Tag: Bengali news

Bengali news

  • Sheikh Hasina: ‘‘শেষ মুহূর্তেও দেশ ছাড়তে চাননি মা’’, জানালেন হাসিনার ছেলে সাজিব

    Sheikh Hasina: ‘‘শেষ মুহূর্তেও দেশ ছাড়তে চাননি মা’’, জানালেন হাসিনার ছেলে সাজিব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর শেষ মুহূর্তেও দেশ ছাড়তে চাননি শেখ হাসিনা। পরিবারের জোরাজুরিতেই নিতে হয় কঠিন সিদ্ধান্ত। হাসিনা (Sheikh Hasina) বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার পর এমনটাই জানালেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সাজিব ওয়াজেদ জয়। 

    ঠিক কী জানিয়েছেন সাজিব ওয়াজেদ জয়? 

    বাংলাদেশের উত্তপ্ত পরিস্থিতি (Bangladesh Crisis) ও শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাজিব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, “মা থাকতে চেয়েছিলেন। কোনওভাবেই দেশ ছেড়ে যেতে চাননি। কিন্তু আমরাই জোর করি, বলি যে এই দেশ আর সুরক্ষিত নয় তোমার জন্য। মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম আমরা। তাই সবাই তাঁকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলি।” এছাড়াও তিনি আরও বলেন, ”আমি আজ সকালেই মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। বাংলাদেশের পরিস্থিতি অরাজক। মা (Sheikh Hasina) ভালো আছেন, তবে গোটা পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট হতাশ। মায়ের কণ্ঠে স্পষ্ট হতাশা ছিল। মায়ের কাছে এটা অত্যন্ত দুঃখের কারণ গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশকে উন্নত করার জন্য তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার স্বপ্ন ছিল তাঁর। এতদিন ধরে জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদীদের থেকে দেশকে সুরক্ষিত রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু আজ বিরোধী ও সন্ত্রাসীরা ক্ষমতা দখল করে নিল।” 

    আরও পড়ুন: ব্রিটেন রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়া পর্যন্ত কি ভারতেই থাকবেন হাসিনা?

    বর্তমানে ভারতেই রয়েছেন হাসিনা (Sheikh Hasina)। তবে এর পরবর্তীতে তিনি কোথায় যাবেন, হাসিনার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সে কথা প্রকাশ্যে আনতে চাননি তাঁর ছেলে। তবে তিনি জানিয়েছেন, ”আশা করছি বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। কিন্তু যেভাবে আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে, তা দেখে আমি জানি না কতটা মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব। আমার পরিবারের আর দায়িত্ব নয় এটা। আমরা দেখিয়েছি, দেশের জন্য আমরা কী কী করতে পারি, বাংলাদেশের উন্নয়নে কী কী করেছি। আওয়ামি লিগ এখনও দেশের সবথেকে জনপ্রিয় দল। বিএনপির ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা শেষবার দেখেছিলাম ওরা ক্ষমতায় আসার পর কী হয়েছিল। দেশকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল। সন্ত্রাসবাদীদের খোলা হাতে ছুট দিয়েছিল। সংখ্যালঘুদের উপরে হামলা চালানো হয়েছিল। যদি বাংলাদেশের মানুষ সঠিক মানুষের পাশে না দাঁড়ায় এবং ক্ষমতা দখল করে নিতে দেয়, তবে এই নেতৃত্বই তাদের প্রাপ্য।”  

    গণভবনে ঢুকে লুটপাট (Bangladesh Crisis) 

    অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়ার পরেই গণভবনে ঢুকে লুটপাট চালায় আন্দোলনকারীরা। সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সে সমস্ত ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গোটা গণভবন মানুষের দখলে। অনেককে আবার কোলবালিশ, ঘটি-বাটি ও বালতি ভরে গণভবনের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। কারও হাতে চেয়ার, কারও হাতে বড় মাছ তো কারও হাতে খরগোশ, ছাগল এমনকী রাজহাঁসও দেখা গিয়েছে। এছাড়াও টিভি, ফ্রিজ, হাসিনার ব্যবহৃত শাড়ি সহ বিভিন্ন জিনিসের দখল নিয়েছেন। মোদ্দা কথা, যে যেভাবে যা পেয়েছে নিয়ে গিয়েছেন। এই গোটা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর (Sheikh Hasina) ছেলে বলেন, ” একটা সময় এই দেশের স্বাধীনতার জন্য আমার পরিবার কঠোর সংগ্রাম করেছিল। তবে আজ দেশের এই পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক, কারণ এই পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ চুপ করে আছে।”   

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 96: “ঈশ্বরের নামে ভারী মাহাত্ম্য, শীঘ্র ফল না হতে পারে, কিন্তু…”

    Ramakrishna 96: “ঈশ্বরের নামে ভারী মাহাত্ম্য, শীঘ্র ফল না হতে পারে, কিন্তু…”

    সিঁথি ব্রাহ্মসমাজ-দর্শন ও শ্রীযুক্ত শিবনাথ প্রভৃতি ব্রাহ্মভক্তদিগের সহিত কথোপকথন ও আনন্দ

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    মাঞ্চ যোহথব্যভিচারেণ ভক্তিযোগেন সবতে।

    স গুণান্‌ সমতীত্যৈতান্‌ ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে।।

    গীতা—১৪/২৬।

    ভক্ত-সম্ভাষণে

    সহাস্যবদনে ঠাকুর শ্রীযুক্ত শিবনাথ আদি ভক্তগণের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিতে লাগিলেন। বলিতেছেন (Kathamrita), এই যে শিবনাথ! দেখ তোমরা ভক্ত, তোমাদের দেখে বড় আনন্দ হয়। গাঁজাখোরের স্বভাব, আর-একজন গাঁজাখোরকে দেখলে ভারী খুশি হয়। হয়তো তার সঙ্গে কোলাকুলি করে।(শিবনাথ ও সকলের হাস্য)

    সংসারী লোকের অভাব—নামমাহাত্ম্য

    যাদের দেখি ঈশ্বরে (Ramakrishna) মন নাই, তাদের আমি বলি, আমার একটু ওইখানে গিয়ে বস। অথবা বলি, যাও বেশ বিল্ডিং (রাসমণির কালীবাটির মন্দির সকল) দেখ গে। (সকলের হাস্য)

