Tag: bangla news

bangla news

  • Kaliyachak Incident: পালানোর সময় বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার কালিয়াচক-কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল

    Kaliyachak Incident: পালানোর সময় বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার কালিয়াচক-কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (Kaliyachak Incident) অবরোধ-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল (Mofakkarul Islam) পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে প্রথমে বাগডোগরা থানায় নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার সকালে বেঙ্গালুরু যাওয়ার বিমানের টিকিট ছিল মোফাক্কেরুলের। গ্রেফতারের পরে সমাজমাধ্যমে লাইভ করেন তিনি। সেখানে দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত নন এবং কাউকে উস্কানিও দেননি। তাঁর দাবি, তিনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এসআই নিয়ে বিক্ষোভ-অবরোধ দেখে তাঁর বক্তব্য রেখেছিলেন। মোফাক্কেরুলের সঙ্গে আকরামুল বাগানি নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    প্ররোচনামূলক পোস্ট মোফাক্কেরুলের

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন মোফাক্কেরুলের নামে বৃহস্পতিবারই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তার পর থেকে পুলিশ তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছে। বৃহস্পতিবার মোফাক্কেরুলকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। জবাব দেননি মোবাইল-বার্তারও। তবে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার হওয়ার আগে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মোফাক্কেরুল লিখেছেন, ‘ভাল থাকুন আপনারা।’ গ্রেফতারির পর ফেসবুকে লাইভ ভিডিও পোস্ট তিনি বলেন, “নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের প্রতিবাদে ছিলাম বলে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে অ্যারেস্ট হলাম।” পরে অবশ্য ভিডিওটি মোফাক্কেরুলের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেখা যায়নি।

    বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা

    উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, মালদার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন মোট ৩৫ জন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মোফাক্কেরুলকে ‘মূল প্ররোচনাকারী’ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছিল। জয়রামন জানান, মোফাক্কেরুলকে খুঁজে বার করতে সিআইডি-র সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুলিশ মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করে তাঁকে মালদা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানতে পেরেছে মালদা কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

    কে এই মোফাক্কেরুল

    ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী ছিলেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করতেন। হাইকোর্টের কাছেই তাঁর চেম্বার। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কলকাতায় থাকেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম (মিম)-এ যোগ দেন। প্রার্থীও হন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহারের এমআইএম প্রার্থী হিসাবে মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল। কিন্তু সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা রয়েছে তাঁর।

    মূলচক্রী মোফাক্কেরুল

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদার মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখে উত্তেজিত জনতা। বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে থাকার পর পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কালিয়াচকের ঘটনার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করে। এনআইএ বা সিবিআই-এর মতো সংস্থাকে ওই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দিতে বলা হয়। তদন্তকারী সংস্থাকে আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতেও বলা হয়। তার পরেই নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে বসে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে। জ্ঞানেশের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন পুলিশ আধিকারিকেরা। শেষপর্যন্ত মালদা কাণ্ডে এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ইতিমধ্যেই,মালদা কাণ্ডের তদন্তে শুক্রবার সকালেই কলকাতায় এসেছেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র (NIA) আইজি সনিয়া সিং। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার বেশ কয়েক জন নেতা স্থানীয় মানুষদের প্ররোচিত করেছিলেন। তার পরেই উত্তেজিত জনতা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার ‘মূলচক্রী’ হিসাবে মোফাক্কেরুলের নাম উঠে আসে।

    প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

    শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রাত থেকেই ভাইরাল হয়ে কালিয়াচকের বিক্ষোভের একটি ছবি। সেখানে দেখা যায়, বিপুল জমায়েতের মাঝে গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে কিছু বক্তব্য রাখছেন ওই ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকেই তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। বাড়িতে গিয়েও তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অবশেষে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হল তাঁকে। কালিয়াচকের ঘটনায় উত্তেজিত জনতাকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে। উস্কানিমূলক মন্তব্য করার পাশাপাশি প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

    এই ঘটনায় বিজেপির দাবি, কেউ কেউ ভারতে বসেই দেশের ক্ষতি করছেন। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “যাঁরা এই ঘটনার পিছনে আছেন, যাঁরা কার্যত ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, যাঁরা জনবিন্যাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের খুঁজে খুঁজে আইনের অধীনে আনতে হবে। ভারতে বসে ভারতের ক্ষতি করা হচ্ছে।” মোফাক্কেরুলের গ্রেফতারির পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘রাজ্যে পুলিশের সিআইডি শাখা নেপালে পালানোর সময় মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করেছে। মোফাক্কেরুল আদতে কার হয়ে কাজ করে তা ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত। এই ইটাহারে তৃণমূলের সংখ্যালঘু মোর্চার প্রধানের সঙ্গে মোফাক্কেরুলের যোগাোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কী যোগসূত্র রয়েছে, কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

