Tag: Bengali news

Bengali news

  • Thailand Cambodia Ceasefire: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

    Thailand Cambodia Ceasefire: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্তে যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire)। সপ্তাহ তিনেক ধরে চলা প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ফলে প্রায় দশ লাখ মানুষ তাঁদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে অবস্থানে সেনারা রয়েছেন, সেখানেই ফ্রন্টলাইন স্থির রাখা হবে, নতুন করে সেনা বা রসদ পাঠানো বন্ধ থাকবে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে যত দ্রুত সম্ভব নিজ নিজ (Deadly Clash) বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি টানা ৭২ ঘণ্টা কার্যকর থাকলে, জুলাই মাস থেকে তাইল্যান্ডের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

    যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire)

    চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সহায়তায় দুই দেশের মধ্যে টানা কয়েক দিনের আলোচনার পর এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। চুক্তিটিতে বাস্তুচ্যুতদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মাইন সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। তাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্খফানিত যুদ্ধবিরতিকে অন্য পক্ষের আন্তরিকতার একটি পরীক্ষা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হয় বা লঙ্ঘিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার তাইল্যান্ড বজায় রাখবে।” রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্কের আশা, এই যুদ্ধবিরতি শান্তির পথ প্রশস্ত করবে। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক মুখপাত্রের বাস্তবায়নে সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বানও জানান।

    যুদ্ধবিরতিতে গররাজি ছিল তাইল্যান্ড

    তাইল্যান্ড প্রথমে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে গররাজি ছিল। তাদের যুক্তি ছিল, আগের যুদ্ধবিরতি সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি, কম্বোডিয়া সংঘাতটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা করছে বলে তাইল্যান্ড মনে করে, তাতেও তারা অসন্তুষ্ট ছিল। জুলাই মাসের আগের যুদ্ধবিরতির তুলনায় এবার একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যভাবে এতে যুক্ত ছিলেন না, যদিও আমেরিকার বিদেশ দফতর প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জড়িত ছিল। চলতি মাসের শুরুতেই সেই আগের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে, যখন নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire) ভাঙার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে। তাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাইল্যান্ডের সি সা কেট প্রদেশে কম্বোডিয়ার দিক থেকে গোলাবর্ষণের জবাবে তাদের সেনারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনায় দুজন তাই সেনা জখম হন।

    তাইবাহিনীর হানা

    অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দাবি, প্রথমে আক্রমণ চালায় তাইবাহিনী, প্রেয়াহ ভিহেয়ার প্রদেশে। তারা আরও জানায়, কম্বোডিয়া পাল্টা আক্রমণ করেনি। ডিসেম্বরজুড়ে সংঘর্ষ চলতে থাকে। শুক্রবার তাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার ভেতরে আরও বিমান হামলা চালায় (Deadly Clash)। তাই বিমান বাহিনীর দাবি, বেসামরিক লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তারা কম্বোডিয়ার একটি সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এসব হামলাকে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরের ওপর নির্বিচার আক্রমণ বলে অভিযোগ করেছে। এবার যুদ্ধবিরতি কতটা টিকে থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। কারণ দুই দেশেই জাতীয়তাবাদী আবেগ তীব্রতর হয়ে উঠেছে।

    যুদ্ধ ব্যাপক ক্ষয় কম্বোডিয়ার

    বিশেষ করে কম্বোডিয়া বিপুল সংখ্যক সেনা এবং উল্লেখযোগ্য সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। সীমান্তে আগে দখলে থাকা অবস্থানগুলো থেকে তাদের সরে যেতে হয়েছে এবং তাই বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এসব ক্ষোভ দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে (Thailand Cambodia Ceasefire)। সীমান্ত নিয়ে এই দুই দেশের মতবিরোধের ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরানো। তবে চলতি বছরের শুরুতে উত্তেজনা বেড়ে যায়, যখন বিতর্কিত একটি মন্দিরে কম্বোডিয়ার কয়েকজন নারী দেশাত্মবোধক গান গেয়েছিলেন (Deadly Clash)। মে মাসে এক সংঘর্ষে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হন। এর দুমাস পরে, জুলাইয়ে, সীমান্তজুড়ে টানা পাঁচ দিন ধরে তীব্র লড়াই চলে। এতে কয়েক ডজন সেনা ও নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান,  বাস্তুচ্যুত হন হাজার হাজার নাগরিক। মালয়েশিয়া এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতার পরে দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ষণস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়, যা অক্টোবরের শেষ দিকে স্বাক্ষরিত হয়।

    কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি

    ট্রাম্প এই চুক্তির নাম দেন “কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি”। এই চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষকে বিতর্কিত অঞ্চল থেকে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার করতে হবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি অস্থায়ী পর্যবেক্ষক দল গঠন করতে হবে। তবে নভেম্বর মাসে তাইল্যান্ড এই চুক্তি স্থগিত করে দেয়, যখন মাইন বিস্ফোরণে তাই সেনারা জখম হন। তাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সেই সময় জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তাজনিত হুমকি বাস্তবে একেবারেই কমেনি (Thailand Cambodia Ceasefire)।

  • Winter Air Pollution: খোলা জায়গায় পোড়ানো প্লাস্টিক অত্যন্ত বিষাক্ত, কলকাতার বায়ু দূষণ নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Winter Air Pollution: খোলা জায়গায় পোড়ানো প্লাস্টিক অত্যন্ত বিষাক্ত, কলকাতার বায়ু দূষণ নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়লার আগুন, যানবাহনের ধোঁয়া, অনিয়ন্ত্রিত কলকারখানা এবং শিল্প কেন্দ্রের বর্জ্য কলকাতার দূষিত বাতাসের প্রধান কারণ। অবশ্য আরও একটি কারণ রয়েছে, যাকে একেবারেই উপেক্ষা করা ঠিক নয় কিন্তু খুব কমই সমাধান নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা হয়। এবার ভাবনা চিন্তা শুরু করা উচিত। আর তা হল বর্জ্য পোড়ানো এবং সেখান থেকে সৃষ্টি হওয়া ধোঁয়া। এই সবটাই পরিবেশকে (Winter Air Pollution) মারাত্মকভাবে দূষিত করে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, কঠিন বর্জ্যে প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে গুরুতরভাবে বেড়ে যায় স্বাস্থ্যের ঝুঁকি। খোলা জায়গায় পোড়ানো হলে প্লাস্টিক অত্যন্ত বিষাক্ত এবং কার্সিনোজেনিক নির্গত করে।

    পিএম ১০ এবং পিএম ২.৫ দূষণ প্রধান কারণ

    ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কলকাতার দূষিত (Winter Air Pollution) বাতাসের প্রধান কারণ নির্ধারণের জন্য দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আবর্জনা পোড়ানো পিএম ১০ (PM10) এবং আরও মারাত্মক পিএম ২.৫ (PM2.5) উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভূমিকা রাখে। এই উভয় ক্ষুদ্র কণাই আমরা বাতাসের সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করি। এই দুটির মধ্যে, পিএম ২.৫, ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তার কম ব্যাসের কণা হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বৃহত্তর ঝুঁকি কারণ। এই বিষাক্ত কণাই (Kolkata Environment) মানুষের ফুসফুসে ঢুকতে পারে। যার পরিণতিতে অসুস্থতা এবং প্রাণহানিও ঘটতে পারে।

    বালিগঞ্জ, বিধাননগর, যাদবপুরে বায়ুর মান কেমন?

