Tag: Bangladesh

Bangladesh

  • Bangladesh Concert Vandalized: সংস্কৃতির ঠাঁই নেই ইউনূসের বাংলাদেশে! ছায়ানট, উদীচীর পর হামলা জেমসের কনসার্টে

    Bangladesh Concert Vandalized: সংস্কৃতির ঠাঁই নেই ইউনূসের বাংলাদেশে! ছায়ানট, উদীচীর পর হামলা জেমসের কনসার্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বাংলাদেশে শিল্প-সংস্কৃতির কোনও ঠাঁই নেই। চলছে শুধু মৌলবাদীদের তাণ্ডব। শুধু ভারতীয় নয়, এবার বাংলাদেশি শিল্পীরাও হামলার মুখে। ইসলামি কট্টরপন্থীদের কাছে সঙ্গীত নাকি ‘হারাম’। এর আগে তাই বাংলাদেশে ছায়ানট থেকে উদীচীতে হামলা হয়েছে। এবার ফরিদপুরে জনপ্রিয় গায়ক জেমসের কনসার্টে হামলা হল। এই হামলায় অন্তত ৩০ জন জখম হয়েছন বলে জানা গিয়েছে।

    জেমসের অনুষ্ঠানে ইট বৃষ্টি

    পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলা বিদ্যালয়ের ১৮৫ তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন জেমস ও তাঁর ব্যান্ড। সেখানে হঠাৎ হামলা চালায় কিছুজন। ছোড়া হয় পাথর। আহত হয় বেশ কয়েকজন। এরপরই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, একদল মানুষ জেমসের অনুষ্ঠান দেখার জন্য স্কুলের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। বাধা দিতেই ইট পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এরপর হামলাকারীরা ঢুকে সোজা জেমসের স্টেজ দখল করার চেষ্টা করে, এমনটাই দাবি আয়োজকদের। ইট বৃষ্টি থেকে কোনওমতে রক্ষা পান জেমস।

    জেমসের কনসার্ট বাতিল

    অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য বেনজীর আহমেদ তাবরিজ বলেন, নগর বাউল জেমসের গান শুনতে আসা বহিরাগত দর্শকরা গান শুনতে স্কুল ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারায় তারা বাইরে থেকে ইট ছোড়ায় জেমসের সংগীতানুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। এতে কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শামীমসহ ২৫-৩০ জন আহত হন বলেও জানান তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, বহিরাগতদের ঢুকতে না দেওয়ায় হালকা বিশৃঙ্খলা হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শেষ পর্যন্ত জেমসের কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে।

    মঞ্চ দখল করে সেখানে ভাঙচুর কেন

    ঘটনাটিকে ‘হালকা’ করে দেখানোর জন্য আয়োজকদের তরফ থেকে পরে গভীর রাতে দাবি করা হয়, অনুষ্ঠানস্থলে না ঢুকতে পেরেই নাকি এই হামলা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। যদিও অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে দুটো বড় স্ক্রিনে জেমসের গান দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এদিকে, যদি অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকাই উদ্দেশ্য হবে, তাহলে মঞ্চ দখল করে সেখানে ভাঙচুর কেন হয়? এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বাংলাদেশির দাবি, এটা জামাতপন্থীদের হামলা ছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টের সেই ‘বিপ্লবে’ জেমস শেখ হাসিনার বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছিলেন। তবে ‘স্বাধীন’ বাংলাদেশে এবার তাঁর কনসার্ট পণ্ড হল।

    সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আক্রমণ

    ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুরের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে স্কুলে জেমসের নগর বাউল ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনের কথা ছিল। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্কুল চত্বর ছিল সরগরম। এরই মাঝে ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা যার ফলে বন্ধ হয়ে যায় জেমসের কনসার্ট। বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে একের পর সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উপর আক্রমণ হওয়ার ঘটনায় চারিদিকে নিন্দার ঝড় উঠেছে। জুলাই আন্দোলনের পরই জলের গানের সঙ্গীত শিল্পী রাহুল আনন্দের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে কয়েকদিন আগে হাদির হত্যাকাণ্ডের পর ছায়ানট, উদিচীর মত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আক্রমণের শিকার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মত বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমও। আর এবার অশান্ত বাংলাদেশের কট্টরপন্থীদের টার্গেটে জেমসের কনসার্ট। কট্টরপন্থিদের নিশানায় এবার বাংলার রকস্টার জেমস। হামলাকারীদের মূল দাবি ছিল কোনও ধরনের সঙ্গীত অনুষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না।

    উদ্বিগ্ন জেমসের ভারতীয় ভক্তরাও

    বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ‘বহিরাগত’ তাণ্ডবে আহত অন্তত ১৫ থেকে ২৫ জন ছাত্র। জানা গিয়েছে, হামলা চালালেও শেষপর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে বাধা পেয়ে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন ওই আক্রমণকারীরা। শিল্পীর শারীরিক কোনও ক্ষতি হয়নি। অনুষ্ঠানস্থলে আক্রমণের ভিডিও আপলোড করে দীপ হালদার নামের একজন এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, জমায়েত করা ওই ব্যক্তিরা চায় না বাংলাদেশে কোনও সঙ্গীত বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হোক। সমাজমাধ্যমে তিনি আরও লিখেছেন, শিল্পী কোনওমতে ওই অঞ্চল ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। ভারতীয় পরিচালক অনুরাগ বসুর ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’ চলচ্চিত্রে ‘আলবিদা’ গান গেয়েছিলেন জেমস। হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন তাঁর ভারতীয় ভক্তেরাও।

