Tag: bangla news

bangla news

  • China Debt Crisis: আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে না, দেনায় ডুবে যাচ্ছে চিন!

    China Debt Crisis: আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে না, দেনায় ডুবে যাচ্ছে চিন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে চিন (China Economic)। এই ভবিষ্যদ্বাণী আদৌ বাস্তবসম্মত নয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, কোভিড অতিমারির প্রথম ঢেউয়ের পর, ব্রিটিশ থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর ইকনোমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (Centre for Economics and Business Research) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে ২০২৮ সালের মধ্যে চিন আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে (Debt Nightmare)। সংস্থাটি জানিয়েছিল, অতিমারির মোকাবিলায় চিনের ‘দক্ষ’ ব্যবস্থাপনা আগামী বছরগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তুলনায় তাদের প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে দেবে।

    কী বলছে সেই সংস্থা? (China Economic)

    পাঁচ বছর পরে এখন সেই একই সংস্থা বলছে, আগামী আরও অন্তত ১৫ বছরের আগে চিনের পক্ষে মার্কিন অর্থনীতিকে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চিন হয়তো কখনওই ওই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। কারণ তাদের অর্থনীতির সামনে রয়েছে গুচ্ছের পরিকাঠামোগত সমস্যা ও বাধা। গত সপ্তাহে বেজিংয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যও দেখাচ্ছে, গতি হারিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।

    কমে গিয়েছে ভোক্তা-চাহিদা

    এপ্রিল মাসে শিল্প উৎপাদন বছরে মাত্র ৪.১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝির পর এটি সবচেয়ে দুর্বল বৃদ্ধি। খুচরো বিক্রি বেড়েছে মাত্র ০.২ শতাংশ, ২০২২ সালের পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থার উদাহরণ এটি। বছরের প্রথম চার মাসে স্থায়ী সম্পদ বিনিয়োগ কমেছে ১.৬ শতাংশ। এর প্রধান কারণ সম্পত্তি উন্নয়ন খাতে ১৩.৭ শতাংশ পতন। ২০২১ সালে যে রিয়েল এস্টেট বুম ছিল, অতিমারির পর তা মুখ থুবড়ে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোটি কোটি চিনা নাগরিকের সঞ্চয়। তাই কমে গিয়েছে ভোক্তা-চাহিদা। কারণ অনেকেই এমন ফ্ল্যাটের ঋণে ডুবে রয়েছেন যে, তা বিক্রি করা যাচ্ছে না। আগে বাড়ির পরে গাড়ি কেনাটা ছিল চিনের মধ্যবিত্ত দের একটি বড় বিনিয়োগ ক্ষেত্র (China Economic)। কিন্তু এখন অনেকেরই গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই। মে মাসের শুরুতে চিনের গাড়ি নির্মাতারা জানিয়েছিলেন, যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি বছরে কমেছে ২৫.৫ শতাংশ — টানা ষষ্ঠ মাসের পতন। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির প্রচুর গাড়ি বিক্রি হয়নি। তাদের প্রথম ত্রৈমাসিকের মুনাফা ৫৫ শতাংশ কমে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

    ড্রাগনের দেশে হ্রাস পেয়েছে চাহিদা

    দেং শিয়াওপিংয়ের ১৯৮০ সালের সংস্কার এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানদের নীতির ফলে চিন কার্যত পরিণত হয়েছিল বিশ্বের কারখানায়। তাই কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসেন, সৃষ্টি হয় বিপুল কর্মসংস্থানের (Debt Nightmare)। ড্রাগনের দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিয়েছেন। চিন এখন জাহাজ নির্মাণ, সৌর প্যানেল, উইন্ড টারবাইন, রোবোটিক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো বহু ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রেও তারা এগিয়ে। তবে চিনের প্রবৃদ্ধি মূলত রফতানি-নির্ভর — আর এই মডেলই এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। দেশের ভেতরে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, যদিও পণ্যের দর সস্তা। মনে রাখতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৮০ শতাংশেরও বেশি চালিত করে। সেই তুলনায় ভারতে এই হার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। গত বছর চিনে এর পরিমাণ ছিল মাত্রই ৫২ শতাংশ (China Economic)।

    আইএমএফের বক্তব্য

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার (IMF) জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সম্পত্তি সঙ্কট ও দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানুষের খরচ করার আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। আইএমএফ ২০২৬ সালের জন্য চিনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.৫ শতাংশ করেছে। চিনা সরকারও ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে — ৪.৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ (Debt Nightmare)। খবরে প্রকাশ, রফতানির জন্য চিন এখনও নতুন নতুন কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। গত বছর তাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১.১৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে এবং বিভিন্ন দেশ চিনের কাছে আমদানি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ যদি বৈশ্বিক মন্দা সৃষ্টি করে, তাহলে চিনা পণ্যের চাহিদা কমবে। ফলে শিল্পখাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ইতিমধ্যেই জিনপিংয়ের দেশে মূল্যহ্রাস শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে আরও কম দামে জিনিস পাওয়ার আশায় কেনাকাটা করছেন না চিনারা (China Economic)।

    চিনা অর্থনীতির সামনে আরও বড় সমস্যা

    চিনা অর্থনীতির সামনে আরও দু’টি বড় সমস্যা রয়েছে – একটি হল বাজেট ঘাটতি, অন্যটি জনসংখ্যা সঙ্কট। সরকারি হিসেবে চিনের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ শতাংশ। যদিও বিশ্লেষকদের দাবি, অন্যান্য গোপন বাজেট যোগ করলে তা পৌঁছে যায় ৯.১ শতাংশে। চিনের মোট ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৩০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে বলে অনুমান। ঋণের সুদ শোধের খরচ ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেড়েছে ৩৪১ শতাংশ।এদিকে, চিনা জনসংখ্যা দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। ১৯৪৯ সালের পর জন্মহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। আয়তনে এত বড় একটি দেশে গত বছর মাত্র ৭.৯২ মিলিয়ন শিশু জন্মেছে। আগামী দশকে চিনের জনসংখ্যা কমে যেতে পারে প্রায় ৬ কোটি। এতে ভোগব্যয় আরও কমবে, বাড়বে অর্থনৈতিক সঙ্কট (Debt Nightmare)।

    কমিউনিস্ট-শাসিত চিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ!

