Tag: Bengal Polls 2026

  • Election Commission India: “সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ও কোনও রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকারে না”, মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ প্রিসাইডিং অফিসারদের

    Election Commission India: “সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ও কোনও রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকারে না”, মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ প্রিসাইডিং অফিসারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) অবাধ ও স্বচ্ছ করতে ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এবারের নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারদের জন্য ‘আন্ডারটেকিং’ বা অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা অতীতে সচরাচর দেখা যায়নি। এই নির্দেশিকা কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। হিংসামুক্ত, ভয়মুক্ত, অবাদ এবং শান্তিপূর্ণ করতে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

    অঙ্গীকারনামা গ্রহণ (Election Commission India) 

    কমিশন জানিয়েছে, ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগে ২০ মিনিট থেকে আধঘণ্টার একটি ট্রেনিং হবে। ট্রেনিংয়ের পর প্রিসাইডিং অফিসারদের অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। সব কাগজপত্র বুঝে নিয়েছেন কি না, যা প্রশিক্ষণ দরকার ছিল তা পেয়েছেন কিনা, সেটাই মুচলেকায় লিখে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্দেশিকায় আরও জানিয়েছে, প্রিসাইডিং অফিসারদের ডিউটি সংক্রান্ত নির্দেশ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। তারপর ব্রিফিং শেষে অফিসারদের একটি নির্দিষ্ট ফর্মে সই করতে হবে। ভোটগ্রহণ (West Bengal Elections 2026) শুরুর আগে প্রিসাইডিং অফিসারদের এই মর্মে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং কোনও রাজনৈতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে দায়িত্ব পালন করবেন।

    স্বচ্ছতা বজায় রাখা

    নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) বুথের ভেতর কোনও প্রকার অনিয়ম বা ছাপ্পা ভোটের ঘটনা ঘটলে, তার দায়ভার সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসারের ওপর বর্তাবে। এই অঙ্গীকারনামাটি মূলত আইনি রক্ষাকবচ এবং সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। এই মর্মে স্বচ্ছতা বজায় রেখে নির্বাচন করতে হবে। এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)।

    কমিশনের কড়া বার্তা

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) লক্ষ্য হলো ভোট প্রক্রিয়ায় বিন্দুমাত্র ত্রুটি বা পক্ষপাতের অবকাশ না রাখা। কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতেই এই প্রশাসনিক কড়াকড়ি। মূলত ভোটের ময়দানে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং ভোটকর্মীদের (West Bengal Elections 2026) দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই কমিশন এই প্রথা চালু করছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর নৈতিক ও আইনি চাপ উভয়ই বৃদ্ধি পাবে, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সহায়ক হতে পারে।

  • West Bengal Elections 2026: “গত ১৫ বছরে জনসম্পদ আত্মসাৎ ও লুটপাটে পিএইচডি করেছে তৃণমূল”, জনসভায় আক্রমণ মোদির

    West Bengal Elections 2026: “গত ১৫ বছরে জনসম্পদ আত্মসাৎ ও লুটপাটে পিএইচডি করেছে তৃণমূল”, জনসভায় আক্রমণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) প্রাক্কালে মেদিনীপুরের রাজনৈতিক জনসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়ে তিনি এক বিশেষ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে এই শাসনকালকে বিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস জনকল্যাণমূলক কাজের পরিবর্তে জনসম্পদ আত্মসাৎ এবং ‘লুটপাট’-এ এক প্রকার পিএইচডি অর্জন করেছে। তাই পরিবর্তন চাই বাংলায়।”

    একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ

    রাজ্যের নির্বাচনী (West Bengal Elections 2026) প্রচারে এসে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শিক্ষক নিয়োগ, মিড-ডে মিল, একশো দিনের কাজ (MGNREGA) এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ত্রাণ তহবিলের মতো একাধিক সংবেদনশীল বিষয়ে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, তৃণমূলের মূল আদর্শ মা-মাটি-মানুষ আজ তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত। তিনি দাবি করেন, এই সরকার বর্তমানে কেবল অনুপ্রবেশকারী এবং ভোটব্যাংক রক্ষার স্বার্থে কাজ করছে। তিনি সাফ কথায় বলেন, “তৃণমূলের এই নির্মম শাসনে স্কুল শিক্ষক নিয়োগে লুট হয়েছে। শিশুদের মিড-ডে মিলের টাকায় লুট। মনরেগার কাজে লুট। গরিবদের বাড়ির জন্য আসা টাকায় লুট। গ্রামের রাস্তা তৈরিতে লুট। সাইক্লোন ত্রাণের টাকায় লুট। ১৫ বছরে ওরা লুটপাটে পিএইচডি করে ফেলেছে।”

