Tag: bangla news

bangla news

  • Maharastra Nasik: নাসিকে ধর্মান্তরণকাণ্ডে অভিযুক্তকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, এবার সেই মিম কর্পোরেটরের অবৈধ বাড়িতে বুলডোজার চালানোর নোটিশ প্রশাসনের

    Maharastra Nasik: নাসিকে ধর্মান্তরণকাণ্ডে অভিযুক্তকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, এবার সেই মিম কর্পোরেটরের অবৈধ বাড়িতে বুলডোজার চালানোর নোটিশ প্রশাসনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে (Maharastra Nasik) টিসিএস (TCS) সংলগ্ন ধর্মান্তরণ মামলার রেশ ধরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত নিদা খানকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে এআইএমআইএম (AIMIM) কর্পোরেটর মতিন প্যাটেলের বাড়িতে এবার ‘বুলডোজার’ পদক্ষেপ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করল জেলা প্রশাসন।

    তিন দিনের আল্টিমেটাম (Maharastra Nasik)

    শনিবার নাসিক মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (Maharastra Nasik) আধিকারিকরা নারেগাঁও এলাকায় মতিন প্যাটেলের বাসভবনের বাইরে একটি আইনি নোটিশ (TCS) লটকে দেন। ওই নোটিশে স্পষ্টই জানানো হয়েছে, তিন দিনের মধ্যে মতিন প্যাটেলকে তাঁর বাড়ি ও দোকানের নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় বৈধ নথিপত্র জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেশ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে ওই অবৈধ কাঠামোটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট

    পুলিশ সূত্রে খবর, হিন্দু মহিলাদের ধর্মান্তরিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত নিদা খান গত কয়েকদিন ধরে পলাতক ছিলেন। দু’দিন আগে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মতিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিদাকে গ্রেফতার করে। নিদাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ (Maharastra Nasik) মিম কর্পোরেটর মতিনকেও এই মামলায় পার্টি করে।

    পদ হারানোর সম্ভাবনা

    বিজেপি মেয়র সমীর রাজুরকরের নির্দেশে চলা প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, ওই কর্পোরেটরের বাড়িটি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। সমস্যা আরও বেড়েছে কারণ মতিন তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় দাবি করেছিলেন, তাঁর কোনও অবৈধ নির্মাণ নেই। তদন্তে যদি এই সম্পত্তি অবৈধ প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী তিনি তাঁর কর্পোরেটর (TCS)  পদটিও হারাতে পারেন।

    উত্তেজনা তুঙ্গে

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাসিক এবং সংলগ্ন এলাকায় (Maharastra Nasik) ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তৈরি হয়েছে জনরোষও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নারেগাঁও এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানে শহরজুড়ে থমথমে পরিবেশ।

  • Tamil Nadu: তামিলভূমে কাটল জট, সরকার গড়ল বিজয়ের জোট

    Tamil Nadu: তামিলভূমে কাটল জট, সরকার গড়ল বিজয়ের জোট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, রবিবার। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন টিভিকে-র সভাপতি সি জোসেফ বিজয়। তামিলভূমের আঞ্চলিক দল ভিসিকে অভিনেতা তথা রাজনীতিক ‘থলপতি’ বিজয়ের দল টিভিকে-কে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করে। তাতেই খোলে জট। নয়া সরকার গড়ার পথে আর কোনও বাধা রইল না বিজয়ের। জোগাড় করে ফেললেন সরকার গড়ার মতো ‘ম্যাজিক ফিগার’। তাঁর শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে প্রায় ছ’দশক ধরে চলা রাজ্যের দুই প্রধান দ্রাবিড় দল-ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র পালাক্রমে শাসনের অবসান ঘটল। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকর শনিবার বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। কারণ ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১২০ জন নির্বাচিত বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করেছেন বিজয়।

    নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ (Tamil Nadu)

    রবিবার সকাল ১০টায় নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই শপথ নেওয়ার কথা টিভিকে-র আরও কয়েকজন মন্ত্রীর। রাজ্যপাল বিজয়কে আগামী ১৩ মে-র মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটের নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে শনিবার সন্ধ্যায়, যখন ভিসিকে এবং আইইউএমএল টিভিকে-কে সমর্থন জানায়। এর ফলেই টিভিকে-র জোটের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০। পরে বিজয় চেন্নাইয়ের লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখনই তিনি জমা দেন কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআইএম, ভিসিকে এবং আইইউএমএলের সমর্থনপত্রও। তামিলনাড়ু বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৩৪।

    ‘ম্যাজিক ফিগার’

    নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। এই ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি কোনও দলই। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের টিভিকে ১০৮টিতে জিতে হয় একক বৃহত্তম দল। যদিও বিজয় দু’টি আসনে জয়ী হওয়ায় তাঁদের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। সরকার গড়ার জন্য ‘ম্যাজিক ফিগার’ পেতে বিজয়ের প্রয়োজন ছিল আরও ১১ জন বিধায়কের সমর্থন। তামিলনাড়ু কংগ্রেস প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল তারা টিভিকে-কে সমর্থন করবে। কংগ্রেসের ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি আসন। ‘ম্যাজিক ফিগারে’ পৌঁছতে টিভিকে-র প্রয়োজন ছিল আরও ছ’জন বিধায়কের সমর্থন।