    চিনের বিশাল তেল মজুত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ তাদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে এপ্রিল মাসে চিনের রফতানির পরিমাণ বেড়েছে ১৪.১ শতাংশ। এদিকে, তেল ও গ্যাসের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে প্লাস্টিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক খেলনা কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, অনেকে আবার একেবারে ঝাঁপ ফেলে দিয়েছে। চাকরি খুইয়েছেন হাজার হাজার চিনা শ্রমিক (China Economic)। দক্ষিণ চিনে খেলনা কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভও দেখা গিয়েছে, যা চিনের মতো একটি নিয়ন্ত্রিত সমাজে বিরল নজির। চিন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তৈরি করছে ভবিষ্যতের পণ্য। নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা বাড়লে লাভবানও হতে পারে চিন (Debt Nightmare)। তবে যেহেতু চিনা অর্থনীতি রফতানি-নির্ভর, তাই বিদেশের বাজারে তাদের প্রবেশ করতেই হবে। সমস্যা হল, অনেক দেশই চিনকে ভালো চোখে দেখে না। আফ্রিকায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করলেও, সেখানে চিনকে নয়া ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এশিয়ান (ASEAN) দেশগুলিতেও চিনের সস্তা পণ্যের চাপে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিনা কোম্পানিগুলি স্থানীয় কাঁচামাল কম ব্যবহার করে নিজেদের দেশ থেকে আমদানি করে। ফলে এসব দেশে চিনের (China Economic) বিরুদ্ধে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।

     

  • Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের হাল ধরেছেন পদ্ম-নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনি বসেছেন সপ্তাহ দুয়েক হল। এর মধ্যেই নন্দীগ্রামের ‘ভূমিপুত্র’ (রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাঁকে এই সম্বোধনই করেন) শুভেন্দু নবান্নে ফিরিয়ে এনেছেন বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি (Bengal Bureaucratic Culture)। শুভেন্দু যে চেয়ারে বসেছেন, টানা ১৫ বছর ধরে তাতে বসেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রাক্তন সতীর্থ তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মা-মাটি-মানুষের দলের নেত্রী মমতা নবান্নেও ‘কলতলার কালচার’ শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ। সরকারি বিভিন্ন বৈঠকে তিনি আমলাদেরও ‘আপনি’র পরিবর্তে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করতেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এহেন সম্বোধন শুনতে অভ্যস্ত না হলেও, শুনতে শুনতে সয়ে নিয়েছিলেন আইএএস-আইপিএস পরীক্ষা দিয়ে পাশ করা আধিকারিকরা। রাজ্যে বিজেপি জমানা শুরু হতেই বাংলার হারানো সংস্কৃতি ফেরালেন শুভেন্দু।

    নৈশভোজের আসরেও বদলের বার্তা (Suvendu Adhikari)

    ফেরা যাক খবরে। সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক নৈশভোজের। আলিপুরের ‘সৌজন্য অডিটোরিয়ামে’ হওয়া এই ভোজসভাকে অনেকেই সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না। প্রশাসনিক মহলের পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাতমুখী প্রশাসনিক পরিবেশের পর নয়া বিজেপি সরকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আমলাতন্ত্রের সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাইছে। কয়েকজন আধিকারিকের মতে, এহেন উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল আমলাদের এই বলে আশ্বস্ত করা যে, শুভেন্দুর প্রশাসন আরও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, সমন্বয় এবং কম প্রকাশ্য সংঘাতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে (Suvendu Adhikari)।

    ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’-র ফারাক

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক শৈলীর সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলির অন্যতম হল সরকারি আধিকারিকদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে তাঁর ভাষা ব্যবহার। নবান্ন সূত্রে খবর, নয়া মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের পরামর্শ দিয়েছেন এই বলে যে, সরকারি বৈঠকে যাতে আমলাদের ক্যাজুয়ালি সম্বোধন না করা হয়, বজায় রাখা হয় প্রশাসনিক মর্যাদা এবং প্রোটোকল (Bengal Bureaucratic Culture)। নয়া রাজ্য সরকারের এই ‘সাংস্কৃতিক’ পরিবর্তনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে আমলাদের। কারণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রশাসনিক বৈঠকে প্রায়ই আধিকারিকদের ‘তুমি’ বলেই সম্বোধন করতেন (Suvendu Adhikari)। পদ্ম-জমানায় ইতি পড়েছে এই সংস্কৃতিতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সিনিয়র আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘আপনি’ ব্যবহার করছেন। ইংরেজিতে অবশ্য ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’ সম্বোধন করতে ‘ইউ’ ব্যবহার করা হয়। তবে বাংলার সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এদের ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

    আধিকারিকদের বিব্রত করত আগের সরকার

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কম ভীতিপ্রদ এবং আরও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ (Bengal Bureaucratic Culture)। মমতার রাজত্বে আধিকারিকদের ট্যাঁ-ফোঁ করার অধিকার ছিল না বলেই অভিযোগ। তিনি নিজেকে  ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন, যিনি দুর্নীতি, প্রশাসনিক গাফিলতি ও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি আধিকারিকদের প্রশ্ন করতেন (Suvendu Adhikari)। তাঁর অনেক প্রশাসনিক বৈঠক টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হত। সেখানে প্রায়ই জেলাশাসক, পুলিশ আধিকারিক এবং আমলাদের প্রকাশ্যে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে দেখা যেত।

    আধিকারিকদের প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা

    সব চেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির একটি ঘটেছিল ২০২২ সালে, পুরুলিয়ার এক প্রশাসনিক বৈঠকে। সেখানে মমতা প্রকাশ্যে জেলাশাসক রাহুল মজুমদারকে ইটভাটা রাজস্ব সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আপনি জেলাটা কীভাবে চালাচ্ছেন?” বিষয়টি তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এই ধরনের ঘটনা তাঁর সরকারের সময় একাধিকবার ঘটেছে। ২০১৭ সালে উত্তর ২৪ পরগনার একটি প্রশাসনিক বৈঠকে টিটাগড় থানার তৎকালীন আইসিকে একটি জাহাজ নির্মাণ ইউনিটের দখলদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেছিলেন তৃণমূল পরিচালিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দুর আশ্বাস

    মমতার স্তাবকদের মতে, এই ধরনের হস্তক্ষেপ ছিল জবাবদিহি নিশ্চিত করার শক্ত অবস্থান (Suvendu Adhikari)। তবে সমালোচকদের দাবি, প্রকাশ্যে বারবার ভর্ৎসনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আধিকারিকদের দাবি, শুভেন্দু আমলাদের এই মর্মে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে তাঁরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন (Bengal Bureaucratic Culture)। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় দফতরগুলির মধ্যে মসৃণ সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন, বিশেষ করে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণের কথা ঘোষণা করার পরে।

