Tag: bangla news

bangla news

  • Suvendu Attacks Mamata: ‘আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন’, মানহানির নোটিসের জবাব না মেলায় মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Mamata: ‘আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন’, মানহানির নোটিসের জবাব না মেলায় মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata)। সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জন্য গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে আইনজীবী মারফত একটি মানহানির নোটিস পাঠান তিনি। কিসের ভিত্তিতে মমতা ওই মন্তব্য করেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই প্রামাণ্য নথি চেয়েছিলেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার দেওয়া ওই সময়সীমা ইতিমধ্যে অতিক্রম করেছে। কিন্তু সেই চিঠির উত্তর মেলেনি। এবার তাই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেন শুভেন্দু।

    ‘আদালতে দেখা হবে’

    সমাজমাধ্যমে শুভেন্দু (Suvendu Attacks Mamata) লেখেন, “তাঁকে (মুখ্যমন্ত্রীকে) দেওয়া সময়সীমা এখন অতিক্রম হয়ে গিয়েছে, এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে আমার নাম কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে তাঁর কল্পিত অভিযোগগুলির কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই ওনার কাছে, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত তাই বিপাকে পড়ে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।” বিরোধী দলনেতার দাবি, কী জবাব দেবেন, তা হয়তো মুখ্যমন্ত্রী বুঝে উঠতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তিনি আরও লেখেন, “এবার উনি আদালতে আইনি পরিণতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার আপনার সাথে আদালতে দেখা হবে।”

    কেন শুভেন্দুর আইনি চিঠি

    অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata) জড়িয়ে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই এই আইনি চিঠি নন্দীগ্রামের বিধায়কের। চিঠিতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ফলাফলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আই প্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি তল্লাশি থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে বাংলা তথা গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির মাঝে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রীকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিঁধে দাবি করেছিলেন, ইডি-র মাধ্যমে তাঁর দলের স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যদিও ইডি বিবৃতি দিয়ে জানায়, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় এই তল্লাশি চলছিল। গোটা দেশের ১০ জায়গায় তল্লাশি চলছিল। তার মধ্যে ৬টি বাংলায় ও চারটি দিল্লিতে। ইডির বক্তব্য, এই তদন্তে হাওয়ালা-যোগও উঠে আসে। আর এখানেই উঠে আসে আইপ্যাকের নাম। ইডির দাবি, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড, অর্থাৎ আইপ্যাকের মাধ্যস্থতার হাওয়ালায় ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনের বয়ানে এই প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে। সেই কারণেই তল্লাশি।

  • US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারীদের মধ্যে যে আশঙ্কা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ভারতের ইরান-বাণিজ্যের পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বহুমুখী হওয়ায় এই শুল্কের প্রভাব অত্যন্ত সামান্য হবে।

    ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার (US)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে ইরানের সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির খুবই ছোট অংশ। ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ২১০০ কোটি মার্কিন ডলার, চিন ১৭০০ কোটি মার্কিন ডলার, তুরস্ক ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই তালিকায় ভারতের অংশীদারিত্ব তুলনামূলকভাবে খুবই নগণ্য। তবে সোমবার প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করার পরেই ভারতীয় চাল রফতানিকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ইরানে চাল রফতানির ক্ষেত্রে ভারতই সবচেয়ে বড় জোগানদাতা। তেহরান তার মোট চাল আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভারত থেকেই করে। ফলে এই বাজার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার পর বহু ভারতীয় রফতানিকারী ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে অনিচ্ছুক। শীর্ষস্থানীয় চাল রফতানিকারী সংস্থার বাল্ক এক্সপোর্ট বিভাগের প্রধান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ট্রাম্পের কাঠামোর আওতায় প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় বাসমতি চাল শিল্পের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।” নয়াদিল্লি-ভিত্তিক এক রফতানিকারী সংস্থা বলেন, “গত দু’মাসে যে চাল পাঠানো হয়েছে, তার অর্থপ্রাপ্তি নিয়েই আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ চাল পাননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে অশান্তির কারণে ক্রেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।”

    এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত চিনের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, চিন ইরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিনে ইরানের রফতানির পরিমাণ ছিল ২২০০ কোটি ডলার, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল জ্বালানি তেল। একই বছরে চিন থেকে ইরানের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিন ইরানের রফতানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের ক্রেতার সংখ্যা সীমিত, কারণ এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে অর্থের জোগান বন্ধ করা।

     