    বিজয়কে সমর্থন করল যারা

    শুক্রবার সিপিএম এবং সিপিআই সমর্থন করার কথা জানিয়েছিল। তাদের জেতা আসনের সংখ্যা চার। তার পরে আরও দুই বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। শনিবার ভিসিকে প্রধান থোল থিরুমাভালাভান জানান, তাঁরা সরকার গঠনের জন্য বিজয়ের দলকে নিঃশর্ত সমর্থন করবেন। উল্লেখ্য, টিভিকে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের গড়ে তোলা একটি রাজনৈতিক সংগঠন। এবারের নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে এই সংগঠনই। দলটি নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ, তামিল সমাজভিত্তিক এবং সামাজিক ন্যায় ও সমতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরে। এই দলই এবার গড়ছে সরকার।

    মামলার জরুরি শুনানি

    এদিকে, ডিএমকে নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কেআর পেরিয়াকারুপ্পন মাদ্রাজ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন যাতে টিভিকে বিধায়ক শিনিবাস সেতুপাথিকে আস্থা ভোটে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ বেঞ্চের বিচারপতি এল ভিক্টোরিয়া গৌরি এবং এন সেন্থিলকুমারের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানি করার কথা আজ, রবিবার। পেরিয়াকারুপ্পানের অভিযোগ, শিবগঙ্গা জেলার তিরুপাত্তুর কেন্দ্রে ভোট পুনর্গণনা ঠিকঠাক হয়নি। তাই নির্বাচিত প্রার্থীকে আইনসভা গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া উচিত নয়।

     

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শুক্রবার, একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়নের পথে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    Suvendu Adhikari: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শুক্রবার, একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়নের পথে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে স্বাধীনতার পর বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের বিধায়ক, জায়ান্ট কিলার শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি (Suvendu Adhikari) করতে চলেছেন নয়া মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক (Cabinet Meeting)। এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই প্রথম বৈঠকেই বঙ্গবাসীর জন্য বেশ কিছু বড় প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হতে পারে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল পরিচালিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে রাজ্যবাসীকে প্রাপ্য সরকারি অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে, সেগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত করা হবে।

    সোমবার বিকেল ৫টায় বৈঠক (Suvendu Adhikari)

    বিজেপি সূত্রে খবর, নয়া মুখ্যমন্ত্রী সরকার পরিচালনা করবেন মহাকরণ থেকে। তবে মহাকরণে সংস্কারের কাজ চলায় আপাতত বিধানসভায়ই বসবেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নামে বিশেষ ফলকও বাসানো হয়েছে। সোমবার নবান্ন সভাঘরে প্রথম বড় বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ডিজিপি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) থেকে শুরু করে সব জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বিকেল ৫টায় এই বৈঠক হবে। এরপর শুক্রবার নবান্নেই বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট (Cabinet Meeting) বৈঠকের সম্ভাবনা। নবান্নেই বসবে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক।

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প

    দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করেনি। এই বৈঠকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে রাজ্যে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রয়োগ নিশ্চিত করা। এর ফলে সাধারণ মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

    সরকারি কর্মচারীদের ডিএ (DA)

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ডিএ নিয়ে কোনও ইতিবাচক ঘোষণা বা কিস্তি মেটানোর পরিকল্পনা করা হতে পারে।

    কৃষক ও যুবকদের জন্য প্রকল্প

    কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘পিএম কিষান নিধি’র সুবিধা রাজ্যের প্রতিটি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের জন্য নতুন কোনও রূপরেখা তৈরি করা হতে পারে।

    প্রশাসনিক রদবদল

    নবান্নের অন্দরে এবং পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে প্রশাসনকে আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ব্রিগেডে শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)  সঙ্গে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নেবেন তাপস রায়। বুধ ও বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন বাকি বিধায়করা। শুভেন্দুর নেতৃত্বে এই প্রথম মন্ত্রিসভার (Cabinet Meeting) বৈঠকটি মূলত ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে’র উন্নয়নমূলক মডেলকে সামনে রেখে পরিচালিত হতে পারে। যেখানে কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে দ্রুত রাজ্যে কার্যকর করাই হবে নয়া সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

  • Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    Indo Bangladesh Border: বাংলাদেশে জামাতের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বঙ্গের সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী শহর সান দিয়োগো এবং তিজুয়ানা এবং লরেডো ও ন্যুভো লরেডোয় ‘স্প্যাংলিশ’ (বা টেক্স-মেক্স স্প্যানিশ) নামে এক মিশ্র ভাষার বিকাশ ঘটেছিল। টেলিভিশন, অভিবাসন ও সীমান্তের দুই পাশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ প্রভাব ফেলেছিল এই ভাষার ওপর। এখন, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এবং কয়েক দশক পরে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও (Indo Bangladesh Border) সীমান্ত-পার প্রভাবের এক আলাদা গল্প দেখা যাচ্ছে। যদিও এটি খানিক আলাদা ধরনের। এখানে প্রতিক্রিয়াশীল প্রভাব কাজ করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, ঘটনাপ্রবাহ অন্যভাবে ঘটেছে।

    অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ইস্যু ছিল অনুপ্রবেশ ও ধর্মীয় মেরুকরণ। বিজেপির অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে আসা (Indo Bangladesh Border) অনুপ্রবেশকারীরা, যাদের অধিকাংশই মুসলিম, রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে এই সমস্যা উপেক্ষা করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় শুধু সংগঠনের বিস্তার বা মতাদর্শের স্বীকৃতি নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও।” তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গটিও তোলেন। বঙ্গবাসী যখন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক হচ্ছিলেন, তখন সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিও তাঁরা লক্ষ্য করছিলেন। তাঁরা দেখেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে কীভাবে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর হয়েছে এবং ইসলামপন্থীরা ধর্মনিন্দার মিথ্যে অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করেছে নিরীহ মানুষকে।

