Tag: Bangladesh

Bangladesh

  • Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং অনথিভুক্ত (Financial Times) বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন জন্ম দিয়েছে নয়া বিতর্কের। প্রতিবেদনে (Bangladesh Pushback Policy) ভারতের পদক্ষেপের সমালোচনা করা হলেও, পাল্টা মতামতে প্রশ্ন উঠেছে—নিজেদের নাগরিকদের পরিচয় যাচাই ও গ্রহণে বাংলাদেশ দেরি করলে ভারতের সামনে বিকল্প পথ কী? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদপত্রটির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

    প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক (Financial Times)

    বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কয়েকজন কর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা রাতের বেলায় সুযোগ বুঝে কিছু মানুষকে সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ পৌঁছে দিচ্ছেন। এক আধিকারিক বলেন, “ওরা (ভারত) অন্ধকার নামার অপেক্ষা করে, তারপর সীমান্তের গেট খুলে মানুষকে ঠেলে দেয়।” আর এক কর্তার দাবি, “সেখানে নারী এবং শিশুরাও থাকে। অনেক সময় তারা মাঝখানে আটকে পড়ে।” সংবাদপত্রটির আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী ‘জিরো লাইনে’ বহু মানুষ আটকে থাকার অভিযোগও তুলেছে বাংলাদেশ। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, প্রতিবেদনে অনুপ্রবেশের আইনি ও নিরাপত্তাজনিত দিকের চেয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা ও অনথিভুক্ত বিদেশিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদে’র সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার

    প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিনিধির বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ মুসলিম পরিবারকে বাংলাদেশে ফেলে আসছে অথবা সীমান্তে আটকে রাখছে। মুসলিমদের প্রতি এই বৈরিতা বন্ধ হওয়া উচিত।” প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যও (Financial Times)। তাঁর দাবি, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এবং আরও প্রায় ১,৮০০ জনের বিরুদ্ধে একই প্রক্রিয়া চলছে।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অবস্থানও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ রোধ এবং বিদেশি ট্রাইব্যুনালে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। সরকারি জমি ও বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিষয়টিও তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে (Bangladesh Pushback Policy)।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, অতীতে গৌহাটি হাইকোর্ট অনুপ্রবেশকে অসমের জনবিন্যাসের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, বিদেশি হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তিদের ভারত থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ইস্যুতে ভারতের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দেশটির বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকেও সতর্ক করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে (Financial Times)। এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত ইতিমধ্যেই ২,৬৮০টিরও বেশি ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ পাঠিয়েছে। তবে বহু ক্ষেত্রে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই যাচাই প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে।

    আলোচনার ফোকাস পয়েন্ট

    এক প্রবীণ ভারতীয় আধিকারিকের  বক্তব্যও প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “বহিষ্কারের জন্য গন্তব্য দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে সেই সহযোগিতা প্রায় কখনওই পাওয়া যায় না।” তাঁর আরও দাবি, “সেই কারণেই আমাদের সামনে অন্য কোনও উপায় ছিল না।” এই ঘটনাকে ঘিরে (Bangladesh Pushback Policy) আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সমন্বয়—এই তিনটি বিষয়ই এখন উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে (Financial Times)।

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশজুড়ে কালেমাখচিত কালো-সাদা পতাকার দাপাদাপি, কারা ওড়াচ্ছে এসব ঝান্ডা?

    Bangladesh: বাংলাদেশজুড়ে কালেমাখচিত কালো-সাদা পতাকার দাপাদাপি, কারা ওড়াচ্ছে এসব ঝান্ডা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশজুড়ে (Bangladesh) ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেই নতুন করে চর্চায় এসেছে কালেমাখচিত কালো-সাদা পতাকার (Kalema Flags) দাপাদাপি। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফরিদপুর, মিরপুর-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই সব পতাকা টাঙানো এবং মিছিল-সমাবেশে বহন করার ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে এক লপ্তে অনেকখানি। কারণ, একই ধরনের পতাকা অতীতে আল-কায়েদা, ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীরের মতো জঙ্গি সংগঠনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হত।

    কালেমাখচিত পতাকা (Bangladesh)

    জানা গিয়েছে, গত ১৭ জুন ঢাকার একটি ফ্লাইওভারে প্রথম কালেমাখচিত পতাকা দেখা যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায় এই ঝান্ডার রমরমা। সড়ক, আবাসিক এলাকা মায় সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এই জাতীয় পতাকাকে পতপত করে উড়তে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, মোটরসাইকেলে শোভাযাত্রা এবং ধর্মীয় সমাবেশেও একই ধরনের পতাকা বহন করা হচ্ছে। সেই ভিডিও-ও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সুকৌশলে। এমনই ছবি নজরে এসেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

