Tag: Bengali news

Bengali news

  • Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত, সঙ্কটে মানবাধিকার

    Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত, সঙ্কটে মানবাধিকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং সনাতন ধর্মের অনুসারীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, নিপীড়ন ও বৈষম্যের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। অনেক অঞ্চলে এই নির্যাতন এমন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা (Roundup Week) ধীরে ধীরে সংঘটিত একপ্রকার গণহত্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা। দশকের পর দশক ধরে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই হিংসা, ঘৃণা ও বৈষম্যের প্রকৃত ব্যাপ্তি আন্তর্জাতিক মহলের নজর এড়িয়ে গিয়েছে। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য, সব মিলিয়ে হিন্দু সমাজ আজ অস্তিত্বের সঙ্কটে। ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ এই সময়কালের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারতে সংঘটিত এমনই কয়েকটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হল।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    নীলগিরিতে অবৈধ প্রার্থনা সভা ও মন্দির ভাঙার হুমকি ঘিরে বিতর্ক। তামিলনাড়ুর নীলগিরি জেলার কাণ্ডাল এলাকার কস্তুরীবাই কলোনিতে এক খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রার্থনা সভা আয়োজন এবং মন্দির ভাঙার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাটি মূলত তফসিলি জাতিভুক্ত হিন্দুদের বসবাসস্থল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনাকরণ নামে এক ব্যক্তি সেখানে বেআইনিভাবে খ্রিস্টান প্রার্থনা সভা ও ধর্মান্তরের কার্যকলাপ চালাচ্ছিল (Hindus Under Attack)। এদিকে, প্রাক্তন সিবিআই ডিরেক্টর এম নাগেশ্বর রাওয়ের চিঠির পর অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার অমুসলিমদের মধ্যে খৎনা প্রচারের অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে খৎনার অস্ত্রোপচার করা হচ্ছিল (Roundup Week)।

    নির্মমভাবে খুন

    পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ায় ৭২ বছরের হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ৪০ বছরের ছেলে চন্দন দাসকে নির্মমভাবে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে জঙ্গিপুর ট্রায়াল কোর্ট। ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল তাঁদের বাড়ি থেকে টেনে বের করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দু’জনের নাম মহম্মদ ইমাম ও জাকির। এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে (Hindus Under Attack)। তামিল চলচ্চিত্র সমালোচক কালিলুর রহমান সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত তেলুগু ছবি অখণ্ডা ২: থান্ডবম রিভিউ করতে গিয়ে সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেন, যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ

    লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির এক জুনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক রমিজউদ্দিন ওরফে নাইক পলাতক। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের হস্তক্ষেপে তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্নাটকের হুব্বলির নিকার নগর–শিবানগর এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িকে বেআইনিভাবে মসজিদে রূপান্তরের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দা ও সংগঠনগুলি অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলার দাবি জানায় (Hindus Under Attack)। এই ঘটনাগুলি শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলমান একটি বৃহত্তর মানবাধিকার সঙ্কটের প্রতিফলন বলে মত বিশ্লেষকদের।

    হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন

    বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলা ক্রমশ উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। এই নির্যাতনের লক্ষ্য ধীরে ধীরে দেশ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করা, এমনই দাবি উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের এক গবেষণায়। তাঁর মতে, চলমান প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়ন অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একজন হিন্দুও অবশিষ্ট থাকবে না। গবেষণায় বলা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনি, হিন্দু মহিলাদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ এবং লাগাতার ঘৃণামূলক বক্তব্য, এই সব কৌশল ব্যবহার করে হিন্দুদের আতঙ্কিত করা হচ্ছে এবং দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশ

    এহেন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় একটি নৃশংস ঘটনা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ২৫ বছর বয়সি হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাস, যিনি পেশায় পোশাক কর্মী ছিলেন, তাঁকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে খুন করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, পরে তাঁর নিথর দেহ একটি গাছে বেঁধে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। জনসমক্ষে পোড়া দেহ ঝুলিয়ে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা। রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে (Roundup Week)।

    থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া 

    অন্যদিকে, ভারত ভগবান বিষ্ণুর একটি মূর্তি ভাঙার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করার একদিন পর থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাঠোমোটি কোনও রেজিস্ট্রি করা ধর্মীয় স্থান ছিল না। থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া সীমান্তে থাই সেনার অভিযানের সময় মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালীন কপালে তিলক পরার কারণে এক হিন্দু সেনাকে দেশ থেকে বিতাড়নের হুমকি দেওয়া হয়। তবে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আইনি হস্তক্ষেপের পর অবশেষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় (Hindus Under Attack)। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে কাজ করে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দুবিদ্বেষ। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলিতেও একটি সূক্ষ্ম ও প্রাত্যহিক হিন্দুবিদ্বেষ কাজ করে।

    এই বিদ্বেষ অনেক সময় আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে থেকে যায়, ফলে তা সহজে চোখে পড়ে না। দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধকরণ তার একটি বড় উদাহরণ। ওপরে ওপরে এটি পরিবেশ রক্ষার সিদ্ধান্ত বলে মনে হলেও, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে একই ধরনের বিধিনিষেধ না থাকায় দ্বিচারিতা (Roundup Week) স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমালোচকদের মতে, এটি হিন্দু উৎসব ও সংস্কৃতির ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ আরোপের একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ (Hindus Under Attack)।

  • T20 World Cup: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলিকে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় চায় বিসিবি

    T20 World Cup: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলিকে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় চায় বিসিবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার ক্রিকেটের ময়দানেও ভারত বিরোধিতার স্বর বাংলাদেশে। ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল (IPL) থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) বাংলাদেশের ম্যাচগুলিকে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য আইসিসিকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

    ফ্লাইট এবং হোটেল ইতিমধ্যেই বুক (T20 World Cup)