    জামাতের জয়ের প্রভাব

    ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামি (Jamaat Rise) পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া একাধিক আসনে জয়ী হয়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অন্তত ১৭টি আসনে জামাতের জয় পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপির পক্ষে ভোট একত্রিত করতে সাহায্য করেছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজেপি অন্তত ২৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই আসনগুলি বাংলাদেশের সেই ১৭টি জামাত-জয়ী আসন লাগোয়া। জামাত-ই-ইসলামির নেতা সফিকুর রহমানের দলকে নিষিদ্ধ করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। যদিও মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের অগাস্টে ক্ষমতায় এসেই তুলে নেয় সেই নিষেধাজ্ঞা।

    জামাতের উত্থান

    ছাব্বিশের নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ থাকায় বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে জামাত (Jamaat Rise)। বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেলেও, জামাত-নেতৃত্বাধীন ১১টি দলের জোট ৭৭টি কেন্দ্রে জয়ী হয়। জামাতের ইতিহাসে সেরা ফল এটি। এই ৭৭টি আসনের মধ্যে ১৭টি এসেছিল রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, নওগাঁ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলি (Indo Bangladesh Border) থেকে। রংপুর বিভাগে, যা ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা ‘শিলিগুড়ি করিডর’ লাগোয়া, জামাতের ব্যাপক উত্থান দেখা যায়। এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিবাদ 

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার খবর পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিজেপি নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি পেট্রাপোল সীমান্তে গিয়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানান এবং কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনেও বিক্ষোভ দেখান। একই সঙ্গে বিজেপি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের বিষয়েও সোচ্চার হন (Jamaat Rise)। এই বিষয়গুলি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কাছেও গুরুত্ব পেতে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী (Indo Bangladesh Border) বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের সীমান্তবর্তী একাধিক আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছে ।

    জামাতের আসনগুলির উল্টোদিকে বিজেপির প্রাচীর!

    বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনের উল্টো দিকে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ-সীমান্তবর্তী আসনগুলিতে বিজেপির জয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্যাটার্ন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৬টি আসনে বিজেপির জয় এসেছে মোট নয়টি জেলা থেকে, যেগুলির ঠিক ওপারেই বাংলাদেশে জামাতের জয়ী আসনগুলি অবস্থিত। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলায় কেমন ফল করেছে বিজেপি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করলে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন (Indo Bangladesh Border) এলাকায় বিজেপি জিতেছে বাগদা (SC), বনগাঁ উত্তর (SC) এবং হিঙ্গলগঞ্জ (SC)-এর মতো আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক বিপরীতে রয়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-১ থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসন, যেখানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জামাত জয়ী হয়েছিল।

    মালদা-মুর্শিদাবাদ-দিনাজপুর

    এরপর কিছুটা উত্তরে মুসলিম-অধ্যুষিত মালদা জেলায় বিজেপি জিতেছে ইংলিশ বাজার এবং বৈষ্ণবনগর আসন, যেগুলির সীমান্তের ওপারেও রয়েছে জামাত-জয়ী বাংলাদেশি কেন্দ্র। আরও উত্তরে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপি দখল করেছে কুশমণ্ডি (SC), বালুরঘাট, তপন (ST), গঙ্গারামপুর (SC) এবং হবিবপুর (ST) আসন। এই কেন্দ্রগুলির (Indo Bangladesh Border)  ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং মেহেরপুরের মতো বাংলাদেশি আসন, যেখানে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনে জামাত জিতেছিল। উত্তর দিনাজপুর, যা আরেকটি মুসলিম-প্রধান জেলা, সেখানেও বিজেপি জিতেছে করণদিঘি, হেমতাবাদ (SC) এবং হরিপুর আসন। এই কেন্দ্রগুলির ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা এবং যশোরের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) আসনগুলি।

    শিলিগুড়ি করিডর ও ডুয়ার্স

    শিলিগুড়ি করিডরের দিকে এগোলে, বিজেপির শিলিগুড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া (ST) আসনগুলি বাংলাদেশের নীলফামারী-১ আসনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। জলপাইগুড়ি জেলায় বিজেপি জিতেছে ময়নাগুড়ি এবং জলপাইগুড়ি (SC) আসন, যেগুলিও সরাসরি সীমান্ত লাগোয়া এবং বাংলাদেশের জামাত-জয়ী (Jamaat Rise) কেন্দ্রগুলির মুখোমুখি। সবশেষে ডুয়ার্স অঞ্চলের কোচবিহার জেলায় বিজেপি দখল করেছে সিতাই (SC), শীতলকুচি (SC) এবং মেখলিগঞ্জ (SC) আসন। এই কেন্দ্রগুলির ঠিক ওপারেই রয়েছে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলা, যেখানে জামাত ও তাদের মিত্ররা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চারটি আসনে জয় পেয়েছিল।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যা ঘটেছে, তার প্রভাব পড়েছে এপারের ভোটে?