  • SIR in Bengal: তথ্যে অসঙ্গতি রাজ্যের ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের! সবার কাছেই নোটিস পাঠাচ্ছে কমিশন

    SIR in Bengal: তথ্যে অসঙ্গতি রাজ্যের ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের! সবার কাছেই নোটিস পাঠাচ্ছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR in Bengal) প্রক্রিয়ায় ৯৪ লক্ষ ভোটারের দেওয়া তথ্যে ব্যাপক অসঙ্গতি। বাংলার এসআইআর পর্বে তথ্য বিভ্রাটের নজির জনসম্মুখে তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন। কারওর বাবার নাম নেই, কারওর আবার বাবাই বদলে গিয়েছে। কারওর আবার বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্রাতিরিক্ত। কমিশন সূত্রে খবর, যাঁদের তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি ধরা পড়েছে, সেই ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের কাছে নোটিস পাঠানো হচ্ছে । সেই মতো কাজও করছে সিইও দফতর (CEO West Bengal)।

    কাদের কোথায় গরমিল

    কমিশনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এসআইআর-এ (SIR in Bengal) অসঙ্গতিগুলি এক ধরনের নয়। তার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্ক, বয়সের ব্যবধান ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত তথ্যের গরমিল। হিসেব বলছে—বাবার নামের গরমিল রয়েছে ৫০ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটারের। মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটারের। মা–বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ৫০ বছর বা তার বেশি ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারের। ঠাকুরদা ও নাতি–নাতনির বয়সের ফারাক মাত্র ৪০ বছর ২ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের। ‘প্রোজেনি ৬’ (একজন ভোটারের সঙ্গে ছয় জন উত্তরাধিকারীর নাম যুক্ত) ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ভোটারের। সহজ কথায়, এসআইআর তালিকায় নিজের নাম তুলতে ছয় জনের নাম ব্যবহার করেছেন এই ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের এক সূত্রের বক্তব্য, এই ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজারের মধ্যেই রয়েছেন সেই সব ভোটার, যাঁদের বয়স ৪৫ হলেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই।

    লজিকাল ডিসক্রেপেন্সি মানেই নাম বাতিল নয়

    কমিশন স্পষ্ট করেছে, লজিকাল ডিসক্রেপেন্সি মানেই নাম বাতিল, এমন নয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই না হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই নোটিস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভোটারদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের চিহ্নিত তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায় শুরুতে নাম ছিল প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের। তবে সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, তথ্যগত ‘অসঙ্গতি’র সংখ্যা আর ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নেই। তা নেমে এসেছে ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজারে।

    এখনও পর্যন্ত অবৈধ কতজন

    এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর যে শুনানি হয়েছে, তাতে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ১১,৪৭২ জন ভোটারের নাম। এমনটাই বলছে কমিশনের সূত্র। সেই সূত্র অনুসারে, এখনও পর্যন্ত ৯,৩০,৯৯৩ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পরে তথ্য আপলোড করা হয়েছে। তার মধ্যে ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত হয়েছেন ১১,৪৭২ জন ভোটার। কমিশন সূত্রে খবর, ইআরও-রা শুনানি ও নথি যাচাই করে দেখেছেন, ওই ভোটারেরা ‘অবৈধ’। ফলে তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত যে শুনানি হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ‘অবৈধ’ ভোটার মিলেছে নদিয়ায়। এখনও পর্যন্ত শুনানির পরে দেখা গিয়েছে, সেখানে ‘অবৈধ’ ভোটারের সংখ্যা ৯,২২৮। এখনও পর্যন্ত যে শুনানি হয়েছে, কলকাতা দক্ষিণ এবং বাঁকুড়ায় এক জন ভোটারও ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত হননি।

    ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে এসআইআর শুনানি

    এর আগে খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। কমিশন জানিয়েছিল, ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হবে। এ ছাড়া, আরও লক্ষাধিক ভোটারকে সন্দেহজনক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁদেরও শুনানিতে হাজির হতে হবে বলে জানায় কমিশন। তাঁদের তথ্য যাচাই করে দেখে কমিশন। গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুনানি শুরু হয়েছে এখনও পর্যন্ত ৯ লক্ষের উপর ভোটারের শুনানি হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, তাঁদের মধ্যে ১১,৪৭২ জন ভোটার ‘অবৈধ’। তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। নির্বাচন কমিশনের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, আনম্যাপড শুনানি পর্ব ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। এই পর্বে যাঁদের শুনানি হওয়ার কথা ছিল, সেই ৩২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষ ব্যক্তি সরাসরি শুনানি প্রক্রিয়ায় উপস্থিত হয়েছেন। তবে বাকি প্রায় ৮ লক্ষ ভোটার শুনানিতে হাজির হননি। তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি কমিশন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে এসআইআর (SIR in Bengal) শুনানি চলবে, বলে জানায় কমিশন।