  • Kaliachak Incident: ‘রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত, বাংলায় আইনের শাসন নেই’, কালিয়াচক-কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির

    Kaliachak Incident: ‘রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত, বাংলায় আইনের শাসন নেই’, কালিয়াচক-কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (Kaliachak Incident) সাতজন বিচারপতির আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি (BJP)। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “তৃণমূলের (TMC) কারনে বাংলার মানুষ নয় দেশের মানুষ নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। ১২ রাজ্যে এসআইআর চলছে। কেরলের মত অবিজেপি রাজ্যেও চলছে। কিন্তু যবে থেকে বাংলায় শুরু হয়েছে তখন থেকে তৃণমূল ধর্মীয় বিভাজন শুরু করেছে। যে রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়, সেই রাজ্যে আইনের শাসন থাকে না। আমরা দেখেছি হাইকোর্টের মহিলা বিচারপতির কাছে হুমকি এসেছে। বিচার ব্যবস্থার নিচুতলার কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”

    পুরো ঘটনা পরিকল্পিত, চক্রান্ত

    দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, পুরো ঘটনা পরিকল্পিত। সাংবাদিক বৈঠকে শমীক বলেন, “কোনও স্থানীয় মানুষের জনরোষ নয়। এটা পরিকল্পিত। উত্তরবঙ্গকে দক্ষিণবঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রয়াস চলছে।” এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা জরুরি, তা বোঝাতে শমীক বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। বিনাযুদ্ধে ভারত দখলের চক্রান্ত চলছে। মুর্শিদাবাদ, মালদাকে এপিসেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে জাল নোট। সম্প্রতি লস্করের জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে থেকেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কোভিডকালে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি কোচবিহারে মডিউল তৈরি করেছে। সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায়।” তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য করার অভিযোগ তুলে শমীক বলেন, “দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বার বার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে খবর পাঠিয়েছে যে কোচবিহার থেকে সন্ত্রাসবাদী মডিউল ছড়াচ্ছে। কিন্তু এখানকার সরকার কান দেয়নি। যেভাবে কিছু মানুষ সীমান্তের ওপার থেকে বলছেন, যে কোনও মুল্যে চিকেনস্ নেক-কে সরিয়ে দিয়ে আমরা এখান থেকে বাংলা এবং ভারতের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনব, তার সামগ্রিক প্রতিফলন হয়েছে কালিয়াচকের ঘটনায়।”

    প্রগতিশীল মুসলিমরাও চিন্তা করুন

    সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গকে ‘পোলারাইজড’ বলে উল্লেখ করেছে। সেই পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে শমীক বলেন, “হিন্দুদের সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল মুসলিমদেরও চিন্তা করার সময় এসেছে। ওপারে যা ঘটেছে, এপারেও তারই প্রতিফলন।” শমীক বলেন, “বাংলার সরকার বাবরদের সরকার, মৌলবাদিদের সরকার।” তিনি আরও বলেন, ‘‘বাঙালি মুসলিমদের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। হিন্দুদের সঙ্গে মুক্তমনা মুসলিম ভাইদেরও ভাবতে হবে তারা কাকে সমর্থন করবেন। মা কালিকে আজ অ্যারেস্ট করা হচ্ছে বাংলায়।’’ বিজেপি সভাপতির দাবি, এটা পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কোনও বাহিনী এসে শান্তিরক্ষার স্বার্থে গুলি চালায়। আর তা থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক অশান্তি। পুরো প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন শমীক। তিনি যোগ করেন, ‘‘বাংলার মানুষ ঠিক করে নিয়েছে বাংলাকে যদি ভারতের সঙ্গে রাখতে হয় তাহলে তৃণমূলকে সরাতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলা বলা মানুষ এই সরকারকে উৎখাত করতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গ ধর্মশালা নয়। যে কেউ, যখন খুশি এসে নাম তুলবে।’’

  • Kaliachak Incident: আজই রাজ্যে তদন্তকারী দল! কালিয়াচকের ঘটনায় এনআইএ-কে তদন্তভার দিল নির্বাচন কমিশন

    Kaliachak Incident: আজই রাজ্যে তদন্তকারী দল! কালিয়াচকের ঘটনায় এনআইএ-কে তদন্তভার দিল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (NIA Kaliachak Incident) বিচারবিভাগের আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এনআইএ-কে (National Investigation Agency)। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার এনআইএ-র একটি দল রাজ্যে আসার কথা।

