Tag: Bengali news

Bengali news

  • Weather Update: জেলায় জেলায় শৈত্য প্রবাহ! তাপমাত্রা আরও কমবে, দৃশ্যমানতা কমবে আরও, পূর্বাভাস

    Weather Update: জেলায় জেলায় শৈত্য প্রবাহ! তাপমাত্রা আরও কমবে, দৃশ্যমানতা কমবে আরও, পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও তাপমাত্রা কমতে চলেছে বঙ্গে। ঠান্ডায় কাঁপতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাতের তাপমাত্রা এখন আরও নামবে। দিনের তাপমাত্রা এখন রাতের তাপমাত্রার তুলনায় অনেক কমবে। দিনের তাপমাত্রা বা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (Winter) স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই নিচে থাকবে। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের (Weather Update) সম্ভাবনাও রয়েছে।

    দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে আসবে (Weather Update)

    আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার থেকে জাঁকিয়ে শীত (Weather Update) পড়বে। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যাপক শীত পড়বে। দার্জিলিং সহ উত্তরবঙ্গের তিন জেলায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা থাকবে। দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে আসবে। অপর দিকে দক্ষিণবঙ্গেও বেশকিছু জেলায় ঘন কুয়াশার ইঙ্গিত রয়েছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা পাকিস্তান ও জম্মু কাশ্মীর সহ উত্তর-পশ্চিম পার্বত্য এলাকায় অবস্থান। পূর্বে বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে কলকাতার তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

    কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজ্যে ফের পারদ পতনের (Winter) ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা (Weather Update) কমতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতে দুই থেকে চার ডিগ্রি পর্যন্ত পারদ নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে কয়েকদিন প্রবল শীত অনুভূত হবে। অপর দিকে দার্জিলিং সহ উত্তরবঙ্গের তিন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলাতেও। দার্জিলিং এর পার্বত্য উঁচু এলাকায় তুষারপাত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং জেলায় আজকাল ঘন কুয়াশা থাকার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকবে। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৭ ডিগ্রি কম। আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি সপ্তাহে কলকাতায় শীতের রেকর্ড তৈরি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Delhi Riots Case: দিল্লি হিংসা মামলায় খারিজ উমর খালিদ, শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন

    Delhi Riots Case: দিল্লি হিংসা মামলায় খারিজ উমর খালিদ, শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি হিংসার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত (Delhi Riots Case) মামলায় উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ওই একই মামলায় গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ সলিম খান এবং শাদাব আহমেদ – এই পাঁচ অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করা হয়।পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের ভূমিকা এবং তাদের বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণ অন্য অভিযুক্তদের তুলনায় গুণগতভাবে ভিন্ন স্তরের। অর্থাৎ, প্রসিকিউশনের অভিযোগ ও উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণের নিরিখে এই দুই অভিযুক্তের অবস্থান আলাদা।

    সুপ্রিম কোর্টের রায় (Delhi Riots Case)

    আইনজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখার পথে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন তাঁরা। যেসব অভিযোগ দায়ের হয়েছে, সেই অপরাধগুলিতে অভিযুক্তদের ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়, এমনই পর্যবেক্ষণ করে ইউএপিএ। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, দীর্ঘদিন ধরে কারাবাস চললেও তা সংবিধানের কোনও নির্দেশ লঙ্ঘন করে না এবং প্রযোজ্য আইনের অধীনে থাকা আইনগত নিষেধাজ্ঞাকেও অতিক্রম করে না। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ গালফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ সালিম খান এবং শাদাব আহমেদের দাখিল করা জামিনের আবেদনের ওপর এই রায় দেয় (Supreme Court)।

    বিস্তারিত সওয়াল-জবাব

    গত ১০ ডিসেম্বর সব পক্ষের বিস্তারিত সওয়াল-জবাব শোনার পর শীর্ষ আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছিল। জামিনের আবেদনের শুনানিতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবীরা মূলত বিচারপ্রক্রিয়ার বিলম্ব এবং অদূর ভবিষ্যতে মামলার বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম, এই যুক্তিগুলি তুলে ধরেন। আদালতে এও জানানো হয়, অভিযুক্তরা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারাধীন অবস্থায় কারাবন্দি রয়েছে। ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএর অধীনে গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে (Delhi Riots Case)। দিল্লি হিংসা সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি, যা দেখায় যে তারা দাঙ্গায় হিংসা উসকে দিয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (Supreme Court)।

    রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা

    তবে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের ফল নয়, বরং এটি ছিল রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা (Delhi Riots Case)। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই ঘটনাগুলি কোনও সাধারণ বিক্ষোভ ছিল না, বরং একটি সুসংগঠিত, সুপরিকল্পিত ‘প্যান-ইন্ডিয়া ষড়যন্ত্র’, যার লক্ষ্য ছিল ‘রেজিম চেঞ্জ’ অর্থাৎ সরকার পরিবর্তন এবং দেশের অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়া। পুলিশের মতে, এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। পুলিশ আরও জানায়, এই ষড়যন্ত্রের নকশা এমনভাবে করা হয়েছিল যাতে তা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের সঙ্গে এক সঙ্গে সংঘটিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-কে বিশ্ব দরবারে একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা (Supreme Court)।

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে সচেতনভাবে একটি ‘র‍্যাডিকালাইজিং ক্যাটালিস্ট’ বা উগ্রপন্থায় ইন্ধন জোগানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এই পুরো প্রক্রিয়াকে ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে’র মোড়কে আড়াল করা হয় (Delhi Riots Case)। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তদের দ্বারা রচিত এই ‘গভীরভাবে প্রোথিত, পূর্বপরিকল্পিত ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে’র ফলেই দিল্লি দাঙ্গায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি, ব্যাপকভাবে সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়। শুধুমাত্র দিল্লিতেই দায়ের হয় ৭৫৩টি এফআইআর। দিল্লি পুলিশ আদালতে জানায়, নথিভুক্ত প্রমাণ থেকে এটা স্পষ্ট যে এই ষড়যন্ত্র শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং গোটা দেশজুড়ে একই ধরনের অশান্তি ছড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্ত উমর খালিদ ও শরজিল ইমাম-সহ মোট ন’জনের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পরই অভিযুক্তরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় (Delhi Riots Case)।