    বাড়ছে মাইক্রো অবজার্ভারদের সংখ্য়া

    শুনানি-পর্ব দ্রুত সারতে  রাজ্য়ে বাড়তে চলেছে মাইক্রো অবজার্ভারদের সংখ্য়াও। কমিশন সূত্রে খবর, বর্তমানে রাজ্য়ে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মাইক্রো অবজার্ভার। এসআইআর (SIR in Bengal) প্রক্রিয়ায় গতি বাড়াতে দিল্লি থেকে আরও দু’হাজার মাইক্রো অবজার্ভার আসবেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি হবে তাঁদের প্রশিক্ষণ। ফলত, মোট মাইক্রো অবজার্ভারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৬ হাজার ৬০০ জন।

  • Jaishankar Rubio Talk: ফোনে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা জয়শঙ্কর–মার্কো রুবিওর

    Jaishankar Rubio Talk: ফোনে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা জয়শঙ্কর–মার্কো রুবিওর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুল্কযুদ্ধ এবং বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই মঙ্গলবার মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। টেলিফোনে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে একপ্রস্ত আলোচনা সারলেন তাঁরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাণিজ্য সংক্রান্ত মতপার্থক্যের কারণে ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই এই কথোপকথনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিদেশসচিব রুবিওর সঙ্গে ভাল কথোপকথন

    সমাজমাধ্যমে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর লিখেছেন, ‘‘আমেরিকার বিদেশসচিব রুবিওর সঙ্গে একটি ভাল কথোপকথন হল। বাণিজ্য, বিরল খনিজ, পরমাণু সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা এবং বিদ্যুৎক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’’ উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলির পাশাপাশি অন্যান্য বিষয় নিয়েও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ রাখার বিষয়ে আলোচনায় ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এই ফোনালাপের একদিন আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত-মনোনীত সার্জিও গোর জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এখনও সক্রিয়ভাবে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে এবং মঙ্গলবারই “পরবর্তী বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা” হওয়ার কথা। অন্যদিকে, সার্জিও গোর সামাজিক মাধ্যমে বলেন, রুবিও ও জয়শঙ্করের মধ্যে “ইতিবাচক” ফোনালাপ হয়েছে এবং দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও আগামী মাসে সম্ভাব্য বৈঠকের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    উভয় দেশের কাছেই যোগাযোগ ইতিবাচক

    বিরল খনিজ (ক্রিটিকাল মিনারেলস) নিয়ে চিনের সঙ্গে লড়াইয়ে ইতিমধ্যেই ভারতকে পাশে পেতে সক্রিয় হয়েছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়া। ওয়াশিংটনে জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিকে নিয়ে এ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য বিশেষ ‘ফিনান্স মিনিস্টার্স মিটিং’-এর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। সোমবার ভারতে পৌঁছে দেওয়া ভাষণে সার্জিও গোর বলেন, “প্রকৃত বন্ধু হিসেবে” ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সব সমস্যার সমাধান করে। তিনি স্বীকার করেন, বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করা সহজ কাজ নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গোর আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী মাসে ভারতকে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাবে। এটি সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার লক্ষ্যে মার্কিন সরকারের একটি প্রধান উদ্যোগ। তারপরই জয়শঙ্কর ও রুবিও-র মধ্যে এই ফোনালাপ নিয়ে দুই দেশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে কয়েক মাস পর এই বিরল উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে উভয় দেশই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

  • Nipah Virus: করোনার তুলনায় বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Nipah Virus: করোনার তুলনায় বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যজুড়ে নিপা ভাইরাসের চোখরাঙানি বাড়ছে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্স আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল ইতিমধ্যেই। গত কয়েকদিন ধরে এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি আছেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে একজনের বাড়ি নদিয়ায় ও অপরজনের বাড়ি বর্ধমানের কাটোয়ায়। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটজনক। জানা যাচ্ছে, ওই নার্স কোমায় রয়েছেন। এর মধ্যেই, আক্রান্ত সন্দেহে নতুন করে আরও বর্ধমানের ২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, আগে আক্রান্ত কাটোয়া নিবাসী নার্সকে যখন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তাঁর চিকিৎসায় থাকা এক হাউসস্টাফকে এবার নিপা সন্দেহে কলকাতার বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও এক নার্সকে ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাই, নিপা ভাইরাস নিয়ে বাড়তি সতর্ক কেন্দ্রীয় সরকার।