    সমালোচনার ঝড় সাংস্কৃতিক মহলে

    ঘটনাটি সামনে এনে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ছায়ানটের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংগীত, নাটক, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল চেতনা গড়ে তোলার জন্য তৈরি উদীচীও ভস্মীভূত হয়েছে। আজ জিহাদিরা প্রখ্যাত শিল্পী জেমসকে মঞ্চে উঠতে দেয়নি।” তসলিমা নাসরিন আরও উল্লেখ করেন, কয়েকদিন আগে আলী আকবর খানের নাতি শিল্পী সিরাজ আলি খান ঢাকায় এসেও কোনও অনুষ্ঠান না করেই ভারতে ফিরে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, শিল্পী, সংগীত ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিরাপদ না হলে তিনি আর বাংলাদেশে ফিরবেন না। একইভাবে, ওস্তাদ রশিদ খানের পুত্র আরমান খানও সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন বলে জানান তসলিমা। উল্লেখ্য, জেমস বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক-গীতিকার ও সুরকার। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। হিন্দি ছবির ‘গ্যাংস্টার’ ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’ র মত একাধিক ছবিতে তিনি একের পর এক জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন। তাঁর কনসার্টে হামলার ঘটনা বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির বাড়বাড়ন্তের জলন্ত ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সমালোচকদের অভিযোগ, মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ । তাঁদের মতে, আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো হচ্ছে।

  • Bangladesh: দীপুর নির্মম হত্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন জাহ্নবী, ইউনূসকে তোপ ‘বর্বরতার বাংলাদেশ!”

    Bangladesh: দীপুর নির্মম হত্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন জাহ্নবী, ইউনূসকে তোপ ‘বর্বরতার বাংলাদেশ!”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই জ্বলছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের মতো নারকীয় ঘটনা গোটা বিশ্বে গভীর ভাবে দাগ কেটে গেছে। কট্টর মৌলবাদীরা এই হিন্দু যুবকের পোড়া মাথা এবং ধড় নিয়ে উল্লাসের নৃত্য করেছে। শুধু তাই নয় অন ক্যামেরায় ভিডিও করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াও হয়েছে। কট্টর ইসলামপন্থী মৌলবাদীদের নয়নের মণি মহম্মদ ইউনূসের ভূমিকায় সরাসরি তোপ দেগেছেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর (Janhvi Kapoor kajal Aggarwal)। সম্পূর্ণ ঘটনাকে “বর্বরতার বাংলাদেশ” বলে উল্লেখ করেছেন। একই ভাবে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী কাজল আগরওয়ালা, অভিনেত্রী জয়া প্রদা।

    ভিডিওগুলি সামাজিক মাধ্যমে এখনও ঘুরছে (Bangladesh)

    বাংলাদেশে (Bangladesh) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, দীপু দাসের হত্যাকাণ্ড একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এবার এই বিবৃতির প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশের কট্টর মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর (Janhvi Kapoor kajal Aggarwal)। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যা ঘটেছে অত্যন্ত জঘন্য এবং বর্বরতার পরিচয়। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গণপিটুনি দিয়ে অমানবিক ভাবে খুন করা হয়েছে। ভিডিওগুলি সামাজিক মাধ্যমে এখনও ঘুরছে ভালো করে দেখুন। প্রশ্ন করুন। আর এই সব ঘটনা দেখে যদি আপনাদের বোধোদয় না হয়, তাহলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আপনাদের ভণ্ডামির জন্য সব ধ্বংস হয়ে যাবে।” তবে এখানেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী।

    কেঁদেও কূল পাবেন না

    জাহ্নবী (Janhvi Kapoor kajal Aggarwal) আরও বলেন, “আমাদের ভাইবোনদের পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। গোটা বিশ্বকে এই সন্ত্রাস গ্রাস করবে। আর তখন কেঁদেও কূল পাবেন না। তাই পৃথিবীর বুক থেকে মানবতা মুছে যাওয়ার আগে যে কোনও রকম কট্টর মনোভাবকে উগ্রবাদকে গুঁড়িয়ে দিন।” বাংলাদেশের ঘটনা সারা বিশ্বের কাছে চরম অমানবিকতার পরিচয়বাহী। একটি ভার্চুয়াল প্রতিবাদে যোগদান করেছিলেন, কাজল আগরওয়াল, পবন কল্যাণ, মুনাওয়ার ফারুকী সহ আরও অনেকেই। ইতিমধ্যে দীপুর উপর প্রতিবাদ নিয়ে গান বেঁধেছেন নেহা, টনি কক্কর।

    জেগে ওঠো হিন্দুরা

    বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু হত্যার বিরুদ্ধে বলিউড অভিনেত্রী কাজল আগরওয়াল (Janhvi Kapoor kajal Aggarwal) নিজের সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছেন, “অল আইজ অন বাংলাদেশ হিন্দুস। প্রতিবেশি রাষ্ট্রে লাগাতার হিন্দুদের উপর নির্যাতন চলছে। ইসলামি উগ্রপন্থীরা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হিন্দুদের নির্মম ভাবে হত্যা করছেন। সংখ্যালঘুদের উপর ধর্মীয় সন্ত্রাস দিন দিন মারাত্মক আকার নিয়েছে। একই ভাবে তিনি নিজের পোস্টে গণপিটুনি, গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ছবিও বিনিময় করেছেন। শুধু তাই নয় সেই সঙ্গে লিখেছেন, “জেগে ওঠো হিন্দুরা নীরবতা তোমাদের বাঁচাতে পারবে না।”

    আর কতক্ষুণ চুপ থাকবো!

    দীপু হত্যাকাণ্ডের (Bangladesh) বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ জয়া প্রদা। তিনি বলেন, “দীপু দাসের হত্যাকাণ্ড গভীর ভাবে ব্যথিত করেছে। আমি খুবই দুঃখিত, আমার হৃদয় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। নিরীহ হিন্দু বলেই মৌলবাদীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। শুধু পিটিয়ে হত্যাই নয়, গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। এটাই কি নতুন বাংলাদেশ। প্রকাশ্যে গণপিটুনি মানেই হিংস্রতার চরম সীমায় পৌঁছে যাওয়া। মন্দির ভেঙে ফেলা হচ্ছে, হিন্দু বাড়িতে লক্ষ্য করে আগুন ধরিয়ে দেওয় হচ্ছে। মহিলাদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে। আমরা আর কতক্ষুণ চুপ থাকবো। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা চুপ করে বসে আছি। আমাদের এবার আওয়াজ তুলতে হবে। সকল জায়গায় আক্রান্ত হওয়া হিন্দুদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সরকার দেশ রাষ্ট্র সকলের দায়বদ্ধতা রয়েছে।”

    গাজা নিয়ে তৎপর! বাংলাদেশে কেন নয়?