    জামিন খারিজ

    জামিন খারিজ করার সময় দিল্লি হাইকোর্ট মন্তব্য করেছিল, প্রাথমিকভাবে গোটা ষড়যন্ত্রে উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের ভূমিকা ছিল গুরুতর (Supreme Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, তারা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ভিত্তিতে উসকানিমূলক ভাষণ দিয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের বৃহৎ আকারে সংঘবদ্ধ করে আন্দোলনে নামানো। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে উমর খালিদ, শরজিল ইমাম ও অন্যদের ইউএপিএ-র আওতায় গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারির সূত্রপাত হয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, দিল্লি হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে (Delhi Riots Case)। সেই সময় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (NRC)-র বিরুদ্ধে চলা প্রতিবাদের মধ্যেই দিল্লিতে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। ওই হিংসায় সরকারি হিসেব অনুযায়ী অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০০-এরও বেশি মানুষ জখম হন (Supreme Court)।

  • PM Modi: “সোমনাথ মন্দির ভারতাত্মার জীবন্ত প্রতীক”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “সোমনাথ মন্দির ভারতাত্মার জীবন্ত প্রতীক”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সোমনাথ (Somnath Temple) কেবল একটি ঐতিহাসিক কাঠামো নয়, এটি ভারতের আত্মার জীবন্ত প্রতীকও।” সরকারি ব্লগে গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরের অসাধারণ ইতিহাস ও যাত্রার কথা নতুন করে তুলে ধরতে গিয়ে এমনই লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, এই পবিত্র তীর্থস্থান বারবার ধ্বংসের মুখে পড়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে এবং আজও প্রথম আক্রমণের এক হাজার বছরেরও বেশি সময় পর দেশের আধ্যাত্মিক চেতনাকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

    “ভারতাত্মার চিরন্তন ঘোষণা” (PM Modi)

    সোমনাথকে “ভারতাত্মার চিরন্তন ঘোষণা” হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ স্তোত্রে উল্লিখিত বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে সোমনাথ মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যানও। তিনি লেখেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই মন্দির লাখ লাখ মানুষের অটল বিশ্বাসের কেন্দ্র হয়ে রয়েছে এবং আজও ভারতের সভ্যতাগত পরিচয় ও সাংস্কৃতিক চরিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, সোমনাথ মন্দিরের পবিত্রতা ভারতীয় সভ্যতার প্রাচীন ঐতিহ্যে গভীরভাবে প্রোথিত। তিনি বলেন, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ স্তোত্রের শুরুতেই রয়েছে, “সৌরাষ্ট্রে সোমনাথং চ…” যা ভারতের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে সোমনাথের অগ্রগণ্য অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে (PM Modi)।

    ভারতীয় সমাজের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্রবিন্দু

    গুজরাটের পশ্চিম উপকূলে প্রভাস পাটনে অবস্থিত সোমনাথ যুগ যুগ ধরে শুধু একটি ধর্মীয় তীর্থস্থানই নয়, বরং ভারতীয় সমাজের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে (Somnath Temple)। প্রধানমন্ত্রী প্রাচীন শ্লোকটির উল্লেখ করেন, “সোমলিঙ্গং নরো দৃষ্ট্বা সর্বপাপৈঃ প্রমুচ্যতে। লভতে ফলং মনোবাঞ্ছিতং মৃতঃ স্বর্গং সমাশ্রয়েত্॥” এই শ্লোকের মর্মার্থ অনুযায়ী, কেবল সোমনাথ শিবলিঙ্গ দর্শন করলেই পাপমোচন ঘটে, কামনা পূর্ণ হয় এবং আত্মিক মুক্তিলাভ সম্ভব বলে বিশ্বাস করা হয়।প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্লগে উল্লেখ করেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমাজের সব স্তরের মানুষের মিলনস্থল হিসেবে সোমনাথের গুরুত্ব অপরিসীম।

    মানুষের মন ও আত্মার গভীরে আলোড়ন

    মোদি স্মরণ করেন, প্রখ্যাত জৈন পণ্ডিত কালীকাল সর্বজ্ঞ হেমচন্দ্রাচার্য এক সময় সোমনাথ মন্দির দর্শনে এসে প্রণাম নিবেদন করেন এবং গভীর ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে একটি শ্লোক রচনা করেন, “ভববীজাঙ্কুরজননা রাগাদ্যাঃ ক্ষয়মুপগতা যস্য।” প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যায়, এই শ্লোক সেই ঐশ্বরিক শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে, যেখানে পার্থিব আসক্তির বীজ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং মানবজীবনের দুঃখ লীন হয়ে যায়। তাঁর মতে, আজও সোমনাথ মানুষের মন ও আত্মার গভীরে আলোড়ন তোলে, চিন্তা, বিশ্বাস এবং অন্তর্নিহিত রূপান্তরের প্রেরণা জাগায় (PM Modi)। গভীর বেদনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, ১০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অধ্যায়, যখন মাহমুদ গজনি সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করে (Somnath Temple)। তার উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিশ্বাস ও সভ্যতার এক শক্তিশালী প্রতীককে মুছে ফেলা। ইতিহাসের বর্ণনায় পাওয়া যায়, সেই আক্রমণে স্থানীয় মানুষের সীমাহীন কষ্ট ও মন্দিরের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের কথা – যা পড়লে আজও বুক কেঁপে ওঠে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই আক্রমণ কেবল একটি কাঠামোর ওপর নয়, বরং ছিল একটি সম্পূর্ণ সভ্যতার আত্মা ও পরিচয় ধ্বংস করার চেষ্টা।

    সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাস ধ্বংসের নয়

    বারবার আক্রমণ ও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অস্থিরতার মধ্যেও সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাস ধ্বংসের নয়, বরং পুনরুত্থানের, এ কথাও জোর দিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৬ সালে ভারত সোমনাথ মন্দিরে প্রথম আক্রমণের এক হাজার বছর পূর্তি উদযাপন করবে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টি আবার তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ১৯৫১ সালের মে মাসে স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের উপস্থিতিতে মন্দিরের আধুনিক পুনর্নির্মাণের উদ্বোধনের ৭৫ বছরও তখন পূর্ণ হবে (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাধীনতার পর সোমনাথ মন্দির পুনর্গঠনের পবিত্র দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। এর মধ্য দিয়েই সোমনাথ স্বাধীন ভারতের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের অন্যতম প্রথম প্রতীক হয়ে ওঠে (Somnath Temple)।