    ২০২৬ সালে ২০টি দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এখানে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গেও গ্রুপ রয়েছে। বাংলাদেশের ম্যাচগুলি কলকাতা এবং মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা। তবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য খেলার স্থান পরিবর্তনের জন্য আইসিসিকে চিঠি লিখেছে। প্রতিক্রিয়ায় স্বরূপ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অর্থাৎ বিসিসিআইয়ের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক বাংলাদেশের দাবিকে অত্যন্ত অবাস্তব বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “কারও ইচ্ছায় খেলা পরিবর্তন করা যায় না। এটা একটা লজিস্টিকাল দুঃস্বপ্ন। প্রতিপক্ষ দলের ফ্লাইট এবং হোটেল ইতিমধ্যেই বুক করা আছে। প্রতিটি ম্যাচের দিনে তিনটি করে খেলার সময়সূচি নির্ধারিত থাকে, যার মধ্যে একটি শ্রীলঙ্কায়। সম্প্রচার কর্মী এবং অপারেশনাল দলগুলিও এতে জড়িত থাকে, তাই বলা সহজ কিন্তু করা সহজ নয়।”

    রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব

    শনিবার কলকাতা নাইট রাইডার্স চলতি বছর আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়। এরপর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ৩০ বছর বয়সী এই পেসারকে ৯.২০ কোটি টাকায় কিনে নেওয়া হয়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, বিসিবি একটি জরুরি সভা করে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রক কর্তৃক আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) ২০২৬ ম্যাচের সময়সূচি-

    • বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ – ৭ ফেব্রুয়ারি (কলকাতা)
    • বনাম ইতালি – ৯ ফেব্রুয়ারি (কলকাতা)
    • বনাম ইংল্যান্ড – ১৪ ফেব্রুয়ারি (কলকাতা)
    • বনাম নেপাল – ১৭ ফেব্রুয়ারি (মুম্বই)

    এখন পর্যন্ত, আইসিসি কর্তৃক কোনও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ নিশ্চিত করা হয়নি এবং টুর্নামেন্টের সময়সূচি অপরিবর্তিতই রয়েছে।

  • TMC: ‘রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে ব্যাপক উন্নয়ন হবে’, কথা দিলেন শুভেন্দু

    TMC: ‘রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে ব্যাপক উন্নয়ন হবে’, কথা দিলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “এসআইআরের প্রথম ঝাঁকুনিতেই বাদ গিয়েছে ৫৮ লাখ ভোটারের নাম। আরও অবৈধ নাম বাদ যাবে ভোটার তালিকা থেকে। তাই ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আর ভোটে লড়তে চাইবে না তৃণমূল (TMC)।” চাঁচলের কলমবাগানে জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    শুভেন্দুর কটাক্ষ (TMC)

    এদিনের সভায় তাঁকে স্মৃতিচারণও করতে দেখা গিয়েছে। তিনি বলেন, “তৃণমূলে থাকাকালীন এখানে সভা করে গিয়েছি। তখন হেলিকপ্টার করে সভা করতে এসেছি। মুখ্যমন্ত্রী আমায় যা লিখে দিতেন, সেটাই আমায় বলতে হত। তিনি আমায় বলেছিলেন, আমি এখানে এসে যেন চাঁচল আর গাজোল পুরসভা হবে, সেকথা বলি। আমি সেকথা বলেওছিলাম। কিন্তু গত ১৫ বছরেও সেই পুরসভা হয়নি। এই দেউলিয়া সরকার সেটা করতেও পারবে না।”

    ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে যে এই এলাকা আমূল বদলে যাবে, সেকথাও বলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে চাঁচলে রেল যোগাযোগ স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। ধান থেকে শুরু করে মাখনা, বর্তমান সরকারি নায্যমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দরে কৃষকদের কাছ থেকে কিনে নেবে বিজেপি সরকার।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মালতিপুরের বিধায়ক আবদুর রহিম বকশি যে এবার আর ভোটে জিততে (TMC) পারবেন না, তাও জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তিনি জানান, মালতিপুরে বিজেপি জিততে না পারলেও, রহিম হারবেন। কারণ তার নীল নকশা তৈরি হয়ে গিয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ

    তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগে বারংবার সরব হয়েছেন বিরোধীরা। পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে চাঁচলের কলমবাগানে সভা করেন শুভেন্দু। বক্তৃতার শুরুতেই সে প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “চাঁচল থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে বিহারে এবার সবাই সাফ হয়ে গিয়েছে। এবার বাংলায় তৃণমূল সমূলে উৎপাটিত হবে। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের মধ্যে আগে কলিঙ্গ, পরে অঙ্গে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ছাব্বিশে স্বপ্নপূরণ হবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। বঙ্গেও বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।” তিনি জানান, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ১০৪ বার কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “এপ্রিলের পর তৃণমূল বিরোধী আসনে বসবে। সেদিন সব হিসেব হবে (Suvendu Adhikari)।”

    তৃণমূলের সমালোচনা

    শুভেন্দুর বক্তব্যের সিংহভাগজুড়েই ছিল তৃণমূলের সমালোচনা। যে এলাকায় তিনি সভা করছিলেন, সেটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। সেখানেই দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “এ রাজ্যে শুধু রাজনৈতিক নয়, ধর্মীয় কর্মসূচিতেও বাধা দেওয়া হয় (TMC)। সোহরাবর্দি আর জিন্নার স্বপ্নে এই সরকার লালিত-পালিত হচ্ছে। মোথাবাড়িতে যারা অশান্তি করেছে, তারা রাষ্ট্রবাদী হতে পারে না। সেই অশান্তির পর বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ আমাদের নেতৃত্বকে পুলিশ মোথাবাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। বিধ্বস্ত ধুলিয়ান এবং সামশেরগঞ্জেও আমায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। হাইকোর্টের অনুমতি পেয়ে আমি সেই সব জায়গায় যাই।” তিনি বলেন, “ময়মনসিংহে (বাংলাদেশ) দীপুচন্দ্র দাসের মতোই এখানে পশু কাটার অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে হরগোবিন্দ দাসের যুবক ছেলেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী আর ফিরহাদ হাকিমরা ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে মানুষকে উসকানি দিয়েছিলেন বলেই এসব ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেই আইন এখন কার্যকর হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড। স্বামীজি আমাদের নিজ ধর্মে আস্থা রাখতে শিখিয়েছেন। অন্য ধর্মকেও সম্মান জানাতে বলেছেন। আমরা তাঁর কথা মতোই কাজ করি।”