    আবার অভিনেতা মনোজ যোশী বলেন, “গাজা বা ফিলিস্তিনে কোনও কিছু ঘটলেই সকলে এগিয়ে আসেন। কিন্তু হিন্দু নির্যাতন হলে বাংলাদেশ (Bangladesh) নিয়ে বক্তব্য উঠে আসেনা। একজন হিন্দুকে যেখানে হত্যা করা হয়েছে কেউ কোনও কথা বলছেন না।” গায়ক টনি কক্কর তার নতুন গান ‘চার লগ’–এ দীপু দাসের গণপিটুনির কথা উল্লেখ করেছেন। গানে ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং বৈষম্যকে দূর করার আহ্বান জানান।

    এখনও পর্যন্ত এই হত্যা মামলায় ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে দীপুর বিরুদ্ধে কোনও রকম ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য বা কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলেনি। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, দীপুর বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও সাক্ষী পাওয়া যায়নি।

  • Dhruv Criticize Janhvi: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যা, জানভি কাপুরের পোস্টের পর ধ্রুব রাঠির প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক

    Dhruv Criticize Janhvi: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যা, জানভি কাপুরের পোস্টের পর ধ্রুব রাঠির প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করেছেন বলিউড অভিনেত্রী জানভি কাপুর (Dhruv Criticize Janhvi)। তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টের পরপরই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির একটি পাল্টা পোস্ট করেন। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জানভি কাপুর একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বাংলাদেশে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডকে “নৃশংস” বলে উল্লেখ করেন। তিনি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। হিংসার ঘটনায় বেছে বেছে প্রতিবাদ করার প্রবণতার সমালোচনা করেন জানভি।

    অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হিন্দুরা

    সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রতিদিনই অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে হিন্দুদের। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। নীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত জনতা তাঁকে আক্রমণ করে। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। এই ঘটনাকে নিষ্ঠুর, নৃশংস এবং অমানবিক অ্যাখ্যা দেন জানভি। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল যে ভৌগোলিক অবস্থান বা মতাদর্শ নির্বিশেষে সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধেই সমানভাবে প্রতিবাদ হওয়া উচিত।

    জানভি কাপুরকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট

    এই ঘটনার দিকে জানভি কাপুর দৃষ্টি আকর্ষণ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্রুব রাঠি তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে “ডার্ক সাইড অফ বিউটি” শিরোনামের একটি ইউটিউব ভিডিও প্রচার করেন। যার থাম্বনেইলে জানভি কাপুরের ছবি ব্যবহার করা হয়। পোস্টের সময় নির্বাচন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। নেটিজেনদের একাংশের অভিযোগ, জানভি কাপুরের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নিন্দাকে আড়াল করতেই ধ্রুব রাঠি ওই ভিডিওটি প্রচার করেছেন। যদিও ধ্রুব রাঠি নিজে এই হত্যাকাণ্ড বা বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মহল পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।

  • Tarique Rahman: ১৭ বছর পর দেশে খালেদার পুত্র তারেক রহমান, জানেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব

    Tarique Rahman: ১৭ বছর পর দেশে খালেদার পুত্র তারেক রহমান, জানেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান (Tarique Rahman)। দীর্ঘদিন লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বরণ করে নিতে জড়ো হয়েছেন হাজারো বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক। বিমানবন্দর সড়ক থেকে বনানী পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে পদযাত্রা করেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক ও নির্ধারণী মুহূর্ত।”

    ২০০৮–২০২৫: নির্বাসনের জীবন

    ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে দেশ ছাড়ার পর থেকে তারেক রহমান (Tarique Rahman) লন্ডনে ছিলেন। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং বিদেশ থেকেই দল পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে ‘হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালট্যান্টস লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি পিআর ও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশে মানি লন্ডারিংসহ একাধিক মামলা ছিল, এমনকি শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে ২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর সব মামলা থেকে তিনি খালাস পান, ফলে তাঁর দেশে ফেরার আইনি বাধা দূর হয়।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাবর্তনের সময়

    তারেক রহমানের (Tarique Rahman) দেশে ফেরা এমন এক সময়ে হলো, যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদায় নিয়েছেন এবং নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তবে, ইউনূসের আমলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (IRI) ডিসেম্বরের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান—যিনি তারেক জিয়া নামেও পরিচিত—বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং তাঁকে দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ব্যক্তিগত কারণও বড় ভূমিকা

    দলীয় সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমানের (Tarique Rahman) দেশে ফেরার পেছনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি তার মায়ের শারীরিক অসুস্থতাও বড় কারণ। বেগম খালেদা জিয়া কয়েক মাস ধরে গুরুতর অসুস্থ। শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলন থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এনসিপির মুখপাত্র খান মুহাম্মদ মুরসালিন বলেন, “চাপ ও হুমকির মুখে তারেক রহমানকে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল। তার প্রত্যাবর্তন প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের পথে আমরা তাঁর সঙ্গে থাকব।”

  • Osman Hadi Killed: হাদি হত্যার রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন মৃতের ভাই ওমর

    Osman Hadi Killed: হাদি হত্যার রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন মৃতের ভাই ওমর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই ভরদুপুরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করা হয় বাংলাদেশি ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদিকে (Osman Hadi Killed)। এর পর সিঙ্গাপুর হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুর কয়েক দিন পর তাঁর ভাইয়ের অভিযোগ, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের একটি গোষ্ঠী আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিল (Yunus Regime)।

    হাদিকে খুব কাছ থেকে গুলি (Osman Hadi Killed)

    ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় তাঁর। হাদির হত্যাকাণ্ডের জেরে ফের হিংসা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে বাংলাদেশে। উত্তেজিত জনতা একাধিক প্রথম শ্রেণির সংবাদপত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা চালায়। হাদির ভাই শরিফ ওমর হাদি ঢাকার শাহবাগে এক প্রতিবাদ সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন। তিনি বলেন, “আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন। আর এখন এই ঘটনাকে ইস্যু করে নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছেন!”