    এনআইএ-র মাধ্যমে তদন্ত

    বুধবার রাতে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন কালিয়াচকে (NIA Kaliachak Incident) তিন মহিলা-সহ সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখা হয়। অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে এমন লোকজনও ছিলেন, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তারা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, বলে খবর। গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছে আধিকারিকদের উদ্ধার করে। তবে উদ্ধার অভিযানের সময় তাদের গাড়িতে হামলার চেষ্টা এবং রাস্তা অবরোধের ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কড়া অবস্থান নেয়। এটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির স্পষ্ট প্রমাণ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক, বলে দাবি শীর্ষ আদালতের। সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে নির্দেশ দেয়, সিবিআই বা এনআইএ-র মতো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করাতে হবে। সেই অনুযায়ী এনআইএ তদন্ত শুরু করবে। এই ঘটনা বিচারকদের উপর ভয়ের প্রভাব ফেলবে বলে মামলার শুনানিতে জানান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

    এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ

    এই ঘটনায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর পক্ষ থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) এই নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। ঘটনায় জড়িত সকলকে চিহ্নিত করে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেন তিনি। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। এছাড়া, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনে তাঁদের পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

  • Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুদিনের সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভ (Deputy PM Manturov)। আজ, ২ এপ্রিল ভারত সফরে এসেছেন তিনি, যা দুই দিনের একটি সরকারি সফর। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। তিনি ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতিত্ব করবেন, যা আদতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক্স-এ (X) একটি পোস্টে জানায়, “রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতি ডেনিস মান্তুরভকে নয়াদিল্লিতে আন্তরিক স্বাগত। সফরের সময় তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। অংশ নেবেন অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়ও।”

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা (Russia)

    ভারতে রাশিয়ার দূতাবাসের তরফেও তাঁর আসার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, চলতি সফরে রুশ নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক আলোচনা হবে। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মান্তুরভ বলেন, “এই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সামগ্রিক সম্প্রসারণ (Deputy PM Manturov)।” তিনি এও বলেন, “পারস্পরিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, লজিস্টিক চেন শক্তিশালী করা, বাজারে প্রবেশের সুযোগ উন্নত করা এবং নতুন বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পকে উৎসাহিত করা—এই বিষয়গুলি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত ২০৩০ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে।”

    সফরের বহুমুখী গুরুত্ব

    নয়াদিল্লতে থাকার সময় মান্তুরভ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, যা এই সফরের বহুমুখী গুরুত্বকে তুলে ধরে। এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে (Deputy PM Manturov)। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। এর মধ্যে রাশিয়ার রফতানি ছিল ৬৩.৮ বিলিয়নেরও বেশি, আর ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫ বিলিয়নের কম। এই ভারসাম্যহীনতার প্রধান কারণ ভারতীয় বাজারে সস্তা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের আমদানি বৃদ্ধি।

    ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ

    ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের তেল আমদানির মাত্র ২.৫ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। ২০২৪–২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৫.৮ শতাংশ হয়েছে। এটি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা মোকাবিলা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের একটি কৌশলের অংশ (Deputy PM Manturov)। ভারত ও রাশিয়া এখন জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ছাড়াও নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফাইন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা। এছাড়া বাণিজ্যের কাঠামোগত বাধা দূর করা এবং ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের (EAEU) সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারত একই সঙ্গে তার জ্বালানি আমদানির উৎস ২৭ দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪১ দেশে সম্প্রসারণ করেছে, যাতে নির্ভরতা কমে।

    ব্রিকস সম্মেলন

    রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রে রুডেনকো জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। তিনি জানান, মস্কো এই সম্মেলনে ঐকমত্য গঠনে ভারতের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে। তিনি আরও জানান, রাশিয়া ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পেট্রোল রফতানি নিষিদ্ধ করলেও বর্তমানে যে তেল চুক্তি রয়েছে, তাকেও সম্মান করবে (Deputy PM Manturov)। রুডেনকো বলেন, “ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে নিয়মিত এবং ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে রাশিয়া সফর করবেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে এসেছিলেন। এবার পরবর্তী সম্মেলন মস্কোয় হবে। সেখানেই ফের একবার মুখোমুখি হতে পারেন পুতিন-মোদির (Deputy PM Manturov)।

     