    করোনা অতিমারির তুলনায় কতখানি বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস মৃত্যু হারের নিরিখে করোনার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। তাঁদের মতে, মৃত্যু হারের নিরিখে করোনা ভাইরাসের তুলনায় নিপা ভাইরাস বেশি বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের মৃত্যুর হার ৬০ থেকে ১০০ শতাংশ। অর্থাৎ, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে করোনা ভাইরাসের তুলনায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষমতা কম। তাই করোনা ভাইরাসের মতো অতো দ্রুত এই ভাইরাস ছড়াবে না। এমনটাই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সচেতনতা ও সতর্কতা জরুরি। যদি এই ভাইরাস নিজের প্রকৃতি পরিবর্তনে সক্ষম হয়, তাহলে পরিস্থিতি করোনা মহামারির তুলনায় আরও বেশি সঙ্কটজনক হয়ে উঠতে পারে।
    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, করোনা হাঁচি-কাশি এবং স্পর্শের মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তো। নিপা ভাইরাসের সেই ক্ষমতা তুলনামূলক কম। আক্রান্তের সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমেই এই রোগ একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে সংক্রামিত হচ্ছে। বিশেষত মূত্র, রক্ত কিংবা লালার মাধ্যমে এই রোগ সংক্রামিত হয়। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসায় মূল প্রতিবন্ধকতা হলো, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এখনও নেই। তাই নানান রকম পদ্ধতিতে এই রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। তাই নিপা নিয়ে আতঙ্ক নয়। বরং সচেতনতা জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন এই সংক্রমণ নিয়ে কেন্দ্রের বাড়তি উদ্বেগ?

    রাজ্যে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ হতেই সক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকার। সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় তার জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ উদ্যোগে কাজ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। নিপা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি তৎপর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তার পিছনে মূল কারণ নিপার মৃত্যু হার। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপার মৃত্যু হার অন্যান্য ভাইরাসঘটিত রোগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এই ভাইরাস মানুষের মস্তিষ্ককে দ্রুত অক্ষম করে দেয়। ফলে শরীরের সমস্ত স্নায়ু কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যায়। একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যায়। তাই এই ভাইরাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। নিপা সংক্রমণ ছড়ালে মৃত্যু বাড়বে। প্রথম থেকেই সংক্রমণ ঠেকাতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। তাছাড়া এই সংক্রমণ ঠেকানোর মূল হাতিয়ার হলো প্রাথমিক পর্বেই রোগ নির্ণয়। একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থায় সেই শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

    কোন ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর আর সর্দি, গলা ব্যথার মতো উপসর্গ একেবারেই অবহেলা করা যাবে না।‌ দ্রুত শারীরিক পরীক্ষা জরুরি। প্রশাসনিক মহলে আইসোলেশন নিয়ে কড়া পদক্ষেপ জরুরি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই কোনো নিপা ভাইরাস আক্রান্তের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের আলাদা ভাবে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো ভাবেই যাতে সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পরে সেই জন্য বাড়তি নজরদারি জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাদুরের পাশপাশি শুয়োরের দেহ থেকেও এই রোগ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আপাতত শুয়োরের মাংস খাওয়া উচিত হবে না বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন ফল থেকেও নিপা ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কাটা ফল বা অর্ধেক খাওয়া ফল অথবা ফলে কোনো আঁচড় আছে দেখলে এই সময়ে তা কোনো ভাবেই খাওয়া উচিত নয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

  • Makar Sankranti 2026: পৌষ পার্বণে ঘরে ঘরে পিঠে-পুলির উৎসব, কেন মকর সংক্রান্তিতে পিঠে খাওয়া হয়?