    রাজনৈতিক খুন, অনুপ্রবেশকারীদের বাড়বাড়ন্ত

    মেদিনীপুরের এই বিশাল সমাবেশ থেকে তিনি রাজ্যের যুবসমাজ ও মহিলাদের আশ্বস্ত করে নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির সাথে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং জনগণের লুণ্ঠিত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালকে ‘মহা জঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করেছেন মোদি। তিনি বলেন, “দাঙ্গা, রাজনৈতিক খুন, অনুপ্রবেশকারীদের বাড়বাড়ন্ত এবং মহিলাদের উপর অত্যাচার চরম সীমায়। মা, মাটি, মানুষ—তৃণমূল কাউকেই ছাড়েনি। আমি এবার দেখছি, বাংলার নির্বাচন বিজেপি লড়ছে না, বিজেপির প্রার্থী বা কর্মীরা লড়ছে না… এই নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) লড়ছে আমার বাংলার মানুষ… আর সেই কারণেই আজ তৃণমূলের গুন্ডারা ভয়ে কাঁপছে।”

    লুটেরাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

    মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের এই নির্বাচনী জনসভা (West Bengal Elections 2026) থেকে স্বচ্ছ প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন। মোদি (PM Modi) বলেন, “আমি আশ্বস্ত করতে চাই বিজেপি সবকা সাথ, সবকা বিকাশ-এর পথেই চলবে, কিন্তু আগ্রাসনকারী ও লুটেরাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি বাংলার যুবকদের আশ্বস্ত করতে চাই যে বিজেপি সরকার রোজগার মেলার মাধ্যমে ভাতা এবং নিয়োগপত্র দেবে। তবে, যারা হাজার হাজার যুবকের সঙ্গে অবিচার করেছে, তাদের ছাড়া হবে না। আমি সমস্ত তৃণমূলের গুন্ডা, সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের শেষ সুযোগ দিচ্ছি। ২৯ এপ্রিলের আগে নিকটতম থানায় আত্মসমর্পণ করুন। ৪ মে-র পর কাউকে ছাড়া হবে না। বিষ্ণুপুরের মাফিয়া এবং তৃণমূলের সিন্ডিকেট, মন দিয়ে শুনুন, এটা আর বরদাস্ত করা হবে না।”

  • PM Modi in Jhargram: “বিনা পয়সায় খাব না”, ঝাড়গ্রামে মোদির অন্য রূপ, শিশুদের সঙ্গে ঝালমুড়ি ভাগ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi in Jhargram: “বিনা পয়সায় খাব না”, ঝাড়গ্রামে মোদির অন্য রূপ, শিশুদের সঙ্গে ঝালমুড়ি ভাগ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এর আগে তাঁকে দেখা গিয়েছিল চায়ের দোকানে। এবার প্রচারের ফাঁকে ঝালমুড়ির দোকানে ঢুকে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মাত্র ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খোশমেজাজে খেতেও দেখা গেল তাঁকে। দোকান থেকে ঝালমুড়ি নিয়ে শুধু নিজেই খাননি, আশপাশে থাকা শিশুদেরও ভাগ করে দেন। কিছু সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে গল্পগুজব করে কাটান। তাঁকে সামনে পেয়ে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায়, বিশেষ করে স্থানীয় মহিলাদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি খেয়ে মোদি (PM Modi in Jhargram) যে খুশি, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান—একদিনে চারটি জনসভার মাঝেই এই ছোট্ট বিরতি ছিল তাঁর জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত।

    আপনার ঝালমুড়ি খাওয়ান!