    তৃণমূলের প্রাণপ্রতিষ্ঠা

    মালদা জেলায় তিনিই যে তৃণমূলের প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এদিন সেকথাও স্মরণ করিয়ে দেন শুভেন্দু (TMC)। বলেন, “১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত মালদা জেলায় সেভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি তৃণমূল। ২০১১ সাল থেকে রাজ্যের ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। আমি তৃণমূলে থাকাকালীন পাঁচ বছরেরও (Suvendu Adhikari) বেশি সময় মালদার দায়িত্বে ছিলাম। দেখেছি, মালদার মানুষ তৃণমূলকে ঘৃণা করে। এগারোর বিধানসভা নির্বাচনে কেবলমাত্র সাবিত্রী মিত্র আড়াইডাঙা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন। চোদ্দর লোকসভা নির্বাচনে এই জেলার দু’টি আসন মিলিয়ে তৃণমূল মাত্র ১৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কোনও কেন্দ্রেই জামানত ছিল না। ষোলোর বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলায় তৃণমূল শূন্য। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও ওরা শূন্য। সেই ভোটে এই জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটিতেও তাদের লিড নেই। এখানকার মানুষ জানেন, তৃণমূল মানেই চোর। তাই তাঁরা তৃণমূলকে পছন্দ করেন না।”

    শুভেন্দুর চাঁদমারি

    রাজ্যের শাসক দলকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূলের নেতারা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার টাকা দেয়নি। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ইন্দিরা আবাস যোজনায় পশ্চিমবঙ্গকে দিয়েছিল ৪৬৬৪ কোটি টাকা। আর ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি সরকার রাজ্যকে ৪০ লাখ বাড়ির জন্য দিয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা লাভলি খাতুনের মতো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানরা লুট করেছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনে ১২ হাজার টাকা করে এই রাজ্যে ৭২ লাখ শৌচাগার নির্মাণের টাকা দেয় মোদিজির সরকার (TMC)। সেই টাকাও এরা (Suvendu Adhikari) খেয়ে নিয়েছে। মনরেগা প্রকল্পে ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাজ্য পেয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পেয়েছে ৫৪ হাজার কোটি টাকা। সেই টাকা ১ কোটি ২৫ লাখ ভুয়ো জবকার্ডধারীরা লুটে নিয়ে গিয়েছে। বিহারের বাসিন্দা থেকে শুরু করে বাংলাদেশিরাও এখান থেকে টাকা নিয়ে গিয়েছে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ১০০ দিন নয়, বছরে ২০০ দিন কাজ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনায় দেওয়া হবে তিন লাখি বাড়ি। বিহারের মতো এখানেও, প্রতি ঘরে নলবাহিত জল পাওয়া যাবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে চাঁচল পুরসভা হবেই। উত্তরবঙ্গে এইমস হবে। মালদায় পরিযায়ী শ্রমিকরা জেলায় কাজ পাবেন। প্রতি বছর এসএসসি হবে। ওএমআর কপি সবাই বাড়ি নিয়ে যাবেন। এসব আমাদের অঙ্গীকার।”

    শুভেন্দুর কটাক্ষ-বাণ

    তৃণমূলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকশির উদ্দেশ্যে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “ওর মুখে এখন বড় বড় কথা। ও নাকি আমার হাত-পা ভেঙে দেবে! আরএসপি করত। আইসিডিএসের চাকরি বিক্রি করত। তৃণমূলে থাকাকালীন আমি যখন মালদার অবজারভার ছিলাম, ও আমার গাড়ির দরজা খুলত (TMC)। ওকে কেউ দলে নিতে চায়নি। সবাই বলেছিল চোর। কিন্তু, দেড় বছর ধরে আমার গাড়ির দরজা খুলত আর বন্ধ করত। তাই বাম হাতে ওকে পতাকা ধরিয়েছিলাম। আমি লক্ষ্মণ শেঠ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে হারানো লোক। মালতিপুরে কে জিতবে জানি না। ওখানে হিন্দুদের সংখ্যা কম। কিন্তু রহিমকে আমি জিততে দেব না। কথা দিয়ে গেলাম। তাজমুল আগে ভালো ছিল। এখন বদলে গিয়েছে। আসলে চোরের দলে গিয়ে সবাই বদলে যায়। আমরা আগে সেটা বুঝে পালিয়ে গিয়েছি।” শুভেন্দু বলেন, “উত্তর মালদা আর নন্দীগ্রামকে দেখে রাজ্যের সনাতনীরা একটু এগিয়ে এলে বিজেপি এবার রাজ্যে ২২০টি আসন পাবে। গত লোকসভা নির্বাচনে মালদা উত্তর কেন্দ্রে ৮৫ শতাংশ সনাতনী-আদিবাসী বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলেন। নন্দীগ্রামে সেই হার ৬৫ শতাংশ। রাজ্যের সনাতনীরা এটা দেখে এগিয়ে এলে ভালো। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারির পর তৃণমূল বলবে, ভোটে লড়ব না। চব্বিশের ভোটে তৃণমূল আর বিজেপির ভোটের ব্যবধান ছিল ৪০ লাখ। এসআইআরের প্রথম ঝাঁকুনিতেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৫৮ লাখ নাম। আরও অবৈধ ও ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে তালিকা থেকে (TMC)।”

    শুভেন্দুর তোপ

    উত্তর মালদায় তৃণমূলের বহিরাগত প্রার্থী নিয়েও এদিন (Suvendu Adhikari) ঘাসফুল শিবিরকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। বলেন, “ওরা উত্তর মালদায় স্থানীয় প্রার্থী পায় না। তাই চাঁচল কেন্দ্রে ইংরেজবাজার থেকে নীহাররঞ্জন ঘোষকে নিয়ে আসতে হয়। লোকসভা নির্বাচনে প্রসূন ব্যানার্জির মতো একজনকে প্রার্থী করে। প্রসূন একটা ডাকাত, চরিত্রহীন। ইয়াসিনকে নিয়ে ও ভোট লুট করতে গিয়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী রুখে দিয়েছিল। ও এখনও সরকারি কোষাগার থেকে মাসে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মাইনে তোলে। ওই আবার উত্তর মালদায় তৃণমূলের দলীয় পদে বসে রয়েছে। বিচিত্র এই রাজ্য (TMC)!”