    প্রতি শীতকালে, কলকাতার বাতাসের মান নিম্নগামী হয় এবং তাপমাত্রার পারদও কমে যায়। শনিবার সকাল ১০ টায়, ভিক্টোরিয়ায় বাতাসের মান খুব খারাপ ছিল। বালিগঞ্জ, বিধাননগর, যাদবপুর এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিটি রোড ক্যাম্পাস) বাতাস আরও খারাপ ছিল। তবে ফোর্ট উইলিয়ম এবং রবীন্দ্র সরোবরে বাতাসের মান ছিল মাঝারি।

    কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড কর্তৃক প্রস্তুত জাতীয় বায়ু মানের সূচকে “মাঝারি” “ভালো” এবং “সন্তোষজনক” এর নীচে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। অপর দিকে “নিরাপদ” এবং “খুব খারাপে”র ওপর রয়েছে কলকাতার বাতাস। গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালে দূষণের (Winter Air Pollution) উৎসগুলি একেবারে যে থাকে না তা নয়, উষ্ণ বাতাস এবং বৃষ্টির মতো জলবায়ুগত (Kolkata Environment) কারণগুলি কিছু দূষণকারী পদার্থগুলিকে ছড়িয়ে দেয় বা ধুয়ে ফেলে। এতে দূষণের মাত্রাটা কিছুটা হলেও কম থাকে। তবে শীতকালে, বাতাস ঠান্ডা এবং ভারী থাকে। ফলে উষ্ণ বাতাসের মতো দ্রুত উপরে ওঠে না। শীতকালে বাতাসের গতিও সাধারণত কম থাকে। তাই এই সমস্ত দূষণকারী পদার্থগুলি আটকে থাকে নিম্ন বায়ুমণ্ডলে।

    দূষণে অংশীদারিত্ব কত?

    কলকাতায় দূষিত বাতাসের প্রধান উৎসগুলি হল ধুলো, কয়লা এবং জৈববস্তু পুড়িয়ে রান্না, যানবাহনের ধোঁয়া নির্গমন, শিল্প দূষণ এবং আবর্জনা পোড়ানো। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল ধুলো, পিএম ১০। দূষণ সৃষ্টির জন্য ৪৩ শতাংশ দায়ী। রাস্তার ধারের খাবারের দোকান, খোলা জায়গায় রান্নার জন্য কয়লার ব্যবহার, জৈববস্তুর ব্যবহার এবং ইস্ত্রি করে কয়লার ব্যবহার সহ আরও নানা কারণে পিএম ২.৫ দূষণ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে। আনুমানিক দূষণের ২৯ শতাংশ ভূমিকা পালন করে। একইভাবে শিল্প দূষণ (Kolkata Environment) ২১ শতাংশ এবং যানবাহন ২০ শতাংশ ধোঁয়া ছড়ায়।

    বেশিরভাগই গলা এবং বৃহৎ শ্বাসনালীতে জমা হয়

    পিএম১০ এবং পিএম২.৫ উভয়ই আমাদের ক্ষতি করে। কিন্তু পিএম২.৫ আরও বেশি ক্ষতি করে। পিএম২.৫-তে সূক্ষ্ম এবং অতি-সূক্ষ্ম উভয় ধরনের কণাই থাকে, যা ফুসফুসজুড়ে ভ্রমণ করতে পারে। এই কণাগুলি রক্ত ​​সঞ্চালনে প্রবেশ করতে পারে এবং সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কলকাতা মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পালমোনোলজিস্ট অরূপ হালদার বলেন, “শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রভাব এক্সপোজারের সময়কাল ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিন ধরে এক্সপোজারের স্পষ্টতই খারাপ প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য তীব্র এক্সপোজারও ক্ষতির কারণ হয়।”

    বায়ুর মান সূচক (AQI) অনুসারে, “মাঝারি” বায়ুর মানও হাঁপানি, ফুসফুসের রোগ এবং হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। “খারাপ” বাতাসের গুণমান কমে গেলে দীর্ঘদিন ধরে সংস্পর্শে থাকার ফলে বেশিরভাগ মানুষের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে “খুব খারাপ” বাতাস (Kolkata Environment) দীর্ঘক্ষণ সংস্পর্শে থাকার ফলে “শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা” দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকরা বলেছেন পিএম ১০ বেশিরভাগই গলা এবং বৃহৎ শ্বাসনালীতে জমা হয়। এগুলি নাক এবং বৃহৎ শ্বাসনালীতে জ্বালাভাবের সৃষ্টি করে।

    বর্জ্য পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন

    নয়াদিল্লির সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের পরিচালক অনুমিতা রায় চৌধুরী বলেন, “পিএম২.৫ এর উৎপাদনে অবশ্যই রাশ টানতে হবে। শিল্প দূষণ, যানবাহনের নির্গমন এবং বর্জ্য পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের করণীয় তালিকার শীর্ষে থাকা উচিত। শিল্প দূষণের উৎসগুলি বেশিরভাগই স্থানীয় এবং পার্শ্ববর্তী। সরকারের উচিত একটি অঞ্চলের মধ্যে শিল্প দূষণ (Winter Air Pollution) নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সুকৌশল ঠিক করা। এটা করতে পারলেই কলকাতার বায়ুর (Kolkata Environment) মান উন্নত করা সম্ভব হবে। হতে পারে সে দূষণ হাওড়া অথবা কলকাতার উপকণ্ঠ থেকে আসছে। এর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জায়গাগুলির কথাও  বিবেচনা করা উচিত।”

    দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায় কী?

    ডিজেল এবং পেট্রোলচালিত যানবাহনের পরিবর্তে আরও বৈদ্যুতিক যানবাহন বেশি বেশি ব্যবহার করতে হবে। সমস্ত কয়লাচালিত ওভেনকে বিদ্যুৎচালিত ইন্ডাকশন ওভেন দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে বায়ু দূষণে ছোট খাবারের দোকানগুলির ভূমিকা কমে যাবে। হকার এবং যারা ইস্ত্রি ইউনিট চালান তাঁদের বৈদ্যুতিক চালিত ইন্ডাকশন ওভেন বা হিটিং চালানোর জন্য উৎসাহিত করা উচিত।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান পুনর্বসু চৌধুরী বলেন, “সরকারের উচিত তাদের ভর্তুকিযুক্ত বিদ্যুৎব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা। রাজ্য দূষণ (Kolkata Environment) নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কর্তারা জানান, শহরজুড়ে নির্মাণ কাজের কারণে বাতাসে এত ধুলো ঝুলে আছে। জল ছিটিয়ে রাস্তার ধুলো ওড়ানো বন্ধ করা যেতে পারে। নির্মাণস্থলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জল ছিটিয়ে মাটি এবং নির্মাণ সামগ্রী আর্দ্র রাখা উচিত। এটি ধুলো উড়তে বাধা দেবে।”

  • Bharats Rise: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিল জানেন?…

    Bharats Rise: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিল জানেন?…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউএইচইএফ) ২০২৫ অনুষ্ঠিত হল  ১৯–২০ ডিসেম্বর, মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াতে। এই অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারণ, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রে সভ্যতাগত মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করে ভারতের সমকালীন অর্থনৈতিক আলোচনায় এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত চিহ্নিত করেছে। এটি কেবল (Hindu Economic Forum) একটি ব্যবসায়িক সম্মেলন নয়, ধর্ম, শৃঙ্খলা ও জাতীয় স্বার্থে প্রোথিত, আত্মবিশ্বাসী ও ভবিষ্যতমুখী এক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরাই ছিল এই সমাবেশের লক্ষ্য।

    কারা উপস্থিত ছিলেন (Bharats Rise)

    দুদিনের এই ফোরামে কেন্দ্র ও রাজ্যের সিনিয়র মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী, এমএসএমই নেতৃত্ব, স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশ-বিদেশের চিন্তাবিদরা একত্রিত হন। বিভিন্ন অধিবেশনে বারবার যে বার্তাটি স্পষ্ট হয়েছে তা হল, ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান কেবল পুঁজি ও প্রযুক্তির জোরে নয়, বরং সম্পদ সৃষ্টির একটি সুসংগঠিত, মূল্যবোধভিত্তিক পন্থার মাধ্যমে এগোতে হবে (Bharats Rise)। ফোরামের উদ্বোধন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি আস্থাভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। নবি মুম্বইয়ে ৫৪তলা বিশিষ্ট একটি ‘আফ্রিকা সেন্টার’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করে তিনি। বলেন, “আফ্রিকা আগামী দিনের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রের প্রতিটি তলায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দফতর থাকবে, যা বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সম্পৃক্ততার জন্য একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরি করবে।”