    Makar Sankranti 2026: পৌষ পার্বণে ঘরে ঘরে পিঠে-পুলির উৎসব, কেন মকর সংক্রান্তিতে পিঠে খাওয়া হয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ মকর সংক্রান্তি। যা পৌষ পার্বণ (Paush Parbon) নামেও বাংলায় বহুল প্রচলিত। বাংলার, বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের ঘরে ঘরে এই দিন পিঠে-পুলির উৎসব (Pithe-Puli Utsav) হয়। অন্দরে অন্দরে দুধ, ক্ষির, গুড়, নারকেলের গন্ধে ম-ম করে। হাড় কাঁপানো শীতে লেপ-কম্বলের আরাম ছেড়ে জোরকদমে পিঠে-পুলি বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাড়ির মা-বউরা। পৌষ পার্বণ অথচ পিঠে হবে না তা আবার হয় নাকি? যুগ যুগ ধরে পৌষ সংক্রান্তির (Makar Sankranti) দিনে এই মিষ্টান্নের স্বাদ নিতে ভোলেন না বাংলার মানুষ।

    কেন সংক্রান্তিতে পিঠে খাওয়া হয় জানেন?

    মূলত নতুন ফসলের উৎসব (Makar Sankranti) বলেই এই দিনটিকে পৌষ-পার্বণ হিসেবে উদযাপন করেন বাঙালিরা। এই সময়ে ঘরে ঘরে নতুন ফসল থাকে। সেই নতুন ফসল দিয়েই তৈরি করা হয় এই বিশেষ মিষ্টান্ন। এই নতুন ফসলকে স্বাগত জানাতেই ঘরে ঘরে বানানো হয় এই অসাধারণ মিষ্টান্ন। গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে এ দিন চাল গুঁড়ো, নারকেল, গুড়, দুধ, ক্ষির দিয়ে তারি করা হয় রকমারি পিঠে। সবচেয়ে জনপ্রিয় পিঠে হল— ভাপা পিঠে। এ ছাড়াও রয়েছে চিতই পিঠে, দুধচিতই, ছিট পিঠে, দুধপুলি, ক্ষীরপুলি, পাটিসাপটা, ফুলঝুড়ি, ধুপি পিঠা, নকশি পিঠে, মালাই পিঠে, মোলপোয়া, পাকন পিঠে, ঝাল পিঠে ইত্যাদি। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ‘পৌষ পার্বণ’ নামের কবিতায় রয়েছে, ‘গড়িতেছে পিঠে পুলি অশেষ প্রকার, বাড়ি বাড়ি নিমন্ত্রণ কুটুম্বের মেলা, হায় হায় দেশাচার ধন্যি তোর খেলা।’ এই কবিতাতেই বাঙালির কাছে পিঠের আসল গুরুত্ব ধরা পড়ে।

    হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির এই ঐতিহ্য!

    তবে, এখন শহুরে বাঙালিদের হেঁশেলে পিঠে-পুলি তৈরি করার রেওয়াজ ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু। ফলে, রসিক বাঙালি পিঠে (Makar Sankranti) খেতে আস্তানা গেড়েছে মেলায় বা মিষ্টির দোকানে। তাই আজ আর আগের মতো হেঁশেলে ঢুকলেই হাঁড়ির ভেতরে যবুথবু হয়ে থাকে না ক্ষিরে ভরা পাটিসাপটা। আগে তাও যৌথ পরিবার থাকায় মা, দিদিমারা মিলে বা বাড়ির বড় কোনও সদস্যা পিঠে বানানোর উদ্যোগ নিতেন। কিন্তু, এখন কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে সেই মা, দিদিমারাও। পরিবার ভেঙেছে। যে যার নিজের কাজে ব্যস্ত। তাই বাড়িতে বাড়িতে কমে এসেছে পিঠে বানানোর হিড়িকও। কর্মব্যস্ততার যুগে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির এই ঐতিহ্য। ফলে, এখন পৌষ পার্বণে পিঠেপুলির স্বাদ নিতে হলে অগত্যা স্মরণ হতে হয় ময়রার দোকানে নতুবা মেলার প্রাঙ্গণে।

  • Makar Sankranti 2026: সনাতন ধর্মে মকর সংক্রান্তি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? জানুন দিনটির মাহাত্ম্য

