Tag: Bengali news

Bengali news

  • Kalyani: হাসপাতালে ডায়ালিসিস করাতে এসে এইচআইভি আক্রান্ত পাঁচজন! জেলাজুড়ে শোরগোল

    Kalyani: হাসপাতালে ডায়ালিসিস করাতে এসে এইচআইভি আক্রান্ত পাঁচজন! জেলাজুড়ে শোরগোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাসপাতালে চিকিত্সা করাতে এসে এইচআইভি রোগে আক্রান্ত হলেন রোগী। এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠল কল্যাণী (Kalyani) জেএনএম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে।  হাসপাতালের ডায়ালিসিস ইউনিট থেকে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়েছে। হাসপাতালে ডায়ালিসিস পরিষেবা নিতে এসে পাঁচজন রোগী এইচআইভি সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। এমনই অভিযোগ করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন এক রোগী। আর এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই অনেক রোগীর পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকে ডায়ালিসিস করাতে আসছে না বলে অভিযোগ।

    ঠিক কী অভিযোগ?

    জানা গিয়েছে, কল্যাণী (Kalyani) জেএনএম হাসপাতালে ডায়ালিসিস নিতে আসা এক রোগী এর আগে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে অভিযোগ করেছিলেন। মূলত ডায়ালিসিস বিভাগে অব্যবস্থা নিয়ে তিনি অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগের পর পরই স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে ডায়ালিসিস ইউনিট খতিয়ে দেখা হয়। এরপরই ওই রোগী ফের স্বাস্থ্য দফতরে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ডায়ালিসিস ইউনিটে একজনের সিরিঞ্জ অন্য রোগীকে চিকিত্সার কাজে ব্যবহার করা হয়। আর তারজন্যই সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। পরে, শারীরীক পরীক্ষা করে জানা যায়, গত কয়েকমাসের মধ্যে এই হাসপাতালে ডায়ালিসিস নিতে আসা ৮ জনের মধ্যে ৫ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই তাঁরা সকলেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি উপযুক্ত তদন্তের তিনি দাবি জানান।

    কী বললেন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ?

    স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানোর পরই মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকে। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কল্যাণী (Kalyani) মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অভিজিত্ মুখোপাধ্যায় বলেন,  আমাদের হাসপাতালে ১০টি ডায়ালিসিস বেড রয়েছে। তারমধ্যে একটি বেড এইচআইভি রোগীর জন্য বরাদ্দ রয়েছে। আর একজনের সিরিঞ্জ অন্য রোগীকে দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। তবু, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সুপারের নেতৃত্ব ৮ সদস্যের হাইপাওয়ার কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে কমিটি বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাইপাওয়ার কমিটি তদন্তের প্রয়োজনে যে পাঁচজন এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের পরীক্ষা করবেন। আর হাসপাতালের গাফিলতির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Student Death: খড়্গপুর আইআইটি-র ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের রহস্যমৃত্যু! মৃতদেহের ফের ময়নাতদন্তের নির্দেশ