    আবার দেখেছি যে, ভক্তদের সঙ্গে হাবাতে লোক এসেছে। তাদের ভারী বিষয়বুদ্ধি। ঈশ্বরীয় কথা ভাল লাগে না। ওরা হয়তো আমার সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে ঈশ্বরীয় কথা বলছে। এদিকে এরা আর বসে থাকতে পারে না, ছটফট করছে। বারবার কানে কানে ফিসফিস করে বলছে, কখন যাবে—কখন যাবে। তারা হয়তো বললে, দাঁড়াও না হে, আর-একটু পরে যাব। তখন এরা বিরক্ত হয়ে বলে, তবে তোমরা কথা কও, আমরা নৌকায় গিয়ে বসি।(সকলের হাস্য)

    সংসারী লোকদের যদি বল (Kathamrita) যে সব ত্যাগ করে ঈশ্বরের পাদপদ্মে মগ্ন হও, তা তারা কখনও শুনবে না। তাই বিষয়ী লোকদের টানবার জন্য গৌর নিতাই দুই ভাই মিলে পরামর্শ করে এই ব্যবস্থা করেছিলেন—মাগুর মাছের ঝোল, যুবতী মেয়ের কোল, বোল হরি বোল। প্রথম দুইটির লোভে অনেকে হরিবোল বলতে যেত। হারিনাম-সুধার একটি আস্বাদ পেলে বুঝতে পারত যে, মাগুর মাছের ঝোল আর কিছুই নয়, হরিপ্রেমে যে অশ্রু পড়ে তাই যুবতী মেয়ে কিনা-পৃথিবী। যুবতী মেয়ের কোল কিনা—ধুলায় হরিপ্রেমে গড়াগড়ি।

    নিতাই কোনরকমে হরিনাম করিয়ে নিতেন। চৈতন্যদেব বলেছিলেন, ঈশ্বরের নামে ভারী মাহাত্ম্য (Ramakrishna)। শীঘ্র ফল না হতে পারে, কিন্তু কখন না কখন এর ফল হবেই হবে। যেমন কেউ বাড়ির কার্নিসের উপর বীজ রেখে গিয়েছিল; অনেকদিন পরে বাড়ি ভূমিসাৎ হয়ে গেল, তখন সেই বীজ মাটিতে পড়ে গাছ হল ও তার ফলও হল।

    আরও পড়ুনঃ “বিবেক, বৈরাগ্যরূপ হলুদ মাখলে তারা আর তোমাকে ছোঁবে না”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “পশ্চিমে বিবাহের সময় বরের হাতে ছুরি থাকে, বাংলাদেশে জাঁতি থাকে”

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Waqf Act: “ওয়াকফ আইন সংশোধন করা হলে দেশ ভাগ হবে”, হুমকি রাশিদির

    Waqf Act: “ওয়াকফ আইন সংশোধন করা হলে দেশ ভাগ হবে”, হুমকি রাশিদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহরুর রেখে যাওয়া ‘গ্যাঁজ’ উপড়ে ফেলতে সচেষ্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওয়াকফ আইন (Waqf Act) ১৯৯৫ সংশোধন করার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। আর তার পরেই হুমকি ধেয়ে এল মওলানা সাজিদ রশিদির দিক থেকে (Maulana Sajid Rashidi)। তিনি বলেন, “ওয়াকফ আইন সংশোধন করা হলে ভারতকে আর একটি বিভাজনের সম্মুখীন হতে হবে।” অবশ্য এই প্রথম নয়, রাশিদি মাঝেমধ্যেই হুমকি দেন ভারত ও হিন্দুদের।

    ওয়াকফ অ্যাক্ট প্রণয়ন (Waqf Act)

    ১৯৫৪ সালে ওয়াকফ অ্যাক্ট প্রণয়ন করে নেহরু সরকার। পরে সেই আইন বার দুয়েক সংশোধন করা হয়। শেষবার সংশোধনী আনা হয় ১৯৯৫ সালে। সেটাই ফের সংশোধন করতে সোমবারই লোকসভায় পেশ হয়েছে বিল। এই বিলে চল্লিশটিরও বেশি বদল আনা হয়েছে। ২ অগাস্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার পরে বিলটি পেশ হয় লোকসভায়। এতদিন যে কোনও জমিকে ওয়াকফ বোর্ড তাদের সম্পত্তি বলে ঘোষণা করতে পারত। নয়া বিলে ওয়াকফ বোর্ডের এই ক্ষমতাই সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটাই গাত্রদাহের কারণ মওলানা সাহেবের। সেই কারণেই দেশে যাতে অশান্তির আগুন জ্বলে, তাতে ইন্ধন জোগাতে শুরু করেছেন তিনি।

    মওলানার হুমকি

    চাকরিতে সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে উত্তাল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। ভারতের জনসংখ্যারও একটা বড় অংশ মুসলমান। অভিজ্ঞ মহলের মতে, সেই কারণেই হুমকি দেওয়ার জন্য এই ‘সন্ধিক্ষণ’-টিকেই বেছে নিয়েছেন রাশিদি। রাশিদি অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। বিলের বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “এবার মুসলমানরা রাস্তায় নামবে। তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করবে।” বিল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে রাশিদি আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপিকেও। তিনি বলেন, “একের পর এক বিভাজনমূলক ইস্যু এনে রাজনৈতিক সুবিধা পেতে চাইছে বিজেপি। রাম মন্দিরের পর তারা কাশী বিশ্বনাথ মন্দির বনাম জ্ঞানব্যাপী মসজিদ ও শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি ভার্সেস মথুরার ইদগাহের মতো নয়া বিভাজনমূলক সমস্যা খুঁজে পেয়েছে।” এর পরেই হুমকির সুরে এই মওলানা বলেন, “কৃষকরা যেভাবে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে তিনটি আইন বাতিল করেছে, একইভাবে এখন মুসলমানরাও রাজপথে নামবে। লড়াই করবে তাদের সাংবিধানিক অধিকারের জন্য।”