    কী বললেন ফড়নবীস

    ফড়নবীস উল্লেখ করেন, আফ্রিকা ও গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক ভারতকে এমন একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে কোনও ধরনের জবরদস্তি বা শোষণ ছাড়াই পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গঠনে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা সম্ভব। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল স্পষ্টভাবে ভারতের ক্রমবিকাশমান বাণিজ্য দর্শনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, ভারত কেবলমাত্র সম্পূর্ণভাবে উইন-উইন ভিত্তিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুসরণ করছে এবং সচেতনভাবেই এমন কোনও চুক্তি থেকে দূরে থাকছে যা দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে অথবা যেসব প্রতিযোগী অর্থনীতির মাথাপিছু আয় ভারতের তুলনায় কম, তাদের সঙ্গে করা হয় (Hindu Economic Forum)।

    ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’

    ভারত ইতিমধ্যেই ছটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), অস্ট্রেলিয়া এবং ইএফটিএ জোটের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিও রয়েছে। একই সঙ্গে, একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে একাধিক উন্নত অর্থনীতির দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে (Bharats Rise)। গয়াল জানান, ভারত ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থনীতিতে উন্নীত হবে। এই অগ্রগতি সংস্কার, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধির ফল। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জোর দেন যে ভারতের উন্নয়ন মডেল অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক এবং বিশ্বজনীন দায়বদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

    নিতিন গডকরি

    সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি জাতীয় উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে আগামী দুই বছরের মধ্যেই ভারতের সড়ক নেটওয়ার্ক আমেরিকার মানের সমতুল্য হবে, এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ছাড়িয়েও যাবে। তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য হল লজিস্টিক্স খরচ কমানো, যাতে ভারতীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। বিশ্বমানের পরিকাঠামো মূলধনী বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি (Hindu Economic Forum)। এদিকে, মহারাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলার জানান, আগামী ছমাসের মধ্যে রাজ্যে ভারতের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, পাশাপাশি গড়ে তোলা হবে একটি যৌথ এআই শহর (Bharats Rise)।

    সজ্জন জিন্দাল

    জেএসডব্লিউ গ্রুপের চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দাল ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে একটি স্পষ্ট মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে জিডিপিতে পরিষেবা খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি হলেও টেকসই বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদন খাতের অংশ বর্তমান ১৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্যাক্স সিলিকার উদ্যোগ থেকে ভারতের বাদ পড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জিন্দাল বলেন, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত রেয়ার আর্থ মজুত রয়েছে এবং দেশীয় অনুসন্ধানে আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ করা জরুরি। তিনি বলেন, “আত্মনির্ভর ভারত কোনও বিকল্প নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক অনিবার্যতা।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে জেএসডব্লিউ গ্রুপ বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর একটি দেশীয় যাত্রীবাহী গাড়ির ব্র্যান্ড উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, পাশাপাশি মহারাষ্ট্রে ব্যাটারি উৎপাদন সক্ষমতাও গড়ে তোলা হচ্ছে (Hindu Economic Forum)।

    নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ঘোষণা

    এই সময় নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ঘোষণাও করা হয়। শ্রী সিমেন্টসের চেয়ারম্যান শ্রী হরি মোহন বাঙ্গুর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের হাতে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১,৫০০ কোটি টাকার একটি লেটার অব ইনটেন্ট  তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী মধ্যপ্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ওষুধ শিল্প, বস্ত্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে। ২০২৫ সালকে শিল্প ও কর্মসংস্থানের বছর ঘোষণা করে তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার পাশাপাশি, এই ফোরামে এমএসএমই, নারী উদ্যোক্তা, স্টার্ট-আপ এবং প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী নেতাদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সঞ্জয় খেমানি বলেন, সততা, শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিত্তি করে যাঁরা ব্যবসা গড়ে তুলছেন, সেই উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই ভারতের প্রবৃদ্ধির কাহিনি ক্রমশ রূপ পাচ্ছে (Bharats Rise)।

    ফোরামের জাতীয় সংগঠন সম্পাদকের বক্তব্য

    হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের জাতীয় সংগঠন সম্পাদক টিআর শিব প্রসাদ বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য কেবল শহর বা কর্পোরেট পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। মেন্টরশিপ, পুঁজি প্রাপ্তির সুযোগ এবং বাজার সংক্রান্ত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে গ্রাম ও স্থানীয় উদ্যোগগুলিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই এর মূল উদ্দেশ্য (Hindu Economic Forum)। দ্বিতীয় দিনে আয়োজকেরা হিন্দু অ্যাসোসিয়েশন অব রেস্টুরেন্টস, হোটেলস, আহার অ্যান্ড রিফ্রেশমেন্টস (হারহার) উপস্থাপন করেন। এটি একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্প সংগঠন, যার ধারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম। হারহার হিন্দু খাদ্যসংস্কৃতি ও আতিথেয়তা ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হোটেল মালিক, রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা, মিষ্টি ও স্ন্যাকস প্রস্তুতকারক, ক্যাটারার, শেফ, খাদ্য উদ্ভাবক, মসলা ও শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী, সরবরাহকারী এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের একত্রিত করে। দেশীয় বাজারের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৪–১৮ শতাংশ হলেও, এতদিন এই খাতে ধর্মভিত্তিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বরের অভাব ছিল। হারহার সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্য নিয়েছে এবং নিজেকে হিন্দু নেতৃত্বাধীন আতিথেয়তা উদ্যোগগুলির সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

    ‘লঞ্চ প্যাড’-এ উদ্ভাবন

     ‘লঞ্চ প্যাড’-এ উদ্ভাবন ছিল মূল আকর্ষণ। সেখানে ছ’জন স্টার্ট-আপ উদ্ভাবক অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর ও মেন্টরদের সামনে তাঁদের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে চারটি উদ্যোগ প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একান্ত আলোচনার জন্য নির্বাচিত হয়, যা স্বদেশি উদ্যোগ গড়ে তোলায় এই প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা তুলে ধরে। বিনিয়োগকারীরা জানান, ধারণার বিস্তারযোগ্যতা ও বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে প্রতি উদ্যোগে ৫০ লক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে তাঁরা আগ্রহী (Hindu Economic Forum)।

    প্ল্যাটফর্মের পেছনের ভাবনা

    ওয়ার্ল্ড হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন স্বামী বিজ্ঞানানন্দ। তিনি আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দার্শনিক ঐতিহ্যে অনুপ্রাণিত এক সন্ন্যাসী। আচার্য চাণক্যের উক্তি—“ধর্মস্য মূলম্ অর্থঃ” থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি জোর দেন যে নৈতিক আচরণ, সামাজিক সামঞ্জস্য এবং কার্যকর শাসনব্যবস্থা অবশ্যই শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। ভগবদ গীতার “ভবিষ্যতের কথা ভেবে, ভবিষ্যতের জন্য কাজ করো” এই আহ্বানকে সামনে রেখে তিনি হিন্দু সমাজকে তার ঐতিহাসিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির ভূমিকা পুনরুদ্ধার করার স্বপ্ন দেখেন। দুটি লাড্ডুর একটি সহজ উপমার মাধ্যমে—একটি আলগাভাবে বাঁধা ও অন্যটি দৃঢ়ভাবে একত্রে ধরা—তিনি দেখান, কীভাবে ঐক্য ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে সম্মিলিত শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

    ফোরাম শেষ হওয়ার আগে ঘোষণা করা হয় যে হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের জাতীয় অধ্যায়ের বৈঠক ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর্ণাটকের হুব্বল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের নিবন্ধনও শুরু হয়, যা ১৮–২০ ডিসেম্বর ২০২৬ মুম্বাইয়ে আয়োজিত হবে (Bharats Rise)। সমাবেশের সমাপ্তিতে একটি স্পষ্ট বার্তা রয়ে যায়: ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুত্থান তার সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। ধর্মকে উদ্যোগের সঙ্গে এবং জাতীয়তাবাদকে বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার সঙ্গে একীভূত করে ফোরামটি কেবল একটি অর্থনৈতিক রূপরেখাই নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অভিযানের দিকনির্দেশও তুলে ধরে (Hindu Economic Forum)।

  • Jammu Kashmir: দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে মিলল শিলমোহর, খরচ কত জানেন?