    Student Death: খড়্গপুর আইআইটি-র ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের রহস্যমৃত্যু! মৃতদেহের ফের ময়নাতদন্তের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খড়্গপুর আইআইটির ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের রহস্যমৃত্যুর (Student Death) ঘটনায় মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছেন, ওই ছাত্রের দেহ কবর থেকে তুলে ফের ময়নাতদন্ত করতে হবে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্তের সময় দুজনকে অবশ্যই হাজির থাকতে হবে। এঁদের মধ্যে একজন হলেন চিকিৎসক অজয় গুপ্ত, যাঁর রিপোর্টের ভিত্তিতেই এদিন হাইকোর্ট ওই চাঞ্চল্যকর নির্দেশ দিয়েছে। অন্যজন হলেন সেই চিকিৎসক, যিনি ইতিমধ্যেই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করেছেন এবং যাঁর দেওয়া রিপোর্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ময়নাতদন্তের যাবতীয় ব্যবস্থা করতে হবে রাজ্য সরকারকেই। বিচারপতি এদিন মন্তব্য করেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ত্রুটি আছে মনে করাতেই তিনি দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিচ্ছেন। এক মাসের মধ্যে ময়নাতদন্তের কাজ সম্পন্ন করে ৩০ শে জুন মামলাটি ফের শুনানির জন্য উঠবে।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    যে ছাত্রের মৃত্যু ঘিরে এই রহস্য, তাঁর নাম ফাইজন আহমেদ। অসমের তিনসুকিয়ার বাসিন্দা এই ছাত্রটি থাকতেন খড়্গপুর আইআইটির হস্টেলে। ২০২২ সালের ১৪ই অক্টোবর হস্টেলের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় (Student Death)। বি টেক থার্ড ইয়ারের ছাত্র ফাইজনকে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়। পরিবারের সদস্যদের আরও অভিযোগ, ফাইজনের মাথার পিছনে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করার স্পষ্ট চিহ্ন তাঁরা দেখেছেন। সেই কারণে মাথার ওই অংশে ছিল জমাটবাঁধা রক্ত। অন্যদিকে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছিল, ওই ছাত্রটি আত্মহত্যা করেছে। তার ঘর থেকে বিষ জাতীয় ওষুধও উদ্ধার হয়েছে। এমনকী ওই ছাত্রের হাতের শিরা ছিল কাটা, এমনটাই দাবি করে পুলিশ আত্মহত্যার তত্ত্বকেই জোরালো করে। এরপরই ওই ছাত্রটির পরিবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। এরপরই ঘটনার তদন্তের জন্য হাইকোর্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি নিয়োগ করে। সেই কমিটির রিপোর্টই এদিন জমা পড়ে, যেখানে ওই ছাত্রের মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরই মামলা অন্যদিকে মোড় নেয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Calcutta High Court: মিথ্যা মাদক মামলা দেওয়ায় পুলিশকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: মিথ্যা মাদক মামলা দেওয়ায় পুলিশকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলায় মানুষকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মূলত দাবিমতো তোলার টাকা না পেলেই পুলিশ ওই রাস্তা অবলম্বন করে, এমন অভিযোগও প্রায়শই শোনা যায়। এই ধরনের অভিযোগ যে মিথ্যা নয়, তা প্রমাণ হয়ে গেল কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়ে। মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকার এই ধরনের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার টাকা কোন পুলিশ কর্মী দেবেন, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারকে। হাইকোর্ট (Calcutta High Court) স্পষ্ট করে দিয়েছে, তদন্তে যদি দেখা যায় একাধিক পুলিশ কর্মী দোষী, তাহলে জরিমানার টাকা সকলকেই দিতে হবে। আরও উল্লেখযোগ্য নির্দেশ হল, এই টাকা দিতে হবে পুলিশ কর্মীদের ব্যক্তিগতভাবে।

    কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এই নির্দেশ?

    এই ঘটনার সঙ্গেও স্বাভাবিকভাবে জড়িয়ে পড়েছে রাজনীতি। মামলা সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী হলেন বিশাল শুক্লা। ঘটনাটি ২০২২ সালের ৯ ই মার্চের। ওইদিন বিশালকে তাঁর দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায় টিটাগড় থানার পুলিশ এবং পরের দিন তাঁকে গ্রেফতার করা হয় মাদক মামলায়। বিশাল শুক্লা এলাকায় কংগ্রেস কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং বিগত পুরসভা নির্বাচনে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস প্রার্থী রাকেশ শুক্লার নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন তিনি। এই ঘটনায় কংগ্রেস গোড়া থেকেই অভিযোগ জানিয়ে আসছে, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে এবং বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই পুলিশ বিশাল শুক্লাকে গ্রেফতার করেছে। তাঁকে ফাঁসিয়ে দিতে মাদকের মতো জঘন্য মামলা দিয়েছে। পুলিশ বিশালের বিরুদ্ধে যে এফআইআর করেছিল, সেটিও খারিজ করার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। হাইকোর্ট (Calcutta High Court) সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে সেটি পাঠিয়ে দিয়েছে। 

    বারবার এমন ঘটনা কেন?

    এই নির্দেশের কথা প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীরা সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণে নেমেছে। মামলাকারী কংগ্রেস কর্মীর আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচির কথায় ফিরে এসেছে তাঁকে পুলিশের মাঝ রাতে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা। তার তীব্র কটাক্ষ, বিরোধীদের কথা বলা বন্ধ করতে সরকার হাতিয়ার করছে পুলিশকেই। অনেকেরই মনে পড়ে যাচ্ছে অনুব্রত মণ্ডলের সেই ভাইরাল ভিডিওর কথা, যেখানে তিনি পুলিশকে গাঁজা কেস দেওয়ার নিদান দিচ্ছেন। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) এদিনের নির্দেশের পর পরিস্থিতি কি আদৌ বদলাবে? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Malda: কালিয়াগঞ্জের পর এবার কালিয়াচক! নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ

    Malda: কালিয়াগঞ্জের পর এবার কালিয়াচক! নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালিয়াগঞ্জকাণ্ড নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। এখনও এই খুনের ঘটনার কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। যদিও এই ঘটনায় চারজন এএসআইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই ঘটনার জের মিটতে না মিটতেই মঙ্গলবার সকালে মালদহের (Malda) কালিয়াচক থানার  উজিরপুরে এক নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় লোকজন মাঠের মধ্যে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে মালদহ (Malda)  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে। নাম ও পরিচয় জানার চেষ্টা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    কী বললেন স্থানীয় বাসিন্দারা?

    মালদহের (Malda) কালিয়াচক থানার পাকাকোট এবং উজিরপুর গ্রামের মাঝখানে মাঠের মধ্যে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। শরীরে একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এদিন স্থানীয় লোকজন মাঠে কাজ করতে গিয়ে চাষের জমিতে ওই নাবালিকার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা গোলাপগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান, ওই কিশোরীকে গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, উদ্ধার হওয়া ওই কিশোরীকে আমরা কেউ চিনতে পারছি না। সম্ভবত ওই কিশোরীর অন্য কোথাও বাড়ি। দুষ্কৃতীরা এখানে নিয়ে এসে অপকর্ম করে তাকে খুন করে চলে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাসচন্দ্র মণ্ডল বলেন, কালিয়াগঞ্জের ঘটনা আমরা খবরের কাগজে পড়ছি। টিভিতে দেখছি। এবার নিজেদের গ্রামে এই ধরনের ঘটনা ঘটবে তা আশা করিনি। কারণ, এই ধরনের ঘটনা এর আগে কখনও হয়নি। ফলে, আমরা খুব আতঙ্কে রয়েছি। আমরা চাই, অবিলম্বে ওই নাবালিকা খুনে যে বা যারা জড়িত রয়েছে তাদের পুলিশ খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক। আর পুলিশ প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই খুনের ঘটনার সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Hospital: মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ১৬ মাস পরেও এমআরআই পরিষেবা চালু করা গেল না হাসপাতালে!

    Hospital: মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ১৬ মাস পরেও এমআরআই পরিষেবা চালু করা গেল না হাসপাতালে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষ হচ্ছে না প্রতীক্ষার। অত্যাধুনিক মানের পরিকাঠামো প্রস্তুত। এক মাস আগে বালুরঘাটে এসে পৌঁছেছে যন্ত্রও। পরিষেবা চালু হচ্ছে বলে সরকারি বিজ্ঞাপনে শহর ছয়লাপ। তবুও মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ১৬ মাস পরেও এমআরআই পরিষেবা চালু করা গেল না বালুরঘাট হাসপাতালে (Hospital)। এবার হিলিয়াম গ্যাসের অভাবে ওই পরিষেবা চালু কার্যত বিশবাঁও জলে। ফলে আজও উন্নত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভিন জেলা বা কলকাতায় ছুটতে হচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মানুষকে। অর্থ বরাদ্দ, অনুমোদন, যন্ত্রপাতি সহ সব কিছুই ঠিক থাকলেও কেন আজও এল না হিলিয়াম গ্যাস, তার উত্তর মেলেনি। বরং এই নিয়ে চলছে  টালবাহানা। সীমান্ত জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গেই কেন এমন টালবাহানা চলে, উঠছে প্রশ্ন। 

    এর আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা

    এর আগে এন্ডোস্কপি, ল্যাপারোস্কপির মতো বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে (Hospital) বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছিল। সেগুলি প্রতিস্থাপিতই করা হয়নি বা ব্যবহার করা হয়নি। পরে ওই যন্ত্রাংশগুলি কলকাতায় ফেরত পাঠানো হয়। অক্সিজেন সংযোগকারী সংস্থার উদাসীনতায় প্রায় দু বছর ধরে চালু না হয়ে পড়ে রয়েছে ২৪ বেডের সিসিইউ বিভাগ। এবারে বহু প্রতীক্ষিত এমআরআই পরিষেবাও চালু না হওয়ায় বাড়ছে ক্ষোভ।

    কী বলছেন বাসিন্দারা?

