Tag: bangla news

bangla news

  • Maritime Security: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনকে টেক্কা দিতে সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা মোদির

    Maritime Security: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনকে টেক্কা দিতে সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (Maritime Security) সহযোগিতা আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিল ভারত (Indian Ocean Region)। এই লক্ষ্যে সেশেলসের জন্য ১৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার কথাও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা চলার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদির দেশ।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (Maritime Security)

    সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণাটি করা হয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মরিশাস ও কোমোরো-সহ এই অঞ্চলের একাধিক দেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে। একই সময়ে অঞ্চলটিতে বেজিংয়ের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনির সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব ভারত–সেশেলস সম্পর্কের একটি শক্তিশালী ভিত্তি। আমাদের সব উদ্যোগ সেশেলসের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে নেওয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ১৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করছি। এই প্যাকেজ সামাজিক আবাসন, ই-মোবিলিটি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলিতে নির্দিষ্ট প্রকল্পকে সাহায্য করবে।”

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা আমাদের অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের পূর্ণ সদস্য হিসেবে সেশেলসকে আমরা স্বাগত জানাই। এর ফলে পারস্পরিক সমন্বয় আরও মজবুত হবে এবং ভারত মহাসাগরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা জোরদার হবে (Maritime Security)।” আফ্রিকার এই দ্বীপপুঞ্জ রাষ্ট্রে প্যাট্রিক হারমিনি ২০২৫ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটি তাঁর প্রথম সরকারি ভারত সফর। ছ’দিনের এই সফরে তিনি ইতিমধ্যেই চেন্নাই ও মুম্বই সফর করেছেন এবং পরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছন। মঙ্গলবার তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং এরপর আগ্রা সফর শেষে তাঁর দেশে ফিরে যাওয়ার কথা। পশ্চিম ভারত মহাসাগরের একটি (Indian Ocean Region) গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে অবস্থিত সেশেলস দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তবে গত দু’দশকে চিনও এই অঞ্চলে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি কলেজের গবেষণা সংস্থা এইডডেটার তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চিন সেশেলসের রাজধানী ভিক্টোরিয়ায় মোট ১৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য পাঠিয়েছে।

    নয়াদিল্লির কৌশল

    সেশেলসে চিনের আর্থিক সহায়তা অনুদান ও ঋণের সমন্বয়ে গঠিত। ২০১১ সালে লেস মামেলেস এলাকায় ২৪টি আবাসন ইউনিট নির্মাণে চিন ১৮ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় অনুদান দেয়। এই এলাকায় ১৮৬৪ সালের ঐতিহাসিক বাতিঘর ‘ফারে দে মামেলেস’ এবং ৫২ মিটার উচ্চ আফ্রিকান রেনেসাঁ স্মৃতিস্তম্ভ অবস্থিত। পরবর্তী সময়ে দ্বীপজুড়ে আরও একাধিক সামাজিক আবাসন প্রকল্পে চিন অনুদান দিয়েছে (Indian Ocean Region)। ভারতের সাম্প্রতিক এই ঘোষণা এবং সোমবার স্বাক্ষরিত মউ – যার আওতায় সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, সমুদ্র পরিষেবা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং সামুদ্রিক গবেষণা পরিচালনার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত, এই অঞ্চলের প্রতি নয়াদিল্লির কৌশলে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে (Maritime Security)। সেশেলসে আবাসন প্রকল্প, শিক্ষা, যোগাযোগ, পরিবহণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সরকারি ও নাগরিক সমাজভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগে চিন দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। পাশাপাশি দেশটিকে সার্বিক সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছে বেজিং (Indian Ocean Region)।

     

  • SIR Case in Supreme Court: ‘এসআইআর হবেই, রাজ্যকে এটা বুঝতে হবে’, মমতা প্রশাসনকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    SIR Case in Supreme Court: ‘এসআইআর হবেই, রাজ্যকে এটা বুঝতে হবে’, মমতা প্রশাসনকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম দুয়ারে এসআইআর নিয়ে নিরাশ রাজ্য সরকার। ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলায় (SIR Case in Supreme Court) সোমবার কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই বাধা দেওয়া যাবে না। সুষ্ঠুভাবে এই কাজ সম্পন্ন করতে সব রাজ্যকেই নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে। আদালত আরও জানায়, নির্বাচন কমিশন চাইলে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের স্বার্থে ইআরও (ERO) বা এইআরও (AERO)-দের বদল করতেই পারে, এতে রাজ্যের আপত্তির জায়গা নেই।

    কোর্টরুমে হট্টোগোল

    এদিন শুনানির শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান গত এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এসআইআর মামলার আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীও সে সময়ে জানান, একটি মন্দির পরিচালনকারী সংস্থার নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আবেদন জানিয়েছে। কেন এমন একটি সংস্থা হস্তক্ষেপ করছে তা নিয়ে আপত্তি জানান এই আইনজীবী। অন্যদিকে, আইনজীবী মুকুল রোহতাগিও একটি ইস্যু তোলার চেষ্টা করেন। হট্টোগোল বেধে যায় কোর্টরুমে। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আপনারা শৃঙ্খলা মেনে না চললে জানেন প্রধান বিচারপতির হাতে কী ক্ষমতা রয়েছে? সমস্ত মামলা আমি ছুড়ে ফেলে দেব। আপনারা কি সবজির বাজারে বসে আছেন নাকি? ভুলে গিয়েছেন এটা কোর্টরুম?’