    রবিবার একটি ভিডিওতেও দেখা যায়, ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের ফাঁকে ঝালুড়ির দোকানে ঢুকে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Jhargram) । তিনি বলেন, “ভাই, আমায় আপনার ঝালমুড়ি খাওয়ান।” দাম জিজ্ঞেস করলে দোকানদার জানান ১০ ও ২০ টাকার অপশন আছে। তখন তিনি নিজেই ১০ টাকার নোট এগিয়ে দেন। দোকানদার নিতে না চাইলে তিনি স্পষ্ট করে দেন—বিনা পয়সায় খাবেন না। ঝালমুড়ি মাখার সময় পেঁয়াজ খাবেন কিনা জানতে চাইলে হাস্যরসের সুরে উত্তর দেন, “হ্যাঁ, পেঁয়াজ খাই, শুধু মাথা খাই না।” এদিকে পিছন থেকে সমর্থকদের ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি শোনা যায়। ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে সভা শেষে ফেরার পথে কলেজ মোড়ের একটি দোকানের এই ছবি সবাইকে চমকে দেয়। দোকানদার বিক্রম সাউ জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নাম, পরিবার ও আয় সম্পর্কে জানতে চান এবং ঝালমুড়ি খেয়ে প্রশংসাও করেন।

    প্রতিটি সভাতেই তৃণমূলকে নিশানা

    পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে রবিবার একদিনে চারটি সভা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বাঁকুড়ার বড়জোড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার প্রতিটি সভাতেই তৃণমূলকে নিশানা করে মোদি (PM Modi in Jhargram) জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল মহিলাদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ, এবং আসন্ন নির্বাচনে মহিলারাই এর জবাব দেবেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ৷ তারা মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা চায় না ৷ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মহিলারা তৃণমূলকে যথোপযুক্ত শাস্তি দেবে ৷”

  • Suvendu Adhikari: ভুয়ো প্রেস কার্ড দিয়ে ছদ্মবেশী সাংবাদিকদের বুথে ঢোকানোর ছক তৃণমূল, আইপ্যাকের! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ভুয়ো প্রেস কার্ড দিয়ে ছদ্মবেশী সাংবাদিকদের বুথে ঢোকানোর ছক তৃণমূল, আইপ্যাকের! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, ভোটকেন্দ্রে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তৃণমূল কর্মীদের হাতে সুপরিকল্পিতভাবে ‘ভুয়ো’ প্রেস কার্ড বা সাংবাদিক পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে।

    বাহিনীর নজর এড়িয়ে স্পর্শকাতর বুথে ঢুকবে আইপ্যাক (Suvendu Adhikari)

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে দাবি করেছেন, “আইপ্যাক (I-PAC) সুসংগঠিতভাবে এমন ব্যক্তিদের সাংবাদিকের পরিচয়পত্র দিচ্ছে যারা প্রকৃতপক্ষে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত নন।” তাঁর আশঙ্কা, এই ‘ছদ্মবেশী সাংবাদিকরা’ প্রেস কার্ডের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজর এড়িয়ে বুথ এবং স্পর্শকাতর প্রশাসনিক দফতরে প্রবেশ করবে। সেখানে গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা বা ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপি করার মতো বেআইনি পরিকল্পনা রয়েছে শাসকদলের। তিনি একে তৃণমূলের একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল বা ‘প্লে-বুক স্ট্র্যাটেজি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    পরিচয়পত্র পুনরায় যাচাই

    এই বিষয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ECI) দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন। নতুন পরিচয়পত্রধারী সাংবাদিকদের গতিবিধির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো উচিত বলে দাবি করেছেন। শুধুমাত্র স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদেরই ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট পরিধির মধ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র পুনরায় যাচাই বা ‘সেকেন্ডারি ভেরিফিকেশন’-এর (I-PAC) ব্যবস্থা করার কথাও বলেন।

    শাসকদলের ওপর বাড়তি চাপ

    ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই ‘ভুয়ো প্রেস কার্ড’ ইস্যু রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের অন্যতম শীর্ষকর্তা ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি (I-PAC) এবং সংস্থার অন্যান্য আধিকারিকদের ইডি-র তলব নিয়ে ইতিমধ্যেই চাপানউতোর চলছে। এই আবহে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন এই অভিযোগ শাসকদলের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • Bengal Assembly Polls 2026: বিধাননগরের নতুন পুলিশ কমিশনার নিযুক্ত হলেন ত্রিপুরারি অথর্ব, ভোটের মুখে আবার বড় রদবদল