  • Suvendu Adhikari: ক্ষমতা থাকলে ২৬ সালের ভোটে আর একবার লড়াই করুন, নন্দীগ্রামে মমতাকে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ক্ষমতা থাকলে ২৬ সালের ভোটে আর একবার লড়াই করুন, নন্দীগ্রামে মমতাকে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে ফের একবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের নন্দীগ্রামে দাঁড়ালে ২০ হাজার ভোটে হারাব। ক্ষমতা থাকলে ২৬ সালের ভোটে আর একবার লড়াই করুন। তখন শুধু হিন্দুরা ছিলেন, এবার মুসলমানরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন। গরিব মুসলমানরা দেবে ভালো করে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম ভোট ভাগ হবে, আর তার ফয়দা লুটবে বিজেপি। ফলে সমীকরণ বদলে যাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

    হিন্দুত্বই বড় বিষয় (Suvendu Adhikari)

    ২০১৪ সালের পর থেকে বঙ্গে বিজেপির পালে হাওয়া লেগেছে। দিলীপ ঘোষের আমলে ২০১৯ সালে বিজেপি সব থেকে বেশি ১৮টি আসন পেয়েছিল লোকসভায়। ২০২১ সালে বিজেপি হিন্দুত্বের জোয়ারে ভেসে ৩ থেকে ৭৭টি  বিধানসভার আসন পেয়েছে। কিন্তু মমতার সীমাহীন মুসলিম তোষণ একদিকে যেমন হিন্দু জনমনে বিরাট অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে, একইভাবে আবার বহু মুসলিমের বিরুদ্ধে হিন্দুকে খেপিয়েও তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রগতিশীল মুসলিম এবং রাষ্ট্রবাদী মুসলমান সমাজের অবশ্য দাবি, মুসলিম সমাজের উন্নয়নের নামে আদতে একটি পরিবারের শুধু আয় বেড়েছে। আপামর জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান বদলায়নি। তবে বঙ্গ বিজেপি হিন্দুত্বকেই বড় বিষয় হিসেবে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসতে চাইছে। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) খুব স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “আমরা ৩৯ শতাংশ আছি, আর ৫-৬ শতাংশ হিন্দুরা একজোট হলেই ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে।”

    এক সঙ্গে লড়াই করার আহ্বান

    দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যও (BJP Bengal) তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দল-মত সব কিছু ভুলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। হিন্দুরা সুরক্ষিত থাকলে তবেই বাংলায় গণতন্ত্র থাকবে। এই লড়াই হিন্দু অস্তিত্বের বড় লড়াই। লাগামছাড়া দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, বেকারত্ব, কয়লা, বালি, পাথর, মাটি চুরি এখন চরম শিখরে। বাংলায় কর্মসংস্থান নেই। কলকারখানা নেই। তাই বাংলাকে ফেরাতে বিজেপিকেই চাই। এইভাবেই বাংলায় রাজনৈতিক বদলের কথা প্রচার করছে বিজেপি। ২০২৬ সালে এর প্রভাব কতটা ভোট বাক্সে পড়ে, এখন তা-ই দেখার।

  • Venezuela: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা! আপাতত এড়িয়ে চলার বার্তা, ভারত জারি করল হেল্পলাইন নম্বর

    Venezuela: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা! আপাতত এড়িয়ে চলার বার্তা, ভারত জারি করল হেল্পলাইন নম্বর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) মার্কিন হানা! একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ভারতীয়দের সে দেশে যেতে নিষেধ করল ভারত। বিদেশমন্ত্রক ইতিমধ্যে একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। একইভাবে ভেনেজুয়েলায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের চলাফেরায়ও  নিয়ন্ত্রণ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। যে কোনও প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসের (Indias Ministry of External Affairs) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    দরকার ছাড়া যেতে না (Venezuela)

    ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) ঢুকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছে আমেরিকা। ওই দেশের সরকারের পতন হয়েছে। ফলে খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার ওই দেশে ভারতীয়দের যাওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (Indias Ministry of External Affairs) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডলে করা পোস্টে লেখেন, “দরকার ছাড়া ভেনেজুয়েলায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করুন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ওই দেশ এড়িয়ে যান। প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।” তবে ভারতের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল বা অর্থনৈতিক জ্বালানির স্বার্থ থাকলেও সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না করে নাগরিক সুরক্ষাকেই প্রধান বিষয় হিসেবে ভাবা হয়েছে।

    খনিজ সম্পদ লুট করার জন্যই আগ্রাসী

    উল্লেখ্য, আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার (Venezuela) চাপানউতোর চলছিল দীর্ঘ দিন ধরেই। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে তেলের ট্যাংকার চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভেনুজুয়েলার সীমান্তে কোনও তেল ট্যাংকার যাতায়াত করতে পারবে না। একইভাবে ওই দেশের সরকারকে জঙ্গি গোষ্ঠীর তকমাও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। মাদুরোকে অবৈধ শাসক ঘোষণা করে তাঁর শাসনকে নস্যাৎ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকা বার বার দাবি করেছে মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য ভেনেজুয়েলার তেলকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তেল বেআইনিভাবে বিক্রি করে সেই টাকা খরচ করা হচ্ছে জঙ্গিদের পেছনে। অবশ্য এই বিষয়ে ভেনেজুয়েলার দাবি, দেশের খনিজ সম্পদ, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল লুট করছে মার্কিন শাসক। আমেরিকা খনিজ সম্পদ লুট করার জন্যই আগ্রাসী হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যে শনিবার ট্রাম্প বন্দি মাদুরোর ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন।