    দু’ধরনের পতাকা

    মূলত দু’ধরনের পতাকা বেশি দেখা যাচ্ছে। একটি সাদার পটভূমিতে কালো অক্ষরে লেখা, আর, অন্যটিতে কালোর পটভূমিতে সাদা অক্ষরে আরবি ভাষায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বা ইসলামের কালেমা লেখা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাদা-কালো নকশার এই পতাকাগুলির একটির সঙ্গে তালিবানের, এবং অন্যটির সঙ্গে আল-কায়েদা, আইএস এবং হিজবুত তাহরীরের ঝান্ডার মিল রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এসব নিশান ওড়ানোর সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনও জঙ্গি সংগঠনের সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ মেলেনি (Kalema Flags)। কিছু মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ‘তাওহিদী জনতা’ নামে পরিচয় দিয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহে এই ব্যানারে দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সমাবেশ হয়েছে। একটি শোভাযাত্রায় প্যালেস্তাইনের পতাকাও দেখা গিয়েছে। গত বছর ‘তাওহিদী জনতা’ ঘনিষ্ঠ কিছু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাজার, সুফি প্রতিষ্ঠান এবং বাউল সমাবেশে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল (Bangladesh)।

    হিজবুত তাহরীরের তৎপরতা

    এদিকে, হিজবুত তাহরীরের সাম্প্রতিক তৎপরতাও নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়েছে। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকারের সময় সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ডামাডোলের পর তাদের কার্যকলাপ বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ঢাকার জাতীয় মসজিদের সামনে ‘মার্চ ফর খিলাফত’ কর্মসূচিতে দু’হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল। যদিও বর্তমানে ঝান্ডা প্রদর্শনের ঘটনায় হিজবুত তাহরীরের যোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে হামাসের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্যালেস্তাইনের প্রতি জনসমর্থন থাকা স্বাভাবিক হলেও, বিদেশি জিহাদি মতাদর্শের পক্ষ্মবিস্তার নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক হতে পারে (Bangladesh)।

    কী বলছেন উদ্যোক্তারা?

    এদিকে, দিনাজপুরে আয়োজিত একটি শোভাযাত্রার উদ্যোক্তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং ইসলামের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। আয়োজকদের একজন মুফতি আবু বকর সিদ্দিক। তিনি জানান (Kalema Flags), তারা মানুষের হৃদয়ে কালেমার বার্তা পৌঁছে দিতে চান। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে অতিরিক্ত উন্মাদনা থেকে মানুষকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তাঁরা। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও কালেমাখচিত পতাকার প্রচার বেড়েছে। বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক ফেসবুক পেজ এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এসব পতাকা বিক্রি ও প্রচারের তথ্য সামনে এসেছে। একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম-সংশ্লিষ্ট নেতা মুফতি হারুন ইজহারের একটি পুরোনো ভিডিওও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি তরুণদের বিভিন্ন স্থানে কালেমার পতাকা টাঙানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, “যদি এসব পতাকাকে জঙ্গিবাদের প্রতীক বলা হয়, তবে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের পতাকাও নামিয়ে ফেলতে হবে।”

    উগ্রপন্থীদের ‘রিহার্সাল’! 

    এদিকে, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের অন্যতম নেতা তথা সাংসদ হাসনাত আবদুল্লাকে আল-কায়েদার মতো দেখতে একটি পতাকার সঙ্গে দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য এখনও মেলেনি (Bangladesh)। বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে জানান, একটি গোষ্ঠী সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে বিদেশি উগ্রবাদী সংস্কৃতিকে মূলধারায় আনার চেষ্টা করছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে উগ্রবাদী সংগঠনের উপস্থিতি জানান দেওয়ার একটি ‘রিহার্সাল’-ও হতে পারে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তাই বিষয়টি নয়াদিল্লির কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে দুই দেশেই দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। যদিও, এখনও পর্যন্ত সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনকে দায়ী করেনি। তদন্ত শেষ না (Kalema Flags) হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানেই রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (Bangladesh)।

  • Bangladesh: ঢাকায় মন্দিরের সহকারী পুরোহিতকে অপহরণের অভিযোগ, নির্যাতনের পর আদায় করা হল মুক্তিপণের টাকাও