    Bengal Assembly Polls 2026: বিধাননগরের নতুন পুলিশ কমিশনার নিযুক্ত হলেন ত্রিপুরারি অথর্ব, ভোটের মুখে আবার বড় রদবদল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Assembly Polls 2026) প্রাক্কালে প্রশাসনিক রদবদলে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার পদ থেকে মুরলীধরকে সরিয়ে সেই স্থলাভিষিক্ত করা হল প্রবীণ আইপিএস আধিকারিক ত্রিপুরারি অথর্বকে। শনিবারই তাঁর নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করার কথা। অপরদিকে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের কারণে পাঁচ বিএলও-কে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। দায়ের করা হয়েছে এফআইআর।

    সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রদবদল (Bengal Assembly Polls 2026)

    নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজ্যের একাধিক স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে রদবদল শুরু করেছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মুরলীধরকে বিধাননগর থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে মুরলীধরকে অন্য রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁকে কমিশনার (Election Commission India) পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ত্রিপুরারি অথর্বকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হল।

    কে ত্রিপুরারি অথর্ব?

    আইপিএস ত্রিপুরারি অথর্ব পুলিশ মহলে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ আধিকারিক হিসেবে পরিচিত। বিধাননগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Assembly Polls 2026) দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বদলি কার্যকর করেছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলার ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে কমিশন এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি (Election Commission India) গ্রহণ করেছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই পরিবর্তন বিধাননগর এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ৫ বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ

    অপরদিকে নির্বাচন (Bengal Assembly Polls 2026) চলাকালীন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে সরাসরি প্রচার বা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে রাজ্যের পাঁচজন বুথ লেভেল অফিসারকে (BLO) সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, তাদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ ওঠে যে, সরকারি দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন বিএলও (BLO) সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। কারো বিরুদ্ধে দেওয়ালে চুনকাম করা বা দেওয়াল লিখনের অভিযোগ উঠেছে, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক সভায় উপস্থিত থেকে দলীয় পতাকা হাতে প্রচার করেছেন বলে জানা গেছে।

    অভিযুক্তদের নাম ও কাজের নমুনা

    উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রে অভিযুক্ত তিন বিএলও হলেন অভিজিৎ দে (পার্ট নম্বর ২৮১), তপন কুমার সাহা (পার্ট নম্বর ২৮২) এবং কুমারজিৎ দত্ত (পার্ট নম্বর ২০৫)। অভিযোগ, সরকারি দায়িত্ব ভুলে এঁরা তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে সক্রিয় প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। অপর দিকে দুবরাজপুরের ১১২ নম্বর পার্টের বিএলও মঞ্জুরি চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে ভোটার স্লিপ বিলি করছেন। একই ভাবে ময়ূরেশ্বরের এক বিএলও ভোটার স্লিপ বিলি করতে বেরোন সাইকেলে চেপে। এই সাইকেলে লাগানো ছিল তৃণমূলের দলীয় পতাকা। এই ঘটনায় দুই ক্ষেত্রে কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

    ফৌজদারি মামলা রুজু করার নির্দেশ

    নির্বাচনী আচরণবিধি (Bengal Assembly Polls 2026) লঙ্ঘনের এই অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করেছে কমিশন। প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ার পরেই পাঁচজন বিএলও-কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী (Election Commission India) হয়ে কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থে কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই বার্তাকে কঠোর করতে অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর (Bengal Assembly Polls 2026) দাবি, শাসকদল প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি কর্মীদের নিজেদের ভোটযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের আগে ভয় দেখাতেই কমিশন (Election Commission India) এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    প্রতিটি স্তরে কড়া নজরদারিতে ভোট করাবে কমিশন

    অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কমিশন যে বিন্দুমাত্র আপস করবে না, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা আবারও স্পষ্ট করে দেওয়া হলো। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন (Bengal Assembly Polls 2026) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে কড়া নজরদারি বজায় রাখতে কমিশন (Election Commission India) ইতিমধ্যেই একাধিক আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে বদলি বা অপসারণ করেছে।