    ভারতের জাতিসত্তার অবিরাম জীবনপ্রবাহের প্রতীক

    প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, কীভাবে সোমনাথ ধীরে ধীরে ভারতের সভ্যতাগত প্রতিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবার মন্দির ধ্বংস করা হলেও, প্রতিবারই ভারতীয় সমাজ নতুন করে উঠে দাঁড়িয়ে তা পুনর্নির্মাণ করেছে। তিনি আহিল্যাবাই হোলকারের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, যাঁরা সোমনাথ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৮৯৭ সালে চেন্নাইয়ে স্বামী বিবেকানন্দের দেওয়া সেই ঐতিহাসিক বক্তৃতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে স্বামীজি বলেছিলেন, “এই প্রাচীন মন্দিরগুলির অনেকগুলিই শত শত আক্রমণ ও শত শত পুনর্জন্মের চিহ্ন বহন করে, বারবার ধ্বংস হয়েছে, আবার ধ্বংসস্তূপ থেকেই বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে।” প্রধানমন্ত্রীর মতে, সোমনাথ আসলে ভারতের জাতিসত্তার অবিরাম জীবনপ্রবাহের প্রতীক। এটি এমন এক সভ্যতা, যা কখনও বিলুপ্ত হতে রাজি নয় (PM Modi)।

    আধুনিক ভারতের সঙ্গে তুলনা

    আধুনিক ভারতের সঙ্গে তুলনা টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের ভারতও সেই একই অদম্য মানসিকতা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে পুনরুত্থান ঘটাচ্ছে (Somnath Temple)। যোগ, আয়ুর্বেদ থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে ভারত আজ বিশ্বকে উদ্ভাবন, সংস্কৃতি, সুস্থ জীবনযাপন ও সমস্যার সমাধান দিতে এগিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, সোমনাথের টিকে থাকা শুধু বিশ্বাসের শিক্ষা দেয় না, আত্মবিশ্বাসেরও শিক্ষা দেয়। শত শত বছরের আক্রমণের পরেও যদি একটি সভ্যতা বারবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তবে আধুনিক ভারতও তার ঐতিহাসিক গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলতে পারে (PM Modi)। প্রভাস পাটনের তটে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মাঝেও, প্রধানমন্ত্রী লেখেন, সোমনাথ আজও দীপ্তিময়, অটুট এবং চিরন্তন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে (Somnath Temple)।

  • KKR: বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে কেন ৯ কোটি টাকায় নেওয়া হল? কেকেআরকে নিশানা ভিএইচপির

    KKR: বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে কেন ৯ কোটি টাকায় নেওয়া হল? কেকেআরকে নিশানা ভিএইচপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর মুখপাত্র বিনোদ বনসল সম্প্রতি কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) কর্তৃক বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল নিলামে ৯.২০ কোটি টাকা দিয়ে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। যে দেশে কট্টর মুসলমানরা হিন্দুদের টার্গেট করে হত্যা করছে প্রতিদিন, সেই দেশের খেলোয়াড়কে ভারতের আইপিএলে কেন? এই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সম্প্রতি বাংলাদেশে লাগাতার এক তরফা হিন্দু নির্যাতন চলছে। ময়মনসিংহ, শরিয়তপুর, রাজশাহী, খুলনা-সহ একাধিক জায়গায় হিন্দুদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে। জোর করে জমি দখল করছে। হিন্দুর বাড়ি লক্ষ্য করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    কেন বিতর্ক (VHP)?

    বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমাগত হামলার আবহে এই বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে কেকেআর-এর টিমে নেওয়ায় ভারতে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। আইপিএল ২০২৬ মরসুমের জন্য কেকেআর-এর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত আইপিএল নিলামে কেকেআর বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করে মুস্তাফিজুরকে কিনেছিল।

    আর কী কোনও দেশের খেলোয়াড় নেই?

    এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) নেতা বনসল বলেন, “কেকেআর-এর (KKR) উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। যে দেশে হিন্দুদেরকে সুপরিকল্পিতভাবে এবং নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, সেখানে কেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এত মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে দলে নিল। যদি কেকেআর নিজেদেরকে একটি ভারতীয় দল মনে করে এবং যদি তারা ভারতীয় দর্শকদেরকেই তাদের দর্শক মনে করে, তবে কি তাদের জনগণের অনুভূতির বিষয়ে চিন্তা করা উচিত ছিল না? আমাদের হিন্দুদেরকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে, তাহলে কেন একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে ৯ কোটি টাকায় নেওয়া হল? পৃথিবীতে কি আর কোনও ক্রিকেটার ছিল না?…”

    দেশের স্বার্থে বিসিসিআই-এর সিধান্ত সঠিক

    বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (BCCI)-এর নেওয়া সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “দেশ সকলের উপরে, তাই বিসিসিআই যা করেছে তা দেশের স্বার্থেই করেছে।” সমালোচনার মুখে পড়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) শনিবার জানিয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (BCCI)-এর নির্দেশ পাওয়ার পর আসন্ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) ২০২৬ মরসুমের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশি খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    কেকেআর-এর বিজ্ঞপ্তি

    কেকেআর কর্তৃক জারি করা এক মিডিয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কলকাতা নাইট রাইডার্স নিশ্চিত করছে যে আইপিএল-এর নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিসিসিআই-এর পরামর্শমতো আসন্ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মরসুমের আগে মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছে।” এর আগে, বিসিসিআই-এর সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, “ক্রিকেটের সর্বোচ্চ বোর্ড সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কারণে কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিসিসিআই কেকেআর-কে অন্য কোনও খেলোয়াড় নেওয়ার জন্য অনুমতিও দেবে।”

    বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া

    এদিকে, বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) জানিয়েছে, আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য তাদের পুরুষ ক্রিকেট দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। সেইসঙ্গে বিসিবি-র একজন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-কে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যাচগুলিকে ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত করার জন্য অনুরোধ করেছেন।

    রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব

    শনিবার কলকাতা নাইট রাইডার্স চলতি বছর আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে আসে। এরপর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ৩০ বছর বয়সি এই পেসারকে ৯.২০ কোটি টাকায় কিনেছিল। কিন্তু, বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, বিসিবি একটি জরুরি সভা করে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়া মন্ত্রক আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে। এর সঙ্গেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আগামী টি২০ বিশ্বকাপ ম্যাচগুলি ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের দাবি জানায়।

  • Ramakrishna 549: “যাই দেখি গৌরাঙ্গরূপ সামনে এসেছেন, যদি শাক্ত আসে, তাহলে শক্তিরূপ,—কালীরূপ—দর্শন হয়”

    Ramakrishna 549: “যাই দেখি গৌরাঙ্গরূপ সামনে এসেছেন, যদি শাক্ত আসে, তাহলে শক্তিরূপ,—কালীরূপ—দর্শন হয়”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    পূর্বকথা—ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—ঠাকুর সিদ্ধপুরুষ না অবতার?