    রাজ্যকে ভর্ৎসনা

    রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে ৮ হাজার ৫০৫ জন অফিসারের নাম কমিশনকে পাঠানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতিও জানতে চান, ‘সমস্যা তো এখানেই। কর্মী দিয়েছেন। তাঁদের নামের তালিকা আছে? আমরা বলেছিলাম বাংলা জানেন এমন কর্মী প্রয়োজন।’এই নামের তালিকা কমিশন পেয়েছে কি না তা-ও জানতে চান বিচারপতি। কারণ ‘দত্ত বা দত্তা কিংবা গাঙ্গুলি বা গঙ্গোপাধ্যায়’ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তিনিও চান না। তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, কোনও অফিসারদের নামের তালিকা তারা পায়নি। কেবলমাত্র জেলাভিত্তিক অফিসারদের সংখ্যা জানানো হয়েছে তাদের। জবাবে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, নির্বাচন কমিশনকে পাঠানোর জন্য নামের তালিকা সম্পূর্ণ তৈরি কেবলমাত্র অনুমোদনের অপেক্ষা। ৫ কিংবা ৬ ফেব্রুয়ারি এই তালিকা কমিশনের কাছে পৌঁছে যাওয়া উচিত ছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। কার্যত ভর্ৎসনা করেই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই নামের তালিকা আগেই আপনাদের পাঠিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। কোর্টের মাধ্যমে পাঠানোর অপেক্ষার প্রয়োজন ছিল না।’

    শুধু সংখ্যা পাঠালে হবে না

    প্রধান বিচারপতি বলেন, শুধু সংখ্যা পাঠালে হবে না। অফিসারের নাম ডেজিগনেশন সহ সমস্ত তথ্য দিতে হবে। তবে তাদের ডেপুটেশনে নেওয়া সম্ভব হবে। ৪ বা ৫ তারিখ কেন তালিকা দেওয়া হল না? প্রধান বিচারপতি এদিন রাজ্যকে বলেন, “আমরা ৪ তারিখ নামের তালিকা দিতে বলেছি। ৭ তারিখ নাম দেওয়া হয়েছে। ৪ বা ৫ তারিখ নাম দেওয়া যেত। আমরা এই বিষয় নিয়ে বিতর্ক চাই না। বিতর্ক হলে আমাদের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিতে হবে।” রাজ্য জানিয়েছে, তালিকা তৈরি করতে একটু সময় লেগেছে। কোথায় কত আধিকারিক প্রয়োজন জানতে চাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে রাজ্য।

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

    সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর মামলার শুনানি শুরু হতে না হতেই হট্টোগোল পড়ে যায়। পক্ষে এবং বিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের বক্তব্য পেশ করার চেষ্টা করতেই ক্ষুব্ধ হন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এদিন মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, “এসআইআর হবেই, এটা সব রাজ্যকে বুঝতে হবে। প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য যা নির্দেশ দেওয়ার আমরা দেব।” আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সওয়াল করেন, ‘পিএসইউ থেকে নেওয়া কর্মীদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনও সম্পর্ক নেই। অথচ তাঁদের মাইক্রো অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।’ তবে এতে অসুবিধার কিছু নেই বলেই মনে করছেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানায়, ‘আমরা পাঁচটি চিঠি দিয়েছিলাম। যেখানে স্পষ্ট করে বলা ছিল কোন ধরনের অফিসারদেরই আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু সেই অনুযায়ী কর্মী আমাদের দেওয়া হয়নি।’

    রাজ্যের ৮৫২৪ অফিসার ও প্রশিক্ষণ

    আদালতে উপস্থিত রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জানান, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ৮,৫২৪ জন অফিসারকে নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে। তিনি সওয়াল করেন, “কমিশন চাইলে কাল থেকেই এই সাড়ে আট হাজার অফিসার কাজ শুরু করুক।” জবাবে নির্বাচন কমিশন জানায়, এই কর্মীদের কাজ শুরুর আগে কমপক্ষে ১০ দিনের নিবিড় প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, রাজ্যের দেওয়া অফিসাররা যেন দ্রুত কাজে যোগ দেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ৮৫০৫ জন অফিসারকে ইআরও-র কাছে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার কাছে রিপোর্ট করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সব তথ্য দেখে ঠিক করবে, কাকে নিয়োগ করা হবে, কাকে নয়। ইআরও-র সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ।

    মাইক্রো অবজার্ভার নিয়ে অবস্থান

    মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মাইক্রো অবজার্ভারদের সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না। ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত সমস্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই (ERO)। নির্বাচন কমিশন চাইলে স্বচ্ছতার খাতিরে অন্য রাজ্য থেকেও মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে পারে।

    কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ

    আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করা প্রতিটি রাজ্যের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই কাজে কোনো স্তরেই যাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, তার জন্য রাজ্য সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে স্ক্রুটিনির জন্য। অর্থাৎ এসআইআর-এর সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে  রাজ্যে।

  • India Canada Relation: ক্রমেই কাছাকাছি আসছে ভারত-কানাডা, উদ্বেগ ঠেকাতে নিয়োগ করা হবে লিয়াজোঁ অফিসার!