  • West Bengal Elections 2026: বুথের ১০০ মিটারে চকের ‘লক্ষ্মণরেখা’ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে কড়া নজরদারি কমিশনের

    West Bengal Elections 2026: বুথের ১০০ মিটারে চকের ‘লক্ষ্মণরেখা’ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে কড়া নজরদারি কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ করতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকারে আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ভোটগ্রহণের দিন বুথের বাইরের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার ১০০ মিটারের একটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বলয় বা ‘লক্ষ্মণরেখা’ তৈরি করা হচ্ছে।

    বুথের ভেতর মোবাইল ফোনে না (West Bengal Elections 2026)

    কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের প্রবেশদ্বার থেকে ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের এলাকাকে ‘রেস্ট্রিক্টেড জোন’ বা নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এই সীমানার ভেতর ভোটার এবং অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। বুথের ভেতর মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের কর্মী যাতে জমায়েত করে ভোটারদের (Election Commission) প্রভাবিত করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

    প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ

    এবারের নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি স্পর্শকাতর বুথে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি ওয়েবকাস্টিং-এর ব্যবস্থা থাকছে। এই প্রথমবার কমিশন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনও বুথে নিয়মবহির্ভূত জমায়েত বা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গেলেই এআই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেবে। এর ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিশন।

    অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সুনিশ্চিত

    নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের (Election Commission) মতে, ভোটদানের প্রক্রিয়া চলাকালীন বুথ চত্বরকে সম্পূর্ণ এজেন্টমুক্ত ও নিরাপদ রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। ১০০ মিটারের এই গণ্ডি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সাধারণ ভোটারদের (West Bengal Elections 2026) মনে আস্থা জোগাবে এবং নির্ভয়ে ভোটদানে উৎসাহিত করবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এই নতুন বিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কমিশন।

    সমন্বিত নজরদারি ও প্রযুক্তির ব্যবহার

    কমিশন সূত্রে খবর, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার প্রতিটি বুথেই ‘ওয়েবকাস্টিং’-এর ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন কমিশনের আধিকারিকরা। সেইসঙ্গে নজরদারিতে কোনও ফাঁক না রাখতে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরাগুলোর নিয়ন্ত্রণও কমিশনের হাতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে এই ক্যামেরাগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হবে, যাতে কোনও গন্ডগোল বা অশান্তির খবর পাওয়া মাত্রই ফুটেজ খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    আরও ব্যবস্থা কমিশনের

    নিরাপত্তার পাশাপাশি ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে কমিশন বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন—

    মোবাইল রাখার সুব্যবস্থা

    • ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভোটারদের অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। এবার সেই অসুবিধা দূর করতে প্রতিটি বুথের বাইরে নিরাপদে মোবাইল ফোন জমা রাখার জন্য নির্দিষ্ট কাউন্টার বা জায়গার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

    পরিকাঠামো উন্নয়ন

    • বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের কথা বিবেচনা করে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে ভবনের নিচতলায় (Ground Floor) রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    মৌলিক পরিষেবা

    • প্রতিটি বুথে পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং পর্যাপ্ত পানীয় জলের সুনিশ্চিত ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

    কমিশনের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং এর ফলে নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় এবং ভোটার-বান্ধব এই উদ্যোগগুলো সচেতন মহলে বিশেষ ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

  • West Bengal Elections 2026: ট্রাইবুনালে পাস করে ভোটার তালিকায় নাম উঠলে কীভাবে জানবেন ভোটাররা, বলল নির্বাচন কমিশন

    West Bengal Elections 2026: ট্রাইবুনালে পাস করে ভোটার তালিকায় নাম উঠলে কীভাবে জানবেন ভোটাররা, বলল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাকে অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে। কমিশনের (Election Commission India) তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে যদি কোনও আইনি জটিলতা থাকে এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনাল যদি কোনও ব্যক্তিকে ভোট দেওয়ার অনুমতি প্রদান করে, তবে তিনি নির্বিঘ্নে নিজের ভোটাধিকার (West Bengal Elections 2026) প্রয়োগ করতে পারবেন।