    “ন্যাংটা বেদান্তের উপদেশ দিলে। তিনদিনেই সমাধি। মাধবীতলায় ওই সমাধি অবস্থা দেখে সে হতবুদ্ধি হয়ে বলছে, ‘আরে এ কেয়া রে!’ পরে সে বুঝতে পারলে—এর ভিতরে কে আছে। তখন আমায় বলে, ‘তুমি (Ramakrishna) আমায় ছেড়ে দাও!’ ও-কথা শুনে আমার ভাবাবস্থা হয়ে গেল; — আমি সেই অবস্থায় বললাম, ‘বেদান্ত বোধ না হলে তোমার যাবার জো নাই।’

    “তখন রাতদিন তার কাছে! কেবল বেদান্ত! বামনী বলত, ‘বাবা, বেদান্ত শুনো না! — ওতে ভক্তির হানি হবে।’

    “মাকে যাই বললাম, ‘মা, এ-দেহ রক্ষা কেমন করে হবে, আর সাধুভক্ত লয়ে কেমন করে থাকব!—একটা বড় মানুষ জুটিয়ে দাও!’ তাই সেজোবাবু চৌদ্দ বৎসর ধরে সেবা করলে!

    “এর ভিতর যিনি আছে, আগে থাকতে জানিয়ে (Kathamrita) দেয়, কোন্‌ থাকের ভক্ত আসবে। যাই দেখি গৌরাঙ্গরূপ সামনে এসেছেন, অমনি বুঝতে পারি গৌরভক্ত আসছে। যদি শাক্ত আসে, তাহলে শক্তিরূপ,—কালীরূপ—দর্শন হয়।

    “কুঠির উপর থেকে আরতির সময় চেঁচাতাম, “ওরে, তোরা কে কোথায় আছিস আয়।’ দেখো, এখন সব ক্রমে ক্রমে এসে জুটেছে!

    “এর ভিতর তিনি নিজে রয়েছেন-যেন নিজে থেকে এই সব ভক্ত লয়ে কাজ করছেন।

    “এক-একজনের ভক্তের অবস্থা কি আশ্চর্য! ছোট নরেন—এর কুম্ভক আপনি হয়। আবার সমাধি! এক-একবার কখন কখন আড়াই ঘন্টা! কখনও বেশি! কি আশ্চর্য!

    “সবরকম সাধন এখানে হয় গেছে জ্ঞানযোগ, ভক্তিযোগ, কর্মযোগ। হঠযোগ পর্যন্ত—আয়ু বাড়াবার জন্য! এর ভিতর একজন আছে। তা না হলে সমাধির পর ভক্তি-ভক্ত লয়ে কেমন করে আছি। কোয়ার সিং বলত, ‘সমাধির পর ফিরে আসা লোক দেখি নাই।—তুমিই নানক’।”

    পূর্বকথা—কেশব, প্রতাপ ও কুক্‌ সঙ্গে জাহাজে ১৮৮১

    “চারিদিকে ঐহিক লোক—চারদিকে কামিনী-কাঞ্চন—এতোর ভিতর থেকে এমন অবস্থা! — সমাধি, ভাব, লেগেই রয়েছে। তাই প্রতাপ (ব্রাহ্মসমাজের শ্রীপ্রতাপচন্দ্র মজুমদার) — কুক্‌ সাহেব যখন এসেছিল, জাহাজে আমার অবস্থা (সমাধি-অবস্থা) দেখে বললে, ‘বাবা! যেন ভূতে পেয়ে রয়েছে’।”

    রাখাল, মাস্টার প্রভৃতি অবাক্‌ হইয়া ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের শ্রীমুখ হইতে এই সকল আশ্চর্য কথা শুনিতেছেন।

    মহিমাচরণ কি ঠাকুরের (Ramakrishna) ইঙ্গিত বুঝিলেন? এই সমস্ত কথা শুনিয়াও তিনি বলিতেছেন, “আজ্ঞা, আপনার প্রারব্ধবশতঃ এরূপ সব হয়েছে।” তাঁহার মনের ভাব, — ঠাকুর একটি সাধু বা ভক্ত। ঠাকুর তাঁহার কথায় সায় দিয়া বলিতেছেন (Kathamrita), “হাঁ, প্রাক্তন! যেন বাবুর অনেক বাড়ি আছে — এখানে একটা বৈঠকখানা। ভক্ত তাঁর বৈঠকখানা।”

  • Mohan Bhagwat: লাভ জেহাদ আটকাতে তিন উপায় বাতলে দিলেন ভাগবত, জানেন কী কী?

    Mohan Bhagwat: লাভ জেহাদ আটকাতে তিন উপায় বাতলে দিলেন ভাগবত, জানেন কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, “লাভ জিহাদের মতো সমস্যাগুলি তখনই বন্ধ করা সম্ভব যখন পরিবারগুলি একে অপরের সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলতে শুরু করবে। মানুষকে সৎভাবে ভাবতে হবে তাদের নিজের বাড়ির মেয়েরা কীভাবে একজন অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন। কীভাবে সম্পর্ক গড়বেন। এটাই লাভ জেহাদ এবং ধর্মান্তকরণ থেকে রক্ষার উপায়। এই ধরণের ঘটনার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হল পরিবারের মধ্যে যোগাযোগের অভাব।”

    লাভ জেহাদ মোকাবেলার তিনটি ধাপ (Mohan Bhagwat)

    ৩ জানুয়ারী ভোপালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) আয়োজিত “স্ত্রী শক্তি সংবাদ” অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “তিনটি স্তরে প্রচেষ্টা প্রয়োজন। প্রথমত, পরিবারের মধ্যে নিয়মিত এবং খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, মেয়েদের সতর্ক থাকতে এবং নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হতে শেখানো উচিত। তৃতীয়ত, যারা এই ধরনের অপরাধ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “সামাজিক সংগঠনগুলিকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সমগ্র সমাজকে এক সঙ্গে  রুখে দাঁড়াতে হবে। কেবলমাত্র সম্মিলিত প্রতিরোধই প্রকৃত সমাধান আনতে পারে।”