    বিজেপিকে নিশানা

    তিনি বলেন, “ওয়াকফ বোঝাটা গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমান সম্প্রদায়ের সুবিধার জন্য সরকার সাংবিধানিকভাবে মুসলমানদের ওয়াকফের অধিকার দিয়েছে।” ফের একবার হুমকির সুরে রাশিদি বলেন, “এই মুহূর্তে মুসলমানরা নীরব। আমাদের সম্পত্তির একটা উল্লেখযোগ্য অংশ রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মালিকানাধীন। মুসলমানরা যদি তাদের অধিকার দাবি করতে শুরু করে, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যাবে। তাই উদ্বেগে প্রশাসন।” অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, “মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কেবলই মুসলমানদের টার্গেট করছে। সেই রকমই বিল আনছে।” তিনি বলেন, “যে হিন্দুরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরও ভাবতে হবে এই সরকার তাঁদের জন্যই বা কী করেছেন।” মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে এই সরকার উচ্চবাচ্য করে না বলেও দাবি রাশিদির।

    মওলানার গুণপনার শেষ কই!

    মওলানা সাহেবের (Maulana Sajid Rashidi) গুণপনার শেষ নেই! এমন হুমকি এই প্রথম নয়, তিনি আগেও দিয়েছেন। অযোধ্যায় রাম মন্দির ভেঙে ফেলার জন্য (Waqf Act) মুসলমানদের উসকানি দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল ২০২০ সালের অগাস্টে। রাম মন্দিরের ভূমি পূজনের একদিন পর তিনি বলেছিলেন, “অযোধ্যায় যে রাম মন্দির এখনও তৈরি হয়নি, তা ভেঙে পুনর্নির্মাণ করা হবে মসজিদ।” বিতর্কিত এই মন্তব্যের দু’বছর পরে রশিদি ফের বেফাঁস মন্তব্য করেন ২০২২ সালে। উত্তরাখণ্ড সরকার সে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিকে আধুনিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তার প্রেক্ষিতেই মওলানা সাহেব বলেছিলেন, “প্রত্যেক রাজ্যে একটি করে মাদ্রাসা বোর্ড রয়েছে। মাদ্রাসাগুলি সরকারের অধীন। এই মাদ্রাসাগুলিতে সরকার ড্রেস কোড দিতে পারে, সিনেমা কিংবা গানও চালাতে পারে, যা খুশি তাই করতে পারে। কেউ তাদের বাধা দিতে পারে না।”

    আরও পড়ুন: তাঁর আমলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথ দেখিয়েছিলেন হাসিনা

    এরপর তিনি বলেন, “তবে আপনাকে প্রাইভেট মাদ্রাসায় কিছু করতে দেব না। ভারতীয় মুসলমানরা প্রাইভেট মাদ্রাসা থেকে ৪ শতাংশ শিশুকে ধরে রেখেছেন মৌলভী ও মওলানা হওয়ার জন্য। তাই যদি তারা সেইসব মাদ্রাসায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, তবে সব ভারতীয় মুসলমান এর বিরোধিতা করবে। আমরা এই প্রাইভেট মাদ্রাসায় হস্তক্ষেপ করতে দেব না।” রাশিদি বলেন, “আমরা কখনওই সরকারের কাছ থেকে কিছু নিই না। আমাদের কারও কাছ থেকে কিছু নেওয়ার দরকারও নেই।…সরকার পরিচালিত মাদ্রাসাগুলিতে যা খুশি তাই করুন। তবে প্রাইভেট মাদ্রাসাগুলিকে স্পর্শ করবেন না।” তাঁর (Maulana Sajid Rashidi) হুমকি, “ভারত আগুনে পুড়ে যাবে।” ২০২২ সালেই ফের একবার ভারতীয় মুসলমানদের ওসকানোর চেষ্টা করেছিলেন রাশিদি। এই বছর রাজ্যের সাড়ে ৭ হাজার অস্বীকৃত মাদ্রাসায় সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। তখন মওলানা সাহেব মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বলেছিলেন, “রাজ্যের তরফে যাঁরা সমীক্ষা করতে যাবেন, তাঁদের চপ্পল এবং জুতো দিয়ে স্বাগত জানান। ২০০৯ সালের আইন দিয়ে তাঁদের মারধর করুন।”

    কাঠগড়ায় তুষ্টিকরণের রাজনীতি

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাশিদির এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে কংগ্রেস-তৃণমূলের প্রচ্ছন্ন প্রশয়। এই দুই রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় টিকে থাকতে নিরন্তর করে চলেছে তোষণের রাজনীতি। কেন্দ্রে কংগ্রেস জমানায় এবং বাংলায় তৃণমূল জমানায় প্রকাশ্যে মুসলমান তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছে। ওয়াকফ অ্যাক্ট প্রণয়ন করে যে বিষবৃক্ষের বীজ পুঁতেছিলেন নেহরু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা পরিণত হয়েছে মহীরুহে। বস্তুত মুসলিম তোষণ করেই দশকের পর দশক ধরে দিল্লিশ্বর সেজে বসেছিল কংগ্রেস। উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামিয়েছিলেন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের কান্ডারি নরেন্দ্র মোদি। তার জেরেই ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার।

    কংগ্রেস-তৃণমূল

    কেন্দ্রে যেমন তুষ্টিকরণের রাজনীতি করে চলেছে কংগ্রেস, তেমনি মুলমান সেন্টিমেন্টে নিরন্তর সুড়সুড়ি দিয়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার। ইমামদের ভাতা দেওয়ার বন্দোবস্ত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার। মুসলমানদের স্বার্থে যাতে ঘা না লাগে, তাই রামনবমীর মিছিলে মুসলিমরা হামলা চালালেও, সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। কংগ্রেস এবং তার ‘নাড়ি ছেঁড়া ধন’ তৃণমূলের এই তুষ্টিকরণের রাজনীতিতে একদিকে যেমন বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে মুসলমানদের, তেমনি সাহস বাড়ছে রাশিদির (Maulana Sajid Rashidi) মতো মানুষদের।