    এই বিষয়ে বালুরঘাটের এক বাসিন্দা তপন বাগচি বলেন, ‘এমআরআইয়ের জন্য নার্সিংহোমে গেলে অনেক খরচ পড়ে যায়। যখন বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এই মেশিনটি আসে, আমরা ভেবেছিলাম আর অসুবিধা হবে না। কিন্তু একমাস হতে চলল এখনও পরিষেবা চালু হল না। আমরা চাই, দ্রুত এই পরিষেবা চালু হোক।’
    প্রসঙ্গত, সীমান্তের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবা প্রায় নেই বললেই চলে। এই জেলার অধিকাংশ মানুষই সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। অথচ বিভিন্ন সময় চিকিৎসক ও পরিকাঠামোর অভাব থাকায় জেলা থেকে রেফারের হার বেশি হয় বলে অভিযোগ। এছাড়াও বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল (Hospital) নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। যা নিয়ে প্রত্যন্ত এই জেলার মানুষকে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ বাইরের রোগীদের নিয়ে যেতে যা খরচ, তা বহন করা সম্ভব হয় না৷ আজও এই জেলায় চালু নেই এমআরআই পরিষেবা। অথচ ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসেই রায়গঞ্জ থেকে বালুরঘাট হাসপাতালে এই পরিষেবা চালু হল বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমুন্ত্রী। তার পরের দিনই বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের নিচতলায় একটি ঘর বরাদ্দ করা হয়। ধীরে ধীরে পরিকাঠামো গড়া হয়। চিলার মেশিন বসানো হয়। প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত মার্চ মাসেই বালুরঘাটে এসে পৌঁছয় এমআরআই মেশিন। এই মেশিন আসতেই বালুরঘাট শহরের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার দিয়ে এই পরিষেবার বিষয়ে মানুষের সামনে প্রচার তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু আজও হিলিয়াম গ্যাস না আসায় ওই পরিষেবা চালুই হয়নি। ফলে এখনও জটিল রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে রোগীকে বাইরে নিয়ে যেতে হচ্ছে। চলছে রোগী হয়রানিও। 

    কী আশ্বাস দিলেন হাসপাতালের সুপার?

    বালুরঘাট সদর হাসপাতাল (Hospital) সুপার কৃষেন্দুবিকাশ বাগ জানান, এমআরআই মেশিন প্রতিস্থাপিত করা হয়ে গিয়েছে। কিন্ত হিলিয়াম গ্যাসের অভাবে ওই পরিষেবা চালু করা যাচ্ছে না। যে সংস্থা এই গ্যাস সরবরাহ করবে, তারা এখনও এই গ্যাস দেয়নি। কবে দেবে তাও জানা নেই। আমরাও চাইছি দ্রুত বালুরঘাট হাসপাতালে এমআরআই পরিষেবা চালু করতে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • SIT: রাজু ঝা খুনের তদন্তে এক ব্যবসায়ীর অফিসে তল্লাশি চালাল সিট, কী মিলল?

    SIT: রাজু ঝা খুনের তদন্তে এক ব্যবসায়ীর অফিসে তল্লাশি চালাল সিট, কী মিলল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজু ঝা খুনের ঘটনায় ফের কয়লা মাফিয়া নারায়ণ খারকার দুর্গাপুর সিটি সেন্টার অফিসে ফের হানা দিল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট (SIT)। প্রথমে সিটের (SIT)  আধিকারিকেরা নারায়ণ খারকার অফিসের পিছনে থাকা একটি বলেরো গাড়িতে অভিযান চালান। সেখান থেকে ল্যাপটপ এবং বেশকিছু নথিপত্র সংগ্রহ করে সিট। পরে, রাজু ঝা খুনে ধৃত অভিজিত্ মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে কয়লা মাফিয়ার অফিসে তল্লাশি চালান সিটের আধিকারিকেরা।

    নারায়ণ খারকার অফিস থেকে কী বাজেয়াপ্ত করল সিট (SIT)?