    Makar Sankranti 2026: সনাতন ধর্মে মকর সংক্রান্তি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? জানুন দিনটির মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti 2026)।এই পবিত্র দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা পৌরাণিক কাহিনি (Mythological Stories)। বলা হয়, যেমন জ্যোতিষশাস্ত্রে মকর সংক্রান্তি হল এক বিশেষ দিন যে দিন সূর্য ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এদিন থেকেই সূর্য দক্ষিণায়ন থেকে উত্তরায়ণের দিকে ক্রমে ক্রমে সরে যায়। ফলে দিন বড় হতে শুরু করে এবং রাত ছোট হয়। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাস্ত্রে এই দিনটির গুরুত্ব সম্পর্কে লেখা রয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে, এইদিনে স্নান করলে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যায়। একই ভাবে স্নানের পর জল সূর্য দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করলে দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে যায়। এ দিনের মাহাত্ম্যকথা সম্পর্কে একাধিক গল্প পাওয়া যায়। এই দিনটি সূর্য উপাসনা, উপবাস, শ্রীকৃষ্ণ ও মাতা যশোদার সঙ্গে জড়িত। সৌর ক্যালেন্ডার অনুসারে, প্রতি বছর ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি উৎসব পালিত হয়। এদিন বাঙলার ঘরে ঘরে পিঠে পুলি খাওয়ার রীতি রয়েছে। গ্রাম বাংলায় পৌষবুড়িও করে শিশুরা।

    যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে পেতে উপবাস করেছিলেন

    মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti 2026) এবং সূর্যদেবের উপাসনার সঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং যশোদার সঙ্গে জড়িত। পৌরাণিক কাহিনি (Mythological Stories) অনুযায়ী, যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে পাওয়ার জন্য মকর সংক্রান্তির দিন উপবাস করেছিলেন। সাধারণত শ্রীরাম ত্রেতাযুগে বনবাস থেকে ফিরে আসার পর, কৈকেয়ী তাঁকে বলেছিলেন যে, পরবর্তী জীবনে আমার গর্ভে যেন জন্মগ্রহণ করেন। আমি যেন আপনার মা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি। সেই সময়ে ভগবান মাতা কৈকেয়ীর সকল মনোবাসনা পূর্ণ করেন। রাণীমার আশীর্বাদে রামচন্দ্র জানিয়েছেন, মা তুমি কষ্ট পেয় না। কৈকেয়ীর অনুরোধে তাঁর গর্ভেই জন্মগ্রহণ করবে। পুত্র হিসেবে তিনি ডাকতে পারবেন। এই কারণেই দ্বাপরে ভগবান রাম, মা দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে দেবকির গর্ভে জন্ম নিলেও যশোদার কাছে মানুষ হন কৃষ্ণ। তাই শ্রীকৃষ্ণকে যশোদা নন্দনও বলা হয়।

    সূর্য পুজোর একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে

    এই মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti 2026) সঙ্গে সূর্য পুজোর একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে সূর্য হল শক্তির প্রতীক। যাদের রাশিতে সূর্যের অবস্থান ঠিক থাকে না তাদের সূর্য নারায়ণকে নমস্কার করে জল তর্পণ করতে হয়। সূর্যের চলনের উপর নির্ভর করে সকল নিয়ম কানুনকে মেনে চলতে হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, সংক্রান্তি মানে সূর্যের রাশি পরিবর্তন। মকর সংক্রান্তিতে, সূর্য দেবতা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ধনু রাশি থেকে বের হয়ে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। অর্থাৎ, মকর সংক্রান্তিতে সূর্য দক্ষিণায়ন থেকে উত্তরায়ণে যায়। তাই এই দিনটিকে (Makar Sankranti 2026) উত্তরায়ণ বলা হয়। হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রে দক্ষিণায়ণ হল দেবতাদের রাত এবং উত্তরায়ণ হল দেবতাদের দিন। শাস্ত্রে উত্তরায়ণের দিনটিকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়েছে। এই দিনে পবিত্র নদীতে স্নান, দান ও পুজো করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। মনে করা হয় উত্তরায়ণে এদিন প্রাণ উৎসর্গ বা দেহ ত্যাগ করলে সরাসরি মোক্ষ লাভ পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।

    অন্য পৌরাণিক মতে এদিন পুত্র শনির গৃহে প্রবেশ করেন সূর্য

    পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, শনিদেব কালো তিল দিয়ে সূর্য পুজো করেন। শনির পুজোয় প্রসন্ন সূর্য আশীর্বাদ করেন তাঁকে। আশীর্বাদে তিনি বলেন, শনির অপর ঘর মকরে যখন তিনি প্রবেশ করবেন সেদিন মর্ত্য লোক ধন-ধান্যে ভরে যাবে।

    এদিনই দেহত্যাগ করেন পিতামহ ভীষ্ম

    পুরাণ মতে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকালে নিজের প্রাণত্যাগ করার জন্য মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti 2026) তিথিকেই নির্বাচন করেছিলেন পিতামহ ভীষ্ম।