    মোদি সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত মওলানার

    রাশিদি যখন ভারতীয় মুসলমানদের খেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন, তখন মোদি সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিয়া আলেম মওলানা ইয়াসুব আব্বাস। ওয়াকফ অ্যাক্টের সংশোধনীগুলিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “আইনের পরিবর্তনগুলি ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনবে। প্রবর্তন করবে জবাবদিহির। দুর্নীতির অবসানও ঘটবে। এবং এই জাতীয় সম্পত্তির আয় বাড়বে।” ইয়াসুব আব্বাস সাহেবের কথায় স্পষ্ট, ওয়াকফ সম্পত্তিতে দুর্নীতি হয় এবং তার অবসানও ঘটানো প্রয়োজন। সেই চেষ্টাই করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। এহেন আবহে উসকানিমূলক বিবৃতি দিয়ে মুসলমানদের খেপিয়ে তুলছে চাইছেন রাশিদি! যার বিপদ সম্পর্কে হয় তিনি জানেন না, নয়তো না জানার ভান করে রয়েছেন।

    কথায় বলে, শহরে আগুন লাগলে পিরের বাড়িও বাদ যায় না (Waqf Act)। অতএব, আগুন নিয়ে না খেলাই ভালো, তাই নয় কি?

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh Crisis: হাসিনার জন্য তৈরি ছিল রাফাল! বাংলাদেশের উপর কড়া নজর কেন্দ্রের

    Bangladesh Crisis: হাসিনার জন্য তৈরি ছিল রাফাল! বাংলাদেশের উপর কড়া নজর কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ভারতে এসেছিলেন সেদেশের বায়ুসেনার সি১৩০জে বিমানে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে উড়েছিলেন শেখ হাসিনা, কিন্তু তার পর সি-১৩০জে বিমান দেওয়া হয় তাঁকে। সেই বিমানেই ভারতে আসেন। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি (Bangladesh Crisis) এ বিষয়ে কড়া নজর রেখেছিল। হাসিনা যে বিমানে ভারতে আসেন, তার কল সাইন ছিল ‘এজেক্স ১৪৩১’ এবং ওই বিমান ভারতীয় সীমান্তে দুপুর তিনটে নাগাদ প্রবেশ করে। ভারতীয় র‍েডারগুলি বিমানের উপর কড়া নজর রেখেছিল।

    যে পথে ভারতে এলেন হাসিনা (Sheikh Hasina)

    জানা গিয়েছে, ওই বিমানটি কলকাতার উপর দিয়ে উড়ে যায়। পাটনা হয়ে বিমানের গন্তব্য ছিল গাজিয়াবাদের হিন্ডন এয়ারবেস। ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করার পর দুটি রাফাল বিমানকে সক্রিয় করা হয়। যাতে কোনও সমস্যা হলে তারা ওই বিমানকে সুরক্ষা দিতে পারে। বিমানটি যখন পাটনার উপর দিয়ে উড়ে যায়, তখন বিকেল চারটে হয়ে গিয়েছিল। বিকেল ৫:৪৫ নাগাদ গাজিয়াবাদে অবতরণ করেন শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন শেখ রেহানা। তাঁকে স্বাগত জানান এনএসএ অজিত ডোভাল। তড়িঘড়ি দুই পক্ষের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি (Bangladesh Crisis) এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।

    পরিস্থিতির উপর নজর ভারতের (Bangladesh Crisis) 

    এদিকে সূত্রের খবর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র ত্রিবেদী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেও ম্যাথিউ সহ ভারতের শীর্ষ নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকরা (Bangladesh Crisis) পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।

    আরও পড়ুন: ব্রিটেন রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়া পর্যন্ত কি ভারতেই থাকবেন হাসিনা?

    এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, অজিত ডোভালের সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন। তিনি বৈঠকে মন্ত্রীদের বর্তমান অবস্থা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তাঁদের পরামর্শ দেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

     

  • Auction: রাষ্ট্রপতিদের ২৫০টি উপহার সামগ্রীর নিলাম শুরু, রয়েছে নেতাজির ছবি থেকে জোড়া হরিণ

    Auction: রাষ্ট্রপতিদের ২৫০টি উপহার সামগ্রীর নিলাম শুরু, রয়েছে নেতাজির ছবি থেকে জোড়া হরিণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতিদের (Presidential items) পাওয়া ২৫০টি উপহার সমগ্রীর নিলাম (Auction) শুরু হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বই, গহনা, আসবাবপত্র, মূর্তি, স্মারক এবং নানা ভাস্কর্য সহ বহু উপহার, যা রাষ্ট্রপতিরা বিভিন্ন সময়ে পেয়েছিলেন। রয়েছে দ্রৌপদী মুর্মু, প্রতিভা দেবীসিংহ পাতিল, এপিজে আব্দুল কালাম, প্রণব মুখার্জি এবং রামনাথ কবিন্দের পাওয়া উপহার সামগ্রী। রাষ্ট্রপতি ভবনের আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নিলামে উপার্জিত অর্থ শিশুদের সাহায্য করার জন্য দান করা হবে।

    দ্রৌপদী মুর্মুর উপহার সামগ্রী (Auction)

    সূত্রে জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ই-উপহার পোর্টালের মাধ্যমে ৫ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত এই নিলাম (Auction) অনুষ্ঠিত হবে। জিনিসপত্রের মূল্য অনুমানিক ২৭০০ থেকে শুরু এবং সর্বোচ্চ মূল্য ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এইসব জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে আন্দামান নিকোবর থেকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কর্তৃক প্রাপ্ত একটি স্মারক। তাতে রয়েছে নৌবাহিনীর ব্যবহৃত ছয়টি মডেলের সাবমেরিন, যা এক্রাইলিক কাঁচের আবরণে আবৃত। এই স্মারক কমান্ডের সামুদ্রিক উপস্থিতির প্রতীক৷ ১৫ কেজি ওজনের এই মডেলটির মূল্য ৭৫০০ টাকা। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর একটি শেল ক্রাফট পেইন্টিং যার ওজন প্রায় ১৪ কেজি, এটিও রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে দেওয়া হয়েছিল। এটি পোর্ট ব্লেয়ারে নেতাজির পতাকা উত্তোলনকে স্মরণ করে তৈরি করা হয়েছিল। এই ছবির সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মূল্য ৪.০২ লক্ষ টাকা। আবার উপহার সামগ্রীর মধ্যে কর্ণাটকের হোয়সালেশ্বর মন্দিরের একটি প্রতিরূপও রয়েছে। দ্রৌপদি মুর্মুকে এই উপহার ভাইস অ্যাডমিরাল আরবি পন্ডিত দিয়েছিলেন, যার মূল মূল্যও ১.৫ লক্ষ টাকা।