    India Canada Relation: ক্রমেই কাছাকাছি আসছে ভারত-কানাডা, উদ্বেগ ঠেকাতে নিয়োগ করা হবে লিয়াজোঁ অফিসার!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার (Work Plan) করতে ভারত ও কানাডা একটি শেয়ার্ড ওয়ার্ক প্ল্যান করছে (India Canada Relation)। উভয় দেশই পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়, যেমন মাদক পাচার ও আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ চক্র, মোকাবিলার জন্য নিরাপত্তা ও আইন-প্রয়োগ সংস্থার লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ করবে।

    বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি (India Canada Relation)

    শনিবার অটোয়ায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং কানাডার নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাথালি দ্রুইনের মধ্যে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে খালিস্তানপন্থী এক বিচ্ছিন্নতাবাদীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ডোভালের এই সফর ছিল নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সংলাপের অংশ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় দেশ তাদের দেশ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলিতে অগ্রগতির বিষয়টি স্বীকার করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পরিচালনার জন্য একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনায় একমত হয়েছে (India Canada Relation)। পাশাপাশি উভয় পক্ষ নিজ নিজ অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা সক্ষম করার এবং নিরাপত্তা ও আইন-প্রয়োগ সংক্রান্ত লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কার্যকর সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলেও জানানো হয়েছে।

    দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ

    বিবৃতিতে এও বলা হয়, “এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারত ও কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগকে আরও সুসংগঠিত করবে এবং পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়, যেমন অবৈধ মাদক প্রবাহ, বিশেষ করে ফেন্টানিলের উপাদান পাচার, এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত (Work Plan) অপরাধ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সময়োচিত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করবে (India Canada Relation)।” ভারত ও কানাডা সাইবার নিরাপত্তা নীতি সংক্রান্ত সহযোগিতা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতারণা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশীয় আইন ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

    কানাডার জননিরাপত্তা

    শনিবার ডোভাল কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দাসাঙ্গারির সঙ্গেও বৈঠক করেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ওই বছরের শুরুতে খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় সরকারি এজেন্টদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। নয়াদিল্লি এই অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে খারিজ করে দেয় (India Canada Relation)।এই ঘটনার পর ভারত-কানাডা সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। উভয় দেশ একে অপরের কূটনীতিক বহিষ্কার করে এবং কানাডায় খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধচক্রের কার্যকলাপ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে উভয় পক্ষ ধীরে ধীরে নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে, যার মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে যোগাযোগও ছিল। মার্ক কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে (Work Plan), যার মধ্যে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পারস্পরিক যোগাযোগ অন্যতম (India Canada Relation)।

     

  • Naxals: ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কল্যাণেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য মিলেছে’, ছত্তিশগড়ে বললেন শাহ

    Naxals: ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কল্যাণেই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য মিলেছে’, ছত্তিশগড়ে বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারের নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক কৌশল, পরিকাঠামো উন্নয়ন, মাওবাদীদের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং আত্মসমর্পণ নীতির সমন্বিত প্রয়োগ বামপন্থী চরমপন্থার (Naxals) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইতিবাচক ফল মিলেছে। রবিবার এ কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “৩১ মার্চের আগেই নকশাল সমস্যা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই যেন বিচ্ছিন্নভাবে না হয়।” রায়পুরে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে সভাপতিত্ব করে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযানকে একটি নিরবচ্ছিন্ন ‘গ্রিডে’র মাধ্যমে পরিচালনা করতে, যাতে এক অঞ্চল থেকে বিতাড়িত মাওবাদীরা প্রতিবেশী কোনও রাজ্যে আশ্রয় নিতে না পারে।’

    শাহ উবাচ (Naxals)

    বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, “ছত্তিশগড় এক সময় নকশাল (Naxals) হিংসার শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের অধীনে এখন এটি উন্নয়নের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।” তিনি বলেন, “ছত্তিশগড়ের যুবসমাজ খেলাধুলা, ফরেনসিক বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় অগ্রগতি করছে, পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও সংরক্ষণ করছে।” তিনি বলেন, “নকশালবাদ বহু প্রজন্মকে দারিদ্র্য ও অশিক্ষার অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। ডাবল-ইঞ্জিন সরকার দেশ থেকে নকশালবাদের অভিশাপ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চেষ্টার কোনও কসুর করছে না, এবং এই সমস্যা এখন প্রায় শেষের পথে।” শাহ বলেন, “নিরাপত্তা ও উন্নয়ন – উভয় ক্ষেত্রেই ছত্তিশগড় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে এবং নকশাল-প্রভাবিত এলাকার (Naxals) মানুষদের জন্য সমান উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।” বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ছত্তিশগড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকেও সভাপতিত্ব করেন শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “মোদী সরকারের কাছে নিরাপত্তা ও সুযোগ – দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

    উন্নতির সমান সুযোগ পাওয়া উচিত

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলের মানুষদের দেশের অন্যান্য অংশের মতোই যে উন্নতির সমান সুযোগ পাওয়া উচিত, এ কথাও ফের মনে করিয়ে দেন তিনি। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাঁই, উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের বিশেষ সচিব। উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফ, বিএসএফ, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (ITBP) ও জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-র শীর্ষ আধিকারিকরা, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড ও তেলঙ্গনার ডিজিপিরা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা (Naxals)। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাঁই বলেন, “‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের সমন্বিত কৌশল—যেখানে নির্ভুল নিরাপত্তা অভিযান, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং মাওবাদীদের আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ একসঙ্গে নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট ফল দিচ্ছে।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে এবং অমিত শাহের দিশানির্দেশে ছত্তিশগড় দ্রুত ৩১ মার্চের মধ্যে নকশাল-মুক্ত রাজ্য হওয়ার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে (Amit Shah)।

    গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চল, যার মধ্যে সাতটি জেলা রয়েছে মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গনা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে গত কয়েক বছরে সেখানে জোরদার নকশাল-বিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে চরমপন্থী আন্দোলন অনেকটাই দুর্বল হয়েছে (Naxals)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত ছত্তিশগড়ে সংঘর্ষে ৫০০-র বেশি নকশাল নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সিপিআই (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজুও রয়েছে। একই সময়ে প্রায় ১,৯০০ নকশালকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ২,৫০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে (Amit Shah)। উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের (স্বরাষ্ট্র/ডিজিপি) উপস্থিতিতে রায়পুরে রবিবারের বৈঠকটি ছিল ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের জন্য শেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক।” সোমবার অমিত শাহ দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের জগদলপুরে তিনদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘বস্তার পান্ডুম মহোৎসব’-এর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন (Naxals)।