  • Autism in India: অটিজম আক্রান্তের জীবন মূল্যবান! ভারতে কেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    Autism in India: অটিজম আক্রান্তের জীবন মূল্যবান! ভারতে কেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর পাঁচ জনের মতো পরিচিত ছন্দে জীবন কাটে না। নিজের কথা বোঝানোর ভঙ্গি আলাদা। আনন্দ-দুঃখ-যন্ত্রণা প্রকাশের ধরণ ভিন্ন। তবে অধিকাংশের থেকে আলাদা হলেও, মানবাধিকারের প্রশ্নে কিন্তু তারা সকলের সঙ্গে এক সারিতেই রয়েছেন‌। ২ এপ্রিল ছিল অটিজম সচেতনতা দিবস। আর চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, অটিজম সচেতনতায় আক্রান্তদের মানবাধিকার নিয়ে সচেতনতা প্রসার সবচেয়ে জরুরি। এ বছরের থিম, ‘autism and humanity: every life has value.’ আর পাঁচজনের থেকে ব্যতিক্রম বলেই, মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যায় না। অটিজম আক্রান্তের প্রতি মানবিক থাকা জরুরি।‌ কারণ প্রত্যেক জীবন মূল্যবান। অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। অটিজম নিয়ে আরো বেশি সচেতনতা জরুরি। তার সঙ্গে সঙ্গে সমাজে এই মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠাও জরুরি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    অটিজম কী?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম হলো মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। এর নেপথ্যে থাকে দিন ঘটিত কারণ। এই সমস্যা শিশুর কথা বলা, অন্যদের মনের ভাব প্রকাশ, সামাজিক মেলামেশায় প্রভাব ফেলে। অধিকাংশ অটিজম আক্রান্ত অন্যদের দেখে কোনও কাজ করতে শিখতে পারে না। তাঁরা এক কাজ বারবার করেন। তীব্র আলো, শব্দে তাঁদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাঁরা অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েন।

    ভারতে কি অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৩৬ জন শিশুর মধ্যে ১ জন অটিজম আক্রান্ত।‌ গত এক দশকে এই সমস্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।

    কেন ভারতে অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে গত এক দশকে অটিজম নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। বছর দশেক আগেও এই সমস্যা সম্পর্কে অধিকাংশ পরিবার অসচেতন ছিলেন। এর ফলে শিশু আক্রান্ত হলেও, চিহ্নিত হত না। কিন্তু পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এই সমস্যা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারছে। লাগাতার স্ক্রিনিং হচ্ছে। আর তার ফলেই শিশুদের এই সমস্যা রয়েছে কিনা, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। তাছাড়া স্ক্রিনিং পদ্ধতিও উন্নত হচ্ছে। তাই মাইল্ড অটিজম অর্থাৎ খুব সামান্য সমস্যা থাকলেও, সেটা বোঝা সম্ভব হচ্ছে।

    অটিজম সচেতনতায় মূল চ্যালেঞ্জ কী?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম আক্রান্তের জীবন যাপনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে সামাজিক অসচেতনতা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, আর পাঁচ জনের থেকে ভিন্ন হলেও, আক্রান্তের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার রয়েছে, এ নিয়ে সচেতনতা কম। আক্রান্তের শিক্ষার অধিকার রয়েছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক সচেতনতা তলানিতে‌। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ স্কুলে অটিজম আক্রান্তের শিক্ষার উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। ফলে, সমাজের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ অটিজম আক্রান্তদের কমে যায়। এর ফলে, তাঁদের জীবন যাপন আরো জটিল হয়ে যায়। তাঁদের সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা আরো কমে যায়। তাছাড়া, অনেকক্ষেত্রে আক্রান্তদের মানবিক সম্মান দেওয়া হয় না। তাঁদের কথা বলার সমস্যা নিয়ে বা সামাজিক যোগাযোগের জটিলতা নিয়ে কটুক্তি করা হয়। এর ফলে তাঁদের আত্মবিশ্বাস আরও কমে যায়। লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি পারবে, এই সমস্যা কমাতে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম আক্রান্তের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত, এ নিয়ে সচেতনতা প্রসার জরুরি।‌ অটিজম আক্রান্ত শিশুর শিক্ষার অধিকার রয়েছে। তারা খেলবে, আঁকবে, সবকিছু করবে। তাঁদের সমস্ত কাজে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিতে হবে। এই সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা প্রসার জরুরি। তবেই আক্রান্তেরা সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারবেন। প্রতিকূলতা কমবে।

     

  • Rajnath Singh: মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি রাজনাথের

    Rajnath Singh: মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত চলছে। ফলে সতর্ক এশিয়া মহাদেশের দেশগুলো। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যদি ভারতের বিরুদ্ধে কূটকৌশল অবলম্বন করে পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না ভারত। প্রতিবেশী দেশকে স্পষ্ট বার্তা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। বৃহস্পতিবার কেরলের সৈনিক সম্মান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফায়দা তুলে পাকিস্তান যদি ভারতের সীমান্তে কোনও অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে, তবে ভারতের জবাব হবে অভাবনীয় এবং চূড়ান্ত। কেরলে জওয়ানদের সম্মেলনে রাজনাথ (Rajnath Singh) বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের প্রতিবেশী কোনও ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করতে পারে। যদি তা হয়, তাহলে ভারতের প্রতিক্রিয়া হবে দৃঢ়, নজিরবিহীন।’’