    যদিও হলফ করে বলা যায় না যে বাংলাদেশে জামাতের উত্থান (Jamaat Rise) সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল সাফল্যের একটি কারণ, তবে প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট একটি সমান্তরাল প্রবণতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিস্থিতি, পরিচয় নিয়ে উদ্বেগ, সীমান্ত নিরাপত্তা (Indo Bangladesh Border) এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্ন—এই সব কিছু মিলেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটারদের আচরণে প্রভাব ফেলেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এই পরিসংখ্যান দেখিয়েই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা সম্ভবত বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ করার আশায় বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন, যা তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবে প্রত্যক্ষ করেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির (Indo Bangladesh Border)  নির্বাচনী ফলাফল দুই দেশের জনবিন্যাস থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, পরিচয়-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বয়ানের প্রভাবের ফল হতে পারে। এই সমস্ত উপাদানই পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে যা ঘটতে দেখেছেন বাঙালিরা, তার প্রভাবও তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্তে পড়েছে।

  • Suvendu Adhikari: “মায়ের পা থেকে পদ্মফুল হাতে পড়েছিল” কালীঘাটে গিয়েই জেনেছিলেন বিজেপির জয়ের কথা, দাবি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “মায়ের পা থেকে পদ্মফুল হাতে পড়েছিল” কালীঘাটে গিয়েই জেনেছিলেন বিজেপির জয়ের কথা, দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় যে বিজেপি সরকার গঠন করছে, তাঁর নির্দেশ নির্বাচনের আগে কালীঘাট মন্দির থেকেই পেয়েছিলেন, দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। কয়েকঘণ্টা পর ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান নতুন মুখ্যমন্ত্রী। আর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাসভবন থেকে বেরিয়ে তিনি বললেন, বিজেপি যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে, কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে সেই উপলব্ধি হয়েছিল তাঁর।

    মা-কালীর নির্দেশেই পথচলা

    সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালীঘাট মায়ের আশীর্বাদ আমার সঙ্গে ছিল। কারণ, আমি যেদিন প্রথম মাকে প্রণাম ও পুজো করতে যাই, সেদিন মায়ের পা থেকে একটি পদ্মফুল আমার হাতে পড়েছিল। আমি সেদিনই বুঝেছিলাম মা কালীর আশীর্বাদ আমার কিংবা আমাদের উপর রয়েছে।” এদিন সন্ধ্যায় কালীঘাট মন্দিরে যান শুভেন্দু। মাথায় পুজোর ডালা নিয়ে সোজা গর্ভগৃহে ঢুকে পড়েন। মা কালীর আশীর্বাদ নিয়েই পথচলা শুরু করবেন বলে জানান শুভেন্দু। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি যেহেতু ভবানীপুরের বিধায়ক, শীতলা মায়ের মন্দিরে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।”

    রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজখবর

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ধর্মতলায় পূর্ত দফতরের তাঁবুতে বৈঠকটি হয়। এই বৈঠকে রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজখবর নেন শুভেন্দু। অন্য দিকে, সোমবার বিকেল পাঁচটায় নবান্ন সভাঘরে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের মুখোমুখি হবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জোনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

    মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত

    সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সুব্রত গুপ্তকে। দিনদুয়েক আগে তাঁকে সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় কমিশন। এবার সেই সুব্রতকেই নতুন দায়িত্ব দিল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হল। শুধু তা-ই নয়, নিয়োগ করা হল মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবও। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব করা হল শান্তনু বালাকে। তিনি ২০১৭ ব্যাচের আইএএস। এর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক ছিলেন তিনি। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসাবে নিয়োগ করল নবান্ন। গত বছরের অক্টোবরে রাজ্যে যখন বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয় সেই সময় সুব্রতকে বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন। এসআইআরের কাজে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে সুব্রতের ভূমিকায় কমিশন সন্তুষ্ট হওয়ায় তাঁকে রাজ্যের বিধানসভা ভোটে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনপর্ব মেটার পর গত বৃহস্পতিবার কমিশন সুব্রতকে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। দু’দিন কাটতে না কাটতেই নতুন সরকারে নতুন ভূমিকায় সুব্রত।

  • Ministers of West Bengal: সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা মুখ, আদিবাসী-রাজবংশী-মতুয়ার রসায়ন! শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’

    Ministers of West Bengal: সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা মুখ, আদিবাসী-রাজবংশী-মতুয়ার রসায়ন! শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ভারসাম্যের ছবি। রয়েছে সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা-মুখ, রাজবংশী-মতুয়া-আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। এই মন্ত্রিসভা প্রমাণ করছে ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’-ই বাংলয় বিজেপি সরকারের লক্ষ্য। ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে মন্ত্রীদের নামও বিশেষ বিবেচনা করেই বেছে নিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো একাধিক তাবড় নেতা উপস্থিত রয়েছেন। এদিন সেই বৃহত্তর মঞ্চে একাধিক মন্ত্রীও শপথ নিলেন।

    কারা কারা শপথ নিলেন শনিবার

    দিলীপ ঘোষ: শুভেন্দু অধিকারীর পরই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ। সেই দিলীপ ঘোষ, যিনি বঙ্গ বিজেপির নতুন করে উত্থানের অন্যতম কাণ্ডারী বলেই মনে করা হয়। আরএসএস প্রচারক থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি, এহেন গ্রাফ হঠাৎ করেই থেমে গিয়েছিল একপ্রকার। বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদীর মঞ্চে দেখা যায় সেই দিলীপ ঘোষকে। ফিরিয়ে দেওয়া হয় পুরনো মাটি। খড়গপুর সদর থেকে নিজেকে প্রমাণ করে এবার দিলীপের স্থান হতে চলেছে বাংলার মন্ত্রিসভায়। এক্ষেত্রে সঙ্ঘ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে দিলীপকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    অগ্নিমিত্রা পাল: বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেই দিন শেষ। নতুন মন্ত্রিসভায় কোনও মহিলা মুখ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানেই স্পষ্ট হয়ে গেল মহিলা মন্ত্রীর নাম। শুভেন্দু ও দিলীপের পরই তৃতীয় নাম অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক। একসময় ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে বাংলার জনপ্রিয় মুখ ছিলেন অগ্নিমিত্রা। পরে বিজেপির হাত ধরেই রাজনৈতিক জীবন শুরু। নিজের কেন্দ্র থেকে বিধানসভা, মিটিং-মিছিল-প্রতিবাদে দিনে দিনে নিজের রাজনৈতিক-সত্ত্বাকে চিনিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। এবার তিনি মন্ত্রী।