     

  • PM Modi’s Malaysia Visit: আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রবীণ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ, মালয়েশিয়ায় নেতাজিকে স্মরণ মোদির

    PM Modi’s Malaysia Visit: আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রবীণ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ, মালয়েশিয়ায় নেতাজিকে স্মরণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (India PM Narendra Modi) মালয়েশিয়া সফরে রবিবার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কুয়ালালামপুর (PM Modi’s Malaysia Visit)। দু’দিনের মালয়েশিয়া সফরের শেষে রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদি দেখা করেন আজাদ হিন্দ ফৌজের (আইএনএ) এক প্রবীণ যোদ্ধা জয়রাজ রাজা রাওয়ের (Jairaj Raja Rao) সঙ্গে। এই সাক্ষাৎকে তিনি ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ বলেও উল্লেখ করেন। জয়রাজ রাজা রাও ছিলেন নেতাজির ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (Indian National Army) বা আদাজ হিন্দ ফৌজের অন্যতম সদস্য। রবিবার তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন মোদি (PM Modi-Jairaj Raja Rao Meeting)।

    অসীম সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক

    স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলিতে কীভাবে তাঁরা সংগ্রাম করেছেন, নানা ঘটনার অভিজ্ঞতা শুনে গভীর আপ্লুত হন প্রধানমন্ত্রী। পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ জয়রাজের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে মোদি লেখেন, “আইএনএ-র প্রবীণ সৈনিক শ্রী জয়রাজ রাজা রাও-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ আমার জন্য সৌভাগ্যের। তাঁর জীবন অসীম সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। তাঁর অভিজ্ঞতা শুনে আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত।” মালয়েশিয়ায় দু’দিনের সরকারি সফরের সময়, ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজাদ হিন্দ ফৌজ (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি–INA)-এর প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি-র ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারতীয় সমাজে তাদের স্থায়ী অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে প্রবীণ যোদ্ধা বলেন, এই মুহূর্তটি তাঁর জীবনের এক স্মরণীয় ও তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, “এটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও সৌভাগ্যের মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রীকে খুবই প্রাণবন্ত লাগছিল এবং তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অতীত সংগ্রামের কথা গভীরভাবে স্মরণ করছিলেন। তিনি আমাকে মালা পরিয়েছেন—এটি আমার জন্য বড় সম্মান। আমরা ভারতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছি এবং আমি বিনীতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে দেশের নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য অভিনন্দন জানিয়েছি।”

    ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে আইএনএ-র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

    এদিন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ কেবল জয়রাজ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি দেখা করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীর (Azaad Hind Fauz) সকল মুক্তিযোদ্ধাকে। তাঁর কথায়, “নেতাজি এবং আজাদ হিন্দ বাহিনীর প্রতিটি যোদ্ধার কাছে ভারত চিরঋণী। তাঁদের সাহস ও আত্মত্যাগ ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।” এর আগে, ৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় প্রবাসীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই অঞ্চলের ভারতীয়দের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “ভারতকে স্বাধীন করতে আপনাদের পূর্বপুরুষদের অনেকেই মহান ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। তাঁদের অনেকেই কখনও ভারতে আসেননি, তবু তাঁরা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগ দিয়েছিলেন।” নেতাজির স্মৃতিরক্ষায় মালয়েশিয়ায় গৃহীত উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, “নেতাজির সম্মানে মালয়েশিয়ার ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারের নামকরণ করা হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে। পাশাপাশি, নেতাজি সার্ভিস সেন্টার ও নেতাজি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রচেষ্টাকেও আমি স্যালুট জানাই।”

  • PM Modi’s Malaysia Visit: ‘‘বিশ্বাসযোগ্যতাই ভারতের শক্তিশালী মুদ্রা’’, সংস্কৃতি থেকে কূটনীতি, মালয়েশিয়া সফরে মোদির বড় বার্তা

    PM Modi’s Malaysia Visit: ‘‘বিশ্বাসযোগ্যতাই ভারতের শক্তিশালী মুদ্রা’’, সংস্কৃতি থেকে কূটনীতি, মালয়েশিয়া সফরে মোদির বড় বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উন্নতির জন্য ভারতই এখন বিশ্বস্ত অংশীদার। ব্রিটেন, আমেরিকা, ইইউয়ের মতো বেশিরভাগই দেশই ভারতকে উন্নয়নের বিশ্বস্ত পার্টনার হিসেবে দেখে, সাম্প্রতিক একাধিক বাণিজ্য চুক্তিই তার প্রমাণ। মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে সগর্বে এই কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর এটি। প্রধানমন্ত্রী মোদির দু’দিনের এই মালয়েশিয়া (PM Modi’s Malaysia Visit) সফর ভারত–মালয়েশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদযাপন, প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে আবেগঘন সংযোগ এবং একাধিক ভবিষ্যতমুখী ঘোষণার মাধ্যমে এই সফর দুই দেশের কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-কে আরও দৃঢ় করল, বলে অনুমান কূটনীতিকদের।