    কেন এই আগাম হুঁশিয়ারি

    পাকিস্তান কোনও ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করছে কি না সেই বিষয়ে ইঙ্গিত দেননি রাজনাথ। তবে তিনি এই মন্তব্য করলেন এমন সময় যখন, পাকিস্তানের মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ভারত নাকি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন পরিকল্পনা করছে। তবে, এই বিষয়ে কোনও প্রমাণ নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বার্তার নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি করাণ। গত বছরের এক রক্তাক্ত স্মৃতি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ২০২৫ সালের সেই ভয়াবহ পহেলগাঁও হামলার এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্কর জঙ্গিদের গুলিতে ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর ভারত যে প্রত্যাঘাত করেছিল, ইতিহাসে তা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত।

    ভারতের প্রত্যাঘাত মনে রাখা উচিত

    রাজনাথ সিং এদিন অপারেশন সিঁদুর অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দেন যে, মাত্র ২২ মিনিটের ঝোড়ো আক্রমণে ভারতের বীর সেনারা পাকিস্তানকে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বাধ্য করেছিল। তিন দিনব্যাপী সেই অভিযানে পাকিস্তানের ভেতরে থাকা নয়টি জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের সেনারা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যা এখনও মেরামত করে উঠতে পারেনি ইসলামাবাদ। এরপর পাকিস্তন ১০ মে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়। রাজনাথের কথায়, ‘‘উরি আক্রমণের পর সার্জিক্যাল হামলা থেকে অপারেশন সিঁদুর, আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বারবার প্রত্যাঘাত করেছি। সেই কথা প্রতিবেশী দেশের মনে রাখা উচিত।’’ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এদিন সাফ বলেন, ভারত এখন আর শুধু আত্মরক্ষায় বিশ্বাসী নয়, প্রয়োজনে ঘরের ভেতরে ঢুকে আঘাত করতেও জানে।

    মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের

    যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে পাকিস্তান নিজেদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করেছে। কিন্তু ইরান এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। এতে মুখ পুড়েছে ইসলামাবাদের। ধারণা করা হচ্ছে, এর থেকে নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান কোনও ধরনের প্রক্সি যুদ্ধ বা সীমান্তে প্ররোচনামূলক কাজ করতে পারে—এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই রাজনাথ সিং আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও শেষ হয়ে যায়নি, অর্থাৎ ভারত সবসময় সতর্ক এবং প্রয়োজনে ফের একইরকম কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছুপা হবে না।

     

     

     

     

  • Ramakrishna 6134: “অহংকার যদি থাকে, কিছুদিনের মধ্যে আর থাকবে না, তাঁর কাছে বসলে জীবের অহংকার পলায়ন করে অহংকার চূর্ণ হয়”

    Ramakrishna 6134: “অহংকার যদি থাকে, কিছুদিনের মধ্যে আর থাকবে না, তাঁর কাছে বসলে জীবের অহংকার পলায়ন করে অহংকার চূর্ণ হয়”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    একবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৬শে অক্টোবর
    মাস্টার ও ডাক্তার সংবাদ

    ডাক্তার—হাঁ, তা বটে।

    ডাক্তার গাড়িতে উঠিলেন, দু-চারিটি রোগী দেখিয়া পরমহংসদেবকে দেখিতে যাইবেন। পথে আবার মাস্টারের সঙ্গে কথা হইতে লাগিল। ‘চক্রবর্তীর অহংকার’ ডাক্তার এই কথা তুলিলেন।

    মাস্টার — পরমহংসদেবের (Ramakrishna) কাছে তাঁর যাওয়া-আসা আছে। অহংকার যদি থাকে, কিছুদিনের মধ্যে আর থাকবে না। তাঁর কাছে বসলে জীবের অহংকার পলায়ন করে অহংকার চূর্ণ হয়। ওখানে অহংকার নাই কি না, তাই। নিরহংকারের নিকট আসলে অহংকার পালিয়ে খায়। দেখুন, বিদ্যাসাগর মহাশয় অত বড়লোক, কত বিনয় আর নম্রতা দেখিয়েছেন। পরমহংসদেব তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন, বাদুড়বাগানের বাড়িতে। যখন বিদায় লন, রাত তখন ৯টা। বিদ্যাসাগর লাইব্রেরীঘর থেকে বরাবর সঙ্গে সঙ্গে, নিজে এক-একবার বাতি ধরে, এসে গাড়িতে তুলে দিলেন; আর বিদায়ের (Kathamrita) সময় হাতজোড় করে রহিলেন।

    ডাক্তার — আচ্ছা, এঁর বিষয় বিদ্যাসাগর মহাশয়ের কি মত?