    রাজু ঝা খুনের ১৮ দিনের মাথায় অভিজিত্ মণ্ডলকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এই খুনের পিছনে আর কারা রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত করছে সিটের (SIT) আধিকারিকেরা। অভিজিত্ গ্রেফতার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই খুনের ঘটনায় সিটের (SIT) সদস্যরা এর আগে পৌঁছে গিয়েছিলেন নারায়ণ খারকার অফিসে। ধৃত অভিজিৎ মণ্ডলকে নিয়ে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের দুটি দোকানে তল্লাশি চালিয়েছিলেন সিটের (SIT)  তদন্তকারী আধিকারিকরা। যদিও ওই বন্ধ দোকান দুটির চাবি না মেলায় পুলিশ সিল করে। পরে, অভিজিত্ মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেন সিটের আধিকারিকেরা। সেখানেও বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করেছিলেন তাঁরা। আদালতের নির্দেশে ওই ব্যবসায়ীর অফিসে তল্লাশির অনুমতি নিয়ে সোমবার ফের আসেন তদন্তকারী দল। ঘটনাস্থলে ছিলেন নারায়ণ খারকার আইনজীবীরা। অফিসের সিল খুলে সিটের আধিকারিকরা তল্লাশি শুরু করেন। ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল। অভিজিত্ মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। নারায়ণ খারকার আইনজীবী পূজা কুর্মি বলেন, আমরা তদন্তকারী আধিকারিকদের সমস্তরকম সহযোগিতা করেছি। তাঁরা অফিসের ভিতরে সিসি টিভি ফুটেজের নথি সংগ্রহ করেছেন। আরও কিছু নথি তাঁরা নিয়ে গিয়েছেন। তবে, অভিজিত্ এই অফিসে কোনওদিনই কাজ করতেন না। প্রসঙ্গত, ১ এপ্রিল দুর্গাপুর থেকে কলকাতার উদ্দেশ্য রওনা দেন রাজু ঝা। সঙ্গে ছিল ব্রতীন ও আবদুল লতিফ। শক্তিগড়ে তাঁরা ঝালমুড়ি খেতে গাড়ি থেকে নীচে নামেন। সেই মুহূর্তে একটি নীল গাড়িতে করে আসা দুই জন শার্প শ্যুটার গাড়ির প্রথম সিটে বসে থাকা রাজুকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজু ঝা খুনের শার্প শ্যুটারদের দুর্গাপুরে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল ধৃত অভিজিৎ মণ্ডল। এবার তার সূত্র ধরেই প্রকৃত খুনির নাগাল পেতে চাইছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।

     দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Covid 19: কেন্দ্রের পাঠানো করোনার বুস্টার ডোজ স্টোরে থেকে নষ্ট হয়েছে, বাড়তি উদ্বেগ রাজ্যে! 

    Covid 19: কেন্দ্রের পাঠানো করোনার বুস্টার ডোজ স্টোরে থেকে নষ্ট হয়েছে, বাড়তি উদ্বেগ রাজ্যে! 

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের স্টোররুমে থেকে নষ্ট হয়েছে করোনা (Covid 19) টিকার ৫০ হাজার ডোজ। কিন্তু এখন করোনার সংক্রমণ বাড়তেই টিকাকরণে হিমশিম খাচ্ছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। আর সময়মতো বুস্টার ডোজ না মেলায় বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে করোনার নতুন প্রজাতি। রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে করোনার টিকার ভান্ডার প্রায় শূন্য। তাই বিশেষজ্ঞ মহল করোনার নতুন প্রজাতির মোকাবিলা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। 

    করোনার নতুন প্রজাতির প্রকোপ কীভাবপ বাড়ছে রাজ্যে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে করোনার (Covid 19) নতুন প্রজাতির প্রকোপ বাড়ছে। করোনার পজিটিভিটি রেট ১৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বিশেষত কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলির মতো জেলাগুলির সংক্রমণের হার চিন্তা বাড়াচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি মোকাবিলার মূল হাতিয়ার যে করোনা টিকা, তা আপাতত পর্যাপ্ত নেই রাজ্যের কাছে। স্বাস্থ্য দফতরের একাংশ জানাচ্ছে, সময়মতো বুস্টার ডোজ দিতে না পারায় এই পরিস্থিতি। করোনার বুস্টার ডোজ নেওয়ার জন্য কোনওরকম উদ্যোগ স্বাস্থ্য দফতরের তরফে নেওয়া হয়নি। যার ফলে দীর্ঘদিন রাজ্যের বিভিন্ন সেন্টারে কোভিশিল্ড ও কোভ্যাকসিন পড়ে ছিল। 

    কীভাবে নষ্ট হল করোনার টিকা?