    কপিল মুনির আশ্রম হয়ে গঙ্গা এদিন সাগরে মিশেছিল

    পুরাণ মতে, এই তিথিতেই ভগীরথের পিছু চলতে চলতে কপিল মুনির আশ্রম হয়ে সাগরে মিশে যান গঙ্গা। তাই এই উপলক্ষে গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজন করা হয়। কপিল মুনির আশ্রমে লক্ষ লক্ষ ভক্তদের ভিড় দেখা যায় এদিন। মকর সংক্রান্তির পূণ্য স্নান করেন ভক্তরা।

    দেবতা-অসুর যুদ্ধের সমাপ্তি

    দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তিও হয়েছিল মকর সংক্রান্তির দিনে। এই দিনেই অসুরদেরকে বধ করে শুভ শক্তির বিস্তার ঘটেছিল। তাই যেকোনও শুভ কাজ এই দিনে শুরু করা উচিত বলে মনে করেন অনেকে।

  • Daily Horoscope 14 January 2026: আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 14 January 2026: আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) মা-বাবার সঙ্গে জরুরি আলোচনা।

    ২) দুপুরের পরে কিছু পাওনা আদায় হতে পারে।

    ৩) পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হতে পারে।

    বৃষ

    ১) বুদ্ধির ভুলে ক্ষতি হতে পারে।

    ২) ব্যবসায় কর্মচারীদের সঙ্গে বিবাদে যাবেন না।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    মিথুন

    ১) মনের মতো স্থানে ভ্রমণের জন্য আনন্দ লাভ।

    ২) মিথ্যা বদনাম থেকে সাবধান।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে।

    কর্কট

    ১) কর্মক্ষেত্রে উন্নতি শেষ মুহূর্তে গিয়ে আটকে যাওয়ায় মানসিক চাপ বৃদ্ধি।

    ২) দাম্পত্য জীবনে বিবাদ হতে পারে।

    ৩) ধৈর্য ধরতে হবে।

    সিংহ

    ১) খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ২) পারিবারিক ভ্রমণে বাধা।

    ৩) বাণীতে সংযম রাখুন।

    কন্যা

    ১) কোনও নিকটাত্মীয়ের চক্রান্তে সংসারে বিবাদ।

    ২) ব্যবসায় লাভ বাড়তে পারে।

    ৩) দুশ্চিন্তা বাড়বে।

    তুলা

    ১) মনে দুর্বুদ্ধির উদয় হতে পারে।

    ২) ব্যবসায় শত্রুর দ্বারা ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বাধা।

    বৃশ্চিক

    ১) ব্যবসার ক্ষেত্রে তর্ক-বিতর্ক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

    ২) আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    ধনু

    ১) কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের যোগ।

    ২) আর্থিক উন্নতির জন্য খুব ভালো সময়।

    ৩) ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।

    মকর

    ১) বিষয়সম্পত্তি কেনাবেচা নিয়ে গুরুজনের সঙ্গে মনোমালিন্য।

    ২) বাড়িতে বিবাদ হতে পারে।

    ৩) আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ করুন।

    কুম্ভ

    ১) সকালের দিকে পেটের ব্যথায় কষ্ট ভোগ।

    ২) কিছু কেনার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বাধা।

    মীন

    ১) ভ্রমণে যাওয়ার আলোচনা এখন বন্ধ রাখাই ভালো।

    ২) সম্মান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) ভেবেচিন্তে কথা বলুন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 557: “ব্যাকুল হয়ে ডাকলে তিনি শুনবেনই শুনবেন, ব্যাকুল হয়ে দোরে ঘা মারো দোর খোলা পাবে”

    Ramakrishna 557: “ব্যাকুল হয়ে ডাকলে তিনি শুনবেনই শুনবেন, ব্যাকুল হয়ে দোরে ঘা মারো দোর খোলা পাবে”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    অষ্টম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৮শে অগস্ট

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও যীশুখ্রীষ্ট (Jesus Christ)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — আর কিছু মেলে?

    মণি—আজ্ঞা, আপনি যেমন বলেন—‘ছোকরাদের ভিতর কামিনী-কাঞ্চন ঢুকে নাই; ওরা উপদেশ ধারণা করতে পারবে,—যেমন নূতন হাঁড়িতে দুধ রাখা যায়। দই পাতা হাঁড়িতে রাখলে নষ্ট হতে পারে’; তিনিও সেইরূপ বলতেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ(Ramakrishna)— কি বলতেন?