    ওমরের অভিযোগ

    ওমর বলেন, “ওসমান চেয়েছিলেন ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্বাচনী পরিবেশে কোনও ধরনের বিঘ্ন ঘটতে দেওয়া যাবে না।” তিনি বলেন, “খুনিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি তদন্তের ফল আমাদের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। যদি ওসমান হাদির মৃত্যুর ন্যায়বিচার না হয়, তাহলে আপনাকেও (ইউনূসকে) একদিন বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হবে।” ওমরের অভিযোগ, তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ তিনি কোনও সংস্থা বা কোনও বিদেশি প্রভুর কাছে মাথা নত করেননি (Osman Hadi Killed)।

    ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের দাবি করেন, ওসমানের হত্যাকাণ্ড জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের লক্ষ্যে করা একটি ‘গভীর ষড়যন্ত্রে’র অংশ। তাঁর অভিযোগ, দেশের ভেতরে সক্রিয় আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং ‘ফ্যাসিস্ট সহযোগীরা’ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। জাবের আরও দাবি করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের তদন্তের মাধ্যমে সরকার যেন খুনিদের জনসমক্ষে হাজির করে। অন্যথায়, তারা আন্দোলন আরও তীব্র করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বিক্ষোভকারীরা জানান, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন (Osman Hadi Killed)।

    ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা ২৫ ডিসেম্বর। তাঁরা কোনও কর্মসূচি পালন করবেন না। ওমরদের আশা, তারেক রহমান তাঁদের আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতি জানাবেন (Yunus Regime)।”

  • Hindu Minorities: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, কড়া প্রতিক্রিয়া আমেরিকা- রাশিয়া-কানাডার

    Hindu Minorities: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, কড়া প্রতিক্রিয়া আমেরিকা- রাশিয়া-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের (Hindu Minorities) ওপর নৃশংস অপরাধের ঘটনা। বর্তমানে পদ্মাপারের এই দেশের রাশ অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহম্মদ ইউনূস (Bangladesh)। তাঁর জমানায় এই জাতীয় ঘটনা কার্যত নির্বিঘ্নে চলতে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে অমানবিক কার্যকলাপের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনূস প্রশাসন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আইনপ্রণেতারা নিরপরাধ এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনির ঘটনার কড়া নিন্দে করেছেন। ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস ইউনূস সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান থেকে অঞ্চলটি বিচ্ছিন্ন করে ‘বাংলাদেশ’ নামের নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্য ভারত ও রাশিয়া যে ত্যাগ স্বীকার করেছিল, তা ভোলার নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই কঠোর স্মরণবার্তাগুলি বাংলাদেশের পক্ষে এক সতর্কবার্তাস্বরূপ। দেশটি বর্তমানে রাজনৈতিক হিংসা, গণপিটুনি, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও হত্যাকাণ্ড এবং উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত নানা চরমপন্থী নৃশংসতায় ক্রমাগত ডুবে যাচ্ছে।

    মার্কিন সাংসদের তোপ (Hindu Minorities)

    হিংসার এই ধারা ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা জেনিফার রাজকুমার। নিউইয়র্ক স্টেটের প্রতিনিধি ও নাগরিক অধিকার আইনজীবী জেনিফার বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ঘটে চলা এক ভয়াবহ লাগাতার হিংসার ইঙ্গিত দেয়।” বিশ্ববাসীর কাছে তাঁর আহ্বান, মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। জেনিফার বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু (Hindu Minorities) সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটে চলা হিংসার ঘটনায় আমি গভীরভাবে বিচলিত। সাম্প্রতিক সময়ে এর ভয়াবহ উদাহরণ হল বাংলাদেশি হিন্দু দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা। একটি জনতা তাঁকে মারধর করে, আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং তাঁর দেহ একটি হাইওয়েতে ফেলে রেখে গেল!” তিনি বলেন, “এই ঘটনা বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন (Bangladesh) ও লক্ষ্যভিত্তিক হিংসার এক উদ্বেগজনক ধারার অংশ। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর ২ হাজার ৪৪২টি হিংসা ঘটনা ঘটেছে এবং ১৫০টিরও বেশি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে।” জেনিফার বলেন, “বিশ্বের উচিত বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। বাংলাদেশের হিন্দুদের যে ভয়, যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা আমাদেরও ভাগ করে নিতে হবে।”

    কানাডার নিশানায় বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর লাগাতার নৃশসংতার সমালোচনা করেছেন কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ শুভ মজুমদারও। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো ‘পগরোম’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।” বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে হিন্দুদের  (Hindu Minorities) বিরুদ্ধে সংঘটিত সব লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও জঘন্য অপরাধের জন্য জবাবদিহিও দাবি করেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে শুভ লেখেন, “এমন সময়ে আমাদের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-সহ সব সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে পগরোম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাতে হবে এবং ইউনূস সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি বলেন, “মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার পক্ষে আমাদের নিরলসভাবে কথা বলতেই হবে। এতে চরমপন্থাকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের নামে যারা যুক্তি দেখায়, বাস্তবতা তুলে ধরতে ব্যর্থ গণমাধ্যমের কিছু অংশ এবং হিংসা ও ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে না পেরে সমতুল্যতার মোহে আচ্ছন্ন রাষ্ট্রসংঘ যতই অস্বস্তিতে পড়ুক না কেন, তা আমাদের করতেই হবে।”