    Bangladesh: ঢাকায় মন্দিরের সহকারী পুরোহিতকে অপহরণের অভিযোগ, নির্যাতনের পর আদায় করা হল মুক্তিপণের টাকাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই হিন্দুদের নিরাপত্তার ফস্কা গেরো খসে পড়ছে বাংলাদেশে (Bangladesh)। এবার রাজধানী ঢাকার ওয়ারি এলাকা থেকে এক হিন্দু আইন পড়ুয়া তথা মন্দিরের সহকারী পুরোহিতকে অপহরণ করে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠল। জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বছর পঁচিশের সুভাষ দেউরীকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি (Hindu Priest Kidnapped)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সুভাষ পুরানো ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে স্থায়ী পুরোহিতের অনুপস্থিতিতে মাঝে মাঝে সহকারী হিসেবে পুজোও করতেন তিনি। তবে তাঁকে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে টার্গেট করা হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    অপহৃতের পরিবারের অভিযোগ (Bangladesh)

    সুভাষের স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার রাত আটটা নাগাদ রিকশায় চড়ে তিনি পৌঁছন স্বামীবাগ এলাকায়। সেখান থেকেই তাঁকে অপহরণ করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন। মঙ্গলবার সকালে তিনি কোনওভাবে অপহরণকারীদের খপ্পর থেকে পালিয়ে রুমমেটের সাহায্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন (Bangladesh)। সুভাষের বোন জয়া জানান, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে তাঁর দাদার মোবাইল নম্বর থেকে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা একজন সুভাষের মুক্তিপণ বাবদ ৩০ হাজার বাংলাদেশি টাকা দাবি করে। পরে অপহরণকারীদের দেওয়া একটি নম্বরে ২৬ হাজার টাকা পাঠানোর পর সুভাষকে পুরানো ঢাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে যায় দুষ্কৃতীরা।সুভাষের আত্মীয় দীপু বর্মণ জানান, সুভাষের পা ও কোমরের হাড় ভেঙে গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হবে।

    পুলিশের বক্তব্য

    ওয়ারি থানার (Bangladesh) ওসি মোফিজুর রহমান জানান, সুভাষ পুলিশকে জানিয়েছেন সোমবার রাতে তিনি স্বামীবাগের একটি মন্দিরে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন তাঁকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রাখে (Hindu Priest Kidnapped)। ওসি বলেন, “ভোরের দিকে ভবনের একটি অংশ থেকে লাফ দিয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এই সময় গুরুতর আহত হন তিনি।” ওসি জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত করার কাজও চলছে।

    মন্দির কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সদস্য সচিব অনীক কুমার দাস জানান, সুভাষ মন্দিরের স্থায়ী পুরোহিত নন। তিনি বলেন, “আমাদের স্থায়ী পুরোহিত সাইকত পাঠক। তাঁর অনুপস্থিতিতে মাঝে মাঝে সুভাষ পুজোপাঠ করতেন। এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের মন্দিরের কোনও সম্পর্ক নেই। এই বিষয়ে আমরা আমাদের ফেসবুক পেজেও ব্যাখ্যা দিয়েছি (Hindu Priest Kidnapped)।”

    সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

    বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথ জানান, তাঁরা বিষয়টি জানেন। এটি নিছকই একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত অপহরণ—খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুভাষের বাড়ি খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায়। তিনি ঢাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে রুম শেয়ার করে থাকতেন (Bangladesh)।

     

  • Sheikh Hasina: ‘নির্বাসন ভেঙে চলতি বছরই বাংলাদেশে ফিরব’, গোপন ডেরা থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি হাসিনার

    Sheikh Hasina: ‘নির্বাসন ভেঙে চলতি বছরই বাংলাদেশে ফিরব’, গোপন ডেরা থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি হাসিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছর দুয়েক ধরে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হলেও, তাঁর মন যে সেই বাংলাদেশেই (Bangladesh) পড়ে রয়েছে, সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তা আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)।  বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার দাবি, চলতি বছরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। তাঁর ভাষায়, “এটি ব্যক্তিগত ক্ষমতায় ফেরার প্রশ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই।” হাসিনা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ। বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে আওয়ামি লিগকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ‘আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না’ (Sheikh Hasina)

    বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমার পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। একাধিকবার আমায় হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই মানুষের পাশে থেকেছি। তাই সব বাধা অতিক্রম করে এ বছরই দেশে ফিরব।” আওয়ামি লিগের সাংগঠনিক শক্তি প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, “দলটি কাগুজে কোনও সংগঠন নয়, বরং বাংলার মাটি ও মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি। অতীতে বহুবার নিষিদ্ধ ও নির্যাতনের শিকার হলেও, প্রতিবারই জনগণের সমর্থনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আওয়ামি লিগ।” তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং উগ্রবাদের বিস্তার ঘটেছে। এসব কারণে জনগণ আওয়ামি লিগের শাসন কালের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে নতুন করে মূল্যায়ন করছে (Sheikh Hasina)।