    স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, রাজ্যের ভান্ডারে কয়েক লাখ করোনা (Covid 19) টিকা ছিল। কিন্তু সেগুলি ব্যবহার করা হয়নি। ফলে ৩১ মার্চের মধ্যে সেই টিকা নষ্ট হয়ে যেত। একদিকে যেমন এত টিকা নষ্ট হলে বিশাল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হত, তেমনি বহু মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতেন। তাই দিল্লির তরফে জানানো হয়, টিকা অন্য রাজ্যে পাঠানো হোক। রাজ্য ব্যবহার করতে না পারায়, কয়েক মাস আগে ১০ লাখ কোভিশিল্ড পাটনায় পাঠানো হয়েছে। আর আড়াই লাখ কোভিশিল্ড গিয়েছে হায়দরাবাদ। কিন্তু তারপরেও ৫০ হাজার টিকার ডোজ রাজ্যের স্টোররুমে পড়ে থেকে নষ্ট হয়েছে। 

    টিকা দেওয়ার তৎপরতাই নেই

    করোনার (Covid 19) নতুন প্রজাতি শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ার পরেও রাজ্যের তরফে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ তৎপরতা নজরে আসেনি বলেই অভিযোগ করছে একাংশ। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি মাস থেকেই রাজ্যে করোনা টিকাকরণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে গোটা রাজ্যে দৈনিক করোনা বুস্টার নেওয়ার সংখ্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ২০০-২৫০ জন। অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে আপাতত করোনা টিকার ভান্ডার প্রায় খালি। বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও যে সংখ্যক ডোজ রয়েছে, তা চলতি সপ্তাহেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ঠিক সময়ে টিকাকরণ কর্মসূচি চললে এবং প্রয়োজনীয় টিকা পাওয়ার জন্য আবেদন করলে পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হতে পারত। 

    কী জানালেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা?

    যদিও রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা সিদ্ধার্থ নিয়োগী জানান, কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। টিকা পাঠানোর আবেদনও করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহল অবশ্য মনে করছে, রাজ্যের টিকাকরণের বিষয়ে আরও বেশি তৎপরতা জরুরি ছিল। করোনার মতো মহামারি রুখতে টিকা নেওয়ার জন্য লাগাতার প্রচার জরুরি। জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে, এ তো স্পষ্ট। তাই করোনার (Covid 19) টিকা ও বুস্টার ডোজ নেওয়া কতখানি জরুরি, সে বিষয়ে মানুষকে বোঝানোর দায়িত্ব সরকারের। ঠিক সময়ে বুস্টার ডোজ নিলে মোকাবিলা আরও সহজ হত বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Mamata Banerjee: মমতার আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, খোঁজ রাখেনি কেউই!

    Mamata Banerjee: মমতার আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, খোঁজ রাখেনি কেউই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজকের মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) তখন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী। তারিখটা ১৯৯৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। বাম সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে রাজ্যজুড়ে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের শাসনে একচ্ছত্র অধিপতি মজিদ মাস্টার। আর সেখানে ঢুকবেন যুব কংগ্রেস নেত্রী। তাঁর একডাকে হাজার হাজার কর্মী হাজির। সূত্র মারফত জানা যায়, সেদিন গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন জ্যোতি বসু। যার জেরে তিনজন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারান আর জখম হন বহু। তার মধ্যে একজন ছিলেন নির্মল দাস। সেদিনের তরতাজা যুবক আজ প্রৌঢ়।

    ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?

    তৎকালীন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ডাকে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে জমায়েত হয়েছিলেন কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। কাছারি ময়দানে আইন অমান্য আন্দোলন হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। কংগ্রেস নেতা সৌমেন মিত্র, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি-সহ দলের প্রথম সারির একাধিক নেতা হাজির ছিলেন যুব কংগ্রেসের সেই আন্দোলনে৷ প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন হলেও পরে তা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার রচপাল সিংয়ের নির্দেশে পুলিশ কর্মীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। গুলিতে সেদিন গোবিন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে বারাসতের এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হন আরও অনেকে। সেই তালিকায় ছিলেন নির্মল দাসও। বসিরহাটের সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লক থেকে ম্যাটাডোর বোঝাই করে সেদিন তিনিও এসেছিলেন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিতে। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৩ বছর। পালাতে গিয়ে গুলি এসে লাগে ডান পায়ে। সঙ্গে সঙ্গে মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। তাতে মারাত্মক জখম হয় চোয়ালও। এরপর গুলিবিদ্ধ ওই যুবককে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ঘটকপুকুরের কাছে এক বেসরকারি হাসপাতালে।