    বাংলাদেশে শেকড় গেড়েছে ধর্মীয় চরমপন্থা

    এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে (Bangladesh) যে ধর্মীয় চরমপন্থা শেকড় গেড়েছে, তাকেই কটাক্ষ করেন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের অগাস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার হিংসার ঘটনা ঘটেছে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।” কানাডার সাংসদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যখন একদিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার নিন্দা করছে এবং গ্রেফতারির কথা ঘোষণা করছে, তখনও নিপীড়নের এই ধারাবাহিকতা থামেনি। স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে উগ্রপন্থী শক্তিগুলি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” সংখ্যালঘুদের ওপর অপরাধ বন্ধে এবং তাঁদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কড়া সমালোচনাও(Hindu Minorities) করেন তিনি।

    সরব কানাডার আরও এক সাংসদও

    কানাডার আর এক সাংসদ মেলিসা ল্যান্টসম্যানও বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুরা ক্রমবর্ধমান হিংসার শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গণহামলা, যৌন নির্যাতন, মন্দির ধ্বংস এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি।” তিনি জানান, ২০২৪ সালেই বাংলাদেশে হিন্দুদের লক্ষ্য করে ২০০০-এরও বেশি সহিংস ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। মেলিসা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “সময় থাকতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।”

    রুশ হাই কমিশনের কড়া বার্তা

    বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত রুশ হাই কমিশনও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের হাত থেকে বাংলাদেশের মুক্তিতে ভারতের ভূমিকা ও গুরুত্বের কথা বাংলাদেশকে কড়া ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন বলেন, “১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে ভারত ও রাশিয়ার ত্যাগের ফলেই বাংলাদেশের(Bangladesh) জন্ম হয়েছে। তাই ঢাকা যেন দেরি না করে নয়াদিল্লির সঙ্গে উত্তেজনা কমায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারত ও রাশিয়ার ভূমিকার কথা কখনও ভুলে না যায় (Hindu Minorities)।”

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে বাংলাদেশকে সতর্কবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনি অন্যদিকে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে যে নিত্য হিংসার ঘটনা ঘটছে, তার যে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে রুশ রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে জড়িয়ে পড়া উত্তেজনা দ্রুত কমানোর আহ্বান জানান। রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, “১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারত, বাংলাদেশ(Bangladesh) ও রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল। সাম্প্রতিক উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমাতে হবে। কারণ তা ভারত বা বাংলাদেশ, কোনও দেশেরই স্বার্থে নয় (Hindu Minorities)।”

  • Sheikh Hasina: হিন্দু হত্যা, মিডিয়া অফিসে আগুন, বাংলাদেশের অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: হিন্দু হত্যা, মিডিয়া অফিসে আগুন, বাংলাদেশের অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কট্টরপন্থী ভারতবিরোধী যুবনেতা ওসমান হাদির মৃত্যু এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন শেখ হাসিনা। এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, যে আইনহীন পরিস্থিতি আমার সরকারকে উৎখাত করেছিল, তা ইউনুসের অধীনে আরও বেড়েছে। সহিংসতা এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর অন্তর্বর্তী সরকার হয় তা অস্বীকার করছে, নয়তো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এর ফলে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নয়, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গেও সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

    উনুস মন্ত্রিসভায় চরমপন্থীদের স্থান দিয়েছেন

    শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ইউনুসের শাসনে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উগ্র ইসলামপন্থা ও চরমপন্থী শক্তির কবলে পড়ছে। তাঁর দাবি, “ইউনুস মন্ত্রিসভায় চরমপন্থীদের স্থান দিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের মুক্তি দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিকে প্রকাশ্য জীবনে ভূমিকা নিতে দিয়েছেন। আমার আশঙ্কা, চরমপন্থীরা তাঁকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য মুখ দেখাচ্ছে, আর আড়ালে প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধীরে ধীরে উগ্রপন্থী করে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত এই বিশৃঙ্খলা, সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন এবং আমরা একসঙ্গে যা গড়ে তুলেছিলাম তার ক্ষয় লক্ষ্য করছে। যখন একটি দেশ নিজের সীমানার ভেতর ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারে না, তখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।” হাসিনার কথায়, “এটি শুধু ভারতের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী সব দেশের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের রাজনীতির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ছিল আমাদের অন্যতম শক্তি, যা কয়েকজন উগ্রবাদীর খেয়ালে বিসর্জন দেওয়া যায় না।”

    কেন বাংলাদেশে ভারত বিরোধী হাওয়া চলছে?

    ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির জন্য ফের একবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকেই দায়ী করলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “ইউনূস সরকার যে চরমপন্থীদের বাংলাদেশে বেড়ে উঠতে দিচ্ছেন, তাদের জন্যই এই দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরাই সেই চরমপন্থী যারা ভারতীয় দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের অফিস জ্বালিয়েছে, সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করেছে। এরাই আমাকে এবং আমার পরিবারকে প্রাণ হাতে নিয়ে পালাতে বাধ্য করেছে। ফলে ভারত নিজেদের প্রতিনিধিদের নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে, এটাই স্বাভাবিক। আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, দায়িত্ববান সরকার হলে কূটনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিত, তবে ইউনূস নৈরাজ্যবাদীদের আরও বেশি করে ছাড় দিচ্ছেন। এমনকী তাদের যোদ্ধা হিসেবে তকমা দিচ্ছেন।” প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “ইউনূস প্রশাসন ভারতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বিবৃতি জারি করে। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ওরা ব্যর্থ। বিদেশনীতি পরিচালনা করছে চরমপন্থীরা। এরপর যখন অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে তখন মাথাব্যথা হয়। দশকের পর দশক ভারত এবং বাংলাদেশে একে অপরের বন্ধু রাষ্ট্র। আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অনেক গভীর। ফলে কোনও অস্থায়ী সরকারের কারণে তা নষ্ট হতে পারে না। আমি আশাবাদী, বাংলাদেশে স্থায়ী গণতান্তান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক আবারও দৃঢ় হবে। এই সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস।”

     

     

     

  • Dipu Chandra Das: মিথ্যে অভিযোগে খুন বাংলাদেশের দীপুকে, কী বলছে তাঁর পরিবার?