    তাই এই নৈশভোজকে এখন অনেকেই একটি প্রতীকী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ধরনের আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির সূচনা করার বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি সরকার। তাদের দাবি, এই সংস্কৃতি প্রকাশ্য সংঘাতের পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেবে (Suvendu Adhikari)।

     

  • Ramakrishna 656: “মৌমাছি কেবল ফুলে বসে—মধু খাবে বলে, অন্য কোন জিনিস মৌমাছির ভাল লাগে না”

    Ramakrishna 656: “মৌমাছি কেবল ফুলে বসে—মধু খাবে বলে, অন্য কোন জিনিস মৌমাছির ভাল লাগে না”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    চতুর্দশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৬ই এপ্রিল
    ঠাকুর গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে — ভক্তের প্রতি ঠাকুরের স্নেহ

    ঠাকুর (Ramakrishna) সর্বদা কথা কহিতে পারেন না, বড় কষ্ট হয়। নিজের ওষ্ঠাধর অঙ্গুলি দ্বারা স্পর্শ করিয়া ইঙ্গিত করিলেন, “পরিবারদের খাওয়া-দাওয়া কিরূপে হবে — তাদের কিসে চলবে?”

    গিরিশ — তা কি করবেন জানি না।

    সকলে চুপ করিয়া আছেন। গিরিশ খাবার খাইতে খাইতে কথা আরম্ভ করিলেন।

    গিরিশ — আচ্ছা, মহাশয় — কোনটা ঠিক! কষ্টে সংসার ছাড়া না সংসারে থেকে তাঁকে ডাকা?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — গীতায় দেখনি? অনাসক্ত হয়ে সংসারে থেকে কর্ম করলে, সব মিথ্যা জেনে জ্ঞানের পর সংসারে থাকলে, ঠিক ঈশ্বরলাভ হয়।

    “যারা কষ্টে ছাড়ে, তারা হীন থাকের লোক (Kathamrita)।

    “সংসারী জ্ঞানী কিরকম জানো? যেমন সার্সীর ঘরে কেউ আছে। ভিতর বার দুই দেখতে পায়।”

    আবার সকলে চুপ করিয়া আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) — কচুরি গরম আর খুব ভাল।

    মাস্টার (গিরিশের প্রতি) — ফাগুর দোকানের কচুরি! বিখ্যাত।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — বিখ্যাত!

    গিরিশ (খাইতে খাইতে, সহাস্যে) — বেশ কচুরি।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — লুচি থাক, কচুরি খাও। (মাস্টারকে) কচুরি কিন্তু রজোগুণের।

    গিরিশ খাইতে খাইতে আবার কথা তুলিলেন।

    সংসারীর মন ও ঠিক ঠিক ত্যাগীর মনের প্রভেদ

    গিরিশ (শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি) — আচ্ছা মহাশয়, মনটা এত উঁচু আছে, আবার নিচু হয় কেন?

    শ্রীরামকৃষ্ণ — সংসারে থাকতে গেলেই ও-রকম হয়। কখনও উঁচু, কখনও নিচু। কখনও বেশ ভক্তি হচ্ছে, আবার কমে যায়। কামিনী-কাঞ্চন নিয়ে থাকতে হয় কিনা, তাই হয়। সংসারে ভক্ত কখন ঈশ্বরচিন্তা, হরিনাম করে; কখন বা কামিনী-কাঞ্চনে মন দিয়ে ফেলে। যেমন সাধারণ মাছি — কখন সন্দেশে বসছে, কখন বা পচা ঘা বা বিষ্ঠাতেও বসে।

    “ত্যাগীদের আলাদা কথা। তারা কামিনী-কাঞ্চন থেকে মন সরিয়ে এনে কেবল ঈশ্বরকে দিতে পারে; কেবল হরিরস পান করতে পারে (Kathamrita)। ঠিক ঠিক ত্যাগী হলে ঈশ্বর বই তাদের আর কিছু ভাল লাগে না। বিষয়কথা হলে উঠে যায়; ঈশ্বরীয় কথা হলে শুনে। ঠিক ঠিক ত্যাগী হলে নিজেরা ঈশ্বরকথা বই আর অন্যবাক্য মুখে আনে না।

    “মৌমাছি কেবল ফুলে বসে—মধু খাবে বলে, অন্য কোন জিনিস মৌমাছির ভাল লাগে না।”

    গিরিশ দক্ষিণের ছোট ছাদটির উপর হাত ধুইতে গেলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — ঈশ্বরের অনুগ্রহ চাই, তবে তাঁতে সব মন হয়। অনেকগুলো কচুরি খেলে, ওকে বলে এসো আজ আর কিছু না খায়।

  • PM Modi: মোদির নেদারল্যান্ডস সফর ছিল ভারতকে ভবিষ্যতের সিলিকন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সুদুরপ্রসারি ব্লু-প্রিন্ট, কীভাবে জানেন?

    PM Modi: মোদির নেদারল্যান্ডস সফর ছিল ভারতকে ভবিষ্যতের সিলিকন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সুদুরপ্রসারি ব্লু-প্রিন্ট, কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে দুনিয়ার সবচেয়ে দামি বা শক্তিশালী অস্ত্র কিন্তু কোনও পরমাণু বোমা বা মিসাইল নয়। সেই অদৃশ্য অস্ত্রের নাম হল— ‘সেমিকন্ডাক্টর চিপ’। আপনার হাতের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে সুপারকম্পিউটার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আধুনিক যুদ্ধবিমান কিংবা বৈদ্যুতিক গাড়ি— চিপ ছাড়া আজ পুরো পৃথিবী অচল। আর এই চিপ তৈরির বিশ্বযুদ্ধে এবার এক ঐতিহাসিক চাল চালল ভারত। কি সেই মাস্টার স্ট্রোক?