    ‘নিষেধাজ্ঞা গণতন্ত্রের পরিপন্থী’

    আওয়ামি লিগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, “কোনও রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আওয়ামি লিগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক মামলার অবসান এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে (Bangladesh)।” তিনি বলেন, “যদি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া না হয়, তাহলে জনগণের ক্ষোভই আওয়ামি লিগের জন্য নয়া পথ তৈরি করে দেবে।”

    ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে যাচ্ছে বাংলাদেশ’

    বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হাসিনার অভিযোগ, ৫ অগাস্টের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর ধারাবাহিক আঘাত এসেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে হামলা, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং উগ্রবাদী শক্তির উত্থানের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।” আওয়ামি লিগের রাজত্বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং সামাজিক খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Sheikh Hasina)।

    ‘গোপন সমঝোতার প্রশ্নই আসে না’

    বিএনপির সঙ্গে আওয়ামি লিগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে গোপন আলোচনার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে হাসিনা বলেন, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বিচার কোনও গোপন সমঝোতার বিষয় নয়। এগুলি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।” তিনি বলেন, “আওয়ামি লিগ কারও দয়ার ওপর রাজনীতি করে না। জনগণের সমর্থন ও সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতেই দলটি রাজনীতি করে যাবে (Bangladesh)।”

    সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ

    বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, মন্দির ভাঙচুর, লুটপাট, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধা অব্যাহত রয়েছে। আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো বলেন, “সংখ্যালঘুরা কোনও ভোটব্যাঙ্ক নন। তাঁরা বাংলাদেশের সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”

    ‘আমার হৃদয় বাংলাদেশেই’

    নির্বাসিত জীবন প্রসঙ্গে হাসিনা জানান, ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে দেশের মানুষের অধিকারই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন, খোঁজখবর নেন দলীয় নেতা-কর্মীদের এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন (Sheikh Hasina)। ই-মেলের মাধ্যমে দেওয়া এই সাক্ষাৎকার পর্বের একেবারে শেষে হাসিনা বলেন, “জনগণের শক্তিতেই বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে। আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামি লিগও ফের ঘুরে দাঁড়াবে (Bangladesh)।”

     

  • Bangladesh: ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’— বাংলাদেশে রামমূর্তি অবমাননার অভিযোগে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি হিন্দু শিক্ষার্থীদের

    Bangladesh: ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’— বাংলাদেশে রামমূর্তি অবমাননার অভিযোগে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি হিন্দু শিক্ষার্থীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলায় ভগবান রামের মূর্তির অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা। ‘সচেতন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রীনিবাসের বাসিন্দারাও অংশ নেন। পরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে পৌঁছয়। এরপর তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান।

    বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক

    সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক রাম প্রসাদ সাহা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তাঁর অভিযোগ, কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ভগবান রামকে নিয়ে গুজব ছড়িয়ে ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “শ্রী রামচন্দ্র আমাদের কাছে অবতার। তাঁর প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপের ঘটনা সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। আমরা ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী নেতা দীপজয় সরকার দীপ্ত ও সুদীপ্ত প্রামাণিক। তাঁরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে বারবার বৈষম্য দেখা যায়। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিও তোলেন তাঁরা। সুদীপ্ত প্রামাণিক বলেন, “নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরে সেগুলোর অনেকটাই বাস্তবায়িত হয় না। আমরা চাই, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।” তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী শুক্রবার আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    বিক্ষোভকারীদের দাবি

    বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—গাইবান্ধার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, উগ্রবাদী কার্যকলাপ দমনে কার্যকর উদ্যোগ এবং গাইবান্ধায় প্রস্তাবিত ভগবান রামের বৃহত্তম মূর্তি নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু করা। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • Hindus Under Attack: ভারত তো বটেই, হিন্দু নির্যাতন চলছে বাংলাদেশেও, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: ভারত তো বটেই, হিন্দু নির্যাতন চলছে বাংলাদেশেও, ঝলকে এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ। ভারত তো বটেই, বিশ্বের বহু অঞ্চলেও এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ৭ থেকে ৬ জুন, ২০২৬ – পর্যন্ত পর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার জলছবি।