    Dipu Chandra Das: মিথ্যে অভিযোগে খুন বাংলাদেশের দীপুকে, কী বলছে তাঁর পরিবার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি পেশায় ছিলেন ঢাকার (Bangladesh) পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরির এক অতি সাধারণ কর্মী। ধর্মে হিন্দু। বছর পঁচিশের এই দীপু চন্দ্র দাসের (Dipu Chandra Das) রোজগারেই চলত দাসেদের সংসার। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে খুন করে দীপুকে। ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাংলাদেশিদের একাংশ। বিশ্বজুড়ে বইছে নিন্দের ঝড়।

    তুমুল উত্তেজনা (Dipu Chandra Das)

    বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগটি কারখানার ভেতরে এবং আশপাশের এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যার জেরে ছড়ায় তুমুল উত্তেজনা। পরে ক্ষুব্ধ জনতা দীপুকে আক্রমণ করে। মারধর করে নির্মমভাবে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। ভালুকা মডেল থানার তদন্তকারী আধিকারিক আবদুল মালেক জানান, হত্যার পর জনতা ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়কের পাশে দীপুর মরদেহ ফেলে দিয়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর ফলে সড়কের দু’পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবারের ঘটনার নিন্দে করেছে মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নতুন বাংলাদেশের মধ্যে এই ধরনের হিংসার কোনও জায়গা নেই। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

    রবিলাল দাসের বক্তব্য

    দীপুর বাবা রবিলাল দাস জানান, তাঁর পরিবার প্রথম ঘটনাটির কথা জানতে পারেন (Bangladesh) সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তিনি বলেন, “আমরা ফেসবুকে দেখেছিলাম। ফেসবুক থেকেই নানা কথা কানে আসতে শুরু করে। তারপর আরও মানুষ বলতে থাকে। শেষে একজন এসে আমায় বলল, আমার ভাইকে মারধর করা হয়েছে, ভীষণভাবে মারা হয়েছে (Dipu Chandra Das)। তারপর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে আমার কাকা এসে জানাল যে ওরা আমার ছেলেকে নিয়ে গিয়েছে। তাকে একটি গাছে বেঁধে রেখেছে।” তিনি জানান, এরপর সেই জনতা তাঁর ছেলের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তার পোড়া দেহ বাইরে ফেলে রাখা হয়েছিল। পোড়া ধড় আর মাথা একসঙ্গে বেঁধে বাইরে রাখা হয়েছিল। দৃশ্যটা যে কী নৃশংস, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কথাগুলি বলেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন সদ্য সন্তান হারানো বাবা। পরে নিজেকে খানিক সামলে নিয়ে রবিলাল জানান, এখনও পর্যন্ত তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আশ্বাস পাননি। তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কোনওরকম আশ্বাস দেয়নি। কেউ কিছুই বলেওনি (Dipu Chandra Das)।”

    গ্রেফতার ৭

    এদিকে, দীপুকে নৃশংসভাবে মারধর ও খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র‍্যাব (র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) গ্রেফতার করেছে (Bangladesh) সাতজনকে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় র‍্যাব-১৪ পরিচালিত একাধিক অভিযানের পর এদের গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হল মহম্মদ লিমন সরকার, মহম্মদ তারেক হোসেন, মহম্মদ মানিক মিঞা, এরশাদ আলি, নিজুমউদ্দিন, মহম্মদ আলমগির হোসেন এবং মহম্মদ মিরাজ হোসেন আকন। বিশিষ্ট লেখিকা তথা মানবাধিকার কর্মী তসলিমা নাসরিনের অভিযোগ, দীপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যে ধর্ম অবমাননার মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল এবং পুলিশের হেফাজতে থাকার পরেও তাঁকে কার্যত ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

    তসলিমার বক্তব্য

    এক্স হ্যান্ডেলে তসলিমা লেখেন, দীপু চন্দ্র দাস ছিলেন একজন দরিদ্র শ্রমিক। তাঁর এক মুসলিম সহকর্মী তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দীপুকে শাস্তি দিতে চেয়ে প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে নবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য (Bangladesh) করার মিথ্যে অভিযোগ তোলে (Dipu Chandra Das)। যার জেরে শুরু হয় উন্মত্ত জনতার হিংসা। এতেই সব শেষ হয়ে যায়।” তাঁর অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতা দীপুর ওপর হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে তাঁকে মারধর করে। পরে পুলিশ দীপুকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং তাঁকে পুলিশি সুরক্ষায় রাখা হয়। দীপুর পরিবারের অবস্থার কথা তুলে ধরে তসলিমা জানান, দীপু ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তিনি তাঁর প্রতিবন্ধী বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ করতেন।

    অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ইতিহাস ত্যাগকে স্মরণ করে। কিন্তু আজ যে মাটি একদিন ভারতীয়দের রক্তের বিনিময়ে মুক্ত হয়েছিল, সেই মাটিই এখন নিরীহ সংখ্যালঘুদের রক্তে কলুষিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালে আমাদের ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।” তিনি বলেন, “আমাদের বীর সৈনিকরা শুধু একটি যুদ্ধ লড়েননি, তাঁরা আজকের বাংলাদেশ নামে পরিচিত ভূখণ্ডের লাখ লাখ মানুষের পরিচয় ও মর্যাদার জন্য লড়াই করেছিলেন। বাংলাদেশের জন্ম নিশ্চিত করতে প্রায় ৩,৯০০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ বলি দিয়েছিলেন (Bangladesh)। জখম হয়েছিলেন ১০ হাজারেরও বেশি সৈনিক। অন্যরা যাতে শান্তিতে বাঁচতে পারে, তাই আমরা আমাদের জীবন দিয়েছিলাম (Dipu Chandra Das)।”

  • Bangladesh: হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ইউনূসের বাংলাদেশে! ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ বিজেপির