    মে ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেদারল্যান্ডস সফর শুধু একটি সাধারণ কূটনৈতিক সফর ছিল না। এটি ছিল ভারতের ভবিষ্যতের সিলিকন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার ব্লু-প্রিন্ট। এই সফরেই সই হল এমন এক চুক্তি, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং প্রযুক্তির মানচিত্র বদলে দিতে চলেছে। ভারতের টেক জায়ান্ট ‘টাটা ইলেকট্রনিক্স’ (Tata Electronics) চুক্তি স্বাক্ষর করল ডাচ প্রযুক্তি জায়ান্ট এএসএমএল (ASML)-এর সঙ্গে। এএসএমএল কোনও সাধারণ কোম্পানি নয়। এটি হল সেমিকন্ডাক্টর জগতের এমন এক একচেটিয়া সম্রাট বা মনোপলি, যার সবুজ সংকেত ছাড়া তাইওয়ানের টিএসএমসি বা আমেরিকার ইন্টেল (Intel)-ও এক পা নড়তে পারে না।

    নেদারল্যান্ডস হল ভারতে চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ

    মে ২০২৬-এ ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব ইয়েটেনের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) গিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডস সফরে। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় ঐতিহাসিক নেদারল্যান্ডস সফর। এই সফরে ভারত ও নেদারল্যান্ডসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছয়। দুই দেশ যৌথভাবে গ্রহণ করে ‘ভারত-নেদারল্যান্ডস স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ রোডম্যাপ (2026–2030)’। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের হিসেব অনুযায়ী, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ২৭.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং নেদারল্যান্ডস হল ভারতে চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ, যার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) পরিমাণ প্রায় ৫৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    এই ২০২৬-২০৩০ রোডম্যাপের মূল ভিত্তি কিন্তু শুধু সাধারণ বাণিজ্য নয়, এর কেন্দ্রে রয়েছে— ক্রিপ্টো, এআই, কোয়ান্টাম টেকনোলজি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘সেমিকন্ডাক্টর’। ভারতের ‘ইন্ডিয়ান সেমিকন্ডাক্টর মিশন’ (ISM) এবং ডাচ ‘সেমিকন কম্পিটেন্স সেন্টার’-এর মধ্যে কৌশলগত জোট গড়ার আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ে এই সফরেই। যার লক্ষ্য— চিপ তৈরির গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে চিনের একচেটিয়া আধিপত্য চূর্ণ করে একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেইন তৈরি করা।

    এএসএমএল আসলে কী?

    এএসএমএল এর সম্পূর্ণ নাম ‘Advanced Semiconductor Materials Lithography’। নেদারল্যান্ডসের ভেলধোভেন (Veldhoven)-এ সদর দফতর অবস্থিত এই কোম্পানিটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ খুব বেশি না জানলেও, অ্যাপল, স্যামসাং কিংবা এনভিডিয়ার মতো ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিগুলো এই এসএমএল-এর সামনে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকে। কেন? কারণ, চিপ তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল প্রক্রিয়া হলো ‘লিথোগ্রাফি’। একটি সিলিকন ওয়েফারের ওপর আলোর সাহায্যে কোটি কোটি বা বিলিয়ন বিলিয়ন ন্যানো-স্কেলের সার্কিট খোদাই করার পদ্ধতিই হলো লিথোগ্রাফি। আর এই কাজের জন্য যে মেশিনের প্রয়োজন হয়, তাকে বলা হয় EUV (Extreme Ultraviolet) এবং DUV (Deep Ultraviolet) লিথোগ্রাফি মেশিন।

    পৃথিবীর সবচেয়ে অ্যাডভান্সড চিপ (যেমন ৩ ন্যানোমিটার বা ২ ন্যানোমিটার চিপ, যা আইফোন বা এআই সুপারকম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়) তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় EUV মেশিনের বাজারে ASML-এর একচেটিয়া ১০০% মনোপলি রয়েছে! দুনিয়ায় অন্য কোনও কোম্পানি এই মেশিন তৈরি করতে পারে না। এক একটি মেশিনের দাম ২০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা একটি আস্ত বোয়িং বিমানের চেয়েও দামি। এই মেশিন ছাড়া তাইওয়ানের TSMC-ও অচল। তাই চিপের দুনিয়ায় রাজত্ব করতে গেলে এএসএমএল (ASML)-এর আশীর্বাদ অপরিহার্য। আর ভারত ঠিক এই জায়গায়ই নিজের খুঁটি পুঁতে দিল।

    ভারতের প্রথম ৩০০ মিলিমিটার কারখানা হচ্ছে

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) এই সফরের ঠিক মাঝখানেই, ১৬ মে ২০২৬ তারিখে দ্য হেগ শহরে এক ঐতিহাসিক মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ভারত গৌরব টাটা গ্রুপেরই প্রতিষ্ঠান ‘টাটা ইলেকট্রনিক্স’ এবং ডাচ জায়ান্ট ‘ASML’ ভারতের প্রথম কমার্শিয়াল সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব স্থাপনের জন্য স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের কথা ঘোষণা করে। গুজরাটের ধোলেরায় টাটা ইলেকট্রনিক্স প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বা প্রায় ৯১,০০০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করে ভারতের প্রথম ৩০০ মিলিমিটার (১২ ইঞ্চি) কমার্শিয়াল চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাব বা কারখানা তৈরি করছে। এই মেগা প্রজেক্টে টাটার প্রযুক্তিগত পার্টনার ছিল তাইওয়ানের PSMC। কিন্তু চিপ তৈরির আসল হাতিয়ার অর্থাৎ লিথোগ্রাফি টুলস এবং হোলিস্টিক সলিউশনস সরবরাহ করার দায়িত্ব এবার অফিশিয়ালি কাঁধে নিল এসএমএল।

    এই চুক্তির ফলে কী সুবিধা হবে?

    প্রথমত, ধোলেরা ফ্যাবে এসএমএল -এর বিশ্বমানের অ্যাডভান্সড লিথোগ্রাফি যন্ত্রপাতি বসানো হবে, যা চিপ উৎপাদনের গতি এবং গুণমান আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে ২৮ ন্যানোমিটার, ৪০ ন্যানোমিটার, ৫৫ ন্যানোমিটার এবং ৯০ ন্যানোমিটারের চিপ তৈরি হবে, যা অটোমোবাইল (গাড়ি), মোবাইল ডিভাইস, ডিফেন্স এবং এআই (AI) সেক্টরের গ্লোবাল চাহিদা মেটাবে। তৃতীয়ত, এটি কেবল যন্ত্র কেনার চুক্তি নয়। এসএমএল এবং টাটা যৌথভাবে ভারতে লিথোগ্রাফি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (R&D) ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি করবে এবং ভারতীয় তরুণদের এই উচ্চ প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ ট্রেনিং দেবে। টাটা ইলেকট্রনিক্সের সিইও রণধীর ঠাকুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসএমএল-এর এই গভীর প্রযুক্তিগত সহায়তা ভারতকে গ্লোবাল কাস্টমারদের কাছে একটি বিশ্বস্ত এবং স্থিতিস্থাপক সাপ্লাই চেন পার্টনার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।