    প্রতিভা পাতিল-আব্দুল কালামের উপহার সামগ্রী

    প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবীসিংহ পাতিলের প্রাপ্ত একটি গোল মার্বেল প্লেট (Presidential items) রয়েছে এই নিলামের সামগ্রী হিসেবে। নিলামে (Auction) তার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬,০০০ টাকা। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির প্রাপ্ত একটি ধাতব চালের পাত্র রয়েছে। এটি হরিয়ানার জৈন সম্প্রদায়ের তৈরি। এটি প্রায় ১.৫ কেজি চাল ধারণ করতে সক্ষম। তার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০০ টাকা। আবার ক্রিস্টাল গ্লোব সমন্বিত একটি ট্রফিও পেয়ছিলেন তিনি। তার সর্বনিম্ন মূল্য ঠিক করা হয়েছে ২৭০০ টাকা।

    ২০০৫ সালে ক্ষুদ্র, কৃষি ও গ্রামীণ শিল্পের জাতীয় সম্মেলনের সময় ডক্টর এপিজে আব্দুল কালামকে দেওয়া তন্তু এবং কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি এক জোড়া হরিণও এই নিলামের সামগ্রী হিসাবে ঠিক করা হয়েছে। আবার অসম থেকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে একটি টুপি উপহার দেওয়া হয়েছিল। এটি ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরি। বহু রঙে সজ্জিত। তার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০০ টাকা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • World Breastfeeding Week: জন্মের পরের ছ’মাস শুধুই স্তন্যপান! শিশু ও মায়ের শরীরে কী প্রভাব ফেলে?

    World Breastfeeding Week: জন্মের পরের ছ’মাস শুধুই স্তন্যপান! শিশু ও মায়ের শরীরে কী প্রভাব ফেলে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সন্তানের জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস, তার শারীরিক বিকাশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে শিশুর খাদ্যাভ্যাস থেকে পরিচর্যা, সব বিষয়ে অতিরিক্ত নজরদারি না রাখলে পরবর্তী সময়ে নানান জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে তাই জানানো হয়েছে, শিশুর জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শুধু মাতৃ স্তন্যপান (World Breastfeeding Week) যথেষ্ট। এতেই শিশুর ঠিকমতো বিকাশ হবে। সুস্থ শরীর ও মানসিক গঠন ঠিক মতো হবে‌। কিন্তু বিশ্ব জুড়েই মাতৃদুগ্ধ (Mother’s Milk) পান নিয়ে নানান ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহল কিন্তু স্পষ্ট জানাচ্ছে, শিশুর জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ যথেষ্ট। আর কিছুই দরকার নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো‌ ভারতেও স্তন্যপান করানো নিয়ে নানান ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তাই দেশ জুড়ে অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ স্তন্যপান সচেতনতা সপ্তাহ হিসেবে পালন করা হয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, স্তন্যপান করানো শুধু সদ্যোজাতের জন্য উপকারী নয়, মায়ের শরীরের পক্ষেও অত্যন্ত উপকারী। তাই মা ও শিশুকে সুস্থ রাখতে স্তন্যপান জরুরি।

    শিশুর শরীরে স্তন্যপান কতখানি গুরুত্বপূর্ণ? (World Breastfeeding Week)

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ পান করলে, শিশুর যে কোনও সংক্রমণের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কমে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের খাবার থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে সব চেয়ে বেশি। কিন্তু মায়ের বুকের দুধ খেলে সেই ঝুঁকি কার্যত থাকে না। বিশেষত পেটের অসুখের ঝুঁকি একেবারেই কমে যায়। জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খেলে, তার প্রভাব হয় সুদূর প্রসারী। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, মায়ের বুকের দুধে কোলেস্ট্রাম থাকে। এই উপাদান দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে। বিশেষত অন্ত্র, লিভার এবং পাকস্থলীর রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে এই উপাদানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই মাতৃদুগ্ধ সন্তানের জন্য সব চেয়ে উপকারী। জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র ব্রেস্টফিডিং করলে শিশুর কিডনি ভালো থাকে বলেও জানাচ্ছে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই এদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশেও মায়ের দুধের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলেই জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল।‌ তারা জানাচ্ছে, শিশুর জন্মের পরে মায়ের বুকের দুধে এক ধরণের হলদে উপাদান থাকে। এই উপাদান শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে বিশেষ সাহায্য করে।

    স্তন্যপান করালে মায়ের শরীরে কী প্রভাব পড়ে?

    শিশুকে নিয়মিত স্তন্যপান (World Breastfeeding Week) করালে তার পাশপাশি মায়ের শরীরেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে বলেই জানাচ্ছে চিকিৎসকদের একাংশ। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, শিশুকে স্তন্যপান করালে মায়ের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ২০ শতাংশ কমে যায়। বিশ্বের একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, স্তন্যপান করালে মহিলাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমতে পারে। সন্তানকে নিয়মিত স্তন্যপান করালে স্তন ক্যান্সারের পাশাপাশি ওভারি এবং জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমতে বিশেষ সাহায্য করে। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমার পাশপাশি মায়ের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম হয়। শিশুকে নিয়মিত স্তন্যপান করালে নতুন মায়ের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। এমনটাই জানাচ্ছে চিকিৎসকদের একাংশ। তারা জানাচ্ছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। সন্তান জন্মের পরে দিনে অন্তত তিন থেকে চারবার স্তন্যপান (Mother’s Milk) করালে, মায়ের রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক হয়। ফলে মায়ের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। সন্তানকে স্তন্যপান করালে মহিলাদের পোস্ট পার্টোম ডিপ্রেশনের ঝুঁকি কমে বলেও‌ জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তারা জানাচ্ছে, অধিকাংশ মায়েরাই সন্তান জন্ম দেওয়ার পরে নানান মানসিক অবসাদে ভোগেন। দেহের একাধিক হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তন ঘটার জেরেই এই ধরনের অবসাদ তৈরি হয়। নিয়মিত স্তন্যপান করালে মায়ের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনেও প্রভাব ফেলে। ফলে মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য ও ভালো থাকে। 
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে স্তন্যপান (World Breastfeeding Week)। মা নিয়মিত সদ্যোজাতকে স্তন্যপান করালে মায়ের শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। যা শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

  • Sheikh Hasina: ব্রিটেন রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়া পর্যন্ত কি ভারতেই থাকবেন হাসিনা?