    জমি জালিয়াতির অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বেঙ্গালুরুর সোমানাহাল্লিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিশাল এক জমি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, কবরস্থানের জন্য কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একর ছয়েক জমি একটি মুসলিম পরিবারকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ স্থানীয় হাজার হাজার হিন্দুর জন্য রয়েছে খুবই ছোট আকারের একটি সমাধিস্থল এবং শ্মশান। সমাজকর্মীদের অভিযোগ, কবরস্থান করতে গিয়ে এলাকার একটি পুরনো হনুমান মন্দির সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনার জেরে সৃষ্টি হয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ।কর্নাটকে ২০ লাখের কাছাকাছি অবৈধ বাংলাদেশি বসবাস করছে—ভাইরাল হওয়া এমন একটি দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নয়া বিতর্কের। এহেন দাবির সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন থাকলেও, অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তা এবং জনসংখ্যাগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।

    ধর্মান্তরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

    উত্তরপ্রদেশে আয়ুষ মালিক ওরফে মোহাম্মদ আলির ধর্মান্তরকে ঘিরেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এবং মানসিক চাপের মাধ্যমে তাঁকে ধর্ম পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু প্রশাসন। মহারাষ্ট্রের পালঘরে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও তাঁর নাবালিকা বোনের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বছর বাইশের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। কর্নাটকের ধারওয়াড়ে তফশিলি জাতির এক কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, প্রলোভন দেখিয়ে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে লালসার শিকার হয়েছিল সে। স্থানীয়দের চাপে পড়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে কিছু ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে পুলিশের তরফে।

    গো-মাংসের বিরিয়ানি নিয়ে বিতর্ক

    অসমের গোলপাড়া জেলার একটি স্কুলে গরুর মাংসের বিরিয়ানি নিয়ে এসেছিল এক ছাত্র। সে সেই বিরিয়ানি তার দুই হিন্দু সহপাঠীকে খেতে উৎসাহিত করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ছাত্রের মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    হিন্দু নির্যাতন বাংলাদেশেও

    ভারতের পাশাপাশি হিন্দু নির্যাতন চলছে পড়শি দেশ বাংলাদেশেও। সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলা এবং নির্যাতনের অভিযোগেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, জমি দখল, মন্দির ভাঙচুর, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ, মহিলাদের ওপর হিংসা এবং সামাজিক ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা মালোপাড়া গ্রামে জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া অশান্তির জেরে জখম হন একটি সংখ্যালঘু পরিবারের আট সদস্য। স্থানীয়দের দাবি, সশস্ত্র হামলায় পরিবারের সদস্যরা গুরুতরভাবে জখম হন। তদন্ত করছে পুলিশ।জয়পুরহাটে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দিনমজুর শ্যামল চন্দ্র মালিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    রামের মূর্তি গড়া বন্ধ

    বাংলাদেশেরই (Bangladesh) একটি ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দিরে ভগবান রামের একটি মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। মূর্তি নির্মাণের  কাজের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কোমর বেঁধে মাঠে নামে স্থানীয় বেশ কয়েকটি উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী ইসলামি সংগঠন। মসজিদ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই মূর্তি নির্মাণের বিরুদ্ধে তীব্র উস্কানিমূলক প্রচার শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে যখন মৌলবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে মন্দির প্রাঙ্গনের (Bhagwan Ram Murti) বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে হুমকি দেয় যে, যদি অবিলম্বে রামমূর্তির নির্মাণের কাজ বন্ধ করা না হয়, তবে মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। মন্দিরের পুরোহিত এবং মূর্তি গড়ার কারিগরদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর পরেই বন্ধ হয়ে যায় মূর্তি নির্মাণের কাজ।

    প্রসঙ্গত, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষের জের। এসবই ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত রয়েছে বলে দাবি। ইসলামিক দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী ঘৃণা স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব রয়েছে, যা হিন্দু-বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। এই সূক্ষ্ম, দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় নজরে আসে না, যদি না কেউ প্রচলিত আইন ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি এর একটি উদাহরণ। আপাতভাবে এটি দূষণ-সংক্রান্ত মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞার পেছনে যৌক্তিকতার অভাব লক্ষ্য (Hindus Under Attack) করলে দ্বিচারিতা (Roundup Week) স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চাপ বাড়ছেই, এবার মৌলবাদী হুমকির মুখে থমকে গেল রামের মূর্তি নির্মাণ

    Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চাপ বাড়ছেই, এবার মৌলবাদী হুমকির মুখে থমকে গেল রামের মূর্তি নির্মাণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের আরও এক উদ্বেগজনক ছবি চলে এল সামনে। কট্টরপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলির তীব্র বিরোধিতা, উস্কানিমূলক বিক্ষোভ এবং হিংসাত্মক হুমকির মুখে একটি মন্দিরে শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি (Bhagwan Ram Murti) নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন উদ্যোক্তারা। ঘটনাটি ওপার বাংলায় হিন্দুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