    ঐতিহাসিক মাইলফলক

    প্রশ্ন হল, ভারত হঠাৎ সেমিকন্ডাক্টরের পেছনে লাখ কোটি টাকা কেন ঢালছে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে গ্লোবাল জিওপলিটিক্স বা ভূ-রাজনীতিতে। বর্তমানে পৃথিবীর ৯০ শতাংশেরও বেশি উন্নত চিপ তৈরি হয় তাইওয়ানে। কিন্তু চিনের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে তাইওয়ানকে নিয়ে সবসময় যুদ্ধকালীন মেঘ ঘনিয়ে থাকে। যদি চিন কোনওদিন তাইওয়ান দখল করে নেয়, তবে পুরো পৃথিবীর টেকনোলজি থমকে যাবে। কূটনীতির পরিভাষায় একে বলা হয় ‘তাইওয়ান রিস্ক’।

    আমেরিকা এবং ইউরোপ তাই চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ব্যাকুল। তারা এমন এক বন্ধু রাষ্ট্র চাইছে যার বিশাল বাজার আছে, দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার আছেন এবং স্থিতিশীল গণতন্ত্র আছে। ভারত ঠিক এই সুযোগটাই লুফে নিয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে ভারত সরকার প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইনসেনটিভ বা পিএলআই (PLI) স্কিম ঘোষণা করেছে চিপ প্রস্তুতকারীদের জন্য।

    এসএমএল (ASML)-এর সিইও ক্রিস্টোফ ফুকে নিজেই স্বীকার করেছেন, ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল সেমিকন্ডাক্টর বাজারকে অবহেলা করা অসম্ভব। তাই তাইওয়ানের ওপর বৈশ্বিক নির্ভরতা কমিয়ে ভারতকে চিপের বিকল্প গ্লোবাল হাব বানানোর এই আন্তর্জাতিক খেলায় টাটা- এসএমএল চুক্তি এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    একসময় বলা হত, ভারত কেবল সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে, হার্ডওয়্যার বা ম্যানুফ্যাকচারিং করা ভারতের কম্ম নয়। কিন্তু আজ টাটা, পিএসএমসি এবং খোদ এএসএমএল-এর এই ত্রিবেণী সঙ্গম প্রমাণ করে দিল— ভারত এবার চিপ ডিজাইনের পাশাপাশি চিপ উৎপাদনেও বিশ্বনেতা হতে প্রস্তুত। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর হাব হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেখিয়েছেন, তা আর কেবল কাগজে বা স্লোগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে ধোলেরার মাটিতে।

  • Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে অল আউট খেলছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। দিন দুয়েক আগেই রাজ্যের সব জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের (Bangladeshi Immigrants) পাকড়াও করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখার দাওয়াই দিয়েছিলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত দুই জেলা মালদা এবং মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয় ১৪ অনুপ্রবেশকারীকে। তাঁদের ঠাঁই হয়েছে নবগঠিত হোল্ডিং সেন্টারে। এহেন আবহে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে এবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে শুভেন্দু বলেন, “এঁদের চলে যাওয়া উচিত। ওই দেশের মুখপাত্র বলেছিলেন যে বাংলাদেশিদের ফেরত নেবেন। জলদি জলদি ভাগো। জলদি জলদি ভাগো। নাহলে এই সরকার যা করার করবে।”

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Suvendu Adhikari) 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলে দিয়েছি, বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরে কোর্টে পাঠানোর কোনও দরকার নেই। আইনে নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে হ্যান্ডওভার করবে। ভারত সরকার, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিএসএফের যে এগ্রিমেন্ট আছে, সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশি প্রমাণ করে হস্তান্তর করে দেবে। আমাদের জেলে তিন মাস, ছ’মাস, কিংবা দু’বছর রেখে, আপনার চাল, আপনার ডাল, আপনার তেল, আপনার মাছ, আপনার ডিম, আপনার কাপড়, আপনার ওষুধ ওদের দেব কেন? ভারতীয়দেরই ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের রাজ্যেরই ক্ষতি হচ্ছে। সেইজন্যই আইনটা এতদিন ছিল। ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে কেউ বা কারা ব্যবহার করেননি। আমরা ভোটব্যাঙ্কের বাইরে গিয়ে, দেশের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে এই আইন কার্যকর করছি (Suvendu Adhikari)।”

    হাকিমপুর চেকপোস্টে অনুপ্রবেশকারীরা

    প্রসঙ্গত, রবিবারই হোল্ডিং সেন্টার চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরানোর কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার জেরেই ব্যাপক ভিড় উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে। সেখানেই বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছেন বাম-তৃণমূলের জমানায় পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারীরা। এঁদের অনেকেই কাজ করছিলেন রাজারহাট নিউটাউন এলাকায়। অনেকেই পাঁচ-সাত বছর ধরে ছিলেন এ রাজ্যে (Suvendu Adhikari)। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হতেই এঁরা বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভিড় করেছেন সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে। বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের পর (Bangladeshi Immigrants) এঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে।

     

  • Amit Shah: ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা শাহের

    Amit Shah: ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অনির্দিষ্ট কারণের ফলে হওয়া ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ (Demographic Shifts) যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেন শাহ। তিনি এই বিষয়টিকে ভারতের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং আদিবাসী সমাজের সংরক্ষণের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন।

    কী লিখলেন শাহ? (Amit Shah)

    এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে তিনি জানান, গত বছরের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্যানেল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শাহ লিখেছেন, “অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য যে কোনও দেশের কাছে অত্যন্ত গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ১৫ অগাস্ট, ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি ‘হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সরকার এখন এই কমিটি গঠন করেছে।”

    কমিটির সদস্য কারা?