    Sheikh Hasina: ব্রিটেন রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়া পর্যন্ত কি ভারতেই থাকবেন হাসিনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গদিচ্যুত হয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সোমবার ভারতে আসেন হাসিনা (Sheikh Hasina)। তবে এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী? কোথায় থাকবেন হাসিনা? শেখ হাসিনা কি ভারতেই রাজনৈতিক আশ্রয় নেবেন নাকি ব্রিটেনে যাবেন? এই নিয়ে চরম জল্পনা চলছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, হিন্ডন থেকে বাংলাদেশি বায়ুসেনার বিমানটি আকাশে ওড়ার পর থেকেই পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে চলেছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থা এবং গোয়েন্দারা। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার পরবর্তী গন্তব্য ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। এদিকে, হাসিনার ছেলে ওয়াজেদ সজীব ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর মা আর বাংলাদেশে ফিরবেন না। রাজনীতিতে যোগ দেবেন না। বিশেষ সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, ব্রিটেন রাজনৈতিক আশ্রয় না দেওয়া পর্যন্ত আপাতত ভারতেই থাকবেন হাসিনা। ইতিমধ্যেই তাঁকে সাময়িকভাবে ভারতে থাকার অনুমোদন দিয়েছে নয়াদিল্লি।  

    যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চাইছেন হাসিনা (Sheikh Hasina)

    গণ-আন্দোলনে জ্বলছে অশান্ত বাংলাদেশ। সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দিল্লির কাছে হিন্ডন সামরিক বিমানঘাঁটিতে শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন রেহানাকে নিয়ে অবতরণ করে একটি বাংলাদেশি বায়ুসেনার সিজে-১৩০ বিমান। শোনা যাচ্ছিল, জ্বালানি নিয়ে সেটি রওনা দেবে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে। কিন্তু তারপর শোনা যায়, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক নির্দেশ পাওয়া যায়নি। ফলে এরপর আর ভারত (India) ছাড়তে পারেননি হাসিনা। জানা গিয়েছে, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ভারতেই থাকবেন তাঁরা। তবে উল্লেখ্য, “বাংলাদেশের জনক” শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে অর্থাৎ হাসিনার বোন রেহানা ব্রিটিশ নাগরিক। 

    আরও পড়ুন: ভারতে আশ্রয় পেলেন হাসিনা, অশান্ত বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তায় দিল্লি

    ভারত-বাংলাদেশ সমন্বয়

    প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) পদত্যাগের পর অভিভাবকহীন দেশের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। অর্থাৎ প্রতিবেশি দেশটির ক্ষমতা এখন সেনাবাহিনীর হাতে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, ” আমরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করব।” এদিকে, এই অশান্ত পরিবেশের ফাঁকে বাংলাদেশে বিভিন্ন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে রাতের বেলা সেনার তরফ থেকে কমান্ডারদের ফোন নম্বর প্রকাশ করা হয়। হিন্দুদের ওপর হামলা হলে সেই সব নম্বরে ফোন করতে বলা হয়। প্রতিবেশী দেশের এই পরিস্থিতিতে ঢাকার ভারতীয় (India) হাইকমিশন হাই অ্যালার্টে রয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা সেখানে ভারত-বাংলাদেশ সমন্বয় প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ভারতীয় এজেন্সিগুলির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বর্তমানে বাংলাদেশের মাটিতে রয়েছেন, যাঁরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম— সমস্ত এলাকায় উপস্থিত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • South Kashmir: শিশুদের মধ্যে মাদক ব্যবহার রোধে “সেরা পারফর্মিং” জেলা দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ান

    South Kashmir: শিশুদের মধ্যে মাদক ব্যবহার রোধে “সেরা পারফর্মিং” জেলা দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীর উপত্যকায় মাদকাসক্তির ব্যাপকতা একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যে মাদকাসক্তির সংখ্যা বেড়েই চলেছিল। জেলা প্রশাসনের অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষিণ কাশ্মীরের (South Kashmir) শোপিয়ান শিশুদের মধ্যে মাদক (Drug) ব্যবহার রোধে “সেরা পরফর্মিং” জেলা হয়ে উঠেছে।

    প্রহরী ক্লাবএবং সিসিটিভি ক্যামেরা মোতায়েন (South Kashmir)

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোপিয়ান (South Kashmir) জেলার অধিকাংশ ওষুধের দোকানে মাদক বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নজরদারির জন্য ওষুধের দোকানে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সেই সিসিটিভিতে ক্রমাগত মনিটরিং করা হয়। মাদকে আসক্ত হলে কতটা ক্ষতি হতে পারে তা ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে “প্রহরী ক্লাব” তৈরি করা হয়েছে। বাছাই করা ছাত্রছাত্রীরা সেখানে রয়েছে। তারা নিজেদের বন্ধুদের মধ্যে মাদকের খারাপ দিক তুলে ধরছে। এছাড়া স্কুল, কলেজের শিক্ষক, অধ্যাপকরা এই বিষয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন। “প্রহরী ক্লাবের” সদস্যরা নেশা মুক্তি নিয়ে ক্রমাগত প্রচার করে চলেছেন। আর তাঁদের এই কার্যকলাপ অন্যদের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। সমাজ কল্যাণ দফতরও এই বিষয়ে জেলাজুড়়ে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    আরও পড়ুন: ‘‘১ কোটির ওপর বাংলাদেশি হিন্দু আসবেন পশ্চিমবঙ্গে’’, বড় দাবি শুভেন্দুর

    ডেপুটি কমিশনার কী বললেন?