    উল্লেখ্য, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে লাখ লাখ হিন্দুর জীবন অস্তিত্বের সঙ্কটে। লাগাতার মৌলবাদীদের আক্রমণের খাঁড়া নেমে এসেছে সে দেশের হিন্দুদের ওপরে। মন্দির, মঠ, সম্পত্তি, বাড়ি, দোকান সব কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে, আগুন লাগিয়ে হত্যা কিংবা ধর্ষণের মতো নানা ঘটনা ঘটানো হয়। এর জেরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক জিয়া চেয়ারে বসলেও, জামাতের মৌলবাদী কার্যকলাপ থেকে বাংলাদেশ এখনও মুক্ত হতে পারেনি।

    ঘটনার সূত্রপাত ও মৌলবাদী তৎপরতা (Bangladesh)

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের (Bangladesh) একটি ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দিরের অভ্যন্তরে সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব উদ্যোগে এবং ধর্মীয় রীতি মেনে ভগবান রামের একটি মূর্তি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এই নির্মাণকাজের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কোমর বেঁধে মাঠে নামে স্থানীয় বেশ কয়েকটি উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী ইসলামি সংগঠন। মসজিদ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই মূর্তি নির্মাণের বিরুদ্ধে তীব্র উস্কানিমূলক প্রচার শুরু হয়।

    পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে যখন মৌলবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে মন্দির প্রাঙ্গনের (Bhagwan Ram Murti) বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে হুমকি দেয় যে, যদি অবিলম্বে রামমূর্তির নির্মাণের কাজ বন্ধ করা না হয়, তবে মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। মন্দিরের পুরোহিত এবং মূর্তি গড়ার কারিগরদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

    প্রশাসনের ভূমিকা ও হিন্দুদের আতঙ্ক

    ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। যদিও উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে প্রশাসন মন্দির কমিটিকে রামমূর্তি (Bhagwan Ram Murti) নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। প্রশাসনের (Bangladesh) এই একতরফা সিদ্ধান্তে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর হতাশা, ক্ষোভ এবং তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক হিন্দু নেতা বলেন, “আমরা আমাদের নিজস্ব উপাসনালয়ে, নিজেদের অর্থ ও জমিতে আরাধ্য দেবতার মূর্তি স্থাপন করতে পারছি না। প্রশাসনের এই নির্দেশ আসলে মৌলবাদীদের অন্যায় দাবির কাছে মাথানত করার শামিল। এভাবে চলতে থাকলে এ দেশে আমাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

    ধারাবাহিক হিন্দু-বিদ্বেষের প্রতিফলন

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে (Bangladesh) রামমূর্তি নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ওপার বাংলায় হিন্দু বিরোধী হিংসা, মঠ-মন্দির (Bhagwan Ram Murti) ভাঙচুর, উৎসব পালনে জোরপূর্বক বাধা দেওয়া এবং প্রতিমা অপবিত্রকরণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কট্টরপন্থীদের এই ক্রমবর্ধমান দাপট এবং তাদের প্রতি প্রশাসনের পরোক্ষ নমনীয়তা দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    আন্তর্জাতিক স্তরে নিন্দার ঝড়

    এই ঘটনার নিন্দা করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সনাতনী সংগঠন বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু নাগরিকরা যদি নিজেদের ধর্মীয় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার এবং পূর্ণ নিরাপত্তা-সহ মূর্তির (Bhagwan Ram Murti) কাজ ফের শুরু করার দাবিও জানানো হয়েছে।

    ভবিষ্যতের অন্ধকার মেঘ

    বর্তমানে ওই মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হলেও, হিন্দুদের (Bhagwan Ram Murti) মন থেকে ভয় দূর হচ্ছে না। রামমূর্তির এই অসমাপ্ত কাঠামোটি এখন বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দুদের বিপন্ন অস্তিত্ব এবং হারিয়ে যাওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার এক নীরব প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওপার বাংলার বর্তমান সরকার এই ক্রমবর্ধমান মৌলবাদ দমন করে হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে পারবে কি না, আপাতত তা-ই তুলে দিয়েছে এক অতিকায় প্রশ্নচিহ্ন।

  • Suvendu Adhikari: ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও কত, জানালেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও কত, জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া রাজ্য সরকার। নতুন সরকার তৈরির পর থেকে ইতিমধ্যেই ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে (Illegal Immigrants) বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে সদ্য তৈরি হোল্ডিং সেন্টার থেকে এখন আরও ৮৩৬ জনকে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর তোরজোড় চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর মতে রাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে সরকার চিন্তিত। যেভাবেই হোক এই সমস্যা দূর করতে বদ্ধ পরিকর তাঁরা। শুভেন্দু জানিয়েছেন, যেই সব মানুষ সিএএ-এর আওতায় আসেন না, তাঁদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। তাদের বাংলাদেশ পাঠানো হবে।