    ক্ষুদিরাম টুডু: প্রথম দিন যে কজন মন্ত্রী শপথ নিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ক্ষুদিরাম টুডু। রাজ্য-রাজনীতিতে খুব পরিচিত মুখ নয়, দাপুটে নেতাও নয়। দিলীপ-অগ্নিমিত্রার পরই তাঁর নাম ঘোষণা হয়। গোটা দেশের তাবড় নেতাদের সামনে শপথ নিলেন আদিবাসী নেতা। শপথ নিলেন অলচিকি ভাষায়। জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি, রানিবাঁধের বিধায়ককে পূর্ণমন্ত্রী করল বিজেপি। ক্ষুদিরামের শপথ যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    অশোক কীর্তনিয়া: মন্ত্রিসভায় চমকের পর চমক। রানিবাঁধের পরই বনগাঁ উত্তর। মন্ত্রী হচ্ছেন অশোক কীর্তনিয়া। মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। তাঁর বিরুদ্ধে নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। এবার সেই অশোকই শপথ নিলেন মন্ত্রী হিসেবে। এর পিছনেও বিজেপির বিশেষ বিবেচনা আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তৃণমূল থেকে বিজেপি, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক সবার কাছেই বরাবর আলাদা গুরুত্ব রেখেছে। ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুরকে আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে মতুয়াগড়ের মন পেয়েছে বিজেপি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় সেই এলাকারই প্রতিনিধি অশোক।

    নিশীথ প্রামাণিক: শুভেন্দু অধিকারীর মতোই নিশীথও তৃণমূল থেকে আসা বিজেপি নেতা। তবে উত্থান উল্কাগতিতে। উত্তর গড় ধরে রাখতে নিশীথের উপর ভরসা রেখেছে তৃণমূল। ভরসা রেখেছেনও তিনি। তাই উত্তরের প্রতিনিধি হিসেবেই নিশীথকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হল। শপথ নিলেন মাথাভাঙার বিজেপি বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এ ক্ষেত্রে মর্যাদা দেওয়া হল রাজবংশী সমাজকেও। রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের জনপ্রিয়তা বিজেপির শক্তি বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। এর আগে অমিত শাহের ডেপুটি হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রী নিশীথ।

    বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণ সোমবার

    বিজেপি সূত্রে খবর, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণ হবে আগামী সোমবার, ১১ মে। সে দিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে কে কোন দফতর সামলাবেন। জানা গিয়েছে, মন্ত্রী হতে পারেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। মন্ত্রী হতে পারেন স্বপন দাশগুপ্ত। মন্ত্রী হতে পারেন অজিত কুমার জানা। মন্ত্রী হতে পারেন শঙ্কর ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মন্ত্রী হতে পারেন ইন্দ্রনীল খাঁ। মন্ত্রী হতে পারেন দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। মন্ত্রী হতে পারেন জুয়েল মুর্মু। মন্ত্রী হতে পারেন নমন রাই। মন্ত্রী হতে পারেন দীপক বর্মন। মন্ত্রী হতে পারেন বঙ্কিম ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন সজল ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন রুদ্রনীল ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন সুব্রত ঠাকুর। মন্ত্রী হতে পারেন রথীন্দ্রনাথ বসু। মন্ত্রী হতে পারেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও সম্ভাব্য তালিকায় আরও একাধিক বিজেপি বিধায়ক রয়েছেন। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় আরও অনেকের নাম নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপি সূত্রে খবর, মন্ত্রিসভার তালিকা তৈরি করার ক্ষেত্রে কিছু জিনিস মাথায় রেখেছে দল। এক, সমস্ত অঞ্চলগুলোর যেন প্রতিনিধিত্ব থাকে। দুই, সমস্ত স্তরে, জনজাতির মানুষদের মধ্যে থেকে যেন মন্ত্রী থাকেন সেই দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। তিন, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দফতর আছে, যেগুলো সামাল দেওয়ার জন্য শিক্ষিত মানুষের দরকার, শহরের মানুষের দরকার, সেই রকম কিছু মানুষকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ যে দিকটি খেয়াল রাখা হচ্ছে সেটা হল, গোটা রাজ্যের প্রতিনিধিদের যাতে মন্ত্রিসভায় সামিল করা যায়।