  • Weather Update: নতুন বছরের শুরুতেই দার্জিলিংয়ে তুষারপাত, বরফ পড়ল সান্দাকফুতে, উত্তরবঙ্গে জাঁকিয়ে শীত

    Weather Update: নতুন বছরের শুরুতেই দার্জিলিংয়ে তুষারপাত, বরফ পড়ল সান্দাকফুতে, উত্তরবঙ্গে জাঁকিয়ে শীত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরের শুরুতেই দার্জিলিংয়ে তুষারপাত (First Snowfall)। বরফ পড়ছে সান্দাকফুতে। শনিবার থেকেই তুষার পড়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। শিশির জমে পরিণত হচ্ছিল বরফে। সন্ধ্যাবেলার পর থেকে পারদ আরও কয়েকধাপ নামতে শুরু করেছিল। এরপর শুরু হয়ে যায় তুষারপাত।

    সান্দাকফু-ফালুটের আশপাশ এলাকা বরফময়

    উত্তরবঙ্গে জাঁকিয়ে পড়েছে শীত (Weather Update)। শুক্রবার থেকে উত্তর সিকিমের একাধিক জায়গায় তুষারপাত (First Snowfall) শুরু হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যা থেকে বরফ পড়তে শুরু করে দার্জিলিংজুড়ে। সান্দাকফু, ফালুটের আশপাশে বরফ পড়তে দেখা যায়। এদিকে শীতের আমেজ সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করতে দার্জিলিঙের রক গার্ডেন ফের খুলে দেওয়া হয়। যদিও দুর্গাপুজোর পর ভারী বর্ষণের জেরে এলাকায় এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। তাই সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল রক গার্ডেন। শনিবার গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করে রক গার্ডেন খোলার কথা জানানো হয়। তবে এখনও ডালি থেকে গঙ্গামায়া পার্ক পর্যন্ত রাস্তায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সময় বিশেষে কেবলমাত্র পর্যটকদের জন্য জন্য ছোট গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস

    হিমালয়ান হসপিটালিটি ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, “এই মরশুমের প্রথম তুষারপাত। পর্যটনের জন্য খুব ভালো খবর। এতে আরও বেশি পর্যটকরা উত্তরবঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হবেন।” পেশায় স্কুল শিক্ষিকা ইপ্সিতা ঘোষাল তাঁর স্কুলের কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে সিটুং ঘুরতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “শনিবার রাতে হাড় কাঁপানো শীত (Weather Update) ছিল। পারদ ২ ডিগ্রি নীচে নেমে গিয়েছে। তাপমাত্রা (First Snowfall) অনুভূত হয়েছে মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে শীত বেশ জোরদার হলেও, মনোরম আবহাওয়া মন কেড়ে নিয়েছে।”

    দার্জিলিং পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ছিল ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার কথা। মালদা এবং তৎসংলগ্ন জেলা অর্থাৎ উত্তরবঙ্গের নীচের দিকে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরেও জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। তবে কলকাতায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে।

    আগামী দু’তিনদিন তাপমাত্রা একই রকম

    আবহাওয়ায় শুষ্কতা (Weather Update) থাকবে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টির তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বাড়বে তাপমাত্রা। তারপর আগামী দু’তিনদিন তাপমাত্রা একই রকম থাকবে। বৃহস্পতিবার থেকে ফের কমে যাবে তাপমাত্রা। তবে এখন কুয়াশার প্রভাব বাড়বে। সকালের দিকে মাঝারি থেকে হালকা কুয়াশা হবে। তবে কুয়শার সম্ভাবনা কলকাতায় বেশি পরিমাণে থাকবে। কলকাতা মহানগরের তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (First Snowfall) ঘরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি থেকে ১৫ ডিগ্রির আশপাশে থাকবে।

    কোথায় কত তাপমাত্রা

    শনিবার দক্ষিণবঙ্গের শীতলতম (Weather Update) স্থান ছিল মুর্শিদাবাদের বহরমপুর৷ এদিন সেখানকার তাপমাত্রা ছিল ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরবঙ্গের সমতলের মধ্যে শীতলতম স্থান ছিল মাঝিয়ান ৷ সেখানকার তাপমাত্রার পারদ ছিল ৯.২ ডিগ্রি । দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২.৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কলকাতা ও তার আশপাশের অঞ্চলে গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ৷ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩.৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ৷ যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৭ ডিগ্রির নীচে (First Snowfall)। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫৩ ও সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ।

  • Venezuela President Captured: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, দাম বাড়তে পারে অপরিশোধিত তেলের?

    Venezuela President Captured: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, দাম বাড়তে পারে অপরিশোধিত তেলের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে গেল ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাশাসন। বন্দি করা হয়েছে মাদুরোর স্ত্রীকেও। ভেনেজুয়েলা তেল (Crude Oil) সমৃদ্ধ দেশ। বিভিন্ন রকমের বিরল খনিজও রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশের মাটির নীচে। তাই প্রেসিডেন্ট অপহরণ (Venezuela President Captured) হওয়ার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাবেই সোমবার অপরিশোধিত তেলের দামে গ্যাপ-আপ ওপেনিং দেখা যেতে পারে।

    ব্রেন্ট ক্রুডের দাম (Venezuela President Captured)

    বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুডের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ বাড়তে পারে। মার্কিন সামরিক হামালার ফলে যদি ভেনেজুয়েলার তেল পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৬৫ ডলারের দিকে এগোতে পারে বলে অনুমান। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক শক্তির বাজারে। ফলে বিনিয়োগকারী ও তেল আমদানিকারী দেশগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন তেল ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকরা। ভারতের জটিল কাঠামোর তেল শোধনাগারগুলি বিশেষ করে গুজরাটের জামনগর রিফাইনারি ভেনেজুয়েলার ঘন ও ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এই ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধনের জন্য প্রয়োজন হয় উন্নত প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট পরিকাঠামো, যা ভারতের হাতে গোণা কয়েকটি রিফাইনারিতেই রয়েছে।

    বিকল্প উৎস খুঁজতে হিমশিম খেতে হবে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ কার্যকর হয়, তাহলে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলিকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হিমশিম খেতে হবে। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির দিকে ঝুঁকতে হবে ভারতকে, যেখানে তুলনামূলকভাবে হালকা অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি এবং শোধন করার খরচও বাড়তে পারে। এর ফলে ভারতের জ্বালানি আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্য ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে (Crude Oil)। ২০২৪ সালে ভারত ভেনেজুয়েলা থেকে ১.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছিল। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, দক্ষিণ আমেরিকার তেল সরবরাহের ওপর ভারতের নির্ভরতা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে বজায় রয়েছে।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। সাধারণত বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্থায়ী বৃদ্ধি ঘটলে তার প্রতিফলন ভারতীয় বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে দেখা যায় সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই। ফলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধই, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা এবং সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা। ২০২৫ সালের শেষাশেষি নাগাদ ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা ডিসকাউন্টেড তেল থেকে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই মজবুত হয়েছে।

    আর্থিক সুরক্ষা বলয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সস্তা তেলের ওপর নির্ভরতা ভারতের জন্য এক বড় আর্থিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। এর ফলে এক দশক আগের তুলনায় ভেনেজুয়েলার মতো তেল-উৎপাদক দেশের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ওপর এখন অনেক কম প্রভাব ফেলবে (Venezuela President Captured)। একসময় ভেনেজুয়েলা ছিল ভারতের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশগুলির অন্যতম। কিন্তু সেখানকার উৎপাদন সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতকে বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ান তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ে পাওয়া শুরু হলে, ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগায়।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিগত সিদ্ধান্ত শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই বাড়ায়নি, বরং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতেও সাহায্য করেছে। ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও ভারত তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে।বিশ্ববাজারে বর্তমানে একটি বিশাল তেল উদ্বৃত্ত কার্যত সুরক্ষা বলয়ের মতো কাজ করছে। বিভিন্ন জাহাজে সংরক্ষিত অবস্থায় প্রায় ১৩০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যাকে বাজারের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘অন ওয়াটার স্টোরেজ’। এই বিপুল মজুতের কারণে হঠাৎ করে তেলের দামে বড় কোনও ধাক্কা লাগার আশঙ্কা আপাতত কম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনকি যদি ভেনেজুয়েলা থেকে রাতারাতি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলেও তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

    বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম

    বিশ্লেষকদের মতে, এই মজুত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যাহত হলে বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলেও ভারতীয় গ্রাহকদের ওপর তাৎক্ষণিক কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলি খুচরো পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নির্ধারণের আগে সাধারণত ১৫ দিনের গড় হিসেবে অপরিশোধিত তেলের দাম বিবেচনা করে।তাই আজ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলেও দেশের সাধারণ যাত্রী বা দৈনন্দিন যাতায়াতকারীরা সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব অনুভব করবেন না। তেলের দামের ওঠানামা সরাসরি খুচরো বাজারে প্রতিফলিত হওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরোতে হয় (Crude Oil)।

    আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির ফলে হঠাৎ আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা থেকে সাধারণ মানুষ কিছুটা সুরক্ষা পান। তবে যদি দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চড়া থাকে, সেক্ষেত্রে খুচরো দামে পরিবর্তন আসতে পারে। নয়া লগ্নি এলে ভেনেজুয়েলা সরকার ভবিষ্যতে দৈনিক তেল উৎপাদন বাড়িয়ে ২০ লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে বলে অনুমান। দেশটির তেল খাতে বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদে তেলের সরবরাহ বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে  জ্বালানির দামে। অতিরিক্ত সরবরাহের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা বড় তেল আমদানিকারী দেশগুলির জন্য স্বস্তির খবর।

    ‘সারপ্লাস শিল্ড’

    বিশেষ করে ভারতের মতো দেশ, যারা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তারা এই পরিস্থিতি থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। কম দামে তেল আমদানি করতে পারলে জ্বালানি ব্যয় হ্রাস পাবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবহণ, শিল্প এবং সাধারণ ভোক্তার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার উৎপাদন বৃদ্ধি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তন আনতে পারে (Venezuela President Captured)। ‘সারপ্লাস শিল্ড’ বা অতিরিক্ত মজুত সুরক্ষা থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়তে থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনও রকম বিঘ্ন ঘটতে পারে, এমনতর আশঙ্কা মাথায় রেখেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা

    সরকারি সূত্রে খবর, বর্তমানে প্রায় ১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য ভারতের। মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল এবং গ্যাসের আমদানি ও পরিবহণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি মজুত ব্যবস্থাপনা, বিকল্প সরবরাহ উৎস এবং লজিস্টিক পরিকল্পনা আরও জোরদার করছে, যাতে কোনও সংকটের প্রভাব দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে না পড়ে (Crude Oil)। প্রসঙ্গত, ভারত তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ মেটায় আমদানির মাধ্যমে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে ভারতের আমদানি ব্যয় কমবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়লে শুধু ভারত নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে (Venezuela President Captured)।

  • Ramakrishna 548: “বেড়ার আর-একধারে টকটকে লাল সুরকির কাঁড়ির মতো জ্যোতিঃ, তারমধ্যে বসে নরেন্দ্র—সমাধিস্থ!