    বিশ্বাসযোগ্যতাই ভারতের শক্তিশালী মুদ্রা

    কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রবাসী ভারতীয়দের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মোদি বলেন, ‘‘ভারত ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বিশ্বাসযোগ্যতাই এখন ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা।’’ মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর সুরেই আনোয়ার জানান, ভারত তাঁদের ‘শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার’দের মধ্যে অন্যতম। তাঁর কথায়, ‘‘শুধুমাত্র পণ্যই আমাদের মধ্যে রফতানি হয় না। বহু ভারতীয় পর্যটক মালয়েশিয়ায় এসেছেন। শুধু ২০২৫ সালেই ১৫ লক্ষের বেশি ভারতীয় ঘুরতে এসেছেন আমাদের দেশে।’’

    প্রবাসী ভারতীয়দের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

    কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে (MIECC) প্রবাসী ভারতীয়দের আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এক নজিরবিহীন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়, যা সফরের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারের (NSCBICC) উদ্যোগে প্রায় ৮০০ নৃত্যশিল্পী একটানা পাঁচ মিনিটের সমন্বিত নৃত্য পরিবেশন করেন, যেখানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও লোকনৃত্যের নানা রূপ তুলে ধরা হয়। “ভারতীয় প্রবাসীদের দ্বারা একক কোরিওগ্রাফিতে সর্বাধিক সংখ্যক নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণ” হিসেবে এই পরিবেশনা মালয়েশিয়া বুক অফ রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। মালয়েশিয়া বুক অফ রেকর্ডসের সিইও ক্রিস্টোফার ওয়াং শিল্পীদের সমন্বয় ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই পরিবেশনাকে “স্মরণীয় মুহূর্ত” বলে অভিহিত করেন।

    মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ভারতীয়দের অবদান

    প্রধানমন্ত্রী মোদি মালয়েশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রায় ২৯ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বাস মালয়েশিয়ায়, যা বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম ভারতীয় প্রবাসী জনগোষ্ঠী। তিনি বলেন, এই প্রবাসীরাই দুই দেশের মধ্যে জীবন্ত সেতুবন্ধন। দীপাবলিকে ইউনেস্কোর অদৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াকে তিনি ভারত ও মালয়েশিয়ার যৌথ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন। মালয়েশিরার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারের গায়ক-সত্ত্বার প্রশংসা করেন মোদি। একই সঙ্গে অভিনেতা-রাজনীতিক এমজি রামচন্দ্রনের তামিল গানের প্রতি মালয়েশিরার প্রধানমন্ত্রীর ভালবাসার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভারতীয় এবং মালয় ভাষার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে বলেই দু’দেশের বন্ধন এত দৃঢ়! তামিল মানুষজন এখানে দীর্ঘদিন রয়েছেন। তামিল সংস্কৃতিতে অনুপ্রাণিত হয়েই আমরা মালয় ইউনিভার্সিটিতে থিরুভাল্লুভার চেয়ারের সূচনা করেছি। এর পর তৈরি হবে থিরুভাল্লুভার সেন্টার, যা আমাদের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও জোরদার করবে।

    সেতুবন্ধনের কাজ করেন প্রবাসীরা

    মোদি এ-ও জানান, ভারত এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেন প্রবাসী ভারতীয়েরা। মোদির কথায়, “মালয়েশিয়ার ৫০০টি স্কুলে বাচ্চাদের ভারতীয় ভাষায় পড়ানো হয়”, সে কথাও ফের মনে করিয়ে দেন মোদি। তাঁর কথায়, “ভারতের সাফল্য আদতে মালয়েশিয়ার সাফল্য এবং সব মিলিয়ে সেটা এশিয়ার সাফল্য।” ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে নমোর বার্তা, “আপনাদের মালয় বন্ধুদের নিয়ে ভারতে ঘুরতে আসুন। কারণ, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়লেই বাড়বে দু’দেশের বন্ধুত্ব।” ভারত–মালয়েশিয়ার সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কুয়ালালামপুরের ইউনিভার্সিটি মালয়ায় একটি থিরুভাল্লুভর সেন্টার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, মালয়েশিয়ার ছাত্রছাত্রীদের ভারতে পড়াশোনার সুযোগ দিতে চালু হবে থিরুভাল্লুভর স্কলারশিপ।

    বন্ধু মোদি-গর্বিত মালয়েশিয়া

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেন,“ভারত মালয়েশিয়ার বাণিজ্যসঙ্গীদের মধ্যে অন্যতম। আমাদের মধ্যে শুধু বাণিজ্যিক আদান–প্রদান হয় না, ২০২৫ সালে ১৫ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় পর্যটক মালয়েশিয়ায় এসেছেন। মোদিজির সঙ্গে বন্ধুত্বের জন্য আমি গর্বিত।” এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন মোদি। দু’দিনের এই সফর ভারত-মালয়েশিয়ার সম্পর্ককে আরও শক্ত ভিত্তির দিকে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ভবিষ্যতের দিশা

    আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, মালয়েশিয়া ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী। সফরের অন্যতম বড় ঘোষণা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ায় ভারতের প্রথম কনস্যুলেট খোলা হবে। এই ঘোষণায় প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। নতুন কনস্যুলেটের মাধ্যমে কনস্যুলার পরিষেবা সহজতর হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। তিনি ভারত–মালয়েশিয়া সম্পর্ককে ইমপ্যাক্ট (IMPACT অর্থাৎ India–Malaysia Partnership for Advancing Collective Transformation) নামে অভিহিত করেন এবং প্রবাসীদের ‘বিকশিত ভারত’ ও ‘মালয়েশিয়া মাদানি’—এই দুই জাতীয় স্বপ্নে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

    ডিজিটাল ভবিষ্যৎ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি

    ভারতের গত এক দশকের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং শীঘ্রই তৃতীয় স্থানে পৌঁছনোর পথে। ডিজিটাল পরিকাঠামো নিয়ে বড় ঘোষণা হিসেবে তিনি জানান, শীঘ্রই মালয়েশিয়ায় ইউপিআই-ভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবা চালু হবে, যা পর্যটন ও ব্যবসায় নতুন গতি আনবে। তিনি আরও জানান, বিশ্বের মোট রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের প্রায় ৫০ শতাংশই বর্তমানে ভারতে হয়।