    চিকিৎসার খরচ মেটাতে সব গেছে

    সেখানে প্রায় তিনমাস চিকিৎসা চলে তাঁর। হাসপাতালের বিপুল খরচ মেটাতে গিয়ে একসময় সন্দেশখালির গ্রামের পৈতৃক ভিটে এবং জমিজমা সবকিছুই বিক্রি করে দিতে হয়। সাহায্য করা দূরের কথা, খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনটুকুও মনে করেননি শাসকদলের কোনও নেতা অথবা মন্ত্রী (Mamata Banerjee)। বারাসতের রামকৃষ্ণপল্লির এক চিলতে বাড়িতে কোনওরকমে দিনযাপন করছেন নির্মল দাস। পরিবার বলতে স্ত্রী, দুই ছেলে, পুত্রবধূ, নাতনি রয়েছে তাঁর। দুই ছেলের সামান্য রোজগারে সংসার চলে না ঠিকমতো।

    দলের তরফে জোটেনি কোনও আর্থিক সাহায্য

    সেদিনের পুলিশের নির্মম গুলি চালানোর ঘটনা আজও টাটকা নির্মল দাসের স্মৃতিতে। এরপর প্রায় ২৮ বছর কেটে গিয়েছে। সেদিন যিনি বিরোধী নেত্রী ছিলেন, আজ তিনিই বাংলার মসনদে। কিন্তু রক্তাক্ত যুবক নিৰ্মল দাসের খোঁজ নিতে কেউ আসেনি। কেউ জানতে চায়নি, তিনি কি বেঁচে আছেন? থাকলেও কীভাবে? না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিন-তিনবার মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) হওয়ার পরেও কেউ আসেনি নির্মল দাসের কাছে। জোটেনি কোনও সরকারি চাকরি কিংবা দলের তরফে আর্থিক সাহায্য। তাই নিরুপায় হয়ে পরিবারের জন্য আজ তাঁকে বেছে নিতে হয়েছে ভ্যান। অশক্ত শরীর, গুলি লাগা পায়ে ভ্যান চালিয়ে দিন কাটছে ৭২ বছরের নির্মলবাবুর। জীবনের শেষবেলায় তিনি এবার মুখ্যমন্ত্ৰী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে চান ৷ সুযোগ পেলে তাঁর কাছে চাকরির দরবার করবেন সেদিনের যুবক নির্মল দাস।

    ছেলের একটা চাকরি চান নির্মল দাস

    এই বিষয়ে নির্মল দাস বলেন, “সেদিনের ঘটনার পর থেকে কোনও নেতা খোঁজখবর রাখেনি। অনেকের কাছে গিয়েছি সাহায্যের জন্য। কিন্তু কিছুই মেলেনি। ইচ্ছে আছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করব। তাঁর কাছে সাহায্যের আবেদন করতে চাই। আমার তো বয়স হয়েছে। আর কতদিনই বা বাঁচব। তার আগে যদি ছোট ছেলের একটি চাকরির ব্যবস্থা হয়, তাহলে খুব উপকার হবে।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • TMC: দলের ৯০ শতাংশ কর্মীই দুর্নীতিগ্রস্ত! প্রকাশ্যে স্বীকারোক্তি প্রবীণ তৃণমূল নেতার

    TMC: দলের ৯০ শতাংশ কর্মীই দুর্নীতিগ্রস্ত! প্রকাশ্যে স্বীকারোক্তি প্রবীণ তৃণমূল নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই তৃণমূল (TMC)  সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোচবিহার থেকে সাগর পর্যন্ত টানা দুই মাসের জন্য জনসংযোগ যাত্রার শুরু করেছেন। আর এই জনসংযোগ যাত্রার দিনেই আলিপুরদুয়ারে দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একেবারে প্রকাশ্যে সরব হলেন  তৃণমূল (TMC) কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা দলের বর্ষীয়ান নেতা জহর মজুমদার। এই নেতা একসময় অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলার তৃণমূল (TMC) কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি আলিপুরদুয়ার বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। সোমবার প্রবীণ এই তৃণমূল নেতা জহর মজুমদার সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার ঘটনা বেশ তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    দুর্নীতিগ্রস্ত নিয়ে কী বললেন তৃণমূল (TMC) নেতা?