    Ramakrishna 548: “বেড়ার আর-একধারে টকটকে লাল সুরকির কাঁড়ির মতো জ্যোতিঃ, তারমধ্যে বসে নরেন্দ্র—সমাধিস্থ!

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    পূর্বকথা—ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—ঠাকুর সিদ্ধপুরুষ না অবতার?
    শ্রীরামকৃষ্ণ, কেশব সেন ও তাঁহার সমাজে হরিণাম ও মায়ের নাম প্রবেশ 

    “কেশব সেনের (Ramakrishna) সঙ্গে দেখা হবার আগে, তাকে দেখলাম! সমাধি অবস্থায় দেখলাম, কেশব সেন আর তার দল। একঘর লোক আমার সামনে বসে রয়েছে! কেশবকে দেখাচ্ছে, যেন একটি ময়ূর তার পাখা বিস্তার করে বসে রয়েছে! পাখা অর্থাৎ দল বল। কেশবের মাথায় দেখলাম লালমণি। ওটি রজোগুণের চিহ্ন। কেশব শিষ্যদের বলছে—‘ইনি কি বলছেন, তোমরা সব শোনো’। মাকে বললাম (Kathamrita), মা এদের ইংরাজী মত,—এদের বলা কেন। তারপর মা বুঝিয়ে দিলে যে, কলিতে এরকম হবে। তখন এখান থেকে হরিণাম আর মায়ের নাম ওরা নিয়ে গেল। তাই মা কেশবের দল থেকে বিজয়কে নিলে। কিন্তু আদি সমাজে গেল না।

    নিজেকে দেখাইয়া “এর (আমার) ভিতর একটা কিছু আছে। গোপাল সেন বলে একটি ছেলে আসত—অনেকদিন হল। এর ভিতর যিনি আছেন গোপালের বুকে পা দিলে। সে ভাবে বলতে লাগল, তোমার এখন দেরি আছে। আমি ঐহিকদের সঙ্গে থাকতে পারছি না,—তারপর ‘জাই’ বলে বাড়ি চলে গেল। তারপর শুনলাম দেহত্যাগ করেছে। সেই বোধ হয় নিত্যগোপাল।

    “আশ্চর্য দর্শন সব হয়েছে। অখণ্ড সচ্চিদানন্দদর্শন। তার ভিতর দেখছি, মাঝে বেড়া দেওয়া দুই তাক। একধারে কেদার চুনি, আর আর অনেক সাকারবাদী ভক্ত। বেড়ার আর-একধারে টকটকে লাল সুরকির কাঁড়ির মতো জ্যোতিঃ। তারমধ্যে বসে নরেন্দ্র।—সমাধিস্থ!

    “ধ্যানস্থ দেখে বললুম, ‘ও নরেনদ্র!’ একটু চোখ চাইলে — বুঝলুম ওই একরূপে সিমলেতে কায়েতের ছেলে হয়ে আছে।-তখন বললাম, ‘মা। ওকে মায়ায় বদ্ধ কর।—তা না হলে সমাধিস্থ হয়ে দেহত্যাগ করবে।’—কেদার সাকারবাদী, উঁকি মেরে দেখে শিউরে উঠে পালাল।

    “তাই ভাবি এর (নিজের) ভিতর মা স্বয়ং ভক্ত হয়ে লীলা করছেন (Kathamrita)। যখন প্রথম এই অবস্থা হল, তখন জ্যোতিঃতে দেহ জ্বল জ্বল করত। বুক লাল হয়ে যেত! তখন বললুম, ‘মা, বাইরে প্রকাশ হয়ো না, ঢুকে যাও!’ তাই এখন এই হীন দেহ।

    “তা না হলে লোকে জ্বালাতন করত। লোকের ভিড় লেগে যেত — সেরূপ জ্যোতির্ময় দেহ থাকলে। এখন বাহিরে প্রকাশ নাই। এতে আগাছা পালায়—যারা শুদ্ধভক্ত তারাই কেবল থাকবে। এই ব্যারাম হয়েছে কেন?—এর মানে ওই। যাদের সকাম ভক্তি, তারা ব্যারাম অবস্থা দেখলে চলে যাবে।

    “সাধ ছিল (Kathamrita)—মাকে বলেছিলাম, মা, ভক্তের রাজা হব!

    “আবার মনে উঠল, ‘যে আন্তরিক ঈশ্বরকে ডাকবে তার এখানে আসতেই হবে! আসতেই হবে! দেখো, তাই হচ্ছে — সেই সম লোকই আসছে।

    “এর ভিতরে কে আছেন, আমার বাপেরা জানত। বাপ গয়াতে স্বপ্নে দেখেছিলেন,—রঘুবীর বলছেন, ‘আমি তোমার ছেলে হব।’

    “এর ভিতরে তিনিই আছেন। কামিনী-কাঞ্চনত্যাগ! একি আমার কর্ম। স্ত্রীসম্ভোগ স্বপনেও হলো না।

  • ED: বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা দিল ইডি

    ED: বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা দিল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালি পাচার মামলায় শনিবার কলকাতার বিচার ভবনে চার্জশিট জমা দিল ইডি (ED)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলায় আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা। গত কয়েক দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় টানা তল্লাশি (Sand Mining Case) অভিযান চালিয়েছিল ইডি। তার পর এদিন জমা দেওয়া হল চার্জশিট।

    চার্জশিটে ১৮ জনের নাম (ED)

    ইডি সূত্রে খবর, চার্জশিটে মোট ১৮ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যবসায়ী অরুণ সরফ। অরুণের পাশাপাশি তাঁর তিন কর্মচারির নামও উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। কেবল ওই ব্যক্তিরাই নন, এই মামলায় কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে ১৪টি সংস্থাকেও। এর মধ্যে রয়েছে অরুণ সরফের সংস্থাও। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে সোমবার, বিচার ভবনে (ED)। তদন্তে জানা গিয়েছে, একাধিক নির্দিষ্ট সংস্থাকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি বালি খনন ও বিক্রির কাজ চলছিল। ইডির দাবি, অরুণ সরফ নিজের নামে কোনও সরাসরি হিসেব না রেখে অন্য পথে আর্থিক লেনদেন চালাতেন। তদন্তে দেখা যায়, ১০৩ কোটি টাকার বালি বিক্রির কথা স্বীকার (Sand Mining Case) করলেও, তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। এই অস্বাভাবিক ফারাক থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