    মাস্টার — সেদিন খুব ভক্তি করেছিলেন। তবে কথা কয়ে দেখেছি, বৈষ্ণবেরা যাকে ভাব-টাব বলে, সে বড় ভালবাসেন না। আপনার মতের মতো।

    ডাক্তার — হাতজোড় করা, পায়ে মাথা দেওয়া, আমি ও-সব ভালবাসি না। মাথাও যা, পাও তা। তবে যার পা অন্য জ্ঞান আছে, সে করুক।

    মাস্টার — আপনি ভাব-টাব ভালবাসেন না। পরমহংসদেব (Ramakrishna) আপনাকে ‘গম্ভীরাত্মা’ মাঝে মাঝে বলেন, বোধ হয় মনে আছে। তিই কাল আপনাকে বলেছিলেন যে, ডোবাতে হাতি নামলে জল তোলপাড় হয়, কিন্তু সায়ের দীঘি বড়, তাতে হাতি নামলে জল নড়েও না। গম্ভীরাত্মার ভিতর ভাবহস্তী নামলে তার কিছু করতে পারে না। তিনি বলেন, আপনি ‘গম্ভীরাত্মা’।

    ডাক্তার — I don’t deserve the Compliment, ভাব আর কি? feelings; ভক্তি, আর অন্যান্য feelings — বেশি হলে কেউ চাপতে পারে, কেউ পারে না (Kathamrita)।

    মাস্টার — Explanation কেউ দিতে পারে একরকম করে — কেউ পারে না; কিন্তু মহাশয়, ভাবভক্তি জিনিসটা অপূর্ব সামগ্রী। Stebbing on Darwinism আপনার library-তে দেখলাম। Stebbing বলেন, Human mind যার দ্বারাই হউক — evolution দ্বারাই হোক বা ঈশ্বর আলাদা বসে সৃষ্টিই করুন — equally wonderful. তিনি একটি বেশ উপমা দিয়েছেন — theory of light. Whether you know the undulatory theory of light or not, light in either case is equally wonderful.

  • West Bengal Assembly Election: ভবানীপুরের জন্য শুভেন্দুর পৃথক সংকল্পপত্র, চার দফা প্রতিশ্রুতিতে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রীকে

    West Bengal Assembly Election: ভবানীপুরের জন্য শুভেন্দুর পৃথক সংকল্পপত্র, চার দফা প্রতিশ্রুতিতে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রীকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) রাজ্যের হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে লড়াইয়ের উত্তাপ বাড়িয়ে দিলেন বিজেপি প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার এই কেন্দ্রে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে ভবানীপুরের ভোটারদের জন্য একটি পৃথক ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করেছেন তিনি। দলের রাজ্যভিত্তিক ইস্তাহার প্রকাশের আগেই এই পদক্ষেপকে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কৌশলের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাঁর সংকল্পপত্রে যা যা রয়েছে তা হল–

    জলমগ্নতা থেকে মুক্তি (West Bengal Assembly Election)

    বর্ষাকালে ভবানীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার জমা জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। শুভেন্দু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পরিকল্পিত নিকাশি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।

    নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন আবাসন

    ঘিঞ্জি এলাকা ও বস্তি অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের জন্য উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা

    স্থানীয় স্তরে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও নির্ভয়ে বাস করার পরিবেশ তৈরি করার অঙ্গীকার করেছেন বিজেপি প্রার্থী (West Bengal Assembly Election) ।

    নাগরিক পরিষেবার আধুনিকীকরণ

    পানীয় জল থেকে শুরু করে রাস্তার আলো, পুর-পরিষেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

    এলাকার উন্নয়ন চান শুভেন্দু

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) এই ‘চার দফা’ কৌশল মূলত স্থানীয় সমস্যাগুলোকে হাতিয়ার করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা। শুভেন্দু বলেছেন, “ভবানীপুর কেবল ভিআইপি কেন্দ্র নয়, এখানকার (West Bengal Assembly Election)  সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলোও দীর্ঘদিনের অবহেলিত। আমি সেই বঞ্চনার অবসান ঘটাতেই এই বিশেষ সংকল্প গ্রহণ করেছি।”

    রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী প্রমাণ করতে চাইছেন যে, তিনি কেবল বড় বড় রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং তৃণমূল স্তরের নাগরিক সমস্যা নিয়েও সমানভাবে সরব। আগামী ৪মে ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট হবে, ভবানীপুরের জনতা এই চার দফা প্রতিশ্রুতিতে কতটা আস্থা রাখল।