    মণি—‘পুরানো বোতলে নূতন মদ রাখলে বোতল ফেটে যেতে পারে।’ আর ‘পুরানো কাপড়ে নূতন তালি দিলে শীঘ্র ছিঁড়ে যায়।’

    “আপনি যেমন বলেন(Kathamrita), ‘মা আর আপনি এক’ তিনিও তেমনি বলতেন, ‘বাবা আর আমি এক’।” (I and my father are one.)

    মণি—আপনি যেমন বলেন, ‘ব্যাকুল হয়ে ডাকলে তিনি শুনবেনই শুনবেন (Kathamrita)।” তিনিও বলতেন, ‘ব্যাকুল হয়ে দোরে ঘা মারো দোর খোলা পাবে!’ (Knock and it shall be opened unto you.)

    শ্রীরামকৃষ্ণ — আচ্ছা, অবতার যদি হয়, তা পূর্ণ, না অংশ, না কলা? কেউ কেউ বলে পূর্ণ।

    মণি — আজ্ঞা, পূর্ণ, অংশ, কলা, ও-সব ভাল বুঝতে পারি না। তবে যেমন বলেছিলেন ওইটে বেশ বুঝেছি। পাঁচিলের মধ্যে গোল ফাঁক।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— কি বল দেখি?

    মণি—প্রাচীরের ভিতর একটি গোল ফাঁক—সেই ফাঁকের ভিতর দিয়ে প্রাচিরের ওধারের মাঠ খানিকটা দেখা যাচ্ছে। সেইরূপ আপনার ভিতর দিয়ে সেই অনন্ত ঈশ্বর খানিকটা দেখা যায়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—হাঁ, দুই-তিন ক্রোশ একেবারে দেখা যাচ্ছে।

    মণি চাঁদনির ঘাটে গঙ্গাস্নান করিয়া ঠাকুরের কাছে ঘরে উপনীত হইলেন। বেলা আটটা হইয়াছে।

    মণি লাটুর কাছে আটকে চাইছেন—শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের আটকে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) কাছে আসিয়া মণিকে বলিতেছেন, “তুমি ওটা (প্রসাদ খাওয়া) করো—যারা ভক্ত হয়, প্রসাদ না হলে খেতে পারে না।”

    মণি—আজ্ঞা, আমি কাল অবধি বলরামবাবুর বাড়ি থেকে জগন্নাথের আটকে এনেছি — তাই রোজ একটি দুটি খাই।

    মণি ভূমিষ্ঠ হইয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিতেছেন (Kathamrita) ও বিদায় গ্রহণ করিতেছেন। ঠাকুর সস্নেহে বলিতেছেন, তবে তুমি সকাল সকাল এসো—আবার ভাদ্র মাসের রৌদ্র—বড় খারাপ।

  • Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে (Iran Protests) নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক মঙ্গলবার বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় তিনি “ভীষণভাবে মর্মাহত”। ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভ এখন শুধু মূল্যবৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

    ইরানের সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ

    ২০২২ সালের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছিল, চলমান অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা ৬৪৮। তবে মঙ্গলবার এক ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি—প্রায় ২,০০০ জন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের এক বিবৃতি পড়ে শোনান সংস্থাটির মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স। সেখানে টুর্ক বলেন, “এই ভয়াবহ সহিংসতার চক্র চলতে পারে না। ন্যায্যতা, সমতা ও বিচারের জন্য ইরানি জনগণের যে দাবি, তা অবশ্যই শোনা উচিত।” নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে লরেন্স বলেন, “ইরানে আমাদের সূত্র অনুযায়ী যে সংখ্যা আমরা শুনছি, তা শত শত।” টুর্ক আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গ্রেফতার হওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হতে পারে।

    ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়

    এদিকে এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আবারও দিয়েছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লরেন্স বলেন, “এই বিক্ষোভকে কেউ যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার না করে—এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারও দ্বারাই এটি ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়।” ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে এবং ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় হিংসার নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া এটিকে বিদেশি হস্তক্ষেপ বলে ইরানের পক্ষ নিয়েছে।

    ইন্টারনেট বন্ধ কেন

    মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইরানের ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। নেটব্লকসের মতে, ইরানে সাড়ে তিন দিনেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ। এর উদ্দেশ্য কি হিংসার আসল চিত্র লুকানো? নরওয়ের এনজিও ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় মৃত্যু ও গ্রেফতারের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই বিক্ষোভ দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। প্রথমে এটি অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে শুরু হলেও এখন তা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।

LinkedIn
Share