    নারীরা ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষা করে

    ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সমাজ ব্যবস্থা রক্ষায় নারীরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে সময় নারীদের কেবল নিরাপত্তার জন্য ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হত, সেই সময় অনেক আগেই চলে গিয়েছে। আজ, পুরুষ এবং মহিলারা পরিবার এবং সমাজের অগ্রগতির জন্য এক সঙ্গে কাজ করেন, তাই সচেতনতা এবং দায়িত্ব উভয়ের জন্যই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    নারীর ক্ষমতায়নই মূল চাবিকাঠি

    আরএসএস প্রধান (Mohan Bhagwat) নারীদের ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “মেয়েদের আরও সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক শক্তি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে, কারণ নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে, তবে এটি এখনও আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। ভারতীয় ঐতিহ্য কীভাবে মাতৃত্বের মাধ্যমে নারীদের মূল্য দেয়, পশ্চিমী সমাজগুলি সম্পূর্ণ বিপরীতে, যেখানে প্রায়শই বিয়ের পরেই একজন মহিলাকে মান্যতা দেওয়া হয়।”

    অন্ধ পাশ্চাত্য প্রভাবের বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ

    পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রভাব সম্পর্কে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “আধুনিকতার নামে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া পশ্চিমি সংস্কৃতি এখন একটি অন্ধ জাতিতে পরিণত হয়েছে। তিনি ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে যে মূল্যবোধগুলো দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে গুরুত্ব সহকারে চিন্তা করার জন্য জনগণকে আহ্বান জানান। ভারতীয় ঐতিহ্য নারীদের দুর্বল করে না বরং তাদের শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের মতো উদাহরণ ভারতীয় নারীরা প্রতিটি যুগে সাহস ও শক্তি প্রদর্শন করেছেন।”

    ঐক্য, জাতি এবং সামাজিক সম্প্রীতি

    সামাজিক সম্প্রীতি (RSS) সম্পর্কে বলতে গিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু কেবল একটি শব্দ নয়, বরং জীবনযাপনের একটি উপায়। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন হিন্দু থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত জাতি টিকে থাকে এবং সমাজ একটি সুস্থ দেহের মতো কাজ করে যেখানে প্রতিটি অংশ অন্যজনকে সমর্থন করে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই ভারতের পরিচয়। যদিও মানুষ দেখতে ভিন্ন হতে পারে, জাতি, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের স্তরে, সবাই এক। সদিচ্ছা কেবল সংকটের সময় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য নিয়মিত সভা, সংলাপ এবং একে অপরের কাজ বোঝা জরুরি। তিনি প্রতি বছর জেলা, ব্লক এবং গ্রাম পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি সভা করা একান্ত প্রয়োজন।

  • Manipur: ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    Manipur: ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি এবং ফ্রি মুভমেন্ট রেজিম (FMR) বাতিলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার (Manipur)। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কুকি, জোমি ও হামার সম্প্রদায়ভুক্ত একাধিক জঙ্গি সংগঠন এবং তাদের সমর্থনকারী খ্রিস্টান সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তির নেপথ্যে রয়েছে গভীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণ (Indian Passport)।

    জঙ্গি সংগঠনের জোটের শীর্ষ নেতা (Manipur)

    নিরাপত্তা সংস্থা সূত্রের দাবি, বহু বছর ধরে খোলা ভারত-মায়ানমার সীমান্ত জঙ্গিদের অবাধ যাতায়াতের করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সীমান্তে কড়াকড়ি না থাকায় দুই দেশের জঙ্গিরা অনায়াসেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালাচ্ছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, মণিপুরে সক্রিয় ৮টি কুকি জঙ্গি সংগঠনের জোটের বর্তমান শীর্ষ নেতা মায়ানমারের নাগরিক। তিনি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছেন, ভারতবিরোধী কার্যকলাপেও যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তিনি কীভাবে ভারতীয় পাসপোর্ট পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

    পাসপোর্ট পেলেন কীভাবে

    সূত্রের খবর, থাংগালিয়ানপাউ গুইটে, যিনি জোমি রিইউনিফিকেশন অর্গানাইজেশন (ZRO) ও তার সশস্ত্র শাখা জোমি রেভল্যুশনারি আর্মি (ZRA)–এর সভাপতি, তিনি আদতে মায়ানমারের নাগরিক। এই সংগঠনটি বর্তমানে ইউনাইটেড পিপলস ফ্রন্ট (UPF)–এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কুকি, জোমি ও হামার সম্প্রদায়ের মোট ৮টি জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। এই সংগঠনগুলি বর্তমানে ‘সাসপেনশন অফ অপারেশনস (SoO)’ চুক্তির আওতায় রয়েছে (Manipur)। মণিপুরের মুখ্য সচিবকে পাঠানো এক নোটিশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানতে চেয়েছে, কীভাবে একজন মায়ানমারের নাগরিক ভারতীয় পাসপোর্ট পেলেন, কীভাবেই বা তিনি বছরের পর বছর ভারতে বসবাস করছেন (Indian Passport)।

    মায়ানমারের চিন রাজ্যের বাসিন্দা

    নোটিশে বলা হয়েছে, “থাংগালিয়ানপাউ গুইটে মায়ানমারের চিন রাজ্যের টনজাং টাউনশিপের পাংমুয়াল গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯০ সালে তিনি জোমি ন্যাশনাল কংগ্রেস (ZNC) দলের প্রার্থী হিসেবে মায়ানমারের এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে গ্রেফতারের আশঙ্কায় মায়ানমার থেকে পালিয়ে যান।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত–মায়ানমার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ এবং এফএমআর বাতিল করা কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার না হলে উত্তর–পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

    চূড়াচাঁদপুর জেলায় বসবাস করছেন

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, থাঙ্গালিয়ানপাউ গুইটে ১৯৯৫ সাল থেকে মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলায় বসবাস করছেন। এর পর তিনি আর জন্মভূমি মায়ানমারে যাননি। বর্তমানে তাঁর কাছে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট এবং ভোটার আইডি রয়েছে (Manipur)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, থাঙ্গালিয়ানপাউ গুইটে এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্য মণিপুরের ভোটার। এর অর্থ হল, তিনি শুধু দীর্ঘদিন ভারতে বসবাসই করছেন না, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়ও অংশ নিয়েছেন (Indian Passport)। এদিকে, ভারত সরকার মায়ানমার সীমান্ত ঘিরে কাঁটাতার বসানোর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মোট ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে আগামী ১০ বছরের মধ্যে ‘নো কাট, নো ক্লাইম্ব’ ধরনের নিরাপত্তা বেড়া বসানো হবে (Manipur)।