    বিধানসভার স্পিকার হতে পারেন তাপস রায়

    আগামী সোমবার লোক ভবনে রাজ্যপাল আরএন রবি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তার পর মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। মঙ্গলবার রাজভবনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী প্রোটেম স্পিকারের শপথ করাতে। বিধানসভার নতুন স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনা তাপস রায়ের। তার পর আগামী বুধবার এবং বৃহস্পতিবার বিজেপির বিধায়কেরা শপথ গ্রহণ করবেন। শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দুর নামফলক বসে গিয়েছে বিধানসভায়। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়ী বিজেপি। তৃণমূল জয়ী ৮০টি আসনে। রাজ্যের বিধানসভা আসনের সংখ্যা ২৯৪ হলেও ফলতায় পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। সে কারণে ২৯৩টি আসনে ভোটগণনা হয়েছে। তার মধ্যে কংগ্রেস দু’টি, সিপিএম একটি, আইএসএফ একটি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) দু’টি আসনে জয়ী হয়েছে।

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: ‘যারা সমালোচনা করছে করুক, আমরা শুধু এগিয়ে যাব’, শপথের পর জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: ‘যারা সমালোচনা করছে করুক, আমরা শুধু এগিয়ে যাব’, শপথের পর জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঁচিশে বৈশাখ, শনিবার কবিগুরুর জন্মদিনকেই বাংলায় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বেছে নিয়েছিল বিজেপি। এদিন ব্রিগেডে শপথগ্রহণের (West Bengal CM 2026 Oath Ceremony) পর সরাসরি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কবিগুরুকে প্রণাম করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ শুরু করলেন তিনি। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভার সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী এদিন জোড়াসাঁকো, কালীঘাট মন্দির, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাবেন। বুধবার বিধানসভায় আসবেন। ওই দিন বিধায়করা শপথ গ্রহণ করবেন।

    বাংলাকে নবনির্মাণের ডাক

    ঠাকুরবাড়িতে দাঁড়িয়ে এদিন শুভেন্দু জানান, বাংলার অনেক ক্ষতি হয়েছ গিয়েছে। শিক্ষা হারিয়ে গিয়েছে, সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। জোড়াসাঁকোতে দাঁড়িয়ে বাংলাকে নবনির্মাণ করার ডাক দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “এখন অনেক দায়িত্ব রয়েছে। এখন একে অপরের সমালোচনার সময় নয়। যারা সমালোচনা করতে চাইছে করুক। আমরা এখন শুধু এগিয়ে যাব। চরৈবতি, চরৈবতি।” তাঁর কথায়, “ধুতি-পাঞ্জাবিতে থাকা ডঃ শ্যামপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শের ভিত্তিতে যে দল তৈরি হয়েছে তার কোনও সার্টিফিকেট লাগে না। কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করব না। আমি মুখ্যমন্ত্রী, আমি এখন সকলের। যারা সমালোচনা করছেন তাঁদের চৈতন্য হোক।”

    বাঙালির চেতনা কবিগুরুর ভাবনায় হবে

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইচ্ছাতেই রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথা মেনে শপথ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সরকারি কর্মসূচিতে যোগদান করেন তিনি। কবিগুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে তাঁর বার্তা, বাংলা ও বাঙালির চেতনা কবিগুরুর চেতনা ও ভাবনায় হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবিন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গেও দেখা করতে পা যান। তখন পিছন থেকে বিজেপি কর্মীরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান তোলেন। তখন একটু বিরক্তি নিয়েই পিছনে তাকান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন – ‘কবিগুরু লহ প্রণাম’ স্লোগান তুলতে। সঙ্গে সঙ্গে স্লোগান বদলে হয়ে যায় – ‘কবিগুরু লহ প্রণাম’।

    প্রকৃত উন্নয়নের পথে পশ্চিমবঙ্গ

    উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ভোটের লড়াইতে প্রথম থেকেই বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ দল হিসেবে দাগিয়ে দিতে চেয়েছে তৃণমূল। বাঙালি বনাম অবাঙালি বিভাজনের সমীকরণে পশ্চিমবঙ্গের গদি নিজেদের দখলে রাখতে চেয়েছিল তৃণমূল। তবে সে সব সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি বাংলায় সরকার গঠন করল। আজ পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তাঁর শপথ উপলক্ষে যে মঞ্চ তৈরি করা হয়, সেই মঞ্চে দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে বাঙালি সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের ছাপ ছিল মঞ্চে। অনুষ্ঠান স্থলে ছৌ নাচ ও বাউল গানের আয়োজন করা হয়েছিল। অন্যান্য বছরেও ২৫শে বৈশাখ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এই প্রথম ঠাকুরবাড়িতে ঢুকলেন তিনি। রবীন্দ্র জয়ন্তীতে কবিগুরুকে প্রণাম জানিয়ে তিনি বলেন , ‘‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির…।’’ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এ বার প্রকৃত উন্নয়নের পথে চলবে পশ্চিমবঙ্গ।

  • DMK: তামিলনাড়ুতে টিভিকে-কে সমর্থন কংগ্রেসের, সংসদে আসন বদলের দাবি ‘ইন্ডি’-শরিক ডিএমকের

    DMK: তামিলনাড়ুতে টিভিকে-কে সমর্থন কংগ্রেসের, সংসদে আসন বদলের দাবি ‘ইন্ডি’-শরিক ডিএমকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে সংসদে ডিএমকে (DMK) সদস্যদের আলাদা বসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানালেন ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি করুণানিধি। চিঠিতে (Lok Sabha Speaker Letter) তিনি জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট। তাই ডিএমকে সাংসদদের আর কংগ্রেস সদস্যদের পাশে বসাটা যথাযথ নয়।

    কানিমোঝির চিঠি (DMK)