    শাহ জানান, এই কমিটির চেয়ারম্যান হবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকর। সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব, অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি এবং জনগণনা কমিশনার। তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফরেনার্স-গ্রেড ওয়ান বিভাগের যুগ্মসচিব এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে কাজ করবেন।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই কমিটি অবৈধ অভিবাসন এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণের ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটছে, তার একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন করবে। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ভিত্তিক অস্বাভাবিক জনসংখ্যা পরিবর্তনের ধরণ বিশ্লেষণ করে এজন্য একটি পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব করবে (Amit Shah)।

    সীমান্তবর্তী গ্রামে নিবিড় নজরদারি

    শাহের এই ঘোষণাটি হয়েছে এমন এক দিনে, যেদিন তিনি রাজস্থানের বিকানের জেলার বিএসএফের সাঞ্চু আউটপোস্ট পরিদর্শন করেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং ড্রোনের মাধ্যমে মাদক পাচারের মতো নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে বিএসএফের কার্যক্ষেত্র বাড়িয়েছে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত (Amit Shah)। তিনি বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের কারণে হওয়া জনবিন্যাস পরিবর্তনের (Demographic Shifts) বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং সীমান্তবর্তী গ্রামের কার্যকলাপের ওপর নিবিড় নজরদারি চালাতে হবে।”

     

  • Quad Meet: পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ, নজরে চিন! কোয়াড বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

    Quad Meet: পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ, নজরে চিন! কোয়াড বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড (Quad) বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া একযোগে “মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক” গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল। একইসঙ্গে দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানাল চার দেশ। মঙ্গলবার হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোসেমিৎসু মোতেগি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ এবং শক্তিসম্পদ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করেছে কোয়াড গোষ্ঠী ৷

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি

    মঙ্গলবার সকালে নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নেতৃত্বে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের বিদেশমন্ত্রীরা বৈঠক করেন ৷ বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তির মাধ্যমে কোনও পক্ষের একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা বদলের চেষ্টার বিরোধিতা করেছে কোয়াড দেশগুলি। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে কোয়াড। গুরগাঁওয়ে অবস্থিত ভারতের ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টারের মাধ্যমে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নজরদারি ও তথ্য ভাগাভাগির উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে “কমন অপারেশনাল পিকচার” তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে সামুদ্রিক নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়। আসলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিকে রুখে দাঁড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য ৷

    পহেলগাঁও হামলার কড়া নিন্দা

    যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড দেশগুলি “সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্তপারের জঙ্গি কার্যকলাপের” বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। বিশেষভাবে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া জঙ্গি হামলার উল্লেখ করে তার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের মদতদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের বিরুদ্ধে “দৃঢ় ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ”-এর দাবি জানানো হয়েছে।

    দক্ষিণ চিন সাগর ও সমুদ্রপথ নিয়ে উদ্বেগ

    কোয়াড দেশগুলি দক্ষিণ চিন সাগর ও পূর্ব চিন সাগরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও কোনও দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে “বিপজ্জনক ও জবরদস্তিমূলক কার্যকলাপ”, জলকামান ব্যবহার, জাহাজে ধাক্কা মারা, নৌ চলাচলে বাধা এবং বিতর্কিত অঞ্চলের সামরিকীকরণের বিরোধিতা করা হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচল ও বাণিজ্য বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন (United Nations Convention on the Law of the Sea) মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া ও মায়ানমার প্রসঙ্গ

    বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কোয়াড দেশগুলি কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পরমাণু-মুক্ত করার পক্ষে অবস্থান জানায়। অন্যদিকে মায়ানমারের চলমান সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে হিংসা বন্ধ, বন্দিদের মুক্তি এবং সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অর্থনীতি, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজে জোর

    বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ও অর্থনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ তুলে কোয়াড দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) নিয়ে নতুন কাঠামো গঠনের ঘোষণা করেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ ও পুনর্ব্যবহারে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এছাড়া “কোয়াড ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ” চালু করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

    প্রযুক্তি, এআই ও আন্ডারসি কেবল

    বৈঠকে ৫জি, ৬জি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিরাপদ ডিজিটাল পরিকাঠামো ও নির্ভরযোগ্য সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতির “মেরুদণ্ড” হিসেবে আন্ডারসি কেবল নেটওয়ার্কের সুরক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কোয়াডের সহায়তায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের সব দেশকে আন্ডারসি কেবলের মাধ্যমে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চার দেশ। পাপুয়া নিউ গিনির ভূমিধস ও মায়ানমারের ভূমিকম্পে যৌথ ত্রাণ কার্যক্রমের উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোয়াড দেশগুলি জানিয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

    বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের বার্তা

    বৈঠকের শেষে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “এই আলোচনার বেশির ভাগ অংশ এবং দ্বিপাক্ষিক মত বিনিময়ের অনেকটা জুড়ে ছিল বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিত ৷ আমরা চারজনই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সমুদ্রের ধারে বসবাসকারী গণতান্ত্রিক দেশ ৷ আমরা সুরক্ষিত এবং বাধাহীন সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করেছি ৷” একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেকগুলি দিক ও মাত্রা রয়েছে ৷ কোয়াড গোষ্ঠীর বৈঠকে সেই বিষয়গুলির উন্নতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে ৷ আগামী দিনে বিশ্বে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “আগামী দিনে, অর্থনৈতিক কাজকর্ম হোক বা শক্তিসম্পদের বাণিজ্য বা সমুদ্রে বাণিজ্য, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বিশ্বে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে ৷ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোয়াড গোষ্ঠীর দায়িত্বও বৃদ্ধি পাবে এবং আমাদের তার জন্য প্রস্তুত হতে হবে ৷”

  • Amit Shah: অনুপ্রবেশ রুখতে অনড় কেন্দ্র, সীমান্ত সুরক্ষা ও ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প খতিয়ে দেখতে জুনেই রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ

    Amit Shah: অনুপ্রবেশ রুখতে অনড় কেন্দ্র, সীমান্ত সুরক্ষা ও ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প খতিয়ে দেখতে জুনেই রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ রোধে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ অর্থাৎ চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার-এই নীতিতে অবিচল। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত অঞ্চলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সীমান্ত (Visit Bengal Borde) এলাকাগুলির সুরক্ষাকবচ নিশ্ছিদ্র করতে সম্প্রতি কেন্দ্র যে ‘স্মার্ট বর্ডার’ (Smart Border) প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল, তার বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে দেশব্যাপী সফর শুরু করছেন তিনি। এই সফরসূচিতে পশ্চিমবঙ্গও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২৬ মে রাজাস্থান যাবেন, ৯ মে গুজরাটের ভুজ সফরে যাবেন এবং ৫ জুন ত্রিপুরা সীমান্ত সফরের যাবেন অমিত শাহ। আর ১৫ জুন বঙ্গ সফরে আসবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সরকার গড়তেই সীমান্ত সুরক্ষাকে প্রাথমিকতা (Amit Shah)