    ৪২ হাজার মায়ানমারের নাগরিক চিহ্নিত

    ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি ভারত-মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতার বসানো এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় রাস্তা নির্মাণের জন্য ৩১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেয়। এদিকে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪২ হাজার মায়ানমারের নাগরিককে চিহ্নিত করেছে। এদের অধিকাংশই বর্তমানে মিজোরাম এবং মণিপুরের পার্বত্য জেলাগুলিতে বসবাস করছেন বলে খবর (Indian Passport)। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতেই এই পদক্ষেপগুলি করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে (Manipur)।

  • Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত, সঙ্কটে মানবাধিকার

    Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত, সঙ্কটে মানবাধিকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং সনাতন ধর্মের অনুসারীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, নিপীড়ন ও বৈষম্যের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। অনেক অঞ্চলে এই নির্যাতন এমন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা (Roundup Week) ধীরে ধীরে সংঘটিত একপ্রকার গণহত্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা। দশকের পর দশক ধরে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই হিংসা, ঘৃণা ও বৈষম্যের প্রকৃত ব্যাপ্তি আন্তর্জাতিক মহলের নজর এড়িয়ে গিয়েছে। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য, সব মিলিয়ে হিন্দু সমাজ আজ অস্তিত্বের সঙ্কটে। ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ এই সময়কালের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারতে সংঘটিত এমনই কয়েকটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হল।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    নীলগিরিতে অবৈধ প্রার্থনা সভা ও মন্দির ভাঙার হুমকি ঘিরে বিতর্ক। তামিলনাড়ুর নীলগিরি জেলার কাণ্ডাল এলাকার কস্তুরীবাই কলোনিতে এক খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রার্থনা সভা আয়োজন এবং মন্দির ভাঙার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাটি মূলত তফসিলি জাতিভুক্ত হিন্দুদের বসবাসস্থল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনাকরণ নামে এক ব্যক্তি সেখানে বেআইনিভাবে খ্রিস্টান প্রার্থনা সভা ও ধর্মান্তরের কার্যকলাপ চালাচ্ছিল (Hindus Under Attack)। এদিকে, প্রাক্তন সিবিআই ডিরেক্টর এম নাগেশ্বর রাওয়ের চিঠির পর অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার অমুসলিমদের মধ্যে খৎনা প্রচারের অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে খৎনার অস্ত্রোপচার করা হচ্ছিল (Roundup Week)।

    নির্মমভাবে খুন

    পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ায় ৭২ বছরের হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ৪০ বছরের ছেলে চন্দন দাসকে নির্মমভাবে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে জঙ্গিপুর ট্রায়াল কোর্ট। ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল তাঁদের বাড়ি থেকে টেনে বের করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দু’জনের নাম মহম্মদ ইমাম ও জাকির। এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে (Hindus Under Attack)। তামিল চলচ্চিত্র সমালোচক কালিলুর রহমান সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত তেলুগু ছবি অখণ্ডা ২: থান্ডবম রিভিউ করতে গিয়ে সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেন, যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ

    লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির এক জুনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক রমিজউদ্দিন ওরফে নাইক পলাতক। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হস্তক্ষেপে তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্নাটকের হুব্বলির নিকার নগর–শিবানগর এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িকে বেআইনিভাবে মসজিদে রূপান্তরের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দা ও সংগঠনগুলি অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলার দাবি জানায় (Hindus Under Attack)। এই ঘটনাগুলি শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলমান একটি বৃহত্তর মানবাধিকার সঙ্কটের প্রতিফলন বলে মত বিশ্লেষকদের।

    হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন

    বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলা ক্রমশ উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। এই নির্যাতনের লক্ষ্য ধীরে ধীরে দেশ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করা, এমনই দাবি উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের এক গবেষণায়। তাঁর মতে, চলমান প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়ন অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একজন হিন্দুও অবশিষ্ট থাকবে না। গবেষণায় বলা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনি, হিন্দু মহিলাদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ এবং লাগাতার ঘৃণামূলক বক্তব্য, এই সব কৌশল ব্যবহার করে হিন্দুদের আতঙ্কিত করা হচ্ছে এবং দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশ

    এহেন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় একটি নৃশংস ঘটনা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ২৫ বছর বয়সি হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাস, যিনি পেশায় পোশাক কর্মী ছিলেন, তাঁকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে খুন করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, পরে তাঁর নিথর দেহ একটি গাছে বেঁধে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। জনসমক্ষে পোড়া দেহ ঝুলিয়ে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা। রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে (Roundup Week)।

    থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া 

    অন্যদিকে, ভারত ভগবান বিষ্ণুর একটি মূর্তি ভাঙার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করার একদিন পর থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাঠোমোটি কোনও রেজিস্ট্রি করা ধর্মীয় স্থান ছিল না। থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া সীমান্তে থাই সেনার অভিযানের সময় মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালীন কপালে তিলক পরার কারণে এক হিন্দু সেনাকে দেশ থেকে বিতাড়নের হুমকি দেওয়া হয়। তবে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আইনি হস্তক্ষেপের পর অবশেষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় (Hindus Under Attack)। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে কাজ করে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দুবিদ্বেষ। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলিতেও একটি সূক্ষ্ম ও প্রাত্যহিক হিন্দুবিদ্বেষ কাজ করে।

    এই বিদ্বেষ অনেক সময় আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে থেকে যায়, ফলে তা সহজে চোখে পড়ে না। দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধকরণ তার একটি বড় উদাহরণ। ওপরে ওপরে এটি পরিবেশ রক্ষার সিদ্ধান্ত বলে মনে হলেও, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে একই ধরনের বিধিনিষেধ না থাকায় দ্বিচারিতা (Roundup Week) স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমালোচকদের মতে, এটি হিন্দু উৎসব ও সংস্কৃতির ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ আরোপের একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ (Hindus Under Attack)।

  • T20 World Cup: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলিকে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় চায় বিসিবি

    T20 World Cup: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলিকে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় চায় বিসিবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার ক্রিকেটের ময়দানেও ভারত বিরোধিতার স্বর বাংলাদেশে। ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল (IPL) থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) বাংলাদেশের ম্যাচগুলিকে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য আইসিসিকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