    প্রবীণ তৃণমূল (TMC) নেতা জহর মজুমদার বলেন, দলের পুরানো কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। আর এখন অন্য দল থেকে যারা আমাদের দলে এসেছে তাঁরা লুটেপুটে খাচ্ছেন। সাফল্যের সঙ্গে তাঁরা এই কাজ করছেন। আর পুরানো কর্মীদের বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই দলে ৯০ শতাংশ কর্মী দুর্নীতিগ্রস্ত। এদের সরাতে হবে। সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি করা হয়েছে। শুধু রাজ্যের কথা বলছি না, এই আলিপুরদুয়ার জেলায় দলীয় নেতারা যে দুর্নীতি করছে তার কথা বলছি। এই আলিপুরদুয়ারে প্রচুর পুকুর ছিল। এখন আর একটাও পুকুর নেই। অবাধে পুকুর ভরাট করা হয়েছে। আর এসব কাজ করেছেন দলের কাউন্সিলর এবং নেতারা। গোটা জেলায় হর্টিকালচারারের  চারাগাছ বিতরণ নিয়ে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, উদয়ন গুহের বাবা কমল গুহ গম  বীজ কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    কী বললেন আলিপুরদুয়ার টাউন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি?

     জহরবাবুর এই মন্তব্যে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন তৃণমূল (TMC)  নেতৃত্ব। আলিপুরদুয়ার টাউন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, জহরবাবুর  বয়স হয়ে গেছে। সেই কারণে মাথা কাজ করছেন না।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • ABVP: কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে এসপি অফিসের সামনে বিক্ষোভ এবিভিপির

    ABVP: কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে এসপি অফিসের সামনে বিক্ষোভ এবিভিপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে উত্তরদিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাল সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP)। গত তিনদিন ধরে দফায় দফায় বিক্ষোভ অবরোধে কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে কালিয়াগঞ্জের পরিস্থিতি। এই আবহে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে সওয়াল তুলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। প্রতিটি থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচির পরে আজ বিজেপির তপশিলি শাখা জেলায় জেলায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এবিভিপির মিছিল শুরু হয় রায়গঞ্জের কলেজ মোড় থেকে। জেলার শতাধিক নেতা কর্মীদের ভিড়ে ঠাসা মিছিলে ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সঙ্ঘের ছাত্র শাখার (ABVP) মিছিল রুখতে এদিন প্রথম থেকেই সক্রিয় ছিল পুলিশ। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি কর্মীদের একাংশ। তাদের দাবি, এবিভিপিকে (ABVP) আটকাতে পুলিশ যতটা সক্রিয়, ততটাই যদি তদন্তের ক্ষেত্রে হতো! পুলিশের তৈরি বাঁশের প্রথম ব্যারিকেড ভাঙতে সক্ষম হয় এবিভিপি। 

    কী বললেন এবিভিপি নেতৃত্ব

    এদিনে বিক্ষোভে হাজির ছিলেন এবিভিপির (ABVP) উত্তরবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক শুভব্রত অধিকারী তিনি বলেন, পুলিশ শাসক দলের দলদাসে পরিণত হয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। একটা গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে আত্মহত্যা বলে চালানোর চক্রান্ত চলছে। পরিকল্পিতভাবে জেলার পুলিশ সুপার শাসক দলের সঙ্গে গোপনে এই সব চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন। আন্দোলনকে লাগাতার চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভব্রতের আরও সংযোজন, এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি আমরা। কারণ রাজ্য পুলিশের উপর আমাদের ভরসা নেই। শুভব্রত ছাড়াও এদিনের কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন এবিভিপি (ABVP) নেত্রী সুমিতা সেন, ছাত্র নেতা অভিজিৎ রায়, কৌস্তভ আচার্য সহ অন্যান্যরা।

    জাতীয় তফশিলি কমিশনের চেয়ারম্যান অরুণ হালদার কী বললেন

    অন্যদিকে, সোমবার দিল্লি যাওয়ার পথে বাগডোগরা বিমানবন্দরে জাতীয় তফশিলি কমিশনের চেয়ারম্যান অরুণ হালদার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর মৃতার পরিবারের সঙ্গেই দেখা করেছি। সকলের সঙ্গে কথা বলে এবং সবকিছু দেখে মনে হয়েছে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছে। এই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কেননা নিরপেক্ষ তদন্ত হচ্ছে না। ঘটনার পর থেকে পুলিশের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। আমরা দিল্লি থেকে ছুটে এসেছি। লিখিতভাবে জানানোর পরও প্রোটোকল অনুযায়ী আইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসক আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় এই ঘটনার যে তদন্তকারী অফিসার তাঁকেও পাওয়া যায়নি। এর পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। তা আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share