    উল্লেখ্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটা বড় অংশে বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বিএসএফকে জমি (Visit Bengal Borde) না দেওয়ার কারণে চোরাচালান, অবৈধ পাচার এবং অনুপ্রবেশের একটা বড় অভিযোগ উঠছিল। তৃণমূল সরকার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বারবার চাওয়া সত্ত্বেও জমি ও কাটা তারের বেড়া দিতে দেয়নি বলে বিজেপি অভিযোগ করেছে। এবার রাজ্যে বিজেপির সরকার গড়তেই সীমান্ত সুরক্ষাকে প্রাথমিকতা দিয়েছে। ইতিমধ্যে কোচবিহার, মালাদা এবং মুর্শিদবাদে বিএসএফকে জমি দিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। এরপরই শাহের (Amit Shah) সফর ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।

    রাজস্থান দিয়ে সফর শুরু

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই কর্মসূচির অধীনে মোট চারটি সীমান্ত রাজ্যে সফর করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah)। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে এই সফর। প্রথম দফায় তিনি রাজস্থানের বিকানের অঞ্চলের সীমান্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করবেন। সফরকালীন সুরক্ষার রূপরেখা নির্ধারণে রাজস্থানের সীমান্ত (Visit Bengal Borde) সংলগ্ন পাঁচ জেলার জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP), রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি।

    ১৫ জুন পশ্চিমবঙ্গ সফর তাৎপর্যপূর্ণ সীমান্ত বৈঠক

    আগামী ১৫ জুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএফ-এর জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Amit Shah) সম্ভাব্য কর্মসূচিসমূহ হল–

    সীমান্ত চৌকি পরিদর্শন

    ভারত-বাংলাদেশ (Visit Bengal Borde) সীমান্তের কোনও একটি অগ্রবর্তী বিএসএফ পোস্ট (Border Outpost) পরিদর্শন করবেন এবং বাহিনীর সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন।

    উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক

    রাজস্থানের মতোই এ রাজ্যেও সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলির জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বিএসএফ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকদের নিয়ে সমন্বয় বৈঠক করবেন।

    সমন্বয়ের বার্তা

    দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের (Visit Bengal Borde) জনবিন্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখতে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্য সফল করতে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন ও বিএসএফ-কে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সূত্রের খবর, সীমান্তে অনুপ্রবেশ, গবাদি ও মাদক পাচার, জাল নোট চক্র এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি- এসব কিছু নিয়েই বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah)। সীমান্ত বাহিনীর বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলির জেলা প্রশাসন ও পুলিশকর্তাদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আগামী দিনের বৈঠক

    চারটি সীমান্ত (Visit Bengal Borde) রাজ্য পরিদর্শনের পর, ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পের সফল রূপায়ণ ও সীমান্ত সুরক্ষার আধুনিকীকরণ নিয়ে পরবর্তী ধাপে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) একটি পৃথক ও বিশদ বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানা গেছে।

    ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ

    উল্লেখ্য বাংলাদেশে হাসিনাকে বিতারিত করার পর থেকেই জামায়েত- ই-ইসলাম বাংলাদেশে অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মহম্মদ ইউনুসের আমল থেকে ভারত বিরোধিতার গতিবিধি ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও জমায়েত এখন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল। তাঁদের নেতারা সব সময় ভারত বিরোধিতা করতেই মত্ত। সভেন সিস্টার এবং চিকেন নেক নিয়ে প্রায় প্রায় আক্রমণের উত্তেজক ভাষণ শোনা যায়। সম্প্রতি আইএসআইয়ের সঙ্গে  জামাতের গোপন চুক্তি সামনে এসেছে। একই ভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারত সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতে জামত এক চেটিয়া আসন লাভ করেছে। সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, রংপুর-সহ আরও এলাকায় জামাত একাধিপত্য লাভ করেছে। তাই এই অবস্থায় পাকিস্তানের ভারত বিরোধী কর্মকাণ্ডের যাতে অন্যতম হাব বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে না হয় সেই দিকেই নজর রেখে ভারত সরকার স্মার্ট বর্ডার নির্মাণের রূপরেখে ঠিক করেছে। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • Suvendu Adhikari Announcements: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম, জনসংযোগে ‘আপনার সরকারকে বলুন’, কল্যাণীর প্রশাসনিক সভা থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari Announcements: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম, জনসংযোগে ‘আপনার সরকারকে বলুন’, কল্যাণীর প্রশাসনিক সভা থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) কার্যকর করার সরকারি প্রক্রিয়া বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে। কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, বুধবার থেকেই প্রকল্পের আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করা হবে এবং তা অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে। পাশাপাশি ‘মা ক্যান্টিন’-এ সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত চালু, ‘দিদিকে বলো’-র নাম পরিবর্তন, মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা এবং আয়ুষ দফতরকে পৃথক করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

    কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে কী আলোচনা হল

    মঙ্গলবার কল্যাণীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে চালু থাকা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’-কে আয়ুষ্মান ভারতের কাঠামোয় রূপান্তরের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে। বুধবার নবান্নে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী, মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সেই ফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, যত দ্রুত নথিভুক্তিকরণ হবে, তত দ্রুত উপভোক্তারা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

    ১ জুন থেকেই টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি

    প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফর্ম পূরণ ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন সাধারণ মানুষ যাতে আর্থিক সমস্যায় না পড়েন, সে দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু না হচ্ছে, ততদিন পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা আগের নিয়মেই উপভোক্তারা পাবেন।

    অনলাইন-অফলাইন দুই ব্যবস্থাতেই ফর্ম জমা

    শুভেন্দু জানান, বুধবার থেকেই সাধারণ মানুষ ফর্মের প্রতিলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ব্যবস্থাই রাখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র জনগণের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিধায়কেরা নিজ উদ্যোগে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। পাশাপাশি বিডিওদের নেতৃত্বে সরকারি কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সহায়তা করবেন।

    নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট বার্তা

    অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কারা পাবেন, সে বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ দেশের বৈধ নাগরিকদের জন্যই বরাদ্দ।

    মা ক্যান্টিনে সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত

    সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে ‘মা ক্যান্টিন’-এ নতুন খাদ্যতালিকার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪০০টি মা ক্যান্টিন চালু রয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে দু’দিন ৫ টাকাতেই মাছ-ভাত দেওয়া হবে। বাকি পাঁচ দিন আগের মতোই ডিম-ভাত মিলবে একই মূল্যে। এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার।

    ‘দিদিকে বলো’-র নতুন নাম ‘আপনার সরকারকে বলুন’