    ফ্লাইট এবং হোটেল ইতিমধ্যেই বুক (T20 World Cup)

    ২০২৬ সালে ২০টি দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এখানে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গেও গ্রুপ রয়েছে। বাংলাদেশের ম্যাচগুলি কলকাতা এবং মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা। তবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য খেলার স্থান পরিবর্তনের জন্য আইসিসিকে চিঠি লিখেছে। প্রতিক্রিয়ায় স্বরূপ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অর্থাৎ বিসিসিআইয়ের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক বাংলাদেশের দাবিকে অত্যন্ত অবাস্তব বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “কারও ইচ্ছায় খেলা পরিবর্তন করা যায় না। এটা একটা লজিস্টিকাল দুঃস্বপ্ন। প্রতিপক্ষ দলের ফ্লাইট এবং হোটেল ইতিমধ্যেই বুক করা আছে। প্রতিটি ম্যাচের দিনে তিনটি করে খেলার সময়সূচি নির্ধারিত থাকে, যার মধ্যে একটি শ্রীলঙ্কায়। সম্প্রচার কর্মী এবং অপারেশনাল দলগুলিও এতে জড়িত থাকে, তাই বলা সহজ কিন্তু করা সহজ নয়।”

    রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব

    শনিবার কলকাতা নাইট রাইডার্স চলতি বছর আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়। এরপর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ৩০ বছর বয়সী এই পেসারকে ৯.২০ কোটি টাকায় কিনে নেওয়া হয়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, বিসিবি একটি জরুরি সভা করে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রক কর্তৃক আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) ২০২৬ ম্যাচের সময়সূচি-

    • বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ – ৭ ফেব্রুয়ারি (কলকাতা)
    • বনাম ইতালি – ৯ ফেব্রুয়ারি (কলকাতা)
    • বনাম ইংল্যান্ড – ১৪ ফেব্রুয়ারি (কলকাতা)
    • বনাম নেপাল – ১৭ ফেব্রুয়ারি (মুম্বই)

    এখন পর্যন্ত, আইসিসি কর্তৃক কোনও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ নিশ্চিত করা হয়নি এবং টুর্নামেন্টের সময়সূচি অপরিবর্তিতই রয়েছে।

  • TMC: ‘রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে ব্যাপক উন্নয়ন হবে’, কথা দিলেন শুভেন্দু

    TMC: ‘রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে ব্যাপক উন্নয়ন হবে’, কথা দিলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “এসআইআরের প্রথম ঝাঁকুনিতেই বাদ গিয়েছে ৫৮ লাখ ভোটারের নাম। আরও অবৈধ নাম বাদ যাবে ভোটার তালিকা থেকে। তাই ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আর ভোটে লড়তে চাইবে না তৃণমূল (TMC)।” চাঁচলের কলমবাগানে জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    শুভেন্দুর কটাক্ষ (TMC)

    এদিনের সভায় তাঁকে স্মৃতিচারণও করতে দেখা গিয়েছে। তিনি বলেন, “তৃণমূলে থাকাকালীন এখানে সভা করে গিয়েছি। তখন হেলিকপ্টার করে সভা করতে এসেছি। মুখ্যমন্ত্রী আমায় যা লিখে দিতেন, সেটাই আমায় বলতে হত। তিনি আমায় বলেছিলেন, আমি এখানে এসে যেন চাঁচল আর গাজোল পুরসভা হবে, সেকথা বলি। আমি সেকথা বলেওছিলাম। কিন্তু গত ১৫ বছরেও সেই পুরসভা হয়নি। এই দেউলিয়া সরকার সেটা করতেও পারবে না।”

    ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে যে এই এলাকা আমূল বদলে যাবে, সেকথাও বলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে চাঁচলে রেল যোগাযোগ স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। ধান থেকে শুরু করে মাখনা, বর্তমান সরকারি নায্যমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দরে কৃষকদের কাছ থেকে কিনে নেবে বিজেপি সরকার।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মালতিপুরের বিধায়ক আবদুর রহিম বকশি যে এবার আর ভোটে জিততে (TMC) পারবেন না, তাও জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তিনি জানান, মালতিপুরে বিজেপি জিততে না পারলেও, রহিম হারবেন। কারণ তার নীল নকশা তৈরি হয়ে গিয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ

    তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগে বারংবার সরব হয়েছেন বিরোধীরা। পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে চাঁচলের কলমবাগানে সভা করেন শুভেন্দু। বক্তৃতার শুরুতেই সে প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “চাঁচল থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে বিহারে এবার সবাই সাফ হয়ে গিয়েছে। এবার বাংলায় তৃণমূল সমূলে উৎপাটিত হবে। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের মধ্যে আগে কলিঙ্গ, পরে অঙ্গে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ছাব্বিশে স্বপ্নপূরণ হবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। বঙ্গেও বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।” তিনি জানান, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ১০৪ বার কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “এপ্রিলের পর তৃণমূল বিরোধী আসনে বসবে। সেদিন সব হিসেব হবে (Suvendu Adhikari)।”

    তৃণমূলের সমালোচনা

    শুভেন্দুর বক্তব্যের সিংহভাগজুড়েই ছিল তৃণমূলের সমালোচনা। যে এলাকায় তিনি সভা করছিলেন, সেটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। সেখানেই দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “এ রাজ্যে শুধু রাজনৈতিক নয়, ধর্মীয় কর্মসূচিতেও বাধা দেওয়া হয় (TMC)। সোহরাবর্দি আর জিন্নার স্বপ্নে এই সরকার লালিত-পালিত হচ্ছে। মোথাবাড়িতে যারা অশান্তি করেছে, তারা রাষ্ট্রবাদী হতে পারে না। সেই অশান্তির পর বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ আমাদের নেতৃত্বকে পুলিশ মোথাবাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। বিধ্বস্ত ধুলিয়ান এবং সামশেরগঞ্জেও আমায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। হাইকোর্টের অনুমতি পেয়ে আমি সেই সব জায়গায় যাই।” তিনি বলেন, “ময়মনসিংহে (বাংলাদেশ) দীপুচন্দ্র দাসের মতোই এখানে পশু কাটার অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে হরগোবিন্দ দাসের যুবক ছেলেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী আর ফিরহাদ হাকিমরা ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে মানুষকে উসকানি দিয়েছিলেন বলেই এসব ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেই আইন এখন কার্যকর হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড। স্বামীজি আমাদের নিজ ধর্মে আস্থা রাখতে শিখিয়েছেন। অন্য ধর্মকেও সম্মান জানাতে বলেছেন। আমরা তাঁর কথা মতোই কাজ করি।”