    সিইও-র বক্তব্য

    রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘‘বিএলওদের দায়িত্ব রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। এছাড়া ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারবেন ভোটাররা, এছাড়া বিডিওর কাছেও সব তথ্য দেওয়া থাকবে। নির্বাচন কমিশনকে  সেতু বন্ধনের মতো একটা সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে যেখানে নামের নিষ্পত্তি হতেই ভোটারদের নাম তালিকায় যুক্ত হতে থাকবে।’’

    আদালতের নির্দেশনাকে অগ্রাধিকার (West Bengal Elections 2026)

    সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ বা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাইবুনালের রায়ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) জানিয়েছেন, যদি কোনও ভোটারের (West Bengal Elections 2026) নাম নিয়ে আপত্তি থাকে কিন্তু ট্রাইবুনাল তাকে ‘ক্লিয়ারেন্স’ বা ছাড়পত্র দিয়ে থাকে, তবে তাকে ভোটদান থেকে বিরত রাখা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে যাতে কোনও প্রকার বিভ্রান্তি না তৈরি হয়, সেইজন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এই বিষয়ে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মূলত আইনি লড়াইয়ে জয়ী বা ট্রাইবুনাল থেকে বৈধতা পাওয়া ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এটি যেমন আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তেমনি প্রকৃত ভোটারদের অধিকার রক্ষার একটি বলিষ্ঠ ধাপ। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা নতুন নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে অনেক সময় কৌতূহল ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও আইনি কাঠামো গঠন হয়েছে।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    ভোটার তালিকা সংশোধন করার প্রক্রিয়া একটি নিরবিচ্ছিন্ন কাজ হলেও, নির্বাচনের ঠিক আগে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার পর আর নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের পর ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলা বা কোনও বড় পরিবর্তন করা আইনত সম্ভব নয়।

    ভোটদানের অধিকার ও ট্রাইবুনাল

    যদি কোনও ব্যক্তির নাম নিয়ে ট্রাইবুনালে মামলা চলে এবং ট্রাইবুনাল তাকে বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে সেই নির্দেশের ভিত্তিতে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। আবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা (West Bengal Elections 2026) তৈরি করাই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। মৃত ব্যক্তি বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে একটি ত্রুটিমুক্ত তালিকা প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের তরফে সিইও মনোজ আগরওয়ালা  বলেন, “ট্রাইবুনাল স্বাধীনভাবে কাজ করছে, এরা নির্বাচন কমিশন (ECI) বা সিইও অফিসের অধীনে নয়। সুতরাং যতদিন না ড্যাশবোর্ড তৈরি হচ্ছে, তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করা যাবে না।’’

    কতজনের নিষ্পত্তি সম্ভব?

    সূত্রের তথ্য জানিয়েছে, রাজ্যে মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল কাজ করছে। ট্রাইবুনালগুলির মাথায় রয়েছেন ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতি। প্রতিদিন ১০টি করে আবেদন যাচাই করে পোর্টালে তুলছে। ১০টি নাম নিষ্পত্তি হলে, আরও ১০টি আবেদন জমা পড়ছে। যদি ধরেও নেওয়া হয় যে প্রতিদিন প্রত্যেক ট্রাইবুনাল ১০টি করে আবেদনের নিষ্পত্তি করছে, তাহলে একদিনে সংখ্যাটা হয় ১৯০। গত ১৩ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করেছে ট্রাইবুনাল। প্রথম দফার ক্ষেত্রে সময় রয়েছে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। এই ৯ দিনের মধ্য তিনদিন ছুটি। ছুটির দিন কোথাও কাজ হয়েছে, কোথাও হয়নি। ফলে ৯ দিনের প্রতিদিন ১৯০টি করে নিষ্পত্তি হলেও সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১,৭১০। সুতরাং কোনও অবস্থাতেই প্রথম দফার আগে দু হাজারের বেশি নামের নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেছে পরিসংখ্যান।  তাই ভোট কতজন দিতে পারবেন, সেই সংশয় রয়েই যাচ্ছে।