    Jammu Kashmir: দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে মিলল শিলমোহর, খরচ কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অধীন পরিবেশ (Jammu Kashmir) মূল্যায়ন কমিটি অনুমোদন দিল জম্মু-কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলায় ২৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,২৭৭.৪৫ কোটি টাকা (Indus Treaty Freeze)। প্রস্তাবিত প্রকল্পটিকে বর্তমানে চালু থাকা ৩৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান প্রকল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপ ২০০৭ সালে চালু হয় এবং তারপর থেকে সফলভাবে কাজ হয়ে আসছে।

    মউ স্বাক্ষর (Jammu Kashmir)

    রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন প্রায় চার বছর আগে, ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি, জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী বিল্ড–ওন–অপারেট–ট্রান্সফার মডেলে ৪০ বছরের জন্য দুলহস্তি স্টেজ–টু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পে চেনাব নদীর জল ব্যবহার করা হবে। নদীটি সিন্ধু নদের অববাহিকার অন্তর্গত। পরিবেশ মূল্যায়ন কমিটি জানিয়েছে, প্রকল্পটির সমস্ত নকশা ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তির নিয়ম মেনে পরিকল্পিত। যদিও চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর এই চুক্তি কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছে।

    দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান বিদ্যুৎকেন্দ্র

    নতুন প্রকল্পের জন্য দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৮.৫ মিটার ব্যাসবিশিষ্ট ৩,৬৮৫ মিটার দীর্ঘ একটি পৃথক সুড়ঙ্গ দিয়ে জল আনা হবে। এই সুড়ঙ্গের মাধ্যমে স্টেজ–টু প্রকল্পের জন্য একটি হর্সশু আকৃতির পন্ডেজ নির্মাণ করা হবে। পন্ডেজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় একটি সার্জ শ্যাফ্ট, প্রেশার শ্যাফ্ট এবং একটি ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ১৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট বসানো হবে। এর ফলে প্রকল্পটির মোট ক্ষমতা হবে ২৬০ মেগাওয়াট, এবং বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে (Indus Treaty Freeze)।

    ভূমি প্রয়োজনের পরিমাণ

    প্রকল্পটির জন্য মোট ভূমি প্রয়োজনের পরিমাণ আনুমানিক ৬০.৩ হেক্টর। এই প্রকল্পের জন্য কিশ্তওয়ার জেলার বেঞ্জওয়ার ও পালমার—এই দুই গ্রামের ৮.২৭ হেক্টর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের জন্য পূর্বে অধিগৃহীত জমিও দ্বিতীয় পর্যায় তৈরিতে ব্যবহার করা হবে (Jammu Kashmir)। পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সময় পরিবেশ মূল্যায়ন কমিটি নির্দেশ দেয় যে, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পাঁচ বছর পর এর পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য একটি সমীক্ষা করা হবে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত সরকারি বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, “প্রকল্প চালু হওয়ার পাঁচ বছর পর পরিবেশের ওপর এর প্রভাব সংক্রান্ত একটি সমীক্ষা করা হবে। সমীক্ষা হবে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা দ্বারা সম্পন্ন।”

    চেনাব ভ্যালি পাওয়ার প্রজেক্টস

    এছাড়াও মন্ত্রক এনএইচপিসি (NHPC) এবং চেনাব ভ্যালি পাওয়ার প্রজেক্টস লিমিটেড (CVPPL)-কে একটি স্বনামধন্য সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সমীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে চেনাব নদী অববাহিকার টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কৌশল প্রণয়ন করা যায়। এই সমীক্ষায় বৈজ্ঞানিকভাবে সুদৃঢ় পরিবেশগত প্রবাহ ব্যবস্থা, নদীখাতের গঠন ও পলিসঞ্চালন প্রক্রিয়ার পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জলজ ও নদীতীরবর্তী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জীবিকা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ মোকাবিলা এবং চেনাব অববাহিকার ক্যাসকেড কাঠামোর মধ্যে মারুসুদার উপনদীকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (Jammu Kashmir)।

    দুল হস্তি জলাধার

    দুল হস্তি জলাধারে প্রতিবছর গড়ে ২ কোটি ৪০ লক্ষ টন পলি জমা হয়, যার বেশিরভাগই মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে, যখন নদীর জলপ্রবাহ বেশি থাকে। জলাধারের ধারণক্ষমতা বজায় রাখতে পলি ব্যবস্থাপনার জন্য ফ্লাশিং ও স্লুইসিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় (Indus Treaty Freeze)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চুক্তি হওয়ার পর প্রকল্পটি ৪৪ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শুরু হওয়া টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের কারণে প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রকল্প রূপায়ণ করতে গেলে কোনও বনভূমি পড়বে না। তাই ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বন দফতরের কোনও ছাড়পত্রেরও প্রয়োজন নেই। এনএইচপিসি প্রকল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে এটি ইতিমধ্যেই নির্মিত বাঁধ ও ইনটেক কাঠামো ব্যবহার করবে। তাই নতুন করে কোনও জলাধার নির্মাণেরও প্রয়োজন হবে না (Jammu Kashmir)।

  • Sam Pitroda: কংগ্রেস পার্টি ‘প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সে’র অংশ, কবুল করলেন স্যাম পিত্রোদা

    Sam Pitroda: কংগ্রেস পার্টি ‘প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সে’র অংশ, কবুল করলেন স্যাম পিত্রোদা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস পার্টি ‘প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সে’র অংশ, যা বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির একটি আন্তর্জাতিক জোট। এই প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের অর্থায়ন করতে পারেন আমেরিকান ব্যবসায়ী জর্জ সোরোস ও তাঁর ওপেন সোস্যাইটি ফাউন্ডেশন। জাতীয় জাতীয় টেলিভিশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই কবুল করলেন ওভারসিজ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান স্যাম পিত্রোদা (Sam Pitroda)। রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বিদেশি যোগাযোগের বিষয়টিও প্রকাশ্যে আনেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি সোরোস ও তাঁর সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত বৈশ্বিক বামপন্থী নেটওয়ার্কের কথাও তুলে ধরেন। রাহুলের কথিত ‘গুরু’ হিসেবে পরিচিত পিত্রোদার এই বক্তব্য রাহুল ও তাঁর কংগ্রেস পার্টির বিদেশি যোগসূত্রের বিষয়টি ফের নিশ্চিত করল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাহুল গান্ধী যখনই বিদেশ সফরে যান, তার পরপরই ভারতে যে অস্থিরতা ও আকস্মিক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখা যায়, তার নেপথ্যে কোনও গোপন অ্যাজেন্ডা থাকলেও থাকতে পারে।

    কংগ্রেস পার্টি ‘প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সে’র অংশ (Sam Pitroda)

    ওই টেলিভিশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পিত্রোদা জানান, কংগ্রেস পার্টি ‘প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সে’র অংশ, যা বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির একটি আন্তর্জাতিক জোট। এই প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের অর্থায়ন করে থাকতে পারেন আমেরিকান ব্যবসায়ী জর্জ সোরোস। এই ব্যবসায়ী ভারতবিরোধী কার্যকলাপ, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে অর্থ জোগান দেওয়ার জন্য কুখ্যাত। তাই প্রশ্ন উঠছে, ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য ও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করার অভিযোগে অভিযুক্ত এমন একটি জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধী কেন অংশ নেন?