    তৃণমূলের প্রাণপ্রতিষ্ঠা

    মালদা জেলায় তিনিই যে তৃণমূলের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এদিন সেকথাও স্মরণ করিয়ে দেন শুভেন্দু (TMC)। বলেন, “১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত মালদা জেলায় সেভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি তৃণমূল। ২০১১ সাল থেকে রাজ্যের ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। আমি তৃণমূলে থাকাকালীন পাঁচ বছরেরও (Suvendu Adhikari) বেশি সময় মালদার দায়িত্বে ছিলাম। দেখেছি, মালদার মানুষ তৃণমূলকে ঘৃণা করে। এগারোর বিধানসভা নির্বাচনে কেবলমাত্র সাবিত্রী মিত্র আড়াইডাঙা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন। চোদ্দর লোকসভা নির্বাচনে এই জেলার দু’টি আসন মিলিয়ে তৃণমূল মাত্র ১৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কোনও কেন্দ্রেই জামানত ছিল না। ষোলোর বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলায় তৃণমূল শূন্য। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও ওরা শূন্য। সেই ভোটে এই জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটিতেও তাদের লিড নেই। এখানকার মানুষ জানেন, তৃণমূল মানেই চোর। তাই তাঁরা তৃণমূলকে পছন্দ করেন না।”

    শুভেন্দুর চাঁদমারি

    রাজ্যের শাসক দলকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূলের নেতারা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার টাকা দেয়নি। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ইন্দিরা আবাস যোজনায় পশ্চিমবঙ্গকে দিয়েছিল ৪৬৬৪ কোটি টাকা। আর ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি সরকার রাজ্যকে ৪০ লাখ বাড়ির জন্য দিয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা লাভলি খাতুনের মতো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানরা লুট করেছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনে ১২ হাজার টাকা করে এই রাজ্যে ৭২ লাখ শৌচাগার নির্মাণের টাকা দেয় মোদিজির সরকার (TMC)। সেই টাকাও এরা (Suvendu Adhikari) খেয়ে নিয়েছে। মনরেগা প্রকল্পে ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাজ্য পেয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পেয়েছে ৫৪ হাজার কোটি টাকা। সেই টাকা ১ কোটি ২৫ লাখ ভুয়ো জবকার্ডধারীরা লুটে নিয়ে গিয়েছে। বিহারের বাসিন্দা থেকে শুরু করে বাংলাদেশিরাও এখান থেকে টাকা নিয়ে গিয়েছে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ১০০ দিন নয়, বছরে ২০০ দিন কাজ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনায় দেওয়া হবে তিন লাখি বাড়ি। বিহারের মতো এখানেও, প্রতি ঘরে নলবাহিত জল পাওয়া যাবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে চাঁচল পুরসভা হবেই। উত্তরবঙ্গে এইমস হবে। মালদায় পরিযায়ী শ্রমিকরা জেলায় কাজ পাবেন। প্রতি বছর এসএসসি হবে। ওএমআর কপি সবাই বাড়ি নিয়ে যাবেন। এসব আমাদের অঙ্গীকার।”

    শুভেন্দুর কটাক্ষ-বাণ

    তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকশির উদ্দেশ্যে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “ওর মুখে এখন বড় বড় কথা। ও নাকি আমার হাত-পা ভেঙে দেবে! আরএসপি করত। আইসিডিএসের চাকরি বিক্রি করত। তৃণমূলে থাকাকালীন আমি যখন মালদার অবজারভার ছিলাম, ও আমার গাড়ির দরজা খুলত (TMC)। ওকে কেউ দলে নিতে চায়নি। সবাই বলেছিল চোর। কিন্তু, দেড় বছর ধরে আমার গাড়ির দরজা খুলত আর বন্ধ করত। তাই বাম হাতে ওকে পতাকা ধরিয়েছিলাম। আমি লক্ষ্মণ শেঠ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে হারানো লোক। মালতিপুরে কে জিতবে জানি না। ওখানে হিন্দুদের সংখ্যা কম। কিন্তু রহিমকে আমি জিততে দেব না। কথা দিয়ে গেলাম। তাজমুল আগে ভালো ছিল। এখন বদলে গিয়েছে। আসলে চোরের দলে গিয়ে সবাই বদলে যায়। আমরা আগে সেটা বুঝে পালিয়ে গিয়েছি।” শুভেন্দু বলেন, “উত্তর মালদা আর নন্দীগ্রামকে দেখে রাজ্যের সনাতনীরা একটু এগিয়ে এলে বিজেপি এবার রাজ্যে ২২০টি আসন পাবে। গত লোকসভা নির্বাচনে মালদা উত্তর কেন্দ্রে ৮৫ শতাংশ সনাতনী-আদিবাসী বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলেন। নন্দীগ্রামে সেই হার ৬৫ শতাংশ। রাজ্যের সনাতনীরা এটা দেখে এগিয়ে এলে ভালো। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারির পর তৃণমূল বলবে, ভোটে লড়ব না। চব্বিশের ভোটে তৃণমূল আর বিজেপির ভোটের ব্যবধান ছিল ৪০ লাখ। এসআইআরের প্রথম ঝাঁকুনিতেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৫৮ লাখ নাম। আরও অবৈধ ও ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে তালিকা থেকে (TMC)।”

    শুভেন্দুর তোপ

    উত্তর মালদায় তৃণমূলের বহিরাগত প্রার্থী নিয়েও এদিন (Suvendu Adhikari) ঘাসফুল শিবিরকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। বলেন, “ওরা উত্তর মালদায় স্থানীয় প্রার্থী পায় না। তাই চাঁচল কেন্দ্রে ইংরেজবাজার থেকে নীহাররঞ্জন ঘোষকে নিয়ে আসতে হয়। লোকসভা নির্বাচনে প্রসূন ব্যানার্জির মতো একজনকে প্রার্থী করে। প্রসূন একটা ডাকাত, চরিত্রহীন। ইয়াসিনকে নিয়ে ও ভোট লুট করতে গিয়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী রুখে দিয়েছিল। ও এখনও সরকারি কোষাগার থেকে মাসে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মাইনে তোলে। ওই আবার উত্তর মালদায় তৃণমূলের দলীয় পদে বসে রয়েছে। বিচিত্র এই রাজ্য (TMC)!”

LinkedIn
Share