    শোপিয়ানের (South Kashmir) ডেপুটি কমিশনার ফজলুল হাসিব বলেন, গত দুবছর ধরে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আর মাদকের গুণাগুণ রয়েছে এমন ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ৪২০টি ওষুধের দোকানে  সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আর ওষুধ বিক্রির তথ্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্রমাগত তাতে নজরদারি চালানো হয়।

    মাদক বাজেয়াপ্ত!

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৪৪টি এনডিপিএস মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০২৩ সালে সেটা বেড়ে ৯০টি হয়েছে। আর চলতি বছরে জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৯টি মামলা রুজু হয়েছে। আর ২০২২ সালে ১৮৪ কেজি চরস (Drug) বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। ২০২৩ সালে ২২১ কেজি চরস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত সাত মাসে ৪৯৩ কেজি পোস্তর দানা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh Crisis: কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে হাসিনার পতন! ফিরে দেখা ঘটনাক্রম

    Bangladesh Crisis: কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে হাসিনার পতন! ফিরে দেখা ঘটনাক্রম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার ৫ অগাস্ট ইস্তফা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। প্রসঙ্গত, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। সরকার বিরোধী আন্দোলনের জেরে অগ্নিগর্ভ হয় বাংলাদেশের পরিস্থিতি (Bangladesh Crisis)। যার ফলে মৃত্যু হয় ৩০০ জন মানুষের। হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিকরা শেখ হাসিনার বাড়িতে হামলা চালান। এরপরেই বোন শেখ রেহেনাকে নিয়ে দেশ ছাড়েন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (Sheikh Hasina)। নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চলে আসেন ভারতে এবং গাজিয়াবাদের এক গোপন আস্তানায় তাঁকে রাখা হয়।

    এরইমধ্যে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঘোষণা করেন যে দেশে অন্তর্বর্তী সরকার তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি, তিনি প্রতিশ্রুতিও দেন যে দেশের সমস্ত অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং নাগরিক হত্যার সুবিচার দেওয়া হবে। সোমবারই গণভবন দখলের পরে বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে উল্লাস করতে থাকে (Bangladesh Crisis)। ৫ অগাস্ট গণভবন দখল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইস্তফা, তাঁর দেশ ছেড়ে যাওয়া- এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। আমরা সেই সমস্ত ঘটনাক্রমগুলি নিয়েই আজকে আলোচনা করব।

    প্রথম পর্যায়ের বিক্ষোভ

    বাংলাদেশে অশান্তি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের গোড়াতেই। সংরক্ষণের নিয়ম নিয়েই এই অশান্তির সূত্রপাত। সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ নীতিকে নিয়েই বিতর্কে সূত্রপাত। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পরিবারদের চাকরিতে ব্যাপক কোটা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি, মহিলাদেরও অনেকটাই সংরক্ষণ দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছিলেন সেই সমস্ত পরিবারের উত্তরসূরিদের ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে হাইকোর্টও এই সংরক্ষণ নীতিতে সিলমোহর দেয়। এরপরেই প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয় সেদেশে, পরবর্তীকালে তা ব্যাপক সহিংস আকার ধারণ করে। গত ১৮ জুলাই ঢাকায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের সদর দফতরে আগুন লাগিয়ে দেয় সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনকারীরা। ছাত্র-ছাত্রীদের এই বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ রবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের পাশাপাশি গুলিও চালায়। এর ফলে মৃত্যুর সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। বাড়ে আহতদের সংখ্যাও (Bangladesh Unrest)।

    ২০১৮ সালেও একই ইস্যুতে উত্তাল হয়েছিল বাংলাদেশ

    ২০১৮ সালেও একই বিষয়ে আন্দোলন উত্তাল হয়ে উঠেছিল দেশটি। সরকারি চাকরিতে সে দেশে মোট ৫৬ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল, যার মধ্যে ৪৪ শতাংশ আসন সাধারণের জন্য নির্ধারিত ছিল। ৫৬ শতাংশ আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশ, মহিলাদের জন্য ১০%, জেলার জন্য ১০%, জনজাতিদের জন্য ৫ শতাংশ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ ছিল। ২০১৮ সালে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ শতাংশ, নারীদের ১০ শতাংশ ও জেলার ১০ শতাংশ আসন বাতিল করে দেয়। রাখা হয় শুধু জনজাতিদের ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ সংরক্ষণ। এ নিয়ে মামলা গড়ায় বাংলাদেশের হাইকোর্টে। চলতি বছরের ৫ জুন হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, হাসিনা সরকারের (Sheikh Hasina) নির্দেশ অবৈধ। ফের প্রতিবাদ আন্দোলনে নামেন পড়ুয়ারা। অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশের প্রথম পর্যায়ের আন্দোলনে নিহত হন ২০০-এর ওপর মানুষ।

    দ্বিতীয় পর্যায়ের বিক্ষোভ (Bangladesh Crisis)

    গত ২১ জুলাই সংরক্ষণ মামলায় রায় দেয় বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত নিজেদের রায়ে জানায়, সরকারি চাকরিতে ৭ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সন্তানদের জন্য। বাকি ২ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে অন্যান্য শ্রেণির জন্য। বাকি ৯৩ শতাংশ নিয়োগই হবে মেধার ভিত্তিতে। এর পাশাপাশি, পড়ুয়াদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ফিরে যেতে বলে শীর্ষ আদালত। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ে হিংসা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এই পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা দাবি জানান যে, মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সংরক্ষণ, সরকারি চাকরিতে একেবারে প্রত্যাহার করতে হবে। এর পাশাপাশি, আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে যেভাবে ২০০ জন আন্দোলনকারীকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশের পুলিশ ও সেনাবাহিনী হত্যা করেছে, সেটার ন্যায়-বিচারের দাবিতেও আবার দলে দলে মানুষ রাস্তায় নামতে থাকেন। ঢাকা, খুলনা, সিলেট, নরসিংদি, চট্টগ্রাম প্রভৃতি স্থানে মসজিদে নমাজের পরেই অসংখ্য হিংসার (Bangladesh Crisis) ঘটনা সামনে আসতে থাকে। চট্টগ্রামে জুম্মার নামাজের পরে সেখানকার স্থানীয় ওয়াসা মোড়ে একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন লাগিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়তে থাকেন। পাল্টা আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে, রবার বুলেট চালায়, টিয়ার গ্যাস ছুড়ে জবাব দেয়, চলে গুলিও।