    কল্যাণমূলক উদ্যোগ

    প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, মালয়েশিয়ার ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ক্ষেত্রে ষষ্ঠ প্রজন্ম পর্যন্ত ওসিআই কার্ডের সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় স্কলারশিপ ট্রাস্ট ফান্ডে ৩ মিলিয়ন যোগ করা হয়েছে, যা মালয়েশিয়ান-ইন্ডিয়ান ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা করবে। সফরকালে দুই প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী ভারতীয়দের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক এক বিশেষ প্রদর্শনীও পরিদর্শন করেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ঐতিহাসিক সম্পর্কই আজও ভারত–মালয়েশিয়া বন্ধুত্বের ভিত্তি। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদির মালয়েশিয়া সফর স্পষ্ট বার্তা দিল—এই সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের বন্ধনে গড়ে ওঠা এক গভীর অংশীদারিত্ব। মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৯ লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ থাকেন- যা সংখ্যার বিচারে বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম ভারতীয় প্রবাসী জনসংখ্যা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান গোষ্ঠীতেও মালয়েশিয়া ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’-র অন্যতম স্তম্ভও মালয়েশিয়া।

  • Bangladesh Poll: ভোটের আগেই ব্যাপক হিংসা বাংলাদেশে, জামাত-বিএনপি সংঘর্ষে জখম ৪০

    Bangladesh Poll: ভোটের আগেই ব্যাপক হিংসা বাংলাদেশে, জামাত-বিএনপি সংঘর্ষে জখম ৪০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হাইভোল্টেজ সাধারণ নির্বাচনের (Bangladesh Poll) আর মাত্র ৭২ ঘণ্টা বাকি। তার আগেই শুরু হয়ে গেল নতুন করে হিংসা। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া এই দেশে নির্বাচনী প্রচার কতটা অশান্ত হয়ে উঠেছে (BNP Jamaat Clash)।

    ব্যাপক সংঘর্ষ (Bangladesh Poll)

    রবিবার রাতে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামির (সংক্ষেপে জামাত) কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে মহিলা-সহ ৪০ জনেরও বেশি মানুষ জখম হয়েছেন। জামায়াতের এক অনুষ্ঠানে নগদ অর্থ বিলির অভিযোগ ঘিরে এই সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরে হিংসার রূপ নেয়। ঘটনাটি ঘটে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের কয়েক দিন আগে। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় প্রচার শেষ হবে বাংলাদেশে। তার আগেই ঘটে গেল এমন হিংসার ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বিএনপি কর্মীরা অভিযোগ জানাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে জামায়াতও তাদের সমর্থকদের জড়ো করে। রাতভর ধরে চলে তীব্র সংঘর্ষ। নির্বাচনী প্রচারে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই শিবিরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হিংসার ঘটনা। গত ছ’সপ্তাহে সারা বাংলাদেশে নির্বাচনসংক্রান্ত হিংসায় পাঁচজনেরও বেশি মানুষ জখম হয়েছেন, যা ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, হিংসার মাত্রা ততই বাড়বে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।

    ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

    ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটার রয়েছেন ১২ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০০৯ সালের পর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং আওয়ামি লিগ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষিত হয়। বহু ভোটারের মতে, এক দশকেরও বেশি সময় পর এটিই প্রথম প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে (BNP Jamaat Clash)। বিএনপি প্রধান তারেক রহমান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে লড়ছে আমার দল। সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পাব বলেই আত্মবিশ্বাসী আমি (Bangladesh Poll)।” অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন ও সংস্কারসংক্রান্ত গণভোটকে একটি উৎসব আখ্যা দিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এটি হবে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি।

    বাংলাদেশে হিংসার ঘটনা

    বিশ্লেষকরা অবশ্য সতর্ক করে বলছেন, বাংলাদেশে যেভাবে হিংসার ঘটনা ঘটছে, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা নষ্ট করতে পারে, যখন রাজনৈতিক ভূমিকা নাটকীয়ভাবে পাল্টে গিয়েছে এবং আগের সরকারের দমন-পীড়নের পর বিরোধী দলগুলি এখন রাজপথে প্রভাব বিস্তার করছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচনের ফল সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ নির্ধারণ করবে বলেই মনে হচ্ছে। এই অস্থিরতায় তৈরি পোশাক-সহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাংলাদেশকে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্কের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সাহায্য চাইতে হয়েছে (Bangladesh Poll)। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে এই নির্বাচনের পর। শেখ হাসিনা, যাঁকে ভারতের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হত (BNP Jamaat Clash), নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে চিনের প্রভাব বেড়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিএনপি তুলনামূলকভাবে ভারতের ঘনিষ্ঠ হলেও, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকতে পারে। তবে জামায়াত জানিয়েছে, তারা কোনও দেশের প্রতিই পক্ষপাতদুষ্ট নয়।

    জনমত

    ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, “জনমত সমীক্ষায় বিএনপি এগিয়ে থাকলেও, বড় একটি অংশের ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন। জেনারেশন জেড কীভাবে ভোট দেয়, সেটিই বড় ভূমিকা রাখবে।” প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া অনেক তরুণের কাছে এই নির্বাচন দীর্ঘদিন হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ (Bangladesh Poll)। বছর একুশের মোহাম্মদ রাকিব বলেন, “জাতীয় নির্বাচনেও মানুষ ভোট দিতে পারত না। মানুষের কোনও কণ্ঠ ছিল না। আশা করি, যে-ই ক্ষমতায় আসুক, মতপ্রকাশের এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।” প্রচারের শেষের প্রহরে ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনের। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে এমন এক রায়ের, যা আগামী বহু বছর ধরে (BNP Jamaat Clash) দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক নতুনভাবে নির্ধারণ করতে পারে (Bangladesh Poll)।

  • Pakistan Poor Quality Weapons: জং ধরা, পুরনো নিম্নমানের গোলাবারুদ বেচার অভিযোগ! ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলির পিঠে ছুরি মারল পাকিস্তান?