    Bangladesh: হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ইউনূসের বাংলাদেশে! ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু যুবককে (Hindu Youth Brutally Murder) খুন করে কার্যত গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে বীভৎস ভাবে পুড়িয়ে হত্যার ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে বিজেপি। ভারত বিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর রীতিমতো গোটা দেশে উত্তাল হয়ে উঠেছে। পদ্মাপারের সোনার বাংলা এখন রক্তাক্ত বাংলায় পরিণত হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন দেশে এখন গৃহযুদ্ধ লেগেছে। ঢাকা থেকে হিংসার আগুন এখন জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। টার্গেট করা হচ্ছে সংখ্যালঘু হিন্দু এবং সাংবাদিকদের। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশন ফেবুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করেছে। তাই হাসিনাকে টার্গেট করে অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগী দলগুলি এবং কট্টর মৌলবাদী সংগঠনগুলি ভারত বিরোধিতার সুর চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে। তাই হিংসার ঘটনা বেলাগাম ভাবে পরিকল্পনা করে ঘটানো হচ্ছে। মহম্মদ ইউনূস আইন শৃঙ্খলাকে ইচ্ছে করেই বেলাগাম করেছেন, এমনটাই মনে করছে বিজেপি।

    কট্টর মৌলবাদের দাপাদাপি (Bangladesh)

    সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বাংলাদেশের (Bangladesh) একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইসলাম ধর্মের অবমাননার অভিযোগে ময়মনসিংহে এক হিন্দু ধর্মের যুবককে পিটিয়ে প্রথমে নৃশংস ভাবে হত্যা (Hindu Youth Brutally Murder) করা হয়। এরপর মৃতদেহকে গাছের ডালে ঝুলিয়ে পাশবিক ভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই নির্মম হত্যার পিছনে স্থানীয় উন্মত্ত জনতার প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভালুকা থানার ডিউটি অফিসার রিপন মিয়া। এই অমানবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আবার উপস্থিত জনতা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালও করেছে। ফলে কট্টরপন্থীদের সাফ বার্তা, এটা কোনও সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়, তার ভয়াবহতা এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে গোটা বিশ্বের কাছে বার্তা দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন রাজনীতির একাংশের মানুষ। লক্ষ্য একটাই হিন্দুদের উপর হত্যালীলা যত বাড়বে কট্টর মৌলবাদ তত সুনিশ্চিত ভাবে নতুন নির্বাচিত সরকারে প্রতিষ্ঠা পাবে। আর তাই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড!

    মৃত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস

    এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি আইটি সেলের নেতা অমিত মালব্য। বাংলাদেশে শান্তিতে নোবেল পাওয়া মহম্মদ ইউনূসের রাজত্বে হিন্দু যুবকদের জীবন কতটা বিপজ্জনক, তা খুব স্পষ্ট করে বলেন। তিনি এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে বলেন, “মৃত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস (Hindu Youth Brutally Murder)। তিনি একটি পোশাকের করখানায় কাজ করতেন।” তবে এখন হাসিনা (Bangladesh) এবং ভারত বিরোধী উন্মত্ত জনতার রোষের শিকার শুধু একজন হিন্দু যুবকই হননি। কট্টর মৌলবাদীদের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বহু মুক্তমনা সাংবাদিকেরাও। প্রথম আলো, দ্যা ডেইলি স্টার সংবাদ মাধ্যমকের অফিস কার্যত তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। কোনও ক্রমে পালিয়ে বেঁচেছেন মহিলা সাংবাদিকরা। পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ রূপ নেয় যে শুক্রবারের সংস্করণও প্রকাশিত হয়নি। কার্যত সবটা মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন এক বদ্ধভূমিতে পরিণত হয়েছে কট্টরপন্থীদের দৌরাত্মে।

    ভোটে জিততেই কি হত্যাকাণ্ড?

    বাংলাদেশে (Bangladesh) সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট একদিনে হবে এই কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। ঠিক তার পরে পরেই দেশে চরম অশান্তির বাতাবরণের পরিস্থিতি। তবে মূল সূত্রপাত অবশ্য হয়েছে গত ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট। যেদিন কট্টরপন্থীরা গণভবন দখল করেছিল। হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। মহম্মদ ইউনূস এই সব কিছুর মাস্টার মাইন্ডদের কথা বারবার প্রকাশ্যে বলেছেন। আইএসআই, সিএমএম এবং সিআইএ-এর প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। কট্টর ভারত বিরোধী নেতা হাদি নির্বাচনী প্রচারে নানা ভাবে উস্কানি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল আওয়ামিলীগের। গত ১২ ডিসেম্বর ই-রিকশাতে চেপে যাচ্ছিলেন। আচমকা সেই সময় দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতলে এরপর সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয় তাঁর। এরপর নেমে পড়ে কট্টরপন্থীরা। বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয় হামলা, অগ্নি সংযোগ এবং হত্যাকাণ্ড। শুক্রবারও তাণ্ডবের ধারা অব্যাহত ঢাকাজুড়ে।

    গৃহযুদ্ধ

    অপরদিকে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে (Bangladesh) এখন গৃহযুদ্ধ চলছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চর্চার পীঠস্থান ছায়ানটে দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছে। সব কিছুকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। ‘নাড়ায়ে তাকবির আল্লা হো আকবর’ স্লোগান দিয়ে একের পর এক ভবনে ভাঙচুর চলছে।” যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস মুখে ‘প্রথম আলো’ বা ‘দ্যা ডেইলি স্টার’ সংবাদ মাধ্যমের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু দেশের আইন শৃঙ্খলা যে তালানিতে ঠেকেছে তা দেখতে পাচ্ছেন না। মুখে তা নিয়ে অবশ্য কোনও রা নেই। একই ভাবে লাগাতার ভারতীয় উপ-হাইকমিশনারের অফিসে লাগাতার হামলার ঘটনায় সতর্ক বাণীও বলতে শোনা যায়নি। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত পদ্মার জল এখন কোন পথে গড়ায় তাই এখন দেখার।

  • Bangladesh: কট্টরপন্থী হাদির মৃত্যুর পর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, হামলা ভারতীয় উপদূতাবাসেও! আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে চুপ ইউনূস