    ‘ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন’

    জর্জ সোরোস তাঁর ‘ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনে’র মাধ্যমে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, উদারনৈতিক অ্যাজেন্ডা ও মানবাধিকারের প্রচারের আড়ালে বাস্তবে বামপন্থী মতাদর্শ, সরকারবিরোধী বয়ান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বা গৃহঅভ্যুত্থান উসকে দেওয়ার কাজ করেন। এর মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত সরকারগুলিকে দুর্বল করা ও ভেঙে দেওয়ার আদর্শিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যান। দাতব্য কার্যকলাপ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সিভিল সোসাইটি সংগঠন, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে (Rahul Gandhi) অর্থ জোগান দিয়ে সোরোস ও তাঁর ফাউন্ডেশন ভারতের মতো দেশগুলিতে পরিকল্পিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতি বাড়াতে চায়, যাতে জাতীয়তাবাদী শেকড় থেকে রাজনৈতিক জোটগুলিকে সরিয়ে আদর্শগত রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো যায় (Sam Pitroda)।

    সোরোসের কর্মকাণ্ড

    সোরোসের কর্মকাণ্ড একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপের স্পষ্ট উদাহরণ। দাতব্য কাজ, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রচারের আড়ালে এটি মূলত কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের প্রতিফলন। সোরোসের কার্যকলাপ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতা সংহত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। এখানেই ওঠে মোক্ষম সেই প্রশ্নটি। কেন রাহুল গান্ধী এমন একটি জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, যার লক্ষ্য ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় অস্থিরতা সৃষ্টি করা? প্রগতিশীল জোটের সঙ্গে রাহুলের সম্পর্ক নিয়ে সাম পিত্রোদার সাম্প্রতিক প্রকাশ এই আশঙ্কাগুলিকে আরও জোরালো করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে যখনই কোনও নাগরিক অস্থিরতা বা প্রতিবাদ দেখা যায় এবং তা রাহুলের বিদেশ সফরের সময়সূচির সঙ্গে মিলে যায়, তখন তার পেছনে একটি গভীর যোগসূত্র, গোপন উদ্দেশ্য ও সুস্পষ্ট তাৎপর্য রয়েছে (Sam Pitroda)।

    ১৪০টি রাজনৈতিক দল প্রগতিশীল জোটের অংশ

    মনে রাখতে হবে, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে প্রায় ১৪০টি রাজনৈতিক দল প্রগতিশীল জোটের অংশ। এই জোটের লক্ষ্য হল দাতব্য ও গণতন্ত্রের আড়ালে সরকার-বিরোধী (অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট) অ্যাজেন্ডা-সংবলিত রাজনৈতিক আন্দোলন ও জনমত গড়ে তোলা। বিভিন্ন গবেষণাপত্রেও প্রগতিশীল জোটের (Rahul Gandhi) প্রকৃত উদ্দেশ্য হিসেবে ‘ভাবাদর্শগত বিশ্বায়নে’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রগতিশীল জোটে সোরোসের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে পিত্রোদা বলেন, “ভারতের বাইরে অনুষ্ঠিত কোনও সেমিনার, সম্মেলন, রাজনৈতিক প্রচারাভিযান বা অন্যান্য জনআলোচনার অনুষ্ঠানের অর্থের উৎস বা তার শেকড় নিয়ে কংগ্রেস পার্টি মাথা ঘামায় না।” রাহুল গান্ধী–প্রগতিশীল জোট–জর্জ সোরোসের এই সম্পর্ক নিয়ে এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি রাহুলের বিদেশ সফরের আড়ালে থাকা প্রকৃত অ্যাজেন্ডা সম্পর্কে গভীর ইঙ্গিত দেয় (Sam Pitroda)।

  • Guru Gobind Singh: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী, জানুন দিনটির তাৎপর্য  

    Guru Gobind Singh: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী, জানুন দিনটির তাৎপর্য  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরু গোবিন্দ সিং (Guru Gobind Singh) জয়ন্তী পরিচিত প্রকাশ পর্ব নামেও। প্রার্থনা ও স্মরণে দিনটি পালিত হলেও, এতে এক ধরনের গাম্ভীর্য রয়েছে। আর সেটাই একে একটি সাধারণ উৎসবের আনন্দ থেকে আলাদা করে তোলে (Prakash Purab)। অনেক শিখের কাছে এই দিনটি আচার পালনের চেয়েও ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি যেন এক মুহূর্তের বিরতি। এমন একটা সময়, যখন সেই ভাবনাগুলির কাছে ফিরে যাওয়া হয়, যেগুলি কখনও শুধু বইয়ের পাতায় বন্দি থাকার জন্য ছিল না। সাহস, সমতা, ন্যায়বিচার—এই মূল্যবোধগুলি আবার সামনে আসে, প্রতীকের কারণে নয়, বরং আজও এগুলি যে কতটা প্রয়োজনীয়, সেই কারণেই।

    গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী (Guru Gobind Singh)

    ২০২৫ সালে গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী পালিত হচ্ছে আজ ২৭ ডিসেম্বর। চন্দ্র তিথির ভিন্নতার কারণে কিছু পঞ্জিকা অনুযায়ী এটি উদযাপন হবে ২৮ ডিসেম্বর। এই দিনটি দশম শিখ গুরু, গুরু গোবিন্দ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী স্মরণে পালিত হয়। শিখ চিন্তাধারা, পরিচয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে এই দিনটি পালিত হয় মর্যাদা সহকারে।

    কে গুরু গোবিন্দ সিং?

    গুরু গোবিন্দ সিংয়ের জন্ম ১৬৬৬ সালে, বর্তমান বিহারের পাটনা সাহিবে। মাত্র ন’বছর বয়সে তিনি গুরু হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটি ছিল এমন একটি সময়, যা রাজনৈতিক চাপ ও ধর্মীয় নিপীড়নের জন্য চিহ্নিত ছিল (Guru Gobind Singh)। ১৬৯৯ সালে তিনি খালসা পন্থ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে সমতা, সাহস ও সমষ্টিগত দায়িত্ববোধের নীতি স্থাপন করা হয়। মৃত্যুর পূর্বে তিনি গুরু গ্রন্থ সাহিবকে চিরন্তন গুরু হিসেবে ঘোষণা করেন, এর মধ্য দিয়ে মানব গুরুর ধারার সমাপ্তি ঘটে।

    প্রশ্ন হল, কেন গুরু গোবিন্দ সিং প্রকাশ পর্ব আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ

    প্রকাশ পর্ব সাধারণ অর্থে জন্মদিন হিসেবে পালিত হয় না। আধ্যাত্মিকভাবে এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বাসের সঙ্গে কর্মের সহাবস্থান জরুরি। গুরু গোবিন্দ সিংয়ের শিক্ষা ছিল সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং উচ্চ মূল্য দিতে হলেও মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপন করা (Guru Gobind Singh)। ভারতজুড়ে গুরুদ্বারগুলিতে এই দিনটি গুরবাণী কীর্তন, প্রার্থনা ও শিখ ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে পালিত হয়। রাস্তায় বের হয় নগর কীর্তন, লঙ্গর পরিবেশন করা হয়, এবং সমাজসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ঘরবাড়ি ও গুরুদ্বারে আলো জ্বালানো হয়, প্রদর্শনের জন্য নয়, শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে (Prakash Purab)। গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী জাঁকজমকের ওপর নির্ভর করে স্মরণীয় হয়ে ওঠে না। এটি আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ এর অন্তর্নিহিত মূল্যবোধগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্লান হয় না (Guru Gobind Singh)।

  • Electoral Report Card: বিদায় ২০২৫, কারা হাসল, মুখ থুবড়েই বা পড়ল কারা?