    Pakistan Poor Quality Weapons: জং ধরা, পুরনো নিম্নমানের গোলাবারুদ বেচার অভিযোগ! ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলির পিঠে ছুরি মারল পাকিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের অস্ত্র রফতানি নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। যেসব দেশ সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে অস্ত্র কিনেছে অথবা ভবিষ্যতে কেনার পরিকল্পনা করছে, তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রিপোর্টে পাকিস্তান থেকে রফতানি হওয়া গোলাবারুদের গুণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    আর্মেনিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আজারবাইজানের

    খবরে প্রকাশ, পাকিস্তান তার মিত্র দেশ আজারবাইজানকে গোলাবারুদ ও কামানের গোলার বিভিন্ন অংশ সরবরাহ করেছে। তবে এর একটি বড় অংশ কয়েক দশক পুরনো মজুত থেকে নেওয়া বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সরঞ্জামে জং ধরা, প্রপেল্যান্ট লোড কম থাকা এবং পাল্লায় ত্রুটি থাকার মতো সমস্যা ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী আর্মেনিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা চলছে আজারবাইজানের। ভারত তার মিত্র দেশ আর্মেনিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ত্রের জন্য তুরস্ক ও পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করে থাকে আজারবাইজান। কিন্তু ককেশাস অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের দাবি, পাকিস্তান থেকে পাঠানো অস্ত্রের মান প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল।

    লক্ষ্যবস্তুর আগেই মাটিতে পড়ে যাচ্ছে পাক গোলা!

    যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, পাকিস্তানের সরবরাহ করা কামানের গোলাগুলোর কার্যকারিতা আশানুরূপ নয়। পাকিস্তান যে রেঞ্জের দাবি করেছে, বাস্তবে তা মাত্র ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্তই অর্জিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই গোলাগুলি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর আগেই মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। আজারবাইজানের পাশাপাশি ইউক্রেনেও পাকিস্তানি অস্ত্রের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। রাশিয়ার হামলার শুরুর দিকে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী এম৭৭৭ হাউইৎজার কামানের জন্য পাকিস্তানে তৈরি ১৫৫ মিলিমিটার গোলা কিনেছিল। পরে অভিযোগ ওঠে, এসব গোলা সময়ের আগেই বিস্ফোরিত হচ্ছিল, যার ফলে একাধিক কামান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    পিছিয়ে আসছে আরও এক মিত্র সৌদি আরবও!

    এদিকে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবও অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে। এক সময় সৌদি আরব পাকিস্তানের গোলাবারুদ ও কামানের গোলার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা ভারতের দিকে ঝুঁকেছে। রিয়াধ ভারত থেকে ৫.৫৬ মিলিমিটার, ৭.৬২ মিলিমিটার রাউন্ড এবং ১৫৫ মিলিমিটার গোলা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষায় ভারতীয় গোলাবারুদ ধারাবাহিকভাবে সন্তোষজনক ফলাফল দেখিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানি অস্ত্রের মান নিয়ে এই অভিযোগগুলো ভবিষ্যতে দেশটির প্রতিরক্ষা রফতানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি নতুন ক্রেতা দেশগুলোর মধ্যেও আস্থা সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • T20 World Cup 2026: শাস্তির ভয়ে থামল বিদ্রোহ! লাহোরে পিসিবির সঙ্গে আইসিসি-র বৈঠক, ভারত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান?

    T20 World Cup 2026: শাস্তির ভয়ে থামল বিদ্রোহ! লাহোরে পিসিবির সঙ্গে আইসিসি-র বৈঠক, ভারত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ (T20 World Cup 2026) ফের মুখোমুখি হতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বয়কট জল্পনার মাঝেই সূচিভুক্ত এই মহারণ ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে। এই ম্যাচ ঘিরে বিতর্কও কম নয়। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার জেরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রথমে এই ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির নেতৃত্বে এই অবস্থান নেওয়া হলেও, লাহোরে আইসিসি বৈঠকের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে পাকিস্তান। এমনই ইঙ্গিত মিলেছে বোর্ড সূত্রে। উল্লেখ্য, এই ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৩০–৩৫ মিলিয়ন ডলার বলে জানা গিয়েছে।

    গুটিয়ে গেল বিদ্রোহ!

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান আইসিসি-র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। পুরো বিশ্বকাপ খেললেও তারা ভারতের বিরুদ্ধে (India Vs Pakistan) খেলবে না বলে জানিয়েছে। কিন্তু কয়েকদিনেই বিদ্রোহ গুটিয়ে গেল। আইসিসি-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে পাকিস্তান। যার ফলে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। সূত্রের খবর, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আইসিসি-র একটি প্রতিনিধি দল লাহোরে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে আইসিসি-র পক্ষ থেকে ছিলেন ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা, পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি। সেখানে ছিলেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলামও। তার আগে কলম্বোতে পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আইসিসি-র সিইও সংযোগ গুপ্তা।

    শাস্তির ভয়ে সিদ্ধান্ত!