    বিক্ষোভের তৃতীয় পর্যায়

    দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া হিংসার পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) পদত্যাগ দাবি করতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। গত ৪ অগাস্ট আওয়ামি লিগ সমর্থক ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এর ফলে শতাধিক মানুষ নিহত হন। জানা যায়, নিহতদের মধ্যে ১৪ জন পুলিশ কর্মীও ছিলেন। বাংলাদেশের এমন সহিংস পরিস্থিতিতে রবিবারই দেশজুড়ে ফের একবার কার্ফু জারি করে সরকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ৫ থেকে ৭ অগাস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নেয় হাসিনা সরকার। ঠিক এই আবহে ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্ররা’- এই দাবি তুলে আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে পড়ুয়ারা ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ অভিযান শুরু করেন সোমবার। একমাত্র লক্ষ্য হয় শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা (Bangladesh Crisis)।

    সক্রিয় ভূমিকা জামাত ও বিএনপির

    বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে এই তীব্র সংঘর্ষের আবহে বাংলাদেশের জামাত-এ-ইসলামি ও বিএনপি ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগ সরকারকে ফেলার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারাও যোগ দেয় এই বিক্ষোভে। এর ফলে দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিএনপি ও জামাতের কর্মী-সমর্থকরা দলে দলে যোগ দেয় হাসিনা সরকারের পতন অভিযানে। অর্থাৎ, সামনে ছাত্র আন্দোলন এবং পিছনে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন জামাত-বিএনপির। এই দুই সংগঠন হিন্দু বিরোধী ও ভারত বিরোধী বলেই পরিচিত। উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি বিএনপি ভারতীয় পণ্য বয়কটের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে এবং ভারত বিরোধী ‘ইন্ডিয়া আউট’ প্রচার আন্দোলন চালায় (Bangladesh Crisis)।

    আন্দোলনের রাশ জামাতের হাতে

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভকারীরা এখন বর্তমানে জামাত ও বিএনপি’র হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ঠিক সে কারণেই তাদের কার্যকলাপগুলিও সেভাবে দেখা যাচ্ছে। হিন্দু মন্দির গুলিতে হামলা হচ্ছে। শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক যুগের অবসান (Bangladesh Crisis) ঘটল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Suvendu Adhikari: ‘‘১ কোটির ওপর বাংলাদেশি হিন্দু আসবেন পশ্চিমবঙ্গে’’, বড় দাবি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘‘১ কোটির ওপর বাংলাদেশি হিন্দু আসবেন পশ্চিমবঙ্গে’’, বড় দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে (Bangladeshi Hindus) ইস্তফা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনাবাহিনীর হাতে গিয়েছে দেশের ক্ষমতা। এমন অবস্থায় ভারতের এই প্রতিবেশী রাষ্ট্রে জামাত-বিএনপি’র আক্রমণে হিন্দু নিধন চলছেই। হিন্দু সাংবাদিক থেকে হিন্দু নেতাদের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এর পাশাপাশি মন্দিরগুলিতেও আক্রমণ চলছে। ঠিক এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বড় দাবি করলেন। সোমবার তিনি জানিয়েছেন, ১ কোটি বাংলাদেশি হিন্দু পশ্চিমবঙ্গে আসবেন, এর জন্য রাজ্যের মানুষকে প্রস্তুত থাকতে হবে। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘হিন্দু সংখ্যালঘুদের বাংলাদেশ হত্যা করা হচ্ছে। কাউন্সিলরকে হত্যা করা হয়েছে সিরাজগঞ্জে। ১৩ জন পুলিশ কর্মীকে খুন করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন হিন্দু। তাই প্রস্তুত থাকুন। এক কোটির বেশি বাংলাদেশি হিন্দু পশ্চিমবঙ্গে আসবেন।’’

    কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে আবেদন শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)  

    সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর পাশাপাশি নন্দীগ্রামের বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল সিভি বোসের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অতি অবশ্যই কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁরা যেন কথা বলেন। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের (Bangladeshi Hindus) সংঘর্ষে রংপুরে চারজন মানুষকে হত্যা করা হয়। যার মধ্যে একজন হলেন হারাধন রায়, যিনি ছিলেন পরশুরাম থানা আওয়ামী লিগের সভাপতি এবং স্থানীয় পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এর পাশাপাশি, হত্যা করা হয় প্রদীপ কুমার ভৌমিক নামের এক সাংবাদিককেও। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের রায়গঞ্জের স্থানীয় ডেইলি খবরপত্র নামের একটি সংবাদ মাধ্যমে সাংবাদিকতা করতেন নিহত প্রদীপবাবু।

    হিংসাত্মক আন্দোলন সাম্প্রদায়িক রূপ নিয়েছে

    সে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক নাজমুল আহসান বলছেন, ‘‘ক্রমশই আন্দোলন হিংসাত্মক ও সাম্প্রদায়িক রূপ নিয়েছে এবং এগুলি বেশিরভাগই ছড়ানো হচ্ছে সমাজ মাধ্যমের পাতা থেকে।’’ বাংলাদেশের এই হিংসায় দেশভাগ ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ছায়া ফুটে উঠেছে। ফের যেন বাংলাদেশে ফিরে এসেছে রাজাকাররা। আন্দোলনের নামে আক্রমণ চালানো হয়েছে ইস্কনের মন্দির, কালী মন্দির সমেত হিন্দুদের একাধিক ধর্মস্থানে। বাদ যাচ্ছে না হিন্দুদের ঘরবাড়িও। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share