    Electoral Report Card: বিদায় ২০২৫, কারা হাসল, মুখ থুবড়েই বা পড়ল কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালে তুলনামূলকভাবে কম নির্বাচন হলেও ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পুনর্বিন্যাস দেখা (Electoral Report Card) গিয়েছে। এ বছর মাত্র দুটি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে-দিল্লি এবং বিহার। এছাড়াও কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও, বছরটি দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়েছে – বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডি’। ২০২৬ সালে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে, ২০২৫ সালের রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির একটি দ্রুত পর্যালোচনা তুলে ধরছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের এই রিপোর্ট কার্ড (Winners Losers)।

    এনডিএ কার্যত একক আধিপত্য (Electoral Report Card)

    ২০২৫ সালে বিজেপি এবং তাদের বৃহত্তর জোট এনডিএ কার্যত একক আধিপত্য বজায় রেখে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। বছরের শুরুতেই বিজেপি বড় সাফল্য পেয়েছে। ২৭ বছর পরে দিল্লিতে ফের ক্ষমতায় ফিরেছে দলটি। আম আদমি পার্টিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে বিজেপি অবসান ঘটায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের এক দশকের জমানার। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বিহারে বিজেপি এবং তাদের শরিক জনতা দল (ইউনাইটেড) অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। ২৪৩ আসনের বিধানসভায় এনডিএ ২০০-র বেশি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই নির্বাচনে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তারা জয়ী হয় ৮৯টি আসনে। শতাংশের বিচারে এর পরিমাণ ৯০ এর কাছাকাছি। বিহারে কোনও শক্তিশালী আঞ্চলিক মুখ না থাকায় বিজেপি মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতীয় জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে প্রচার চালায়। সেই কৌশলেই হয় বাজিমাত। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল হয় বিজেপি।

    সুদূরপ্রসারী প্রভাব

    ২০২৫ সালে শান্তিতে নির্বাচনী পর্ব মিটলেও, এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিজেপি এবং এনডিএ এ বছর নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য আরও দৃঢ় করেছে। অন্যদিকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৬ সালের আগে এই নির্বাচনী ফল ভারতের রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ (Electoral Report Card) স্পষ্ট করে দিয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। দলটি চলতি বছরে একাধিক উপনির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনেও ভালো ফল করেছে। ফেব্রুয়ারিতে বিজেপি গুরুত্বপূর্ণ মিলকিপুর উপনির্বাচনে জয়লাভ করে। এটি মর্যাদাপূর্ণ অযোধ্যা এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই জয়ের মাধ্যমে লোকসভা নির্বাচনে ওই অঞ্চলে যে ধাক্কা খেয়েছিল দলটি, তার কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। নভেম্বরের উপনির্বাচনে ওডিশার নুয়াপাড়া আসনটি বিজেডির হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি (Winners Losers)।

    স্থানীয় স্বশাসন সংস্থার নির্বাচনে বিজেপি

    ডিসেম্বরে মহারাষ্ট্রের স্থানীয় স্বশাসন সংস্থার নির্বাচনে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে—যেখানে তাদের প্রাপ্ত সভাপতি পদ ছিল ১১৭ থেকে ১২৯টি। এর পরেই ছিল একনাথ শিন্ডের শিবসেনা। তারা পেয়েছিল ৫৩–৫৪টি আসন। অজিত পাওয়ারের এনসিপি পেয়েছিল ৩৭টি। কেরালার তিরুবনন্তপুরমে ইতিহাস সৃষ্টি করে বিজেপি। নাগরিক সংস্থার নির্বাচনে রেকর্ড জয়ের পর ভিভি রাজেশ বিজেপির প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব (Electoral Report Card) গ্রহণ করেন। এবার দেখা যাক, জয়ের হাসি হাসলেন কারা, মুখ থুবড়েই বা পড়লেন কে কে?

    নিতীশ কুমার

    বন্ধু ও শত্রু দুপক্ষের কাছেই বারবার রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছেন বলে বিবেচিত হলেও, নিতীশ কুমার আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় ‘সারভাইভার’। ২০২৫ সালে রেকর্ড দশমবারের মতো বিহারের ক্ষমতা ধরে রেখে তিনি সেই নজির গড়েন। জেডি(ইউ) প্রধান হিসেবে তিনি এনডিএকে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জোরালো জয় এনে দেন এবং নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবির অন্তর্নিহিত চাপ ও তরুণ তেজস্বী যাদবের কঠিন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও রাজ্যে জনপ্রিয় মুখ হিসেবে উঠে আসেন। ২০২৫ সালে জেডি(ইউ)-র আসনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৮৫-তে পৌঁছয়, যা নিতীশকে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জল্পনা এবং ভোটার ক্লান্তি নিয়ে সব প্রশ্ন উড়িয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ করে দেয়।

    দেবেন্দ্র ফড়নবিশ

    বিজেপির প্রভাবশালী ব্যাকরুম স্ট্র্যাটেজিস্ট দেবেন্দ্র ফডনবিশ ২০২৫ সালে নীরবে মহারাষ্ট্রে দলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন, যদিও উপমুখ্যমন্ত্রী শিন্ডের অসন্তোষ প্রকাশের মধ্যে দলের ভেতরে টানাপোড়েন চলছিল। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ডিসেম্বরের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের রূপরেখা তৈরি করেন। এতে বিজেপি ৬,৯৫২টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে ৩,৩২৫টি আসন জিতে নেয় এবং ২৮৮টি সংস্থার মধ্যে ১২৯টি সভাপতি পদ দখল করে। সব মিলিয়ে মহাজোট ২০৭টি আসনে জয়ী হয়। শিন্ডে শিবির (Winners Losers) থেকে ভাঙনের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ফডনবিশ নাগরিক নির্বাচনের আগে মহাজোটকে ঐক্যবদ্ধ (Electoral Report Card) ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন।

    চিরাগ পাসওয়ান

    এলজেপি (আরভি)-র নেতা চিরাগ পাসওয়ান আবারও বিহারে এনডিএর অন্যতম সবচেয়ে ভরসাযোগ্য মুখ হিসেবে উঠে আসেন এবং জোটের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পমন্ত্রী পাসওয়ানের দল ২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৯টিতে জয়ী হয়।

    কেরালায় ইউডিএফ

    কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ কেরালার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে। ইউডিএফ মোট ভোটের ৩৮.৮ শতাংশ পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য ক্ষমতার বাইরে থাকা ইউডিএফের জন্য বড়সড় প্রেরণা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পিনরাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সির ইঙ্গিত দেয় (Winners Losers)।

    ইন্ডি জোট

    ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠা বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ২০২৫ সালে কার্যত ভেঙে যায়। জাতীয় রাজনীতির বদলে রাজ্যভিত্তিক অগ্রাধিকার সামনে আসতেই জোটের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। জোট হিসেবে এবং পৃথকভাবেও বিরোধী দলগুলির জন্য ২০২৫ সালটি ছিল হতাশাজনক, কেরল ছাড়া কোথাও উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি।
    চলতি বছরের শুরুতেই আম আদমি পার্টি জানিয়ে দেয়, ইন্ডি জোট শুধুমাত্র লোকসভা নির্বাচনের জন্যই ছিল এবং তারা জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায়। পরে বিহার নির্বাচনের আগেই ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা জোট থেকে সরে দাঁড়ায়। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সম্প্রতি বিরোধীদের অবস্থান সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করে বলেন, ইন্ডি জোট এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’। বিহারে ভরাডুবির পর আবারও কংগ্রেসের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা (Electoral Report Card) নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যা ২০২৬ সালের দিকে কঠিন রাজনৈতিক পথের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    অরবিন্দ কেজরিওয়াল

    আম আদমি পার্টির আহ্বায়কের জন্য ২০২৫ সাল একাধিক দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। দীর্ঘ সময় জেলে থাকা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সঙ্গে ঘনঘন সংঘাতের জেরে প্রশাসনিক অচলাবস্থা। এর ফলে রাজধানীতে অস্থিরতার একটি ধারণা তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ভোটারদের ‘রিসেট বাটন’ চাপতে প্ররোচিত করে।
    দিল্লিতে টানা দু’টি ভোটে বিপুল জয়ের পর ২০২৫ সালে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারায় আপ। ২০২০ সালের তুলনায় দলটি প্রায় ৪০টি আসন হারিয়ে ব্যাপক ধাক্কা খায়। রাজধানী হাতছাড়া হওয়ার পর, বছর শেষে পাঞ্জাবই আপের একমাত্র রাজ্য যেখানে তারা ক্ষমতায় রয়েছে। ফলে দলের জাতীয় প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে সঙ্কুচিত হয়েছে (Winners Losers)।