    রিপোর্টে প্রকাশ, বৈঠকে পাকিস্তানকে আইসিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি তারা ১৫ তারিখ কলম্বোতে খেলতে না নামে তা হলে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে। পাশাপাশি জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে গেলে আর্থিক দিক থেকে ধাক্কা খাবে পাকিস্তান ক্রিকেট। এর পর দু’পক্ষ আলোচনা করে। তার পর পাকিস্তান ভারত ম্যাচ খেলতে রাজি হয়েছে। তবে তার আগে পিসিবি একবার পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। তার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। আইসিসি পাকিস্তানের কাছে জানতে চেয়েছে কেন তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ আনা হবে না। তারা পাকিস্তানের কাছে ভারতের ম্যাচ বয়কটের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলে। রিপোর্টে প্রকাশ, সেটা ব্যাখ্যা করতে পারেননি পিসিবি কর্তারা।

    বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু দুই দলের

    ইতিমধ্যেই ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপ-যাত্রা শুরু করেছে ভারত ও পাকিস্তান। মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকে দুই দলই চাপের মধ্যে রয়েছে। ভারত তাদের প্রথম ম্যাচে ইউএসএ-র বিরুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতি থেকে সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটে জয় ছিনিয়ে আনে। অন্যদিকে, পাকিস্তান নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে ফাহিম আশরাফের নৈপুণ্যে রক্ষা পায়। এটাই ২০২৫ এশিয়া কাপের পর ভারত-পাকিস্তানের প্রথম মুখোমুখি হওয়া। নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তানের গ্রুপের সব ম্যাচই শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন ভেন্যু কলম্বো ও ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাকিস্তান সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠলে সেই ম্যাচগুলিও কলম্বোতেই স্থানান্তরিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • Ramakrishna 576: “জ্ঞান দিয়ে অজ্ঞান কাঁটা তুলে, জ্ঞান অজ্ঞান দুই কাঁটাই ফেলে দিতে হয়”

    Ramakrishna 576: “জ্ঞান দিয়ে অজ্ঞান কাঁটা তুলে, জ্ঞান অজ্ঞান দুই কাঁটাই ফেলে দিতে হয়”

    চতুর্থ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৮ই অক্টোবর
    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও অবতারবাদ
    Reconciliation of Free will and Predestination

    “লক্ষণ বলেছিলেন, রাম, যিনি স্বয়ং বশিষ্ঠদেব, তাঁর আবার পুত্রশোক! রাম বললেন (Ramakrishna), ভাই যার জ্ঞান আছে তার অজ্ঞানও আছে। যার আলোবোধ আছে, তার অন্ধকারবোধও আছে। তাই জ্ঞান-অজ্ঞানের পার হও। ঈশ্বরকে বিশেষরূপে জানলে সেই অবস্থা হয়। এরই নাম বিজ্ঞান (Kathamrita)।

    “পায়ে কাঁটা ফুটলে আর-একটি কাঁটা যোগাড় করে আনতে হয়। এতে সেই কাঁটাটি তুলতে হয়। তোলার পর দুটি কাঁটাই ফেলে দেয়। জ্ঞান দিয়ে অজ্ঞান কাঁটা তুলে, জ্ঞান অজ্ঞান দুই কাঁটাই ফেলে দিতে হয়।

    “পূর্ণজ্ঞানের লক্ষণ আছে। বিচার বন্ধ হয়ে যায়। যা বললুম, কাঁচা থাকলেই ঘিয়ের কলকলানি।”

    ডাক্তার—পূর্ণজ্ঞান থাকে কি? সব ঈশ্বর! তবে তুমি পরমহংসগিরি করছো কেন? আর এরাই বা এসে তোমার সেবা করছে কেন? চুপ করে থাক না কেন?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) সহাস্যে— জল স্থির থাকলেও জল, হেললে দুললেও জল, তরঙ্গ হলেও জল।

    Voice of God or Conscience—মাহুত নারায়ণ

    “আর একটি কথা। মাহুত নারায়ণের কথাই বা শুনি কেন? গুরু শিষ্যকে বলে দিছলেন সব নারায়ণ। পাগলা হাতি আসছিল। শিষ্য গুরুবাক্য বিশ্বাস করে সেখান থেকে সরে নাই। হাতিও নারায়ণ। মাহুত কিন্তু চেঁচিয়ে বলছিল (Kathamrita), সব সরে যাও, সব সরে যাও; শিষ্যটি সরে নাই। হাতি তাকে আছাড় দিয়ে চলে গেল। প্রাণ যায় নাই। মুখে জল দিতে দিতে জ্ঞান হয়েছিল। যখন জিজ্ঞাসা করলে কেন তুমি সরে যাও নাই, সে বললে, ‘কেন, গুরুদেব যে বলেছেন—সব নারায়ণ!’ গুরু বললেন, বাবা, মাহুত নারায়ণের কথা তবে শুন নাই কেন? তিনিই শুদ্ধমন শুদ্ধবুদ্ধি হয়ে ভিতরে আছেন। আমি যন্ত্র, তিনি যন্ত্রী। আমি ঘর, তিনি ঘরণী। তিনিই মাহুত নারায়ণ।”

    ডাক্তার আর একটা বলি; তবে কেন বল, এটা সারিয়ে দাও?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—যতক্ষণ আমি ঘট রয়েছে, ততক্ষণ এইরূপ হচ্ছে। মনে করো মহাসমুদ্র — অধঃ উর্ধ্ব পরিপূর্ণ। তার ভিতর একটি ঘট রয়েছে। ঘটের অন্তরে-বাহিরে জল। কিন্তু না ভাক্ষলে ঠিক একাকার হচ্ছে না। তিনিই এই আমি-ঘট রেখে দিয়েছেন।

LinkedIn
Share