    কানিমোঝি লেখেন, “আমি সম্মানের সঙ্গে লোকসভায় ডিএমকের সাংসদদের বসার ব্যবস্থায় উপযুক্ত পরিবর্তনের অনুরোধ জানাচ্ছি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের জোটের অবসানের প্রেক্ষিতে, আমাদের সদস্যদের বর্তমান আসনে তাদের পাশে বসাটা আর যথাযথ নয়…।” তাঁর অনুরোধ, “ডিএমকে সাংসদদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হোক যাতে তাঁরা ঠিকঠাকভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।”

    তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল

    কানিমোঝির এহেন পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল।  ঘটনাটি রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় কোনও দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের নয়া দল টিভিকে (TVK) প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে, যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। শাসক ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি আসন, তাদের মিত্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা কংগ্রেস পেয়েছে ৫টি আসন, এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। একটি মাত্র আসনে জয়ী হয় বিজেপি।

    কংগ্রেসের ভোল বদল

    নির্বাচনের পর নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। ভোটের আগে কংগ্রেস ডিএমকের নেতৃত্বাধীন সেকুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (SPA)-এর অংশ ছিল। বিজয়ের দল জয় পেতেই ডিএমকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে টিভিকে-কে সরকার গঠনে সমর্থন করে রাহুল গান্ধীর দল। এই আনুষ্ঠানিক সমর্থনের ভিত্তিতে টিভিকে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানায়। যদিও টিভিকে-কংগ্রেস জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা পার হতে না পারায়, সেই প্রস্তাবও বাতিল করা হয়। ডিএমকে (DMK) নেতারা, যাঁর মধ্যে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনও রয়েছেন, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘পিঠে ছুরি মারা’ এবং সুযোগসন্ধানী রাজনীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, বহু বছর ধরে জাতীয় ও রাজ্য স্তরে জোটে থাকার পরেও কংগ্রেস বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

    ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের ইতি!

    তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-কংগ্রেস জোটের ইতিহাস ছয়ের দশকের শেষের দিক থেকে শুরু হয়। বহু নির্বাচন, ক্ষমতা ভাগাভাগি ও ‘ইন্ডি’ (INDI) জোটের মধ্যে দিয়েও সেই সম্পর্ক টিকে ছিল। ২০২৬ সালে আসন বণ্টন নিয়ে আগেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে (Lok Sabha Speaker Letter) নির্বাচনের পর কংগ্রেসের এই ভোলবদলে রাহুল গান্ধীর দলের  সঙ্গে পাকাপাকিভাবে গাঁটছড়া ছিন্ন হয়ে গিয়েছে ডিএমকের। কংগ্রেস নেতারা এই সিদ্ধান্তকে ‘জনগণের রায়কে সম্মান জানানো’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ ফ্রন্ট গঠনে’র পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও ডিএমকের দাবি, “নিষ্ঠার জন্য বড় মূল্য চোকানোর পর এই আচরণ সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা (DMK)।”

     

  • CM Suvendu Adhikari: মমতার নেমপ্লেট সরিয়ে বিধানসভায় বসল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নাম, ১৫ বছর পর আমূল বদলের ছবি

    CM Suvendu Adhikari: মমতার নেমপ্লেট সরিয়ে বিধানসভায় বসল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নাম, ১৫ বছর পর আমূল বদলের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর সঙ্গে বিধানসভাতে (West Bengal Assembly) পরিবর্তন লক্ষ্য করে গেল। যেখানে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেমপ্লেট ছিল। সেখানে আজ বসানো হল শুভেন্দু অধিকারীর নেমপ্লেট। বাকি ঘরগুলিও খোলা হয়েছে। দফতর নির্ধারিত হওয়ার পরেই সেখানেও নেপপ্লেট বসে যাবে। এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে রাজ্য বিধানসভা চত্বরে। বিধানসভা রং করা থেকে শুরু করে সংস্কারের কাজ চলছে জোরকদমে। বিধানসভাকে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গেরুয়া আলোয়৷ ইতিমধ্যেই বসানো হচ্ছে ৩৫০টি আলোর সেট।

    ১৫ বছর পর রাজ্যে পালাবদল…

    ১৫ বছর পর রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিধানসভার ভেতর ও বাইরের সাজসজ্জাও অনেকটা বদলে গিয়েছে। এ বার আর বিরোধী দলনেতা নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিধানসভায় প্রবেশ করবেন শুভেন্দু। তাঁর বসার ব্যবস্থাও মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো ঘরে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বসবেন অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীদের কথা মাথায় রেখে এবং অন্য কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ঠিক হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট ঘরেই বসবেন শুভেন্দু। নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দিন তোড়জোড় দেখা গেল বিধানসভায়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘর নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি জিনিসপত্র গোছগাছের কাজ চলছে। শুক্রবার পর্যন্ত বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে ছিল মমতার নামে নেমপ্লেট। শনিবার, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, ওই ঘরে বসল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেমপ্লেট। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে যে ঘরে বসতেন শুভেন্দু, সেখান থেকে তার নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    বিধানসভায় আমূল পরিবর্তন…