    বালির মজুত যাচাই

    জানা গিয়েছে, অরুণ যখন ইডি হেফাজতে থাকাকালীন রাজ্যের ১৩টি জায়গায় বালির মজুত যাচাই করা হয়। সেখানে বাস্তব স্টক ও নথিভুক্ত হিসেবের মধ্যে একাধিক গরমিল ধরা পড়ে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। পরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ফের যাচাই করেও মিলেছে সেই অসঙ্গতির প্রমাণ (ED)। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বেআইনি বালি খননের পাশাপাশি ভুয়ো ই-চালান ব্যবহার করে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়েই এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের। গ্রেফতারির পর থেকে এখনও জেল হেফাজতেই রয়েছেন অরুণ (Sand Mining Case)।

    ইডির অভিযান

    প্রসঙ্গত, বালি পাচার মামলার বিভিন্ন সূত্র ধরে গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে ইডি। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই গত নভেম্বরে হাওড়ার বালি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় অরুণকে। গ্রেফতার করার আগে ঘণ্টা সাতেক ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। ইডির দাবি, অরুণের বিরুদ্ধে একাই প্রায় ৭৮ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের আরও অভিযোগ, অরুণের সংস্থা ওয়েস্টবেঙ্গল স্যান্ড-মাইনিং-ট্রান্সপোর্ট-স্টোরেজ ও সেলে যে সব নিয়ম রয়েছে, সে সব কিছুকে উপেক্ষা করে বালি তুলত সে। পরে তা বিক্রি করত। এভাবে প্রচুর অর্থ রোজগার করেছিল তার সংস্থা। জানা গিয়েছে, ৫৭ দিনের মাথায় জমা পড়ল এই চার্জশিট।

    বালি পাচারকাণ্ডের তদন্ত

    গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম বালি পাচারকাণ্ডের তদন্তে নামে ইডি। ওই দিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থা এক যোগে হানা দেয় ঝাড়গ্রাম ও বেহালায়। খানাতল্লাশি চালানো হয় কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময়ই জিডি মাইনিংয়েও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। ঝাড়গ্রামে গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুল আলির বাড়িতে চলেছিল তল্লাশি। সুবর্ণরেখা নদী থেকে কোনও নিয়ম না মেনে দেদার বালি পাচারের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরে সৌরভ রায় নামের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। এরা সকলেই বালির অবৈধ কারবারের সঙ্গে অভিযুক্ত বলে দাবি ইডির। আজ তাঁদের (Sand Mining Case) বিরুদ্ধেই জমা পড়ল চার্জশিট (ED)।

  • Suvendu Adhikari: “হিন্দুরা একজোট না হলে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ হবে”, দীপু দাস হত্যার কথা স্মরণ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “হিন্দুরা একজোট না হলে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ হবে”, দীপু দাস হত্যার কথা স্মরণ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একদিকে উত্তরে আলিপুরদুয়ারে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করছেন, অপর দিকে দক্ষিণে তাঁকে আক্রমণ করে নন্দীগ্রামের সভা থেকে একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামে (Nandigram) যেভাবে হিন্দুরা একজোট হয়েছেন ঠিক একই ভাবে সারা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের একজোট হতেই হবে।” হিন্দু মানুষের প্রতি সহানুভূতির মন্ত্রই বাংলাদেশ হওয়া থেকে রক্ষা করবে পশ্চিমবঙ্গকে। এমন ভাবেই বিস্ফোরক হয়েছেন শুভেন্দু।

    বাংলাদেশকে দেখলেই বোঝা যায় (Suvendu Adhikari)

    নন্দীগ্রামের (Nandigram) সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “এখানে হিন্দুদের সংখ্যা কম, তাই চাপের মধ্যে থাকতে হয়। এই চাপ অস্বীকার করার উপায়ও নেই। হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ না হলে অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়বে। এমন কি খুনের ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই সব ভেদাভেদকে ভুলে সকলকে এক হওয়ার বার্তা দিতে হবে। হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ না হলে কি অবস্থা হয় তা বাংলাদেশকে দেখলেই বোঝা যায়।”

    পুলিশ দুষ্কৃতীদের মতো আচরণ করছে

    মমতার বিরুদ্ধে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) তোপ দেগে বলেন, “বাংলাদেশে এক সময় হিন্দু ছিল ৩৩ শতাংশ। এখন ৭ শতাংশের নিচে এসে নেমেছে। বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাই এক না হলে জামত মানসিকতার গুন্ডারা একই ভাবে অত্যাচার করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ দুষ্কৃতীদের মতো আচরণ করছে। দুষ্কৃতীদের জায়গায় এখন পুলিশরা নিয়ে নিয়েছে। এলাকার কিছু দুষ্কৃতীকে কৃতকর্মের জন্য দেড় বছর জেল খাটিয়েছি। ফলে একটু চাপে আছে তৃণমূলের নেতারা। তবে ভোটের সময় এপ্রিল মাসে ফের তাণ্ডব করতে পারে। তাই এখন থেকে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।”

    একই ভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “২০১১ সালের আগে অভিষেক নাবালক ছিলেন। মমতাকে মেদিনীপুর, নন্দীগ্রাম আমি চিনিয়েছি। উত্তরের চা বাগানে মমতা মদ বিক্রির লাইসেন্স দিয়েছেন। অভিষেক মিথ্যা ভাষণ দেন। এইবারে নন্দীগ্রামে (Nandigram) দাঁড়ালে মমতাকে আরও একটি শূন্যের অঙ্ক বাড়িয়ে হারাব।

LinkedIn
Share