    সামান্তে কাঁটাতার

    সরকার গঠনের পরই ইতিমধ্যে সীমান্তের ১০০ কিমিতে কাঁটাতার বসানোর জমি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ৫৫৬ কিমির মধ্যে ১০০ কিমি জমি দেওয়া হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে সবটাই দেওয়া হবে। শুভেন্দুর মতে, সারা দেশে আইন মানা হয়। কিন্তু আগের তৃণমূল সরকার রাজ্যে আইন মেনে চলত না। তাই তাঁর সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বের করতে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়,‘‘৪৮০০ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে সীমান্তের জেলাগুলির হোল্ডিং ক্যাম্প থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত নিয়ম মেনে ঢাকায় পাঠানো হবে।’’ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারতের সব রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বাংলাদেশের সবথেকে লম্বা বর্ডার রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ২,২১৭ কিমি বাংলাদেশ বর্ডার। আর এই বিরাট সীমান্তের মধ্যে অনেক জায়গাতেই কাঁটাতার নেই। সেখান থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশ হচ্ছে বলে অভিযোগ।

    উত্তরবঙ্গের চিকেন নেক করিডরই প্রায়োরিটি

    শুভেন্দু জানান, বিএসএফ-কে জমি দেওয়া খুবই জরুরি। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই জমি দিতে হবে। এটাই তাঁর নতুন সরকারের অগ্রাধিকার বলে দাবি করেছেন তিনি। বিজেপির স্পেশাল ট্রেনিং ক্যাম্পে এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘‘সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর জন্য ৫৫৬ কিমি জমি প্রয়োজন ছিল। তার মধ্যে ১০০ কিমি দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গের চিকেন নেক করিডরই প্রায়োরিটি।’’ মাথায় রাখতে হবে, চিকেন নেক করিডর বা শিলিগুড়ি করিডর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এটি মোটামুটি ২০ থেকে ২২ কিমি চওড়া এবং ৬০ কিমি লম্বা একটা জায়গা। এই জায়গাটি গোটা দেশকে উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে জুড়ে রাখে। তাই এই জায়গাটা ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই এই জায়গার নিরাপত্তায় কোনও প্রকারের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় নতুন শুভেন্দু সরকার।

  • Lord Ram Idol: বাংলাদেশে নির্মীয়মান রামের মূর্তি ভেঙে ফেলার ডাক উগ্র ইসলামপন্থী বক্তার

    Lord Ram Idol: বাংলাদেশে নির্মীয়মান রামের মূর্তি ভেঙে ফেলার ডাক উগ্র ইসলামপন্থী বক্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলায় ভগবান রামের (Lord Ram Idol) নির্মীয়মান একটি মূর্তি ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন উগ্র ইসলামপন্থী এক ব্যক্তি। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলমান গোষ্ঠীগুলির নানা মন্তব্যও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে হিন্দু দেবতা রামকে ‘হিন্দুত্বের প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে হিংসায় উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

    উগ্র ইসলামি বক্তার হুমকি (Lord Ram Idol)

    ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা’ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক উগ্র ইসলামি বক্তা হুমকি দিয়ে বলেন, “পলাশবাড়ী উপজেলায় হিন্দুদের দেবতা রামের মূর্তি নির্মাণের কাজ যদি নির্বিঘ্নে চলতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে, এ দেশে কোনও সম্মানিত ইসলামি আলেম নেই। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মুসলমানরা হিন্দুত্ববাদীদের হাতে গণহত্যার শিকার হওয়ারই যোগ্য।” তিনি এও বলেন, “পলাশবাড়ীতে রামের একটি মূর্তি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দাও। সরকারকেই মূর্তিটি ভেঙে ফেলতে হবে। সরকার যদি তা না করে, তাহলে সাধারণ মানুষ (মুসলমানরা) সেটি ধ্বংস করবে। সরকারকে সাহায্য করা মুসলমানদের দায়িত্ব। বাংলাদেশে এই মন্দির ভেঙে ফেলতেই হবে।”

    ভারত দখলের হুমকি

    এর আগে ভারত দখলের হুমকি দিয়েছিলেন এই উগ্র ইসলামি বক্তা। তাঁর দাবি, “বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানো হবে। ভারত দখল করা হবে। মোদি ও তাঁর রাম রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মুসলমানরা যদি একযোগে আক্রমণ করে, তাহলে ভারত এক ঘণ্টাও টিকতে পারবে না।” প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যেই চলছে এই আক্রমণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবকে হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশছাড়া করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