  • Kolkata Metro: মেট্রো প্রকল্পের জট কাটল সুপ্রিম কোর্টে, মমতা সরকারের প্রতি চরম ক্ষোভ, ১৫ মে থেকে চিংড়িঘাটায় শুরু হচ্ছে কাজ

    Kolkata Metro: মেট্রো প্রকল্পের জট কাটল সুপ্রিম কোর্টে, মমতা সরকারের প্রতি চরম ক্ষোভ, ১৫ মে থেকে চিংড়িঘাটায় শুরু হচ্ছে কাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত সংযোগস্থল চিংড়িঘাটায় মেট্রো (Kolkata Metro) প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের সবুজ সংকেত মেলার পর আগামী ১৫ মে থেকে এই এলাকায় নির্মাণ কাজের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের গতি ত্বরান্বিত করতে কলকাতা পুলিশ এবং মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের (Chingrighata) একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো করিডোরে কাজ শুরু (Kolkata Metro)

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা নিরসন হওয়ায় নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো (Kolkata Metro) করিডোরের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ পুনরায় শুরু করার পথ প্রশস্ত হলো। প্রশাসন সূত্রে খবর, কাজের গুরুত্ব এবং যানজটের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে পর্যায়ক্রমে ট্রাফিক ডাইভারশনের ব্যবস্থা করা হবে। আরভিএনএল জানিয়েছে, আগামী ১৫ মে থেকে চিংড়িঘাটা মোড়ে (Chingrighata) মেট্রো পিলারের কাজ শুরু হবে। চিংড়িঘাটায় ট্রাফিক ব্লক করে দেওয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। এরপর ধীরে ধীরে অনুমতি দেওয়া হবে। তবে বর্ষা আসার আগেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে হবে।

    সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত রাজ্য সরকারকে তোপ দেগে বলেন, “আমরা প্রথমবার দেখছি কোনও রাজ্য উন্নয়নের বিরোধিতা করছে। মামলা এতোদূর পর্যন্ত গড়িয়েছে যে এখন নির্বাচন বিধির আওতায় পড়ে গিয়েছে। আপনাদের কাছে উৎসব আগে না যোগাযোগ আগে?”

    বেলেঘাটা মেট্রো স্টেশন ও গৌরকিশোর ঘোষ সংযুক্ত

    ৩৬৬ মিটার অংশে পিলারের উপরে গার্ড বাসানো হবে। যার উপরে মেট্রোর লাইন বাসানো হবে। এই কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে বেলেঘাটা মেট্রো স্টেশন ও গৌরকিশোর ঘোষ সংযুক্ত হয়ে যাবে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক ও আইনি বাধা দূর হয়েছে। চিংড়িঘাটা (Chingrighata) সংলগ্ন ইএম বাইপাস এবং সল্টলেক অভিমুখী রাস্তায় যানজট এড়াতে ট্রাফিক ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এই অংশের কাজ সম্পন্ন হলে সল্টলেক ও বিমানবন্দরের সঙ্গে মেট্রো সংযোগের ক্ষেত্রে বড় বাধা দূর হবে।

    কলকাতা মেট্রো (Kolkata Metro) রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে এই গুরুত্বপূর্ণ করিডোরটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে। শহরের পূর্ব প্রান্তের পরিবহন ব্যবস্থায় এই পদক্ষেপ এক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

  • Operation Sindoor: ‘আর মাত্র কয়েক মিনিটের দূরে…’! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানকে আক্রমণ নিয়ে‌ কী বললেন নৌসেনা প্রধান?

    Operation Sindoor: ‘আর মাত্র কয়েক মিনিটের দূরে…’! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানকে আক্রমণ নিয়ে‌ কী বললেন নৌসেনা প্রধান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল ভারতীয় নৌসেনা। কিন্তু পাকিস্তানের অনুরোধে অভিযান থেকে বিরত ছিল তারা। বুধবার এমনই দাবি করলেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী। মুম্বইয়ে নৌসেনার সংবর্ধনা কর্মসূচিতে বুধবার অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) সিঁদুর অভিযানের সময় অসাধারণ অবদানের জন্য দুই অফিসারকে সেবা পদক প্রদান করেন। সেখানেই তিনি বলেন, ‘‘আমরা আঘাত হানায় আর মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিলাম।’’

    পাকিস্তানের অনুরোধে আক্রমণ থেকে বিরত

    নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী বলেন, ২০২৫ সালের ৭-১০ মে সিঁদুর (Operation Sindoor) অভিযান চলাকালীন ভারতীয় নৌসেনা আগাগোড়া আগ্রাসী অবস্থান বজায় রেখেছিল। তিনি বলেন, ‘‘অপারেশন সিঁদূরের সময় ভারতীয় নৌবাহিনী সমুদ্র থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আঘাত হানার মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিল। ইসলামাবাদ আক্রমণাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করার অনুরোধ করেছিল।’’ তাই কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আক্রমণ থেকে বিরত থাকা হয়।