    রাজ্যের জনপ্রিয় জনসংযোগ কর্মসূচি ‘দিদিকে বলো’-র নাম পরিবর্তনের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী সপ্তাহ থেকে পরিষেবাটির নতুন নাম হবে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। তিনি জানান, পুরনো টোল-ফ্রি নম্বরও পরিবর্তন করা হবে এবং পরিষেবা চালুর দিন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। পরিষেবার নতুন নাম নির্ধারণ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

    মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রা

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি বাসে আপাতত সমস্ত মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভা আগেই এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই পরিষেবার জন্য বিশেষ কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচি পালন করবে রাজ্য

    কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিও রাজ্যে পালন করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচির আওতায় পরিবেশ ও বন দফতর প্রত্যেক বিধায়ককে গাছ বিতরণের জন্য চারাগাছ সরবরাহ করবে। এছাড়া ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির আয়োজনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হবে।

    বিশ্ব যোগ দিবস ও আয়ুষ দফতর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

    ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস রাজ্যজুড়ে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচির দায়িত্বে থাকবে আয়ুষ দফতর এবং ক্রীড়া দফতর। এদিন তিনি আরও জানান, নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আয়ুষ দফতরকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করা হবে। মন্ত্রিসভায় বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পৃথক দফতর গঠনের মাধ্যমে আয়ুষ পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা এবং জাতীয় স্তরের সুযোগ-সুবিধা রাজ্যে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

  • Ghatal Master Plan: ৫০:৫০ ফর্মুলা বরাদ্দে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণে নয়া দিশা, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে স্থায়ী সমাধানের পথে নবান্ন

    Ghatal Master Plan: ৫০:৫০ ফর্মুলা বরাদ্দে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণে নয়া দিশা, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে স্থায়ী সমাধানের পথে নবান্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ (Ghatal Master Plan) রূপায়ণের ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক ও নয়া দিশা দেখাতে চলেছে বিজেপি সরকার। পূর্ববর্তী সরকারের একরোখা নীতি থেকে সরে এসে, এবার কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অংশীদারিত্বে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে নবান্ন। সোমবার সচিব পর্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই বিষয়ে তাঁর সরকারের অবস্থান ও নতুন আর্থিক ফর্মুলার কথা ঘোষণা করেছেন।

    অর্থ বরাদ্দে ৫০:৫০ ফর্মুলা (Ghatal Master Plan)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান (Ghatal Master Plan) বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মোট ব্যয়ের ৫০ শতাংশ বহন করবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুফলকে কাজে লাগিয়েই এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার একটি স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান খুঁজছে বর্তমান প্রশাসন। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) সেচ দফতরের পদস্থ আধিকারিকদের এই বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে অবিলম্বে বিশদ আলোচনা শুরু করার জন্য সেচ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    পূর্বতন নীতিতে আমূল বদল

    উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের জেরে এককভাবেই এই মাস্টারপ্ল্যান (Ghatal Master Plan) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের তরফে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা মিলছে না। ফলত, মূল প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ১২৭০ কোটি টাকা হলেও, রাজ্য নিজস্ব তহবিল থেকে প্রথম দফার জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ শুরুর ঘোষণা করেছিল। তবে তাতে কেন্দ্রীয় সহযোগিতার কোনও রূপরেখা ছিল না। বর্তমানে রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পর সেই পুরনো পরিকল্পনাকে পুরোপুরি বদলে ফেলা হচ্ছে।

    প্রেক্ষাপট ২০২৬

    ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘাটালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হলে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান (Ghatal Master Plan) দ্রুত বাস্তবায়িত করা হবে। বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য, কেন্দ্রের সঙ্গে সুসংগত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যৌথভাবে এই বৃহৎ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পূর্বতন সরকারের ১২৭০ কোটি টাকার প্রস্তাবটির তুলনায় বর্তমান বাস্তবতায় প্রকল্প ব্যয়ের পরিমাণ অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে, যা খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    উল্লেখ্য প্রতিবার ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট চাইতে এসে বারবার ঘাটাল মাস্টার প্লানের প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনও বার সদর্থক ভূমিকা করতে দেখা যায়নি। তিন তিন বারের সাংসদ দেব রাজ্য জুড়ে ভোটের প্রচারেও নিজের কেন্দ্র কীভাবে বর্ষার সময় জনজীবন বিপন্নের মুখোমুখি হয়ে পড়েন তা দেখেও না দেখার ভান করেছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে মন্তব্য করলেও কার্যকর নিয়ে কোনও রকম সদর্থক ভূমিকা নেননি। এই অবস্থায় ভরা ডুবির পর সাংসদ দেব বলছেন রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফিরে যাবেন।

    বিগত সরকারের সদিচ্ছার অভাব ছিল: শীতল কপাট

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই নয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট পূর্ববর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অংশগ্রহণ ছাড়া ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের (Ghatal Master Plan) মতো একটি মেগা প্রকল্প সম্পন্ন করা অসম্ভব। তিনি দাবি করেন—

    • ● এই বিশাল প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা কোনওভাবেই পর্যাপ্ত নয়; এর জন্য ন্যূনতম ৪,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন।
    • ● বিগত সরকারের এই প্রকল্প রূপায়ণে প্রকৃত সদিচ্ছার অভাব ছিল। মাস্টারপ্ল্যানের অজুহাতে নদীগর্ভ থেকে বালি ও মাটি উত্তোলনের অনিয়মই ছিল মুখ্য।
    • ● বালি ও মাটি মাফিয়ার দাপটে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এবার কেন্দ্রে ও রাজ্যে সমমনোভাপন্ন সরকার থাকায়, ‘ডাবল ইঞ্জিন’-এর গতিতে এই মাস্টারপ্ল্যান একশো শতাংশ সফল হবে।

    দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তির আশা

    বছরের পর বছর ধরে বর্ষার মরশুমে ঘাটাল (Ghatal Master Plan), দাসপুরসহ মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হতে হয়, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিধায়ক উল্লেখ করেন, এই দুর্যোগকালীন সময়ে শুভেন্দু অধিকারী সর্বদা ঘাটালবাসীর পাশে থেকেছেন এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিগত পাঁচ বছর তাঁদের কাজ করার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) এই জনস্বার্থবাহী প্রকল্পে বিশেষ নজর দিয়েছেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আর্থিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় থাকলে ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এখন দেখার, পূর্ববর্তী রূপরেখাকেই পরিমার্জন করা হয় নাকি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে এই রূপায়ণের কাজ শুরু হয়।

LinkedIn
Share