    কত নাম বাদ পড়েছে

    পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রথম প্রকাশ হওয়া চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ পরে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম। এরপর ৬০ লক্ষের কিছু বেশি নাম ছিল বিচারাধীন তালিকায়। মূলত তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে এই ৬০ লক্ষ নাম সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছিল। পরে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরনোর পর আরও ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে বাদ পড়া নামের সংখ্যা ৯০ লক্ষের বেশি।

  • Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    Shamik challenges Mamata: ‘পুরনো ভোটার লিস্টে ভোট করুন, তাও জিততে পারবেন না’, মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করালেও বাংলায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Shamik challenges Mamata)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদল স্পষ্ট। এসআইআর মামলায় সুপ্রিম নির্দেশের পর সাফ জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court) জানিয়েছে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যাঁদের ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সংবিধানের ১৪২তম অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রয়োগ করা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ভোটের ২ দিন আগে ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হলেও দেওয়া যাবে ভোট।

    মমতাকে চ্যালেঞ্জ শমীকের

    বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik challenges Mamata)। তাঁর সাফ কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ভোট করাতে চাইছেন সেভাবেই করুন। পুরোনো ভোটার তালিকা দিয়েই ভোট করুন। তাও চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। তৃণমূল চলে গিয়েছে। তৃণমূল শেষ।” এদিন কমিশনের বিরুদ্ধেও খানিক ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে শমীককে। বলেন, “আমরা এই প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নই। আমাদের ফর্ম ৭ এর শুনানি হয়নি। নির্বাচন কমিশন আমাদের কথা পুরো শোনেননি। আমাদের অভিযোগ, আমাদের অভিমান কমিশনের বিরুদ্ধে। কিন্তু একটা সাংবিধানিক সংস্থা। আমরা তাঁদের আধিকারিকদের প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি আমরা সন্তুষ্ট নই।”

    কী বলল দেশের শীর্ষ আদালত

    অবশেষে বাংলার এসআইআর মামলায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পরিষ্কার বলা হয়েছে, যে লক্ষ লক্ষ ভোটার, যাঁরা ট্রাইবুনালে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, এবং তাঁদের মধ্যে যাঁদের প্রথম দফার ভোট (২৩ এপ্রিল) রয়েছে, এবং ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মধ্যে যাঁদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং যাঁরা যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করবেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম ভোটার লিস্টে উঠবে। তার জন্য সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করতে হবে এবং ২৩ এপ্রিল তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে, দ্বিতীয় দফার ভোট হচ্ছে ২৯ এপ্রিল। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত, যাঁদের যাঁদের ভোটার লিস্টে নাম ওঠার জন্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, যাঁরা ট্রাইবুনালে পাশ করতে পারবেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। এই ২৭ এপ্রিল অবধি যাঁদের নাম উঠবে, তাঁদের জন্য আলাদা সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের করা হবে।

  • West Bengal Elections 2026: পুলিশের বদলি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ল মমতা সরকারের! কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল

    West Bengal Elections 2026: পুলিশের বদলি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ল মমতা সরকারের! কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন পুলিশ আধিকারিকদের বদলি সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে কোনও প্রকার হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্ট (West Bengal Elections 2026) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কোনও আইনি জটিলতা তৈরি করার প্রয়োজন নেই। ফলে রাজ্য সরকারের ফের আরেকবার মুখ পুড়ল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।

    কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল (West Bengal Elections 2026)

    নির্বাচন আবহে (West Bengal Elections 2026) রাজ্যের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ আধিকারিককে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যে আবেদন করা হয়েছিল, তাতে আদালত কোনও সাড়া দেয়নি। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টও কমিশনের এই প্রশাসনিক এক্তিয়ারের পক্ষেই মত দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সেই নির্দেশকেই কার্যকর রাখল।

    বঙ্গে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরই গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে ৪৬ জন অফিসার বদল করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবং এই আধিকারিকদের পুনর্বহালের দাবিতে জনস্বার্থ মামলা করেছিল মমতা সরকারের তরফে। পাশাপাশি বিডিও, আইসি এবং ওসি বদলি নিয়ে দায়ের হয় আর একটি মামলা। তবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দুটি খারিজ করে দেন। তাঁদের সাফ কথা, “নির্বাচন কমিশনের অফিসারদের বদলি করার সিদ্ধান্তকে ইচ্ছাকৃত, অযৌক্তিক বা দুরভিসন্ধিপূর্ণ বলে মনে করা যায় না। কারণ গোটা দেশে এমন অফিসার বদলির ঘটনা ঘটেছে একাধিক জায়গায়।”