    ভারতীয় নৌসেনা জাতির আস্থা

    অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতীয় নৌসেনা জাতির আস্থা এবং তাদের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাসকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেও দাবি করেন অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi)। পহেলগাঁওতে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হানার পর পাল্টা পাকিস্তানের বুকে পর পর জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। সেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ কার্যত কুপোকাত হয়েছিল পাকিস্তান। অভিযানের সময় মে মাসের সেই রাতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান যখন একের পর এক পাকিস্তানি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন ভারতীয় নৌসেনার আগ্রাসী অবস্থানে কার্যত নিজেদের উপকূল প্রান্ত বাঁচাতে মরিয়া ছিল পাকিস্তান।

    ভয় পেয়েছিল পাকিস্তান

    অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী বলেন,‘‘অপারেশন সিঁদুরের সময় ক্যারিয়ার ব্যাটেল গ্রুপের মোতায়েনের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ পাকিস্তান নৌবাহিনীকে তাদের বন্দরের কাছাকাছি বা মাকরান উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বাধ্য করেছিল।’’ একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’, এখনও শেষ হয়নি। তিনি সাফ বলেন, এই অপারেশন এখনও চলছে। ভারতের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠীর কথায়, অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে কারণ যুদ্ধের পর বহু বাণিজ্যিক জাহাজ পাকিস্তানে ভ্রমণ এড়িয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানগামী জাহাজের বীমা খরচও বেড়ে গিয়েছিল।

    পশ্চিম উপকূলে ভারতীয় নৌসেনার অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি

    শুধু অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) প্রসঙ্গেই নয়, অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী বলেন, ‘‘অপারেশন সিঁদুরের পাশাপাশি, বছরভর পশ্চিম উপকূলে ভারতীয় নৌসেনার অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি বজায় রয়েছে।’’ ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হানাদারি, পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে বলেও জানান তিনি। চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সমুদ্র এখন আর গৌণ নয়, বরং প্রধান কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে—এমনটাই জানান ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান। তিনি বলেন, ভারতীয় নৌসেনার অপারেশনাল দক্ষতা গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অভিযানে প্রতিফলিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ১৭ ঘণ্টার ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রা

    অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) আরও জানান, পশ্চিম উপকূলে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ১৭ ঘণ্টার ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে নৌবাহিনী তাদের প্রস্তুতি ও শক্তি প্রদর্শন করেছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভাঙন ও উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে, এবং এই পরিস্থিতিতে সমুদ্র এখন প্রথম সারির সংঘর্ষক্ষেত্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি জানান, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২৩টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে, প্রায় ১,৯০০টি জাহাজ আটকে রয়েছে এবং প্রতিদিনের জাহাজ চলাচল ১৩০ থেকে কমে মাত্র ৬–৭টিতে নেমে এসেছে।

    হরমুজ পাহারায় নৌসেনা

    অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) জানান, হরমুজ সংলগ্ন অঞ্চলে ভারতীয় নৌসেনা সক্রিয় রয়েছে। তারা জাহাজ পাহারা দিচ্ছে। ভারত সরকারের একাধিক উদ্যোগে নৌসেনা সহায়তা করছে। ভারতমুখী জাহাজগুলিকে রক্ষাকবচ দিতে ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’ চালু করেছে নৌসেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যার পুরোটাই নির্ভর করছে ভারতীয় নৌবাহিনীর দক্ষতার উপর।

    বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনা

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে সারা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ক্ষেত্রে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যে দেশগুলির উপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেই তালিকায় রয়েছে ভারতও। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতে এসেছে বেশ কয়েকটি জাহাজ। ভারত-ইরান সম্পর্কের খাতিরেই হরমুজ থেকে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে অনুমতি মিলেছে। তবে শুধু জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা নয়, বরং ভবিষ্যতের জরুরি অবস্থার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। নতুন পরিকল্পনার আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনী বিভিন্ন স্থানে নিজেদের মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। দিনকয়েক আগেই উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজগুলিকে এসকর্ট করার জন্য দুটি টাস্ক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল। এখন, ভারতীয় নৌবাহিনী আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে। এই মোতায়েনের উদ্দেশ্য শুধু এলপিজি ও জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই নয়, বরং ভবিষ্যতে যে কোনও মোতায়েনের জন্য পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি থাকা।

LinkedIn
Share