    তেজস্বী যাদব

    ২০২০ সালের বিহার নির্বাচনে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের পর আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব নিজের ‘বড় মুহূর্তে’র অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু অক্টোবরের নির্বাচনে এনডিএর জোরালো জয়ে তেজস্বী ও তাঁর দল কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। টানা দু’টি নির্বাচনী পরাজয় এখন তাঁর ঝুলিতে, যার ফলে আরজেডির ভিতরে বড় ধরনের পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কারণ এই দলটি এখনও লালু-রাবড়ি যুগের অন্ধকার অতীতের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে (Electoral Report Card)।

    রাহুল গান্ধী

    যদিও চলতি বছরে কংগ্রেস কোনও বড় নির্বাচনে হারেনি, তবুও এককভাবে বা জোটে রাজ্য নির্বাচন জিততে দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতাই রাহুল গান্ধীর অধীনে কংগ্রেসের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করে চলেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ৯৯-এ পৌঁছে বিরোধী শিবিরে কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এটি দলের জন্য ছিল এক সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় কংগ্রেস। ইন্ডি জোট ভেঙে পড়ে, আর বিজেপির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারেননি রাহুল।
    রাহুলের ‘ভোট চুরি’ তত্ত্বও জনমানসে বিশেষ সাড়া ফেলতে পারেনি। সেই কারণেই বিহারের ভোটাররা রাজ্য নির্বাচনে কংগ্রেসকে কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে।

    প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি

    বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ২০২৫ সালে স্পষ্টভাবেই প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বছরটির শুরু ও শেষ- উভয় ক্ষেত্রেই তারা ছিল সাফল্যের শীর্ষে। দিল্লিতে ফের ক্ষমতায় ফেরা থেকে শুরু করে বিহারে নিরঙ্কুশ জয় এবং মহারাষ্ট্রের স্থানীয় স্বশাসন নির্বাচনে শক্তিশালী ফল, সব মিলিয়ে এনডিএর দাপট স্পষ্ট। এর উল্টো দিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডি’ জোট রাজনৈতিক পুঁজি ও জোটগত সমীকরণ—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রত্যাবর্তনের পরেও সেই গতি ধরে রাখতে তারা ব্যর্থ হয়েছে (Winners Losers)। ২০২৬ সালে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে স্পষ্টতই রাজনৈতিক গতি এনডিএর দিকেই রয়েছে (Electoral Report Card)।

  • Winter Health: বছরশেষের উদযাপনে স্বাস্থ্যঝুঁকি! সতর্ক না হলে বাড়বে সংক্রমণ

    Winter Health: বছরশেষের উদযাপনে স্বাস্থ্যঝুঁকি! সতর্ক না হলে বাড়বে সংক্রমণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছরশেষের উদযাপনে স্বাস্থ্যে কোন সঙ্কট দেখা দিতে পারে? কীভাবে সুস্থ থাকবেন? কোন ঘরোয়া উপাদানে ভরসা বিশেষজ্ঞ মহলের?

    উত্তর থেকে দক্ষিণ, শীত জাঁকিয়ে পড়েছে। বছর শেষের এই মরশুমে থাকে নানান উদযাপন। বন্ধুদের সঙ্গে দিনভর পিকনিক, রাত জেগে আড্ডা! পরিবারের সঙ্গে একটু বিশেষ সময় কাটানো! অনেকেরই এমন নানান পরিকল্পনা থাকে। তবে, এই সবকিছুই উপভোগ করা যায়, যদি শরীর সুস্থ থাকে। বছর শেষে এই শীতের মরশুমে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সতর্ক আর সচেতন না থাকলেই বিপদ বাড়বে। তবে শরীর সুস্থ রাখতে সচেতনতা আর সতর্কতার পাশপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদানেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কোন স্বাস্থ্য সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    বাড়তে পারে ফুসফুসের সংক্রমণ!

    বছর শেষের এই সময়ে বাড়তে পারে ফুসফুসের সংক্রমণ। এমনটাই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বাড়ে। তাছাড়া কলকাতা, হাওড়া সহ রাজ্যের একাধিক শহরে শীতের মরশুমে বায়ু দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে। ইংরেজি বছর শেষের এই উদযাপনে অনেকেই বাজি পোড়ায়। এর ফলে পরিবেশ আরও বেশি দূষিত হয়। ফলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    ভাইরাস ঘটিত রোগের দাপট বাড়ে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে বাতাসে নানান ভাইরাস সক্রিয়তা বাড়ে। তাই ভাইরাস ঘটিত জ্বর-সর্দির ভোগান্তি হয়। আবার এই সময়ে নানান উৎসব উদযাপনের জন্য ভিড় হয়। তাই ভিড় থেকে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাছাড়া ফুসফুসের সংক্রমণের জেরে শ্বাসনালীর নানান রোগের দাপট বাড়ে। তাই অনেকেই কাশিতে নাজেহাল হন।

    বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জেরেই হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে। আবার শীতের মরশুমে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের সমস্যা তৈরি হয়। তাছাড়া, অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, নিয়মিত শারীরিক কসরত না করার মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের জেরেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। উৎসবের মরশুমে অনেকেই অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া করেন, পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি দেখা যায়। এগুলো শরীরে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা তৈরি করে আবার কোলেস্টেরলের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

    পেটের অসুখ আর হজমের সমস্যা বাড়তে পারে!

    বছর শেষের এই সময় পিকনিকের মরশুম। তাই দেদার খানাপিনা চলে। অনেকেই অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় প্রাণীজ প্রোটিন খান। এর ফলেই পেটের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। আবার অনেক সময়েই নানান উদযাপনে জল পরিশ্রুত কিনা সেদিকে নজরদারি থাকে না। তাই পেটের অসুখের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাছাড়া, এই সময়ে অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার খাওয়ার জেরে এবং রাত জাগলে হজমের সমস্যা বাড়তে পারে। বমি, পেট ব্যথার মতো নানান সমস্যায় ভোগান্তি দেখা যেতে পারে।

    লিভারের ক্ষতি হতে পারে!

    হজম সমস্যা লাগাতার হলে লিভারের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। লিভারের কার্যক্ষমতা কমে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বছর শেষের নানান উৎসবে অনেকের উদযাপনের অংশ হয় মদ্যপান। আর এই অভ্যাস বিপজ্জনক। মদ্যপানের অভ্যাস লিভারের জন্য ক্ষতিকারক। তাই প্রত্যেক বছরেই শীতের পরে লিভারের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়।

    কোন ঘরোয়া উপাদানে ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    রান্নাঘরের চেনা উপাদানে কমবে সংক্রমণের ঝুঁকি!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে নানান ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে রান্নাঘরের চেনা উপাদান সাহায্য করবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আদা, রসুন, হলুদ, এলাচ, দারুচিনির মতো পরিচিত মশলা নিয়মিত রান্নায় ব্যবহার করলে একদিকে শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। বক্ষঃনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতেও সাহায্য করবে। এই মশলাগুলো শরীরকে ভাইরাস ঘটিত অসুখের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।