    আইনি যুক্তি

    শীর্ষ আদালতের মতে, নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন যে কোনও আধিকারিককে বদলি বা নতুন করে নিয়োগের ক্ষমতা রাখে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর বিশেষ কোনও মৌলিক অধিকার খর্ব হয়নি বলেই মনে করছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আধিপত্য আরও একবার আইনি শিলমোহর পেল। রাজ্যের বর্তমান নির্বাচনী আবহে কমিশনের নেওয়া বদলি সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা এই রায়ের ফলে পুরোপুরি দূর হয়েছে। এখন থেকে কমিশন (Supreme Court) তার নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক রদবদল চালিয়ে যেতে পারবে। তবে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট কথা নির্বাচন অবাদ এবং শান্তিপূর্ণ করতে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

  • Income Tax Raid: ইডির পর এবার আয়কর হানা দেবাশিস কুমারের বাড়ি, দফতরে, ভোটের মুখে বিপাকে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী

    Income Tax Raid: ইডির পর এবার আয়কর হানা দেবাশিস কুমারের বাড়ি, দফতরে, ভোটের মুখে বিপাকে রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (Enforcement Directorate) পর এবার আয়কর দফতর। ভোটের মুখে আরও বিপাকে দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমার (TMC MLA Debasish Kumar)। শুক্রবার ভোরেই দক্ষিণ কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে শাসক দলের বিদায়ী বিধায়ক তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র-ইন-কাউন্সিল (MMIC) সদস্য দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে একযোগে এই তল্লাশি চালায় আয়কর দফতর (Income Tax Raid)।

    ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় রাসবিহারীতে ভোটগ্রহণ

    জানা গিয়েছে, আয়কর দফতরের দুটি দল কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)-এর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে সকাল প্রায় ৬টা থেকে ৬টা ৩০-এর মধ্যে হাজির হয় মনোহরপুকুর রোডে অবস্থিত কুমারের বাসভবন এবং তাঁর নির্বাচনী ক্যাম্প অফিসে। এরপরই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। দেবাশিস কুমার বর্তমানে রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ওই কেন্দ্র থেকেই পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে নেমেছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় রাসবিহারীতে ভোটগ্রহণ হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। এই কেন্দ্রে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছে বিজেপি, যাঁর নাম স্বপন দাশগুপ্ত। এদিকে, তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেবাশিস কুমারের বাড়ির সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল সমর্থকরা সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।

    বেআইনি জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় অভিযান

    প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, একটি বেআইনি জমি দখল সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আগে একই মামলায় একাধিকবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) দেবাশিস কুমারকে তলব করেছিল। গত ১, ৩ এবং ৯ এপ্রিল সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় এবং তিনি প্রতিবারই হাজিরা দেন। তদন্তকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে, ব্যবসায়ী অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেবাশিস কুমারের কোনও আর্থিক লেনদেন ছিল কি না। উল্লেখ্য, ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।

    শহরের অন্য প্রান্তে সক্রিয় ইডি

    একদিকে যেমন দেবাশিস কুমারের বাড়ি-দফতরে আয়কর তল্লাশি চলছে, ঠিক একই সময়ে শহরের অন্য প্রান্তে চলছে ইডি অভিযান। শুক্রবার সকালে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে ইডির একাধিক দল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এরপর তারা নির্দিষ্ট একটি নির্মাণকারী সংস্থার একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায়। সূত্রের খবর, আর্থিক তছরুপের মামলাকে কেন্দ্র করেই এই অভিযান। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং দফতরে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তখন ইডি দাবি করেছিল, ভোটের আগে বেআইনি আর্থিক লেনদেন রুখতে এবং জমি সংক্রান্ত লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই তল্লাশি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শুক্রবার ফের ওই নির্মাণকারী সংস্থার দফতর-সহ একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছে ইডি, সূত্র মারফত এমনটাই জানা গিয়েছে।

LinkedIn
Share