     

  • FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিতর্কিত মন্তব্য গুরুত্ব পেল না পদ্মাপাড়েই। উল্টে ফের মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার জন্য শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পদ থেকে সরতেই কীভাবে দেশের অন্দরের তথ্য ফাঁস করলেন মমতা, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের ভরা সভা থেকে নাম না করে বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেন মমতা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়িয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছুঁড়ে দেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

    কেন অভিযোগ দায়ের

    আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে খুন হন বিতর্কিত ওসমান হাদি। হাদির হত্যাকারীরা গত জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে এলে দুজনকে গ্রেফতার করে রাজ্যের এসটিএফ। এরপর এই নিয়ে ২ জুনের ভরা সভা থেকে মমতা নাম উল্লেখ না করলেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ইঙ্গিত করেন, অন্য দেশে খুন হলেও কারা জড়িত তিনি জানেন। নাম জড়ান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও। এতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই রিঙ্কি শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে করার প্রয়াস

    রিঙ্কি বলেন, “উনি মুখ্য়মন্ত্রী থাকাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যাই কথা হোক, সেটা এখন বাংলাদেশের একটা হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে সংগঠিত হত্যা বলে চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করলেন। বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করলেন। বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেন। পদে আসার সময় শপথ নিয়েছিলেন যে উনি কোনওদিন দেশের গোপনীয়তা বজায় রাখবেন। যেই না পদ চলে গেছে অমনি উনি মৌলবাদীদের উস্কে দিলেন।” আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা যে উক্তি করেছেন তা সাংঘাতিক। বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা। এর ফলে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ বাড়বে।

    মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

    • ● ১৫২- দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)
    • ● ১৫৩-দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো
    • ● ১৫৩ এ- ধর্ম, জাতি, ভাষা, বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, হিংসা, বা ঘৃণা ছড়ানো
    • ● ১৯১ ও ১৯২ ধারা- দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা
    • ● ১৯৬ ধারা-ধর্ম,বর্ণ,ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানো এবং জনসম্প্রীতি বিনষ্ট করলে
    • ● ৩৫১- কোনও ব্যক্তিকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা
    • ● ৩৫২-ইচ্ছাকৃত ভাবে শান্তি ভঙ্গ করার উদ্দেশ্য

    পাত্তা দিল না বাংলাদেশ

    তবে, বাংলাদেশের মূলধারা রাজনৈতিক দলগুলি তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখায়নি। কোন দলই পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (West Bengal Ex CM) বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপি (BNP) সরকারিভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও সে দেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মমতার বক্তব্যকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সদ্য নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন। একজন ব্যক্তি বিশেষের কথা নিয়ে সরকারের‌ তরফে প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত হবে না।

    কী বলেছেন মমতা

    মঙ্গলবার ধর্মতলায় তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। হোম মিনিস্টার তখন আমাকে ফোন করে বলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যেন দেশের স্বার্থে এই ব্যাপারে মুখ না খোলে। তিনি আরও বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি।’ তৃণমূল নেত্রীর ওই মন্তব্যের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশের ইসলামিক ঐক্য জোটের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ। গত বছর ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় দিন দুপুরে তাঁকে খুন করা হয়। তারই হত্যাকারীদের ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতার করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে অনেকেই ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ বলে ধরে নিচ্ছেন। হোম মিনিস্টার বলতে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইঙ্গিত করেছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। যদিও তিনি অমিত শাহের নাম মুখে আনেননি। ‌ উল্লেখ করেননি হাদির নামও।

    মমতার মন্তব্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত

    মঙ্গলবার ধর্মতলার কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তাদের নাম যদি বলি তাহলে বাংলাদেশের তোলপাড় হবে। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকের মতে, মমতার কথায় বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। বাস্তবে সে‌ দেশের শাসক-বিরোধী কোনও দলই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর বিএনপি নেতৃত্ব একান্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছে নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রে শাসকদল বিজেপিকে নিশানা করতে এই মন্তব্য করেছেন। বিএনপির এক বর্ষীয়ান নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। সেখানে বিজেপি সরকার গড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার কোন মন্তব্য নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চায় না বিএনপি। ওই নেতার কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে একটি দেশ-বিরোধী পদক্ষেপ। ভারতের রাজনীতির এই অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে, তাই বিএনপি মাথা গলাতে আগ্রহী নয়। হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে আবেদন জানিয়ে রেখেছে। দুই দেশ যৌথভাবে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে।

LinkedIn
Share