কারণ হত, নষ্ট করত পরীক্ষাব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা (NEET UG Exam Cancelled)। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ফের আবেদন করতে হবে না। আগের সমস্ত তথ্য ব্যবহার করা হবে। রেজিস্ট্রেশন তথ্য ও প্রার্থীর বিবরণ বহাল থাকবে। আগের পরীক্ষাকেন্দ্রেই পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা বাবদ অতিরিক্ত কোনও ফি নেওয়া হবে না। জমা দেওয়া ফি ফেরত দেওয়া হবে। নতুন করে পরীক্ষার আগে দেওয়া হবে নয়া অ্যাডমিট কার্ড (CBI Probe)। পরীক্ষার্থীদের শুধুমাত্র এনটিএর ঘোষণার ওপরই নির্ভর করতে বলা হয়েছে। পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো খবর। শিক্ষার্থীদের ফের প্রস্তুত হতে হবে পরীক্ষার জন্য।

    পরীক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

    পরীক্ষা বাতিলের এই ঘটনা আবারও ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিট দেশের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সরাসরি লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ন্যায্য সুযোগকে প্রভাবিত করে (NEET UG Exam Cancelled)। প্রসঙ্গত, পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা ব্যবস্থায় অসৎ উপায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি দেখাতে চেয়েছেন এবং পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

     

  • Garga Chatterjee: গ্রেফতার ‘বাংলা পক্ষ’-র প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়, কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে?

    Garga Chatterjee: গ্রেফতার ‘বাংলা পক্ষ’-র প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায়, কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলের হাতে গ্রেফতার হলেন ‘বাংলা পক্ষ’-র (Bangla Pokkho) প্রতিষ্ঠাতা তথা সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় (Garga Chatterjee)। মূলত ইভিএম (EVM) নিয়ে প্ররোচনামূলক মন্তব্য এবং গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাঁকে লালবাজারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। মঙ্গলবার সকালে দেশপ্রিয় পার্ক থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গর্গকে গ্রেফতারের সময় তাঁর পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার (PSO)-র কাছ থেকে ২৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কলকাতা উত্তরের ডিইও-র অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন গর্গকে গ্রেফতার করা হয়। আগামিকাল, বুধবার আদালতে পেশ করা হবে গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে।

    নির্বাচন কমিশনের অভিযোগে গ্রেফতার

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ইভিএম-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেশ কিছু মন্তব্য করেছিলেন গর্গ। তাঁর সেই সব মন্তব্যকে ঘিরেই আপত্তি জানায় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের পক্ষ থেকে কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) সাইবার ক্রাইম (Cyber Crime) বিভাগে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন কলকাতা উত্তরের ডিইও স্মিতা পান্ডে।  অভিযোগ ছিল, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর অনাস্থা তৈরি করতেই সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়েছেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন তদন্তকারীরা তাঁকে গ্রেফতার করেন।

    কী বলেছিলেন গর্গ?

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন গর্গ। রাতে দেখেশুনে সিল করে রাখার পরও, ভোটগণনার সময় ইভিএম খারাপ হচ্ছে কেন, প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন গর্গ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণনার সময় ইভিএম হাতবদল হয়েছে। পাশাপাশি, ‘‘বেলার দিকে নির্বাচন কমিশনের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে’’ বলেও মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে। তার আগে, ভোট দিয়ে বেরনোর আগে ভালো করে ভিভিপ্যাট দেখে নিতেও পরামর্শ দিয়েছিলেন গর্গ। তদন্তকারীদের দাবি, নির্বাচন চলাকালীন এই ধরণের মন্তব্য সরাসরি আদর্শ আচরণবিধি এবং সাইবার আইন লঙ্ঘন করে। গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে মঙ্গলবার রাতটা লালবাজারের লক-আপেই কাটাতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, আগামিকাল অর্থাৎ বুধবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারে পুলিশ।

    ২০২২ সালেও গ্রেফতার হয়েছিলে গর্গ

    গর্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস করেছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন।  ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি বাংলা পক্ষ প্রতিষ্ঠা করেন।  বাঙালি অস্মিতাকে সামনে রেখে তৈরি ‘বাংলা পক্ষ’র প্রধান গর্গ। নির্বাচনের আগে কমিশনের বিরুদ্ধে শোভাযাত্রায় অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ তোলে ‘বাংলা পক্ষ’। তাদের দাবি ছিল, পয়লা বৈশাখে শোভাযাত্রা বের করতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু তাদের অনুমতি দেয়নি কমিশন। অনুমতি না দিয়ে কমিশন ‘বাঙালির গৌরব এবং সংস্কৃতির’ উপর আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করে তারা। যদিও কমিশন জানায়, আদর্শ আচরণ বিধি কার্যকর থাকায় অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর আগে, এর আগে ২০২২ সালে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০২০ সালের জুনে অহম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল গর্গের বিরুদ্ধে। অসমের একাধিক জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেইসময় আদালত ২ বার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

LinkedIn
Share