    Bangladesh: কট্টরপন্থী হাদির মৃত্যুর পর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, হামলা ভারতীয় উপদূতাবাসেও! আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে চুপ ইউনূস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তিতে নোবেল পাওয়া মহম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশ (Bangladesh) এখন ফের অশান্ত। দেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি (Osman Hadis Death) প্রায়াত। এই কট্টরপন্থী নেতা ভারত-বিরোধী হিসেবে বেশ কুখ্যত ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীর গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছিলেন। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুর পর পরই উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকার শাহবাগ সহ জায়গায় জায়গায় অশান্তি এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে। দেশের একাধিক ভারতীয় উপদূতাবাসে হামলা করার অভিযোগও উঠেছে। ইতিমধ্যে রাজপথে নামানো হয়েছে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারত বিরোধী জনতার রোষ সামাল দিতে আসরে নেমেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। ওই দেশে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে ইউনূস বলেন, “দেশের জনগণকে আমি ধৈর্য ধরতে বলব। হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।”

    শৃঙ্খলা নিয়ে মুখ খোলেননি ইউনূস (Bangladesh)

    হাদির মৃত্যর খবর জানাজানি হতেই গোটা বাংলাদেশে (Bangladesh) দাবানলের মতো আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আক্রশের মূল টার্গেট ভারত। তাই ঢাকা সহ একাধিক শহরে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। উন্মত্ত জনতা আগুন লাগিয়ে দেয় প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যম ‘প্রথম আলো’, ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর অফিসে। রোষ আবারও আছড়ে পড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে। সেখানেও আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়। দেশের আইন শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থায় নিরুপায় হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস রাত ১১টা ১৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, “শনিবার দেশের সব সরকারি, সরকারের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি এবং বেসরকারি ভবন, বিদেশে বাংলাদেশ হাইকমিশনের অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই ভাবে শুক্রবার দেশের প্রত্যেক মসজিদ থেকে ওসমানের জন্য শোক প্রকাশ করা হবে। শনিবার দিনভর রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। ওসমানের স্ত্রী এবং সন্তানদের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।” তবে আইন শৃঙ্খলা নিয়ে মুখ খোলেননি ইউনূস। ভারত বিরোধী আন্দলন নিয়ে মুখ খোলেননি। শুক্রবার সন্ধ্যে বেলায় হাদির দেহ সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে ফেরানো হবে। তবে দেহ ফেরার পর পরিস্থিতি আরও উত্তাল হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

    রাজশাহীতে মজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর

    বিবিসির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গিয়েছে, হাদির মৃত্যুর পরেই উন্মত্ত জনতা ঢাকার (Bangladesh) সংবাদ মাধ্যমকে টার্গেট করে। প্রথম আলো, দ্য ডেলি স্টার –এর মতো সংবাদ মাধ্যমের অফিসে জোর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে চালানো হয় বিরাট ভাঙচুর। অফিসের ভিতরে আটকে থাকা সাংবাদিকদের উদ্ধার করা হয়। অবশ্য আটকে থাকা সাংবাদিকরা জানান, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সব জেনে শুনেই চুপ ছিলেন। পুলিশ কোনও রকম ভাবেই সহযোগিতা করেনি। আইন শৃঙ্খলা এখন চরম অবনিতে পরিণত হয়েছে। অপর দিকে খুলনায় এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। আবার ময়মনসিংহ জেলার এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই ভাবে রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু মজিবুর রহমানের একটি বাড়ি এবং আওয়ামি লিগের দফতরে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীদের আগ্রাসন থেকে রেহাই পায়নি দেশের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। রাতভর ছায়ানট ভবনে তাণ্ডব ও লুটপাট চলেছে। আগুনও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আছড়ে ভাঙা হয়েছে হারমোনিয়াম।

    বেশির ভাগ বিক্ষোভ দেখানো হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের বিরুদ্ধে। ভারতের বিরোধিতা করে দেওয়া হয় ভারত-বিরোধী নানা হিংসাত্মক স্লোগান। কট্টরপন্থীরা বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় ভারতীয় সহকারী-হাইকমিশনারের বাসভবন  লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট, পাটকেল। রাতেই দূতাবাসের সামনে উন্মত্ত ছাত্র-যুবরা অবস্থান করে। দিকে দিকে ফের ভারতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে একদল। উল্লেখ্য গত ১৬ ডিসেম্বর ছিল বিজয় দিবস। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার এই বিজয় দিবসকে বিজয় দিবস হিসেবে মানতে নারাজ। এনসিপির এক নেতা প্রকাশ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭ রাজ্যকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ভারতও এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভোটের আগে ভারত-বিরোধী আবহ তৈরি করতে কট্টরপন্থীরা ব্যাপক প্রচেষ্টা করছেন। বাংলাদেশে এই অশান্তির দিকে নজর রাখছে ভারত।

    নির্বাচনকে ঘিরে হিংসা-হানাহানি

    ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে হাসিনাকে চক্রান্ত করে কোটা বিরোধী আন্দোলনের নামে বিতারিত করা হয়। এরপর থেকেই ক্ষমতা চলে যায় কট্টর মৌলবাদী এবং জেহাদি সংগঠনের হাতে। অন্তর্বর্তী সরকারের মাথায় বসেন মহম্মদ ইউনূস। পাকিস্তানের আইএসআই এবং সেনাবাহিনীর উচ্চপদ কর্তাদের শুরু হয় অবাদ যাতায়েত। ১৯৭১ সালের পর থেকে যে রাস্তায় বাংলাদেশ হাটেনি সেই রাস্তায় শুরু হয় নতুন যাত্রা। ঢাকা-ইসলামাবাদ, করাচি- চট্টগ্রামের মধ্যে শুরু হয় আকাশপথ এবং জলপথের মাধ্যমে যাতায়েত। পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট। সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয় ওইদেশের সংখ্যা লঘু হিন্দুরা। দেশের আইন শৃঙ্খলা এখন চরম অবনতিতে পরিণত হয়েছে। গত দেড় বছরের বেশি সময়ে মৌলবাদী কট্টর সংগঠনগুলি আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। তাই নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ভোট এবং প্রচারকে ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পারদ তত বেশি চড়ছে।

LinkedIn
Share