    উৎসবের মেনু নির্বাচনেও থাকুক সচেতনতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, উৎসব উদযাপনে দেদার খাওয়া চলে। কিন্তু সামান্য সচেতনতা থাকলে ভোগান্তি কমবে। খাবারের মেনু নির্বাচনের সময়েও স্বাস্থ্য সচেতনতার দিক বাদ দিলে চলবে না। বিশেষত রাতের দিকে খাবারের সময় পরিমাণের দিকে নজরদারি জরুরি। আবার কী খাওয়া হচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণ চর্বি জাতীয় মাংসের পদ এড়িয়ে চলা উচিত। আবার অনেক রকম তেলেভাজা জাতীয় খাবার খাওয়া চলবে না।‌ বরং পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, মেনুতে নানান রকমের স্যালাড রাখা যেতেই পারে। সব্জি, ফলের স্যালাড সহজে হজম হয়। আবার ফল রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। তার পাশপাশি তেলে ভাজার বদলে হরেক রকমের স্যুপ রাখা যেতে পারে। শীতের আমেজে গরম স্যুপ ভালো লাগবে।‌ আবার হজম সহজেই হবে। মাংসের পদ রান্না করলেও তেল মশলা নিয়ে সজাগ থাকা জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, মাংসের পদ রান্নার সময় খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে মাংসের সঙ্গে নানান সব্জি থাকে। প্রোটিনের সঙ্গে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন, ফাইবার, মিনারেল পৌঁছলে হজম শক্তি ভালো থাকে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    নিয়মিত শারীরিক কসরত জরুরি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত শারীরিক কসরত জরুরি। শীতের আবহাওয়ায় অনেকেই নিয়মিত শারীরিক কসরত করেন না। আর উপরে বাড়তি খাওয়া শরীর সুস্থ থাকার পথে বাড়তি বিপদ তৈরি করে‌। নিয়মিত শারীরিক কসরত করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। ফলে অতিরিক্ত ওজন এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

  • Ramakrishna 542: “আমি বলি, চৈতন্যলাভের পর সংসারে গিয়ে থাক, অনেক পরিশ্রম করে যদি কেউ সোনা পায়”

    Ramakrishna 542: “আমি বলি, চৈতন্যলাভের পর সংসারে গিয়ে থাক, অনেক পরিশ্রম করে যদি কেউ সোনা পায়”

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    দক্ষিণেশ্বরে রাখাল, মাস্টার, মহিমাচরণ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    দ্বিজ, দ্বিজের পিতা ও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ — মাতৃঋণ ও পিতৃঋণ 

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে সেই পূর্বপরিচিত ঘরে রাখাল, মাস্টার প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন। বেলা তিনটা-চারিটা।

    ঠাকুরের গলার অসুখের সূত্রপাত হইয়াছে। তথাপি সমস্ত দিন কেবল ভক্তদের মঙ্গলচিন্তা করিতেছেন—কিসে তাহারা সংসারে বদ্ধ না হয়,—কিসে তাহাদের জ্ঞান-ভক্তিলাভ হয়;—ঈশ্বরলাভ হয় (Kathamrita)।

    দশ-বারো দিন হইল, ২৮শে জুলাই মঙ্গলবার, তিনি কলিকাতায় শ্রীযুক্ত নন্দলাল বসুর বাটীতে ঠাকুরদের ছবি দেখিতে আসিয়া বলরাম প্রভৃতি অন্যানা ভক্তদের বাড়ি শুভাগমন করিয়াছিলেন।

    শ্রীযুক্ত রাখাল বৃন্দাবন হইতে আসিয়া কিছুদিন বাড়িতে ছিলেন। আজকাল তিনি, লাটু, হরিশ ও রামলাল ঠাকুরের (Ramakrishna) কাছে আছেন।

    শ্রীশ্রীমা কয়েকমাস হইল, ঠাকুরের সেবার্থ দেশ হইতে শুভাগমন করিয়াছেন। তিনি নবতে আছেন। ‘শোকাতুরা ব্রাহ্মণী’ আসিয়া কয়েকদিন তাঁহার কাছে আছেন।

    ঠাকুরের কাছে দ্বিজ, দ্বিজর পিতা ও ভাইরা, মাস্টার প্রভৃতি বসিয়া আছেন। আজ ৯ই অগস্ট, ১৮৮৫ খ্রী: (২৫শে শ্রাবণ, ১২৯২, রবিবার, কৃষ্ণা চতুর্দশী)।

    দ্বিজর বয়স ষোল বছর হইবে। তাঁহার মাতার পরলোকপ্রাপ্তির পর পিতা দ্বিতীয় সংসার করিয়াছেন। দ্বিজ—মাস্টারের সহিত প্রায় ঠাকুরের কাছে আসেন,—কিন্তু তাঁহার পিতা তাহাতে বড় অসন্তুষ্ট।

    দ্বিজর পিতা অনেকদিন ধরিয়া ঠাকুরকে দর্শন করিতে আসিবেন বলিয়াছিলেন। তাই আজ আসিয়াছেন (Kathamrita)। কলিকাতায় সওদাগরী অফিসের তিনি একজন কর্মচারী—ম্যানেজার। হিন্দু কলেজে ডি. এল. রিচার্ডসনের কাছে পড়িয়াছিলেন ও হাইকোর্টের ওকালতি পাস করিয়াছিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) (দ্বিজর পিতার প্রতি)—আপনার ছেলেরা এখানে আসে, তাতে কিছু মনে করবে না।

    “আমি বলি, চৈতন্যলাভের পর সংসারে গিয়ে থাক। অনেক পরিশ্রম করে যদি কেউ সোনা পায়, সে মাটির ভিতর রাখতে পারে—বাক্সের ভিতরও রাখতে পারে, জলের ভিতরও রাখতে পারে—সোনার কিছু হয় না।

  • Syria: সিরিয়ায় শুক্রবারের নামাজে বোমা বিস্ফোরণে মৃত ৮, আহত ১৮

    Syria: সিরিয়ায় শুক্রবারের নামাজে বোমা বিস্ফোরণে মৃত ৮, আহত ১৮

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিরিয়ায় (Syria) শুক্রবারের নামাজের সময় মসজিদে এক বোমা হামলায় ৮ জন নিহত, ১৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। যদিও মাত্র একবছর আগে কট্টর ইসলামপন্থীরা এই দেশের ক্ষমতা দখল করেছিল। এরপর থেকে এটি একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ (Bomb blast)। জুন মাসে দামাস্কাসের একটি গির্জায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৫ জন নিহত হবার ঘটনা ঘটেছিল। কট্টরপন্থীদের সরকার এলেও শান্তিতে নেই সিরিয়া।

    হোমস সাম্প্রদায়িকতার কেন্দ্রবিন্দু (Syria)

    রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, হোমস শহরের (Syria) ওয়াদি আল-দাহাব পাড়ায় ইমাম আলী বিন আবি তালিব মসজিদের ভিতরে একটি বিস্ফোরণ (Bomb blast) ঘটেছে। ওই দেশের স্বাস্থ্য দফতর সব রকম সুবিধা পৌঁছে দিতে ঘটনাস্থলে ডাক্তার এবং মেডিক্যাল টিমকে সতর্ক করেছে। প্রাথমিক ভাবে কমপক্ষে আটজন নিহত এবং ১৮ জন আহতের সংখ্যা জানা গিয়েছে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুম্মার নামাজের সময় মসজিদটিকে লক্ষ্য করে একটি সন্ত্রাসী বিস্ফোরণ হয়েছে। উল্লেখ্য, এই সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের আবহ যখন চরমে ছিল, সেই সময় হোমস ছিল তীব্র সাম্প্রদায়িক সহিংসতার একেবারে কেন্দ্রবিন্দু।

    পুঁতে রাখা বিস্ফোরকে বিস্ফোরণ

    সানা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে মসজিদের (Syria) ভেতরে পুঁতে রাখা বিস্ফোরক ডিভাইসের কারণেই বিস্ফোরণটি (Bomb blast) ঘটেছে। এলাকার একজন বাসিন্দা, নিজের নিরাপত্তার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “প্রথমে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। পরে আশেপাশের সকলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার কেউ বাড়ি থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছে না এবং আমরা অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনতে পাচ্ছি।”

    ২০২৪ সালে আসাদের পতনের পর থেকে হোমস প্রদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের লক্ষ্য করে অপহরণ এবং হত্যার ঘটনা বার বার সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে। গত মাসের শেষের দিকে, হোমস এবং অন্যান্য অঞ্চলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নতুন করে হামলার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ আলাউইট উপকূলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল।

    জাতীয় তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত গত একবছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ১,৪২৬ জন সদস্য নিহত হয়েছে। আবার সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস পর্যবেক্ষণকারীরা নিহতের সংখ্যা ১,৭০০ জনেরও বেশি বলে জানিয়েছে।

LinkedIn
Share