    বিধানসভায় প্রত্যেক দফতরের মন্ত্রীর জন্য বসার নির্দিষ্ট ঘর রয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মলয় ঘটক, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ফিরহাদ হাকিমরা যে ঘরগুলিতে বসতেন, সেগুলি পরিস্কার করা হয়েছে। এমনকি নেমপ্লেটও বদল করা হয়েছে। প্রায় চার বছর পর খোলা হল রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘর। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ওই ঘরটি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। শুক্রবার তালা খুলে ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। বিধানসভার সব ফ্লোরেই পরিবর্তন চোখে পড়েছে। প্রাক্তন সরকারি মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন ডেপুটি চিফ গভর্নমেন্ট হুইপ দেবাশিস কুমার, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামফলক স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খোলা হয়। সরকারি প্রটোকল মেনে ঘরগুলি ‘স্যানিটাইজ’ করছে পিডব্লিউডি বা পূর্ত দফতর। নতুন আসবাবপত্র আনা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক আমূল পরিবর্তনের ছবি ধরা পড়ছে বিধানসভার অলিন্দে।

    বিধানসভাতেই তৈরি হবে সিএমও

    এদিকে, বিধানসভাতেই তৈরি হবে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় (Chief Minister’s Secretariat)। এতদিন নবান্ন থেকে সরকার পরিচালনা করতেন মমতা। ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর গঙ্গার ও পারে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি জানিয়েছিলেন, বছর দশেকের মধ্যে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সংস্কারের কাজ শেষ হলে আবার সচিবালয় ফিরবে সেখানে। যদিও তিনি ফেরেননি। তবে বিজেপি নেতৃত্ব আগেই জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এসে নবান্ন নয়, রাজ্য সচিবালয় চলবে রাইটার্স বিল্ডিংস বা মহাকরণ থেকেই। তবে, সেখানে সংস্কারের কাজ ৫০ শতাংশও হয়নি। মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) জন্য নির্দিষ্ট ঘর এখনও তৈরি হয়নি। ফলে যতদিন না তা তৈরি হচ্ছে, ততদিন বিধানসভার বাইরের প্ল্যাটিনাম জুবলি কক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় কাজ করবেন তিনি। সূত্রের খবর, মহাকরণে সংস্কারের জন্য আপাতত মাস ছয়েক বিধানসভা থেকে সচিবালয় চালাতে পারেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় বা সিএমও-র আধিকারিকরা আপাতত বিধানসভার প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী স্মারক ভবনে বসবেন বলেই ঠিক হয়েছে। এই ভবনে দু’টি হল, গ্রন্থাগার ছাড়াও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। কোনও দপ্তরের মন্ত্রী বা সচিবের সেখান থেকে অফিসে করতে কোনও সমস্যা হবে না। রাইটার্স বিল্ডিংসের সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে গোটা সচিবালয় সেখানে উঠে আসার কথা। তবে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ কোনও মন্ত্রী না–বসলেও কিছু দফতর সেখানে থাকতে পারে।

  • India’s Next CDS: দেশের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক হচ্ছেন এনএস রাজা সুব্রমণি, পরবর্তী নৌসেনা প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    India’s Next CDS: দেশের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক হচ্ছেন এনএস রাজা সুব্রমণি, পরবর্তী নৌসেনা প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক বা চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি। শনিবার সকালে ওই পদে তাঁকে নিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেনা সর্বাধিনায়ক (India’s Next CDS) হওয়ার পর স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনা— তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করবেন সুব্রমণি। দেশের নতুন নৌসেনা প্রধানকেও নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। নৌসেনার ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার অফিসার কৃষ্ণ স্বামীনাথন চলতি মাসের শেষে নৌসেনা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

    কবে থেকে দায়িত্ব গ্রহণ

    বর্তমানে দেশের সেনা সর্বাধিনায়ক (India’s Next CDS) পদে আছেন জেনারেল অনিল চৌহান। আগামী ৩০ মে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার পরেই সিডিএস পদে দায়িত্ব নেবেন সুব্রমণি। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুব্রমণি সিডিএস-এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সামরিক বিষয়ক দফতরের সচিব হিসেবেও কাজ করবেন। বর্তমানে নৌসেনার মাথায় আছেন অ্যাডমিরাল দীনেশকুমার ত্রিপাঠী। আগামী ৩১ মে তাঁর কার্যকালের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। তারপরই দায়িত্ব নেবেন নৌসেনা প্রধান। পরবর্তী নৌসেনা প্রধান স্বামীনাথন বর্তমানে মুম্বইয়ে পশ্চিম নেভাল কমান্ডের মাথায় রয়েছেন। এর আগে নৌসেনার উপপ্রধানের দায়িত্বও সামলেছেন। ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরী আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী করভেট আইএনএস কুলিশ, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্যের কমান্ডার ছিলেন তিনি।

    জাতীয় ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে সেনা সর্বাধিনায়ক

    জাতীয় ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে ছিলেন সুব্রমণি (Lt Gen NS Raja Subramani)। সেখান থেকে ১৯৮৫ সালে যান গারওয়াল রাইফেল্‌স-এ। ব্রিটেনে জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড স্টাফ কলেজে কয়েক বছরের জন্য যোগ দিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর তাঁকে পর্বত ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এর পর ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও ছিলেন সুব্রমণি। ৩৫ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক সংঘাতপ্রবণ এলাকায় সংবেদনশীল পদের দায়িত্ব সামলেছেন। কাজাখাস্তানের ভারতীয় দূতাবাসেও ছিলেন একসময়। সেনাবাহিনীতে নজরকাড়া কাজের জন্য একাধিক সম্মান লাভ করেছেন তিনি। ২০২৩ সালে সুব্রমণি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ জেনারেল অফিসার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার পরের বছরেই দেশের ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে দায়িত্ব নেন। সক্রিয় সামরিক চাকরি থেকে অবসরের পর সুব্রমণি আপাতত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন। এ বার তাঁকে তিন বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হল।

LinkedIn
Share